Tag: post poll violence

post poll violence

  • TMC: আরজি করকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

    TMC: আরজি করকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডে (TMC) তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। সম্প্রতি এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে তদন্ত।

    নতুন করে মামলা দায়ের (TMC)

    গত রবিবার আরজি করের নিহত  চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে নিহত চিকিৎসকের মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। স্মরণসভা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হবে। নতুন করে মামলা দায়ের করে সেই মামলার ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এর পরের দিন, সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নিহত চিকিৎসকের বাবা নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।

    শ্মশানে দেহ সৎকারের ঘটনা

    আরজি করকাণ্ডের পর ঘোলা থানার নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে দেহ সৎকারের ঘটনাকে ঘিরে আগেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। ওই ঘটনায় নির্মল ছাড়াও সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিও উঠেছে (TMC)। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে তৎপরতা দেখানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সৎকারের তালিকায় দেহটির ক্রম ছিল তিন নম্বরে। কিন্তু রাতারাতি সেই ক্রম বদলে এক নম্বরে করে দ্রুত দেহ সৎকার করা হয়। এমনকী শ্মশানের নির্ধারিত খরচও পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মৃতার পরিবারের কোনও নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে (Nirmal Ghosh)।

    সৎকারের প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভাঙা হয়েছিল!

    এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা ওই দিনের ঘটনাক্রম, শ্মশানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সৎকারের প্রক্রিয়ায় কোনও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন (TMC)। প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই নির্মলের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার ঠিক এক মাসের মাথায় গ্রেফতার হলেন নির্মল স্বয়ং। তবে তীর্থঙ্করের গ্রেফতারির কারণ ছিল ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলা। আর আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে নির্মলকে (TMC)।

     

  • Post Poll Violence: নতুন করে ৪৫৮টি জিডি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের! ২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Post Poll Violence: নতুন করে ৪৫৮টি জিডি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের! ২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা (Post Poll Violence) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ওই সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত রাজনৈতিক আক্রমণ, ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনাগুলি জাতীয় স্তরে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল। সম্প্রতি রাজ্য প্রশাসনের (BJP Bengal) উচ্চপর্যায়ের এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত পাঁচ বছরের পুরোনো হিংসার মামলাগুলিকে নতুন করে আইনি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ইতিমধ্যেই সাড়ে চারশোরও বেশি পুরনো মামলার (BJP Bengal) নতুন করে ওপেন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের জমানায় যে সমস্ত মামলার ‘চূড়ান্ত রিপোর্ট’ জমা পড়ে ফাইল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেইসব ক্লোজড ফাইলও নতুন করে খোলা হচ্ছে। বিগত দিনগুলিতে যেসব ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল কিংবা চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশের মাধ্যমে আইনি নথিপত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসন সেগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    প্রশাসনিক নির্দেশিকা ও আইনগত সক্রিয়তা (Post Poll Violence)

    রাজ্য পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (ADG, Law and Order) পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হল, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) শিকার হওয়া নাগরিকদের অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্মূল্যায়ন (Review) নিশ্চিত করা। প্রশাসনের (BJP Bengal) এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে রাজ্য জুড়ে পুলিশি তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পূর্ববর্তী বহু মামলার নথিপত্র আরেকবার নতুন করে খোলা হয়েছে।

    কঠোর আইনি পদেক্ষেপ

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার অধীনে ইতিমধ্যে ব্যাপক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে:

    তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) পুনর্বিবেচনা

    বিগত সময়ে যেসব মামলায় (Post Poll Violence) পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত রিপোর্ট বা ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ জমা দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল, তেমন অন্তত ৫৯টি স্পর্শকাতর মামলার ফাইল পুনরায় খোলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কোনও রকম খামতি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নতুন অনুসন্ধান ও এফআইআর (FIR) দায়ের

    পূর্ববর্তী অভিযোগ এবং নতুন করে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যে ৪৫৮টি নতুন প্রাথমিক অনুসন্ধান (Enquiry) শুরু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের করে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

    নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের গ্রেফতার

    এই নতুন আইনি সক্রিয়তার অংশ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, বিশেষত দুর্গাপুর, বর্ধমান, মাথাভাঙ্গা এবং হুগলি অঞ্চল থেকে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসায় উস্কানি, নারী নির্যাতন এবং তোলাবাজির (Extortion) মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

    তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা

    এবারের তদন্ত প্রক্রিয়াগুলিকে (Post Poll Violence) সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং স্বচ্ছ রাখার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ কমিশনারদের (CP) ব্যক্তিগতভাবে এই মামলাগুলির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট পেশ করার পর বিচারপ্রক্রিয়া যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার জন্য নিয়মিত আইনি সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অপরাধমূলক সিন্ডিকেট বা চক্রগুলির গতিবিধি ও তাদের আর্থিক উৎসের সন্ধান করতে বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২রা মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল (Post Poll Violence) প্রকাশের পরপরই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম রূপ ধারণ করে। শাসকদল বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের হতাহত করে এক তরফা আক্রমণ করে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং ঘরছাড়া হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। তৎকালীন সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে খুন ও ধর্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল। কয়েক ধাপে ৫৭ জনের বেশি খুন করা হয়েছিল। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি বিগত দিনে স্থানীয় পুলিশের এক্তিয়ারে থাকা সাধারণ ও মাঝারি স্তরের অপরাধের মামলাগুলির ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার একটি বড় প্রয়াস।

    আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় (Post Poll Violence)

    গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় (BJP Bengal) যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা আইনের শাসনের পরিপন্থী। ২০২১ সালের নির্বাচন-উত্তর সহিংসতার মামলাগুলি পুনরায় খোলার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন এটিই স্পষ্ট করতে চাইছে যে, অপরাধের তীব্রতা বা সময়কাল যাই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুদীর্ঘ পাঁচ বছর পর এই আইনি সক্রিয়তা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মনে ন্যায়বিচারের আশা জাগিয়েছে, তেমনই এটি রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি দূরগামী ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • TMC Leader Shamim Ahmed: অরূপ রায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গ! শোয়ার ঘরে রাজ-পালঙ্ক, তল্লাশিতে গিয়ে পুলিশ থ

    TMC Leader Shamim Ahmed: অরূপ রায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গ! শোয়ার ঘরে রাজ-পালঙ্ক, তল্লাশিতে গিয়ে পুলিশ থ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের শাসনে এই রকম উন্নয়ন অকল্পনীয়। তবে তৃণমূল নেতাদের আর্থিক সমৃদ্ধির দৃশ্য খোদ তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদেরকেই রীতিমতো চমকে দিয়েছে। ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন স্থাপত্যের অস্তিত্ব থাকতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তদন্তকারীরা। হাওড়ার (Howrah) শিবপুরের চওড়াবস্তি এলাকায় পলাতক তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ ওরফে ‘বড়ে’-র বাসভবনে তল্লাশি চালাতে গিয়ে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গেলেন পুলিশ আধিকারিকরা। কেবল বহুমূল্য আসবাব বা মুঘল ঘরানার স্থাপত্য নয়, বাড়ির অন্দরে মাটির নিচে আবিষ্কৃত হয়েছে এক রহস্যময় গোপন সুড়ঙ্গ। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, বিপদের সময় আইন-শৃঙ্খলার নজর এড়িয়ে পলায়নের উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে এই আলিশান রাজমহল (TMC Leader Shamim Ahmed) নির্মাণের টাকা কোথা থেকে আসতো? আসুন দেখে নিই কুখ্যত শামিম আহমেদের কুকীর্তি।

    আভিজাত্যের আড়ালে রহস্যের জাল (Howrah)

    নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের এক নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত শামিম আহমেদ (TMC Leader Shamim Ahmed) বর্তমানে পলাতক। তাঁর খোঁজে শিবপুরের ওই প্রাসাদে হানা দেয় পুলিশ। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই আধিকারিকদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। সুড়ঙ্গ পেরলেই ‘সিংহদুয়ার’। নেমপ্লেটে লেখা শামিম আহম্মেদ নাম। দরজা খুললেই ভিতরে এলাহি ব্যবস্থা। গোটা বাড়ির সিসিটিভি মনিটরিং চলছে ওই ঘর থেকে।

    হাওড়ার তৃণমূল (TMC) নেতা শামিম আহমেদের সেই বাড়ির ছবি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। দামি আসবাবপত্র, সিনেমার সেটের মতো সজ্জা এবং কারুকার্যমণ্ডিত ঘরগুলি আভিজাত্যের চরম নিদর্শন। তবে তল্লাশি চলাকালীন মাটির নিচে সুড়ঙ্গের সন্ধান মিলতেই পুরো পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা পায়। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই রহস্যময় সুড়ঙ্গ এবং নেমপ্লেট সম্বলিত শামিমের ঘরের চিত্র। এই সুড়ঙ্গ পথটি ঠিক কোথায় গিয়ে মিশেছে এবং এর মাধ্যমে কোনও অপরাধমূলক কারসাজি চলত কি না, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

    সাধারণ জীবন থেকে ক্ষমতার শিখরে: শামিমের উত্থান

    মধ্য হাওড়ার (Howrah) রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলে শামিম আহমেদের উল্কাসম উত্থানের কাহিনী শোনা যায়। জানা যায়, একসময় শপিং মলের সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করা এই ব্যক্তি সময়ের ব্যবধানে এলাকার বেতাজ বাদশা হয়ে ওঠেন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের ছায়াসঙ্গী (TMC Leader Shamim Ahmed) হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘বড়ে’ বা কেউ কেউ ‘ডন’ হিসেবেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে তিনি ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।

