Tag: Strait of Hormuz

  • Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে আপাতত বিরতি। কারণ দুই দেশের মধ্যে হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি (Strait of Hormuz Conflict)। এর ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—এলপিজি (LPG) এবং তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ—এখন অনেকটাই কমেছে। ইরান ও আমেরিকা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে।

    স্বস্তিতে ভারত (Strait of Hormuz Conflict)

    সমুদ্রপথের বাধা দূর হওয়ার এই খবর ভারতকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। এখন তেল ও গ্যাসবাহী ভারতীয় জাহাজগুলি সহজে এবং দ্রুত ভারতে পৌঁছতে পারবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। তার পরেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্বের ২০–২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এটি ভারতের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। সংঘাতের আবহে অনেক জাহাজ সেখানে আটকে পড়ে। ভারতে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়, কালোবাজারি বাড়ে। আতঙ্কের জেরে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। তবে এখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণার ফলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।

    হরমুজ অঞ্চলে আটকে একাধিক ভারতীয় জাহাজ

    বাস্তবে, ভারতীয় তেলবাহী জাহাজগুলির একটি বড় অংশ এখনও হরমুজ অঞ্চলে আটকে রয়েছে (Strait of Hormuz Conflict)। ইরান ভারতকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও, তা খুব ধীরগতিতে চলছে। এই কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে, যার অধিকাংশই এলপিজি ট্যাঙ্কার ভর্তি। গত কয়েক দিনে বেশ কিছু জাহাজ ভারতীয় বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এগুলি হাজার হাজার টন গ্যাস ও তেল বহন করছিল, যা দেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (LPG)। তবে এখনও ১৬টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে। এগুলিতে রয়েছেন শত শত ভারতীয় নাবিক। এই জাহাজগুলিও তেল এবং গ্যাসে ভর্তি।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে

    এখন যেহেতু হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই এই জাহাজগুলিও খুব শীঘ্রই যাত্রা শুরু করতে পারবে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদে ভারতে পৌঁছে যাবে (Strait of Hormuz Conflict)। অর্থাৎ, তেল ও গ্যাসবাহী সম্পূর্ণ বহরই শীঘ্রই দেশে পৌঁছে যাবে। হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় ভারতের একাধিক সুবিধা হবে। প্রথমত, তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। দ্বিতীয়ত, গ্যাসের কালোবাজারি বন্ধ হবে। তৃতীয়ত, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যাবে।
    গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহও স্বাভাবিক হবে (LPG)।

    প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে

    এছাড়া, এর প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামেও। এতে অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে, কারণ তেল ও গ্যাস আমদানি সহজ হবে। আগে জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হত, এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগত। এখন সরাসরি সমুদ্র পথ খুলে গিয়েছে। তাই সাশ্রয় হবে অর্থ এবং সময়। ভারত কীভাবে সমাধান করল এই সমস্যার? ভারতের বিদেশমন্ত্রক এবং জাহাজমন্ত্রক আগেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেছিল। এখন যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ায় বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদ। নাবিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সব  নাবিকের নিরাপত্তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে (Strait of Hormuz Conflict)।

    হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় শুধু ভারত নয়, উপকৃত হবে গোটা বিশ্বই। ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। এতে ভারত-সহ তেল আমদানিকারী দেশগুলি সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাবে (LPG)। এখন ধারাবাহিকভাবে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছবে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা সহজেই পূরণ করবে। বাকি ১৬টি জাহাজও পৌঁছে গেলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ আরও মজবুত হবে (Strait of Hormuz Conflict)।

     

  • US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের (US Iran War) সাময়িক বিরতি। খুলছে হরমুজ প্রণালী। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আজ রাতের মধ্যেই গোটা সভ্যতা শেষ হবে।’’ মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি

    মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের মাঝে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখবে। তেহরানও শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং সীমিতভাবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তবে তারাও সামরিক প্রতিরোধ থামাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাশাপাশি নিজেদের ১০ ও ১৫ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক চাপের ফলেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করেছে।

    ইরানের হাত ট্রিগারেই

    দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি মানেই যুদ্ধে ইতি নয়! আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনীকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এক সরকারি বিবৃতিতে মোজতবার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের শেষ নয়। আমেরিকা বা ইজরায়েল— শত্রুপক্ষ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করে, তবে আমাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি কোনও রকম ‘ভুল’ করে, তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও।

    ইরানের ‘ঐতিহাসিক জয়’!

