Tag: Narendra Modi

Narendra Modi

  • Modi Trump Meeting: ট্রাম্পের মুখে মোদিস্তুতি! বললেন ‘খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী’; জি-৭ বৈঠকের পর নতুন মন্তব্য

    Modi Trump Meeting: ট্রাম্পের মুখে মোদিস্তুতি! বললেন ‘খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী’; জি-৭ বৈঠকের পর নতুন মন্তব্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ফের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর একাধিক মন্তব্যে ট্রাম্প মোদিকে “খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী” (Very Tough Cookie) বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রশংসনীয় নেতা বলেও অভিহিত করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, “শি জিনপিং পুরোপুরি কাজমুখী নেতা। আর নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত কঠিন একজন মানুষ, আলোচনার টেবিলে তাঁকে হারানো সহজ নয়।”

    কঠোর ও দক্ষ আলোচক

    এর আগে ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও ট্রাম্প তাঁর প্রশংসা করেছিলেন। সে সময় ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, “তিনি দেখতে অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন কঠোর ও দক্ষ আলোচক। তিনি সবসময় ভারতের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, “তিনি অত্যন্ত কঠিন দর-কষাকষি করেন। আলোচনার টেবিলে তিনি সম্পূর্ণ ‘কিলার’। তবে তাঁর আচরণ খুবই শান্ত, সংযত এবং চিন্তাশীল।” ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “যতদিন নরেন্দ্র মোদি ভারতের নেতা থাকবেন, ততদিন ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা পাশে থাকবে। যদি কেউ তাঁকে বা তাঁর নেতৃত্বাধীন ভারতকে আক্রমণ করে, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকব।”

    মোদি-ট্রাম্প বৈঠক

    উল্লেখ্য, ফ্রান্সের এভিয়ঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হয়। প্রায় ১৬ মাস পর দুই নেতার এটি ছিল প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি হোয়াইট হাউসে সরকারি সফরে গিয়েছিলেন। এদিকে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান অস্থিরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে মোদি-ট্রাম্প বৈঠক কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বার্তাই এই বৈঠকের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছে ওয়াশিংটন।

  • PM Modi in Bengal: রেড রোডে যোগ, বন্দরে ৩ যুদ্ধজাহাজ, উন্নয়নের ঝাঁপি নিয়ে বাংলায় আসছেন মোদি! নজরে ২০-২১ জুন

    PM Modi in Bengal: রেড রোডে যোগ, বন্দরে ৩ যুদ্ধজাহাজ, উন্নয়নের ঝাঁপি নিয়ে বাংলায় আসছেন মোদি! নজরে ২০-২১ জুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ২০ ও ২১ জুন দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। হুগলির তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (Paschimbanga Divas) উদযাপন থেকে শুরু করে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের (International Yoga Day) নেতৃত্ব এবং গার্ডেনরিচে (GRSE) নির্মিত তিনটি যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং— এই সফরে উন্নয়ন, কৃষি, অবকাঠামো, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা এবং রাজনৈতিক বার্তা— সবকিছুকেই একসঙ্গে সামনে আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর শুধু সরকারি প্রকল্প উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ‘বিকশিত বাংলা, বিকশিত ভারত’-এর (Viksit Bengal Viksit Bharat) রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপরেখা তুলে ধরার একটি বড় মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।

    তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’: উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মেলবন্ধন

    ২০ জুন হুগলির তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যস্তরের ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপন। এ বছরের থিম— ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল: হেরিটেজ, হারমোনি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন তারকেশ্বরকে বেছে নেওয়ার মধ্যেও রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখছেন পর্যবেক্ষকরা, কারণ এই অঞ্চল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syama Prasad Mookerjee) স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী এখানে রেল, কৃষি, মৎস্য, পশুপালন ও গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। কেন্দ্রের দাবি, এসব প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে।

    ২৩তম কিস্তির পিএম কিসান নিধি: বাংলার ৪৫ লক্ষের বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে টাকা

    সফরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)-র ২৩তম কিস্তি প্রকাশ। এই কিস্তিতে দেশজুড়ে ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮,৮৮০ কোটি টাকারও বেশি স্থানান্তর করা হবে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৪৫ লক্ষের বেশি কৃষক পাবেন ৯০০ কোটিরও বেশি টাকা। ২০১৯ সালে প্রকল্প চালুর পর পশ্চিমবঙ্গে কিষাণ সম্মান নিধির আওতায় মোট বিতরণের পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃষক-ভিত্তিক এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাংলার গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

    বাংলায় প্রথমবার পূর্ণমাত্রায় ফসল বিমা প্রকল্প

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)-র সূচনা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ৫০ লক্ষ কৃষক এবং ১৪ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। বিমাকৃত ফসলের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৮,১৪০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কৃষকদের একটি বড় অংশ এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে কৃষি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ডিজিটাল কৃষির যুগে বাংলায় এগ্রিস্ট্যাক

