Tag: New Delhi

New Delhi

  • Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) ভারত সরকার দু’বার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একটি আমন্ত্রণ ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য। অন্যটি ছিল বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন।

    নয়াদিল্লিতে (India) গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দেননি। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখনও ভারত সফরে যাননি তিনি। তাঁর প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখনও কোনও নিশ্চিত বার্তাও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভারত।

    রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ, তিনি দু’টি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন—একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।” তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আমরা এখনও কিছু শুনিনি।”

    ব্রিকসের আমন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য (Tarique Rahman)

    ভারতের এই বক্তব্যের আগে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে।

    হুমায়ুন কবিরের কথায়, “আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশের সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।”

    ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ব্রিকসের সম্প্রসারিত অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলাদেশ।

    এর আগে জুলাই মাসেও বাংলাদেশের (Tarique Rahman) বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    দ্বিপাক্ষিক সফরেই জোর ঢাকার

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হয়েছে, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপাক্ষিক কোনও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে না হয়ে দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়াই প্রত্যাশিত। হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা।

    আগস্টের শেষ দিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুই দেশ পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সময়সূচিতে একমত হলেই সফরটি হবে।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তারেক রহমান

    ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তারেক রহমানের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচি হতে চলেছে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তাঁর। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

    সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। এই অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য, “আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর একটি রাষ্ট্রসংঘ”।

    নিউইয়র্ক সফরে তারেক রহমান বাংলাদেশের (Tarique Rahman) দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করার কথা (India) রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এ বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশেষ আলোচনা হবে বলেও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

     

  • PM Modi: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের ১০ প্রস্তাব মোদির, ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’ হোক গ্লোবাল সাউথ

    PM Modi: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের ১০ প্রস্তাব মোদির, ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’ হোক গ্লোবাল সাউথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি প্রস্তাব প্রণয়নের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব শাসন ও শক্তিশালীকরণ’ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে ব্রিকসের (BRICS 2026) সদস্য দেশগুলি এই প্রস্তাবগুলিকে একটি সংস্কার রূপরেখায় পরিণত করতে পারে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথকে ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’য় রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।

    সামনের সারিতে গ্লোবাল সাউথ (PM Modi)

    মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংকটের সম্মুখভাগে রয়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান এখনও পিছনের সারিতে। তাঁর কথায়, “গ্লোবাল সাউথ আজ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সামনের সারিতে রয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছনের সারিতে। আমাদের এই ‘সুবিধাভোগের পিরামিড’কে ‘অংশীদারির মঞ্চে’ রূপান্তর করতে হবে, যেখানে প্রতিটি দেশের কণ্ঠস্বর থাকবে, প্রতিটি সদস্যের অংশীদারি থাকবে এবং মানব উন্নয়ন প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।”

    তিনি আরও বলেন, “এই লক্ষ্যেই আমি প্রস্তাব করছি, আমরা যৌথভাবে বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১০টি প্রস্তাব তৈরি করি। আগামী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে এগুলিকে ব্রিকসের সংস্কার রূপরেখায় পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

    প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত সংস্কার রূপরেখায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত—প্রতিনিধিত্ব, সাড়াদানের সক্ষমতা এবং নিয়ম প্রণয়ন।

    প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন মোদি। তিনি বলেন, লিখিত প্রস্তাবভিত্তিক আলোচনা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সুস্পষ্ট ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভোটাধিকার, নেতৃত্বের পদ এবং নীতিগত অগ্রাধিকারও বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানো উচিত বলে জানান তিনি। মোদির কথায়, “যে দেশগুলি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশ্ব অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাদের উপযুক্ত ভূমিকা থাকা উচিত।”

    সাড়াদানের সক্ষমতার প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বিশ্ব প্রতিষ্ঠানগুলি তখনই মানবজাতির আস্থা অর্জন করতে পারবে, যখন তারা বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে সক্ষম হবে। তিনি (PM Modi) বলেন, “আমাদের সম্মিলিত সাড়ার গতি, ব্যাপ্তি এবং শেষ প্রান্তে তার প্রভাবের দিকে নজর দিতে হবে।”

    সমুদ্রযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান

    বিশ্ব বাণিজ্যে সমুদ্রযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে একটি জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। এর মাধ্যমে বিপদসংকেত পাঠানো, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

    বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়মকানুন তৈরির ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার পরিসর, মহাকাশ, জৈবপ্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলি শুধু ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করছে না, ভবিষ্যতের নিয়মকানুনও নির্ধারণ করছে।

    মোদি বলেন, “গ্লোবাল সাউথকে নিয়মগ্রহীতা থেকে নিয়মপ্রণেতায় রূপান্তর করার জন্য আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।”

    তিনি আরও জানান, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির তরুণ কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের আলোচনার দক্ষতা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং আইনি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারে ব্রিকস।

    ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রসংঘের নির্ধারিত দিন হওয়ায় এই দিনেই বিশ্ব দক্ষিণকে কেন্দ্র করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত।”

    ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হল—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ। উন্নয়ন, স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনকে এবারের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে রাখা হয়েছে।

    প্রধান উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিকস ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ-সহ একাধিক বিষয় ব্রিকসের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।

    বর্তমানে ব্রিকস (BRICS 2026) গোষ্ঠীতে ১১টি দেশ রয়েছে। দেশগুলি হল—ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

     

  • BRICS Summit 2026: ব্রিকস সম্মেলনে কূটনীতির পাশাপাশি বন্ধুত্বের বার্তা দেবে ভারতের খাবার, জেনে নিন মেনু

    BRICS Summit 2026: ব্রিকস সম্মেলনে কূটনীতির পাশাপাশি বন্ধুত্বের বার্তা দেবে ভারতের খাবার, জেনে নিন মেনু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে শুরু হয়ে গিয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit 2026), ২০২৬। চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেই উপলক্ষে রাজধানীর তাজমহল হোটেলে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের খাদ্যঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের ঘরের স্বাদও ফিরিয়ে দেওয়ার বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে (India Friendship Menu)।

    এই বিশেষ খাদ্যপরিকল্পনার নেতৃত্বে রয়েছেন হোটেলটির প্রধান রন্ধনশিল্পী কৌশিক মিশ্র। কয়েক মাস ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর তৈরি হয়েছে এমন এক মেনু, যেখানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের আঞ্চলিক স্বাদ, পরিচিত ঘরোয়া খাবার এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির খাদ্যাভ্যাস—সব কিছুকে একসূত্রে বাঁধা হয়েছে।

    কৌশিকের কাছে এই আয়োজন শুধুমাত্র বিপুল সংখ্যক পদ সাজিয়ে পরিবেশন করার বিষয় নয়। তাঁর লক্ষ্য, খাবারকে বন্ধুত্বের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা। এর মাধ্যমে বিদেশি অতিথিদের ভারতীয় মশলা, ভেষজ উপাদান, ফুল, আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও ঘরোয়া রান্নার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব খাদ্যপছন্দকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’ (BRICS Summit 2026)

    কৌশিক বলেন, “এই ঐতিহ্য ৪৮ বছর ধরে চলে আসছে। আমাদের কাছে আসা এবং আসতে চলা অতিথিদের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্যভাবনা তৈরি করেছি। আমাদের দেশের নিজস্ব নানা স্বাদ—মশলা, ভেষজ উপাদান এবং ফুলকে মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রতিনিধিরা নিজেদের বাড়িতে যে ধরনের পরিচিত ও স্বস্তিদায়ক খাবার খান, তার সঙ্গে ভারতীয় স্বাদের সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা ঘরে বসে খাবারের জন্য ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’ তৈরি করেছি। এতে দিল্লি এবং গোটা ভারতের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী পদ রয়েছে। নল্লি নিহারি, বাদাম দিয়ে গোলমরিচের ঝাল ভাজা-সহ আরও বেশ কিছু পদ রাখা হয়েছে।”

    বিদেশি প্রতিনিধিদের পছন্দ ও তাঁদের দেশের খাদ্যসংস্কৃতিকেও এই আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত পদ্মফুল, অর্কিড-সহ নানা ফুল ও উপাদান থেকেও নেওয়া হয়েছে ভাবনা। সেই অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে বিশেষ ধরনের মিষ্টি, প্রালিন এবং নোনতা খাবার।

    কৌশিক বলেন, “এই উপাদানগুলিকে মাথায় রেখেই প্রালিন, মিষ্টি এবং নোনতা খাবারের সুন্দর নকশা তৈরি করা হয়েছে। আমরা ভারতের একটি মানচিত্রও তৈরি করেছি, যেখানে দেশের বিভিন্ন রাজধানী ও রাজ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব বিশেষ খাবার রয়েছে—যেমন বিভিন্ন ধরনের নোনতা পদ ও কাজুবাদামের মিষ্টি। এর মাধ্যমে প্রতিনিধিদের ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কী ধরনের খাবার পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।”

    এই আয়োজনের সঙ্গে একটি ব্যাখ্যামূলক নথিও রাখা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি খাবার ও উপাদান কেন বেছে নেওয়া হয়েছে এবং সম্মেলনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়েই ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি সম্পর্কে বিদেশি অতিথিদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

    এই সম্পূর্ণ আয়োজনের জন্য তিন থেকে ছ’মাস ধরে গবেষণা করেছে হোটেলের দল। প্রতিনিধিদের পছন্দ-অপছন্দ, তাঁদের পরিচিত খাবার এবং খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর চূড়ান্ত মেনু তৈরি করা হয়েছে।

    কৌশিক বলেন, “প্রতিটি প্রতিনিধির পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে আমরা অনেক গবেষণা করেছি, যাতে তাঁরা খাবার উপভোগ করতে পারেন। আমাদের টিম প্রচুর পরিশ্রম করেছে। ভারতীয় এবং তাঁদের নিজস্ব স্বাদের সমন্বয়ে এমন একটি বিস্তৃত আয়োজন করা হয়েছে, যাতে এখানে এসে তাঁরা দু’দেশের স্বাদই অনুভব করতে পারেন। আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত এবং আত্মবিশ্বাসী যে এই আয়োজন তাঁদের মনে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।”

