Tag: news in bengali

news in bengali

  • SIR in Bengal: ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ! এসআইআর শুনানিতে আরও ২৪ লক্ষ ভোটারকে ডাকল কমিশন

    SIR in Bengal: ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ! এসআইআর শুনানিতে আরও ২৪ লক্ষ ভোটারকে ডাকল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-এর সময় (SIR in Benga) ভোটার তালিকায় (Voter List) অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে চার আধিকারিক এবং এক কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করার নির্দেশ দিল কমিশন (ECI)। মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর- এই রকম সীমান্তবর্তী জেলাগুলির অন্তত ৫০টি বিধানসভার ক্ষেত্রে প্রজেনি ম্যাপিংয়ের শতাংশ অস্বাভাবিক হারে বেশি বলে কমিশন সূত্রে খবর। এর আগে ৩০ লক্ষ ভোটারকে ডাকা হয়েছে শুনানিতে, যাঁরা ‘নো ম্যাপড’, এবার ডাকা হচ্ছে আরও ২৪ লক্ষকে।

    এফআইআর করার নির্দেশ কমিশনের

    কমিশন (Election Commission) সূত্রে খবর, এর আগে রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (Manoj Pant) পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও এবং এইআরও বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কমিশনের নতুন নির্দেশ, ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ডিইও/জেলাশাসক-কে এফআইআর দায়ের করতে হবে। শুধু তাই নয়, সেই বিষয়ে রিপোর্টও দিতে হবে। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে গত বছর ৫ অগাস্ট ওই চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করতে হবে। অভিযোগ, এই চার অফিসারকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করলেও তাদের বিরুদ্ধ এফআইআর করেনি নবান্ন। কয়েকমাস কেটে গেলেও কোনও কঠিন পদক্ষেপ করা হয়নি। ই আর অপেক্ষা না করে এবার সরাসরি জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে এফআইআর করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। আইন বা নিয়ম মোতাবেক, নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মী, আধিকারিক ও পুলিশের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের।

    ‘প্রজেনি ম্যাপড’দের নোটিস

    এসআইআর (SIR in Benga) শুনানি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এক ব্যক্তির সঙ্গে ৬ জনের লিঙ্ক করানো হয়েছে এরকম সংখ্যা ২৪ লক্ষ। নাম মিলছে না ৫১ লক্ষ। বাবার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম এমন ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার। বাবার বয়সের সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি ৮ লক্ষ ৪১ হাজার। ঠাকুরদার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের অসঙ্গতি ৩ লক্ষ।এখনও পর্যন্ত ডেকে পাঠানো হচ্ছিল, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই। এরকম বহু ভোটারের তথ্যও সামনে এসেছে, যাঁদের ২০০২ সালের তালিকায় নাম ছিল, তবুও তাঁরা শুনানিতে এসেছেন। এবার গত পরশু থেকে কমিশন ‘প্রজেনি ম্যাপড’দের নোটিস পাঠাতে শুরু করেছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যেই নোটিস পৌঁছে যাবে।

  • Ramakrishna 547: “মহামায়ার মায়া যে কি… ঘরের ভিতর ছোট জ্যোতিঃ ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগল! আর জগৎকে ঢেকে ফেলতে লাগল”

    Ramakrishna 547: “মহামায়ার মায়া যে কি… ঘরের ভিতর ছোট জ্যোতিঃ ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগল! আর জগৎকে ঢেকে ফেলতে লাগল”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট

    পূর্বকথা—ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—ঠাকুর সিদ্ধপুরুষ না অবতার?

    ঈশ্বরের সঙ্গে কথা—মায়াদর্শন—ভক্ত আসিবার অগ্রে তাদের দর্শন—কেশব সেনকে ভাবাবেশে দর্শন—অখণ্ড সচ্চিদানন্দদর্শন ও নরেন্দ্র—ও কেদার—প্রথম উন্মাদে জ্যোতির্ময় দেহ—বাবার স্বপ্ন —ন্যাংটা ও তিনদিনে সমাধি—মথুরের ১৪ বৎসর সেবা ১৮৫৮-৭১—কুঠির উপর ভক্তদের জন্য ব্যাকুলতা—অবিরত সমাধি। সবরকম সাধন।

    ঠাকুর (Ramakrishna) এই কথা বলিতে বলিতে নামিয়া আসিয়া মেঝেতে মহিমাচরণের নিকট বসিলেন। কাছে মাস্টার ও আরও দু-একটি ভক্ত। ঘরে রাখালও আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মহিমার প্রতি)—আপনাকে অনেকদিন বলবার ইচ্ছা ছিল পারি নাই—আজ বলতে ইচ্ছা হচ্ছে।

    “আমার যা অবস্থা—আপনি বলেন, সাধন করলেই ওরকম হয়, তা নয়। এতে (আমাতে) কিছু বিশেষ আছে।”

    মাস্টার, রাখাল প্রভৃতি ভক্তেরা অবাক্‌ হইয়া ঠাকুর কি বলিবেন উৎসুক হইয়া শুনিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—কথা কয়েছে!—শুধু দর্শন নয়—কথা কয়েছে। বটতলায় দেখলাম, গঙ্গার ভিতর থেকে উঠে এসে—তারপর কত হাসি! খেলার ছলে আঙ্গুল মটকান হল। তারপর কথা (Kathamrita)।—কথা কয়েছে!

