Tag: West Bengal Govt

West Bengal Govt

  • Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্যে চালু হয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা যোজনা আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat In Bengal)। এর আওতায় ১৯৫০ ধরনের রোগের চিকিৎসার সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগও। একই সঙ্গে রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর মূল মঞ্চ থেকে এই জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে ১৬ অগাস্ট দিনটিতে ‘খেলা হবে দিবস’ পালন করা হলেও বর্তমান সরকার মানুষের দীর্ঘায়ু কামনায় দিনটিকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প বনাম আয়ুষ্মান ভারত

    পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিষেবা ঘিরে প্রায়শই অভিযোগ উঠত। বেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হত রোগী এবং তাঁর পরিজনদের। এ বার সরকারবদলের পর রাজ্য এবং কেন্দ্রের জোড়া স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু হল পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকলেও তাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। একটি পর্যায়ে তা বন্ধও হয়ে যায়। পরে আবার শর্তসাপেক্ষে চালু হয়েছিল। এ বার আয়ুষ্মান ভারতের হাত ধরে সরকারি স্বাস্থ্যবিমায় ফিরছে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা।

    রাজ্যে আয়ুষ্মান দিবস-এর গুরুত্ব

    রবিবার বিকেলে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্তারা। যাঁরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার আওতায় পড়ছেন না, তাঁদের জন্য চালু করা হল মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনাও। পাশাপাশি রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলিতেও সুলভ মূল্যে ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র চালু করতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত তুলে ধরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“আজকের দিন ১৯৪৬: দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ডে। ১০ হাজার হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল কলকাতাতে। আগের সরকার খেলা হবে দিবস করত। আর বর্তমান সরকার আয়ুষ্মান ভব, আয়ুষ্মান দিবস পালন করছে আপনাদের শতায়ু প্রার্থনা করে।” তিনি কলকাতার ত্রাতা গোপাল মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রণাম জানান।

    চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু চিকিৎসা পরিষেবা নয়, এবার সরকারি সহয়াতায় মিলবে ওষুধও। রাজ্যের ১০টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’। এখান থেকে ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ পাওয়া যাবে। এর জন্য ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর (অপারেশনস) বেনি জোসেফের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর হয় রাজ্যের। ‘অমৃত ফার্মাসি’ গড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, এটি একটি ভাল উদ্যোগ। এর মানের সঙ্গে আপস করা হবে না, বলেও আশাপ্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। এ দিন ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করে রাজ্য। এই মউ-এর মাধ্যমে রাজ্যের ১০০টি সরকারি হাসপাতালে ‘অমৃত ফার্মাসি’ চালু করার বিষয়ে গাঁটছড়া বাঁধল সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া জানান, ইতিমধ্যে বেশ কিছু রাজ্যে এই অমৃত ফার্মাসি চালু হয়ে গিয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গেও তা চালু হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে কেনা যাবে। এখান থেকে ক্যানসার এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য ব্র্যান্ডেড এবং জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্টেন্ট, পেসমেকারের মতো সরঞ্জামও পাওয়া যাবে সস্তায়।

    সুবিধা পাবেন ৬ কোটি রাজ্যবাসী

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার। অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি রাজ্যবাসী এর সুবিধা পাবেন। সত্তরোর্ধ্ব প্রত্যেক রাজ্যবাসীই এর সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ৮০ লক্ষ রাজ্যবাসী পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এ দিন যে দু’টি প্রকল্প চালু হল, তাতে সারা দেশের ৩৮,৬০৪টি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে ১৭০০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যেত। এখন ১৯৫০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, এর সঙ্গে ৪৬৭টি ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র’ এবং চোখের নিখরচায় চিকিৎসার জন্য ‘সুদৃষ্টি’ প্রকল্প রূপায়ণের কথাও।

    মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ

    রাজ্যে নতুন দুই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সূচনার সময়েই হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা— উভয় ক্ষেত্রেই এই সুবিধা মিলবে। শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে বলতে বারণ করেছিলেন। তা-ও বলে দিলাম।” বস্তুত, রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা ডিপার্টমেন্টে না থেকে নার্সিংহোমে গিয়ে হাঁটু প্রতিস্থাপন করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্বাস্থ্য ভবন হাঁটু অস্ত্রোপচারের বিল দেখে হতবাক হয়ে যায়‌। শুরু হয় তদন্ত। তার পর থেকে স্বাস্থ্যসাথীতে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শর্তসাপেক্ষে তা চালুও হয়েছিল। এ বার ফের তা পুরোদমে চালু হচ্ছে নতুন দুই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার হাত ধরে।

