Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Nandigram By Poll: এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ের প্রত্যাশা! নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ

    Nandigram By Poll: এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ের প্রত্যাশা! নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। নন্দীগ্রামে  (Nandigram By Poll)  হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরে (Rejinagar By Poll) শাখারভ সরকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। মঙ্গলবার হলদিয়ায় হাসিরানি রথকে পাশে নিয়ে একটি সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের দায়িত্ব আমার। এখানকার সকলের মাথায় ছাদ, হাতে কাজ, পেটে ভাত আমার অঙ্গীকার। আমি পূরণ করবই।” জয় যে নিশ্চিত তা বুঝিয়ে শুভেন্দু বললেন, “আমি ভোট করাতে জানি, এমন মার্জিনে বিজেপি জিতবে, কেউ ভাবতে পারেনি। এবারও এমন মার্জিনে জিতব কেউ ভাবতে পারছেন না।” এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বললেন, “ওর পাড়ায় গিয়ে ওকে হারিয়ে দিয়ে এসেছি।”

    মনোনয়ন জমা, জানকীনাথ মন্দিরে পুজো

    মঙ্গলবার বিশাল মিছিল ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান তিনি। তার আগে এদিন সকালে নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিখ্যাত জানকীনাথ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রথম অনুভূতি এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন হাসি রানি রথ। তিনি বলেন, “প্রথম অনুভূতি বলতে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে আমার সমস্ত কর্মী, বিজেপির কর্মীরা এবং সংগঠনকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ ভালোবাসা এবং বড়দের জানাই প্রণাম। দল আমাকে প্রার্থী করেছে, কিন্তু এখানকার সংগঠন আমার সঙ্গে রয়েছে। আমি সবার সহযোগিতা চাইব, যাতে নন্দীগ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি।” মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা। মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামের সঙ্গে আছেন, আমাদের সঙ্গে আছেন। শুধু আমার সঙ্গে নয়, নন্দীগ্রামবাসীর সঙ্গে শুভেন্দু বাবু যে আছেন, সেটাই আজ সবার সবচেয়ে বড় পাওনা।”

    হাসিরানি রথ নতুন মুখ নয়

    গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি কেন্দ্র থেকে জেতার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ রাখেন এবং নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরও একটি আসন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজিনগরের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। ফলে দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচন হচ্ছে। নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে আগে থেকেই বিজেপির অন্দরে জল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁকেই টিকিট দিল দল। হাসিরানি রথ হলেন বিজেপির প্রয়াত নেতা এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। এর আগে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পরিবারের অভিভাবক। তিনি কোনও দায়িত্ব দিলে তা গ্রহণ করবেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়।

    ১ লক্ষের বেশি ভোটে জয় লাভের আশা

    চন্দ্রনাথ রথকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁকে গাড়ির মধ্যে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে তাঁর পরিবারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। এবার সেই পরিবারের হাসিরানি রথকেই ভোটের ময়দানে নামাল বিজেপি। তবে রাজনৈতিক মাঠে হাসি রানি রথ মোটেও নতুন মুখ নন। ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি দু’বার পঞ্চায়েত সদস্য এবং তিনবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ রাজ্যের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর।  ভোটে জয়ের মার্জিন কত হতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে হাসিরানি জানান, সংগঠনের সঙ্গে বসে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দলের মূল লক্ষ্য যে নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটে জয়লাভ করা, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

    রেজিনগরের প্রার্থী নির্বাচনেও চমক

    অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরের বিজেপির পরিচিতি মুখ শাখারভ সরকার। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। কয়েকমাস আগেই বহরমপুরে রামমন্দিরের শিলান্যাসের সময়েও তাঁর নাম নিয়ে বিতর্ক চলেছিল। উপনির্বাচনে প্রার্থী করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শাখারভ। বর্তমান রাজ্য বিজেপির পরিচিত মুখ তিনি। শাখারভ বহুদিনের বিজেপি কর্মী। তিনি মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এখন তাঁকে বিজেপি রেজিনগরে প্রার্থী করল। তাঁকেই কঠিন আসনে জয় ছিনিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। আর নয়া চ্যালেঞ্জ পেয়ে প্রত্যয়ী শাখারভ। তিনি বিশ্বাসী, ‘এবারের নির্বাচনে রেজিনগরের মানুষ প্রকৃত উন্নয়নের জন্য তৈরি। ব্রিজ চাই ও কলেজ চাই। ডেভেলপমেন্ট চাই। সেই সংকল্প নিয়েই রেজিনগরের মানুষ ভোটদান করবেন। এখানকার মানুষ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ভোট দেবেন।’ হুমায়ুন কবীরের হোম গ্রাউন্ডে, তাঁরই ছেড়ে দেওয়া আসনে লড়াই। হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে লড়বেন তাঁরই ছেলে গোলাম নবি আজাদ। নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও, এই কেন্দ্রে লড়াই কঠিন হবে, বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের। এখন দেখার রেজিনগরের মানুষ কাকে বেছে নেন।

