Tag: pakistan

pakistan

  • Pakistan Train Hijack: বালোচ আন্দোলনের জন্য দায়ী জিন্নার বিশ্বাসঘাতকতা!

    Pakistan Train Hijack: বালোচ আন্দোলনের জন্য দায়ী জিন্নার বিশ্বাসঘাতকতা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন তিনেক আগে পাকিস্তানের বালোচিস্তানে হাইজ্যাক (Pakistan Train Hijack) করা হয়েছিল জাফর এক্সপ্রেস। পণবন্দি করা হয়েছিল বহু যাত্রীকে। পাকিস্তানের অভিযোগ, জাফর এক্সপ্রেস অপহরণের ছক কষা হয়েছে আফগানিস্তান থেকে (Baloch Movement)। ট্রেন অপহরণের পর থেকেই এমনই অভিযোগ ও দাবি তুলেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যে বলে পাল্টা দাবি তালিবানের।

    বালোচিস্তান (Pakistan Train Hijack)

    পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও কম জনবহুল এলাকা বালুচিস্তান। ১১ মার্চ এখান থেকেই জাফর এক্সপ্রেস ছিনতাই করেছিল বালোচ বিদ্রোহীরা। পণবন্দি করা হয়েছিল নিরাপত্তা কর্মী-সহ ১০০ জন যাত্রীকে। এই বিদ্রোহের মূল কারণ বালোচবাসীর সঙ্গে পাকিস্তানের জনক মহম্মদ আলি জিন্নার বিশ্বাঘাতকতা। ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট জন্ম হয় পাকিস্তানের। তার ঠিক পরের বছর থেকেই সদ্যোজাত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নেন বালোচ জাতীয়তাবাদীরা। তারপর থেকে অশান্তি লেগেই রয়েছে পাকিস্তানের এই অংশে। ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটেছে ১৯৫৮-৫৯, ১৯৬২-৬৩, ১৯৭৩-৭৭ সালে। ২০০৩ সাল থেকে প্রায়ই ঘটছে হিংসার ঘটনা।

    হাইজ্যাক আস্ত এক্সপ্রেস ট্রেন

    চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটল গত ১১ মার্চ। এদিন বালুচ বিদ্রোহীরা হাইজ্যাক করে আস্ত একটা এক্সপ্রেস ট্রেন। পণবন্দি করা হয় যাত্রীদের। বালুচিস্তান একটি শুষ্ক এলাকা (Pakistan Train Hijack)। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের পাঞ্জাব-প্রভাবিত রাজনীতির দ্বারা উপেক্ষিত এলাকা। বালুচবাসী অর্থনৈতিকভাবে নিপীড়িত। তাদের খনিজ সম্পদ আহরণ করে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, বালুচবাসীর অসন্তোষের অন্যতম কারণ এটাই। বালুচবাসীর অসন্তোষের অন্যতম লক্ষ্য হল গওদর বন্দর। চিনের সহায়তায় এই বন্দরের উন্নয়ন করছে পাকিস্তান। বালুচ বিদ্রোহীরা চিনা কর্মীদর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। প্রসঙ্গত, গওদর বন্দরটি চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের একটা অংশ।

    রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সাক্ষী

    ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স রিভিউ’য়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বালোচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব বিভক্ত। ফলস্বরূপ, বালোচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তার লক্ষ্য বা কৌশলের ক্ষেত্রে একক নয়।” সশস্ত্র বিদ্রোহের সর্বশেষ পর্বটি শুরু হয় ২০০৪ সালে। ২০০৬ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে প্রভাবশালী বালোচ নেতা আকবর খান বুগতি নিহত হওয়ার পর এটি আরও তীব্রতা পায় (Baloch Movement)। বুগতি বেশি স্বায়ত্তশাসন, সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক গ্যাস আয় থেকে ন্যায্য ভাগ দাবি করছিলেন। প্রসঙ্গত, এর আগে সাতের দশকে বালোচবাসী বিদ্রোহের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সাক্ষী হয়েছিলেন (Pakistan Train Hijack)।

    রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সাক্ষী

    ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। ওই বছরই স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। তার পরেই অক্সিজেন পান বালোচবাসী। বালোচিস্তানে ন্যাশনাল আওয়ামি পার্টির নেতারা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে উদ্দীপিত হয়েছিলেন। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মারি, মেঙ্গল এবং বুগতি গোত্রপ্রধানদের নেতৃত্বে প্রায় ৫৫ হাজার বালোচ যোদ্ধা ৮০ হাজার পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। পাকিস্তান বিমান বাহিনী বালোচিস্তানের বিভিন্ন গ্রামে বোমা বর্ষণ করে। তার ফলে নিহত হন হাজার হাজার সাধারণ বালোচবাসী। একাত্তরের সংঘর্ষ এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে ইরান আশঙ্কা করেছিল বালোচ জাতীয়তাবাদের প্রভাব তাদের এলাকায় হয়ত ছড়িয়ে পড়বে। সেই আশঙ্কায়, পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা দিয়েছিল তারা।

    বালোচ বিদ্রোহীদের জন্য মজুত করা অস্ত্র উদ্ধার

    ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়াউল হক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভুট্টোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। পরে উপজাতিদের ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। বালোচিস্তান থেকে প্রত্যাহার করা হয় সেনা। তার পরেই বালোচিস্তানে অবসান ঘটে সশস্ত্র সংগ্রামের। প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার জেরেই ঢেউ ওঠে প্রতিবাদের (Baloch Movement)। ১৯৭৩ সালে ভুট্টো বালুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার প্রধান আকবর খান বুগতিকে বরখাস্ত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরাকি দূতাবাস থেকে বালোচ বিদ্রোহীদের জন্য মজুত করা অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই অজুহাতে তিনি জানিয়ে দেন, বালুচিস্তানে হবে ব্যাপক সামরিক অভিযান। এরই ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। এই সংগ্রাম চলেছিল ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত, টানা চার বছর ধরে। এই ঘটনা চতুর্থ বালুচিস্তান সংঘাত নামে পরিচিত (Pakistan Train Hijack)।

    “ওয়ান ইউনিট” পরিকল্পনা

    ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান চালু করে “ওয়ান ইউনিট” পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে দেশটির প্রদেশগুলি পুনর্গঠিত করা হয়। এই পরিকল্পনায় বালোচিস্তানকে অন্যান্য প্রদেশের সঙ্গে একীভূত করা হয়। তার জেরে স্বায়ত্তশাসন খর্ব হয় বালোচিস্তানের। এতেই খেপে যান বালোচ নেতারা। ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় নেতাদের মধ্যে। কালাতের খান, নওরোজ খান ১৯৫৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু করেন পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ। ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান নওরোজ খানকে আত্মসমর্পণে রাজি করায়। সেজন্য পাক সরকার তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করে বলে অভিযোগ। তাঁকে ক্ষমা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। যদিও আত্মসমর্পণ করার পর রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তৎকালীন পাক সরকার। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাঁকে ও তাঁর ছেলেদের গ্রেফতার করা হয়। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাঁর পাঁচ আত্মীয়কে।

