Tag: Saudi Arabia

Saudi Arabia

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

  • War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি (Fuel Shortage) সরবরাহ ও বাণিজ্যিক রুট ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন পেট্রোল-ডিজেলের চরম সঙ্কটে পড়েছে। কারণ সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী বন্ধ হওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় থমকে গিয়েছে। এর ফলে সারা দেশে পরিবহণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে (War In West Asia)।

    বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা পাকিস্তানের ঘাড়ে (War In West Asia)

    এই সঙ্কট এমন একটা সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন পাকিস্তান বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা বহন করছে, এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করছে। হঠাৎ জ্বালানি সরবরাহে এই ব্যাঘাত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে। অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে জ্বালানির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। পাকিস্তান অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরব থেকে এবং সাধারণত এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পাকিস্তানে পৌঁছয়।

    তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত

    যুদ্ধের কারণে প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর বিকল্প পথ, বিশেষ করে লোহিত সাগর (Red Sea) রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের সর্বত্র দেখা গিয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের সঙ্কটের কারণে সারা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মানুষ পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে যখন পারিবারিক ব্যয় এমনিতেই বেশি।

    তেল বাঁচাতে গুচ্ছের পদক্ষেপ

    সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ রুট বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী অনেক কার্গো জাহাজ করাচি বন্দরে আটকে পড়েছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় আমদানির জিনিসপত্র আসতে দেরি হচ্ছে (War In West Asia)। জ্বালানি সঙ্কট বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার জ্বালানি (Fuel Shortage) সাশ্রয় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মদিবস কমানো হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি দফতরগুলিতে। কর্মীদের অনেককে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ফুয়েল অ্যালাউন্স স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু স্কুলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমশ অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকছে।

    কমানো হল জ্বালানি বরাদ্দ

    সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দও কমানো হয়েছে। আগামী তিন মাস প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি রাস্তায় চলবে না। বাকি গাড়িগুলির জ্বালানি কোটাও অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে নতুন সরকারি গাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে (War In West Asia)। আর একটি বড় সিদ্ধান্ত হল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কমানো। তাঁদের বেতন ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা ও জনস্বার্থ রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Fuel Shortage)।

    বেতনে কোপ

    সরকার আরও জানিয়েছে, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দু’মাস কোনও বেতন নেবেন না। এই অর্থ জনকল্যাণ তহবিলে জমা হবে। এই সময় তাঁদের বিদেশ ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকা সরকারি প্রতিনিধিদের ভাতাও (War In West Asia)। ইরান থেকে পাকিস্তানে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৯০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বহু বছর ধরে এই সীমান্ত দিয়েই জ্বালানি আসত পাকিস্তানে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরে এই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় (War In West Asia)।

    পাকিস্তানে পাচার হত পেট্রোল

    অনুমান, এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার পেট্রোল পাকিস্তানে পাচার হত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিমাণ ৬০ লাখ লিটার পর্যন্তও হতে পারে। এই জ্বালানির বড় অংশ পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চলে বিক্রি হত, যেখানে পাচার হওয়া পেট্রোল স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবিকায় টান পড়েছে। দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিবছর প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ইরানে রফতানি করে, আর ইরান থেকে আমদানি করে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে গিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কট চরমে

    জ্বালানি সঙ্কট দ্রুত পাকিস্তানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবহণ খরচ তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই যাতায়াত করা কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু পরিবার পরিবহণ ব্যয় এড়াতে তাদের সন্তানদের কাছাকাছি কোনও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছে (War In West Asia)। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রিকশা ও ট্যাক্সি চালকরা। কারণ তাঁদের অনেকেই জ্বালানি কিনতে পারছেন না। দিন মজুরদের কাজের সময়ও কমে গিয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটছে (Fuel Shortage)। পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাত দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ২৩ শতাংশ অবদান রাখে এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উপকরণ ও পরিবহণ খরচ বেড়ে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্দেশ

    এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) নির্দেশে পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে পণ্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে পাকিস্তানিদের মধ্যে (War In West Asia)।পাকিস্তান আইএমএফের আর্থিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই সরকারকে সংস্থাটির নীতিগত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পাকিস্তানের মাসিক তেল আমদানি বিল ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫.৫ লাখ কোটি রুপি। আগেই উচ্চ ঋণের চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য এই বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    হরমুজ রুট বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সরকার সে পথে এগোয়নি বলেই জানা গিয়েছে (Fuel Shortage)। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়া দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম (War In West Asia)।

     

     