    “তিনদিন করে কেঁদেছি, আর বেদ পুরাণ তন্ত্র—এ-সব শাস্ত্রে কি আছে—(তিনি) সব দেখিয়ে দিয়েছেন।

    “মহামায়ার মায়া যে কি, তা একদিন দেখালে। ঘরের ভিতর ছোট জ্যোতিঃ ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগল! আর জগৎকে ঢেকে ফেলতে লাগল!

    “আবার দেখালে,—যেন মস্ত দীঘি, পানায় ঢাকা! হাওয়াতে পানা একটু সরে গেল,—অমনি জল দেখা গেল। কিন্তু দেখতে দেখতে চার দিককার পানা নাচতে নাচতে এসে, আবার ঢেকে ফেললে! দেখালে, ওই জল, যেন সচ্চিদানন্দ, আর পানা যেন মায়া। মায়ার দরুন সচ্চিদানন্দকে দেখা যায় না,—যদিও এক-একবার চকিতের ন্যায় দেখা যায়, তো আবার মায়াতে ঢেকে ফেলে (Kathamrita)।

    “কিরূপ লোক (ভক্ত) এখানে আসবে, আসবার আগে দেখিয়ে দেয়। বটতলা থেকে বকুলতলা পর্যন্ত চৈতন্যদেবের সংকীর্তনের দল দেখালে। তাতে বলরামকে দেখলাম—না হলে মিছরি এ-সব দেবে কে! আর এঁকে (Ramakrishna) দেখেছিলাম।”

  • Daily Horoscope 03 January 2026: উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশযাত্রার সুযোগ আসতে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 03 January 2026: উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশযাত্রার সুযোগ আসতে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) অধিক খরচের জন্য চিন্তা বাড়বে।

    ২) প্রেমের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হতে পারে।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    বৃষ

    ১) শেয়ার বাজারে লগ্নি নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।

    ২) পেটের কষ্ট বাড়তে পারে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    মিথুন

    ১) সকাল থেকে শরীরে জড়তা বাড়তে পারে।

    ২) মাথার যন্ত্রণা বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) প্রতিকূল কাটবে দিনটি।

    কর্কট

    ১) প্রেমের ব্যাপারে মানসিক যন্ত্রণা বাড়তে পারে।

    ২) বাড়তি আয় করতে গিয়ে বিপদ ঘটতে পারে।

    ৩) নিজেকে সময় দিন।

    সিংহ

    ১) রাজনীতির লোকেদের একটু চিন্তার কারণ দেখা দিতে পারে।

    ২) উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশযাত্রার সুযোগ আসতে পারে।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    কন্যা

    ১) প্রেমের ক্ষেত্রে অশান্তি মিটে যেতে পারে।

    ২) কোনও কারণে মনে ভীষণ সংশয় বা ভয় কাজ করবে।

    ৩) ধৈর্য ধরুন।

    তুলা

    ১) কাউকে কোনও ব্যাপারে কথা দেবেন না।

    ২) আধ্যত্মিক বিষয়ে বিশেষ মনোযোগী হয়ে উঠবেন।

    ৩) সমাজের জন্য কাজ করুন।

    বৃশ্চিক

    ১) গবেষণার কাজে সাফল্য লাভ।

    ২) খুব নিকট কোনও মানুষের জন্য দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হতে পারে।

    ৩) গুরুজনের পরামর্শ মেনে চলুন।

    ধনু

    ১) সখ মেটাতে বাড়তি খরচ হতে পারে।

    ২) কোনও বন্ধুর জন্য বিপদ থেকে উদ্ধার লাভ।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    মকর

    ১) মহিলাদের জন্য নতুন কিছু শুরু করার ভালো সময়।

    ২) কল্যাণকর কাজে কিছু অর্থ ব্যয় হতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কুম্ভ

    ১) চক্ষুরোগ দেখা দিতে পারে।

    ২) মায়ের ব্যবহারে কষ্ট পেতে পারেন।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মীন

    ১) সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বিবাদ হতে পারে।

    ২) কপালে অপমান জুটতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • S Jaishankar: “সন্ত্রাসে মদতদাতা প্রতিবেশীর হাত থেকে আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের রয়েছে”, পাকিস্তানকে বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: “সন্ত্রাসে মদতদাতা প্রতিবেশীর হাত থেকে আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের রয়েছে”, পাকিস্তানকে বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আত্মরক্ষার প্রশ্নে ভারত যা করবে, তার জন্য কারও কাছে জবাবদিহি করবে না। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ফের একবার পাকিস্তানকে (India-Pakistan) কাঠগড়ায় তুললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ করেছিল ভারত। সেই উদাহরণ টেনে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানিয়েছেন, নিজের লোকদের রক্ষা করার অধিকার রয়েছে ভারতের। পাকিস্তানকে ‘খারাপ পড়শি’ বলেও তোপ দেগেছেন তিনি। তবে সরাসরি পাকিস্তানের নাম করেননি তিনি। জয়শঙ্কর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশকেও। এ ক্ষেত্রেও সে দেশের নাম করেননি বিদেশমন্ত্রী।

    পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, বাংলাদেশকে বার্তা

    শুক্রবার আইআইটি মাদ্রাজের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। সেখানেই তিনি জানান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখার অধিকার রয়েছে ভারতের। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা নিয়ে বাইরের কারও পরামর্শ নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। জয়শঙ্কর (S Jaishankar) বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া বদ প্রতিবেশী যখন থাকে, তখন ভারতকে তার জনগণকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেই হয়। আমরা কী ভাবে সেই পদক্ষেপ করব, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। আমাদের সুরক্ষার জন্যই আমরা যা করার করব।” একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাম না-করেই ভারতের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী দেশটিকে বার্তা দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “আপনাকে কেউ ভুল বুঝলে, কী ভাবে তা আটকাবেন?” নিজেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আপনি যদি সততা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন, তা হলে অন্য দেশ এবং সে দেশের মানুষেরাও সম্মান করবে।” এ ক্ষেত্রে কোনও দেশের উদাহরণ না-দিলেও মনে করা হচ্ছে জয়শঙ্কর বাংলাদেশের কথাই বলতে চেয়েছেন।

    সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি নিয়ে তোপ

    বৃহস্পতিবারই পাকিস্তানের (India-Pakistan) তরফে হুঁশিয়ারির সুরে বলা হয়েছিল, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবণ্টন (আইডব্লিউটি) চুক্তি ভেঙে ভারত পশ্চিমমুখী নদীগুলির জলের উপর দখলদারি কায়েম করতে চাইলে, কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না। শুক্রবার তারও জবাব দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “আপনি আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়াবেন, আবার জলবণ্টন করার আর্জিও জানাবেন— এটা হতে পারে না।” প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন (আইডব্লিউটি) চুক্তি স্থগিত রেখেছে ভারত। জয়শঙ্কর আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিকে জল-বণ্টন চুক্তি-সহ বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও যুক্ত করেন। ভারত কয়েক দশক আগে জল-বণ্টন চুক্তি করেছিল বলে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, এই ধরনের সহযোগিতা সুসম্পর্কের পূর্বশর্ত। তিনি বলেন, “অনেক বছর আগে আমরা একটি জল-বণ্টন চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলাম, কিন্তু যদি কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ চলে, তবে কোনও সুসম্পর্ক থাকে না। যদি সুসম্পর্ক না থাকে, তবে সেই সুসম্পর্কের সুবিধাগুলোও পাওয়া যায় না।”

  • Protest in Iran: খতমের পথে খামেনেই জমানা? ইরানে মোল্লাতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনে পুলিশি দমনে নিহত অন্তত ৭

    Protest in Iran: খতমের পথে খামেনেই জমানা? ইরানে মোল্লাতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনে পুলিশি দমনে নিহত অন্তত ৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদ বেশিদিন মানুষের নিত্য প্রয়োজনকে চাপা দিয়ে রাখতে পারে না। তার স্পষ্ট উদাহারণ ইরান। গত এক সপ্তাহ ধরে মুদ্রাস্ফীতি, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃ্দ্ধি, অর্থনৈতিক সঙ্কট ঘিরে আন্দোলন মাথাচারা দিয়ে উঠেছে ইরানের (Protest in Iran) রাজপথে। বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন হাজার হাজার জনতা। এরইমধ্যে গত তিন-চারদিনে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এরমধ্যে একজন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। এছাড়াও, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ৩০ জন।

    আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইরানের শিয়া ধর্মগুরু তথা শীর্ষ ধর্মনেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষের গণবিদ্রোহ রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ইংরেজি নববর্ষের দিন। নিউইয়ার (New Tear) ইরানে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা ইরান জুড়ে বিক্ষোভকারী পথে নেমে পড়েন। তাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায়। তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক স্লোগান মুখে মিছিল বের করে। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের মুখে রেজা পহলভির (Reza Pahlavi) সমর্থনে স্লোগান দিতে শোনা যায়। রেজা হলেন প্রয়াত শাহ মহম্মদ রেজা পহলভির (Shah Mohammad Reza Pahlavi) ছেলে। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের সময় তাঁকে অপসারিত করে চূড়ান্ত ক্ষমতা হস্তগত করেন আয়াতুল্লা। তারপর থেকেই আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায় ইরানের। শাহ জিন্দাবাদ— স্লোগান শোনা যায় তেহরানের সর্বত্র। রেজা পহলভি বর্তমানে আমেরিকায় নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি এক্সবার্তায় লিখেছেন, আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। জয় আমাদের নিশ্চিত। কারণ আমাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। যতক্ষণ এই জমানা সিংহাসন দখল করে থাকবে, ততক্ষণ দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চলতে থাকবে। আরও দুর্দশা নেমে আসতে চলেছে।

