Tag: bangla khabar Bharatiya Antariksh Station

  • Bhutan Flash Flood: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান, বন্যা সতর্কতা জারি অসম ও বাংলার ৫ জেলায়

    Bhutan Flash Flood: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান, বন্যা সতর্কতা জারি অসম ও বাংলার ৫ জেলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের পর ভুটান। হিমবাহ হ্রদ ফেট হড়পা বান আছড়ে পড়ল ভুটানের (Bhutan Flash Flood) গাসা জেলায়। জলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারেও। ভুটানের লেমথাং (Lemthang) এলাকায় বড়সড় হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছে, ঠিক যেমনটা ঘটেছিল দুই মাস আগে নেপালে। গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) বা হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণে উপচে পড়েছে হ্রদের জল। এই চলকে পড়া জলই মফু নদী হয়ে নামছে সঙ্কোশ নদীর দিকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদ (Shintaphu Tsho) থেকে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। হড়পা বানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্প। পাশাপাশি পাহাড়ি রাস্তার একটি অংশে জমেছে বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি ও ধ্বংসাবশেষ। এই ঘটনার জেরে ভারতের উত্তরবঙ্গ ও অসমের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে হড়পা বানের জেরে ভুটানে ক্ষয়ক্ষতি হলেও উত্তরবঙ্গে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর খুব একটা বাড়েনি। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী কুমারগ্রাম ব্লকের বাসিন্দারা।

    কীভাবে ঘটল বিপর্যয়?

    ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদটি মো চু নদী অববাহিকার উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই হ্রদের জল উপচে পড়ে। হ্রদটি ভুটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের মধ্যে অন্যতম। ভুটানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি (NCHM)-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তাকতসিমাখাং এলাকায় জলস্তর পর্যবেক্ষণের একটি কেন্দ্র রয়েছে। তবে প্রাথমিক খবর পাওয়ার সময় সেখানে কোনও সতর্কবার্তা সক্রিয় হয়নি। হ্রদ থেকে ঠিক কতটা জল বেরিয়েছে এবং তার প্রভাব কতদূর পর্যন্ত পড়তে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভুটানের পুনাখা জেলার গুমা গেওগের অন্তর্গত দোচুখা-জোমলিংথাং-রিতসা চিওগ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ উত্তোলন ব্যবস্থা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের জলের সমস্যা মেটাতে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। হড়পা বানের জেরে বর্তমানে প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, পুনাখা-গাসা হাইওয়ের জোমলিংথাং এলাকার একটি অংশে বানের জলে ভেসে আসা পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ জমে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ভুটানের দুর্গম লায়া অঞ্চল।

    কী এই হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান?

    হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া হ্রদে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ জল জমা থাকে। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বরফ, পাথর বা মাটির বাঁধ ভেঙে গেলে কিংবা কোনও কারণে সেই বাঁধ অতিক্রম করে জল বেরিয়ে এলে ভয়াবহ হড়পা বান তৈরি হতে পারে। একেই বলা হয় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (Glacial Lake Outburst in Bhutan)। পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নেমে আসে এই জলস্রোত। সঙ্গে থাকে পাথর, কাদা, গাছের গুঁড়ি এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ। ফলে মুহূর্তের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বসতি, সেতু, রাস্তা, কৃষিজমি ও অন্যান্য পরিকাঠামো। শিনতাফু হ্রদটি পুনাতসাংছু নদী অববাহিকার মধ্যে অবস্থিত। এই নদী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার পর সঙ্কোশ নামে পরিচিত। ফলে ভুটানে হ্রদ ফেটে যাওয়ার ঘটনায় ভারতের নিম্ন অববাহিকার এলাকাগুলিতেও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গ ও অসমের পাঁচ জেলায় সতর্কতা

    ভুটানে হড়পা বানের খবর পাওয়ার পর ভারতের তরফে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার এবং অসমের ধুবড়ি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন নিচু এলাকা ও বসতিগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ ও বক্সিরহাট এলাকায় এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর দল মোতায়েন করা হয়েছে। দুই এলাকাই সঙ্কোশ নদীর কাছাকাছি এবং অসম সীমান্ত সংলগ্ন। সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল, ভুটান থেকে নেমে আসা বন্যার জল ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ভারত-ভুটান সীমান্তে পৌঁছতে পারে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে।

    বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানোর আবেদন মন্ত্রীর

    সঙ্কোশ নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ার জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী তথা কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁও। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, আগামী এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে কুমারগ্রাম এলাকায় সঙ্কোশ নদীতে জলের প্রবাহ বাড়তে পারে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগাম নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার আবেদনও জানান। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও সমাজমাধ্যমে জনসাধারণের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করেন। তাঁর দাবি, ভুটানের লেমথাং এলাকায় হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান তৈরি হয়েছে। সেই জল মফু নদী হয়ে সংকোশ নদীর দিকে এগিয়ে আসছে। সংকোশ এবং তার শাখা নদীগুলির অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদ।

    আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ

    প্রশাসনের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হড়পা বানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ভারতীয় অংশে এখনও পর্যন্ত সব বাসিন্দাই নিরাপদ রয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ভুটানের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বয় রেখে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষকে স্কুলবাড়িতে তৈরি ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৬,০০০-এর বেশি মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসডিআরএফ-এর কর্মীরা মোতায়েন রয়েছেন। এনডিআরএফ-এর একটি দলও পৌঁছনোর পথে রয়েছে। প্রস্তুতিতে সাহায্য করছে সিভিল ডিফেন্সের দল।

    ভারতীয় এলাকায় সবাই নিরাপদ

    ভুটান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নদীতে জলের প্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে সঙ্কোশ নদী ব্যবস্থায় এখনও রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নদীর জলের সঙ্গে মৃত মাছ, বড় বড় গাছের গুঁড়ি, কাঠ এবং কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। কুমারগ্রাম ব্লক প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্লকের ১৮টি ত্রাণশিবিরে বাসিন্দাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুল, কমিউনিটি হল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং চা-বাগানের বিভিন্ন পরিকাঠামোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অসমের কিছু এলাকার বাসিন্দারাও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণশিবিরগুলিতে শুকনো খাবার, পানীয় জল এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। সব মিলিয়ে ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বানের ঘটনায় উত্তরবঙ্গ ও অসমের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

