Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং অনথিভুক্ত (Financial Times) বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের। প্রতিবেদনে (Bangladesh Pushback Policy) ভারতের পদক্ষেপের সমালোচনা করা হলেও, পাল্টা মতামতে প্রশ্ন উঠেছে—নিজেদের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই ও গ্রহণে বাংলাদেশ দেরি করলে ভারতের সামনে বিকল্প পথ কী? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

    প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক (Financial Times)

    বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েকজন কর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে কিছু মানুষকে সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ পৌঁছে দিচ্ছেন। এক আধিকারিক বলেন, “ওরা (ভারত) অন্ধকার নামার অপেক্ষা করে, তারপর সীমান্তের গেট খুলে মানুষকে ঠেলে দেয়।” আর এক কর্তার দাবি, “সেখানে নারী এবং শিশুরাও থাকে। অনেক সময় তারা মাঝখানে আটকে পড়ে।” সংবাদপত্রটির আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী ‘জিরো লাইনে’ বহু মানুষ আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছে বাংলাদেশ। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিবেদনে অনুপ্রবেশের আইনি ও নিরাপত্তাজনিত দিকের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা ও অনথিভুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদে’র সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার

    প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিনিধির বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারকে বাংলাদেশে ফেলে আসছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে। মুসলিমদের প্রতি এই বৈরিতা বন্ধ হওয়া উচিত।” প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যও (Financial Times)। তাঁর দাবি, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এবং আরও প্রায় ১,৮০০ জনের বিরুদ্ধে একই প্রক্রিয়া চলছে।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অবস্থানও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ রোধ এবং বিদেশি ট্রাইব্যুনালে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। সরকারি জমি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়টিও তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে (Bangladesh Pushback Policy)।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, অতীতে গৌহাটি হাইকোর্ট অনুপ্রবেশকে অসমের জনবিন্যাসের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, বিদেশি হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের ভারত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশটির বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে (Financial Times)। এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত ইতিমধ্যেই ২,৬৮০টিরও বেশি ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ পাঠিয়েছে। তবে বহু ক্ষেত্রে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই যাচাই প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে।

    আলোচনার ফোকাস পয়েন্ট

    এক প্রবীণ ভারতীয় আধিকারিকের  বক্তব্যও প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বহিষ্কারের জন্য গন্তব্য দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে সেই সহযোগিতা প্রায় কখনওই পাওয়া যায় না।” তাঁর আরও দাবি, “সেই কারণেই আমাদের সামনে অন্য কোনও উপায় ছিল না।” এই ঘটনাকে ঘিরে (Bangladesh Pushback Policy) আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়ই এখন উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে (Financial Times)।

     

  • Election Commission: রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে ২৪ জুলাই উপনির্বাচন, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে জল্পনা

    Election Commission: রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে ২৪ জুলাই উপনির্বাচন, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে উপনির্বাচন (Rajya Sabha Bypolls) হবে আগামী ২৪ জুলাই। এমনই ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইকের পদত্যাগের জেরে এই আসনগুলি খালি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই তিন আসনে কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। কমিশনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

    নির্বাচনী নির্ঘণ্ট (Election Commission)

    নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই। ১৫ জুলাই যাচাই করা হবে মনোনয়নপত্র, ১৭ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট নেওয়া। ওই দিনই বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গোহারা হারতেই দলে ভাঙন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভাঙনের গতি। পরিষদীয় দল এবং সংসদীয় দলের একাংশ আলাদা পথ বেছে নেয়। পরবর্তী কালে একাধিক নেতা নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেন। এই ডামাডোলের বাজারে ৮ জুন রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। আর তার ঠিক পরের দিনই ইস্তফা দেন প্রকাশচিক বরাইক।

    পদত্যাগীরা কী পদ্মশিবিরে?