    রাজনৈতিক উত্তাপ ও অভিযোগের আঙুল

    শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed) বাড়িতে (Howrah) এই গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।

    রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “তদন্ত যত এগোবে, সুড়ঙ্গ বা গুহার পাশাপাশি টাকার পাহাড়ও বেরিয়ে আসবে।” অন্যদিকে, শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, “হাওড়ার মতো প্রাচীন শহরকে জমি প্রোমোটিং, মাদক ব্যবসা এবং লুটের রাজত্বে পরিণত করার নেপথ্যে এই নেতারাই মদতদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে পুলিশকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

    প্রশাসনিক তৎপরতা

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed)  সুড়ঙ্গ পথটি জরুরি অবস্থায় আত্মগোপন করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তৃণমূল নেতার এই ‘অপারেশনাল স্টাইল’ কোনও অন্ধকার জগতের অপরাধীদের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুড়ঙ্গের বিস্তৃতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো গোপন কার্যকলাপের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এনআইএ-ও গ্রেফতার করেছিল শামিমকে

    এই প্রথমবার শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, তা নয়। আগেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হাওড়ায় (Howrah) রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা চালানোর অভিযোগে যখন এনআইএ তদন্তভার নিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল এই বড়েকে। যদিও সেই সময় তদন্তে ভাইরাল ভিডিয়ো সম্পর্কে হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা কিছু জানাতে চাননি। তৃণমূলের শাসনে তোষণ নীতির কারণে শামিম রক্ষা পেলেও বিজেপি সরকারের দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে জিরো টোলারেন্স নীতি গ্রহণ করার সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে। রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল এবং নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের মাঝেই এই ধরণের ঘটনা শাসকদলের ভাবমূর্তিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার, এই সুড়ঙ্গের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কোন পথে এগোয়।

  • Samik Bhattacharya: “সিংহ স্থবির বলে কেউ যদি মনে করে পদাঘাত করবে, ভুল করছে”, শুভেন্দুর পিএ খুনে প্রতিক্রিয়া শমীকের

    Samik Bhattacharya: “সিংহ স্থবির বলে কেউ যদি মনে করে পদাঘাত করবে, ভুল করছে”, শুভেন্দুর পিএ খুনে প্রতিক্রিয়া শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সিংহ স্থবির বলে কেউ যদি মনে করে পদাঘাত করবে, ভুল করছে। আমরাও তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি, কথা বলতে পারি।” শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ  খুনে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

    শমীকের প্রতিক্রিয়া (Samik Bhattacharya)

    তিনি বলেন, “আমরা জিতলাম। আর আমাদেরই ৩ জন কর্মী মারা গেলেন? আমাদের কি ক্ষমতা নেই? তাও বলছি না, বলব না। এটাই হচ্ছে আমাদের স্ট্যান্ড। কিন্তু এই যে ঘটনা ঘটল যার সঙ্গে রাজনীতির দূর দূর পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই, তিনি একজনের আপ্ত সহায়ক। একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী। আজ তাঁকে এভাবে মারার উদ্দেশ্যটা কী? এটা সম্পূর্ণভাবেই একটা পরিকল্পিত, প্রতিহিংসাজনিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড (Suvendu Adhikari PA Murder)।” বঙ্গ বিজেপির কান্ডারি বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে। পরে তারা জানাবে। তবে গতকালের (বুধবার রাতের) ঘটনা প্রমাণ করে দিল পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা এই মুহূর্তে কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত প্রশাসনকে ধ্বংস করেছে। পুলিশের রাজনীতিকরণ সম্পূর্ণ করেছে। সমস্ত অপরাধীর ভয় মুক্ত করেছে। অপরাধীরা মনে করছে, এটা স্বর্গরাজ্য। বারাসত ও মধ্যমগ্রাম সীমান্ত থেকে খুব দূরে নয়। বহু ধরনের সমাজ- বিরোধী কার্যকলাপ এখানে দিনের পর দিন হয়েছে।”

    জালিয়াতির কারবার

    শমীক বলেন, “জাল আধার কার্ড তৈরি, জাল রেশনকার্ড তৈরি, জাল এপিক তৈরির কাজও এই বারাসত ও মধ্যমগ্রাম থেকে চলছে। ভারতের যে প্রান্তেই অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে, তাদের জেরা করে জানা গিয়েছে, তারা কার্ড জোগাড় করেছে এখান থেকে। সেই কারণেই এটা স্পর্শকাতর অঞ্চল।” বঙ্গ বিজেপির প্রধান বলেন, “এখানে যেভাবে (Samik Bhattacharya) এই হত্যাকাণ্ড হল, কার্যত সেটা একটাই বার্তা দেওয়ার জন্য হল? মানে এটা প্রধানমন্ত্রী ২ দিন পর আসছেন, তাঁকে বার্তা দেওয়ার জন্য? এই ধরনের উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা চলছে, এটা আমি অস্বীকার করছি না। আমি আমার দলের কর্মী ও প্রশাসনকে বার্তা দিয়েছি, কেউ যদি কোনও জায়গায় কোনও অশান্তি তৈরি করে, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু এটা কী হল?”

