Tag: PM Modi

PM Modi

  • U-19 World Cup 2026: ‘‘ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে’’, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ী ছোটদের বড় প্রশংসা আপ্লুত মোদির

    U-19 World Cup 2026: ‘‘ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে’’, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ী ছোটদের বড় প্রশংসা আপ্লুত মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব-ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য কেন? তা ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রেরা। এই নিয়ে ছ’বার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ (U-19 World Cup 2026) জিতল ভারত। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে পাঁচটি বিশ্বকাপ জিতল তারা। এর আগে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল দু’বার বিশ্বকাপ জিতেছে। মেয়েদের দল গত বছর এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছে। ছেলেরা ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। এ বার ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলও বিশ্বকাপ জিতল।

    আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী মোদি

    আনন্দ হোক বা দুঃখ সবসময় রোহিত শর্মাদের পাশে থেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রেরণা দিয়েছেন হরমনপ্রীতদের। এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর বৈভব সূর্যবংশী এবং তাঁর সতীর্থদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড করেন সূর্যবংশী। তাঁর এই পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে। বিশ্বকাপ দেশে নিয়ে ফেরার জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলকে নিয়ে গর্বিত। গোটা টুর্নামেন্টে দল দারুণ খেলেছে। দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছে। এই জয় তরুণ ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। ভবিষ্যতের জন্য প্লেয়ারদের শুভেচ্ছা রইল।” জয় হোক বা পরাজয় পাশে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। অস্ট্রেলিয়ার কাছে একদিনের বিশ্বকাপ হারার পরও রোহিত, কোহলি, শামি, সিরাজদের চোখের জল মুছিয়ে আগামীর স্বপ্ন দেখতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তারই ফল একবছর পর বিশ্বচ্যম্পিয়ন রোহিত-কোহলিরা।

    কেন বিসিসিআই সেরা

    পাকিস্তান হোক বা বাংলাদেশ, পিসিবি বা বিসিবি বারবার বলে বিসিসিআই-এর দাপটের কথা। আবার তারা বুঝল এর পিছনের আসল ইউএসপি-হল ভারতীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স আর প্রশাসকদের পরিকল্পনা। এক সময় ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলটা বেশ খারাপ খেলছিল। কিছুতেই সব ঠিকঠাক হচ্ছিল না। তখনই বোর্ডের কর্তা এবং বিশেষজ্ঞেরা খতিয়ে দেখে বুঝতে পারেন, এই দলটা শুধুই আইসিসি-র প্রতিযোগিতা খেলছে। সে ভাবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগই পাচ্ছে না। তার পরেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনে তৎপর হয় বোর্ড। গত বছর এশিয়া কাপের আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট এবং এক দিনের সিরিজ খেলেছে এই দল। তার পর এশিয়া কাপ জিতেছে। বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ খেলেছে। ফলে তৈরি হয়ে নেওয়ার যাবতীয় সুযোগ পেয়েছে তারা। এতে লাভ হয়েছে দু’টি। ক্রিকেটবিশ্বের বাকি দলগুলিকে চিনে নেওয়া ছাড়াও, দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে একটি বন্ধন তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন ম্যাচে। কোনও ক্রিকেটার ব্যর্থ হলে বাকিরা চাপ সামলে দিয়েছেন। ব্যাটিং থেকে বোলিং, সব বিভাগেই একই চিত্র।

    ভারতের নয়া সূর্য-উদয়

    যুবরাজ সিং থেকে মহম্মদ কাইফ, বিরাট কোহলি থেকে শুভমান গিল— অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটে একাধিক তারকার উত্থান হয়েছে। ভারতের নয়া সূর্য হল বৈভব সূর্যবংশী। তার ব্যাটে ভর করেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতল ভারত। ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসটাই ফারাক গড়ে দিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে। ৪১১ তুলেছিল ভারতীয় দল। ১০০ রানে ইংলিশ টিমকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হাতে তুললেন আয়ুষ মাত্রে। শুক্রবারের নজর একাই কেড়ে নিয়েছে বৈভব। ফাইনালের মতো মঞ্চে যে কোনও দল, যে কোনও ক্রিকেটার চাপে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হারারেতে বৈভবের খেলা দেখে মনে হল, চাপ শব্দটাই তার অভিধানে নেই। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, বোলার যিনিই হোন, তার ব্যাট চলতে শুরু করলে বিপক্ষের ক্রিকেটারদের কপালে দুঃখ রয়েছে। শুক্রবার সেটাই টের পেলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারেরা। বৈভব ফর্মে থাকলে কী হতে পারে, সেটা বুঝে গেলেন তাঁরা। ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রান! ১৫টি চার এবং ১৫টি ছয়। যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই এমন পারফরম্যান্স স্বপ্ন। বৈভব সেটাই বাস্তবে করে দেখিয়েছে। চলতি প্রতিযোগিতা আমেরিকা বাদে প্রতিটি ম্যাচেই ভাল রান পেয়েছে সে। তিনটি অর্ধশতরান রয়েছে। তবে ফাইনালের পারফরম্যান্স বাকি সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈভব সূর্যবংশীই ভারতের পরবর্তী বড় তারকা। আইপিএল ও সিনিয়র টিম ইন্ডিয়ার দরজা তাঁর জন্য আর খুব দূরে নয়। মাত্র ১৫ বছরেই বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন দাপট ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা দিল ভারতীয় ক্রিকেটকে।

