Tag: PM Modi

PM Modi

  • India’s Electronics: মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে সাফল্য! ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন খাতে গত এক দশকে ছয় গুণ বৃদ্ধি

    India’s Electronics: মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে সাফল্য! ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন খাতে গত এক দশকে ছয় গুণ বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ইলেকট্রনিক্স (India’s Electronics) উৎপাদন খাতে গত এক দশকে ছয় গুণ বৃদ্ধি ঘটেছে। এই বৃদ্ধিকে সামনে রেখে মোদি সরকার (Modi Govt Targets) ২০৩০–৩১ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক্স ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। আইফোন, স্মার্ট টিভি, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ছাড়াও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্টও ভারতে তৈরির ব্যাপারে জোর দেওয়া হচ্ছে। রোবোটিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, কফি মেশিন, বিল্ট-ইন-রেফ্রিজরেটর এবং এয়ার ফ্রায়ারের মতো পণ্য যেগুলি আগে পুরোপুরি ভাবে বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো, সেগুলি এ বার ভারতে তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    উৎপাদন ও রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪–১৫ সালে যেখানে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা, তা ২০২৪–২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ১১.৩ লক্ষ কোটিতে। পাশাপাশি রফতানিতেও বিশাল বৃদ্ধি ঘটেছে— ৩৮,০০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে  ৩.২৭ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে, অর্থাৎ আট গুণেরও বেশি। এই খাতে প্রায় ২৫ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা ভারতের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সরকার বলছে, এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির পিছনে রয়েছে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘আত্মনির্ভর ভারত’, এবং প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিম-এর মতো উদ্যোগ। এ ছাড়াও, দক্ষ জনশক্তি ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ভারতীয় ইলেকট্রনিক্স খাতে গতি এনেছে। ২০২০–২১ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত এই খাতে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) এসেছে।

    সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপে গতি

    সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কৌশলগত নীতিগত সহায়তা দেশীয় উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে এবং বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।” ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রফতানির শীর্ষ পাঁচটি গন্তব্য দেশ হলো— যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য এবং ইতালি। সরকারের লক্ষ্য, বর্তমান গতি বজায় রেখে ২০৩০–৩১ সালের মধ্যে ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন খাতকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত করা। এর মধ্যে থাকবে উপাদান (component), উৎপাদনের সম্প্রসারণ, বিশ্ববাজারে আরও সংহত হওয়া এবং ডিজাইন-কেন্দ্রিক উদ্ভাবনে জোর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক বৈচিত্র্য এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কারের কারণে ভারত পূর্ব এশীয় অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম একটি বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স প্রস্তুতকারক কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে।

    বড় বড় কোম্পানি দেশেই পণ্য তৈরি করছে

    ভারতে ইলেকট্রনিক শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা জানাচ্ছেন, ভারতে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্স (BIS)-এর কোয়ালিটি কন্ট্রোল অর্ডার (QCO)-এর সার্টিফিকেশনের দরকার পড়ে। গত ৮-৯ মাসে সেই এই তালিকায় যোগ হয়েছে একাধিক ইলেট্রনিক্স প্রোডাক্ট। ইউরেকা ফোর্বসের রোবোটিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের বড় বাজার রয়েছে ভারতে। এই পণ্য তৈরির জন্য ডিক্সন টেকনোলজির সঙ্গে সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এই সংস্থা। ভারতে পণ্য তৈরির বিষয়ে ডিক্সন টেকনোলজিসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অতুল লাল বলেছেন, ‘বিআইএস-এর নিয়ম অনেক ব্রান্ডের কাছেই এখন ট্রিগার হিসাবে কাজ করছে। যদিও কিছু পণ্যের বাজার সত্যিই খুবই ছোট। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই প্রবণতা ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছে।’ ইউরেকা ফোর্বসের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, ভারতে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বাজার রয়েছে। ডিক্সন টেকনোলজি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অন্যতম বৃহৎ কন্ট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার।

    আমদানি সংক্রান্ত জটিলতাও কমেছে

    ডিক্সনের মতো একাধিক সংস্থার ইতিমধ্যেই ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র খুলেছে। যার মধ্যে অন্যতম ইউরোপের সংস্থা লিবহের। সম্প্রতি অওরঙ্গাবাদে বিল্ট-ইন-রেফ্রিজরেটরের প্ল্যান্ট তৈরি করেছে এই সংস্থা। বছরে মাত্র ১৪ থেকে ১৫ হাজার ইউনিটের বিক্রি থাকলেও কারখানা তৈরি করেছে এই সংস্থা। ওই সংস্থার ভারতীয় শাখার ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সেলস) কপিল আগরওয়াল বলেছেন, ‘আগে আমরা জার্মানি থেকে আমদানি করতাম। ফ্যাক্টরি সার্টিফিকেশন খুবই বিরক্তিকর একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু প্ল্যান্ট তৈরি হওয়ায় আমদানি সংক্রান্ত জটিলতাও কমেছে। আমাদের বিশ্বাস এই পণ্যের বাজার আগামী দিনে অনেকটা বাড়বে।’ ক্রম্পটন গ্রিভেস, হ্যাভেলস ইন্ডিয়ার মতো একাধিক সংস্থা অ্যানুয়াল রিপোর্টে নিজেদের পণ্য স্থানীয় স্তরে তৈরির ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছে। গত এক বছরে এই সব সংস্থা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে লোকালাইজ প্রোডাকশনও বাড়িয়েছে।