    গরিব মানুষ ভাল পরিষেবা পাবেন

    রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য তথা চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ভীষণ ভাবে উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, “এটা অনেক আগে হওয়ার কথা ছিল। আমরা জানি আয়ুষ্মান দিবস (কেন্দ্রীয় সরকারের) এপ্রিল মাসে। কিন্তু আজ প্রথম শুরু হল পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যে কালো দিন ছিল। কালো দিনটা এ বার ভাল দিন হল। এর মাধ্যমে অনেকে, বিশেষ করে গরিবেরা ভাল রকম পরিষেবা পাবেন।” বস্তুত, ২০১৮ সালে দেশে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। তবে পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে তা পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল্‌স অ্যান্ড নার্সিংহোমস-এর সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, “এটা আমাদের কাছে খুশির খবর। অন্য রাজ্যের রোগীরাও আমাদের কাছে আসতে পারবেন। এখানের বাসিন্দারা অন্য রাজ্যে গেলেও চিকিৎসা করাতে পারবেন।”

  • Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার রেড রোডে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সকলকে একসঙ্গে বাংলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা এবং নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে ফের তার পুরনো গৌরবের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। রেড রোডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কেরা।

    রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূর করুন

    বদলের বাংলায় রেড রোডে ইতিহাস। স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডে বাজল বন্দে মাতরম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদানের পর পতাকা উত্তোলন করেন। কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৪ জন আইপিএসকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদক’ প্রদান করেন। তার আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভিডিওবার্তায় সকলকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আসুন রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে, হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার কাজ করি।’’ তাঁর বক্তব্যে বাংলার উন্নয়নের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ গৌরবের মাটি। এই মাটিতেই জন্মেছেন বীর বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু এবং মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদর্শকে সামনে রেখে নতুন বাংলা গড়ার সংকল্প নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

    উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা

    শুভেন্দুর কথায়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেই উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে সেই লক্ষ্যে সকলকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষাকে সুদৃঢ় করতে চাই। যে সংকল্প নিয়ে সরকারে এসেছি, তাকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’’ এই প্রথমবার রেড রোডে প্যারেডে কম্যান্ডার এবং সহকারী দু’জনে ছিলেন। কুচকাওয়াজের পর মোট ১২টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের ট্যাবলো দেখানো হয়। তারপর একে একে অন্নামৃত, কন্যারত্ন ও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, দুর্গাশক্তি বাহিনী, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়।

    পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় এবছরই পুলিশের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতাজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার পুলিশ। রেড রোডকে ১৩টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরের দায়িত্বে একজন করে ডিসি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা। ১৩টি জোনের আওতায় ৮০টি সেক্টর। এ ছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ২০ জন ডিসি, ৪০ জন অ‌্যাসিস্ট‌্যান্ট পুলিশ কমিশনার। সারা শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে ন’টি পিসিআর ভ্যান, তিনটি কুইক রেসপন্স টিম। নজরদারির জন্য শহরে ১৯টি পুলিশ পিকেট, মেট্রো স্টেশনে ২৫টি পিকেট, ২৪টি পিকেট শহরের বিভিন্ন বাজার ও শপিং মলে, কালীঘাট মন্দির ছাড়াও সাতটি ধর্মস্থানে। শহরের ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নাকা চেকিংয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যে কোনওরকম নাশকতা এড়াতে দর্শকদের সঙ্গে মিশে রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ।

    দূরদর্শনে শুভেন্দুর বক্তব্য

    দীর্ঘ ২০ বছর পর বাংলার কোনও মুখ্যমন্ত্রী আবারও বার্তা দিলেন দূরদর্শনে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। দূরদর্শনে তাঁর বক্তব্য সম্প্রচারিত হয় দিল্লিতে লালকেল্লার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার ঠিক পরেই। বক্তব্যের শুরুতেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে স্মরণ করলেন তিনি। তারপর নিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বন্দে মাতরম। প্রিয় পশ্চিমবঙ্গ বাসী, আজ স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির পবিত্র দিনে প্রতিটি নাগরিককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যাঁদের সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার মুক্ত আকাশ।’ এরপরই একে একে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিনয়-বাদল দীনেশের নাম।

    বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম চালিকাশক্তি

    আড়াই মিনিটের এই বার্তায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, বরং দেশকে আরও এগিয়ে যাওয়ার এক পবিত্র অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারকে সঙ্গে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পশ্চিমবঙ্গ হবে অন্যতম চালিকাশক্তি। সেই লক্ষ্যে যুব সমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা, মা-বোনেদের আরও স্বনির্ভর করে তোলা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি-শিল্প থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।’

    এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রী তেরঙার তাৎপর্যও এদিনের বার্তায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের গর্ব। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মর্যাদাও অক্ষুন্ন রাখার কথা বলেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৬ সালে স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দূরদর্শনে বার্তা দিয়েছিলেন। তারপর বাংলার আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে দুরদর্শনে বক্তব্য রাখেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় দুরদর্শনে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ বন্ধ ছিল ১৫ বছর। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার চালু হল সেই রীতি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এবারের স্বাধীনতা দিবসটা অন্যরকম। রয়েছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তারা উদযাপন করছে ১৫ অগাস্ট। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

     

     

  • Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে হবে। সেটাই বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকে অফিসারদের মোট পাঁচ দফা নির্দেশ দেওয়া হয়। সেগুলিকেই গাইডলাইন ধরে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মন্ত্রী, বিভিন্ন দফতরের সচিব ও অন্যান্য আধিকারিক ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে শুভেন্দু নির্দেশ দিয়েছেন, যে অফিসাররা রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের নাম এবং ফোন নম্বর ওয়েবসাইট-পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। যাতে আমজনতা থেকে উপভোক্তা— সকলেই সরাসরি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

    শুভেন্দুর পাঁচ দফা নির্দেশ

    এদিন নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই প্রশাসনের আধিকারিকদের কর্তব্য। সেখানে যেন গাফিলতির অভিযোগ না আসে। এ দিনের বৈঠকে শুভেন্দুর দ্বিতীয় নির্দেশ— ‘প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট ক্যালেন্ডার’ তৈরি করতে হবে, যাতে কোনও কাজ অনির্দিষ্ট কাল ধরে না চলে, তার আভাস সব দফতরের কাছেই থাকে। যেগুলি দফতরের নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে পড়ে, সেই রুটিন কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে তার মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও টাইমলাইন ধরে শেষ করতে হবে। তৃতীয় নির্দেশ হলো— সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার। যে প্রকল্পের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হবে, তা যেন সেই কাজেই ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ‘আনটায়েড’ বা সাধারণ ফান্ডেরও যেন সঠিক ব্যবহার হয়, তার দিকে যেন কড়া নজরদারি থাকে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন ছাড়া অযথা খরচ করা যাবে না। রাজস্ব ফাঁকির মোকাবিলায় প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে শুভেন্দুর চতুর্থ বার্তা, ‘রাজস্ব অর্থাৎ রেভিনিউ কোনও ভাবেই যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার দিকে আপনারা নজর দিন। বালি বা পাথরের উপরে রাজস্বে কেউ যাতে ফাঁকি না দিতে পারে, তা দেখতে হবে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ পেলেই কড়া পদক্ষেপ করবেন।’ মুখ্যমন্ত্রীর পঞ্চম নির্দেশ— জেলা আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে হবে। অন্তত মাসে একদিন সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ করতে হবে তাঁদেরও।

    জনহিতকর প্রকল্প নিয়ে নির্দেশ

    এ ছাড়াও স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। জনহিতকর যে সব প্রকল্প আছে, সেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে ওই প্রজেক্টের ‘শর্ট টার্ম প্ল্যানিং’ তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় মেনে কাজ করা যায়। এ ছাড়াও স্বচ্ছ ডেটাবেস তৈরিতেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের নথি আর তথ্য জমা নিচ্ছে সরকার। সেগুলি যাতে সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সেই প্রসঙ্গেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। পুজোর মধ্যেই ‘স্বাস্থ্যসাথী’র উপভোক্তাদের নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে স্থানান্তর করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ১৫ জুলাই থেকে রাজ্যে এই স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করতে হবে।

    ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিয়ে নির্দেশ

    ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যাঁদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড রয়েছে, তাঁদের সবাইকে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ‘যোগ্য’ পরিবারের নতুন বধূ, নবজাতকের নাম আয়ুষ্মান কার্ডে যুক্ত করার সুযোগ করে দিতে হবে। এই কাজটা পরিবারগুলি বাড়িতে বসেই যাতে করতে পারে অথবা নিকটতম কমন সার্ভিস সেন্টার বা তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের আয়ুষ্মান মিত্রের কাছে গিয়েও এই ব্যাপারে সাহায্য পান, সেই নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবকে তিনি বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল তৈরি করলেই হবে না, হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। অনেক হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই।’ দ্রুত নিয়োগ এজেন্সিগুলির সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, বিভিন্ন প্রকল্পে পূর্বতন সরকারের বকেয়া টাকা ঠিকাদারদের মেটানোর আগে ভালো ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে, সেই কাজ ঠিকমতো হয়েছে কি না।

  • Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতিদমন থেকে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, বেআইনি দখল উচ্ছেদ থেকে নারী নিরাপত্তা— রাজ্যে নতুন সরকারের গত দেড় মাসের প্রায় প্রতিটি উদ্যোগই মানুষের স্বার্থে। নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সূচনায় এমনই দাবি করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি (Governor R N Ravi)। রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হল বৃহস্পতিবার। রীতি মেনে অধিবেশনে প্রারম্ভিক ভাষণ পাঠ করলেন রাজ্যপাল। তাঁর ৩৬ মিনিটের ভাষণে বার বার প্রতিধ্বনিত হল ভয় কাটিয়ে ভরসায় ফেরার বার্তা।

    উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে রাজ্য

    বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রারম্ভিক ভাষণের শুরুতেই আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ দিবস (২০ জুন)-এর জন্য রাজ্যবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানান রাজ্যপাল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গত দেড় দশকে এই প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গবাসী নতুন সরকারের পক্ষে স্পষ্ট জনমত দিয়েছে। রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভয় এবং হতাশার যে বাতাবরণ ছিল, তাকে স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্যবাসী।” রাজ্যের নতুন সরকার ইতিমধ্যে যে উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে, সে কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। ভাষণে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন করবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বের বিষয়ে আমার সরকার অবগত।” তিনি আশ্বস্ত করেন রাজ্যে সকলের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার। রাজ্যের প্রত্যেক সাধারণ মানুষ যাতে সম্মানের সঙ্গে স্বাধীন ভাবে দৈনন্দিন জীবন কাটাতে পারেন, তা-ও নতুন সরকার নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী তিনি।

    আইনের শাসন ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে স্পষ্ট জানান, নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্য থেকে সিন্ডিকেট সংস্কৃতি, তোলবাজি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা। রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার বেশ কিছু অংশে জনবিন্যাসের পরিবর্তন (Demographic Changes) একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    নারী নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’

    নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল রবি মানব পাচার ও অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ভাষণে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে রাজ্যপাল অভিযোগ করেন, আগের জমানায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানিয়েও ন্যায়বিচার পাননি। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়নকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে থমকে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রাজ্যের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই সমস্ত থমকে থাকা মেট্রো ও পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

    রাজ্যে নয়া শিল্প সম্ভাবনা

    রাজ্যে আগামিদিনে শিল্প সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। জানান, নতুন সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে। সিঙ্গুরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তুলে ধরেন জলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বন্দর উন্নয়নে নতুন সরকারের উদ্যোগের কথাও। অতীতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির দিকে পরোক্ষ ইঙ্গিত করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এবার থেকে সরকারি শূন্যপদগুলিতে স্বচ্ছ ও ত্রুটিহীন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা হবে।

     

     

     

  • Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গেলে মিলবে ফর্ম। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে এই ফর্ম। যাঁরা তা (Documents List) করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্য করতে সরকারি আধিকারিকরা যাবেন বাড়িতেও। স্থানীয় বিধায়করাও সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার যোজনায় লক্ষ লক্ষ ‘বেনো জল’ ঢুকে রয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজকোষের অপচয় রোধ করতেই অন্নপূর্ণা প্রকল্পে নথি ও তথ্য ভালো করে যাচাই করা হবে।

