Tag: Money Laundering Case

Money Laundering Case

  • Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৬ হাজার কোটি টাকার মহাদেব অনলাইন বেটিং চক্রের অন্যতম প্রধান মাথা সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সফল হল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে নিয়ে আসে (Mahadev Betting Scam)। এই ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার তদন্তকারীদের নজর মহাদেব বেটিং চক্রের আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পলের দিকে। তদন্তকারীদের দাবি, উপ্পল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে দ্রুত ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য সে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার জারি করা রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে গত জুন মাসের শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে রয়্যাল ওমান পুলিশ সৌরভকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ওমান কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনে। সোমবার তাঁকে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা। চন্দ্রকর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দু’টি মামলার পাশাপাশি ইডির একটি পৃথক মামলায়ও অভিযুক্ত (Money Laundering Case)। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ছত্তিশগড়ের জুয়া নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে।

    রবি উপ্পলকে ফেরানোর তৎপরতা (Mahadev Betting Scam)

    সৌরভকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য উপ্পল। ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের বাসিন্দা উপ্পল ২০১৯ সালে চন্দ্রকরের সঙ্গে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান। মহাদেব অনলাইন বেটিং ব্যবসার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম মালিক হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

    ২০২৩ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। যদিও ৪৫ দিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পান। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, তাঁর কাছে ভানুয়াতুর পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উপ্পল ফের দুবাইয়ে ফিরে এসেছেন।

    ইডির এক আধিকারিক জানান, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে উপ্পল বর্তমানে আবার দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তদন্তকারীদের দাবি, এই বেটিং চক্রে চন্দ্রকর ও উপ্পলের ভূমিকা ছিল আলাদা। চন্দ্রকর মূলত ব্যবসার প্রচার এবং দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতেন। অন্যদিকে, উপ্পলের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন পরিচালনা এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার আর এক অভিযুক্ত বিকাশ ছাপারিয়াকেও দুবাই থেকে ভারতে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইডি।

    কীভাবে চলত মহাদেব বেটিং চক্র?

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, মহাদেব অনলাইন বুক ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ অনলাইন বেটিং চক্র। ভারতের বাইরে থেকে এই ব্যবসা পরিচালিত হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত ছিল এর নেটওয়ার্ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা শাখাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩২০০টি প্যানেল ও শাখা ব্যবহার করে গ্রাহক সংগ্রহ এবং বাজির টাকা আদায় করা হত। ক্রিকেট, ফুটবল, তাসের খেলা-সহ বিভিন্ন খেলার উপর বাজি ধরার সুযোগ দেওয়া হত এই ব্যবস্থায়।

    ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের আমলে এই বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নামও এই মামলায় অভিযুক্ত ও সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে। তবে বাঘেল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, জুয়া ও বাজি সংক্রান্ত বিষয় মূলত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

    ৯৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অপরাধলব্ধ অর্থের হিসাব

    এই বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ তদন্তকারীদের কাছেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইডির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মহাদেব অনলাইন বুক এবং স্কাই এক্সচেঞ্জ ও লোটাস ৩৬৫-এর মতো সহযোগী প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে গত প্রায় ১০ বছরে প্রায় ৯৪,৪০০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে সংস্থাটি আদালতে জানিয়েছে, এই হিসাব প্রাথমিক এবং নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ভুয়ো বা অন্যের পরিচয়ে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রথমে বাজির টাকা জমা করা হত। পরে একাধিক লেনদেনের স্তর তৈরি করে সেই অর্থের উৎস আড়াল করা হত। শেষ পর্যন্ত হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ ছত্তিশগড়ের সরকারি আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অবাধে এই অবৈধ ব্যবসা (Mahadev Betting Scam) চালানো যায়।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার ১৪

    মহাদেব বেটিং মামলায় আর্থিক তছরুপের তদন্তে এখনও পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে ইডি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি এই মামলায় ছ’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। সেখানে মোট ১১৬ জন ব্যক্তি ও সংস্থার নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে। বাজেয়াপ্ত ও আটক করা সম্পত্তির মূল্য ২,১০০ কোটি টাকারও বেশি বলে সাম্প্রতিক তদন্তের তথ্যে উঠে এসেছে।

