Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধে কোনও রকম আপস নয়, অপরাধীদের মনে আইনের ভয় থাকা জরুরি—এই বার্তাই কি আরও একবার সামনে এল গাইঘাটার ঘটনায়? একাদশ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত ২৩ বছরের প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশকর্মীরা।

    পুলিশের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত

    গত রবিবার, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে গাইঘাটা থানা এলাকায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে। সে নির্যাতিতারই এক আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে।

    সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, ফেরার পথে প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামাতে বলে প্রহ্লাদ। গাড়ি থেকে নামার পর এক পুলিশকর্মীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায় সে। প্রাণ বাঁচাতে এক পুলিশকর্মী পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। ঘটনায় এক পুলিশকর্মী আহত হন বলে খবর।

    এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় বলে দাবি। তাতে প্রহ্লাদের পায়ে ও শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি লাগে। পরে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

    আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    নারী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বার্তা ছিল, ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’। অর্থাৎ, অপরাধের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না, এমনই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। নারী নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের রেয়াত করা হবে না এবং আইন ভাঙলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃতের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা সেই বার্তাকেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

    ‘পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে’, বলছেন দিলীপ ঘোষ

    গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষও অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করা এবং পুলিশের উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইন অমান্য করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগেও ঘটনা ঘটেছে। খুনি পালাচ্ছিল। এনকাউন্টার হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে। এখানেও হয়েছে। বিচারের সামনে সবাইকে আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই হবে।”

    পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশকে মানুষকে ন্যায় দিতে হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে ভুলে গিয়েছে। ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে।”

    তাঁর আরও বক্তব্য, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রুখতে সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তৈরি করা জরুরি। দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভয় তো এত সহজে কেউ পায় না। কারণ আইন-কানুন ব্যবস্থা বহু বছর বাংলায় নেই। কিন্তু আইন-কানুনের রাজত্ব যদি প্রতিষ্ঠা হয়, তাহলে সবাই ভয় পাবে। সতর্ক হবে। দু’টো জিনিস করতে হবে। যেমন সমাজে সুবিচার আনা, পরিবেশ ঠিক করা। যাতে লোকে এই ধরনের কাজ না করে। আর করলে তার যে সাজা হবে, তা যেন উদাহরণ হিসেবে থাকে।”

    বারুইপুরের ঘটনারও পুনরাবৃত্তি?

    গাইঘাটার আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও ওঠে। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয় প্রভাসের। গাইঘাটার ঘটনাতেও পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তের গুলির মুখে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: ‘ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও তার তার, এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ’, বিজয়া সম্মিলনীতে বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও তার তার, এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ’, বিজয়া সম্মিলনীতে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। কিন্তু ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্বও তার তার।” পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো-পরবর্তী বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ, পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গ।” সোমবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে রাজ্য সরকারের আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একদিকে যেমন রাজ্যের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের পরিবেশের কথা তুলে ধরেন, অন্যদিকে চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন তিনি। আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে তদন্ত কমিটির সুপারিশ রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও তার তার’

    বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, উৎসব পালন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয় প্রত্যেকের নিজস্ব বিষয় হলেও ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের। এ বার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই বিষয়টি বুঝেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ধর্ম যার যার উৎসব সবার—এটা তো ঘটনা। কিন্তু ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্বও তার তার। এটা এবারে পশ্চিমবঙ্গের সকলে বুঝেছেন। এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ, পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গ।”

    দুর্গাপুজোয় মাইক ব্যবহারের অনুমতি এবং প্রতিমা বিসর্জনের রুট নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গেও অতীতের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দুর্গাপুজোর মাইক বাজানো নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হত। আলিপুরদুয়ারের ভালাকাটা, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার মহেশপুর এবং কলকাতার উপকণ্ঠে গার্ডেনরিচের মতো এলাকার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। বিসর্জনের রুট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আমি কোনও সম্প্রদায়কে দায়ী করি না। আমি দায়ী করি বিগত দিনে যারা প্রশাসনে ছিলেন তাঁদের। তাঁরা আত্মসমর্পণ করতেন।”

    চোরবাগান দুর্ঘটনা ‘হিউম্যান এরর’, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস

    বক্তব্যের শুরুতেই চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “চোরবাগানের ঘটনা আমাদের মন, হৃদয় একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে।” দুর্ঘটনাটিকে ‘হিউম্যান এরর’ বা মানুষের ভুল বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তবে ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং কারা দায়ী, তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্ত কমিটির উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শে এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার নিজেরাই তদন্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের দায়িত্ব অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির হাতে তুলে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    তদন্তে কোনও পক্ষপাতের জায়গা থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আনব না। আমি ছোট্ট ঘটনা বলব না। আমি বলব, যাদেরই ভুলে এই ঘটনা ঘটে থাকুক না কেন, তার মূল্যায়ন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ম্যাডাম মহোদয়া করবেন। ওই ঘটনার জন্য দায়ী কাউকে আড়াল করবে না সরকার।”

