Tag: PM Narendra Modi

PM Narendra Modi

  • PM Modi: ১২,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ২১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের দিল্লি-দেরাদুন ইকোনমিক করিডোর উদ্বোধন মোদির

    PM Modi: ১২,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ২১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের দিল্লি-দেরাদুন ইকোনমিক করিডোর উদ্বোধন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ সফর করবেন। এই সফরে তিনি দেরাদুন-দিল্লি ইকোনমিক করিডোর (Delhi-Dehradun Economic Corridor) জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন। দুপুর নাগাদ দেরাদুনে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী দিল্লি-দেরাদুন ইকোনমিক করিডোরের উদ্বোধন করবেন এবং উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।

    সাহারানপুরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ প্রধানমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি দিল্লি-দেরাদুন ইকোনমিক করিডোরের এলিভেটেড সেকশনে নির্মিত ‘ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর’ বা বন্যপ্রাণী করিডোরটি পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি দেরাদুনের নিকটবর্তী মা ডাট কালী মন্দিরে পূজা ও দর্শন সারবেন।

    প্রকল্পের সুবিধা

    খরচ ও দৈর্ঘ্য: ২১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছয় লেনের ইকোনমিক করিডোরটি তৈরি করতে ১২,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে।

    সময় সাশ্রয়: এই করিডোরটি দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। এর ফলে দিল্লি থেকে দেরাদুন যাওয়ার সময় বর্তমানের ৬ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় নেমে আসবে।

    উন্নত পরিকাঠামো: এই প্রকল্পে ১০টি ইন্টারচেঞ্জ, ৩টি রেলওয়ে ওভার ব্রিজ (ROB), ৪টি বড় সেতু এবং যাত্রীদের সুবিধার জন্য ১২টি ‘ওয়েসাইড অ্যামেনিটি’ তৈরি করা হয়েছে। যাতায়াত আরও নিরাপদ করতে এখানে অ্যাডভান্সড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ATMS) ব্যবহার করা হয়েছে।

    ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর

    পরিবেশের ভারসাম্য ও বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই করিডোরে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এলিভেটেড ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর তৈরি করা হয়েছে, যা এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘ। এ ছাড়াও প্রাণীদের চলাচলের জন্য ৮টি অ্যানিম্যাল পাস, হাতির চলাচলের জন্য ২টি আন্ডারপাস এবং ডাট কালী মন্দিরের কাছে ৩৭০ মিটার দীর্ঘ একটি টানেল তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এই ইকোনমিক করিডোরটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং পর্যটন ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

  • PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল গ্রুপ (IGM) গঠন করল। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠকে (Virtual Meeting) বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( PM Modi Meeting)। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অংশ নেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    ছিল না ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য

    ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য অসম (Assam),কেরালা (Kerala),তামিলনাড়ু (Tamilnadu),পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পুদুচেরির (Puducherry) মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেননি। নির্বাচন আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, এই পাঁচ রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করবেন কেন্দ্রের মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়, যাতে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বজায় রাখা যায়। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজ্যগুলির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেন। সীমান্ত, উপকূল, সাইবার স্পেস এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। গুজব ও মজুতদারি রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একের পর এক বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারত তার অগ্রগতির ধারা বজায় রেখেছে, যা সম্ভব হয়েছে সম্মিলিত জাতীয় প্রচেষ্টা এবং সক্রিয় প্রশাসনের মাধ্যমে।

    জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক

    এই ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও যোগ দেন। বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে খবর। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই বৈঠকে ‘টিম ইন্ডিয়া’-র ভাবনায় রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের বৈঠক এই প্রথম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই এই সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল ও একাধিক উপসাগরীয় দেশে।

  • West Bengal Elections 2026: “বাংলার চেয়ে অন্যান্য রাজ্যে বদলি হয়েছে বেশি”, হাইকোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Elections 2026: “বাংলার চেয়ে অন্যান্য রাজ্যে বদলি হয়েছে বেশি”, হাইকোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কেন্দ্র করে প্রশাসনিক রদবদল বা আইএএস-আইপিএস অফিসারদের বদলি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের দাবি, নির্বাচনের (Election Commission India) সময় কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয়, অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একই হারে বা তার চেয়েও বেশি সংখ্যক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে।