  • Bengal BJP: রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদল, মিডিয়া-আইটি-সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে নতুন দায়িত্ব

    Bengal BJP: রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদল, মিডিয়া-আইটি-সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে নতুন দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপিতে (Bengal BJP) সাংগঠনিক রদবদল। দলের মিডিয়া বিভাগ, আইটি সেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে (Social Media Team) কনভেনার, কো-কনভেনার ও মুখপাত্র স্তরে একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের অনুমোদনে এই রদবদল চূড়ান্ত হয়েছে।

    কে, কোন দায়িত্বে (Bengal BJP)

    মিডিয়া বিভাগে কনভেনার করা হয়েছে অনুপম ঘোষকে। কো-কনভেনার হয়েছেন পার্থসারথী চৌধুরী ও চন্দ্রশেখর ভুটিয়া। আইটি বিভাগে কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জয় মল্লিক। কো-কনভেনার করা হয়েছে রত্নেশ সিং, রাম্যাজ্যোতি সরকার, শুভজিৎ কর্মকার এবং সব্যসাচী রায়কে। সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে কনভেনার হয়েছেন উপমন্যু ভট্টাচার্য। কো-কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রীতম ভট্টাচার্য ও ক্যামেলিয়া সান্যাল। দলের চিফ স্পোকসপার্সন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবজিৎ সরকারকে। স্পোকসপার্সন হিসেবে রয়েছেন রীতেশ তিওয়ারি, সায়ন্তন বোস, কেয়া ঘোষ, প্রণয় রায়, ডা. তন্ময় মুখার্জি, সপ্তর্ষী চৌধুরী, ওফেলিয়া সিনহা, অঙ্কণ দত্ত, মেঘা সেন রায়, ডা. নিখিল প্রসূন সিং এবং শমীক দাশগুপ্ত।

    উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটকে সামনে রেখে বাংলায় বিজেপি ২৭০ সদস্যের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছে। সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি রাজ্য কমিটিতে একাধিক নতুন মুখকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক জেলা থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকে রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (Bengal BJP)।

    উপনির্বাচন, নির্বাচন

    আগামী মাসের প্রথম দিকেই রয়েছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। পুজোর পরেই হওয়ার কথা কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভার নির্বাচনও। তার আগে রীতিমত টিম গুছিয়ে নিয়ে ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে পদ্ম শিবির। সেই কারণেই ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে সংগঠনে। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণ তুর্কিদের।

    ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে (Social Media Team) বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে প্রথম সরকার গড়েছে বিজেপি। তার পরেই হতে চলেছে দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন এবং একাধিক পুরসভার নির্বাচন (Bengal BJP)।

     

  • Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচনে (Nandigram Bypoll) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মমতা (Mamata Banerjee) নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না বলেও জানিয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। এর মধ্যেই দলের প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে।

    শনিবার নয়াদিল্লিতে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের প্রার্থী বাছাই সম্মিলিতভাবে হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও তা ঘোষণা করা হয়নি।”

    এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না মমতা (Nandigram Bypoll)

    ঋতব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না। কিন্তু উপনির্বাচনে জেতেন। আর এটা ভালো দেখায় না, তাই না যে এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এলাকায় হেরেছেন এবং নিজের বুথেও হেরেছেন?”

    তিনি ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামেও জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটান।

    এর পরেই ঋতব্রত বলেন, “আমরাও চাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় আসুন।” ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মমতা।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরে দলের অধিকাংশ বিধায়ক দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। দলের এই ভাঙনের জন্য তাঁরা মমতার ভাইপো তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। পরবর্তী সময়ে মমতার পাশ থেকে সরে যান তাঁর হাতে গড়া তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদও। যদিও বিদ্রোহী বিধায়কেরা বারবার দাবি করে এসেছেন, তাঁদের মূল আপত্তি মমতাকে নিয়ে নয়, অভিষেককে ঘিরে (Nandigram Bypoll)।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য

    বছর একাত্তরের মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে কখনও সাধারণ নির্বাচনে জেতেননি।” তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে মমতা হেরে গেলেও, রাজ্যে তৃণমূল জয়ী হয় এবং মমতা মুখ্যমন্ত্রী হন। পরে ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় প্রবেশাধিকার পান মমতা।

    আখরুজ্জামান এও বলেন, “এখন যেহেতু উপনির্বাচন হচ্ছে, আমরা বলেছি, নন্দীগ্রামে আসুন। আমরা কোনও প্রার্থী দেব না। জিতে বিধানসভায় আসুন এবং উন্নয়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”

    নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর আসনেও উপনির্বাচন হতে চলেছে।

    নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এলাকায় কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতার নেতৃত্বে বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনের পরেই রাজ্যে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি শূন্য হয় তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা হুমায়ুন কবিরের পদত্যাগের পর। নির্বাচনের আগে তিনি নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছিলেন। হুমায়ুন কবির নওদা এবং রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখেন এবং ছেড়ে দেন রেজিনগর আসনটি।

