Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • CM Suvendu Adhikari: ‘ফিরে আসুন রাজ্যে, পাশে আছে সরকার’! নিউটাউনে প্রযুক্তি ক্যাম্পাস উদ্বোধন করে পরিযায়ীদের বার্তা শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: ‘ফিরে আসুন রাজ্যে, পাশে আছে সরকার’! নিউটাউনে প্রযুক্তি ক্যাম্পাস উদ্বোধন করে পরিযায়ীদের বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার যে সমস্ত দক্ষ ও মেধাবী যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের কারণে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ কিংবা বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন, তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। কলকাতার নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালি হাবে চালু হল লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T) এবং এলটিআইমাইন্ডট্রি (LTIMindtree)-র অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ক্যাম্পাস ‘আনন্দ নিকেতন।’ বৃহস্পতিবার প্রদীপ জ্বালিয়ে এই মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে এই অফিস। উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিউটাউনের এই ক্যাম্পাসে প্রায় ৫৮০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে তাঁর কথায়, “দয়া করে ফিরে আসুন। এখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।”

    বাংলায় এখন শিল্পের অমৃতকাল

    বদলের বাংলায় এখন শিল্পের অমৃতকাল। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড় দিশা দেখতে চলেছে বাংলা। এদিন এল অ্যান্ড টি-র প্রযুক্তি ক্যাম্পাস উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ক্যাম্পাস নিউটাউন সিলিকন ভ্যালি হাবে তৈরি হয়েছে যেটা আমাদের যুব সমাজকে এগিয়ে দেবে। ৭ লক্ষের বেশি বর্গ ফুটের আয়তনের একটি অফিস তৈরি হয়েছে এখানে যেখানে হাই স্কিলের মানুষ আছেন। এই প্রজেক্ট এর পর যুব সমাজ তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাদের রাজ্যে ফিরে আসবেন বাইরে তাদের থাকতে হবে না। গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ এটা। এখন রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। সরকার নরেন্দ্র মোদির দেখানো পথে চলছে। আমাদের লক্ষ্য স্থির বাংলায় উন্নয়ন করা।” এদিন নিউটাউনে এল অ্যান্ড টির অফিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া।

    যুব সমাজ চায় বাংলায় কাজ পেতে

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “এই বাংলায় অনেক শিক্ষিত বেকার আছে। এখানে দরকার শিল্প। এখানে যুব সমাজ চায় বাংলায় কাজ পেতে। আগে এখানে কাজের পরিস্থিতি ছিল না। এখন সরকার রাজ্যকে নতুন ভাবে তৈরি করার কাজ করছে। আমাদের সরকার আগামীদিনে সাহায্য করবে ছোট বড় উদ্যোক্তাদের। এআই, তথ্য প্রযুক্তি , ডিজিটাল ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে এই ধরনের উদ্যোগ। আগামী দিনে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে। আমি আশা রাখি এই গ্রুপ আগামীদিনে আরও বেশি করে এখানে বিনিয়োগ করবে। রাজ্য সরকার কথা দিচ্ছে আপনাদের পাশে সরকার থাকবে।”

    রাখি বন্ধন বাংলার মানুষকে বেঁধে রাখবে

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,“এই বছর রাখি পূর্ণিমা শুধু একটা উৎসব না। এবছর সরকার রাখি বন্ধন পালন করবে যা বাংলার মানুষকে বেঁধে রাখবে। আগামিকাল চার হাজারের বেশি কার্যক্রম হবে দেশ জুড়ে রাখি বন্ধন উৎসব এর জন্য। এবার বিজেপি সরকার দেশপ্রেমের বন্ধনে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আমার সকল ভাই বোনদের বলবো যারা চলে গেছিলেন বাইরের রাজ্যে দেশে তারা ফিরে আসুন। এরাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার কাজ করছে। আগামীদিনে কাজের সুযোগ বাড়বে আসবে। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে ফিরে আসুন। সকলকে শুভেচ্ছা। সকলে আসুন যার যা লাগবে সেটা দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আছে আপনাদের পাশে।”

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari on Jadavpur) নির্দেশ মতো যাদবপুর ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) থাকা একাধিক ‘দেশবিরোধী’ ও ‘আপত্তিকর’ দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি (Jadavpur University Graffiti) মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের সেই কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার তড়িঘড়ি বিতর্কিত কিছু দেওয়াল লিখন নিজেদের উদ্যোগে মুছে দিল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল (আর্টস হস্টেল) চত্বরে থাকা এই ধরনের বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    রাখিবন্ধন উৎসবে যাদবপুরে মুখ্যমন্ত্রী!

    সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই অভিযান পুরোদমে শুরু হতে পারে। কিন্তু সেই সরকারি কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার অলক্ষ্যে বেশ কিছু বিতর্কিত দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি ঢেকে ফেলা হল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাবিত সাফাই অভিযানে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও হস্টেল চত্বরে স্থান পাওয়া যাবতীয় ‘আপত্তিকর’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও গ্রাফিতি একে একে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংকট ও তর্কের মাঝে নতুন জল্পনা ছড়িয়েছে যে, আসন্ন রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সশরীরে পরিদর্শনে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    আপত্তিকর গ্রাফিতি

    সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল ও আশেপাশের দেওয়ালে চরম বিতর্কিত একাধিক স্লোগান রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ব্রেক ফ্যাসিস্ট উইথ রেড’, ‘নক্সালবাড়ি’, এবং ‘ফ্যাসিস্ট ডু নট ডিসার্ভ ডেমোক্রেসি, দে ডিসার্ভ আ বুলেট ইন দ্য হেড’ (অর্থাৎ ফ্যাসিস্টরা মাথায় গুলি খাওয়ার যোগ্য)। এই সমস্ত বিতর্কিত বার্তা ও লেখা নিয়ে সর্বস্তরে তীব্র আপত্তি উঠতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় জরুরি বৈঠক ডাকে। সেই বৈঠকেই প্রাথমিক পর্যায়ে সব আপত্তিকর গ্রাফিতি ও স্লোগান মুছে ফেলার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

  • Anti Goonda Act: সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে রেয়াত নয়, গুন্ডাদমন আইনের অংশ কার্যকর বাংলায়

    Anti Goonda Act: সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে রেয়াত নয়, গুন্ডাদমন আইনের অংশ কার্যকর বাংলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়া পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Suvendu Adhikari)। সোমবার থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়ে গিয়েছে গুন্ডাদমন আইনের (Anti Goonda Act) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আন্দোলন, বিক্ষোভ কিংবা অন্য কোনও অজুহাতে সরকারি বা জনসম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির জন্য বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।

    সোমবার সন্ধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সদ্য পাস হওয়া আইন কার্যকর করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেখানেই বলা হয়, “আজ, সোমবার থেকেই গুন্ডাদমন আইনের একটি অংশ কার্যকর করা হল পশ্চিমবঙ্গে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

    সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে হিংসাত্মক আন্দোলন বা অরাজকতার নামে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতির মূল পরিমাণের তিন গুণ অর্থ আদায় করা হবে। সেই অর্থ কড়ায়-গন্ডায় সুদ-সহ আদায়ের ব্যবস্থাও করা হবে। শুধু সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ নয়, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায়ও দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    জুলাইয়েই বিধানসভায় পাস গুন্ডাদমন বিল (Anti Goonda Act)

    রাজ্য থেকে অপরাধমূলক ও অসামাজিক কার্যকলাপ নির্মূল করার লক্ষ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতেই বিধানসভায় পেশ ও পাস করা হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’। সাধারণ মানুষের কাছে যা গুন্ডাদমন বিল নামে পরিচিত হয়েছে। বিধানসভায় বিলটি পাসও হয়।

    বিল পেশের সময় সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, সম্পূর্ণ গুন্ডামুক্ত বাংলা গড়ে তোলাই এই আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয় (Anti Goonda Act)।

    এর পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে রাজ্যে আগে থেকেই চালু থাকা আইনি কাঠামোয় সংশোধন এনে পাস করা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষণ আইন সংশোধনী বিল, ২০২৬’। দু’টি আইন একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা এসেছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে প্রতিরোধমূলক আটক করার পাশাপাশি অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।

    অতীতের হিংসার প্রসঙ্গ তুলে কড়া বার্তা

    সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের অতীতের একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। রেল স্টেশন, ট্রেন এবং সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি করা হয়। কয়েকটি এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    হাওড়ার সাঁকরাইলেও সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলা হয়। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদেরও হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে (Anti Goonda Act)।

    সরকারি সম্পত্তি নষ্টে জিরো টলারেন্সের বার্তা

    বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলায় সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আন্দোলনের নামে হিংসা, অরাজকতা বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Suvendu Adhikari)।

    সরকারের বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসম্পত্তি সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। গুন্ডামি ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নেবে এবং আইন ভাঙলে তার আর্থিক ও আইনি—দুই ধরনের পরিণতিই ভোগ করতে হবে (Anti Goonda Act)।

     

