Tag: PM Modi

PM Modi

  • India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদ ভবনের বাইরে নিজের ভাষণ ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভবিষ্যতে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের অভিমুখ যে অনেকাংশে ইউরোপের দিকে ঘুরে যেতে পারে, সেই আভাস মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর এক ব্রিটিশ সংবাদপত্র নরেন্দ্র মোদিকে আখ্যা দিয়েছিল “ভারতের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে। বারো বছর পর, সেই তকমার যথার্থতা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সোশ্যাল মিডিয়াকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

    ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি একটিমাত্র বার্তা পোস্ট করেন—কিন্তু সেটি ছিল ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি একসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে “বহুভাষিক মাস্টারস্ট্রোক” বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তিকে নিছক অর্থনৈতিক লেনদেনের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের রূপ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্পের বাণিজ্য কৌশলের প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ ঘনিষ্ঠতা

    এই চুক্তি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বাণিজ্য নীতিতে বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল। ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তিতে চাপের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়েছে। ট্রাম্পের কৌশল—শুল্ককে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার—বিশ্বের বহু মিত্র দেশকেই প্রভাবিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ চুক্তিকে অনেকেই “মাদার অব অল ডিলস” বলে উল্লেখ করছেন।

    আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি

    ব্রিটেনের সঙ্গে আগেই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছে ভারত। দু’দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউরোপের ২৭ দেশের জোট)-এর সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। মোদীর কথায়, ভবিষ্যতের পথ কতটা উজ্জ্বল, তারই একটি ঝলক হল ইউরোপের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তি। তিনি বলেন, “এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের চুক্তি। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের চুক্তি। আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি।” ইউরোপীয় জোটের সঙ্গে এই চুক্তিকে আগেও ‘সব চুক্তির জননী’ বলে ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি। বৃহস্পতিবার ফের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে। এখন খুব সস্তায় ভারতীয় পণ্য ইউরোপীয় দেশগুলিতে পৌঁছে যাবে বলেও দেশবাসীকে জানান তিনি।

    ২৭টি দেশের ক্রেতাদের মন জয়

    ইউরোপীয় বাজার যে ভারত একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে চাইছে, তা-ও স্পষ্ট মোদীর কথায়। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নির্মাতা এবং উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে মোদী পরামর্শ দেন, অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে, সেখানে সস্তায় পণ্য রফতানি করা যাবে— এই ভেবে বসে থাকলে চলবে না। সেরা মানের পণ্য রফতানির উপরে জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সেরা মানের পণ্যের উপরে জোর দেওয়ার এটাই সুযোগ। সেরার সেরা মানের পণ্য নিয়ে বাজারে আসুন। তা হলে আমরা ইউরোপের ২৭টি দেশের ক্রেতাদের থেকে শুধু টাকাই আয় করব না, গুণমানের জন্য তাদের মনও জয় করতে পারব। কয়েক দশক ধরে যার প্রভাব থাকবে।”

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বহুভাষিক বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি ইংরেজিতে লেখেন— “আজ ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উপসংহার আমাদের সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরোপের সব নেতাদের তাঁদের গঠনমূলক মনোভাব ও প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই চুক্তি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, আমাদের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে ভারত-ইউরোপ অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে।” এরপর একই বার্তা তিনি ফরাসি, জার্মান, গ্রিক, ইতালিয়ানসহ ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় পোস্ট করেন। এর জবাবে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতিসহ একাধিক ইউরোপীয় নেতা হিন্দিতে শুভেচ্ছা বার্তা দেন।

    মানবিক ও ব্যক্তিগত কূটনীতি

    ইউরোপীয় কমিশনের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ক্রিস্টিনা ভ্যানবার্গেন এই উদ্যোগকে “২৭টি দেশের প্রতি একসঙ্গে সৌজন্যমূলক শ্রদ্ধা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “প্রতিটি দেশের ভাষায় কথা বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি বাণিজ্য চুক্তিকে সাংস্কৃতিক করমর্দনে রূপান্তর করেছেন। এই এফটিএ কাগজপত্রের চুক্তি নয়—এটি মানবিক ও ব্যক্তিগত। একবিংশ শতাব্দীর কূটনীতি ঠিক এভাবেই হওয়া উচিত।” ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মারিওস কারাতজিয়াস একে “ডিজিটাল যুগের সেরা জনকূটনীতি” হিসেবে আখ্যা দেন।

    ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির মূল দিক

    দুই দশক ধরে আলোচনার পর সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি এখন আইনি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে, তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।

    • ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের শ্রমনির্ভর পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য করবে
    • ভারতের ৯০ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর ইইউ শুল্ক প্রত্যাহার করবে
    • ইউরোপের ৯৬ শতাংশ রফতানিপণ্যের ওপর ভারতের শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হবে
    • ভারতের অটোমোবাইল বাজার ইউরোপীয় গাড়ির জন্য খুলে দেওয়া হবে
    • গাড়ির ওপর শুল্ক প্রথমে ৩০–৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, পরে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে নামবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপ—উভয়ের জন্যই লাভজনক। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষাভিত্তিক, লক্ষ্যভিত্তিক কূটনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

  • Israel: নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে ফেব্রুয়ারি মাসে ইজরায়েলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, কী কী বিষয়ে আলোচনা?