    তদন্ত কমিটির সুপারিশ শুধু প্রকাশ্যে আনাই নয়, আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে প্রচারপত্রের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটির কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আহত ২৫ জনের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য

    চোরবাগানের দুর্ঘটনায় আহত ২৫ জনের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান তিনি। দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নেওয়ার প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও অহঙ্কারকে গুরুত্ব না দিয়ে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার ছিল।

    এ দিনের বিজয়া সম্মিলনীতে দুর্ঘটনার কারণে শোকের আবহ বজায় ছিল। বাতিল করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের লোকসংস্কৃতিকে একই মঞ্চে তুলে ধরার পরিকল্পনাও সংক্ষিপ্ত করা হয়।চোরবাগানের ঘটনায় বিহারের মুজফফরপুরের দুই বাসিন্দার মৃত্যুর প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায়ের নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধি দল সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    রাজ্যে প্রায় ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো, শান্তিপূর্ণ উৎসবের দাবি

    দুর্গাপুজোর সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এ বছর রাজ্যে ৫৮ হাজার অনুমোদিত দুর্গাপুজো হয়েছে। বাড়ি এবং মঠ-মিশনের পুজো যুক্ত করলে মোট সংখ্যা প্রায় ৬৬ হাজার। চোরবাগানের দুর্ঘটনা বাদ দিলে রাজ্যের বাকি দুর্গাপুজোগুলি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    সোমবারের অনুষ্ঠানে কলকাতা, হাওড়া, চন্দননগর, বিধাননগর ও ব্যারাকপুরের প্রায় ছ’হাজার পুজো কমিটির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনে আগামী দিনের উৎসব আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সতর্কতা ও নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কালীপুজো, ছটপুজো ঘিরে আগাম প্রস্তুতি

    দুর্গাপুজো শেষ হলেও রাজ্যে একের পর এক উৎসব রয়েছে। সামনে কালীপুজো, দীপাবলি, ছটপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো ও কার্তিক পুজো। এই উৎসবগুলিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বিশেষ করে ছটপুজোয় বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দেন তিনি। আগামী ২৮ অক্টোবর সরকারি অফিস খোলার পর উৎসবগুলির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষ বৈঠক হবে বলে জানান শুভেন্দু।

    চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বড় জমায়েতগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    আন্তর্জাতিক মানে গঙ্গাসাগর মেলা, সামনে ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি উইক’

    গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও এ দিনের সভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে মেলার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব, প্রবাসী ভারতীয় সম্মেলন এবং ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি উইক’-এর মতো আসন্ন কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। আগামী ২৭ জানুয়ারি কলকাতায় ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি উইক’ আয়োজনের প্রসঙ্গ তুলে বড় কর্মসূচিগুলির প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

    এ দিনের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী, পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ ওরফে কার্তিক মহারাজ, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

    চোরবাগান দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুপারিশগুলি সমস্ত পুজো কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এ দিনের সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যও রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

  • Suvendu on Woman Safety: নাবালিকা বিবাহ রুখতে পদক্ষেপ! নারী-নিরাপত্তায় জোর, লক্ষ্মীপুজোয় বাংলার ‘লক্ষ্মী’দের ভালো রাখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu on Woman Safety: নাবালিকা বিবাহ রুখতে পদক্ষেপ! নারী-নিরাপত্তায় জোর, লক্ষ্মীপুজোয় বাংলার ‘লক্ষ্মী’দের ভালো রাখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের লক্ষ্মীদের ভালো রাখতে বদ্ধ পরিকর সরকার। লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় মহানায়ক উত্তম কুমারের বাড়ির পুজোয় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে এল নাবালিকা বিবাহ (prevention of child marriage) থেকে নেশার কবলের মতো সমাজের সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলের প্রসঙ্গও। সে বিষয়ে শুধু একা সরকার নয়, মানুষের সাহায্যও চাইলেন তিনি।

    নাবালিকাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ

    রাজ্যের নাবালিকা বিবাহ এবং সন্তান প্রসবে নাবালিকাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নাবালিকাদের সন্তান প্রসবের ঘটনা রীতিমতো উদ্বেগের। তিনি এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, গত ছয় মাসে মুর্শিদাবাদে মোট ১২,৮৫৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ১২,৫৮৫ এবং শহরাঞ্চলে ২৬৫টি ঘটনা বলে জানানো হয়েছে। বয়সের নিরিখে ১০–১৩ বছর বয়সিদের মধ্যে ২৮টি, ১৩–১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ৮১৭টি এবং ১৫–১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ৬,৫২৭টি ঘটনা রয়েছে। ১৮ বছর বয়সে নথিভুক্ত ঘটনা ৫,৪৮৩টি। তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে মোট ৪,১৭৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ৪,০৬৩ এবং শহরাঞ্চলে ১১৫টি। বয়সভিত্তিক হিসাবে ১০–১৩ বছর বয়সিদের মধ্যে ৫টি, ১৩–১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ২৪৪টি, ১৫–১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ১,৯৬৯টি এবং ১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ১,৯৬০টি ঘটনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে সমস্ত ঘটনাই হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব (institutional delivery) হওয়ায় নথিভুক্ত হয়েছে। ফলে এই পরিসংখ্যানের বাইরে থাকা ঘটনা থাকলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