    প্রধান রন্ধনশিল্পীর বাছাই

    শুধু খাবার পরিবেশন করেই থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে একটি বিশেষ রান্নার বই। তাতে প্রধান রন্ধনশিল্পীর বাছাই করা বিভিন্ন রান্নার প্রণালী রয়েছে। এর ফলে সম্মেলন শেষ হওয়ার পরেও ভারতীয় খাবারের স্বাদ ও স্মৃতি তাঁদের সঙ্গে দেশে ফিরে যাবে।

    ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’তে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় পদ রাখা হয়েছে। নল্লি নিহারি এবং বাদাম দিয়ে গোলমরিচের ঝাল ভাজার মতো পদ যেমন থাকছে, তেমনই থাকছে নানা ধরনের আঞ্চলিক খাবার।

    খাবার পরিবেশনেও ভারতীয় সংস্কৃতির ছাপ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পদ্মফুল, অর্কিড এবং অন্যান্য ফুল ও উপাদানের অনুপ্রেরণায় তৈরি করা হয়েছে নানা ধরনের মিষ্টি ও নোনতা খাবার। ফলে খাবার শুধু স্বাদের বিষয় থাকছে না, তার উপস্থাপনাও হয়ে উঠছে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।

    এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ভারতের বিশেষ খাদ্যমানচিত্র। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও রাজধানীকে কেন্দ্র করে তৈরি এই মানচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের ভৌগোলিক ও খাদ্যবৈচিত্র্য। দেশের একেক অঞ্চলের নিজস্ব খাবারের ঐতিহ্যকে ছোট ছোট বিশেষ পদ বা নোনতা খাবারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রধান রন্ধনশিল্পীর কথায়, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়ন করা নয়, তাঁদের ভারতের খাদ্যসংস্কৃতি সম্পর্কে জানানোও। খাবারের সঙ্গে দেওয়া ব্যাখ্যামূলক নথিতে প্রতিটি উপাদান ও রান্নার পেছনের ভাবনা এবং তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Summit 2026)।

    ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা

    এবারের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা, “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। উন্নয়ন, স্থায়িত্ব ও উদ্ভাবন সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।

    উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ তুলে ধরার ক্ষেত্রে ব্রিকস বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই জোটে আলোচনা হয়।

    ব্রিকসের সদস্য দেশ

    বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশ ১১টি—ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সম্মিলিতভাবে এই দেশগুলির হাতে রয়েছে বিশ্বের প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন এবং ২৬ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য।

    এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আবহে নয়াদিল্লির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হোটেলের রান্নাঘরও যেন কূটনীতির একটি নরম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। খাবারের মাধ্যমে ভারতের পরিচয়কে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের স্বাদ ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতিও সম্মান দেখানো হচ্ছে।

    ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ খাবারের সঙ্গে বিদেশি অতিথিদের পরিচিত স্বাদের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এমন এক অভিজ্ঞতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে নতুনত্বের পাশাপাশি থাকবে পরিচিতির স্বস্তিও (India Friendship Menu)।

    আর এই পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন সংযোজন সম্ভবত সেই রান্নার বই। কৌশিকের বক্তব্য, বইটিতে তাঁদের মায়েদের রান্নার প্রণালীও রয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি উপহার নয়, সম্মেলন শেষে প্রতিনিধিদের সঙ্গে (BRICS Summit 2026) দেশে ফিরে যাওয়া এক টুকরো স্মৃতিও।

     

  • BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার থেকে ভারতে শুরু হতে চলেছে দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একের পর এক আঞ্চলিক সংকটের আবহে এবারের সম্মেলনে সমষ্টিগত স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর (Food Energy Resilience) উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে ভারত। খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল—এই ক্ষেত্রগুলিতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করাই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    বিশ্ব অর্থনীতির নয়া চাপ (BRICS Summit)

    নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলন এমন একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত এখনও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরোধ, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসকে একটি কার্যকর সমন্বয়কারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই ভারতের এবারের সভাপতিত্বে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিত থাকার কথা। ফলে এবারের বৈঠককে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    যৌথ ঘোষণাপত্র

    তবে সম্মেলনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি কি যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে? পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে মতপার্থক্য এখনও রয়েছে। ফলে সম্মেলনের শেষে সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    ব্রিকসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সাধারণত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোট ২০২৪ সালে সম্প্রসারিত হয়। সেই সময় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়।

    গত বছর বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনামকে অংশীদার দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে গঠিত এই জোটের আন্তর্জাতিক প্রভাব আরও বেড়েছে।

    বর্তমানে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশে মিলিয়ে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ বসবাস করে। বিশ্ব মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এই গোষ্ঠী। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্রিকসের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি

    ভারতের এবারের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি চারটি—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। এই চারটি স্তম্ভকে সামনে রেখেই সারা বছর ধরে একাধিক বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। ভারতের মূল ভাবনা হল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এমন একটি জনকেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যার ভিত্তি হবে “মানবতা সর্বাগ্রে”—এই ধারণা (Food Energy Resilience)।

    ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থিতিস্থাপকতার স্তম্ভের অধীনে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলিও আলোচনা করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থ এবং উদ্বেগের জায়গাগুলি নিয়েও রাষ্ট্রনেতারা মতবিনিময় করবেন।

    ব্রিকসের লক্ষ্য

    ভারতের সভাপতিত্বে চলতি বছরে দেশের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টির বেশি বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। এই অংশীদারিত্বের তিনটি মূল স্তম্ভ হল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (BRICS Summit)।

    ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভারত এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত চতুর্থবারের জন্য ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

    বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলনের সূচনা হবে সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে। বৈঠকের বিষয় “অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব পরিচালনব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিকতার শক্তিশালীকরণ”। এরপর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রনেতারা “ভারত উদ্ভাবন প্রদর্শনী” পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপমের প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে হবে আনুষ্ঠানিক আলোকচিত্র গ্রহণ এবং তার পর যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

    শনিবারের কর্মসূচির শেষ পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে (BRICS Summit)।

    রবিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে ব্রিকসের সদস্য দেশ, অংশীদার দেশ এবং আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে হবে আনুষ্ঠানিক দলগত আলোকচিত্র গ্রহণ। এরপর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে মূল উন্মুক্ত অধিবেশন (BRICS Summit)। এর বিষয় “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যৎ নির্মাণ” (Food Energy Resilience)।

    শেষ পর্বের কর্মসূচি

    দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের শেষ পর্বে প্রকাশ করা হবে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র। তবে তার আগে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য কতটা তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের। বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, বাণিজ্যিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তখন ব্রিকস সেই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এবারের সম্মেলনেই তার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশ পাওয়া যেতে পারে (BRICS Summit) বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Jaishankar-Zelensky Meet: ‘১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা উপেক্ষা করা যায় না’ রুশ তেল কেনা নিয়ে জেলেনস্কিকে জবাব জয়শঙ্করের

    Jaishankar-Zelensky Meet: ‘১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা উপেক্ষা করা যায় না’ রুশ তেল কেনা নিয়ে জেলেনস্কিকে জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগের জবাব দিল নয়াদিল্লি। ইউক্রেন সফরে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar-Zelensky Meet) স্পষ্ট করে জানালেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি কোনওভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহার (Andrii Sybiha) সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে মূলত যুদ্ধের অবসান, শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এবং ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine War) অবসান ঘটাতে ভারত সব ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত।

    রুশ তেল কেনে ভারত, ব্যাখ্যা জয়শঙ্করের

    রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের সামনে রয়েছে বিপুল জ্বালানি চাহিদা। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন গোটা বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন।’’ ইউক্রেনের অবস্থান ভারত বুঝতে পারছে বলেও জানান বিদেশমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে ভারতের নিজস্ব স্বার্থ ও উদ্বেগগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।

    ‘তেল কেনা বন্ধ করলেই যুদ্ধ শেষ হবে না’

    জয়শঙ্করের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে যুদ্ধের সমাধানের সঙ্গে এক করে দেখতে নারাজ নয়াদিল্লি। তাঁর কথায়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসান শুধুমাত্র কেউ তেল, অ্যালুমিনা, খনিজ, ধাতু বা সার কিনছে কি না—তার উপর নির্ভর করবে না। বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই সংঘাত ইতিমধ্যেই পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। তাই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাধান হবে—এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।’’রুশ তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের আপত্তির মধ্যেই জয়শঙ্করের এই বক্তব্য ফের স্পষ্ট করে দিল—রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান স্বাধীন এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই নয়াদিল্লি তার বিদেশনীতি পরিচালনা করবে।

    আলোচনাই সমাধানের পথ, বার্তা ভারতের

    ভারতের (India Ukraine Relation) দীর্ঘদিনের অবস্থান ফের তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনা, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘এই সংঘাতের সমাধান হবে আলোচনা, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই। আর সেই কারণেই আমরা এই পথকে উৎসাহিত করতে চাই।’’ অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনাকেই ভারত সমাধানের প্রধান পথ হিসেবে দেখছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যেদিন আলোচনার আশা জাগালেন, ঠিক সেই দিনেই দিল্লির এই অবস্থান বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

