Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

suvendu adhikari ordered to shown the officers name and phone number in the portal

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে হবে। সেটাই বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকে অফিসারদের মোট পাঁচ দফা নির্দেশ দেওয়া হয়। সেগুলিকেই গাইডলাইন ধরে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মন্ত্রী, বিভিন্ন দফতরের সচিব ও অন্যান্য আধিকারিক ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে শুভেন্দু নির্দেশ দিয়েছেন, যে অফিসাররা রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের নাম এবং ফোন নম্বর ওয়েবসাইট-পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। যাতে আমজনতা থেকে উপভোক্তা— সকলেই সরাসরি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

শুভেন্দুর পাঁচ দফা নির্দেশ

এদিন নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই প্রশাসনের আধিকারিকদের কর্তব্য। সেখানে যেন গাফিলতির অভিযোগ না আসে। এ দিনের বৈঠকে শুভেন্দুর দ্বিতীয় নির্দেশ— ‘প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট ক্যালেন্ডার’ তৈরি করতে হবে, যাতে কোনও কাজ অনির্দিষ্ট কাল ধরে না চলে, তার আভাস সব দফতরের কাছেই থাকে। যেগুলি দফতরের নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে পড়ে, সেই রুটিন কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে তার মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও টাইমলাইন ধরে শেষ করতে হবে। তৃতীয় নির্দেশ হলো— সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার। যে প্রকল্পের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হবে, তা যেন সেই কাজেই ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ‘আনটায়েড’ বা সাধারণ ফান্ডেরও যেন সঠিক ব্যবহার হয়, তার দিকে যেন কড়া নজরদারি থাকে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন ছাড়া অযথা খরচ করা যাবে না। রাজস্ব ফাঁকির মোকাবিলায় প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে শুভেন্দুর চতুর্থ বার্তা, ‘রাজস্ব অর্থাৎ রেভিনিউ কোনও ভাবেই যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার দিকে আপনারা নজর দিন। বালি বা পাথরের উপরে রাজস্বে কেউ যাতে ফাঁকি না দিতে পারে, তা দেখতে হবে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ পেলেই কড়া পদক্ষেপ করবেন।’ মুখ্যমন্ত্রীর পঞ্চম নির্দেশ— জেলা আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে হবে। অন্তত মাসে একদিন সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ করতে হবে তাঁদেরও।

জনহিতকর প্রকল্প নিয়ে নির্দেশ

এ ছাড়াও স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। জনহিতকর যে সব প্রকল্প আছে, সেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে ওই প্রজেক্টের ‘শর্ট টার্ম প্ল্যানিং’ তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় মেনে কাজ করা যায়। এ ছাড়াও স্বচ্ছ ডেটাবেস তৈরিতেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের নথি আর তথ্য জমা নিচ্ছে সরকার। সেগুলি যাতে সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সেই প্রসঙ্গেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। পুজোর মধ্যেই ‘স্বাস্থ্যসাথী’র উপভোক্তাদের নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে স্থানান্তর করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ১৫ জুলাই থেকে রাজ্যে এই স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করতে হবে।

‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিয়ে নির্দেশ

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যাঁদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড রয়েছে, তাঁদের সবাইকে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ‘যোগ্য’ পরিবারের নতুন বধূ, নবজাতকের নাম আয়ুষ্মান কার্ডে যুক্ত করার সুযোগ করে দিতে হবে। এই কাজটা পরিবারগুলি বাড়িতে বসেই যাতে করতে পারে অথবা নিকটতম কমন সার্ভিস সেন্টার বা তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের আয়ুষ্মান মিত্রের কাছে গিয়েও এই ব্যাপারে সাহায্য পান, সেই নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবকে তিনি বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল তৈরি করলেই হবে না, হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। অনেক হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই।’ দ্রুত নিয়োগ এজেন্সিগুলির সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, বিভিন্ন প্রকল্পে পূর্বতন সরকারের বকেয়া টাকা ঠিকাদারদের মেটানোর আগে ভালো ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে, সেই কাজ ঠিকমতো হয়েছে কি না।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share