Tag: Narendra Modi

Narendra Modi

  • PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা রুখে দেওয়া ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে কথা বলার সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন মচ্ছরের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় পরিস্থিতি অন্যরকম হলে শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই বিপন্ন হত না, ভারতীয় পাইলটদের নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারত। তাঁর মতে, মচ্ছরের সাহসিকতা কার্যত বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তিও রক্ষা করেছে।

    ‘কীভাবে দেখা হত ভারতীয় পাইলটদের, কে জানে’

    মচ্ছরের সঙ্গে কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যদি এটা না ঘটত, কে জানে ভারতকে কী কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত, ভারতীয় পাইলটদের কী কী সহ্য করতে হত এবং ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত। আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি অংশের তরফে এমন প্রশ্ন উঠেছিল—বিমানটি যদি শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনার শিকার হত, তাহলে কি পুরো ঘটনার দায় ভারতীয় ক্যাপ্টেনের উপর চাপত? প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ওই সামাজিক মাধ্যমের পোস্টগুলির উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তি নিয়ে যে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে, তা সেই বিতর্কের সঙ্গেই সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘ভারতীয়রা প্রাণ নেয় না, প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখে’

    মোদির কথায়, ‘‘দেশ গর্ব করে বলতে পারে, ভারতীয়রা এমন মানুষ নয় যারা প্রাণ নেয়। বরং অন্যদের বাঁচাতে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত।’’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মচ্ছরের ভূমিকার বৃহত্তর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কেবল একটি বিমানের ভিতরে হামলা প্রতিহত করার ঘটনা ছিল না। একজন ভারতীয় পাইলট হিসেবে মচ্ছর এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বিপন্ন করে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    কী হয়েছিল সেই বিমানে?

    ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ, ওমানি কো-পাইলট আচমকাই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। গুরুতর আঘাত পেয়েও মচ্ছর প্রতিরোধ চালিয়ে যান।

    পরিস্থিতি সামলাতে তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। এই পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই বা আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

    বিমানে ১৭০-রও বেশি যাত্রী ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে মচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আত্মসংযমই বড় বিপর্যয় ঠেকানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে তাঁর প্রশংসা করা হচ্ছে।

    ‘আমি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলাম’

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে ৩৯ বছর বয়সি দুই সন্তানের বাবা মচ্ছর জানান, হামলার সময় তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন। গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে ফের পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

    মচ্ছর প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘‘আমি এত আঘাত পেয়েছিলাম। কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম, আমাকে উঠতেই হবে এবং ব্যবস্থা নিতেই হবে। তা না হলে আমি মারা যেতাম।’’

    তাঁর এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, হামলার মুহূর্তে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল এবং নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি বিমানে থাকা অন্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বও তাঁকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছিল।

    কেন মোদির মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ?

    মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনের পর নতুন করে সামনে এসেছে সামাজিক মাধ্যমের সেই বিতর্ক। ঘটনার পর একাংশের পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বিমানটি যদি তেল আভিভে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে পড়ত, তাহলে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারত।

    কিছু পোস্টে এমনও দাবি করা হয়, কো-পাইলটের হামলা সফল হলে শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেনকেই বিমানটির পরিণতির জন্য দায়ী করা হত। তবে এগুলি সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের বক্তব্য; এগুলিকে কোনও সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না।

    প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যে এই পোস্টগুলির সত্যতা বা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগকে সমর্থন করেননি। বরং তিনি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটি অন্যভাবে ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত, তা বলা কঠিন।

    এয়ার ইন্ডিয়া এআই১৭১ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও কেন উঠছে?

    মোদির মন্তব্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তখন আলোচনা চলছিল।

    বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন প্রাণ হারান।

    দুর্ঘটনার প্রায় এক মাস পরে প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের পর বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ প্রায় একই সময়ে অন্য অবস্থানে চলে গিয়েছিল। সেই রিপোর্টে পাইলটদের উপর কোনও দায় চাপানো হয়নি।

    তবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের একটি সংক্ষিপ্ত অংশকে কেন্দ্র করে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটদের দায়ী করা হয়নি।

    দুই ঘটনার মধ্যে পার্থক্য কী?

    এআই১৭১ দুর্ঘটনা এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি এক নয়। একটি হল দুর্ঘটনা, অন্যটি হল বিমানের ভিতরে সম্ভাব্য হামলা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করার ঘটনা। তাই দুটির তদন্ত, পরিস্থিতি এবং দায় নির্ধারণের বিষয়ও আলাদা।

    তবে দুটির মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তৈরি হয়েছে—বিমান দুর্ঘটনা বা মাঝআকাশে গুরুতর বিপদের ক্ষেত্রে পাইলটের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং তদন্তের আগে সামাজিক মাধ্যমে কীভাবে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়ে।

    এই প্রেক্ষাপটেই মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তির প্রসঙ্গ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

    ‘শুধু বিমান নয়, আরও বড় কিছু বাঁচিয়েছেন’

    মচ্ছর বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি যে ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে সেই সাহসিকতার পাশাপাশি আরও একটি দিক সামনে এসেছে—বিপদের মুহূর্তে একজন ভারতীয় পাইলটের সিদ্ধান্ত শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই নির্ধারণ করতে পারে না, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর পেশাগত পরিচয় এবং বৃহত্তরভাবে ভারতীয় বিমানচালকদের ভাবমূর্তিও জড়িয়ে থাকতে পারে।

    মচ্ছরের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তের ফল হয়েছে জীবনরক্ষা। আর সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে বলেছেন, ‘‘আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    মচ্ছরের সাহসিকতা তাই এখন শুধু একটি বিমানকে সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার ঘটনা নয়; মাঝআকাশের সংকটময় মুহূর্তে পাইলটের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে জনপরিসরে তৈরি হওয়া বয়ান—সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

  • Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েও নিজের প্রাণের কথা না ভেবে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FlyDubai FZ1073) বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর জখম হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর ফলে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পান। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে থাকা ১৭৪ জনের প্রাণ রক্ষা পায়।

    এই অসাধারণ সাহসিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-সহ দেশের একাধিক শীর্ষ নেতা ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    মাচ্ছরের পরিবারের সঙ্গে কথা মোদির, দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনার আবেদন

    বৃহস্পতিবার ইউপিএসসির শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, তিনি ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের বাবা-মা এবং স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আহত পাইলটের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীকে প্রার্থনা করার আবেদনও জানান তিনি।

    মোদি বলেন, ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত নিজের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই ভূমিকার জন্য গোটা বিশ্ব গর্বিত। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মোদি জানান, মাচ্ছর বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন তিনি।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩। মাঝআকাশে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সঙ্গে সহ-পাইলটের সংঘর্ষ বাধে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহ-পাইলট মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং হামলার কারণ এখনও তদন্তাধীন।

    এরপর বিমানটির উচ্চতা অত্যন্ত দ্রুত কমে যায়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪,৩০০ ফুট নেমে যায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেন—আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন।

    ককপিটের দরজা খুলে যাওয়ার পর যাত্রী ও কেবিন ক্রু সেখানে পৌঁছে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিমানে থাকা অন্য পাইলটরাও পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে ইজরায়েলের পরিবর্তে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

    আহত অবস্থাতেও যাত্রীদের কথা মাথায়

    ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন, যাতে বাইরের মানুষ ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে তিনি ককপিটের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁর এই পদক্ষেপের ফলেই যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়।

    প্রায় ১৭৪ জনকে নিয়ে উড়ছিল বিমানটি। ফলে পরিস্থিতি সামান্য অন্যরকম হলে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করায় বিমানে থাকা প্রত্যেকের প্রাণ রক্ষা পায়।

    রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কুর্নিশ

    ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। তিনি জানান, গুরুতর বিপদের মধ্যেও মাচ্ছর অন্যদের জীবন রক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করেছে। আহত অবস্থাতেও অন্যদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

    রাজনাথ, বিড়লা, যোগী থেকে খড়্গে—প্রশংসা সর্বত্র

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, নিজের জীবন বিপন্ন করেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর বিমানে থাকা সকলের জীবন রক্ষায় দায়িত্ব ও কর্তব্যের সর্বোচ্চ নজির তৈরি করেছেন।

    লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও তাঁকে প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মাচ্ছরের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহস বহু মানুষের জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করেছে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও ক্যাপ্টেনের সাহস, কর্তব্যবোধ এবং উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন। গুরুতর আহত হয়েও অন্য যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য তাঁর ভূমিকার উল্লেখ করে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, আচমকা বিমানটির উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ফুট কমে যাওয়ার পরও মাচ্ছর পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মতে, এই সাহসিকতা ভারতীয় বিমানচালকের দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং শিবরাজ সিং চৌহানও একইভাবে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ক্যাপ্টেন, বিমানের ক্রু এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করা সকলের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

    কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর?

    ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন ভারতীয় নাগরিক এবং বর্তমানে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট। এর আগে প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন তিনি। ২০২২ সালের জুন থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বহরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮/৯ বিমানে তাঁর প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    এই দীর্ঘ উড়ান অভিজ্ঞতাই চরম সংকটের মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

    তদন্তে একাধিক প্রশ্ন

    ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ককপিটের ভিতরে কীভাবে এই হামলা ঘটল, সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কীভাবে তিনি হামলা চালানোর সুযোগ পেলেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে দেখছে। ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা এবং পাইলটদের ককপিটে প্রবেশ-সংক্রান্ত বিধি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনাটির নির্দিষ্ট চরিত্র নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না।

    আপাতত নজর ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সুস্থতার দিকে

    একদিকে ভয়াবহ মাঝআকাশের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের দ্রুত আরোগ্যের দিকে নজর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দেশবাসীকে প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা—দলমত নির্বিশেষে মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

    একটি উড়ন্ত বিমানে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম সংকটে আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। তাই এফজেড ১০৭৩-এর এই ঘটনা শুধু বিমান নিরাপত্তার প্রশ্নই তুলছে না, চরম বিপদের মধ্যেও পাইলটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

  • Modi Praises Smit Machchhar: ‘আপনি হিরো’, ১৭৪ বিমানযাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা মোদির

    Modi Praises Smit Machchhar: ‘আপনি হিরো’, ১৭৪ বিমানযাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ককপিটের ভিতর ছুরি নিয়ে হামলা। গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট। একইসঙ্গে আচমকা প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারাল বিমান। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল ভয়াবহ বিপদের পরিস্থিতি। কিন্তু সেই অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। এরপর যাত্রী ও কেবিন ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান।

    ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মাচ্ছরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

    মাঝআকাশে কী ঘটেছিল?

    ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন। উড়ানের মাঝপথে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর এবং তাঁর সহ-পাইলটের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ শুরু হয়।

    অভিযোগ, সহ-পাইলট ছুরি দিয়ে মাচ্ছরকে আক্রমণ করেন। একইসঙ্গে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেই সময়ই বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে।

    রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নেমে যায়। আচমকা উচ্চতা পরিবর্তনে কেবিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের একাংশ পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই বিমানটি বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে আসে।

    গুরুতর আহত অবস্থাতেও বড় সিদ্ধান্ত

    হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। দরজা খোলার পর যাত্রী এবং কেবিন ক্রু সদস্যরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে পড়েন।

    তাঁরা হামলাকারী সহ-পাইলটকে কাবু করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিমানে থাকা আরও দু’জন ফ্লাইদুবাই পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আসে বিমানটি।

    এরপর বিমানটির গন্তব্য পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামার পর যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরে।