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বুঝিয়েছে, আমেরিকার সামনে কখনওই মাথা নত করেনি ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বার বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে রাজি ছিল না। আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হলে তবেই ইরান যুদ্ধের অবসান মেনে নেবে।’’ তারা জোর দিয়েছে, আলোচনায় তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার কথা কঠোর ভাবে উপস্থাপিত করা হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দফা প্রস্তাব হল হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র শক্তির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় বিষয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার (Highly Enriched Uranium Stockpile) বন্ধ করা। সূত্র বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে ইরান কিছু সীমিত পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই দুটো ইস্যুই তেহরানের সবচেয়ে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার, তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন বাহিনীর জয়!

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী, ‘‘ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’’ আসন্ন দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব। ইরানের মতো আমেরিকাও ‘জয়’ দেখছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর জয়।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব, বাজারে প্রভাব

    হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমেছে, এবং মার্কিন ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মার্কিন ফিউচার মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    এখনও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য!

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব থাকবেই। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে বড় আঞ্চলিক সংকট (Regional Crisis) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে হামলা হলে সমান জবাব (Retaliation) দেওয়া হবে। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমেরিকা-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকেও (US-linked Targets) নিশানা করা হতে পারে।’ ইরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত সংঘাত চলবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি আরব, বাহারাইন এবং কুয়েতে শোনা গিয়েছে মিসাইল অ্যালার্ট অ্যালার্ম। সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত হলেও ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে উপসাগরীয় এলাকায়।

  • Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন (US) সফরে যাবেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri)। সেখানে তিনি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হবে, হবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনাও। এটি বিশ্বজুড়ে বহু দেশকে প্রভাবিত করেছে।

    মিশ্রির ওয়াশিংটন সফর (Vikram Misri)

    মিশ্রি ৮ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ওয়াশিংটনে থাকবেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত শুরু হয়, তার পর এই প্রথম কোনও পদস্থ ভারতীয় কর্তা আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন। এই সফরটি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ফেব্রুয়ারি মাসের ওয়াশিংটন সফরের পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতার অংশ বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

    নজিরবিহীন চাপ

    মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরটি ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণ পরিসর পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা চলছে, তাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। মিশ্রি মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, এই সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্কও ছিল (Vikram Misri)। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়। গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত বন্ধে নিজের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের বারবার দাবি সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা

    ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন যে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দিকে কাজ করছে এবং মার্কিন শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে এবং মিশ্রির বৈঠকগুলিতে এটি আলোচনায় আসতে পারে (US)। প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষ দিকে ট্রাম্প মোদিকে ফোন করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত অঞ্চলে দ্রুত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং বৈশ্বিক স্বার্থে হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    ভারত সংঘাত দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও নিশ্চিত করতে চায় ভারত।  কারণ এটি দেশের খাদ্য, জ্বালানি ও সার নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে, পশ্চিম এশিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেখানে বসবাসরত এক (US) কোটিরও বেশি ভারতীয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি (Vikram Misri)।

     

  • West Asia Conflict: পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার-জ্বালানি মজুত রয়েছে, ইরান সঙ্কট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে জানাল কেন্দ্র

    West Asia Conflict: পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার-জ্বালানি মজুত রয়েছে, ইরান সঙ্কট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে এর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষিতে, ৬ এপ্রিল আন্তঃমন্ত্রকের তরফে আয়োজিত বৈঠকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশমন্ত্রক, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক-সহ বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের ভেতরে জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলি তুলে ধরেন। সরকার জানিয়েছে, তারা বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলি ও ইরানের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    খাদ্য নিরাপত্তা (West Asia Conflict)

