Tag: news in bengali

news in bengali

  • Cabinet Approves DA: সুখবর দিল কেন্দ্র, সরকারি কর্মচারীদের ফের ২ শতাংশ ডিএ বাড়ছে

    Cabinet Approves DA: সুখবর দিল কেন্দ্র, সরকারি কর্মচারীদের ফের ২ শতাংশ ডিএ বাড়ছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ২ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর অনুমোদন দিল কেন্দ্র (Cabinet Approves DA)। মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর (Central Govt Employees)।

    ডিএ মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত (Cabinet Approves DA)

    ডিএ মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বছরে দু’বার—সাধারণত জানুয়ারি ও জুলাই মাসে—সংশোধন করা হয়। এটি শিল্প শ্রমিকদের জন্য ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই-আইডব্লিউ) অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, যা শ্রমমন্ত্রকের অধীন লেবার ব্যুরো প্রতি মাসে প্রকাশ করে। তবে এবার ঘোষণায় খানিক দেরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও শ্রমিকদের কনফেডারেশন (সিসিজিইডব্লিউ) উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয় এবং অক্টোবরের শুরুতে বকেয়া অর্থ দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন না করায় বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিলটির পক্ষে না দাঁড়িয়ে বিরোধীরা বড় ভুল করেছে। এজন্য ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে।”

    দেশের মহিলাদের পরাজিত করেছে

    প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “বিরোধীদের এই অবস্থান মহিলাদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতার প্রতিফলন এবং এই বার্তা দেশের প্রতিটি গ্রামে পৌঁছনো উচিত।” তিনি বলেন, “বিলের বিরোধিতা করার পর এখন বিরোধী দলগুলি নিজেদের অবস্থানকে সমর্থন করার চেষ্টা করছে এবং কার্যত তারা দেশের মহিলাদের পরাজিত করেছে (Cabinet Approves DA)।” এছাড়াও, মন্ত্রিসভা ১৩,০০০ কোটি টাকার একটি সার্বভৌম সামুদ্রিক তহবিল গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। এই তহবিলের লক্ষ্য ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ভারতগামী ও ভারত থেকে চলাচলকারী জাহাজগুলির জন্য স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী বীমার সুবিধা দেওয়া (Cabinet Approves DA)। মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই)-এর মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত (Central Govt Employees) বাড়ানোর অনুমোদনও দিয়েছে, বরাদ্দ করেছে অতিরিক্ত ৩,০০০ কোটি টাকা।

  • Russian LNG Cargo: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মাঝেই রাশিয়া থেকে ভারতের উদ্দেশে পাড়ি দিল এলএনজি ভর্তি ট্যাঙ্কার

    Russian LNG Cargo: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মাঝেই রাশিয়া থেকে ভারতের উদ্দেশে পাড়ি দিল এলএনজি ভর্তি ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির পথে এগোচ্ছে ভারত। এলএসইজি (LSEG) শিপিং ডেটা অনুযায়ী, রাশিয়ার পোর্টোভায়া প্ল্যান্ট থেকে একটি এলএনজি কার্গো ইতিমধ্যেই ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই প্ল্যান্টটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। যদি এই কার্গো সফলভাবে ভারতে পৌঁছায়, তবে এটি হবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম রুশ এলএনজি সরবরাহ।

    ভারতের পশ্চিম উপকূলের দিকে ‘কুনপেং’

    ‘কুনপেং’ নামের একটি এলএনজি ট্যাঙ্কার,বর্তমানে ভারতের পশ্চিম উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। এই ট্যাঙ্কারের ধারণক্ষমতা ১,৩৮,২০০ কিউবিক মিটার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডেলিভারি সফল হলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রুশ এলএনজি-র জন্য নতুন বাজার খুলে যাবে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা বন্ধ করবে। তবে ভারত সরকার কখনও এই ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। বরং তাদের অবস্থান স্পষ্ট—জ্বালানি কেনা হবে মূল্য, সরবরাহের নিরাপত্তা এবং দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতও এই পরিস্থিতিতে চাপে রয়েছে।

