Tag: Narendra Modi

Narendra Modi

  • 1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। নিজের দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ও সতবন্ত সিংয়ের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর হত্যার পরবর্তী পাঁচ দিন ভারতের স্বাধীনতা-উত্তর ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে (1984 Sikh Genocide)। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে এসেছিল সংগঠিত হিংসার ভয়াবহতা। অভিযোগ, হাজার হাজার নিরপরাধ শিখকে খুন করা হয়, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। সেই সময় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠেছিল গুরুতর প্রশ্ন (RSS)।

    এই পরিস্থিতিতে আরএসএস এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন বলে দাবি করা হয়। হিংসার পরিবেশে বহু শিখ পরিবারকে রক্ষা করতে সঙ্ঘের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরিকল্পিত হিংসার অভিযোগ (1984 Sikh Genocide)

    ইন্দিরা হত্যার পর দিল্লিতে শিখবিরোধী হিংসা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নিয়ে একাধিক তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের একাংশ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন কথাও বলা হয় যে, শিখদের এমন শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তাঁরা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না।

    অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করা হয়েছিল এবং বস্তি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির সমাজবিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। শিখদের বাড়ি ও দোকান চিহ্নিত করা হয়। হামলার জন্য ট্রাক জোগাড় করা হয়েছিল। লোহার রড, কেরোসিন ও পেট্রল সংগ্রহেরও অভিযোগ ওঠে।

    ১ নভেম্বর ভোর থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় হামলা শুরু হয়। লোহার রড এবং কেরোসিন ও পেট্রলভর্তি পাত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে গুরুদ্বার-সহ শিখদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হামলার চেষ্টার ঘটনাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা গুরুদ্বারের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে ভিতরে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক এক ব্যক্তি হামলাকারীদের ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি চালান। পরবর্তী সময়ে জনতার সংখ্যা আরও বাড়ে। ওই এলাকায় কংগ্রেস নেতা কমলনাথ ও বসন্ত সাঠেকেও দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কমলনাথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হিংসার ঘটনায় কমলনাথের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ ছিল, ১ নভেম্বর দুপুরে গুরুদ্বার ও তার আশপাশে হিংসার খবর পেয়ে তিনি কংগ্রেসের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে ঠিক কখন তিনি পৌঁছেছিলেন এবং কতক্ষণ সেখানে ছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

    বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গুরুদ্বার চত্বরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। অভিযোগ, দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ কমলনাথকে উত্তেজিত জনতার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, পুলিশ কমিশনার সেখানে পৌঁছন বিকেল সাড়ে ৩টেয়। এই সময়ের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে তাঁর উপস্থিতির উদ্দেশ্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    শিখদের রক্ষায় আরএসএসের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সময় শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট শিখ বুদ্ধিজীবী তথা লেখক খুশবন্ত সিং। বিখ্যাত গ্রন্থ ‘এ হিস্ট্রি অব দ্য শিখস’-এর লেখক খুশবন্তের বক্তব্য অনুযায়ী, হিংসার সময় কংগ্রেসের সদস্যদের একাংশ যখন শিখদের নিশানা করছিলেন, তখন আরএসএসের সদস্যরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ঢাল হয়ে।

    খুশবন্ত সিংয়ের বক্তব্য ছিল, ইন্দিরা হত্যার আগে ও পরে দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু-শিখ ঐক্য বজায় রাখতে আরএসএস সম্মানজনক ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসের নেতাদের একাংশ জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরও বলেছিলেন, “সেই কঠিন সময়ে অসহায় শিখদের রক্ষা করতে সাহস দেখানোর জন্য আরএসএস এবং বিজেপিকে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো ব্যক্তিও কয়েকটি জায়গায় নিজে হস্তক্ষেপ করে অসহায় ট্যাক্সিচালকদের সাহায্য করেছিলেন।”

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ১৯৮৪ সালের সেই ভয়াবহ সময়ে দিল্লি-সহ বিভিন্ন শহরে শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের এই উদ্যোগ হিন্দু-শিখ ভ্রাতৃত্বের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে (RSS)।

    রাজীব গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য

    ইন্দিরার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি মন্তব্যও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ১৯৮৪ সালের ১৯ নভেম্বর এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “ইন্দিরাজির হত্যার পর দেশে কিছু দাঙ্গা হয়েছিল। মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল এবং কয়েক দিন ধরে মনে হয়েছিল যেন গোটা ভারত কেঁপে উঠেছে। যখন একটি বিশাল গাছ পড়ে যায়, তখন তার আশপাশের মাটি কিছুটা কেঁপে ওঠা স্বাভাবিক।”

    এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। সমালোচকদের বক্তব্য, শিখদের উপর সংগঠিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার পরিবর্তে রাজীবের বক্তব্যে সেই হিংসাকে একপ্রকার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক ও অস্ত্র বিলির অভিযোগ

    ১ নভেম্বর সকালে দিল্লির একাধিক এলাকায় কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারকে দেখা গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে। পালাম কলোনিতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে, কিরণ গার্ডেনে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এবং সুলতানপুরীতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তাঁর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    পালাম কলোনির বাসিন্দা রাজকুমার নামে এক হিন্দু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, পালাম রেলওয়ে প্রধান সড়কে পৌঁছে তিনি একটি জিপে সজ্জন কুমারকে দেখতে পান। জিপটির পিছনে স্কুটার ও মোটরসাইকেলে চড়ে একদল উত্তেজিত মানুষ যাচ্ছিলেন।

    অভিযোগ, সজ্জন কুমারের বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে ওই জনতা শিখবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছিল, “শিখদের মেরে ফেলো!” এবং “ইন্দিরা গান্ধী আমাদের মা, আর এরাই তাঁকে হত্যা করেছে!” এই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

    জগদীশ টাইটলারের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের ৫ নভেম্বরের একটি ঘটনা তুলে ধরেছিলেন সাংবাদিক সুদীপ মজুমদার। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস সি ট্যান্ডন সাংবাদিকদের সঙ্গে শহরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

    সেই সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, শিখবিরোধী হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুষ্কৃতীদের মুক্তি দিতে কংগ্রেস সাংসদ এবং দলের শীর্ষ নেতারা পুলিশকে চাপ দিচ্ছেন কি না। পুলিশ কমিশনার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কংগ্রেস বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে পুলিশকে কোনও চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

    কিন্তু তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন দিল্লির সদর কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ জগদীশ টাইটলার। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন।

    সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘরে ঢুকেই টাইটলার পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ট্যান্ডন সাহেব, কী হচ্ছে? আমি যে কাজের কথা বলেছিলাম, তা এখনও করেননি কেন?”