    নাবালিকা বিবাহ রুখতে পদক্ষেপ

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্র বলছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ৬৭ হাজার নাবালিকা গর্ভধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। এই তালিকায় ১২,৮৪৭টি ঘটনা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। এর মধ্যে বড় অংশই ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরী, এমনকি ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সের প্রসূতিও রয়েছে সেখানে। তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪,১৭৮) ও পূর্ব বর্ধমান (৩,৭৭৭)। এর পর পর্যায়ক্রমে মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলি রয়েছে। ধর্মীয় পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ এক বিশেষ সম্প্রদায়ের হলেও, আইন ও অপরাধের বিচার সব নাগরিকের জন্য সমান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সন্তান প্রসবকারী নাবালিকাদের স্বামীদের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাসের মধ্যে তাঁদের স্ত্রীদের বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের বয়স ২১ বছর হওয়ার আইনি যোগ্যতা ও বয়সের প্রমাণ পেশ করতে বলা হবে বলে জানানো হয়েছে। বয়সের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, নাবালিকা বিবাহ এবং নাবালিকাদের সন্তান প্রসব—দুই ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    গ্রেফতার এবং ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান

    সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বাল্যবিবাহের ঘটনা নজরে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, শুধু সচেতনতা বা সতর্কবার্তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। তাই বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা প্রসবের ঘটনাগুলি চিহ্নিত করে মামলা, গ্রেফতার এবং ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা নাবালিকা বিবাহ করেছেন তাঁদের স্বামীদের বয়স ২১ পেরিয়ে যাওয়ার কারণে এবং ইনস্টিটিউশনাল ডেলিভারি হওয়ায় স্বাস্থ্য দফতর থেকে এই সব ব‍্যক্তিদের কাছে নোটিশ যাবে। শুধু তাই নয়, এই সব পরিবারের লোকজন বিয়ে দিয়ে থাকলে সব রকম সরকারি প্রকল্প থেকেও বঞ্চিত থাকবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন।

    বাংলার প্রতিটি পরিবারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বাংলার প্রতিটি পরিবারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘অভিভাবক, অভিভাবিকাদের বলব, ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে দেবেন না। এই কারণে বহু প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হচ্ছে। ১৫-১৪ বছরের বাচ্চা মেয়েদের তো এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। কিন্তু তাদেরও ১৮-র নীচে বিয়ে হচ্ছে এবং সন্তান প্রসব হচ্ছে হাসপাতালে। এ এক ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি। এইটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ তাঁর কথায় উঠে এল বাল্যবিবাহ এখনও গ্রামীণ বাংলার একটা বড় সমস্যা। এখানে শুধু বাংলার মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষাই নয়, তাঁদের জীবন-মরণের মতো বড় একটা সমস্যার শিকড়ও জুড়ে রয়েছে। সরকারের কাজ কী? শুধু তো ভাতা দেওয়া বা রাস্তা তৈরি করা নয়। সরকারের কাজ সমাজের মধ্যে সংস্কার আনা। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সংস্কার আনার ক্ষেত্রে মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়করা শুধু নয়, জনগণকে যুক্ত করে করতে হবে এবং সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    নেশামুক্ত সমাজ, পুলিশের কড়া পদক্ষেপ

    প্রশাসনের ভূমিকা তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় লক্ষ্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের আরও পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আরও শক্ত হাতে আইন কার্যকর করতে হবে।’কিন্তু এখানে আইনের কার্যকর হওয়ারও একটা বড় গুরুত্ব রয়েছে। তা মনে করিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৮ জনের মতো ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হয়ে আছে, তার মধ্যে ছটা পকসো (POCSO) মামলা। তাদের ডেথ পানিশমেন্ট হয়ে আছে। তাদের যে শাস্তি কার্যকর হচ্ছে না, এর ফলে বেপরোয়া ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। এই জায়গা থেকে আমাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এক নম্বর।’ শুধু আইন নয়, বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নেশার মতো ভয়ানক সামাজিক ব্যাধির কোপও। তা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘নেশামুক্তি না ঘটলে বাংলার আমাদের মা-বোন, দিদি-কন্যারা সুরক্ষিত থাকবে না। আমি মনে করি, এই বিকৃত মানসিকতার মূলে রয়েছে নেশা। এই জায়গা থেকে বাংলাকে, ভারতবর্ষকে যেমন নেশামুক্ত করতে বলছে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গকেও নেশামুক্ত করতে হবে।’

