Tag: Narendra Modi

Narendra Modi

  • PM Modi Cabinet Meeting: ‘ফাইল আটকে রাখবেন না, দ্রুত কাজ করুন’, মন্ত্রিসভার ম্যারাথন বৈঠকে কী কী নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর?

    PM Modi Cabinet Meeting: ‘ফাইল আটকে রাখবেন না, দ্রুত কাজ করুন’, মন্ত্রিসভার ম্যারাথন বৈঠকে কী কী নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাজের ক্ষেত্রে কোনও রকম অলসতা নয়। কাজ করতে হবে দ্রুত। জনস্বার্থ দেখেই কাজ করতে হবে মন্ত্রীদের। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গেই প্রশাসনিক কাজে সংস্কারের কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাঁচ দিনের বিদেশ সফর থেকে ফিরেই বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার ওই বৈঠকে আগামী দিনে সরকারের কাজ কেমন হবে তার ধারণাও দিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য কঠোর সংস্কার কর্মসূচি পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গেই ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-কে সামনে রেখে কাজ করার জন্য বলা হয়।

    কোন কোন মন্ত্রক বিস্তারিত রিপোর্ট দিল

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ বিকেল পাঁচটায় শুরু হওয়া এই বৈঠকটি টানা সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলে। সূত্র মতে, চলতি বছরের এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক। সূত্রের খবর, ভারতের উন্নয়ন যাত্রাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে শাসনের অগ্রাধিকার, সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ন’টি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, কৃষি, বন, শ্রম, সড়ক পরিবহন, কর্পোরেট বিষয়ক, বিদেশ, বাণিজ্য এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রক বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করেছে। এই বৈঠকের সময় ক্যাবিনেট সচিব এবং নীতি আয়োগও তাদের নিজ নিজ উপস্থাপনা তুলে ধরেন। বৈঠকে সরকারের গত ১২ বছরের সাফল্য, কল্যাণমূলক নানা প্রকল্প এবং নেওয়া হওয়া বিভিন্ন সংস্কারের খতিয়ানও পেশ করা হয়।

    বিকশিত ভারত-এর অঙ্গীকার

    ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭ কোনও স্লোগান নয়। তা আমাদের অঙ্গীকার।’ ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে উদ্দেশ্য-চালিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে বলেও জানিয়েছেন মোদি। ঠিক বারো বছর আগে এই জুন মাসেই দিল্লির তখতে প্রথমবার শপথ নিয়েছিল মোদি সরকার। আগামী মাসে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের টানা ১২ বছর (Modi government 12 years) এবং তৃতীয় মেয়াদের (Modi 3.0) দ্বিতীয় বছর পূর্ণ হতে চলেছে। আর এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের ঠিক আগেই দিল্লির অলিন্দে হাই-প্রোফাইল ম্যারাথন বৈঠক সারলেন মোদি। তাঁর সাফ নির্দেশ, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ যেন শুধু স্লোগান হয়ে না থেকে যায়, তার যথাযথ প্রয়োগ যেন দেশের সর্বত্র প্রতিফলিত হয় (Viksit Bharat 2047 vision Modi)।

    সংস্কারের গতি বাড়ানোই লক্ষ্য

    দীর্ঘ ১১ মাস পর এই প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত বছর ৪ জুন এই ধরনের বৈঠক হয়েছিল। বৈঠক থেকেই সমস্ত মন্ত্রীদের এক কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি— “অতীতে কী হয়েছে ভুলে যান, এবার সম্পূর্ণভাবে ভবিষ্যতের দিকে ফোকাস করুন।” এদিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে সরকারের মূল লক্ষ্য হতে হবে সংস্কারের গতি বাড়ানো, জনকল্যাণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও সরল করে তোলা। যে সমস্ত মন্ত্রক কিছুটা পিছিয়ে আছে তাদের কাজ এবং পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ফাইল আটকে রাখা চলবে না

    সরকারি কার্যক্রমে আরও বেশি দক্ষতার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রকগুলির মধ্যে নথিপত্রের দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করতে এবং অপ্রয়োজনীয় পদ্ধতিগত বিলম্ব দূর করার নির্দেশ দেন। প্রতিটি স্তরে শাসনব্যবস্থাকে সরল করার পাশাপাশি কম সময়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করার গুরুত্বের ওপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কোনও সংস্কার বা সরকারি প্রকল্পের কাজ যেন শুধু ফাইলের মধ্যেই বন্দি না থাকে। ফাইল যেন আমলাদের টেবিলে অপ্রয়োজনে আটকে না থাকে, বরং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ফাইল ছাড়তে হবে। এর ফলে সরকারি পরিষেবা আরও গতিশীল ও সরল হবে এবং দেশের নাগরিকেরা তার সরাসরি সুফল পাবেন। মন্ত্রীদের হাতে যে সময়টুকু রয়েছে, তার প্রতিটি সেকেন্ড যাতে ১০০ শতাংশ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা হয়, সেই বিষয়েও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