    কেন বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে

    ইরানের (Protest in Iran) সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক সঙ্কট। ডিসেম্বর মাসে দেশে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে প্রায় ৪২.৫ শতাংশে। তার উপর ২০২৫ সালে ডলারের তুলনায় ইরানি রিয়ালের মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু পরিকাঠামো ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইজরায়েল-আমেরিকার হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সপ্তাহেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারকে প্রতিবাদীদের ‘ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া’ শোনার পরামর্শ দেন। ঘটনার প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর। ওই দিন রাজধানী তেহরানের কিছু দোকানদার মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেছিলেন। এরপরেই আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই দেশের অন্য প্রান্তে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির পড়ুয়ারাও। রাজপথে শুরু হয় বিক্ষোভ। ফলে সব মিলিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকার।

    ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতি

    ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতিতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠায় সপ্তাহখানেক ধরে রাজধানী তেহরানে (Tehran) ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। ফলে এই অবস্থায় দেশের মানুষের জীবন ও শান্তি রক্ষায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। এই মুহূর্তে ৯ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের দেশ ইরান ভয়াবহ আর্থিক সংকটে রয়েছে এর মূল কারণ, মার্কিন ডলার প্রতি ইরানি রিয়ালের (IRR) মূল্য। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির হার ৪২ শতাংশ। পেজেশকিয়ান কার্যত মেনে নিয়েছেন যে, ১ ডলারের দাম এখন প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়ালের কাছাকাছি। আর এই মুহূর্তে রিয়ালের অবক্ষয় রোধের কোনও উপায় সরকারের হাতেও নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইরানে চলতি বছরে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

    মৌলবাদের বিরোধিতা

    ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের কারণে ক্ষুব্ধ মোবাইল ফোন বিক্রেতারা এই বিক্ষোভ শুরু করে, তবে কিছু বিক্ষোভকারীকে দেশের ধর্মভিত্তিক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও শোনা গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও এই পরিস্থিতির জন্য ইরানের শাসনব্যবস্থার চরমপন্থা ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি এক্স-এ পোস্ট করেছেন, ‘এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে ইরানের জনগণ ধসে পড়া অর্থনীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে… তাঁর (খামেনেই) নেতৃত্বে ইরানি শাসনব্যবস্থা চরমপন্থা ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে… ইরানের জনগণের এমন একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রাপ্য, যা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে – মোল্লা ও তাঁদের সহযোগীদের নয়।’

    বাংলাদেশ-ভারত-ইরান

    বর্তমানে ইরানের (Protest in Iran) মতোই বাংলাদেশেও মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে সে দেশের একাংশ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আপাতত নির্ধারিত নির্বাচনে জামাত অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে, এটি হবে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের দিকে ঝুঁকে পড়ার আরেকটি উদাহরণ। মহম্মদ ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশও ক্রমশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফলতা পাচ্ছে ভারত। মোদি সরকারের হাত ধরে ভারতে মুদ্রাস্ফীতির হার ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সরকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে করছাড় দেওয়ায় গাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু ভারতের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বাংলাদেশে আসছে না। বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে। গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানে মোলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব সেদেশের মুক্তমনারা। রাজধানী তেহরান, মাশহাদ-সহ একাধিক শহরে পথে নেমে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের একটাই দাবি, দেশে মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক। পতন হোক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকারের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে শুরু করে আমজনতা-ইরানের সকলের মুখে একটাই স্লোগান, স্বৈরাচারীর পতন হোক। তাঁদের দাবি, শাহ বংশের হাতে আবারও ফিরে যাক ইরানের শাসন।

  • Tobacco Pan Masala Tax Hike: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বহুমূল্য সিগারেট, নেশার আরও আরও কোন জিনিসের দাম বাড়ছে?

    Tobacco Pan Masala Tax Hike: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বহুমূল্য সিগারেট, নেশার আরও আরও কোন জিনিসের দাম বাড়ছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরে নেশার জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হবে ধূমপায়ীদের! দাম বেড়ে যাচ্ছে সিগারেট, তামাক, পানমশলার (Tobacco Pan Masala Tax Hike)। কেন্দ্রীয় সরকার ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তামাকজাত দ্রব্য ও পানমশলার উপর বাড়তি কর আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চলেছে। জিএসটি কমপেনসেশন সেস (GST Compensation Cess) তুলে দিয়ে তার জায়গায় চালু হচ্ছে নতুন এক্সাইজ ডিউটি এবং স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস (Health and National Security Cess)। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নতুন কর কাঠামো বিদ্যমান জিএসটি হারের উপর অতিরিক্তভাবে বসবে।

    কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি, কবে থেকে কার্যকর

    প্রায় সাত বছর পরে ফের তামাকজাত পণ্যের উপরে আবগারি শুল্ক বসাতে চলেছে কেন্দ্র। লক্ষ্য রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে করফাঁকি ঠেকানো। সম্প্রতি সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক এবং পানের মশলার উপর নতুন স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস কার্যকর হবে। জিএসটি হারের উপরে অতিরিক্ত হিসেবে এই নতুন কর ব্যবস্থা আরোপ করা হবে। সে ক্ষেত্রে বর্তমানে যে ক্ষতিপূরণ সেস বা কম্পেনসেশন সেস এই তথাকথিত ‘সিন গুডস’ এর উপরে নেওয়া হচ্ছিল, তা সম্পূর্ণ ভাবে তুলে নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে সংসদে দুটি পৃথক বিল পাশ হয়, যার মাধ্যমে পানের মশলা উৎপাদনের উপর স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস আরোপ এবং তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া তৈরি হয়। সেই বিলগুলির অনুমোদনের পরেই সরকার তা কার্যকর করার তারিখ ঘোষণা করল। অর্থ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান জিএসটি ক্ষতিপূরণ সেস আর বলবৎ থাকবে না।