    কী বললেন সজল ঘোষ?

    এই ঘটনায় (Suvendu Adhikari PA Murder) কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বরানগরের সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক বিজেপির সজল ঘোষও। তিনি বলেন, “এটা কামড় হলে, এবার ওদের দাঁত ভাঙা হবে। এই খুন, আর যাই হোক, পাড়ার গুন্ডারা করেনি। এটা দক্ষিণ কলকাতার প্ল্যান। দেখলাম, ৩টে নয়, ৫টা গুলি লেগেছে। ৫ খানা গুলি লেগেছে! এটা কিছুই নয়, শুভেন্দুকে ওয়ার্নিং দেওয়া, শুভেন্দুকে চমকানো। কিছু একটা হবে। তবে আর যাই হোক, ওঁকে মারার পেছনে কোনও পাড়ার গুন্ডা থাকতে পারে না।” প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারিকের আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে (Suvendu Adhikari PA Murder)। তার জেরেই আসছে (Samik Bhattacharya) বিজেপির একের পর এক নেতার প্রতিক্রিয়া।

  • Chandranath Rath: সিনেমার কায়দায় খুন চন্দ্রনাথকে, কীভাবে মারা হল শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে?

    Chandranath Rath: সিনেমার কায়দায় খুন চন্দ্রনাথকে, কীভাবে মারা হল শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে (Chandranath Rath)। গত আট বছর ধরে তিনি সামলাচ্ছিলেন শুভেন্দুর মিটিং-মিছিলের প্ল্যান-সহ সব কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এয়ার ফোর্সের প্রাক্তনী চন্দ্রনাথকে খুন (Suvendu Adhikari PA Murder) করে রাজ্যে ত্রাসের সঞ্চার করতে চায় তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপির। সবেধন বাংলার গদি খুইয়ে যারপরনাই আতঙ্কিত তৃণমূল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার জেরেই চলছে বিজেপি নিধন যজ্ঞ, যার বলি হলেন শুভেন্দুর পিএ চন্দ্রনাথ। এই ঘটনার পরেও দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দেন জোড়া বিধানসভা কেন্দ্র-জয়ী শুভেন্দু।

    চন্দ্রনাথ খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য (Chandranath Rath)

    এদিকে, চন্দ্রনাথ খুনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, আততায়ীরা মোট তিনজন ছিল। চন্দ্রনাথকে খুন করতে কাজে লাগানো হয়েছে একটি চারচাকা গাড়ি ও দুটি বাইক। বুধবার রাত সোয়া ১০টা নাগাদ বাড়ি যাওয়ার পথে মধ্যমগ্রামে খুন হন চন্দ্রনাথ। হঠাৎই পিছন থেকে একটি চারচাকা গাড়ি আড়াআড়ি ভাবে এসে দাঁড়িয়ে যায় শুভেন্দুর পিএ-র গাড়ির সামনে। এই সময় পেছন থেকে দুপাশে দ্রুত চলে আসে দুটি বাইক। শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলিবৃষ্টি। প্রথমে গাড়ির কাচে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি চালানো হয়। গুলির ঘায়ে কাচে গর্ত তৈরি হলে চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে সেখান দিয়ে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে গুলি ছোড়ে আততায়ীরা (Suvendu Adhikari PA Murder)। তদন্তকারীদের অনুমান, চন্দ্রনাথকে খুন করার সময়ই টার্গেট করা হয় তাঁর গাড়ির চালককেও। গুলিতে জখম হয়ে তিনি ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে। গাড়ির পেছনের সিটে বসেছিলেন চন্দ্রনাথের ঘনিষ্ট একজন। তিনি অবশ্য অক্ষতই রয়েছেন।

    চালানো হয় ১০ রাউন্ড গুলি!

