Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছট, জগদ্ধাত্রী তারপর বড়দিন! কলকাতা এখন উৎসব মুখর। ডিসেম্বরে তিলোত্তমা মাতবে চলচ্চিত্র উৎসবে (Kolkata Film Festival)। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শহরে। এখন তার প্রস্তুতিই তুঙ্গে। রবিবার উন্মোচিত হল ৩২ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো। জানানো হল, চেনা মঞ্চ ছেড়ে এবার ইতিহাসের শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বসতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী আসর। উৎসব ঘিরে এবার রয়েছে চমকের পর চমক। দক্ষিণী ছবির মহাতারকা রজনীকান্ত থেকে প্রভাস, বলিউডের অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, অনুপম খের, পরেশ রাওয়াল, কঙ্গনা রানাউত- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চলা তারকাদের তালিকা দীর্ঘ। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে কলকাতা দেখতে চলেছে তারকার মেলা।

    কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো

    রবিবার নন্দনে ২- প্রেক্ষাগৃহে সাংবাদিক বৈঠকে উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির সূচনা হল। পরিচালক সন্দীপ রায়ের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে এবারের লোগো। সেটির উদ্বোধন করেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ এবং উৎসব কমিটির পদাধিকারীরা। সাংবাদিক বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন মিঠুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ বিশিষ্টরা। এ’বছর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড। ৫ নভেম্বর থেকে www.kiff.in ওয়েবসাইট থেকে চলচ্চিত্র উৎসব সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে, আবেদন করা যাবে কার্ডেরও।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা

    লোগো প্রকাশের মঞ্চ থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা প্রকাশ্যে এনে কার্যত চমক দেন মহাগুরু। তাঁর কথায়, রজনীকান্ত, প্রভাস, অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, পরেশ রাওয়াল, অনুপম খের, জনি লিভার এবং কঙ্গনা রানাউতের মতো তারকাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালক অনুরাগ বসু ও মধুর ভাণ্ডারকরও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। তবে এই তালিকার আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ঘোষণা উৎসব কমিটির তরফে এখনও বাকি। তবে এবারের উৎসবে মোট কতগুলি ছবি দেখানো হবে, কোন কোন দেশের ছবি জায়গা পাবে, কিংবা প্রতিযোগিতা বিভাগের তালিকায় কারা থাকবে- সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলেনি আয়োজকরা। প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, ছবি বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রথম সাংবাদিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল লোগো প্রকাশ এবং উৎসবের প্রাথমিক পরিকল্পনা জানানো । নির্দিষ্ট সময়ে বাকি তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

    পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্ন

    এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্নে উৎসব কমিটির এক কর্তা আশ্বস্ত করেছেন, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। কোনও আইন বা বিধি লঙ্ঘন করা হবে না। উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উদ্বোধনের দিনে যে ছবি প্রদর্শিত হবে, প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে সেটি অন্য কোনও প্রেক্ষাগৃহে আবারও দেখানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। অর্থাৎ ভিক্টোরিয়ায় উদ্বোধনী আয়োজন হলেও দর্শকদের জন্য ছবিটি দেখার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার ভাবনা রয়েছে কমিটির। উৎসবের থিম মিউজিক এবং বিশেষ প্রোমো তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন রাতুল শঙ্কর ও অতনু।

    ‘ফিল্ম বাজার’-এর আয়োজন

    কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে এবার বড় আকারে ‘ফিল্ম বাজার’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ ও কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। সবমিলিয়ে এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুধু ছবির প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে উদ্বোধন, মহাতারকাদের সম্ভাব্য উপস্থিতি, আয়ারল্যান্ডকে ফোকাস কান্ট্রি নির্বাচন এবং ফিল্ম বাজারের পরিকল্পনা জমজমাট কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ এবং আবেদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রাথমিক তথ্য জানানো হয়েছে। উৎসব কমিটির সদস্য অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানান, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে উৎসবের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আবেদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। অনলাইনে আবেদনের পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতেও ডেলিগেট কার্ড সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

    চলচ্চিত্র উৎসব উৎসাহী মুখ্যমন্ত্রী

    হাওড়ার সাঁতরাগাছি থেকে নতুন একটি ট্রেনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবছর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘চলতি বছরের কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অনেক জাতীয় স্তরের কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রবাসী ভারতীয় সম্মেলন হবে।” প্রতি বছরই দুর্গাপুজো শেষ হতেই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ বার রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব। ফলে এবারের উৎসব ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র মহলে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে আগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের৷ চলচ্চিত্রপ্রেমী থেকে শুরু করে সিনেদুনিয়ার কলাকুশলীরা, সকলেই এখন ১৭ ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে। রবিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে উৎসবের লোগো প্রকাশের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল প্রস্তুতি পর্ব।

