Tag: PM Narendra Modi

PM Narendra Modi

  • Nitin Nabin: লক্ষ্য এবার নবান্ন! ২০২৬-এ বাংলায় পরিবর্তনের ডাক, আত্মবিশ্বাসী নিতিন নবীন

    Nitin Nabin: লক্ষ্য এবার নবান্ন! ২০২৬-এ বাংলায় পরিবর্তনের ডাক, আত্মবিশ্বাসী নিতিন নবীন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) পাখির চোখ করে বাংলায় ব্যাপক প্রচার অভিযান চালিয়েছে বিজেপি। সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin) তাঁর সফরের শুরুতেই জয়ের ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলায় পরিবর্তনের সময় চলে এসেছে এবং আগামী নির্বাচনে বিজেপি একক শক্তিতেই সরকার গড়বে।”

    সংগঠন মজবুত করার কৌশল (Nitin Nabin)

    সফরের প্রথম দিন থেকেই নিতিন নবীন (Nitin Nabin) কলকাতা জোনের নেতাদের (West Bengal Elections 2026)  সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, বুথ স্তর থেকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বাড়ানোই তাঁর এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের প্রতিটি কর্মীকে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে সরকারের ব্যর্থতাগুলি তুলে ধরতে হবে।

    জয়ের পূর্বাভাস ও রণকৌশল

    সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “বাংলায় মানুষ এখন এক বিকল্প শাসনের অপেক্ষায়। আমরা কেবল লড়াই করার জন্য নয়, জয়ের মানসিকতা নিয়ে ময়দানে নেমেছি। ২০২৬-এ বাংলায় পদ্ম ফুটবেই (West Bengal Elections 2026) ।” তিনি আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনকল্যাণমুখী প্রকল্প এবং ‘টিম ইন্ডিয়া’র ভাবাবেগই হবে বিজেপির তুরুপের তাস।

    তৃণমূলের পাল্টা জবাব

    নিতিন নবীন (Nitin Nabin) এই সফর এবং মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে দিল্লি থেকে নেতাদের আসা বাংলার মানুষের কাছে নতুন কিছু নয়। তৃণমূলের দাবি, বাংলার মাটি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের নাড়ির টান কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছে।

    কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ?

    বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ২০২৬-এর আগে বাংলায় (West Bengal Elections 2026)  কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না। নিতিন নবীনের মতো অভিজ্ঞ সংগঠককে দায়িত্ব দেওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, এবারের লড়াইকে বিজেপি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। বিশেষ করে আসন বিন্যাস এবং প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি যে কঠোর পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন, তার ইঙ্গিত ইতিমধ্য়েই পাওয়া গেছে।

  • Ratna Debnath: ‘‘আর মুখ ঢেকে নয়…’’ আদালতের অনুমতি নিয়ে ৫৯৪ দিন পরে প্রকাশ্যে ‘অভয়ার মা’ রত্না দেবনাথ

    Ratna Debnath: ‘‘আর মুখ ঢেকে নয়…’’ আদালতের অনুমতি নিয়ে ৫৯৪ দিন পরে প্রকাশ্যে ‘অভয়ার মা’ রত্না দেবনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন আরজিকরকাণ্ডের নির্যাতিতা ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথ। ৫৯৪ দিন পর সামনে এসে সাংবাদিকদের জানালেন মেয়ের ন্যায় বিচারের দাবি। আরজিকরে নিজের মেয়েকে হারানোর পর অন্তরাল থেকেই ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করছিলেন। অবশেষে রাজনৈতিক ময়দানে সম্মুখ সমরে তিনি। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পানিহাটি (Panihati BJP Candidate) বিধানসভা আসনটি। বিজেপি সেখানে প্রার্থী করেছে আরজি করের নির্যাতিতা ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথকে (Ratna Debnath)। বুধবার দলের তৃতীয় তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা। এবার সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘অভয়া’র বাব-মা।

    “অভয়ার মা” থেকে রত্না দেবনাথ

    একসময় গোটা রাজ্যের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন শুধু “অভয়ার মা” বা “তিলোত্তমার মা” হিসেবে। তবে সেই পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এবার নিজের নামেই সামনে আসতে চলেছেন তিনি—রত্না দেবনাথ। আর মুখ ঢেকে নয়, এবার প্রকাশ্যেই লড়াই লড়বেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ জানান, আদালতের অনুমতি নিয়েই তিনি সামনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এবার আর মুখ ঢেকে নয়, সরাসরি লড়াই হবে।” তিনি আরও জানান, আদালত তাঁর নাম প্রকাশের অনুমতিও দিয়েছে।

    অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন, অভয়ার বাবা-মাকে প্রকাশ্যে আসার অনুমতি দিয়েছে আদালত। ফলে তাঁদের নাম প্রকাশ বা মুখ দেখানো নিয়ে আর কোনও আইনি বাধা নেই। অভয়ার বাবা জানান, এই বিষয়ে তাঁরা মানবাধিকার কমিশন ও মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর এখন তাঁরা স্বেচ্ছায় নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চান। তাঁদের কাছে আদালতের নির্দেশের কপিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আদালত থেকে নির্বাচনী ময়দান (Panihati BJP Candidate)

    সাধারণত, ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার পরিচয় নাম, ঠিকানা, বাবা মায়ের নাম প্রকাশ করা যায় না। গত দেড় বছরে ন্যায় বিচারের লড়াইতে নিজের নাম আর মুখকে আড়ালে রেখেই আন্দোলনে ছিলেন। এবার আইনি জটিলতা এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ্যে বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়বেন। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath), আদালতের নির্দেশের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন তিনি জনতা জনার্দনের দরবারে বিচার চাইতে এসেছেন। বিজেপি প্রার্থী (Panihati BJP Candidate) হয়ে তিনি বলেন, “মেয়ের বিচার এবং রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। পানিহাটির মানুষ আমার সঙ্গে আছেন।”

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া

    এই হাই-প্রোফাইল বিজেপি প্রার্থীকে (Panihati BJP Candidate) নিয়ে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রত্না দেবনাথের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে বলেছেন, “রত্না দেবী (Ratna Debnath) কেবল একজন মা নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদের প্রতীক। পানিহাটিতে তাঁকে জেতানো মানেই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইকে জয়ী করা।” শুভেন্দু আরও যোগ করে বলেন, “আদালত তার কাজ করছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই অপশাসনের জবাব দেবে বাংলার মানুষ।”

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। সেই সময় থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থেকেছে বিজেপি (Panihati BJP Candidate)। এখন রত্না দেবনাথকে প্রার্থী করে বিজেপি সেই প্রতিবাদের স্বরকেই বিধানসভায় নিয়ে যেতে চাইছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বামফ্রন্ট এই আসনে কলতান দাশগুপ্তকে প্রার্থী করায় লড়াই এবার ত্রিমুখী এবং বেশ কঠিন হতে চলেছে। পানিহাটির সাধারণ মানুষ এই নতুন সমীকরণকে কীভাবে গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে।

  • PM Narendra Modi: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ, শুক্র সন্ধ্যায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

    PM Narendra Modi: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ, শুক্র সন্ধ্যায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের (Iran War) মধ্যে বাড়তে থাকা যুদ্ধের আবহে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ, শুক্রবার সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। সন্ধ্যেয় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, দেশে কোভিড ১৯-এর সময় যেমন রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় হয়েছিল এইবারও তেমনি সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা (PM Narendra Modi)

    সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হল ‘টিম ইন্ডিয়া’র ভাবাবেগ বজায় রেখে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। বিশেষ করে ইরানের (Iran War) পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

    বৈঠকের প্রধান বিষয় জ্বালানি নিরাপত্তা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতের ওপর তার প্রভাব এবং বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা। প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Narendra Modi) রাজ্য সরকারগুলিকে আশ্বস্ত করেছেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে কাজ করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি কোভিড-১৯ অতিমারির সময়কার লড়াইয়ের উদাহরণ টেনে সকলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    গুজব রোখা

    জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।  তিনি জানিয়েছেন, ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে দেশে পেট্রল বা এলপিজি-র কোনও ঘাটতি নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজবে কান দিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে পাম্পে ভিড় না করেন, সেই বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছেন।

    দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

    এর আগে, বুধবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi) এর আগে রাজ্যসভায় জানিয়েছিলেন যে, এই যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তাই দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • PM Modi: ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, শ্রদ্ধা জানালেন হলোকাস্ট মেমোরিয়ালেও

    PM Modi: ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, শ্রদ্ধা জানালেন হলোকাস্ট মেমোরিয়ালেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের সফরে ইজরায়েলে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বৃহস্পতিবার তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন (Holocaust Memorial)। দুই নেতার বৈঠকে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা, কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)

    জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমি আনন্দিত যে বিভিন্ন জায়গায় আগেও আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছি। আজ আপনাকে এখানে দেখতে পেয়ে আমি সম্মানিত। ভারতের মানুষ আপনাকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী। তাই আমি বিশেষভাবে আপনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। শুধু দিল্লি নয়, ভারতের অন্যান্য স্থানেও সময় বের করে যান, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আপনাকে স্বাগত জানানোর সুযোগ পান।” বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    ইজরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট হারজগ এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি লেখেন,
    “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইজরায়েলের জনগণ আপনাকে উন্মুক্ত হৃদয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। আজ জেরুজালেমে আপনাকে আতিথ্য দেওয়ার অপেক্ষায় আছি!” ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ইজরায়েলে রাজনৈতিক ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে (Holocaust Memorial)। দুই নেতা প্রেসিডেন্ট ভবনে একটি চারা গাছ রোপণ করেন, যা তাঁদের কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণ ও ব্যক্তিগত দিককে প্রতিফলিত করে (PM Modi)।

    ‘হল অব রিমেমব্র্যান্স’

    ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি জেরুজালেমে অবস্থিত ইজরায়েলের সরকারি হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ ‘ইয়াদ ভাশেমে’ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও। দুই নেতা ‘হল অব রিমেমব্র্যান্সে’ নীরবতা পালন করেন, যখন ‘কাদ্দিশ’ প্রার্থনা পাঠ করা হচ্ছিল। হলোকাস্টের শিকারদের স্মরণে এটি ছিল সম্মান, স্মৃতি ও শান্তির বার্তা (Holocaust Memorial)। প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানায়, “হলোকাস্টের শিকারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং শান্তি ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইয়াদ ভাশেম, বিশ্ব হলোকাস্ট স্মরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সফর (PM Modi)। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ‘বুক অফ নেমস্ হল’ পরিদর্শন করেন, যেখানে হলোকস্টে নিহত লাখ লাখ মানুষের স্মৃতি সংরক্ষিত রয়েছে। এই স্মৃতিসৌধ অতীতের নিষ্ঠুরতার একটি গম্ভীর স্মারক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি উন্নত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক (Holocaust Memorial)।”

    ইয়াদ ভাশেম কী?

    ইয়াদ ভাশেম জেরুজালেমে অবস্থিত ইজরায়েলের সরকারি হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি ও তাদের সহযোগীদের হাতে নিহত ৬০ লক্ষ ইহুদির স্মৃতি সংরক্ষণে নিবেদিত। এখানে রয়েছে হলোকাস্ট ইতিহাস জাদুঘর, হল অব নেমস্ এবং শিশু স্মৃতিসৌধ। এছাড়া ‘রাইটিয়াস অ্যামং দ্য নেশনস্’—অর্থাৎ যেসব অ-ইহুদি নিজেদের জীবন বিপন্ন করে (Holocaust Memorial) ইহুদিদের রক্ষা করেছিলেন—তাঁদেরও সম্মান জানানো হয় (PM Modi)।

  • PM Narendra Modi: ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ার অর্জনকারী প্রথম বিশ্বনেতা হলেন নরেন্দ্র মোদি, ৪.৩ কোটিতে দ্বিতীয় ট্রাম্প

    PM Narendra Modi: ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ার অর্জনকারী প্রথম বিশ্বনেতা হলেন নরেন্দ্র মোদি, ৪.৩ কোটিতে দ্বিতীয় ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে একটি বড় ডিজিটাল মাইলফলক অতিক্রম করেছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ার অর্জনকারী প্রথম বিশ্বনেতা এবং রাজনীতিবিদ হয়েছেন। বিশ্বব্যাপী সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে তাঁর অতুলনীয় উপস্থিতির প্রমাণ। মোদি ভক্তদের মধ্যে বিরাট উন্মাদনা।

    এক দশক ধরে তাঁর অ্যাকাউন্টটি ক্রমশ বৃদ্ধি (PM Narendra Modi)

    নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) ২০১৪ সালে ইনস্টাগ্রামে যোগদান করেন এবং গত এক দশক ধরে তাঁর অ্যাকাউন্টটি ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা এবং জড়িত রাজনৈতিক প্রোফাইলগুলির মধ্যে তিনি এখন অনন্য। তবে এই প্ল্যাটফর্মটি সরকারি কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক সফর, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ, সাংস্কৃতিক মুহূর্ত এবং ব্যক্তিগত প্রতিফলনের ঝলক ভাগ করে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। দেশবিদেশের বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময় দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করেছে এই প্রফাইল।

    কোন বিশ্বনেতার ফলোয়ার কত?