    মোবাইল উৎপাদনে ভারতের নজির

    ভারতের মোবাইল ফোন উৎপাদন শিল্প এই খাতে সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প। গত এক দশকে এই খাত ২৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে— ২০১৪–১৫ সালে ১৮ হাজার কোটি টাকা থেকে ২০২৪–২৫ সালে তা পৌঁছেছে ৫.৪৫ লক্ষ কোটিতে। বর্তমানে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারী দেশ। ২০১৪ সালে যেখানে মাত্র ২টি মোবাইল উৎপাদন ইউনিট ছিল, এখন সেই সংখ্যা ৩০০-রও বেশি। রফতানিতে এসেছে ১২৭ গুণ বৃদ্ধি— ২ লক্ষ কোটি টাকা, যার মধ্যে শুধুমাত্র অ্যাপল একাই ১.১ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ডিভাইস রফতানি করেছে ২০২৪ সালে। একটি বড় মাইলফলক হিসেবে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারত চিনকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রে স্মার্টফোন রফতানির দিক থেকে শীর্ষে পৌঁছেছে— যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • India-Mongolia Relation: “আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধন”, ভারত-মঙ্গোলিয়া দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়ে বললেন মোদি

    India-Mongolia Relation: “আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধন”, ভারত-মঙ্গোলিয়া দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়ে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সফরে এসেছেন মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খুরেলসুক উখনা। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতি খুরেলসুখ উখনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এই বৈঠকে ভারত ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যে ইউরেনিয়াম সরবরাহ, ১.৭ বিলিয়ন ডলারের মেগা অয়েল রিফাইনারি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ছয় বছর পর এই প্রথমবার ভারত সফরে এসেছেন মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতি। দুই নেতার মধ্যে বৈঠকে ডিজিটাল সমাধান, খনিজ অনুসন্ধান, ও দ্রুত প্রভাব ফেলতে সক্ষম প্রকল্প সহ ১০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    ভারত-মঙ্গোলিয়া চুক্তি

    মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “মঙ্গোলিয়া আমাদের নিকট প্রতিবেশী, যদিও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সীমান্ত নেই। ভারতের পক্ষ থেকে মঙ্গোলিয়ার উন্নয়নে সবসময়ই দৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে থাকব।” তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বিগত দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের তরফে মঙ্গোলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম, কপার, সোনা ও দস্তা আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গোলিয়ার ইউরেনিয়াম মজুত ৯০,০০০ টনের মতো, এবং দেশটি ইতিমধ্যে ফ্রান্সের সঙ্গে বছরে ২,৫০০ টন ইউরেনিয়াম উত্তোলনের চুক্তি করেছে।

    বৃহত্তম বৈদেশিক উন্নয়ন প্রকল্প

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পূর্ব) পি কুমারন জানান, “আমরা মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ইউরেনিয়াম নিয়ে অংশীদারিত্বে আগ্রহী। আগামী মাসগুলিতে আলোচনা এগোবে।” দুই নেতাই মঙ্গোল রিফাইনারি প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। ভারতের ১.৭ বিলিয়ন ডলারের লাইন অব ক্রেডিটে তৈরি এই রিফাইনারি ২০২৮ সালে চালু হবে এবং বছরে ১৫ লক্ষ টন বা দিনে ৩০,০০০ ব্যারেল তেল পরিশোধন করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এটি ভারতের বৃহত্তম বৈদেশিক উন্নয়ন প্রকল্প, যেখানে ২,৫০০-রও বেশি ভারতীয় বিশেষজ্ঞ মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে কাজ করছেন।”

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জোর

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে ভারতের পক্ষ থেকে উলানবাটারে একজন প্রতিরক্ষা অধিকর্তা নিযুক্ত করা হবে। এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া, সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রশিক্ষণ, এবং সাইবার সুরক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন সহ নানা উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, দুই দেশ নোমাডিক এলিফ্যান্ট (Nomadic Elephant) ও খান কোয়েস্ট (Khaan Quest) নামক যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে থাকে। ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণেও আগ্রহ দেখিয়েছে মঙ্গোলিয়া। এই সফরে আরও ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—অভিবাসন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, মানবিক সহায়তা, খনিজ সম্পদ, সংস্কৃতি, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন।

    ভারত-মঙ্গোলিয়া পর্যটনে জোর

    ভারতের লাদাখ অঞ্চল এবং মঙ্গোলিয়ার আরখানগাই প্রদেশের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ভারত ২০২৬ সালে গৌতম বুদ্ধের দুই শিষ্যের পবিত্র অবশিষ্টাংশ মঙ্গোলিয়ায় পাঠাবে এবং মঙ্গোলিয়ান নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে ই-ভিসা সুবিধা চালু করবে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি খুরেলসুখ ঘোষণা করেছেন, একটি মঙ্গোলিয়ান বিমান সংস্থা শিগগিরই দিল্লি ও অমৃতসরে চার্টার্ড ফ্লাইট চালু করবে, যাতে পর্যটন বৃদ্ধি পায়। এদিন রাজধানী দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খুরেলসুখ উখনা-র মধ্যে প্রতিনিধি স্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক আদান-প্রদান হয়। যে ক্ষেত্রগুলিতে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে— মানবিক সহায়তা, মঙ্গোলিয়ার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য পুনরুদ্ধার, অভিবাসন, ভূতত্ত্ব ও খনিজ সম্পদ, সমবায় খাতের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিন দুই নেতা ভারত-মঙ্গোলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করেন। যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, প্রতিবছর মঙ্গোলিয়ার তরুণ সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের ভারত সফরের ব্যয়ভার ভারত সরকার বহন করবে।

    আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধন

    মোদি বলেন, “ভারত ও মঙ্গোলিয়ার সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, এটি আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধন।” তিনি উল্লেখ করেন, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় মঙ্গোলিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই সূত্র ধরে নালন্দা ও গন্দান মঠ-কে সংযুক্ত করে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন শক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মঙ্গোলিয়ার উন্নয়নে ভারত সবসময় বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার ছিল। ভারতের ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসীমায় নির্মীয়মাণ তেল শোধনাগার প্রকল্প মঙ্গোলিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন গতি আনবে বলেও জানান তিনি। এর আগে সকালে, মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতি রাজঘাটে গিয়ে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানান। সন্ধ্যায় তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজর আয়োজন করা হয়। প্রেসিডেন্ট খুরেলসুখ উখনার সঙ্গে রয়েছেন উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল, যার মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রীসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, শীর্ষ সরকারি আধিকারিক, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা।

  • PM Modi: কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, কী নিয়ে আলোচনা হল?

    PM Modi: কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, কী নিয়ে আলোচনা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার কানাডার বিদেশমন্ত্রী (Canadian FM) অনিতা আনন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আনন্দ এই প্রথম ভারত সফরে এসেছেন। চলতি সফরে তাঁর তিনটি দেশে যাওয়ার কথা। সেই সফরে বেরিয়েই আনন্দ প্রথম এসেছেন ভারত সফরে। সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সফরকে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি সঞ্চারের একটি সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    মোদি-আনন্দ সাক্ষাৎ (PM Modi)

    এদিন কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন চলতি বছরের জুন মাসে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে কানাডায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে “প্রধানমন্ত্রী বিদেশমন্ত্রী আনন্দকে স্বাগত জানান এবং উল্লেখ করেন যে তাঁর এই সফর ভারত–কানাডা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি সঞ্চারের চলমান প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে।” প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার গুরুত্বও তুলে ধরেন (PM Modi)।

    কী বললেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী

    এক্স হ্যান্ডেলে নিজের সাক্ষাৎ সম্পর্কিত বিস্তারিত শেয়ার করে আনন্দ লেখেন, “আজ সকালে আমি নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী @নরেন্দ্রমোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। এই বছরের গ্রীষ্মে জি৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী @মার্ককার্নি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকের গতিকে ভিত্তি করে কানাডা ও ভারত আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে—একইসঙ্গে আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তা আলোচনা বজায় রেখে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত করছে।”

    রবিবার আনন্দ পৌঁছন নয়াদিল্লিতে। বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে। আলোচনার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি কমাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পুনর্গঠনের জন্য দুই দেশের সম্পর্ককে সর্বাঙ্গীনভাবে আরও মজবুত করা উচিত।” চলতি সফরে আনন্দের (Canadian FM) বৈঠক করার কথা বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গেও। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হবে। নয়াদিল্লি সফর শেষে কানাডার বিদেশমন্ত্রী যাবেন চিন এবং সিঙ্গাপুরে (PM Modi)।

  • PM Modi: ‘দেশে তৈরি ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ফোকাস করুন’, আমলাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: ‘দেশে তৈরি ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ফোকাস করুন’, আমলাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘আত্মনির্ভর ভারতে’র লক্ষ্য পূরণে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাই বিদেশি প্রযুক্তির ওপর দেশের নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছেন তিনি। সেই কারণে দেশীয় ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Platforms) তৈরিতে দেশবাসীকে উৎসাহিত করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে তাঁর সরকার। ৬ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ আমলাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনাও হয় বলে সূত্রের খবর।

    শক্তিশালী ইকোসিস্টেম (PM Modi)

    জানা গিয়েছে, ৯ অক্টোবর মন্ত্রিসভার সচিব টিভি সোমনাথন শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি বৈঠকে আলোচিত ২৮টি বিষয়ের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান। এই পরিকল্পনার অন্যতম মূল লক্ষ্যই হল ভারতেই ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। এ জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দেশের যুবসমাজকে এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং দেশে নিজস্ব ডিজিটাল পরিকাঠামো স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে।

    ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’

    সোমনাথন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উদ্ভাবন বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হিসেবে ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ ব্যবহারেরও সুপারিশ করেছেন। অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে ছিল সরকারের যোগাযোগ কৌশলকে আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষা, ক্রীড়া ও পর্যটনের মতো ক্ষেত্রগুলিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং ভারতীয় প্রতিভা ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরার পর্যায়ে নিয়ে আসাও (PM Modi)। ভারতে প্রায় ৯৬.৯ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছেন। এঁদের অধিকাংশই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো বিদেশি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। স্থানীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া মোদি সরকারের সেই প্রচেষ্টার সঙ্গেই মিলে যায়, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন, বিশেষ করে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তখন থেকে।

    ভারতীয় কোম্পানি যেমন জোহো (Zoho) ইতিমধ্যেই মেসেজিং অ্যাপ চালু করেছে। এটি ধীরে ধীরে হোয়াটসঅ্যাপের একটি দেশীয় বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়ও হচ্ছে। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ পদস্থ মন্ত্রীরাও সরকারি কাজে ভারতীয় এই অ্যাপ ব্যবহার শুরু করেছেন। তা সত্ত্বেও ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্র এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির দখলেই রয়েছে (Social Media Platforms)। মোদি সরকারের আশা, স্থানীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে এই প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব (PM Modi)।

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধন হয়ে গেল কৃষি খাতে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের, জানুন কী কী?

