Tag: NDA

NDA

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) দু’টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের ফল বেরল। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। অন্য আসনটি দখল করেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। জয়ী হয়েছেন বৈদ্যনাথ রাম। ভোটগ্রহণে ক্রস-ভোটিংয়ের (Cross Voting) অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    পরাজিত কংগ্রেস (Jharkhand)

    পরিমল কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝাকে পরাজিত করেছেন। আর বৈদ্যনাথ জয়ী হয়েছেন নির্ধারিত আসনে। নির্বাচনের ফল বেরলে দেখা যায়, পরিমল মোট ২৮টি ভোট পেয়েছেন। অথচ ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট বিধায়কের সংখ্যা ২৪। এই অতিরিক্ত চারটি ভোট কোথা থেকে এল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ক্রস-ভোটিংয়ের জল্পনা। পরিমলের কাছে হেরে গিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী প্রণব। তিনি পেয়েছেন মাত্র ২০টি ভোট। অন্য আসনে জেএমএম প্রার্থী বৈদ্যনাথ নির্বাচিত হয়েছে ৩০টি ভোট পেয়ে। নির্বাচন পরিচালনাকারী এক আধিকারিকের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির দুই এবং কংগ্রেসের এক বিধায়কের ভোট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ভোটের অঙ্ক

    ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট ২৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে বিজেপির ২১ জন, এবং এলজেপি (রামবিলাস), আজসু পার্টি এবং জেডিইউয়ের একজন করে বিধায়ক রয়েছেন। আর, ইন্ডিয়া জোটের মোট ৫৬ জন বিধায়কের মধ্যে জেএমএমের ৩৪, কংগ্রেসের ১৬, আরজেডির ৪ এবং সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ২ জন সদস্য রয়েছেন। ভোটের আগে এনডিএ তাদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে রাখায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের তরফে বিধায়ক ভাঙানোর আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছিল। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই দাবি করেছিলেন, এনডিএ সমর্থিত প্রার্থীই জয়ী হবেন (Jharkhand)।

    ক্রস-ভোটিং!

    ঝাড়খণ্ডে এ বার প্রার্থীদের জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ২৮ জন করে বিধায়কের সমর্থন। এর মধ্যে ‘ইন্ডি’ জোটের পক্ষে ছিল ৫৬ জনের সমর্থন। যার মধ্যে রয়েছেন জেএমএমের ৩৪ জন, কংগ্রেসের ১৬ জন, আরজেডির ৪ জন, এবং সিপিআই (এমএল)-এর ২জন বিধায়ক। নির্বাচনে জেএমএমের বৈদ্যনাথ পেয়েছেন ৩০টি প্রথম পছন্দের ভোট। তাদের সহযোগী কংগ্রেসের প্রণব পেয়েছেন ২০টি। অথচ ‘ইন্ডি’ জোটের ৫৬ জন বিধায়ক ছিলেন। সেই হিসেবে জেএমএমের প্রার্থী ৩০টি ভোট পেলে, কংগ্রেস প্রার্থীর পাওয়ার কথা ছিল ২৬টি। উল্লেখ্য (Cross Voting), জেএমএমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনের মৃত্যুর কারণে রাজ্যসভার একটি আসন শূন্য হয়েছিল। আর, বিজেপি সাংসদ দীপক প্রকাশের মেয়াদ শেষ হবে ২১ জুন। তাই নির্বাচন হয়েছে সেই আসনেও (Jharkhand)।

     

  • Divyanshi Singh: দেশের সামরিক ইতিহাসে নজির দিব্যাংশীর! এনডিএ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বায়ুসেনায় যোগ

    Divyanshi Singh: দেশের সামরিক ইতিহাসে নজির দিব্যাংশীর! এনডিএ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বায়ুসেনায় যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন ফ্লাইট ক্যাডেট দিব্যাংশী সিং (Divyanshi Singh)। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (NDA) থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম মহিলা ক্যাডেট হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রাউন্ড ডিউটি শাখায় কমিশন লাভ করলেন। হায়দ্রাবাদের ডুন্ডিগালে অবস্থিত এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমিতে (এএফএ) অনুষ্ঠিত ২১৭তম কোর্সের কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েশন প্যারেডে দিব্যাংশীর হাতে প্রেসিডেন্টস কমিশন তুলে দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে আরও ২৩১ জন ফ্লাইট ক্যাডেট কমিশন পান, যাঁদের মধ্যে ছিলেন ১৯৪ জন পুরুষ এবং ৩৬ জন মহিলা ক্যাডেট।