    প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে এগ্রিস্ট্যাক (AgriStack) চালু করবেন, যা ডিজিটাল অ্যাগ্রিকালচার মিশনের অংশ। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকরা সার বিতরণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, সরাসরি আর্থিক সহায়তা (DBT), ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল ক্রয়সহ বিভিন্ন পরিষেবা একক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পেতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি তথ্যভান্ডার ডিজিটাল হওয়ায় সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছনো সহজ হবে।

    প্রাকৃতিক কৃষি ও ধান-ধান্য কৃষি যোজনায় জোর

    পশ্চিমবঙ্গে চালু হচ্ছে ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং। ২০২৬-২৭ সালে ১৭,৩০০ হেক্টর জমি জুড়ে ৩৪৬টি প্রাকৃতিক কৃষি ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা (PMDDKY)-র আওতায় পুরুলিয়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও ঝাড়গ্রাম জেলায় কৃষি উৎপাদন, সেচ, ফসল বৈচিত্র্য এবং কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এই চারটি জেলার নির্বাচনও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এগুলি ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক দিক থেকে রাজ্যের তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলির মধ্যে পড়ে।

    মৎস্য ও পশুপালন খাতে বড় বিনিয়োগ

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জে আধুনিকীকৃত মাছ ধরার বন্দর এবং বীরভূমের সাঁইথিয়ায় আধুনিক মাছ বাজারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া নদিয়ার হরিণঘাটায় পূর্ব ভারতের প্রথম আঞ্চলিক ছাগল বীর্য উৎপাদন গবেষণাগার ও সিমেন ব্যাঙ্কও উদ্বোধন করা হবে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষির পাশাপাশি মৎস্য ও পশুপালন খাতকে শক্তিশালী করা গ্রামীণ আয় বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৫৯০ কোটি টাকার রেল প্রকল্প: হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরে জোর

    রেল ক্ষেত্রে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● হাওড়ার সাঁকরাইল-সাঁতরাগাছি লিংক লাইন প্রকল্পের উদ্বোধন
    • ● হাওড়ায় ৩০০ শয্যার নতুন ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালের শিলান্যাস
    • ● পূর্ব মেদিনীপুরের হাউর ও রাধামোহনপুরের মধ্যে রোড ওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
    • ● প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে ৩১৫ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের ৪৯টি রাস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

    কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস: বিশ্বমঞ্চে ভারতের সফট পাওয়ার

    ২১ জুন সকালে কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত হবে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান। এবারের থিম ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’ (Yoga for Healthy Ageing)। ২০১৫ সালে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ভারতীয় কূটনীতির অন্যতম সফল সফট-পাওয়ার উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক, শ্রীনগর, মাইসুরু, লখনউসহ বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠান পরিচালনার পর এবার কলকাতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২,৫০০ স্থানে এবং ২১০টিরও বেশি ভারতীয় দূতাবাস ও মিশনে এদিন যোগ দিবস পালিত হবে।

    তিন যুদ্ধজাহাজ কমিশনিং: আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    সফরের সবচেয়ে কৌশলগত অংশ নিঃসন্দেহে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌযানের কমিশনিং কর্মসূচি।

    প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেবেন—

    • ● উন্নত স্টেলথ ফ্রিগেট — আইএনএস দুনাগিরি (INS Dunagiri)
    • ● বৃহৎ সমীক্ষা জাহাজ — আইএনএস সংশোধক (INS Sanshodhak)
    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ — আইএনএস অগ্রয় (INS Agray)

    তিনটিই নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো এবং নির্মাণ করেছে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (Garden Reach Shipbuilders & Engineers) বা সংক্ষেপে জিআরএসই (GRSE)। ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এই জাহাজগুলিতে এবং ২০০-র বেশি এমএসএমই (MSME) তাদের নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও সামুদ্রিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই তিন জাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি, সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধক্ষমতা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা— দুই-ই স্পষ্ট

    মোদির এই বঙ্গ সফরে একদিকে যেমন কৃষক, মৎস্যজীবী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও অবকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মাধ্যমে জাতীয় এবং বৈশ্বিক বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০-২১ জুনের এই সফর পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি কৃষি, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির এক সমন্বিত প্রদর্শনী হিসেবে গুরুত্ব পেতে চলেছে।

  • Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টিভেজা শুক্রের সকাল থেকেই শুরু হল ৩ দিন ব্যাপী যোগ দিবসের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। এদিন কলকাতা পুরসভা থেকে ‘দৌড় সে ধ্যান’ ম্যারাথনের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাইটার্স বিল্ডিং পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পথে অনুষ্ঠিত হল এই ম্যারাথন। হাঁটালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আয়ুশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী, রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সহ অন্যরা। দৌড় শেষে হল প্রাণায়ম। যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগচর্চার সূচনা হয়েছিল, তাকে তার যথাযথ মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।

    কী কী চমক যোগ দিবস উপলক্ষে?