    এদিকে, বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের প্রতীকে (Mamata Banerjee) কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। যে-ই প্রার্থী হোন না কেন, উপনির্বাচনে বিজেপিই জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন (Nandigram Bypoll) পদ্ম নেতারা।

     

  • Suvendu on PM Birthday: তৈরি হবে ‘ভারত মণ্ডল’, মোদির জন্মদিনে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালাবে এক কোটি পরিবার, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu on PM Birthday: তৈরি হবে ‘ভারত মণ্ডল’, মোদির জন্মদিনে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালাবে এক কোটি পরিবার, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Birthday) জন্মদিনে ‘মেগা সেলিব্রেশন’-এর পরিকল্পনা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর পেরিয়ে ৭৬-এ পা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রতি বছরই এই জন্মদিন উপলক্ষে বিজেপি একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এবার এ রাজ্যেও বিজেপি সরকার। ফলে বঙ্গবাসীও সামিল হবেন সেই উৎসবে। বৃহস্পতিবার সেই সংক্রান্ত প্রস্তুতি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই তিনি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত কর্মসূচির কথা জানালেন। ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বঘোষণামতো ‘অন্নপূ্র্ণা দিবস’ পালনের পাশাপাশি কলকাতায় দিনভর একাধিক অনুষ্ঠান হবে।

    প্রদীপ জ্বালানো হবে রাজ্যজুড়ে

    শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন নয়, ‘প্রশাসক’ নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরও পূর্ণ হচ্ছে এবছর। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে তিনি পেরিয়েছেন ২৫টি বছর। এই কৃতিত্বের জন্য তাঁকে এবার আলাদাভাবে সম্মানিত করতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই উপলক্ষে ১৭ তারিখ বড়সড় অনুষ্ঠান হবে বাংলাজুড়ে। মূল অনুষ্ঠান অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর প্রদীপ প্রজ্জ্বলন হবে কলকাতায়, গঙ্গার তীরে। ‘আশীর্বাদও কি দিয়া’ অর্থাৎ আশীর্বাদের প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এই উদযাপনের সূচনা হবে। ওই দিন রাজ্যের অন্তত এক কোটি পরিবার এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ এরপর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উদযাপন করা হবে প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন। ওইদিন প্রায় ‘অকাল দিওয়ালি’র পরিবেশ তৈরি হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ওইদিন কলকাতার বিভিন্ন সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী ভবন, কালীঘাট মন্দির সাজানো হবে প্রদীপ দিয়ে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে চলেছে রঙ্গোলি যাত্রা। এতে প্রাকৃতিক সামগ্রী দিয়ে ১০৮ মিটার ‘ভারত মণ্ডল’ তৈরি হবে। রাজ্যজুড়ে মোদির জন্মদিনে মেগা সেলিব্রেশন হলেও নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে তা পালিত হবে না। কারণ, আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘‘নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে সরকারের তরফে কোনও অনুষ্ঠান হবে না। কারণ, এই দুই জায়গায় আদর্শ আচরণবিধি লাগু রয়েছে। সেখানকার সাধারণ জনতা অথবা রাজনৈতিক দলের তরফে অবশ্য উদযাপন হতে পারে।”

    সেবা সম্পর্ক অভিযান

    ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে একমাস ব্যাপী সেবামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। যার নাম দেওয়া হয়েছে , সেবা সম্পর্ক অভিযান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, তার এই যে লম্বা কার্যকাল, এটাকে আমরা মর্যাদার সঙ্গে, পালন করার জন্য, অন্যান্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুলকে, ৮০ হাজারের বেশি স্কুলকে যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের যারা বিদ্যার্থী আছেন, তাঁদের স্বপ্নের ভারত কেমন হওয়া উচিত, ২০৪৭ এর বিকশিত ভারত, তাঁকে সামনে রেখে ড্রয়িং, ক্যুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, বিতর্ক, রাইট আপ, নানা ধরণের কর্মসূচি, আমাদের স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও নম সেবাগাথা, অঙ্গন কা উৎসব, কাহানী বদলাও কি, অর্থাৎ বিভিন্ন পরিবার, যারা প্রধানমন্ত্রী আবাস পেয়েছেন, শৌচালয় পেয়েছেন, জলজীবন মিশনের জল পেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর পেয়েছেন, আয়ুষ্মান ভারতে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন, এছাড়াও পিএম কিষাণ সম্মাননিধি সহ, একাধিক কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে, তাঁদের পরিবারের এবং তাঁদের নিত্যদিনের, জীবন যাপনের ক্ষেত্রে, সামাজিক অর্থনৈতিক কী পরিবর্তন ঘটেছে, সেটাও আমাদের এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা, এই প্রোগ্রামও নেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায়, আমাদের এই উপলক্ষে সাইকেল ব়্যালি, বাইক ব়্যালি, পদযাত্রা, নানা ধরণের প্রোগ্রাম নেওয়া হয়েছে।”

  • Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশিকী অমাবস্যায় (Koushiki Amabasya) কালীঘাট মন্দিরে (Kalighat) পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো শেষ হওয়ার পর মন্দিরের মাটিতে বসেই ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাতে ছিল বাসন্তী পোলাও, মাছের মাথা ও পায়েস। বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতিতে দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদনের যে দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে, এদিনের পুজোয় তারই প্রতিফলন দেখা যায়। মায়ের পুজোয় আমিষ গ্রহণ নিয়ে অকপট শুভেন্দু (Suvendu in Kalighat) বলেন, “সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। দুর্গাপুজোর অষ্টমী কিংবা কার্তিক মাসে আমি যেমন সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক আহার মেনে চলি, তেমনই এক জন বাঙালি হিসেবে মায়ের ভোগের মাছ কিংবা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণ করতেও আমার কোনও দ্বিধা নেই।”

    মাতৃকৃপায় তিনি জনকল্যাণে ব্রতী

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুজোর ডালা নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডালায় ছিল বেনারসি শাড়ি, ফুলের মালা ও মিষ্টি। দেবী কালীর চরণে সেগুলি নিবেদন করে আরতি ও অঞ্জলি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নামেই পুজোর সংকল্প করা হয়। ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে এদিন তিনি জানান, মাতৃকৃপা ও প্রাপ্ত ‘গুরুদায়িত্ব’ নিয়েই তিনি জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। পুজো নিবেদনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অখণ্ড ভারত গঠন, বাঙালি তথা সনাতন সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং দেশবিরোধী শক্তির বিনাশই তাঁর মূল লক্ষ্য। শুভেন্দু বলেন, “যেদিন ভবানীপুরে আমার নাম ঘোষণা হয়েছিল, প্রথম মায়ের কাছে এসেছিলাম। মা পদধূলি দিয়ে বলেছিলেন, তোকে দায়িত্ব দিলাম।”

    বাঙালি ঐতিহ্য মেনেই মায়ের ভোগ

    বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির প্রচলিত রীতি মেনেই এদিন কালীঘাটে দেবীর জন্য সাজানো হয় নানা পদে সমৃদ্ধ ভোগের আয়োজন। সেখানে ছিল বাসন্তী পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, শুক্তো, ডাল, সবজি, পনির এবং একাধিক ধরনের মাছ। ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, পার্শে ও কাতলা-সহ মাছের বিভিন্ন পদ ছিল ভোগের তালিকায়। ছিল কাতলা মাছের মাথাও। পাশাপাশি বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস ও চাটনি পরিবেশন করা হয়। মায়ের ভোগ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মন্দিরের পুরোহিতদের দেওয়া মাছ ভাজা, মাছের মাথা, বাসন্তী পোলাও-সহ বিভিন্ন পদ তিনি প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, অষ্টমীর দিন এবং কার্তিক মাসে তিনি সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। আবার বাঙালি হিসেবে দেবীকে যে মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়, সেই প্রসাদও তিনি গ্রহণ করেন। একইভাবে পাঁঠা বলির প্রসাদ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

    দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্ক, মন্দির থেকেই বার্তা

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে ঘিরে আলাদা তাৎপর্য দেখছে রাজনৈতিক মহল। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার গ্রহণ নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও বিজেপির একাধিক নেতা স্পষ্ট করেছেন, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ার বিষয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই। এই আবহে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর আমিষ ভোগ গ্রহণকে নিছক ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে বাঙালির নিজস্ব ধর্মীয় আচার, খাদ্যসংস্কৃতি এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রসঙ্গটি এদিনের অনুষ্ঠানে নতুন করে সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও সন্ত বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতেই পারেন। কে সেই মত গ্রহণ করবেন, তা ব্যক্তিগত বিষয়। আমিও কার্তিক মাস দামোদর মাসে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করি, আবার বাঙালি হিসেবে..পাঁঠা বলির প্রসাদও গ্রহণ করি।”

    রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বার্তা

    বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ কারও উপরে চাপিয়ে দেওয়া যেমন হবে না, তেমনই তাঁকে সামনে রেখে ঘোলা জলে বিরোধীরা মাছও ধরতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘লিলুয়ায় একজন সাধু এসেছিলে‍‍ন। তিনি দেশপ্রেমের কথা, রাষ্ট্রবাদের কথা, অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতির কথা তাঁর মতো করে তিনি বলেছেন। যাঁরা সে সব গ্রহণ করতে চান, করবেন। যাঁরা চান না, করবেন না। তিনি কারও উপরে কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।’ এরপরে নাম না–করে মুখ্যমন্ত্রী নিশানা করেন কংগ্রেসকে। ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ না–মানার অধিকার অবশ্যই আছে, কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো সমর্থনযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, ‘আমি কতগুলি লোককে দেখলাম, ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়াচ্ছে। আমি এখান থেকে সিপিকে (কলকাতার সিপি অজয় নন্দ) বলছি, ওই লোকগুলিকে গ্রেফতার করতে হবে। এ রাজ্যে এ সব চলবে না।’ তাঁর এই নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, সাধু–সন্তদের অপমান বিজেপি–শাসিত বাংলায় কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবে না সরকার।

    গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে

    বাগেশ্বর বাবা আর বিজেপিকে এক বন্ধনীতে ফেলে পদ্ম–নেতাদের গায়ে বাঙালি বিরোধী তকমা সাঁটতে শুরু করে দিয়েছিলেন বিভিন্ন শিবিরের বিরোধীরা। যদিও বাগেশ্বর বাবার আমিষ–নিরামিষ সংক্রান্ত পরামর্শের সঙ্গে যে বিজেপি কোনও ভাবেই সম্পৃক্ত নয়, সেটা ঘটনার দু’দিনের মাথায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি নবমীর দিন পাঁঠার মাংস খাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। একই ভাবে নিজেদের আমিষপ্রীতির জানান দেন দি‍লীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, সুকান্ত মজুমদারের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতা–নেত্রীরা, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। এবার বিরোধীদের স্পষ্ট জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ধর্মীয় আচার ও বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে শেষ পর্যন্ত সনাতন সংস্কৃতির জাগরণের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে, কখনও নীচে নামবে না।” ‘বহুজন সুখায় বহুজন হিতায়’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু জানান, রাজ্য থেকে দেশবিরোধী শক্তিকে নির্মূল করার জন্য মায়ের কাছে শক্তি ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন।

  • Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে ‘দুর্গাপুজো’ (Durga Puja) বলা ও লেখার উপরেই জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্গাপুজোর পরিবর্তে কোনও পুজোর স্টলে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে তা বাতিল করার নির্দেশ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুজোর নামকরণ নিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দু বলেন, দুর্গাপুজোয় ‘পুজো’ শব্দটি এড়িয়ে তথাকথিত বামপন্থীরা যদি কোনও স্টল করেন এবং সেখানে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকে, তা বাতিল করা হবে। পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুর্গাপুজোকে দুর্গাপুজোই বলতে হবে। ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে সেই স্টল বাতিল করা হবে।”

    বৈষম্য বরদাস্ত নয় (Suvendu Adhikari)

    এদিন বিধানসভায় নিজের বক্তব্যে বারবার দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। দুর্গাপুজোকে ‘সার্বজনীন উৎসব’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না।

    রাজনৈতিক বিক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করেও একাধিক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও পরিস্থিতিতেই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে নিশানা করা উচিত নয়।

    বিক্ষোভ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশই পালন করবে বলেও জানান তিনি। জনপ্রতিনিধিদের হাতে লাঠি নিয়ে রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি রাস্তায় নেমে পড়ার প্রয়োজন নেই।

    ‘হিংসা ছড়াবেন না’

    অতীতের কয়েকটি আন্দোলন ও সংঘর্ষের প্রসঙ্গও এদিনের বক্তব্যে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে হিংসা বা উত্তেজনা ছড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেন (Suvendu Adhikari)।

    ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিশানা করার অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কেউ গেরুয়া পোশাক পরলে, মাথায় শিখা রাখলে কিংবা ধর্মীয় মালা পরলে তাঁকে আলাদা করে নিশানা করা যাবে না। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা অন্য যে কোনও ধর্মের মানুষকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বক্তব্যের শেষাংশে দুর্গাপুজোর বিভিন্ন কমিটির (Durga Puja) উদ্দেশে পুজোর আয়োজন এবং সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—যাদবপুরে গেরুয়া (Saffron) সম্মান যাত্রা শেষে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি। মিছিল শেষে এইট বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেরুয়াকে অপমানকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া ও দেশের মর্যাদাকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    গেরুয়াময় যাদবপুর (Suvendu Adhikari)

    বুধবার দুপুর থেকেই যাদবপুর কার্যত গেরুয়া রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। গেরুয়া পোশাক পরে এবং হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন বহু সাধু-সন্ত। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে মিছিল। আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রায় বিভিন্ন সময়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও ওঠে। কপালে গেরুয়া তিলক, হাতে ডমরু নিয়ে সাধু-সন্তদের অংশগ্রহণে মিছিলের আবহ ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবধারায় পরিপূর্ণ।

    গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু হয়ে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয়। সেখানে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরের মতো জায়গায় দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা গেরুয়ার অবমাননা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “আমি শপথ নিয়েছি এই যাদবপুরে, যেখানে উৎকর্ষের কেন্দ্র, যেখানে ঋষি অরবিন্দের ভূমি, এখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাংকে আর কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের এবং যাঁরা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন, তাঁদের শিকড়-সহ তুলে ফেলব আমি।”

    তবে বক্তব্যের এই অংশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, যাদবপুর দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র। সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    শুভেন্দুর ‘তিন সত্যি’

    মঞ্চ থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। বলেন, “আপনারা জানেন, ২০১১-য় পণ করেছিলাম কমিউনিস্টকে সরাব। আমি পণ করেছিলাম মোদিজির নেতৃত্বে ছাব্বিশে জামাতি সরকারকে সরাব। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।”