    হাফডজন সাফল্য ভারতের

    এর আগে পাঁচবার যুব বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এ বারেরটা ধরলে হাফডজন সাফল্য। ট্রফি জেতার পর কোচ ঋষিকেশ কানিতকর বলেছেন, “অসাধারণ অনুভূতি। জিম্বাবোয়েতে এর আগে খেলেছি। কিন্তু এ বারের আসাটা অন্যরকম। ছেলেগুলোর জন্য গর্ব হচ্ছে। ইংল্যান্ড লড়াই করেছিল। কিন্তু আমাদের টিম শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। অবশ্যই ট্রফির জন্য খেলেছি। তবে একঝাঁক ছেলের উন্নতিটা সব কিছুর আগে।” ভারতীয় দলের একমাত্র বাঙালি ক্রিকেটার অভিজ্ঞান কুন্ডু বলেছেন, “একটা সময় চাপ অনুভব করছিলাম। তবে ধৈর্য রেখেছিলাম। বোলারদের পাশে থেকেছি আমরা। বোলাররা কিন্তু দারুণ বোলিং করেছে। এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ জিতলাম। আমরা সেলিব্রেট করব। গত দুটো বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম করেছি। তার ফল হাতেনাতে মিলল। শেষবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিলাম। সে দিক থেকে বলতে পারেন, আমরা বদলা নিলাম। আবার ট্রফি জিতলাম। সূর্যবংশী শুরুতেই দারুণ ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল। ও নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছে।”

    গুরুদক্ষিণা বৈভবের

    ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলার পর বৈভব সূর্যবংশী যে ছোটদের বিশ্বকাপ ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার হবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল না। ১৪ বছরের ব্যাটার বিশ্বকাপেরও সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেল। ছোটদের বিশ্বমঞ্চে সেরার পুরস্কার বৈভব উৎসর্গ করল দলের কোচদের। দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পর বৈভব জানিয়ে দিল, রান না পেলেও নিজের দক্ষতার উপর আস্থা হারায়নি। ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার নেওয়ার পর বৈভব বলল, ‘‘এই আনন্দ, অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না। আমরা সকলে গত সাত-আট মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমাদের কোচেরা এই দীর্ঘ সময় আমাদের পাশে ছিলেন। সব সময় আমাদের খেয়াল রেখেছেন। কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চেয়েছেন। আমার এই পুরস্কারটা দলের কোচদেরই উৎসর্গ করছি।’’ বিশ্বজয়ের মাঠে দাঁড়িয়েই গুরুদক্ষিণা দিল বৈভব।

  • PM Modi: “অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে তৃণমূল আদালতে যাচ্ছে”, রাজ্যসভায় মমতাকে নিশানা মোদির

    PM Modi: “অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে তৃণমূল আদালতে যাচ্ছে”, রাজ্যসভায় মমতাকে নিশানা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) যুক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তীব্র সমালোচনা করেছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে তৃণমূল আদালতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নির্মম সরকার বলে ঘোষণা করেছেন।

    পতনের সমস্ত রাস্তা তৈরি (PM Modi)

    যদিও মমতার নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা (Mamata Banerjee) বুধবার  প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের সামনে এসআইআরের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছিলেন এবং নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন নিজের ভাষণে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার নিষ্ঠুর সরকার, নির্মম সরকার। কেবল ক্ষমতার জন্য চিন্তা করে, জনগণের জন্য নয়। একটি নির্মম সরকার পতনের সমস্ত রাস্তা তৈরি করেছে। এটাও একটা নতুন রেকর্ড। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু রাজ্যের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিয়ে কোনও চিন্তা করছেন না। ক্ষমতায় থাকা ছাড়া তাদের আর কোনও আকাঙ্খা নেই।”

    চাকরি এবং জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে

    মোদি (PM Modi) আরও বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশগুলিও তাদের দেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করছে। তবে আমাদের দেশে, কিছু গোষ্ঠী অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার জন্য ইচ্ছাকৃত এবং সংগঠিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের দেশের যুবসমাজ কীভাবে এমন নেতাদের গ্রহণ করতে পারে যারা অবৈধ অনুপ্রবেশের পক্ষে গুণগান করে পক্ষা অবলম্বন করছেন। দেশের যুবসমাজের জন্য সুযোগগুলো অবৈধভাবে কেড়ে নিচ্ছে এই অনুপ্রবেশকারীরা। অনুপ্রবেশকারীরা তাদের চাকরি এবং জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে, উপজাতি সম্প্রদায়ের জমি দখল করছে এবং আমাদের ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের জন্য হুমকি তৈরি করছে।”

    নিজেদের পকেট ভরার জন্য কাজ করেছে

    পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার জন্য বিজেপি যে রাজনৈতিক ইস্যুগুলিকে কাজে লাগাচ্ছে তার মধ্যে অনুপ্রবেশ অন্যতম। বিজেপি এসআইআর প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে, যার তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের অভিযোগ তাড়াহুড়ো করে প্রচুর নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একই যুক্তি উত্থাপন করেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) তৃণমূল এবং তাদের বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও করেছেন।  রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, বা বামপন্থী, তারা কয়েক দশক ধরে কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে এবং রাজ্যগুলিতে সরকার পরিচালনার সুযোগও পেয়েছে। তারা কেবল নিজেদের পকেট ভরার জন্য কাজ করেছে; নাগরিকদের জীবনে পরিবর্তন আনা কখনই তাদের অগ্রাধিকার ছিল না।”