    এনডিএ-তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম মহিলা অফিসার

    বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, এই ব্যাচেই ছিলেন এনডিএ-তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম মহিলা অফিসারদের দল। ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো মহিলাদের জন্য এনডিএ-র দরজা খুলে দেওয়া হয়। সেই প্রথম ব্যাচের অন্যতম সদস্য ছিলেন দিব্যাংশী সিং। পুনের খড়গওয়াসলায় অবস্থিত ত্রি-সেনা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এনডিএ-তে তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর তিনি বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য ডুন্ডিগালের এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। এনডিএ-তে প্রশিক্ষণকালীন সময়েই দিব্যাংশী ‘ক্যাডেট কোয়ার্টার মাস্টার সার্জেন্ট’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক শৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত কাজের মতো বিষয়গুলিতে তিনি পুরুষ সহপাঠীদের সমানভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

    নারীশক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা

    ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এনডিএ-র প্রথম মহিলা ক্যাডেট ব্যাচ প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করে। এরপর তাঁরা নিজ নিজ বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দেন এবং চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করেন। এদিনের প্যারেড পরিদর্শন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি স্নাতক ক্যাডেটদের হাতে প্রেসিডেন্টস কমিশন তুলে দেন। দিব্যাংশী সিংয়ের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নারীশক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার এক শক্তিশালী প্রতীক। তাঁর এই কৃতিত্ব দেশের অসংখ্য তরুণীকে ইউনিফর্ম পরে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।

  • Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Crisis) বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার শাসক এবং শাসিত দুই দলের এই দুই প্রতিনিধির এই বৈঠক ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শনিবার এই বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সুদীপ। সেই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।

    তৃণমূলে ফের ‘রামধাক্কা’ (Trinamool Crisis)

    সুদীপের এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলে লাগে আরও এক ‘রামধাক্কা’। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া দল ছাড়েন। বছর চুয়াত্তরের মানস জানান, বর্তমানে দলে যে সঙ্কট চলছে, তাতে তিনি অসন্তুষ্ট। তাই দল ছেড়েছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে বাঁক নেবেন তিনি, তা স্পষ্ট করেননি পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। এদিকে, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে তাঁরা পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি এবং আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানাবেন বলে খবর।

    বিদ্রোহ চারিদিকে

    বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন তাঁদের পাশে রয়েছেন। সুদীপ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ২০। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তাঁরা সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবেন। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সুদীপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপকে সম্মান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিলেও, তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। কুণালের দাবি, ক্ষমতা ও পদলাভের লোভ থেকেই সুদীপ দলীয় নেতাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। তাই বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    কুণালের নিশানায়

    তিনি আরও (Trinamool Crisis) দাবি করেন, সম্প্রতি মমতার বাসভবনে সিআইডি অভিযানের সময় সুদীপ তাঁকে ফোন করে তাঁর অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্ত্রী নয়না সেখানে আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুদীপ আসেননি। কুণাল বলেন, “দিদির বাড়িতে না গিয়ে সুদীপদা এখন বিজেপির দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন (Amit Shah)।” সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে “বিশ্বাসঘাতক” বলেও আক্রমণ করেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, তিনি শুধু দলের নেতৃত্বকেই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাঁরা তাঁর হয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় জানান, কয়েকদিন আগেও সুদীপ দল ছাড়ছেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁকে। পরে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সুদীপকে বৈঠক করতে দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত বলে জানান সৌগত।

    ডামাডোলের বাজারে সংগঠন সাজাচ্ছেন মমতা!  