    ভারতের কৌশলগত পদক্ষেপ

    রাশিয়ার পোর্টোভায়া এলএনজি প্ল্যান্টটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চালু হয়। এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১.৫ মিলিয়ন টন। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় এই প্ল্যান্ট থেকে রফতানি ব্যাহত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চিনে এলএনজি সরবরাহ করেছে রাশিয়া। এবার ভারতে এলএনজি পাঠাল রাশিয়া। ভারত যদি এই সরবরাহ গ্রহণ করে, তবে চিনের পাশাপাশি এটি হবে রাশিয়ার জন্য দ্বিতীয় বড় বাজার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০২৭ সালের আমদানি নিষেধাজ্ঞার আগে বিকল্প বাজার খুঁজছেন। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সম্ভাব্য এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • Strait of Hormuz: আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, শান্তির দিকে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল ভারত

    Strait of Hormuz: আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, শান্তির দিকে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দিল ইরান। বৃহস্পতিবার ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দশদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তারপরই শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। তবে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের ওপর সবরকম নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। শান্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকেই তারা স্বাগত বার্তা নয়াদিল্লির।

    ইরানের ঘোষণা

    শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) বলেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল। যা ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক পূর্ব ঘোষিত পথ ধরেই চালিত হবে।” এর ফলে সব বাণিজ্যিক জাহাজ এখন আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত জানায় তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে মাসাধিক কাল যাবৎ অবরুদ্ধ ছিল হরমুজ প্রণালী। জ্বালানি সংকটে ভুগেছে গোটা পৃথিবী। তবে ‘বন্ধু’ ভারতকে আলাদা ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে তেহরান। এখনও পর্যন্ত ভারতের পতাকাবাহী মোট ৮টি জাহাজ হরমুজ পেরিয়েছে।

    ট্রাম্পের বার্তা

    ইরানের এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সোশ্যাল মিডিয়ায় তেহরানকে ধন্যবাদ জানান। ট্রাম্প তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখে জানান,“ইরান এই মুহূর্তে ঘোষণা করল যে, হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। এবার জাহাজ পারাপার করতে পারবে। ধন্যবাদ।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ আপাতত বহাল থাকবে। ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও ইরানের ক্ষেত্রে মার্কিন নৌ অবরোধ “পূর্ণ শক্তিতে” চালু থাকবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চুক্তি সম্পূর্ণ হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন অবরোধ জারি থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    ট্রাম্পের এই শর্ত শুনেই ক্ষুব্ধ ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ তাঁরা ফের বন্ধ করে দিতে পারেন। কালিবাফ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘মার্কিন অবরোধ চললে হরমুজ প্রণালীও খোলা হবে না।’’ শান্তির আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প একের পর এক ভুয়ো দাবি করে চলেছেন বলেও অভিযোগ করেন কালিবাফ। অন্য দিকে, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলিকে তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং সহযোগিতা করতে হবে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও জানিয়েছে, ‘শত্রু দেশের’ রণতরী বা অন্য কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের জন্য জলপথ বন্ধই রাখা হয়েছে।

    শান্তির পথে সকলকে স্বাগত ভারতের

    যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিশ্বে বারবারই শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছে ভারত। এবারও একই পথে হাঁটল নয়াদিল্লি। শুক্রবার সাপ্তাহিক সংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাই। শান্তির পথে প্রতিটি পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।” হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ইজরায়েলের অনুরোধ এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে ভারতের নীতি সম্পর্কে একটি প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার অধীনেই এই বিষয়গুলো সমাধান করা হয়।” উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের মাঝেই ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি বৈঠকের ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৪ বছর পর হতে চলেছে দু’দেশের ঐতিহাসিক এই বৈঠক। তার আগেই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। যদিও এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত ইজরায়েল বা হেজবোল্লার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বিবৃতি আসেনি।

    জ্বালানি সংকট রুখতে সাহায্য ভারতের

    জ্বালানি সংকট নিয়ে এদিন দিল্লির তরফে বলা হয়, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধ অনুযায়ী তাদের জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও সহায়তা প্রদান করছে। রণধীর বলেন, “আমাদের বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহের অনুরোধ এসেছে। আমরা ইতোমধ্যেই অনেক দেশকে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহ করছি। তবে, এটি আমাদের নিজেদের প্রয়োজন এবং এখানে আমাদের সম্পদের প্রাপ্যতা মাথায় রেখেই করা হচ্ছে।” জয়সওয়াল জানান, “আমরা মার্চ মাসে বাংলাদেশকে ২২,০০০ মেট্রিক টন হাই-স্পিড ডিজেল সরবরাহ করেছি। শ্রীলঙ্কার বিষয়ে বলতে গেলে, আমরা গত মাসে তাদের কাছে ৩৮,০০০ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম পণ্য পাঠিয়েছি। এক সপ্তাহ আগে আমাদের বিদেশমন্ত্রী মরিশাস সফর করেছেন। সে সময় এই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা বর্তমানে মরিশাসের জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি, তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সরকারি-পর্যায়ের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি।” বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং নেপালের মধ্যে। এই চুক্তিগুলোর অধীনে নেপালকে পেট্রোলিয়াম পণ্য তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “প্রতিবেশী প্রথম নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে একইভাবে, ভুটানের সঙ্গেও আমাদের একটি বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। আমরা তাদের জ্বালানি পণ্যও সরবরাহ করছি।”