  • PM Modi in Assam: বিমানবন্দর নয়, হাইওয়ের ওপর অবতরণ করবে প্রধানমন্ত্রীর বিমান, সঙ্গী রাফাল-সুখোই! মোদির অসম সফরে চমক

    PM Modi in Assam: বিমানবন্দর নয়, হাইওয়ের ওপর অবতরণ করবে প্রধানমন্ত্রীর বিমান, সঙ্গী রাফাল-সুখোই! মোদির অসম সফরে চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অসম সফর হতে চলেছে একেবারেই ব্যতিক্রমী। এই সফরে তিনি ডিব্রুগড়–মোরান জাতীয় সড়কের উপর নির্মিত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম হাইওয়ে-ভিত্তিক জরুরি বিমান অবতরণ স্ট্রিপে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। আজারায় বিজেপির ‘বুথ বিজয় অভিযান’ কর্মসূচির সূচনায় উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ কথা জানান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ডিব্রুগড় বিমানবন্দরে নামবেন না। তিনি মোরানের হাইওয়ের উপর অবতরণ করবেন এবং সেখানে কিছু সময় কাটাবেন।” গত ১১ বছরে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অসমে ৩৮তম সফর।

    বিশেষ বিমান প্রদর্শনীর আয়োজন

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি বিশেষ বিমান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “গুয়াহাটি এয়ার শোতে দেখা রাফাল ও সুখোই যুদ্ধবিমানগুলি সড়কের উপর অবতরণ করবে। এই প্রদর্শনী প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট চলবে।” বর্তমানে ডিব্রুগড়–মোরান সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, নির্ধারিত রানওয়ে অংশটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিমান চলাচলের সুবিধার্থে সড়কের মাঝের ডিভাইডার সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং মানুষ ও পশুর প্রবেশ ঠেকাতে দু’পাশে বেড়া দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অস্থায়ী রাস্তার দোকানও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরের একাধিক উদ্দেশ্য

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উন্নয়নমূলক ও সাংগঠনিক একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ব্রহ্মপুত্রের উপর গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটিকে সংযুক্তকারী বহু প্রতীক্ষিত কুমার ভাস্কর বর্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন। এই সেতু যানজট কমাতে ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এছাড়াও তিনি পালাশবাড়ি ক্যাম্পাসে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (IIM)-এর অ্যাকাডেমিক ক্লাসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। গুয়াহাটির গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ১০০টি ইলেকট্রিক বাসের সূচনা করবেন এবং জাতীয় তথ্যকেন্দ্র (NIC)-এর তৈরি একটি নতুন ডেটা সেন্টারের উদ্বোধন করবেন, যা অঞ্চলের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী খানাপাড়ায় বিজেপির বুথ সম্মেলনে যোগ দেবেন, যেখানে তিনি দলীয় কর্মী ও তৃণমূল স্তরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী আবার অসম সফরে এসে একাধিক পরিকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

  • PM MODI: “৮৩ বছর বয়সী সাংসদ মল্লিকার্জুন বসেই স্লোগান দিন”, কটাক্ষ মোদির

    PM MODI: “৮৩ বছর বয়সী সাংসদ মল্লিকার্জুন বসেই স্লোগান দিন”, কটাক্ষ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) বিরোধী সাংসদদের হট্টগোলের মধ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে কটাক্ষ করে বলেন, “বয়সের কথা বিবেচনা করে বসেই স্লোগান দিতে পারেন।”

    রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবী ভাষণ দেন  প্রধানমন্ত্রী (PM MODI)। কিন্তু লোকসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল বিরোধীরা। বিরোধী দলের সদস্যদের তাঁর চেয়ার ঘিরে থাকার কারণে বক্তব্য রাখতে পারেননি মোদি।

    বয়সের কারণে বসে স্লোগান দিতে পারেন (PM MODI)

    এদিন প্রধানমন্ত্রীর (PM MODI) বক্তব্য শুরু হওয়ার পর বিরোধী দলের সাংসদরা উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে তুমুল হৈহট্টগোল শুরু হয়। স্লোগান চলার সময়, প্রধানমন্ত্রী মোদি থেমে যান এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খাড়গে-র কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “৮৩ বছর বয়সী এই সাংসদ বয়সের কারণে বসে স্লোগান দিতে পারেন।”

    ভাবমূর্তি পরিবর্তন করতে সময় লেগেছে

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM MODI) ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। এরপর বিরোধীরা আবারও সমালোচনা করে এবং ওয়াকআউট করে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “কংগ্রেস ২০১৪ সালে একটা জগাখিচুড়ি রেখে গিয়েছিল এবং এখন আমাদের সরকারকে সেটা পরিষ্কার করার জন্য অনেক প্রচেষ্টা করতে হয়েছে। তাদের কারণেই ভারতের একটি অস্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল। আমাকে সেই ভাবমূর্তি পরিবর্তন করতে অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যা বালার বাইরে।”