    কোন দ্রব্যে কত কর

    সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পানের মশলা (Tobacco Pan Masala Tax Hike), সিগারেট, তামাক এবং অনুরূপ তামাকজাত পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ হারে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, বিড়ির ক্ষেত্রে জিএসটি হার নির্ধারিত হয়েছে ১৮ শতাংশ। তবে এখানেই করের বোঝা শেষ হচ্ছে না। জিএসটির পাশাপাশি পানের মশলার উপরে আরোপ করা হবে নতুন স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস, আর তামাক ও তামাকজাত অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে নেওয়া হবে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক। চিউয়িং ও জর্দা সেন্টেড তামাক এবং গুটখার উপরে যথাক্রমে ৮২ শতাংশ এবং ৯১ শতাংশ হারে আবগারি শুল্ক ধার্য করা হবে। অর্থাৎ, জিএসটির বাইরে পৃথকভাবে এই কর আদায় করা হবে, যা সংশ্লিষ্ট পণ্যের চূড়ান্ত দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। সিগারেটের ফিল্টারের আকার এবং দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে শুল্ক ধার্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি।

    কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন

    বুধবার এই সংক্রান্ত আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। ‘চিউইং টোব্যাকো, জর্দা সেন্টেড টোব্যাকো এবং গুটখা প্যাকিং মেশিনস (ক্যাপাসিটি ডিটারমিনেশন অ্যান্ড কালেকশন অব ডিউটি) রুলস, ২০২৬’ নামে নতুন নিয়ম কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। এই নিয়মে তামাক ও গুটখা উৎপাদনে ব্যবহৃত প্যাকিং মেশিনের উৎপাদন ক্ষমতার ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ ও আদায়ের একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এর ফলে কর ফাঁকি রোধ করা সহজ হবে এবং উৎপাদনের প্রকৃত পরিমাণ অনুযায়ী রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা যাবে। এই নিয়মে, তামাকজাত পণ্য, গুটখা এবং পান মশলার প্যাকেজিং ও পাউচ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের কারখানায় যেখানে প্যাকিং মেশিন রয়েছে, সেখানে সিসিটিভি-র ব্যবস্থা করতে হবে। কমপক্ষে দু’বছরের জন্য এই সিসিটিভি-র ফুটেড সংরক্ষণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে।

    জনস্বাস্থ্যেই এই পদক্ষেপ

    এর পাশাপাশি উৎপাদনকারী সংস্থাকে কারখানায় কতগুলি মেশিন রয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ক্ষমতা কত তা আবগারি দফতরের আধিকারিকদের জানাতে হবে। কমপক্ষে ১৫ দিন কোনও মেশিন বন্ধ থাকলে তা জানিয়ে আবগারি শুল্কে ছাড়ের দাবিও জানাতে পারবে সংস্থাগুলি। সরকারের দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তামাক ও পানের মশলা ব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্যের উপরে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এই ক্ষেত্র থেকে রাজস্ব আদায়ের কাঠামো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করাই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য। তবে শিল্প মহলের একাংশের আশঙ্কা, করের অতিরিক্ত বোঝার ফলে উৎপাদন খরচ ও খুচরো দাম বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে ক্রেতাদের উপরে।

  • Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালের মধ্যেই বায়ুসেনা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হবে বলে মনে করছে মন্ত্রক ও প্রতিরক্ষা মহল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য-আকাশে জ্বালানি ভরার বিমান, আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর পাশাপাশি, “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের আওতায় ফ্রান্স থেকে ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ মিড-এয়ার রিফুয়েলার

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) বা প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদের নেওয়া প্রধান সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে ইজরায়েল থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭-ভিত্তিক মিড-এয়ার রিফুয়েলার কেনার পরিকল্পনা। ইজরায়েল থেকে ছয়টি রিফুয়েলার কেনার জন্য মূল্য চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি গঠন করছে মন্ত্রক। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা। একমাত্র দরদাতা হিসেবে ইজরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ-এর (IAI) সঙ্গে আলোচনা চলছে। দাম নির্ধারণ শেষ হলে প্রস্তাবটি ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর কাছে পাঠানো হবে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ২০০৩ সালে অন্তর্ভুক্ত ছয়টি রাশিয়ান আইএল-৭৬এম রিফুয়েলার রয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত প্রস্তুতির সমস্যায় এই বহর কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা।