    Israel: নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে ফেব্রুয়ারি মাসে ইজরায়েলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, কী কী বিষয়ে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইজরায়েলের (Israel) মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আগামী ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল সফর করতে চলেছেন। তাঁর তৃতীয় মেয়াদে এটিই হবে প্রথম ইসরায়েল সফর এবং ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের প্রায় নয় বছর পর তিনি দেশটিতে যাচ্ছেন।

    ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি (Israel) রাষ্ট্রদূত রুবেন আজার নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং এই সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি এখন চলছে।” দুই দেশের সম্পর্কের মাত্রাকে আরও উন্নত এবং সুরক্ষিত করতে বিশেষ ভাবে উভয়দেশ দায়িত্বশীল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সফরের মূল লক্ষ্য ও ক্ষেত্রসমূহ (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নিচের ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে:

    • প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা: সামরিক সরঞ্জাম এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা।
    • প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা: উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান।
    • কৃষি ও বাণিজ্য: কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত করা।

    ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য

    পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন কথোপকথনে উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা শূন্য-সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় দেশ নিজেদের মত নিয়ে এক এবং অবিচল।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল গত কয়েক মাসে ইজরায়েল (Israel) সফর করেছেন। অন্যদিকে, ইজরায়েলের পর্যটন, অর্থনীতি, কৃষি ও অর্থমন্ত্রীরাও গত বছর ভারত সফর করেছেন। এই উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোই মূলত মোদির আসন্ন সফরের ভিত্তি তৈরি করেছে।

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ইতিহাস

    ২০১৭ সালের সফর: প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) ছিলেন প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি ইজরায়েল সফর করেছিলেন।

    প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব: বর্তমানে ভারত ইজরায়েলি (Israel) সামরিক সরঞ্জামের বৃহত্তম ক্রেতা। এছাড়াও যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে উভয় দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।

    সাম্প্রতিক চুক্তি: সম্প্রতি উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

    এই সফর শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাই নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইজরায়েলের গভীর বন্ধুত্বের প্রতিফলন ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • PM Modi: “কেন্দ্রীয় বাজেট ও সংস্কারের ওপরই মনোনিবেশ করুন”, সাংসদদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “কেন্দ্রীয় বাজেট ও সংস্কারের ওপরই মনোনিবেশ করুন”, সাংসদদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সাংসদরা যেন কেন্দ্রীয় বাজেট ও সংস্কারের ওপরই মনোনিবেশ করেন”, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি এমনই আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণকে জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন এবং ভারতের প্রবৃদ্ধি-লক্ষ্যমাত্রাকে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেন, যাকে তিনি সবচেয়ে (Budget Session) বড় চুক্তি বা সব চুক্তির জননী বলে অভিহিত করেন। নয়াদিল্লিতে বাজেট অধিবেশনের সূচনায় ভাষণ দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ১ ফেব্রুয়ারি তিনি ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করতে চলেছেন, যা হবে তাঁর টানা নবম বাজেট পেশ।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতির ভাষণ ১৪০ কোটি নাগরিকের আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ এবং যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার রূপরেখা তুলে ধরে।” সংস্কার ও সংসদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যদের উচিত সংস্কারের গতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অবদান রাখা এবং তা সমর্থন করা।” ভারতের সংস্কারযাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিনের সমস্যার যুগ থেকে বেরিয়ে এসে আমরা এখন দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছি।” প্রযুক্তি ও শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের প্রযুক্তিগত সংস্কার মানুষের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা দরকার।” বিশ্বে ভারতের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতের গণতন্ত্র ও জনসংখ্যাগত শক্তি বিশ্বশক্তির বড় স্তম্ভ।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কারের পথে এগিয়ে যাব।” ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “ভারত-ইইউ এফটিএ একটি আত্মবিশ্বাসী ও প্রতিযোগিতামূলক ভারতের দিকে বড় পদক্ষেপ (PM Modi)।”