     

     

     

     

     

     

  • India-European Union Free Trade: যৌথ উদ্ভাবন ও উৎপাদনে জোর! ভারত-ইইউ কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে দিল্লি সফরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদল

    India-European Union Free Trade: যৌথ উদ্ভাবন ও উৎপাদনে জোর! ভারত-ইইউ কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে দিল্লি সফরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভারতে কর্মরত রাষ্ট্রদূত জঁ-এরিক পাকে বলেছেন, আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিদেশ বিষয়ক কমিটি (AFET)-এর প্রতিনিধিদলের আসন্ন সফরের দিকে তিনি আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে রয়েছেন। ইইউ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে “একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিদেশ বিষয়ক কমিটি (AFET)-এর একটি প্রতিনিধিদল আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লি সফর করবে। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিড ম্যাকঅ্যালিস্টার (David McAllister)। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সইয়ের আগের প্রস্তুতি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা নিয়ে আলোচনা করতে তারা ভারত সরকার, সংসদ ও শিল্পপতিদের সাথে বৈঠক (India-European Union Free Trade) করবেন। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা।

    একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

    পাকে ইইউ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে “একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির মধ্যে এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেছেন পাকে। তাঁর কথায়, “বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবন—এই ক্ষেত্রগুলোতে অভূতপূর্ব অগ্রগতির মুহূর্তে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করা একটি সম্মানের বিষয়। আমাদের যৌথ কর্মসূচি কেবল আকাঙ্ক্ষামূলক নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একটি বাস্তব অঙ্গীকার, যা উভয় পক্ষের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবন, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা আনবে।”

     ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা

    সম্প্রতি ভারত ও জার্মানির মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার হলে যৌথ উদ্ভাবন, নতুন পণ্যের বিকাশ এবং ভারতে উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। এমনই আশার কথা শুনিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর মতে, জার্মানির উন্নত প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার সঙ্গে ভারতের দক্ষ মানবসম্পদ এবং সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে। বার্লিন গ্লোবাল ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত-জার্মানি সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার কথা তুলে ধরেন গোয়েল। তিনি বলেন, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন হওয়ার ফলে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই চুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ বাজারে ভারতের বাণিজ্যিক চুক্তির আওতা রয়েছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তা বিশ্বের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ৭৫ শতাংশের সমতুল্য বাজারে পৌঁছতে পারে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বাস্তব বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা করেন গোয়েল।

    বার্লিনে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক গোয়েলের

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার বার্লিনে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকের পর গোয়েল জানান, ভারত-জার্মানি অংশীদারিত্বের ক্রমবর্ধমান গতি এবং ভারতীয় শিল্পের সামনে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগগুলি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বস্ত্রশিল্প থেকে শুরু করে ওষুধ, ইঞ্জিনিয়ারিং, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং উদীয়মান প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে (এমএসএমই) এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান সংস্থাগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

    দুই পক্ষের পরিপূরক শক্তিকে একত্রিত করার সুযোগ

    সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লেখেন, ভারতীয় সংস্থাগুলিকে গুণমান, নিয়ম মেনে চলা এবং নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী এবং বিশ্বের আস্থাভাজন অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গোয়েল বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা সম্ভব। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি উন্নত উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা ক্ষেত্রে দুই পক্ষের পরিপূরক শক্তিকে একত্রিত করার সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর ফলে উভয় পক্ষের মানুষের সমৃদ্ধি বাড়বে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

  • Jordan Church Shootout: চার্চে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি! জর্ডনে বন্দুকবাজদের হামলায় মৃত অন্তত ৭, আহত ৪০

    Jordan Church Shootout: চার্চে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি! জর্ডনে বন্দুকবাজদের হামলায় মৃত অন্তত ৭, আহত ৪০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জর্ডনের রাজধানী আম্মানের থেকে ১৮০ কিলোমিটার (১১০ মাইল) দক্ষিণে একটি চার্চের ভিতরে চলছিল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। সেই সময়েই তিন বন্দুকবাজ ঢুকে পড়ে সেখানে। এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। জর্ডনের একটি চার্চে এই ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, জর্ডনের কারাক (Karak) এলাকায় রয়েছে গ্রিক অর্থোডোক্স চার্চ। সেখানেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে গোটা জর্ডনজুড়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলাকারীদের খোঁজে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

    চার্চে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি তিন বন্দুকবাজের

    জর্ডনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, কারাকের হামুদ (Hammoud) গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স চার্চে (Greek Orthodox Church) যখন একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক সেই সময়ই সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। প্রার্থনা সভাতে সেই সময় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎই বেশ কয়েকজন বন্দুকবাজ বৃষ্টির মতো গুলি চালাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জর্ডনের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে যে ফুটেজ দেখানো হয়েছে, সেখানে দেখা গিয়েছে প্রথমে হাতে পিস্তল নিয়ে চার্চে ঢুকেছে ২ জন। চার্চের ভিতরের দিকে এগোতে এগোতে নাগাড়ে গুলি চালাচ্ছে তারা। তৃতীয় আরেক বন্দুকবাজকেও দেখা গিয়েছে এই ফুটেজে। তার হাতে আবার ছিল সেমি-অটোম্যাটিক রাইফেল। চার্চে ঢুকে দিকবিদিকজ্ঞানশূন্য এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে এই তিনজন বন্দুকবাজ। চার্চে থাকা এই ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষদর্শীই বন্দুকবাজদের হামলার সময়ে ছবি, ভিডিও মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেছেন।

    কারা হামলা চালাল, কঠোর শাস্তি

    চার্চে থাকা অনেকে বলেছেন চারজন বন্দুকবাজ ছিল। গুলি চালানোর ঘটনায় কতজন যুক্ত ছিল তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল, কেন এভাবে চার্চের ভিতর গুলি চালানো হল – কোনও কিছুই স্পষ্টভাবে জানা যায়নি এখনও। এই ঘটনায় জর্ডনে ৩ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান (Jafar Hassan)। হামলাকারীদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, এভাবে নিরীহ মানুষজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া অপরাধীদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না। এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদী ও উগ্রপন্থী মতাদর্শের ফল বলে উল্লেখ করেছেন জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী। এই ভয়াবহ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ (King Abdullah II)। এক্স (X)-এ এক বার্তার মাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “কারাককে লক্ষ্য করে চালানো এই সন্ত্রাসী হামলাকে কঠোরতম উপায়ে দমন করা হবে।” নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

