Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে ফের পুলিশের একাধিক পদে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। রবিবার জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ১৭৩টি থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) ও ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ (আইসি) বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশের আওতাধীন ৩১টি থানাও রয়েছে। কমিশনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। এই বদলির তালিকায় রয়েছে কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পাশাপাশি কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই সব জেলার একাধিক থানার ওসি ও আইসি-দেরও সরানো হয়েছে।

    ভবানীপুর থানার নতুন ওসি

    কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এ কর্মরত সৌমিত্র বসু ভবানীপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। নির্বাচনের আগে এই ধরনের রদবদল যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের। সেই প্রেক্ষিতে ভোটের আগে এই থানার আইসি বদলি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    কলকাতায় বহু থানার ওসি বদল

    এছাড়াও কলকাতার আলিপুর, ইকবালপুর, হরিদেবপুর, এন্টালি, জোড়াসাঁকো, গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, বউবাজার, টালিগঞ্জ, অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট, তারাতলা ও বেহালা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন ওসি নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে, আরজি কর-কাণ্ডের সময় টালা থানর ওসি ছিলেন অভিজিৎ মণ্ডল। তাঁকে উত্তর কলকাতার মানিকতলা থানার ওসি করেছিল কমিশন। তবে, নোটিস জারির পরে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত ভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া অভিজিৎ মানিকতলা থানায় যোগদান করছেন না। তিনি পর্ণশ্রী থানাতেই আগের দায়িত্বে বহাল থাকবেন। মানিকতলা থানার ওসি করা হচ্ছে নিরূপম নাথকে।

    জেলাতেও বিপুল সংখ্যক আইসি বদলি

    জেলা স্তরেও একাধিক বদলি হয়েছে। দেবদুলাল মণ্ডল হালদিয়ার আইসি, কাজল দত্ত কোলাঘাটের দায়িত্বে, সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় এগরার আইসি এবং চন্দ্রকান্ত শাসমল পটাশপুরের ওসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শুধু পুলিশ নয়, প্রশাসনিক স্তরেও বদল এনেছে কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুরে নন্দীগ্রাম–১ ও নন্দীগ্রাম–২ সহ মোট ১৪ জন বিডিওকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভব্রত নাথকে। এর আগে তিনি চন্দননগর থানায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি, খেজুরি, চণ্ডীপুর, হলদিয়া, কোলাঘাট, তমলুক, এগরা ও পটাশপুর-সহ একাধিক থানার ওসি পদেও রবিবার বদল আনা হয়েছে। অন্যদিকে, শীতলকুচি থানার ওসি করা হয়েছে অভিষেক লামাকে, যিনি আগে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় এসআই পদে ছিলেন। এছাড়াও দিনহাটা, মাথাভাঙা, গোকসাডাঙা, রায়গঞ্জ, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, করণদিঘি, চোপড়া ও ইসলামপুর-সহ একাধিক থানার ওসি বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পিন্টু মুখোপাধ্যায়কে দার্জিলিঙের ডিআইবি পদে পাঠানো হয়েছে।

    কী বলছে কমিশন?

    দেখা যাচ্ছে, একই জেলায় যাঁরা দীর্ঘদিব ধরে রয়েছেন, মূলত সেইসব পুলিস আধিকারিকদেরও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আবার সাইবার সেল, ট্রাফিক বা পুলিসে বিশেষ শাখার কর্মরত অফিসারদের থানায় দায়িত্বে আনা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ভোটের সময় স্থানীয় প্রভাব কমানো। এর আগে কমিশন ১৮টি জেলায় ৮৩ জন বিডিও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকেও বদলি করেছিল। এদিকে, নির্বাচন ঘিরে এই ধরনের প্রশাসনিক বদলি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, এই বদলিগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নতুন করে পুলিশে এই রদবদল হওয়ায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: রামনবমীর শোভাযাত্রায় গেরুয়াময় ভবানীপুর, শুভেন্দুর সঙ্গে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ

    Suvendu Adhikari: রামনবমীর শোভাযাত্রায় গেরুয়াময় ভবানীপুর, শুভেন্দুর সঙ্গে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার, রামনবমীর (Ram Navami) শোভাযাত্রার জেরে গেরুয়াময় কলকাতার ভবানীপুর। এই শোভাযাত্রার পুরোভাগে ছিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। যদুবাবুর বাজারে অজন্তা ধাবা থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। সেখানেই দেখা যায়, একেবারে সামনের সারিতে হাঁটছেন গৈরিক পাগড়ি পরা শুভেন্দু। শোভাযাত্রায় ছিল খোল, করতাল, কীর্তনিয়ার কীর্তন এবং জয় শ্রীরাম স্লোগান।