    ‘ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন হিরো’, বললেন মোদি

    ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন হিরো।” প্রধানমন্ত্রী জানান, গুরুতর আহত হয়েও মাচ্ছর অন্যদের জীবন রক্ষায় অসীম সাহস এবং দৃঢ় সংকল্প দেখিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতা শতাধিক মানুষের জীবন রক্ষা করতে এবং বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে বলেও উল্লেখ করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার জন্য ভারত গর্বিত।

    নেতানিয়াহুর মন্তব্য, ‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয় ঠেকিয়েছেন’

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, ছুরিকাহত হওয়ার পরও মাচ্ছর প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করার সুযোগ পান। নেতানিয়াহু মাচ্ছরকে ‘সত্যিকারের হিরো’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বিমানে থাকা ১৭৪ জনের জীবন রক্ষা পেয়েছে।

    পরে সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতীয় পাইলটের পদক্ষেপ একটি ‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয়’ ঠেকাতে সাহায্য করেছে। তবে এই মন্তব্যকে ঘটনার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে নেতানিয়াহুর মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা সহ-পাইলটের আচরণের কারণ নিশ্চিত নয়।

    ট্রাম্পও বললেন ‘হিরো’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, গুরুতর আহত অবস্থাতেও মাচ্ছর ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর এই পদক্ষেপের জন্য তাঁকে ‘হিরো’ বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে সহ-পাইলটের আচরণের পিছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

    তদন্তেই মিলবে আসল উত্তর

    এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেন সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করলেন? কেনই বা তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন?এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও অনুমান বা সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর জন্য সতর্ক করেছে। অর্থাৎ, পাইলটের সাহসিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা শুরু হলেও ঘটনার নেপথ্যের কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

    বিমান নিরাপত্তায় উঠছে নতুন প্রশ্ন

    ঘটনাটি শুধু একজন পাইলটের সাহসিকতার কাহিনি নয়। বিমান নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। ককপিটের ভিতর দুই পাইলটের মধ্যে যদি আচমকা এমন হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে বিমানের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব—এই প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের প্রতিরোধ, ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি হওয়া, যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং বিমানে থাকা অতিরিক্ত পাইলটদের উপস্থিতি—সবকিছু মিলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। তবে কোন পদক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

    মাঝআকাশে ছুরিকাহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ১৭৪ যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখন তদন্তের অপেক্ষা—ঠিক কী কারণে ককপিটের ভিতর এমন ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল।

  • Mahalaya 2026: মহালয়ার ভোরে গঙ্গার পাঁচ ঘাটে বাজবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের ‘চণ্ডীপাঠ’, বসানো হবে বিশাল রেডিয়োর প্রতিকৃতি

    Mahalaya 2026: মহালয়ার ভোরে গঙ্গার পাঁচ ঘাটে বাজবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের ‘চণ্ডীপাঠ’, বসানো হবে বিশাল রেডিয়োর প্রতিকৃতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের আমলে প্রথম দুর্গাপুজোয় একাধিক চমকের আয়োজন। মহালয়ায় (Mahalaya 2026) ইডেন গার্ডেন্সে বিরাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এবার বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা হবে কলকাতার পাঁচটি গঙ্গার ঘাট (Ganga Ghats)। ১০ অক্টোবর মহালয়ার ভোরে বাবুঘাট-সহ পাঁচটি ঘাটে মাইকে শোনা যাবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। শুধু চণ্ডীপাঠই নয়, বিশেষ আলোকসজ্জার পাশাপাশি ঘাটগুলিতে তৈরি করা হবে অতিকায় রেডিয়োর প্রতিকৃতিও।

    মহালয়ার ভোরে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করতে কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। সেই সময় গঙ্গার পাড়জুড়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের আবহ তৈরি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। সরকারি সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে এই বিশেষ আয়োজনের জন্য কলকাতার পাঁচটি ঘাটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বাবুঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট, জাজেস ঘাট, নিমতলা ঘাট এবং আহিরীটোলা ঘাট।

    গঙ্গার ঘাটে ‘চণ্ডীপাঠ’ (Mahalaya 2026)

    দীর্ঘদিন ধরে মহালয়ার ভোরে রেডিয়োয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনা বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যকেই এবার গঙ্গার ঘাটে তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাঁচটি ঘাটেই বসানো হবে বড় আকারের রেডিয়োর প্রতিকৃতি। বিশেষ আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে ঘাট চত্বর। তর্পণ করতে আসা মানুষ যাতে মহালয়ার চিরপরিচিত আবহ উপভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    এদিকে, মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত হতে চলেছে রাজ্য সরকারের বিরাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১০ অক্টোবর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ইডেন থেকেই কলকাতার পাঁচ বড় দুর্গাপুজোর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করার কথা প্রধানমন্ত্রীর।

    মেগা অনুষ্ঠান ইডেনে

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইডেনে যাওয়ার আগে রেড রোডে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে ইডেনে পৌঁছনোর পর উলুধ্বনিতে তাঁদের বরণ করে নেওয়া হবে (Mahalaya 2026)। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ইডেনে থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর।

    বিকেল ৫টা থেকে ইডেনে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় ৬ হাজার শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন। তাঁদের মধ্যে থাকবেন শান্তনু মৈত্র, শান, অন্তরা মিত্র, কৌশিকী চক্রবর্তী এবং বাংলা লোকগানের দল ‘দোহার’। লগ্নজিতার অংশগ্রহণেরও কথা। এক সঙ্গে ঢাক বাজাবেন প্রায় ৩ হাজার ঢাকি (Mahalaya 2026)।

     

  • India Energy Week: কলকাতায় বসছে আন্তর্জাতিক শক্তি সম্মেলন, শিল্পে বিনিয়োগ- কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা শুভেন্দুর