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধন হয়ে গেল কৃষি খাতে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের, জানুন কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার কৃষি (Farmers) খাতে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এগুলি হল ‘পিএম ধন ধান্য কৃষি যোজনা’ এবং ‘ডাল উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার জন্য মিশন’। এজন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা।

    দুই প্রকল্পে ব্যয় (PM Modi)

    নয়াদিল্লির ভারতীয় কৃষি গবেষণা সংস্থায় (IARI) এক বিশেষ কৃষি অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিএম ধন ধান্য কৃষি যোজনার ব্যয় ২৪ হাজার কোটি টাকা। এর লক্ষ্য হল কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ ও টেকসই কৃষি পদ্ধতির প্রসার, পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে ফসল কাটার পর সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি, সেচ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং নির্বাচিত ১০০টি জেলার কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণপ্রাপ্তির সুবিধা সহজ করা।ডাল উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার জন্য মিশনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। এর উদ্দেশ্য হল ডালের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, চাষের এলাকা বাড়ানো, ক্রয়, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ-সহ সম্পূর্ণ ভ্যালু চেইনকে শক্তিশালী করা এবং ফসল কাটার পর ক্ষতির পরিমাণ কমানো।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা প্রধানমন্ত্রীর

    এদিন অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। তিনি তাঁদের মনে করিয়ে দেন, তাঁর সরকার কৃষক কল্যাণ, কৃষিতে আত্মনির্ভরতা ও গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতি দায়বদ্ধ। এই কর্মসূচিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রসার, কৃষকদের ক্ষমতায়ন এবং কৃষককেন্দ্রিক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য উদযাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষি, পশুপালন, মৎস্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে ৫ হাজার ৪৫০ কোটিরও বেশি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তিনি প্রায় ৮১৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বলেও সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    উদ্বোধন হওয়া বিভিন্ন প্রকল্প

    এদিন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) যেসব প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করেন, তার মধ্যে রয়েছে বেঙ্গালুরু ও জম্মু-কাশ্মীরে কৃত্রিম প্রজনন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আমরেলি ও বানাসে উৎকর্ষ কেন্দ্র, অসমে রাষ্ট্রীয় গোকুল মিশনের অধীনে একটি আইভিএফ ল্যাবরেটরি, মেহসানা, ইন্দোর ও ভিলওয়ারায় মিল্ক পাওডার উৎপাদন কারখানা এবং অসমের তেজপুরে প্রধানমন্ত্রীর মৎস্য সম্পদ যোজনার অধীনে একটি মাছের খাদ্য উৎপাদন কেন্দ্র। এর পাশাপাশি, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, নাগাল্যান্ড, পুদুচেরি এবং ওড়িশায় বিভিন্ন আধুনিক মৎস্য ও কৃষি পরিকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন বেশ কয়েকটি (Farmers) প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলায় একটি যৌথ কোল্ড চেইন ও মানোন্নয়ন পরিকাঠামো (রশ্মি বিকিরণ) ইউনিট, উত্তরাখণ্ডে ট্রাউট মৎস্য খামার, নাগাল্যান্ডে একটি ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকোয়া পার্ক, পুদুচেরির কারাইকালে একটি স্মার্ট ও মাছ ধরার বন্দর, এবং ওড়িশার হীরাকুদে একটি অত্যাধুনিক ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকোয়া পার্ক।

    সরকারি উদ্যোগের সাফল্য

    এদিনের অনুষ্ঠানে (PM Modi) বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার কৃষক উৎপাদক সংস্থার মাধ্যমে ৫০ লাখ কৃষকের সদস্যপদ, যার মধ্যে ১ হাজার ১০০টি সংস্থা ২০২৪–২৫ সালে বার্ষিক ১ কোটি টাকারও বেশি টার্নওভার অর্জন করেছে। অন্যান্য সাফল্যের মধ্যে ছিল প্রাকৃতিক কৃষি বিষয়ে জাতীয় মিশনের অধীনে ৫০ হাজার  কৃষকের সার্টিফিকেশন, ৩৮ হাজার মৈত্রীর (গ্রামীণ ভারতের বহুমুখী কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তিবিদ) সার্টিফিকেশন এবং ১০ হাজারটিরও বেশি বহুমুখী ও ই-প্যাকস ইউনিটের অনুমোদন ও কার্যকলাপ শুরু। এছাড়াও, বেশ কিছু প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমিতি, দুগ্ধ ও মৎস্য সহায়ক সমবায় গঠন এবং শক্তিশালী করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমিতি তাদের কার্যকলাপে বৈচিত্র্য এনে প্রধানমন্ত্রী কিষান সমৃদ্ধি কেন্দ্র এবং কমন সার্ভিস সেন্টার হিসেবে কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আশা, এই দুই নয়া প্রকল্প ভারতের কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা, আত্মনির্ভরতা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে বলেও এদিন আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

    কী বলেছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী?