    এই ঘটনায় পুলিশ কমিশনার অস্বস্তিতে পড়েন। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। টাইটলার এরপরও কমিশনারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এক সাংবাদিক তাঁকে সংবাদ সম্মেলনে বিঘ্ন না ঘটানোর অনুরোধ জানালে তিনি পাল্টা বলেন, “এটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

    এরপর সাংবাদিকরা টাইটলারকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে হিংসার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান। টাইটলার সেখানে বসে পুলিশ কমিশনারকে বলেন, “আমার লোকজনকে হেফাজতে রেখে আপনারা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।”

    সুদীপ মজুমদারের দাবি, এই ঘটনার পর কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে আর কোনও প্রশ্ন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি সেই সময়ের প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে (1984 Sikh Genocide)।

    দীর্ঘদিন পর বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি

    নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার একাধিক পুরনো মামলা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমার এবং জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিও ফের বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

    ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একটি আদালত সরস্বতী বিহার এলাকায় বাবা ও ছেলেকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সঙ্গে যুক্ত এই মামলার রায় দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সিবিআই জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। কয়েক দশক ধরে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার অভিযোগের পর এই পদক্ষেপগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে নতুন করে বিচারের আশা জাগায়।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা শিখ অধিকারকর্মী এইচ এস ফুলকা অতীতে ১৯৮৪ সালের ঘটনাকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের কিছু মুসলিম সমর্থকও হিংসায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। অন্যদিকে, বহু সাধারণ হিন্দু নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিখদের রক্ষা করেছিলেন (RSS)।

    ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়। শুধু ব্যাপক প্রাণহানি ও নৃশংসতাই নয়, এই হিংসার পিছনে রাজনৈতিক মদত এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

    সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়েছিলেন বলে যে দাবি উঠে এসেছে, তা হিন্দু-শিখ সম্প্রীতি এবং বিপদের সময়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    তবে ১৯৮৪ সালের ঘটনাবলির পূর্ণাঙ্গ বিচার এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় নির্ধারণের প্রশ্ন আজও ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। নিহতদের পরিবারগুলির ন্যায়বিচার, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মূল্যায়ন এবং ঐতিহাসিক সত্যের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানই এই অধ্যায়ের প্রকৃত নিষ্পত্তির জন্য অপরিহার্য (1984 Sikh Genocide)।

     

  • Sardar Patel 151st Birth Anniversary: ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর, ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা অমিত শাহের

    Sardar Patel 151st Birth Anniversary: ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর, ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার ইতিহাসে যাঁর অবদান চিরস্মরণীয়, সেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে গোটা দেশ। শনিবার, ৩১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস (Rashtriya Ekta Diwas) বা জাতীয় ঐক্য দিবস। স্বাধীনতার পর ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা এদিন বিশেষভাবে স্মরণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সর্দার প্যাটেলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি, দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জাতীয় ঐক্য দিবস।

    রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    নয়াদিল্লির প্যাটেল চকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন। স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা তাঁর ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করেন। দেশের রাজনৈতিক সংহতি ও অখণ্ডতা প্রতিষ্ঠায় প্যাটেলের ভূমিকা জাতীয় ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    ‘অখণ্ড ভারতের স্থপতি’, সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা মোদির

    সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে ‘অখণ্ড ভারতের স্থপতি’ এবং ‘জাতির লৌহমানব’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি লেখেন, শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও সক্ষম ভারত গড়ার লক্ষ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সর্দার প্যাটেল। মাতৃভূমির সেবায় তাঁর আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠা আজও বিকশিত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে গভীর অনুপ্রেরণা জোগায়।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় প্যাটেলের অবদান কখনও ভোলার নয়। তাঁর দূরদর্শিতা, নেতৃত্ব এবং দেশ গঠনের প্রতি নিষ্ঠা আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। এদিন গুজরাটের একতা নগরে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-তেও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ‘আধুনিক ভারতের স্থপতি’, প্যাটেলকে কুর্নিশ অমিত শাহের

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে আধুনিক ভারতের স্থপতি হিসেবে উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতীক সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে কোটি কোটি প্রণাম। দেশবাসীকেও রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    শাহের বক্তব্য, স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে প্যাটেলের সাহস, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলেই ভারতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সংহতি সুদৃঢ় হয়েছিল।

    দিল্লিতে ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে ‘রান ফর ইউনিটি’ (Run for Unity)-র সূচনা করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সর্দার প্যাটেল এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি শুধু ভারতের ইতিহাসই বদলাননি, দেশের ভৌগোলিক মানচিত্র গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, স্বাধীনতার পর ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু প্যাটেলের নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতায় সেই অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছিল। তাঁর তৈরি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই আজ বিশ্বমঞ্চে গর্বের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত।

    ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যের সংযুক্তিকরণে ঐতিহাসিক ভূমিকা

    ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভারত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এই অসামান্য অবদানের জন্যই ইতিহাসে তিনি ‘ভারতের লৌহমানব’ (Iron Man of India) হিসেবে পরিচিত।

    তাঁর স্মৃতিতে গুজরাটের একতা নগরে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’। সর্দার প্যাটেলের রাষ্ট্রগঠন, জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের ভাবনাকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর তাঁর জন্মদিনে পালিত হয় রাষ্ট্রীয় একতা দিবস।