    এর পরেই স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং স্বামী প্রণবানন্দের প্রসঙ্গ তুলে গেরুয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আপনারা সঙ্গে থাকুন স্বামী বিবেকানন্দের মাটি, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে।”

    শুধু বুধবারের কর্মসূচি নয়, আগামী দিনেও যাদবপুরে একাধিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে আরও দু’বার যাদবপুরে আসার কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, একবার বেদপাঠের আসরে এবং অন্যবার হনুমান চল্লিশা পাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। যাদবপুরে তিন দিন ধরে বেদপাঠের আয়োজন করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    তিনি বলেন, “এখানে পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে দু’বার আসব। দেশ ও গেরুয়াকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার বেদপাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে আসব।”

    যাদবপুরে আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবাদী মানুষদের যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আশা করব, সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।” তিন দিন ধরে বেদপাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    গুরুত্বপূর্ণ বিল

    এদিনের সভায় উচ্চশিক্ষা দফতর সংক্রান্ত বিষয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করার কথা জানান (Saffron) তিনি। তাঁর দাবি, পরের দিন বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আসতে চলেছে এবং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করার বিষয়েও তিনি বক্তব্য রাখবেন বলে জানান।

    শুভেন্দু বলেন, “উচ্চশিক্ষা দফতর যা করছে, তা এখন বলব না। কাল বিধানসভায় বলব। কাল ঐতিহাসিক বিল আসতে চলেছে। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করছে সরকার। আমি বলেছি, আমাকে ১০-১৫ মিনিট কথা বলার সময় দিতে হবে।”

    এদিনের মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ। শুভেন্দু অধিকারীর পাশে তাঁকে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন কয়েকশো সাধু-সন্ত। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী তাপস রায়ও মিছিলে শুভেন্দুর পাশে ছিলেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    ‘বন্দে মাতরম’

    মিছিল এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর পর সকলে ‘বন্দে মাতরম’ গান। এরপর মঞ্চ থেকে ফের যাদবপুরকে স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই ভূমিতে গেরুয়ার উপস্থিতিই থাকবে।

    শুভেন্দু বলেন, “গেরুয়ার অপমান সহ্য করব না। পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলাম। যাদবপুর থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, রেড স্যালুট কী করে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তা জানে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুরে, যা ঋষি অরবিন্দের ভূমি, সেখানে কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকদের শিকড়-সহ তুলব।”

    এর আগে ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি (Suvendu Adhikari)। কমিউনিস্টদের সরানোর পাশাপাশি জামাতের সরকার সরানোর সংকল্পের কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ ও সহযোগিতাতেই সেই রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

    গেরুয়া সম্মান যাত্রা

    এদিনের গেরুয়া সম্মান যাত্রাকে কেন্দ্র করে যাদবপুরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে সাধু-সন্তদের উপস্থিতি, বেদপাঠ, হনুমান চল্লিশা পাঠ এবং গেরুয়া পতাকা—অন্যদিকে দেশবিরোধী স্লোগান ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ, সব মিলিয়ে এদিনের কর্মসূচিটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    শুভেন্দুর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে গেরুয়ার মর্যাদা রক্ষা (Saffron), সনাতন সংস্কৃতির প্রসার এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধিতার বিষয়। যাদবপুরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তাই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। আগামী দিনে বেদপাঠ ও হনুমান চল্লিশা পাঠের কর্মসূচি ঘিরে যাদবপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: বাল্যবিবাহ-নাবালিকার সন্তান প্রসব রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, গ্রেফতার থেকে ভাতা বন্ধ গুচ্ছের শাস্তির ব্যবস্থা

    Suvendu Adhikari: বাল্যবিবাহ-নাবালিকার সন্তান প্রসব রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, গ্রেফতার থেকে ভাতা বন্ধ গুচ্ছের শাস্তির ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাল্যবিবাহ এবং ১৮ বছর বয়সের আগে সন্তান প্রসবের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে এই দুই সমস্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, বাল্যবিবাহে জড়িত ব্যক্তি, অভিভাবক এবং বিয়ে সম্পাদনে সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হতে পারে।

    ‘১ নম্বরে রান করছি’ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছ’মাসের হিসাবেই রাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের সন্তান প্রসবের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। তাঁর কথায়, “আমরা দু’টো বিষয়ে ভারতবর্ষে এখন প্রথম। বিগত সরকারের কুফল। একটা হচ্ছে ১৮ বছরের নীচে বিবাহ। আর ১৮ বছরের নীচে সন্তান (Child Marriage) প্রসব। এটাতে আমরা এখন ১ নম্বরে রান করছি।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট কিছু কেস তো করবই, গ্রেফতার তো করবই। থামাতে হবে তো, থামাতে হবে এবং পচা খাবারে যেমন অভিযান হচ্ছে, এটায় আরও বড় অভিযানে নামব, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে আনব।”

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাল্যবিবাহ কিংবা ১৮ বছরের আগে সন্তান প্রসবের ঘটনায় দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের সরকারি ভাতা বন্ধ করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “সব বন্ধ করব। রাস্তায় গড়াগড়ি খেলেও ভাতা পাবে না। পকসো আইনে জেলে চলে যাবে।”

    তবে আইনি দিক থেকে বিষয়টি একটু স্পষ্ট করে দেখা প্রয়োজন। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে মূল শাস্তির বিধান রয়েছে বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন, ২০০৬-এ। অন্যদিকে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন, ২০১২ প্রযোজ্য হতে পারে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতাও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হতে পারে।

    বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে কী শাস্তি?

    আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের বেশি বয়সি কোনও পুরুষ কোনও শিশুকে বিয়ে করলে তাঁর সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা, অথবা দু’টোই হতে পারে।

    শুধু বিয়ে করলেই নয়, বাল্যবিবাহ সম্পাদন, পরিচালনা, নির্দেশ দেওয়া কিংবা তাতে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে। পুরোহিত, কাজি, মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কোনও ব্যক্তি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করতে সাহায্য করলে তাঁরও সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

    শিশুর অভিভাবক বা দায়িত্বে থাকা কোনও ব্যক্তি বাল্যবিবাহে উৎসাহ দিলে, অনুমতি দিলে অথবা তা আটকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে পকসো

    ১৮ বছরের কম বয়সি প্রত্যেকেই শিশু হিসেবে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতায় পড়ে। ফলে কোনও নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে, বিয়ে হয়েছে কি না—সেটি একমাত্র বিষয় নয়; পরিস্থিতি অনুযায়ী পকসো আইন প্রযোজ্য হতে পারে।

    অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ন্যূনতম ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। আর ‘গুরুতর অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতনে’র ক্ষেত্রে সংশোধিত আইনে ন্যূনতম ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড থেকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন, এমনকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

    বিশেষত ১২ বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন, একাধিকবার যৌন নির্যাতন, নিকট আত্মীয় বা অভিভাবকসুলভ অবস্থানে থাকা ব্যক্তির দ্বারা নির্যাতন এবং শিশুকে জেনে যে সে গর্ভবতী, তার উপর যৌন নির্যাতন—আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    ১৮ বছরের আগে সন্তান প্রসব হলে?

    শুধু কোনও নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে বা সন্তান প্রসব করেছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তির প্রশ্ন ওঠে না। আইনের মূল লক্ষ্য শিশুটিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তার সঙ্গে যৌন অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা হতে পারে।

    বাল্যবিবাহ রুখতে আরও কড়া অভিযান

    রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বাল্যবিবাহ শনাক্ত করতে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। বাল্যবিবাহে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি বিয়ে সম্পাদনকারী বা সহযোগীদের বিরুদ্ধেও মামলা করার কথা বলা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক—দু’টি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। বাল্যবিবাহের জন্য মূলত বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন প্রযোজ্য হলেও, ১৮ বছরের কম (Child Marriage) বয়সি শিশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে কার্যকর হতে পারে পকসো আইনের কঠোর বিধান।

     

  • Nandigram By Election: দুর্গাপুজোর আগেই ভোটপুজো! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা কমিশনের

    Nandigram By Election: দুর্গাপুজোর আগেই ভোটপুজো! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আগেই ভোটপুজোর (Nandigram By-election) আয়োজন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর সহ একাধিক আসনে ভোটের দিন ঘোষণা করার পরেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। ভোটের দিন ঘোষণা হতেই বিজেপি শিবিরের প্রস্তুতি ও জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিধাননগরের পার্টি অফিসের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাধারণ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য সবরকম চেষ্টা করছেন এবং আগামী উপনির্বাচনে অত্যন্ত ভাল ফলাফল করবে দল। নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের ফলে এবং রেজিনগর কেন্দ্র থেকে হুমায়ুন কবীরের ইস্তফার কারণে এই দুই আসন খালি ছিল।

    ৯ অক্টোবর ভোটগণনা

    নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু ব্যাখ্যা করেন, সেখানে বিজেপির ভোট ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, রেজিনগরে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন হলেও সেখানেও সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে জয়ের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই কেন্দ্রের ফলাফল আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের তিনটি রাজ্যের মোট পাঁচটি বিধানসভা এবং একটি লোকসভা আসনে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষে আগামী ৯ অক্টোবর ভোটগণনা ও চূড়ান্ত ফলপ্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ মহালয়ার আগেই সম্পন্ন হবে ভোট-উৎসব।

    অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট-আয়োজন

    নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গিয়েছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। প্রার্থীরা ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজেদের মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন। এর পর ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন স্ক্রুটিনি বা পরীক্ষা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অব কন্ডাক্ট পুরোপুরি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করেছে। প্রতিটি বুথেই ইভিএম (EVM) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT)-এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভোটারদের শনাক্তকরণের জন্য সচিত্র ভোটার কার্ডকে প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে রাখা হলেও, পাশাপাশি আধার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো মোট বারোটি বিকল্প নথি দেখিয়েও ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যাবে।