    ফর্মে জানাতে হবে যেসব তথ্য (Annapurna Yojana)

    ফর্মটি ১১ পাতার। তাতে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের বাকি সব সদস্যের খুঁটিনাটি সব তথ্যই জানতে চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক অনুদান। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে মহিলারা ফি মাসে তিন হাজার করে টাকা পাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই কারণেই ফর্মটি দীর্ঘ হয়েছে। আবেদানকারীদের ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্যও এই ফর্মের নথি এবং তথ্য বিবেচনা করা হবে।

    ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর

    অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে প্রথমেই চাওয়া হয়েছে আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর। ফর্মে উল্লেখ করতে হবে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও এই সব তথ্য এবং গৃহকর্তা বা কর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করাও থাকতে হবে। আবেদনকারী ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে সরকার। যদি থাকে, সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সে সংক্রান্ত তথ্যও বিশদে উল্লেখ করতে হবে ফর্মে।

    শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও দিতে হবে

    আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ানও দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, জানাতে হবে তা-ও। পরিবারের প্রত্যেকের পেশা লিখতে হবে ফর্মে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে (Annapurna Yojana)। পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার কথাও উল্লেখ করতে হবে এই ফর্মে। সে সংক্রান্ত নথিও জমা দিতে হবে। পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণও জানাতে হবে। কেউ সিএএতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআরে নাম বাদ পড়েছে কি না, পড়লেও ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এসবও জানাতে হবে সরকারকে। পরিবারের শিশুদের স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের খুঁটিনাটি (Documents List) তথ্যও উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণ শুরু হবে ১ জুন থেকে, চলবে তিন মাস ধরে। তাই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই (Annapurna Yojana)।

    কেন এত কড়াকড়ি, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই না হওয়াতেই নানা ধরনের অসংগতি সামনে আসছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বহরমপুরের শিয়ালমারা রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, একজন পুরুষ হয়েও নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন রাকিবুল, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি নাম মৃত ব্যক্তি, অ-ভারতীয় নাগরিক অথবা সম্পূর্ণ ভুয়ো উপভোক্তার।

    সরকারি অর্থরে অপচয় রোখা লক্ষ্য

    সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সরকার এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে চলেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই যাচাইয়ের ফলে বর্তমান তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ পড়ে যাবে। একইসঙ্গে, স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগ্য পরিবারের মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ফের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু মহিলাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা নয়, বরং রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

  • West Bengal: অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ জেলাশাসকদের

    West Bengal: অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ জেলাশাসকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করার অভিযোগে আটক বিদেশি নাগরিক ও মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের, যারা দেশে ফেরা কিংবা বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে (West Bengal), তাদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপন করতে হবে (Bangladeshi Rohingya Deportees)। এই মর্মে রাজ্যের সব জেলাশাসককে (DM) নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের নয়া সরকারের এই নির্দেশ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুভেন্দু সরকারের নীতি (West Bengal)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শনাক্তকরণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার নীতি নেবে। তবে সিএএ (CAA) আইনে হিন্দু শরণার্থী এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে না। ২৩ মে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “আটক বিদেশি নাগরিক এবং দেশে ফেরা কিংবা বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের (West Bengal) উদ্দেশ্যে উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) নির্দেশিকা অনুযায়ী হবে।”

    সরকারি নির্দেশিকা

    স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিদেশি শাখা (SAARC VISA Section) থেকে ২৩ মে জারি করা এক সরকারি নির্দেশিকায় রাজ্য সরকারের সচিব জেলাশাসকদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলেছেন। সেখানে (Bangladeshi Rohingya Deportees) অবৈধভাবে দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতির (West Bengal) কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা

    প্রসঙ্গত, বঙ্গের চালকের আসনে (West Bengal) বসার পরেই পদ্ম-নেতা শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের স্থানীয় থানায় বা প্রশাসনের কাছে না রেখে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অনুপ্রবেশকারীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু তা-ই নয়, তাদের জেলে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র। দেশকে সুরক্ষিত করার কাজ সরকার করবে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার ফলে আগের সরকারের আমলে বিঘ্নিত হয়েছে (Bangladeshi Rohingya Deportees) দেশের নিরাপত্তা।