    ক্ষোভের আগুন উসকে দেয়

    পাক সরকারের এই বিশ্বাসঘাতকতা বালোচবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন আরও উসকে দেয়। যার জেরে আরও জোরালো হয় স্বাধীনতাকামী আন্দোলন। তবে বালোচিস্তান বিদ্রোহ শুরুর বীজ অঙ্কুরিত হয় ১৯৪৭ সালে, পাকিস্তান যখন বিচ্ছিন্ন হয় ভারতের থেকে। বালোচিস্তান অঞ্চলটি আগে চারটি দেশীয় রাজ্য হিসেবে ছিল—কালাত, খারান, লাস বেলা এবং মাকরান। সেই সময় তাদের সামনে তিনটি বিকল্প ছিল—ভারতের সঙ্গে যোগদান, পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আর না হয় স্বাধীনতা বজায় রাখা। জিন্নার প্রভাবে তিনটি রাজ্য পাকিস্তানের সঙ্গে মিশে যায় (Pakistan Train Hijack)। কালাতের শাসক খান মীর আহমেদ ইয়ার খান, যিনি খান অব কালাত নামেও পরিচিত, তিনিই বেছে নেন স্বাধীনতা।

    জিন্নাকে তার আইনি উপদেষ্টা

    ১৯৪৬ সালে খান অব কালাত জিন্নাকে তার আইনি উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি যাতে ব্রিটিশ ক্রাউনের সামনে তাঁর মামলা উপস্থাপন করতে পারেন, তাই এই ব্যবস্থা। ১৯৪৭ সালের ৪ অগাস্ট দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বালোচবাসীর স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত সমর্থিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন, খান অব কালাত এবং জওহরলাল নেহরু। ছিলেন জিন্না স্বয়ংও। জিন্নার জোরালো দাবির ফলে খারান ও লাস বেলাকে কালাতের সঙ্গে একীভূত করে একটি সম্পূর্ণ বালুচিস্তান গঠনের পরিকল্পনা করা হয় (Baloch Movement)। প্রসঙ্গত, বালোচরা কখনওই “ওয়ান ইউনিট” নীতিকে মেনে নেয়নি। পাঁচ বছরের মধ্যেই, ১৯৬৩ সালে বালুচিস্তানে তৃতীয় বালোচ বিদ্রোহ দেখা দেয়।

    বিদ্রোহের লক্ষ্য

    শের মুহাম্মদ বিজরানি মারির নেতৃত্বে, এই বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল বালোচিস্তানের গ্যাস সম্পদের রাজস্ব ভাগাভাগির জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, “ওয়ান ইউনিট” পরিকল্পনার বিলুপ্তি এবং বালোচ বিদ্রোহীদের মুক্তি। এই বিদ্রোহ শেষ হয় ১৯৬৯ সালে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে। বন্দি বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মুক্তি দেওয়া হয়। ১৯৭০ সালে “ওয়ান ইউনিট” নীতি বাতিল করার পর বালোচিস্তানকে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে অবশ্য স্বাধীনতা লাভ করে বালোচিস্তান। তবে সেটা মাত্র ২২৬ দিনের জন্য। পরে বালুচবাসীর ইচ্ছায় নয়, বরং জিন্নার বিশ্বাসঘাতকতা ও ইসলামাবাদের সামরিক শক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়। ৭৫ বছর আগের এই বিশ্বাসঘাতকতা ও অঞ্চল (Baloch Movement) এবং জনগণের শোষণ আজও বালুচ জনগণের সশস্ত্র প্রতিরোধের মূল কারণ হিসেবে রয়ে গেছে (Pakistan Train Hijack)।

  • Balochistan Liberation Army: পাক সেনা বালোচ জঙ্গিদের ভিন্ন মত! সত্যি আড়াল করছে পাকিস্তান, কী অবস্থা জাফর এক্সপ্রেসের?

    Balochistan Liberation Army: পাক সেনা বালোচ জঙ্গিদের ভিন্ন মত! সত্যি আড়াল করছে পাকিস্তান, কী অবস্থা জাফর এক্সপ্রেসের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক সেনা সকালে দাবি করেছে, অভিযান শেষ। জঙ্গি মুক্ত জাফর এক্সপ্রেস (Pakistan Train Hijack)। মুক্ত সমস্ত পণবন্দী। ঘটনায় ৩৩ জঙ্গি নিহত হয়েছে। তারপরই বালোচদের পাল্টা ঘোষণা, পাক সেনা মিথ্যে কথা বলছে। বালোচ লিবারেশন আর্মির (Balochistan Liberation Army) পাল্টা দাবি, ১৫৪ জন বন্দী এখনও তাদের কবজায় আছে। সব মিলিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দাবি, পাল্ট দাবিতে উত্তপ্ত পাকিস্তান।

    পাক সেনার দাবি

    পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ জানান, সশস্ত্র বাহিনী সব জঙ্গিকে হত্যা করেছে। সব যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় সফলভাবে অভিযান শেষ করেছে সেনা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৩৩ জঙ্গির সবাই নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, “খবর পাওয়ার পরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। খুব সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়েছে। কারণ বিএলএ জঙ্গিরা স্যাটেলাইট ফোনে আফগানিস্তানে তাদের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল।’’ ট্রেনে মহিলা ও শিশুদের নিরাপদে বের করে আনাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমেই আত্মঘাতী জঙ্গিদের খতম করে পাকিস্তানি সেনার স্নাইপাররা। যাতে আচমকা বিস্ফোরণে তারা গোটা ট্রেন উড়িয়ে দিতে না পারে। এরপর একে একে ট্রেনের সমস্ত কামরা খালি করা হয়। নির্মূল করা হয় বালোচ জঙ্গিদের। বিএলএ যাত্রীদের মানবঢাল বানিয়ে রেখেছিল। তাই যে কোনও মূল্যে সাধারণ মানুষকে বাঁচানোই পাকিস্তানি সেনার প্রথম কাজ। এমনটাই বলেছেন আহমেদ শরিফ।

    মুক্ত পণবন্দির দাবি

    হামলা থেকে কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরেছেন মুশতাক মহম্মদ। তিনি বলেন, “আচমকাই বিশাল বিস্ফোরণ হল। তারপরই এলোপাথাড়ি গুলি চলতে শুরু করল। এই দৃশ্য আজীবন মনে থাকবে।” জাফর এক্সপ্রেসে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পেশোয়ার যাচ্ছিলেন ইশাক নূর। তিনি বলেন, “গুলির আওয়াজ পেতেই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরি। স্ত্রীও তাই করেন। গুলি লাগলে আমাদের লাগুক। সন্তানদের যেন কিছু না হয়।’’ মুশতাক জানান, জঙ্গিরা সবার পরিচয়পত্র খুঁটিয়ে দেখে কয়েকজনকে আলাদা সরিয়ে নিয়ে যায়। তাঁর কথায়, “আমাদের কামরার সামনে ৩ জন জঙ্গি পাহারায় ছিল। তারা বলে দিয়েছিল, সাধারণ নাগরিক, বৃদ্ধ, মহিলা এবং বালোচদের কোনও ক্ষতি হবে না।’’ সন্ধ্যা নাগাদ বন্দীদের এক এক করে ছাড়তে শুরু করে বিএলএ। মুক্ত পণবন্দিদের কথায়, ট্রেনের ভিতর সারি সারি লাশ পড়ে রয়েছে। অভিযানের সময় যাঁরা নিহত হয়েছেন বলে অনুমান।