    বোফর্স কেলেঙ্কারি কংগ্রেসের বড় কেলেঙ্কারি

    রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বামপন্থী এবং ডিএমকে সহ দলগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM MODI) বলেন, “কয়েক দশক ধরে কেন্দ্র এবং রাজ্যে শাসন করেছে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি কিন্তু মূলত দুর্নীতির জন্যই। এখনও, যখন মানুষ তাদের সম্পর্কে কথা বলে, তারা বাণিজ্য চুক্তির কথা বলে না। তারা বোফর্সের মতো চুক্তির কথা বলে। বোফর্স কেলেঙ্কারি ভারতের স্বার্থের বিপরীতে ছিল। মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল কংগ্রেস। যার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বিরোধীরা দাবি করেছে যে চুক্তির কারণে কৃষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে কেন্দ্র সরকারের সম্পূর্ণ আশ্বাস যে কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মতো ক্ষেত্রগুলি সুরক্ষিত থাকবে। প্রকল্পগুলি সফলভাবে বাস্তবায়নের উপর আমাদের সরকারের মনোযোগের সঙ্গে জোর দিয়েছে। কংগ্রেস কেবল কল্পনা করে এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে কিছুই করে না।”

  • Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি হল পরিবার, ব্যক্তি নয় (Family Over Individual)। একাকী বাঁচা যায় না, সবাইকে নিয়েই চলতে হয়। নরেন্দ্র মোদি সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির নকশা ও বাস্তবায়ন এই নীতির উপরই গঠিত। প্রকল্পগুলির দিকে নজর রাখলে স্পষ্ট হয় যে বিজেপি সরকারের সামাজিক কল্যাণ দর্শন পশ্চিমি উদারবাদী ও সমাজতান্ত্রিক মডেলের ব্যক্তি-কেন্দ্রিক চিন্তাধারা থেকে একটি সচেতন আদর্শিক বিচ্যুতি ঘটিয়েছে। এই কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শন—যেখানে ব্যক্তি নয়, পরিবারকেই সমাজ, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রের মৌলিক একক হিসেবে দেখা হয়।

    সরকারি প্রকল্পগুলির পরিকল্পনায় পরিবার

    বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলিতে এই আদর্শের প্রতিফলন স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY 2.0)-এর আওতায় যোগ্য পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা বা গৃহঋণের উপর সুদের ছাড় দেওয়া হয়। এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির পরিবারগুলিকে। প্রকল্পটি ব্যক্তিকে নয়, সম্পূর্ণ পরিবারকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিত। একইভাবে জল জীবন মিশন, উজ্জ্বলা যোজনা এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিতেও পরিবারকেই মূল ফোকাস হিসেবে ধরা হয়েছে। পানীয় জল সরবরাহ করা হয় বাড়িতে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়। পরিষ্কার রান্নার গ্যাস পুরো পরিবারের স্বাস্থ্য ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। স্যানিটেশনকেও ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনে গৃহস্থালির স্তরে শৌচালয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দৈনন্দিন অভ্যাস, সামাজিক আচরণ এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই সমস্ত উদ্যোগ মিলিয়ে একটি স্পষ্ট নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে—যেখানে পরিবারকে সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান একক হিসেবে দেখা হয়।

    আদর্শিক স্পষ্টতা, কাকতালীয় নকশা নয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতি কোনও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদর্শিক স্পষ্টতার ফল। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘ইন্টিগ্রাল হিউম্যানিজম’ দর্শনে পরিবারকে সেই স্থান হিসেবে দেখা হয়েছে, যেখানে ব্যক্তি প্রথম সামাজিক মূল্যবোধ—দায়িত্ব, সহযোগিতা এবং প্রজন্মগত সম্মান—শেখে। এই দর্শন অনুযায়ী, কল্যাণমূলক নীতি মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতাকে সমর্থন করবে, কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের বিকল্প হয়ে উঠবে না। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, এই দর্শন ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী নয়; বরং স্বাধীনতাকে দায়িত্ব ও ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে।

    কেন পরিবারকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার?

    পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় পশ্চিমি সমাজে চরম ব্যক্তি-স্বাধীনতার ধারণার সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ব্যক্তি-কেন্দ্রিকতা পারিবারিক বন্ধন দুর্বল করে এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ক্ষয় করে। এর ফলে পরিবার তার কার্যকর ভূমিকা হারায় এবং যত্ন ও দায়িত্বের ভার রাষ্ট্রের উপর পড়ে। এর বিপরীতে, ‘ধর্ম’-ভিত্তিক জীবনদর্শনের মাধ্যমে পরিবারকে সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রশিক্ষণক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কল্যাণ কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়া দান নয়, বরং সেই পরিবারগুলিকে সহায়তা করা, যারা সামাজিক সামঞ্জস্য ও সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলে। বিজেপির মতে, পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতির মাধ্যমে সরকার একটি গভীর সভ্যতাগত বার্তা দিচ্ছে—উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, বরং শক্তিশালী পরিবারের মাধ্যমে সামাজিক সামঞ্জস্য পুনর্গঠন।

    বসুধৈব কুটুম্বকম ও একীভূত ভারত ভাবনা

    বিজেপি সরকারের পরিবার-কেন্দ্রিক (Family Over Individual) দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে রয়েছে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—বিশ্ব এক পরিবার—এই ধারণা। এই ভাবনায় পরিবারই সামাজিক জীবনের কেন্দ্র, যেখানে মূল্যবোধ, দায়িত্ব ও অন্যের প্রতি যত্নের শিক্ষা শুরু হয়। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ভারতকে একটি সমন্বিত পরিবার হিসেবে দেখার কথা বলেছিলেন, যেখানে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য বজায় থাকে। ১৯৫১ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জনসংঘের নেতৃত্বে থাকা এই চিন্তাবিদ তাঁর দার্শনিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের মাধ্যমে বিজেপির আদর্শিক দিশা নির্ধারণ করে গিয়েছেন। বর্তমানে বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামো সেই দর্শনেরই আধুনিক রূপ—যেখানে নীতি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র ভারতীয় সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন।