     

  • Shamik Bhattacharya: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে নির্মলার দরবারে শমীক, তাঁত ও চা শিল্প নিয়ে বিশেষ আলোচনা

    Shamik Bhattacharya: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে নির্মলার দরবারে শমীক, তাঁত ও চা শিল্প নিয়ে বিশেষ আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী বঙ্গ বিজেপি। কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের বকেয় টাকা পেতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাংলায় এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। তার সুফল বঙ্গবাসীকে দিতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar) থেকে ডিএ (DA)-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এবার কেন্দ্রীয় বকেয়া নিয়ে নির্মলার দরবারে শমীক। জানা গিয়েছে, রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    শমীক-সীতারমন বৈঠকে কী কী আলোচনা

    দিল্লিতে গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টচার্য। প্রায় তিনদিন ধরে রাজধানীতে রয়েছেন তিনি। শনিবার সকালে নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে দেখা করেন শমীক। সূত্রের খবর, বাংলার অর্থনীতি নিয়ে রাজ্যের কী কী পদক্ষেপ করা উচিত এই মুহূর্তে সেই বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে, বৈঠকের সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে অংশ, সেটা হল কেন্দ্রীয় বকেয়া। হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা যে বকেয়া রয়েছে, তা তৃণমূল জমানায় পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, তৃণমূল জমানায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন থেকে তাতে দুর্নীতিরও অভিযোগ উঠেছিল। সূত্রের খবর, বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রকে শোধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই বিষয়গুলি অর্থমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

    শমীক ভট্টাচার্য কী বললেন?

    সীতারমনের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “৫০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন পরিযায়ীদের রাজ্য হয়ে গিয়েছে। পরিযায়ী হয়েই সবাই বাইরে চলে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় আজ সবথেকে নীচে এসে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের মহারাষ্ট্র, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর সঙ্গে একই পংক্তিতে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সোনার বাংলা তৈরির কথা দিয়েছেন। আমরা সোনার বাংলা তৈরি করব। আমাদের স্বপ্ন আছে এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে, পরিকল্পনা আছে। নির্মলাজি পশ্চিমবঙ্গকে এই অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে কী করে উত্তরণের পথ দেখাতে পারেন, সেই সম্পর্কে তিনি অভিহিত আছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। বাংলার শ্রীহীন অবস্থা থেকে রাজ্যকে বের করে আনা সম্ভব। তারজন্য যা করবার তিনি সেটা করবেন। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, গৃহমন্ত্রী সবাই মিলে আমরা এই অবস্থা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে নিঃসন্দেহে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে পারব।”

    তাঁত শিল্পের উন্নতিতে কথা

    সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির আলোচনায় আলাদা করে গুরুত্ব পেয়েছে তাঁত শিল্প এবং টেক্সটাইল হাব। এই বিশেষ সেক্টর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একদা বাংলার তাঁত ছিল জনপ্রিয়। এখন সেই শিল্প ধুঁকছে। কিন্তু রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার সেই ক্ষয়িষ্ণু শিল্পে গতি আনতে বদ্ধপরিকর। তাঁত শিল্পের বিকাশের জন্য আলাদা প্যাকেজ নিয়েও কথআ হয় এদিন।

    চা শিল্পের বিকাশ

    বাংলার চা শিল্পের বিকাশ এবং উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার৷ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নীতিতেই এ বার করা হবে রাজ্যের চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন—একথাও জানান বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য৷ শমীক বলেন, ‘বাংলার চা শিল্প একসময়ে গোটা দেশের গর্ব ছিল৷ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত আমাদের রাজ্যের চা৷ তৃণমূল সরকারের কার্যকালে রাজ্যের চা শিল্প ধুঁকতে শুরু করেছে৷ গত ১৫ বছরে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের বিকাশের জন্য বাস্তবে কোনও গঠনমূলক প্রকল্প প্রণয়ন করেনি তৃণমূল সরকার৷ ফলে একের পর চা বাগান দিনে দিনে আর্থিক কষ্টে জর্জরিত হয়ে রুগ্ন হয়ে পড়েছে৷ তারপরেও হুঁশ ফেরেনি বিগত সরকারের৷’তাঁর সংযোজন, ‘রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের রুটিরুজি যে শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তাকে শেষ হতে দেবো না আমরা৷ কেন্দ্রীয় প্যাকেজকে কাজে লাগিয়ে উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলির সার্বিক বিকাশ ত্বরান্বিত করবে রাজ্য সরকার৷’

