Tag: news in bengali

news in bengali

  • RSS: “আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলিতে সমাজের প্রতিক্রিয়া উৎসাহজনক”, বললেন সহ সরকার্যবাহ মুকুন্দ

    RSS: “আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলিতে সমাজের প্রতিক্রিয়া উৎসাহজনক”, বললেন সহ সরকার্যবাহ মুকুন্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলিতে সমাজের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত উৎসাহজনক এবং অনুপ্রেরণামূলক”, বললেন সহ সরকার্যবাহ সিআর মুকুন্দ। আরএসএসের জাতীয় স্তরের বার্ষিক সাধারণ সভা অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা শুরু হয়ছে কেরলের সমালখায়। কেরালায় স্বয়ংসেবকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজার হাজার মুসলিম ও খ্রিস্টান পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন (Centenary Programmes)। সেখানে তাঁদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করা হয়। সভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় আজ, শুক্রবার, ১৩ মার্চ। ভারতমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে সভার উদ্বোধন করেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত এবং সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে।

    কেরলে আরএসএসের তিনদিনের সভা (RSS)

    তিনদিনের এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেরলের সমালখার পট্টিকল্যাণায় অবস্থিত মাধব সৃষ্টি ক্যাম্পাসে। সহ সরকার্যবাহ সিআর মুকুন্দ সাংবাদিকদের সভার উদ্বোধন এবং সভা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় ও কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রচার প্রধান সুনীল আম্বেকরও। মুকুন্দ জানান, যেহেতু এই সভাটি আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই সারা দেশ থেকে ১৪০০-রও বেশি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। সভার শুরুতে সম্প্রতি প্রয়াত কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এঁদের মধ্যে ছিলেন শিবকথা বর্ণনাকারী সৎগুরু দাস মহারাজ, পরিবেশবিদ মাধব গাডগিল, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা লোকসভার স্পিকার শিবরাজ পাটিল, পরিবেশকর্মী সালুমারাদা থিম্মাক্কা, প্রত্নতত্ত্ববিদ কেএন দীক্ষিত, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, অভিনেতা ধর্মেন্দ্র দেওল, তামিল চলচ্চিত্র প্রযোজক এভিএম সারাভানন, মিজোরামের প্রাক্তন রাজ্যপাল স্বরাজ কৌশল, শিক্ষাবিদ বিনয় হেগড়ে, কমিউনিস্ট নেতা আর নল্লাকান্নু এবং প্রবীণ সাংবাদিক তথা সম্পাদক প্রফুল্ল গোবিন্দ বরুয়া।

    কী জানালেন সহ সরকার্যবাহ

    সহ সরকার্যবাহ জানান, আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সমাজের সজ্জন শক্তির সমর্থন ও অংশগ্রহণ স্বয়ংসেবকদের অত্যন্ত উৎসাহিত করেছে (Centenary Programmes)। আরএসএসের শতবর্ষ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ২ অক্টোবর ২০২৫ নাগপুরে শুরু হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। এর একদিন আগে ভারত সরকার আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট এবং একটি স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করে। তিনি জানান যে আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে দুই ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে-এক, সংগঠনের বিস্তার এবং দুই, সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করে সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানো। এই প্রেক্ষিতেই গৃহ সম্পর্ক অভিযান চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কিছু প্রান্তে স্বয়ংসেবকরা ১০ কোটিরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছেছেন এবং প্রায় ৩.৯ লক্ষ গ্রামে গিয়েছেন। অন্যান্য অঞ্চলেও এই কর্মসূচি চলছে (RSS)। এই কর্মসূচিতে স্বয়ংসেবকরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কোনও জাতি বা সম্প্রদায়গত পক্ষপাত ছাড়াই আরএসএস সম্পর্কে আলোচনা করেন।

    সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করাই লক্ষ্য

    কেরালার উদাহরণ দিয়ে মুকুন্দ জানান, সেখানে স্বয়ংসেবকরা ৫৫,০০০-এরও বেশি মুসলিম পরিবার এবং ৫৪,০০০-এরও বেশি খ্রিস্টান পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা আন্তরিকভাবে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন (Centenary Programmes)। তিনি এও জানান, সারা দেশে এখনও পর্যন্ত ৩৬,০০০-এরও বেশি হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলি শহর, গ্রাম এবং দূরবর্তী জনজাতি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তাঁরা প্রথমবার এমন উষ্ণতা ও আত্মীয়তার অনুভূতি পাচ্ছেন। মুকুন্দ জানান, সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে নাগরিক সংগোষ্ঠীরও আয়োজন করা হয়েছে।

    পঞ্চ পরিবর্তন বাস্তবায়নের পরিবেশ

    এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে সমাজে পঞ্চ পরিবর্তন বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এই পাঁচটি পরিবর্তন হল, সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা, আত্মগৌরব ও স্বদেশি ভাবনা, পরিবার ব্যবস্থা সংরক্ষণ এবং নাগরিক কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা। এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই জাতি ও সমাজকে মহান করা সম্ভব (RSS)। তিনি জানান, সরসংঘচালক মোহন ভাগবত রাজ্য রাজধানী ও চারটি প্রধান বড় শহরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চার মহানগরের অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ১০০০-এরও বেশি প্রশ্নের উত্তর দেন। এই প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে (Centenary Programmes)।