  • West Bengal Malaria Threat: চলতি বছর রাজ্যে বাড়তে পারে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলাগুলি

    West Bengal Malaria Threat: চলতি বছর রাজ্যে বাড়তে পারে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলাগুলি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমে নাজেহাল বঙ্গবাসী। কিন্তু এর মধ্যেও ম্যালেরিয়ার চোখরাঙানি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চলতি বছরে বাড়তে পারে বিপদ। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি। মশাবাহিত রোগের দাপটে প্রত্যেক বছরেই রাজ্যবাসীর ভোগান্তি বাড়ে। চলতি বছরে ম্যালেরিয়া (West Bengal Malaria Threat) নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্যের কয়েকটি জেলার গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলতি বছরে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি (Health Alert West Bengal)।

    কোন কোন জেলায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের একাধিক জেলায় চলতি বছরে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, জঙ্গলমহল এলাকা অর্থাৎ— ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুরের কিছুটা অংশে বাড়তে পারে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো জেলায় চলতি বছরে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক অধিকর্তা জানাচ্ছেন, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ সালের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এবং চলতি বছরে সংক্রমণের হার দেখেই এই জেলাগুলোর জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ জানাচ্ছেন, ২০২৪-২৪ সালে রাজ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৪-২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি ছিল। চলতি বছরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার অধিকাংশই দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা। তাই চলতি বছরে এই জেলাগুলো নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হচ্ছে। তবে এর পাশপাশি কলকাতা নিয়েও উদ্বিগ্ন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতায় মশাবাহিত রোগের দাপট বেশি। প্রত্যেক বছর কলকাতায় কয়েক হাজার মানুষ ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখজনক। কলকাতা ঘনবসতিপূর্ণ শহর। তাই ম্যালেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

    কেন ম্যালেরিয়া নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ায় নির্দিষ্ট চিকিৎসা রয়েছে। ডেঙ্গির মতো ম্যালেরিয়া তাই প্রকট হতে পারে না। মৃত্যুর ঝুঁকিও কম থাকে। কিন্তু ম্যালেরিয়া সংক্রমণ হলে শরীরে একাধিক রোগের দাপট বাড়ে।‌ যা পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। তাই ম্যালেরিয়া উদ্বেগ বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম ধাপেই ম্যালেরিয়া চিহ্নিত না হলে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া আক্রান্তের শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। জ্বর, বমি, মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গের পাশপাশি শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস এমনকি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফুসফুস, লিভার এবং মস্তিষ্কের কার্যশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ফলে রোগীর প্রাণ সংশয় দেখা দিতে পারে। তাই ম্যালেরিয়া আক্রান্ত কিনা, সেটা প্রথম পর্যায়ে চিহ্নিত করা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    কীভাবে বিপদ রুখবেন?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া রুখতে হলে প্রথমে মশার দাপট কমানো জরুরি। বাড়ি এবং আশপাশের এলাকার পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজরদারি জরুরি। নিকাশি ব্যবস্থাও ঠিক থাকা প্রয়োজন। জমা জলেই মশার বংশবিস্তার হয়। জনসচেতনতার পাশপাশি তাই স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বারবার জ্বর হলে, জ্বরের সঙ্গে বমি, পেট ও মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো দ্রুত রক্ত পরীক্ষা জরুরি। তবেই রোগ চিহ্নিত হবে। রোগ মোকাবিলা সহজ হবে।

  • Ramakrishna 626: “অনেককাল হল দক্ষিণেশ্বরে একটি সন্ন্যাসী দেখেছিলাম, ন হাত লম্বা চুল, সন্ন্যাসীটি ‘রাধে রাধে’ করত, ঢঙ নাই”