    জয়শঙ্করের কূটনৈতিক বার্তা

    এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ব্রিফিং। সম্প্রতি ভারতের কূটনীতিকে বিশ্বমঞ্চে আরও মজবুত করতে পাঁচ দেশের একটি অত্যন্ত সফল এবং তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। সেই বিদেশ সফরের খুঁটিনাটি ও সফল কূটনৈতিক বার্তা এদিন মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের সামনে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন বিদেশমন্ত্রী। এই বৈঠকে জ্বালানি, কৃষি, সার, বিমান চলাচল, নৌপরিবহন এবং লজিস্টিকসের মতো ক্ষেত্রগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয় এবং এগুলির প্রতি নিবিড় মনোযোগ দেওয়া হয়।

    বাংলা জয়ে অভিনন্দন

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রীদের একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণ নজরদারি করছে। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে থাকায় রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবারের মন্ত্রীপরিষদ বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বর্তমানে জেনেভায় রয়েছেন। এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর মন্ত্রীদের স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত ১২ বছর ধরে দেশের মানুষের জন্য এই সরকার কী কী কাজ করেছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে দিতে হবে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, জনকল্যাণমুখী প্রকল্প এবং দেশের ভোল বদলে দেওয়া সংস্কারের যে এজেন্ডা, তা নিয়ে মন্ত্রীদের সরাসরি আমজনতার দরবারে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

  • PM Modi: ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ, মন্ত্রিসভার রদবদল! প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাপতিত্বে বৈঠক দিল্লিতে

    PM Modi: ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ, মন্ত্রিসভার রদবদল! প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাপতিত্বে বৈঠক দিল্লিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই দিল্লির ‘সেবা তীর্থে’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে। এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার বিকেলের এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীরা। চলতি বছরে এটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি— পাঁচ দেশে ছয় দিনের সফর শেষে এই বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যদের নিয়ে বৈঠক

    বিদেশ সফর শেষ করে এদিন দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দেশে ফিরেই তিনি বৈঠকে যোগ দেন। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ইস্যু, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যকে। শুধু পূর্ণমন্ত্রী নন, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদেরও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। এমনকি বিভিন্ন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানির দাম এবং আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। ফলে কেন্দ্র সরকার এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় বলে সূত্রের খবর অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে যে, কিছু নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিও এই মুহূর্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলা থেকে কাউকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

  • PM Modi: উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুচিন্তিত উপহারের মাধ্যমে (যার মধ্যে ‘মেলোডি-মেলোনি’ বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল) ভারতের কারুশিল্প, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক পরম্পরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতি (PM Modi)

    প্রতিটি উপহার ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। এর মধ্যে রয়েছে মণিপুরের হ্যান্ডলুম ঐতিহ্য থেকে শুরু করে মার্বেল ইনলে শিল্পের চিরন্তন সৌন্দর্য এবং মহারাষ্ট্রের মিলেট সংস্কৃতিও। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছিলেন একটি শিরুই লিলি সিল্ক স্টোল, যা মণিপুরের এক টুকরো সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছে (PM Modi)। দুর্লভ শিরুই লিলি ফুলের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই স্টোলটি ছিল ঘণ্টাকৃতি এক বিশেষ ফুলের প্রতিরূপ, যা শুধুমাত্র মণিপুরের উখরুল জেলার শিরুই কাশং পাহাড়ে ফোটে। এই স্টোলটি উত্তর-পূর্বের এই পাহাড়ি রাজ্যের সমৃদ্ধ বয়নশিল্পের প্রতীক। সূক্ষ্ম, মার্জিত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বস্ত্র-ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই উপহারটি নীরবে তুলে ধরেছিল আদিবাসী ঐতিহ্য ও লোককথাকে।

    লিলি ফুলের গুরুত্ব

    এই লিলি ফুল ইতালির সংস্কৃতিতেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। সেখানে এটি দীর্ঘদিন ধরে পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও শিল্পকলার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, বারবার ব্যবহৃত হয়েছে রেনেসাঁ শিল্পকলায়। এই অভিন্ন প্রতীকের মধ্যেই ভারত ও ইতালির মধ্যে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে ওঠে — যা ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে নির্মিত। শুধু স্টোল নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মেলেনিকে উপহার দেন মুগা সিল্কের একটি স্টোলও। এই সিল্ক অসমের ‘সোনালি রেশম’ নামে পরিচিত। এতে প্রাকৃতিক সোনালি আভা রয়েছে। এটি ভারতের অন্যতম মূল্যবান বস্ত্র। উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার এই রেশম তার টেকসই ক্ষমতা এবং অসাধারণ স্থায়িত্বের জন্য সুপরিচিত। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকতে পারে।