    ক্রমেই বাড়ছে আরএসএসের শাখা

    সংগঠনের বিস্তার সম্পর্কে তিনি জানান, গত এক বছরে দেশের বহু নতুন জায়গায় নতুন শাখা শুরু হয়েছে। আগামী বছরগুলিতে গ্রাম ও ছোট শহরে আরও বেশি শাখা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে (RSS)। আরএসএস নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। মণিপুরে শান্তি ও স্থিতিশীলতার উন্নত পরিস্থিতিও উৎসাহজনক। এই প্রচেষ্টায় আরএসএস স্বয়ংসেবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও জানান তিনি। পড়শি দেশ বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুকুন্দ। যদিও আশা করেন, আগামী দিনে তাঁদের অবস্থার উন্নতি হবে। মুকুন্দ বলেন, “আরএসএসের উদ্দেশ্য হল সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করে জাতি গঠনের কাজে এগিয়ে যাওয়া।”

    আরএসএসের শতবর্ষ কর্মসূচি

    আরএসএসের শতবর্ষ কর্মসূচি চলবে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে (RSS)।তিনি জানান, আরএসএস সারা বিশ্বের মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে (Centenary Programmes)। এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় সহ প্রচার প্রধান নরেন্দ্র ঠাকুর, প্রদীপ জোশি এবং অন্যান্য কর্মকর্তা। আরএসএসের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশের ৫১,৭৪০টি জায়গায় ৮৩,১২৯টি শাখা পরিচালিত হয়েছিল। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৫৫,৬৮৩ টি জায়গায় ৮৮,৯৪৯টি শাখা। অর্থাৎ এক বছরে ৩,৯৪৩টি নয়া জায়গা যেমন যুক্ত হয়েছে, তেমনি মোট শাখাও বেড়েছে ৫,৮২০টি। এটি সংগঠনের ধারাবাহিক বিস্তারকে নির্দেশ করে।

    জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭,০৪৮টি হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষ। এই সম্মেলনগুলি শহর, গ্রাম, জনজাতি ও দূরবর্তী অঞ্চলেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে পঞ্চ পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যার মূল বিষয় হল সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশ সচেতনতা (Centenary Programmes), কুটুম্ব প্রবোধন, আত্মগৌরব এবং নাগরিক কর্তব্য পালন (RSS)।

     

  • India: সীমান্তপার সন্ত্রাসে ভারতকে জড়ানোর চেষ্টা, পাকিস্তানের দাবি পত্রপাঠ খারিজ নয়াদিল্লির

    India: সীমান্তপার সন্ত্রাসে ভারতকে জড়ানোর চেষ্টা, পাকিস্তানের দাবি পত্রপাঠ খারিজ নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্তপার সন্ত্রাসের ঘটনায় ভারতকে (India) জড়ানোর চেষ্টা পাকিস্তানের। ইসলামাবাদের অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি (Terrorism Link)। বিদেশমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, এটি এমন একটি দেশের মরিয়া চেষ্টা, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে এমনই জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। পাকিস্তান একটি বিবৃতিতে সাম্প্রতিক কিছু জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তারই প্রেক্ষিতে জয়সওয়াল বলেন, “আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। নিজেদের অপকর্মের দায় ভারতের ওপর চাপানো পাকিস্তানের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। যত গল্পই বানানো হোক না কেন, বাস্তবতা বদলাবে না, আর পাকিস্তানের এই তথাকথিত ‘ভুক্তভোগী’ হওয়ার দাবিতে কেউ আর বিভ্রান্তও হবে না।”

    পাকিস্তানের চেষ্টা ব্যর্থ (India)

    তিনি বলেন, “নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরতে পাকিস্তানের এই দীর্ঘ প্রয়াস আন্তর্জাতিক মহলে এখন আর কোনও গুরুত্ব পায় না। কারণ বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ ঘোষিত বহু জঙ্গি এবং জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে।” এদিনই জয়সওয়াল পাকিস্তানের আর একটি বিবৃতিরও জবাব দেন। ওই বিবৃতিতে পাকিস্তান ভারত এবং কানাডার মধ্যে সম্প্রতি হওয়া পারমাণবিক ও রফতানি-নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তির সমালোচনা করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, এই চুক্তি পারমাণবিক বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    কী বললেন জয়সওয়াল

    এর জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “এই বিষয়ে পাকিস্তানের দেওয়া বিবৃতি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। পারমাণবিক বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিখুঁত এবং আন্তর্জাতিক মহলে তা সুপরিচিত। গোপনে পারমাণবিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার সুপরিচিত ইতিহাস রয়েছে যে দেশের, তাদের মুখে রফতানি নিয়ন্ত্রণ বা বিস্তার-ঝুঁকি নিয়ে নীতিকথা বড়ই হাস্যকর। এই ধরনের অবান্তর কথা আসলে পাকিস্তানের নিজেদের দুর্বল রেকর্ড থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি প্রচেষ্টা (Terrorism Link)।”