    এদিকে, দলের এই ডামাডোলের বাজারের মধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। সায়নী ঘোষের পরিবর্তে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে (Trinamool Crisis)। মহিলা সংগঠনের নতুন সভানেত্রী হয়েছেন আলিফা আহমেদ। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সুদীপকে সরিয়ে সেখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণালকে। সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হয়েছেন মুসারফ হোসেন। এরই মধ্যে রাজ্য বিধানসভায়ও সামনে চলে এল তৃণমূলে বড় ভাঙনের ছবি। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এই স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির (Trinamool Crisis)।

    কোথাকার জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার (Amit Shah)।

     

  • Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও প্রবল হল তৃণমূল কংগ্রেসে (Rebel TMC MPs) বড়সড় ভাঙনের জল্পনা। দলের ২৮ লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৯ জনের সমর্থন পাওয়ার দাবি করে বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছে, তারা সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইবে। তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জানাবে।

    বিদ্রোহীদের বক্তব্য (Rebel TMC MPs)

    বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তাঁদের গোষ্ঠী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় নেতা এবং শতাব্দী রায়কে উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাবে। তাঁর বক্তব্য, রবিবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বসুনিয়ার দাবি, এখনও পর্যন্ত ১৯ জন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন এবং আরও কেউ যোগ দিতে চাইলে, দরজা খোলা রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, এনডিএর অংশ হয়ে সংসদে শাসক জোটের পাশে বসা এবং উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রের পাশে থাকা নিশ্চিত করা।

    অভিষেকের জন্যই দল গাড্ডায়!

    তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। বসুনিয়ার কথায়, “আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। পরে দল কর্পোরেট সংস্থার মতো পরিচালিত হতে শুরু করে এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।” এই কারণেই বহু নেতা ও সাংসদ ক্ষুব্ধ বলেও দাবি (Rebel TMC MPs) তাঁর। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে। ফলে নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা পাওয়া জরুরি বলেই তাঁরা এনডিএর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বসুনিয়া এও (Om Birla) জানান, প্রথমে স্পিকারের কাছে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছেও ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানানো হবে (Rebel TMC MPs)।

    বিদ্রোহ চারিদিকে!

    এদিকে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগেই তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নেতাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে। তৃণমূলের আর এক বর্ষীয়ান নেতা অনুব্রত মণ্ডলও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককেও দায়ী করেছেন (Om Birla) তিনি। উল্লেখ্য, বিদ্রোহী শিবিরের তরফে এসব দাবি করা হলেও (Rebel TMC MPs), শনিবার দুপুর পর্যন্তও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি তৃণমূলের পক্ষ থেকে।

     

  • Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। বৃহস্পতিবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি ও তার সহযোগী দলগুলি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে, বিশেষ করে কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল। এবারের নির্বাচনে মোট ২৪টি আসনে কোনও ভোটগ্রহণ ছাড়াই প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬টি আসন ছিল এনডিএ-র দখলে, আর বাকি ৮টি আসন বিরোধী শিবিরের হাতে ছিল।

    কোথায় কার কত আসন

    আন্ধ্রপ্রদেশে চারটি আসনের সবকটিই জিতেছে এনডিএ। এর মধ্যে তিনটি আসন পেয়েছে তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং একটি আসন গেছে জনসেনা পার্টির ঝুলিতে। গুজরাটেও চারটি আসনের সবকটিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। এর ফলে কংগ্রেসের দখলে থাকা একটি আসনও বিজেপি পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে। রাজস্থানে বিজেপির সতীশ পুনিয়া ও অলকা গুর্জর এবং কংগ্রেসের নীরজ ডাঙ্গি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও শাসক দলগুলির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। মিজোরামে শাসক জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (জেডপিএম) একটি আসন জয়ের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, মেঘালয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এবং অরুণাচল প্রদেশে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসন নিশ্চিত করেছে।

    মধ্যপ্রদেশ-ঝাড়খণ্ডে বিতর্ক

    সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। সেখানে রাজ্যসভার তিনটি আসনের মধ্যে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্র পুনর্বহাল করা হয়নি। রিটার্নিং অফিসারের এই সিদ্ধান্তকে ‘পরিকল্পিত’ ও ‘অন্যায়’ বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, যে আইনি নোটিশের ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা কোনও সরকারি এফআইআর ছিল না। ঝাড়খণ্ডের দুটি আসন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেখানে নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নাথওয়ানির বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর মনোনয়নপত্রে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। বিরোধীরা না মানলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রাজ্যসভা নির্বাচন একদিকে এনডিএ-র সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় তুলে ধরেছে।

  • Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি যদি অভিষেকের ওপরই নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গেই থাকুন। আর যদি তাঁর থেকে দূরে সরে আসেন, তাহলে আমি আপনার পাশে আছি।” বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata TMC Rebellion)। মমতার হাতে গড়া সাধের তৃণমূলে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় এমনিতেই শ্যাম রাখি না কূল দশা তৃণমূল সুপ্রিমোর।

    ‘ভাইপো কালচারে’র জের! (Mamata TMC Rebellion)

    এহেন আবহে কল্যাণের এই হুমকি বার্তায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতারা। তৃণমূলে ‘ভাইপো কালচার’ শুরুর পর থেকেই বইতে শুরু করেছিল অশান্তির চোরাস্রোত। তবে সে সবকে কোনওদিনই পাত্তা দেননি (Kalyan Banerjee) দলনেত্রী। উল্টে সাপ এবং ব্যাঙ-দু’পক্ষকেই তাঁবে রাখতে একের পর এক ‘গেম’ খেলে গিয়েছেন তিনি। তবে তাতে যে বিশেষ কাজ হয়নি, তার প্রমাণ মিলল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গাড্ডায় পড়তেই। ভেঙে দু’খান হয়ে গেল কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার ‘কারিগর’ মমতার দল।

    অভিষেককে নিশানা কল্যাণের

    এদিন কল্যাণ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবী নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে ‘ভাতিজা’র বিরুদ্ধে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর তিনি যে অভিষেকের হয়ে কোনও মামলায় সওয়াল করবেন না, তাও জানিয়ে দেন এই তৃণমূল সাংসদ। অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “ওঁর অহংকারী মনোভাবের কারণেই দলের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উনি কাউকেই সম্মান করতে জানেন না।” তিনি জানান, দলের প্রবীণ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, মমতা এখনও ফোন করেননি। তবে তিনি যে তৃণমূলের অন্যান্য সাংগঠনিক ও আইনি বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন, তাও জানিয়ে দিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা।

    ফাটল চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে

    এদিকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। গত তিনদিনে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ। বুধবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক। ৮ জুন ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। আর ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। প্রকাশ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে তাঁকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ আরও চড়েছে।এদিকে, তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনও সংযুক্তির জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। যদিও বুধবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন (Mamata TMC Rebellion) অভিষেক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের সঙ্গে সমর্থন রয়েছে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, লোকসভায় ২০ জন সাংসদ পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। এ থেকেই (Kalyan Banerjee) স্পষ্ট, তৃণমূলের ছত্রখান হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

     

  • Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজ্যসভার সদস্যপদে ইস্তফা দিলেন দলের প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Baraik)। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে মতামত দিয়েছেন, তা (BJP) মেনে নিয়েই আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।” প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে এটি তৃণমূলের তৃতীয় রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগ। এর আগে ৮ জুন পদত্যাগ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তার ঠিক দুদিন পরে, ১০ জুন রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন সুস্মিতা দেব। এবার সেই তালিকায় উঠে গেল প্রকাশের নাম।

    বিজেপি সাংসদের বাড়িতে প্রকাশ (Prakash Baraik)

    এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাও উসকে দিয়েছেন প্রকাশ। এদিন ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে প্রকাশ চলে যান বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে। সেখানে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশ বলেন, “সময়ই সব বলবে। এখনই কিছু বলতে চাই না। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে কী করব, তা সময়ই ঠিক করবে।” তিনি জানান, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দেন প্রকাশ। ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনমত বিজেপির পক্ষেই ছিল। আমার নিজের এলাকায়ও তৃণমূল একটি আসনও জিততে পারেনি। উত্তরবঙ্গের ফলও আশানুরূপ হয়নি। সেই কারণেই আমি মনে করেছি, এই পদে আমার থাকা আর নৈতিকভাবে ঠিক নয়। তাই আমি সাংসদ পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ—দুই থেকেই ইস্তফা দিয়েছি।”