  • India Vs Pakistan: লাস্ট মিনিট থ্রিলারে এশিয়াড হকিতে পাক বধ! এশিয়ান গেমস ফাইনালে ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান ‘মহারণ’

    India Vs Pakistan: লাস্ট মিনিট থ্রিলারে এশিয়াড হকিতে পাক বধ! এশিয়ান গেমস ফাইনালে ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান ‘মহারণ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে পুরুষদের হকি সেমি ফাইনালে পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত, সঙ্গে পদকও নিশ্চিত করল। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শেষ মিনিট পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। এই ম্যাচেও তার অন্যথা ছিল না। বৃহস্পতিবার জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে দেখা গেল সেই ছবি। ভারত একটা সময়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে পরে ৩-৩ সমতায় আটকে যায়। আর সেখান থেকে অন্তিম মিনিটে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নেয়। নাটকীয়তায় মোড়া এই সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত। অন্যদিকে , ক্রিকেটে সোনার পদকের জন্য মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান (India vs Pakistan)। ৩ অক্টোবর হবে বহু প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। এশিয়ার দুই ক্রিকেট শক্তির লড়াই এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।

    শুরু থেকে ভারতের আক্রমণ

    এদিন হকির ময়দানে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল টিম ইন্ডিয়া। পঞ্চম মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের ট্রেডমার্ক ড্র্যাগ-ফ্লিকে বল জালে জড়িয়ে ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। অষ্টম মিনিটে দিলপ্রীতের একটি গোল ব্যাক-স্টিকের কারণে ভিডিয়ো রিভিউতে বাতিল হলেও ভারতীয় আক্রমণ থামেনি। ১৩ মিনিটে রিভার্স হিটে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিখুঁত ফিনিশে ব্যবধান ২-০ করেন সেই হরমনপ্রীতই। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৩ মিনিটে মনপ্রীত ও শীলানন্দের দুর্দান্ত সমন্বয়ে পাকিস্তানের ডি-বক্সে বল পান সুখজিত সিং, যিনি আলতো টোকায় স্কোরলাইন ৩-০ করে দেন। কিন্তু এরপরেই ম্যাচে শুরু হয় পাকিস্তানের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। ৩০তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলরক্ষক মোহিতকে পরাস্ত করে পাকিস্তানের আবু মাহমুদ ব্যবধান ৩-১ করেন। বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারত অনেকটাই স্লো হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ৪৫ মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্সের ব্যর্থতার ফায়দা তুলে হান্নান শাহিদ ৩-২ করেন। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে অর্থাৎ ৪৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা পাসে রানা ওয়াহিদ স্টিক ছুঁইয়ে ৩-৩ সমতা ফেরান। টানা তিনটে গোল খেয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায় ভারতীয় শিবির।

    টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত ভারত

    ম্যাচের শেষ দশ মিনিট ছিল চরম উত্তেজনায় ভরা। খেলার ঘড়িতে যখন ঠিক ৬০ মিনিট, সার্কেলের ডান প্রান্তে সামান্য ফাঁকা জায়গা পেয়ে বিদ্যুৎগতিতে ঢুকে পড়েন অভিষেক। দুরূহ কোণ থেকে তাঁর নেওয়া জোরালো শট গোলরক্ষক রাজার পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। আর এর পরেই ম্যাচ শেষের হুটার বাজে। শেষ মুহূর্তের এই গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা ভারতীয় দল। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত রইল ভারত। পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার এশিয়াডের ইতিহাসে পুরুষ ও মহিলা উভয় দলকেই ফাইনালে তুলে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করল ভারত।

    ক্রিকেটে ফাইনালে ভারত-পাক মহারণ

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। ব্যাট হাতে প্রথমে ২০ ওভারে ১৬৯ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। ঈশান কিষানের অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংস ভারতের বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। বৈভব সূর্যবংশীর ৩৮ রানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। জবাবে মাত্র ৪৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ, অভিষেক শর্মা ও অক্ষর প্যাটেল দুটি করে উইকেট নেন। শ্রীলঙ্কার তিন ব্যাটার রান-আউট হন। এবার ৩ অক্টোবর মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। অর্থাৎ এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সোনার পদক নির্ধারণ হবে দুই প্রতিবেশী দেশের লড়াইয়ে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে দুই দলের লড়াই বরাবরই আলাদা গুরুত্ব পায়। এবার সেই দ্বৈরথই দেখা যাবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চে।

    ইতিহাস নীতেশ কুমারের

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিনটি ভারতের জন্য ছিল সাফল্যে ভরা। ক্রিকেট-হকির সঙ্গেই গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে ইতিহাস গড়েছেন নীতেশ কুমার। পাশাপাশি তিরন্দাজি, নৌক্রীড়া, স্কোয়াশ ও সেপাক তাকরায়ও পদক ও সাফল্য এসেছে ভারতের ঝুলিতে। পুরুষদের ৯৭ কেজি গ্রিকো-রোমান বিভাগে মঙ্গোলিয়ার গাঙ্কহুয়াগ গানবাতারকে ৯-০ ব্যবধানে টেকনিক্যাল সুপিরিয়রিটিতে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন নীতেশ কুমার। এর ফলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম ভারতীয় গ্রিকো-রোমান কুস্তিগির হিসেবে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পৌঁছলেন তিনি। এবার সোনার পদকের জন্য লড়বেন নীতেশ। গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে এশিয়ান গেমসে ভারতের শেষ সোনা এসেছিল ১৯৬২ সালে। এদিকে মহিলাদের ৬২ কেজি বিভাগে মানসি আহলাওয়াত সেমিফাইনালে উঠলেও জাপানের নোনোকা ওজাকির কাছে ৬-০ ব্যবধানে হেরে যান। এবার ব্রোঞ্জের জন্য লড়বেন তিনি।