  • Russian Oil Imports: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জের, জ্বালানি কৌশলে পরিবর্তন আনছে ভারত

    Russian Oil Imports: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জের, জ্বালানি কৌশলে পরিবর্তন আনছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্রুত পরিবর্তন আসছে ভারতের জ্বালানি কৌশলে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের (Middle East War) জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল (Russian Oil Imports) কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বিকল্প উৎসের সন্ধানে (Russian Oil Imports)

    উপসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আসা অপরিশোধিত তেলের চালান আসতে দেরি হচ্ছে। সেই কারণেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রুড তেল আমদানিকারী দেশ ভারত এখন তার বিশাল চাহিদা পূরণ এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে মার্চ মাসে ভারতের রুশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যাপক বেড়েছে। আগের মাসের তুলনায় আমদানির পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ভারত প্রতিদিন প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনেছে। ফেব্রুয়ারিতে এর পরিমাণ ছিল প্রতিদিন ১.০৪ মিলিয়ন ব্যারেল।

    রুশ তেল কেনার পরিমাণ বাড়াল ভারত

    রুশ তেল কেনার এই পরিমাণ বৃদ্ধি এমন একটা সময়ে হয়েছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ৩০ দিনের একটি ছাড় দিয়েছে, যাতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনতে পারে। এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ভারত-সহ বড় আমদানিকারী দেশগুলিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত সরবরাহ সঙ্কট মোকাবিলায় সাহায্য করতে (Russian Oil Imports)। ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল খরচ করে, যার প্রায় ৮৮ শতাংশই আসে আমদানির মাধ্যমে। এই সরবরাহের বড় অংশই সাধারণত আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সৌদি আরব, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে (Middle East War)। তবে এই তেলবাহী জাহাজগুলির বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এই প্রণালী আদতে একটি সংকীর্ণ জলপথ। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালীই হয়ে উঠছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরকেন্দ্র।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

    সাধারণত ভারতের জ্বালানি আমদানির একটা বড় অংশই আসে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। প্রতিদিন ২.৫ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল এই পথে আসে ভারতে। এই পথ দিয়ে ভারতে আসে রান্নার গ্যাসের (LPG) প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)-এর প্রায় ৩০ শতাংশ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন এবং গৃহস্থালির রান্নার জন্য এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিটোলিয়া বলেন, “মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল আমদানির কথা ছিল ভারতের। একই সময়ে রাশিয়া থেকে তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Russian Oil Imports)।” তিনি বলেন, “জাহাজ ট্র্যাকিং ও বাজার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ক্রুড ওয়েল আমদানির পরিমাণ প্রতিদিন পৌঁছতে পারে ১ থেকে ১.২ মিলিয়ন ব্যারেল। ফলে হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ঝুঁকির কারণে যে ঘাটতি তৈরি হতে পারত, তা কমে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিনে নেমে এসেছে (Middle East War)।

    বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

    যদিও ক্রুড ওয়েল সরবরাহ বিভিন্ন উৎস থেকে আংশিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব, তবুও বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা- যদি উপসাগরীয় অঞ্চলে অশান্তি অব্যাহত থাকে, তাহলে এলপিজি সরবরাহের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে (Russian Oil Imports)। ভারত প্রতিদিন প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যারেল এলপিজি ব্যবহার করে। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন মোট চাহিদার মাত্র ৪০–৪৫ শতাংশ পূরণ করে। বাকি ৫৫–৬০ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যার অধিকাংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে।রিটোলিয়ার মতে, ভারতের ৮০–৯০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তাই আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভারত প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল এলপিজি ব্যবহার করে, যার মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল আমদানি করা হয় (Middle East War)।

     

  • Pakistan: শ্যাম রাখি না কুল! তেহরান-রিয়াধের উত্তেজনার মাঝে পড়ে ‘চিঁড়েচ্যাপ্টা’ হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের

    Pakistan: শ্যাম রাখি না কুল! তেহরান-রিয়াধের উত্তেজনার মাঝে পড়ে ‘চিঁড়েচ্যাপ্টা’ হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান (Pakistan)। তেহরান ও রিয়াধের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইসলামাবাদ একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য (West Asia Test) বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কেন? কারণ একদিকে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ ও সংবেদনশীল সীমান্ত রয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে রয়েছে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও আর্থিক সম্পর্ক। ইরানকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত এই যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়া এবং এর বাইরেও প্রভাব ফেলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা বিস্ফোরণের ধাক্কায় প্রায় সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হতাহত, গুরুত্বপূর্ণ দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান তার দুই মিত্র—সৌদি আরব ও ইরানের—মাঝে আটকে পড়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার ছ’টি দেশ ইতিমধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে, যা ইসলামাবাদের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    গুরুত্বপূর্ণ ৩ চ্যালেঞ্জ (Pakistan)