    প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবারই (Farmers) কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “চাল ও গম উৎপাদনে আমরা স্বনির্ভর। কিন্তু ডাল উৎপাদনে এখনও বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টন ডাল আমদানি করতেই হয়। সরকারের লক্ষ্য হল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডাল উৎপাদনে দেশ আত্মনির্ভর হবে।” তিনি জানান, কৃষকরা যে পরিমাণ ডাল উৎপাদন করবেন, তার ১০০ শতাংশই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দিয়ে কিনে নেবে সরকার। উৎপাদন বাড়াতে ধান ও গম চাষের জমিতে ফসল কাটা হয়ে গেলে সেটিকে ডাল চাষের জন্য ব্যবহার করা হবে। সয়াবিনের সঙ্গেও ডাল চাষ করতে উৎসাহ দেওয়া হবে কৃষকদের (PM Modi)।

  • IAF: রাওয়ালপিন্ডিকে ‘রোস্ট’ করে খেল ভারত! প্রতীকী মেনুতে পাকিস্তানকে কটাক্ষ বায়ুসেনার, নেটদুনিয়ায় প্রশংসার বন্যা

    IAF: রাওয়ালপিন্ডিকে ‘রোস্ট’ করে খেল ভারত! প্রতীকী মেনুতে পাকিস্তানকে কটাক্ষ বায়ুসেনার, নেটদুনিয়ায় প্রশংসার বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এয়ার ফোর্স ডে ডিনার পার্টিতে পাকিস্তানকেই ‘রোস্ট’ করে খেয়ে নিলেন এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিংয়ের ছেলেরা। মেনুর শুরুতে ‘রাওয়ালপিন্ডি চিকেন টিক্কা মশলা’, একেবারে শেষে ‘মুরিদকে মিষ্টি পান’। উপলক্ষ্য ভারতীয় বায়ুসেনার ৯৩-তম প্রতিষ্ঠা দিবস। আর এই বিশেষ দিনটিতে বায়ুসেনার নৈশভোজের মেনুকার্ড এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মেনুকার্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ‘কটাক্ষ’ করা হয়েছে। বায়ু সেনার এই মেনু বুঝিয়ে দিয়েছে, ভারত কোনও আক্রমণ ভোলে না, প্রয়োজনে জবাব দেয় নিজের মতো করে। “ইনফ্যালিবল, ইম্পারভিয়াস অ্যান্ড প্রিসাইস” স্লোগানের নিচে সাজানো এই মেনু সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।

    বায়ুসেনার মেনু নজরকাড়া

    ৮ অক্টোবর ছিল বায়ুসেনা দিবস। এদিন বায়ুসেনার বিশেষ ভোজে পরিবেশিত খাবারের নামগুলি যেন ছিল একেবারে যুদ্ধক্ষেত্রের গল্প বলার মতো — ‘রাওয়ালপিন্ডি চিকেন টিক্কা মাসালা’ থেকে শুরু করে ‘ভোলারি পনির মেথি মালাই’, ‘মুজাফফরাবাদ কুলফি ফালুদা’ এবং ‘বালাকোট টিরামিসু’। শোনা যাচ্ছে, ভারতের সামরিক সাফল্যের প্রতীক হিসেবেই এই মেনুর প্রতিটি পদ রাখা হয়েছিল। প্রথম নজরে এটি হয়তো এক সাধারণ উৎসবের ভোজ মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এই মেনু ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযানের সাফল্যের এক রসিক উপস্থাপনা। বিশেষত, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের ভেতরে বায়ুসেনার সফল আঘাতগুলিকে যেন থালায় সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়েছে ভারতের বীর বায়ুসেনা সদস্যদের সামনে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও পহেলগাঁও হামলার পর দেশ জুড়ে এক অদম্য মনোভাব তৈরি হয়েছে। পাক বিরোধিতা চোখে পড়েছে ক্রিকেটের ময়দানেও। ভারত পাক দ্বন্দ্বের আবহে অনেকে এই মেনুকে দেখছেন প্রতিশোধ ও আত্মগর্বের এক নীরব প্রতীক হিসেবে। ৯৩ বছরে এসে বায়ু সেনার বার্তা স্পষ্ট – “আমরা নির্ভুল, অদম্য ও অনমনীয়।”