    এদিন প্রাণায়াম শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যোগ দিবস পালন শুরু হয়ে গেল। ২ কিলোমিটার ম্যারাথন শুধু কলকাতায় নয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হচ্ছে। নৌকায় যোগা, ড্রোন শো সহ একাধিক চমক রয়েছে। কলকাতা পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডে নানাবিধ অনুষ্ঠান হবে।” শুক্রবার শহরের ১১টি জায়গায় ম্যারাথন হয়েছে। ২০ তারিখ হবে যোগ কার্নিভ্যাল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যোগ দিবস পালন সারা পৃথিবীতে একটি সমাদৃত ও সময়োপযোগী কার্যক্রম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বিশ্বের ১৭৫টির বেশি দেশ যোগ দিবস পালনের মাহাত্ম্যকে গ্রহণ করেছে।

    যোগদিবসে বিশেষ ড্রোন শো

    শনিবার, ২০ জুন মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ ও পালিত হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে পাঁচটার পরে গঙ্গাবক্ষে একটি অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে যোগব্যায়ামের বিষয়ে একটি দৃশ্যের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার আকাশে উড়বে ৩ হাজার ড্রোন। মিলেনিয়াম পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট থেকে এই ড্রোন শো দেখা যাবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতার ৪৫টা আলাদা জায়গায় এলসিডি স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে। যেখানে যোগ দিবসের সমস্ত অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হবে। ড্রোন শো-ও রয়েছে সেই তালিকায়।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ

    আগামী রবিবার, ২১ জুন বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেড রোডে যোগাসন করবেন ৩৫ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। মূল মঞ্চের সামনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কলকাতা পুর এলাকা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মানুষ এই যোগ উৎসবে যোগ দেবেন বলে আশা করছে প্রশাসন। গোটা রাজ্যে ১০ লক্ষ মানুষ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করবেন, বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। ৪৫ মিনিট যোগাসন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন রেড রোডে হবে যোগ প্রদর্শনী। ২১ তারিখ শহরের মোট ৪২টি পার্কে যোগাসন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

    কেন রেড রোডে অনুষ্ঠান

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিটি হবে কলকাতার রেড রোডে। বর্ষাকাল এবং শহরের বিভিন্ন মাঠের কর্দমাক্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।  ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২১ জুন রেড রোডেই অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ফলে রাজপথে আপাতত এই অনুষ্ঠানে কোনও বাধা রইল না। রেড রোড বন্ধ রাখার সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা হয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। তবে জনস্বার্থে পুলিশকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ওই দিন নিটের পরীক্ষা রয়েছে। যোগ দিবসের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা পড়তে হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কারণ যোগ দিবসের পুরো অনুষ্ঠান সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগের সূচনা হয়েছিল, তাকে আবার তার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

    নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত

    ২১ জুন রেড রোডের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। এর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থাকবেন। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিন ধরেই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। কর্মসূচি ঘিরে রেড রোডে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং বৃহৎ পরিসরে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    যোগে নজির গড়বে রাজ্য

    রাজ্য প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই এই যোগ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদ্‌যাপনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের আশা, তিন দিনের এই কর্মসূচি এবং বিশেষ করে ২১ জুনের মূল কর্মসূচি সফল হলে যোগ দিবস উদ্‌যাপনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি নতুন আন্তর্জাতিক নজির গড়তে সক্ষম হবে।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই প্রথম ১২তম যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি ভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গ এই অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই কার্যক্রম সফল হবে।’

  • India-UK Free Trade: ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    India-UK Free Trade: ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছর ২৪ জুলাই সই হয়েছিল ভারত-ব্রিটেন অবাধ বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। বুধবার এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানাল, স্বাক্ষরিত হওয়ার এক বছরের মাথায় ১৫ জুলাই থেকে এই চুক্তি (India-UK Free Trade) কার্যকর হতে চলেছে। এর ফলে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’(CETA)-এর অধীনে দুই দেশে একে অপরের পণ্য কম বা বিনা শুল্কে রফতানির সুযোগ পাবে সংশ্লিষ্ট শিল্প। পাশাপাশি, ১৫ জুলাই থেকে দু’দেশের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তিও (ডব্‌ল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন) কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। ব্রিটেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,চুক্তি কার্যকরের আগে ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলকে প্রস্তুতির জন্য ২৮ দিনের সময় দেওয়া হল।

    ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

    দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই চুক্তিকে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউকে-এর দাবি, এই চুক্তির ফলে দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনের জিডিপি প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে, প্রকৃত মজুরি বাড়বে ২.২ বিলিয়ন পাউন্ড, এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