    প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi) এখন ইনস্টাগ্রামে বিশ্বনেতাদের মধ্যে এক নম্বরে পৌঁছে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক নেতাদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ফলোয়ার সংখ্যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিগুণেরও বেশি। ট্রাম্প ৪.৩২ কোটি সংখ্যার ফলোয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। অন্যান্য বিশ্বনেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো, তাঁর ফলোয়ার ১.৫ কোটি, ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, তাঁর ফলোইয়ার ১.৪৪ কোটি, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান, তাঁর ফলোয়ার ১ কোটি ১৬ লক্ষ এবং আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি জাভিয়ের মাইলি, তাঁর ৬৪ লক্ষ।

    ডিজিটাল যুগে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রভাব যথেষ্ট

    ডিজিটাল মাধ্যমে মোদির (PM Narendra Modi) প্রভাব যথেষ্ট বেশি। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইনস্টাগ্রাম ভারত এবং বিদেশে তরুণ দর্শকদের মধ্যে জোরালোভাবে কম্পনের সৃষ্টি করে। ডিজিটাল যুগে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রভাব যথেষ্ট পদ্ধতির প্রতিফলন ঘটায়। ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও এই ব্যবধান সমানভাবে লক্ষণীয়। ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদির অন্যান্য সকল ভারতীয় রাজনৈতিক নেতার চেয়ে অনেক এগিয়ে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রায় ১.৬১ কোটি ফলোয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, যেখানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রায় ১.২৬ কোটি ফলোয়ারে রয়েছেন। এই পার্থক্য দেশীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাবশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

  • India-Bangladesh Visa: সম্পর্ক মেরামতের বার্তা! ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া ফের শুরু ঢাকার, তারিকের প্রথম বিদেশ সফর কি দিল্লি?

    India-Bangladesh Visa: সম্পর্ক মেরামতের বার্তা! ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া ফের শুরু ঢাকার, তারিকের প্রথম বিদেশ সফর কি দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, বাংলাদেশে ভারতের নাগরিকদের জন্য পুনরায় সব ধরনের ভিসা (India-Bangladesh Visa) পরিষেবা চালু করা হয়েছে। ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ। ফের তা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে বড় পদক্ষেপ ঢাকার নতুন সরকারের। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর বদলে গিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বিদায় নিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। কূটনৈতিক মহলে জল্পনা প্রধানমন্ত্রী তারেকের প্রথম বিদেশ সফর শুরুও হতে পারে ভারত দিয়ে।

    দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত

    ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের (Bangladesh High Commission) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পুনরায় সব ধরনের ভিসা পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে এই পরিষেবা স্থগিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও ভারত-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভিসা পরিষেবা স্থগিত ছিল। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেকের (Tarique Rahman) নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সব ক্যাটাগরিতে ভিসা পুনরায় চালু

    বাংলাদেশ শুক্রবার থেকে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানসহ সব ধরনের ভিসা ইস্যু পুনরায় শুরু হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন থেকে ফের ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের ভিসা পাবেন। ভিসা ও দূতাবাস সংক্রান্ত (কনস্যুলার) অন্যান্য সুযোগসুবিধা ভারতীয়দের জন্য ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। বিএনপি নেতারা ভারতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছেন। এর আগে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির জেরে গত ডিসেম্বরে কনস্যুলার ও ভিসা পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল। ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, যেখানে ভারতবিরোধী স্লোগান ওঠে এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে। ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়। তবে ঢাকায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ভিসা আগেই চালু ছিল, কিন্তু এখন চিকিৎসা, পর্যটন-সহ সমস্ত বিভাগেই ভিসা পরিষেবা পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।

    ভারতের ইতিবাচক ইঙ্গিত

    এদিকে, নয়াদিল্লিও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে উভয় দেশ ভিসা প্রক্রিয়ায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। যার ফলে ভারতে যাওয়ার জন্য কেবল মেডিক্যাল ভিসা ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছিল এতদিন। এবার গোটা ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে চলছে বলেই জানিয়েছেন সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি ত্যাগ করে ভারতে চলে আসার পর থেকেই সে দেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ। সংখ্যালঘু নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে বার বার। একাধিক বার তা নিয়ে উদ্বেগ জানায় ভারত সরকারও। এই পরিস্থিততে গত ডিসেম্বরে সংখ্যালঘু পীড়নের প্রতিবাদে দুই দেশের মধ্যে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করা হয়। পদ্মা-পাড়ে সরকার পরিবর্তনের ফলে দু’মাসের মধ্যে তা বদল করা হল।

    সম্পর্ক রক্ষায় বিশ্বাসী ভারত

    ভারত (India-Bangladesh Visa) সরকারের তরফে আগেই আভাস দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে। সেইমতো নাগরিক স্তরের যোগাযোগের দুয়ার খুলে দেওয়া হচ্ছে।‌ এদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সুসম্পর্ক গড়ার কাজ চালিয়ে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহলের খবর, চলতি বছরে গঙ্গার জল চুক্তির পুনর্নবীকরণকে‌ ভিন্নমাত্রা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও অফিসার পর্যায়ে এখনও চুক্তি পুনর্নবীকরণের বেশ কিছু ইস্যুর ফয়সালা হয়নি।