    স্কোয়াশে ভারতের ব্রোঞ্জ

    মহিলাদের দলগত স্কোয়াশে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে ভারত। সেমিফাইনালে হংকং চায়নার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ভারতীয় দল। প্রথম ম্যাচে আনাহত সিং চ্যান সিন ইউকের কাছে পরাজিত হন। এরপর তানভি খান্না ৩-১ ব্যবধানে লি কা ই-কে হারিয়ে ভারতকে সমতায় ফেরান। তবে নির্ণায়ক ম্যাচে জোশনা চিনাপ্পা হো তসে লোকের কাছে হেরে যান। ফলে ফাইনালে পৌঁছে যায় হংকং চায়না এবং ভারত পায় ব্রোঞ্জ। পুরুষদের কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন গণেশ মণি রত্নম থিরুমুরু। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ভিয়েতনামের দাং কং ডাককে ১৪৯-১৪৪ ব্যবধানে হারান তিনি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম জংহোর কাছে হেরে গেলেও ব্রোঞ্জের ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান গণেশ। কম্পাউন্ড তিরন্দাজিতে ভারতীয় দলগত ইভেন্ট থেকে তিনটি সোনা এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে।

    নৌক্রীড়ায় রুপো ভারতের

    পুরুষদের স্কিফ ইভেন্টে রুপোর পদক জিতেছেন ভারতের মানু ফ্রান্সিস ও প্রিন্স কুরিসিঙ্কাল নোবেল। ভারতীয় জুটি মোট ২৩ নেট পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে। ফাইনাল রেসের আগে চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতীয় জুটি শেষ দৌড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। পুরুষদের কোয়াড্রান্ট বিভাগে সেমিফাইনালে পৌঁছে পদক নিশ্চিত করেছে ভারত। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেই শেষ চারে জায়গা করে নেয় ভারতীয় দল। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিন শেষে মোট ৬৩টি পদক নিয়ে পদক তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে ভারত। সোনা ১০টি, রুপো ২২টি ও ৩১টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে ভারতের ঝুলিতে।

     

     

     

     

  • Vande Mataram: ঐতিহাসিক! প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম্’ দিয়ে শুরু লোকসভার কার্যক্রম, জাতীয় গানের পরই শেষ অধিবেশন

    Vande Mataram: ঐতিহাসিক! প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম্’ দিয়ে শুরু লোকসভার কার্যক্রম, জাতীয় গানের পরই শেষ অধিবেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সাক্ষী থাকল ভারতের সংসদ। বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার প্রথম ‘বন্দে মাতরম্’ গান (Vande Mataram in Lok Sabha) পরিবেশনের মাধ্যমে লোকসভার কার্যক্রম শুরু হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী-সহ লোকসভার প্রায় পূর্ণাঙ্গ উপস্থিতির মধ্যেই জাতীয় গান পরিবেশিত হয়। ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছয়টি স্তবক পরিবেশনের পর লোকসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি (sine die) করে দেওয়া হয়। একইভাবে জাতীয় গানের পর এদিনই রাজ্যসভার কার্যক্রমও শেষ হয়। তবে ঐতিহাসিক সূচনার মধ্যেও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি। ২০ জুলাই অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক ইস্যুতে বারবার অচল হয়েছে সংসদের কাজ। শেষ দিনেও বিরোধীরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

    ‘বন্দে মাতরম্’-কে আইনি সুরক্ষা

    সংসদে এই প্রথম অধিবেশনের শেষ দিন ছয়টি স্তবক ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হল। কয়েক দিন আগে এই জাতীয় স্তোত্রকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্মতি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে গানের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও প্রোটোকল নিয়েও কেন্দ্র আগে নির্দেশিকা জারি করেছিল। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া আটকানো বা ব্যাহত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ‘বন্দে মাতরম্’ জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে তুলনীয় আইনি সুরক্ষা পেল। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকলও জারি করেছিল। ২৮ জানুয়ারির নির্দেশিকায় রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের ভাষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে গানটির ছয়টি স্তবক পরিবেশনের কথা বলা হয়।

    রাজনৈতিক টানাপড়েনে ভরা

    শেষ দিনের সূচনাটা যতটা তাৎপর্যপূর্ণ, অধিবেশনের শেষটা ততটাই রাজনৈতিক টানাপড়েনে ভরা। সকাল থেকেই বিরোধী সাংসদদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এ বার তাঁর স্বাভাবিক বিদায়ী ভাষণও দেননি। অধিবেশনে সংসদের কাজকর্ম এবং উৎপাদনশীলতার হিসেব তুলে ধরার রীতিও তাই এ বার দেখা গেল না। ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনের অধিকাংশ দিনই বারবার থমকে গিয়েছে। দিল্লিতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা আলোচনার দাবি জানিয়ে সরব ছিলেন। সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের এই টানাপড়েনে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তুত, বিরোধীরা অপ্রস্তুত

    বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি। ছাত্রদের ইস্যুতে আলোচনার জন্য বিরোধীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সময় বরাদ্দের জন্য তিনি স্পিকারকে অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু শেষ দিনেও সেই আলোচনার পথ মসৃণ হল না। সংসদ চত্বরের মকর দ্বারে এ দিন বিজেপি এবং বিরোধীদের পৃথক কর্মসূচি দেখা যায়। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে বিজেপি। অন্য দিকে নিজেদের দাবিতে সরব থাকে বিরোধী দলগুলি। ওঠে দলিত প্রসঙ্গ। ফলে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই শেষ হয় বাদল অধিবেশন। গোটা বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গিয়েছে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন। শাহের বিবৃতির দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছিল বিরোধী দলগুলি। এই আবহে বুধবার শাহ বলেন, “আমি সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে গোড়া থেকেই আলোচনা শুরুর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বিরোধীরা পালাচ্ছেন। তাঁরা আসলে আলোচনা চান না।’’ শাহের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাহুল বলেন, “ছাত্রদের উপর কে গুলি চালাল? পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে ছাত্রদের মারার নির্দেশ কে দিল? যদি অমিত শাহ এই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আমরা তাঁর বক্তৃতা শুনতে আগ্রহী নই।”