    সবচেয়ে বড় চুক্তি

    উৎপাদন ও রফতানি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এই চুক্তিকে ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি ভারতীয় উৎপাদকদের জন্য একটি বিশাল বাজার খুলে দেবে।” একই সঙ্গে তিনি পণ্যের গুণগত মানের ওপরও জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নে যেন সর্বোচ্চ মানের পণ্যই যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। গুণগত মানই আগামী কয়েক দশক ধরে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে এবং ইউরোপে ‘ইন্ডিয়া ব্র্যান্ড’ প্রতিষ্ঠা করবে।” বাজেট অধিবেশনের প্রধান লক্ষ্য কী, এদিন তাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বলেন, “দেশের জন্য বাজেটের ওপর মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার, কার্যকর করা বা বাস্তবায়ন ও রূপান্তর—এই তিনটি লক্ষ্যই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য (Budget Session)।” এদিনই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করার কথা। এতে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে ভারতের অর্থনীতির বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে। ১ ফেব্রুয়ারি পেশ হবে বাজেট। প্রসঙ্গত, এই বাজেটটি হবে নির্মলা সীতারামনের টানা নবম কেন্দ্রীয় বাজেট। এর মাধ্যমে (Budget Session) তিনি দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী এবং প্রথম মহিলা হিসেবে এই নজির তৈরি করতে চলেছেন (PM Modi)।

     

  • Suvendu Adhikari: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে সিঙ্গুর”, তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে সিঙ্গুর”, তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রীর সভা সফল হয়েছে দেখে চিন্তিত হয়ে তড়িঘড়ি সভা করতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে টাটাকে তাড়ানো হয়েছিল এই রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে। ব্যাড এম বলেছিলেন রতন টাটা, সেটা এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গুড এম বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদিকে। সিঙ্গুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে। কোনও বড় বিনিয়োগ আসেনি এই বাংলায়।” এক নাগাড়ে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পরে বলেন, “আজ মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে সভা করছেন। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের মাটি থেকে বলেছেন আইন শৃঙ্খলা ঠিক করলে শিল্প আসবে।”

    ভিড় দেখেই চক্ষু চড়কগাছ! (Suvendu Adhikari)

    দিন দুয়েক আগেই সিঙ্গুরে জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই সভায় ভিড় দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারদের। তার পরেই সাত তাড়াতাড়ি করে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে সভা করানো হয় সেই তাপসী মালিকের সিঙ্গুরে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ওখানে গিয়েছেন বাংলার বাড়ি দেবেন বলে। প্রধানমন্ত্রী এর আগেই আবাস যোজনা চালু করেন। ৪০ লাখ ইউনিট আবাস যোজনার বাড়ি দিয়েছে। যেটা সাধারণ মানুষ পায়নি, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা সেই টাকা তুলে নিয়ে খেয়ে নিয়েছে, নিজেদের বাড়ি বানিয়েছে।”

    শুভেন্দুর চাঁদমারি

    এদিন শুভেন্দু প্রথম থেকেই চাঁদমারি করেন তৃণমূলকে। তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যেভাবে বাংলার বালি চুরি হচ্ছে সেখানে এই টাকায় কোনও বাড়ি তৈরি হয় না। বিজেপিকে আনুন, বাড়ি করে দেবে বিজেপি। সোলার প্যানেল, জল, শৌচালয় দেবে বিজেপি। ২০০০ টাকার বালি হয়েছে ১৫,০০০ টাকা। অবৈধ বালি তোলা আর তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা তোলার কারণে দাম বেড়েছে সব জিনিসের। মিথ্যাচারের পর্দা ফাঁস করা দরকার, ৪০ লাখ বাড়ি লুঠ করেছে।” তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে সর্ষের বীজ ছড়িয়েছিলেন, এখন সিঙ্গুরের মানুষ চোখে সর্ষেফুল দেখছেন।” শুভেন্দু বলেন, “এ রাজ্যে কোনও শিল্প হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে গত ১৫ বছরে রাজ্য থেকে ৬ হাজার ৪৮৮টি শিল্প চলে গিয়েছে। এটাই পশ্চিমবঙ্গের আসল ছবি (Suvendu Adhikari)।”

    এদিন সিঙ্গুর থেকেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করেন মমতা। বলেন, “বারবার ডিভিসির জলে ভাসে ঘাটাল। ১০ বছর ধরে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছি। তার বদলে পেয়েছি শুধুই ধোঁকা।” তিনি বলেন, “অনেকেই বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু কথা রাখেন না। কিন্তু আমি ১০০ শতাংশ কথা রাখার চেষ্টা করি, জুমলা করি না।” এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “ভোটের জন্যই তড়িঘড়ি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের শিলান্যাস করা হয়েছে (Mamata Banerjee)। পুরোটাই মিথ্যাচার। ঘাটালবাসী পরপর ভোট দিয়ে গিয়েছেন, অথচ মাস্টার প্ল্যান আজও হয়নি (Suvendu Adhikari)।”

     