    স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কৃষি-জলবায়ু থেকে ক্রীড়া

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পরেই ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্কের উন্নতি চায় বাংলাদেশ। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় না বাংলাদেশ। মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ক্ষমতায় আসার পরই তারেক জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হবে দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নীতি প্রণয়ন করবে সরকার। ভারত এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক স্থাপন করা বাংলাদেশের বিদেশনীতিতে অগ্রাধিকার পাবে।

    ভারতে আসছেন তারেক

    ইউনূস শাসনের দীর্ঘ ১৭ মাসের অস্থিরতা শেষে বাংলাদেশের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্থায়ী সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে শপথের দিনেই সপরিবারে ভারতে আসার জন্য খালেদা পুত্রকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দূত’ ওম বিড়লা। শুধু তাই নয়, তারেকের সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। ফলে অতীত ভুলে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ ফের কাছাকাছি! মনে করা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের দিনেই বাংলাদেশে গম রফতানির দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত। যা ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এরপরই ভিসা নিয়ে সিদ্ধান্ত। কূটনৈতিক মহলের অনুমান, ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে খুব শীঘ্রই গঙ্গা-পাড়ে আসতে পারেন তারেক। অতীতে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীরা প্রথম বিদেশ সফরে ভারত সফরের রীতি অনুসরণ করেছেন। যদিও গত বছর মহম্মদ ইউনূস প্রথম সফরে চিন যাওয়ায় সেই প্রথা ভেঙেছিল, যা নয়াদিল্লিতে অসন্তোষের কারণ হয়েছিল।

  • Bangladesh Election: একসঙ্গে কাজ করার কৌশলী বার্তা! বাংলাদেশে বিপুল জয়ের জন্য তারেককে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Bangladesh Election: একসঙ্গে কাজ করার কৌশলী বার্তা! বাংলাদেশে বিপুল জয়ের জন্য তারেককে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথা মেনেই প্রতিবেশী দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে (Bangladesh Election) বড় ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছে বিএনপি। গণনায় এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই বিভিন্ন দেশ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছোচ্ছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে প্রথমে ইংরেজি এবং পরে বাংলায় একটি পোস্ট করে তারেককে ‘আন্তরিক অভিনন্দন’ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আবার একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন মোদি। দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) ও তার মিত্ররা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ইতিমধ্যেই ২১১টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Two-thirds Majority) নিশ্চিত করেছে।

    অভিনন্দন বার্তায় কী লিখলেন মোদি

    শুক্রবার সকালে সমাজ মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি-র নির্ণায়ক জয়ে নেতৃত্বে দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।” ভারত-বাংলাদেশ বহুমুখী সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে তারেককে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি লেখেন, “আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য এবং অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।” একই সঙ্গে মোদি লেখেন, “গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে ভারত তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।” ‘ঐতিহাসিক বিজয়ে’র জন্য তারেককে ধন্যবাদ জানিয়েছে আমেরিকাও। শুক্রবার সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকে সমাজমাধ্যমে বাংলা এবং ইংরেজিতে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়েছে, “একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা।”

    কৌশলী পদক্ষেপ মোদির

    ২০২৪ সালে সংরক্ষণ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পর থেকেই আওয়ামি লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে’ রয়েছেন। গণহত্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন আদালত। বারবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি করলেও এ বিষয়ে নয়াদিল্লি একেবারে নিশ্চুপ। এমনকী বাংলাদেশে নির্বাচনী আবহেও দিল্লি থেকে নানা রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন হাসিনা। এসবের পর নির্বাচনে বিএনপি-র জয়ের আভাস পেয়েই মোদির বার্তা কৌশলী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

    নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপি-র

    প্রত্যাশিতভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৯৯টি আসনের সংসদে জাদুসংখ্যা পেরিয়েছে খালেদা জিয়ার দল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে। আর বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন তারেক। সংসদে বিরোধী দলের আসনে জামাত-ই-ইসলামি। শুক্রবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশন এই ফল ঘোষণা করেন।নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবারের ভোটে অংশ নিতে পারেনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।