    ভবানীপুরে রামনবমীর শোভাযাত্রা (Suvendu Adhikari)

    শোভাযাত্রা শুরু হতেই দলে দলে লোকজন পা মেলান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আড়ে-বহরে বাড়তে থাকে শোভাযাত্রার কলেবর। শুভেন্দুকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমে যায় রাস্তার দু’পাশে। বাড়ির দোতলার বারান্দা থেকে ঝুঁকে পড়তেও দেখা গিয়েছে বহু মানুষকে। ভবানীপুরবাসীর এমন উৎসাহ দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। কয়েকটি বাড়িতে ঢুকেও পড়েন তিনি। শোভাযাত্রায় হাঁটতে হাঁটতেই শুভেন্দু বলেন, “বাংলায় এবার রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে। হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ হবে। মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। যুবক-যুবতীরা কাজ পাবেন এই বাংলায়ই। ভিন রাজ্যে আর কাজের খোঁজে যেতে হবে না তাঁদের।”

    শোভাযাত্রায় হাঁটলেন শুভেন্দু

    এবারের রামনবমীতে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা শুভেন্দুর। তবে তিনি শুরুটা করলেন ভবানীপুর থেকেই (Suvendu Adhikari)। কারণ, এই কেন্দ্রেই বিজেপির বাজি তিনি। ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রার্থী ঘাসফুল শিবিরের সর্বময় কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, তা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে প্রচারে বেরিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অবশ্য কলকাতায় নেই তিনি। বৃহস্পতিবার তাঁর সভা করার কথা পাণ্ডবেশ্বর এবং দুবরাজপুরে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ফাঁকেই রামনবমীর শোভাযাত্রার (Ram Navami) সঙ্গে সঙ্গে কৌশলে ভবানীপুরে একপ্রস্ত জনসংযোগ কর্মসূচিও সেরে নিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

     

  • West Bengal Assembly Election: বিজেপিতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, যোগ দিলেন রাজবংশী নেতাও, ভোটে বদলে যাবে উত্তরের সমীকরণ!

    West Bengal Assembly Election: বিজেপিতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, যোগ দিলেন রাজবংশী নেতাও, ভোটে বদলে যাবে উত্তরের সমীকরণ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবারও ধস নামল তৃণমূলে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিলেন প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। মঙ্গলবার (West Bengal Assembly Election) মেখলিগঞ্জের এই প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গে পদ্মশিবিরে ভিড়েছেন আরও একজন, তিনি রাংজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর রায়। গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মণও ঘোষণা করেছেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল বংশীবদনের সংগঠন। বর্তমানে বেশ কিছু ইস্যুতে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ শুরু হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বংশীবদন এবার জানালেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। মঙ্গলবার তিনি গিয়েছিলেন বিজেপির কার্যালয়েও।

    তৃণমূলকে তোপ অর্ঘ্যর (West Bengal Assembly Election)

    এদিকে, পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই তৃণমূলকে তোপ দাগেন অর্ঘ্য। ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় ঘাসফুল আঁকা প্রতীকে দাঁড়িয়ে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য তাঁকে টিকিট দেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তার পরেও অবশ্য তৃণমূল-সঙ্গ ছাড়েননি। ছাড়লেন মঙ্গলবার এবং এদিনই তিনি যোগ দিলেন বিজেপিতে। তৃণমূল ছাড়ার কারণে দর্শাতে গিয়ে অর্ঘ্য বলেন, “আমি আর দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দলের পাশে দাঁড়াতে পারি না। আমি আমার এলাকার মানুষের মুখোমুখি হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলাম না।” প্রসঙ্গত, অর্ঘ্যর বাবা অমর রায় প্রধান ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা ছিলেন। তিনি তিনবার মেখলিগঞ্জের বিধায়ক হয়েছিলেন। আটবার কোচবিহারের সাংসদও হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে ছেলে অর্ঘ্যকে নিয়ে বাম-সঙ্গ ছেড়ে অমর যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। সেই অর্ঘ্যই এবার পদ্ম-শিবিরে।

    বিজেপিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা রাজবংশী নেতার

    গেরুয়া ঝান্ডার তলায় তাঁর চলে আসা এবং রাজবংশী নেতা বংশীবদনের বিজেপিকে সমর্থনের কথা (BJP) ঘোষণা বদলে দিতে পারে উত্তরবঙ্গের যাবতীয় সমীকরণ। গত (West Bengal Assembly Election) লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনটি বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। এবার সেখানেই থাবা বসাতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ-জেপি নাড্ডার দল। বংশীবদন বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বলেছি যে আমাদের রাজবংশী ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হবে, রক্ষা করতে হবে আমাদের অধিকার। আমি বিজেপিকে আমার পূর্ণ সমর্থন দিতে এসেছি।” প্রসঙ্গত, এর আগে উত্তরপঙ্গের নেতা অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল বিজেপি। তার পর থেকে বেসুরো গাইতে থাকেন অনন্ত। এহেন পরিস্থিতিতে বংশীবদনের সমর্থনের আশ্বাস বিজেপিকে বাড়িতে অক্সিজেন জোগাবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। কারণ এবার রাজবংশীদের একটা বড় অংশের ভোটই পড়বে পদ্ম-প্রতীকে।

    শুভেন্দুর কটাক্ষ

    বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পদ্ম-খাতায় নাম লেখান অর্ঘ্য এবং রাংজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর (West Bengal Assembly Election)। উত্তরবঙ্গের এই দুই হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় যারপরনাই খুশি পদ্মশিবির। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে থাকাকালীন এই যোগদান তাঁকে উপহার স্বরূপ দেওয়া হল।” তিনি জানান, বংশীবদন রাজবংশী সমাজের উন্নয়নের (BJP) জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে কিছু প্রস্তাব রেখেছন। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বংশীবদন নিজে ভোটে লড়বেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। এদিন দলবদলের এই অনুষ্ঠানে বিজেপির ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি বাপ্পা মণ্ডলও। উত্তরবঙ্গের এই তিন নেতাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “নিজেদের প্রতিষ্ঠিত জায়গা ছেড়ে, কোনও কিছু না চেয়ে, না পেয়ে ওঁরা বিজেপিতে যোগ দিলেন (West Bengal Assembly Election)।”

    ফ্যাক্টর যখন রাজবংশী ভোট

    উল্লেখ্য যে, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি আসনে রাজবংশী ভোট বড় ফ্যাক্টর। এই রাজবংশী সম্প্রদায়েরই বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই করছেন বংশীবদন। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি ছিলেন তৃণমূলের সঙ্গেই। অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাঁধে মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। বংশীবদন বারবার দাবি করেছেন, মাথাভাঙা-সহ কয়েকটি বিধানসভা আসনে গত নির্বাচনগুলিতে যত ভোট পেয়েছে তৃণমূল, তা এসেছে তাঁর সংগঠনের জন্যই। তাই এবার আসন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। দাবি করেছিলেন, রাজবংশী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাইস্কুলের অনুমোদনও। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর এই শর্ত পূরণ না হলে বিজেপিকে সমর্থন করবে তাঁর সংগঠন। সেই মতোই তিনি জানালেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। বংশীবদন বলেন, “রাজবংশী সম্প্রদায়ের আলাদা ভাষা এবং সংস্কৃতি রয়েছে (BJP)। কিন্তু রাজবংশী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এতদিন সম্ভব হয়নি (West Bengal Assembly Election)।”

     

  • RG Kar Case: লিফটকাণ্ডের পর স্ট্রেচার না পেয়ে মৃত্যু! এবারেও কেন্দ্রে আরজি করের অভিষপ্ত ট্রমা সেন্টার, মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    RG Kar Case: লিফটকাণ্ডের পর স্ট্রেচার না পেয়ে মৃত্যু! এবারেও কেন্দ্রে আরজি করের অভিষপ্ত ট্রমা সেন্টার, মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের খবরের শিরোনামে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতাল (RG Kar Case)। এবার ভালো চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এসে মৃত্যু হয়েছে বছর ষাটেকের বিশ্বজিৎ সামন্তের। দিন কয়েক আগে এই হাসপাতালেই লিফট বিপর্যয়ের জেরে মৃত্যু হয়েছিল এক ব্যক্তির। তার রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফের একবার দুর্ঘটনার জেরে আবারও খবরের শিরোনামে এই হাসপাতাল (BJP)। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় সোচ্চার বিরোধীরা।

    আরজি করের ট্রমা কেয়ারে শৌচালয় নেই (RG Kar Case)

    বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বিশ্বজিৎকে। অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। রক্ত পড়া বন্ধ করতে রবিবার থেকেই তাঁর নাকে ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। এরপর সামান্য উন্নতি হয় তাঁর শারীরিক অবস্থার। পরিবারের অভিযোগ, বিশ্বজিৎ শৌচালয়ে যেতে চেয়েছিলেন। ওই বিল্ডিংয়ে শৌচালয় না থাকায় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালের বাইরে থাকা সুলভ শৌচালয় ব্যবহারের পরামর্শ দেন। উপায়ান্তর না দেখে স্ট্রেচারের খোঁজ করতে থাকেন তাঁর বাড়ির লোকজন। স্ট্রেচার না মেলায় তাঁকে হাঁটিয়েই শৌচালয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় আচমকাই অসুস্থ বোধ করেন বিশ্বজিৎ। লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কোলে করে নিয়ে গিয়ে শোয়ানো হয় বেডে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামী রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে বাইরে থাকা জওয়ানকে সাহায্যের জন্য ডেকেছিলেন। কিন্তু তিনি আসেননি বলে অভিযোগ। রাজ্যের সরকারি একটি হাসপাতালে একের পর এক দুর্ঘটনা এবং (BJP) অব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে মৃতের পরিবারও। যদিও এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    লিফটে আটকে মৃত্যু

    গত শুক্রবার লিফট বিপর্যয়ের জেরে এই হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ছেলের ভাঙা হাতের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি। শুক্রবার ছেলের হাতের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। সেদিনই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন সেকশনে দৌড়াদৌড়ি করতে (RG Kar Case) থাকেন অরূপ। পরে ট্রমা কেয়ারের লিফটে উঠে পড়েন তিনজনেই। সেখানেই ঘণ্টাখানেক আটকে থাকার পর স্ত্রী ও ছেলের সামনেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ, লিফট বেসমেন্টে আটকে যাওয়ার পর তাঁর স্বামী নেমে আসার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়ই লিফ্‌ট হঠাৎ উপরের দিকে উঠে যেতে শুরু করে এবং লিফ্‌ট এবং দেওয়ালের মাঝখানে চাপা পড়েই মৃত্যু হয় দমদমের বাসিন্দা অরূপের। প্রচণ্ড চাপের ফলে তাঁর হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও লিভার ফেটে গিয়েছে। এছাড়া তাঁর হাত, পা এবং পাঁজরের হাড়ও ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। ওই ঘটনায় লিফটম্যান-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীকে নিন্দা রাজ্য বিজেপির 

    ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ইচ্ছে করে মেরে দিয়েছে। খুনের মামলা দায়ের হওয়া উচিত। খুনের জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী আরজি করের সুপার। পরোক্ষভাবে দায় স্বাস্থ্য দফতর, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।” আর এক বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যত সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, সবক’টিই আরজি করের মতো আদতে মৃত্যু ফাঁদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। কী (BJP) করেছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও যোগ্যতাই নেই। তাই এবার পরিবর্তন দরকার।” বিজেপির মুখপাত্র, পেশায় আইনজীবী দেবজিৎ সরকার বলেন, “যারা লিফট চালাতে পারে না, তারা আবার সরকার চালাবে কী করে?”

    হাসপাতালে বিক্ষোভ এবিভিপির

    মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে রবিবার, আরজি কর মেডিক্যালের সামনে বিক্ষোভ দেখায় আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। এক বিক্ষোভকারী কর্মী বলেছেন, ‘‘মেডিক্যাল কলেজগুলোর যে বর্তমান পরিস্থিতি, মানুষ এখানে বাঁচতে আসে না। এখানে মরতে আসে। প্রত্যেকটা মেডিক্যাল কলেজ এখন মর্গখানা এবং শ্মশান ঘাটে পরিণিত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে।’’ আর এক বিক্ষোভকারী কর্মী বলেন, ‘‘যতক্ষণ না এই বিষয়ের তদন্ত হচ্ছে এবং যারা যারা দোষী তাদের সাসপেনশন হচ্ছে, আমরা ততক্ষণ অবধি আন্দোলন করব। মমতা ব্যানার্জির যে সরকার, আজকে কেয়ারটেকিং সরকারে পরিণত হয়েছে। মমতা ব্যানার্জি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ফেল, পুলিশমন্ত্রী হিসেবে ফেল।’’

    আরজি করেই ঘটে কর্তব্যরত মহিলা ডাক্তারের হত্যা (RG Kar Case)