    বর্তমানে পাকিস্তানের সামনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলি হল— পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, দেশের সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ সামাল দেওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামাবাদের কাছে তেহরান ও রিয়াধ—দু’টিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শ্যাম রাখি না কুল দশা হয়েছে পাকিস্তানের। সৌদি আরব পাকিস্তানের মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় সৌদি আরব পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা, বিলম্বিত অর্থপ্রদানের ভিত্তিতে তেল এবং লগ্নির ব্যবস্থা করে দেয়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও ঐতিহাসিকভাবে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া লাখ লাখ পাকিস্তানি শ্রমিক ও নাগরিক সৌদি আরবে বসবাস করেন এবং সেখানেই জীবিকা নির্বাহ করেন।

    পাকিস্তানের পড়শি ইরান

    এদিকে, ইরান পাকিস্তানের পড়শি। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইরানের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ (Pakistan)। ২০২৫ সালের অগাস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সফর করেন। অব্যাহত রয়েছে এই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ (West Asia Test)। পাকিস্তানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হল, কোনও পক্ষ না নিয়ে তার কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা। কিন্তু গত বছর স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন। সেনাপ্রধান আসিম মুনির পর্যন্ত সৌদি আরবে উড়ে গিয়ে দেশটির শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ আলি খামেনেই নিহত হন, তখন পাকিস্তান ওই হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির ওপর ইরানের পাল্টা হামলাকে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ বলে নিন্দে করে।

    পাক বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানান, তিনি ইরানকে পাকিস্তানের সৌদি আরবের প্রতি প্রতিরক্ষা দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন (Pakistan)। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানতে চান, সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা করা হবে না, এ বিষয়ে কি নিশ্চয়তা আছে। দার জানান, তিনি রিয়াধ থেকে সেই নিশ্চয়তা পেয়েছেন (West Asia Test)। এর পরপরই ইরানি ড্রোন সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, যার মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে, টার্গেট করে হামলা চালায়। টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আরসালান খান সংবাদমাধ্যমে বলেন, “পাকিস্তান একদিকে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কারণে যুদ্ধের ঘূর্ণিতে টেনে নেওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।” ইরানের পর পাকিস্তানেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া সম্প্রদায় রয়েছে। খামেনেইর মৃত্যুর পর করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভের ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হওয়ায় শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে (Pakistan)।

    মার্কিন মেরিনরা গুলি চালায়

    বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে মার্কিন মেরিনরা গুলি চালায় বলে সংবাদ সংস্থার খবর। এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন (West Asia Test)। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাদিহা তাহির বলেন, “এই প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও।” আটের দশকে জেনারেল জিয়া-উল-হক সুন্নি ইসলামীকরণের নীতি চালু করেন। একই সময়ে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব পাকিস্তানের শিয়াদের জন্য নতুন সমর্থনের উৎস হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশের কাছাকাছি শিয়া মুসলিম, বাকি অংশের অধিকাংশই সুন্নি। এদিকে, ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের কালো তালিকায় থাকা এক দশকের বেশি সময়ের অধ্যায়ের অবসান ঘটে (Pakistan)।

    আসিম মুনির

    ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে (West Asia Test)। ট্রাম্পের রাজত্বকালে পাকিস্তান ‘গাজা বোর্ড অফ পিস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জায়গা পেয়েছে, সেখানে রয়েছে ইজরায়েলও। অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক কৌশলগত স্বার্থের চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ দ্বারা বেশি প্রভাবিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ, জ্বালানি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে (Pakistan)। এ বছর পাকিস্তান ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়ালের সঙ্গে একটি চুক্তি করে, যাতে তাদের ইউএসডি১ স্টেবলকয়েন আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয় (West Asia Test)। এরকম হাইভোল্টেজ পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের পক্ষে এমন কোনও পক্ষ নেওয়া কঠিন, যা ট্রাম্প ও আমেরিকার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় (Pakistan)।

  • PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগী মোদি, কথা বললেন ৮ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে

    PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগী মোদি, কথা বললেন ৮ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) কথা বলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজরায়েল, সৌদি আরব, জর্ডন, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত এবং কাতারের নেতাদের সঙ্গে (Peace Stability Security)। এই অঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তনশীল উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা এবং ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির পক্ষ থেকে ইজরায়েল, উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ, এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক টার্গেটে হামলার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

    কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কাতারের ওপর হামলার নিন্দে করেন এবং কাতারে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন ও যত্নের জন্য আমিরকে ধন্যবাদও জানান। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার ভাই, মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা কাতারের সঙ্গে দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি এবং তার (Peace Stability Security) সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার যে কোনও লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দে করি। সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর আমরা জোর দিয়েছি। এই কঠিন সময়ে কাতারে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর অব্যাহত সমর্থন ও যত্নের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি।”

    কথা আরও ৭ বিশ্বনেতার সঙ্গেও

    মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও (PM Modi) দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন কুয়েতের যুবরাজ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ-এর সঙ্গেও। দুটি ক্ষেত্রেই আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং সেখানে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে আলোচনা করেন। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “মহামান্য সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ওমানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের নিন্দে করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, টেকসই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাই দ্রুত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। ওমানে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি (PM Modi)।”

    হামলার তীব্র নিন্দে

    এদিনই প্রধানমন্ত্রী জর্ডনের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহের সঙ্গেও কথা (Peace Stability Security) বলেন এবং জর্ডনের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি এবং এই কঠিন সময়ে জর্ডনে প্রবাসী ভারতীয়দের দেখভাল করার জন্য ধন্যবাদ জানান বাদশাহকে। এর আগে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ এবং বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেন টেলিফোনে। আলোচনায় তিনি সৌদি আরব ও বাহরাইনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দে করেন। পাশাপাশি ওই দেশগুলিতে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুস্থতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে ভারতের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয় (PM Modi)।

    শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান

    প্রসঙ্গত, এই ফোনালাপগুলি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ। ১ মার্চ, রবিবার তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত সব ধরনের শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান (Peace Stability Security)। ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমষ্টিগত নিরাপত্তার প্রতি দেশের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে এবং সর্বোপরি নিরীহ অসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেয় বলে দাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

  • US Iran Conflict: হরমুজ প্রণালী বন্ধ, রাশিয়া থেকে ফের তেলের আমদানি বাড়াতে পারে ভারত

    US Iran Conflict: হরমুজ প্রণালী বন্ধ, রাশিয়া থেকে ফের তেলের আমদানি বাড়াতে পারে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান (US Iran Conflict)। তা সত্ত্বেও ভারতের তেল সরবরাহে (Oil Supply) আপাতত কোনও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। ভারতের রিফাইনারিগুলির কাছে বর্তমানে কমপক্ষে ১০–১৫ দিনের জন্য পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে রিজার্ভ ট্যাঙ্কে থাকা তেল এবং পরিবহণ হচ্ছে যে তেল, দু’টিই রয়েছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি মজুত দিয়ে ৭–১০ দিনের দেশীয় চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরে স্বল্পমেয়াদি কোনও বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব সামাল দেওয়া যাবে বলে জানান আধিকারিকরা।

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ (US Iran Conflict)

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ২৮ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছিল, বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার জবাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে আধিকারিকরা যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ধরনের সরবরাহ বন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। কেপলার (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ২৫ থেকে ২৭ লাখ ব্যারেল তেল, যা ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ, আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। এর বেশিরভাগই ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত থেকে আসে (Oil Supply)।

    এলপিজি আমদানি

    ভারতের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ, মূলত কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের প্রায় সব এলপিজি আমদানিও এই পথ দিয়ে আসে।  ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্নের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। আধিকারিকরা জানান, যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রণালীটি বন্ধ থাকে, তবে ভারত বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ বাড়াতে পারে, যার মধ্যে রাশিয়া থেকেও কেনা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়েছিল, তবে মধ্যপ্রাচ্যে বিঘ্ন ঘটলে আমরা আবার মস্কো থেকে কেনা শুরু করতে পারি (Oil Supply)।”

    রাশিয়া থেকে পাঠানো তেল

    তবে পরিবহণ সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ভারতে পৌঁছতে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগে। কিন্তু রাশিয়া থেকে পাঠানো তেল আসতে সময় লাগতে পারে এক মাস পর্যন্ত। ফলে আগাম পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে (US Iran Conflict)। এছাড়া ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার (Strategic Petroleum Reserves) রয়েছে, যা প্রায় এক সপ্তাহের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। স্বল্পমেয়াদে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণযোগ্য মনে হলেও, প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এলএনজির বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। অপরিশোধিত তেলের মতো নয়, এলএনজির বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় থাকে, ফলে স্পট মার্কেটে সরবরাহ সীমিত। ভারত বা চিন যদি বিকল্প এলএনজি উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আধিকারিকরা সতর্ক করেছেন (US Iran Conflict)।