    পাকিস্তানকে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা

    অপারেশন সিঁদুর-এ পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করার পর এবার সোশ্যাল মিডিয়াতেও পাকিস্তানকে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করেছে ভারতের বায়ুসেনা। মেনুতে খাবারের নাম- ‘রফিকি রাড়া মটন’, ‘ভোলারি পনির মেথি মালাই’, ‘সুক্কুর শাম সবেরা কোফতা’, ‘সারগোধা ডাল মাখানি’, ‘জ্যাকোবাবাদ মেওয়া পোলাও’, ‘বাহাওয়ালপুর নান’। মেনুতে সেই সব জায়গার নামের সঙ্গে ভারতীয় খাবারের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলি ভারতের সেনা পহেলগাঁও হামলার প্রত্যাঘাতের সময় পাকিস্তানে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করে দিয়ে এসেছে। পাক সেনা বা সরকার তা স্বীকার না করলেও রীতিমতো স্যাটেলাইট ইমেজ দেখিয়ে বিদেশমন্ত্রক, দেশের সেনা প্রধান, বায়ুসেনা প্রধানরা সে সবের প্রমাণ দিয়েছেন। ‘ভোলারি পনির মেথি মালাই’ নামটি সরাসরি পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের ভোলারি বিমানঘাঁটি-র প্রতি ইঙ্গিত করছে, যেখানে ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় বড় ক্ষতি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। আর মিষ্টান্নে পরিবেশিত ‘বালাকোট টিরামিসু’ যেন ২০১৯ সালের সেই ঐতিহাসিক বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক-এর প্রতীক — যেখানে ভারত জয়ীভাবে জবাব দিয়েছিল সন্ত্রাসের আশ্রয়স্থলকে। এই প্রতীকী পদগুলির মাধ্যমে বায়ুসেনা দিবসের ভোজ যেন হয়ে উঠেছিল ভারতের সামরিক সাহসিকতা ও কৌশলের এক সৃজনশীল উদযাপন।

  • India-Britain Relation: ‘উগ্রপন্থার কোনও স্থান নেই’, খালিস্তানি ইস্যুতে স্টার্মারকে স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    India-Britain Relation: ‘উগ্রপন্থার কোনও স্থান নেই’, খালিস্তানি ইস্যুতে স্টার্মারকে স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খালিস্তানি চরমপন্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের (Keir Starmer) সঙ্গে বৈঠকে মোদি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে উগ্রপন্থা ও সহিংসতা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁরা জিরো টলারেন্স নীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক স্তরে একসঙ্গে লড়াই করা জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

    খালিস্তান প্রসঙ্গে কঠোর বার্তা

    ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর, বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের জানান, “খালিস্তানি চরমপন্থা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে বলেন, সমাজে যে স্বাধীনতা ও অধিকার রয়েছে, তা কোনওভাবেই সহিংস উগ্রপন্থার হাতিয়ার হতে পারে না। এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দুই দেশকেই তাদের আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্প্রতি ম্যানচেস্টারে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। ওই ঘটনায় একটি গাড়ি নিয়ে পথচারীদের উপর হামলা করা হয়, যাতে দুই জন প্রাণ হারান।

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাশাপাশি

    বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তথ্য আদান-প্রদান, আইনি সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে সন্ত্রাসী অর্থায়ন, সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের চলাচল, প্রযুক্তির অপব্যবহার, ও নতুন নিয়োগে রাশ টানতে একসঙ্গে পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলারও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।

    ভারতীয় অর্থনীতির ভূয়সী প্রশংসা

    ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer)। জানান ভারতে ক্যাম্পাস খুলবে ব্রিটেনের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)সঙ্গে মুম্বইয়ে দেখা করেন স্টার্মার। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে এটি স্টার্মারের প্রথম ভারত সফর। দু’দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন দুই রাষ্ট্রনেতাই। বৈঠকে মূলত প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য বিষয়েই জোর দেওয়া হয়। বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ভারত এবং ব্রিটেন দীর্ঘ দিনের বন্ধু। দু’দেশেই গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন রয়েছে। ভারত এবং ব্রিটেন একে অপরের উন্নতি এবং বিভিন্ন স্তরে অগ্রগ্রতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    আরও মজবুত ভারত (India)-ব্রিটেন সম্পর্ক

    সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মোদি ও স্টার্মারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ২০৩৫ সালের রোডম্যাপকে সামনে রেখে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ খোঁজা হয়। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এই বৈঠকের ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। পাশাপাশি, সবুজ শক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা ও স্টার্ট-আপ খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

    স্টার্মারের সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব

    বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টার্মারের সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অবস্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে ভারত (India) এখন ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় অংশীদার। অন্যদিকে, মোদি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে ব্রিটিশ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যা আগামী দশকে দুই দেশের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় গভীর প্রভাব ফেলবে।

    শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ

    বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে স্টার্মার জানান, ভারতে ক্যাম্পাস খুলবে ব্রিটেনের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সেই তালিকায় কোন কোন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে, তা এখনও জানা যায়নি। শিক্ষা খাতে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার কথাও বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভারতের তরুণ প্রজন্মই ২০৪৭ সালের লক্ষ্য পূরণে নেতৃত্ব দেবে।” গত জুলাইয়ে ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হয়। সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এই প্রথম বৈঠক করলেন দুই রাষ্ট্রনেতা মোদি ও স্টার্মার। প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত ও ব্রিটেনকে ‘বিশ্বনেতা’ হিসেবে বর্ণনা করে স্টারমার বলেন, “আমরা প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে আমাদের সহযোগিতা আরও গভীর করছি—এআই, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছি।” তিনি আরও জানান, বলিউডকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনে চলচ্চিত্র নির্মাণের এক নতুন চুক্তির ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, স্টার্মার বৃহস্পতিবার ইয়াশরাজ ফিল্ম স্টুডিও পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে স্টার্মার বলেন, ‘‘ভারতের উন্নতির রেখাচিত্র অসাধারণ।’’ ভারত-ব্রিটেন ফ্রি-ট্রেড ডিল, সামরিক প্রশিক্ষণেও একে অপরকে সাহায্য করবে দু’দেশ বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ভবিষ্যতের দিকে নজর রেখে আধুনিক উন্নত অংশিদারিত্ব করতে চলেছে দুই দেশ।’’ দু’দিনের সফরে মুম্বইয়ে এসেছেন স্টার্মার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সেখানকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, নেতা, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদদের ১২৫ জনের একটি দল।