    যুদ্ধ নয়, শান্তিই একমাত্র নীতি ভারতের

    বৈঠক শেষে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত শুরু থেকেই বলে আসছে যে এটি যুদ্ধের যুগ নয় এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে স্থায়ী কোনও সমাধান বেরিয়ে আসবে না।” সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে বিশকেকে পুতিনের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “সংঘাতের প্রতিটি দিন মানেই আরও মানুষের মৃত্যু এবং বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ। স্বাভাবিকভাবেই, সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষকেই নিজেদের মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে; তবে সেই প্রক্রিয়ায় ভারত যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারে, আমরা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান করার বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্রুত ওই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার পক্ষেও সওয়াল করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আর, বৃহস্পতিবারই প্রায় সাড়ে ৫ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের সঙ্গে চলা যুদ্ধের অবসানের জন্য শান্তি চুক্তির সম্ভবনা আছে বলেও জানিয়েছেন পুতিন।

    ভারতকে ধন্যবাদ জেলেনস্কির

    এদিকে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারতের প্রতিশ্রুতির জন্য ইউক্রেন কৃতজ্ঞ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটি যুদ্ধের সময় নয়। শান্তি প্রয়োজন। এটাই ভারতের স্পষ্ট অবস্থান।’’ একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত থামিয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে অন্য দেশগুলিও ভারতের মতো এমন স্পষ্ট ও গঠনমূলক ভূমিকা গ্রহণ করবে। তবে জয়শঙ্করের কিয়েভ সফরের সময় রাশিয়ার হামলা নিয়েও দাবি করেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় প্রতিনিধিদল কিয়েভে থাকাকালীন রাশিয়া জেট-চালিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। যদিও ইউক্রেনের দাবি, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোনকে আটকে দেয় এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদল নিরাপদেই ছিল।

    ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সহায়তা

    যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা ওষুধ, খাদ্য, কৃষি, সার, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছেন। কূটনীতি ও ব্যবসার এই মেলবন্ধন প্রমাণ করে যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ইউক্রেনের সাথে ভারতের সামগ্রিক যোগাযোগের সমীকরণ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

  • Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিজের দেশে ফিরতে চান। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া প্রথম টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তে নয়, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই দেশে ফিরতে চান। ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনের পর তাঁর সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই হাসিনা ভারতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দেশে ফেরার ইচ্ছা, বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন।

    হাসিনার সাফ কথা (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও কারণ নেই। তাঁর কথায়, “আমি আমার নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি। তিনি কেন এতে আপত্তি করছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। তারা প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বলছে। আমি নিজের ইচ্ছায় নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই। আমি ফিরে যাব। আমি কি সারা জীবন বিদেশে থাকতে পারি? আমাকে আমার দেশে, আমার নিজের মানুষের কাছে ফিরতেই হবে।”

    হাসিনার উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নয়াদিল্লি থেকে ৫ অগাস্ট তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় বাংলাদেশ ও ভারত তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রভাবিত করেছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

    এমনকি তারেকের ভারত সফরের সঙ্গে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকেও শর্ত হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল। ভারত ইতিমধ্যেই তারেককে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ যোগাযোগমূলক অধিবেশনেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এই দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে ঢাকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

    বিএনপি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

    হাসিনা অবশ্য বিএনপি সরকারের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিএনপি সরকার ভারতে বসে তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের বিরোধিতা করলেও অতীতে তারেক নিজেই লন্ডনে থাকাকালীন বিএনপির বিভিন্ন ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে বসবাসের সময় রাজনীতিতে অংশ নেবেন না বলে অঙ্গীকার করার পরেও, তারেক বিএনপির ভার্চুয়াল রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে তাঁর মতে, বর্তমান অবস্থান এবং অতীতের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, সত্য কথা বলার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট হয় না। বরং গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থান ঘটলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাজে ব্যবহার করা হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি হয় (Sheikh Hasina)।

    সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ

    হাসিনা বলেন, “সত্যের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থানের সুযোগ দেওয়া হলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীন বোধ করলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহার করা হলে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

    বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, দেশে যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির চাপে রয়েছেন, তখন বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক (Tarique Rahman)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য প্রায় ২৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এই সময়েই দেশের জ্বালানি সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এনে হাসিনা সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

    যুদ্ধবিমান কেনায় প্রশ্ন

    তিনি বলেন, “এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য এত অর্থ ব্যয়ের এই সিদ্ধান্ত কেন? সেটাই আমার প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্ন আপনারা বিএনপি সরকারকেও করুন।”

    বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসিনা। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে “আর একটি পাকিস্তানে” পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে (Sheikh Hasina)।

    হাসিনা আরও বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নজরদারি ব্যবস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। স্থানীয় তদন্তেও একই ধরনের বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে (Sheikh Hasina)।”

    হাসিনার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তাঁর দেশে ফেরা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তারেকের সম্ভাব্য ভারত সফর—এই তিনটি বিষয়ই আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থানও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    তবে হাসিনার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি তাঁর দেশে ফেরার প্রশ্নটিকে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা অন্য কোনও নেতার বিদেশ সফরের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন না। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত এবং সেই কারণেই তিনি ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন (Tarique Rahman)।

