Tag: s jaishankar

s jaishankar

  • Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেই বসে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির বৈঠক (CCS Meeting)। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী।

    কারা ছিলেন বৈঠকে?

    প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, পীযূষ গয়াল, হরদীপ সিং পুরী, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি. কে. মিশ্রও বৈঠকে যোগ দেন।

    কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠক?

    এই বৈঠক ঘিরে জল্পনা বাড়িয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি। একদিকে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক তরজা, অন্যদিকে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি- দু’দিকেই নজর রয়েছে কেন্দ্রের। ফলে এই সময়ের CCS বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    কী এই সিসিএস মিটিং?

    ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS Meeting) হল কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সীমান্ত পরিস্থিতি, কৌশলগত সিদ্ধান্ত, বিদেশনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কমিটিতেই পর্যালোচনা করা হয়। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও সাধারণত এই কমিটির মাধ্যমেই নেওয়া হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    সরকারিভাবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। অর্থমন্ত্রী ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর উপস্থিতি থেকে মনে করা হচ্ছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এখন নজর কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপে

    বৈঠক শেষে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র যে নিবিড় নজর রাখছে, তা স্পষ্ট। আগামী কয়েকদিনে সরকারের তরফে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।

  • India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন (India Slams China)। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠককে ঘিরে বেজিং যে (Sovereignty Row) ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ভারতের, চিনের নয়। কারণ, ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ডের একটি অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে চিন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলগুলিতে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

    জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক (India Slams China)

    সম্প্রতি ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়া বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দাবি করে, তাইওয়ান ও তিব্বত-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত তার আগের অবস্থানই বজায় রেখেছে এবং চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, চিনের জারি করা বিবৃতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রসঙ্গ-বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বরং জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার ভারতেরই রয়েছে, কারণ ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতাই দীর্ঘদিন ধরে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “ভারত সবসময় চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেছে এবং কখনও এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, যা চিনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে সেই কথা বলা যায় না। ১৯৬৩ সাল থেকে তারা জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ড বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির ওপর ভারতের আইনগত অধিকার সম্পর্কে চিনও অবগত। সেই অবস্থায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বেজিংয়ের দাবি পরস্পরবিরোধী। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধেও আবারও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ভারত। ভারত আবারও স্পষ্ট করেছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না। ২২ জুলাইয়ের বৈঠকে জয়শঙ্কর ওয়াং ই-কে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত (India Slams China)।” তিনি জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই লক্ষ্যেই দুই দেশ কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বর্তমান ব্যবস্থাগুলিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    ভারতের সাফ কথা

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হওয়া ভারত-চিন সেনা অপসারণ চুক্তির প্রসঙ্গেই। পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ওই চুক্তি হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সেনা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। ওই চুক্তির আওতায় দেপসাং ও দেমচকের মতো শেষ দু’টি স্পর্শকাতর এলাকায়ও সেনা অপসারণের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। এর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানো সম্ভব হয় এবং দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয় (Sovereignty Row)। তবে ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কেবল সেনা অপসারণ যথেষ্ট নয়। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গত ছ’বছর ধরে এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে নয়াদিল্লি (India Slams China)। এই ঘটনার মাধ্যমে ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আবার সামনে এসেছে। ম্যানিলার বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও চিন দু’টি বৃহৎ, প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী দেশ। ফলে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মতভেদ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়, সেটাই কূটনীতির দায়িত্ব। এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৭ সালে ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও দুই দেশ একমত হয়েছিল যে, মতপার্থক্যকে সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

    ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকায় জোর

    এদিকে, চিনের বিদেশমন্ত্রক বৈঠককে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে। সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলি বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বেজিং। অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বিষয়গুলি যথাযথভাবে পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি (India Slams China)। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুমেরুকরণ ও আরও গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ভারত বরাবরই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। চিনের ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়ে ভারত আবারও জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের বেআইনি দখল (Sovereignty Row) এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা প্রকল্পের বিরোধিতাই ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে থাকবে (India Slams China)।

     

  • India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় (India) নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। সোমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সান্দর পলিশচুককে (Ukraine Ambassador) তলব করে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজকে টার্গেট করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করে এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