    কী বলছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা

    কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই দু’টি বিবৃতি আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং পারমাণবিক বিস্তার সংক্রান্ত অতীত থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি যৌথ প্রচেষ্টার অংশ (India)। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইসলামাবাদ জঙ্গি পরিকাঠামো ভেঙে না ফেলা পর্যন্ত এবং রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদের ব্যবহার বন্ধ না করা পর্যন্ত পাকিস্তানের অভিযোগে কান দেবে না ভারত। প্রসঙ্গত, এই ঘটনাগুলি ঘটছে নিয়ন্ত্রণরেখা (Line of Control) বরাবর উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি নিয়ে (Terrorism Link) আন্তর্জাতিক মহলের নতুন করে নজরদারির মধ্যেই (India)।

     

  • Presidential Protocol Issue: রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’! দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র

    Presidential Protocol Issue: রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’! দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির সফরে প্রোটোকল-স্থান (Presidential Protocol Issue) বদল বিতর্কে নতুন মোড়। বিতর্কের আবহেই ২ অফিসারকে চেয়ে রাজ্যকে চিঠি কেন্দ্রের। প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের সিপিকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির সফরের দায়িত্বে ছিলেন দার্জিলিংয়ের ডিএম মণীশ মিশ্র। তাঁকে ডেপুটেশনে চেয়েছে কেন্দ্র।

    কেন এই পদক্ষেপ

    গত ৭ মার্চ শিলিগুড়ির গোঁসাইপুরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জল গড়াল অনেক দূর। নিরাপত্তা ও স্থান পরিবর্তন সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা এবং ‘অসৌজন্যের’ অভিযোগ খতিয়ে দেখে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাজ্যের পাঠানো রিপোর্ট পর্যালোচনার পর দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। এই দুই আইপিএস ও আইএএস অফিসারই বেঙ্গল ক্যাডারে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই সমস্ত উচ্চ পদমর্যাদার অফিসারদের ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে তারাই এই দুই অফিসারকে ডেপুটেশনে চাইছে।

    যেতেই হবে ডেপুটেশনে

    রাষ্ট্রপতি যেহেতু দেশের সংবিধানিক প্রধান তাই তাঁর নিরাপত্তা বা প্রোটোকলে কোনও গাফিলতি হয়ে থাকলে সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র চাইলে রাজ্য সরকারকে কিছু না বলেও কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে তাঁদের তুলে নিতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট আইপিএস (ক্যাডার) রুলস, ১৯৫৪-এর রুল ৬(১)-এর বৈধতা নিশ্চিত করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী আইপিএস অফিসারদের ট্রান্সফার ও ডেপুটেশন নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র প্রয়োজনে অগ্রাহ্য করতে পারে। এখন কোনও রাজ্য সরকার যদি নির্বাচিত অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠাতে অস্বীকার করে, তবে সেই অফিসারকে ৫ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন থেকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। ২০১১ ব্যাচ বা তার পরের আইপিএস অফিসারদের জন্য কমপক্ষে ২ বছরের কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন বাধ্যতামূলক, নইলে তাঁরা ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে এমপ্যানেলমেন্টের জন্য যোগ্য হবেন না।

    অসন্তুষ্ট রাষ্ট্রপতি, কী ঘটেছিল

    সাঁওতালদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে মূল অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করা হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি। পরবর্তীতে ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে সন্তোষিনী বিদ্যাচক্রের মাঠ পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওই মাঠে আরও বেশি সাধারণ মানুষের সমাগম হতে পারত। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি বলেন, “উনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন। যে কারণে সভা করতে দিলেন না।” রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।” এরপর তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়তে থাকে। দুই দলেরই একাধিক নেতা এই নিয়ে পরস্পরকে তোপ দাগেন।

  • Abrar Ahmed in Sunrisers: পাক ক্রিকেটারকে কেনায় বিতর্ক, সানরাইজার্স লিডসের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড, আইপিএলেও বয়কটের ডাক

    Abrar Ahmed in Sunrisers: পাক ক্রিকেটারকে কেনায় বিতর্ক, সানরাইজার্স লিডসের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড, আইপিএলেও বয়কটের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে নেওয়ার পরই বিপাকে পড়ল ‘সানরাইজার্স লিডস’ (Abrar Ahmed in Sunrisers)। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের নিলামে আবরারকে দলে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়। কাব্য মারানের দলে পাক স্পিনারের যোগদান ভাল ভাবে নেননি ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ। সমাজমাধ্যমে সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে বয়কট করার কথাও বলেছেন অনেকে। বিতর্ক বাড়ায় সানরাইজার্স লিডসের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে এক্সের তরফে কী কারণে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে তার কোনও ব্যাখা এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মনে করা হচ্ছে, বহু ক্রিকেটপ্রেমী রিপোর্ট করায় অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড করা হয়েছে।