    হাসিনার বার্তা

    এদিকে, তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গণতন্ত্র, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, উগ্রপন্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার—এই সব প্রশ্নকে সামনে রেখে হাসিনা বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর বক্তব্যে একটি বার্তা রয়েছে। সেটি হল, দুই দেশের সম্পর্কের স্থায়িত্ব কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে না, বরং গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং পারস্পরিক আস্থার মতো বিষয়গুলিও তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত (Sheikh Hasina)।

     

  • Pak High Commission Delhi: ইসলামাবাদকে পাল্টা! দিল্লিতে পাক হাইকমিশনের বাইরে বুলডোজার, ভাঙা হল অনুমোদিত সীমানার বাইরের কাঠামো

    Pak High Commission Delhi: ইসলামাবাদকে পাল্টা! দিল্লিতে পাক হাইকমিশনের বাইরে বুলডোজার, ভাঙা হল অনুমোদিত সীমানার বাইরের কাঠামো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাল্টা পদক্ষেপের পথে হাঁটল নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের (Indian High Commission) বাইরে ব্যারিকেড সরানোর তিন দিনের মধ্যেই দিল্লিতে পাকিস্তানি (Pak High Commission Delhi) ভিসা বিভাগের বাইরের কাঠামোও ভাঙা হল। দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের (India Pakistan) অনুমোদিত সীমানার বাইরে তৈরি একাধিক কাঠামো ও ব্যারিকেড বৃহস্পতিবার ভেঙে সরিয়ে দিল প্রশাসন। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ওই কাঠামোগুলি হাইকমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে ছিল। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলি জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে হাইকমিশনের বাইরের রাস্তার ধারে তৈরি কাঠামো ও ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। ভিসা বিভাগের সামনে দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি কিউ-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাও এই অভিযানের আওতায় পড়ে।

    কূটনৈতিক প্রত্যাঘাত!

    দিল্লির কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পাকিস্তান হাইকমিশনের (Pakistan High Commission) বাইরে প্রশাসনের পদক্ষেপ ঘিরে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিল্লির চাণক্যপুরীতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা বেশ কিছু কাঠামো এবং ব্যারিকেড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, ওই নির্মাণ এবং ব্যারিকেডগুলির একটি অংশ পাকিস্তান হাইকমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে তৈরি করা হয়েছিল। সেই কারণেই সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই পদক্ষেপের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের আবহও জড়িয়ে রয়েছে। কারণ, মাত্র তিন দিন আগেই ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা ব্যারিকেড এবং পার্কিং পোল সরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। তার পরেই দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে একই ধরনের পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কোন কোন জায়গা ভাঙা হল

    বৃহস্পতিবার প্রশাসনের তরফে বুলডোজার ব্যবহার করে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের লেন বরাবর তৈরি করা বেশ কিছু কাঠামো ও ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই কাঠামোর মধ্যে পাকিস্তানি হাইকমিশনের ভিসা বিভাগের কাছে থাকা কিউ ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাও ছিল। ফলে হাইকমিশনের ভিসা সংক্রান্ত পরিষেবা নেওয়ার জন্য যে অংশে সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করতেন, সেই জায়গাতেও ভাঙার কাজ চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের পাকা জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা ধাতব রেলিং, গেট, ধাতব কাঠামোর বিভিন্ন অংশ, ছাদের শিট, ইট এবং কংক্রিট ও প্লাস্টারের টুকরো। বাইরের কাঠামোর বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা হয়েছে করুগেটেড বা ঢেউখেলানো ছাদ এবং সাদা ধাতব বেড়ার একাংশও। এর ফলে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা পরিধির একটি বড় অংশও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে থাকা ট্র্যাফিক বোলার্ড, ধাতব ব্যারিকেড এবং অন্যান্য অস্থায়ী কাঠামোও তুলে ফেলা হয়। এতদিন এগুলিই কার্যত হাইকমিশন চত্বরকে বাইরের রাস্তা থেকে আলাদা করে রেখেছিল।

    মূল গেটে কিছুই করা হয়নি

    ভিসা বিভাগের বাইরের অংশেও ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যায়। পরিষেবা দেওয়ার জানালাগুলির আশপাশের ফ্যাসাডের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও প্লাস্টার খসে পড়েছে, কোথাও আবার ইট ও গাঁথনির অংশ ভেঙে রয়েছে। ভিসা বিভাগের কাউন্টারগুলি অবশ্য এখনও দেখা যাচ্ছে। সেই কাউন্টারগুলির চারপাশেও ভাঙা বেড়া এবং নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল প্রবেশপথে কোনও বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়নি। সাদা দেওয়াল, গম্বুজের মতো নকশা এবং পাকিস্তানের প্রতীক-চিহ্ন লাগানো বড় ধাতব গেট-সহ প্রধান প্রবেশপথটি অক্ষত রয়েছে। হাইকমিশনের চৌহদ্দির কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়াও দেখা গিয়েছে।