    ২০২৪ সালে এই হাসপাতালেই ঘটেছিল সেই ভয়ঙ্কর ঘটনা। কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসক তিলোত্তমাকে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশে খুন করা হয়। প্রথমে সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল লালবাজার। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায় বর্তায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের ওপর। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও রাজ্যবাসীর মনে রয়েছে দগদগে ক্ষতের মতো। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে (RG Kar Case) বেরিয়ে তিলোত্তমাকাণ্ডকে হাতিয়ারও করছে একাধিক রাজনৈতিক দল। বিচার না পেয়ে তিলোত্তমার মা প্রার্থী হয়ে চেয়েছেন পদ্ম শিবিরের। দিন চারেক আগে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের বাড়িতে। তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘণ্টা দেড়েক কথা বলেন অর্জুন। এই সাক্ষাতের পরেই পদ্ম-শিবিরে যোগ দেন তিলোত্তমার মা। রাজনীতিতে তিলোত্তমার মায়ের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিলোত্তমার বাবা বলেন, “যাঁরা বিরোধী দলটা করছেন, যাঁদের শিরদাঁড়া রয়েছে, তাঁরা বিজেপি পার্টির। ক্ষমতায় আসতে পারে। তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার ক্ষমতা রয়েছে বিজেপির।” তিনি বলেন, “বাংলার নারী সুরক্ষার জায়গাটা আরও নিশ্চিত করতে পারব (BJP)।” তিলোত্তমার মা বলেন, “দুঃখ-যন্ত্রণা ভেতরে রয়েছে। সেটাই আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে সব পরিস্থিতি। তাই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি নিজেই ফোন করে বলেছি, প্রার্থী হতে চাই। আমার মেয়েকে কেউ নির্বাচনে ব্যবহার করুক, সেটা চাই না। তাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছি (RG Kar Case)।”

  • Suvendu Adhikari: রামনবমীর আগেই নন্দীগ্রামে রাম মূর্তি ভাঙচুর! তৃণমূল আশ্রিত জেহাদিদের দিকে তির শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: রামনবমীর আগেই নন্দীগ্রামে রাম মূর্তি ভাঙচুর! তৃণমূল আশ্রিত জেহাদিদের দিকে তির শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে (Nandigram) একটি মন্দিরে রামচন্দ্রের মূর্তি ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরাসরি শাসক দল এবং প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। ঘটনাকে তৃণমূল আশ্রিত জেহাদিদের অপকর্ম বলে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় মন্দিরে রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীদের আক্রমণে রামচন্দ্রের মূর্তিকে অপমান করা হয়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া (Suvendu Adhikari)

    মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং জনসভায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, “রাজ্যের তুষ্টিকরণ রাজনীতির কারণেই দুষ্কৃতীরা এ ধরনের দুঃসাহস দেখাচ্ছে।” আগামী ২৭ মার্চ রাম নবমী তাই এলাকায় হিন্দুদের আতঙ্কিত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে বলে তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু।

    প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেছেন, “বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে গড়িমসি করছে। হুঁশিয়ারি দিচ্ছি  দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বিজেপি। জেহাদিরা রামের মূর্তি ভেঙেছে, যেটা রাম নবমীর জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। রাজ্য সরকার হিন্দুদের বিরুদ্ধে। হিন্দু উৎসবের আগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে কিছু সমাজবিরোধী সব সময় এই ধরনের কাজ করে। এমনকি মুসলিমরাও আমাদের মিছিলে থাকেন, তাঁরা এসব করেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভোটব্যাঙ্কের জন্য কিছু গুন্ডা তৈরি করেছেন, তারাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।”

    শাসক দলের অবস্থান

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনও প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে দমনের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতীকের অবমাননার ঘটনাগুলো রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলছে।

  • Assembly Election 2026: ভোটে হাই-ভোল্টেজ ভবানীপুর! বিধানসভা নির্বাচনে মোদির শেষ প্রচার কেন্দ্র স্থির করল বিজেপি

    Assembly Election 2026: ভোটে হাই-ভোল্টেজ ভবানীপুর! বিধানসভা নির্বাচনে মোদির শেষ প্রচার কেন্দ্র স্থির করল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। ঘোষণা হয়েছে নির্বাচনের দিন। ভোটের (Assembly Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণার পর এখনও বাংলায় প্রচারে আসেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi in Bengal)। তিনি বাংলায় কবে প্রথম প্রচার শুরু করবেন, তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে মোদির শেষ কর্মসূচি কোথায় হতে চলেছে, তার আঁচ পাওয়া গেল। হাইভোল্টেজ ভবানীপুরে তাঁর নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এবার ভোটে রাজ্যে সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একুশের নির্বাচনে যে দ্বৈরথ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে দেখা গিয়েছিল, সেটাই এবার হচ্ছে ভবানীপুরে। গতবার নন্দীগ্রামে এই দ্বৈরথে মমতাকে টেক্কা দিয়েছিলেন শুভেন্দু।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্মসূচি

    রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর,পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026)  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কী কী কর্মসূচি থাকবে, তার রূপরেখা চূড়ান্ত করার আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সে আলোচনার শুরুতেই নির্ধারিত হয়েছে শেষ কর্মসূচিটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় বা শেষ দফার নির্বাচনী প্রচারে শেষ রোড শো কোথায় করবেন, স্থির করে ফেলেছে বিজেপি। এ যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী মোদির অন্তিম রোড শো-টি ভবানীপুর ছুঁয়ে যাবে। ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। সে দফায় কলকাতায় ভোট হচ্ছে না। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোট হবে দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল। তাই ২৪ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যেই এই অঞ্চলে ভোটের প্রচার তুঙ্গে উঠবে। ওই সময়েই প্রধানমন্ত্রী মোদি কলকাতায় রোড শো করবেন। সেটিই হবে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে তাঁর শেষ রোড শো। কোন পথ দিয়ে বা কলকাতার কোন কোন অ়ঞ্চল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর রোড শো এগোবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সে কর্মসূচি যে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে অবশ্যই ছুঁয়ে যাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে।

    ভবানীপুরে শেষ রোড-শো!

    বিজেপি সূত্রে খবর, বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার মোদি শেষ করতে পারেন ভবানীপুরে। এই নিয়ে জোর আলোচনা চলছে পদ্মশিবিরে। কলকাতার দুই প্রান্তে দুটি রোড শো করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী (Modi in Bengal)। তবে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অনুমোদন, এসপিজি-র ছাড়পত্র— এমন অনেকগুলি বিষয়ের উপরে যাত্রাপথ চূড়ান্ত হওয়া নির্ভর করছে। সূত্রের খবর, উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতায় মোদি রোড শো, মিছিল করবেন। তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। মোদির ভোট প্রচারের শেষ কর্মসূচির আভাস পাওয়া গেলেও প্রথম কর্মসূচি সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব চাইছেন, আগামী ২৬ মার্চ বঙ্গে ভোট প্রচার শুরু করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও প্রধামন্ত্রীর দফতর থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। শোনা যাচ্ছে, এপ্রিলের শুরুতেই উত্তরবঙ্গে আসবেন মোদি। শিলিগুড়িতে করতে পারেন রোড শো।

     

     

     

     

     

  • Mamata Banerjee: শনি সকালে কালীঘাটে পুজো শুভেন্দুর, মুসলিম ভোট পেতে রেড রোডে মমতা

    Mamata Banerjee: শনি সকালে কালীঘাটে পুজো শুভেন্দুর, মুসলিম ভোট পেতে রেড রোডে মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ময়দানে আজ বিশেষ ছবি ধরা পড়ল। একদিকে রেড রোডের নমাজে অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অন্যদিকে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। উৎসবের আবহে ধর্মীয় অনুষঙ্গকে সঙ্গী করেই ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারের সুর বেঁধে দিলেন রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এই নির্বাচনে মুসলিম ভোটই যে মমতার ভোটব্যাঙ্ক, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে না রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাই ইদের দিনে সোজা রেড রোড থেকেই নির্বাচনী প্রচার করলেন। বিজেপির অভিযোগ,  তোষণ-নীতিকেই বরাবর অগ্রাধিকার দিয়েছেন মমতা।

    কালীঘাটে শুভেন্দুর পুজো ও প্রচারের শপথ (Mamata Banerjee)

    শনিবার সকাল সকালেই কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দেবী দর্শনের পর তিনি বলেন, “রাজ্যের মঙ্গল কামনায় এবং আগামীর লড়াইয়ে আশীর্বাদ নিতেই আমার মা কালীর কাছে প্রার্থনা। ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমেই আমি জনসেবার সংকল্প গ্রহণ করেছি।” ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি যে কোমর বেঁধে নামছে, সেই ইঙ্গিতও এদিন তিনি দিয়েছেন। কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে নির্বাচনী প্রচার পর্ব সেরে ফেললেন শুভেন্দু অধিকারী। নকুলেশ্বর শিব মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরেও পুজো দিতে দেখা যায়। তবে এদিন কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে আসাকে কেন্দ্র করে বেনজির নিরাপত্তা ছিল মন্দির চত্বরে। তাঁর আসার ঘন্টাখানেক আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা ছিল মন্দির চত্বরে।

    কেন এই কর্মসূচী তাৎপর্যপূর্ণ?