    এই তদন্তের সূত্রেই চন্দ্রকরের বিপুল বিলাসবহুল জীবনযাপনও নজরে আসে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল খাইমায় তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অনুষ্ঠানে অতিথিদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে আসে।

    সৌরভকে দেশে ফিরিয়ে আনার ফলে মহাদেব বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগসূত্র এবং সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে (Money Laundering Case) উপ্পলকে ভারতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে এই বিপুল অবৈধ বেটিং সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা গোটা চক্রের (Mahadev Betting Scam) আরও অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

     

  • ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই  রাজ্যে বড়সড় অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ মোট ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ (Government Scheme Scam) করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই এই অভিযান। ইডি সূত্রের খবর, দীর্ঘদিনের তদন্তে পাওয়া একাধিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এদিনের তল্লাশি অভিযান।

    কেন ইডি অভিযান (ED Raid)?

    একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পে দ্রুত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলত (Government Scheme Scam)। ইডির প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ- বেশি টাকা দিলে দ্রুত ও বেশি সুবিধা মিলবে বলেও প্রলোভন দেখানো হত। এইভাবে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে ইডি। সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? কোথায় গিয়েছে? তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ১৬৪ কোটি টাকার প্রতারণা!

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে টাকা তোলা হয়েছে। প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। প্রায় ১৯ হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি। মোটা অঙ্কের সুদের লোভ দেখিয়েও বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। একটি এফইআরের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে আসায় অর্থ পাচারের দিকটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ইডি (ED Raid)।

    কারা তদন্তের নজরে?

    তদন্তে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁর দুই বাসিন্দা অভিজিৎ ও রাহুল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে- অভিজিৎ গত মাসেই কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। রাহুলের খোঁজ এখনও মেলেনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত? তাও জানার চেষ্টা চলছে।

    রাজনৈতিক আবহে বাড়ল জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবারই ২১ জুলাই। এই দিন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ইডির এই অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি সম্পূর্ণ তদন্তের সূত্র ধরেই চালানো নিয়মিত অভিযান (ED Raid) এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

  • Sona Pappu: সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! কলকাতা থেকে কান্দি— একযোগে ইডির হানা

    Sona Pappu: সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! কলকাতা থেকে কান্দি— একযোগে ইডির হানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোনা পাপ্পু মামলার তদন্তে আরও সক্রিয় হল ইডি। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কসবা, চক্রবেড়িয়া এবং রয়েড স্ট্রিট-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য হাতে এসেছে, তার ভিত্তিতেই এই তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রাসাদোপম বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। নিউটাউনের CRPF ক্যাম্প থেকেও অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর।

    কলকাতার একাধিক জায়গায় ইডির তল্লাশি

    শুক্রবার সকাল থেকে পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ প্লেস এবং ভবানীপুর-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায় ইডির একাধিক দল। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় আশু বিশ্বাস রোডে প্রোমোটার অতুল কাঠারিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে এলাকা। ইডি সূত্রে দাবি, অতুল কাঠারিয়ার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর আর্থিক যোগাযোগ ছিল এবং মামলার কালো টাকা তাঁর মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, কসবার বালিগঞ্জ প্লেসের একটি বিলাসবহুল বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডির আরেকটি দল। সেখানে কলকাতা পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতে অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে এই চক্রের কোনও যোগসূত্র ছিল কি না। পাশাপাশি, মধ্য কলকাতার ৪ রয়েড স্ট্রিটে ‘The Corporate’ নামে একটি ক্যাফেটেরিয়া-কাম-হোটেলেও হানা দেয় ইডি। ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে তল্লাশি শুরু হয় এবং হোটেলের মালিককে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    কেন এই অভিযান?

    সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত করছে ইডি। সংস্থার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার তথ্য। পাশাপাশি, সেই টাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছেও পৌঁছেছিল বলে সন্দেহ। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই অর্থ বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগও করা হয়েছিল। এই সমস্ত তথ্যের সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে নতুন করে তল্লাশি অভিযান। উল্লেখ্য, গত ১৮ মে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং গুণ্ডাগিরির মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাঁকে খুঁজছিল তদন্তকারীরা। একাধিকবার তলব করা হলেও দীর্ঘদিন অধরা ছিলেন তিনি। পরে নিজেই ইডি দফতরে হাজির হলে প্রায় ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    কান্দিতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও হানা