     

     

     

     

  • WB Schools Pass Fail: স্কুলে পাশ-ফেল ফেরানোর পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী, আগামী শিক্ষাবর্ষে একাধিক বদলের ইঙ্গিত

    WB Schools Pass Fail: স্কুলে পাশ-ফেল ফেরানোর পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী, আগামী শিক্ষাবর্ষে একাধিক বদলের ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষায় ফের পাশ-ফেল (WB Schools Pass Fail) প্রথা চালু করার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিলেবাস কমিটির সুপারিশ এবং জাতীয় শিক্ষানীতির দিকনির্দেশনা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক শিক্ষার প্রসার এবং ব্রতচারী, এনসিসি ও এনএসএসের মতো কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার পক্ষেও সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, আগামী শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় একাধিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

    পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে শিক্ষা দফতর ও সিলেবাস কমিটির মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “সিলেবাস কমিটির সুপারিশ আমরা মেনে চলব। নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিও রয়েছে। তাই রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। শিক্ষা দফতরের দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ। এই বিষয়ে তাঁদেরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া যুক্তিযুক্ত। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, স্কুলে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।”

    পাশ-ফেল ফেরানোর ভাবনা (WB Schools Pass Fail)

    বর্তমানে রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে প্রাথমিক স্তর থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পাশ-ফেল ব্যবস্থা নেই। তবে এই ব্যবস্থা ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষা মহলে আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, সিলেবাস কমিটির বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, প্রাথমিক স্তরকে বাদ রেখে পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পাশ-ফেল চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

    পাশ-ফেল প্রথা ফিরলে কোনও পড়ুয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে তার জন্য অতিরিক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফল প্রকাশের পরে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের জন্য ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত বিশেষ বা রেমেডিয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা করা হতে পারে। এরপর ফের পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার ভাবনাও রয়েছে। দ্বিতীয়বারেও উত্তীর্ণ হতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ওই পড়ুয়ার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।

    সিলেবাস কমিটির এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য, একদিকে শিক্ষার মান বজায় রাখা, অন্যদিকে পরীক্ষায় ব্যর্থ পড়ুয়াদের উন্নতির সুযোগ দেওয়া। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষিত হয়নি।

    পাশ-ফেল তুলে দেওয়ার পিছনে ছিল স্কুলছুট কমানোর যুক্তি

    রাজ্যে পাশ-ফেল প্রথা তুলে দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ১৯৮২ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে প্রাথমিক স্তরে, অর্থাৎ চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার পর দেশজুড়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের আটকে না রাখার নীতি চালু হয়।

    ২০১৮ সালে শিক্ষার অধিকার আইনে সংশোধনের মাধ্যমে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গে এখনও সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

    পাশ-ফেল তুলে দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল স্কুলছুটের হার কমানো এবং পড়ুয়াদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। অন্যদিকে, শিক্ষামহলের একাংশের বক্তব্য, নিয়মিত মূল্যায়ন ও শ্রেণিভিত্তিক দক্ষতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদার না হলে পড়ুয়াদের শিক্ষাগত ভিত দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই নতুন ব্যবস্থা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

    দেশপ্রেম ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ

    স্কুলশিক্ষায় পরিবর্তনের প্রসঙ্গে পড়ুয়াদের মধ্যে দেশপ্রেম, সামাজিক সচেতনতা এবং রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রস্তাব, প্রতি বছর অন্তত তিন দিন স্কুলে বিতর্ক, কুইজ এবং তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হোক। তাঁর মতে, এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ ও সমাজ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।

    এ প্রসঙ্গে বিরোধী মত ও রাজনৈতিক বিতর্কের আবহেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মতপ্রকাশ, আলোচনা এবং সমালোচনামূলক চিন্তার সুযোগ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষামহলের একাংশ (WB Schools Pass Fail)।

    ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে বদল, ফিরতে পারে ব্রতচারী ও এনসিসি

    পশ্চিমবঙ্গের স্কুলপাঠ্যে ভারত ও রাজ্যের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীদের কাছে ইতিহাসের উপস্থাপনা আরও আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক হওয়া দরকার।

    পাশাপাশি, পড়ুয়াদের শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে ব্রতচারী, এনএসএস এবং এনসিসির মতো কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন তিনি। স্কুলের প্রাথমিক স্তর থেকেই তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার, মৃদঙ্গ ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্র শেখানোর ব্যবস্থা করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ (Suvendu Adhikari)।