    চুক্তির আওতায় কী কী

    চুক্তির আওতায় ভারতের বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের উপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে স্কচ হুইস্কির উপর ১৫০ শতাংশ শুল্ক কমে ৪০ শতাংশে নামানো হবে। নির্দিষ্ট কোটার আওতায় গাড়ির উপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হবে। প্রসাধনী সামগ্রীর উপর সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অন্যদিকে, ভারতীয় বস্ত্র, জুতো, খাদ্যপণ্যসহ একাধিক পণ্যের উপর যুক্তরাজ্য শুল্ক কমাবে। ফলে ব্রিটিশ বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ডাবল কনট্রিবিউশন কনভেনশন কী

    চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ডাবল কনট্রিবিউশন কনভেনশন-এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী পেশাদারদের সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত অবদান ও পেনশন সুবিধা সহজতর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘ইউকে-ইন্ডিয়া রোডশো’

    যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, চুক্তি কার্যকরের প্রথম বছরেই প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের শুল্ক হ্রাসের সুবিধা পাবেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের চারটি অঞ্চলে ‘ইউকে-ইন্ডিয়া রোডশো’-ও আয়োজন করা হবে।

    ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা

    এই চুক্তির ফলে উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিষেবা, ওষুধ শিল্প এবং আর্থিক পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য বাণিজ্যিক বাধা কমবে এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ হবে। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে। এছাড়া ধাপে ধাপে শুল্ক কমার ফলে দুই দেশের ভোক্তারাও আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যে তুলনামূলক কম দাম পাওয়ার সুবিধা পেতে পারেন।

    ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়ক

    সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে “ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে ভারত-যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট কার্যকর হবে জেনে আমি আনন্দিত।”মোদির মতে, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ভারতীয় কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে যাবে। তিনি বলেন, “এই চুক্তি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই বাণিজ্য চুক্তি নয়াদিল্লি ও লন্ডনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে।

    মোদি ও স্টারমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও স্টারমারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় নেতা গত এক বছরে ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের অগ্রগতিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ব্রিটেন ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর এটিই হল কোনও দেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি। যার পোশাকি নাম ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (সিইটিএ)। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রক বিবৃতিতে বলেছে, “ভারত এবং ব্রিটেন আজ ঘোষণা করছে, আগামী ১৫ জুলাই থেকে সিইটিএ কার্যকর হবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এটি ভারতের একটি বড় পদক্ষেপ।”

    দু’দেশেরই অর্থনীতিতে গতি

    দিল্লিতে ব্রিটিশ হাই কমিশনার লিন্ডি ক্যামেরনও পৃথক ভাবে এই বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন বুধবার। দিনক্ষণ ঘোষণা করে তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “এ বার প্রহর গোনা শুরু! ব্রিটেন এবং ভারত আগামী ১৫ জুলাই থেকে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।” এই পদক্ষেপকে দু’দেশের সম্পর্কের এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার। তাঁর মতে, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দু’দেশেরই অর্থনীতিতে গতি আসবে। এই চুক্তির ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৩,৪০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী মোদি।

  • India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য পৌঁছেছে রেকর্ড ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়, যা ২০২০-২১ অর্থবর্ষের ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১১০ শতাংশ বেশি। সহজ ভাষায়, ৫ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির অন্যতম দ্রুততম সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সাফল্যকে।

    বৃদ্ধির নেপথ্যে ৫ কারণ

    তবে শুধু সংখ্যার বিচারে এই অগ্রগতি বিচার করলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে কীভাবে ভারত প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এত বড় লাফ দিতে সক্ষম হল? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ— সরকারি নীতিগত সংস্কার, বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার, দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন সুযোগের সৃষ্টি।

    আমদানি-নির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরতার পথে

    দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ ছিল ভারত। যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, আর্টিলারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীলতা ছিল অত্যন্ত বেশি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নির্ভরতা একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে গত এক দশকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নকশা, গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে যেখানে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্থল, জল ও আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ভারত উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই উৎপাদন-সাফল্যকে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা-শিল্পভিত্তির প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা, বেসরকারি শিল্প এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারের সম্মিলিত অবদান।

    নীতিগত সংস্কারেই তৈরি হয়েছে ভিত

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এই লাফের অন্যতম প্রধান কারণ হল ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার। কেন্দ্রীয় সরকার ‘পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট’ চালু করে, যার ফলে শতাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেগুলির ক্রয় দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। এর পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যাতে দেশীয় সংস্থাগুলি দ্রুত চুক্তি পেতে পারে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)-এর সীমাও শিথিল করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হয়েছে ‘ইনোভেশনস্ ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স’ (iDEX) প্রকল্প। ফলে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা এবং স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    বৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি বেসরকারি শিল্প

    ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম হল বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। যদিও এখনও মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ আসে ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (DPSU) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে, তবু বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশীদারিত্ব দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেসরকারি শিল্পের অবদান রেকর্ড ৪২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট উৎপাদনের ২৪ শতাংশ। এক বছর আগে এই অংশীদারিত্ব ছিল ২২ শতাংশ। বড় শিল্পগোষ্ঠী, বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্ট-আপ মিলিয়ে এখন একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা উৎপাদন পরিবেশ গড়ে উঠছে। শিল্পমহলের মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয়করণের মতো উদ্যোগগুলিই এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের বাড়তি অংশগ্রহণ ভারতের কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    দেশীয় যুদ্ধাস্ত্র প্রকল্পের পরিপক্বতা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হল বহু বছর ধরে চলা দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের পালে হাওয়া লাগা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর তৈরি তেজস হালকা যুদ্ধবিমান প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার পর বর্তমানে তেজস এমকে-১এ উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি আরও উন্নত এমকে-২ সংস্করণের কাজও এগোচ্ছে। একইভাবে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের আকাশ-এনজি (Akash-NG) প্রকল্প এর পাল্লা, গতিশীলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ, সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ, রেডার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মতো একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানিতেও নজির গড়েছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা রফতানি পৌঁছেছে রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়। এর ফলে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য শুধু ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নয়, আন্তর্জাতিক বাজারও উন্মুক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে কোনও পণ্যের গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়। বিদেশি ক্রেতারা ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে এখন ক্রমশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার করছে। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ছে, উৎপাদন খরচ কমছে এবং গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ

    ভারতের এই অগ্রগতি এমন সময়ে এসেছে, যখন গোটা বিশ্বে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৮৮৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি টানা একাদশ বছরের বৃদ্ধির রেকর্ড। ভারতও বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ সামরিক ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে। চিন ও পাকিস্তান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৮.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে সামরিক আধুনিকীকরণের প্রবণতা ভারতের মতো উদীয়মান প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রগুলির জন্য নতুন বাজার ও সুযোগ তৈরি করছে।

    সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

    যদিও বর্তমান সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে ভারতের সামনে এখনও বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উন্নত এরো ইঞ্জিন, বিশেষ ধরনের প্রোপালশন প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর, পরবর্তী প্রজন্মের সেন্সর, মাইক্রো-ইলেকট্রনিক্স এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত এখনও বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীল। পরবর্তী ধাপে আরও বড় সাফল্য অর্জনের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো, দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং উচ্চমূল্যের উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা অপরিহার্য।

    আত্মনির্ভরতা থেকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শক্তির পথে

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এই রেকর্ড উৎপাদন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। যে যাত্রা শুরু হয়েছিল আমদানি-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে, তা এখন ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর শিল্পনীতিতে রূপ নিচ্ছে—যার লক্ষ্য ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করা। বিশ্ব যখন ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামরিক আধুনিকীকরণের পথে এগোচ্ছে, তখন ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের এই উত্থান আগামী দশকে দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

  • Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত যদি কখনও হামলার শিকার হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে”, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই আশ্বাস দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে করেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানেই ভারতের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এহেন বার্তা থেকেই স্পষ্ট, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বরফ ফের গলছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন করে মজবুত করারই ইঙ্গিত।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা (Donald Trump)

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ভারত ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু ভারত আক্রান্ত হলে আমরা অবশ্যই সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।” তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রকাশ্য নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মোদি বিশ্বের অন্যতম কঠিনতম নেতা এবং সবসময় ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

    ‘উনি দেবদূতের মতো’

    ট্রাম্পের (Donald Trump) কথায়, “উনি খুবই ভদ্র মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত কঠোর এক নেতা, যিনি সব সময় নিজের দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেন।” তিনি বলেন, “মোদি যেমন ধীরস্থির, শান্ত এবং একই সঙ্গে কঠোর…আমি কিন্তু ওরকম নই!” ‘দেখতে দেবদূতের মতো’ এই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের গলায় বারবার শোনা গিয়েছে মোদি-প্রশস্তি। কথা প্রসঙ্গে এক সময় রসিকতার সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মোদির শান্ত ও নম্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় এক নেতৃত্বের গুণ।তিনি বলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) দেখতে খুবই ভালো। দেখতে দারুণ লাগে, যেন সাক্ষাৎ দেবদূত। তবে, প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হন না। কিন্তু এত সুন্দর দেখতে যে সবাই চমকে যান। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়। উনি ভারতীয়দের যেমন ভালবাসেন, আমেরিকাকেও ভালবাসেন। হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ফের ভারত সফরে যাব কখনও”।