    Ramakrishna 626: “অনেককাল হল দক্ষিণেশ্বরে একটি সন্ন্যাসী দেখেছিলাম, ন হাত লম্বা চুল, সন্ন্যাসীটি ‘রাধে রাধে’ করত, ঢঙ নাই”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৭শে অক্টোবর
    শ্যামপুকুর বাটীতে নরেন্দ্র, মণি প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    অসুখ কেন? নরেন্দ্রের প্রতি সন্ন্যাসের উপদেশ

    মাস্টার — আজ্ঞা হবে; এখনও তো সব সময় যায় নাই।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— কিন্তু তীব্র বৈরাগ্য হলে ও-সব হিসাব থাকে না। ‘বাড়ির সব বন্দোবস্ত করে দিব, তারপরে সাধনা করব’ — তীব্র বৈরাগ্য হলে এরূপ মনে হয় না। (সহাস্যে) গোঁসাই লেকচার দিয়েছিল। তা বলে, দশ হাজার টাকা হলে ওই থেকে খাওয়া-দাওয়া এই সব হয় — তখন নিশ্চিন্ত হয়ে ঈশ্বরকে বেশ ডাকা যেতে পারে।

    “কেশব সেনও ওই ইঙ্গিত করেছিল। বলেছিল, — ‘মহাশয়, যদি কেউ বিষয়-আশয় ঠিকঠাক করে, ঈশ্বরচিন্তা করে — তা পারে কিনা? তার তাতে কিছু দোষ হতে পারে কি?’

    “আমি বললাম (Kathamrita), তীব্র বৈরাগ্য হলে সংসার পাতকুয়া, আত্মীয় কাল সাপের মতো, বোধ হয়। তখন, ‘টাকা জমাব’, ‘বিষয় ঠিকঠাক করব’, এ-সব হিসাব আসে না। ঈশ্বরই বস্তু আর সব অবস্তু — ঈশ্বরকে ছেড়ে বিষয়চিন্তা!

    “একটা মেয়ের ভারী শোক হয়েছিল। আগে নৎটা কাপড়ের আঁচলে বাঁধলে, — তারপর, ‘ওগো! আমার কি হল গো।’ বলে আছড়ে পড়লো কিন্তু খুব সাবধান, নৎটা না ভেঙে যায়।”

    সকলে হাসিতেছেন।

    নরেন্দ্র এই সকল কথা শুনিয়া বাণবিদ্ধের ন্যায় একটু কাত হইয়া শুইয়া পড়িলেন। তাঁর মনের অবস্থা বুঝিয়া —

    মাস্টার (নরেন্দ্রের প্রতি, সহাস্যে) — শুয়ে পড়লে যে!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) মাস্টারের প্রতি, সহাস্যে— “আমি তো আপনার ভাশুরকে নিয়ে আছি তাইতেই লজ্জায় মরি, এরা সব (অন্য মাগীরা) পরপুরুষ নিয়ে কি করে থাকে?”

    মাস্টার নিজে সংসারে আছেন, লজ্জিত হওয়া উচিত। নিজের দোষ, কেহ দেখে না — অপরের দেখে। ঠাকুর এই কথা বলিতেছেন। একজন স্ত্রীলোক ভাশুরের সঙ্গে নষ্ট হইয়াছিল। সে নিজের দোষ কম, অন্য নষ্ট স্ত্রী লোকদের দোষ বেশি, মনে করিতেছে। বলে, ‘ভাশুর তো আপনার লোক, তাইতেই লজ্জায় মরি।’

    মুক্তহস্ত কে? চাকরি ও খোশামোদের টাকায় বেশি মায়া

    নিচে একজন বৈষ্ণব গান গাইতেছিল। ঠাকুর শুনিয়া অতিশয় আনন্দিত হইলেন। বৈষ্ণবকে কিছু পয়সা দিতে বলিলেন। একজন ভক্ত কিছু দিতে গেলেন। ঠাকুর জিজ্ঞাসা করিতেছেন, “কি দিলে?” একজন ভক্ত বলিলেন — “তিনি দুপয়সা দিয়েছেন।”

    ঠাকুর (Kathamrita)— চাকরি করা টাকা কিনা। — অনেক কষ্টের টাকা — খোশামোদের টাকা! মনে করেছিলাম, চার আনা দিবে!