    নন্দন চত্বরে পরিবর্তনের ছোঁয়া

    বদলের বাংলায় নন্দন চত্বরেও এল পরিবর্তন। শহরের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকের উপরে সাদা রং করে দেওয়া হয়েছে। তবে অক্ষত রয়েছে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলক। ১৯৮০–তে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু যা স্থাপন করেছিলেন। তার ঠিক বছর পাঁচেক পর ১৯৮৫–তে সত্যজিৎ রায় নন্দনের উদ্বোধন করেছিলেন। ২০১১–তে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়। ২০১৬–য় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকও লাগানো হয়েছিল নন্দন–রবীন্দ্রসদন চত্বরে সৌন্দর্যায়নের কাজের পরে। ২০২৬–এ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ফের পালাবদল হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসন শেষে রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রিত্বে হতে চলেছে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে এখানে নতুন ফলক আবার বসবে। মিঠুন জানান সেখানে বাংলার কারুরই নাম আসবে, তবে কার কী নামের ফলক বসবে, সেটা তিনি এখনই জানাতে চাননি।

  • Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় যোগ্য আড়াই লাখ আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua People) সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার ঠাকুরনগরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মতুয়া গোসাঁই সম্মেলন ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনে মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া পূরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অথচ যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা ঢের বেশি। এই পরিস্থিতিতে শুনানি ও আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “আমরা শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত করব এবং ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

    মতুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “এই সরকার আপনাদের জন্য।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের অন্য রাজ্যগুলিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও এ রাজ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু যোগ্য মানুষ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    শুভেন্দু আরও ঘোষণা করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া তফসিলি জাতিভুক্ত যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে তফসিলি জাতির শংসাপত্রও দেওয়া হবে। এর ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের সুবিধা হবে বলেও জানান তিনি।

    মতুয়া উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে।

    শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষার ভাতা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপনারা যা প্রয়োজন মনে করবেন, নিয়ম মেনে সরকার তার ব্যবস্থা করবে। এই সরকার আপনাদেরই।”

    এ দিন প্রস্তাবিত অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মতুয়া মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের মাসিক দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয়ের জন্য পৃথক মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভা করার উদ্যোগ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঠাকুরনগরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভার মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী রাজ্য বাজেটে এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হতে পারে। পৃথক পুরসভা গঠিত হলে এলাকার নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালটির নামকরণ করা হবে মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় আধ্যাত্মিক নেত্রী বড়মার নামে। এই হাসপাতাল তৈরি হলে ঠাকুরনগর এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তীর্থক্ষেত্রের ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি করা হবে। মন্দিরের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানেও তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে চান।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আজ ঘোষণা করছি, মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হবে। ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি হবে। ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে আমি নিজে উপস্থিত থাকব।”

    মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোরও চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ বারুণী মেলাকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের। ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের সম্প্রসারণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও সরকার সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া ভোটের গুরুত্ব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজ্যের রাজনীতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রে এই সম্প্রদায়ের ভোট রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল দলটি। পরবর্তী সময়েও রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে মতুয়া ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থেকেছে।

    এই সম্প্রদায়ের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মতুয়া পরিবারের একটা বড় অংশের পূর্বপুরুষের শিকড় অধুনা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। দেশভাগ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা বহু পরিবারের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলি এখনও (Matua People) গুরুত্বপূর্ণ।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে অথবা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

    মমতাকে দুষলেন শুভেন্দু

    ঠাকুরনগরে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রকৃত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। বরং সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করে আগের সরকার প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও বাধা সৃষ্টি করেছিল।

    শুভেন্দু বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের এবং তাঁদের সমাজকে বিভক্ত করেছিলেন। তাঁদের জন্য কোনও কাজই করেননি। বরং সরাসরি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। আগামী দিনে আমি তাঁদের জন্য কাজ করব।”

    ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরে ভবিষ্যতে আর কোনও বিভাজন থাকবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মতুয়া সমাজের ঐক্য বজায় রাখা এবং সম্প্রদায়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, তাঁদের সমর্থনেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে। ঠাকুরনগরের জন্য কিছু করতে পারলে সেটাকেই নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের উত্থান

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে। হরিচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে অবিভক্ত বাংলায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। মূলত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষকে সংগঠিত করে সামাজিক সাম্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় সংস্কারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    পরবর্তীকালে হরিচাঁদ ঠাকুরের পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন। তাঁদের শিক্ষা ও আদর্শের ভিত্তিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচিতি গড়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষত তফসিলি জাতিভুক্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। নমঃশূদ্র সম্প্রদায় (Matua People) পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত।

    দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ থেকে বহু পরিবারের ভারতে চলে আসার কারণে মতুয়া সমাজের একাংশের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব, আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু।

     

  • Bengal Political Violence: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে স্থায়ী চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    Bengal Political Violence: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে স্থায়ী চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে এবার রাজনৈতিক হিংসায় বলি পরিবারগুলির (Bengal Political Violence) একজন সদস্যকে স্থায়ী সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ২০০১ সাল থেকে গত ২৫ বছরে বিভিন্ন নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার (Suvendu Adhikari)।

    বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করার জন্য জেলাশাসকদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞাপন প্রকাশ কবে (Bengal Political Violence)

    নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের বিষয়ে শীঘ্রই সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারে রাজ্য সরকার। সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে চাকরির জন্য আবেদন জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। কোথায়, কোন সালে, কত তারিখে এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, পরিবারের কোন সদস্য চাকরির আবেদন করছেন, নিহতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী, তাঁর বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণও জমা দিতে হবে।

    এরপর শুরু হবে পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু রাজনৈতিক হিংসার কারণে হয়েছিল কি না, আবেদনে দেওয়া তথ্যের সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখবে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তদন্তের রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জেলাশাসক পরিবারের মনোনীত একজন সদস্যের চাকরির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবেন। শেষ পর্যন্ত রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    নবান্নের একটি সূত্রের দাবি, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাউকে স্থায়ী সরকারি পদে নিয়োগের এমন সিদ্ধান্ত রাজ্যে এই প্রথম। স্বরাষ্ট্র দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, অতীতে এই ধরনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পুলিশে হোমগার্ড অথবা কনস্টেবল পদে কাজের সুযোগ দেওয়া হত। তৃণমূল সরকারের আমলে নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও নিয়োগের নজির রয়েছে। পরবর্তী সময়ে চুক্তিভিত্তিক কিছু নিয়োগও হয়েছিল। তবে এবার প্রত্যেককে চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী সরকারি কর্মী হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কী বলছে সরকার

    সরকারের যুক্তি, রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো বহু ব্যক্তির পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যুতে গোটা পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্ত পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। বাম আমলে তৃণমূল কর্মী কিংবা মাওবাদীদের হাতে নিহত সিপিএম নেতা ও কর্মীদের পরিবারের সদস্যরাও নিয়ম মেনে (Bengal Political Violence) আবেদন করতে পারবেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক।

    রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “বিজেপি সরকারে থাকলেও আমরা দলীয় বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। অতীতে কোনও সরকার এই ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। বরং শাসক দল রাজনৈতিক হত্যার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। গত ২৫ বছরে অন্তত ৪৫০ জন বিজেপি নেতা ও কর্মী খুন হয়েছেন।”

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন(Suvendu Adhikari), “রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে হিংসার শিকার হওয়া সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পরিবার যেন এই সুবিধা পান। কোনও রকম দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা চলবে না (Bengal Political Violence)।”

    সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে যোগ করেছে নয়া মাত্রা। উপকৃত পরিবারগুলির মুখে কবে হাসি ফোটে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের দাবিতে কলকাতায় বিশাল কৃষক সমাবেশের আয়োজন করল ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh) পশ্চিমবঙ্গ শাখা। ৩০ অক্টোবর ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে আয়োজিত ‘কৃষক সমাবেশ ২০২৬’-এ রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কৃষি ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক পদক্ষেপের দাবি জানান (Farmers Demands) তাঁরা।

    সমাবেশের শেষে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে ২১ দফা দাবিসনদ গ্রহণ করা হয়। কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কার্যকর করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সেচের ব্যবস্থা, সারের পর্যাপ্ত জোগান, জৈব চাষে উৎসাহ, মৎস্যচাষের উন্নয়ন এবং পশুপালকদের আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়গুলি দাবিসনদে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় কিষান সংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি কে সাই রেড্ডি, সর্বভারতীয় মহিলা সংযোজক মঞ্জু দীক্ষিত, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীনিবাস, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি অনিমেষ পাহাড়ি এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস সরকার-সহ সংগঠনের একাধিক পদাধিকারী ও প্রতিনিধিরা।

    সমাবেশে কৃষকরা কৃষি উৎপাদন, কৃষিজ পণ্যের বিপণন এবং কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কাজকর্মের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিদিনের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে শুধু ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করলেই হবে না। পাশাপাশি প্রয়োজন উন্নত কৃষি পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সরকারের কার্যকর সহযোগিতা।

    মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২১ দফা দাবিসনদ পেশ (Bharatiya Kisan Sangh)

    সমাবেশের পর ভারতীয় কিষান সংঘের নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দাবিসনদ তুলে দেওয়া হয়।

    প্রতিনিধিদলে ছিলেন কে সাই রেড্ডি, মঞ্জু দীক্ষিত, শ্রীনিবাস, অনিমেষ পাহাড়ি এবং আশিস সরকার-সহ কৃষক সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।

    সাক্ষাৎপর্বে প্রতিনিধিরা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যস্তরের সমাবেশে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির বিষয়েও তাঁকে অবহিত করা হয়। কৃষকদের সম্মিলিত মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি এই দাবিসনদে কৃষি উৎপাদন, কৃষকদের আয় এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সমাজের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সংগঠনের উত্থাপিত দাবিগুলি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে যাতে কৃষকদের একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, নভেম্বর মাসে ভারতীয় কিষান সংঘের প্রতিনিধি এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের নিয়ে একটি সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

    কৃষি ও মৎস্য দফতরের সঙ্গে বৈঠক

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত নভেম্বরের বৈঠকে কৃষি দফতর, মৎস্য দফতর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরের আধিকারিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

    ওই বৈঠকে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ এবং দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলির সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজাই হবে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংগঠনের দাবিগুলি শুধু প্রচলিত কৃষিকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে মৎস্যচাষ, পশুপালন, কৃষি গবেষণা, সেচ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের জোগানের মতো বিষয়ও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে একসঙ্গে নিয়ে আলোচনার উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠন।

    ভারতীয় কিষান সংঘের আশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ তৈরি হবে। পাশাপাশি কৃষক সমাজ এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হবে।

    ধানের কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা দর নিশ্চিত করার দাবি

    ২১ দফা দাবিসনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। ভারতীয় কিষান সংঘের বক্তব্য, উৎপাদন খরচ ও কৃষকদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দিতে হবে। শুধু ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো দাম নিশ্চিত করতে হবে।

    বিশেষ করে ধান কেনার ক্ষেত্রে কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত বোনাস দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে ধানচাষিদের আয় বাড়বে এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে সংগঠন।

    জৈব চাষের প্রসার এবং জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের জন্য সুস্থ ও কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য যাতে সহজে বাজারে পৌঁছতে পারে এবং তাঁরা যাতে উপযুক্ত দাম পান, তার জন্য বাজারের সুযোগ বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    সারের কালোবাজারি বন্ধের দাবি

    কৃষকদের অন্যতম বড় সমস্যা সারের কালোবাজারি। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ। চাষের মরশুমে যাতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য উপকরণ সময়মতো এবং নির্ধারিত দামে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কালোবাজারের উপর নির্ভরশীলতা এবং অতিরিক্ত দামে সার কেনার বাধ্যবাধকতা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি উঠেছে।

    কৃষিকাজের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিও জানিয়েছে সংগঠন। বিশেষ করে সেচের কাজে বৈদ্যুতিক পাম্প এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির উপর নির্ভরশীল কৃষকদের আর্থিক বোঝা কমাতে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    অঞ্চলভিত্তিক সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকার ভৌগোলিক ও কৃষিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ পরিকাঠামো এবং জল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের মতে, উন্নত সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলজনিত কারণে ফসলের ক্ষতি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নেও বিশেষ নজর

    কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নের উপরেও গুরুত্ব দিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    মৎস্যচাষিদের জন্য চুন, নুন এবং জলে অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিনামূল্যে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পুকুরের জলের গুণমান বজায় রাখা, মাছের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা এবং উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উপকরণগুলির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠন।

    কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে জমি, বীজ, সার এবং জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে সুসংহত কৃষিনীতি প্রণয়নের দাবি উঠেছে। কৃষকদের বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে গবেষণা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে (Farmers Demands)।

    পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার দাবিও রয়েছে ২১ দফা দাবিসনদে। সংগঠনের বক্তব্য, গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে পশুপালনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও সরকারি আর্থিক সহযোগিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন এবং কৃষি গবেষণাকে একই উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার পক্ষেই সওয়াল করেছে সংগঠন (Bharatiya Kisan Sangh)।

    কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে অঙ্গীকার

    নির্দিষ্ট দাবিগুলির পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং কৃষক সমাজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    সংগঠনের তরফে উন্নতমানের বীজ, পর্যাপ্ত হিমঘর, কৃষক মান্ডির সম্প্রসারণ এবং আধুনিক কৃষি পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি কার্যকর হলে ফসল তোলার পর ক্ষতির পরিমাণ কমবে, কৃষকদের বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ বাড়বে এবং উৎপাদিত ফসলের জন্য তাঁরা আরও ভালো দাম পেতে পারবেন।