    দেশজুড়ে ঐক্যের শপথ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    শুধু দিল্লি বা গুজরাট নয়, রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচির। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও কলেজে নেওয়া হচ্ছে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষার শপথ। পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ‘রান ফর ইউনিটি’র আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।

    দেশের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে ঐক্য, সম্প্রীতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীকে স্মরণ করার দিন নয়, বরং দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় সংহতির প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করারও উপলক্ষ।

  • Diwali: দীপাবলির আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী-পেনশনভোগীদের সুখবর, ডিএ বাড়ল ৩ শতাংশ

    Diwali: দীপাবলির আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী-পেনশনভোগীদের সুখবর, ডিএ বাড়ল ৩ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির (Diwali) আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের সুখবর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ডিএ এবং ডিআর (মহার্ঘ ত্রাণ) ৩ শতাংশ বাড়ানোর (DA Hike) সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ৬৩ শতাংশ। একইভাবে, পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ত্রাণও ৩ শতাংশ বাড়বে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে এই বর্ধিত ভাতা কার্যকর হবে।

    উপকৃত হলেন যাঁরা (Diwali)

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দীপাবলির আগে সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য এই ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৪৮.৫৪ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং ৬৮.৭১ লাখ পেনশনভোগী উপকৃত হবেন। ভাতা বৃদ্ধির কারণে কেন্দ্রীয় কোষাগারের উপর বছরে আনুমানিক ১০,০১৬ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়বে।

    সপ্তম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ

    সরকারি সূত্রে খবর, সপ্তম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে গৃহীত নির্ধারিত সূত্র মেনেই এই ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সামাল দিতে সরকারি কর্মীদের মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পেনশনের সঙ্গে যে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়, তা মহার্ঘ ত্রাণ নামে পরিচিত। মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে কর্মী ও পেনশনভোগীদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই এই দুই ভাতার মূল উদ্দেশ্য (Diwali)।

    উল্লেখ্য, প্রকাশিত তথ্যে আগের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা ও মহার্ঘ ত্রাণ মূল বেতন বা পেনশনের ২৬২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৬৯ শতাংশ করা হয়েছিল, অর্থাৎ বৃদ্ধি হয়েছিল ৭ শতাংশ (DA Hike)। তবে এই তথ্যের সঙ্গে বর্তমান ঘোষণার সময়কাল ও হার সংক্রান্ত অসংগতি রয়েছে। ফলে আগের বৃদ্ধির তথ্যটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন (Diwali)।

     

  • Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্যকে (Modi Ka Baap Remark) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতারা (BJP Protest)। খাড়গের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

    বিজেপির তরফে দলের রাজ্য শাখাগুলিকে নিজ নিজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, খাড়গের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে অপমান করেছে।

    রবিবার পটনায় বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনও পদ ছাড়বেন না। তার জবাব দিতে গিয়ে খাড়গে বলেন, “মোদির বাবাও চলে যাবেন।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই আপত্তি জানাতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপি নেতাদের (Modi Ka Baap Remark)

    খাড়গের মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন বিহারের সমবায়মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিতর্কের মান ক্রমশ নামিয়ে আনছে।

    সংবাদ সংস্থাকে রাম কৃপাল যাদব বলেন, “কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খাড়গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি কংগ্রেস পার্টি, রাহুল গান্ধী এবং দলীয় সভাপতির মানসিকতার প্রতিফলন। এটাই কংগ্রেসের সংস্কৃতি, যে কারণে দলটি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার জন্য শালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণেই কংগ্রেস নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছেন।

    দিলীপ বলেন, “আজ শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও মোদিজির নেতৃত্ব সম্মানিত। বিজেপি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হচ্ছে এবং মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে তারা রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে। সেই কারণেই মোদিজি এবং আমাদের অন্যান্য নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, যা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

    উত্তরপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায়ও কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মূল্যবোধের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।

    তিনি বলেন, “কটূক্তি করা ওদের সংস্কৃতির অংশ। কাউকে উপহার না দিলে সে কিছুক্ষণ কাঁদে। কাউকে মূল্যবোধের শিক্ষা না দিলে সে সারা জীবন কাঁদে। আর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধের অভাব থাকলে তিনি শুধু নিজেই কাঁদেন না, গোটা সমাজ ও দেশকেও কাঁদান। যাঁদের নেতৃত্বে মূল্যবোধের অভাব রয়েছে, তাঁরাই এই ধরনের মন্তব্য করেন।”

    বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ

    এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই খাড়গের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়গুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যের একটি অংশকে বেছে নিয়ে প্রচার করছে (Modi Ka Baap Remark)।

    সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা বলেন, সংবিধানকে দুর্বল করার চেষ্টার সমালোচনা করতে গিয়েই খাড়গে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।

    বর্মার কথায়, “তাঁর বক্তব্যকে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলে ধরা হচ্ছে। বিজেপি স্লোগান বদলে সেগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যা রাজনীতির পক্ষে ঠিক নয়। রাজনীতি হওয়া উচিত বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে।”

    বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির ওই মন্তব্যকে রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে দলীয় রাজ্য শাখাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে গেরুয়া পার্টি (Modi Ka Baap Remark)।

     

  • Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। ২৬ অক্টোবর পাটনায় একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁর করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশও দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) বিরুদ্ধে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন খাড়্গে। সেই সময় শ্রোতাদের মধ্যে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি পদ ছাড়বেন না। এর জবাবে খাড়্গে বলেন, ‘‘মোদির বাবাও চলে যাবেন।’’ তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    সমালোচকদের বক্তব্য, শ্রোতাদের কোনও মন্তব্যের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও কংগ্রেস সভাপতির আরও সংযত ভাষা ব্যবহার করা উচিত ছিল। একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে থাকা নেতার বক্তব্যে এমন ভাষার ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