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ভিন্নধর্মী কর্মসূচী আসলে প্রতীকী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন তাঁর চিরাচরিত ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’ ও ‘সংখ্যালঘু সমর্থন’ অটুট রাখার বার্তায় হিন্দুত্ব এবং হিন্দু ধর্মকে সমালোচনা করেন, তেমনি রেড রোডে নামাজে যোগদান করে মুসলিম প্রীতিকে বেশি করে প্রধান্য দেন। রাজ্যের ৩৫ শতাংশ ভোট নিজের পকেটে পুড়তে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাল্টা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তেমনি ‘হিন্দুত্বের আবেগ’ এবং ‘সনাতনী ভোটব্যাঙ্ক’ সংহত করার কৌশল বজায় রাখলেন। উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি দুই নেতাই পরোক্ষে বুঝিয়ে দিলেন—আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই শুরু হয়ে গেছে।

    পরোক্ষ ভাবে অনুপ্রবেশকে সমর্থন মমতার

    আজ সকালে রেড রোডে আয়োজিত নমাজে শামিল হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে মুসলিম ভাই-বোনদের শুভেচ্ছা জানান। তবে সেখানই মুসলিম সমাজের ভোট পেতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুপ্রবেশকারী বলে মন্তব্য করেন। পশ্চিমবঙ্গে কোথাও অনুপ্রবেশ নেই বলে ইঙ্গিত দেন।

  • Suvendu Adhikari: ভবানীপুরে প্রচারে নেমেই মমতাকে ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত করার হুঙ্কার শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ভবানীপুরে প্রচারে নেমেই মমতাকে ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত করার হুঙ্কার শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে। একদিকে যেমন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জয়ের ব্যবধান বাড়াতে বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হয়ে সরাসরি ময়দানে নেমেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। উল্লেখ্য মমতাকে (Mamata Banerjee) এবার ২৫ হাজার ভোটে পরাজয়ের কথা ঘোষণা করেছেন। ২০২১ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আগেও একবার নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল বিজেপির কাছেই। এইবার ফের একবার সম্মুখ সমরে মমতা-শুভেন্দু।

    তৃণমূলের রণকৌশল (Suvendu Adhikari)

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে এলাকার ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দিচ্ছেন। তৃণমূল শিবিরের লক্ষ্য কেবল জয় নয়, বরং রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিরোধীদের বার্তা দেওয়া। দলের হেভিওয়েট নেতারা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরছেন। পাল্টা বিজেপি নির্বাচনের আড়াই মাস আগে থেকেই ওয়াররুম তৈরি এবং সংগঠনকে মজবুত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই লড়াইকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রতিটি কর্মিসভায় এবং পদযাত্রায় আক্রমণাত্মক মেজাজে শাসক দলকে বিঁধছেন। তাঁর দাবি, ভবানীপুরের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবেন।

    কর্মসূচির বৈচিত্র্য

    বড় বড় জনসভার বদলে দুই পক্ষই এখন ছোট ছোট বৈঠক এবং ‘ডোর-টু-ডোর’ বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোটারদের ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত করাই এখন এই কেন্দ্রের বিজেপির মূল লক্ষ্য। শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যেমন গেরুয়া শিবিরের উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি মমতার সমর্থনে স্লোগানে মুখর হয়ে থাকছে ভবানীপুরের অলিগলি। ভবানীপুরের এই নির্বাচন এখন আর কেবল একটি সাধারণ আসন দখলের লড়াই নেই; এটি কার্যত দুই বিবদমান রাজনৈতিক আদর্শের প্রেস্টিজ ফাইটে পরিণত হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বনাম তৃণমূলের এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

    সংঘাতের আবহ

    ভোটের প্রচারে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) যখন ভবানীপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলের প্রার্থীর সমর্থনে পদযাত্রা বা সভা করছেন, তখন বারবারই তাঁকে তৃণমূল সমর্থকদের (Mamata Banerjee) বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। প্রচার চলাকালীন দুই শিবিরের কর্মীদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ ও প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সব মিলিয়ে, ভবানীপুরের এই নির্বাচন কেবল একটি আসন জয়ের লড়াই নয়, বরং রাজ্যের দুই শীর্ষ নেতার ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তার এক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা কত, তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ! কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা কত, তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ! কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তিনি। মনোনয়ন জমা দেবেন। কিন্তু তার আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। মূলত পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিজেপি নেতা।