    উপহারে মার্বেল ইনলে কাজের বাক্স

    ইতালির রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাত্তারেল্লাকে প্রধানমন্ত্রী উপহার হিসেবে দেন মার্বেল ইনলে কাজের একটি বাক্স। সঙ্গে ভারতের কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পন্ডিত ভীমসেন জোশী এবং এমএস শুভলক্ষ্মীর গাওয়া গানের সিডি। ভারতের দুই শ্রদ্ধেয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত কিংবদন্তির গানের সঙ্গে এই উপহারটি এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের রূপ নেয়। তাজমহলের মতো স্থাপত্যে দেখা যায় যে মার্বেল ইনলে শিল্প, তা ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন সূক্ষ্ম কারুশিল্পের ঐতিহ্যের প্রতীক। ‘পচ্চিকারি’ বা ‘পিয়েত্রা দুরা’ নামে পরিচিত এই শিল্পধারা মূলত ইতালির ফ্লোরেন্স শহর থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। পরে অবশ্য রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এটি মহিমান্বিত রূপ পায় ভারতে (PM Modi)।

    উপহার দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর মিলেট বারও

    এদিকে, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর কিউ ডংইউকে উপহার দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর মিলেট বার। এটি টেকসই ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের প্রতি ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতীক। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর, আহমেদনগর ও মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে মিলেট দীর্ঘদিন ধরে কৃষি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উপহারের মাধ্যমে ভারত বিশ্বব্যাপী মিলেটকে জলবায়ু সহনশীল ‘সুপারগ্রেন’ হিসেবে প্রচারের বার্তাও সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে — যা একদিকে ঐতিহ্যবাহী, অন্যদিকে ভবিষ্যতমুখী (PM Modi)।

    মোদির কূটনীতিতে বৈচিত্র্য

    এই উপহারগুলি স্রেফ আনুষ্ঠানিক বিনিময় ছিল না, বরং ভারতের ‘সফট পাওয়ার’-এর নীরব অভিব্যক্তি হয়ে উঠেছিল। বস্ত্র, সঙ্গীত, কারুশিল্প ও খাদ্যের মাধ্যমে ভারত তার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গভীরতা তুলে ধরেছে, একইসঙ্গে আরও মজবুত করেছে আন্তর্জাতিক মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে। এক অর্থে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারগুলি প্রমাণ করে, আজকের কূটনীতি শুধুই নীতি ও রাজনীতির দ্বারা নয়, বরং দেশগুলি বিশ্বের সঙ্গে যে গল্প, ঐতিহ্য ও পরিচয় ভাগ করে নিতে চায়, তার মাধ্যমেও গঠিত হয় (PM Modi)।

     

  • India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতিতে চকোলেটের মতো মিষ্টি-মধুর সম্পর্ক তৈরি হল ভারত-ইটালির (India Italy Relation)। ‘মেলোডি’ শুধু দুই ব্যক্তির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়নেই থেমে থাকল না। বুধবার ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে পাশে (Modi-Meloni Meet) নিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে’ পরিণত করার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়ে দিলেন বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে দুই দেশ। মোদি-মোলোনির বন্ধুত্বের ছাপ পড়ল দুই দেশের সম্পর্কেও। যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা জানিয়ে জর্জিয়া বলেন, ‘বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে সেটিকে আমরা ২২ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যেতে চাই।’

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। আর সেটাকেই কাজে লাগাতে চান ‘মেলোডি’। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সময়ে ইটালির সমর্থনের জন্য মেলোনিকে ধন্যবাদ জানান মোদি। সোজাসুজি বলে দেন, ‘দুই দেশের ব্যবসায়ীরা যাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান, তার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০০ কোটি ইউরোতে (সাড়ে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) পৌঁছোনোর যৌথ লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ভারতে ৮০০-র বেশি ইটালির সংস্থা কাজ করছে।

    ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার

    প্রযুক্তির উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও অসামরিক পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত-ইতালির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।’ দুই দেশের স্টার্টআপ, গবেষণা কেন্দ্র ও শিল্পক্ষেত্রকে যুক্ত করতে একটি ‘ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার’ গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। প্রতিরক্ষা এবং ক্লিন এনার্জি খাতেও একসঙ্গে কাজ হবে বলে ঘোষণা করেছেন মোদি। প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং জ্বালানি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিবিড় করার কথা জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

    লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি

    ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গও এসেছে যৌথ বিবৃতিতে। বৈঠকের পরে মোদি বলেন, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আমাদের অংশীদারির চালিকাশক্তি। এআই, কোয়ান্টাম, মহাকাশ এবং অসামরিক পারমাণু শক্তির মতো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।” জাহাজ চলাচল, বন্দর আধুনিকীকরণ, লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি আগামী দিনে নয়াদিল্লি-রোম সম্পর্কের অন্যতম ভরকেন্দ্র হবে বলেও জানান মোদি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা— ‘‘হেলিকপ্টার, নৌ-প্ল্যাটফর্ম-সহ সমুদ্র-যুদ্ধের উপযোগী অস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা—সংক্রান্ত অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে।’’