    আদালতে কমিশনের যুক্তি (West Bengal Elections 2026)

    শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে কমিশনের (Election Commission India) আইনজীবী জানান যে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অফিসারদের বদলি করা একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এই কাজ সবসময়েই করা হয়ে থাকে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায় জানা গিয়েছে, গত কয়েকটি নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026)  উত্তরপ্রদেশ, বিহার বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোতে নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ অপেক্ষা বেশি সংখ্যক পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে না।

    স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ

    নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) স্পষ্ট করেছে যে, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্বাচনকে ভয়মুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ করতে কমিশনের এই পদক্ষেপ। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কমিশনের এই যুক্তি খতিয়ে দেখছে। রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই আকস্মিক রদবদল (West Bengal Elections 2026) নিয়ে এর আগে সরব হয়েছিল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে রাজ্য প্রশাসনকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কমিশনের এই পরিসংখ্যান সেই অভিযোগের পাল্টা জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    ২০২৬-এর নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) আগে আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের দায়িত্ব পরিবর্তন অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। বিশেষ করে জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপার (SP) পদমর্যাদার অফিসারদের বদলি নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা (Election Commission)। আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

  • West Bengal Elections 2026: তৃণমূল সরকারের ‘১৪টি ব্যর্থতা’ নিয়ে চার্জশিট প্রকাশ শনিবার, শুক্র-রাতেই শহরে অমিত শাহ

    West Bengal Elections 2026: তৃণমূল সরকারের ‘১৪টি ব্যর্থতা’ নিয়ে চার্জশিট প্রকাশ শনিবার, শুক্র-রাতেই শহরে অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) রণকৌশল স্থির করতে কোমর বেঁধে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। শনিবার কলকাতায় এক বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটি ‘চার্জশিট’ বা অভিযোগপত্র প্রকাশ করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নিজেই এই কর্মসূচি থেকে গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের ১৪টি প্রধান ‘ব্যর্থতা’র খতিয়ান তুলে ধরবেন। মমতার বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ দিতে শুক্রবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছচ্ছেন অমিত শাহ। শনিবার নিউ টাউনের হোটেলে শ্বেতপত্র ও ইস্তাহার প্রকাশের পর ফিরে যাবেন দুপুরেই।

    ৩৫-৪০ পাতার একটি চার্জশিট (West Bengal Elections 2026)!

    আগামী নির্বাচন উপলক্ষে (West Bengal Elections 2026) বিজেপি ৩৫-৪০ পাতার একটি চার্জশিট প্রকাশ করবে। ভোটমুখী বাংলায় মমতা জমানার একগুচ্ছ সমস্যা, অবনতি, অবক্ষয়ের কথা তুলে ধরছে গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করেছে ওই চার্জশিট। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এটি শনিবার প্রকাশ করবেন বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। চার্জশিটের মলাটেই অশান্ত বাংলার ছবি তুলে ধরেছে বিজেপি। বিজেপি সূত্রে খবর, আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করা হবে। মমতার সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ প্রকাশ্যে আনতে চলেছে চার্জশিটে। তার পর প্রকাশিত হবে বিজেপির সংকল্পপত্র। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে আগামিদিনে বিজেপি কী কী করবে, তা বিস্তারিত বলা থাকবে সেখানে।

    জেলায় জেলায় স্থানীয় মানুষের সমস্যা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ‘চার্জশিট’ আগেই যদিও প্রকাশ করা হয়েছে। এবার গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে যে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ, নারী নির্যাতন, বঞ্চনা, বেকারত্ব, গণতন্ত্র হরণ সহ ইত্যাদি নানা বিষয়কে তুলে ধরা হচ্ছে চার্জশিটে। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য এবং কাটমানি থেকে সিন্ডিকেট সহ একাধিক বিষয়ে রাজ্যে চলা দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারিগুলিকে তুলে হবে চার্জশিটে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির বেআইনি কার্যকলাপ, অনুপ্রবেশ, জঙ্গি-জেহাদির মুক্তাঞ্চল সম্পর্কে বলা একাধিক বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ১৭৫২০ কোটি টাকার রোজভ্যালি চিটফান্ডকাণ্ড