    ১২টি বিল পাশের দাবি সরকারের

    বাদল অধিবেশনের বড় অংশই অচলাবস্থার কারণে নষ্ট হলেও সরকারের দাবি, এই সময়ের মধ্যে সংসদে মোট ১২টি বিল পাশ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভকেই সংসদের কাজ ব্যাহত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা বা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও অনীহা ছিল না। তবে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদ ও হট্টগোলের কারণে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে। শেষ দিনেও সেই রাজনৈতিক অচলাবস্থার কোনও ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব হন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাহুল গান্ধী যথাযথভাবে আলোচনায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির অন্যান্য নেতারাও সংসদে বিরোধীদের আচরণ নিয়ে সরব হন। পাশাপাশি পাঞ্জাব ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তাঁরা। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে সংসদে পর্যাপ্ত আলোচনা ও সরকারের জবাব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

     

     

     

  • Mirabai Chanu: মীরাবাঈ ম্যাজিক! কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক, পদক-লাভে মণিপুরের মেয়ে ও ছেলেকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Mirabai Chanu: মীরাবাঈ ম্যাজিক! কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক, পদক-লাভে মণিপুরের মেয়ে ও ছেলেকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতকে প্রথম সোনা এনে দিলেন সোনার মেয়ে মীরাবাঈ চানু (Mirabai Chanu)। ফের দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন ভারতের ভারোত্তোলন তারকা। রবিবার গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ম্যাজিক দেখালেন মণিপুরের মেয়ে। এই নিয়ে পরপর তিনবার কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026 Glasgow) সোনা জেতার অনন্য নজির গড়লেন ৩১ বছর বয়সি মীরাবাঈ (India first gold CWG 2026)। অন্যদিকে, মণিপুর থেকে সেনাছাউনি হয়ে গ্লাসগো, ভারতের হয়ে রুপো জিতে আবেগে ভাসলেন ঋষিকান্ত সিং চানামবাম (Rishikant Singh)। নিজের ঐতিহাসিক সাফল্য তিনি উৎসর্গ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং গোটা দেশকে। একইসঙ্গে ভারতীয় ক্রীড়ার উন্নয়নে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই ভারতীয় ভারোত্তোলক।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা-বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের হয়ে পদকজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু ও ঋষিকান্ত সিংকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “ভারতীয় ভারোত্তোলনের ইতিহাসে আরও একটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ হল। প্রতিভাবান মীরাবাই চানু আবারও কমনওয়েলথ গেমসে নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ৪৮ কেজি বিভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি সোনার পদক জিতেছেন। টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা এবং মোট চতুর্থ কমনওয়েলথ পদক জিতে তিনি প্রতিটি ভারতীয়র কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভবিষ্যতের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।” প্রধানমন্ত্রী ঋষিকান্ত সিংয়ের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অভিষেক কমনওয়েলথ গেমসেই রুপোর পদক জিতে ঋষিকান্ত ভারতীয় ভারোত্তোলনের ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা জাগিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মীরাবাঈ ম্যাজিকে মাত গ্লাসগো

    সোনা জেতার পাশাপাশি রবিবার নিজের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন কমনওয়েলথ ও গেমস রেকর্ড গড়লেন মীরাবাঈ চানু। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মোট ১৯০ কেজি ওজন তুলে তিনি শীর্ষে। যার মধ্যে স্ন্যাচ বিভাগে ছিল ৮৫ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগে ১০৫ কেজি। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন মীরাবাঈ। তবে সতর্কতার সঙ্গে প্রতি পদক্ষেপে এগিয়েছেন তিনি। স্ন্যাচ রাউন্ডের প্রথম চেষ্টা নিখুঁত না হলেও, দ্বিতীয় চেষ্টায় ৮২ কেজি তুলে গেমস রেকর্ড তৈরি করেন। এর পর নিজেরই গড়া গত বছরের ৮৪ কেজির রেকর্ড ভেঙে ৮৫ কেজি ওজন তুলে গড়ে তোলেন নতুন কমনওয়েলথ রেকর্ড। ক্লিন অ্যান্ড জার্ক রাউন্ডেও খানিকটা নাটকীয়তা ছিল। মীরাবাঈয়ের প্রথম প্রচেষ্টাটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু মানসিকভাবে শক্ত থেকে দ্বিতীয়বার যখন তিনি মঞ্চে আসেন, তখন তাঁর চোখে ছিল শুধুই জয়ের জেদ। গর্জন করে নিখুঁত ছন্দ বজায় রেখে ১০৫ কেজি ওজন মাথার উপর তুলে ধরেন তিনি। বিচারকদের সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো স্টেডিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ে এবং মীরাবাঈয়ের মুখে ফিরে আসে তাঁর সেই পরিচিত হাসি।

    পরবর্তী লক্ষ্য এশিয়ান গেমস

    এই সাফল্যের পরও পা মাটিতেই রাখছেন মণিপুরের এই ভারোত্তোলক। মীরাবাঈ জানান, তাঁর মূল লক্ষ্য এখন আগামী সেপ্টেম্বর মাসের এশিয়ান গেমস। এশিয়ান গেমসে পদক জয়ই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বপ্ন। গ্লাসগো গেমসে নিজেকে খুব একটা চাপ না দিয়ে, এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে মীরাবাঈয়ের রবিবারের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে ক্রীড়াপ্রেমীদের বিশ্বাস, আসন্ন এশিয়ান গেমসেও তাঁর গলায় সোনার পদক দেখা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এদিন সোনা জয়ের পরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ৩১ বছরের তারকা। মা এবং কোচকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেঁদে ফেলেন মণিপুরের মেয়ে। ২০১৪ সালে ২০ বছরের এক তরুণী প্রতিভা গ্লাসগো থেকে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন, সেই মেয়েই ১২ বছর পরে ওই শহর ছাড়লেন কমনওয়েলথ গেমসের টানা চতুর্থ পদক নিয়ে। তার মধ্যে তিনটিই সোনার পদক। আর সেই রেকর্ড সোনা জয়ের পরে নিজের প্রজন্মের ভারতের সেরা ভারোত্তোলক বলেন, ‘গত তিনদিন ধরে আমি খাইনি। আমার ওজন বজায় রাখার কাজটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমি পরিবারকে এই সোনার পদককে উৎসর্গ করতে চাই।’