    বালোচ লিবারেশন আর্মির দাবি

    বিএলএ দাবি করেছে যে ট্রেনে মোট ৪২৬ জন যাত্রী ছিল, যার মধ্যে ২১৪ জন পাকিস্তানি সেনা ছিল। বিএলএ জানিয়েছে, তারা ৬০ জন সৈন্যকে হত্যা করেছে এবং ১৫০ জন এখনও তাদের হেফাজতে রয়েছে। এর সাথে সাথে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণে তিনজন বিএলএ কমান্ডারও নিহত হয়েছেন। বিপরীতে, পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে যে তাদের সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনী অভিযান সম্পন্ন করেছে, ২১ জন যাত্রী এবং ৪ জন সৈন্য নিহত হয়েছে। পাকিস্তান বলছে যে ৩৩ জন বিএলএ যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং ২১২ জন নাগরিককে কোনও ক্ষতি ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    কূটনৈতিক মহলের অনুমান

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং সরকারের আর বালোচিস্তানের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই, বলে মনে করছে বিশ্ববাসী। বালোচিস্তানের ৬-৭টি জেলা সম্পূর্ণরূপে সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ন্ত্রণে। পাকিস্তান সরকার বা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। অনেকের মতে, বালোচিস্তান এবং সিন্ধ প্রদেশের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি এখন একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে এই যৌথ বাহিনী। বালোচিস্তানে ট্রেন হাইজ্যাক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

  • Pakistan Train Hijack: পাকিস্তানে আস্ত ট্রেন হাইজ্যাক করল বালুচ জঙ্গিরা, পণবন্দি শতাধিক যাত্রী

    Pakistan Train Hijack: পাকিস্তানে আস্ত ট্রেন হাইজ্যাক করল বালুচ জঙ্গিরা, পণবন্দি শতাধিক যাত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালুচিস্তানে আবার জঙ্গি হামলা। একটি ট্রেন লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে, ট্রেন চালককে জখম করে যাত্রী ও নিরাপত্তা রক্ষীদের পণবন্দি করেছে জঙ্গিরা। যাত্রীবোঝাই ট্রেন অপহরণ করে প্রায় ১০০ জনকে পণবন্দি করেছে স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র বালুচ গোষ্ঠী বিএলএ (বালুচ লিবারেশন আর্মি)। ঘটনার জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান জুড়ে। নামানো হয়েছে সেনা। বালুচিস্তানের কোয়েট্টা থেকে ট্রেনটি খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে যাচ্ছিল ট্রেনটি। সেই সময় চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। মঙ্গলবার এই খবর আসা মাত্রই প্রাদেশিক সরকার জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে এলাকায়।

    পণবন্দি ১০০ যাত্রী

    বিএলএ-র তরফেও দাবি করা হয়েছে, ১০০ জন যাত্রী তাদের হাতে পণবন্দি! বালুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ বলেন, ‘‘পেহরো কুনরি এবং গাদালারের মাঝামাঝি যাত্রিবাহী ট্রেনটি অপহরণ করা হয়।’’ এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে ছু়ড়তে সশস্ত্র বালুচ বিদ্রোহীরা ট্রেনের দখল নেয় বলে তাঁর অভিযোগ। শাহিদ জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, পাহাড় ঘেরা রেলপথের আট নম্বর টানেলের ভিতরে অপহৃত ট্রেনটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে ‘চূড়ান্ত সতর্কতা’ জারি করেছে বালুচিস্তান প্রাদেশিক সরকার। মনে করা হচ্ছে, অপহৃত ট্রেন দখলমুক্ত করতে অভিযানে নামতে পারে পাক সেনা। পাক রেল দফতরের আধিকারিক মহম্মদ কাশিফ জানিয়েছেন, ন’টি কোচবিশিষ্ট ট্রেনটিতে প্রায় ৫০০ যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গিদের পণবন্দি হয়েছেন।

    পাক সেনা অভিযান নয়

    পাক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুচ লিবারেশন আর্মি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই অপারেশন চালিয়েছে। মাশকাফ, ধাদর, বোলান এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটানো হয় রেললাইনে। সংগঠন বিবৃতিতে আরও বলে, এই বিস্ফোরণে রেললাইনে ফাটল ধরায় জাফফর এক্সপ্রেস থামতে বাধ্য হয়। ট্রেন মাঝপথে থেমে গেলে জঙ্গিদল ট্রেনের দখল নেয়। সংগঠনের দাবি, সব যাত্রী ও নিরাপত্তাকর্মীদের বন্দি করা হয়েছে। জঙ্গিদের আরও দাবি, এই হামলায় ৬ পাক সেনা নিহত হয়েছেন। কয়েকশো যাত্রী তাদের হেফাজতে রয়েছেন। পাকিস্তান কোনও ধরনের সেনা অভিযান চালালে সব যাত্রীদের খতম করার হুমকিও দিয়েছে সংগঠনটি।

  • Mufti Shah Mir: বন্ধু মীরের বুকে ‘ছুরি’ বসিয়ে দিল পাকিস্তানের আইএসআই!

    Mufti Shah Mir: বন্ধু মীরের বুকে ‘ছুরি’ বসিয়ে দিল পাকিস্তানের আইএসআই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর। ভারতের প্রাক্তন নৌসেনা কুলভূষণ যাদবকে অপহরণে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকে তিনি (Mufti Shah Mir) সাহায্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ। পাকিস্তানের স্থানীয় সময় শুক্রবার বালুচিস্তানের তুরবাতে মসজিদ থেকে নমাজ আদায় করে বেরোনোর সময় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন বন্দুকধারী বাইকে করে এসে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে পাক গুপ্তচর সংস্থার ‘বন্ধু’ তথা ধর্মীয় নেতা মুফতি শাহ মীরকে।

    ‘বন্ধু’র হাতেই বন্ধু খুন! (Mufti Shah Mir)

    এর পরেই জল্পনা ছড়িয়েছে, ‘বন্ধু’ আইএসআইয়ের হাতেই খুন হতে হয়েছে মীরকে। কেন ‘বন্ধু’কে খুন করল আইএসআই? সূত্রের খবর, ইদানিং অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে মীরের সঙ্গে আইএসআইয়ের দূরত্ব বাড়ছিল। তার জেরেই মীরকে খুন করা হয় বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর। মীর যে রাজনৈতিক দল জামাইত উলেমা-এ-ইসলামের সদস্য, গত সপ্তাহেই ওই দলের আরও দুই সদস্য খুন হন রহস্যজনকভাবে। সেবারও দুষ্কৃতীরা বাইকে করে এসে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে গিয়েছিল। হয়তো কাকতালীয়, কিন্তু একই দলের পরপর তিনজন খুন হওয়ার নেপথ্যে পাক গুপ্তচর সংস্থার হাত রয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। এর আগেও দুবার প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল মীরের ওপর। বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার আর শেষরক্ষা হল না। পুলিশের একটি সূত্রের খবর, আততায়ীরা মীরের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। সুযোগ বুঝে শুক্রবারই তাঁকে শেষ করে দেয় দুষ্কৃতীরা।