    মোদিকে নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের অতীত মন্তব্যও বিতর্কে (Mallikarjun Kharge)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে কংগ্রেস নেতাদের অতীতের একাধিক মন্তব্যও নতুন করে চর্চায় এসেছে। ২০০৭ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করে সোনিয়া গান্ধীর “মওত কা সওদাগর” (মৃত্যুর সওদাগর) মন্তব্য, ২০১৭ সালে মণিশঙ্কর আইয়ারের “নীচ আদমি” মন্তব্য এবং ২০২২ সালে খাড়্গের মোদিকে “রাবণ”-এর সঙ্গে তুলনা করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল গান্ধীর “চৌকিদার চোর হ্যায়” স্লোগানও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর পাটনায় খাড়্গের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে সরকারের নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কাজের খতিয়ান নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    আরএসএসের আদর্শ নিয়ে খাড়্গের বক্তব্য ঘিরেও বিতর্ক

    আরএসএসের আদর্শ নিয়েও খাড়্গের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আরএসএসের মতাদর্শের অবসান না ঘটলে ভারতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়—এমন অবস্থান একটি সংগঠনের আদর্শকে সামগ্রিকভাবে বিপদের উৎস হিসেবে তুলে ধরে। তাঁদের মতে, এই ধরনের দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও যুক্তি থাকা প্রয়োজন।

    ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবা, ত্রাণকাজ এবং নানা সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে সংগঠনটির কার্যকলাপে উল্লেখ করা হয়।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও সংগঠনের মতাদর্শের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে বিরোধী মতাদর্শকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার আহ্বান গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের ধারণার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, মতাদর্শগত বিরোধিতার জবাব যুক্তি, তথ্য ও আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া উচিত (Mallikarjun Kharge)।

    খাড়্গের সমালোচনা

    বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটে নীতীশ কুমারের যোগদান নিয়েও খাড়্গের সমালোচনা তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিরোধী দলগুলির জোট এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে নিশানা করেই তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

    সব মিলিয়ে, খাড়্গের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক শুধু প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিরোধিতার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত এবং মতাদর্শগত সংঘাতের মধ্যেও গণতান্ত্রিক সহনশীলতা কীভাবে বজায় রাখা যায়, সেই (PM Modi) প্রশ্নও সামনে এসেছে। আরএসএস-সহ যে কোনও সংগঠনের কাজকর্ম ও মতাদর্শের সমালোচনা তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন—এমনটাই মত সমালোচকদের। তাঁদের বক্তব্য, কোনও মতাদর্শকে নির্মূল করার আহ্বান বিতর্কের নিষ্পত্তি না করে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে (Mallikarjun Kharge)।

     

  • India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হল ভারত ও পোল্যান্ড। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পোল্যান্ডের (India Poland) প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমান স্তর থেকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে জোর দেওয়া হয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ২০২৪ সালে মোদির পোল্যান্ড সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পায়। গত ৪৫ বছরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটিই ছিল প্রথম পোল্যান্ড সফর। বর্তমানে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা হয়ে উঠেছে দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ড ইউরোপের বৃহত্তম সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। দেশটি তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে।

    ‘চমৎকার’ আলোচনা (India Poland)

    টাস্কের সঙ্গে আলোচনাকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পোল্যান্ড স্বাগত জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় আধিকারিকরা।

    টাস্কের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “আজ আমরা প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছি। এই সমস্ত কৌশলগত ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদনের জন্য আমরা পোল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরে টাস্ক বলেন, “রাজনৈতিক হুমকি সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট সচেতন। খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব স্বাধীন হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তাও আমরা বুঝি, যাতে পোল্যান্ড ও ভারত এই ক্ষেত্রগুলিতে আত্মনির্ভর হতে পারে।”

    কী বললেন মোদি

    মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের সময়ে ভারত এবং পোল্যান্ড, দুই দেশই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, “গত বছর পোল্যান্ডের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঐতিহাসিকভাবে এক লাখ কোটি মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আর, গত ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ।”

    প্রস্তাবিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তি পোল্যান্ডে যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, প্লাস্টিক এবং প্রকৌশলজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে রেল, পরিবহণ ব্যবস্থা, উন্নত উৎপাদন শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে পোল্যান্ডের কাছ থেকে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে ভারত।

    টাস্কের সঙ্গে প্রায় ১০০টি পোলিশ সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল ভারতে এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে এই প্রতিনিধিদল গুরুত্ব দেবে বলেও জানান মোদি।

    নয়া অংশীদারিত্ব

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং পোল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ নয়া অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘প্রারম্ভিক উদ্যোগ সেতু’ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    পোল্যান্ডের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত দু’টি ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেবে। প্রতিরক্ষা, কৃষি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধশিল্প, খনি, প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই এই সম্মেলনগুলির লক্ষ্য। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার। পোল্যান্ডে ভারতীয় বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে (India Poland)।

    টাস্ক বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত বা এমন কোনও ঐতিহাসিক সমস্যা নেই, যা তাদের বিভক্ত করতে পারে। সেই কারণেই উভয় দেশ সহজেই পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদির ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে ‘আশার আলোকবর্তিকা’ বলেও উল্লেখ করেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

    টাস্কের বক্তব্য

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গে টাস্ক বলেন, “সম্প্রতি আমাদের ড্রোনগুলি অত্যন্ত কার্যকর ছিল। আমি নিশ্চিত, উপগ্রহ ও ড্রোনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংকটের সময় আমাদের দেশগুলিকে সাহায্য করেছে।”

    গত বছর কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ভারত পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সময় ভারতীয় সেনার ব্যবহৃত পোলিশ ড্রোনের দিকেই টাস্ক ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পোল্যান্ডের ডব্লিউবি গোষ্ঠী ২০২২ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ১০০টি ‘ওয়ারমেট’ আত্মঘাতী ড্রোন সরবরাহ করেছিল। চলতি বছরের গোড়ায় পোল্যান্ডের আধিকারিকরা জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও তিনটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের কারণে পোল্যান্ডের নিজস্ব মজুত কমেছে। সেই মজুত পূরণ করতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আগ্রহী ওয়ারশ। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে পোল্যান্ডের কয়েকটি সংস্থার উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে নিরাপদে তথ্য আদানপ্রদানের বিষয়ে একটি চুক্তিও চূড়ান্ত করছে নয়াদিল্লি এবং ওয়ারশ।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ গোপনীয় তথ্যের পারস্পরিক সুরক্ষা ও আদানপ্রদান নিয়ে একটি চুক্তি তৈরির কাজ করছে। প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার ভিত্তিতে এই চুক্তি গড়ে উঠবে বলেই আশা।

    যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি ও উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারস্পরিক আস্থা এবং তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যবস্থা জরুরি বলেও জানান তিনি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে একটি সংলাপ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত একটি পৃথক আলোচনা চালু করতেও সম্মত হয়েছে। চলতি বছরের গোড়ায় ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব পোল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ এবং জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার অতিরিক্ত কাঠামো তৈরি (India Poland) করেছে বলেও জানান জর্জ।

    শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারতের করণীয়

    আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে যাবে।” রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ভারতের অবস্থানকে পোল্যান্ড ‘অত্যন্ত প্রশংসা’ করেছে বলে জানান জর্জ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনে মোদি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে ‘যুদ্ধের অবসানের’ দিকে এগোনোর যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি রফতানি এবং পরস্পরের উপর আক্রমণ না করার সম্ভাবনা নিয়েও ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব ভাগ করে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব

    দুই দেশের নেতাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জামনগর ও কোলহাপুরের রাজপরিবার হাজার হাজার পোলিশ শিশু ও পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন থেকে হাজার হাজার ভারতীয় পড়ুয়াকে সরিয়ে আনতেও পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সহায়তা করেছিলেন। বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩,৫০০ জনই পড়ুয়া।

    প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং বাণিজ্য—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভারত-পোল্যান্ড সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দিতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এখন বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে (India Poland) বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

     

  • PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Attacks Congress)। তাঁর অভিযোগ, ‘দিমাগি নকশালরা’ কংগ্রেসের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে দলটি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দেশের সাফল্য ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরার পরিবর্তে কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাহুল (Modi to Rahul) গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশ্ন, আর কতদিন নিজেদের ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট’ লঞ্চ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে হাত শিবির? একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের হস্তক্ষেপে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

    ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রতিবাদের আবহেই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মোদি বলেন, “যখন গোটা বিশ্ব নতুন বিশ্বব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু মানুষ ভারতে বিশৃঙ্খলার স্বপ্ন দেখছেন।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা করার অভিযোগও তোলেন তিনি। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, নিজেদের ‘ব্যর্থ পণ্য’কে সামনে আনতে কংগ্রেস আর কত দিন দেশের স্বার্থকে বাজি রাখবে?

    ‘বিক্ষোভের আওয়াজে চাপা পড়ছে অন্য বিরোধীদের বক্তব্য’

    প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যুক্তিসংগত বক্তব্য তুলে ধরতে চাওয়া বিরোধী নেতাদের কণ্ঠস্বর কংগ্রেসের হট্টগোলে চাপা পড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে যাঁরা বৈধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের বক্তব্য জানাতে চান, কংগ্রেসের বিক্ষোভ ও হইচইয়ের কারণে তাঁদের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে না। কংগ্রেসের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে আক্রমণ আরও তীব্র করে মোদি দাবি করেন, একসময় যারা জঙ্গলে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাত, তারাই এখন কংগ্রেসের চিন্তাভাবনার মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং দেশের ক্ষতি করার পথে এগোচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন।

    ‘পরিবারতন্ত্রই কংগ্রেসের বোঝা’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের উন্নয়ন, সাফল্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্জনকে রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় করে তোলা হচ্ছে। নেতৃত্বের বারবার ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদির দাবি, কংগ্রেসের অন্দরেও দলের সমস্যাগুলি সম্পর্কে প্রবীণ নেতারা অবগত। কিন্তু অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তিনি বলেন, “এই পরিবার কংগ্রেস দলের কাছে বোঝা হয়ে উঠেছে। দলের প্রবীণ নেতারাও বিষয়টি উপলব্ধি করছেন।” প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক আচরণ সরকারের সমালোচনা করতে চাওয়া অন্য নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং গণতান্ত্রিক পরিসরকে দুর্বল করছে।

    ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করতে আর কত চেষ্টা করবে কংগ্রেস?’

    রাহুল গান্ধীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁকে লক্ষ্য করেই কংগ্রেসের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বারবার চেষ্টা নিয়ে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত উৎক্ষেপণ হয়, তার চেয়েও বেশি বার কংগ্রেস তাদের নেতাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “কংগ্রেস তাদের ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করার জন্য দেশের স্বার্থকে আর কতদিন বাজি রাখবে, তা আমি জানি না। শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত লঞ্চ হয়, কংগ্রেস তার নেতাকে লঞ্চ করার ব্যর্থ চেষ্টা তার চেয়েও বেশি বার করে।” এখানেই থামেননি মোদি। তাঁর অভিযোগ, একটি পরিবারকে ব্যর্থতার দাগ থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সাফল্য, গৌরব ও উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আঙুর টক হওয়ার উপমা টেনে তিনি বলেন, কংগ্রেস এখন নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার জেরে গোটা ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে।

    কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও কটাক্ষ

    এদিন কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অন্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কংগ্রেস। ক্ষমতা হারানোর পর দলটির রাজনৈতিক অবস্থানেও ক্ষোভ ও বিরূপ মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি। মোদির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্যের কারণে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কিংবা উন্নয়নের সাফল্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলা উচিত নয়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই মন্তব্য ঘিরে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ার দিকে। রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণ জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সংসদ অচল করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, সংসদের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে কংগ্রেস বিরোধী শিবিরের তরুণ সাংসদদের নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরের অন্য নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে একজন নেতাকেই বারবার সামনে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনিক দুর্বলতা তুলে ধরা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আয়োজিত প্রতিবাদগুলিকে কংগ্রেস রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষে কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, দলের এই রাজনৈতিক কৌশল অন্য বিরোধী নেতাদের নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পরবর্তী ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের আধিপত্যের মধ্যেই একটি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসংঘ। সেই সংগঠন পরবর্তী সময়ে জনতা পার্টির সঙ্গে মিশে যায় এবং ১৯৮০ সালে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনা কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়ে বর্তমান বিজেপির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করেছে, সেই ইতিহাস তাৎপর্যপূর্ণ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জনসংঘের প্রতিষ্ঠা