    কলকাতার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও অভিযান চালাচ্ছে ইডি। সোনা পাপ্পু মামলায় গ্রেফতার হওয়া কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈত্রিক বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। কান্দি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই বাড়িতে বর্তমানে থাকেন তাঁর বোন তথা কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান গৌরী সিনহা বিশ্বাস। তবে বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে সমস্যার মুখে পড়েন তদন্তকারীরা। সদর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সঙ্গে সঙ্গে ঢোকা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন ইডি আধিকারিকরা। প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষার পর শুরু হয় তল্লাশি। বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সোনা পাপ্পু মামলার জাল কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, কলকাতা ও কান্দিতে একযোগে চলা এই তল্লাশির পর তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

  • Sona Pappu Arrest: প্রোমোটার, পুলিশকর্তার পর তোলাবাজি-জমি দুর্নীতি তদন্তে ইডির জালে ‘কসবার ত্রাস’ সোনা পাপ্পু, এবার কি কোনও হেভিওয়েট?

    Sona Pappu Arrest: প্রোমোটার, পুলিশকর্তার পর তোলাবাজি-জমি দুর্নীতি তদন্তে ইডির জালে ‘কসবার ত্রাস’ সোনা পাপ্পু, এবার কি কোনও হেভিওয়েট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার বহুল চর্চিত ব্যবসায়ী (প্রকারম্তরে সমাজবিরোধী) তথা ‘কসবার ত্রাস’ বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু অবশেষে গ্রেফতার হলেন। সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দফতরে হাজিরা দেওয়ার পর টানা প্রায় ৯ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর্থিক প্রতারণা, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং হাওয়ালা লেনদেন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল বহুদিন ধরেই।

    কাঁকুলিয়ার বোমাবাজি ঘটনায় উঠে আসে নাম

    ভোটের আগেই নানা বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল কসবার এই ব্যবসায়ীর। বিশেষ করে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া এলাকা এবং রবীন্দ্র সরোবর থানা সংলগ্ন এলাকায় বোমাবাজি, গুলি চালানো, ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই অশান্তির নেপথ্যে ছিলেন সোনা পাপ্পু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা। যদিও অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কার্যত আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন তাঁকে খুঁজে না পাওয়ায় তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, তিনি ভিনরাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যেই দু’বার ফেসবুক লাইভে এসে সোনা পাপ্পু দাবি করেছিলেন, তিনি পলাতক নন এবং কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্ত থেমে থাকেনি।

    হঠাৎ ইডি দফতরে হাজিরা, সঙ্গে স্ত্রী

    সোমবার সকালে আচমকাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের ইডি অফিসে পৌঁছে যান সোনা পাপ্পু। উল্লেখযোগ্য বিষয়, তিনি কোনও নতুন নোটিস ছাড়াই নিজে থেকে হাজিরা দেন বলে জানা গিয়েছে। অতীতে একাধিকবার তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। ইডি সূত্রের দাবি, হাজিরা দেওয়ার পর তদন্তকারীরা তাঁকে জমি দখল, আর্থিক লেনদেন, নগদ টাকার উৎস, সম্পত্তি কেনাবেচা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক যোগাযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু তদন্তে অসহযোগিতা, অসংলগ্ন উত্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    বাড়িতে তল্লাশি: নগদ, অস্ত্র, গয়না উদ্ধার

    এর আগেই সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না, সম্পত্তির নথি এবং একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অস্ত্রটি ব্যবসায়ী জয় কামদারের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। পরে অস্ত্রটি গড়িয়াহাট থানায় জমা করা হয়। শুধু নগদ বা অস্ত্র নয়, উদ্ধার হওয়া নথি ঘেঁটে বেশ কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিশও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, নির্মাণ সংস্থা ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা হত এবং সেই অর্থ একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যেত।

    জয় কামদার ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাস যোগ

    এই মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন বেহালার ব্যবসায়ী তথা সান কনস্ট্রাকশন-এক মালিক জয় কামদার। প্রোমোটার জয় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। তদন্তে উঠে আসে, সোনা পাপ্পু, জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি, জমি দখল এবং আর্থিক লেনদেনে এই চক্র সক্রিয় ছিল। গত মাসে ফার্ন রোডে শান্তনুর বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। পরে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। যদিও সিজিও-তে হাজিরা দিয়ে সোনা পাপ্পু দাবি করেছিলেন, তিনি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে চেনেন না এবং কোনওদিন দেখেননি। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, ফোন রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং একাধিক সাক্ষ্যপ্রমাণে তাঁদের যোগসূত্র মিলেছে।