    মুখ ও মুখোশ

    বালুচিস্তানে মীর ধর্মীয় নেতা হিসেবেই পরিচিত। সূত্রের খবর, এই মুখোশের আড়ালেই আরও একটা পরিচয় ছিল মীরের। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নানা রকম বেআইনি কাজ পরিচালনা করা ও তার নেতৃত্ব দেওয়া (Mufti Shah Mir)। অস্ত্রপাচার, মাদক পাচার এবং মানব পাচারের সঙ্গেও মীর জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের দাবি, পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গি শিবিরে নিত্য যাতায়াত ছিল মীরের। ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশেও তিনি মদত দিতেন। বালুচিস্তানে তরুণ প্রজন্মকে জঙ্গি দলে যোগদানে উৎসাহও দিতেন মীর। শুধু তাই নয়, আত্মঘাতী হামলাকারী নির্বাচন করা, অপহরণ, বালুচিস্তানের বহু হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও ছিল মীরের বিরুদ্ধে। বালুচিস্তানের বিদ্রোহীদের সম্পর্কে পাক সেনাকে খবরাখবর আদানপ্রদানও করতেন আইএসআইয়ের এই ‘বন্ধু’। ২০১৬ সালে জইশ-অল-আদল গোষ্ঠীর প্রধান মুল্লা ওমর ইরানি ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে অপহরণ করেন কুলভূষণকে। সেই কুলভূষণকে আইএসআইয়ের হাতে তুলে দিতে মীর সাহায্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ (Mufti Shah Mir)।

  • Pakistan: পাকিস্তানে খতম ভারত বিরোধী মৌলবাদী, অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা গুলিতে করল ঝাঁঝরা

    Pakistan: পাকিস্তানে খতম ভারত বিরোধী মৌলবাদী, অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা গুলিতে করল ঝাঁঝরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কুলভূষণ যাদব অপহরণে পাকিস্তানের আইএসআইকে সাহায্য করার অভিযোগ ছিল পাকিস্তানের (Pakistan) অন্যতম ধর্মগুরু মুফতি শাহ মীরের বিরুদ্ধে। বালুচিস্তানের তুরবাতে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তাঁকেই গুলি করে হত্যা করল। জানা গিয়েছে পাকিস্তানের একটি ইসলামী মৌলবাদী রাজনৈতিক দল জেআইইউ-এফ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে চলতেন এই মীর। আরও জানা গিয়েছে,  এই ধর্মগুরু নামাজের পর মসজিদ থেকে বের হতেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    নিয়মিত জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির পরিদর্শনও করতে তিনি (Pakistan)

    বালুচিস্তানের তুরবাতের বাসিন্দা মুফতি শাহ মীর মানব পাচারেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। এর পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র পাচারের কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। একটি পাক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে মুফতির হত্যা প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ কর্তা রশিদ-উর-রহমান জেহরি বলেছেন, ‘‘মুফতি শাহ মীর আজিজ মসজিদের ভিতরে নমাজ পড়ছিলেন। তখন বন্দুকধারীদের এক জন মসজিদে প্রবেশ করে এবং মুফতি বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঝাঁঝরা করে দেয়।’’

    কূলভূষণ যাদবের গ্রেফতারির কাহিনী (Pakistan)

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩ মার্চ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন অফিসার কূলভূষণ যাদবকে গ্রেফতার করে পাক সেনা। সেসময় আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে (Pakistan) ভারত জানিয়েছিল, অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা অফিসার কুলভূষণকে ইরান থেকে অপহরণ করা হয়। তারপর কূলভূষণের বিরুদ্ধে বালুচিস্তানে বিদ্রোহীদের মদত দেওয়ার মতো মিথ্যা গল্প সাজায় পাকিস্তান। মনে করা হয়, কুলভূষণকে অপহরণে বড় হাত ছিল মুফতির।

    আইএসআইয়ের নির্দেশে আফগানিস্তানেও গিয়েছিলেন মুফতি

    অভিযোগ, আইএসআইয়ের নির্দেশে আফগানিস্তানেও গিয়েছিলেন মুফতি। সেখান থেকে অনেক তথ্য পাক সেনাবাহিনীর কাছে পাচার করেন। বালুচ বিদ্রোহীদের দমনেও নাকি সক্রিয় ছিলেন তিনি। সেই মুফতির মৃত্যুতে পাকিস্তান (Pakistan) জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে একেবারে। এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থার মাথাদেরও। ধর্মীয় নেতার উপর কে এমন হামলা চালাল, তা জানতে মাঠে নেমেছে পাক গোয়েন্দারাও।

  • Indian Defence Ministry: রাশিয়ার সঙ্গে ২১,১৬১ কোটির প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের! ক্ষমতা বাড়বে টি-৭২ ট্যাঙ্কের

    Indian Defence Ministry: রাশিয়ার সঙ্গে ২১,১৬১ কোটির প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের! ক্ষমতা বাড়বে টি-৭২ ট্যাঙ্কের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার (Russian Company) অস্ত্র রফতানিকারক সংস্থা রোসোবারোন এক্সপোর্টের সঙ্গে ২,১৬১ কোটি টাকার চুক্তি নয়াদিল্লির। গতকাল শুক্রবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (Indian Defence Ministry) এক বিবৃতিতে এমনই তথ্য জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭০-এর দশকে ভারতে প্রথম চালু হয়েছিল টি-৭২ ট্যাঙ্ক, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান যুদ্ধ সরঞ্জাম। জানা গিয়েছে, বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৭৮০ হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিনযুক্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ টি-৭২ ট্যাঙ্ক সক্রিয় রয়েছে। নতুন করে কেনা ১ হাজার হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন দিয়ে বর্তমান ট্যাঙ্কগুলির ইঞ্জিনকে প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (Indian Defence Ministry) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এতে ভারতীয় সেনার শক্তি আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এরফলে উদ্বেগ বাড়ল চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের।

    ইঞ্জিন তৈরি হবে চেন্নাইয়ে(Indian Defence Ministry)

    এই চুক্তির আওতায় রাশিয়ান সংস্থ রোসোবারোনএক্সপোর্ট থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হবে ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্মার্ড ভেহিক্যালস নিগম লিমিটেডকে। এরফলে চেন্নাইয়ের আভাদিতে অবস্থিত হেভি ভেহিক্যাল কারখানাতে দেশীয়ভাবে এই ইঞ্জিনগুলি তৈরি হবে। মোদি সরকারের এমন উদ্যোগের ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি আরও গতি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে রাশিয়া ভারতের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সরবরাহ ক্ষমতা বেশ খানিকটা কমেছে।

    সম্প্রতি কী বলেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী?