    বিশেষ করে কয়লা পাচার, বালি পাচার, নিয়োগ কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিতে একাধিক প্রভাবশালী নেতাদের নাম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ লক্ষ ভুয়ো জবকার্ড, মিড ডে মিলের ১০০ কোটি টাকা লুট, ১৭৫২০ কোটি টাকার রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতির উল্লেখ থাকার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে চার্জশিটে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত বঞ্চনার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হবে। চার্জশিটে (West Bengal Elections 2026) আনন্দপুর কাণ্ডে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাধা দান, সীমান্ত কাঁটাতার না বসানো, জেলায় জেলায় বোমা তৈরির কারখানারও উল্লেখও থাকতে পারে। সম্পূর্ণ বিষয় প্রকাশ করবেন অমিত শাহ (Amit Shah)।

    অভিযোগপত্রের মূল বিষয়গুলি

    বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের দাবি, শাসকদলের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। মানুষ জানুক গত দেড় দশকে তাঁদের অধিকার কীভাবে হরণ করা হয়েছে। ফলে বিজেপি সূত্রে খবর, এই চার্জশিটে মূলত ১৪টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দাবি করছে। এইগুলি হল—

    • ১>দুর্নীতি এবং কেলেঙ্কারি
    • ২>প্রশাসনিক নৈরাজ্য এবং অপশাসন
    • ৩>আইনশৃঙ্খলার ধ্বংসস্তূপ
    • ৪>নারীর নিরাপত্তাহীনতা
    • ৫>গণতন্ত্রের উপরে হামলা
    • ৬>শিল্পের ধ্বংসস্তূপ পশ্চিমবঙ্গ
    • ৭>শিক্ষার সর্বনাশ
    • ৮>স্বাস্থ্যের সঙ্কট
    • ৯>কৃষকের দুর্দশা
    • ১০>বঙ্গ সংস্কৃতির ধ্বংস
    • ১১>উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা
    • ১২>চা বাগান শ্রমিকদের বঞ্চনা
    • ১৩>কলকাতার বেহাল অবস্থা
    • ১৪>রাঢ়বঙ্গজুড়ে সিন্ডিকেট রাজ

    এগুলি ছাড়াও রয়েছে–

    আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন।

    দুর্নীতি ও নিয়োগ কেলেঙ্কারি: শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম।

    নারী নিরাপত্তা: আরজি কর কাণ্ড-সহ সাম্প্রতিক একাধিক নারী নিগ্রহের ঘটনা।

    কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বঞ্চনা: কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছানো।

    অনুপ্রবেশ ও জাতীয় সুরক্ষা: সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন।

    ডিএ বকেয়া ও কর্মসংস্থান: সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব।

    বিজেপির রণকৌশল

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের উপস্থিতিতে হওয়া সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে স্থির হয়েছে যে, এই চার্জশিট কেবল শহরকেন্দ্রিক থাকবে না। প্রতিটি বুথ স্তরে এই অভিযোগপত্র (West Bengal Elections 2026) পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে আলাদাভাবে ‘লোকাল চার্জশিট’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কেন এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপি কেবল হিন্দুত্ব বা জাতীয়তাবাদ নয়, বরং তৃণমূলের ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’ ও ‘দুর্নীতি’-কে প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে। অমিত শাহের এই সফরের মাধ্যমে দলের নীচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং সংগঠনের ফাঁকফোকরগুলো ভরাট করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমতকে আরও প্রবল ভাবে বাস্তবায়ন করতে বিজেপির নেতা কর্মীদের (West Bengal Elections 2026) উৎসাহ করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

    বিজেপির এই পদক্ষেপকে (West Bengal Elections 2026) গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের দাবি, নির্বাচনের আগে দিল্লির নেতারা এসে কুৎসা ছড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেন না। বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর তাঁদের আস্থা অটুট রয়েছে। তবে এইবারের নির্বাচন যে মমতার জন্য খুব একটা সহজ হবে না তা অনেক রাজনীতিবিদ মনে করছেন।