    ১২টি এমব্রেয়ারে বসবে এইডব্লু অ্যান্ড সি

    একই সঙ্গে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ১২টি এইডব্লু অ্যান্ড সি (AEW&C) সিস্টেম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই ব্রাজিল থেকে ছয়টি এমব্রেয়ার বিমান কেনার জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে চলেছে। এই বিমানগুলিতে বসানো হবে ডিআরডিও-উন্নত নেত্রা মার্ক-২ এইএসএ রেডার, যা ২৭০ ডিগ্রি নজরদারি এবং উন্নত ইলেকট্রনিক ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধে সক্ষমতা বাড়াবে।

    ৬টি এয়ারবাস হয়ে উঠবে অ্যাওয়াক্স

    একইসঙ্গে, ফ্রান্স থেকে কেনা ছয়টি এয়ারবাস এ৩১৯ বিমানে ৩৬০ ডিগ্রি রোটোডোম রেডার বসিয়ে সেগুলিকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাওয়াক্স (AWACS) প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করছে মন্ত্রক। মিড-এয়ার রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স-এর ঘাটতির বিষয়টি অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন স্পষ্টভাবে সামনে আসে, যখন পাকিস্তানের তুলনায় এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা হয় বায়ুসেনার। পাশাপাশি,  ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য ৩৬টি অতিরিক্ত মিটিওর এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে। কয়েকদিন আগেই, রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ২৮০টি দীর্ঘ ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ছাড়পত্র দিয়েছিল ডিএসি।

    নজরে ১১৪টি এমআরএফএ

    এছাড়া ১১৪টি এমআরএফএ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে সরকার। ভারতে রাফাল বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের (MRO) পরিকাঠামো আগে থেকেই থাকায়, নতুন কোনও যুদ্ধবিমান ধারা চালুর বদলে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন আধিকারিকরা। সবশেষে, আকাশপথে বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়া গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট পথে আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা এবং প্যান্টসির মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

  • Bangladesh Hindu Attack: ফের বাংলাদেশে হামলার মুখে হিন্দু! প্রৌঢ়কে ধারাল অস্ত্রের কোপ, জ্যান্ত জ্বালানোর চেষ্টা

    Bangladesh Hindu Attack: ফের বাংলাদেশে হামলার মুখে হিন্দু! প্রৌঢ়কে ধারাল অস্ত্রের কোপ, জ্যান্ত জ্বালানোর চেষ্টা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন (Bangladesh Hindu Attack) বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি সেই তালিকায় নয়া সংযোজন হিন্দু প্রৌঢ় খোকন দাস। এবার ঘটনাস্থল শরিয়তপুরের ডামুড্যা। বুধবার রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন খোকনচন্দ্র দাস। রাস্তায় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে। মারধর করে। খোকনকে একদল উন্মত্ত জনতা ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপায় বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। মারধর, শারীরিক নিগ্রহের পর তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়! পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। তবে কাছে থাকা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে কোনওরকমে প্রাণরক্ষা করেন তিনি।

    খোকনচন্দ্রের অবস্থা সঙ্কটজনক

    ডামুড্যা থানার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙার কাছে এই ঘটনা ঘটে। খোকন পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতা। তিনি অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর কাছে টাকা ছিল। পথে দুষ্কৃতীরা সেই অটোরিকশা থামিয়ে খোকনকে নামিয়ে আনে ও তাঁকে মারধর শুরু করে। থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “দুষ্কৃতীরা খোকনের তলপেটে ছুরি মেরে তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে খোকন পুকুরে ঝাঁপ দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে শরিয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।” তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খোকনের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। তাঁকে ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

    কেন এই নির্মমতা? প্রশ্ন খোকনের স্ত্রীর

    ঘটনায় বাকরুদ্ধ খোকন দাসের (Bangladesh Hindu Attack) স্ত্রী সীমা। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভিকে সীমা বলেছেন, তিনি বুঝতে পারছেন না কেন তাঁর স্বামী খোকনচন্দ্র দাসকে এত নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হল। এলাকায় তাঁদের কোনও শত্রু ছিল না বলেই দাবি সীমা দাসের। সীমার কথায়, “কারোর সঙ্গে কোনও বিষয়ে আমাদের বিরোধ নেই। আমরা বুঝতে পারছি না কেন হঠাৎ আমার স্বামীকে নিশানা করা হল।” এই কথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান যে, চিকিৎসকরা খোকন দাসের একটি চোখে অস্ত্রোপচার করেছেন এবং তাঁকে শীঘ্রই আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হবে। বাংলাদেশে যাঁরা এই ঘটনার কথা বলেছেন, তাদের বেশিরভাগই পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। যা স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যেকার ভয়ের মাত্রার ইঙ্গিত।

    আমরা হিন্দু! শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই

    খোকনের স্ত্রী সীমা দাস বলেন, “আমরা হিন্দু। আমরা শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই। হামলাকারীরা মুসলিম এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। আমি সরকারের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছি।” তিনি আরও জানান, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা তাঁর স্বামী হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনকে চিনতে পেরেছেন। সীমার দাবি, “এ কারণেই ওরা আমার স্বামীর মাথা ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।” এই ঘটনা সামনে আসার পর বাংলাদেশে হিন্দুদের (Bangladesh Hindu Attack) নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ গত দুই সপ্তাহে মধ্যে এরকম ঘটনা তিনবার ঘটল। কিছুদিন আগে দীপুচন্দ্র দাসকে জ্যান্ত জ্বালিয়ে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তারপর রাজবাড়িতে সম্রাট নামে এক যুবকেরও গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় ২৯ বছরের যুবক অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২৫ বছরের দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আগুন লাগানো হয় শরীরে। আর এবার খুনের চেষ্টা করা হল খোকনকে।

    সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা হবে না?