    স্মৃতির সুখসাগরে ডুব ট্রাম্পের

    এর পরেই স্মৃতির সুখসাগরে ডুব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর (Donald Trump) ভারত সফরের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, সেই সফরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছিল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা (PM Modi)। আবারও একবার মোদির প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “উনি বেশ কঠোর।…তবে, একবার মানুষটির দিকে তাকান। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে।” ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির রোল পড়ে যায়।

    উষ্ণ বার্তা

    সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং আমেরিকা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারত সরকার ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অসামরিক নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। এই ঘটনার পর ভারতকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার চেষ্টা বলেই মত বিশ্লেষকদের।

    সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

    দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহ শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। এছাড়াও, ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প (PM Modi)।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী সবসময় নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা জরুরি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের সামুদ্রিক খাতে কর্মরত নাবিকদের প্রায় ১০ শতাংশই (Donald Trump) ভারতীয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    আমেরিকায় ভারতের লগ্নিরও প্রশংসা

    ট্রাম্প ভারতের অর্থনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, যা দুই দেশেরই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হওয়া খুবই আনন্দের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে শেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (PM Modi) হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুল্কনীতি ও ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে (Donald Trump) আরও এগিয়ে নেওয়ারই বার্তা দিয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আলাপচারিতা ও সৌজন্য বিনিময়ে ব্যস্ত জি৭ সম্মেলনে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা। একে অপরের সঙ্গে চলছে করমর্দন। হালকা মেজাজে কথাবার্তা বলছেন। সেখানে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সেই জটলায় ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হাজির হতেই মোদি এগিয়ে যান। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক গ্রুপ ফটোর আগে দুই নেতাকে একে অপরের সঙ্গে উষ্ণ অভ্যর্থনা বিনিময় করতে দেখা যায়। সেই সময়েই ঘটে এক মজার মুহূর্ত, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। মেলোনি হাসিমুখে মোদিকে বলেন, “আবার দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” এরপর রসিকতার সুরে যোগ করেন, “আমরাই তো ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি!” প্রধানমন্ত্রী মোদিও হাসিমুখে সেই মন্তব্যের জবাব দেন।

    ফের ‘মেলোডি’

    গত কয়েক বছরে ‘মেলোডি’ (Melodi) শব্দটি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ‘মোদি’ এবং ‘মেলোনি’— দুই নেতার পদবির সংমিশ্রণ থেকেই তৈরি হয়েছে এই নাম। মাসখানেক আগে ইটালি সফরে মেলোনির সঙ্গে মোদির ‘রসায়ন’ আলোচনায় ছিল। মেলোনিকে এক প্যাকেট মেলোডি চকোলেট উপহার দিয়েছিলেন মোদি। চকোলেট উপহার পেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি হালকা মেজাজের ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোদি এবং মেলোনি। একটি মেলোডি চকোলেটের প্যাকেট ধরে রেখেছেন দু’জনে। দু’জনেই হাসছেন।

    মোদি-মেলোনি সম্পর্ক, কূটনৈতিক গুরুত্ব

    মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতারা। সম্মেলনের ফাঁকে তাঁরা একই মঞ্চে নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা সেরে নেন। ‘গ্রুপ ফটো’ তোলেন। ছবি তোলার সময় যখন রাষ্ট্রনেতারা লাইন দিয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন তার ঠিক আগে মোদি-মেলোনি একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। করমর্দন করেন দু’জনে। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তাঁরা দু’জনে কিছু কথা বলছেন। তবে কী কথা হয়েছে, তা খুব স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ, অর্থনীতি, জলবায়ু সংকট— একের পর এক গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা আর কূটনৈতিক জটিল সমীকরণের হিসেবনিকেশের ফাঁকে এক টুকরো চেনা হাসি। বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে ঠিক যেমন আগের আড্ডার রেশ থাকে, মেলোনিও সেই সুরে বলে ওঠেন, ‘আবার দেখা হয়ে গেল, খুব ভালো লাগছে।’ মোদি তোলেন ‘মেলোডি’ ভিডিওর ভাইরাল হওয়ার কথা। সুযোগ হাতছাড়া করেনননি ইটালির প্রধানমন্ত্রী। হাসতে হাসতে রসিকতার সুরে বলেন, ‘হ্যাঁ, ইনস্টাগ্রামে এখন আমরাই সবচেয়ে জনপ্রিয়।’ জি-৭ সম্মেলনের সাম্প্রতিক এই ঘটনা প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির গম্ভীর পরিবেশের মাঝেও মোদি ও মেলোনির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, মোদি-মেলোনির সম্পর্ক নিছক ছবি বা ভিডিয়োয় সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্ক ইটালি এবং ভারতের চলমান বিদেশনীতির অংশ। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইটালি। উভয় দেশই ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে।