  • Nitin Nabin: লক্ষ্য এবার নবান্ন! ২০২৬-এ বাংলায় পরিবর্তনের ডাক, আত্মবিশ্বাসী নিতিন নবীন

    Nitin Nabin: লক্ষ্য এবার নবান্ন! ২০২৬-এ বাংলায় পরিবর্তনের ডাক, আত্মবিশ্বাসী নিতিন নবীন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) পাখির চোখ করে বাংলায় ব্যাপক প্রচার অভিযান চালিয়েছে বিজেপি। সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin) তাঁর সফরের শুরুতেই জয়ের ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলায় পরিবর্তনের সময় চলে এসেছে এবং আগামী নির্বাচনে বিজেপি একক শক্তিতেই সরকার গড়বে।”

    সংগঠন মজবুত করার কৌশল (Nitin Nabin)

    সফরের প্রথম দিন থেকেই নিতিন নবীন (Nitin Nabin) কলকাতা জোনের নেতাদের (West Bengal Elections 2026)  সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, বুথ স্তর থেকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বাড়ানোই তাঁর এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের প্রতিটি কর্মীকে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে সরকারের ব্যর্থতাগুলি তুলে ধরতে হবে।

    জয়ের পূর্বাভাস ও রণকৌশল

    সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “বাংলায় মানুষ এখন এক বিকল্প শাসনের অপেক্ষায়। আমরা কেবল লড়াই করার জন্য নয়, জয়ের মানসিকতা নিয়ে ময়দানে নেমেছি। ২০২৬-এ বাংলায় পদ্ম ফুটবেই (West Bengal Elections 2026) ।” তিনি আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনকল্যাণমুখী প্রকল্প এবং ‘টিম ইন্ডিয়া’র ভাবাবেগই হবে বিজেপির তুরুপের তাস।

    তৃণমূলের পাল্টা জবাব

    নিতিন নবীন (Nitin Nabin) এই সফর এবং মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে দিল্লি থেকে নেতাদের আসা বাংলার মানুষের কাছে নতুন কিছু নয়। তৃণমূলের দাবি, বাংলার মাটি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের নাড়ির টান কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছে।

    কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ?

    বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ২০২৬-এর আগে বাংলায় (West Bengal Elections 2026)  কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না। নিতিন নবীনের মতো অভিজ্ঞ সংগঠককে দায়িত্ব দেওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, এবারের লড়াইকে বিজেপি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। বিশেষ করে আসন বিন্যাস এবং প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি যে কঠোর পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন, তার ইঙ্গিত ইতিমধ্য়েই পাওয়া গেছে।

  • Ratna Debnath: ‘‘আর মুখ ঢেকে নয়…’’ আদালতের অনুমতি নিয়ে ৫৯৪ দিন পরে প্রকাশ্যে ‘অভয়ার মা’ রত্না দেবনাথ

    Ratna Debnath: ‘‘আর মুখ ঢেকে নয়…’’ আদালতের অনুমতি নিয়ে ৫৯৪ দিন পরে প্রকাশ্যে ‘অভয়ার মা’ রত্না দেবনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন আরজিকরকাণ্ডের নির্যাতিতা ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথ। ৫৯৪ দিন পর সামনে এসে সাংবাদিকদের জানালেন মেয়ের ন্যায় বিচারের দাবি। আরজিকরে নিজের মেয়েকে হারানোর পর অন্তরাল থেকেই ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করছিলেন। অবশেষে রাজনৈতিক ময়দানে সম্মুখ সমরে তিনি। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পানিহাটি (Panihati BJP Candidate) বিধানসভা আসনটি। বিজেপি সেখানে প্রার্থী করেছে আরজি করের নির্যাতিতা ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথকে (Ratna Debnath)। বুধবার দলের তৃতীয় তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা। এবার সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘অভয়া’র বাব-মা।