    খোকন দাস রাজধানী ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে তাঁর গ্রামে ওষুধের দোকান ও মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবসা করতেন। বুধবার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর এই হামলা হয়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দিতে পেরেছিলেন। ফলে তাঁর মাথা ও মুখ আগুনে পুড়ে গেলেও শরীরের বাকি অংশটা ঠিক আছে। বীভৎস নির্যাতনের পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খোকনকে খুনের চেষ্টার ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। এর আগে দুই যুবকের মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল ভারত। হিন্দু বা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা হবে না? সেই প্রশ্ন তুলেছিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

    হিন্দু হামলার নিন্দা

    সীমা দাস ও খোকন দাসের তিন সন্তান রয়েছে। সন্তানদের (Bangladesh Hindu Attack) মধ্যে একজন জানিয়েছে যে, তাদের বাবার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং শরীরকে স্থিতিশীল করতে অন্তত ছয় ইউনিট রক্ত ​​প্রয়োজন। খোকনের স্ত্রীর বক্তব্য, “কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে জানি না। আমরা বিচার চাই। আমার স্বামী সরল মানুষ। কারও ক্ষতি করেননি।” মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসা বেড়ে চলেছে, যা বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ তৈরি করছে। বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন এই হামলার নিন্দাও করেছে। ইউনূসের সঙ্গে কর্মরত আধিকারিকরা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিচ্ছেন বলে দাবি করলেও, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

  • Kolkata Air Pollution: বছরের শুরুতেই লাগামহীন বায়ুদূষণ! কলকাতার বাতাস কি বিপদ বাড়াচ্ছে?

    Kolkata Air Pollution: বছরের শুরুতেই লাগামহীন বায়ুদূষণ! কলকাতার বাতাস কি বিপদ বাড়াচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নতুন বছরের প্রথম দিনেই লাগামহীন দূষণ! আর তার জেরেই কলকাতাবাসীর জন্য কয়েক গুণ বিপদ বাড়ল। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।‌ নতুন বছরের শুরুতে উদযাপনে গা ভাসিয়েছেন আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ! কিন্তু এই উৎসব-উদযাপনের মরশুমেই কলকাতার বায়ুদূষণ (Kolkata Air Pollution) টেক্কা দিচ্ছে দেশের অন্যান্য শহরকেও! তাই নতুন বছরে স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কেন কলকাতার ‘বাতাস’ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিন কলকাতা শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল বেশ উদ্বেগজনক। বাতাসের মান তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

    তথ্য অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিনে কলকাতার অধিকাংশ জায়গায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (Kolkata AQI Level) ৩০০ ছাড়িয়েছে। বিধাননগরে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিলো ৩৫৩, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ৩৪৩, বালিগঞ্জে ৩৬১। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এআইকিউ ৫০ মধ্যে থাকলে তবেই সেই বাতাস শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় বায়ুর মান মারাত্মক খারাপ। তার ফলে নানান সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কোন বিপদের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    ফুসফুসের একাধিক রোগের কারণ!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই মারাত্মক বায়ুদূষণের জেরে শরীরে গভীর প্রভাব পড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেল। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই আবহাওয়ার জেরে ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হন। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের কাশি-সর্দির মতো নানান ভোগান্তি বাড়ে। আবার অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়। তার উপরে এই মারাত্মক বায়ুদূষণ সমস্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বক্ষঃরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাতাসে ধুলিকণার পরিমাণ বেড়ে গেলে, দূষিত উপাদানের মাত্রা বাড়লে ফুসফুসের উপরে চাপ বাড়ে। দূষিত উপাদান ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়াও হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD), নিউমোনিয়ার মতো নানান রোগের দাপট বাড়াতে পারে। তাই বায়ুদূষণ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।

    হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে!

    ফুসফুসের পাশপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় বায়ুদূষণ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে রক্তপ্রবাহেও দূষিত উপাদান প্রবেশ করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

    মস্তিষ্কের বিকাশের পথে বাধা!

    বায়ুদূষণের জেরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র। এমনটাই জানাচ্ছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন দূষিত বাতাসের জেরে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না। স্নায়ুর সক্রিয়তা বজায় রাখতে বিশেষত স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার জন্য দূষণহীন আবহাওয়া জরুরি। কিন্তু কলকাতা ও তার আশপাশের পরিবেশ শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত নয়। এই বাতাসে নানান স্নায়বিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শিশুদের পাশপাশি দূষিত বাতাস বড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদের মতো নানান সমস্যা তৈরি হয়।

    ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দূষিত পরিবেশ ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাতাসের এই খারাপ গুণমান ফুসফুস, হৃদপিন্ড, বক্ষঃনালীর জন্য বিপজ্জনক। এই ক্ষতিকারক উপাদান নিঃশ্বাসের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে শরীরে প্রবেশ করছে। আর পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। লাগাতার দূষিত উপাদান শরীরে প্রবেশের জেরে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে শিশু, কিশোর এবং বয়স্কদের। তাঁরা সবচেয়ে বেশি এর ফলে স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হন। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, বায়ুদূষণ রুখতে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের একযোগে সচেতনতা ও সক্রিয়তা জরুরি। তবেই এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব হবে।

  • Vande Bharat Sleeper: দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার পেল কলকাতা, গুয়াহাটি পর্যন্ত এই ট্রেনের ভাড়া কত?