    Electricity — তাড়িতযন্ত্র ও বাগচী চিত্রিত ষড়্‌ভুজ ও রামচন্দ্রের আলেখ্য
    দর্শন — পূর্বকথা — দক্ষিণেশ্বরে দীর্ঘকেশ সন্ন্যাসী

    ছোট নরেন ঠাকুরকে যন্ত্র আনিয়া তাড়িতের প্রকৃতি দেখাইবেন বলিয়াছিলেন। আজ আনিয়া দেখাইলেন।

    বেলা দুইটা — ঠাকুর ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। অতুল একটি বন্ধু মুনসেফকে আনিয়াছেন। শিকদারপাড়ার প্রসিদ্ধ চিত্রকর বাগচী আসিয়াছেন। কয়েকখানি চিত্র ঠাকুরকে উপহার দিলেন।

    ঠাকুর আনন্দের সহিত পট দেখিতেছেন। ষড়্‌ভুজ মূর্তি দর্শন করিয়া ভক্তদের বলিতেছেন — “দেখো, কেমন হয়েছে!”

    ভক্তদের আবার দেখাইবার জন্য ‘অহল্যা পাষাণীর পট’ আনিতে বলিলেন। পটে শ্রীরামচন্দ্রকে দেখিয়া আনন্দ করিতেছেন।

    শ্রীযুক্ত বাগচীর মেয়েদের মতো লম্বা চুল। ঠাকুর বলিতেছেন, “অনেককাল হল দক্ষিণেশ্বরে একটি সন্ন্যাসী দেখেছিলাম। ন হাত লম্বা চুল। সন্ন্যাসীটি ‘রাধে রাধে’ করত। ঢঙ নাই।”

    কিয়ৎক্ষণ পরে নরেন্দ্র (Ramakrishna) গান গাইতেছেন। গানগুলি বৈরাগ্যপূর্ণ। ঠাকুরের মুখে তীব্র বৈরাগ্যের কথা ও সন্ন্যাসের উপদেশ শুনিয়া কি নরেন্দ্রের উদ্দীপন হইল?

    নরেন্দ্রের গান:

    (১) যাবে কি হে দিন আমার বিফলে চলিয়ে।
    (২) অন্তরে জাগিছ ওমা অন্তরযামিনী।
    (৩) কি সুখ জীবনে মম ওহে নাথ দয়াময় হে,
    যদি চরণ-সরোজে পরাণ-মধুপ, চির মগন না রয় হে!

  • Delimitation Bill: লোকসভায়  মহিলা সংরক্ষণ ও আসনবৃদ্ধি বিল পাশ না হলেও, জয় বিজেপিরই, জানেন কেন? কীভাবে?

    Delimitation Bill: লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ ও আসনবৃদ্ধি বিল পাশ না হলেও, জয় বিজেপিরই, জানেন কেন? কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রবল বিতর্কের পর লোকসভায় ভোটাভুটিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি (Delimitation Bill) সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। দু’দিনের বিতর্ক-পর্ব শেষে শুক্রবার বিকেলে বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮ টি ভোট। বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নেন। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল ( Women’s Reservation) পাস না হওয়ার পর রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলির বিরোধিতায় বিলটি খারিজ হলেও, এই ইস্যুকে সামনে রেখেই নির্বাচনী রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে বিজেপি।

    মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে

    বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে সক্রিয় ছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পেশ করা তিনটি বিলের প্রথমটি— লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ( পোশাকি নাম, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’, লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার বিষয়টি এরই অন্তর্গত), দ্বিতীয়টি— লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত বিল। তৃতীয়টি— কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসনবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। বিজেপির দাবি, বিরোধীরা মহিলাদের “ন্যায্য অধিকার” থেকে বঞ্চিত করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই বার্তা জনতার কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে “হাইজ্যাক” করেছে এবং সরকার মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাবে।

    সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্বের স্বার্থেই আসন বাড়ানো জরুরি

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ভোট চাইতে গেলে বিরোধীদের “মহিলাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে”। ২০২৯ সালের মধ্যে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে গেলে ডিলিমিটেশন বা লোকসভা কেনদ্রগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস অনিবার্য। আর এই আসন বৃদ্ধিতে কোনও বিশেষ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব কমবে না। সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব (Delimitation Bill)  নিয়ে চলমান উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় এমনই দাবি করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ দিন লোকসভায় অমিত শাহ জানান, ৫০ বছর ধরে ডিলিমিটেশন না হওয়ায়, বর্তমানে এমনও কিছু লোকসভা কেন্দ্র আছে যেখানে সাসংদকে ৪৯ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কী ভাবে একজন সাংসদ কোনও নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪৯ লক্ষ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন? তিনি সকলকে মুখও দেখাতে পারেন না।’ শাহ দাবি করেন যে সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্বের স্বার্থেই লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।

    কেন ২০২৬-এর পরে ডিলিমিটেশন?