    “অভয়ার মা” থেকে রত্না দেবনাথ

    একসময় গোটা রাজ্যের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন শুধু “অভয়ার মা” বা “তিলোত্তমার মা” হিসেবে। তবে সেই পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এবার নিজের নামেই সামনে আসতে চলেছেন তিনি—রত্না দেবনাথ। আর মুখ ঢেকে নয়, এবার প্রকাশ্যেই লড়াই লড়বেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ জানান, আদালতের অনুমতি নিয়েই তিনি সামনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এবার আর মুখ ঢেকে নয়, সরাসরি লড়াই হবে।” তিনি আরও জানান, আদালত তাঁর নাম প্রকাশের অনুমতিও দিয়েছে।

    অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন, অভয়ার বাবা-মাকে প্রকাশ্যে আসার অনুমতি দিয়েছে আদালত। ফলে তাঁদের নাম প্রকাশ বা মুখ দেখানো নিয়ে আর কোনও আইনি বাধা নেই। অভয়ার বাবা জানান, এই বিষয়ে তাঁরা মানবাধিকার কমিশন ও মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর এখন তাঁরা স্বেচ্ছায় নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চান। তাঁদের কাছে আদালতের নির্দেশের কপিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আদালত থেকে নির্বাচনী ময়দান (Panihati BJP Candidate)

    সাধারণত, ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার পরিচয় নাম, ঠিকানা, বাবা মায়ের নাম প্রকাশ করা যায় না। গত দেড় বছরে ন্যায় বিচারের লড়াইতে নিজের নাম আর মুখকে আড়ালে রেখেই আন্দোলনে ছিলেন। এবার আইনি জটিলতা এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ্যে বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়বেন। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath), আদালতের নির্দেশের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন তিনি জনতা জনার্দনের দরবারে বিচার চাইতে এসেছেন। বিজেপি প্রার্থী (Panihati BJP Candidate) হয়ে তিনি বলেন, “মেয়ের বিচার এবং রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। পানিহাটির মানুষ আমার সঙ্গে আছেন।”

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া

    এই হাই-প্রোফাইল বিজেপি প্রার্থীকে (Panihati BJP Candidate) নিয়ে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রত্না দেবনাথের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে বলেছেন, “রত্না দেবী (Ratna Debnath) কেবল একজন মা নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদের প্রতীক। পানিহাটিতে তাঁকে জেতানো মানেই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইকে জয়ী করা।” শুভেন্দু আরও যোগ করে বলেন, “আদালত তার কাজ করছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই অপশাসনের জবাব দেবে বাংলার মানুষ।”

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। সেই সময় থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থেকেছে বিজেপি (Panihati BJP Candidate)। এখন রত্না দেবনাথকে প্রার্থী করে বিজেপি সেই প্রতিবাদের স্বরকেই বিধানসভায় নিয়ে যেতে চাইছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বামফ্রন্ট এই আসনে কলতান দাশগুপ্তকে প্রার্থী করায় লড়াই এবার ত্রিমুখী এবং বেশ কঠিন হতে চলেছে। পানিহাটির সাধারণ মানুষ এই নতুন সমীকরণকে কীভাবে গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে।

  • PM Narendra Modi: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ, শুক্র সন্ধ্যায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

    PM Narendra Modi: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ, শুক্র সন্ধ্যায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের (Iran War) মধ্যে বাড়তে থাকা যুদ্ধের আবহে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ, শুক্রবার সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। সন্ধ্যেয় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, দেশে কোভিড ১৯-এর সময় যেমন রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় হয়েছিল এইবারও তেমনি সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা (PM Narendra Modi)

    সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হল ‘টিম ইন্ডিয়া’র ভাবাবেগ বজায় রেখে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। বিশেষ করে ইরানের (Iran War) পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

    বৈঠকের প্রধান বিষয় জ্বালানি নিরাপত্তা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতের ওপর তার প্রভাব এবং বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা। প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Narendra Modi) রাজ্য সরকারগুলিকে আশ্বস্ত করেছেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে কাজ করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি কোভিড-১৯ অতিমারির সময়কার লড়াইয়ের উদাহরণ টেনে সকলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    গুজব রোখা

    জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।  তিনি জানিয়েছেন, ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে দেশে পেট্রল বা এলপিজি-র কোনও ঘাটতি নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজবে কান দিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে পাম্পে ভিড় না করেন, সেই বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছেন।

    দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

    এর আগে, বুধবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi) এর আগে রাজ্যসভায় জানিয়েছিলেন যে, এই যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তাই দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • PM Modi: ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, শ্রদ্ধা জানালেন হলোকাস্ট মেমোরিয়ালেও

    PM Modi: ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, শ্রদ্ধা জানালেন হলোকাস্ট মেমোরিয়ালেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের সফরে ইজরায়েলে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বৃহস্পতিবার তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন (Holocaust Memorial)। দুই নেতার বৈঠকে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা, কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)

    জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমি আনন্দিত যে বিভিন্ন জায়গায় আগেও আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছি। আজ আপনাকে এখানে দেখতে পেয়ে আমি সম্মানিত। ভারতের মানুষ আপনাকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী। তাই আমি বিশেষভাবে আপনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। শুধু দিল্লি নয়, ভারতের অন্যান্য স্থানেও সময় বের করে যান, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আপনাকে স্বাগত জানানোর সুযোগ পান।” বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    ইজরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট হারজগ এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি লেখেন,
    “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইজরায়েলের জনগণ আপনাকে উন্মুক্ত হৃদয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। আজ জেরুজালেমে আপনাকে আতিথ্য দেওয়ার অপেক্ষায় আছি!” ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ইজরায়েলে রাজনৈতিক ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে (Holocaust Memorial)। দুই নেতা প্রেসিডেন্ট ভবনে একটি চারা গাছ রোপণ করেন, যা তাঁদের কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণ ও ব্যক্তিগত দিককে প্রতিফলিত করে (PM Modi)।

    ‘হল অব রিমেমব্র্যান্স’

    ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি জেরুজালেমে অবস্থিত ইজরায়েলের সরকারি হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ ‘ইয়াদ ভাশেমে’ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও। দুই নেতা ‘হল অব রিমেমব্র্যান্সে’ নীরবতা পালন করেন, যখন ‘কাদ্দিশ’ প্রার্থনা পাঠ করা হচ্ছিল। হলোকাস্টের শিকারদের স্মরণে এটি ছিল সম্মান, স্মৃতি ও শান্তির বার্তা (Holocaust Memorial)। প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানায়, “হলোকাস্টের শিকারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং শান্তি ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইয়াদ ভাশেম, বিশ্ব হলোকাস্ট স্মরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সফর (PM Modi)। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ‘বুক অফ নেমস্ হল’ পরিদর্শন করেন, যেখানে হলোকস্টে নিহত লাখ লাখ মানুষের স্মৃতি সংরক্ষিত রয়েছে। এই স্মৃতিসৌধ অতীতের নিষ্ঠুরতার একটি গম্ভীর স্মারক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি উন্নত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক (Holocaust Memorial)।”

    ইয়াদ ভাশেম কী?

    ইয়াদ ভাশেম জেরুজালেমে অবস্থিত ইজরায়েলের সরকারি হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি ও তাদের সহযোগীদের হাতে নিহত ৬০ লক্ষ ইহুদির স্মৃতি সংরক্ষণে নিবেদিত। এখানে রয়েছে হলোকাস্ট ইতিহাস জাদুঘর, হল অব নেমস্ এবং শিশু স্মৃতিসৌধ। এছাড়া ‘রাইটিয়াস অ্যামং দ্য নেশনস্’—অর্থাৎ যেসব অ-ইহুদি নিজেদের জীবন বিপন্ন করে (Holocaust Memorial) ইহুদিদের রক্ষা করেছিলেন—তাঁদেরও সম্মান জানানো হয় (PM Modi)।

  • PM Narendra Modi: ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ার অর্জনকারী প্রথম বিশ্বনেতা হলেন নরেন্দ্র মোদি, ৪.৩ কোটিতে দ্বিতীয় ট্রাম্প