    পদত্যাগের পর বরাইক প্রকাশ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। আর, সুস্মিতা অসমে গিয়ে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন। সুখেন্দুশেখরকেও লোকসভায় তৃণমূল ছেড়ে আসা বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দেখা যায়। এসব নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা (Election Commission) জল্পনা। এদিকে, বর্তমান বিধানসভায় বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে বিজেপির অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী। ২০৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে দলটি যদি তিনটি আসনেই প্রার্থী দেয় এবং নিজেদের ভোট অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে, তাহলে তিন প্রার্থীর ঝুলিতে যথাক্রমে ৭০, ৬৯ এবং ৬৯টি করে ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ক্রস ভোটিং হলে বিজেপির পালে জয়ের হাওয়া আরও জোরালো হতে পারে বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    তিন আসনেই ফুটতে পারে পদ্ম

    এদিকে, বিজেপির কোনও প্রার্থীকে হারাতে হলে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীকে অন্তত ৭০টি ভোট নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৮০ জন বিধায়ক থাকলেও, দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সেই সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। দুই শিবির একজোট হয়ে প্রার্থী (Rajya Sabha Bypolls) দিলে একটি আসনে লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনাকে খুব একটা জোরালো বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশই (Election Commission)।

     

  • VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মাত্র দু’মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজ্যের জন্য ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রথম কিস্তির অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১,২৬৪.৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১ জুলাই থেকে রাজ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের জন্য অন্যতম বড় আর্থিক বরাদ্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রবিবার কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড়ার ঘোষণা করেন।

    দেশজুড়ে ২৫,৮৬৩ কোটি টাকার বরাদ্দ

    কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এদিন গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য মোট ২৫,৮৬৩ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দের নিরিখে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে দেওয়া হয়েছে ৩,২১০.৭৬ কোটি টাকা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই ওই রাজ্যে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রাখা হয়েছে।

    দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল কেন্দ্রীয় অর্থপ্রবাহ

    বিগত সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে প্রকৃত শ্রমিকদের কাছে মজুরি পৌঁছাতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল রাজ্যে পরিদর্শন করে। পরে বিভিন্ন সুপারিশের ভিত্তিতে উপভোক্তা তালিকা সংশোধন ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

    এবার জোর স্বচ্ছতা ও সময়মতো মজুরি প্রদানে

    কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি পৌঁছে দেওয়ার উপর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রতিটি স্তরে নজরদারি আরও কঠোর করা হবে যাতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায় এবং প্রকৃত উপভোক্তারাই এর সুবিধা পান।

    ১০০ দিনের বদলে এখন ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান

    একসময় মনরেগা (MGNREGA) নামে পরিচিত এই গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের নতুন নাম হয়েছে ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জিরাম-জি। নতুন কাঠামোয় বছরে কর্মসংস্থানের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য পূরণ হবে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বড় আর্থিক বরাদ্দকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি প্রদান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়গুলিই সবচেয়ে বেশি নজরে থাকবে।

  • BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা ছেড়ে চলে যাওয়া শিল্পপতিদের ফের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে নতুন করে শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি (BJP) সরকার। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মুম্বইয়ে শিল্পপতি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। বৈঠক শেষে তিনি দাবি করেন, বহু শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    কী বললেন শমীক? (BJP)

    শমীক জানান, গত চার দশকে বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে যাঁরা বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তাঁদের সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন শিল্পনীতি ও নতুন জমিনীতি নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে। যাঁরা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, কিন্তু যাঁদের সঙ্গে বাংলার নাড়ির যোগ রয়েছে, তাঁরা আবার বাংলায় ফিরে আসতে আগ্রহী। আমি সরকার নই, আমি দলের প্রতিনিধি। আমি তাঁদের জানিয়েছি, সরকার শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির কাজ করছে। খুব দ্রুত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শিল্পায়নের সুফল দেখতে পাবেন।’’