  • Republic Day 2026: ২৯টি বিমানের বর্ণাঢ্য ফ্লাইপাস্ট, ১৭টি রাজ্যের মোট ৩০টি ট্যাবলো,  সাধারণতন্ত্র দিবসে ঝলমলে কর্তব্যপথ

    Republic Day 2026: ২৯টি বিমানের বর্ণাঢ্য ফ্লাইপাস্ট, ১৭টি রাজ্যের মোট ৩০টি ট্যাবলো, সাধারণতন্ত্র দিবসে ঝলমলে কর্তব্যপথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লির কর্তব্য পথে (Kartvya Path) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হল ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day 2026)। এদিন সকালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতীয় পতাকা তেরঙ্গা উত্তোলন করেন। জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণ এবং উপস্থিত সমস্ত বিশিষ্ট ব্যক্তি জাতীয় পতাকাকে অভিবাদন জানান। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐক্য, অগ্রগতি ও সামরিক শক্তির মহা প্রদর্শনী। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন।

    সব ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভারতের বার্তা

    কর্তব্য পথে (Kartvya Path) অনুষ্ঠিত এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের থিম ছিল “বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর”। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যার মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান এবং তিন বাহিনীর প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন। এ বছর একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে কর্তব্য রেখা বরাবর দর্শক গ্যালারিগুলির নামকরণ করা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন নদীর নামে। বিমানচালনা, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ বিজ্ঞানে আগ্রহী অগণিত তরুণ-তরুণীর কাছে এই মুহূর্ত এক শক্তিশালী বার্তা—আজকের সাহস আর শুধু স্থল, জল বা আকাশেই সীমাবদ্ধ নয়, তা পৌঁছে গেছে কক্ষপথেরও অনেক দূরে।

    “আত্মনির্ভর ভারত”-এর চেতনা

    গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ছিল বিশেষ। কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ২৯টি বিমানের বর্ণাঢ্য ফ্লাইপাস্ট। এতে রাফায়েল, সুখোই-৩০, পি-৮আই, সি-২৯৫, মিগ-২৯, অ্যাপাচি, এলইউএইচ, এএলএইচ এবং এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিভিন্ন ফর্মেশনে আকাশে শক্তি প্রদর্শন করে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর ছয়টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার গতিতে একযোগে উড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি একটি সি-১৩০ এবং দুটি সি-২৯৫ বিমানও আকাশে দেখা যায়। কুচকাওয়াজে প্রায় ২,৫০০ শিল্পী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন, যেখানে “বন্দে মাতরম” এবং “আত্মনির্ভর ভারত”-এর চেতনা তুলে ধরা হয়। প্রায় ১০,০০০ বিশেষ অতিথি এই কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবন, গবেষণা, স্টার্টআপ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও সরকারি প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

    নারী শক্তির প্রদর্শন

    প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) এ বছরের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো দেশীয় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শিত হয়, যা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক নতুন দিক তুলে ধরে। পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েন ব্যাক্ট্রিয়ান উটও কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। ১৭টি রাজ্যের মোট ৩০টি ট্যাবলো কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে। ভৈরব ব্যাটালিয়ন প্রথমবারের মতো তাদের সাহসিকতার প্রদর্শন করে, আর মহিলা অগ্নিবীররা বিমান বাহিনীর মার্চিং ব্যান্ডে অংশ নিয়ে বিশেষ নজর কাড়েন। ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর মহিলা সদস্যদের ট্যাবলোও ছিল অন্যতম আকর্ষণ। সহকারী কমান্ড্যান্ট নিশি শর্মা, অপূর্ব গৌতম হোরে, লক্ষিতা এবং হার্দিকের নেতৃত্বে এই ট্যাবলোতে নারী শক্তির দৃঢ় উপস্থিতি তুলে ধরা হয়।

  • PM Modi: প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজস্থানের স্বদেশি পাগড়িতে নজর কাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজস্থানের স্বদেশি পাগড়িতে নজর কাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত আজ ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day 2026) পালন করছে। আজকের দিনেই ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়েছিল। এই উপলক্ষ্যে দিল্লির কর্তব্য পথে আয়োজিত কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর রাজস্থানী স্টাইলের রঙিন পাগড়ি সকলের নজর কেড়েছে। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি এবং তিন বাহিনীর প্রধান উপস্থিত ছিলেন এদিনের অনুষ্ঠানে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোশাক (PM Modi)

    ঐতিহ্য (Republic Day 2026) বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবার একটি লাল ও সোনালী-হলুদ রঙের মিশ্রণে তৈরি রাজস্থানী ‘লেহরিয়া’ ডিজাইনের পাগড়ি পরেন। তার সঙ্গে তিনি একটি গাঢ় নীল রঙের কুর্তা এবং হালকা নীল রঙের নেহরু জ্যাকেট পরেছিলেন।