  • India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য চুক্তিতে সহমত হয়েছে ভারত এবং আমেরিকা (India US Trade Deal)। যার ফলে ভারতের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে বলে খবর। আর তাতেই ফাঁপড়ে পড়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিন। কারণ, তাদের থেকে ভারতের শুল্ক অনেকটাই কম। যার ফলে ভারতের বাণিজ্য বাড়বে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে এবং প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানি করতে পারে।

    স্বাগত বার্তা মোদির

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দারুণ আনন্দিত। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার এই ঘোষণায় আমি অত্যন্ত খুশি। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্র ও অর্থনীতি একসঙ্গে কাজ করলে তা সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

    ঐতিহাসিক চুক্তি, শাহ

    অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর পোস্টে এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ (Historic Deal) বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক ১৮ শতাংশে নামায় ভারত–মার্কিন বাণিজ্য (India-US Trade) নতুন মাত্রা পাবে। উভয় দেশের মানুষই এর সুফল পাবেন।’ দুই দেশের তুলনামূলক শুল্ক নিয়ে সরকারি সূত্র জানায়, এখন ভারতের শুল্ক ইন্দোনেশিয়া (১৯%), ভিয়েতনাম (২০%), বাংলাদেশ (২০%), এবং চিনের (৩৪%) চেয়ে কম। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে।

    ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    ভারত-মার্কিন বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) সম্পন্ন হওয়ায় আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০% শুল্ক কমে ১৮%-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অটোমোবাইল (Auto Stocks), আইটি (IT Stocks), ডিফেন্স (Defence Stocks) এবং ফার্মার (Pharma Stocks) মতো রফতানি-নির্ভর সেক্টরগুলি বিনিয়োগকারীদের (Investment) নজরে রয়েছে।ভারত-আমেরিকা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে রফতানি বাণিজ্যে নতুন জোয়ার আসবে। বিশেষ করে আইটি এবং ডিফেন্স স্টকগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান

    এই চুক্তির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারত এখন এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে পড়ল, যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক আরোপ করছে। চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের শুল্কহার কম। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় ভারতের শুল্ক সামান্য বেশি। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা আগের ২৫ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’-এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল। নতুন চুক্তির ফলে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

    বেশি ট্যারিফ যাদের উপর

    চিন- ৩৭ শতাংশ

    ব্রাজিল- ৫০ শতাংশ

    দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩০ শতাংশ

    মায়ানমার- ৪০ শতাংশ

    লাওস- ৪০ শতাংশ

    কম ট্যারিফ রয়েছে যাদের উপর

    ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন- ১৫ শতাংশ

    জাপান ১৫ শতাংশ

    দক্ষিণ কোরিয়া- ১৫ শতাংশ

    সুইৎজারল্যান্ড- ১৫ শতাংশ

    ইউকে- ১০ শতাংশ

    দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন শুল্ক

    বাংলাদেশ- ২০ শতাংশ

    ভিয়েতনাম- ২০ শতাংশ

    মালেয়শিয়া- ১৯ শতাংশ

    কম্বোডিয়া- ১৯ শতাংশ

    থাইল্যান্ড- ১৯ শতাংশ

    পাকিস্তান- ১৯ শতাংশ

    ভারত-মার্কিন চুক্তির শর্ত

    সূত্রের খবর, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়েছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মোট মার্কিন জ্বালানি ক্রয় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যের দিকে নিয়ে যাবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের গড় শুল্কহার ছিল বিশ্বের অন্যতম উচ্চ—সাধারণভাবে প্রযোজ্য হার ১৫.৬ শতাংশ এবং কার্যকর হার ৮.২ শতাংশ।

    রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ায় ভারতের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। বাণিজ্যে আরও সুবিধা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুল্ক কমার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভারত এবার থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। তার বদলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে তেল কিনবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টে এ কথা উল্লেখ নেই।

    এখনো যেসব বিষয় স্পষ্ট নয়

    এই চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের সময়সীমা কী, কিংবা কোন কোন মার্কিন পণ্য ভারত কিনবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি বা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিস জারি করেনি। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই এখনো চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে রাশিয়াও ভারতের তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে ভারতের সঙ্গে ঘোষিত এই চুক্তিতে তেমন কোনো বিনিয়োগের উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, গত এক বছরে দু’দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও উচ্চ শুল্ক এবং কূটনৈতিক মতবিরোধে সম্পর্ক কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল। শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতাকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

  • Adampur Airport: আদমপুর বিমানবন্দর এখন ‘শ্রী গুরু রবিদাস মহারাজ জি এয়ারপোর্ট’, উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    Adampur Airport: আদমপুর বিমানবন্দর এখন ‘শ্রী গুরু রবিদাস মহারাজ জি এয়ারপোর্ট’, উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের ৪ ঘণ্টা পরই বাল্লান গ্রামে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। পাকিস্তানের সীমান্তের রাজ্য পাঞ্জাবের জলন্ধরে অবস্থিত এই বাল্লান গ্রাম। তথ্য বলছে, পাকিস্তানের কাছে অবস্থিত অমৃতসররে ওয়াঘা সীমান্ত, জলন্ধরের বাল্লান গ্রাম থেকে ১০০-১২০ কিলোমিটার দূরে। আর সেই বাল্লান গ্রামই পরিদর্শন করলেন মোদি। বাল্লান গ্রামের ডেরা সচখন্দ-এ যান প্রধানমন্ত্রী। তার আগে প্রধানমন্ত্রী পাঞ্জাবের আদমপুর বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। বিমানবন্দরের (Adampur Airport) নতুন নাম হিসেবে ‘শ্রী গুরু রবিদাস মহারাজ জি বিমানবন্দর, আদমপুর’ উন্মোচন করেন।