    বিপুল ভোটে জয়ী তারেক

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হয়েছে বৃহস্পতিবার। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য কোনও দল বা জোটকে ১৫১টি আসনে জিততে হতো। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান দু’টি আসনেই (ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬) জয়ী হয়েছেন। ৭৭ হাজার ভোটে বগুড়া-৬ আসনে বিপুল জয় খালেদা-পুত্র তারেক রহমানের। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯১৩ ভোট। এই আসনে তারেকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মহম্মদ আবিদুর রহমান। ইতিমধ্যেই বিএনপি-র তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে ‘বিপুল সংখ্যক আসনে’ নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। শুক্রবার প্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মৃতিতে, দেশবাসীর প্রতি শুভকামনায় বিএনপি-র তরফে বিভিন্ন মজসিদে প্রার্থনা করা হবে। তাদের তরফে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি-র তরফে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা জয় উপলক্ষে কোনও বিজয়মিছিল বা সভা করছে না।

    ভারত-বিরোধিতা কাজে এল না

    লাগাতার ভারত-বিরোধিতা অস্ত্র কাজে এল না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুমকি, বিরোধী মন্তব্যের পরও বাংলাদেশ ভোটে জিততে পারলেন না ছাত্রনেতা সারজিশ আলম। নিজের কেন্দ্র পঞ্চগড়-১ আসনে গোহারা হারলেন তিনি। এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। এবারের ভোটে জামাতের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করেছে জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে আসা ছাত্রদের দল এনসিপি। তাঁদের প্রার্থীরা মোটের উপর ভালো ফল করলেও সারজিশের হারে প্রমাণ, তাঁর আগাগোড়া ভারত বিরোধী মনোভাব অন্তত জনসমর্থন টানতে পারেনি।

    গণভোটের গণনা

    দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সারা দেশ থেকে আসা বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, দলটি ইতিমধ্যেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে চলছে গণভোটের গণনা। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা’র (বাসস) খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৮ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৭টি এবং না ভোট পড়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৫৬টি। এ বারই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণা না হলেও সংসদ নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতা আসতে চলেছে বিএনপি। এ বার গণভোটের যে ইঙ্গিত মিলছে তাতে স্পষ্ট, হ্যাঁ ভোট এগিয়ে অনেকটাই।

  • PM Modi: এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটের প্রাক্কালে মরিশাসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা মোদির

    PM Modi: এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটের প্রাক্কালে মরিশাসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে হতে চলেছে এআই-ইমপ্যাক্ট (AI Impact) সামিট। তার আগে সোমবার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগুলাম। ভারত ও মরিশাসের মধ্যে যে উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের যৌথ অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী রামগুলামের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘ভিশন মহাসাগর’ (Vision MAHASAGAR), ভারতের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতি এবং গ্লোবাল সাউথের প্রতি অভিন্ন দায়বদ্ধতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মরিশাসের উন্নয়ন অগ্রাধিকারে ভারতের অব্যাহত সমর্থনের কথা ফের তুলে ধরেন।

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা (PM Modi)

    দুই নেতা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বারাণসীতে তাঁদের সর্বশেষ বৈঠকের পর থেকে বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। আলোচনায় উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় দেশবাসীর কল্যাণে ভারত–মরিশাসের উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার বিষয়ে তাঁরা তাঁদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যৌথ লক্ষ্য অর্জনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দুই নেতা একমত হন। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটে প্রধানমন্ত্রী রামগুলামকে স্বাগত জানাতে তিনি আগ্রহী। মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে এই গঠনমূলক আলোচনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠিত এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটে ভারত–মরিশাস সহযোগিতা আরও গভীর করার আশা রাখছি আমি। রামগুলাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করতে ভারতের প্রতি মরিশাসের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন (PM Modi)।”

    মোদিকে ধন্যবাদ রামগুলামের

    এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “এই গঠনমূলক আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ। উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করতে মরিশাস ও ভারত এক সঙ্গে রয়েছে (AI Impact)। আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠিত এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটে এই সহযোগিতা আরও গভীর করার অপেক্ষায় রয়েছি।” উল্লেখ্য যে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মরিশাসের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় ভারত সরকার মরিশাসকে ৬৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি বিস্তৃত বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ দেয় এবং একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রসঙ্গত, ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এআই-ইমপ্যাক্ট সামিট আয়োজন করতে চলেছে ভারত। এটি হবে গ্লোবাল সাউথে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন। পাঁচদিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে নীতি নির্ধারণ, গবেষণা, শিল্প ও জনসম্পৃক্ততা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সম্মেলনটি তিনটি মৌলিক স্তম্ভ বা ‘সূত্রে’র ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে – মানুষ (People), পৃথিবী (Planet) ও অগ্রগতি (Progress)। এই সম্মেলনে বিশ্বনেতা, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি সংস্থা, উদ্ভাবক (AI Impact) ও বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে শাসনব্যবস্থা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নে এআইয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবেন (PM Modi)।

     