    প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির

    ২০ মে রোমের কুইরিনালে প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-ইটালি সম্পর্কের দ্রুত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় উদীয়মান প্রযুক্তি ও এআই। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার উপর জোর দেন দুই নেতা। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের সংঘাত পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথে স্বাধীন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা।

    ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর

    দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইসি)-এ সহযোগিতার কথাও ঘোষণা করেছেন। মেলোনি জানিয়েছেন, বিশেষত ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও দক্ষ কর্মীদের যাতায়াত বাড়াতে এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গাজায় যাওয়া জাহাজ আটক করা নিয়ে ইজরায়েলের সমালোচনা করেন মেলোনি।

    ভারত-ইটালি নিয়মিত আলোচনা

    মোদি-মেলোনি বৈঠকে স্থির হয়, দুই দেশ প্রতি বছর শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক করবে এবং নিয়মিত মন্ত্রীস্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। সন্ত্রাসে অর্থ জোগান বন্ধে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুজরাটের লোথালে ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা এবং ভারতীয় নার্স নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত ও ইতালি ২০২৭ সালকে সংস্কৃতি এবং পর্যটনের বছর “Year of Culture and Tourism” হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    একে অপরের পরিপূরক

    যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ইটালির ডিজাইন ও জিনিস তৈরির দক্ষতা এবং ভারতের উদ্ভাবনী চিন্তা একে অপরের পরিপূরক। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই দিনটিকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করে জানান, ভারত-ইতালি সম্পর্ক এখন এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বৈঠকের বাইরেও নজর কাড়ে মোদি-মেলোনি দুই নেতার ব্যক্তিগত মুহূর্ত। কূটনীতির টেবিলে চুক্তির কালি শুকোতে সময় লাগে। তবে ‘মেলোডি’র মিষ্টি স্বাদ বুঝিয়ে দিয়েছে— ভারত ও ইটালির সম্পর্ক এখন শুধু কাগজে-কলমে নয়, তাতে অন্য রসায়নও দানা বাঁধছে।

     

     

     

  • PM Modi: মোদির মুকুটে নয়া তাজ, পেলেন রাষ্ট্রসংঘের ‘অ্যাগ্রিকোলা মেডেল’, উৎসর্গ করলেন ভারতের কৃষকদের

    PM Modi: মোদির মুকুটে নয়া তাজ, পেলেন রাষ্ট্রসংঘের ‘অ্যাগ্রিকোলা মেডেল’, উৎসর্গ করলেন ভারতের কৃষকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  রাষ্ট্রসংঘের অধীনস্থ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সংক্ষেপে ‘ফাও’ (FAO)-এর সর্বোচ্চ সম্মান ‘অ্যাগ্রিকোলা মেডেল’ দেওয়া হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi)। ‘ফাও’ প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সম্মান শুধু আমার নয়, ১৪০ কোটি ভারতবাসীর। এটি ভারতের কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সম্মান (Indian Farmers)। আমি এই পদক ভারতের কৃষকদের উৎসর্গ করছি।” তিনি বলেন, “ভারতে কৃষিই মূলধারা। আমরা আমাদের ভূমিকে পুজো করি।”

    মানুষের কল্যাণে মোদির অবদান (PM Modi)

    রোমে ‘ফাও’-র সদর দফতরের ঐতিহাসিক প্লেনারি হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থার মহাসচিব কিউ দংয়ু (Qu Dongyu) এই পদক তুলে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হাতে। তিনি বলেন, “মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান ও অঙ্গীকার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং কৃষকদের কল্যাণে যুগান্তকারী প্রকল্প চালুর জন্য এই সম্মান প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, সর্বজনীন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রসংঘের কৌশলগত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) পূরণ এবং ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের সময় আন্তর্জাতিক স্তরে কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পদক দেওয়া হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির প্রশংসা

    তিনি ভারতের কৃষিক্ষেত্রকে রূপান্তর করতে প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির প্রশংসা করেন। কৃষক-কেন্দ্রিক, উদ্ভাবনী ও যুগান্তকারী উদ্যোগগুলিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। ‘ফাও’-র মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের খাদ্য ও কৃষি সংক্রান্ত উদ্যোগগুলির ব্যাপকতা ও প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি ভারতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কর্মসূচি, করোনা অতিমারির পর থেকে ৮০ কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, ১১ কোটিরও বেশি কৃষককে সরাসরি আর্থিক সাহায্য দেওয়া, প্রাকৃতিক ও পুনর্জাগরণমূলক কৃষির উন্নয়নে জাতীয় উদ্যোগ এবং ফাও-র সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ উদযাপনের প্রশংসা করেন (PM Modi)।