    মহিলা সংরক্ষণ ( Women’s Reservation) বিলের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। কেন এখন এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে এই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা? এই প্রশ্নের জবাবে শাহ মনে করিয়ে দেন, ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ডিলিমিটেশন স্থগিত রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, ২০২৩ সালের আইনেই পরিষ্কার বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী জনগণনার পরেই এটি কার্যকর হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে গেলে ডিলিমিটেশনের কোনও বিকল্প নেই বলে জানান তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের উপর ভরসা রাখুন। বিল পাশ করতে দিন।’’

    উত্তর-দক্ষিণ বিভাজনের অভিযোগ খারিজ

    দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি থেকে লোকসভা আসন কমে যাবে বলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাকে ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে সংসদে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব ২৩.৭৬%। ডিলিমিটেশনের পরে এই প্রতিনিধিত্ব থেকে বেড়ে ২৩.৮৭% হবে। অমিত শাহ দাবি করেন, বিরোধীরা উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে বিভাজন করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, সরকার এটা কোনও ভাবেই হতে দেবে না। এমনকি বিরোধী দলগুলো যদি আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ধারায় রাজি হয়, তবে সরকার সেই সংশোধনী আনতেও প্রস্তুত।

    নির্বাচনী প্রচারে বড় হাতিয়ার

    আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) তাঁর ভাষণে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে, তাঁর সরকার নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, অথচ বিরোধীরা সেই পথে বাধা সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে বিল পাস না হলেও বিজেপি এই ইস্যুকে নির্বাচনী প্রচারে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ইতিমধ্যেই ‘লাড়লি বহেনা’, ‘লাড়কি বহিন’, ‘দীনদয়াল লাডো লক্ষ্মী’—এর মতো নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে সাফল্য পেয়েছে গেরুয়া শিবির। বিল খারিজ হওয়া সত্ত্বেও নারী সংরক্ষণ ইস্যু এখন রাজনৈতিক ময়দানে বড় অস্ত্র হয়ে উঠবে বিজেপির কাছে।

  • Varanasi: আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের সঙ্গে যোগ! বারাণসীতে চিকিৎসকের বাড়িতে এটিএস অভিযান

    Varanasi: আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের সঙ্গে যোগ! বারাণসীতে চিকিৎসকের বাড়িতে এটিএস অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের আদমপুর থানা এলাকার পাঠানি টোলায় অবস্থিত ডা. আরিফ আনসারির (Dr Arif Ansari) বাসভবনে মুম্বই এবং বারাণসী অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)-এর যৌথ টিম অভিযান চালিয়েছে। ডা. আরিফ আনসারি এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাঁর ছেলে আবু বকর বর্তমানে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদেরকে একটি সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অভিযানে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত

    অধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ সংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল তথ্য ও ব্যক্তিগত সামগ্রী খতিয়ে দেখা হয়। এটিএস সূত্রে খবর, দুই টিমের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট। মুম্বই এটিএসের একটি দল বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে বারাণসী এটিএসের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযানে অংশ নেয়। পাঠানি টোলা এলাকাটি আদমপুর পুলিশ স্টেশনের আওতাধীন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালের দিকে বেশ কয়েকটি গাড়ি নিয়ে পুলিশ বাহিনী এসে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চলাকালীন বাইরে ছিল কড়া নিরাপত্তা।

    আইএসআই যোগের সন্দেহ

    তদন্তকারীদের মতে, এই দুজনের সঙ্গে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর যোগ ছিল। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এই যোগের বিষয়ে এখনও কোনও প্রমাণ মেলেনি। আবু বকরকে প্রায় ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, আর্থিক লেনদেন এবং অনলাইন কার্যকলাপ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও তিনি কোনও উগ্রপন্থী মতাদর্শ বা নেটওয়ার্কের প্রভাবে পড়েছেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযান চলাকালীন ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য স্টোরেজ ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই অভিযান ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে মুম্বই, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটসহ বিভিন্ন জায়গায় এটিএস ও জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) একাধিক ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসবাদী মডিউল ভেঙে দিয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন র‌্যাডিক্যালাইজেশন, অর্থায়ন এবং বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আধিকারিকরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে।