    ‘টিট-ফর-ট্যাট’ নীতি

    এই পদক্ষেপের সময়কালও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র তিন দিন আগে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা ব্যারিকেড সরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বলে খবর। তার পরেই দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের কাঠামো সরানোর ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে ‘টিট-ফর-ট্যাট’ কূটনৈতিক পদক্ষেপের জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সীমান্তের ওপার থেকে সমানে ভারত-বিরোধী কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার জন্য ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি বাতিল করে। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বারবার কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে দুই দেশ।

    কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে আপত্তি

    এরই মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূ সার্জিও গোরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান বুধবার আমেরিকার কাছে আপত্তি জানিয়েছে। শ্রীনগর সফরের সময় গোর জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও প্রশংসা করেন তিনি। গোরের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ইসলামাবাদে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়। পাকিস্তান গোরের এই মন্তব্যকে “তথ্যগতভাবে ভুল” এবং কাশ্মীর বিরোধ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পরিপন্থী বলে অভিহিত করে। ইসলামাবাদের দাবি, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য করা হয়েছে। পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও ওই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের চাহিদা অনুযায়ী নিষ্পত্তি হওয়ার অপেক্ষায়। আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে আমেরিকার ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে গোরের মন্তব্যের মিল নেই। যদিও দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে কাঠামো ভাঙার সঙ্গে পাকিস্তানের ওই প্রতিক্রিয়ার সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লির পদক্ষেপের মূল কারণ ছিল অনুমোদিত সীমানার বাইরে নির্মিত কাঠামো এবং ব্যারিকেড তৈরি।

  • India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে তৎপরতা দেখা দিয়েছে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে (India Bangladesh Talks)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের মধ্যে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে হবে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই হল এই বৈঠক। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নয়াদিল্লিতে। সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত ব্রিকসের সব সদস্য রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে বলেই আশা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তঃসরকারি সংগঠনে বর্তমানে ১১টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে অস্বস্তি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

    ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেকের বৈঠক (India Bangladesh Talks)

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের সময় ভারতীয় হাইকমিশনারকে দেখা যায় তারেককে একটি শাল উপহার দিতে। প্রধানমন্ত্রী তারেক হাসিমুখে সেই উপহার গ্রহণ করেন। এর এক দিন আগে, রবিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাকে অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমাতেও এই বৈঠকের ভূমিকা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, আলোচনায় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও খবর। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ কিংবা ভারত—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা

    তারেকের সঙ্গে বৈঠকের আগে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এর মধ্যেই শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ দাবির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হলেও নয়াদিল্লির অবস্থানে এখনও বড় কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেই কূটনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে অতিথি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়েই রয়ে গিয়েছে। এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেককে দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক সফরে স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লি আগ্রহী। অর্থাৎ শুধু ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেকের পৃথক রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়েও ভারত আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে (Tarique Rahman)।তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেকের নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

    শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে অস্বস্তি

    বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে। গত বুধবার বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ (India Bangladesh Talks)। হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকলেও, পিছিয়ে যাবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে দিতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। তবে আমি আমার জনগণের সঙ্গে থাকার জন্য দেশে ফিরে যাব।” হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিকে আগে থেকেই ওই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তারপরেও অনুষ্ঠানটি হওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, হাসিনার ওই বক্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে সতর্ক করা হয়েছিল। ফলে বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তির জন্ম দেয়।

    ভারতকে ‘মহান বন্ধু’ আখ্যা হাসিনার

    তবে একই বক্তব্যে শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। তিনি ভারতকে বাংলাদেশের “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সংকটের সময় ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের দেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন হাসিনা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলি নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর দাবি, দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল করা নয়। বরং বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য (India Bangladesh Talks)। হাসিনার এই বক্তব্যের পর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠককে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কূটনৈতিক (Tarique Rahman) পর্যবেক্ষকেরা।

    সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা কি মিলছে?

    পরপর দু’দিনে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং হাসিনাকে ঘিরে বিরোধ—এই দু’টি বিষয়ই এখন ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে (India Bangladesh Talks) করা হচ্ছে। আবার তিনি সম্মেলনে না গেলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অস্বস্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। কারণ, ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকার তরফে এখনও কোনও ঘোষণা করা আসেনি। আবার, ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে হাসিনা এবং তারেকের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তারও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে (Tarique Rahman) কূটনৈতিক যোগাযোগ কোন দিকে এগোয় এবং ব্রিকস সম্মেলনে তারেক যোগ দেন কি না, এখন সেটাই দেখার (India Bangladesh Talks)।

     

  • Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’বছর পরে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফেরার কথা ঘোষণা করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বুধবার এক প্রকাশ্য ভাষণে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান তিনি। ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরে ঢাকা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে বলে কবুল করেছেন হাসিনা। তবে কোনও ভয়ই তাঁকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলেও দৃঢ়ভাবে জানান তিনি।

    ‘হত্যাও করা হতে পারে’ (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, “আমাকে জেলে পাঠানো হতে পারে, এমনকি হত্যাও করা হতে পারে। কিন্তু মানুষের প্রতি আমার কর্তব্য কী হবে, তা ভয় দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি এবং ছ’বছর নির্বাসনে কাটিয়েছি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।” দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসিনা জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ফের প্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, শান্তি ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘আমি ফিরতে চাই’