    শ্রদ্ধা নিবেদন

    কুচকাওয়াজ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী (Republic Day 2026) দিল্লির জাতীয় সমর স্মারকে (National War Memorial) গিয়ে আত্মোৎস্বর্গী বীর জওয়ানদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

    কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কর্তব্য পথে এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব দেন।

    বিশেষ অতিথি

    ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন।

    থিম

    এবারের কুচকাওয়াজের মূল থিম ছিল ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। এছাড়া কুচকাওয়াজে ভারতের সামরিক শক্তি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রদর্শিত হয়েছে। বঙ্কিমের গানকে উল্লেখ করে বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও করা হয়।

    ট্যাবলো ও পারফরম্যান্স

    এদিন মোট ৩০টি ট্যাবলো ছিল অনুষ্ঠান জুড়ে। যার মধ্যে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ১৩টি মন্ত্রক কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। এছাড়া প্রায় ২,৫০০ শিল্পী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রতিভা প্রদর্শন করেন।

    প্রতি বছরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) তাঁর পোশাকে ভারতের আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই লাল-হলুদ রঙের পাগড়ি ভারতের ঐক্য ও বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মুর্মু এবং বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে কর্তব্য পথে ভারতের সামরিক সরঞ্জাম (Republic Day 2026) এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে।

  • Republic Day 2026 : কঠিন পরিস্থিতি, জটিল সিদ্ধান্ত! প্রতিকূল পরিবেশেও স্থির, সাধারণতন্ত্র দিবসে শুভাংশুকে অশোক চক্র প্রদান রাষ্ট্রপতির

    Republic Day 2026 : কঠিন পরিস্থিতি, জটিল সিদ্ধান্ত! প্রতিকূল পরিবেশেও স্থির, সাধারণতন্ত্র দিবসে শুভাংশুকে অশোক চক্র প্রদান রাষ্ট্রপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে প্রদর্শিত বিরল সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ, ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে (Shubhanshu Shukla) প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব সম্মান অশোক চক্র প্রদান করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) এই সম্মান শুধু এক সৈনিকের কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। পুরস্কারের ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, চরম প্রতিকূল পরিবেশে অসাধারণ সাহস, মানসিক দৃঢ়তা এবং মিশনের সাফল্যের প্রতি অটল নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন শুভাংশু শুক্লা—যেখানে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

    শুভাংশুকে কেন অশোক চক্র

    কর্তব্যপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day 2026) মহামঞ্চে সোমবার নজির গড়লেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পেলেন দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব সম্মান ‘অশোক চক্র’। সাধারণত সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বীরত্বের জন্য অশোক চক্র প্রদান করা হয়। মহাকাশ অভিযানের জন্য একজন কর্মরত বায়ুসেনা অফিসারকে এই সম্মান প্রদান ভারতের জাতীয় পরিষেবার ধারণার বিবর্তনকেই তুলে ধরছে, বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার নতুন দিগন্তে দেশ যখন এগিয়ে চলেছে।

    শুভাংশুর সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা

    একজন দক্ষ পরীক্ষামূলক পাইলট ও ভারতের অন্যতম শীর্ষ মহাকাশচারী হিসেবে পরিচিত শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla) দেশের মানব মহাকাশ কর্মসূচির অগ্রভাগে রয়েছেন। মাইক্রোগ্র্যাভিটি ও সীমিত কক্ষপথের পরিবেশে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষিত শুক্লার এই মিশনে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রয়োজন হয়েছিল চরম মানসিক স্থিতি ও মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। অভিযানের সময় কক্ষপথে জটিল কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখেও তিনি অসাধারণ নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শন করেন, যার ফলে ক্রুদের নিরাপত্তা ও মিশনের লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়। পুরস্কার প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি শুভাংশু শুক্লার সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ব্যক্তিগত ঝুঁকি গ্রহণে প্রস্তুত এমন মানুষদের হাত ধরেই ভারতের মহাকাশযাত্রা এগিয়ে চলেছে।

    তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা শুভাংশু

    ২০২৫ সালে অ্যাক্সিয়ম (Axiom 4) মিশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়েছিলেন শুক্লা। উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পা রেখে ইতিহাস গড়েন তিনি। কঠিন পরিস্থিতি, জটিল সিদ্ধান্ত ও প্রতিকূল পরিবেশেও তাঁর নির্ভুল নেতৃত্ব, শান্ত মস্তিষ্ক ও কর্তব্যবোধ এই সম্মানের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। মহাকাশে অবস্থানের সময় বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্পন্ন করেন শুক্লা। কৃষিক্ষেত্রেও অনন্য পরীক্ষা চালিয়ে সফলভাবে মেথি ও মুগ ডালের চাষ করেন শূন্য মহাকর্ষে যা ভবিষ্যতের মহাকাশ কৃষি গবেষণার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর সাহসিকতা ও অবদান শুধু ভারত নয়, বিশ্ব মহাকাশ গবেষণায়ও এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর কীর্তি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

     

     

     

     

     

  • PM Modi: ট্রাম্প-ফাঁদে পা দেননি মোদি, ইউরোপীয়রা এখনও ‘শিখছেন’ খামখেয়ালি ডোনাল্ডের কাছে!