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যাদবপুর ক্যাম্পাসে কোনওভাবেই দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার। স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Jadavpur)। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল চত্বরে দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন বা ছবি রয়েছে! শুভেন্দু অধিকারী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সেলে এমনই কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগগুলি এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিছু আপত্তিকর ভিডিয়ো এবং ছবি পেয়েছেন তিনি। যদি তা সত্যি হয় অবিলম্বে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ক্যাম্পাস চত্বরে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও

    সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের ‘আপত্তিকর’ ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্টস ডিভিশন বয়েজ হস্টেল’-এর চত্বরে আপত্তিকর, দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন এবং ছবি আঁকার অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ওই হস্টেল চত্বরে গিয়ে বিষয়টা যাচাই করতে হবে। যদি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ এবং মর্যাদার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে সকলকে। তার পরেই যাদবপুরের হস্টেল চত্বরের এই সব দেওয়াল লিখনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘যদি এমন দেশবিরোধী বার্তা এবং বিকৃত মানসিকতার ছবির উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে অবিলম্বে সেই দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।’’ কারা এ ধরনের দেওয়াল লিখন বা ছবি আঁকার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপে ‘জিরো টলারেন্স’

    শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, ‘‘কোনও অবস্থাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের যে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে চলে। সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবশ্যই সেই কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাঁর বার্তা, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবশ্যই মেধা এবং শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বজায় রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে কখনওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি অসামাজিক কার্যকলাপের ক্ষেত্র হয়ে না-ওঠে।’’

    যাদবপুরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা

    যাদবপুরের অশান্তি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা করবেনই। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না সেখানে। শিক্ষা দফতরকে ঢুকতে দেয়নি। সিসিক্যামেরা লাগাতে দেয় না। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যাঁরা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুলছেন, তাঁদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে চুপ থাকেন। অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তা চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার রাখির দিন দেশপ্রেম দিবসের ঘোষণা করেছে সরকার। গোটা পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার অনুষ্ঠান হবে। এমনকী সেদিন যাদবপুরে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলেও জানান ।

    ‘‘কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না”

    গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের নামী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে থাকে। এনিয়ে আরও একবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘যাদবপুরে কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই যাদবপুর ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে কিছু হয়নি। সব স্বাভাবিক রয়েছে। আজও ক্লাস হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই।”

    যাদবপুর নিয়ে মিথ্যা প্রচার

    মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, যাদবপুরে নতুন করে কিছুই ঘটেনি। একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘যাদবপুরে কী হয়েছে? কিছুই তো হয়নি। একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল এবং তাদের প্রিন্ট মিডিয়ার নিজেদের স্বার্থ আছে। আমাদের কোনও স্বার্থ নেই।” ওই সংবাদ মাধ্যমের নির্বাচনী সমীক্ষা যে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, তাও মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই সংবাদ মাধ্যমের টক শো-তে যারা যায়, তারা বলছিল যে বিজেপি কীভাবে লড়বে! এরা তো হিন্দুদের দল, দেড়শো আসনে লড়ছে, ১১০-১২০টি আসন পেতে পারে। ওই বড় মিডিয়া গ্রুপের সব প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা ডাহা ফেল করেছে। তাই ওরা এখন এসব হজম করতে পারছে না। আমি এসব নিয়ে কথা বলতে একেবারেই আগ্রহী নই। আমাকে দেশভক্ত নাগরিকরাই মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন, ওরা বানায়নি।”

  • Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা থেকে কোনও যোগ্য মহিলা বঞ্চিত হবেন না। প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবেন। স্পষ্ট জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য। রবিবার হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই দাবি করেন তিনি। তিনি সরকারের প্রতিনিধি নন জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এও বলেন, ‘‘মানুষের অভিযোগ, দুঃখ কষ্টের কথার পাশাপাশি আমাদের দলের সংকল্পপত্রের কথা সরকারকে স্মরণ করানো আমার দায়িত্ব। ভরসা রাখুন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘প্রায় ৫০ লক্ষ আরও মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ উপভোক্তা এখনও টাকা পাননি। সকলেই টাকা পাবেন।’’

    কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প পর্যালোচনার পর নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে বিজেপি সরকার। যোগ্য উপভোক্তাদের বাছাই করতে নতুন করে আবেদন নেওয়া হয় এবং অনলাইন-সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে আবেদন যাচাই করা হয়েছে। সেই যাচাই প্রক্রিয়ার পরই উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার কথা। তবে টাকা পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় যখন বিক্ষোভ চলছে, তখনই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্য মহিলাদের টাকা পেতে দেরি হওয়ার জন্য তিনি ‘সিস্টেমের সমস্যা’র পাশাপাশি কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘সিস্টেমে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি এবং সমস্যা রয়েছে। কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’’

    তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা

    এদিন শমীক ভট্টাচার্য আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়েছিল। এমনকি পুরুষেরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপি সভাপতির বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনায় সেই ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। বঙ্গ পদ্ম সেনাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন আরও পঞ্চাশ লক্ষ মহিলা শীঘ্রই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এটা কাঙ্খিত নয়। দুর্গাপুজোর মধ্যেই সমস্ত যোগ্য মহিলারাই তিন হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে যাবেন।’’

    কারা পাবেন অন্নপূ্র্ণার টাকা

    যাঁরা ইনকাম ট্যাক্স দেন না, সরকারি কর্মচারী নন, যাঁদের সরকারের থেকে অন্য কোনও রোজগার নেই, এই ধরনের একজন মহিলাও অন্নপূর্ণা যোজনার আওতার বাইরে থাকবেন না বলেও বার্তা দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বললেন, ‘‘সরকার কাউকে বঞ্চিত করবে না। এই সরকার সকলের সরকার। বিভাজনের সরকার নয়। বাংলার প্রকৃত যোগ্য মহিলারা সবাই অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা করে পাবেন।’’ এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। প্রয়োজনে আরও ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। সেই সংখ্যাই আরও বাড়তে পারে বলে রবিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন শমীক।

    ফের খুলেছে অন্নপূর্ণা পোর্টালও

    অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে এখনও অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন। রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় বহু মহিলা যেমন সরকারকে ধন্যবাদও জানাচ্ছে, তেমনই কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে অসন্তোষ। এই আবহে রাজ্য বিজেপি সভাপতির আশ্বাসে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। অন্নপূর্ণা যোজনার স্ট্যাটাস (Annapurna Yojana Status) নিয়ে নানা জায়াগায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই ভ্রম দূর করতে ২০ অগাস্ট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল (Social Registry Portal) ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। আবারও দেখা যাচ্ছে স্ট্যাটাস। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নামের পাশে কারণ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণ দেখে আবার ক্লেইম ও অবজেকশন করতে পারবেন। কিন্তু, স্ট্যাটাস চেক (Annapurna Yojana Status Check) করতে গিয়ে অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন ‘আন্ডার প্রসেস’ (Under Process)।

    ‘আন্ডার প্রসেস’-এর পরে অ্যাপ্রুভড

    মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করতে,বিজেপির তরফে একটি অন্নপূর্ণা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাঁদের আন্ডার প্রসেস দেখাচ্ছে, তাঁদের কিছুই করতে হবে না। অর্থাৎ তাঁদের নতুন করে কোথাও কোনও আবেদন করতে হবে না। যাঁদের ফার্দার ভেরিফিকেশন, রিজেক্টেড মে বি ফার্দার ভেরিফিকেশন ইত্যাদি দেখাচ্ছে, কেবলমাত্র তাঁরা সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে গিয়ে ক্লেম করবেন। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগস্ট মাসে মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকবে ১৭ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু, দেখা গিয়েছে ২০ আগস্টের পরেও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। মূলত, যাঁদের স্ট্যাটাস আন্ডার প্রসেস রয়েছে, তাঁদের আবেদন অ্যাপ্রুভড হচ্ছে। তারপরই ঢুকছে তিন হাজার টাকা। এই প্রক্রিয়া গোটা আগস্ট মাসজুড়ে চলতে পারে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী বারবার জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্যরা প্রত্যেকেই টাকা পাবেন।

  • Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে শিক্ষা, সুরক্ষা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার গার্ডেনরিচে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে এনসিসি বা ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর পুনরুজ্জীবিত করা থেকে শুরু করে নতুন বিশেষ উদ্ধারকারী ‘অর্জুন বাহিনী’ (Arjun Bahini) গঠন এবং অগ্নিবীরদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ সংরক্ষণের জোড়া ঘোষণা প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরানো হচ্ছে এনসিসি (Suvendu Adhikari)

    শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রাবস্থা থেকেই শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং দেশপ্রেমের পাঠ ছড়িয়ে দিতে এনসিসি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকার আমাদের রাজ্যের স্কুল ও কলেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে এনসিসি তুলে দিয়েছিল। আর তার বদলে শুরু করেছিল জয়হিন্দ বাহিনী। অত্যন্ত খারাপ মানসিকতা ও সংকীর্ণ ভাবনা নিয়ে ওই কাজটা করা হয়েছিল। অথচ এনসিসিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিলে ছাত্রাবস্থা থেকেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা এবং নির্ভেজাল রাষ্ট্রপ্রেম তৈরি হয়। আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই বিষয়ে চিঠি লিখব।”