  • Suvendu Adhikari: দুর্গাপুজো নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! অনুদান ১ লক্ষ, বিদ্যুতে পুরো ছাড়, বাতিল কার্নিভাল

    Suvendu Adhikari: দুর্গাপুজো নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! অনুদান ১ লক্ষ, বিদ্যুতে পুরো ছাড়, বাতিল কার্নিভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় এবার বড়সড় বদল পশ্চিমবঙ্গে। পালাবদলের পর প্রথম পুজোয় একদিকে যেমন অনুদানের অঙ্ক কমিয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হল, অন্যদিকে পুজো কমিটিগুলির খরচ কমাতে মিলল বিদ্যুৎ বিলে ১০০ শতাংশ ছাড়। বাতিল করা হল কার্নিভালের মতো অতিরিক্ত আয়োজনও। সোমবার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    প্রয়োজনেই অনুদান, অযথা সরকারি খরচ নয়

    পুজোর অনুদান নিয়ে আগের সরকারের নীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ছিল। এবার সেই জায়গায় প্রয়োজনভিত্তিক নীতির পথে হাঁটল নতুন সরকার।

    • ● গত বছর অনুদান ছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। এবার তা কমিয়ে করা হয়েছে ১ লক্ষ টাকা।
    • ● ছোট ও আর্থিকভাবে দুর্বল পুজো কমিটিগুলিই যাতে সরকারি সাহায্যের প্রকৃত সুবিধা পায়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
    • ● বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে স্বেচ্ছায় সরকারি অনুদান না নেওয়ার আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘যাঁরা এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য সরকার এক লক্ষ টাকা দেবে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না। আমি বড় বাজেটের পুজোগুলোকে বলতে চাই, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য নেবেন না। যাঁরা নেবেন না, তাঁদের বিশেষ ধন্যবাদ।’’

    অর্থাৎ, সব জায়গায় নির্বিচারে সরকারি অর্থ খরচ না করে যেখানে সত্যিই প্রয়োজন, সেখানে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দিল সরকার।

    পুজো কমিটিগুলির বড় স্বস্তি, বিদ্যুতে ১০০% ছাড়

    অনুদান কমলেও পুজোর অন্যতম বড় খরচে মিলেছে বড় সুবিধা।

    • ● কলকাতা-সহ রাজ্যের সব পুজো কমিটির বিদ্যুৎ বিলে ১০০ শতাংশ ছাড়। গত বছর বিদ্যুতে ৮০ শতাংশ ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।
    • ● রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এবং সিইএসসির সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত। ফলে পুজোর সময় বিদ্যুতের খরচ নিয়ে কমিটিগুলির বড় চাপ কমবে।
    • দমকলের ছাড়পত্র নিতেও কোনও টাকা খরচ করতে হবে না পুজো কমিটিগুলিকে।

    নেই কার্নিভাল, কমবে বাড়তি আয়োজনের চাপ

    এবার দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালও থাকছে না।

    • ● রেড রোড-সহ সরকারি উদ্যোগে কার্নিভালের আয়োজন বাতিল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘যে চাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল, সেই কার্নিভাল হচ্ছে না।’’
    • ● পুজো কমিটিগুলির উপর বাড়তি আয়োজনের চাপ কমানোর দিকটিও স্পষ্ট এই সিদ্ধান্তে।
    • ● বদলে মহালয়ার দিন ইডেনে বিশেষ কর্মসূচি হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    ২৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন

    পুজোর পর নিরঞ্জন নিয়েও এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা।

    • ● ২৫ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করতে হবে।
    • ● পঞ্জিকা মেনে নিরঞ্জনের উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
    • ● নিরঞ্জনের সময় ক্রেন ব্যবহার না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    অষ্টমীতে মদ বন্ধ, ডিজেতেও নিষেধাজ্ঞা

    উৎসবের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    • ● অষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে মদের দোকান বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে পানশালাও।
    • ● পুজোর দিনগুলিতে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ।
    • ● শোভাযাত্রার জন্য জাতীয় সড়ক আটকানো যাবে না।

    মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সকলের সহযোগিতা নিয়েই নিয়মগুলি কার্যকর করা হবে।

    নতুন সরকারের পুজোর নীতি কী বলছে?

    এবারের ঘোষণাগুলিতে মূলত তিনটি বিষয় স্পষ্ট—প্রয়োজনভিত্তিক সরকারি সাহায্য, অপ্রয়োজনীয় খরচে লাগাম এবং উৎসবে শৃঙ্খলা। অনুদানের অঙ্ক কিছুটা কমলেও বিদ্যুৎ বিলে সম্পূর্ণ ছাড়ের মতো বড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারের দাবি অনুযায়ী, শুধু অনুদানের অঙ্ক নয়, পুজো কমিটিগুলির সামগ্রিক আর্থিক চাপ কমানোর দিকটিই এবার বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

LinkedIn
Share