    বৈঠকে আলোচিত প্রধান বিষয়গুলির একটি ছিল খাদ্য নিরাপত্তা। এ ব্যাপারে আধিকারিকরা আশ্বস্ত করেন, দেশে জরুরি পণ্যের কোনও ঘাটতি নেই। ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অনুপম মিশ্র বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং খাদ্যশস্য সরবরাহ বজায় রাখতে আমরা কড়া নজর রাখছি। ১৯৫৫ সালের আবশ্যিক পণ্য আইন অনুযায়ী মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে নজরদারি করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এ বছর ডাল উৎপাদন বেশি হয়েছে এবং পর্যাপ্ত বাফার স্টক রাখা হয়েছে। পেঁয়াজ, আলু ও টমেটোর উৎপাদনও গত বছরের মতোই রয়েছে। তাই সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে।

    রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ

    মিশ্র বলেন, “আমরা রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, যাতে কালোবাজারি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।   এটি মূল্য পর্যবেক্ষণ ও রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ অনায়াস করছে। ১৯১৫ নম্বর ভোক্তা হেল্পলাইন ১৭টি ভাষায় চালু রয়েছে।” খাদ্য দফতরের কর্তারা জানান, ভারতে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। জয়েন্ট সেক্রেটারি সি শিখা বলেন, “আমাদের কাছে গম ও চালের মজুত রয়েছে নির্ধারিত মানের তিনগুণ বেশি। গম প্রায় ২২২ লাখ মেট্রিক টন এবং চাল প্রায় ৩৮০ লাখ মেট্রিক টন—মোট ৬০২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।” তিনি জানান, এই মজুত সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট। ভোজ্য তেল এবং চিনির সরবরাহও স্থিতিশীল।

    দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক

    সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজার প্রভাবিত হলেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যৌথ সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, “৩৫ দিনের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট চললেও, এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত আমদানি করা হয়েছে।” তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। গত পাঁচ সপ্তাহে প্রায় ১৮ কোটি পরিবারের কাছে সিলিন্ডার পৌঁছানো হয়েছে। অনলাইন বুকিং ৯৭ শতাংশ এবং ৯০ শতাংশ সরবরাহ ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে হচ্ছে।

    ছোট সিলিন্ডার

    ছোট সিলিন্ডার সম্পর্কে তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গ্রাহকরা নিকটস্থ ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে ৫ কেজির সিলিন্ডার কিনতে পারবেন।” তিনি জানান, ৫,৫০০-এর বেশি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ও রিফাইনারি কার্যকলাপ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার এলপিজি উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত উপাদান সরবরাহ এবং শুল্ক সমন্বয়ের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্প স্বাভাবিকভাবে চলছে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গৃহস্থালির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পিএনজি এবং সিএনজি সরবরাহও জোরদার করা হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইরান থেকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে ১,৭৭৭ জন ভারতীয়কে সরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯৫ জন ছাত্র এবং ৩৪৫ জন মৎস্যজীবিও রয়েছেন। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত সচিব অসীম মহাজন বলেন, “ভারতীয়দের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন চালু রয়েছে।” প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৭.৩ লাখ যাত্রী ভারতে ফিরেছেন। আকাশপথে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় বিকল্প রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন। জাহাজমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় জাহাজের ক্ষেত্রে কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।” তিনি জানান, দুটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ৪০০-এরও বেশি ভারতীয় কাজ করছেন।

     

  • Iran: আমেরিকা-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, কী বলল তেহরান?