    PM Narendra Modi: ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ার অর্জনকারী প্রথম বিশ্বনেতা হলেন নরেন্দ্র মোদি, ৪.৩ কোটিতে দ্বিতীয় ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে একটি বড় ডিজিটাল মাইলফলক অতিক্রম করেছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ার অর্জনকারী প্রথম বিশ্বনেতা এবং রাজনীতিবিদ হয়েছেন। বিশ্বব্যাপী সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে তাঁর অতুলনীয় উপস্থিতির প্রমাণ। মোদি ভক্তদের মধ্যে বিরাট উন্মাদনা।

    এক দশক ধরে তাঁর অ্যাকাউন্টটি ক্রমশ বৃদ্ধি (PM Narendra Modi)

    নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) ২০১৪ সালে ইনস্টাগ্রামে যোগদান করেন এবং গত এক দশক ধরে তাঁর অ্যাকাউন্টটি ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা এবং জড়িত রাজনৈতিক প্রোফাইলগুলির মধ্যে তিনি এখন অনন্য। তবে এই প্ল্যাটফর্মটি সরকারি কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক সফর, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ, সাংস্কৃতিক মুহূর্ত এবং ব্যক্তিগত প্রতিফলনের ঝলক ভাগ করে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। দেশবিদেশের বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময় দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করেছে এই প্রফাইল।

    কোন বিশ্বনেতার ফলোয়ার কত?

    প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi) এখন ইনস্টাগ্রামে বিশ্বনেতাদের মধ্যে এক নম্বরে পৌঁছে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক নেতাদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ফলোয়ার সংখ্যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিগুণেরও বেশি। ট্রাম্প ৪.৩২ কোটি সংখ্যার ফলোয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। অন্যান্য বিশ্বনেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো, তাঁর ফলোয়ার ১.৫ কোটি, ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, তাঁর ফলোইয়ার ১.৪৪ কোটি, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান, তাঁর ফলোয়ার ১ কোটি ১৬ লক্ষ এবং আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি জাভিয়ের মাইলি, তাঁর ৬৪ লক্ষ।

    ডিজিটাল যুগে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রভাব যথেষ্ট

    ডিজিটাল মাধ্যমে মোদির (PM Narendra Modi) প্রভাব যথেষ্ট বেশি। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইনস্টাগ্রাম ভারত এবং বিদেশে তরুণ দর্শকদের মধ্যে জোরালোভাবে কম্পনের সৃষ্টি করে। ডিজিটাল যুগে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রভাব যথেষ্ট পদ্ধতির প্রতিফলন ঘটায়। ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও এই ব্যবধান সমানভাবে লক্ষণীয়। ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদির অন্যান্য সকল ভারতীয় রাজনৈতিক নেতার চেয়ে অনেক এগিয়ে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রায় ১.৬১ কোটি ফলোয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, যেখানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রায় ১.২৬ কোটি ফলোয়ারে রয়েছেন। এই পার্থক্য দেশীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাবশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

  • India-Bangladesh Visa: সম্পর্ক মেরামতের বার্তা! ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া ফের শুরু ঢাকার, তারিকের প্রথম বিদেশ সফর কি দিল্লি?

    India-Bangladesh Visa: সম্পর্ক মেরামতের বার্তা! ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া ফের শুরু ঢাকার, তারিকের প্রথম বিদেশ সফর কি দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, বাংলাদেশে ভারতের নাগরিকদের জন্য পুনরায় সব ধরনের ভিসা (India-Bangladesh Visa) পরিষেবা চালু করা হয়েছে। ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ। ফের তা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে বড় পদক্ষেপ ঢাকার নতুন সরকারের। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর বদলে গিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বিদায় নিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। কূটনৈতিক মহলে জল্পনা প্রধানমন্ত্রী তারেকের প্রথম বিদেশ সফর শুরুও হতে পারে ভারত দিয়ে।

    দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত

    ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের (Bangladesh High Commission) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পুনরায় সব ধরনের ভিসা পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে এই পরিষেবা স্থগিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও ভারত-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভিসা পরিষেবা স্থগিত ছিল। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেকের (Tarique Rahman) নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সব ক্যাটাগরিতে ভিসা পুনরায় চালু