    তদন্তে হাওয়ালা লেনদেনের সূত্রও

    ইডি সূত্রে খবর, মামলার তদন্তে হাওয়ালা চক্রের যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনা পাপ্পুর আর্থিক নেটওয়ার্ক কেবল স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, নির্মাণ সংস্থা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী মহলের মতে, এই গ্রেফতার শুধু একজন ব্যবসায়ীর গ্রেফতার নয়—কলকাতার রিয়েল এস্টেট, তোলাবাজি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের একটি বড় নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁসের সূচনা হতে পারে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য

    ভোটপর্ব শেষ হতেই সোনা পাপ্পুর গ্রেফতার রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অধরা থাকার পর তাঁর আচমকা হাজিরা এবং তারপর গ্রেফতার—এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সোনা পাপ্পুর জেরা থেকে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী নাম সামনে আসতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই মামলায় নতুন গ্রেফতার বা আরও তল্লাশির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন আদালতে পেশ করে সোনা পাপ্পুকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে ইডি। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ার পূর্ণ ছবি সামনে আনা।

  • Akhilesh Yadav: বঙ্গ এবং তামিলভূমের ভোটে ধরাশায়ী সংস্থার ‘ক্লায়েন্ট’, আই-প্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন অখিলেশ

    Akhilesh Yadav: বঙ্গ এবং তামিলভূমের ভোটে ধরাশায়ী সংস্থার ‘ক্লায়েন্ট’, আই-প্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন অখিলেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মুখে রাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে পালায় ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (Akhilesh Yadav)। এই সংস্থার সঙ্গেই গাঁটছড়া বেঁধেছিল অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি। আগামী বছর হওয়ার কথা উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার নির্বাচন। বুধবার দুপুরেই অখিলেশ জানিয়ে দেন, আই-প্যাকের (I-PAC) সঙ্গে কাজ আর করবে না তারা। তিনি জানান, অর্থের অভাবে এই চুক্তি থেকে সরে এসেছেন।

    আই-প্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন অখিলেশের (Akhilesh Yadav)

    ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের হাতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল আই-প্যাকের। পরে অবশ্য সংস্থা থেকে সরে যান তিনি। এই সংস্থার সঙ্গেই কথা হয়েছিল অখিলেশের। কথা ছিল, ২০২২ সালের নির্বাচনে যেখানে অখিলেশের দলের পরাজয়ের ব্যবধান কম ছিল, সেই সব কেন্দ্রে কাজ করার। জানা গিয়েছে, অখিলেশ যাদবের দল আর একটি নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা ‘শোটাইমে’র সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে, যা প্রায় দু’মাস আগে একটি চুক্তির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। আই-প্যাকের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কারণ জানতে চাইলে অখিলেশ রসিকতা করে বলেন, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। আপনারা (মিডিয়া) যদি আমাদের অর্থ দেন, তাহলে আমরা আর একটি সংস্থা নিয়োগ করতে পারি।”

    নেপথ্যের কারণ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অখিলেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বঙ্গে তৃণমূল এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকে, যাদের সঙ্গে আই-প্যাকের সম্পর্ক ছিল, পতনের পর। দুই রাজ্যেই আই-প্যাকের সঙ্গে কাজ করে গোহারা হারে সংস্থার দুই ‘ক্লায়েন্ট’। বঙ্গে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হয় তৃণমূল। ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসন জেতে বিজেপি। আর তামিলভূমে ডিএমকে পরাজিত হয় অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের নয়া দল টিভিকে-র কাছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডিএমকে নেতা এমকে স্টালিন নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতেই প্রার্থী হয়ে গোল খেয়ে যান। যদিও অখিলেশ এই জল্পনা উড়িয়ে দেন যে আই-প্যাকের (I-PAC) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত এই (Akhilesh Yadav) দুই রাজ্যে নির্বাচনী ফলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তারা কয়েক মাস আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু আমরা সেভাবে অর্থ জোগাড় করতে পারছি না, তাই চালিয়ে যেতে পারছি না।”