    Iran: আমেরিকা-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, কী বলল তেহরান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান (Iran)। সোমবারই ওই প্রস্তাব নাকচ করা হয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল ওই প্রস্তাব (US Ceasefire Plan)। এর পরিবর্তে ইরান যুদ্ধে ইতি টানতে একটি ১০ দফা রূপরেখা প্রস্তাব করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে। এই পরিকল্পনায় তেহরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের শর্তাবলীও তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা, সাময়িক যুদ্ধবিরতির বদলে স্থায়ীভাবে শত্রুতা বন্ধ করা, এবং লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করা। এতে আমেরিকার সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

    প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিক (Iran)

    এই প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল,  উত্তেজনা হ্রাসকে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত করা। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তারা এই কৌশলগত জলপথ ফের খুলে দেবে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি জাহাজের জন্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার ট্রানজিট ফি, ওমানের সঙ্গে আয় ভাগাভাগি, এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। ইরানের প্রস্তাব, এই আয় ক্ষতিপূরণের বদলে পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করা যেতে পারে। এর আগে ইরান আমেরিকার প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনাকে “অত্যধিক দাবি-সম্পন্ন” ও অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা জানিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ হলেই কেবল আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। এ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, সংঘাত দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় ইরান আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে (Iran)।

    মার্কিন অভিযানের বিষয়েও উদ্বেগ 

    তেহরান ইসফাহানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি অভিযানের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই অভিযানটি ইউরেনিয়াম দখলের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। যদিও ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এটি একটি ভূপাতিত এফ-১৫ বিমানের সঙ্গে যুক্ত এক সেনা সদস্যকে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত হয়েছিল। ইরান সতর্ক করেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ আস্থার সঙ্কট তৈরি করতে পারে (US Ceasefire Plan) এবং আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে (Iran)। ইরানের বিদেশমন্ত্রক সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী নিশ্চয়তা ছাড়া কোনও যুদ্ধবিরতি প্রতিপক্ষকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, যে কোনও চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শত্রুতার অবসান নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নিরাপদ নৌ-যাতায়াত নিশ্চিত করতে অব্যাহত রয়েছে ওমানের সঙ্গে আলোচনা।

  • Iran: ‘সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি-স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে ভারত’, আশা ইরানের

    Iran: ‘সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি-স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে ভারত’, আশা ইরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে তাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এহেন দাবি খারিজ করে দিয়েছে ইরান (Iran)। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এসব প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। ইরানের মতে, বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে (India Global Powers) বৃহত্তর একটি কৌশলের অংশ এটি। ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আবদুল মাজিদ হাকিম এলাহি, বিহারের পাটনায় এক শোকসভায় অংশ নিতে গিয়ে এ কথা বলেন।

    এলাহির সাফ কথা (Iran)

    এলাহি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তানের কোনও ভূমিকাই নেই। তিনি বলেন, “ইসলামাবাদের  মধ্যস্থতায় কোনও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে না। কিছু পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক বাজারকে প্রভাবিত করা যায়।” তাঁর মতে, মধ্যস্থতার দাবি বাড়িয়ে বলা হয়েছে। এটি করা হয়েছে  কূটনৈতিক অগ্রগতির একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে এবং প্রকৃত আলোচনার অভাব সত্ত্বেও তেলের দাম যাতে স্থিতিশীল রাখা যায়, তা-ই। এলাহির অভিযোগ, পাকিস্তান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যথেষ্ট আন্তরিক নয়, কেবল একটি প্রতীকী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আলোচনার যে ধারণা তৈরি করা হয়েছে, তা প্রকৃত অগ্রগতির ভান সৃষ্টি করার জন্য, যদিও বাস্তবে কোনও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা আলোচনা চলছে না। আলোচনার প্রস্তুতির যে খবর ঘোষণা করা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর। বাস্তব পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করেও এই ঘোষণা করা হচ্ছে না।

    সংঘাতের উৎস

    বর্তমান সংঘাতের উৎস সম্পর্কে এলাহি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়েছে। তাঁর মতে, ইরানের যুদ্ধ শুরু করার কোনও ইচ্ছেই ছিল না। তারা আসলে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ করার আহ্বানও জানান (Iran), বিশেষ করে হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক এলাকায় যাতে হামলা বন্ধ করা যায়, সেই জন্য (India Global Powers)। এলাহি বলেন, “যারা এই হামলা শুরু করেছে, তারা থামলে সংঘাতের অবসান সম্ভব।” তাঁর আশা, ভারত-সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশ্বনেতাদের এক সঙ্গে এসে যুদ্ধ শেষ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