    মোবাইলের বদলে শিক্ষামূলক ট্যাব দেওয়ার প্রস্তাব

    স্কুল পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগের সরকারের আমলে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের মোবাইল কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষার কাজে উপযোগী ইলেকট্রনিক ট্যাব দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “আমি ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা দফতরের সচিবকে জানিয়েছি, প্রয়োজন হলে বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হোক, কিন্তু শিক্ষার কাজে লাগবে এমন ট্যাব দেওয়া হোক। পড়ুয়ারা যাতে মোবাইল ফোন কিনতে না পারে, তার ব্যবস্থাও করতে হবে।”

    তবে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিয়ম কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা এখনও সামনে আসেনি (WB Schools Pass Fail)।

    মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাব বিরোধীদের

    শিক্ষা ও রাজ্যের পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী শিবির। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “সব সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সব কিছু চলবে না। প্রতিবাদী মানুষ থাকবেই। প্রতিবাদীদের উপরে সরকার অত্যাচার করলে, আইনের পাশাপাশি মানুষ রাস্তাতেও আন্দোলন করবে।”

    সব মিলিয়ে, পাশ-ফেল প্রথা ফেরানো থেকে শুরু করে পাঠ্যক্রম, সাংস্কৃতিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার—একাধিক বিষয়ে রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তবে প্রস্তাবগুলির মধ্যে কোনগুলি কার্যকর হবে এবং সেগুলি কবে থেকে চালু হবে, তা নির্ভর করছে শিক্ষা দফতরের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সিলেবাস কমিটির সুপারিশের ওপর (WB Schools Pass Fail)।

     

  • Suvendu Adhikari: ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ, জনজাতি কল্যাণে গুচ্ছের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ, জনজাতি কল্যাণে গুচ্ছের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়গ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার লোধা-শবর অধ্যুষিত কালাঝাড়িয়া গ্রামে বিশেষ উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম ওই গ্রামে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিলেন তিনি। জনজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাপ্তাহিক পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, জনজাতি পড়ুয়াদের বৃত্তি, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, কর্মসংস্থান এবং আবাস যোজনার মতো (Lodha Shabar Tribes) একাধিক বিষয় উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

    বাড়ি বাড়ি পুষ্টিকর খাদ্য (Suvendu Adhikari)

    চলতি রাজ্য বাজেটে জনজাতি পরিবারের হাতে বিশেষ খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার যে ঘোষণা করা হয়েছিল, এদিন কালাঝাড়িয়া থেকেই তার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে জনজাতি পরিবারের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেট। রেশন ব্যবস্থার বাইরে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে দেওয়া এই প্যাকেটে থাকবে চাল, ডাল, তেল ও সয়াবিন। এই প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪৫ হাজার এবং ঝাড়গ্রামের ২৫ হাজার পরিবার উপকৃত হবে। এর পাশাপাশি, লোধা-শবর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ খাদ্য প্যাকেট বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার ২ লাখ পড়ুয়াকে ৮০০ টাকা করে তফসিলি উপজাতি বৃত্তি দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা চালুর পাশাপাশি ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা এবং নতুন জবকার্ড দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৯০৩ জন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন।

    আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ

    পূর্ববর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে বর্তমান সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা’ করেছে। আগের সরকারের আমলে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া ২৬ হাজার ৭০০ জনের মধ্যে বহু ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করে বাড়ি তৈরির পরিবর্তে গরুর গোয়ালঘর দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে ১৭ হাজার ৯৮৩ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে।

    মাও-হিংসার দিনগুলির স্মৃতিচারণ

    জঙ্গলমহলের অতীত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় মাওবাদী ও সিপিএমের আমলে এই অঞ্চলে চরম অত্যাচার চলত। হাঁসদা, সোরেন, টুডু, মুর্মু, মাঝি, সিং ও মাহাতোদের মতো জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষকে মাওবাদী তকমা দিয়ে নির্যাতন করা হত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি লাগাতার লড়াই করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৯ সালের নির্বাচনে জঙ্গলমহলে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় দেশবিরোধী শক্তি ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিল। সেই সংকট কাটিয়ে বর্তমানে জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরেছে বলেও দাবি করেন (Suvendu Adhikari) তিনি।

    ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের নির্দেশ

    পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। তাঁর দাবি, আগের সরকার পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে নামমাত্র কাজ করেছিল। তবে বর্তমান সরকার এই অঞ্চলকে কোনওভাবেই বঞ্চিত করবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের দায়িত্ব বর্তমানে তাঁর নিজের হাতে রয়েছে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন (Lodha Shabar Tribes) তিনি। ১২ নভেম্বর বাঁকুড়ায় বাঁধনা পরবে যোগ দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

    জনজাতি ও প্রান্তিক মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পুষ্টি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আবাসনকে সামনে রেখে একাধিক ঘোষণার মধ্যে দিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলার উন্নয়নে রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: নতুন সরকারের প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাকদ্বীপে শুভেন্দু, কী কী পরিকল্পনা?