    আপৎকালীন প্রভাব তেলের দামে

    তবে সংকটের আপৎকালীন প্রভাব তেলের দামে ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২.৮৭ ডলার হয়, যা দিনভিত্তিক লেনদেনে ৭৩.৫৪ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, ৩০ জুলাই ২০২৫-এর পর সর্বোচ্চ। চলতি বছরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ১২ ডলারের বেশি বেড়েছে (Oil Supply)। কেপলারের লিড রিসার্চ অ্যানালিস্ট সুমিত রিতোলিয়া বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা বাড়ায় স্বল্পমেয়াদে হরমুজ-সংক্রান্ত ঝুঁকি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্ণ অবরোধের সম্ভাবনা কম (US Iran Conflict)।” তিনি বলেন, “বহুমুখী উৎস, রাশিয়ার বিকল্প ব্যবস্থা এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার ও বাণিজ্যিক মজুত-সহ বহুস্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ঘাটতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। নিকট ভবিষ্যতের প্রধান ঝুঁকি হল দামের অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব, কাঠামোগত সরবরাহ ঘাটতি নয়।” সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কাজ করছে বলেও জানান আধিকারিকরা (Oil Supply)।

     

  • PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ, সৌদি-বাহরাইনের সঙ্গে কথা মোদির, কী নিয়ে হল আলোচনা?

    PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ, সৌদি-বাহরাইনের সঙ্গে কথা মোদির, কী নিয়ে হল আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ার বিভিন্ন অংশে ক্রমেই ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। এহেন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের (Gulf Stability) বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আলোচনা করলেন সৌদি আরবের যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে। আলাদা করে তিনি কথা বলেন বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গেও।

    সৌদির ওপর হামলার নিন্দে (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাও করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলির তীব্র নিন্দা করেন। বলেন, “এগুলি দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পরিপন্থী।” দুই নেতা একমত হন যে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কঠিন সময়ে সৌদি আরবে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী যুবরাজকে ধন্যবাদ জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী এইচআরএইচ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ভারত সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে (PM Modi) হওয়া সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা করে। আমরা একমত হয়েছি যে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। এই কঠিন সময়ে ভারতীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ দেখভাল করার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।” এদিকে, ২ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনে কথা বলেন বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে।

    রাজাকে ধন্যবাদ

    আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বাহরাইনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দে করেন। এই কঠিন সময়ে বাহরাইনের জনগণের প্রতি ভারতের দৃঢ় সংহতিও প্রকাশ করেন তিনি (Gulf Stability)। প্রধানমন্ত্রী বাহরাইনে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি অবিচল সমর্থন ও যত্ন দেওয়ার জন্য রাজাকে ধন্যবাদ জানান। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “বাহরাইনের রাজা মহামান্য হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে ফলপ্রসূ টেলিফোন আলাপ হয়েছে। ভারত বাহরাইনের ওপর হামলার নিন্দা করে এবং এই কঠিন সময়ে বাহরাইনের জনগণের পাশে থাকতে সংহতি প্রকাশ করছে। বাহরাইনে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি অবিচল সমর্থনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই (PM Modi)।”

     

  • India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্যস্ত। ব্যস্ত তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যপূরণে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধকে আরও মজবুত করার ভাবনায় মজে (India)। বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, শুল্কযুদ্ধের ‘বাজুকা’ ছোড়া এবং লেনদেনভিত্তিক চুক্তিতে ঝোঁক, এ সবই তার বহিঃপ্রকাশ। ফলস্বরূপ, বিশ্বে স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রভাব এখন আটলান্টিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত স্পষ্ট।

    নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন (India)

    দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিগুলি নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুটি আলগা কিন্তু ক্রমশ আলোচিত কৌশলগত অক্ষ মাথা তুলতে শুরু করেছে। একটি গড়ে উঠছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। অন্যটি গড়ে উঠছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে, যার কৌশলগত প্রান্তে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে হওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ চুক্তি, কূটনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পুরানো জোটব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও কার্যকর সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এসবই হচ্ছে সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক দ্রুত।

    স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট

    এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি রিয়াধের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন, কারণ এতদিন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দ্বিপাক্ষিক ও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর (India)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং ট্রাম্প আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই এই চুক্তির জন্ম। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত এই কাঠামোয় তুরস্কের আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্লুমবার্গ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এই জোটে যোগ দিতে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চালাচ্ছে (UAE)।