    India Energy Week: কলকাতায় বসছে আন্তর্জাতিক শক্তি সম্মেলন, শিল্পে বিনিয়োগ- কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ আনা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবার কলকাতায় আয়োজিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক শক্তি ও জ্বালানি সম্মেলন ‘ভারত শক্তি সপ্তাহ’। আগামী বছরের ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি নিউ টাউনের সম্মেলন কেন্দ্রে বসবে এই আন্তর্জাতিক আসর। সোমবার সম্মেলনের প্রস্তুতিপর্বের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে কলকাতাকে (India Energy Week) আয়োজক শহর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। চার দিনের এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ এবং শক্তি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ করার কথা।

    রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার। সেই প্রেক্ষাপটে কলকাতায় এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। অশোকনগরের তেল উত্তোলন প্রকল্প, হলদিয়া তৈল শোধনাগারের সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণের মতো একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশা, আগামী দিনে শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়লে বাংলায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    কলকাতায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (India Energy Week)

    ভারত শক্তি সপ্তাহ দেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক শক্তি ও জ্বালানিবিষয়ক প্রদর্শনী এবং সম্মেলন। এর আগে বেঙ্গালুরু, গোয়া ও দিল্লিতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বছর প্রথমবার কলকাতায় বসতে চলেছে এর আসর। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে শক্তি নিরাপত্তা, নতুন প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে।

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, আগামী বছরের সম্মেলনে ৭৫ হাজারের বেশি শক্তি বিশেষজ্ঞ ও পেশাদার এবং ৭০০-র বেশি আন্তর্জাতিক প্রদর্শক অংশ নেবেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্প সংস্থা, নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    একাধিক প্রকল্প

    সোমবারের অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। অশোকনগরের তেল উত্তোলন প্রকল্প এবং হলদিয়া তৈল শোধনাগারের নতুন ইউনিটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অশোকনগরে তৈল উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। এখন বাংলা মোদিজির হাত ধরে দেখছে কীভাবে কাজ করতে হয়। হলদিয়ায় রিফাইনারির নতুন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।”

    অশোকনগরের প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্যের জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হলদিয়া তৈল শোধনাগারের সম্প্রসারণের ফলে শিল্প পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেই তাঁর প্রত্যাশা। এই ধরনের প্রকল্পের সঙ্গে পরিবহণ, নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পও যুক্ত থাকে। ফলে নতুন বিনিয়োগ এলে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে (India Energy Week)।

    সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। শিল্প সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

    পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

    শিল্পায়নের প্রসঙ্গ উঠতেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে আগের সরকার রাজ্যে একাধিক শিল্প প্রকল্প চালু করতে দেয়নি। ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শুভেন্দু বলেন, “আগের সরকার একাধিক প্রকল্প চালু করতে দেয়নি। আমরা এবার অনেক পরিকল্পনা করেছি। সবটা সফল হবে। এই সেক্টরে আগামী দিনে অনেক লগ্নি আসবে, প্রকল্পগুলির সম্প্রসারণ ও অনেক কর্মসংস্থান হবে।” তবে নতুন প্রকল্পগুলিতে কত টাকা বিনিয়োগ হবে কিংবা ঠিক কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সামনে আসেনি। আগামী দিনে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগের পরিমাণের উপরেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে (Suvendu Adhikari)।

    বাংলায় শিল্পায়ন নিয়ে আশাবাদী পুরী

    সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলায় এত বছরে কী হয়েছে ভেবে লাভ নেই। এবার শুভেন্দু আছেন। বাংলায় শিল্প আসবে। মোদিজির দেখানো পথে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি।”

    সোমবারের অনুষ্ঠানে দেশের শক্তি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে হলে এখন থেকেই পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার উপর জোর দেন (India Energy Week) তিনি।

    আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

    কলকাতায় এই সম্মেলনের আয়োজনকে ঘিরে রাজ্যের শিল্পমহলেও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্মেলনে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, জৈব জ্বালানি এবং আধুনিক শক্তি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগও থাকবে। বিশেষত হলদিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলে নতুন প্রকল্প এবং সহযোগী শিল্পের সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে শক্তি ক্ষেত্রে নয়া প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশের উপর প্রভাব কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাবে। কলকাতায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের ফলে রাজ্যের হোটেল, পরিবহণ, পর্যটন এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই আয়োজন রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে সম্মেলন থেকে বাস্তবে কতগুলি বিনিয়োগ প্রস্তাব ও প্রকল্প কার্যকর হয় তার উপর (Suvendu Adhikari)। আগামী বছরের জানুয়ারিতে চার দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দিকে তাই নজর থাকবে রাজ্য প্রশাসন ও শিল্পমহলের। অশোকনগর ও হলদিয়ার মতো চালু প্রকল্পগুলি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের (India Energy Week) প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই হবে আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

     

  • PM Modi: বাংলার শিল্পের পুরনো গৌরব ফেরাতে বিশেষ নির্দেশ মোদির, দেড় লাখ কোটি টাকা পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা

    PM Modi: বাংলার শিল্পের পুরনো গৌরব ফেরাতে বিশেষ নির্দেশ মোদির, দেড় লাখ কোটি টাকা পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র (PM Modi)। রাজ্যে পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিশেষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার কলকাতায় বণিকসভা অ্যাসোচ্যামের উদ্যোগে (Development Investment Jobs) আয়োজিত ওড়িশার অঙ্গুল অ্যালুমিনিয়াম শিল্পতালুক সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নে ৭৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকার নতুন পরিকাঠামো প্রকল্প পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ (PM Modi)

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের পরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমস্ত মন্ত্রীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন, তা করতে হবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন হোক, বিনিয়োগ হোক কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ এক সময় ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র ছিল। এবার সেই পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে।”

    পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ভারতকে দেশের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান রেড্ডি। তাঁর বক্তব্য, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পের ঐতিহ্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশার অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে যুক্ত করা গেলে দুই রাজ্যই উপকৃত হতে পারে। এর মাধ্যমে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গেও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

    এদিনের অনুষ্ঠানে অঙ্গুল অ্যালুমিনিয়াম শিল্পতালুকে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। দেশের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেই ধাতু ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির উপর জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে শিল্প করিডর গড়ে উঠলে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ বাড়বে। কেন্দ্রের পূর্বমুখী নীতির বাস্তবায়নেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (PM Modi)।