    তদন্তকারীদের অনুমান, সব মিলিয়ে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। আরও জানা যায়, চারচাকা চালাচ্ছিল এক আততায়ী। আর দুজন এসেছিল বাইকে চড়ে। চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরেই দুটি বাইকে চেপে তিনজনে পালিয়ে যায় দুটি আলাদা দিকে। একটি বাইক চলে যায় যশোর রোডের দিকে (Chandranath Rath)। আততায়ীদের আর একটি বাইক এমন রাস্তা ধরেছিল, যেখান থেকে সহজেই চলে যাওয়া যায় মধ্যমগ্রাম চৌমাথা এবং রাজারহাটের দিকে। যে বাইকটি যশোর রোড ধরেছিল, সিসিটিভির ফুটেজে সেই গাড়ির ছবি মিললেও, আবছা উঠেছে গাড়ির নম্বর প্লেট। তাই আততায়ীরা ঠিক কোন দিকে গিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আততায়ীদের খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান (Chandranath Rath)।

  • Post Poll Violence: ক্ষমতা গেলেও রাজ্যে রয়ে গিয়েছে তৃণমূলের সন্ত্রাস, বসিরহাট-চোপড়ায় আক্রান্ত গেরুয়া নেতারা

    Post Poll Violence: ক্ষমতা গেলেও রাজ্যে রয়ে গিয়েছে তৃণমূলের সন্ত্রাস, বসিরহাট-চোপড়ায় আক্রান্ত গেরুয়া নেতারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবাসীর রায়ে গদি খুইয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। নিজে তো বটেই, হাতে গড়া দল তৃণমূলকেও স্বখাত সলিলে ডুবিয়েছেন দলনেত্রী! বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি (Post Poll Violence)। তার পরেও মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়েননি মমতা। ইস্তফা দেননি মুখ্যমন্ত্রী পদে। যদিও আপাতত তিনি হয়ে রয়েছেন নিধিরাম সর্দার, ঢাল-তরোয়াল ছাড়াই (পড়ুন, মুখ্যমন্ত্রীর বজ্র আঁটুনি আর নেই)। কিন্তু, ক্ষমতা না থাকলেও, তৃণমূলের সন্ত্রাস রয়েই গিয়েছে। রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসায় তৃণমূলের নিধন-যজ্ঞের শিকার হচ্ছেন নিরীহ বিজেপি কর্মীরা।

    বিজেপি নিধন যজ্ঞ! (Post Poll Violence) 

    পদ্মময় বাংলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিজেপি নিধন যজ্ঞ! বুধবার রাতে গুলি করে খুন করা হয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে। যা রাজ্য রাজনীতিতে সোরগোল ফেলে দিয়েছে। এর পরেই আবার খবর মেলে বসিরহাটে বিজেপির এক সক্রিয় কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার গোডাউন পাড়া এলাকায় বাড়ি রোহিত রায় নামের ওই পদ্ম-কর্মীর। তাঁকে প্রথমে ভর্তি করা হয় বসিরহাট হাসপাতালে, পরে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতায়। বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই গুলি করেছে রোহিতকে। হাসপাতালের বেডে শুয়েই কোনওক্রমে রোহিত বলেন, “আমরা পাড়ায় বিজেপির পতাকা লাগাচ্ছিলাম। ওরা চার-পাঁচজন ছিল। কয়েকজন প্রথমে গুলি করেছিল। আমার গায়ে লাগেনি, পালিয়ে যাই। পরে ফের এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। বড়-জাহিনুর-সন্টু-ভোলা-উজ্জ্বল এরা সকলে দলবল নিয়ে গুলি চালিয়েছে।”

    কাঠগড়ায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা

    এদিকে (Post Poll Violence), মদের দোকানে লুটপাটে বাধা দেওয়ায় আক্রান্ত শ্যামল সরকার নামে এক বিজেপি নেতা। বুধবার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থানার কালাগছ এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার বিজেপির বঙ্গ জয়ের পর মঙ্গলবার এলাকার একটি মদের দোকানে লুটপাট চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়ে দ্রুত গিয়ে লুটপাটে বাধা দেন বিজেপি নেতা শ্যামল। অভিযোগ, সেই আক্রোশ থেকেই বুধবার তিনি যখন একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন, তখনই তাঁর ওপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ধস্তাধস্তির সময় দুষ্কৃতীরা একটি ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। সেই ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে তাজা বোমা। খবর (TMC) পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে চোপড়া থানার পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি। অনুমান, ব্যাগে আরও কোনও বিস্ফোরক থাকতে পারে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে চোপড়া থানার পুলিশ (Post Poll Violence)।

  • Panihati Bombing: পানিহাটিতে পরপর বোমায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত, বরানগরে ছুরিকাঘাত