    ভিনেশ চন্দেলের গ্রেফতারি

    এই বিচ্ছেদের পেছনে আর একটি কারণ হল ভিনেশ চন্দেলের গ্রেফতারি। ভিনেশ আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত একটি অর্থ পাচার মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।  এপ্রিলের শুরুতে দিল্লিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থাটির অভিযোগ,  এক ‘হাওয়ালা’ অপারেটর, যে ওই পাচারকারীদের সঙ্গে যুক্ত, সে কোটি কোটি টাকা ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে পাঠাতে সাহায্য করেছে (I-PAC)। এই সংস্থাও পরিচালনা করে আই-প্যাক। ইডির আরও দাবি, আই-প্যাক এই অর্থ ঘোরানোর এবং কালো টাকা সাদা করার একটি মডেল তৈরি করেছিল। অভিযোগ, আই-প্যাক দুভাবে অর্থ পেত—অর্ধেক ব্যাঙ্কিং মাধ্যমে (চেক/অনলাইন ট্রান্সফার) এবং বাকি অর্ধেক নগদ বা নন-ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, চন্দেলের গ্রেফতারি এবং বাংলা ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনী ফল বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে সমাজবাদী পার্টিকে (Akhilesh Yadav)।

    চন্দেলের গ্রেফতারির জেরে আই-প্যাকের নির্বাচনী প্রচার পরিচালনার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের চাপের কারণে প্রচারের শেষ সপ্তাহগুলিতে আই-প্যাক বিভিন্ন রাজ্যে তাদের কার্যকলাপ কমিয়ে দিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের অফিসগুলিতেও তাদের টিম ছোট করা হয়েছে (I-PAC)।

     

  • Sona Pappu-Joy Kamdar Nexus: চার মাসে ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা! সোনা পাপ্পু-জয় কামদারের দুর্নীতির জালে টান ইডির, ২৫টি ভুয়ো সংস্থার সন্ধান

    Sona Pappu-Joy Kamdar Nexus: চার মাসে ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা! সোনা পাপ্পু-জয় কামদারের দুর্নীতির জালে টান ইডির, ২৫টি ভুয়ো সংস্থার সন্ধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে বিল্ডার তথা ব্যবসায়ী জয় কামদারকে (Joy Kamdar) গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) বা ইডি। নির্মাণ সংস্থা ‘সান এন্টারপ্রাইজ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত সমাজবিরোধী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। দুজনের এই ‘অশুভ আঁতাত’ এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের আতস কাচের নীচে।

    সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর বিদেশি পিস্তল-রহস্য

    সম্প্রতি, জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ সংক্রাম্ত মামলায় তল্লাশি অভিযানের সময় সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) বাড়িতে উদ্ধার হওয়া বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির হদিস পায় ইডি (ED)। ১ এপ্রিল বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ একটি ৭ এমএম বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে, যার গায়ে ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেখা ছিল। তদন্তে জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি ওই অস্ত্রটি সোনা পাপ্পুর স্ত্রী সোমা পোদ্দারের নামে কেনা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি কেনা হয়েছিল জয়ের সংস্থা থেকে। তদন্তে উঠে আসে, বেহালার প্রোমোটার জয় কামদারের সংস্থার মাধ্যমেই অস্ত্রটি কেনা হয়েছিল। অশ্বিনী দত্ত রোডে জয়ের অফিস থেকেই এই কেনাবেচা হয় বলে অভিযোগ। যদিও সোমা পোদ্দার দাবি করেছেন, তিনি এই কেনাকাটা বা তাঁর নামে কোনও ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

    সোনা পাপ্পুর স্ত্রী-র নামে সংস্থা, অথচ তিনিই জানেন না!

    পাশাপাশি, সোনা পাপ্পু ও জয়ের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্যও সামনে এসেছে। ইডির তদন্তে আরও জানা যায়, জয়ের সংস্থার সঙ্গে সোনা পাপ্পু ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা একাধিক সংস্থার সঙ্গে বিপুল টাকার লেনদেন হয়েছে। ‘সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড’ নামের সংস্থায় ডিরেক্টর হিসেবে নাম রয়েছে জয়ের। এছাড়া ‘এসপি কনস্ট্রাকশন’ নামে আর একটি সংস্থা সোনা পাপ্পুর নামে রয়েছে। এসব সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। পাশাপাশি, ‘হেভেন ভ্যালি’ নামে সোমা পোদ্দারের সংস্থার সঙ্গেও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে ইডি—যদিও তিনি সবকিছুই অস্বীকার করেছেন।

    ৪ মাসে ৫০০ কোটি নগদ জমা, মোট লেনদেন ১১০০ কোটি!