    PM Modi: ট্রাম্প-ফাঁদে পা দেননি মোদি, ইউরোপীয়রা এখনও ‘শিখছেন’ খামখেয়ালি ডোনাল্ডের কাছে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যদি আপনার ওপর ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও রেহাই পান না। মঙ্গলবার সেটাই কঠিনভাবে বুঝে নিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট (PM Modi)। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ট্রাম্প এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন প্রেমিকের মতো তাঁদের ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ্যে এনে ফেলেন। এমনকি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্বের ঢাক পেটানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চাগোস দ্বীপ চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের কাছে ‘ভয়ঙ্কর বোকামি’র জন্য তীব্র ভর্ৎসিত হন।

    ট্রাম্পের কাছে আনুগত্য (PM Modi)

    এই ঘটনাগুলি এক নির্মম সত্য সামনে এনে দিয়েছে। সেটি হল ট্রাম্পের কাছে আনুগত্য মানেই সম্মান নয়। ঠিক এখানেই ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্য-কূটনীতির মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কৌশলগত নীরবতা ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ ভারতকে ‘ট্রাম্প-ফাঁদ’ এড়াতে সাহায্য করেছে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। নতুন বছর শুরু হতেই ট্রাম্পের দৃষ্টি পড়ে গ্রিনল্যান্ডের ওপর। ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের পদক্ষেপে উৎসাহিত হয়ে তিনি আরও আগ্রাসী হন। নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতা দখলের ঘটনায় বিশ্ব যখন বিস্ময়ে তাকিয়ে, তখন ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল নরম (PM Modi)। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প যখন ইউরোপেরই এক সদস্য রাষ্ট্রকে নিশানা করে এবং ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুমকি দেন, তখন ইউরোপ বুঝে যায় এক কঠিন বাস্তবতা, ট্রাম্প বন্ধুত্বে বিশ্বাস করেন না, তিনি আদতেই একজন ব্যবসায়ী।

    সাতটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর শুল্ক চাপানো

    ব্রিটেন এবং আরও সাতটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর শুল্ক চাপানো হয়েছে, যদিও ট্রাম্প গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। অর্থাৎ, বাণিজ্য চুক্তি বা মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার খুলে (Donald Trump) দিলেও ভবিষ্যতের শুল্ক থেকে রেহাই নিশ্চিত নয় (PM Modi)। এহেন প্রেক্ষাপটে ভারত অনেক আগেই সেই বাস্তবতা বুঝে ফেলেছিল, যা ইউরোপ এখন অনুভব করছে। অনিশ্চিত ‘ট্রাম্প ২.০’-এর যুগে শুল্ক শুধু বাণিজ্যিক অস্ত্র নয়, বরং ব্যক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সব সময়ের হাতিয়ার। এই কারণেই মার্কিন চাপ সত্ত্বেও এবং ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের মুখে পড়েও, ভারত তড়িঘড়ি করে কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেনি।

    ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ

    ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্কের হুমকি দিয়ে তিনি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামিয়েছেন। ভারত দ্রুত বুঝতে পারে, এটি ছিল ট্রাম্পের ভূরাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন এবং নিজের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল (PM Modi)। ভারত স্পষ্ট জানায়, সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। পাকিস্তান যেখানে ট্রাম্পের তথাকথিত ‘মধ্যস্থতা’কে স্বাগত জানিয়েছিল, ভারত সেখানে সংযত কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নেয়। সরাসরি ট্রাম্পকে আক্রমণ না করেও ভারত তার অবস্থান বজায় রাখে। গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। তার পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট জানান, যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকার কোনও ভূমিকা ছিল না এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়েও আলোচনায় যাননি, পাকিস্তানের মতো অতিরিক্ত তোষামোদ না করেই।

    ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ

    এরই পরিণতি দ্রুত আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপান, যার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও ছিল। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই শুল্কের হার মাত্র ১৯ শতাংশ। চিনের মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, যা আগের মার্কিন প্রশাসনগুলি সযত্নে গড়ে তুলেছিল, তা-ও টলমল করতে শুরু করে (PM Modi)।তারপরেও ভারত ধৈর্য ধরেছে। শুল্ক আরোপের (Donald Trump) পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা তাঁর মন্ত্রীরা ট্রাম্পের সঙ্গে বাকযুদ্ধে নামেননি। যদিও ট্রাম্পের সহযোগীরা প্রতিদিন নতুন অপমানসূচক মন্তব্য করছিল। ভারতকে ‘ক্রেমলিনের মানি লন্ড্রোম্যাট’ বলা থেকে শুরু করে ‘রক্তের টাকা’র অভিযোগ পর্যন্ত নানা ‘সম্ভাষণে’ ভূষিত করেছিল তাঁকে। এদিকে ট্রাম্প নিজে মোদির প্রশংসা চালিয়ে যান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ‘প্রিয়’, ‘সত্যিকারের’, ‘মহান’ বন্ধু বলে উল্লেখ করেন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    ভারত এই ভালো পুলিশ–খারাপ পুলিশ খেলায় পা দেয়নি। শুল্কের চাপ সত্ত্বেও কৃষি ও দুগ্ধ খাত খুলে দেওয়ার মতো একতরফা চুক্তিতে সই করেনি। বন্ধ করেনি রাশিয়া থেকে তেল আমদানিও। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগও ছিন্ন করেনি। পীযূষ গোয়েল এবং এস জয়শঙ্করের মতো মন্ত্রীরা নেপথ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যান। দেশে বিরোধীদের আক্রমণের মধ্যেই মোদি ‘স্বদেশি’র ডাক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার মোকাবিলা করেন (PM Modi)। তবে ভারত নিজেকে দুর্বলও হতে দেয়নি। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে মোদির চিন সফর ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একান্তে একই গাড়িতে সফর ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা -ভারতের সামনে রয়েছে বিকল্প কৌশলগত পথ। এটাই ভারতের বহু দশকের অ-সংযুক্ত বিদেশনীতির ভিত্তি।

    আংশিক বাণিজ্য

    একই সময়ে ভারত ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি বড় চুক্তিও শীঘ্রই আসছে। নিঃশব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালশস্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ভারত, যদিও এনিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বয়ান নিয়ন্ত্রণ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৭ জুনের পর মোদি চারবার ট্রাম্পের ফোন এড়িয়ে যান। কারণ, আংশিক বাণিজ্য চুক্তির ফল যে ট্রাম্প অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করতে পারেন, এ বিষয়ে ভারত সচেতন ছিলই (Donald Trump)। শেষ পর্যন্ত ১৭ সেপ্টেম্বর, মোদির জন্মদিনে ফোনালাপ হলে, ভারতই প্রথম নিজের বক্তব্য প্রকাশ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠকারী পোস্টের জন্য পরিচিত ট্রাম্পকে তাঁর নিজের খেলায় হারানোর এটিই ছিল কৌশল।

    ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁসের অপমান

    মাক্রোঁ যদি মোদির পথ অনুসরণ করতেন, তবে হয়তো ট্রাম্পের হাতে ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁসের অপমান এড়াতে পারতেন। সব মধুর কথাবার্তা ও চুক্তির পরেও পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিত তালিকা থেকে বাদ পড়েনি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযম ও দৃঢ়তার ভারসাম্যই ভারতকে ট্রাম্প-ফাঁদ এড়াতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকও স্বীকার করেছেন, মোদি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে না চাওয়ায় চুক্তি হয়নি (PM Modi)। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফারিদ জাকারিয়াও ভারতের কৌশলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প অস্থির ও খামখেয়ালি। তাই তাঁকে সামলাতে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ইউরোপ-আমেরিকার বর্তমান টানাপোড়েন প্রমাণ করেছে যে ভারতের সতর্ক কৌশল সময়োপযোগী। প্রকাশ্য আক্রমণ নয়, বরং স্বার্থ রক্ষা ও নেপথ্য কূটনীতি, এটাই ছিল ভারতের পথ। ট্রাম্পের কোনও স্থায়ী ব্যক্তিগত আনুগত্য নেই। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, পরবর্তী লাভজনক চুক্তি। ভারত সেটা অনেক আগেই বুঝেছিল (Donald Trump)। ইউরোপ এবং অন্যরা এখনও নিত্য তাঁর কৌশল শিখে চলেছে। এই কারণেই এগিয়ে ভারত (PM Modi)।

  • BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই। সোমবার রাতেই তাতে পড়ল সিলমোহর। বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে বিজেপির কনিষ্ঠতম সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জেপি নাড্ডার পর বিজেপির এই পদের দায়িত্ব সামলাবেন নিতিন।

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP)

    সোমবারই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। গত ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কে লক্ষ্মণ জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময়সীমা পেরনোর পর দেখা যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন।  এদিন নির্বাচিত হওয়ার আগেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন নিতিন। সোমবার রাতেই তিনি বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, সুনীল বনসল, মঙ্গল পান্ডে এবং অমিত মালব্যর সঙ্গে।