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে পদক উৎসর্গ

    মীরাবাঈ চানুর পদক জয়ের ঠিক আগে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলনে রুপোর পদক জেতেন মণিপুরেরই ছেলে ঋষিকান্ত। জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রুপোর পদক শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি গোটা দেশের। তিনি বলেন, “আমি এই রুপোর পদক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সমগ্র দেশকে উৎসর্গ করছি। আজকের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে আমার কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ভারত সরকার, ইন্ডিয়ান ওয়েটলিফটিং ফেডারেশন, সাপোর্ট স্টাফ এবং আমার বন্ধুদের অবদান।” ২০২২ সালে বার্মিংহাম গেমসে প্রথমবার কমনওয়েলথ মঞ্চে অভিষেক হয় ঋষিকান্তের। সে বার ৫৫ কেজি বিভাগে নেমেছিলেন। কিন্তু পদক আসেনি। খালি হাতেই ফিরতে হয়। এরপর হতাশায় না ভুগে নিজেকে আরও ধারালো করেন। ওজন বাড়িয়ে লুফে নেন নতুন চ্যালেঞ্জ। ৫৫ কেজি থেকে উঠে আসেন সদ্য চালু হওয়া ৬০ কেজি বিভাগে। আর এখানেই লুকিয়ে সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। ২০২৫ সালে আমেদাবাদে আয়োজিত কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে (Commonwealth Weightlifting Championships) অনায়াসে সোনা জয়।

    সরকারের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা

    ঋষিকান্তের মতে, ভারতীয় ক্রীড়ার বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক সমর্থন বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি জানান, খেলাধুলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের উদ্যোগই তাঁকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাই নিজের এই সাফল্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উৎসর্গ করাই তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মণিপুরের ইম্ফলের ছেলে ঋষিকান্ত। তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান ভারতীয় সেনার (Indian Army)। স্পোর্টস সিস্টেম বা নির্দিষ্ট ক্রীড়া কর্মসূচির হাত ধরেই আসল প্রতিভার বিকাশ। সঠিক প্রশিক্ষণ, নিখুঁত গাইডেন্স এবং লাগাতার সমর্থন—সবটাই পেয়েছিলেন সেনাশিবির থেকে। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনার হয়েই প্রতিনিধিত্ব করেন। হালকা ওজনের ক্যাটেগরিতে দেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক হিসেবে নিজেকে ইতিমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (Indian Weightlifter)।

    গেমসে পদক তালিকায় ভারত

    চানুর সোনা এবং ঋষিকান্তের রুপো জয়ের সুবাদে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের পদক তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। একটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে। ১২টি সোনা, পাঁচটি রুপো এবং সাতটি ব্রোঞ্জ নিয়ে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া।

     

     

     

  • India Indonesia Ties: নতুন উচ্চতায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক! ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত জাকার্তার

    India Indonesia Ties: নতুন উচ্চতায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক! ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত জাকার্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন উচ্চতায় পৌঁছল ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক (India Indonesia Ties)। দু দিনের বাণিজ্যিক সফরে ইন্দোনেশিয়া (BrahMos Deal)গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals), প্রযুক্তি, ডিজিটাল সংযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) এবং শিক্ষা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, ইন্দোনেশিয়ার ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যাস্ট্রা বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত।

    ব্রহ্মোস নিয়ে চুক্তি

    ইন্দোনেশিয়া ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম কিনতে প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের বড় চুক্তি করেছে। ফিলিপিন্সের পর দ্বিতীয় এশিয়া মহাদেশের দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া এই অত্যাধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করল। কূটনীতিকদের একাংশের মতে পাকিস্তান, চিন এবং বাংলাদেশকে আটকাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশের সঙ্গে এই কৌশলগত সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই চুক্তি শুধু অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রতীক।” প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও এই চুক্তিকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাইলফলক বলে অভিহিত করেন। ব্রহ্মোস চুক্তির আওতায় ভারতের ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল) বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা রিপাবলিকর্পের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই মিসাইল সিস্টেম ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। সুপারসনিক গতির এই ক্রুজ মিসাইল সমুদ্র ও স্থল উভয় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইন্দোনেশিয়া এর আগে ব্রহ্মোসের কিছু সংস্করণ কিনলেও এবারের চুক্তি আরও বড় আকারের এবং অতিরিক্ত ব্যাটারি সংযোজনসহ।

    ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ নিয়ে আশ্বাস

    একই বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ (Astra) নিয়ে। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক মিসাইল ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর সু-৩০ ফাইটার জেটে যুক্ত করা হবে। এর ফলে ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীর আকাশ যুদ্ধের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। অস্ত্র মিসাইল দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম এবং আধুনিক যুদ্ধবিমানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। ইন্দোনেশিয়া এই অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ এবং তার সমুদ্রসীমা বিশাল। ব্রহ্মোস ও অস্ত্রের মতো অস্ত্র সংগ্রহ তাদের নৌ ও বিমান শক্তিকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে।

    নতুন যুগের সূচনা

    মঙ্গলবার জাকার্তার মেরদেকা প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Jakarta) এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তিন দেশের সফরের প্রথম পর্যায় হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করবেন। যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “২০১৮ সালে গড়ে ওঠা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। উন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমি নিশ্চিত, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা হল।”

    সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে চুক্তি

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কোস্ট গার্ড ভারত মহাসাগরে যৌথভাবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করবে। দুই দেশই একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। ভারত সবসময়ই আসিয়ান (ASEAN)-এর কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।” অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এমন একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল চায়, যা হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত

    বৈঠকে প্রতিরক্ষার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, স্বাস্থ্য, টেলিকম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, নির্বাচন পরিচালনা এবং মহাকাশ সহযোগিতা-সহ প্রায় এক ডজন ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হল ক্রিটিক্যাল মিনারেলস নিয়ে অংশীদারিত্ব। ভারত ইন্দোনেশিয়ার স্টিল, নিকেল এবং রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করবে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    সাবাং বন্দরের উন্নয়ন