    জন্মবার্ষিকীতে সন্ত গুরু রবিদাসকে শ্রদ্ধা

    ১ ফেব্রুয়ারি গুরু রবিদাসের জন্মতিথি পালিত হয়। সেই দিনেই পাঞ্জাবের এই বাল্লান গ্রামে পৌঁছচ্ছেন মোদি। উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত গুরু রবিদাস। এদিন জলন্ধরের আদমপুর বিমানবন্দর থেকে নেমে বাল্লান গ্রামে যান মোদি। গুরু রবিদাসের নামে এই বিমানবন্দরের নামকরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই ডেরা সচখন্দ মূলত, রবিদাসী গোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ৬৪৯তম জন্মবার্ষিকীতে সন্ত গুরু রবিদাসকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আদমপুর বিমানবন্দরের নামকরণ করা হয়েছে। সমতা, করুণা ও মানব মর্যাদার বাণী প্রচারকারী এই মহান সমাজ সংস্কারকের শিক্ষাই আজও ভারতের সামাজিক চেতনাকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

    বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন

    এই সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় অবস্থিত হালওয়ারা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন-এরও উদ্বোধন করেন। হালওয়ারা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন লুধিয়ানা ও তার আশপাশের শিল্প ও কৃষিভিত্তিক অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। লুধিয়ানা জেলায় অবস্থিত হালওয়ারা এলাকায় একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় বায়ুসেনা ঘাঁটিও রয়েছে। উল্লেখ্য, লুধিয়ানার পুরনো বিমানবন্দরের রানওয়ে তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল, যা কেবল ছোট বিমানের জন্য উপযুক্ত। বিমান যোগাযোগ উন্নত করতে এবং বড় বিমান চলাচলের সুবিধার্থে হালওয়ারায় একটি নতুন সিভিল এনক্লেভ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে। নতুন টার্মিনাল ভবনে পরিবেশবান্ধব ও শক্তি সাশ্রয়ী একাধিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এলইডি আলো, তাপ নিরোধক ছাদ, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নিকাশি ও জল শোধনাগার এবং বাগান পরিচর্যার জন্য পুনর্ব্যবহৃত জল ব্যবহারের সুবিধা। স্থাপত্য নকশায় পাঞ্জাবের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যায়, যা যাত্রীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

  • Union Budget: ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস স্ট্যান্ডিং কমিটি’ গঠনের কথা ঘোষণা মোদি সরকারের

    Union Budget: ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস স্ট্যান্ডিং কমিটি’ গঠনের কথা ঘোষণা মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস স্ট্যান্ডিং কমিটি’ নামে একটি নয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করল (Union Budget) কেন্দ্রীয় সরকার (Modi Govt)। রবিবার এই ঘোষণাটি করা হয়। কমিটির লক্ষ্য হল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য ভারতীয় কর্মশক্তিকে প্রস্তুত করা। সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এই কমিটি মূলত পরিষেবা খাতের ওপর গুরুত্ব দেবে, যাকে তিনি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন।

    নতুন প্রযুক্তির প্রভাব (Union Budget)

    এই কমিটি কর্মসংস্থানের ফল উন্নত করা এবং এআই-সহ নতুন প্রযুক্তির প্রভাব ভারতের শ্রমবাজারে কীভাবে পড়ছে, তা বিশ্লেষণ করবে। তরুণদের জন্য শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে একটি মসৃণ রূপান্তর নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, “পরিষেবা খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালক। নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটি পরিষেবা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশ করবে, যা ভারতকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্বের আসনে পৌঁছতে সাহায্য করতে পারে। সীতারামন জানান, ২০৪৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পরিষেবা বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব ১০ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তাঁর মতে, কমিটি এমন ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করবে যেখানে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে এবং রফতানি বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে (Union Budget)।

    ডিজিটাল সরঞ্জাম

    কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে এআই-সহ নতুন প্রযুক্তি শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা মূল্যায়ন করা। অর্থমন্ত্রী বলেন, “স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও ডিজিটাল সরঞ্জাম কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে, তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি।” এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কমিটি সুপারিশ করবে, কীভাবে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা যায়। অর্থমন্ত্রী বলেন, “এআই-সহ উদীয়মান প্রযুক্তির প্রভাব কর্মসংস্থান ও দক্ষতার চাহিদার ওপর কীভাবে পড়ছে, তা মূল্যায়ন করে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হবে।” তিনি আরও (Modi Govt) বলেন, “তরুণদের জন্য বহুমুখী ও দক্ষ পেশাগত সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেবে (Union Budget)।”

    সহায়ক স্বাস্থ্য পেশা

    এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হবে অ্যালায়েড হেলথ প্রফেশনস বা সহায়ক স্বাস্থ্য পেশা। অর্থমন্ত্রী জানান, এই খাতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিকীকরণ করা হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এতে ১০টি নির্বাচিত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে অপটোমেট্রি, রেডিওলজি, অ্যানেস্থেশিয়া, অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি, অ্যাপ্লায়েড সাইকোলজি ও বিহেভিয়ারাল হেলথ। অর্থমন্ত্রীর মতে, আগামী পাঁচ বছরে এর ফলে প্রায় এক লাখ নতুন সহায়ক স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তেমনি দেশে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদাও মেটানো যাবে।