    সমাবেশে রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে আসা প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণকে কৃষক সমাজের সম্মিলিত ঐক্যের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় কিষান সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখা। কর্মসূচিকে সফল করে তোলার জন্য অংশগ্রহণকারী কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে (Farmers Demands) সংগঠন।

    কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি আগামী দিনেও রাজ্য সরকারের সামনে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছে তারা। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী নভেম্বর মাসে প্রস্তাবিত সমন্বয় বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে কৃষক সংগঠন। সেই বৈঠকে ২১ দফা দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে আশা ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh)।

     

  • Vedanta Invest in Bengal: ৮০ হাজার কোটির বিনিয়োগ! আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা গড়তে আগ্রহী বেদান্ত

    Vedanta Invest in Bengal: ৮০ হাজার কোটির বিনিয়োগ! আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা গড়তে আগ্রহী বেদান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বড় শিল্প গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন বেদান্ত গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল (Anil Agarwal Vedanta)। বুধবার নবান্নে এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল রাজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। সূত্রের খবর, আসানসোলে (Asansol) অ্যালুমিনিয়াম কারখানা (aluminium smelter) গড়তে চান অনিল। অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও ভাবছে বেদান্ত। দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। রাজ্যে বিনিয়োগ করার জন্য বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যানকে বার্তা দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। বুধবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন অনিল আগরওয়াল।

    ৩ বছরের মধ্যে আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানার ভাবনা

    বাংলা তথা কলকাতার সঙ্গে অনিলের (Vedanta Invest in Bengal) পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। বড়বাজারের তুলাপট্টিতে ছিল অনিলদের পারিবারিক দোকান। কলকাতাতেই কেটেছে ছোটবেলার বেশ কয়েকটি বছর। সেই শহরে ফের কিছু করতে চান অনিল। বাংলার সঙ্গে নতুন বন্ধনে বাঁধতে চান। সূত্রের খবর, আসানসোলে (Asansol) অ্যালুমিনিয়াম কারখানা (aluminium smelter) গড়তে চায় বেদান্ত। প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজও দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী তারা। কয়লার জোগান এবং চালু পরিকাঠামোর সুবিধা থাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির জন্য আসানসোলকেই সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে বেদান্ত। তা ছাড়া আসানসোলে গোষ্ঠীর প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে। সেখানে কারখানা গড়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে প্রকল্পের জন্য আরও জমির প্রয়োজন হতে পারে। অনিল আগরওয়াল জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমীক্ষার ফল অনুকূল হলে এবং সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে ৩ বছরের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলি চালু করা সম্ভব হতে পারে।

    কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার

    মুখ্যমন্ত্রীও বৈঠকে কর্মসংস্থানের বিষয়টিতেই বিশেষ জোর দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে খবর, অনিলকে তিনি বলেছেন, রাজ্যে ১০ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বেদান্তার বিবৃতিতেও বিনিয়োগ ও ১০ হাজার কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হয়েছে। বাংলায় শিল্পে বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কাজের সুযোগ বাড়ানো রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছেন, তিনি শ্রমনিবিড় শিল্পে বিনিয়োগ টানতে আগ্রহী। সেই প্রেক্ষাপটে খনি ও ধাতুশিল্পের আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী বেদান্তর আগ্রহ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আগরওয়াল। আসানসোলে বড় কারখানা হলে তার চারপাশে ছোট ও মাঝারি শিল্পের সুযোগও তৈরি হতে পারে। আগরওয়ালের বক্তব্য, অ্যালুমিনিয়ামকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে নানা পণ্য তৈরির উদ্যোগ নিতে পারবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁর মতে, বড় শিল্পের সঙ্গে সরবরাহকারী সংস্থা ও ছোট উদ্যোগের যোগসূত্র তৈরি হলে কর্মসংস্থানের পরিসরও বাড়বে। বুধবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স এবং তার ইয়ং লিডার্স ফোরামের অনুষ্ঠানেও বাংলার শিল্পসম্ভাবনার কথা বলেছেন বেদান্তা চেয়ারম্যান। দক্ষ কর্মী, মেধাসম্পদ এবং শিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে রাজ্যের বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের সঙ্গে শিল্পমহলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen Arrested) বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বহু রাজনৈতিক সভায় বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। একা তো আর কেউ টাকা নেননি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে।” ইন্দ্রনীলের সঙ্গে (ED) মমতার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দু’জনে একসঙ্গে ঘুরতেন এবং গানও গাইতেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের সকলকেই জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen Arrested)। এদিন সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে (ED)।

    ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Indranil Sen Arrested)

    দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শন এবং বিশেষ পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জন্য ইউনেস্কোর কোনও অনুমোদন বা চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

    এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে একাধিক বার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পরে ফের তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন (Indranil Sen Arrested)।

    ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্দেহ

    প্রাথমিক তদন্তে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শনের আয়োজন এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে ওই আয়োজনের সঙ্গে সংস্থাটির সরাসরি যোগসূত্র থাকার ধারণা তৈরি হয়।

    ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

    আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

    তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন করে বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার নতুন বেঞ্চে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত ১১ মে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (ED)। এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সরকারের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen Arrested)।

     

  • New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘর থেকে এই নীতি (New Industrial Policy) প্রকাশ্যে আনার কথা। দুর্গাপুজোর আগে নীতি ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে যায়। নতুন শিল্পনীতিতে বড় শিল্প সংস্থাকে আকৃষ্ট করতে আর্থিক প্রণোদনা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা থাকতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে (West Bengal) খবর।

    জমি ব্যবহারে কড়া শর্ত (New Industrial Policy)

    নতুন শিল্পনীতিতে দ্রুত শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, ১০০ একর বা তার বেশি জমিতে শিল্প গড়তে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য এক জানালা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দফতরের অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার সমস্যা কমতে পারে।

    শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে লাগানোর বিষয়েও কড়া শর্ত থাকতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জমি পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু না হলে সংশ্লিষ্ট জমি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এই শর্তগুলির চূড়ান্ত রূপ নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।

    কৃষি প্রকল্প ও জনজাতি দিবস নিয়েও সিদ্ধান্ত

    দুর্গাপুজোর পর রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিল্পনীতির পাশাপাশি কৃষি ও প্রশাসনিক বিষয়েও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজ্য সরকারের বহুল প্রচলিত ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৫ নভেম্বর হুগলির পুরশুড়ায় একটি জনসভা থেকে প্রায় ৪৮ লাখ নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ২,০০০ টাকা সরাসরি পাঠানোর কথা রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিত থাকার কথা।

    এছাড়া, যেসব প্রশাসনিক দফতর ইতিমধ্যেই তাদের বরাদ্দ বাজেটের অন্তত ৩৫ শতাংশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেছে, তাদের পরবর্তী কিস্তির অর্থ দ্রুত ছাড়ার জন্য অর্থ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনজাতি গৌরব দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অবদানের কথা তুলে ধরতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    আসন্ন কালীপুজো উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করতে রাজ্যের প্রত্যেক মন্ত্রীকে একটি করে জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময় যাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোনও ঘাটতি না থাকে, সে দিকে নজর রাখতেই এই উদ্যোগ বলে সূত্রের (New Industrial Policy) খবর।

    তোলাবাজি রুখতে হেল্পলাইন

    এর আগে নতুন শিল্পনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে শিল্পের প্রসারের বদলে ভাতা দেওয়ার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে মানুষ ভাতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    একই সঙ্গে রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিল্প স্থাপন বা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও হুমকি কিংবা তোলাবাজির মুখে পড়লে নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি নম্বর ১৫৫-৩৩৫-এ অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও আশ্বাস (West Bengal) দিয়েছেন তিনি।

    সব মিলিয়ে, নতুন শিল্পনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ, প্রশাসনিক অনুমোদনের গতি এবং জমির যথাযথ ব্যবহার কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের। আগামী ৫ নভেম্বর নীতি প্রকাশ্যে এলে রাজ্যে শিল্প স্থাপনের শর্ত ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট (New Industrial Policy) ধারণা মিলবে বলেই খবর।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ের পর বুধবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন বিজেপির দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উপস্থিতিতে বেলা ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই বিধায়ককে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি উপনির্বাচনের ফলাফল, বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট’, বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা

    শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দুই নবনির্বাচিত বিধায়কের কাঁধে উত্তরীয় পরিয়ে তাঁদের নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু অধিকারী। উপনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ফলতায় দেবাংশু পণ্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, রেজিনগরে শাখারভ সরকারের ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ তো সবে ব্রেকফাস্ট হচ্ছে। যা দেখছেন, তা সকালের চা-বিস্কুট। এখনও লাঞ্চ হয়নি। দেখতে থাকুন।” নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামে বিরোধীরা ভোটের আগেই ময়দান ছেড়ে পালিয়েছিল। রেজিনগরে বিরোধীরা জামানতের টাকাও বাঁচাতে পারেনি বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

    চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

    এদিনের অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। হাসিরানি রথের ছেলে চন্দ্রনাথ একসময় তাঁর সহযোগী ছিলেন। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর সহযোগী হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের জন্য ২ কোটি টাকার সুপারি কে দিয়েছিল, তদন্তে সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হওয়া বাকি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেই সুপারি কি ক্যামাক স্ট্রিট থেকে দেওয়া হয়েছিল, নাকি ডায়মন্ড হারবার কিংবা কালীঘাট থেকে—সেটা স্পষ্ট হলেই গোটা তদন্তের বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সুপারি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও সামনে আসেনি।

    মমতাকে নিশানা, নন্দীগ্রাম বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা

    কেন ভবানীপুরের পরিবর্তে নন্দীগ্রাম আসনটি বেছে নিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গও এদিন ফের সামনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমি যদি ওই আসন ছেড়ে আসতাম, তবে উনি ফের উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। কিন্তু এই বয়সে আর ওসব করা উচিত নয়, অনেক বয়স হয়েছে, ওঁর এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত।”

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফলকে সামনে রেখে বিরোধীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, উপনির্বাচনের ফলকে আগামী দিনের রাজনীতিতে বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে শাসক শিবির।

    ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা খারিজে রেজিনগরের উদাহরণ

    বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে আক্রমণ করার বিরোধী প্রচারকেও এদিন চ্যালেঞ্জ করেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলাফলকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিজেপির প্রতি সমর্থন বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম বোনেরা যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, তাঁরাও আমাদের ভোট দিয়েছেন।”

    রেজিনগরের বুথভিত্তিক ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দুর দাবি, প্রায় ৩০০টি বুথের মধ্যে মাত্র ১০০টি বুথ সনাতনী অধ্যুষিত। বাকি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা সনাতনী, আমরা হিন্দু, আমরা মাথায় টিকা লাগাই। কিন্তু সরকার চালাতে গেলে আমরা দলের সংকীর্ণতা পেরিয়ে সমস্ত মানুষের উন্নয়কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই।”

    দুই বিধায়কের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে এদিন বিধানসভায় যেমন নতুন জনপ্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগ্রহণ সম্পন্ন হল, তেমনই উপনির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও আরও তীব্র হল। বিজেপির জয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী উন্নয়ন, সংখ্যালঘু সমর্থন এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান—এই তিনটি বিষয়কেই বিশেষ গুরুত্ব দিলেন।

  • Suvendu Adhikari: ‘এক বছরের মধ্যে সুফল’, গঙ্গাভাঙন রুখতে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, মালদা-মুর্শিদাবাদে কী পরিকল্পনা?

    Suvendu Adhikari: ‘এক বছরের মধ্যে সুফল’, গঙ্গাভাঙন রুখতে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, মালদা-মুর্শিদাবাদে কী পরিকল্পনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গার ভাঙন সমস্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার যৌথভাবে কাজ করার পথে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে গঙ্গার ভাঙন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ফরাক্কা ব্যারেজের সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই উদ্যোগের সুফল পেতে শুরু করবেন সাধারণ মানুষ। তবে নদীভাঙন পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও কাজের গতি এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    ড্রেজিংয়ে জোর, ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গঙ্গা অববাহিকার ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝাড়খণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নদী এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং বা নদীখাত থেকে পলি তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। নদীর গতিপথ ও জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চ্যানেল তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে ঝাড়খণ্ড সরকারকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল।

    সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ড সীমানায় ড্রেজিং ও চ্যানেল তৈরির ক্ষেত্রে আগে যে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে ফরাক্কা ব্যারেজের গেট পরিবর্তন এবং নদীর পাড় বাঁধানোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    গঙ্গা ও ফুলহারের দূরত্ব মাত্র ৭৫০ মিটার, বাড়ছে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    মালদা ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গাভাঙনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ক্রমশ কাছাকাছি চলে আসা। প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে গঙ্গা তার গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ছ’কিলোমিটার সরে এসেছে। গত ১৫-২০ বছরে ফুলহার নদীর গতিপথও প্রায় দু’কিলোমিটার সরে গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে দুই নদীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৫০ মিটারে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ছ’-সাত বছরের মধ্যে গঙ্গা ও ফুলহার পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এর আগে আরও কম সময়ের মধ্যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ করা না হলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেও দুই নদীর মিলিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    দুই নদী মিশে গেলে তার প্রভাব শুধু মালদার নদীতীরবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আশঙ্কা, এর ফলে ফরাক্কা ব্যারেজের কার্যকারিতা গুরুতরভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিপদের মুখে পড়তে পারে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরও। পাশাপাশি মালদহ শহর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা এবং ব্যাপক ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জাতীয় সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগে।