    ক্রমেই চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ফাটল

    এদিকে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন (Prakash Baraik), বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও ধরনের সংযুক্তির প্রশ্নই নেই এবং গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ঋতব্রতের দাবি, তাঁদের শিবিরে এখন ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যা আগের ৫৮ জনের তুলনায় বেশি। খুব শীঘ্রই তাঁরা স্পিকারের কাছে (Prakash Baraik) সমর্থনের চিঠি জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।তৃণমূল কংগ্রেসে ধারাবাহিক পদত্যাগ ও বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয়তায় বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি (BJP) নয়া মোড় নিতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

     

  • Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। সেই সংকটের মাঝেই বুধবার (১০ জুন) তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই দিনে দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সুস্মিতা দেবের পদত্যাগকে অনেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে চলা বৃহত্তর বিদ্রোহের অংশ হিসেবে দেখছেন। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    কে এই সুস্মিতা দেব?

    সুস্মিতা দেব দেশের এক সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। তাঁর মা বীথিকা দেব অসমের শিলচর কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সুস্মিতা। ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে অসমের শিলচর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে শিলচর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের অন্যতম সক্রিয় সাংসদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

    ৫ বছরের মেয়াদ তৃণমূলে

    কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টেনে ২০২১ সালের অগাস্ট মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে অসম ও ত্রিপুরায় দলের বিস্তারের লক্ষ্যে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সময় তৃণমূল তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল। দলে যোগদানের পর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন সুস্মিতা?

    রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে সুস্মিতা দেব লেখেন, ‘‘আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। আমার কার্যকালের সময় সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং সচিবালয়ের সমস্ত আধিকারিককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’ তবে পদত্যাগপত্রে দলত্যাগের কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন সুস্মিতা?

    পদত্যাগের পরই দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, একসময় দু’জনেই কংগ্রেসে ছিলেন। পরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিজেপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যতে সুস্মিতা দেবের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখছে না। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি বা বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের আগে মঙ্গলবারই তৃণমূল ছেড়েছেন সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। পদত্যাগের সময় তিনি সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয় আসলে ‘‘১৫ বছরের নৈরাজ্যপূর্ণ শাসনের ফল’’। এদিকে লোকসভায় তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ পৃথক গোষ্ঠী গঠনের পথে হাঁটছেন বলে খবর। এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা আসন বরাদ্দের আবেদন করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) বলেছেন, ‘‘আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে পৃথক বসার ব্যবস্থা চেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করব।’’ এই মন্তব্য কার্যত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান বলেই মনে করা হচ্ছে।

    এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা

    বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, বিদ্রোহী গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-তে যোগ দিতে পারে। তবে ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কারণে বিষয়টি সহজ নয়। আইন অনুযায়ী কোনও দলের সংসদীয় গোষ্ঠী ভেঙে আলাদা সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা ২০ বলে দাবি করা হলেও, তা আইনি স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

    সংকট সামলাতে সক্রিয় শীর্ষ নেতৃত্ব

    দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী ঐক্য রক্ষা এবং দলের ভাঙন রোধ করাই এই বৈঠকগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।

    বিধানসভাতেও অস্থিরতা

    সংসদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বে একটি পৃথক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। পরবর্তীতে বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ শুধুমাত্র একজন সাংসদের দলত্যাগ নয়, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের বিস্তারের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত সুস্মিতা দেবের প্রস্থান তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যদি বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ সত্যিই এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে তা শুধু সংসদীয় সমীকরণ নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও নতুন মোড় দিতে পারে। এখন নজর থাকবে— সুস্মিতা দেবের পর আর কতজন সাংসদ বা নেতা তৃণমূল ছাড়েন এবং বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

  • ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের (Rajya Sabha Polls) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার জারি হয় এই বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে ১০টি রাজ্যের ২৪টি আসন সদস্যদের অবসরের কারণে ফাঁকা হয়েছে। পদত্যাগজনিত কারণে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার ৩টি আসনে হবে উপনির্বাচন।

    নির্বাচনের সাত-সতেরো (ECI)