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন যে, যুদ্ধ সরঞ্জামের স্বনির্ভরতার (Indian Defence Ministry) ক্ষেত্রে ভারত ক্রমশই এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেছেন, ‘‘ভারত যুদ্ধ সরঞ্জামের রফতানির দিক থেকেও ক্রমশই এগিয়ে চলেছে। দশ বছর আগে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত রফতানি করত ৬০০ কোটি টাকার যুদ্ধ সরঞ্জাম। কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। ২০২৯ ও ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত রফতানি করতে পারবে ৫০,০০০ কোটি টাকার যুদ্ধ সরঞ্জাম।’’ অন্যদিকে তথ্য বলছে ২০২৪ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা খাত প্রতিবছর কুড়ি শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন অস্ত্র, গোলাবারুদ, মহাকাশ সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স ও নৌ প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Upendra Dwivedi: ‘‘পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ আঁতাঁত রয়েছে’’, সরব সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

    Upendra Dwivedi: ‘‘পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ আঁতাঁত রয়েছে’’, সরব সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান ও চিনের আঁতাঁত নিয়ে এবার সরব হলেন দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi)। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথাই বলেন তিনি। নিজের বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, ‘‘এই দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত বড়সড় আঁতাঁত আজও রয়েছে। আমরা যদি ভার্চুয়াল ক্ষেত্রে দেখি তাহলে এই আঁতাঁত একশো শতাংশ রয়েছে। পাকিস্তান যে সমস্ত সরঞ্জাম পায় তা বেশিরভাগই চিনের তৈরি। তাই এই দুই দেশের কাছ থেকে যুদ্ধের হুমকি একটি বাস্তবতা।’’

    ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে অনুপ্রবেশ থামার কোনও লক্ষণ নেই

    এই সাক্ষাৎকারের সময় সেনাপ্রধান (Upendra Dwivedi) উপেন্দ্র দ্বিবেদীকে জিজ্ঞেস করা হয়, পাকিস্তান সম্পর্কিত নানা ইস্যু। উঠে আসে পাকিস্তানের বর্তমান সামরিক অবস্থান, ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর পরিস্থিতি এবং অনুপ্রবেশ। এর উত্তরে সেনাপ্রধান বলেন, ‘‘ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যে অনুপ্রবেশ তা থামার কোনও লক্ষণ দেখাই যাচ্ছে না কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। সন্ত্রাসবাদীদের প্রতিহত করার জন্য সবসময় ভারতের সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হয়।’’

    ২০১৮ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা কমেছে ৮৩ শতাংশ

    দেশের সেনাপ্রধান (Upendra Dwivedi) এদিন নিজের বক্তব্যে বেশ কিছু তথ্য ও পরিসংখ্যান দেন এবিষয়ে। তিনি বলেন, ‘‘ভারতীয় সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবাদ দমনে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। এবিষয়ে দেশ অনেকটা এগিয়েছে।’’ এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৮ সাল থেকে দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ৮৩ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Army Chief) এদিন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নিয়োগ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘সেনাবাহিনীর সক্রিয়তার কারণে এই নিয়োগও ব্যাপকভাবে হ্রাস করতে পারা গিয়েছে। সম্প্রতি মাত্র ৪৫ জন ব্যক্তি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে।’’

    জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

    এর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) জানান। নিজের বক্তব্যে তিনি আরও বলেন,‘‘অমরনাথ যাত্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। জম্মু-কাশ্মীর বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ কবলিত এলাকা থেকে পর্যটনে রূপান্তরিত হয়েছে।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘‘যে সমস্ত সন্ত্রাসবাদীকে গ্রেফতার করা গিয়েছে, তাদের ৬০ শতাংশই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে এভাবেই অনুপ্রবেশ ঘটায় পাকিস্তান।’’ দেশের সেনাপ্রধান নিজের বক্তব্যে আরও জানান যে, পাকিস্তান বর্তমানে আভ্যন্তরীণ সংকটে ভুগছে এবং আরও গভীরভাবে এই দেশটি ডুবে যাচ্ছে। এনিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরাও চাই পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক। একইসঙ্গে আমরা এটাও চাই পাকিস্তান যেন সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থলে পরিণত না হয়।

    আফস্পা আইন নিয়ে কী বললেন?

    দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) বলেন, ‘‘সন্ত্রাস কবলিত জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সশস্ত্র বাহিনী এবং আফস্পা আইন বর্তমানে অপসারণ করা সম্ভব নয়।’’ এমন পরিস্থিকি কাশ্মীরে নেই বলেও জানান তিনি। ঠিক কবে এই কাজ করা যেতে পারে তা নিয়েও তিনি নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলেননি তিনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘স্থানীয়ভাবে পুলিশ যদি অত্যন্ত কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করতে পারে তাহলে সেনাবাহিনী নিশ্চিত হলে আফস্পা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।’’ এ নিয়ে তিনি আরও বলেন,‘‘আমরা ডোডা, রাজৌরি, কিশতোয়ার প্রভৃতি অঞ্চলগুলিতে ঘুরে দেখেছি এবং নিশ্চিতভাবে বলতে পারি সেখানে সন্ত্রাসবাদ আর কখনও থাবা বসাতে পারবেনা। পর্যটকদের আকর্ষণ করানোর জন্য এই অঞ্চলগুলিকে বিশেষভাবে সাজানো হবে এবং সেখানে সমস্ত রকমের থাকার ব্যবস্থা থেকে খাওয়ার ব্যবস্থা সবকিছুই করা হবে।’’

    চিন সীমানা নিয়ে কী বললেন?

    নিজের বক্তব্য এদেশের সেনা প্রধান উল্লেখ করেন, পূর্ব-লাদাখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ডেপসাং এবং ডেমচোক। চিন সীমান্তে অবস্থিত এই দুটি অঞ্চলে সেনা প্রত্যাহারের পরে বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি। চিন সীমান্তে জীবনযাপন স্বাভাবিক হয়েছে বলেও জানান সেনাপ্রধান। তাঁর মতে, স্থানীয় মানুষজন পশুপালন এলাকাগুলিতেও পশুপালন করতে পারছেন কোনও রকম সমস্যা ছাড়াই।

    অটলবিহারী বাজপেয়ীকে করলেন উদ্ধৃত

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর সম্পদের কথা বলতে গিয়ে জেনারেল দ্বিবেদী জানিয়েছেন যে একটি দেশের সামরিক বাহিনীর কাছে যত সম্পদই থাকুক না কেন! যুদ্ধের সময় সেগুলি কখনও পর্যাপ্ত নয়। যুদ্ধের পরেও কোনও জাতিকে ভবিষ্যতের যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য মোট সম্পদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মজুদ রাখতেই হবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন যে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী একবার বলেছিলেন আপনি আপনার বন্ধু পরিবর্তন করতে পারেন কিন্তু প্রতিবেশী কখনও পরিবর্তন করতে পারবেন না।