    মোদির ক্রেডিট

    তিনি এও বলেন, “ভারতের জি২০ সম্মেলনে সভাপতিত্বের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামোকে বিশ্বজনীন সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকর পরিষেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে (Indian Farmers)।” তাঁর মতে, এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে ভারতে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে (PM Modi)।

  • PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তারপর থেকে আর বড় কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (G7 Summit) মুখোমুখি হওয়া হয়নি দুই রাষ্ট্রনেতার। এবার হবে। জুন মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই ফের মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই ‘মহান বন্ধু’। ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্টাইলের কারণে একটি ছোট্ট দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হল, এতে কি আর ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে জুন পর্যন্ত।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলন (PM Modi)

    ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য নয়। তবে বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে নিয়মিত যোগ দেয় এই সম্মেলনে। এ বছর ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ স্বয়ং আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (Evian-les-Bains) ১৫-১৭ জুন হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোদি ও ট্রাম্প। শুল্ক উত্তেজনার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প মোদিকে ‘মহান বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছনোর অঙ্গীকারও করেছিলেন এই দুই রাষ্ট্রনেতা।

    নোবেল পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্পের দাবি

    যদিও গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্প হঠাৎই দাবি করতে থাকেন, ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাঁরই মধ্যস্থতায়। এর পর থেকে ট্রাম্প যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই বলে বেড়িয়েছেন, তাঁরই বাণিজ্যিক চাপের কারণে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পুরোপুরি যুদ্ধে জড়ায়নি। ট্রাম্পের এহেন ঘোষণায় খুব খুশি হয়েছিল শাহবাজ শরিফের দেশ। তবে পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও, ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধবিরতি হয়েছে সরাসরি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা করেই, কারও মধ্যস্থতায় নয়। বস্তুত, এর পর থেকেই তলানিতে ঠেকে দুই ‘হুজুরে’র সম্পর্ক (G7 Summit)।

    ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

    গত বছর জুনে কানাডায় হয়েছিল জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে পার্শ্ব বৈঠকে ফের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল এই দুই নেতার। যদিও ট্রাম্প হঠাৎ করেই সম্মেলন ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাতিল হয়ে যায় প্রস্তাবিত বৈঠক। পরে অবশ্য ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা থেকে ফেরার পথে ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মোদির পূর্বনির্ধারিত ক্রোয়েশিয়া সফর থাকায়, সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ভারত। তবে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সরকারি কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতের আশঙ্কা ছিল যে ট্রাম্প হয়ত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মোদিকে নিয়ে একটি ছবি তোলার জন্য চাপ দিতে পারেন। সেই সময় একইসঙ্গে (PM Modi) হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুনিরকেও।

    ভারতকে শায়েস্তা করার চেষ্টা

    তার পর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই অবনতি হয়েছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের। ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় ভারতকে শায়েস্তা করতে চেষ্টার কম কসুর করেননি ট্রাম্প। তাঁর সরকার প্রথমে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। রাশিয়ার তেল কেনায় বসানো হয় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও। ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এবং পিটার নাভারো (Peter Navarro) বারবার অভিযোগ করেন, রাশিয়ার তেল কিনে ঘুরপথে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সাহায্য করছে ভারত। এই শুল্ক-চাপ মূলত ভারতকে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে থাকা একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি করানোর মরিয়া চেষ্টা ছিল বলেই খবর (G7 Summit)।

    সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত

    এই পুরো পর্বটায় কার্যত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মাথা নত করেননি ট্রাম্পের চাপের কাছে। শুধু তা-ই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শার্ম এল-শেখ এবং কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান (ASEAN) সম্মেলনের মতো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে যান। কারণ সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারত ট্রাম্পের। গত সেপ্টেম্বরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মেলে। ট্রাম্প জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফের গতি পায় বাণিজ্য আলোচনা। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক কমিয়ে করা হয় ১৮ শতাংশ। বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের করা মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আবারও শোনা কিংবা দেখা যায় পরিচিত বাক্য — “ইন্ডিয়া থেকে আমার বন্ধু” (PM Modi)।

    ট্রাম্পের মুখে মোদি-স্তুতি

    তবে ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের কারণে আটকে যায় আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি সই। ১৭ এপ্রিল টানা ৪০ মিনিট ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। চলতি বছরে এটি ছিল তাঁদের তৃতীয় ফোনালাপ। যদিও সেই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে শোনা যায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন মোদি-ট্রাম্প। ফোনালাপের পর (G7 Summit) সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ওঁর (মোদির) সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে। উনি ভারত থেকে আমার বন্ধু। উনি দারুণ কাজ করছেন।” এই প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ফের মুখোমুখি হতে পারেন মোদি ও ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্র প্রধানের এই সাক্ষাৎই কেড়ে নিতে পারে তামাম দুনিয়ার নজর (PM Modi)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাসি, করমর্দন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের বাইরেও হবে আসল পরীক্ষা — দুই দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না। খুব সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত আলাপও দিকনির্দেশ করে দিতে পারে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের।