    Panihati Bombing: পানিহাটিতে পরপর বোমায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত, বরানগরে ছুরিকাঘাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুদের স্তুপের উপর বসে রাজ্য। ভোট পরবর্তী ঘটনায় তারই প্রমাণ মিলছে। কোথাও চলল গুলি, কোথাও বোমাবাজি (Panihati Bombing)। পরপর হামলা, অশান্তির অভিযোগ শহর কলকাতা লাগোয়া একাধিক জায়গায়। ভোট পরবর্তী সময়ে গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বারাকপুর, টিটাগড়, সোদপুর, কাঁকিনাড়া, ভাটপাড়া চত্বর। কার্যত বোমা-বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছিল এই সব এলাকা। এখনও সেই রেশ ধরেই বুধবার পানিহাটিতে চলল বোমাবাজি। রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়ের পরও আক্রান্ত হলেন বিজেপি কর্মীরা। একদিকে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কে গুলি করে খুনের অভিযোগ, অন্যদিকে বসিরহাটে গুলিবিদ্ধ বিজেপি কর্মী।

    পানিহাটিতে পরপর বোমা

    বুধের মধ্যরাত পেরিয়ে শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অশান্তির খবর আসে। সূত্রের খবর, পানিহাটি সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের কাছে বুধবার রাত সাড়ে দশটার কিছু পরে অশান্তি শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা বোমা ছোড়ে। পানিহাটির (Post Poll Violence) দু’নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত রোডের ঘটনা। গতকাল রাতে উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। জানা গিয়েছে, বিজেপি কর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইকে করে ঘটনাস্থলে আসেন। বাইকে চারজন ছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সেখানে বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে বলে অভিযোগ। পরপর তিনটি বোমা ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পরই সেখান থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

    পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত

    বোমাবাজিতে প্রায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে বলে খবর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দা থানার পুলিশ। সঙ্গে পৌঁছন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সেখানে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়দা থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এছাড়াও সোনারপুরের সাউথ উইন্ডস কমপ্লেক্স এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বুধবার। বরানগরে বিজেপির এক কর্মীর উপর ছুরি চালানো হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা আপ্ত সহায়কের দেহ, কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা আপ্ত সহায়কের দেহ, কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। তার পরেও দাপট কমেনি গদি খোয়ানো, সদ্য ‘প্রাক্তন’ হয়ে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। যার ফের প্রমাণ মিলল বুধবার রাতে। এদিন গুলি করে খুন করা হয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্ত সহায়ককে। ওই রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার কাছে গাড়ি থামিয়ে চন্দ্রনাথ রথ নামের ওই আপ্ত সহায়ককে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর (Chandranath Rath)।

    পিএ খুনে কাঠগড়ায় তৃণমূল (Suvendu Adhikari)

    জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ (Chandranath Rath) যখন বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই তাঁর গাড়ি থামিয়ে বাইক থেকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। গুলি বুকের বাঁদিকে লাগে। হার্ট এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায়। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং, শঙ্কুদেব পন্ডার দাবি, মৃত্যু নিশ্চিত করতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে। আপ্ত সহায়কের মর্মান্তিক পরিণতিতে মর্মাহত শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এবার ওই ঘটনায় মুখ খুললেন শুভেন্দু। রাতেই হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে। তিনি বলেন, “দু’তিনদিন ধরে রেকি করে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন ডিজিপি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মর্মন্তিক ঘটনা। আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা শোকাহত। এই ঘটনার নিন্দা জানানোর মতো ভাষা আমাদের নেই। দিল্লি থেকে আমাদের সমগ্র নেতৃত্ব এই বিষয়ে খবর পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মৃতের পরিবার এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিভিন্ন নেতা এবং নব-নির্বাচিত বিধায়করা এখানে এসেছেন। তাঁরাও পরিবারের পাশে রয়েছেন। পুলিশ কিছু প্রমাণ পেয়েছে। তারা তদন্ত করবে।”

    মহাজঙ্গল রাজের ফল

    শুভেন্দু বলেন, “এটা ১৫ বছরের মহাজঙ্গল রাজের ফল… বিজেপি এখানে গুন্ডাদের নির্মূল করার কাজ শুরু করবে…”। দলীয় নেতা-কর্মীদেরও বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর আবেদন, কেউ যেন নিজের হাতে আইন হাতে তুলে না নেন। শান্তি বজায় রাখারও চেষ্টা করতে হবে। তিনি জানান, পুলিশের ওপর আস্থা রয়েছে তাঁদের। দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে পুলিশের তরফে (Suvendu Adhikari)। ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্তও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শুভেন্দু জানান, কোনও একটা ক্লু পেয়েছে পুলিশ। সেটা ধরেই তদন্ত হচ্ছে। আততায়ীর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

    কে এই চন্দ্রনাথ?