    কমিশন জানিয়েছে, ২৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুন। ওই দিনই বিকেল ৫টার পর হবে ভোট গণনা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৮ জুন বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা ৯ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। ১১ জুন প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন।অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং মিজোরামে ২৪টি শূন্যপদে ভোট হবে। পদত্যাগের কারণে আরও ৩টি পদ শূন্য। ফলে বিরোধী জোট রাজ্যসভায় অন্তত তিনটি অতিরিক্ত আসন পেতে পারে বলেই ইঙ্গিত। যদিও শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের বর্তমান শক্তি বজায় রাখবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। আগামী মাসে রাজ্যসভা থেকে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েন।

    শক্তি বাড়ছে এনডিএর!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২৭টি আসনের মধ্যে শাসক এনডিএ তাদের শক্তি এক বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ২৪৫ সদস্য বিশিষ্ট রাজ্যসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ১৪৮। কংগ্রেসের রয়েছে ৪টি আসন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর ১টি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)-এর ৩টি আসন। রাজ্য বিধানসভাগুলিতে (Rajya Sabha Polls) দলগুলির বর্তমান শক্তির ভিত্তিতে কংগ্রেস তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ করতে পারে (ECI)। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দু’টি আসনে জিততে পারে। শাসক তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনে একটি আসন জিতে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভায় জায়গা পেতে পারে।

    এনডিএ ভালো অবস্থায়

    এনসিপি নেতা সুনেত্রা পাওয়ার এবং এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগম বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণেই উপনির্বাচন হবে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে। ওড়িশায় দেবাশিস সমান্ত রায়, বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ছেড়েছেন রাজ্যসভার সদস্যপদও। তাই এই কেন্দ্রেও হবে উপনির্বাচন (ECI)। মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা পাওয়ারের শূন্য পদে এনডিএ ভালো অবস্থায় রয়েছে (Rajya Sabha Polls)। তামিলনাড়ুর একটিমাত্র আসন বন্ধু দলগুলির সমর্থনে টিভিকের দখলে যেতে পারে। ওড়িশার আসনটি শাসক দলের ঝুলিতে যেতে পারে।

    কোন আসনে জিতছে কারা

    অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ চারটি আসনই জিততে পারে। গুজরাটে বিজেপি চারটি আসনেই জিতবে। তাই এই রাজ্য থেকে কংগ্রেস তাদের একমাত্র আসনটি খোয়াতে পারে। কর্নাটকে কংগ্রেস চারটির মধ্যে তিনটি আসনে জিততে পারে, একটি আসন যেতে পারে পদ্ম-ঝুলিতে। খাড়্গে ফের রাজ্যসভায় মনোনীত হতে পারেন (ECI)। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিজেপি দু’টি করে আসন জিততে পারে। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেস একটি করে আসন পেতে পারে। ঝাড়খণ্ডে শাসক জেএমএম-কংগ্রেস জোট দু’টি আসনই জিততে পারে। তাদের জয়ের পথে খাড়া প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারে বিজেপি। অর্থাৎ, জোরদার লড়াই হতে পারে (Rajya Sabha Polls)।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচনে ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনের মধ্যে (ECI) বিজেপি জিতেছিল ১৩টি আসনে।

     

  • Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে নাটকীয় মোড় (Saffron Wave)। পশ্চিমবঙ্গে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বিজেপি। ৩৪ বছরের বাম রাজত্ব, তার পরে ১৫ বছরের তৃণমূল জমানা শেষে বঙ্গে ফুটল পদ্ম (India Power Map)। বহুদিন ধরে বিজেপি-বিরোধী দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাংলার পতন সূচনা করেছে পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক মৌলিক পুনর্বিন্যাসের, যেখানে বিজেপি এখন হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি ক্ষমতার বলয় তৈরি করেছে।

    বদলে গেল দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ (Saffron Wave)

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে দেখা গিয়েছে বড়সড় পরিবর্তন। সেখানে ১০০-র বেশি আসন জিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের দীর্ঘস্থায়ী মৌরশিপাট্টায় আঘাত হেনেছে নয়া দল তামিল বিকাশ কাজাগম (TVK)। যার জেরে বদলে গিয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UDF) ফের ক্ষমতায় ফিরেছে। এলডিএফের সঙ্গে পালাবদলের ধারা ভেঙে দিয়ে দক্ষিণে আবারও প্রাণপ্রতিষ্ঠা কংগ্রেসের।  এদিকে, অসম ও পুদুচেরিতে এনডিএর শাসনই জারি থাকছে। যা আদতে নির্দেশ করে উত্তর-পূর্ব এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাদের মজবুত অবস্থানকে।