  • Global Terrorism Index 2025: আবারও মুখ পুড়ল! সন্ত্রাসবাদের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় পাকিস্তান, বাড়ছে টিটিপি-র দাপট

    Global Terrorism Index 2025: আবারও মুখ পুড়ল! সন্ত্রাসবাদের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় পাকিস্তান, বাড়ছে টিটিপি-র দাপট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এগোচ্ছে পাকিস্তান! তাদের চিরাচরিত গতিতে। বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ সূচকে পাকিস্তানের (Pakistan) স্থান দ্বিতীয়। গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স ২০২৫-এর (Global Terrorism Index 2025) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এই পড়শি রাষ্ট্র তালিকায় দু’ধাপ উপরে উঠেছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী নানা ঘটনায় ১,০৮১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত তালিকা অনুসারে, ২০২৩ সালে পাকিস্তানে ৫১৭টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। যা ২০২৪ সালে ১,০৯৯টিতে পৌঁছেছে।

    দুনিয়াজুড়ে বাড়ছে সন্ত্রাস

    সিডনি ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪ সালে পৃথিবীর ৪৫টি দেশে সন্ত্রাসবাদ বেড়েছে। এছাড়াও, বিশ্বের চারটি মারাত্মক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ২০২৪ সালে তাদের আক্রমণ জোরদার করেছে। যার ফলে সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা দুনিয়াজুড়ে ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক অনুসারে বিশ্বের প্রথম ১০ দেশের তালিকা-

    ১. বুরকিনা ফাসো
    ২. পাকিস্তান
    ৩. সিরিয়া
    ৪. মালি
    ৫. নাইজার
    ৬. নাইজেরিয়া
    ৭. সোমালিয়া
    ৮. ইসরায়েল
    ৯. আফগানিস্তান
    ১০. ক্যামেরুন

    ভারতের অবস্থানগত পার্থক্য হয়নি

    বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ সূচকে (Global Terrorism Index 2025) ভারতের অবস্থানগত কোনও পার্থক্য হয়নি। ২০২৩ সাল থেকেই ভারত এই তালিকায় আছে ১৪তম স্থানে রয়েছে। গাজা সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের কারণে মৃত্যুর হার বেড়েছে ইরানেও। এই তালিকায় সেকেন্ড বয় পাকিস্তান হলে ফার্স্ট বয় বুরকিনা ফাসো। সন্ত্রাসী হামলায় বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর এক পঞ্চমাংশ হয় এই দেশে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির নামের অর্থ যদিও নৈতিক জাতির দেশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে ৩৫তম স্থানে রয়েছে। আমেরিকা রয়েছে ৩৪তম স্থানে। তালিকায় সবচেয়ে নীচের দিকের (যেখানে সন্ত্রাসবাদ সবচেয়ে কম) দেশগুলি হল – ডেনমার্ক, আর্মেনিয়া, কসোভো, ইথিওপিয়া, আর্জেন্টিনা, সৌদি আরব, ইতালি, জাপান, ফিনল্যান্ড, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, তাজিকিস্তান, স্লোভাকিয়া, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।

    গত এক দশকে সবথেকে খারাপ অবস্থায় পাকিস্তান

    বিশ্বের সবথেকে খারাপ জিটিআই স্কোরের তালিকায় প্রথম দশের মধ্যে এশিয়ার দুটি দেশ রয়েছে পাকিস্তান (Pakistan) ও আফগানিস্তান। ২০২৫ সালের গোটা বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ সূচকে পাকিস্তান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। পাকিস্তানের স্কোর ৮.৩৭৪। আফগানিস্তান ৭.২৬২ স্কোর নিয়ে রয়েছে নবম স্থানে। পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরে ৪৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮১ জনে। সম্প্রতি প্রকাশিত বার্ষিক গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স অনুসারে পাকিস্তান গত এক দশকে সবথেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যের সংখ্যা বাড়ছে দিন প্রতিদিন। গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স (GTI) অনুযায়ী, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার কারণে মৃত্যু বেড়ে ৭৪৮ থেকে ১,০৮১ জনে পৌঁছেছে।

    সবথেকে সক্রিয় তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান

    পাকিস্তান (Pakistan) দিন দিন নিজেকে ক্ষয়িষ্ণু করে তুলছে। নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে দ্রুত উঠে আসছে। যার ফলে মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য টিটিপি দায়ী ছিল। গত বছর টিটিপি ৪৮২টি হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে মারা গিয়েছিলেন ৫৫৮ জন। তথ্য বলছে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে অশান্তি বাড়ছে। বালুচিস্তান, খাইবার-পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসী হামলার হার সবথেকে বেশি। রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে দুর্বল করতে টিটিপি ক্রমাগত তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বাড়িয়ে চলছে। যার ফলে পাকিস্তান অপারেশন আজম-ই-ইস্তেহকামের মত সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৪ সালে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি পাকিস্তানে সব থেকে ঘাতক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে বিএলএ এবং বিএলএফ এর মত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে। এই গোষ্ঠী গুলি চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের মত চিনা উদ্যোগকেও লক্ষবস্তু করছে।

    জঙ্গি প্রেমে ঘাটতি নেই পাকিস্তানের

    ২০২৪ সালে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেনকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় জঙ্গি হানার দেশের শিরোপা দখল করে নিলেও জঙ্গি প্রেমে ঘাটতি নেই পাকিস্তানের (Pakistan)। এখনও ভারত বিরোধী নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের বাড়বাড়ন্তের দৃশ্য ধরা পড়ল গোয়েন্দা উপগ্রহ চিত্রে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দ্য ইন্টেল ল্যাবের ভূ-গোয়েন্দা ড্যানিয়েল সাইমন জানাচ্ছেন, বাহাওয়ালপুরে দ্রুতগতিতে আস্তানা বাড়াচ্ছে জইশ। এখানকার জামিয়া মসজিদের আড়ালে পুলিশ, প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রকাশ্যে জঙ্গিদের জন্য নতুন নতুন আস্তানা বাঙ্কার গড়ে তুলছে তারা। আয়তন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৮ একরেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পাকিস্তানের এই অধঃপতন অস্থির করে তুলতে পারে ইন্দো-পাক সীমান্তকে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে। বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের রাশ আর সে দেশের প্রশাসনের হাতে নেই। কর্তৃত্ব ফলাচ্ছে সেনা এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি। যার ফলে আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে ক্রমশ ভেঙে পড়ছে লাহোর থেকে ইসলামাবাদ।

  • Bangladesh: পাকিস্তানকে বিশ্বাস করার আগে বাংলাদেশের উচিত একাত্তরের গণহত্যার ঘটনার কথা মনে রাখা

    Bangladesh: পাকিস্তানকে বিশ্বাস করার আগে বাংলাদেশের উচিত একাত্তরের গণহত্যার ঘটনার কথা মনে রাখা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তনের মুখে বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক পরিস্থিতি। শেখ হাসিনার অপসারণ এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এটি হল পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি ইঙ্গিত। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সেটি হল, বাংলাদেশের নেতারা কি ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত ইতিহাস ভুলে যেতে চাইছেন? দীর্ঘদিন ভারতের অকৃত্রিম বন্ধু ছিল বাংলাদেশ। হাসিনা-উত্তর জমানায় বদলাতে চলেছে সেই পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের এই পরিবর্তন শুধুমাত্র আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির জন্য নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্যও গভীর উদ্বেগের।

    শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা (Bangladesh)

    ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পূর্ব পাকিস্তানের (অধুনা বাংলাদেশ) জনগণের ওপর পাকিস্তানের নৃশংস সামরিক দমন-পীড়ন ছিল বিংশ শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা। ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বাধীন সামরিক জুন্টা, শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামি লিগকে দেওয়া গণতান্ত্রিক রায় মেনে নিতে রাজি হয়নি। এর পরেই “অপারেশন সার্চলাইট” নামের একটি অভিযান শুরু করে। এই অভিযান চলাকালীন ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গুম হয়। এই অভিযানে অকালে প্রাণ খোয়ান প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি। বাস্তুহারা হন লাখ লাখ মানুষ। পাক সামরিক বাহিনী, জামাত-ই-ইসলামির মতো স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায়, পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী, ছাত্র এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিশানা করেছিল অত্যাচারীরা। এই অভিযানের উদ্দেশ্যই ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমন করা।

    বেদনাবিধুর গল্প

    এই সময়ের ক্ষত এখনও (Bangladesh) দগদগে বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে। ঢাকার গণকবর, ধর্ষণ, জীবিতদের সাক্ষ্য এবং পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নৃশংসতায় বিচ্ছিন্ন হওয়া অসংখ্য পরিবারের বেদনাবিধুর গল্প কেবল ইতিহাসের পাতার ফুটনোট নয়, বরং মনে করিয়ে দেয় কেন বাংলাদেশ পাকিস্তানের (Pakistan) দমনমূলক শাসন থেকে মুক্তির জন্য লড়াই করেছিল। প্রশ্ন হল, ঢাকার নয়া সরকার কি ১৯৭১ সালে লাখ লাখ বাংলাদেশির আত্মত্যাগকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করবে? যে দেশ এক সময় বাংলাদেশের অস্তিত্বটাকেই মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তাদের সঙ্গে ফের গড়বে সখ্যতা?

    ক্ষমা চায়নি বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে এই গণহত্যার পর পার হয়ে গিয়েছে অর্ধশতকেরও বেশি সময়। তার পরেও পাকিস্তান আজও তাদের নৃশংসতার জন্য ক্ষমা চায়নি। ঐতিহাসিক অপরাধ স্বীকার করার কোনও সদিচ্ছাও তারা দেখায়নি। জার্মানি যেমন তাদের নাৎসি অতীতের মুখোমুখি হয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে পুনর্মিলনের চেষ্টা করেছিল, পাকিস্তান তার বদলে বেছে নিয়েছে অস্বীকারের পথ। একের পর এক পাকিস্তানি সরকার ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে একটি সাজানো গল্প হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে, যা বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

    বিদ্বেষের দৃষ্টি

    বাংলাদেশ অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে (Bangladesh) পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। তবে তখনও পাকিস্তানের নেতারা দায় এড়িয়ে গিয়েছিলেন। বরং তারা ১৯৭১ সালের হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সামরিক কর্মকর্তাদের গৌরবান্বিত করেছিল। অতীতের এই অপরাধ স্বীকার করতে অস্বীকার করাটা শুধু ইতিহাসের প্রতি অবমাননাই নয়, বরং পাকিস্তানের অপরিবর্তিত মানসিকতার প্রতিফলন। এই (Pakistan) মানসিকতা থেকে এখনও পাকিস্তান বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে নয়, বরং বিদ্বেষের দৃষ্টিতে দেখে।

    পাকিস্তান-প্রীতির বিপদ

    এর পরেও ইউনূস নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ইসলামাবাদের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, পাকিস্তান যদি কখনও তার অপরাধের জন্য অনুতাপ প্রকাশ না করে, তবে আজ বাংলাদেশ কীভাবে আশা করতে পারে যে তারা একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হবে? শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ (Bangladesh) একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিকশিত হয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলির একটি হিসাবে তার জায়গা সুসংহত করেছে। তার সরকারের ভারতের সঙ্গে কৌশলগত জোট বাংলাদেশকে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিয়েছে। তবে নয়া প্রশাসনের পাকিস্তান-প্রীতির কারণে এসবই এবার ভেস্তে যেতে পারে।

    ভারতের প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা

    পাকিস্তানের বাংলাদেশকে কাছে টানার প্রয়াস নিঃস্বার্থ নয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা করে আসছে। এটা একমাত্র সম্ভব হতে পারে এই অঞ্চলের অসন্তোষকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে (Pakistan)। যদি বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে নিজেকে একীভূত করে, তবে এটি নিজের নিরাপত্তা কাঠামোকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি নেবে। কারণ ইসলামাবাদ ঐতিহাসিকভাবে প্রক্সি গ্রুপ ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ অশান্তি সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে জামাত-এ-ইসলামির মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীর পুনরুত্থান বিপদ সংকেত দেয়। এরাই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পক্ষে ছিল। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের নয়া সম্পর্ক ভারতের পক্ষে বিপদ সংকেত বই কি!

    বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাকিস্তান (Bangladesh) বরাবর বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে। বাংলাদেশের জন্মলগ্নের সময় থেকেই তারা ঢাকার রাজনীতিতে মাথা গলানোর চেষ্টা করেছে। হাসিনা জমানায় পাত্তা না পেয়ে বাংলাদেশের কাছে তারা আদতে হয়েছিল ফেউ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরেও, পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে ঢাকার স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন স্বাধীনতার পরে তারা বাংলাদেশের ন্যায্য আর্থিক সম্পদের অংশ হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে। এটি একটি সদ্যোজাত রাষ্ট্রের কাছে বড় অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছিল (Pakistan)।

    পাকিস্তান কি আদৌ আন্তরিক

    পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কও সমানভাবে উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স সংস্থা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য জঙ্গি ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জড়িত ছিল। বিশেষ করে, পাকিস্তানি গোয়েন্দারা হরকাত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি নামক জঙ্গি সংগঠনকে সমর্থন করেছে। এটি দেশে অশান্তি সৃষ্টির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, পাকিস্তান বারবার কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, বহুপাক্ষিক ফোরামে ঢাকার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে। এই প্রতারণার ইতিহাসের প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ কেন বিশ্বাস করবে যে পাকিস্তানের “ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের” নতুন আগ্রহটি আদতে আন্তরিক?

    ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ইউনূস প্রশাসন (Bangladesh) পাকিস্তানের সঙ্গে ফের সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী বলে মনে হলেও, তারা তাদের ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষ। তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার ভারত। বাংলাদেশ প্রশাসনের এই পাকিস্তান প্রেমের জেরে তলানিতে ঠেকেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক। অথচ বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ভারতই প্রথম দেশ যে তাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাহায্য করেছিল সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে (Pakistan)। তার পর থেকে বছরের পর বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্রমেই পোক্ত হয়েছিল। ভারত বাংলাদেশের উন্নয়নে পরিকাঠামোগত নানা সাহায্য করেছিল। দিয়েছিল নিরাপত্তাও। সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা থেকে শুরু করে জ্বালানি বাণিজ্য পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের এই ‘মাখামাখি’ আদতে হয়ে দাঁড়াবে আরও একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপ। আর যদি তা হয়, তবে তা দুর্বল করে দেবে বাংলাদেশের আঞ্চলিক অবস্থানকে।

    সাধু সাবধান!

    পাকিস্তান তার ইসলামপন্থী এজেন্ট ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছে। ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সদ্য উষ্ণ সম্পর্ক হয়তো পাকিস্তানের জন্য সেই সুযোগ এনে দিতে পারে, যার মাধ্যমে তারা পূর্বের হারানো প্রভাব ফিরে পেতে পারে (Pakistan)। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে সতর্ক না হলে দক্ষিণ এশিয়ার একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে যে কয়েক দশকের অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা পড়তে পারে (Bangladesh) কুমিরের মুখে।

    অতএব, সাধু সাবধান!

  • S Jaishankar: ‘‘পাকিস্তানের চুরি করা অংশ জুড়তে পারলেই সমাধান হবে কাশ্মীর সমস্যার’’, স্পষ্ট কথা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘‘পাকিস্তানের চুরি করা অংশ জুড়তে পারলেই সমাধান হবে কাশ্মীর সমস্যার’’, স্পষ্ট কথা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীর যদি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় তবেই মিটে যাবে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ সংঘাত! ব্রিটেন সফরে গিয়ে এমনই দাবি করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। তাঁর মন্তব্য, ‘‘পাকিস্তানের চুরি করা অংশটুকু জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে জুড়ে দিতে পারলেই সমস্যার সমাধান হবে।’’ অর্থাৎ পাকিস্তানই যে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাশ্মীর সমস্যাকে জিইয়ে রেখেছে। এদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সে কথাই ঘোষণা করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    পাক-অধিকৃত কাশ্মীর কি ফেরত আসছে?

    লোকসভা ভোটের সময় থেকেই পাক অধিকৃত কাশ্মীর ইস্যুতে জোর চর্চা শুরু হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে দুদিন জয়শঙ্করকে এনিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘‘আশা করব দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলই মনে করেন পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই অংশ এবং তা আমাদের কাছে ফের আসা উচিত।’’ সেসময় একাধিক জনসভায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে মন্তব্য করতেও শোনা যায়, অধিকৃত কাশ্মীর খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে ভারতে। এই আবহে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (Kashmir) নিয়ে জয় শঙ্করের এমন মন্তব্যে ফের একবার চর্চা শুরু হয়েছে এই ইস্যুতে। মোদি সরকার পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত আনতে কোনও পদক্ষেপ শুরু করে কিনা সেটাই এখন দেখার। গতকাল বুধবার ব্রিটেনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) সাফ জানান, পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) থেকে পাকিস্তান সরে গেলেই কাশ্মীর সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে। গতকাল বুধবার লন্ডন-থিঙ্কট্যাঙ্ক অনুষ্ঠানে এক অতিথির প্রশ্নের জবাবে তিনি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে এই মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    ব্রিটেনে কী প্রশ্ন করা হয়েছিল বিদেশমন্ত্রীকে (S Jaishankar)

    বুধবার বিদেশমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন? এর উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘আমি মনে করি, যে অংশটির জন্য আমরা অপেক্ষা করছি তা হল কাশ্মীরের অধিকৃত হওয়া অংশের প্রত্যাবর্তন, যা অবৈধভাবে পাকিস্তান দখল করে রেখেছে। যখন এই সমস্যা সমাধান হবে, আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি যে, কাশ্মীর সমস্যারও সমাধান করা হবে।’’

    বিদেশমন্ত্রীর জবাবে উঠে এল ৩৭০ ধারার প্রসঙ্গ

    কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘৩৭০ ধারা বাতিল করা এবং জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা ভোটের আয়োজন সেই প্রক্রিয়ারই অঙ্গ।’’ ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদেশমন্ত্রী (S Jaishankar) আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন প্রশাসন বহুমুখীতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা ভারতের স্বার্থের ক্ষেত্রে খুবই অনুকূল ৷ দুই দেশই ইতিমধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ৷

    জয়শঙ্করের মন্তব্যকে সমর্থন বিজেপি-কংগ্রেসের

    প্রসঙ্গত, ব্রিটেনে এস জয়শঙ্করের এমন মন্তব্যের পরেই বিজেপি এবং কংগ্রেস- এই দুই দলই এই মন্তব্যের সমর্থন করেছে। প্রত্যেক দলই দাবি করেছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর হল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিজেপির নেতা মুক্তার আব্বাস নখভি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ভারতীয় সংসদ ১৯৯৪ সালে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং সেখানেই উল্লেখ করা হয়েছে যে জম্মু-কাশ্মীর এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর এই দুটোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রায় কুড়ি বছর আগে পাশ হওয়া এই প্রস্তাবটি আজও একটি ভিত্তিপ্রস্তর এবং এখানেই ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।’’ এই আবহে মোদি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপগুলিকেও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষত জম্মু কাশ্মীরের সীমানা নির্ধারণ ও রাজ্যের বিধানসভায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য ২৪টি আসন সংরক্ষণের কথা বলেন তিনি। একই কথা শোনা গিয়েছে বিজেপি বিধায়ক বিক্রম রান্ধোয়ার গলাতে। তিনিও বলেন যে কাশ্মীরের যে অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তা আমাদের ছিল আছে এবং থাকবে। অন্যদিকে কংগ্রেসের বিধায়ক রিজওয়ান আরশাদ বিদেশমন্ত্রীর দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত হয়েছেন এবং তাঁর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘ভারতের উত্থান এবং বিশ্বে ভূমিকা’

    প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের চ্যাথাম হাউস থিঙ্ক ট্যাঙ্কে ‘ভারতের উত্থান এবং বিশ্বে ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সম্মেলনেই বক্তব্য রাখেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। প্রসঙ্গত, ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ডে ছয় দিনের সফরে রয়েছেন জয়শঙ্কর ৷ অতিথিদের করা প্রশ্নে চিন সম্পর্কেও মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী। চিনের সম্পর্ক বলতে গিয়ে তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে তিব্বতে কৈলাস পর্বত তীর্থযাত্রার পথ খোলা-সহ বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।

    ব্রিটেন সফরে জয়শঙ্কর বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সঙ্গে

    ব্রিটেন সফরে গিয়ে বুধবার সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আলোচনা হয় দু’দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া ওই বৈঠকে ছিলেন সে দেশের বিদেশসচিব ডেভিড ল্যামি এবং অন্যান্য বর্ষীয়ান নেতা। বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আলোচনায় রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।

LinkedIn
Share