    শিল্পপতিদের আশ্বাস শমীকের

    মুম্বই সফরে বস্ত্র, ইস্পাত, কাচ, অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ-সহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক। এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে বিনিয়োগকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা একাধিক নয়া উদ্যোগের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেন তিনি। তাঁদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শমীক। বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, শিল্পপতিদের আর কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হবে না। সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তাঁরা বিনিয়োগের বিষয়ে এগোতে পারবেন। তাঁর কথায়, ‘‘মুম্বইয়ের শিল্পপতিদের বলেছি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিল্প গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। খুব দ্রুত তাঁরা সেই পরিবর্তন অনুভব করবেন।’’ তিনি এও (BJP) বলেন, ‘‘শুধু শিল্পের কথা বললেই শিল্পায়ন হয় না। শিল্প গড়ে তুলতে সুস্পষ্ট শিল্পনীতির প্রয়োজন। আমাদের সরকার সেই নীতির ওপর কাজ করছে।’’

    শিল্পায়ন নিয়ে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিল্পায়নকে রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা সম্মেলন কেন্দ্রে নবনির্বাচিত বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর তিনি জানান, রাজ্যে একটি হোসিয়ারি কারখানা এবং একটি ইস্পাত কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। সরকার দ্রুত সেই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে (Samik Bhattacharya)। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু’হাজার একশো কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসতে চলেছে। সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে একটি শিল্প সম্মেলনের আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দেশ-বিদেশের বহু শিল্পপতি এবং বিনিয়োগকারীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন

    মুম্বই সফর প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় শমীক লেখেন, ‘‘মুম্বইয়ের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’’ তিনি (Samik Bhattacharya) আরও লেখেন, ‘‘শিল্প, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার, শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক সহযোগিতাই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি (BJP)।’’

     

  • Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গকে প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার উত্তরকন্যায় দীর্ঘ প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি যেমন পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন, তেমনই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দিয়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিক, বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংযোগে বিস্তৃত পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক নতুন সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে।

    উত্তরকন্যা নিয়ে ক্ষোভ, কলকাতা নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ

    বৈঠকের শুরুতেই উত্তরকন্যার বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের মানুষকে যাতে ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজের জন্য কলকাতায় ছুটতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই উত্তরকন্যা গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (NBDD) ছাড়া কার্যত অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দফতরের উপস্থিতি নেই। এই পরিস্থিতি বদলাতে তিনি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে জানতে চান, বর্তমানে কোন কোন দফতরের আধিকারিক উত্তরকন্যায় বসেন এবং সাধারণ মানুষ কী ধরনের পরিষেবা পান। একইসঙ্গে নির্দেশ দেন, গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলির যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের দ্রুত উত্তরকন্যায় নিয়োগ করতে হবে, যাতে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের প্রশাসনিক কাজে আর কলকাতা যেতে না হয়।

    উত্তরকন্যায় চালু হবে পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল

    উত্তরবঙ্গের মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উত্তরকন্যায় একটি পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল চালুরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সেলের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, খুব শিগগিরই যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগের পাশাপাশি গ্রিভ্যান্স সেল চালুর কাজও শুরু হবে।

    প্রশাসনের গড়হাজিরা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ

    প্রশাসনিক বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভা এবং জিটিএ-র বহু জনপ্রতিনিধি নিয়মিত অফিস করছেন না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার সপ্তাহে পাঁচ দিন নয়, ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন কাজ করে। কোনও জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হওয়া চলবে না। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত বা কার্যত পলাতক, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শোকজ নোটিস জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    দুর্নীতি এবং কাটমানি প্রসঙ্গেও এদিন কঠোর অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত, পুরসভা, কর্পোরেশন এবং জিটিএ-র দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা চুরি-চামারি করেছেন, তাঁরা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। তিনি আরও বলেন, যদি কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ভয়ে এলাকায় ফিরতে না পারেন, তবে প্রয়োজন হলে পদত্যাগ করুন। কিন্তু দায়িত্বে থেকে জনগণের কাজ ফেলে রেখে আত্মগোপন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বরাদ্দ দ্বিগুণ

    বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার উত্তরবঙ্গকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান—

    • ● উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের বাজেট ১,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● জিটিএ-র বরাদ্দ ১৮০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● উত্তরবঙ্গে একটি এমস্, ক্যান্সার হাসপাতাল এবং কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও বালুরঘাটে নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
    • ● হাসিমারা সেনা এয়ারপোর্টকে বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে অতিরিক্ত জমি দেওয়া হচ্ছে।
    • ● মালদা ও বালুরঘাট বিমানবন্দর চালু করা এবং কোচবিহার বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেই বর্তমান সরকার এই অঞ্চল থেকে ১০ জন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছে, যার মধ্যে একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী রয়েছেন।

    কর্মসংস্থানে নতুন প্রকল্প

    উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু হওয়া ‘বিকশিত ভারত জিরামজি’ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে—

    • ● অদক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৩০০ টাকা
    • ● আধা-দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৪৫০ টাকা
    • ● দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৬০০ টাকা

    এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পঞ্চায়েত স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং সেল সক্রিয় করা এবং গ্রাম সংসদের মাধ্যমে প্রকল্প নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারী এই প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হতে পারেন।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন নিয়মের ইঙ্গিত

    মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পেয়েছেন। যদিও পোর্টালে তথ্য আপলোডে ত্রুটির কারণে প্রায় ২৬ হাজার আবেদন আপাতত আটকে রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভারতীয় ব্যক্তি, নির্দিষ্ট শর্তভঙ্গকারী আবেদনকারী এবং সরকারের নির্ধারিত কিছু মানদণ্ড পূরণ না করলে সংশ্লিষ্টরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

    বর্ষা মোকাবিলায় পাহাড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী

    বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, পাহাড়ি এলাকায় ৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে মোতায়েন করা হবে। ভূমিধস, বন্যা বা অন্য কোনও দুর্যোগ দেখা দিলে তাঁরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেবেন। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রতি ১৫ দিনে অন্তত একবার শিলিগুড়ি সফর করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমূলক কাজ পর্যালোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    ময়নাগুড়ি বাস দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

    প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি উত্তরকন্যায় ২১ জুন ময়নাগুড়িতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনহারাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

    উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে সরকারের নতুন রোডম্যাপ

    সামগ্রিকভাবে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে উত্তরবঙ্গকে আলাদা প্রশাসনিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকারি পরিষেবা বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান এবং জনপরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তোলার বার্তাই তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে হবে। সেটাই বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকে অফিসারদের মোট পাঁচ দফা নির্দেশ দেওয়া হয়। সেগুলিকেই গাইডলাইন ধরে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মন্ত্রী, বিভিন্ন দফতরের সচিব ও অন্যান্য আধিকারিক ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে শুভেন্দু নির্দেশ দিয়েছেন, যে অফিসাররা রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের নাম এবং ফোন নম্বর ওয়েবসাইট-পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। যাতে আমজনতা থেকে উপভোক্তা— সকলেই সরাসরি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

    শুভেন্দুর পাঁচ দফা নির্দেশ

    এদিন নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই প্রশাসনের আধিকারিকদের কর্তব্য। সেখানে যেন গাফিলতির অভিযোগ না আসে। এ দিনের বৈঠকে শুভেন্দুর দ্বিতীয় নির্দেশ— ‘প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট ক্যালেন্ডার’ তৈরি করতে হবে, যাতে কোনও কাজ অনির্দিষ্ট কাল ধরে না চলে, তার আভাস সব দফতরের কাছেই থাকে। যেগুলি দফতরের নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে পড়ে, সেই রুটিন কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে তার মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও টাইমলাইন ধরে শেষ করতে হবে। তৃতীয় নির্দেশ হলো— সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার। যে প্রকল্পের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হবে, তা যেন সেই কাজেই ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ‘আনটায়েড’ বা সাধারণ ফান্ডেরও যেন সঠিক ব্যবহার হয়, তার দিকে যেন কড়া নজরদারি থাকে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন ছাড়া অযথা খরচ করা যাবে না। রাজস্ব ফাঁকির মোকাবিলায় প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে শুভেন্দুর চতুর্থ বার্তা, ‘রাজস্ব অর্থাৎ রেভিনিউ কোনও ভাবেই যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার দিকে আপনারা নজর দিন। বালি বা পাথরের উপরে রাজস্বে কেউ যাতে ফাঁকি না দিতে পারে, তা দেখতে হবে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ পেলেই কড়া পদক্ষেপ করবেন।’ মুখ্যমন্ত্রীর পঞ্চম নির্দেশ— জেলা আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে হবে। অন্তত মাসে একদিন সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ করতে হবে তাঁদেরও।