    বাংলায় আসতে পারেন নিতিন

    সূত্রের খবর, সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি মাসেই বাংলায় আসতে পারেন নিতিন। তখনই তিনি বৈঠক করবেন রাজ্য সংগঠনের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে। সোমবার রাতের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে খুঁটিনাটি জানতে চান নিতিন। তাঁর বাবা প্রয়াত বিজেপি নেতা নবীন কিশোর সিনহা। এবিভিপির হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। ২০১০ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন তিনি। জয়ীও হন বিহারের বাঁকিপুর আসনে। তারপর থেকে এই কেন্দ্রেই ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে আসছেন নিতিন (Nitin Nabin)।  দেশের রাজনীতিতে নবীন মুখ হলেও, বিহারে নিতিন খুবই পরিচিত। তাঁর জন্ম পাটনায়। বাবা বিজেপি (BJP) নেতা হওয়ায়, শৈশব থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেই বেড়ে উঠেছেন নিতিন। গত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন নিতিন। প্রত্যাশিতভাবেই তাঁর ঠাঁই হয় নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায়।

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হলেন নিতিন। নাড্ডার জায়গায় নিতিনকে বসানোর মূল কারণ হল বিজেপির পাশাপাশি আরএসএসেরও ভরসা রয়েছে নিতিনের ওপর। নিতিন নির্বাচনটাও বোঝেন ভালো। এই সব কারণেই অনায়াস হয় নিতিনের পদ প্রাপ্তি। শোনা যায়, নিতিন আরএসএস ঘনিষ্ঠ। সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সমন্বয় রক্ষা করেছিলেন বিজেপি এবং জেডিইউয়ের। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকেও বিপুল ভোটে জিতিয়েছেন নিতিন। ছত্তিশগড় বিধানসভায় তিনি কাজ করেছেন বিজেপির ইনচার্জ হিসেবে। ঝুলিতে এতসব অভিজ্ঞতা থাকায় নিতিনকে বেছে নেওয়া হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে।

    নিতিন নবীন আমার বস

    বিশ্বের সব চেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব গ্রহণ করায় নিতিনকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মুখে শোনা যায় নিতিনের ভূয়সী প্রশংসা। তিনি বলেন, “নিতিন নবীনকে এতদিনে যা যা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নিতিন সেই প্রজন্মের মানুষ, যিনি ছেলেবেলায় রেডিও দেখেছেন, আর বর্তমানে এআই ব্যবহার করছেন।” এর পরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। পঞ্চাশ বছরের কম বয়সে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন (BJP)। এসব একটা জায়গায় রয়েছে। কিন্তু এর থেকেও বড় পরিচয় হল আমি বিজেপির একজন কর্মী। দলের ক্ষেত্রে আমি কর্মকর্তা, আর নিতিন নবীন আমার বস।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি (BJP) এক সংস্কার, এক পরিবার। এই দলে মেম্বারশিপের চেয়েও বেশি রিলেশনশিপ রয়েছে। নেতৃত্ব বদলায়, কিন্তু দিশা বদলায় না (Nitin Nabin)।”

     

  • PM Modi: আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে দিল্লি বিমানবন্দরে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোমবারের এই সাক্ষাৎ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    আমার ভাই (PM Modi)

    পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা যখন চরমে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন যখন তুঙ্গে, গাজায় অস্থিরতা এবং সৌদি আরব এবং ইউএই জড়িত ইয়েমেন সঙ্কট এখনও অমীমাংসিত, ঠিক সেই সময়েই ভারত সফরে এলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) প্রেসিডেন্ট। সরকারি সূত্রের খবর, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং একাধিক মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আমার ভাই, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহামান্য শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-ইউএই দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতি তাঁর গুরুত্ব আরোপেরই প্রমাণ। আমাদের আলোচনার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।”

    শেখ মহম্মদকে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ

    এদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন, ৭ লোক কল্যাণ মার্গে শেখ মহম্মদকে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইউএই প্রেসিডেন্ট এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্যই ভারতে থাকবেন এবং সোমবারই ভারত ছেড়ে যাবেন। দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠকটি প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত হয়েছিল, তবে পরে তা পিছিয়ে দেওয়া হয় (PM Modi)। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিতে দুই নেতা স্বাক্ষর করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি শেখ মহম্মদের তৃতীয় সরকারি ভারত সফর এবং গত এক দশকে তাঁর পঞ্চম ভারত সফর। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউএইর মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকেও নজর থাকবে সবার। ২০২২ সালে ব্যাপক অর্থনৈতিক (UAE) অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের পর থেকে ভারত ও ইউএইর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফর সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদানের ধারাবাহিকতা। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ভারত সফর এবং গত বছরের এপ্রিলে ইউএইর উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের ভারত (PM Modi) সফর।

LinkedIn
Share