    ১৯৫০ সালে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে লিয়াকত-নেহরু চুক্তির বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর লক্ষ্য ছিল, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, জাতীয় ঐক্য এবং ভারতীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করা।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায়, বিশেষত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মতো নেতাদের সঙ্গে নিয়ে, ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ একীকরণের দাবিও সংগঠনটির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্য ছিল, একটি দেশে দুটি সংবিধান, দুটি প্রধান এবং দুটি পতাকা থাকতে পারে না।

    ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে তাঁর মৃত্যুকে জনসংঘের রাজনৈতিক আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। জাতীয় সংহতি, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং কাশ্মীরের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে তাঁর অবস্থান পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকে।

    জনসংঘ থেকে বিজেপি: রাজনৈতিক বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

    ১৯৫১–১৯৬৭: জনসংঘের উত্থান

    প্রথম সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন পায় জনসংঘ। পরে দীনদয়াল উপাধ্যায় ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর ধারণাকে দলের আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। ১৯৬৭ সালে একাধিক রাজ্যে কংগ্রেসবিরোধী জোট সরকারেও অংশ নেয় জনসংঘ।

    ১৯৭৫–১৯৭৭: জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জরুরি অবস্থার বিরোধিতায় জনসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে জনতা পার্টিতে মিশে যায় জনসংঘ। অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো নেতারা পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

    ১৯৮০–১৯৯৬: বিজেপির আত্মপ্রকাশ ও বিস্তার

    জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রাক্তন জনসংঘ নেতারা ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পেলেও, আডবাণীর নেতৃত্বে রাম জন্মভূমি আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রসারের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ১৯৯৬ সালে বিজেপি লোকসভার বৃহত্তম একক দল হয়ে ওঠে।

    ১৯৯৮–২০০৪: এনডিএ সরকারের অধ্যায়

    বাজপেয়ীর নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার দেখায়, কংগ্রেসের বাইরে থাকা একটি জোটও পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারে। পারমাণবিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এই সময়ের উল্লেখযোগ্য বিষয়।

    ২০১৪ থেকে বর্তমান: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আদর্শগত কর্মসূচি

    নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি। ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং ২০২৪ সালে রামমন্দিরের উদ্বোধন দলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    অর্থনৈতিক দর্শন: স্বদেশি থেকে আত্মনির্ভর ভারত

    জনসংঘের অর্থনৈতিক দর্শন গড়ে উঠেছিল নেহরুর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা ও বৃহৎ সরকারি শিল্পকেন্দ্রিক মডেলের বিকল্প হিসেবে। ছোট ব্যবসা, কৃষি, গ্রামীণ শিল্প এবং স্থানীয় উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছিল দলটি। অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরতার বিরোধিতা করে স্বদেশি অর্থনীতির পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল।

    দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর পাশাপাশি ‘অন্ত্যোদয়’—সমাজের প্রান্তিকতম মানুষের উন্নয়ন—এই রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হয়ে ওঠে।

    তবে বর্তমান বিজেপির অর্থনৈতিক নীতি আগের জনসংঘের মডেলের হুবহু প্রতিরূপ নয়। বিশ্বায়ন, প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের বাস্তবতা মেনে নিয়ে সরকার একদিকে বাজারনির্ভর বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে মহাসড়ক, রেল, বন্দর এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোয় সরকারি মূলধনী ব্যয় বাড়িয়েছে।

    এই পরিবর্তনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল:

    • ● আত্মনির্ভর ভারত: দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ-শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য।

    • ● প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI): নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনা।

    • ● ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার: আধার, ইউপিআই এবং ডিজিলকারের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ।

    • ● কর ও ব্যবসায়িক সংস্কার: জিএসটি, করব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ।

    • ● অন্ত্যোদয় থেকে কল্যাণমূলক পরিষেবা: আবাসন, শৌচাগার, রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যবিমা ও কৃষি সহায়তার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর।

    অর্থাৎ, জনসংঘের স্বদেশি ভাবনা বর্তমান বিজেপির কাছে কেবল আমদানি কমানো বা দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে।

    ‘লাভার্থী’ রাজনীতি ও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি

    ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে জাতপাতভিত্তিক সমীকরণ, নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থন এবং আঞ্চলিক জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি সেই পরিচিত সমীকরণের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের একটি বৃহত্তর ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে। এই গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘লাভার্থী’ বলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান এবং পিএম-কিষান প্রকল্পের মতো কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দলটি সামাজিক ভিত্তি বিস্তারের চেষ্টা করেছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT), আধারভিত্তিক পরিষেবা এবং ডিজিটাল যোগাযোগ এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এর পাশাপাশি বুথস্তরে ‘পন্না প্রমুখ’ ব্যবস্থা—ভোটার তালিকার নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী—এবং ধারাবাহিক প্রচার বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করেছে। নির্বাচনের সময়সীমার বাইরে গিয়েও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার এই কৌশল দলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিয়ে বিজেপি প্রশাসনিক পরিষেবা প্রদানকে রাজনৈতিক বার্তার অংশ করে তুলেছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সুবিধার প্রকৃত বণ্টন এবং তার নির্বাচনী প্রভাবের মূল্যায়ন করতে হলে সরকারি তথ্য ও স্বাধীন পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ থেকে রামমন্দির: আদর্শগত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন

    দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একাধিক আদর্শগত প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের কাছে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠনের পর দলটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে।

    • ● ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, ২০১৯: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় এবং রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠন করা হয়। বিজেপি একে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণ একীকরণের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরে।

    • ● রামমন্দির, ২০২৪: অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন দীর্ঘদিনের রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে এটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    • ● নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA): পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, আইন নির্ধারিত শর্তপূরণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কও রয়েছে।

    • ● পরিকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা: মহাসড়ক, বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়নকে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    • ● বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান: জি২০ সভাপতিত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের পদক্ষেপকে ভারতের বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি।

    এই কর্মসূচিগুলি দলের মূল সমর্থকদের কাছে আদর্শগত ধারাবাহিকতার প্রতীক। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবিধানিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছে। ফলে এই পদক্ষেপগুলির তাৎপর্য বুঝতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তব প্রভাব—দুই দিকই বিচার করা প্রয়োজন।

    বিজেপির সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ কী?

    উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো অঞ্চলে সংগঠন বিস্তার, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) এবং দলিত ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টা বিজেপিকে জাতীয় স্তরে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলিও বৃহত্তর জোট গঠনের পথে হেঁটেছে। ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A.) জোট তার অন্যতম উদাহরণ।

    তবে রাজনৈতিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনগত সাফল্যে পরিণত করার জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকের আয়, মূল্যবৃদ্ধি, বৈষম্য, ক্ষুদ্র ব্যবসার সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার গুণমানের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি তার কার্যকারিতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ২০২৬ সালে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং জনসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপট এই রাজনৈতিক যাত্রাকে নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

    সব মিলিয়ে, জনসংঘ থেকে বিজেপির যাত্রা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ইতিহাস নয়। এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শ, অর্থনৈতিক চিন্তা, সাংগঠনিক কৌশল এবং কল্যাণমূলক শাসনের পরিবর্তিত রূপেরও ইতিহাস। ১৯৫১ সালে যে ‘নেশন ফার্স্ট’ ভাবনাকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকের বিজেপির কাছে তার পরবর্তী পরীক্ষা হল—জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যকে কর্মসংস্থান, সমৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং নাগরিক পরিষেবার বাস্তব ফলাফলে কতটা রূপান্তরিত করা যায়।

  • PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশে ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে দেশ’ শপথ নেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, সমাজে বিভাজন তৈরি করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, এমন শক্তিগুলিকে সম্মিলিতভাবে চিহ্নিত করে পরাস্ত করার ডাক দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীতে বিজয়া দশমী উদযাপনে অংশ নিয়ে মোদি বলেন, সত্য ও মানবতার পাশে দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত জয় হয় সত্যেরই।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভগবান রামের আদর্শ, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকা এবং অন্যায়, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের বার্তা। তাঁর মতে, রামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা এবং চিরন্তন সত্যের মিথ্যার বিরুদ্ধে জয়ের বিশ্বাস শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভারতের প্রাণশক্তির অংশ।

    ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ, দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা

    বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ গ্রহণ করা। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে, যারা জাতীয় সম্মানের ক্ষতি করতে চায়, সমাজকে বিভক্ত করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণা ছড়ায়।

    মোদি বলেন, “সত্য ও মানবতার পাশে যখন আমরা দাঁড়াই, তখন শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হয়।” তাঁর এই বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং দেশের অগ্রগতির প্রশ্নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তার মূল সুর, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বানও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

    ভগবান রামের আদর্শে সত্য, ন্যায় ও সহনশীলতার শিক্ষা

    বিজয়া দশমীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভগবান রামের জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজ্যাভিষেকের পরিস্থিতি হোক বা বনবাসের কঠিন সময়—রামচন্দ্র সত্য ও নৈতিকতার পথ থেকে কখনও সরে যাননি।

    সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করে মোদি বোঝানোর চেষ্টা করেন, অনুকূল ও প্রতিকূল—উভয় পরিস্থিতিতেই নিজের কর্তব্য ও আদর্শে অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছেন ভগবান রাম। তাঁর মতে, সংকটের মধ্যেও ন্যায় ও সত্যের পথ অনুসরণ করাই রামের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভগবান রাম দয়া, করুণা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।”

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর সাংস্কৃতিক ও নৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন তিনি। অন্যায় ও অত্যাচারের অবসান, সত্যের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তাকেই উৎসবের মূল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    ‘অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসান’, উৎসবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা মোদির

    মোদি বলেন, ভগবান রামের আদর্শকে জীবন্ত রাখা, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের ঘোষণা এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে চিরন্তন সত্যের জয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস—এই বিষয়গুলি ভারতের কাছে শুধুমাত্র উৎসবের উপলক্ষ নয়, বরং দেশের প্রাণশক্তি।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিজয়া দশমীকে কেবল ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও সামাজিক ঐক্যের মতো মূল্যবোধের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

    ‘সমুদ্র সামনে, লঙ্কা দূরে’, বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছনোর বার্তা

    ভগবান রামের জীবন থেকে সাফল্যের সূত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পথে বাধা এলেই যাত্রা থেমে যেতে পারে না। তাঁর কথায়, “সামনে সমুদ্র ছিল, লঙ্কা ছিল অনেক দূরে, কিন্তু সংকল্প ছিল অটুট।”

    রামের লঙ্কা অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বোঝান, কঠিন পরিস্থিতিতে লক্ষ্য স্থির রাখা এবং সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগানোই সাফল্যের অন্যতম শর্ত। ভগবান রাম মানুষের সম্মিলিত শক্তিকে জাগ্রত করেছিলেন, জনসাধারণের অংশগ্রহণকে নিজের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং উপলব্ধ সম্পদকে একত্রিত করে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব লক্ষ্যকে সম্ভব করে তুলেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রীর মতে, সাফল্যের মৌলিক সূত্র হল নিজের শক্তির উপর আস্থা রাখা, নিজের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখা, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা।

    এই বার্তাকে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক বলে ব্যাখ্যা করা যায়। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত সংকল্পের পাশাপাশি জনঅংশগ্রহণের গুরুত্বও বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক চাপের আবহে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে নজর