    বাংলার বকেয়া-সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ

    রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল বেরোলে দেখা যায়, গেরুয়া ঝড়ে কার্যত শোচনীয় অবস্থায় হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে বারবার এখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে গেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা। শুধু তা-ই নয়, এই পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে তুলে আনার জন্য ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গড়ার আহ্বান জানান তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শহরা বাংলাকে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর, শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলার বকেয়া-সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হবে সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও কথা বলবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নির্মলা সীতারমন।

     

     

     

     

     

  • RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তথা সেখানকার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি ইডিকে (ED) দিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজেই সে কথা জানালেন। পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের বিশেষ সচিবের সই করা নিদের্শের প্রতিলিপিও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ডের ‘ন্যায় বিচার’-এর লক্ষ্যে এটি একটি ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’ বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

    আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একটি মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।” তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ‘বোন অভয়া’র নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই রাজ্যবাসী ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। সেই মামলায় তৎকালীন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অনৈতিকভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ধীরগতির করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়” এবং কোনওভাবেই সত্য চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।

    কেন রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন

    যেহেতু সন্দীপ সরকারি কর্মচারী, তাই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার অনুমতি রাজ্য সরকারের থেকে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ইডি সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি পায়নি। এত দিন তা আটকে ছিল। অবশেষে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি সরকারের তরফ থেকে দিয়ে দেওয়া হল। সন্দীপকে দোষী সাব‍্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে কার্যত ইডির সামনে এখন আর কোনও বাধা রইল না। শুভেন্দু আরও লেখেন, ‘আমি চাই, বোন অভয়ার প্রকৃত দোষীরা দ্রুত চিহ্নিত হোক। কঠোরতম শাস্তি পাক এবং বাংলার মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করুক। বোন অভয়ার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।’

    আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি

    আরজি কর কাণ্ড রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। ‘অভয়া’ নামে পরিচিত ওই তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রশাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্ত চলাকালীন আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সময় থেকেই সন্দীপ ঘোষের নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হাসপাতালের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক লেনদেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। এবার সেই ‘স্যানকশন অফ প্রসিকিউশন’ মঞ্জুর হওয়ায় তদন্ত আরও দ্রুত এগোবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত সন্দীপ

    প্রতিলিপিতে উল্লেখ করা আছে, পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করার পর, প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং কর্তব্যে গাফিলতি, যা ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১২০বি ধারার সঙ্গে পঠিত ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮ (২০১৮ সালের সংশোধিত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন)-এর ৭ ধারার অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি আর্থিক দুনীর্তি প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর ধারা ২(১)(য়)-এর অধীনে নির্ধারিত অপরাধের আওতাভুক্ত। এর ফলেই সন্দীপ-সহ মা তারা ট্রেডার্স, ইশান ক্যাফে এবং খামা লোহা-র বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    আরও কারা কারা জড়িত

    পানিহাটির সদ্যনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মা তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন আরও অনেকে, এমন অভিযোগ এবং তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার জন্য নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে বন্দি রয়েছে সঞ্জয় রায়। কিন্তু সে একা নয়, আরও অনেকে ওই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। ওই তরুণীর মৃতদেহ তড়িঘড়ি নিয়ে এসে সৎকার করে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও সন্দেহজনক বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অন্যায়ের বিরুদ্ধে নয়া সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতি

    শাসকদলের দাবি, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি এবং প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই আরজি কর মামলায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়া আইনি কাঠামোর মধ্যেই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকরী, অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার প্রতিলিপিটি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব, সহকারী অধিকর্তা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, সিজিও কমপ্লেক্স, এমএসও এবং ডিএফকেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্যবাসীর একাংশ এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই মামলায় দ্রুত বিচার এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি উঠছিল।

  • Annapurna Bhandar: কবে পাবেন ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ টাকা? কী জানালেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী?