    জনহিতকর প্রকল্প নিয়ে নির্দেশ

    এ ছাড়াও স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। জনহিতকর যে সব প্রকল্প আছে, সেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে ওই প্রজেক্টের ‘শর্ট টার্ম প্ল্যানিং’ তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় মেনে কাজ করা যায়। এ ছাড়াও স্বচ্ছ ডেটাবেস তৈরিতেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের নথি আর তথ্য জমা নিচ্ছে সরকার। সেগুলি যাতে সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সেই প্রসঙ্গেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। পুজোর মধ্যেই ‘স্বাস্থ্যসাথী’র উপভোক্তাদের নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে স্থানান্তর করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ১৫ জুলাই থেকে রাজ্যে এই স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করতে হবে।

    ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিয়ে নির্দেশ

    ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যাঁদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড রয়েছে, তাঁদের সবাইকে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ‘যোগ্য’ পরিবারের নতুন বধূ, নবজাতকের নাম আয়ুষ্মান কার্ডে যুক্ত করার সুযোগ করে দিতে হবে। এই কাজটা পরিবারগুলি বাড়িতে বসেই যাতে করতে পারে অথবা নিকটতম কমন সার্ভিস সেন্টার বা তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের আয়ুষ্মান মিত্রের কাছে গিয়েও এই ব্যাপারে সাহায্য পান, সেই নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবকে তিনি বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল তৈরি করলেই হবে না, হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। অনেক হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই।’ দ্রুত নিয়োগ এজেন্সিগুলির সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, বিভিন্ন প্রকল্পে পূর্বতন সরকারের বকেয়া টাকা ঠিকাদারদের মেটানোর আগে ভালো ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে, সেই কাজ ঠিকমতো হয়েছে কি না।

  • Suvendu Adhikari: ‘বিধায়কদের সম্মান ছিল না’! প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃণমূল জমানাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘বিধায়কদের সম্মান ছিল না’! প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃণমূল জমানাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিধানসভার মর্যাদা এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিধায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহাসিক গৌরব পুনরুদ্ধারের ডাক দেন, তেমনই নাম না করে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনাও করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এমন এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হত না। তাঁর কথায়, ‘‘একজন বিধায়ক বা সাংসদের ফোন পর্যন্ত অনেক সময় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ধরতেন না।’’ বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হত না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিধানসভার ইতিহাস তুলে ধরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ

    ভাষণের শুরুতেই বাংলার বিধানসভার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘দেশভাগের কঠিন সময় অবিভক্ত বাংলার একাংশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখতে বিধানসভা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ তাঁর দাবি, সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত না হলে আজকের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্ভব হত না।

    ‘৩৪ বছর পার্টি অফিস থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ হত

    অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে প্রশাসনের বড় অংশ দলীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হত। পাশাপাশি, গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের সময়ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও কোনও দলের নাম তিনি সরাসরি উল্লেখ করেননি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হয়নি। এমনকি বহুবার বিধানসভা থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘এখন সব বিধায়কই সমান গুরুত্ব পাচ্ছেন’

    বর্তমান সরকারের দেড় মাসের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকার প্রশাসনিক বৈঠকে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের বিধায়কদেরই আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’’ বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কোনও রাজনৈতিক বিভাজন রাখা হয়নি বলে দাবি তাঁর। বাংলার উন্নয়নের জন্য দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    বিধায়কদের দায়িত্ব নিয়ে কী বললেন ওম বিড়লা?