    শুভেন্দুর সঙ্গে চন্দ্রনাথের সম্পর্ক আট বছরের। তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল তাঁদের। পরে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত থেকে রাজনৈতিক সব কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শুভেন্দুর ফাইল বয়ে নিয়ে যাওয়া, তাঁর মিটিং-মিছিলের প্ল্যান করা – সবই করতেন চন্দ্রনাথ। বাংলায় নয়া সরকারের শপথ নেওয়ার আগেই দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেল সেই চন্দ্রনাথের দেহ।

    প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পুলুপ এলাকার ঈশ্বরপুর ৫ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেন। দীর্ঘ ১৮ বছর চাকরি করার পর স্বেচ্ছাবসর নিয়ে কর্পোরেট সংস্থায় কাজ শুরু করেন। চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক বহু দিনের। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে থাকাকালীন সময় থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল। শুভেন্দুর মতোই চন্দ্রনাথের পরিবারও এক সময় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর মা হাসি রথ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। পরে তিনিও বিজেপিতে যোগ দেন।

    ২০১৯ সাল থেকে শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ

    ২০১৯ সালে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ার পর জলসম্পদ দফতরে চন্দ্রনাথকে আপ্তসহায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিলে, তখন থেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কাজ করতে থাকেন চন্দ্রনাথ। ধীরে ধীরে তিনি শুভেন্দুর অন্যতম আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় চন্দ্রনাথ নন্দীগ্রামেও সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর কলকাতায় তাঁর বিভিন্ন সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত কাজের তদারকির দায়িত্বও সামলাতেন চন্দ্রনাথ। চণ্ডীপুরের বাড়িতে বর্তমানে রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে মা হাসি রথ।

     

  • Shamik Bhattacharjee: “কোনও রাজনৈতিক হিংসা নয়, বিজেপির পতাকা নিয়ে অশান্তি করলে দল থেকে বের করে দেব”, বার্তা শমীকের

    Shamik Bhattacharjee: “কোনও রাজনৈতিক হিংসা নয়, বিজেপির পতাকা নিয়ে অশান্তি করলে দল থেকে বের করে দেব”, বার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি (BJP)। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এবং কলকাতা পুলিশ। রাজ্যে এককভাবে ক্ষমতায় আসার পরই দলগতভাবে লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের বুথ, পার্টি অফিস বা সাইনবোর্ড দখল করা যাবে না। একই সঙ্গে অটো ও টোটো স্ট্যান্ড কিংবা বাজার দখলের মতো ঘটনাও বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রাজনৈতিক হিংসার জায়গা নেই

    বাংলায় পালা বদলের পর থেকেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গা থেকে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও কোথাও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর বা দখলের অভিযোগ উঠেছে, আবার কলকাতার রাস্তাতেও ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শিমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharjee) এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন,“আমি একটা কথা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি, বিজেপির পতাকা নিয়ে কোথাও যদি কোনও রাজনৈতিক হিংসা চলে, কোনও তৃণমূল অফিসের উপর আক্রমণ হয়, মুখ্যমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যদি কদর্য ভাষা ব্যবহার করা হয়, তাকে দল থেকে বার করে দেব। সেই অধিকার আমার পার্টির সংবিধান আমাকে দিয়েছে। প্রশাসনকে দেখতে হবে যে বিজেপির পতাকা নিয়ে যদি টোটো স্ট্যান্ড, অটোস্ট্যান্ড থেকে যদি টাকা চায়, কঠোরতম ব্যবস্থা নেবেন। তাকে গ্রেফতার করবেন। কোনও রঙ দেখে কাজ করবেন না। কোনও রাজনৈতিক হিংসার জায়গা পশ্চিমবঙ্গে নেই। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে বলেই মানুষ আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।”

    কলকাতায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

    ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই শহরের পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবে উত্তপ্ত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে কলকাতা পুলিশ। সমাজমাধ্যমের পাতায় ছড়ানো ভুয়ো খবরের বিষয়েও এদিন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলায় কলকাতা পুলিশের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, ভোটের ফল প্রকাশের পর অনেক বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। অন্য জায়গার ছবি ও ভিডিও কলকাতার বলে চালানো হচ্ছে। শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে যাঁরা ভুল খবর ছড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। কলকাতায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নাগরিকদের কাছে পুলিশের আবেদন, কোনও খবর যাচাই না করে সমাজমাধ্যমে ছড়াবেন না, ভয় পাবেন না।

  • Post Poll Violence: বিজেপিকে ভোট দেওয়ায় মারধর, খুনের হুমকি! নির্বাচনোত্তর হিংসায় তপ্ত ফলতা, পুলিশকে বড় নির্দেশ কমিশনের