    কেন তৈরি হয় বিতর্ক

    সান গ্রুপের মালিকানাধীন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির নেতৃত্বে রয়েছেন কালানিধি মারান। জানা গিয়েছে, নিলাম চলাকালীন পাকিস্তানের মিস্ট্রি স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে নিতে পরপর বিড করে সানরাইজার্স। প্রায় ২.৩৪ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নেওয়া হয়। লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসে অনুষ্ঠিত নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজির সিইও কাব্যা মারান নিজে উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন দলের হেড কোচ ড্যানিয়েল ভেত্তোরিও। নিলামের টেবিলে বসে তারা ট্রেন্ট রকেটসকে হারিয়ে আবরার আহমেদকে দলে নেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইংল্যান্ডের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এই দলের অধিনায়কত্ব করবেন। কিন্তু এরপরেই শুরু হয় আসল বিতর্ক। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই প্রথম কোনও আইপিএল–সংযুক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানের কোনও ক্রিকেটারকে দলে নিল। দলে পাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে আবরারের জার্সি পরা ছবিও পোস্ট করা হয়। তার পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্র্যান্ড ইমেজে। মাত্র একদিনেই দলের ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ফলোয়ার কমে গিয়েছে। অরেঞ্জ আর্মির চরম ভক্তরাও আগামী আইপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজির ম্যাচ বয়কট করার কথা ঘোষণা করেছেন।

    জাতীয় আবেগ বিরোধী পদক্ষেপ

    এর জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সমর্থকদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে বয়কট করার ডাকও দেন। সমাজমাধ্যমে সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। কাব্যের সংস্থার বিরুদ্ধে জাতীয় আবেগ বিরোধী পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বহু বছর ধরে দেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভারতীয় দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এড়িয়ে চলেছে। কিন্তু বিদেশি লিগে টাকা এলেই সেই অবস্থান বদলে যায়। ভারতীয় মালিকানা, ভারতীয় ব্র্যান্ড, কিন্তু দেশের বাইরে অবস্থান অন্যরকম।’

    ভারতীয় সেনাবাহিনীকে কটূক্তি আবরার আহমেদের

    এই বিতর্কের পিছনে মূল কারণ আবরার আহমেদের ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে করা কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সীমান্তে উত্তেজনার সময় আবরার এমন কিছু পোস্ট করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে যা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ব্যঙ্গ করে করা হয়েছে বলে দাবি করছেন অনেক ভারতীয় সমর্থক। ভারতীয় বায়ুসেনাকে নিয়ে উপহাস করার জন্যও কুখ্যাত আবরার। প্রায়শই এক কাপ চায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লিখতেন, ‘চমৎকার চা’ (পাকিস্তানে সাময়িক বন্দিদশায় থাকা ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের ভিডিয়োর প্রতি যা ইঙ্গিতবাহী)আবরারকে দলে নেওয়ার খবর সামনে আসতেই এক্স হ্যান্ডেলে #ShameOnSRH এবং #BoycottSunrisers হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে শুরু করে। সমালোচকদের দাবি, যে ক্রিকেটার ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, তাকে মোটা অঙ্কের চুক্তিতে দলে নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকরা দেশের অনুভূতিকে অগ্রাহ্য করেছেন। অনেকে আবার সানরাইজার্স ব্র্যান্ডের মুখ কাব্যা মারানকেও কড়া সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত নিলামে তিনি আবরার আহমেদের জন্য বিড করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    পাকিস্তানি ক্রিকেটারের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কেউ

    ২০০৯ সাল থেকে আইপিএলে নিষিদ্ধ পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, দক্ষিণ আফ্রিকা বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের টি-টোয়েন্টি লিগে ভারতীয়দের মালিকানাধীন দলগুলিতেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের নেওয়া হয় না। ‘দ্য হান্ড্রেড’-এও তেমন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিষয়টি আঁচ করে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আগেই দলগুলিকে সতর্ক করেছিল। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর নিলামে কোনও নির্দিষ্ট দেশের ক্রিকেটারদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ ভারতীয় মলিকানাধীন চারটি দল রয়েছে। এগুলি হল ম্যাঞ্চস্টার সুপার জায়ান্টস (সঞ্জীব গোয়েন‌্কার আরপিজি গ্রুপের ৭০ শতাংশ মালিকানা), এমআই লন্ডন (মুকেশ অম্বানীর রিলায়্যান্সের ৪৯ শতাংশ মালিকানা), সাদার্ন ব্রেভ (গ্রান্ধি কিরণ কুমারদের জিএমআর গ্রুপের ৪৯ শতাংশ মালিকানা), সানরাইজার্স লিডস (কলানিথি মারানের সান গ্রুপের ১০০ শতাংশ মালিকানা)। দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ-টোয়েন্টি ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আইএলটি-টোয়েন্টি লিগেও আইপিএল মালিকানাধীন দলগুলিকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য বিড করতে দেখা যায়নি।

    আবরারকে নিতে ব্যস্ত কাব্যা

    ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর আট দলের এই টুর্নামেন্ট আগামী ২১ জুলাই থেকে ১৬ অগাস্ট পর্যন্ত ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর নিলামে পাকিস্তানের দু’জন ক্রিকেটার দল পেয়েছেন। নিলামে হ্যারিস রউফ, শাদাব খান ও সাইম আয়ুবকে কোনও দল কেনেনি। চতুর্থ ক্রিকেটার উসমান তারিক দল পান। তাঁকে কেনে বার্মিংহ্যাম ফিনিক্স। সেই দলে কোনও ভারতীয় মালিক নেই। চমক দেখা যায় আবরারের নিলামের সময়। ট্রেন্ট রকেটসের সঙ্গে লড়াই চলে সানরাইজার্সের। কাব্য মারানকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি আবরারকে কিনে তবেই ছাড়়বেন। সেটাই করেন আইপিএলে অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশনদের দলের মালকিন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই সানরাইজার্সের জার্সি পরা আবরারের ছবি সমাজমাধ্যমেও পোস্ট করে তারা। এই পোস্টের পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    বিদেশিদের গুরুত্ব দেয় সানরাইজার্স