    তদন্তে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য, জয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ডিজিটাল ডিভাইস থেকে ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি ইডির। ‘ক্যালকাটা গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটি’-র অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ কোটি টাকা জয়ের ভুয়ো কোম্পানিতে স্থানান্তরের তথ্যও সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মাত্র চার মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা হয়েছে জয়ের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২৫টি ভুয়ো সংস্থার খোঁজ মিলেছে। বর্তমানে ইডি জয়ের হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছে। সংস্থার আইনজীবীর কথায়, “তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ মিলেছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনের সঙ্গেও অভিযুক্তের যোগ রয়েছে।”

    রবিবার দীর্ঘ জেরার পর বিকেল ৫টা নাগাদ জয় কামদারকে গ্রেফতার করে ইডি। কিন্তু গ্রেফতারির পরপরই তিনি অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে প্রথমে সল্টলেকের সেবা হাসপাতাল ও পরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘ফিট সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পর সোমবার দুপুরে তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে জয়কে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

  • Sona Pappu-Joy Kamdar Nexus: সোনা পাপ্পু ও সান গ্রুপের জয় কামদারের মধ্যে হাজার কোটি টাকার লেনদেন! ইডির তলব ডিসিপি শান্তনুকে

    Sona Pappu-Joy Kamdar Nexus: সোনা পাপ্পু ও সান গ্রুপের জয় কামদারের মধ্যে হাজার কোটি টাকার লেনদেন! ইডির তলব ডিসিপি শান্তনুকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার সকালে বেহালার বাড়ি থেকে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) ঘনিষ্ঠ জয় কামদারকে (Joy Kamdar) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। যদিও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং একের পর এক আর্থিক লেনদেনের তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। পাশাপাশি জয় ও সোনা পাপ্পুর নতুন সংস্থার খোঁজও মিলেছে।

    জয় কামদার-সোনা পাপ্পুর মধ্যে কোটি কোটি টাকার লেনদেন!

    ইডির হাতে উঠে এসেছে সোনা পাপ্পু ও জয়ের একাধিক সংস্থার মধ্যে কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য। ধৃত ব্যবসায়ীর সংস্থার সঙ্গে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেন করেছে সোনা পাপ্পু। ইডি আদালতে জানিয়েছে, জয়ের নামে ‘সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, আরেকটি কোম্পানির খোঁজ মিলেছে এস পি কনস্ট্রাকশন নামে, যার মালিকানা রয়েছে সোনা পাপ্পুর নামে। ইডির দাবি, সেই কোম্পানির অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানা যাচ্ছে, সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর সংস্থার প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। শুধু তাই নয়। ইডির আরও দাবি, ‘ক্যালকাটা গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটি’ নামে একটি ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে জয় কামদার প্রায় ৪০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছেন। পাশাপাশি, ‘চিরাস এন্টারপ্রাইজ’ নামে আরও একটি ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার। কামদারের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। অন্যদিকে, সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামেও একটি সংস্থার সন্ধান মিলেছে। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি দাবি করেন, তাঁর নামে কোনও কোম্পানি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

    কেন ইডির নজরে জয় কামদার?

    জয় কামদার মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল এবং সেই সময় বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয়, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সম্প্রতি কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু সূত্র পায় ইডি। সেই সূত্র ধরেই সামনে আসে জয়ের নাম। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সোনা পাপ্পু মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জয় কামদারকে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। এরপরই রবিবার সকালে বেহালায় তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    আরজি করে ভর্তি জয় কামদার