     

  • Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রোমে পা দিতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) স্বাগত জানালেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni)। সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘রোমে স্বাগত বন্ধু’। মঙ্গলবার রোমে পৌঁছেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ, গাড়িতে সফর এবং ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে সেলফিতে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বুধবারের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই দুই নেতার এই অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তগুলি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে মোদি

    পাঁচ দেশীয় সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে এসে পৌঁছেছেন তিনি। ইটালিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। দু’দেশই যৌথ কৌশলগত পরিকল্পনা করেছে। ২০২৫-’২৯ এই সময়কালকে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে যৌথ নিবন্ধও লিখেছেন মোদি ও মেলোনি। ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে মোদির কেমিস্ট্রি বেশ জনপ্রিয়। মোদির সঙ্গে মেলোনির এটি সপ্তম সাক্ষাৎ। আর সেই সাক্ষাতের একের পর এক ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এদিন নীল কুর্তা পাজামা ও বন্ধগলা কোটে অন্যরকম লুকে ধরা দেন নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে, কালার কনট্রাস্টে বেবি পিঙ্ক টপ ও সাদা ট্রাইজার পরেছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। এর আগেও মোদি-মেলোনির একাধিক সেলফি চর্চার বিষয়বস্তু হয়েছিল।

    মোদি-মেলোনি একই ফ্রেমে

    জর্জিয়া মেলোনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সেলফি তুলে পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টেই মোদিকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন মেলোনি। যা লক্ষ লক্ষ লাইক ও শেয়ার হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদিও রোম সফরের একাধিক ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেলোনির সঙ্গে গাড়িতে সফর করছেন তিনি, পাশাপাশি নৈশভোজ ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও অংশ নেন দুই নেতা। মোদি লেখেন, “রোমে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ ও ঐতিহাসিক কলোসিয়াম পরিদর্শনের সুযোগ হল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বুধবারের বৈঠকে ভারত-ইতালি বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।” রোমের রাতের আলোয় আলোকিত কলোসিয়ামের সামনে মোদি-মেলোনির ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষাধিক মানুষ সেই ছবি দেখেছেন ও শেয়ার করেছেন। নেটিজেনদের মধ্যে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় “মেলোডি” শব্দবন্ধ— যা ‘মেলোনি’ ও ‘মোদি’-র নাম মিলিয়ে তৈরি। জর্জিয়া মেলোনি নিজেই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। “মেলোডি”-র উষ্ণ রসায়ন ফের নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

    দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক

    গত কয়েক বছরে দুই দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়টিও মোদি মেলোনির মধ্যে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল। এই করিডোর ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও সংযোগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী রোমে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতরেও যাবেন। সেখানে তিনি খাদ্য সুরক্ষা, কৃষি সংস্কার এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবেন। ২০২৪ সালের জুনে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর এটাই মোদির ইটালিতে প্রথম সফর। রোমে অবতরণ করার পর পরই এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, ‘এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে ভারত-ইটালি সহযোগিতা কী ভাবে বৃদ্ধি করা যায়। বিশেষ করে ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের উপর আলোকপাত করা হবে।’

    আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানোই লক্ষ্য

    পাঁচ দিনের বিদেশ সফরে গিয়েছেন মোদি। নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি ঘুরে শেষ পর্যায়ে এখন রোমে রয়েছেন তিনি। ইটালি থেকেই ভারতে ফিরবেন মোদি। তাঁর এই রোম সফর দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে মত কূটনৈতিক মহলের। ইটালির এক প্রশাসনিক কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দু’দেশই নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতি করতে চাইবে। চলতি বছরের শুরুতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এক বাণিজ্যচুক্তি করেছে ভারত। এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানো। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটাই ছিল মোদির প্রথম ইউরোপ সফর।

    মোদি-মেলোনি কী কী নিয়ে আলোচনা

    বুধবার ভিলা ডোরিয়া পামফিলিতে ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতা দু’দেশের অংশীদারি জোরদার করার জন্য একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১,৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ দু’হাজার কোটিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। শুধু দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নয়, তার পরে মোদি ও মেলোনি দু’দেশের শিল্পপতিদের সঙ্গে দেখা করবেন। সূত্রের খবর, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার বিষেয়ে আলোচনা হতে পারে। আবার একাংশের মতে, সামুদ্রিক পরিবহণ, কৃষি, উচ্চশিক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, আর্থিক অপরাধ দমনের মতো বিষয়গুলি নিয়ে কোনও চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এ ছাডা়ও, পশ্চিম এশিয়া, ইউক্রেন এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা-সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে মোদি-মেলোনির মধ্যে। মেলোনি ছাড়াও ইটালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লার (Sergio Mattarella) সঙ্গে একটি বৈঠক করার কথা মোদির। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতর পরিদর্শন করার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

  • PM Modi: তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন মোদি?