    হরমুজ প্রণালীর ওপর জোরদার নিয়ন্ত্রণ

    পশ্চিম এশিয়ার এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যার খবর প্রকাশের পর ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ সঙ্কটকে আরও ঘোরালো করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। অথচ, তামাম বিশ্বে জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এটি। এই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বেড়েছে (India Global Powers)। কারণ এই পথের যে কোনও বিঘ্ন সরাসরি তেল এবং এলপিজি সরবরাহে প্রভাব ফেলে (Iran)।

    হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে ভারতীয় জাহাজ

    যদিও উত্তেজনা জারি থাকা সত্ত্বেও, ইরান জানিয়েছে, অশত্রু মনোভাবাপন্ন দেশগুলির জাহাজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে, যদি তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই আশ্বাস আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকেও জানানো হয়েছে। বর্তমান সংঘাত ও নৌ-অবরোধের আশঙ্কার মধ্যেও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলি নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে। ‘গ্রিন আশা’ নামের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার সম্প্রতি নিরাপদে প্রণালী পার হয়েছে, যা সংঘাত শুরু হওয়ার পর নবম ভারতীয় জাহাজ। জানা গিয়েছে, এই পথে চলাচলকারী প্রায় ৬০ শতাংশ পণ্যবাহী জাহাজ ইরান থেকে আসছে বা ইরানের দিকে যাচ্ছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলে ভারতের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

    এসেছে একাধিক এলপিজি ভর্তি জাহাজ

    গ্রিন আশার আগে আরও আটটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে বিডাব্লু টায়ার এবং বিডাব্লু এলএম নামের এলপিজি জাহাজ প্রায় ৯৪,০০০ টন পণ্য পরিবহণ করেছে। এছাড়াও, পাইন গ্যাস এবং জাক বসন্ত নামের দুটি জাহাজ ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে মোট ৯২,৬১২ টন এলপিজি বহন করেছে (Iran)। এর আগে এমটি শিবালিক এবং এমটি নন্দাদেবী প্রায় ৯২,৭১২ টন এলপিজি গুজরাটের মুন্দ্রা ও কান্ডলা বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে। জাগ লাডকি নামের আর একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ৮০,৮৮৬ টন অপরিশোধিত তেল মুন্দ্রায় নিয়ে এসেছে। আর জাগ প্রকাশ নামের একটি পেট্রোল ভর্তি জাহাজ ওমান থেকে আফ্রিকায় পৌঁছতে গিয়ে নিরাপদে পার হয়েছে হরমুজ প্রণালী (India Global Powers)।

    গ্রিন সনভি নামের আর একটি জাহাজ সম্প্রতি প্রায় ৪৬,৬৫০ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করে এই পথ অতিক্রম করেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী এই জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। বর্তমানে ভারত ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে তাদের জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে, যদিও পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি (India Global Powers) এখনও অস্থির রয়েছে (Iran)।

     

  • LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৪৬,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি (LPG) বহনকারী একটি ট্যাঙ্কার শনিবার সকালে পার হল হরমুজ প্রণালী। ৬ এপ্রিলের মধ্যে মুম্বই বন্দরে পৌঁছবে বলেই আশা। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের তরফে (Hormuz Strait) জানানো হয়েছে, এলপিজি বহনকারী জাহাজ গ্রিন সানভি বর্তমানে প্রণালী পার হয়ে গিয়েছে। জাহাজ মন্ত্রকের কর্তারা জানান, জাহাজটি ৪৬,৬৫৫ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করছে।

    ভারতীয় বন্দরে দুই জাহাজ (LPG)

    দিন কয়েক আগেই হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতীয় বন্দরে পৌঁছেছে দুটি এলপিজি ভর্তি ট্যাঙ্কার। এর মধ্যে জাগ বসন্ত (Jag Vasant) কাণ্ডলায় পৌঁছেছে ৪৭,৬১২ মেট্রিক টন এলপিজি, আর পাইন গ্যাস (Pine Gas) নিউ মাঙ্গালোর বন্দরে ৪৫,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি পৌঁছে দিয়েছে। আরও দুটি এলপিজি জাহাজ গ্রিন আশা (Green Asha)  এবং জাগ বিক্রম (Jag Vikram) বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। পদস্থ এক নৌ-আধিকারিক জানান, ওই অঞ্চলে আটকে থাকা সব জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