    ভারতের বিবৃতি (India)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে হামলার জেরে এক ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে সাউথ ব্লকে তলব করা হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ-পরিবহণের নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌ-পরিবহণ, অবাধ নৌ-চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।” ভারত আরও জানায়, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তিনি ভারতের এই উদ্বেগ এবং কড়া বার্তা দ্রুত ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন। বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়েও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

    এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে আগেও

    ঘটনাটি ঘটেছে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে। সেখানে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে মোট চার জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, চার জনের মধ্যে দু’জন নিরাপদে রয়েছেন। তবে বাকি দু’জনের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে (Ukraine Ambassador)। এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছে না নয়াদিল্লি। কারণ চলতি মাসেই একই ধরনের আর একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল (India)। গত ১৯ জুলাই ওডেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছিল। সেই ঘটনায় চার ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, গুরুতর জখম হয়েছিলেন একজন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের ওপর ঘটে যাওয়া পরপর দু’টি প্রাণঘাতী ঘটনায় উদ্বেগ অনেকটাই বেড়েছে।

    ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া

    পরপর এই হামলার জেরে ভারত সরকার কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত অসংখ্য অসামরিক জাহাজ যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে কোনও পরিস্থিতিতেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনের দূতাবাসও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দূতাবাসের তরফে জারি করা বিবৃতিতে নিহত ভারতীয়দের পরিবারের প্রতি “গভীর সমবেদনা” জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। যদিও হামলার দায় বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিকেই এই ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    ইউক্রেনের বক্তব্য

    ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব একটি বৈঠক বা টেলিফোনে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে খুব শীঘ্রই আলোচনা হবে বলে আমরা আশা করছি। সেই আলোচনায় কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।” কূটনৈতিকমহলের মতে, এই ঘটনা ভারত-ইউক্রেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে। যদিও ভারত শুরু থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছে, তবুও ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে নয়াদিল্লি কোনও আপস করতে রাজি নয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই এই তলবের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর সামুদ্রিক অঞ্চল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ওপরই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, খাদ্যশস্য পরিবহণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাকি ভারতীয় নাবিকদের খোঁজ (Ukraine Ambassador) নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি (India) সূত্রের খবর।

     

  • S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের (India China Ties) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ, বাণিজ্যিক ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

    ভারত-চিন সম্পর্ক (S Jaishankar)

    বৈঠকের শুরুতেই জয়শঙ্কর বলেন, “গত কয়েক মাসে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর থেকেই ইতিবাচক অগ্রগতি শুরু হয়েছে। পরে তিয়ানজিনে দুই দেশের নেতার আরও একটি বৈঠকে সেই ইতিবাচক দিকটি আরও জোরদার হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই ভারত ও চিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। এমন একটি সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়া এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক কখনও স্বাভাবিক হতে পারে না। তাঁর কথায়, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত।”

    দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাজানে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর থেকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে উভয় দেশই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে যে সব দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলিকে পূর্ণ সমর্থন এবং আরও শক্তিশালী উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। ভারত ও চিন উভয়ই বৃহৎ এবং প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব আগেই একমত হয়েছিলেন যে মতপার্থক্য কখনও বিরোধে পরিণত হওয়া উচিত নয় (S Jaishankar)। তিনি বলেন, “দু’টি বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও চিনের নিজস্ব স্বার্থ থাকবেই। কিন্তু আমাদের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়। সেই মতভেদকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাই কূটনীতির দায়িত্ব (India China Ties)।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর

    বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করার উদ্যোগ, ভিসা ব্যবস্থার আপডেট, আবারও কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা শুরু এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার মতো পদক্ষেপ সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকাই রাখছে। তবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন, এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান হওয়া বাকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য আনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা এবং সরকারি ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যে ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং সরকারি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আমাদের আরও মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারণ করা জরুরি (S Jaishankar)।”

    বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়

    বৈঠকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। চলতি বছরে ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই প্রসঙ্গে চিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “এ বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই সময়ে ব্রিকসের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগে চিন যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই (India China Ties)।” আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই এই বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মতবিনিময়ের জন্য একটি উপযুক্ত সুযোগ।” বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার পর ভারত-চিন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এই (S Jaishankar) বৈঠককেও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও ভারত ও চিন নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। জয়শঙ্কর বর্তমানে দু’দিনের সফরে ফিলিপিন্সে রয়েছেন। এই সফরে তিনি আসিয়ান কাঠামোর আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান-ভারত বিদেশমন্ত্রী বৈঠক, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক। এই (India China Ties) সব বৈঠকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত (S Jaishankar)।

     

  • Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ সৈয়দ আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফনের অনুষ্ঠান প্রথমে মার্চ মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইরান-ইজরায়েল এবং আমেরিকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে ইরানি কর্তৃপক্ষ ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে একাধিক অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ করে।

    খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিতে আমন্ত্রণ ভারতের (Iran)

    অনুষ্ঠানের সূচনা হবে ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে। সেখানে খামেনেইর মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দেশজুড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোকানুষ্ঠান ও বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তেহরান এবং পবিত্র নগরী কোমে বিশাল শোকমিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজা মাজারে খামেনেইকে দাফন দেওয়া হবে। মাশহাদই ছিল খামেনেইর জন্মস্থান। সপ্তাহব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানে লক্ষাধিক নয়, বরং কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা ইরানি প্রশাসনের (Iran)।

    ভারত-ইরান সম্পর্ক

    প্রসঙ্গত, ভারত এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটকালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর আগে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। একই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি।

    সম্প্রতি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। ওই সফরে তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন, সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও (Iran)। ইরানের এই (PM Modi) রাষ্ট্রীয় শোকের অনুষ্ঠানে ইরাক, পাকিস্তান, রাশিয়া, চিন-সহ একাধিক আঞ্চলিক দেশের প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকতে পারে বলেও খবর।

     

  • India Russian Oil Imports: রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতের পাশে ফিনল্যান্ড, কী বললেন মন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন?

    India Russian Oil Imports: রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতের পাশে ফিনল্যান্ড, কী বললেন মন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতের অবস্থানের পক্ষে অপ্রত্যাশিত সমর্থন জানাল (India Russian Oil Imports) ফিনল্যান্ড। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন সাফ জানিয়ে দেন (Finland), পশ্চিমী দেশগুলির নির্ধারিত তেলের মূল্যসীমা (Oil Price Cap) মেনেই ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনেছে এবং সেটাই ছিল ওই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

    ভারতের পাশে ফিনল্যান্ড (India Russian Oil Imports)

    ফিনল্যান্ডের ‘কুলতারান্তা টকস’-এ আয়োজিত এক আলোচনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ফিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সহকারী বিদেশমন্ত্রী লানা নুসেইবেহ অংশ নেন। সেখানে ভালতোনেন জানান, কখনওই বিশ্বকে রুশ তেল কেনা থেকে বিরত রাখা পশ্চিমী দেশগুলির আরোপিত মূল্যসীমার লক্ষ্য ছিল না। তিনি বলেন, “আমি বলতে চাই, ভারত মূল্যসীমার আওতায় থেকেই তেল কিনেছে। আমরা যখন এই মূল্যসীমা চালু করি, তখন বিশ্বের অন্যান্য দেশকে রাশিয়ার তেল কেনা থেকে নিষিদ্ধ করিনি। উদ্দেশ্য ছিল, তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার অতিরিক্ত মুনাফা সীমিত করা।”

    জয়শঙ্করের সাফ কথা

    এদিকে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে সমালোচনার জবাবে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, ভারতের জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নয়, বরং মূল্য ও প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে (India Russian Oil Imports)। জয়শঙ্কর বলেন, “আমি তেল কিনি দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছিল। সেই সময় ইউরোপীয় দেশগুলি মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল কিনতে শুরু করায় ভারতের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতির কারণেই রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে হয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, সেই সময় বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার পরামর্শ দিয়েছিল। তিনি বলেন, “এখানে কোনও বড় নীতিগত প্রশ্ন জড়িত আছে বলে ভান করার প্রয়োজন নেই।”