  • Benjamin Netanyahu: বিশ্বে গুরুত্ব বাড়ছে মোদির, মন্ত্রিসভার বৈঠক থামিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফোন ধরলেন নেতানিয়াহু

    Benjamin Netanyahu: বিশ্বে গুরুত্ব বাড়ছে মোদির, মন্ত্রিসভার বৈঠক থামিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফোন ধরলেন নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই বিশ্বনেতা হয়ে উঠছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তামাম বিশ্বে দিনের পর দিন তাঁর জনপ্রিয়তার পারা যে বাড়ছে, তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি একাধিকবার। আবারও একবার মিলল তার প্রমাণ। বৃহস্পতিবার সিকিউরিটি ক্যাবিনেট বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। সেই সময় ফোন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বন্ধুর ফোন ধরতে বৈঠক স্থগিত করে দেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। গাজা শান্তি পরিকল্পনার জন্য তাঁকে অভিনন্দনও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তার আগে ওই একই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও কথা বলেন মোদি।

    নেতানিয়াহুকে ফোন মোদির (Benjamin Netanyahu)

    ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের পরেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর পরেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অগ্রগতির জন্য অভিনন্দন জানাতে আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলাম। আমরা বন্দিদের মুক্তি এবং গাজার জনগণকে উন্নত মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত চুক্তিকে স্বাগত জানাই। আমি আবারও বলেছি যে, যে কোনও রূপে সন্ত্রাসবাদ বিশ্বের কোথাও গ্রহণযোগ্য নয়।”

    ইজরায়েলের বিবৃতি

    মোদি-নেতানিয়াহু কথোপকথন প্রসঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দিদের মুক্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সিকিউরিটি ক্যাবিনেটের বৈঠক ডেকেছিলেন। সেই বৈঠক চলাকালীনই ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই আবহে সিকিউরিটি ক্যাবিনেটের বৈঠক থামিয়ে দিয়ে মোদির সঙ্গে কথা বলেন নেতানিয়াহু। এই কথোপকথনের সময় ইজরায়েল-ভারত বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করার বার্তা দেন নেতানিয়াহু। ইজরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থনের জন্য মোদিকে ধন্যবাদও জানান তিনি। উভয় নেতাই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় কাজ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলেন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের। তিনি ইজরায়েল-গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিকে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ (Benjamin Netanyahu) করেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, বন্দিদের মুক্তি এবং গাজাবাসীর জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে এবং স্থায়ী শান্তির (PM Modi) পথ প্রশস্ত হবে। প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিরতির এই চুক্তির অধীনে গাজায় আটক বন্দিদের মুক্তি দেবে হামাস, বিনিময়ে ইজরায়েলের গারদে আটক শত শত প্যালেস্তাইন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে (Benjamin Netanyahu)।

  • Amit Shah: ‘মাওবাদীদের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনার সম্ভাবনাই নেই’, সাফ জানালেন শাহ

    Amit Shah: ‘মাওবাদীদের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনার সম্ভাবনাই নেই’, সাফ জানালেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদীদের (Maoists) সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনার সম্ভাবনাই নাকচ করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের অস্ত্র সমর্পণ করে সরকারের আকর্ষণীয় আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি গ্রহণ করতে হবে। ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলার সদর জগদলপুরে অনুষ্ঠিত ‘বস্তার দুর্গা উৎসব’ ও ‘স্বদেশি মেলা’য় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “৩১ মার্চ, ২০২৬-কে মাওবাদী সমস্যার অবসানের সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।”

    কী বললেন অমিত শাহ? (Amit Shah)

    শাহ বলেন, “আমি আমার সমস্ত আদিবাসী ভাই-বোনেদের বলতে চাই, আপনারা আপনাদের গ্রামের তরুণদের বোঝান যেন তারা অস্ত্র ত্যাগ করে। তারা যেন হিংসার পথ ছেড়ে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসে এবং বস্তার অঞ্চলের উন্নয়নের অংশীদার হয়।” মাওবাদীদের সতর্ক করে দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাওবাদীরা যদি বস্তারে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তবে তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে সিআরপিএফ ও ছত্তিশগড়ের পুলিশের মতো নিরাপত্তা বাহিনী।” তিনি জানান, তিনি এখানে মা দন্তেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেছেন এবং প্রার্থনা করেছেন যাতে নিরাপত্তা বাহিনী আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে পুরো বস্তার অঞ্চলকে লাল সন্ত্রাস মুক্ত করার শক্তি অর্জন করে।