    Suvendu Adhikari: নতুন সরকারের প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাকদ্বীপে শুভেন্দু, কী কী পরিকল্পনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পরিকাঠামো—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে শনিবার কাকদ্বীপ সফরে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তাঁর। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের অধীনে প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০২৭ সালে। তাই মেলার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সুন্দরবন এলাকার উন্নয়ন, একাধিক বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭: নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় বিশেষ নজর

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, শনিবার কাকদ্বীপে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সামগ্রিক পরিস্থিতি, চলতি উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিবছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। এই বিপুল জনসমাগম সামলাতে নিরাপত্তা, পরিবহণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে হয়। বিশেষ করে কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত যাতায়াত, নদীপথে পারাপার, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সেই কথা মাথায় রেখে আসন্ন মেলার জন্য আগাম পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নতুন সরকারের অধীনে গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা

    মুখ্যমন্ত্রীর কাকদ্বীপ সফরের আগে কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে গিয়ে সভাস্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা। জনসভার আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

    এরপর মহকুমা শাসকের দফতরে প্রশাসনিক বৈঠকও করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘শনিবার কাকদ্বীপে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে।’

    জাতীয় মেলার স্বীকৃতি ও পৃথক সুন্দরবন জেলা নিয়ে জল্পনা

    গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। ফলে আসন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা হয় কি না, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানা যায়নি।

    অন্যদিকে, সুন্দরবনের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং পৃথক সুন্দরবন জেলা গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সুন্দরবন এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যার প্রেক্ষিতে এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে শনিবারের বৈঠকে এ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনিক বৈঠকে জেলা পরিষদের আধিকারিকদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    সব মিলিয়ে, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাকদ্বীপ সফর ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ছে। প্রশাসনিক বৈঠকে কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

  • Chorbagan Pandal Stampede: চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনা! আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Chorbagan Pandal Stampede: চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনা! আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার উত্তরে অবস্থিত চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে এক ভয়াবহ পদপিষ্টের (Chorbagan Pandal Stampede) ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুর্গাপূজার মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় এবং সংকীর্ণ প্রস্থান গেটের কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়েই রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির ঘোষণা

    এই শোচনীয় দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা (Chorbagan Pandal Stampede) জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। পাশাপাশি, এই দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি (SIT) গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

    এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় (Chorbagan Pandal Stampede) গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কলকাতার উদ্দেশ্যে তাঁর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দুর্গোৎসবের বাকি দিনগুলিতে সমস্ত পুজো কমিটিকে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • Suvendu on Recruitment: চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার চাকরির ঘোষণা শুভেন্দুর! বোনাস পাবেন বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরাও

    Suvendu on Recruitment: চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার চাকরির ঘোষণা শুভেন্দুর! বোনাস পাবেন বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবীপক্ষের শুরুতেই সুখবর। বুধবার, চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার নিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Recruitment)। একই সঙ্গে পুজোর জন্য বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘এটাই তো আসল পরিবর্তন। রাজ্যএ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল। ’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভা। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মন্ত্রিসভার বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের প্রশংসা করার পাশাপাশি রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান এবং চা-শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বোনাস ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ

    শুভেন্দু জানান, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ ২৫ বছরের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ইংরাজি এবং বাংলায় এই প্রস্তাব প্রধামন্ত্রীর দফতরে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া থেকে শুরু করে শান্তিনিকেতনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেওয়ার কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’’ স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম, ইসকন থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার কথাও এদিন স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সব স্কুল ও মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তা চালুও হয়ে গিয়েছে। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ বড় ভূমিকা নেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    রাজ্যে কোথায় কত নিয়োগ

    কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এদিন বড়সড় ঘোষণা করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা (Bengal Cabinet)। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোট ৪৫ হাজার ১৮৫টি নতুন শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল শিক্ষা দফতরেই নিয়োগ হবেন ৩৩ হাজার ১৯৯ জন। প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, সহকারী শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুভেন্দুর ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুলেই সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হচ্ছে। ৩৩,১৯১ জনের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (প্রাইমারি) ৪৪৩২ জন, আপার প্রাইমারিতে ৬০৫২ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার ১২,৩৪৩ জন, ফার্স্ট গ্রেড টিচার ১০৩২ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (পিজি) ২৩ জন, এবং ৪,৩৯৪ জন হেডমাস্টার নিয়োগ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে ৭ হাজার ১১৯ জন, পুলিশে ৯৯৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতরে ১ হাজার ৮৮৬ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। অর্থ দফতর এই পদগুলিতে ছাড়পত্র দিয়েছে এবং নিয়ম মেনে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কবে শুরু হবে নিয়োগ-প্রক্রিয়া

    নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার কথা বলা হলেও, কোন পদে কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে, আবেদন করার যোগ্যতা কী হবে এবং পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি কী—সেই বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট দফতরের সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মহালয়াতেই রাজ্যের ১১ হাজার পুলিশ কনস্টেবলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, নভেম্বরের শেষে আরও ৯ হাজার চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরই মধ্যে ৪৫ হাজার চাকরি নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন তিনি।

    চা-শ্রমিকদের জন্য বোনাসের ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা-বাগানগুলির শ্রমিকদের মুখে হাসি ফোটাতে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে রাজ্য। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা ২১ টি চা-বাগানের ১৯ হাজার ৫২৪ জন শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা করে পুজো বোনাস দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন হল শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছেন। বেতন বা বোনাস পাওয়ার প্রশ্নই নেই। আর তাই বন্ধ চা শ্রমিকদের জন্য মানবিক সরকারের ছোট্ট প্রয়াস।’’ যাঁদের বয়স ৬০ ছরের নীচে, মূলত তাঁরাই শ্রম দফতরের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাবেন। পাশাপাশি, উৎসবের মরশুমে দুর্গাপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত সাধারণ রেশনের ৩৫ কেজি চালের সঙ্গে এই পরিবারগুলিকে অতিরিক্ত 50 কেজি করে চাল দেওয়া হবে। চা-শ্রমিকদের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পেও ছাড়পত্র মিলেছে বলে নবান্ন জানিয়েছে।

    পুজো থেকে ফুটবল

    রাজ্যের দুর্গাপুজো নিয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছর রাজ্যে ৪৫ হাজার পুজো হলেও এ বছর তা বেড়ে ৫৮ হাজার হয়েছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে আরও ৮০০টি ক্লাবকে পুজোর অনুমতি ও অনুদান দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সমাজকে ‘অপমান’ করার অভিযোগে কড়া আইনি ব্যবস্থার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি ওসব ভয়টয় করার লোক নই। সিপিএমের সূর্য যখন মধ্যগগনে তখন আমি লক্ষণ শেঠকে হারিয়েছি। আমি দু’বার মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়েছি ওর বাড়িতে এসে।” এর পাশাপাশি পুজোয় অগ্নিবিধি মেনে চলতে এবং মণ্ডপগুলিকে বিপদমুক্ত রাখতে দমকলের একটি সচেতনতামূলক প্রচার ভিডিও-ও এদিন প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বড় বড় ফুটবল ম্যাচ সুষ্ঠভাবে আয়োজনের প্রসঙ্গ উঠলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা ফুটবল ভালবাসে। এ বিষয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীকে সবরকম স্বাধীনতা দেন তিনি।

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহেই পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প বিনিয়োগের একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে নদিয়ার হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার নতুন কারখানা তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হলদিয়ায় আরও দুটি শিল্পপ্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা

    হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ অধীনস্থ সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড এই ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রটি তৈরি করেছে। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানা দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র বলে জানানো হয়েছে।

    শিল্পপ্রকল্পটির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হলদিয়ায় ইতিমধ্যেই ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই কারখানা চালু হওয়ায় রাসায়নিকের জন্য বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যপূরণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারখানায় সরাসরি প্রায় ৪০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে কাজ পেয়েছেন আরও প্রায় ১,০০০ জন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলা, ২৮ অক্টোবর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় ঘোষণা এসেছে ক্যাম্পা কোলাকে ঘিরে। নদিয়ার হরিণঘাটায় এই পানীয় সংস্থার কারখানা তৈরি করতে চলেছে রিলায়েন্স গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর, বুধবার প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

    রাজ্যে শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। এর আগে লাক্স কোজি এবং আমূলের মতো সংস্থার কারখানা ঘিরেও রাজ্যে শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বিনিয়োগ টানতে শিল্পপতিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছে রাজ্য সরকার। মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মতো শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উঠে এসেছে। নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে নতুন শিল্প ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    হলদিয়ায় পেপসির প্ল্যান্ট, তৈরি হবে চিকিৎসা সরঞ্জামও

    হলদিয়াকে ঘিরে আরও দুটি শিল্পপ্রকল্পের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ একর জমিতে পেপসির উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। অন্যদিকে, প্রায় ৫০ একর জমিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দ্বিতীয় প্রকল্পের সঙ্গে প্রভিস কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ক্ষেত্রের পরিধি আরও বাড়তে পারে। রাসায়নিক শিল্পের পাশাপাশি পানীয় এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো পৃথক ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়ক শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    এ ছাড়া হলদিয়ায় আইডব্লিউএল এবং আইওসিএলের প্ল্যান্টের জন্যও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই প্রকল্পগুলির বিনিয়োগের অঙ্ক ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