    PM Modi: তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে (India Nordic Partnership) যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এই সম্মেলনে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠক সম্পর্কে জানান, “অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি, যা নর্ডিক অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্বের ক্রমবর্ধমান গভীরতা ও গতিশীলতা প্রতিফলিত করে।” এই সম্মেলনে ভারত এবং নর্ডিক দেশগুলি—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের নেতারা—ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি যৌথ রূপরেখা তৈরি করতে একত্রিত হন। আলোচনায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।বহুপাক্ষিক আলোচনার মূল বিষয়গুলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আলোচনা টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য সহযোগিতা জোরদারের মতো বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল।”

    ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক উত্তর ইউরোপে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে তুলে ধরে, যেখানে যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং টেকসই উন্নয়ন মডেলের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তঃআঞ্চলিক অংশীদারিত্বের মূল নীতিগুলি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও নর্ডিক দেশগুলি যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের মাধ্যমে একত্রিত।” মূল সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জলবায়ু পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিগত সংযুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয় (PM Modi)। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলিতে উত্তর ইউরোপের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করা হয় (India Nordic Partnership)।

    আইসল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদি

    প্রধানমন্ত্রী প্রথমে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিয়ার (Kristrun Frostadottir)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সবুজ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সম্পদ উন্নয়নে নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিরের সঙ্গে অত্যন্ত সুন্দর বৈঠক হয়েছে। ভারত আইসল্যান্ডের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গভীরভাবে মূল্য দেয়।” দুই নেতা নবায়নযোগ্য শক্তি, কার্বন ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই মৎস্য শিল্পে কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন (PM Modi)। আইসল্যান্ডের বিশেষ অর্থনৈতিক শক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্লু- ইকোনমি সম্পর্কিত ক্ষেত্রে আইসল্যান্ডের দক্ষতা প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া-ইএফটিএ (India-EFTA TEPA) বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ককে আরও গতি দেবে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, আলোচনায় উদ্ভাবন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সৃজনশীল অর্থনীতি, আর্কটিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ও ছিল (India Nordic Partnership)। তিনি বলেন, “দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করেছেন।” এরপর প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেট্টেরি অর্পোর (Petteri Orpo) সঙ্গে। দুই রাষ্ট্রনেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৫জি এবং ৬জি নেটওয়ার্ক, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল পরিকাঠামোয় অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, দুই নেতা ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও মতবিনিময় করেন (PM Modi)।

    বৈঠক ডেনমার্কের সঙ্গেও

    প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টি ফ্রেডেরিকসেনের (Mette Frederiksen) সঙ্গেও। দুই দেশের মধ্যে সবুজ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত এবং টেকসই উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনে সহযোগিতা বাড়াতেই হয় এই বৈঠক। পাঁচটি নর্ডিক দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ১.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি, এবং তারা সবুজ রূপান্তর মডেলের ক্ষেত্রে বিশ্বে অগ্রণী। প্রসঙ্গত, সোমবার সুইডেন থেকে নরওয়েতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। এটি ছিল তাঁর ১৫-২০ মে পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালি সফর নিয়ে গঠিত পাঁচ দেশের বিস্তৃত সফরের অংশ। নরওয়ের রাজধানীতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি (India Nordic Partnership) সফরের শেষ পর্যায়ে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন (PM Modi)।

     

  • PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সুইডেন থেকে নরওয়ে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন ও সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি। নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে সোমবার অনুষ্ঠিত ভারত-নরওয়ে বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিটে যোগ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। ভারত-ইএফটিএ ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (TEPA) কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে

    সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করল নরওয়ে। এদিন নরওয়ের রাজা হারাল্ড (King Harald V) ভি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট’ সম্মান প্রদান করেন। নেতৃত্ব ও ভারত-নরওয়ে সম্পর্কের অগ্রগতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হল প্রধানমন্ত্রীকে। এটি কোনও নাগরিককে দেওয়া নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মান। এটা প্রধানমন্ত্রী মোদির ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট পেয়ে সম্মানিত। ভারতের নাগরিক এবং নরওয়ে ও ভারতের অটুট বন্ধুত্বের প্রতি উৎসর্গ করছি এই সম্মান। এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের অগ্রগতিতে আমাদের মিলিত অঙ্গীকার প্রতিফলিত হচ্ছে।’ ঠিক একদিন আগেই সুইডেনের ঐতিহ্যশালী ‘রয়্যাল অর্ডার অব দ্য পোলার স্টার, ডিগ্রি কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে মোদিকে এই সম্মান প্রদান করে সুইডেন।