    চলতি মাসেই শুরু আইপিএল। অনেকে দাবি করেছেন, আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে সকলের বয়কট করা উচিত। কেউ কেউ বলেছেন, আইপিএলেও ভারতীয় ক্রিকেটারদের থেকে বিদেশি ক্রিকেটারদের বেশি গুরুত্ব দেয় সানরাইজার্স। যেখানে বাকি ন’দলে ভারতীয় অধিনায়ক রয়েছেন, সেখানে একমাত্র সানরাইজার্সের অধিনায়ক বিদেশি (প্যাট কামিন্স)। এর থেকেই প্রমাণিত, তারা ব্যবসা ছাড়া কিছু বোঝে না। অনেকে তো এ-ও বলেছেন, আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানের যা হাল হয়েছে, ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগে সেটাই হবে আবরারের। তাও ফিজ (মুস্তাফিজুরের ডাক নাম) ভারত সম্পর্কে কোনও কু-মন্তব্য করেননি। তা সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ শীতল সম্পর্কের আবহে নিলামে কিনেও মুস্তাফিজুরকে ছাড়তে বাধ্য হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ঠিক একই রকম ভাবে আবরারকে লিগ শুরুর আগেই ছাড়তে বাধ্য হবে সানরাইজার্স।

  • Assembly Election 2026: রিটার্নিং অফিসার হবে ন্যূনতম এসডিএম স্তরের আধিকারিক, বাংলায় কমিশনের নিয়ম মেনেই নির্বাচন

    Assembly Election 2026: রিটার্নিং অফিসার হবে ন্যূনতম এসডিএম স্তরের আধিকারিক, বাংলায় কমিশনের নিয়ম মেনেই নির্বাচন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে । যে কোনও মুহূর্তে নির্বাচনের (Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হতে পারে। তার আগেই রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনায় বড় বদল আনল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে এই প্রথমবার অন্যান্য রাজ্যের মতো রিটার্নিং অফিসার পদে জেলাশাসকদের বদলে মহকুমা শাসক বা সমমর্যাদার আধিকারিকদের এই পদে নিয়োগ করল কমিশন। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।

    উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের রিটার্নিং অফিসার

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নয়া বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সবকটি অর্থাৎ ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্যই মহকুমা শাসক বা তার উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ন্যূনতম এসডিএম-দের এই পদে নিয়োগ করার কথা। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলিতে রাজ্যের অনুরোধ মেনে নিচুতলার কর্মীদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছিল কমিশন। তবে এবার আর নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম যে হবে না তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন। এবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের জন্য মহকুমাশাসক বা এসডিএম (সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট) পদমর্যাদার অফিসারদের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হল বলে জানানো হয়েছে। এখন থেকে সারা দেশের নিয়ম মেনেই পশ্চিমবঙ্গেও এসডিএম সমমর্যাদা বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এর থেকে নীচের পদের কাউকে নিয়োগ করা হবে না বলে জানান হয়েছে।

    তালিকায় জায়গা পেলেন কারা?

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের কাছে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, জেলা পরিষদের সচিব, জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক, জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা তফসিলি জাতি-জনজাতি উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা পরিকল্পনা আধিকারিক স্তরের অফিসারেরা এ বার রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। অর্থাৎ, সব পদই উচুস্তরের। পশ্চিমবঙ্গে আগে নির্বাচনে ডিএমডিসি (ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ডেপুটি কালেক্টর) পদমর্যাদার আধিকারিকেরা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করলেও এ বার সেই প্রবণতা থেকে যে কমিশন সরে এল সদ্যপ্রকাশিত তালিকাতেই তা স্পষ্ট।

    রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে বাড়তি জোর কেন

    সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও সাফ বলেছিলেন ভোটের সময় রাজ্যে কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। সেই লক্ষ্যেই এবার নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে বাড়তি জোর দিল কমিশন। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে নিয়মের বাইরে গিয়ে যে একটিও কাজ হবে না, তা পদে পদে বুঝিয়ে দিচ্ছে কমিশন। এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকার সারা দেশের নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্ন পদমর্যাদারা অধিকারিকদের ইচ্ছামতো রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বেছে নিত। তারপর সেই তালিকা পাঠান হতো নির্বাচন কমিশনের কাছে। কিন্তু এবার থেকে আর সেই জিনিস চলবে না। বরং আইন মেনে চলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান অনেক বেশি কঠোর হয়েছে বলে খবর।

  • President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সময় নেই”। ঠিক এই ভাষায়ই তৃণমূলের (TMC) এক প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Murmu) দফতর। এর আগে তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখে দলের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। প্রতিনিধি দলটি পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তবায়িত বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরতে চেয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে সময়ের অভাবের কারণ দেখিয়ে তৃণমূলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। প্রথমবার অনুরোধের পর দলটি নাকি পরের সপ্তাহে আর একটি সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই প্রস্তাবটিও নাকচ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃতীয়বার আবেদন করেছে তৃণমূল।

    রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ প্রকাশ (President Murmu)