    Post Poll Violence: বিজেপিকে ভোট দেওয়ায় মারধর, খুনের হুমকি! নির্বাচনোত্তর হিংসায় তপ্ত ফলতা, পুলিশকে বড় নির্দেশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনোত্তর হিংসার জেরে ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটের ফল বের হওয়ার কথা সোমবার। তার আগেই এলাকায় তৃণমূল অশান্তি শুরু করে দিয়েছে বলে (Post Poll Violence) অভিযোগ। রাজনৈতিক সংঘাত, হামলা এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে হাসিমনগর এলাকা। বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, পদ্মফুলে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়ছেন তাঁরা। মারধরের পাশাপাশি খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই শনিবার হাসিমনগরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পদ্ম-কর্মী-সমর্থকরা। এই পরিস্থিতিতে ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর দুই ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিল কমিশন। এমনকী, নির্দেশ না মানলে পুলিশের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।

    তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ (Post Poll Violence)

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটের দিন থেকেই সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো, মায় জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোটগ্রহণ পর্ব চুকে যাওয়ার পর সেই সন্ত্রাস আরও বেড়েছে বলেই অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। তাদের দাবি, যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে মারধরও করা হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শুরু থেকেই খবরের শিরোনামে ফলতা কেন্দ্র। ভোটের আগে থেকেই এই কেন্দ্রে বারবার উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করা, ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছিলেন বিরোধীরা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয় উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে। জাহাঙ্গিরের বাড়ির সামনে গিয়ে ‘সিংহম’ নামে পরিচিত এই আধিকারিকের কড়া বার্তা তখনই আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল।

    পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সরব স্থানীয়রা

    ভোট-পর্ব শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ফলতার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ফলতার অন্তত ২৩টি বুথে পুনর্নির্বাচন হোক। অভিযোগ, ওই বুথগুলিতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি ভোট প্রক্রিয়া (Post Poll Violence)। এহেন আবহে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই হাসিমনগর এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। দোষীদের গ্রেফতারির পাশাপাশি নিরাপত্তা দেওয়ার দাবিতেও সরব হন তাঁরা। এই ঘটনায় উঠে এসেছে জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ইস্রাফুল চোকদার নাম। তাঁর নেতৃত্বেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁর গ্রেফতারির দাবিও করেন বিক্ষোভকারীরা (BJP)।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য

    আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন রানি মণ্ডলও। তিনি বলেন, “পুরো হাসিমনগর জ্বলছে৷ আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে৷ ঘরে তালা দিয়ে দিচ্ছে৷ ৪ তারিখে (ভোট গণনার দিন) আমাদের বাড়িতে বোমা ফেলার হুমকি দিচ্ছে। বাচ্চাদের মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। এই অত্যাচার আমরা মেনে নেব না৷ আমরা সাধারণ মানুষ। আর এটা গণতান্ত্রিক দেশ৷ তাই আমরা যাকে খুশি ভোট দিতেই পারি৷ এতদিন জোর করে আমাদের ভোট দিতে দেয়নি৷ এখন ভোট দেওয়ায় মেরে ফেলার ভয় দেখানো হচ্ছে৷ আমরা তৃণমূল সরকার চাই না৷” বিক্ষোভের খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এলাকায় টহল দিতে দেখা যায় জওয়ানদের। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফলতা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও এলাকায় যায় (Post Poll Violence)। বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। এক বিক্ষোভকারীর কথায়, ‘‘বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমরা ইসরাফিলের (তৃণমূল নেতা) গ্রেফতারি চাই। কিন্তু রাজ্য পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। আমরা চাই ওকে গ্রেফতার করা হোক। আর চাই ফলতায় দু’টি বুথ আছে, যেখানে পুনর্নির্বাচন করা হোক (BJP)।’’

    পুনর্নির্বাচনের দাবি

    এ রাজ্যে দু’দফায় হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। ২৯ এপ্রিল হয় দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন। এদিনই ভোট হয় ফলতায়ও। সেদিনও দিনভর খবরের শিরোনামে ছিল ফলতা। এই বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছিল। শুধু ওই দুই বুথ নয়, আরও কয়েকটি বুথ থেকেও নানা অভিযোগ আসতে থাকে। বিরোধীরা ফলতার ৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন। তবে ওই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তার স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মতো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দিল্লিতে প্রস্তাব পাঠান বিশেষ পর্যবেক্ষক (BJP)।

    সুব্রত গুপ্তর রিপোর্ট

    সূত্রের খবর, তিনি ফলতার ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচন করার কথা জানিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন কমিশনকে (Post Poll Violence)। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ভোটের দিন সকালে ফলতার একাধিক বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। দুপুর একটার সময় ‘টেপ রিভিউড’ বলে তথ্য দেওয়া হয় প্রিসাইডিং অফিসারের তরফে। যদিও ততক্ষণে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় রয়েছে ফলতা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও (Post Poll Violence)।

    এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ

    এদিকে, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, ইস্রাফুল এবং অপর এক জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ সুজাদ্দিন শেখের নামোল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশ না মানলে পুলিশের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে পুলিশকেই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করতে হবে।

LinkedIn
Share