    শ্রমিকদের চিকিৎসায় ৫০ শয্যার ট্রমা সেন্টার

    শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি হলদিয়ার শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবার উন্নয়নেও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে হলদিয়ায় ৫০ শয্যার একটি ট্রমা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

    শিল্পাঞ্চলে কাজ করার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়াই এই কেন্দ্র তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য। উন্নত জরুরি চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে উঠলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভাতার বদলে দক্ষতা ও স্বনির্ভরতায় জোর

    শিল্পপ্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় যুবক-যুবতীদের শিল্পের উপযোগী করে তুলতে প্রশিক্ষণ এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপর জোর দেন।

    তাঁর বক্তব্য, আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাতা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে আত্মনির্ভর হতে হবে। এটাই আজ আমাদের শপথ হওয়া উচিত।’

    রাজ্যে নতুন শিল্পপ্রকল্প তৈরি হলে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় যুবক-যুবতীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন সংস্থাগুলির কর্মী নিয়োগ সহজ হবে, তেমনই স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

    দীপাবলির আগে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার ইঙ্গিত

    রাজ্যে আরও বিনিয়োগ টানতে নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিওয়ালির আগেই সেই নীতি ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে নতুন শিল্পনীতির নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে শিল্পের অভাব ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের বিষয়টি উঠে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

    হলদিয়ার ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা, হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার প্রকল্প এবং হলদিয়ায় প্রস্তাবিত পেপসি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র—সব মিলিয়ে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীরা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারেন, তার উপর।

  • Police Recruitment: রাজ্যে আরও ৯ হাজার পুলিশ নিয়োগ! সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে থানা চলবে না, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Police Recruitment: রাজ্যে আরও ৯ হাজার পুলিশ নিয়োগ! সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে থানা চলবে না, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবীপক্ষে নবনিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের (Police Recruitment) হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে নভেম্বরের মধ্যে আরও নয় হাজার পুলিশ কর্মী নিয়োগের ঘোষণাও করেন তিনি ৷ তাঁর দাবি, দু’বছরের মধ্যে পুলিশের সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশকে ছাপিয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গ। এদিন তিনি জানান, আগের সরকারের তৈরি করা আইনি জটিলতা কাটিয়েই এই নিয়োগ সম্ভব হয়েছে। বিধানসভায় অধিবেশন বসিয়ে ওবিসি জট মুক্ত করেছে বর্তমান সরকার। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের আইনি বাধা কাটাতে সরকারি আধিকারিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। এদিন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার ডাক দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “রাষ্ট্র প্রথম, এটা মাথায় রেখে কাজ করবেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদেরকে তাড়াবেন। সমস্ত অবৈধ কাজ থেকে দূরে থাকবেন।” বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও চিন সীমান্তের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু একা আর্মি বিএসএফ লড়বে না। আপনাকেও প্রয়োজন হলে লড়তে হবে।”

    নিয়ম মেনে নিয়োগ হবে

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কথা দিলাম আরও সাড়ে চার বছর এই সরকার আছে। কোথাও এতটুকু ত্রুটি হবে না। নিয়ম মেনে নিয়োগ হবে।” রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে থানা চালানোর কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে প্রতি এক লক্ষ মানুষে পুলিশের গড় ১৫৫ জন। উত্তরপ্রদেশে সেই সংখ্যা ২০০। আর পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে কম, মাত্র ১০৫ জন। এই ঘাটতি মেটাতে আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে নয় হাজার নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারির ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুলিশের চার হাজার কনস্টেবল নিয়োগ সম্পন্ন হবে। পিএসসি-র মাধ্যমে ৬৫০ জন ক্লার্ক এবং ১ হাজার ১৩১ জন এসআই নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করা হবে।

    রাজ্য পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি কথা দিয়ে গেলাম, পশ্চিমবঙ্গ উত্তরপ্রদেশের উপরে যাবে। দু’বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ উত্তরপ্রদেশের থেকেও পুলিশের সংখ্যায় বেশি থাকবে।” পুলিশ কর্মীদের বকেয়া ডিএ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরনো পুলিশ কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ২০ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পুজোর আগেই তাঁরা মোট ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। আগামী ১৫ অক্টোবর তাঁদের অগ্রিম বেতনও দেওয়া হবে। রাস্তায় কর্মরত পুলিশদের জন্য হিডকো এবং এনকেডিএ-র তহবিল থেকে ২০ হাজার রেনকোট, ছাতা ও গামবুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মীদের রেশন ভাতা ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করতে প্রবীণ আইএএস অফিসার নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি। রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থানের কথা মাথায় রেখে পুলিশকে আরও দক্ষ করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ঘোষণাও করেন তিনি। আগামী দিনে অসমের লাচিত বরফুকান পুলিশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং গুজরাটের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্য পুলিশের কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে।

LinkedIn
Share