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য, যা স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা।’’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, সংসদীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং শুধু নিজের কেন্দ্র নয়, গোটা রাজ্যের উন্নয়নের দায়িত্বও প্রতিটি বিধায়কের বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওম বিড়লা আরও জানান, এবারের বিধানসভায় ১২১ জন নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাঁদের সংসদীয় রীতি-নীতি ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ মেনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    শুভেন্দুর প্রশংসায় হরিবংশ, ডিজিটাল বিধানসভার ঘোষণা রিজিজুর

    রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং বলেন, ‘‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ তাঁর বিশ্বাস, নতুন সরকার বাংলার অতীত গৌরবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ঘোষণা করেন, ‘‘আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে।’’ ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের সমস্ত বিধানসভাকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    কারা ছিলেন অনুষ্ঠানে?

    বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুসহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভার অধ্যক্ষরা। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং উত্তরাখণ্ডের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

  • West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে। আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।

    ৪৫ দিনে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানোর দাবি

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২টি বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই হোল্ডিং স্টেশনগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্ত পার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ ওই কেন্দ্রগুলিতে রয়েছেন বলেও তিনি জানান। সরকারের দাবি, সীমান্তবর্তী থানাগুলি এখন বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি জেলে পাঠানোর পরিবর্তে প্রথমে হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসরণ করে পরে তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে।

    ১ অগাস্ট থেকে ডিজিটাল জাতিগত জনগণনার পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১ অগাস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতিগত জনগণনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ বা স্ব-ঘোষণার সুযোগ রাখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সমীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের জনবিন্যাসের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

    পশ্চিমবঙ্গে আসছে কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

    এদিকে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও তার প্রভাব খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি শীঘ্রই বিভিন্ন রাজ্য সফর শুরু করবে। প্রথম পর্যায়েই পশ্চিমবঙ্গ তাদের সফরসূচিতে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিটি ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রশ্নমালা তৈরি করেছে। বিভিন্ন সীমান্ত রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য।

  • Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। এ নিয়ে বুধবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সন্ধ্যায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অধীন বিষ্ণুপুরের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের হাসপাতালের একটি ইউনিটের উদ্বোধন করতে যান তিনি। সেখানেই তাঁকে সেবাশ্রয় সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তদন্তের কথা জানিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ যখন এসেছে, তখন পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে।’’

    সেবাশ্রয় কী

    পুরো ডায়মন্ড হারবার জুড়ে পোস্টার লাগানো হয়েছিল। ‘সেবাশ্রয়ে’ চিকিৎসা পাওয়ার জন্য ভিড় করতেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ। মাঝেমধ্য়েই ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলতেন। সে সব ছবি পোস্ট করা হত তৃণমূল ও অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। সেই সেবাশ্রয় নিয়েই এবার উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। বিষ্ণুপুর থানা সূত্রে খবর, ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অননুমোদিত চিকিৎসার পাশাপাশি ভুয়ো নথি ব্যবহার, বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করা হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এছাড়াও দাবি, চিকিৎসক পড়ুয়াদের এনে চিকিৎসা করানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিজিৎ দাস। অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে প্রচারপত্র, নথি, ছবি, ভিডিয়ো দেওয়া হয়েছে। ববির আরও অভিযোগ, ওই ক্যাম্পগুলিতে আল্ট্রাসাউন্ড, পোর্টেবল এক্স-রের মতো নিয়ন্ত্রিত ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে বিধি ভাঙা হয়েছে। বিজেপি নেতার দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে জোর করে বিভিন্ন মেশিনপত্র সেবাশ্রয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হত।

    কী কী অভিযোগ?

    বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাবি করেছেন, ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্যশিবিরে আলট্রাসনোগ্রাফি, পোর্টেবল এক্সরে-সহ একাধিক আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওই স্বাস্থ্যশিবিরের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। বিজেপি নেতার দাবি, অযোগ্যদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হত ‘সেবাশ্রয়ে’। অভিযোগ, ওই শিবিরে ভুয়ো প্রেসক্রিপশন দেওয়া হত। এ ছাড়াও, স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, ওই স্বাস্থ্যশিবিরে বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি ছিল। এ ছাড়াও, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কথাও রয়েছে অভিজিতের অভিযোগপত্রে। তাঁর আরও দাবি, সরকারি প্রচারপত্র, কনসালটেশন শিট, রেফারেল স্লিপ, ছবি, ভিডিয়ো যাচাই করে এবং সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরই অভিযোগ করা হয়েছে।

    তদন্তে অনেক কিছু বেরোবে

    সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক চিকিৎসক দাবি করেছেন, তদন্ত করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ এমবিবিএস চিকিৎসক ছিল, ৯০ শতাংশই হোমিওপ্যাথি বা আয়ুর্বেদ চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা করানো হত। বুধবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিষেক, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় ও সুমিতের ঘনিষ্ঠ অয়ন ঘোষদস্তিদার-সহ সমস্ত সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্তির দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ববি। তাঁর অভিযোগ, “ডায়মন্ডহারবারবাসীর স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কত মানুষের ক্ষতি করে দিয়েছেন তদন্ত করলেই তা বোঝা যাবে। ‘সেবাশ্রয়’ থেকে স্থানান্তরিত হওয়া একজন সুস্থ মহিলার অপারেশনের নামে পা কেটে বাদ দেওয়াও হয়। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রে অভিষেকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপি নেতা অভিজিতের অভিযোগ, “হোমিওপ্যাথির ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের সাদা অ্যাপ্রন পরিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক সাজিয়ে আনা হয়েছিল শিবিরগুলিতে। রোগীদের যে সমস্ত প্রেসক্রিপশন করা হয়েছিল সেগুলি দেখলেই বোঝা যাবে এমন প্রেসক্রিপশন কোনও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের হতে পারে না।”

    তদন্তের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ এসেছে। আমি দেখেছি, এখানে এসপি আছেন, তিনি তদন্ত করবেন। জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের যা সাহায্য লাগবে, তা করা হবে। ইটস আ ক্রাইম। আর ক্রাইম হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতে যা করার করা হবে।’’ জোকায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতালের অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের পাশে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যাবেলা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেবাশ্রয়-এ অনিয়ম নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেন মুখ্যুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা অভিযোগকারীদের

    বিজেপির পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের জোরাল দাবিও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে সেবাশ্রয় শিবির বিতর্ক ইসুতে ‘এটা ক্রাইম’ বলে পুলিশি তদন্তের কথা বলাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। খোদ পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ‍্যমন্ত্রীর মুখে এদিন পুলিশি তদন্তের বিষয়টি উঠতেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের সেবাশ্রয় নিয়ে পুলিশের তদন্তে আরও গতি পাবে বলেও মত অনেকেরই। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্সের নীতিতে সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগকারীরাও বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের ভরসা আছে।’’ বলছেন অভিযোগকারীরা।

     

     

     

     

  • West Bengal Police: টেকনোলজি থেকে এআই, হাইটেক হচ্ছে বাংলা পুলিশ! রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেগা চুক্তি

    West Bengal Police: টেকনোলজি থেকে এআই, হাইটেক হচ্ছে বাংলা পুলিশ! রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেগা চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি থেকে দক্ষতা- সবদিক দিয়ে রাজ্যের পুলিশকে (West Bengal Police) আরও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এবার রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Rashtriya Raksha University – RRU)সঙ্গে মউ (MoU) স্বাক্ষর করল রাজ্য পুলিশ। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উপস্থিতিতে সেই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। রাজ্য পুলিশের (State Police) সার্বিক উন্নয়নের জন্যই এই চুক্তি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও উন্নত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে জানান তিনি। বুধবার নবান্নে এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তাঁর সরকার পশ্চিমবঙ্গে ‘শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে দায়বদ্ধ।

    তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের ‘উদাসীনতা’কে কটাক্ষ

    এদিন পুলিশ বাহিনীর আধুনিকীকরণে বিগত তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের ‘উদাসীনতা’ ও খামতিকে তীব্র নিশানা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই আধুনিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব প্রথম এসেছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। কিন্তু তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি এবং ফাইল আটকে রেখেছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত এই চুক্তি সম্পন্ন করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “অতীতে কলকাতা পুলিশের তুলনা করা হত স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে। কিন্তু আগের সরকার পুলিশকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত জনবল না দেওয়ায় সেই গৌরব হারিয়েছিল। আমরা সেই হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনব।”

    সামরিক বাহিনীর মতো শক্তিশালী হবে পুলিশ

    শুভেন্দু বলেন, “আমরা সরকারে আসার পরে এই মউ স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত নিই। তদন্তের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার পাশপাশি আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। এই কোর্স করার জন্য পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর থেকে শুরু করে আইপিএস পদমর্যাদার অফিসারেরা এবং যাঁরা সন্ত্রাস-বিরোধিতায় কাজ করতে চান, তাঁরা এই কোর্স করতে পারবেন। এতে রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের তদন্ত, সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে সাহায্য করবে।” শুভেন্দু এদিন উল্লেখ করেন, আগে এ রাজ‍্যের পুলিশের বিশেষ সুনাম ছিল গোটা বিশ্বে। কিন্তু গত কয়েক বছরে পুলিশি ব্যবস্থাই তলানিতে চলে গিয়েছে। পুলিশকে সামরিক বাহিনীর মতো শক্তিশালী করা হবে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কী কী আধুনিক প্রশিক্ষণ পাবে পুলিশ?

    এই চুক্তির আওতায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে সাব-ইন্সপেক্টর, ইন্সপেক্টর, ডব্লিউবিপিএস এবং আইপিএস অফিসাররা বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক। ডার্ক ওয়েব নজরদারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পুলিশিং। সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা। মানবপাচার বিরোধী অভিযান, ড্রোন পুলিসিং এবং কে-নাইন ডগ স্কোয়াড প্রশিক্ষণ।

    পুলিশে আরও নিয়োগ

    এদিন পুলিশে আরও নিয়োগ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৬ হাজার কনস্টেবল ট্রেনিং নিয়ে বসে আছেন। তাঁদের জন্য নিয়োগ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন এদিন। মেয়েদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। এর পাশাপাশি, তিনি জানান, রাজ্যের প্রতিটি থানাকে ধাপে ধাপে ‘১১২’ জরুরি পরিষেবার আওতায় আনা হবে এবং তৈরি করা হবে কুইক রেসপন্স টিম। রাজ্যপাল স্বয়ং এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছিলেন বলে জানান তিনি।

    পুলিশেরও রক্ত ঝড়বে না!

    রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “জনগণের নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদের পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। নতুন পরিকাঠামোয় আমাদের পুলিশ কর্মীদের আর অন্যায়ভাবে রক্ত ঝরবে না, হাসপাতালে যেতে হবে না। পুলিশ কর্মীদের অন ডিউটি নিরাপত্তা ও সম্মান সুনিশ্চিত রাখাটাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন যে, রাজ্যে অপরাধ দমন ও পুলিশি ব্যবস্থার ভোলবদল করাই তাঁর উদ্দেশ্য। ফলতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিককালে ডিউটিরত পুলিশ কর্মীদের ওপর হওয়া হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই মউ-এর সুফল

    মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, উত্তরপ্রদেশ, অসম, হরিয়ানা-সহ দেশের বেশিরভাগ রাজ্যই ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই মউ স্বাক্ষর করে ফেলেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ প্রশাসনে অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের যে বিপুল প্রয়োজন রয়েছে, এই মউ-এর মাধ্যমে তা এবার এ রাজ্যে অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে। এই চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ – দুই বাহিনীই প্রভূতভাবে উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share