  • India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদ ভবনের বাইরে নিজের ভাষণ ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভবিষ্যতে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের অভিমুখ যে অনেকাংশে ইউরোপের দিকে ঘুরে যেতে পারে, সেই আভাস মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর এক ব্রিটিশ সংবাদপত্র নরেন্দ্র মোদিকে আখ্যা দিয়েছিল “ভারতের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে। বারো বছর পর, সেই তকমার যথার্থতা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সোশ্যাল মিডিয়াকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

    ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি একটিমাত্র বার্তা পোস্ট করেন—কিন্তু সেটি ছিল ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি একসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে “বহুভাষিক মাস্টারস্ট্রোক” বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তিকে নিছক অর্থনৈতিক লেনদেনের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের রূপ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্পের বাণিজ্য কৌশলের প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ ঘনিষ্ঠতা

    এই চুক্তি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বাণিজ্য নীতিতে বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল। ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তিতে চাপের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়েছে। ট্রাম্পের কৌশল—শুল্ককে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার—বিশ্বের বহু মিত্র দেশকেই প্রভাবিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ চুক্তিকে অনেকেই “মাদার অব অল ডিলস” বলে উল্লেখ করছেন।

    আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি

    ব্রিটেনের সঙ্গে আগেই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছে ভারত। দু’দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউরোপের ২৭ দেশের জোট)-এর সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। মোদীর কথায়, ভবিষ্যতের পথ কতটা উজ্জ্বল, তারই একটি ঝলক হল ইউরোপের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তি। তিনি বলেন, “এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের চুক্তি। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের চুক্তি। আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি।” ইউরোপীয় জোটের সঙ্গে এই চুক্তিকে আগেও ‘সব চুক্তির জননী’ বলে ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি। বৃহস্পতিবার ফের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে। এখন খুব সস্তায় ভারতীয় পণ্য ইউরোপীয় দেশগুলিতে পৌঁছে যাবে বলেও দেশবাসীকে জানান তিনি।

    ২৭টি দেশের ক্রেতাদের মন জয়

    ইউরোপীয় বাজার যে ভারত একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে চাইছে, তা-ও স্পষ্ট মোদীর কথায়। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নির্মাতা এবং উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে মোদী পরামর্শ দেন, অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে, সেখানে সস্তায় পণ্য রফতানি করা যাবে— এই ভেবে বসে থাকলে চলবে না। সেরা মানের পণ্য রফতানির উপরে জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সেরা মানের পণ্যের উপরে জোর দেওয়ার এটাই সুযোগ। সেরার সেরা মানের পণ্য নিয়ে বাজারে আসুন। তা হলে আমরা ইউরোপের ২৭টি দেশের ক্রেতাদের থেকে শুধু টাকাই আয় করব না, গুণমানের জন্য তাদের মনও জয় করতে পারব। কয়েক দশক ধরে যার প্রভাব থাকবে।”

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বহুভাষিক বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি ইংরেজিতে লেখেন— “আজ ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উপসংহার আমাদের সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরোপের সব নেতাদের তাঁদের গঠনমূলক মনোভাব ও প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই চুক্তি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, আমাদের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে ভারত-ইউরোপ অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে।” এরপর একই বার্তা তিনি ফরাসি, জার্মান, গ্রিক, ইতালিয়ানসহ ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় পোস্ট করেন। এর জবাবে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতিসহ একাধিক ইউরোপীয় নেতা হিন্দিতে শুভেচ্ছা বার্তা দেন।

    মানবিক ও ব্যক্তিগত কূটনীতি

    ইউরোপীয় কমিশনের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ক্রিস্টিনা ভ্যানবার্গেন এই উদ্যোগকে “২৭টি দেশের প্রতি একসঙ্গে সৌজন্যমূলক শ্রদ্ধা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “প্রতিটি দেশের ভাষায় কথা বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি বাণিজ্য চুক্তিকে সাংস্কৃতিক করমর্দনে রূপান্তর করেছেন। এই এফটিএ কাগজপত্রের চুক্তি নয়—এটি মানবিক ও ব্যক্তিগত। একবিংশ শতাব্দীর কূটনীতি ঠিক এভাবেই হওয়া উচিত।” ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মারিওস কারাতজিয়াস একে “ডিজিটাল যুগের সেরা জনকূটনীতি” হিসেবে আখ্যা দেন।

    ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির মূল দিক

    দুই দশক ধরে আলোচনার পর সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি এখন আইনি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে, তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।

    • ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের শ্রমনির্ভর পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য করবে
    • ভারতের ৯০ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর ইইউ শুল্ক প্রত্যাহার করবে
    • ইউরোপের ৯৬ শতাংশ রফতানিপণ্যের ওপর ভারতের শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হবে
    • ভারতের অটোমোবাইল বাজার ইউরোপীয় গাড়ির জন্য খুলে দেওয়া হবে
    • গাড়ির ওপর শুল্ক প্রথমে ৩০–৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, পরে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে নামবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপ—উভয়ের জন্যই লাভজনক। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষাভিত্তিক, লক্ষ্যভিত্তিক কূটনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

  • India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সম্পর্কে আরও উষ্ণতা যোগ হল আবু ধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের (India UAE meeting) ভারত সফরে। মাত্র দুই ঘণ্টার সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট, ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক (India UAE relation) এখন শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।

    ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক

    সোমবার সুদূর সংযুক্ত আমিরশাহি থেকে ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতেই চলে বৈঠক। আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই ঝটিকা সফরের কিছু মুহূর্ত নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্য়ান্ডেলে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদি লিখেছেন, ‘আমার ভাই, প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক।’

    ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী বৈঠক

    নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষায় ভারতে এসেছিলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। ছিলেন মাত্র তিন ঘণ্টা। এর মধ্য়েই নানা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে দু’পক্ষের মধ্যে। জায়েদের সফর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগ থেকে মহাকাশ গবেষণা — নানাবিধ বিষয়ে হাত মেলাতে প্রস্তুত হয়েছে ভারত এবং আরব আমিরশাহি। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমিত এবং বর্ধিত পরিসরের আলোচনা হয়। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রের কথায়, বৈঠকের সময় কম হলেও সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট সই হয়, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। মহাকাশ ক্ষেত্রে দু’টি লঞ্চ সুবিধা এবং স্যাটেলাইট প্রস্তুত কারখানা তৈরির জন্যও চুক্তি হয়েছে, যা দু’দেশের যৌথ মহাকাশ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা

    বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। শক্তি খাতে আমিরাত প্রতি বছর ভারতের জন্য ০.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএই দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা নেবে। ভারত ও আমিরশাহি স্বাগত জানিয়েছে এইচপিসিএল (HPCL) এবং এডিএনওসি (ADNOC Gas)–এর মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি (LNG) সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরকে (India UAE energy deal)। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে ভারত বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে। এর ফলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা আরও স্থিতিশীল হবে।

    পরমাণু শক্তি ব্যবহার

    শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার দরজা খোলা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবারের মতো দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের নতুন শান্তি (SHANTI) আইন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ করবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করেছে।

    এআই, ডেটা ও ডিজিটাল সহযোগিতা

    অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের পক্ষ থেকে গুজরাটের ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন, ডেটা সেন্টার, সুপার কম্পিউটিং এবং এআই সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। ‘ডেটা এম্বাসি’ ধারণা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে, যা সার্বভৌম ডেটা ব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে (India UAE AI cooperation)। দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে একটি সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। আমিরশাহি ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডিজিটাল এমবাসি নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। শেখ মহম্মদ ২০২৬ সালে ভারতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (AI Impact Summit) আয়োজনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    মহাকাশ গবেষণা

    একই ভাবে মহাকাশ গবেষণার স্বার্থেও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত-আরব আমিরশাহি। এর ফলে উপগ্রহ তৈরি থেকে লঞ্চিং- স্পেস সেক্টরে যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ

    খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা ভারতীয় কৃষক ও আমিরাতের খাদ্য সরবরাহ চাহিদা। উভয় দিকেই সুবিধা দেবে। এই আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০৩২ সালের মধ্য়ে ভারত-আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবি। টার্গেট ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গুজরাটে তৈরি হবে আবু ধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস। বাড়বে কর্মসংস্থান, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একমত

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রাথমিক চুক্তিপত্র (Letter of Intent) সই করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সফর ও যৌথ মহড়া দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। দুই নেতা সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন।

    ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠা

    আবুধাবিতে ৪৫ লক্ষ ভারতীয় বাসিন্দার জন্য ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য বৃদ্ধি, যুব বিনিময় কর্মসূচি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, এসব বিষয়েও দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়

    ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিও রয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবির। ২০১৯ সালের অগস্টে মোদির আবু ধাবি সফরের সময় তাঁর হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জায়েদ’ তুলে দিয়ে, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবির তৎকালীন শাসক জায়েদ ২০২২ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরশাহি ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস (BRICS) সভাপতিত্বকে সমর্থন করেছে। ভারত সমর্থন করেছে আমিরশাহির জল সম্মেলন (UN Water Conference 2026)-কে।

LinkedIn
Share