    শিপিং কর্তার বক্তব্য

    এদিকে, বিডাব্লু টিওয়াইআর নামের এলপিজি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই মুম্বই পৌঁছে গিয়েছে। মুম্বই আউটার পোর্ট লিমিটসে জাহাজ-থেকে-জাহাজ পদ্ধতিতে পণ্য খালাস করা হয়েছে। আর একটি জাহাজ বিডাব্লু ইএলএমকে এন্নোর বন্দরের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৪ এপ্রিল ভারতে পৌঁছানোর কথা এই জাহাজটির (Hormuz Strait)। শিপিং-কর্তা জানান, বর্তমানে ১৭টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে, ২টি ওমান উপসাগরে, ২টি এডেন উপসাগরে এবং ১টি লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন।

    ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই লক্ষ্য!

    পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২০,৫০০ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫০৪ জন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত, এবং ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি ১,১৩০ জন নাবিককে সরিয়ে নিয়েছে (LPG)। ভারতীয় নৌবাহিনী এবং শিপিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান সমন্বয় এই অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ ও সময় মতো চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে। আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতীয় বন্দরে এলপিজির সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Hormuz Strait)। এই ঘটনাপ্রবাহ উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনা এবং নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে, যাতে নির্বিঘ্নে ভারতে পৌঁছতে পারে জ্বালানি ভর্তি ট্যাঙ্কার (LPG)।

     

  • Iran War: ভরসা সেই ভারতই, তীব্র জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে হাত পাতল বাংলাদেশ-মলদ্বীপ-শ্রীলঙ্কা

    Iran War: ভরসা সেই ভারতই, তীব্র জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে হাত পাতল বাংলাদেশ-মলদ্বীপ-শ্রীলঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিপদে পড়ে সাধুও কলার খোসা খায়! তেমনই দশা হয়েছে বাংলাদেশ, মলদ্বীপের। মাস কয়েক আগেও ‘ইন্ডিয়া আউট’ স্লোগান দিচ্ছিল (Iran War) যারা, তারাই (Energy Crisis) ফের হাত পাতছে ভারতের কাছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সঙ্কট চরমে। এমতাবস্থায় ভারতের কাছেই হাত পাততে হল বাংলাদেশ এবং মলদ্বীপকে। শ্রীলঙ্কাকেও জ্বালানি দেবে নরেন্দ্র মোদির ভারত। যে ভারতের বিরুদ্ধে এক সময় কুকথা বলেছিল বাংলাদেশের মৌলবাদীরা, বয়কটের ডাক দিয়েছিল ভারতীয় পণ্য, জ্বালানি সঙ্কটের জেরে সেই মোদি সরকারের কাছেই হাত পাততে হল বাংলাদেশ-মলদ্বীপকে। আর ভারত? যাবতীয় তিক্ততা ভুলে গিয়ে সে বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। এটি তার ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ।

    হরমুজ প্রণালী (Iran War)

    অবশ্য একটি কঠিন সত্য হল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এশিয়ার দেশগুলির জন্য নির্ধারিত। এতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো জ্বালানি আমদানি-নির্ভর দেশগুলির দুর্বলতা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে ইরান ভারতের “বন্ধু” হিসেবেই চিহ্নিত। তাই তেল এবং এলপিজি  ট্যাঙ্কারগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। যার ফলে স্বস্তিতে নয়াদিল্লি। জানা গিয়েছে, সঙ্কটকালে ভারত ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাঠিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায়। বিবেচনা করা হচ্ছে মলদ্বীপের অনুরোধও। যদিও ভুটান ও নেপালে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে নরেন্দ্র মোদির দেশ (Iran War)।