    বাস্তব চিত্র

    যদিও রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা বলছে এই কাঠামো আদর্শগত নয়, প্রতিরক্ষামূলক, তবুও বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা কঠিন। সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোটে এক ছাতার নীচে মিলিত হচ্ছে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি। আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টেপাভের বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজচান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশগুলিকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে (India)।” পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, এই চুক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সীমিত যুদ্ধের পর জোট মজবুত করার প্রয়াস। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের পক্ষে তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রকাশ্যে এসেছিল এবং নয়াদিল্লি তা লক্ষ্যও করেছিল। বহুদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরবের জন্য এটি ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা, বিশেষত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ‘ভাই’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটে। আর তুরস্কের ক্ষেত্রে, এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর মধ্যেই রয়েছে (UAE)।

    ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’

    যদি সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক অক্ষ এক দিক হয়, তবে অন্য দিকে রয়েছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India)। ১৯ জানুয়ারি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রায় দু’ঘণ্টার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ও আবুধাবি একটি ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’ সই করে। ভাষাগতভাবে এটি সংযত হলেও সময়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। সৌদি–পাক অক্ষ নিয়ে আলোচনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল ভাটিকিওটিস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তুরস্ক–সৌদি আরব–পাকিস্তান অক্ষের মোকাবিলায় ভারত ইউএই এবং পরোক্ষভাবে ইজরায়েলকে নিয়ে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই নতুন অক্ষগুলির জন্ম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তির সঙ্কোচনের ফল হিসেবে।”

    আব্রাহাম চুক্তি

    এই অংশীদারিত্ব আব্রাহাম চুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউএই ও ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এটি ভারত–ইজরায়েল–ইউএই– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পূর্বে গঠিত (I2U2) জোট কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যেই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে এবং যৌথ উৎপাদনেও যুক্ত। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ইজরায়েল প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ইউএইর (UAE) কাছে ভারত ইয়েমেন, আফ্রিকা ও কৌশলগত লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি (India)। এই পাল্টা জোট কেবল পশ্চিম ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে তুরস্কের আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে  গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইজরায়েল। ২০২৪ সালে ব্রিটেনভিত্তিক ইউরোপিনিয়নের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ৩+১ ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (ইজরায়েল–গ্রিস–সাইপ্রাস) ভারতকে আমন্ত্রণ জানায় ইজরায়েল।

    জোট গড়ছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি

    এয়ার মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত অনিল চোপড়া ‘ইউরেশিয়ান টাইমসে’ লেখেন, এই গোষ্ঠীটি ভবিষ্যতে ইউএইকেও (UAE) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অ্যাজেন্ডায় রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, যা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী (India)। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক–পাকিস্তান–সৌদি অক্ষ শুধু ভারতের জন্য নয়, ইজরায়েল, আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের জন্যও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোট গড়ে ওঠেনি। আমেরিকা ভেতরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, ইউরোপ বিভক্ত। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলি আর দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে না, তারা নিজেদের মতো করে জোট গড়ছে, হিসাব কষছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে (UAE)। এই অক্ষগুলি এখনও তরল এবং অনানুষ্ঠানিক হলেও, ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখা যে নতুন করে লেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট (India)।

     

  • Strait of Hormuz: ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধে বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালি! কেন ভারতের জন্য এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ?

    Strait of Hormuz: ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধে বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালি! কেন ভারতের জন্য এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল মধ্যে যুদ্ধ ক্রমশই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। এই আবহে দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি তেল আমদানির অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। মনে করা হচ্ছে ইরান বন্ধ করে দিতে পারে হরমুজ প্রণালি। এই হরমুজ প্রণালির (Strait of Hormuz) উত্তরে রয়েছে ইরান, দক্ষিণে রয়েছে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।

    ২১ মাইল বা ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত হল হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz)

    হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর সংযুক্ত হয় এবং পরে এর মাধ্যমে তা আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়। হরমুজ প্রণালি মাত্র ২১ মাইল বা ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত, তবে জাহাজের জন্য প্রকৃত নাব্য চ্যানেলটি মাত্র কয়েক কিলোমিটারই প্রশস্ত রয়েছে। এই কারণেই এই অঞ্চল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর রয়েছে। এগুলি হল—ইরানের আব্বাস বন্দর, এই বন্দর মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র। হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি রয়েছে ওমানের সোহার বন্দর, এই বন্দর বাণিজ্য তথা জাহাজের রুট বদলের জন্য ব্যবহৃত হয়। হরমুজ প্রণালিতে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ফুজাইরা বন্দর, এই বন্দরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল সংরক্ষণ এবং জাহাজ বন্দর হিসেবে পরিচিত।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যায় বিশ্বের পাঁচ ভাগের একভাগ তেল