    এছাড়া মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর যৌথভাবে উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের কাছাকাছি অবস্থিত এই বন্দর ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বন্দর উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ায় ইউপিআই

    দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) বেঙ্গালুরু ইন্দোনেশিয়ায় তাদের একটি ক্যাম্পাস স্থাপন করবে। পাশাপাশি ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI)-কে ইন্দোনেশিয়ার ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও পর্যটকদের লেনদেন আরও সহজ হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারতের ইউপিআই ইন্দোনেশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে। এর ফলে ব্যবসা করা যেমন সহজ হবে, তেমনই ভ্রমণকারীদের জন্যও আর্থিক লেনদেন অনেক সুবিধাজনক হবে।”

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে ভারত মনে করে, সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্ব আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারত এখনও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান (Two-State Solution) এবং স্থায়ী শান্তির পক্ষে তার অবস্থান বজায় রেখেছে।” ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত চুক্তিগুলি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই আরও মজবুত করবে না, বরং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে হবে। সেটাই বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকে অফিসারদের মোট পাঁচ দফা নির্দেশ দেওয়া হয়। সেগুলিকেই গাইডলাইন ধরে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মন্ত্রী, বিভিন্ন দফতরের সচিব ও অন্যান্য আধিকারিক ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে শুভেন্দু নির্দেশ দিয়েছেন, যে অফিসাররা রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের নাম এবং ফোন নম্বর ওয়েবসাইট-পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। যাতে আমজনতা থেকে উপভোক্তা— সকলেই সরাসরি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

    শুভেন্দুর পাঁচ দফা নির্দেশ

    এদিন নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই প্রশাসনের আধিকারিকদের কর্তব্য। সেখানে যেন গাফিলতির অভিযোগ না আসে। এ দিনের বৈঠকে শুভেন্দুর দ্বিতীয় নির্দেশ— ‘প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট ক্যালেন্ডার’ তৈরি করতে হবে, যাতে কোনও কাজ অনির্দিষ্ট কাল ধরে না চলে, তার আভাস সব দফতরের কাছেই থাকে। যেগুলি দফতরের নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে পড়ে, সেই রুটিন কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে তার মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও টাইমলাইন ধরে শেষ করতে হবে। তৃতীয় নির্দেশ হলো— সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার। যে প্রকল্পের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হবে, তা যেন সেই কাজেই ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ‘আনটায়েড’ বা সাধারণ ফান্ডেরও যেন সঠিক ব্যবহার হয়, তার দিকে যেন কড়া নজরদারি থাকে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন ছাড়া অযথা খরচ করা যাবে না। রাজস্ব ফাঁকির মোকাবিলায় প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে শুভেন্দুর চতুর্থ বার্তা, ‘রাজস্ব অর্থাৎ রেভিনিউ কোনও ভাবেই যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার দিকে আপনারা নজর দিন। বালি বা পাথরের উপরে রাজস্বে কেউ যাতে ফাঁকি না দিতে পারে, তা দেখতে হবে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ পেলেই কড়া পদক্ষেপ করবেন।’ মুখ্যমন্ত্রীর পঞ্চম নির্দেশ— জেলা আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে হবে। অন্তত মাসে একদিন সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ করতে হবে তাঁদেরও।

    জনহিতকর প্রকল্প নিয়ে নির্দেশ

    এ ছাড়াও স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। জনহিতকর যে সব প্রকল্প আছে, সেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে ওই প্রজেক্টের ‘শর্ট টার্ম প্ল্যানিং’ তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় মেনে কাজ করা যায়। এ ছাড়াও স্বচ্ছ ডেটাবেস তৈরিতেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের নথি আর তথ্য জমা নিচ্ছে সরকার। সেগুলি যাতে সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সেই প্রসঙ্গেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। পুজোর মধ্যেই ‘স্বাস্থ্যসাথী’র উপভোক্তাদের নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে স্থানান্তর করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ১৫ জুলাই থেকে রাজ্যে এই স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করতে হবে।

    ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিয়ে নির্দেশ

    ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যাঁদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড রয়েছে, তাঁদের সবাইকে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ‘যোগ্য’ পরিবারের নতুন বধূ, নবজাতকের নাম আয়ুষ্মান কার্ডে যুক্ত করার সুযোগ করে দিতে হবে। এই কাজটা পরিবারগুলি বাড়িতে বসেই যাতে করতে পারে অথবা নিকটতম কমন সার্ভিস সেন্টার বা তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের আয়ুষ্মান মিত্রের কাছে গিয়েও এই ব্যাপারে সাহায্য পান, সেই নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবকে তিনি বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল তৈরি করলেই হবে না, হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। অনেক হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই।’ দ্রুত নিয়োগ এজেন্সিগুলির সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, বিভিন্ন প্রকল্পে পূর্বতন সরকারের বকেয়া টাকা ঠিকাদারদের মেটানোর আগে ভালো ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে, সেই কাজ ঠিকমতো হয়েছে কি না।

  • India US: ওমান উপকূলে ফের হামলা, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ! মার্কিন কূটনীতিককে তলব ভারতের

    India US: ওমান উপকূলে ফের হামলা, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ! মার্কিন কূটনীতিককে তলব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওমান উপকূলে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির (India US) উপর আমেরিকার ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক শুক্রবার আমেরিকান চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করেছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব (আমেরিকা) আমেরিকান কূটনীতিককে ডেকে পাঠান এবং এই হামলার বিষয়ে ভারতের আপত্তির কথা জানান। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উপর ধারাবাহিক হামলার পর নয়াদিল্লি কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে।

    আমেরিকান কূটনীতিককে তলব

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার ভারত সরকার নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আমেরিকান কূটনীতিককে তলব করল। এর আগে, বুধবার ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আরও একটি হামলায় তিন জন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হওয়ার পরে ভারত আমেরিকান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জেসন মিকসকে তলব করে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানায়। নিখোঁজ নাবিকদের মৃত্যুর খবর পরে পাওয়া গিয়েছে। সর্বশেষ হামলার মুখে যে বাণিজ্যিক জাহাজটি পড়েছিল, তাতে ছিলেন ২০ জন ভারতীয় নাবিক।