    Vande Bharat Sleeper: দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার পেল কলকাতা, গুয়াহাটি পর্যন্ত এই ট্রেনের ভাড়া কত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরে বাংলাকে উপহার ভারতীয় রেলের। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন পাচ্ছে বাংলা। এবার গুয়াহাটি থেকে কলকাতা রুটেও ছুটবে বন্দে ভারত। তবে তা স্লিপার ভার্সন। অর্থাৎ বসে নয়, শুয়েই দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া যাবে। আজ বৃহস্পতিবার, বছরের প্রথমদিন নয়া এই রুটের ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর কথায়, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুয়াহাটি-কলকাতা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন।

    কবে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু

    প্রথম বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পাওয়ার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গকে। ২০২৬ সালের পয়লা দিনে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, কলকাতা এবং গুয়াহাটির মধ্যে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালানো হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৮ জানুয়ারি বা ১৯ জানুয়ারি হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অনুমোদন মিললেই ঠিক হয়ে যাবে যে কবে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করা হবে।

    কোন রুটে চলবে ট্রেন?

    বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ফলে উত্তর বা দক্ষিণ – কোনও বঙ্গের মানুষের মনেই দুঃখ থাকবে না। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল, কাটোয়া হয়ে মালদা টাউন ছুঁয়ে এনজেপি পৌঁছবে এই ট্রেন। তারপরে নিউ কোচবিহার হয়ে নিউ বঙ্গাইগাঁও হয়ে গুয়াহাটি পৌঁছবে ট্রেনটি। অসমের কামরূপ মেট্রোপলিটন, বঙ্গাইগাঁও, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া জেলা জুড়বে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন।

    বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ভাড়া

    রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে গুয়াহাটিতে বিমানে করে যেতে যা খরচ পড়ে, তার থেকে অনেক কম ভাড়ায় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে যাতায়া করা যাবে। প্লেনে ভাড়া পড়ে ৬,০০০ টাকা থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে। সেখানে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে থার্ড এসিতে যেতে খাবার-সহ খরচ হবে ২,৩০০ টাকার মধ্যে। আর সেকেন্ড এসির ক্ষেত্রে গুণতে হবে প্রায় ৩,০০০ টাকা। আর ফার্স্ট এসিতে প্রায় ৩,৬০০ টাকা ভাড়া পড়বে। মধ্যবিত্তের কথা মাথায় ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। ট্রেনের অন্যতম আকর্ষণ থাকবে বাঙালি ও অসমিয়া খাবার। জানা যাচ্ছে, কলকাতা থেকে ছাড়ার সময় বাঙালি খাবার এবং গুয়াহাটি থেকে ছাড়ার সময় অসমিয়া খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন যাত্রীরা।

    কতজন যাত্রা করতে পারবেন এই ট্রেনে

    দেশের অন্যতম প্রিমিয়াম ট্রেনগুলির মধ্যে একটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। যা নিঃসন্দেহে রেল পরিষেবায় গতি বাড়িয়েছে। এবার দেশের ট্র্যাকেই ছুটবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বন্দেভারতের স্লিপার ভার্সন। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, গুয়াহাটি-কলকাতার মধ্যে ছুটবে এই ট্রেন। ১৬ কোচের ট্রেনটি সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। শুধু তাই নয়, কবচ, ইমার্জেন্সি টক ব্যাক সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক সমস্ত পরিষেবাই যাত্রীরা এই ট্রেনে পাবেন বলে জানিয়েছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। জানা গিয়েছে, ১৬টি কোচের মধ্যে ১১টি এসি থ্রি-টায়ার, চারটি এসি ২ টায়ার এবং একটি ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচ থাকবে। একসঙ্গে ৮২৩ জন যাত্রী নয়া এই ট্রেনে যাত্রা করতে পারবেন বলেও জানা গিয়েছে।

    বন্দেভারত স্লিপারে ‘ওয়াটার টেস্ট’

    গত কয়েকদিন আগেই নয়া বন্দেভারত স্লিপারে ‘ওয়াটার টেস্ট’ করা হয়। সেই ভিডিও খোদ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজে তাঁর সমাজমাধ্যমে দিয়েছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনটিকে ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার গতিতে চালানো হলেও গ্লাস থেকে একটুকু জল চলকে পড়ছে না। কোটা থেকে নাগদা সেকশনে ট্রেনটির পরীক্ষা করা হয়। সেখানে একেবারে ফুল মার্কস নিয়েই পরীক্ষায় পাশ করে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি।

LinkedIn
Share