    পরিষেবা খাত, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ ভারতের এমন এক (Modi Govt) কর্মশক্তি গড়ে তুলবে, যা আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে (Union Budget)।

     

  • Economic Survey 2025-26: গতি শক্তির প্রভাব স্পষ্ট! জিডিপির ৮ শতাংশের নিচে নামল লজিস্টিকস খরচ

    Economic Survey 2025-26: গতি শক্তির প্রভাব স্পষ্ট! জিডিপির ৮ শতাংশের নিচে নামল লজিস্টিকস খরচ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উচ্চ লজিস্টিকস খরচের সমস্যা অবশেষে কমতে শুরু করেছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ (Economic Survey 2025-26) জানিয়েছে, দেশের বৃহৎ পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের সুফল এখন ভারতের অর্থনীতিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন দফতর (DPIIT) এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লাইড ইকনমিক রিসার্চ (NCAER)-এর যৌথ সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে ভারতের লজিস্টিকস খরচ কমে জিডিপির ৭.৯৭ শতাংশে নেমেছে। আগের অর্থবর্ষে এই হার ছিল ৮.৮৪ শতাংশ এবং ২০২১–২২ সালে ছিল ৮.৭৯ শতাংশ।

    উচ্চ লজিস্টিকস খরচ আর বাধা নয়

    এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উচ্চ লজিস্টিকস খরচ ভারতের উৎপাদন ও রফতানি প্রতিযোগিতার পথে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। উন্নত অর্থনীতিগুলিতে যেখানে লজিস্টিকস খরচ সাধারণত জিডিপির ৬ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে ভারতে দীর্ঘদিন ধরে তা ১৩ শতাংশেরও বেশি ছিল। এর ফলে ব্যবসার খরচ বেড়েছে এবং দক্ষতা কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে ৮ শতাংশের নিচে নেমে আসাকে সমীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পিএম গতি শক্তি কমিয়েছে লজিস্টিকস খরচ

    সমীক্ষা অনুযায়ী, এই উন্নতির পিছনে একাধিক সমন্বিত পরিকাঠামো ও লজিস্টিকস উদ্যোগের ভূমিকা রয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে পিএম গতি শক্তি, ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর (DFC), ভারতমালা এবং সাগরমালা প্রকল্প। এর মধ্যে পিএম গতি শক্তিকে সবচেয়ে রূপান্তরমূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২১ সালে চালু হওয়া পিএম গতি শক্তি এখন একটি সমন্বিত জিও-স্পেশাল পরিকল্পনা রূপে গৃহীত হয়েছে। এই ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রক ও সংস্থা একই প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পারছে, ফলে প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি কমছে, প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা সহজ হচ্ছে এবং বিনিয়োগ আরও কার্যকর হচ্ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৫৭টি মন্ত্রক ও দফতর এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে। জাতীয় মাস্টার প্ল্যানে ১,৭০০-রও বেশি ডেটা লেয়ার সংযুক্ত হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন খাত ও অঞ্চলের পরিকাঠামো নেটওয়ার্ক একসঙ্গে দেখা সম্ভব হচ্ছে।

    পিএম গতি শক্তি পাবলিক’ প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব

    এর ফলে রাস্তা, রেল, বন্দর, বিদ্যুৎ এবং টেলিকম পরিকাঠামোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে, পণ্য পরিবহণের সময় কমছে এবং মূলধনী ব্যয়ের অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়ানো যাচ্ছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি পরিকাঠামোর পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্যও উদ্যোগের পরিসর বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি চালু হওয়া ‘পিএম গতি শক্তি পাবলিক’ প্ল্যাটফর্মে ২৩০টি কিউরেটেড ডেটাসেট বেসরকারি ডেভেলপার, লজিস্টিকস সংস্থা ও গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    গতি শক্তি ডিস্ট্রিক্ট মাস্টার প্ল্যান মডিউল

    রাজ্য স্তরেও সমন্বিত লজিস্টিকস পরিকল্পনার অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ২৭টি রাজ্য ইতিমধ্যেই রাজ্য লজিস্টিকস নীতি ঘোষণা করেছে এবং ২৮টি আকাঙ্ক্ষিত জেলা গতি শক্তি ডিস্ট্রিক্ট মাস্টার প্ল্যান মডিউল ব্যবহার করছে। প্রযুক্তিনির্ভর সংযোগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিফায়েড লজিস্টিকস ইন্টারফেস প্ল্যাটফর্ম (ULIP) বর্তমানে ১১টি মন্ত্রকের ৪৪টি সিস্টেমকে যুক্ত করছে, যেখানে ২,০০০-রও বেশি ডেটা ফিল্ডের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১,৭০০-র বেশি সংস্থা এই প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত হয়েছে।

     

     

  • India Back Buddha’s Jewel: শেষ মুহূর্তে নিলাম থামাল ভারত, হংকং থেকে উদ্ধার আড়াই হাজার বছর পুরনো বুদ্ধের গয়না

    India Back Buddha’s Jewel: শেষ মুহূর্তে নিলাম থামাল ভারত, হংকং থেকে উদ্ধার আড়াই হাজার বছর পুরনো বুদ্ধের গয়না