  • Modi At G7: জি৭-এর মঞ্চে ট্রাম্প-মাক্রঁর সঙ্গে প্রথম সারিতে মোদি, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের উত্থানের স্পষ্ট বার্তা

    Modi At G7: জি৭-এর মঞ্চে ট্রাম্প-মাক্রঁর সঙ্গে প্রথম সারিতে মোদি, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের উত্থানের স্পষ্ট বার্তা

    সুশান্ত দাস 

    ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (সংক্ষেপে এভিয়ঁ) শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ‘লিডার্স ফটোগ্রাফ’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর পাশে প্রথম সারিতে মোদির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান শুধু প্রোটোকলের বিষয় নয়, বরং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতীক।

    সদস্য নয়, তাও ভারতকে আমন্ত্রণ

    বিশ্বের সাতটি প্রধান শিল্পোন্নত অর্থনীতির এই ফোরামে ভারত সদস্য না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির গুরুত্ব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান এখন বৈশ্বিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সেই বাস্তবতাই যেন প্রতিফলিত হয়েছে জি৭ নেতাদের এই ঐতিহাসিক ছবিতে।

    মাক্রঁর বিশেষ অভ্যর্থনা, ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের নতুন বার্তা

    সম্মেলনের শুরুতেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান। তিনি সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমেও শেয়ার করেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের গুরুত্বকেই তুলে ধরে। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি ও প্যারিসের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ফ্রান্স বর্তমানে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।

    ১৬ মাস পর মুখোমুখি মোদি ও ট্রাম্প

    জি৭ সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক। প্রায় ১৬ মাস পর দুই নেতা সরাসরি মুখোমুখি হলেন। শুধু তাই নয়, সম্মেলনের মূল অধিবেশনেও তাঁদের পাশাপাশি বসতে দেখা যায়। এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসনের অধীনে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। চিনকে কেন্দ্র করে পরিবর্তিত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    কেন বারবার জি৭-এ আমন্ত্রিত হচ্ছেন মোদি?

    এবারের সম্মেলন ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির সপ্তম ধারাবাহিক জি৭ অংশগ্রহণ। জি৭-এর সদস্য না হয়েও এতবার আমন্ত্রিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—

    • ● বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর অন্যতম ভারত।
    • ● বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে।
    • ● প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সবুজ শক্তি ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে।
    • ● উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর সমাধানে ভারতের অংশগ্রহণ এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ফলে জি৭-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ভারতের উপস্থিতি ক্রমশ স্থায়ী চরিত্র ধারণ করছে।

    ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর মুখপাত্র হিসেবে ভারতের অবস্থান

    গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। জলবায়ু অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি সংকট, ডিজিটাল বৈষম্য এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে। জি২০-র সভাপতিত্বের সময়ও ভারত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। জি৭ সম্মেলনেও সেই অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন মোদি।

    একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি

    সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও কর্মসূচি রয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত সহযোগিতা এসব বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের অনুমান।

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের উত্থানের প্রতীকী বার্তা

    এভিয়ানের জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মাক্রঁর পাশে প্রথম সারিতে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি নিছক একটি আনুষ্ঠানিক ছবি নয়। এটি এমন এক ভারতের প্রতিচ্ছবি, যা আজ বিশ্বের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোর সঙ্গে সমান গুরুত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ, বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে ভারত যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল, জি৭ সম্মেলনের এই দৃশ্য যেন সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।

  • Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জি-৭-এর মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে বসিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সামিটে (G7 Summit) মঙ্গলবার নজর কাড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্মেলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের আগে দুই রাষ্ট্রনেতাকে করমর্দন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায় চেয়ারে বসে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোদি সেখানে যেতেই উঠে দাঁড়িয়ে করমর্দন করেন। করমর্দনের পর দু’জনকে পাশাপাশি বসে কথোপকথন করতেও দেখা যায়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য— এই সব বিষয়ই জি-৭ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

    পারস্পরিক বিশ্বাস, সবচেয়ে দামি

    এদিন জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি, কার্যত তাঁর সমালোচনাও করেন মোদি। জি-৭ সামিটে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আজ বিশ্ব আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত এবং পরস্পর নির্ভরশীল। একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শুধুমাত্র তার সীমানার মধ্যেই নির্ধারিত হয় না। তথ্য, পুঁজি এবং প্রযুক্তি—এই সবই আমাদের সংযুক্ত করে। ফলে এই বিশ্বে পার্টনারশিপের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু পার্টনারশিপ তখনই সফল হয় যখন তার মূলে থাকে বিশ্বাস। আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক সম্পদ খনিজ, প্রযুক্তি বা বাজার নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস।’’

    পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ বিশ্বাসের উপরই নির্ভরশীল

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। উন্নয়নের সুযোগ কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈশ্বিক সংস্থাগুলো সকল দেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম হবে। গত শতাব্দীতে মানবজাতি দুটি বিশ্বযুদ্ধ সহ্য করেছে। বহু ত্যাগের পর, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বিশ্ব। এই ব্যবস্থাগুলোও বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, কিন্তু বহু প্রজন্মের অবদানের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সেই বিশ্বাস আজ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। কোভিড আমাদের দেখিয়েছে, বিশ্বাস এবং সংহতির দাবিগুলো কতটা অন্তঃসারশূন্য ছিল। আজ বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বরং বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে এবং আমাদের পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ এই বিশ্বাসের উপরই নির্ভর করছে।’’

    ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী মোদি

    প্রধানমন্ত্রী মোদি হরমুজ প্রণালী ও তার আশেপাশে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ায় আমাদের মিত্র দেশগুলোর জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নাবিকদের নিরাপত্তা, যাঁরা বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সমস্ত দেশকে সংযুক্ত করেন, তা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, সমুদ্রপথ যাতে নিরাপদ থাকে এবং নাবিকরা নির্ভয়ে তাঁদের কাজ করতে পারেন।’’

    ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক!

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে প্রায় ১৬ মাস পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেখা হল। সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের পরে এটাই মোদি ও ট্রাম্পের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, মোদী-ট্রাম্প পার্শ্ববৈঠকে বাণিজ্যচুক্তি, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ইস্যুতে নজর

    এই বৈঠক এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। তার সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে মোদি ও ট্রাম্প একটি অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমানে সেই চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বৈঠকে সেই অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হতে পারে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

  • India-Slovakia Relation: ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ক ‘পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত, স্বাক্ষরিত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

    India-Slovakia Relation: ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ক ‘পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত, স্বাক্ষরিত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্লোভাকিয়া (PM Modi in Slovakia) সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল। সোমবার স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠকের পর ভারত ও স্লোভাকিয়া (India-Slovakia Relation) তাদের সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ’ বা পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্বে উন্নীত করার কথা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি শ্রম অভিবাসন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, উচ্চশিক্ষা ও কোয়ান্টাম যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ১১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। সোমবার স্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রপতি পিটার পেলেগ্রিনির সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    অভিন্ন বিশ্বাস, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতের প্রতীক

    ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এটি স্লোভাকিয়ায় কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “আমরা আমাদের সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপের মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমাদের অভিন্ন বিশ্বাস, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতের প্রতীক।” ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তকরণে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি ফিকো-রও প্রশংসা করেন। দুদিনের এই সফরে স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি (President Peter Pellegrini) এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর (Prime Minister Robert Fico) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্য জগতের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল শিল্প, রেল উৎপাদন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম মেধা ও উদ্ভাবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নে জোর

    দুই নেতার বৈঠকে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)-র দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, এই চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের শিল্প, স্টার্টআপ ও ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোও এই চুক্তিকে বিশ্বের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তাঁর দেশ।

    জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

    দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তি ও ভূ-তাপীয় শক্তি ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “অটোমোবাইল, রেলওয়ে, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তি আমাদের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।” প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে দুই দেশ একটি লেটার অফ ইনটেন্ট (LOI) চূড়ান্ত করেছে। মোদির মতে, এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতায় নতুন গতি আনবে এবং পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ভারত ও স্লোভাকিয়া আঞ্চলিক সংযোগ, মুক্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে একসঙ্গে কাজ করবে।

    দক্ষ কর্মীদের চলাচল সহজ করতে সমঝোতা

    দুই দেশ দক্ষ পেশাজীবীদের নিরাপদ ও বৈধ চলাচলকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে শ্রম অভিবাসন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি কর্মরত পেশাজীবীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাগ্রিমেন্ট চূড়ান্ত করার বিষয়েও একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।

    রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের সমর্থন

    বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে দুই নেতা রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারকে সমর্থন করেছেন। এই প্রেক্ষিতে, সংস্কারিত ও সম্প্রসারিত নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে স্লোভাকিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ভারত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান

    মোদি ও ফিকো সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের, বিশেষ করে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা করেন। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলারও কড়া নিন্দা জানান ফিকো। সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একটি যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মগোষ্ঠী (Joint Working Group on Counter-Terrorism) গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোর আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ। দুই নেতা সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদতদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ক

    ভারত-স্লোভাকিয়া বৈঠকের এই সিদ্ধান্তগুলি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) মতে, গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ যে নতুন গতি পেয়েছে, মোদির এই সফর সেই সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুসংহত করার দিকেই বড় পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Droupadi Murmu) স্লোভাকিয়া সফর এবং এবছর স্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রপতি পেলেগ্রিনির ভারত সফরের পর মোদির এই সফর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সহ শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত ও স্লোভাকিয়ার সম্পর্কের (India-Slovakia relations) ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

LinkedIn
Share