    এই ঘটনা ঘটেছে রাষ্ট্রপতি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত আদিবাসী কল্যাণ সম্মেলনে মতবিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, প্রশাসন যে জায়গাটি অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন করেছে, তা আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসস্থানের থেকে অনেক দূরে। তাই সবাই আসতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি খুব দুঃখিত যে এখানে অনেক মানুষ সম্মেলনে পৌঁছতে পারেননি।  কারণ অনুষ্ঠানটি এত দূরে আয়োজন করা হয়েছিল।” রাষ্ট্রপতির (President Murmu) ইঙ্গিত, “প্রশাসন হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করেছে, যাতে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত হয়।”

    ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি এও জানান, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি যখন কোনও জায়গায় যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদেরও সেখানে থাকা উচিত।” নিজেকে ‘বাংলার মেয়ে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি কি ইচ্ছাকৃত ছিল?” বাংলা সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অসম্মান’ নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরব হন। এক্স হ্যান্ডেলে  প্রধানমন্ত্রী একটি পোস্টে শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির মন্তব্য দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে। তৃণমূল (TMC) সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির (President Murmu) পদকে যথাযথ সম্মান না দেখানোর অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

    মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির এহেন (TMC) মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই জাতীয় মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন মন্তব্য না করেন। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সমস্যা তুলে ধরলেও, অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিষয়গুলি উপেক্ষা করেছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় আদিবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এই বিতর্কে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।  বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। নবম  আন্তর্জাতিক সাঁওতালি সম্মেলনের ভেন্যু বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে  লিখেছেন, “সংবিধানিক মর্যাদা ও আদিবাসী সম্মানের প্রতি দৃষ্টান্তহীন আক্রমণ। স্পষ্টতই তৃণমূল সরকারের  শাসনের পতনের চিহ্ন।” বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি কী বলছেন সেটা আমরা সবাই দেখেছি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন দুটোকে পাশাপাশি রাখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কে দায়ী। বুঝতে পারবেন কে সংবিধানের এক্তিয়ারের মধ্যে বলেছে, আর কে সংবিধানের বাইরে গিয়ে বলেছে। ভারতবর্ষের মতো রাষ্ট্র বলে হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে যাচ্ছেন। অন্য দেশ হলে এতক্ষণে জেলের ভিতরে থাকতেন।” মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু তৃণমূলকে নিশানা করলেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি কত নম্রভাবে বলেছেন, মমতা আমার বোনের মতো। আর মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি করছেন।” রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানো হল না বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, “দ্রৌপদী মুর্মু যখন রাষ্ট্রপতি হন, তখন সবাই কত খুশি হয়েছিলেন। এ রাজ্যের আদিবাসীরাও আনন্দিত হন। আজ সবকিছু ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হল।”

  • PM Modi: ‘‘এলপিজি পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে’’, তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: ‘‘এলপিজি পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে’’, তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে এলপিজি (LPG) পরিস্থিতি নিয়ে যারা অযথা আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, বৃহস্পতিবার তাদের একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন, “এই ধরনের কাজের মাধ্যমে তারা শুধু জনগণের সামনে নিজেদের স্বরূপ উন্মোচিতই করছে না, দেশেরও ক্ষতি করছে।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এনএক্সটি সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সঙ্কট থেকে কোনও দেশই রেহাই পায়নি। তাছাড়া ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার সব রকম পদক্ষেপ করছে।” তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ কিছু পণ্যের কালোবাজারি করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছু মানুষ এলপিজি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক মন্তব্য না করেই বলছি, তারা শুধু নিজেদের স্বরূপ জনগণের সামনে উন্মোচিত করছে না, দেশেরও ক্ষতি করছে।”

    সঙ্কট মোকাবিলায় প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে

    তিনি এও বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থেকে তৈরি হওয়া বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলায় প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তা সে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, যুবসমাজ, শহর কিংবা গ্রাম যাই হোক না কেন। বহু বৈশ্বিক সঙ্কট থাকা সত্ত্বেও বিশ্বনেতা ও বিশেষজ্ঞরা ভারতের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছেন (PM Modi)। এর ফলে ভারতের দায়িত্বও আরও বেড়ে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, “আজ পুরো বিশ্ব জানে, ভবিষ্যতের অংশ হতে চাইলে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে এবং ভারতে উপস্থিত থাকতে হবে (LPG)।”

    প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের একটি লক্ষ্য, একটি গন্তব্য-উন্নত ভারত। ভারত শুধু এগোচ্ছে না, বরং পরবর্তী স্তরে পৌঁছনোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, “বিশ্ব বর্তমানে একটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভারত দ্রুত ও স্থিতিশীল গতিতে এগিয়ে চলেছে।” প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “অনেক বিশ্বনেতা বলছেন যে ভারত এখন (LPG) পুরো বিশ্বের জন্য এক ধরনের ‘সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি’ হয়ে উঠছে (PM Modi)।”

  • BJP Candidate List: বঙ্গভোটে বিধায়ক ও পুরনো নেতাদের অগ্রাধিকার বিজেপির! মোদির বাসভবনে চূড়ান্ত ১৫০ প্রার্থীর নাম?