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক আন্তর্জাতিক নিলাম, ২,৫০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাস এবং শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক-আইনি নাটক—সব মিলিয়ে বাস্তবের এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। শেষ পর্যন্ত হংকং থেকে উদ্ধার হলো বুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অমূল্য ধাতুরত্ন (India Back Buddha’s Jewel)। ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন সাফল্য।

    শুরুটা যেভাবে

    ঘটনার সূত্রপাত একটি ‘রুটিন অ্যালার্ট’ দিয়ে। কিন্তু খুব দ্রুতই তা বদলে যায় আন্তর্জাতিক স্তরের এক টানটান অভিযানে। জানা যায়, লন্ডনে থাকা পিপরাওয়া বুদ্ধ-রত্ন নিলামে (India Back Buddha’s Jewel) তুলতে চলেছে আন্তর্জাতিক নিলাম সংস্থা সোদেবি’স (Sotheby’s), হংকংয়ে (Hong Kong)। বেস প্রাইস— প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। ১৮৯৮ সালে প্রাচীন কাপিলাবস্তুর স্তূপে এই রত্নগুলি আবিষ্কার করেছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ উইলিয়াম ক্ল্যাক্সটন পেপ্পে। ১২৭ বছর পরে তাঁরই বংশধর সেই রত্ন নিলামে তোলার উদ্যোগ নেন।

    যেভাবে গয়না ফেরাল ভারত

    পিপরাওয়া উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের কাছে অবস্থিত। বৌদ্ধ ইতিহাসে যার গুরুত্ব অপরিসীম। এই রত্নগুলি শুধু গয়না নয়, বুদ্ধের অস্থিধাতু, রেলিক, রিলিকোয়ারি ও খোদাই করা পাথরের সঙ্গে যুক্ত এক অনন্য ঐতিহ্য। প্রথমবার ১২৭ বছর পরে ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া এই রত্নগুলির একাংশ ভারতে থাকা বুদ্ধ-রেলিকের সঙ্গে পুনর্মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় ‘দ্য লাইট অ্যান্ড দ্য লোটাস: রেলিক্স অফ দ্য অ্যাওয়েকেন্ড ওয়ান’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে। কিন্তু নিলামের ঘণ্টা বাজলে এই সভ্যতার স্মারক চিরতরে ছড়িয়ে পড়ত ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের হাতে। আরও ভয় ছিল— চিনের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা। সেখানেই হস্তক্ষেপ করে ভারত। শেষ ৭২ ঘণ্টায় ভারত সরকার কূটনৈতিক চাপ, আইনি নোটিস ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আইন ব্যবহার করে নিলাম স্থগিত করতে সক্ষম হয়।

    আইনের চেয়েও দর্শন বড় অস্ত্র

    এই অভিযানের বিশেষত্ব এখানেই—ভারত কেবল মালিকানার আইনি দাবি করেনি। বরং যুক্তি দিয়েছে, এই রত্নগুলি নিছক বস্তু নয়, বরং বৌদ্ধ দর্শন, করুণা, অহিংসা ও জ্ঞানচর্চার জীবন্ত প্রতীক। ভারতের এই নৈতিক ও দার্শনিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গভীর প্রভাব ফেলে। ‘বাণিজ্য নয়, বিবেক’—এই যুক্তিতেই কার্যত নিলাম স্থগিত হয়।

    ঐতিহাসিক প্রথম: সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রত্যাবর্তন

    সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল, যিনি এই অভিযানের অন্যতম কারিগর, স্পষ্ট বলেন, “এই প্রথমবার ভারতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কোনও রত্ন প্রত্যাবর্তন হল।” তাঁর অভিজ্ঞতা, বিশেষত অর্থ মন্ত্রকের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে কাজ করার সুবাদে নিলাম জগতের ফাঁকফোকর বুঝতে বড় ভূমিকা নেয়। শেষ ৭২ ঘণ্টায় আইনি নোটিস, কূটনৈতিক চাপ ও তথ্যপ্রমাণের দৌড়ে থামে নিলাম।

    দানশীলতার দৃষ্টান্ত: পিরোজশা গোদরেজ

    এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে এগিয়ে আসেন মুম্বইয়ের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও দানশীল ব্যক্তি পিরোজশা গোদরেজ। তিনি অঘোষিত মূল্যে রত্নগুলি কিনে নেন এবং ভারত সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে প্রদান করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এই রত্নগুলি চিরকাল ভারতেই থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে কেন এই রত্ন অমূল্য

    ন্যাশনাল মিউজিয়ামের ডেপুটি কিউরেটর অবিরা ভট্টাচার্য বলেন, “এই রত্নগুলি ভারতের সভ্যতার স্মৃতি বহন করে—যা সীমান্ত বা রাজনীতির ঊর্ধ্বে।” ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেরিটেজের অধ্যাপক সবিতা কুমারী জানান, “২৫০০ বছরের প্রাচীন এই রত্নগুলি বৌদ্ধ জগতের প্রাচীনতম ধর্মীয় নিদর্শনের অন্যতম।”

    ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত

    এই ঘটনা প্রমাণ করল— সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, দ্রুত গোয়েন্দা ও আইনি পদক্ষেপ, সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক যুক্তির ব্যবহার এই তিনের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব।সংস্কৃতি মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শুধু ধাতুরত্ন ফেরত আনার ঘটনা নয়—এটি ভারতের স্মৃতি, দর্শন, আত্মমর্যাদা ও সভ্যতাগত দায়িত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার মুহূর্ত।

LinkedIn
Share