    হরমুজ প্রণালির (Strait of Hormuz) মাধ্যমেই আশেপাশের বেশিরভাগ উপসাগরীয় দেশ তেল ও গ্যাস রফতানি করে। এই কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল প্রতিদিন (১ কোটি ৭০ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি) এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো উৎপাদক দেশগুলি থেকে জ্বালানির রফতানির অন্যতম প্রধান জাহাজপথ হল এই প্রণালি।

    ভারতের ৮৫ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল আসে এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (EIA) যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২০.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালির জলপথ দিয়েই যায়। এর ৮৩ শতাংশই এশিয়ার বিভিন্ন বাজারের জন্য নির্ধারিত। ভারতের (India) ৮৫ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল আসে এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই। তাই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সমুদ্রপথ বন্ধ হলে তা দেশের জন্য বেশ উদ্বেগের কারণ। বিপুলভাবে বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম। এই হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) বন্ধ হলে ইরাক, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী থেকে আসা তেলের সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হবে। এর ফলে অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করতে হতে পারে ভারতকে, যার প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়বে তেলের দামে। শুধু তেল নয়, এই পথেই কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে ভারত। তাই এই প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানিও বন্ধ হতে পারে যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের রফতানি (Strait of Hormuz)

    অন্যদিকে, এই পথ (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারত রফতানিও করে অনেক কিছু। যেমন যন্ত্রপাতি, বস্ত্র, গয়না, রাসায়নিক ইত্যাদি। যার ফলে এই সমুদ্রপথ বন্ধ হলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতি হতে পারে। একইসঙ্গে যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয় এবং তার সঙ্গে তেলের দাম বাড়ে, তাহলে বিমান সংস্থা ও টায়ার শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারতের টাকাও ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়বে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে তখন আর্থিক নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে হবে, বিশেষ করে বাড়বে মুদ্রাস্ফীতি। অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালি যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে প্রতিটি ভারতবাসী এর প্রভাব অনুভব করতে পারবে। পেট্রোলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি মাসে সাংসারিক খরচও প্রতিটি পরিবারকে বেঁধে দিতে হবে, বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতিও।

    বিকল্প কী রয়েছে ভারতের কাছে?

    মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং আমেরিকা থেকেও তেল কেনে ভারত, তাই এগুলোই বিকল্প হতে পারে যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়। তবে এই দেশগুলি থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করা হয় তা অনেকটাই কম। পরিসংখ্যান বলছে, বিগত এপ্রিল মাসে ভারত আফ্রিকার দেশগুলি থেকে ১২ শতাংশ তেল আমদানি করেছিল, গত মে মাসে সেটা কমে দাঁড়ায় ৫ শতাংশে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত শুরু হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যদি হরমুজ প্রণালি সত্যিই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিকল্প হিসেবে আফ্রিকার দেশগুলি থেকে তেল কেনার কথা ভারত (India) ভাববে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে এখান থেকে তেল নিয়ে তেলের ঘাটতি কতটা মেটানো যাবে, সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে সারাদেশে বর্তমানে ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে এবং কৌশলগত মজুতও রয়েছে ৯.৫ দিনের তেল। তবে ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল নিয়ে ভাবতে হবে ভারতকে।

  • Undersea Power Link: সমুদ্রতল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সবুজ বিদ্যুৎ রফতানি করবে ভারত! ৯০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ

    Undersea Power Link: সমুদ্রতল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সবুজ বিদ্যুৎ রফতানি করবে ভারত! ৯০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) সঙ্গে সমুদ্রতলের সবুজ বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর জানান, প্রায় ১,৭০০ কিমি দীর্ঘ সাবমেরিন কেবল সৌদি আরবে এবং ১,৪০০ কিমি দীর্ঘ কেবল আমিরশাহী-তে হাইড্রোজেন থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থাপন করা হবে। অতীতে তেল-গ্যাস আমদানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভর করত ভারত। আর এখন সেই মধ্যপ্রাচ্যে ভারত বিদ্যুৎ রফতানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাও আবার সমুদ্রতলের নিচে কেবল বসিয়ে। এটিই এক নতুন শক্তিশালী ভারতের পরিচয়, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    এক সূর্য, এক বিশ্ব, এক গ্রিড