  • IT-ED Raids: ভোটের আগেই বড় ঝটকা! মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতে আয়কর হানা, জোড়া অভিযানে তোলপাড় কলকাতা

    IT-ED Raids: ভোটের আগেই বড় ঝটকা! মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতে আয়কর হানা, জোড়া অভিযানে তোলপাড় কলকাতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের এক সপ্তাহও বাকি নেই। তার মধ্যেই, জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ (Land Scam Kolkata) সংক্রান্ত মামলায় শহরের বিভিন্ন জায়গায় জোড়া অভিযান আয়কর দফতর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (IT-ED Raids)। নির্বাচনী আবহে শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে দুই কেন্দ্রীয় সংস্থা।

    আয়কর-ইডির জোড়া ফলা

    শুরুটা হয়েছিল রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা ওই কেন্দ্রেরই বিদায়ী বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়কর হানা দিয়ে। এর পর, ক্রমে বেলা যত বাড়তে থাকে, আয়কর অভিযানের ব্যাপ্তিও বাড়তে থাকে। দেবাশিস কুমারের শ্বশুর বাড়িতেও হয় আয়কর অভিযান। এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্রের অন্যতম প্রস্তাবকের বাড়িতেও হানা দেয় আয়কর। অন্যদিকে, শহরের এক পরিচিত বিল্ডার্স গোষ্ঠীর বাড়ি ও দফতরে হানা দেয় ইডি। পরে, কালীঘাটে এক দাপুটে তৃণমূল নেতার বাড়িতেও পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা।

    মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতে আয়কর

    তবে, সবচেয়ে উল্লেখোগ্য অভিযান আয়কর চালায় বেলার দিকে। দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মনোনয়নের অন্যতম প্রস্তাবক মিরাজ শাহের (Miraj Shah) বাড়িতে তল্লাশি চালায় আয়কর। শুক্রবার সকালে মিরাজ শাহের বাড়িতে হানা দেয় আয়কর দফতর। আধিকারিকদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও। বাড়ির ভেতরে চলতে থাকে তল্লাশি অভিযান—খতিয়ে দেখা হচ্ছে নথিপত্র, পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের খবর।

    কে এই মিরাজ শাহ?

    উল্লেখ্য, ভবানীপুর মনোনয়ন পর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট মিরাজ শাহ। ফলে ভোটের আবহে তাঁর বাড়িতে এই তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। শাসকদলের একাংশ ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দক্ষিণ কলকাতার একটি নির্মাণ সংস্থার জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি। যদিও গোটা ঘটনাকে ঘিরে আয়কর দফতরের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ইডির নজরে মার্লিন…

    এদিকে, আয়কর দফতরের পাশাপাশি এই একই মামলার তদন্তে সক্রিয় আরও এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-ও। ভোর থেকেই আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। এদিন ইডির নজরে মার্লিন গ্রুপ। মিডলটন স্ট্রিট, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে সংস্থার একাধিক দফতর ও কর্তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। সল্টলেক সিকে ব্লকে প্রোমোটারের বাড়িতেও হানা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। ওই ব্লকের আরও একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে ইডি। একটি প্রকল্পের নামে জাল নথি তৈরি করে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে সংস্থার বিরুদ্ধে।

    কালীঘাটের দাপুটে তৃণমূল নেতার বাড়িতে তল্লাশি

    এদিন মার্লিনের পাশাপাশি, দাপুটে তৃণমূল নেতা কুমার শাহার কালীঘাটের গ্রিক চার্চের কাছে বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। জানা গিয়েছে, ওই তৃণমূল নেতা দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ। জমি কেলেঙ্কারির মামলা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়ির পাশাপাশি কুমার সাহার অফিসেও এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের হানা। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে, দেবাশিস কুমারের বাড়ির কাছেই আরও এক নির্মাণকারী সংস্থা সান গ্রুপের বিভিন্ন দফতর ও বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। সেই সময়ে তল্লাশি চালানো হয়েছিল সমাজবিরোধী সোনা পাপ্পুর বাড়িতেও।

    শুরু রাজনৈতিক তরজা

    তবে, ভোটের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবক এবং দলের একাধিক নেতার বাড়িতে এই তল্লাশিকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে। তৃণমূলের দাবি, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে পেরে না উঠে বিজেপি এখন এজেন্সির ওপর ভরসা করছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই সক্রিয়তাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ একে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের বিকৃত ব্যবহার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের কাজ করছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুর তথা রাজ্য রাজনীতির পারদ আরও চড়ল।

  • Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করালেও বাংলায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Shamik challenges Mamata)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল স্পষ্ট। এসআইআর মামলায় সুপ্রিম নির্দেশের পর সাফ জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court) জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রয়োগ করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ভোটের ২ দিন আগে ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হলেও দেওয়া যাবে ভোট।

    মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik challenges Mamata)। তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভোট করাতে চাইছেন সেভাবেই করুন। পুরোনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করুন। তাও চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। তৃণমূল চলে গিয়েছে। তৃণমূল শেষ।” এদিন কমিশনের বিরুদ্ধেও খানিক ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে শমীককে। বলেন, “আমরা এই প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নই। আমাদের ফর্ম ৭ এর শুনানি হয়নি। নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা পুরো শোনেননি। আমাদের অভিযোগ, আমাদের অভিমান কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটা সাংবিধানিক সংস্থা। আমরা তাঁদের আধিকারিকদের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি আমরা সন্তুষ্ট নই।”

    কী বলল দেশের শীর্ষ আদালত

    অবশেষে বাংলার এসআইআর মামলায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যে লক্ষ লক্ষ ভোটার, যাঁরা ট্রাইবুনালে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে যাঁদের প্রথম দফার ভোট (২৩ এপ্রিল) রয়েছে, এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যে যাঁদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং যাঁরা যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করবেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ভোটার লিস্টে উঠবে। তার জন্য সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে এবং ২৩ এপ্রিল তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোট হচ্ছে ২৯ এপ্রিল। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত, যাঁদের যাঁদের ভোটার লিস্টে নাম ওঠার জন্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করতে পারবেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। এই ২৭ এপ্রিল অবধি যাঁদের নাম উঠবে, তাঁদের জন্য আলাদা সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করা হবে।

  • Noida Violence: ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় পাকিস্তানি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে! নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে হিংসার ঘটনায় নয়া তথ্য

    Noida Violence: ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় পাকিস্তানি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে! নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে হিংসার ঘটনায় নয়া তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ডার সাম্প্রতিক শ্রমিক বিক্ষোভ (Noida Violence) ছিল একটি “পরিকল্পিত ও বহুস্তরীয় ষড়যন্ত্র”। এমনই দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের। নয়ডায় যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, তা ছিল সীমান্তপারের চক্রান্ত। পুলিশের মতে, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত দুটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং জানান, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে বাইরের কিছু শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে হাইজ্যাক করে।

    পাক অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো খবর

    পুলিশ কমিশনার বলেন, “বর্তমানে নয়ডায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। গত দু’দিন ধরে শান্তি বজায় রয়েছে। পুলিশ ফ্ল্যাগ মার্চ ও পিকেটিং করেছে, সব শিল্প ইউনিট খুলেছে এবং শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।” উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ মেনে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একটি ওয়েজ বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন বলে জানান কমিশনার। তবে গত, ১৩ এপ্রিল একদল ব্যক্তি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরেই দুটি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে পুলিশের গুলিতে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়। তদন্তে জানা যায়, এই অ্যাকাউন্টগুলি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

    কীভাবে ছড়ানো হয়েছিল বিক্ষোভ

    পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় তিনজন মূল ষড়যন্ত্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে—রূপেশ রাই, মনীষা চৌহান এবং আদিত্য আনন্দ। এদের মধ্যে রাই ও চৌহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আদিত্য আনন্দ পলাতক। পুলিশের দাবি, এই তিনজন শুধু নয়ডায় উপস্থিতই ছিলেন না, বরং শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে ভিড়কে হিংসাত্মক করে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল এই ষড়যন্ত্রের ছক কষা হয়। ৯ ও ১০ এপ্রিল কিউআর কোডের মাধ্যমে মানুষকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ১০ এপ্রিল বিক্ষোভ শুরু হয়, ১১ এপ্রিল রাস্তায় অবরোধ হয় এবং ১৩ এপ্রিল পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ

    পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই স্থানীয় শ্রমিক নন, বরং বাইরের লোক। তদন্তে সহায়তা করছে ইন্টেলিজেন্স বুরো এবং অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়ডার শিল্পাঞ্চল, বিশেষত ফেজ-২ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে হিংসার দিকে ঠেলে দেয়।

LinkedIn
Share