    ৪৩ বছর পর প্রথম

    সুইডেন সফর শেষ করেই সোমবার দু’দিনের সফরে নরওয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা তাঁর প্রথম নরওয়ে সফর। ৪৩ বছর পর প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউরোপের এই দেশটিতে এলেন তিনি। অসলোর রয়্যাল প্যালেসে রাজা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করেন। সোমবার ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে মনের কথা উজার করে দিলেন নরওয়ের শিল্পপতিরা। পাল্টা শিল্পের জন্য শ্রম আইন-সহ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে যে সংস্কার করা হয়েছে, তা তুলে ধরেন মোদিও। জানান নতুন করনীতির কথাও। অসলো সিটি হলে ‘নরওয়ে-ইন্ডিয়া বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিট’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে যোগ দেন মোদি। উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের বড় বড় সংস্থার কর্ণধাররা। তাদের মধ্যে ওরকলা, ইয়ারা ও ইকুইনরের মতো সংস্থা অন্যতম। ভারতে বড় ব্যবসাও রয়েছে তাঁদের।

    ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থা

    এই সামিটে ভারত ও নরওয়ের ব্যবসা ও গবেষণা মহলের ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থার সিইও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় ও নরওয়েজিয়ান বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। মূল সম্মেলনের আগে অসলোর বিভিন্ন স্থানে চারটি বিশেষ রাউন্ডটেবল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, ব্যাটারি ও এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থা, ডিজিটালাইজেশন ও বিদ্যুতায়ন এবং বায়ুশক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

    দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা

    ভারত ও ইউরোপের মধ্যে হওয়া নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করেন ওরকলার কর্তা নিলস কে সেলতে। তাঁর কথায়, ‘এর ফলে ব্যবসা করা অনেক সহজ হবে। অনিশ্চয়তা কমবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা হবে।’

    বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান

    সবার কথা মন দিয়ে শোনেন মোদি। তার পরে করব্যবস্থা, শ্রম আইন ও প্রশাসনিক সংস্কারের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন নরওয়ের শিল্পপতিদের সামনে। তিনি বলেন, ‘নেক্সট জেনারেশন রিফর্মস আনা হয়েছে। নরওয়ের জন্য ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া’-র মধ্যে একটি বিশেষ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ডেস্কও তৈরি করেছে কেন্দ্র।’ নরওয়ের শিল্পপতিদের উদ্দেশে মোদির স্পষ্ট বার্তা, ‘ভারতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করুন। আমি আপনাদের ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এখন বল আপনাদের কোর্টে।’

    ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান

    সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সম্প্রতি ভারত-নরওয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি দুই দেশের শিল্পমহলকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতে প্রায় ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বৃহৎ যুবশক্তি, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং প্রতিযোগিতামূলক ফেডারেল ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তিনি নরওয়ের সংস্থাগুলিকে ব্লু ইকোনমি, জাহাজ নির্মাণ, সবুজ জ্বালানি, নবীকরণযোগ্য শক্তি, হেলথ-টেক, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যত

    ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট ক্লিন এনার্জি উৎপাদনের লক্ষ্যের কথাও সবিস্তারে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘ভারতের গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যতে নরওয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।’ একই সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও নরওয়েকে ভারতের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমানে নরওয়ের ১০ শতাংশ জাহাজ ভারতে তৈরি হয়। আগামী পাঁচ বছরে সেটিকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক খাতে কার্বন নির্গমন হ্রাস, সমুদ্র সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অর্থায়নে নরওয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

     

     

     

  • PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে। এটি (Terrorism) দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিফলন।” সোমবার কথাগুলি বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি জানান, ভারত ও নরওয়ে উভয়েই নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেই কঠিন সময়ে নরওয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল, যা প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়—এই বিশ্বাস দুই দেশেরই।

    বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন (PM Modi)

    তিনি বলেন, “আমরা একমত যে সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়া-সহ সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে ভারত ও নরওয়ে। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, উদীয়মান আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ভারত ও নরওয়ের অভিমত হল, গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার হওয়া উচিত।”

    সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন

    সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি।” সুইডেন সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী দু’দিনের সফরে নরওয়েতে পৌঁছন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্টোরে এবং নরওয়ের প্রবীণ নেতারা। প্রসঙ্গত, এই (PM Modi) সফরটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নরওয়ে সফর এবং চার দশকেরও বেশি সময় পরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নর্ডিক দেশ সফর।দুই রাষ্ট্রনেতা ১৯ মে অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় নর্ডিক-ইন্ডিয়া সামিটেও যৌথভাবে অংশ নেবেন। এই সম্মেলনে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির নেতারা অংশ নেবেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, সুইডেন এবং নরওয়ের প্রধানরা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী রাজা হেরাল্ড ফাইভ (Harald V) এবং রানি সনজার (Sonja) সঙ্গেও (Terrorism) সাক্ষাৎ করবেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত-নরওয়ে ব্যবসা ও গবেষণা (PM Modi) সম্মেলনেও ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

     

LinkedIn
Share