    বঙ্গে চলেছে ‘জঙ্গলরাজ’

    পশ্চিমবঙ্গের কয়লা শিল্প নিয়েও এদিন সরব হন রেড্ডি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের কয়লা ক্ষেত্র বেআইনি খননকারী এবং কয়লা মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আগের সরকারগুলির আমলে এই ক্ষেত্রে জবাবদিহির অভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিস্থিতিকে ‘জঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    রেড্ডি বলেন, “বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের কয়লা ক্ষেত্র মাফিয়া এবং বেআইনি খননকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কলকাতায় কোল ইন্ডিয়ার সদর দফতর থাকা সত্ত্বেও এই বাস্তবতার অভিজ্ঞতা সকলেরই রয়েছে (Development Investment Jobs)। খননের কোনও অনুমতি ছিল না, অথচ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলন চলত। দুর্ঘটনা ঘটেছে, মানুষের প্রাণ গিয়েছে, কিন্তু কোনও জবাবদিহি ছিল না। পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের জঙ্গলরাজ চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আমরা সেই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য বিশেষভাবে কাজ করছি (PM Modi)।”

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, কয়লা ও খনি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বেআইনি খনন বন্ধ করা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার রোধ এবং খনি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব যাতে যথাযথভাবে রাজ্য সরকারের কোষাগারে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    রাজ্য সরকারের রাজস্ব

    তিনি বলেন, “আগে কয়লা থেকে যে রাজস্ব আদায় হত, তা সরকারি কোষাগারে না গিয়ে অন্যত্র চলে যেত। এখন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং কঠোর জবাবদিহির মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানো হচ্ছে। বহু বেআইনি কারবারি ইতিমধ্যেই সরে গিয়েছে। এর ফলে কয়লা ক্ষেত্র থেকে রাজ্য সরকারের রাজস্ব বাড়বে।”

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে দায়িত্ব পালনের সময়কার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন রেড্ডি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাঠানো প্রশাসনিক প্রতিবেদনে বাস্তব পরিস্থিতির যথাযথ প্রতিফলন থাকত না। তিনি দাবি করেন, খুন ও আত্মহত্যার মতো অপরাধের তথ্য চাওয়া হলেও, কোনও কোনও প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা শূন্য দেখানো হত। তবে তাঁর এই অভিযোগের সমর্থনে অনুষ্ঠানে কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি (PM Modi)।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সমন্বয়ে জোর

    রাজ্যের কয়লা ও খনি ক্ষেত্রের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করার কথাও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নতুন বিনিয়োগ আনা, শিল্পের প্রসার এবং রাজ্যের শ্রমশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে (Development Investment Jobs) সাধারণ মানুষ এবং শিল্পমহলের সহযোগিতাও চান রেড্ডি। তাঁর বক্তব্য, বাংলার শিল্পের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি পূর্ব ভারতকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রফতানিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই কেন্দ্রের লক্ষ্য (PM Modi)।

     

  • Nitin Nabin: সরকার-সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে জোর নিতিন নবীনের, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপি সভাপতির

    Nitin Nabin: সরকার-সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে জোর নিতিন নবীনের, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপি সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও নিবিড় করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে দলের নেতা-কর্মীদের। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে দলের সাংসদ, বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বকে এমনই বার্তা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে একাধিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে দলীয় সংগঠনকে। পাশাপাশি, সংগঠনের (BJP) অন্দরে দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    রবিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নিতিন নবীনকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মা কালীর মূর্তি উপহার দেন। সেখান থেকে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে পৌঁছে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শোনেন তিনি। এরপর দিনভর দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া বার্তা (Nitin Nabin)

    রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জেলায় বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও সমান্তরালভাবে কাজ করার প্রবণতা নিয়েও দলের অন্দরে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন নিতিন নবীন।

    দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে সংগঠনকে উপেক্ষা করা চলবে না। ক্ষমতায় আসার পর যাঁরা সংগঠনের গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছেন, তাঁদের আচরণও মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দলে নতুন যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজকর্মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। শুভেন্দু সরকারের গত কয়েক মাসের উন্নয়নমূলক কাজ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর বার্তা, সরকার ও সংগঠনকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ‘উন্নত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে লক্ষ্য বিজেপি নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংগঠনের প্রত্যেক স্তরকে সক্রিয় হতে হবে (Nitin Nabin)।

    সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন এবং আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন নিতিন নবীন। সম্প্রতি রাজ্য ও জেলাস্তরে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। কাউকে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা যাতে না হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে নেতাদের।

    আসন্ন দুর্গাপুজো-সহ উৎসবের মরশুমে জনসংযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তবে কোনও পুজো কমিটির নেতৃত্ব বা পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব জোর করে নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলে তবেই সেই দায়িত্ব গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে (Nitin Nabin)।

    জনসংযোগ বাড়ানোর পরামর্শ

    বৈঠকে সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়মিত নিজেদের কার্যালয়ে সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। প্রতিদিন কত মানুষ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন, কী কী সমস্যা জানাচ্ছেন এবং সেগুলির সমাধানে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তার যথাযথ হিসাব রাখতে বলা হয়েছে।

    নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে কেউ যাতে সেই পরিচয়কে অসামাজিক বা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধানসভাভিত্তিক জনকল্যাণমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে (BJP)।

    ‘মন কি বাত‘ শুনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরলেন নবীন

    এদিন নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ১৩৮তম পর্ব শোনেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুষ্ঠানের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

    নবীন তাঁর বার্তায় ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় সেনার বীরত্বের প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রকৃতি সংরক্ষণ, যুবসমাজকে নেশামুক্ত করার সংকল্প এবং জনগণনায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়ও তুলে ধরেন।

    তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের উদ্যোগ, সাফল্য ও অনুপ্রেরণার কাহিনি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে ‘মন কি বাত’। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার বিভিন্ন দৃষ্টান্ত এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে (Nitin Nabin)।

    সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই লক্ষ্য

    পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি গঠনের পর প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে নিতিন নবীনের বৈঠকগুলিতে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, সরকারের কাজের প্রচার এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে। দলের রাজ্য পদাধিকারী, বিভিন্ন মোর্চার সভাপতি, জেলা নেতৃত্ব, সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল।

    দলীয় নেতৃত্বের কাছে (BJP) নবীনের বার্তা, নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মসূচির সমন্বয় ঘটিয়ে তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ বাড়াতে হবে। আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে সেই লক্ষ্যেই সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (Nitin Nabin)।

     

  • PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর কার্নিভালের পরিবর্তে এবার মহালয়াতেই বিশেষ আয়োজন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের। ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাজার হাজার ঢাকির পরিবেশনা, পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন শো—সব মিলিয়ে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (সিএবি) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য প্রশাসনের (Eden Gardens Mahalaya) শীর্ষ আধিকারিকরা।

    সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং পর্যটন ও তথ্য-সংস্কৃতি দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। মহালয়ার অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সূচি ও সামগ্রিক আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রেড রোডে রোড শো (PM Modi)

    প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে ইডেনে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর কথা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর। রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তাঁদের সেখানে থাকার সম্ভাবনা। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে অনুষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। ইডেনের মূল অনুষ্ঠানের আগে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে তাঁরা পৌঁছবেন স্টেডিয়ামে। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের তালে তাঁদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ইডেনের হোম ড্রেসিংরুম এবং মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখান থেকে মাঠে প্রবেশ করবেন তাঁরা। গলফ কার্টে চেপে প্রধানমন্ত্রীর মাঠ প্রদক্ষিণের কথাও রয়েছে।

    পাঁচ পুজোর উদ্বোধন

    সূত্রের খবর, মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্স থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার পাঁচটি নামী দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, সুরুচি সংঘ, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী এবং ত্রিধারা সম্মিলনী। চূড়ান্ত তালিকা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশেও বক্তব্য রাখার কথা প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    ঢাকের তালে…

    মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সংগীত পরিবেশনের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন শান্তনু মৈত্র, শান, অন্তরা মিত্র, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, দেবর্ষি ভট্টাচার্য ও কৌশিকী চক্রবর্তী। অংশ নেওয়ার কথা বাংলা লোকসংগীতের দল দোহারেরও।

    অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন শান্তনু মৈত্র। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় তিন হাজার ঢাকির একযোগে পরিবেশনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যাটা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই নিশ্চিত হবে (Eden Gardens Mahalaya)।

    শ্রেয়া ঘোষাল ও সুরকার প্রীতম এই অনুষ্ঠানে থাকছেন না বলেই আপাতত খবর। দু’জনেই দেশের বাইরে থাকায় তাঁদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম।

    ড্রোন শো ও আতসবাজি

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের পর রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁদের ইডেন ছাড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথাও রয়েছে। এরপর স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে বিশেষ ড্রোন শো ও আতসবাজির প্রদর্শনীর।

    আমেদাবাদের টি-টোয়েন্টি ফাইনালের ধাঁচে আলোকসজ্জা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। দুর্গাপুজোর বিভিন্ন বিষয়কে তুলে ধরা হতে পারে ড্রোনের মাধ্যমে।

    দর্শক, ভিভিআইপির ভিড়

    ইডেনের এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে আড়াই হাজার আসন ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা। প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের বসার ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

    ক্লাব হাউসের দু’পাশের গ্যালারি সংলগ্ন এলাকায় মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের বসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে থেকেই ইডেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে চলে যেতে পারে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাব হাউসের দু’টি তলা এবং প্রেস বক্সে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সঞ্জয় বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের আয়োজন আগে কখনও করিনি আমরা। তাই অভিজ্ঞতা নেই। যেভাবে প্রশাসন চাইবে আমরা সেরকমই ব্যবস্থা করে দেব। প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ইডেনে আসছেন।”

    মহালয়ার অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেন গার্ডেন্স ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে (PM Modi) রাজ্য সরকারের। মূল অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে অস্থায়ী মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামো সরানোর জন্যও অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে (Eden Gardens Mahalaya)।

     

  • PM Modi: ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি নিয়োগপত্র, যুবশক্তিকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি নিয়োগপত্র, যুবশক্তিকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার ২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে ভিডিও সম্মেলনে এই নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। নবনিযুক্তদের উদ্দেশে ভাষণও দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশজুড়ে ৪৫টি কেন্দ্রে এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়েছিল (Rozgar Mela)।

    মোদি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশের যুবশক্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর কথায়, নিয়োগপত্র পাওয়া তরুণদের জন্য এটি জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তাঁদের সাফল্যের পিছনে প্রার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মায়ের ত্যাগও রয়েছে।

    নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবারে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সহকর্মী যুবসমাজ এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। ভারতীয় তরুণদের প্রতিভা ও দক্ষতার উপর বিশ্বের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং যুবসমাজের কাছ থেকে বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক সুযোগের উপর জোর (PM Modi)

    সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, ভারতের লক্ষ্য এখন শুধুমাত্র সরকার-থেকে-সরকারের সম্পর্কের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখা নয়। এর পরিবর্তে উদ্যোক্তা, কৃষক, মহিলা এবং যুবসমাজকেও আন্তর্জাতিক অংশীদারির সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে ব্রিকস সংযোগ এবং ব্রিকস ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ সহযোগিতা পোর্টালের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন অংশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ পেতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন বাজার ও অংশীদারির দরজা খুলছে। এর ফলে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি যুবকদের জন্য কর্মজীবনের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হচ্ছে (Rozgar Mela)।

    কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়নে জোর

    পরিবর্তনশীল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবকদের দক্ষ করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষানীতি, দক্ষতা ভারত অভিযান, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা এবং শিক্ষানবিশ কর্মসূচির উল্লেখ করেন তিনি।

    সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিক করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী সেতু প্রকল্পের কথাও বলেন মোদি। এই প্রকল্পে ১,০০০টি সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং শিল্পক্ষেত্রের অংশগ্রহণও বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, যুবকদের শিক্ষা ও দক্ষতা যেন পরিবর্তিত অর্থনীতির প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য (PM Modi)।

    বড় শহরের বাইরে ছড়াচ্ছে নতুন উদ্যোগ

    ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নতুন উদ্যোগ-ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল বলে উল্লেখ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, নতুন উদ্যোগের বিস্তার আর শুধু বড় মহানগরগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্বীকৃত নতুন উদ্যোগগুলির প্রায় অর্ধেকই এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলিতে রয়েছে।

    গ্রাম, ছোট শহর ও মফস্‌সলের তরুণরা নিজেদের নতুন ভাবনা নিয়ে সংস্থা তৈরি করছেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ

    বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত কর্মসংস্থান যোজনার কথা উল্লেখ করেন। প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের লক্ষ্য প্রথমবারের মতো প্রায় ২ কোটি যুবক-যুবতীকে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসা।

    প্রকল্পের আওতায় প্রথমবার চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পেতে পারেন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা নিয়োগদাতাদেরও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    মোদি বলেন, অর্থনীতির বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পের প্রতিষ্ঠা এবং উদীয়মান ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ে। প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ এবং বিনিয়োগ ১২ শতাংশ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়নকারী সংস্থার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

    নাগরিককেন্দ্রিক প্রশাসনের বার্তা

    নবনিযুক্ত সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে প্রশাসনিক সংস্কারকে ধারাবাহিক রাখার আহ্বান জানান মোদি। কর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সরল করা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সংস্কার এবং নতুন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরির উপর জোর দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিকদের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নতুন ভাবনাকে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বিনিয়োগকে সহজতর করা। তাঁর কথায়, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে হয়েছে নতুন কর্মীদের, তাঁদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে পরবর্তী প্রজন্মের যুবকদের একই সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয় (Rozgar Mela)।

    শিক্ষার উপর গুরুত্ব

    পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি কর্মীদের নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মযোগী কাঠামোর মাধ্যমে আজীবন শিক্ষার উপর জোর দেন তিনি।

    নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য কর্মযোগী প্রারম্ভ মডিউল তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মোদি। পাশাপাশি, ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মী ইতিমধ্যেই আইগট কর্মযোগী মঞ্চে যুক্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি (PM Modi)।

    নাগরিকের পরিষেবাই জাতীয় পরিষেবা

    প্রশাসনে জনআস্থার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবীণদের পেনশন, পড়ুয়াদের বৃত্তি কিংবা কৃষকদের ভর্তুকির মতো সরকারি পরিষেবা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে বলে জানান তিনি।

    সরকারি কর্মীদের আচরণ, দক্ষতা, সততা এবং সংবেদনশীলতার উপর নাগরিকের সরকারের প্রতি অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করে বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ভাষণের শেষে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের “নাগরিক দেবো ভব” নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নাগরিকের সেবাকে জাতীয় সেবার সমতুল্য বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের কাজ যখন কোনও নাগরিকের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে, তখনই আপনাদের সাফল্য আরও বড় হয়ে উঠবে (Rozgar Mela)।”

    ২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় মোট প্রায় ১২.৭৫ লাখ যুবক-যুবতী নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে (PM Modi)।

     

  • BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল যুদ্ধ, বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সদস্য দেশগুলির তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেও জোটের ঐক্য ধরে রাখা। একই সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে ব্রিকসকে (BRICS Delhi Summit) কোনওভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়াও ছিল নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

    ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন জোটের দুই সদস্য দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ জড়িয়ে রয়েছে। সম্মেলনের মাত্র কয়েক মাস আগেই পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। রিও দে জেনেইরোতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছনো যায়নি। ফলে পাঁচ সদস্যের জোট (Global South) থেকে ২০২৫ সালে ১১ সদস্যের ব্রিকসে পরিণত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের পরস্পরবিরোধী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

    ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা (Global South)

    কিন্তু সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর করে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ব্রিকস নেতারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলারও সম্মিলিত নিন্দা জানায় জোট। একই সঙ্গে ভারত ব্রিকসের বৃহত্তর কর্মসূচিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থকেন্দ্রিক রাখতে সক্ষম হয় এবং জোটটিকে সরাসরি পশ্চিম-বিরোধী মঞ্চে পরিণত হতে দেয়নি।

    অর্থনীতিবিদ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি স্যাকস সম্মেলনকে সফল বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, ঘোষণা প্রমাণ করেছে যে ব্রিকসের দেশগুলি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অত্যন্ত কঠিন সময়েও নয়াদিল্লি আবারও ঐকমত্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।”

    তিন দিনে, অর্থাৎ সম্মেলনের আগের দিন এবং সম্মেলনের দুই দিনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ১৫টি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ফলে সম্মেলনটি ভারতের জন্য বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।

    ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বৈঠকের মঞ্চ হল নয়াদিল্লি

    সম্মেলনের সামনে সবচেয়ে (BRICS Delhi Summit) তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ ছিল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই সংঘাত নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। ফলে ব্রিকসের অভ্যন্তরেও দুই দেশের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজনরেখায় পরিণত হয়েছিল।

    এর আগে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষা চেয়েছিল। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কিছু অবস্থানের বিরোধিতা করেছিল।