    গ্রেফতারের পর ব্যাঙ্কশাল আদালতে নিয়ে আসার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন জয় কামদার। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার জেরেই জয় অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা যাচ্ছে। আদালতে পেশ করতে না পারায় ইডির তরফে এদিন ব্যাঙ্কশাল আদালতে ধৃত ব্যবসায়ীর জেল হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। পরে সুস্থ হলে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় ইডি। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীনও জয়ের ওপর নজরদারির জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে মোতায়েন করার আবেদন জানানো হয় আদালতে। এদিকে, সোনা পাপ্পুর সূত্র ধরে রবিবার বেহালার পাশাপাশি বালিগঞ্জেও অভিযান চালায় ইডি।

    কলকাতা পুলিশের ডিসিকে তলব ইডির

    একই দিনে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। শেষ খবর, শান্তনুকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুধু তা-ই নয়, পুলিশ আধিকারিকের দুই পুত্রকেও তলব করা হয়েছে। সোনা পাপ্পু এবং বেহালার প্রোমোটার জয় কামদারের সঙ্গে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনুর ‘যোগসূত্র’-এর ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করেছে ইডি। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে কাঁকুলিয়া রোডে গুলিচালনার ঘটনায় সোনা পাপ্পুর নাম জড়ায়। সেই ঘটনায় তাঁর কয়েকজন সহযোগী গ্রেফতার হলেও মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু এখনও অধরা।

  • I-PAC ED Probe: গ্রেফতার এক কর্তা, তলব আরও একজনকে— ইডির নজরে আইপ্যাক, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

    I-PAC ED Probe: গ্রেফতার এক কর্তা, তলব আরও একজনকে— ইডির নজরে আইপ্যাক, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের ঠিক আগে বিরাট চাপে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। এক শীর্ষ কর্তাকে গ্রেফতারের পর সংস্থার আরও এক শীর্ষ কর্তা ঋষি রাজ সিং-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। হাওয়ালা লেনদেন ঘিরে অর্থ পাচারের অভিযোগে আজ, সোমবার ২০ এপ্রিল, দিল্লিতে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। সেখানে ‘অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন’ (PMLA)-এর আওতায় তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ইডি হেফাজতে সংস্থার অন্যতম কর্তা ভিনেশ চান্ডেল

    ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক একাধিক রাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে আসছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস (পশ্চিমবঙ্গ) এবং ডিএমকে (তামিলনাড়ু)-সহ বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে যুক্ত এই সংস্থা। আইপ্যাকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন ঋষি রাজ সিং, ভিনেশ চান্ডেল এবং প্রতীক জৈন। এর মধ্যে ভিনেশ চান্ডেলকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে ইডি। এর আগে, প্রতীক জৈনের ভাই ও স্ত্রীকেও ডাকা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংস্থা থেকে পাওয়া অর্থের হাওয়ালা লেনদেনের অভিযোগে এই তদন্ত চলছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২ এপ্রিল বেঙ্গালুরুতে ঋষি রাজ সিং-এর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে ১৩ এপ্রিল দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় ভিনেশ চান্ডেলকে, যিনি বর্তমানে ইডি হেফাজতে রয়েছেন।

    মামলার সূত্রপাত দিল্লি পুলিশের একটি এফআইআর থেকে

    এই মামলার সূত্রপাত দিল্লি পুলিশের একটি এফআইআর থেকে। সেখানে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, হিসাবপত্রে কারচুপি এবং সংস্থার পরিচালকদের মাধ্যমে ‘হিসাব-বহির্ভূত’ তহবিল লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইডির দাবি, সংস্থাটি হিসাবভুক্ত ও অঘোষিত তহবিল গ্রহণ, জামানত ছাড়াই ঋণ নেওয়া, ভুয়ো বিল ও ইনভয়েস তৈরি, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং হাওয়ালা চ্যানেলে নগদ লেনদেনের মতো একাধিক অনিয়মে জড়িত। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকার অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে আইপ্যাক। এই মামলার সঙ্গে কয়লা দুর্নীতি তদন্তেরও সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।

    কলকাতায় প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আই-প্যাকের দফতরে তল্লাশি ইডির

    এর আগে, ৮ জানুয়ারি কয়লা দুর্নীতি মামলায় প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং কলকাতায় আই-প্যাকের দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু নথি সরিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর দাবি ছিল, ইডি আসলে নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনার জেরে ইডি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে এবং সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, রবিবার পশ্চিমবঙ্গে আইপ্যাক-এর কাজ ২০ দিনের জন্য বন্ধের খবর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়। তবে, তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তৃণমূল।

LinkedIn
Share