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে প্রতিবাদকারীরা।

    অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, রাজধানী-সহ বিভিন্ন জায়গায় হওয়া এই প্রতিবাদ দেশের অগ্রগতি চায় না, এমন বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় পরিচালিত হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

    এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদির ‘নেশন ফার্স্ট’ আহ্বান এবং দেশের অগ্রগতির বিরোধী শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করার বার্তা বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর বিজয়া দশমীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় ঐক্য, ভগবান রামের আদর্শ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, তবু চলতি রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে তাঁর মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যও আলোচনায় আসতে পারে।

    সব মিলিয়ে, বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা ছিল—দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। ভগবান রামের জীবন ও আদর্শকে সামনে রেখে তিনি দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, দৃঢ় সংকল্প, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে কঠিন বাধাও অতিক্রম করা সম্ভব।

  • World Food Day 2026: খাদ্যে স্বনির্ভরতা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা, কৃষিক্ষেত্রে মোদি সরকারের একাধিক উদ্যোগ

    World Food Day 2026: খাদ্যে স্বনির্ভরতা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা, কৃষিক্ষেত্রে মোদি সরকারের একাধিক উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। ২০২৬ সালের জন্য রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র নির্ধারিত থিম ‘ইনোভেট টুডে, নারিশ টুমরো’—অর্থাৎ, ‘আজ উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি সুনিশ্চিতকরণ’। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং পুষ্টি সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় খাদ্যসংকট মোকাবিলায় বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হত ভারতকে। ১৯৬০-এর দশকে ‘শিপ-টু-মাউথ’ পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে আসা খাদ্যশস্যের উপর নির্ভরশীল ছিল দেশ। সেখান থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আজ ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৃষি বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার গত এক দশকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচের সম্প্রসারণ, উন্নত বীজের ব্যবহার এবং খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ করেছে।

    ৮১ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা

    কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে ৩৭৬.৫৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। চাল উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি দুধ ও মিলেট উৎপাদনে ভারত বিশ্বে প্রথম এবং মাছ, ফল ও সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের অন্যতম বড় কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY)। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর আওতায় প্রায় ৮১.৩৫ কোটি উপভোক্তা এই ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছেন। কোভিড অতিমারির সময় চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহের মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আরও পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক চাপও কমানো সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য মোট ১১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে এই প্রকল্প দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি মানুষের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল ও অপুষ্টি মোকাবিলায় উদ্যোগ

    শুধু পেট ভরলেই খাদ্য নিরাপত্তা সম্পূর্ণ হয় না। শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব বা ‘হিডেন হাঙ্গার’ দূর করাও সমান জরুরি। বিশেষত মহিলা ও শিশুদের মধ্যে রক্তাল্পতা এবং অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় চালের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল সরবরাহের কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই চালের সঙ্গে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২ যুক্ত করা হচ্ছে। গণবণ্টন ব্যবস্থা (PDS) এবং পিএম-পোষণ প্রকল্পের আওতায় এই চাল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য মোট ১৭,০৮২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) ১০০টিরও বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসলের নতুন জাত তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির পরিমাণ বাড়ানো।

    ‘শ্রী অন্ন’-এর প্রচার, মিলেটে বিশ্ববাজারের নজর

    জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং জলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে মিলেট বা বাজরা-জাতীয় শস্যের গুরুত্ব বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে কম জলে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই শস্য চাষ করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। ভারতের উদ্যোগে রাষ্ট্রসংঘ ২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। দেশীয় এই শস্যকে ‘শ্রী অন্ন’ নামে প্রচারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা চলছে। মিলেট প্রক্রিয়াকরণ, কৃষিভিত্তিক স্টার্টআপ এবং রফতানি বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই শস্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় কৃষিক্ষেত্রের সহনশীলতাও বাড়তে পারে।

    ডাল ও ভোজ্যতেলে স্বনির্ভরতার লক্ষ্য

    খাদ্যশস্য উৎপাদনে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও ডাল ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্র ডাল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তৈলবীজ চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত জাতীয় ডাল স্বনির্ভরতা মিশনের জন্য ১১,৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ডালের চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, দেশের মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নির্ভরতা কমাতে জাতীয় ভোজ্যতেল মিশন—অয়েল পাম প্রকল্পের অধীনে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পাম তেলের চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় এবং দেশীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ডিজিটাল কৃষি ও কৃষকদের আর্থিক সহায়তা

    কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেও একাধিক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র। ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন বা এগ্রিস্ট্যাকের জন্য ২,৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় কৃষকদের জমির ডিজিটাল তথ্যভান্ডার, কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতো প্রযুক্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পে ১১ কোটিরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর বা DBT-র মাধ্যমে ৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা জোগানোই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষিকাজের খরচ নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হতে পারে।

    কৃষি রফতানি ও বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় ভারতের ভূমিকা

    দেশীয় খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের কৃষিপণ্যের গুরুত্ব বাড়ছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট কৃষিপণ্য রফতানির পরিমাণ ৫৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। নন-বাসমতি চাল রফতানির উপর ন্যূনতম রফতানি মূল্য ও অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চালের সরবরাহ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে খাদ্যশস্য সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’—দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় ভারতের অবদান তুলে ধরছে কেন্দ্র।

    খাদ্য নিরাপত্তা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা—নতুন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬-এ ভারতের কৃষিক্ষেত্রের অগ্রগতি যেমন সামনে এসেছে, তেমনই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনামূল্যে রেশন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই সমস্ত উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। তবে উৎপাদনের সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টি সুরক্ষায় রূপান্তরিত করতে হলে অপুষ্টি মোকাবিলা, কৃষকদের ন্যায্য আয়, জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি সাহায্যনির্ভরতা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য উৎপাদক দেশে পরিণত হওয়ার যাত্রায় ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন সেই অগ্রগতির পরবর্তী লক্ষ্য—প্রতিটি মানুষের কাছে পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রকে আরও স্বনির্ভর ও টেকসই করে তোলা।

LinkedIn
Share