    ফলে সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক থেকে ঐকমত্যের ঘোষণা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। পর্যবেক্ষক গবেষণা ফাউন্ডেশনের গবেষণা ও বিদেশনীতি বিভাগের সহ-সভাপতি হর্ষভি পন্তও সম্মেলনের আগে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উত্তেজনা যৌথ ঘোষণা আটকে দিতে পারে।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিভাজন ব্রিকসের বৃহত্তর ঐক্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দু’দেশই পশ্চিম এশিয়ায় সংযমের আহ্বান জানানো ব্রিকসের বিবৃতিতে সই করে (BRICS Delhi Summit)।

    এর পর সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংঘাত শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলির অন্যতম।

    ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য এখানেই—ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দ্বন্দ্বকে বৃহত্তর ব্রিকস-বিভাজনে পরিণত হতে না দেওয়া এবং নয়াদিল্লিকে দুই দেশের আলোচনার মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরা।

    ঐকমত্য ফিরিয়ে এনে ব্রিকসকে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দিল ভারত

    ভারতের দ্বিতীয় এবং সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল ব্রিকসের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।

    জোট সম্প্রসারিত হওয়ার পর ঐকমত্যে পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠেছিল। ২০২৫ সালের রিও দে জেনেইরো বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন সভাপতি ব্রাজিলের পক্ষ থেকে পরিবর্তে সভাপতির বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তাই নয়াদিল্লি সম্মেলনের সামনে বড় প্রশ্ন ছিল—আগে যে কাজ সম্ভব হয়নি, তা কি এবার করা যাবে? উত্তর মিলেছে ইতিবাচকভাবেই। নয়াদিল্লি ঘোষণা শুধু ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানায়নি, বরং বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথাও বলেছে।

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বেরও প্রশংসা করা হয়েছে এবং সম্মেলন আয়োজনের জন্য নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

    এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত কোনও জোটের ক্ষেত্রে সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা নিছক আনুষ্ঠানিক দলিল নয়। মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলি যে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে থেকে একটি সাধারণ অবস্থানে পৌঁছতে পারে, এই ঘোষণা তারই প্রমাণ।

    হর্ষভি পন্ত সম্মেলনের আগে বলেছিলেন, ব্রিকসের বিশ্বাসযোগ্যতা এখানে বড় পরীক্ষার মুখে। তাঁর মতে, “অনেক দেশ ব্রিকসের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।” যৌথ বিবৃতি প্রকাশে ব্যর্থতা সেই আশাকে দুর্বল করতে পারত (BRICS Delhi Summit)।

    পহেলগাঁও হামলার নিন্দা ভারতের বড় কূটনৈতিক সাফল্য

    নয়াদিল্লি ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ জখম হন।

    ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওই জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জোট। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঘোষণায় পাকিস্তানের নাম করা হয়নি। কিন্তু পহেলগাঁও হামলাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি এবং তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রাসঙ্গিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

    চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি পহেলগাঁও হামলাকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, নিরাপদ আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহির বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছে (Global South)।

    বৃহত্তর ব্রিকস কর্মসূচিতে ভারতের অগ্রাধিকার

    ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার, উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের দাবি গুরুত্ব পেয়েছে।

    তবে প্রদত্ত প্রতিবেদনে তৃতীয় সাফল্যটি আলাদা করে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী অংশে সরাসরি চতুর্থ সাফল্য হিসেবে ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Delhi Summit)।

    ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দিল না ভারত

    ভারতের আর একটি বড় সাফল্য ছিল তুলনামূলকভাবে সূক্ষ্ম। উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে সামনে রাখলেও নয়াদিল্লি ব্রিকসকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দেয়নি।

    নয়াদিল্লি ঘোষণা বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি চিন ও রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে, ভারত ও ব্রাজিলের বৃহত্তর ভূমিকার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানেও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    একই সঙ্গে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী একতরফা চাপের বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, এর ফলে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও উন্মুক্ত, ন্যায্য এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত। অন্যদিকে চিন বিশ্ব বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দুই দেশের চাপ ব্রিকসকে পশ্চিম-বিরোধী জোটের দিকে ঠেলে দিতে পারত।

    কিন্তু প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিকরি শনিবার ভারতের অবস্থানকে পশ্চিম-বিরোধী নয়, বরং পশ্চিমের বাইরে থাকা অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, “আমরা পশ্চিম-বিরোধী নই; আমরা এক পৃথিবী হিসেবে বাঁচতে চাই।” নয়াদিল্লি ঘোষণাতেও সেই ভারসাম্যই স্পষ্ট হয়েছে (Global South)।

    যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও বৈচিত্র্যময় জোটকে সামলাল ভারত

    ভারতের পঞ্চম সাফল্যটি সবচেয়ে বিস্তৃত। ২০২৬ সালের ব্রিকস আর আগের পাঁচ সদস্যের জোট নয়। সম্প্রসারণের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের দেশগুলি একই মঞ্চে এসেছে।

    চলতি বছরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ জোটের দুই সদস্য সরাসরি বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।

    এই যুদ্ধগুলির প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও পড়েছে। জ্বালানি বাজার, নৌপরিবহণ, সরবরাহ শৃঙ্খল, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মূল্যবৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

    তার মধ্যেও নয়াদিল্লি ঘোষণায় পরস্পরবিরোধী স্বার্থগুলিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সর্বোচ্চ সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে আলোচনা, পরামর্শ এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পেয়েছে স্থিতিস্থাপকতা, উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন।

    যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিভাজন এবং বৃহৎ শক্তিগুলির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্রিকস যখন ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মুখে, তখন ভারত ঐকমত্য গড়ে তুলে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল নিশ্চিত করেছে। নয়াদিল্লি দেখিয়ে দিয়েছে, গভীর (BRICS Delhi Summit) মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসকে কার্যকর রাখা সম্ভব।

    এখন পরবর্তী পরীক্ষা চিনের। ২০২৭ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব চিনের হাতে যাবে। ভারত যে ঐকমত্য তৈরি (Global South) করেছে, বেজিং সেটি কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই দেখার।

     

LinkedIn
Share