    রতুয়া-মানিকচক বাঁচাতে ১৫৫০ কোটির প্রকল্প

    এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা মোকাবিলায় মালদার রতুয়া ও মানিকচক এলাকার নদীভাঙন রোধে প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকার একটি বিস্তারিত প্রকল্পের প্রস্তাব আগেই কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছে নবান্ন। প্রস্তাবিত প্রকল্পে রাজ্য সরকারের আর্থিক অংশ প্রায় ৬১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই পক্ষকেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক দায়িত্ব নিতে হবে।

    প্রকল্পের পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখতে আইআইটি রুরকি এবং আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ৪৫ কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ দ্রুত শুরু করা জরুরি। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, পলি জমা এবং জলপ্রবাহের চরিত্র বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ না করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

    তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ কবে থেকে পুরোদমে শুরু হবে এবং কোন পর্যায়ে কতটা কাজ করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ের পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত কাজ শুরু করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    ‘এক বছরের মধ্যে সুফল পেতে শুরু করবেন’, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

    দিল্লির বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনারা হাতেনাতে ফল পেতে শুরু করবেন এক বছর পর থেকে। এখন ছ’মাস হয়েছে। দু’বছরের মধ্যে চোখে দেখতে পাবেন। আর পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকৃত অর্থে সোনার বাংলা দেখতে পাবেন।”

    এরপর রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আবার দ্বিতীয় টার্মে যখন বিজেপি আসবে, তখন বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে গোটা ভারতবর্ষের জিডিপি থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ-সহ সব ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় অবদান থাকবে, যেটা স্বাধীনতার আগে ছিল।”

    সব মিলিয়ে, গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ক্রমবর্ধমান ভাঙন রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মালদা ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ জনপদ, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ফরাক্কা ব্যারেজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঘোষিত উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের পরিস্থিতি।

  • Suvendu in Delhi: গঙ্গাভাঙন ও বন্যা রুখতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ, দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন শুভেন্দু

    Suvendu in Delhi: গঙ্গাভাঙন ও বন্যা রুখতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ, দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গা ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে আজ, মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Delhi)। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। কয়েক মাস আগেই সেচ দফতর গঙ্গা ভাঙন নিয়ে একটি রিপোর্ট কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছিল। সেই রিপোর্টে গঙ্গাভাঙনের (Ganga River Bank Erosion) মোকাবিলা বিহার, ঝাড়খণ্ডকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছিল। সেই রিপোর্ট পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিন রাজ্যের প্রধানদের বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক। গঙ্গাভাঙন নিয়ে দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। নদীভাঙন রুখতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ড্রেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের সঙ্গে বৈঠক

    সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বেরোনোর পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই দিল্লি সফরের কারণ স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। বিভিন্ন মহলে এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হলেও মুখ্যমন্ত্রী তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সূচি রয়েছে। তিনি জানান, এই সফর কোনওভাবেই রাজনৈতিক নয়। তাঁর কথায়, “না না, রাজনৈতিক সফর নয়। কাল মালদা, মুর্শিদাবাদের গঙ্গা ভাঙন এবং বন্যাকে স্থায়ীভাবে রোখার জন্য বৈঠক ডেকেছেন জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল। বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং সেচ দফতরকে নিয়ে, মুখ্য সচিবরাও থাকবেন। ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যই যাচ্ছি।” গঙ্গা ভাঙন সমস্যার গভীরতা তুলে ধরে তিনি এর আগে জানান, “কাল তিন রাজ্যের গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ মিশনের বৈঠক রয়েছে। জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল মহাশয় সভাপতিত্ব করবেন। ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গকে ডাকা হয়েছে। আমি সেই বৈঠকে যাব। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।”

    নদীভাঙন রুখতে রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় জরুরি

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সংশ্লিষ্ট জলসম্পদ সংস্থা এবং এনএইচপিসির সঙ্গে নদীভাঙন মোকাবিলায় একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, সেই চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে মালদহ থেকে নদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙনের সমস্যা মোকাবিলায় আরও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উদ্যোগে গঠিত উচ্চপর্যায়ের দলের কাজের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “নদীভাঙন রুখতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় জরুরি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিংয়ের জন্য ঝাড়খণ্ডের প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র এখনও পাওয়া যায়নি। বিহার ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে বলে দাবি তাঁর। এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন। কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সহযোগিতায় ড্রেজিং এবং নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।”

LinkedIn
Share