    অস্ত্র নামিয়ে রাখুন

    উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ছত্তিশগড়ে মাওবাদবিরোধী অভিযান জোরদার হয়। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক অভিযানে ৪৫০ জনেরও বেশি মাওবাদীকে হত্যা করেছে, যার বেশিরভাগই ঘটেছে বস্তার অঞ্চলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কিছু মানুষ মাওবাদীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই যে ছত্তিশগড় ও কেন্দ্র – উভয় সরকারই বস্তার ও মাও-প্রভাবিত সমস্ত অঞ্চলের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আলোচনার মতো কী আছে? আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের জন্য আকর্ষণীয় একটি নীতি চালু করা হয়েছে। সামনে আসুন এবং আপনারা অস্ত্র নামিয়ে রাখুন।”

    উন্নয়ন যজ্ঞ চলছে

    তিনি আরও (Amit Shah) বলেন, “দিল্লির কিছু মানুষ বহু বছর ধরে ভুল তথ্য ছড়িয়েছেন যে মাওবাদ জন্মেছিল উন্নয়নের জন্য লড়াই হিসেবে। কিন্তু আমি আমার আদিবাসী ভাইদের বলতে এসেছি গোটা বস্তারকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। এর মূল কারণই হল নকশালবাদ।” শাহ বলেন, “আজ ভারতে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, রাস্তা, ঘরে ঘরে শৌচাগার, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা এবং ৫ কেজি করে বিনামূল্যের চাল দেশের প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে গিয়েছে, কিন্তু বস্তার এমন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে (Amit Shah)।”

    তিনি বলেন, “ছত্তিশগড় সরকার দেশের মধ্যে সর্বোত্তম আত্মসমর্পণ নীতি প্রণয়ন করেছে। এক মাসের মধ্যেই ৫০০ জনের বেশি আত্মসমর্পণ করেছে। সবারই আত্মসমর্পণ করা উচিত। একটি গ্রাম মাওবাদ মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য সরকার সেই গ্রামকে উন্নয়নের জন্য ১ কোটি টাকা দেবে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদি সরকার গত ১০ বছরে ছত্তিশগড়কে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর পর মাওবাদ আপনার এলাকার উন্নয়নকে আর থামাতে পারবে না। তারা আপনাদের অধিকারও (Maoists) কেড়ে নিতে পারবে না (Amit Shah)।”

  • Success Story: বাবার পানের দোকান, মা আশা কর্মী! আইটিআই-তে পূর্ব ভারতে প্রথম ক্যানিংয়ের সায়ন

    Success Story: বাবার পানের দোকান, মা আশা কর্মী! আইটিআই-তে পূর্ব ভারতে প্রথম ক্যানিংয়ের সায়ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাবার পানের দোকান রয়েছে। মা আশাকর্মী ছেলে আইটিআই (IT) তে ৬০০-তে ৬০০ নম্বর পেয়ে চমকে দিলেন সকলকে (Success Story)। ক্যানিং থানার তালদি গ্রাম পঞ্চায়েতের বয়সিং গ্রামের সুব্রত নস্কর ও রিনা নস্করের এক মাত্র সন্তান সায়ন নস্কর (Sayan Naskar) আইটিআই কম্পিউটার অপারেটর অ্যান্ড প্রোগ্রামিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেড ফর গভর্নমেন্ট-এ এবারে পূর্ব ভারতের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। শংসাপত্র নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) হাত থেকে। গর্বে বুক ভরে গিয়েছে বাবা-মা-এর।

    সায়নের সাফল্যে (Success Story) অবাক সকলে

    তালদি রেল স্টেশনের কাছে একটি ছোট্ট ঠান্ডা পানীয়ের দোকান রয়েছে সুব্রতর। মা রিনা নস্কর আশা কর্মী। পরিবার যে খুব স্বচ্ছল এমনটা নয়। আইটিআইতে কম্পিউটার অপারেটর অ্যান্ড প্রোগ্রামিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেডে এবার পূর্ব ভারতের এক নম্বর স্থানটা দখল করেছে তাঁদেরই ঘরের এক মাত্র ছেলেটা। খুশির হাওয়া গোটা পরিবারে (Success Story)। ছোট থেকেই এলাকায় মেধাবী বলে পরিচিত সুব্রত। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ক্যানিং থানার তালদি মোহনচাঁদ স্কুল থেকে। তারপর ক্যানিং বঙ্কিম সর্দার কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর আইটিআই-তে পা। আইটিআই নিয়ে ট্যাংরাখালি আইটিআই গভর্মেন্ট কলেজ থেকে পড়াশোনা। ছেলে পড়াশোনায় ভাল, ছেলেকে নিয়ে উচ্চাশাও ছিল মা-বাবার। কিন্তু রেজাল্টে (Success Story) যে এক্কেবারে ফুল মার্কস এসে যাবে তা ভাবতে পারেননি কেউই।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির হাত থেকে সম্মান গ্রহণ

    সায়নের অভাবনীয় ফল তাঁকে নিয়ে গিয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে। খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়ায় খুশির রেশ গোটা এলাকা, আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও। তাঁর এই কৃতিত্ব (Success Story) তাঁর বা মা ও কলেজের প্রিন্সিপাল-সহ শিক্ষকদের সঙ্গেও ভাগ করেছেন সায়ন। তাঁদেরই এই রেজাল্ট উৎসর্গ করতে চান বলেও জানিয়েছেন সায়ন। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরষ্কার পেয়ে খুবই ভাল লাগছে। এর পিছনে সবথেকে বড় অবদান আমার পরিবারের, আমার শিক্ষকদের। আগামীতে আমি কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ডিপ্লোমা করতে চাই। রেলের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেব।”

LinkedIn
Share