    Annapurna Bhandar: কবে পাবেন ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ টাকা? কী জানালেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১ জুন থেকেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ টাকা। সোমবার নবান্নে বিজেপি-শাসিত সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকের পরেই ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ (Annapurna Bhandar) চালুর দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিল রাজ্য সরকার। এদিন থেকেই সরকারি বাসে চড়লে (WB Govt) মহিলাদের আর ভাড়া দিতে হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারে’র প্রতিশ্রুতি পূরণ (Annapurna Bhandar)

    প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা বার বার মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নয়া সরকারের প্রথম কর্মদিবসেই একে একে সেই প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করা শুরু করলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। প্রশাসন সূত্রে খবর, লক্ষ্মীর ভান্ডার যাঁরা পেতেন, তাঁরাই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের আওতায় মাসে মাসে তিন হাজার টাকা পাবেন। আপাতত নতুন করে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন নেই। পরবর্তী সময়ে যদি কোনও নথি কিংবা তথ্যের প্রয়োজন হয়, তা জানিয়ে দেওয়া হবে সরকারের তরফে।

    শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কে, কোন দফতর পেলেন

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গেই ব্রিগেড ময়দানে শপথ নিয়েছিলেন বাকি পাঁচ মন্ত্রীও। এদিন তাঁদের দফতর বণ্টন করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে (Annapurna Bhandar)। অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব (WB Govt)। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক সামলাবেন ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর। খাদ‍্য ও সরবরাহ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অশোক কীর্তনিয়াকে। আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষুদিরাম টুডুকে। বাকি সব দফতর আপাতত থাকবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। বিজেপি-শাসিত বাংলার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে শুভেন্দু জানান, তাঁর মন্ত্রিসভা চলবে সুশাসন ও সুরক্ষার পথে। তিনি এও জানান, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে পথে এগোচ্ছে, পশ্চিমবাংলায়ও সরকার সেই পথেই এগোবে (Annapurna Bhandar)।

     

  • CM Suvendu Adhikari: ‘নির্ভয়ে কাজ করুন’, বৈঠকে সচিবদের নির্দেশ নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: ‘নির্ভয়ে কাজ করুন’, বৈঠকে সচিবদের নির্দেশ নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শপথ নিয়েছিলেন শনিবার, ব্রিগেড ময়দানে। সোমবার গেলেন নবান্নে। সেখানে গিয়ে রাজ্যের সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করতে বললেন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। জানিয়ে দেন, এবার থেকে তাঁকে খুশি করতে কোনও হোর্ডিং বা ফলকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লিখতে হবে না (Govt Officers)।

    ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ (CM Suvendu Adhikari)

    তৃণমূল জমানায় রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে কর্মসূচির হোর্ডিং, সর্বত্র ফলকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ শব্দটি লেখা থাকত। নবান্নে কাজে যোগ দিয়ে প্রথম দিনই সচিবদের এই বিষয়ে সতর্ক করে দেন শুভেন্দু। জানিয়ে দেন, পূর্বতন সরকার বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছিল। তাঁর সরকার সে রকম কিছু করবে না। এর পরেই সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। বলেন, “সরকার তথ্য, নিয়মের ওপরে চলে। সরকারি সিদ্ধান্ত হয় সংবিধানের কতগুলি বিষয়ের ওপরে। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’-নীতিতে চলবে। সংবিধানকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করব। আমরা আশা করব, এই সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচকরাও কোনও সমালোচনা করতে পারবেন না। এমন কোনও সুযোগ এই সরকার দেবে না, ভরসা রাখুন।”

    সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে হবে

    সচিবদের (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে হবে। অর্থের যাতে অপচয় না হয়, তা দেখতে হবে। যেখানে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে খরচ করতে হবে, বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় খরচ। রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের যে সব প্রকল্প এতদিন কার্যকর করা হয়নি, সেগুলি চালু করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্নে আসার আগে শুভেন্দু গিয়েছিলেন সল্টলেকের বিজেপি দফতরে। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। বৈঠকের পরে শমীকও বলেছিলেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে। দল দলের মতো (Govt Officers)। এটি কোনও বিজেপি সরকার নয়। এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)।”

     

LinkedIn
Share