    আক্রান্ত এমটি জলভীর

    অন্যদিকে, ভারতীয় নৌপরিবহন দফতর (DGS) হরমুজ প্রণালী, ওমান উপসাগর এবং সংলগ্ন জলসীমায় কর্মরত প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় নাবিকের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সাম্প্রতিক তিনটি হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে ৮ জুন। এমটি মারিভেক্স (MT Marivex) নামের একটি তেলবাহী জাহাজে সন্দেহজনক আঘাতের পর আগুন ধরে যায়। জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে উদ্ধার হন। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে ১০ জুন। এমটি সেট্টেবেলো (MT Settebello)-র উপর ওমান উপসাগরে হামলা হয়। জাহাজটিতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর পরে নিশ্চিত করা হয়। তৃতীয় হামলার ঘটনা সামনে আসে বৃহস্পতিবার। ওমান উপকূলের কাছে আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণের মুখে পড়ে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জাহাজটির নাম এমটি জলভীর (MT Jalveer)। এতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। যদিও হামলার প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

    কত জন ভারতীয় নাবিক হরমুজের আশেপাশে

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পূর্ব ও পশ্চিমাংশে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে মোট ৬২২ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে শতাধিক বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় নাবিক কাজ করছেন। বর্তমানে আনুমানিক তিন লক্ষেরও বেশি ভারতীয় নাবিক বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকট ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

  • Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন সরকার বাংলায় বিনিয়োগের (West Bengal Industry) বন্ধ দুয়ার খুলে দিতে বদ্ধপরিকর। সোমবার কলকাতার ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’ (Bharat Chamber of Commerce)-এর মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্পমহল ও বণিকসভাকে আশ্বাস দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। বণিকমহল ও বঙ্গবাসীকে ‘১০০ দিনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। কলকাতার বুক থেকে বিগত বাম ও তৃণমূল জমানায় বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলির রাজ্য ছাড়ার ঐতিহাসিক ধাক্কাকে চূড়ান্ত লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দেন শমীক।

    বাংলায় শিল্পের জোয়ার আনতে ম্যাজিক

    এদিন ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’-এর অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, “আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। আগামী মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ করতে চলেছি, যা দেখার পর আপনারা প্রত্যেকে আমাদের নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।’’ ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতিদের আশ্বস্ত করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি মনে করিয়ে দেন, “এই মাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমি। এটাই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ-বান্ধব অঞ্চল হওয়ার যোগ্য ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত জমানার অপশাসনে বাংলার সেই বিপুল সম্ভাবনা কোনও দিন ডানা মেলতেই পারেনি। আমরা এবার যা প্রয়োজনীয়, ঠিক তাই করব।’’

    শিল্পের স্বার্থে সময়োপযোগী ও কড়া আইন

    শমীক জানান, খুব দ্রুত এমন সময়োপযোগী ও কড়া আইন তৈরি করা হবে, যা এ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের জন্য চূড়ান্ত লাভদায়ক এবং সুরক্ষামূলক হবে। তবে শমীকের সংযোজন, এই কর্মযজ্ঞ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একা করতে পারা সম্ভব নয়। রাজ্যের বুদ্ধিজীবী ও আমজনতাকেও এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে হবে।

    ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে?

    এদিন বাংলার শিল্পায়নের (Industrial Sector of Bengal) বেহাল দশা বোঝাতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা ‘এমএসএমই’ (MSME) সেক্টরের বর্তমান করুণ অবস্থার এক জ্বলন্ত উদাহরণ টানেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমি নতুন ও বড় বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার জন্য খোলা আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু আমাদের রাজ্যে ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে? একটা সাধারণ পানের দোকান বা চায়ের দোকানকেও এমএসএমই-র তালিকায় রেজিস্টার্ড করিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে বাহবা নেওয়া হচ্ছে! এটাই কি আমাদের কাম্য ছিল? আমাদের এর চেয়ে অনেক উন্নত ও খাঁটি এমএসএমই পরিকাঠামো গড়তে হবে।”

    ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি

    এদিনের অনুষ্ঠান থেকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের পর্যটন (Tourism) থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত চা শিল্প (Tea Industry) – কোনও কিছু নিয়েই আগে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে ধুঁকছেন গরিব চা শ্রমিকেরা, ক্ষোভে ফুঁসছেন টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের কারিগররা। একই সঙ্গে শমীক বলেন,  “নতুন শিল্প গড়ার স্বার্থে রাজ্যে একটি অত্যন্ত সুসংহত এবং যুগোপযোগী ‘ল্যান্ড পলিসি’ বা ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি।”

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান দিয়ে শমীক আক্ষেপের সুরে জানান, এক সময় শিল্পে ও অর্থনীতিতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিত পশ্চিমবঙ্গ। আর আজ দেশের মোট এফডিআই (FDI)-এর প্রায় ৩৬ শতাংশ যাচ্ছে একা মহারাষ্ট্রে, সেখানে কলকাতায় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের হার তলানিতে ঠেকে মাত্র ০.৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে! এই চরম লজ্জার অবসান ঘটাতে নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন পরিবেশ চাই

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা এখন এক চূড়ান্ত ডিজিটাল যুগে (Digital Age) বাস করছি। আমাদের রাজ্যকে দ্রুত ডেটা সেন্টার (Data Centers) শিল্পে অংশ নিতে হবে এবং বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এ রাজ্যে কোটি কোটি টাকা ঢালতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিগত সরকার প্রস্তুত ছিল না। তবে এবার আমরা তৈরি।”

    বিগত সরকারের গাফিলতি

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে খনিজ তেলের সন্ধান মেলা সত্ত্বেও তা নিয়ে বিগত সরকারের গড়িমসি এবং পরিকাঠামো স্তরের চূড়ান্ত ব্যর্থতা নিয়ে এদিন সুর চড়ান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের কোনও সুনির্দিষ্ট দূরদর্শিতা না থাকায় সেই প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইএম বাইপাসের ওপর চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইনের কাজ বছরের পর বছর ধরে কেন আটকে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শমীক। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্য পালাবদলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যে শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। গড়ে তোলা হবে আত্মনির্ভর বাংলা।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share