    BJP Candidate List: বঙ্গভোটে বিধায়ক ও পুরনো নেতাদের অগ্রাধিকার বিজেপির! মোদির বাসভবনে চূড়ান্ত ১৫০ প্রার্থীর নাম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election) জন্য অন্তত ১৫০টি আসনের প্রার্থী (BJP Candidate List) চূড়ান্ত করে ফেলল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব৷ এমনটাই খবর সূত্রের। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠকে বসেছিল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও এ দিনের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন৷ এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বিপ্লব দেব, সুনীল বনশল, সতীশ ধন্দ, অমতি মালব্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন৷

    ১৫০-র বেশি আসনে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত

    দলীয় সূত্রে খবর, বিজেপি-র এবারের প্রার্থী তালিকায় প্রত্যাশিত ভাবেই বর্তমান বিধায়কদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে৷ পাশাপাশি, দলের পুরনো কর্মী এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে এরকম নেতা কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যের ২৯৪টির মধ্যে ১৫০-র বেশি আসনে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে। বর্তমান বিধায়কদের সিংহভাগই আবার টিকিট পাচ্ছেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্যে এই মুহূর্তে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রার্থী তালিকায় পুরনো জয়ী প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। আগে কখনও বিধানসভা বা লোকসভার ভোটে লড়েননি, এমন কিছু নতুন মুখও টিকিট পাচ্ছেন। তবে তাঁরা সকলেই সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত।

    আসনগুলিকে এ, বি এবং সি- এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ 

    ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত ১৫০ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে। জয়ের সম্ভাবনা বিচার করে রাজ্যের বিধানসভা আসনগুলিকে এ,বি এবং সি- এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। জয়ের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি, সেই আসনগুলিকে রাখা হয়েছে৷ এ ক্যাটেগরিতে৷ এই আসনগুলিতে ষোল আনা খাঁটি বিজেপি নেতা, কর্মী ছাড়া কাউকে টিকিট দেওয়া হবে না। বি ক্যাটেগরি মানে যেখানে জয় ও পরাজয়ের মধ্যে খুব বেশি ফারাক নেই। সি ক্যাটেগরি মানে যেখানে জয়ের আশা বিশেষ নেই, তবু লড়াই জারি থাকবে। কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশ এবং দার্জিলিং পাহাড়ের তিনটি আসন ছাড়া প্রায় সব আসন নিয়েই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সেরে নিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। সূত্রের খবর, অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল দক্ষিণ থেকে এবং দিলীপ ঘোষকে খড়্গপুর সদর থেকে প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

  • Lieutenant Deeksha Tripathi: নারীশক্তির নয়া নজির! আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন কমব্যাট কোর্সে সফল প্রথম মহিলা অফিসার দীক্ষা ত্রিপাঠী

    Lieutenant Deeksha Tripathi: নারীশক্তির নয়া নজির! আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন কমব্যাট কোর্সে সফল প্রথম মহিলা অফিসার দীক্ষা ত্রিপাঠী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নতুন ইতিহাস গড়লেন লেফটেন্যান্ট দীক্ষা ত্রিপাঠী। তিনি কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন (AMAR) কমব্যাট কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করলেন। এই প্রথম কোনও মহিলা সেনা অফিসার এই নজির স্থাপন করেছেন। পুনের আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং (AIPT)-এ এই কঠোর প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পন্ন করেন তিনি। সেনাবাহিনীর মতে, আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন কোর্সটি অন্যতম কঠিন কমব্যাট প্রশিক্ষণ, যেখানে একজন সেনার শারীরিক সহনশীলতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতাকে কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়।

    অসাধারণ দৃঢ়তা, অধ্যবসায়ের ফল

    লাদাখভিত্তিক সেনার ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কর্পস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, “লেফটেন্যান্ট দীক্ষা ত্রিপাঠী এই কোর্সের কঠিন চ্যালেঞ্জ শুধু সহ্যই করেননি, বরং অসাধারণ দৃঢ়তা, অধ্যবসায় এবং সংকল্পের মাধ্যমে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।” এতে ধারণা করা হচ্ছে যে তিনি লাদাখ অঞ্চলে দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই কোর্সটি একটি আধুনিক ও কাঠামোবদ্ধ কমব্যাট প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, যা ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট এবং আন্তর্জাতিক কৌশলের সমন্বয়ে তৈরি। এতে খালি হাতে যুদ্ধ, অস্ত্রসহ লড়াই, স্ট্যামিনা বৃদ্ধি এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য মানসিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

    উচ্চ পার্বত্য ও প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয়

    এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হল কাছাকাছি সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে সৈনিকদের দক্ষ করে তোলা, যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র সবসময় ব্যবহারযোগ্য নাও হতে পারে। এতে আক্রমণাত্মক কৌশল, অস্ত্রভিত্তিক যুদ্ধ এবং ধারালো বা তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য ও প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধ করার জন্য এই কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এমন এলাকায় শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা দুটিই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে নারী শক্তি