    সঠিক তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ

    শুভেন্দুর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই সঠিক তথ্য পুলিশ তাঁকে দিচ্ছে না। এদিকে, একজন প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট হলফনামা অর্থাৎ ২৬ নম্বর ফর্ম জমা করতে হয়। সেখানে প্রার্থীকে তাঁর ব্যক্তিগত সমস্ত সঠিক তথ্য উল্লেখ করতে হয়। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অপরাধমূলক রেকর্ড, আর্থিক অবস্থা, পেশা ও আয়ের উৎস, সরকারি বকেয়া সবই বিস্তারিত জানাতে হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার নির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছে না, ফলে এই হলফনামা পূরণে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী দলনেতার একাধিক ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো নতুন এফআইআর করা যাবে না।

    আইনি দিকটিও সুরক্ষিত রাখতে চান শুভেন্দু

    তবে পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত সেই সুরক্ষাকবচ তুলে নেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এ ধরনের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। যদিও একই সঙ্গে আদালত শুভেন্দুকে বড় স্বস্তি দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫টি মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়, যা আদালতের মতে ভিত্তিহীন বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। এরই মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় তাঁর কনভয়ে হামলার ঘটনায় নতুন করে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল হাইকোর্ট। এই পরিস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু। এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই তিনি জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের ময়দানে নামার পাশাপাশি আইনি দিকটিও সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন তিনি।

  • Suvendu Slams Mamata: “ভুয়ো, কেউ কোনও অর্থ পাবেন না”, মমতার ডিএ ঘোষণা নিয়ে শুভেন্দু, ‘ভাঁওতা’ দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশেরও

    Suvendu Slams Mamata: “ভুয়ো, কেউ কোনও অর্থ পাবেন না”, মমতার ডিএ ঘোষণা নিয়ে শুভেন্দু, ‘ভাঁওতা’ দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে। তবে সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা (Mamata Banerjee DA Hike) করে জানান, পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA Hike Announcement) মার্চ মাস থেকেই দেওয়া শুরু করবে রাজ্য সরকার। গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। ফলে শাসকদলের বিরুদ্ধে কিছুটা স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনে ভাতা-নির্ভর ভোটব্যাঙ্কের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শাসকদল, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    “কেউ কোনও অর্থ পাবেন না” বললেন শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে তীব্র কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Slams Mamata)। তাঁর দাবি, “এই ঘোষণাগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো। কেউ কোনও অর্থ পাবেন না। সবটাই মুখ্যমন্ত্রীর টুইট হিসেবেই থেকে যাবে।” কেন এমন মন্তব্য করছেন, তার ব্যাখ্যাও দেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর ভাতা বা সুবিধার পরিমাণ এবং উপভোক্তার সংখ্যা বাড়ানো যায় না। সেই কারণেই এই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কার্যকর হবে না বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রতারণার সামিল। শুভেন্দু অধিকারীর মূল অভিযোগ দুটি স্তরে— প্রথম, মডেল কোড অব কন্ডাক্ট (MCC) কার্যকর হওয়ার সময়সীমা। দ্বিতীয়, ভোট ঘোষণার পর নতুন আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর বিধিনিষেধ। তাঁর দাবি, নির্বাচন ঘোষণার পর কোনওভাবেই “ভাতার পরিমাণ” বা “সুবিধাভোগীর সংখ্যা” বাড়ানো যায় না। ফলে এই ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হবে না এবং এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই থেকে যাবে। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দেন, সুপ্রিম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অনুমতি ছাড়া এই সুবিধা কার্যকর করা সম্ভব নয়।

    ‘ভাঁওতা’ দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশেরও

    শুধু বিরোধী দলনেতা নন, মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) ঘোষণাকে ‘আইওয়াশ’ বা ‘ভাঁওতা’ বলে সরব হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশও। বিশেষ করে, এই সংক্রান্ত অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তর অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথমত, এখনই সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথম পর্যায়ে জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে এখনই কোনও দিশা দেখায়নি সরকার। দ্বিতীয়ত, বকেয়া অর্থ দেওয়া হবে দুটি সমান কিস্তিতে। প্রথম কিস্তি মিলবে চলতি বছরের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হবে সেপ্টেম্বরে। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স’ (AICPI Index) অনুযায়ী এই বকেয়া গণনা করা হবে। তৃতীয়ত, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী এবং পেনশনভোগীরা তাঁদের বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ হিসেবে পেলেও, গ্রুপ এ, বি এবং সি এই তিন বিভাগের কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে, ওই অর্থ দুই বছর পর্যন্ত তোলা যাবে না বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। যে কারণে, আন্দোলনকারী সরকারি কর্মীরা সরকারের এই ঘোষণাকে ‘ভাঁওতা’ বলে উল্লেখ করছেন।

LinkedIn
Share