    বিশ্বের প্রথম আন্ডারসি (Undersea Power Link) পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প হল একটি বড় পরিকল্পনা। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিদ্যুতের বিনিময় সহজ করা। এটি “এক সূর্য, এক বিশ্ব, এক গ্রিড” ধারণার প্রথম অফশোর উপাদান, যা প্রধানমন্ত্রী মোদি আন্তর্জাতিক সৌর জোটের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রস্তাব করেছিলেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত ও সৌদি আরব বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারবে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারবে। বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর বলেন, “সৌদি আরব ও আমিরশাহী-তে ২ গিগাওয়াট করে হাইড্রোজেন বিদ্যুৎ রফতানির জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সৌদি আরব পর্যন্ত সাবমেরিন কেবলের প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭,০০০ কোটি টাকা এবংআমিরশাহী পর্যন্ত কেবলের জন্য ব্যয় হতে পারে ৪৩,৫০০ কোটি টাকা।” এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে ছয় বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিদ্যুতের একটি শক্তিশালী আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।

    প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য:

    ভারত-সৌদি আরব আন্ডারসি পাওয়ার কেবল
    দৈর্ঘ্য: প্রায় ১,৭০০ কিমি
    ব্যয়: ৪৭,০০০ কোটি টাকা
    ক্ষমতা: ২ গিগাওয়াট

    ভারত-আমিরশাহি আন্ডারসি পাওয়ার কেবল
    দৈর্ঘ্য: প্রায় ১,৪০০ কিমি
    ব্যয়: ₹৪৩,৫০০ কোটি টাকা
    ক্ষমতা: ২ গিগাওয়াট

    এই প্রকল্পের স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব

    বিশ্বের প্রথম আন্ডারসি পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পগুলির (Undersea Power Link) মধ্যে অন্যতম – যা এক দেশ থেকে আরেক দেশের মধ্যে বিশাল জলসীমা পেরিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
    ভারতের সবুজ জ্বালানির (Green Energy) আন্তর্জাতিক রফতানির সূচনা – সৌদি আরব ও আমিরশাহীর মতো তেলনির্ভর দেশ এখন ভারতের থেকে বিদ্যুৎ নিতে রাজি।
    “এক সূর্য, এক বিশ্ব, এক গ্রিড” (‘One Sun, One World, One Grid’) উদ্যোগের বাস্তবায়ন – ভারত এই বৈশ্বিক শক্তি-গ্রিড ধারণার নেতৃত্বে রয়েছে।
    প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ – গভীর সমুদ্রে এত দীর্ঘ ও উচ্চ ক্ষমতার সাবমেরিন কেবল বসানো প্রযুক্তিগত দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং, এবং ভারত এটি নিজেই করতে যাচ্ছে।
    স্ট্র্যাটেজিক সফট পাওয়ার বৃদ্ধি – শক্তি রফতানির মাধ্যমে ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও প্রসারিত হচ্ছে।

    দেশে মজবুত বিদ্যুৎ পরিকাঠামো

    বিদ্যুৎমন্ত্রী এদিন আরও জানান, স্টোরেজ প্রকল্পগুলোর জন্য ইন্টার-স্টেট ট্রান্সমিশন সিস্টেম (ISTS) চার্জের ছাড় ৩০ জুন ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “যেসব পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং যেসব ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম এই সময়ের মধ্যে কমিশন হবে, তারা এই সুবিধা পাবে।” ২০২৫ সালের ৯ জুন, ভারত সর্বোচ্চ ২৪১ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা সফলভাবে মেটাতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই অর্জন দেশের মজবুত বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর প্রমাণ। যেখানে কোনও পিক বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল না।”

    বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি

    ট্রান্সমিশন লাইনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও রাইট অব ওয়ে (RoW) সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতিপূরণ বাড়িয়েছে। টাওয়ার বসানোর জন্য জমির মূল্য ৮৫% থেকে বাড়িয়ে ২০০% করা হয়েছে এবং রাইট অব ওয়ে করিডরের জন্য ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাড়ানো হয়েছে, যা এখন বাজার মূল্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।” তিনি জানান, জমি ও অনুমতির জটিলতার কারণে ট্রান্সমিশন প্রকল্পের অগ্রগতিতে অনেক সময় নষ্ট হয়, কারণ এগুলো বনভূমি, প্রতিরক্ষা এলাকা, ব্যক্তিগত বা কৃষিজমি অতিক্রম করে। তাঁর দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত সর্বোচ্চ ৩৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করেছে, যার মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকেই এসেছে ২৯.৫ গিগাওয়াট। দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে ৪৭২.৫ গিগাওয়াট, যা ২০১৪ সালে ছিল ২৪৯ গিগাওয়াট।

LinkedIn
Share