    কড়া জবাব ভারতের

    ইউরোপের সমালোচনারও কড়া জবাব দেন জয়শঙ্কর। তিনি (India Russian Oil Imports) বলেন, “ইউরোপের অনেক দেশ এমন অস্ত্র বিক্রি করেছে, যা বহু বছর ধরে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। তার জেরে ভারত কখনওই ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করেনি। বিষয়টি মনে রাখা উচিত।” তিনি এও জানান, বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া হলেও, সবচেয়ে বড় গ্যাস সরবরাহকারী আমেরিকা (Finland)। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এটা ছিল কাতার। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শুধু জ্বালানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলেও জানিয়ে দেন জয়শঙ্কর।

    বিশ্লেষকদের মতে, ফিনল্যান্ডের এই মন্তব্য ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। কারণ, নয়াদিল্লি বরাবর দাবি করে আসছে, তারা পশ্চিমী দেশগুলির নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই রাশিয়ার তেল কিনেছে (Finland) এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ভারসাম্য রক্ষায়ও সেই নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে (India Russian Oil Imports)।

     

  • S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার জন্য পশ্চিমা দেশগুলির সমালোচনার মুখে বারবার পড়তে হয়েছে ভারতকে। তবে সেই সমালোচনার জবাবে আবারও দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডে আয়োজিত ‘কুলতারান্তা টকস্’ (Kultaranta Talks)-এ এক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে তিনি ভারতের জ্বালানি নীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন এবং ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

    ‘ভারত তেল কেনে দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে’

    ফিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সহকারী বিদেশমন্ত্রী লানা নুসেইবেহর সঙ্গে ‘ইমার্জিং পাওয়ার্স অ্যান্ড দ্য নিউ জিওপলিটিক্যাল কম্পিটিশন’ (Emerging Powers and the New Geopolitical Competition) শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন জয়শঙ্কর। সেখানে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ভারত কেন রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি তেল কিনি তার দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে।” বিদেশমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী অঞ্চল হলেও সেই সময় ইউরোপীয় দেশগুলি বিপুল পরিমাণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল কিনতে শুরু করে। ফলে ভারতের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। জয়শঙ্করের কথায়, “সেই সময় বাজারে যে তেল সহজলভ্য ছিল, তার বড় অংশই ছিল রুশ তেল। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলি কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় অংশ কিনে নিচ্ছিল। পরিস্থিতিই আমাদের একটি নির্দিষ্ট দিকে যেতে বাধ্য করেছিল।”

    ‘নৈতিকতার প্রশ্নে’ ইউরোপকে পাল্টা আক্রমণ

    আলোচনার সময় সঞ্চালক ভারতের এই নীতির মধ্যে কোনও ‘নৈতিক অস্পষ্টতা’ বা ‘মোরাল অ্যাম্বিগুইটি’ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন। জবাবে জয়শঙ্কর ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতি তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “কোনও ইউরোপীয় দেশ ভারতীয় অস্ত্রের আক্রমণের শিকার হয়নি। কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, ইউরোপীয় অস্ত্র ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে— এমন উদাহরণ রয়েছে।” বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, ইউরোপের একাধিক দেশ পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে, যেগুলি পরবর্তীতে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। জয়শঙ্কর আরও বলেন, “বহু বছর ধরে ইউরোপীয় দেশগুলি এমন অস্ত্র বিক্রি করেছে যা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ভারত কখনও এমন কোনও কাজ করেনি যা ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে।”

    ইউরোপের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন

    রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও ইউরোপের নিজেদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়শঙ্কর। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইউরোপীয় দেশগুলি দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছিল এবং এখনও বিভিন্ন উপায়ে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ভারতের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করা একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও তুলে ধরলেন

    জয়শঙ্কর আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রুশ তেল কেনার বিষয়ে উৎসাহিত করেছিল। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, ভারতের রুশ তেল আমদানির সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র জাতীয় স্বার্থের কারণেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে।

    ভারতের জ্বালানি কৌশলের বড় পরিবর্তন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া যখন ছাড় মূল্যে তেল বিক্রি শুরু করে, তখন ভারত সেই সুযোগ গ্রহণ করে। ফলে গত কয়েক বছরে রাশিয়া ভারতের অন্যতম বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশই রাশিয়া থেকে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে—

    • ● ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
    • ● আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সত্ত্বেও দেশীয় জ্বালানির দাম তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
    • ● বৈশ্বিক তেল বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে ভারত।
    • ● ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    বহুমুখী কূটনীতির বার্তা

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও স্পষ্ট করে দিল যে, ভারত বর্তমান বহুমেরু বিশ্বের বাস্তবতায় নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমা চাপ কিংবা ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বাধীনতার নীতি বজায় রেখেই নয়াদিল্লি তার জ্বালানি ও বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করতে চায়। ফিনল্যান্ডের মঞ্চ থেকে দেওয়া জয়শঙ্করের বক্তব্য শুধু রুশ তেল ইস্যুতেই নয়, বরং ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক, বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

  • QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ উপাদান (Rare Earth Materials) ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত ও আমেরিকা। মঙ্গলবার কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ (Rare Earth) সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক যান (EV), সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শিল্পের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল চিনের উপর নির্ভরতা কমানো।

    কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক কাঠামো (Framework Agreement) তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণের সরবরাহ সুরক্ষিত করার জন্য ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক কাঠামো স্বাক্ষর করছি। কোয়াড বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিকভাবে হোক বা কোয়াডের মাধ্যমে—সমমনা দেশগুলির জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    বর্তমানে বিশ্বে রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ও বহু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে সবচেয়ে বড় আধিপত্য রয়েছে চিনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, মিসাইল, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন, সোলার প্যানেল ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত বহু উপাদানের জন্য বিভিন্ন দেশ এখনও চিনের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার নতুন অংশীদারিত্বকে “সাপ্লাই চেইন সিকিউরিটি” নিশ্চিত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে বহু দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

    কোন কোন খনিজের উপর জোর?

    এই চুক্তির আওতায় ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে অনুসন্ধান (Exploration), খনন (Mining), প্রক্রিয়াকরণ (Processing), পরিশোধন (Refining) এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নে কাজ করবে। বিশেষভাবে যে খনিজগুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল—

    • ● লিথিয়াম (Lithium)
    • ● কোবাল্ট (Cobalt)
    • ● নিকেল (Nickel)
    • ● গ্রাফাইট (Graphite)
    • ● রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements)

    এই খনিজগুলি বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি, নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের জন্য কী লাভ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের সামনে একাধিক সুবিধার দরজা খুলে যেতে পারে।

    ● ১. বৈদ্যুতিক যান ও ব্যাটারি শিল্পে গতি

    ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি তৈরির জন্য লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বহুগুণ বাড়বে। এই চুক্তি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

    ● ২. প্রতিরক্ষা ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধি

    রেয়ার আর্থ উপাদান আধুনিক মিসাইল সিস্টেম, রাডার, যুদ্ধবিমান ও উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। ফলে প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও ভারতের স্বনির্ভরতা বাড়তে পারে।

    ● ৩. প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ

    চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্থাগুলি উন্নত প্রসেসিং প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এর ফলে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।

    আমেরিকার লক্ষ্য কী?

    আমেরিকাও দীর্ঘদিন ধরে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ক্ষমতা চিনের হাতে থাকায় আমেরিকা বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। ভারতের সঙ্গে এই চুক্তিকে তাই “বিশ্বস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল অংশীদারিত্ব” হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোয়াডভুক্ত দেশগুলির মধ্যেও এই ইস্যু এখন কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এসেছে।

    ভারতের আগাম প্রস্তুতি

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই কয়েকটি খনিজকে “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভবিষ্যতের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশে খনিজ সম্পদ অধিগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গতিশীলতার দিকে বিশ্ব যত এগোবে, ততই এই খনিজগুলির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়বে।

    রেয়ার আর্থ কেন এত মূল্যবান?