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ফিরতে চাই, কারণ বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং শান্তির অধিকারী। তারা এমন একটি রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকারী, যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন তারা দেখেছিল এবং এমন একটি অর্থনীতি পাওয়ার অধিকারী, যা তাদের সামনে সুযোগ তৈরি করবে। আমার ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়, বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সাহায্য করতে ফিরতে চাই। সমস্ত ক্ষমতার উৎস হল জনগণ।” দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও, দেশের মানুষের সঙ্গে তাঁর কখনও বিচ্ছেদ ঘটেনি বলেও দাবি করেন হাসিনা। বলেন, “গত দু’বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে দেখেছি… এ সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এ সেই বাংলাদেশও নয়, যার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।”

    ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না

    ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন নিয়ে হাসিনা জানান, তাঁর সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া সেই (Bangladesh) আন্দোলন কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, ছাত্রদের সামনে রেখে হিংসা ও সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল। হাসিনা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের সত্যটা আমি আপনাদের জানাতে চাই। এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র প্রতিবাদও ছিল না।” আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের জীবন এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব (Sheikh Hasina)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, “যখন পুলিশ ও সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয় এবং সেগুলি লুট করা হয়, তখন মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার কি রাষ্ট্রের কোনও দায়িত্ব নেই?” হাসিনা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই হিংসার ঘটনার তদন্ত এবং প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য তিনি একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা।”

    ভারতকে ‘চিরকালের বন্ধু’ বললেন হাসিনা

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কথাও উঠে আসে হাসিনার বক্তব্যে। প্রতিবেশী দেশ ভারতকে তিনি “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে ভারত সরকার অবগত কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “তিনি দেশে ফিরতে চান—এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। তাই ভারতের সকলেই এ বিষয়ে জানবেন।” গত দু’বছর ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে জয় বলেন, তাঁকে একজন সরকারপ্রধানকে যে মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়, সেই মর্যাদা ও নিরাপত্তাই দেওয়া হয়েছে (Sheikh Hasina)। তিনি বলেন, “ভারত তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মর্যাদা দিচ্ছে এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করছে। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের মতো পূর্ণ নিরাপত্তায় এখানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছে (Bangladesh)।”

    বাংলাদেশের ক্ষোভ

    হাসিনার এই বক্তব্যের পর দিল্লিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে হাসিনাকে “পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী” বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, তাঁকে দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে “বিষোদ্গার” করেছেন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি প্রকাশ্যে আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে (Sheikh Hasina)।

    ভারতের বক্তব্য

    তবে মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের যে যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনারা যে যোগাযোগের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এর সঙ্গে সরকারের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই (Bangladesh)। ওই মঞ্চে যে মতামত প্রকাশ করা হবে, সরকার তার (Sheikh Hasina) কোনওটিই সমর্থনও করে না।”

     

  • Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ছ’বছর পরে ভারতে আসতে পারেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে আসতে পারেন তিনি। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা। সফর চূড়ান্ত হলে ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর এটাই হবে জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ওই সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছিল।

    জিনপিংয়ের ভারত সফর (Xi Jinping)

    ২০১৩ সাল থেকে চিনের প্রেসিডেন্টে পদে রয়েছেন জিনপিং। এর আগে তিনবার ভারত সফরে এসেছেন তিনি। তাঁর শেষ ভারত সফর হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এর কয়েক মাস পরেই এলওসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আনে। জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চিন সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেখানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর বৈঠকও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে। এরপর সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ

    বিশেষ প্রতিনিধিদের আসন্ন বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর কাঠামোর অধীনে নতুন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী এবং একটি কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে ভারত ও চিন সম্মত হওয়ার পর এই প্রথম বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে চলেছে। এই আলোচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি ও কূটনৈতিক স্তরে অগ্রগতি ঘটানোর পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের গতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষই যৌথভাবে কাজ করছে। এলওসি বরাবর অমীমাংসিত সমস্যাগুলির সমাধানের পাশাপাশি কৌশলগত আস্থা পুনর্গঠন, নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা এড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোই এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য।

    গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম

    জিনপিংয়ের সফর চূড়ান্ত হলে ব্রিকস সম্মেলনের বাইরেও এর তাৎপর্য থাকবে। প্রায় ছ’বছর পর ভারতে তাঁর উপস্থিতি এবং গলওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম সফর হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়বে। সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের (Xi Jinping) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে তামাম বিশ্বের। সম্ভাব্য বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর বেড়ে চলা অস্থিরতার মধ্যে ভারত ও চিন উভয়কেই নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে (BRICS Summit)। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লি বা বেজিং (Xi Jinping)—কোনও পক্ষেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে সরকারিভাবে ঘোষণা করার সময় পর্যন্ত।

     

LinkedIn
Share