    বাংলাদেশ শুক্রবার থেকে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানসহ সব ধরনের ভিসা ইস্যু পুনরায় শুরু হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন থেকে ফের ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের ভিসা পাবেন। ভিসা ও দূতাবাস সংক্রান্ত (কনস্যুলার) অন্যান্য সুযোগসুবিধা ভারতীয়দের জন্য ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। বিএনপি নেতারা ভারতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছেন। এর আগে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির জেরে গত ডিসেম্বরে কনস্যুলার ও ভিসা পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল। ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, যেখানে ভারতবিরোধী স্লোগান ওঠে এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে। ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়। তবে ঢাকায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ভিসা আগেই চালু ছিল, কিন্তু এখন চিকিৎসা, পর্যটন-সহ সমস্ত বিভাগেই ভিসা পরিষেবা পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।

    ভারতের ইতিবাচক ইঙ্গিত

    এদিকে, নয়াদিল্লিও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে উভয় দেশ ভিসা প্রক্রিয়ায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। যার ফলে ভারতে যাওয়ার জন্য কেবল মেডিক্যাল ভিসা ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছিল এতদিন। এবার গোটা ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে চলছে বলেই জানিয়েছেন সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি ত্যাগ করে ভারতে চলে আসার পর থেকেই সে দেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ। সংখ্যালঘু নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে বার বার। একাধিক বার তা নিয়ে উদ্বেগ জানায় ভারত সরকারও। এই পরিস্থিততে গত ডিসেম্বরে সংখ্যালঘু পীড়নের প্রতিবাদে দুই দেশের মধ্যে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করা হয়। পদ্মা-পাড়ে সরকার পরিবর্তনের ফলে দু’মাসের মধ্যে তা বদল করা হল।

    সম্পর্ক রক্ষায় বিশ্বাসী ভারত

    ভারত (India-Bangladesh Visa) সরকারের তরফে আগেই আভাস দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে। সেইমতো নাগরিক স্তরের যোগাযোগের দুয়ার খুলে দেওয়া হচ্ছে।‌ এদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সুসম্পর্ক গড়ার কাজ চালিয়ে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহলের খবর, চলতি বছরে গঙ্গার জল চুক্তির পুনর্নবীকরণকে‌ ভিন্নমাত্রা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও অফিসার পর্যায়ে এখনও চুক্তি পুনর্নবীকরণের বেশ কিছু ইস্যুর ফয়সালা হয়নি।

    স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কৃষি-জলবায়ু থেকে ক্রীড়া

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পরেই ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্কের উন্নতি চায় বাংলাদেশ। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় না বাংলাদেশ। মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ক্ষমতায় আসার পরই তারেক জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হবে দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নীতি প্রণয়ন করবে সরকার। ভারত এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক স্থাপন করা বাংলাদেশের বিদেশনীতিতে অগ্রাধিকার পাবে।

    ভারতে আসছেন তারেক

    ইউনূস শাসনের দীর্ঘ ১৭ মাসের অস্থিরতা শেষে বাংলাদেশের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্থায়ী সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে শপথের দিনেই সপরিবারে ভারতে আসার জন্য খালেদা পুত্রকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দূত’ ওম বিড়লা। শুধু তাই নয়, তারেকের সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। ফলে অতীত ভুলে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ ফের কাছাকাছি! মনে করা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের দিনেই বাংলাদেশে গম রফতানির দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত। যা ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এরপরই ভিসা নিয়ে সিদ্ধান্ত। কূটনৈতিক মহলের অনুমান, ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে খুব শীঘ্রই গঙ্গা-পাড়ে আসতে পারেন তারেক। অতীতে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীরা প্রথম বিদেশ সফরে ভারত সফরের রীতি অনুসরণ করেছেন। যদিও গত বছর মহম্মদ ইউনূস প্রথম সফরে চিন যাওয়ায় সেই প্রথা ভেঙেছিল, যা নয়াদিল্লিতে অসন্তোষের কারণ হয়েছিল।

LinkedIn
Share