    রেয়ার আর্থ উপাদান ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি শিল্প কার্যত অচল। এগুলি ব্যবহার করা হয়—

    • ● বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি
    • ● উইন্ড টারবাইন
    • ● মোবাইল ফোন
    • ● সেমিকন্ডাক্টর
    • ● সোলার প্রযুক্তি
    • ● মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
    • ● উন্নত ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে

    ফলে ভারত-আমেরিকার এই নতুন অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

  • India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে সফররত মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) রবিবার ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “কিছু বোকা মানুষের মন্তব্য” কখনও আমেরিকার (India-US Relation) প্রকৃত চরিত্রকে তুলে ধরে না। তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিদ্বেষমূলক মন্তব্যকে গোটা দেশের মানসিকতা বলে মনে করা উচিত নয়। নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে রুবিওকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, “মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সময়ে বোকা কথা বলে। এগুলোর অনেকই ট্রোল বা বট অ্যাকাউন্ট থেকেও হতে পারে।”

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত

    রুবিও আরও বলেন, “এটা শুধু আমেরিকার সমস্যা নয়। বিশ্বের সব দেশেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ খারাপ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে থাকে। কিন্তু কয়েকজনের বক্তব্য দিয়ে পুরো আমেরিকাকে বিচার করা ঠিক নয়।” তিনি জোর দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি দেশ। একইসঙ্গে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রুবিও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতের প্রতি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রুবিও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ভারতকে ভালোবাসেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত। যদি তিনি ভারতকে গুরুত্ব না দিতেন, তাহলে আমাকে এখানে পাঠাতেন না।”

    ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন মার্কো রুবিও। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পরমাণু সহযোগিতা এবং মাদক পাচার রুখতে দুই দেশের যৌথ পদক্ষেপের মতো একগুচ্ছ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে একটি যৌথ সংবাদিক সম্মেলনও করেন তাঁরা। সেখানেই চিন ও ভারত সফরের তুলনা করতে গিয়ে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী বলেন, দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। তাঁর কথায়, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এটি একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।”

    পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন!

    এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কি না জানতে চাওয়া হলে রুবিও জানান, বৈঠকে এই বিষয়টি ওঠেনি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, পাকিস্তানের মাটি থেকে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলিকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। রুবিও বলেন, “ভারত বরাবরই বলে এসেছে যে পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ভারতে হামলা চালায়। সেই উদ্বেগ তাদের সবসময়ই রয়েছে।”

    অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক

    রবিবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের সঙ্গেও এক মেগা বৈঠকে বসেন মার্কিন বিদেশ সচিব। উল্লেখ্য, রুবিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশসচিব হওয়ার পাশাপাশি সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (NSA) দায়িত্বেও রয়েছেন। ফলে দুই দেশের দুই শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধানের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ এই বৈঠকের কথা জানিয়ে লিখেছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা

    দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ট্রাস্ট’ (TRUST বা Transforming the Relationship Utilising Strategic Technology) উদ্যোগ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওয়াশিংটন সফরের সময় এই বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছিল। সমগ্র এই প্রকল্পটির তদারকি সরাসরি দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (অজিত ডোভাল ও মার্ক রুবিও) অফিস থেকে করা হচ্ছে। এর অধীনে ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত আধুনিক ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে কাজ করছে:

    • ● সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): দুই দেশের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং এআই প্রযুক্তির আদানপ্রদান।
    • ● কোয়ান্টাম টেকনোলজি ও মহাকাশ: কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং স্পেস বা মহাকাশ গবেষণায় যৌথ কোলাবোরেশন।
    • ● গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বায়োটেকনোলজি: ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ এবং জৈবপ্রযুক্তি।
    • ● এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার রোডম্যাপ: এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ হলো ভারতে মার্কিন প্রযুক্তির এআই সিস্টেমের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।

    নজরে ইন্দো-প্যাসিফিক ও সন্ত্রাসবাদ দমন

    বৈঠকের পর ভারতের মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকেও এক্স-এ এক পোস্টে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আমেরিকার তরফে বলা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। বৈশ্বিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করার বিষয়ে দুই এনএসএ-ই নিজেদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চার দিনের ভারত সফরে আসা মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরের আসল ক্লাইম্যাক্স এখনও বাকি। আগামিকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘কোয়াড’ (QUAD Foreign Ministers’ Meeting) ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে এই মেগা সম্মেলনে যোগ দিতে চলেছেন আমেরিকার মার্কো রুবিও ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা।

LinkedIn
Share