    গত কয়েক বছরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলাদের অংশগ্রহণ দ্রুত বেড়েছে। আগে যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই মহিলাদের প্রবেশ সীমিত ছিল, এখন তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় কাজ করছেন। এর আগে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে, আর্মি মেডিক্যাল কর্পসের মেজর দীক্ষা সি. মুদুদেভান বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পরিচয়বাহী সম্মানজনক ‘বলিদান ব্যাজ’ পাওয়া প্রথম মহিলা হন। বর্তমানে ইনফ্যান্ট্রি ও আর্মার্ড কর্পস বাদে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রায় সব শাখাতেই মহিলা অফিসাররা কাজ করছেন। এছাড়াও ২০১৬ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় প্রথমবারের মতো মহিলা ফাইটার পাইলট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে একটি বড় মাইলফলক তৈরি হয়। এখন তারা রাফাল ও সুখোই-৩০-এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমান চালাচ্ছেন এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজেও দায়িত্ব পালন করছেন। লেফটেন্যান্ট দীক্ষা ত্রিপাঠীর এই সাফল্য ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

  • Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তির বার্তা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের (Masoud Pezeshkian) সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। মধ্যপ্রাচ্য যখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়েই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন মোদি (Modi Pezeshkian Discussion)। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা, সেইসঙ্গে পণ্য ও জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার। ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ওই অঞ্চলে বাড়তে থাকা সংঘাত, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সোশ্যাল হ্য়ান্ডেলে সেই আলোচনার কথা তুলে ধরলেন।

    আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হওয়ার বার্তা

    সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবিক দিকটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হতে হবে। মোদি বলেন, “ওই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছি।” পশ্চিম এশিয়ায় যেভাবে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেভাবে একের পর এক হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় যেভাবে উত্তেজনার আবহে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে, প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।”

    ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থে জোর

    আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ এবং পণ্য পরিবহণ যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। মোদি নিজেই তাঁর পোস্টে জানান, যুদ্ধের আবহে ভারতের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক লক্ষ ভারতীয়র সুরক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে

    ভারত সরকার এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার পথেই জোর দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম ও আলোচনার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত যে কোনওভাবেই যুদ্ধ চায় না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার পক্ষপাতী, তা আবারও বিশ্বমঞ্চে মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদি। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের কথা আবারও ওনাকে বলেছি। আলোচনা ও কূটনীতির পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী মোদির এই বার্তা আবার প্রমাণ করেছে ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে।

    মোদিকে বার্তা পেজেশকিয়ানের

    মোদিকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তবে তারা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইরানের স্কুল ছাত্রীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। এদিকে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ব্রিকস গোষ্ঠীর ভূমিকার তাৎপর্য তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। এর আগে ১১ মার্চ রুশ এবং পাক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরে পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, তিন শর্তে ইরান যুদ্ধ বন্ধে রাজি হবে- আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও হামলা না ঘটে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ

    বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) ইতিমধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির (Abbas Araghchi) সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এই আলোচনায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    ইরানে থাকা ভারতীয়দের সহায়তা

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ছাত্র ও তীর্থযাত্রীরা আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সংকটের সময় অনেক ভারতীয়কে ইতিমধ্যেই দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তর করার কাজও চলছে। সামগ্রিকভাবে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস যারা দেশ ছাড়তে চান তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে। প্রয়োজনে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের স্থলপথ ব্যবহার করে সেখান থেকে বাণিজ্যিক বিমানে ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দূতাবাস ভিসা প্রক্রিয়া, সীমান্ত পারাপার এবং যাত্রাপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছে।

    ‘হরমুজ প্রণালী’

    এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই সংকটের আবহে বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা রয়টার্স প্রথমে ভারতীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করে, ভারত এবং ইরান, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্য়ে কথা হওয়ার পর, ভারতের জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসার অনুমতি দিয়েছে ইরান। কিন্তু পরে সংবাদসংস্থা রয়টার্স-ই ইরানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায় যে, ভারতের সঙ্গে ইরানের এরকম কোনও চুক্তি হয়নি। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে সম্প্রতি ৩ বার কথোপকথন হয়েছে। শেষ কথা হয়েছে জাহাজ পরিবহণের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে। এর বেশি আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।” তবে বুধবারই হরমুজ পার করে আসা একটি জাহাজ মুম্বইতে পৌঁছেছে। এর আগে অবশ্য গোটা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়িয়ে ইরানের সদ্য় মনোনীত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই হুঙ্কারের সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওভাবেই ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) খোলা হবে না। এটাকে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, “শহিদদের মৃত্যুর বদলা আমরা নেবই। কারণ, তাঁরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার জন্য জীবন দিয়েছেন।”

    মোদির বার্তা, ভারত-ইরান যোগ কূটনৈতিক উদ্যোগ

    আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের (US-Iran Conflict) অবিরাম যুদ্ধ চলছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। একের পর এক প্রাণহানি হচ্ছে। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ যেতে না দিয়ে ইজরায়েল-আমেরিকার পাশাপাশি কার্যত গোটা বিশ্বের মাথাব্য়াথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। কারণ এই রুট দিয়েই তেলবহনকারী জাহাজগুলি যাতায়াত করে। একমাত্র রাশিয়া ও চিনকে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতমাসে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তাঁদের কথা হল। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা-ইজরায়েল তো বটেই এবং ইরানের সঙ্গেও ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শান্তি ও কূটনীতির বার্তা দিলেন, তা বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তাই আরও স্পষ্ট করছে।

LinkedIn
Share