    কী বললেন রণধীর জয়সওয়াল

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ওই দেশগুলি ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছে (Energy Crisis)। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন বিবেচনা করেই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। বর্তমানে ভারতের কাছে প্রায় দু’মাসের জ্বালানি মজুদ থাকায় আতঙ্কের পরিস্থিতি নেই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সঙ্কটকালে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত অপরিহার্য শক্তি। ইরান-যুদ্ধজনিত সঙ্কটের সব চেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। দেশটি ৯৫ শতাংশ তেল এবং ৩০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত ডিজেলের অভাবে হুমকির মুখে।

    বাংলাদেশকে সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে, স্থগিত করা হয়েছে পাঁচটির মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার কাজকর্ম।এই সঙ্কট-পর্বের মোকাবিলা করতে ভারতের সাহায্য চেয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার। ভারত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকেও জ্বালানি পাঠানো হচ্ছে (Energy Crisis)। জানা গিয়েছে, ১০ মার্চ ভারত বাংলাদেশকে ৫,০০০ টন ডিজেল পাঠিয়েছে। এটি ১৫ বছরের চুক্তির অংশ। পরবর্তী সপ্তাহে আরও ১০,০০০ টন এবং নতুন করে ৭,০০০ টন ডিজেল পাঠানো হচ্ছে। এই সহযোগিতার ঘটনা এমন একটি সময়ে ঘটছে, যখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নয়া সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে (Iran War)।

    “বয়কট ইন্ডিয়া” স্লোগান

    ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় তলানিতে পৌঁছয় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক। সেই সময় “বয়কট ইন্ডিয়া”-সহ ভারতবিরোধী মনোভাব বেড়ে গিয়েছিল। সেই আবহে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হয় গভীর। বিএনপি সরকারের উদ্যোগে অবশ্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের লেখচিত্র ফের ঊর্ধ্বমুখী। এক বছর আগেও ভারতের কড়া সমালোচক ছিল মলদ্বীপ। এখন জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে দ্বারস্থ হয়েছে ভারতের। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু “ইন্ডিয়া আউট” প্রচারের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করেন এবং চিনের দিকে ঝোঁকেন। তবে বর্তমান সঙ্কটের প্রেক্ষিতে মলদ্বীপ আবার ভারতের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য হয়েছে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির এই দেশ মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে (Iran War)। পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির ঘাটতিতে দৈনন্দিন জীবন প্রায় স্থবির। মলদ্বীপ এখন ভারতের কাছে জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ করেছে, যা বিবেচনা করছে দিল্লি (Energy Crisis)।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারতের ভূমিকা

    শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তখন দেশটি চিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ উপেক্ষা করে চিনা জাহাজকে বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়। বর্তমান ইরান যুদ্ধ আবারও শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দেশটি তার ৬০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে, যার বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। সঙ্কটের কারণে জ্বালানির দাম ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে (Iran War)। মার্চের মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেন। এর পরেই ভারত দ্রুত ২০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল ও ১৮,০০০ মেট্রিক টন পেট্রোল পাঠায়। দিসানায়েকে বলেন, “ভারতের দ্রুত সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলের পরিস্থিতি অস্থির ছিল। যার প্রমাণ মলদ্বীপে “ইন্ডিয়া আউট” প্রচার বা বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তির মাথাচাড়া দেওয়া। কিন্তু ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সঙ্কট একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে। এটি হল, রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, ভৌগোলিক বাস্তবতাই গুরুত্বপূর্ণ (Iran War)। এই বাস্তবতায় (Energy Crisis) দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত এখনও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।

  • US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত পাকিস্তান। পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে, তার প্রেক্ষিতেই এমনতর দাবি করেছে ইসলামাবাদ (Pakistan)। পাকিস্তানের এহেন দাবি খারিজ করে দিয়ে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাক নেতৃত্বাধীন এমন কোনও প্রচেষ্টার (US Iran War) সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। সোমবার মুম্বইয়ে ইরানের কনসুলেট জেনারেল জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কেবল অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি জানানো হয়েছে। কনসুলেট আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের যে কোনও মঞ্চ তাদের নিজস্ব বিষয়, সেখানে ইরান অংশ নেয়নি।

    কনসুলেট জেনারেলের বক্তব্য (US Iran War)