    বিজেপির জয়জয়কার

    এদিকে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলের জেরে বদলে গিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র। বর্তমানে বিজেপি একাই ১৭টি রাজ্যে রাজ করছে। এগুলি হল— পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অসম, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ত্রিপুরা, গোয়া, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং উত্তরাখণ্ড। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শাসন করছে আরও পাঁচটি রাজ্য। এগুলি হল— বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড এবং সিকিম। সব মিলিয়ে মোট ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাশ রয়েছে এনডিএর হাতে (India Power Map)। এই ২২টি অঞ্চল ভারতের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৭৩ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৮ শতাংশের (Saffron Wave)। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরে বিজেপির রাজ্যস্তরের বিধায়কের সংখ্যা প্রায় ১৭০০-তে গিয়ে পৌঁছেছে, যা কংগ্রেসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। পদ্মশিবিরের এই ফলের জেরে রাজ্যের আইনসভাগুলিতে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বিজেপি (India Power Map)। বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট এখন দেশের প্রায় চার-পঞ্চমাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে, যেখানে বিরোধী শিবিরের আওতায় রয়েছে মাত্র এক-সপ্তমাংশের কিছু বেশি।

    গেরুয়াময় অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ

    পশ্চিমবঙ্গ জয়ের মাধ্যমে বিজেপি এখন উত্তর হিমালয় অঞ্চল থেকে গঙ্গা সমভূমি, পশ্চিম মালভূমি হয়ে উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব উপকূল পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ক্ষমতার বলয় গড়ে তুলেছে। এর ফলে নীতিগত সমন্বয়, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং নির্বাচনী কার্যকলাপ আরও সহজ হয়েছে (Saffron Wave)। দিল্লিতে বিজয় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী “বিকশিত ভারত” লক্ষ্যের সঙ্গে পূর্ব ভারতের পুনর্জাগরণের কথারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অতীতে বিহার, বাংলা ও ওড়িশা ভারতের গৌরবের তিন স্তম্ভ ছিল—অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গ। এই তিন রাজ্যের উন্নয়নই বিকশিত ভারত গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ (India Power Map)।” তিনি কলিঙ্গ (ওড়িশা)-কে সামুদ্রিক শক্তি, অঙ্গ (বিহার)-কে বস্ত্র বাণিজ্যের কেন্দ্র এবং বঙ্গ (পশ্চিমবঙ্গ)-কে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন।

    বৃত্ত ছোট হচ্ছে কংগ্রেসের

    অন্যদিকে, কংগ্রেস এখন একাই শাসন করছে মাত্র চারটি রাজ্য। এগুলি হল, হিমাচল প্রদেশ, তেলঙ্গানা, কেরল এবং কর্নাটক। ‘ইন্ডি’ জোটের সঙ্গে যুক্ত আরও দু’টি অঞ্চলেও রয়েছে কংগ্রেস—ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীর। এই ছ’টি অঞ্চল ভারতের মোট এলাকার প্রায় ১৯ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশের। যদিও এই জোট দক্ষিণ, মধ্য ভারত এবং হিমালয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে, তবুও তাদের ভৌগোলিক এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব এনডিএর তুলনায় ঢের কম (Saffron Wave)। তবে কংগ্রেস-‘ইন্ডি’ জোটের শক্তি কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেই কেন্দ্রীভূত—কেরলের উন্নত সামাজিক সূচক, কর্ণাটকের প্রযুক্তি-ভিত্তিক অর্থনীতি, তেলঙ্গনার শিল্পভিত্তি এবং ঝাড়খণ্ডের খনিজ সম্পদ তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে (India Power Map)। পরিসংখ্যান বলছে, এনডিএর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে চাইলে বিরোধী শিবিরকে মাত্র ১৪ শতাংশ জনসংখ্যা ও ১৯ শতাংশ এলাকা নিয়েই আগামী বছরগুলিতে (Saffron Wave) জাতীয় পর্যায়ে জনসমর্থন বাড়াতে হবে, করতে হবে জয়লাভও। তা না হলে অচিরেই স্রেফ সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে যাবে শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেস।

     

LinkedIn
Share