    এক বিবৃতিতে কনসুলেট জেনারেল জানান “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক কিছু দাবি এসেছে। আমেরিকার ‘কূটনীতি’ বারবার অবস্থান বদলায়। তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। পাকিস্তানের মঞ্চ তাদের নিজস্ব। আমরা তাতে অংশ নিইনি। আঞ্চলিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান স্বাগত, তবে মনে রাখতে হবে—কে এই যুদ্ধ শুরু করেছে!”  রবিবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক করার পর এই ঘোষণা করেন। বৈঠকে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সমুদ্র পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও ছিল।

    পাক মন্ত্রীর বক্তব্য

    টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দার বলেন, “আগত মন্ত্রীরা ইসলামাবাদে সম্ভাব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।” দারের দাবি, তিনি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্তাদের সঙ্গে, যেমন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান আমেরিকা প্রশাসনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে। রবিবারের ইসলামাবাদ বৈঠকটি কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল বা ইরানের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না (US Iran War)।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার মতে, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা স্বীকার করেনি। তবে ইসলামাবাদের মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনার একটি প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে (US Iran War)। এদিকে, সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর তাদের হামলা অব্যাহত রাখে। এর জবাবে ইরান কুয়েতের একটি (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ জল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা ফাটায় এবং উত্তর ইসরায়েলের একটি তৈল শোধনাগারেও আঘাত হানে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরান সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে, যা তিনি সম্মানের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সময়ে, ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ২,৫০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েন রয়েছে (US Iran War) এবং সমসংখ্যক আরও একটি বাহিনী পথে রয়েছে। এর (Pakistan) মধ্যে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখলের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

     

  • LPG: হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও দুই এলপিজি ট্যাঙ্কার, নাবিকদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’

    LPG: হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও দুই এলপিজি ট্যাঙ্কার, নাবিকদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে আসছে আরও দুটি এলপিজি (LPG) বহনকারী ট্যাঙ্কার। এগুলিতে প্রায় ৯৪,০০০ মেট্রিক টন রান্নার গ্যাস রয়েছে। নিরাপদে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) পার হয়ে ভারতের দিকে আসছে। রবিবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে এই খবর। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিডব্লু টিওয়াইআর’ (BW Tyr) এবং ‘বিডব্লু ইএলএম’ (BW Elm) নামের জাহাজ দু’টির যথাক্রমে ৩১ মার্চ মুম্বই এবং ১ এপ্রিল নিউ মাঙ্গালোরে পৌঁছানোর কথা। এই ভারতীয় জাহাজগুলো হরমুজ পাড়ি দেওয়ার পরে নাবিকরা ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিতে থাকেন। সেই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সেই ভারতীয় নাবিকরা ভারতের পতাকাও ধরে ছিলেন।

    হরমুজ প্রণালী পার দুই ভারতীয় জাহাজের (LPG)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। যদিও ইরান জানিয়েছে, “বন্ধু সব দেশের জাহাজ যদি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে তারা এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।” জানা গিয়েছে, এই দুই জাহাজ সাম্প্রতিকতম ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, যেগুলি এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ পার হতে পেরেছে। ইতিমধ্যেই চারটি এলপিজি (LPG) ট্যাঙ্কার নিরাপদে ভারতে পৌঁছেছে। প্রণালীর পশ্চিম দিকে রয়েছে আরও তিনটি জাহাজ।

    এলএসইজির জাহাজ ট্র্যাকিং

    শুক্রবার এলএসইজির জাহাজ ট্র্যাকিং থেকেই এই খবর মিলেছে। সরকার জানিয়েছে, মোট ১৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও পশ্চিম উপসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে। ওই জাহাজগুলিতে ৪৮৫ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারী দেশ ভারত গত বছর ৩৩.১৫ মিলিয়ন টন গ্যাস খরচ করেছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করা হয়েছিল। এই আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন বন্দরে কাজকর্ম চলছে (Hormuz Strait) স্বাভাবিকভাবেই। কোথাও কোনও জটের খবর মেলেনি (LPG)।

LinkedIn
Share