    তিনি জানান, এনসিসি চালুর জন্য নির্দিষ্ট সামরিক প্রোটোকল রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ফের আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে চিঠি পাঠানো হবে।

    অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণ

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যের কর্মসংস্থান ও রাজ্য সুরক্ষায় প্রাক্তন সেনাদের যুক্ত করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “রাজ্যের প্রতিটি স্কুল-কলেজে যাতে এনসিসির কাজকর্ম আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে। এর পাশাপাশি আমরা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছি – পুলিশ, দমকলবাহিনী, বন দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীতে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে এই অগ্নিবীরদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরেই নামছে ‘অর্জুন বাহিনী’

    তারাতলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ গোডাউন দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নতুন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গঠনের নীল নকশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, উদ্ধারকাজ ও বিপর্যয় সামলাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের তো এত বড় শহর, এত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এত বছর ধরে, এখানে আরও অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকা দরকার যে কোনও রকম বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে। সেই কারণে অর্জুন বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে তারা কাজ শুরু করবে।” তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি নিজে এই বাহিনীর সূচনা ও ফ্ল্যাগ-অফ করবেন।

    এই বাহিনীর জন্য ইতিমধ্যেই আধুনিক ভবন, ক্যাম্পাসের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) মতো উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনো জীবিত ব্যক্তি আটকে আছেন কি না, তা জানার হাই-টেক ক্যামেরা, বিশেষ উদ্ধারকারী গাড়ি এবং গ্যাস কাটারের মতো আধুনিক সরঞ্জাম-সহ উন্নতমানের পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

    সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে সাময়িক ২০০ জওয়ান মোতায়েন

    অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ চাকরিতে যোগ দিতে দিতে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস গড়িয়ে যাবে। তাই অন্তর্বর্তী সময়ে উদ্ধারকাজের শূন্যতা মেটাতে রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে ২০০ জন প্রশিক্ষিত প্রাক্তন সেনাকর্মীকে এনলিস্ট করা হয়েছে। এই দলের ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিংয়ে এবং ৫০ জন দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা কাকদ্বীপে মোতায়েন থাকবেন।

    আগের সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ভারত সরকার প্রচুর টাকা দিয়েছিল, কিন্তু আগের সরকার সেই অর্থ সঠিকভাবে খরচই করেনি। আমরা সেই ফান্ড ব্যবহার করে নতুন করে পরিকাঠামো তৈরি করছি। তারাতলার ঘটনায় আমরা দেখেছি এনডিআরএফ যেভাবে ২২ জন মানুষকে জীবন্ত উদ্ধার করেছে, তা একটা বিরাট অর্জন। কলকাতা পুলিশের ভূমিকাও সেখানে প্রশংসনীয় ছিল। এর আগে আমফানের সময় আপনারা দেখেছেন, একটানা তিন দিন ধরে কলকাতার রাস্তা থেকে (Arjun Bahini) উপড়ে পড়া গাছই সরাতে পারেনি তখনকার প্রশাসন। শেষে ওড়িশার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দলকে এনে শহর পরিষ্কার করাতে হয়েছিল।”

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গের রূপরেখা

    রাজ্যের আর্থিক উন্নতি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এর মতো সংস্থা স্বাবলম্বী ভারতের প্রতীক। ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মতো সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের উদাহরণ দিয়ে তিনি লখনউয়ে তৈরি হওয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাংলায়ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উৎপাদনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, “আমরা তো একসময় রাজ্য হিসেবে পুরোপুরি ‘নির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গ’ হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই কেবল ভাতা-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংজি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজির নেতৃত্বে ভারত এখন স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর হচ্ছে।”

    তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, নতুন এই প্রশাসনিক রূপরেখায় কোনো অনভিজ্ঞ কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তিন মাস থেকে এক বছরের কঠোর পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে এই জাতীয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত (Arjun Bahini) করা হবে না।

     

  • Amit Shah: পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক, গঠিত হল স্থায়ী কমিটি

    Amit Shah: পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক, গঠিত হল স্থায়ী কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দার্জিলিং পাহাড়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার দার্জিলিংয়ের সুকনায় অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং ও রোশন গিরি এবং দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত। পাহাড়ের (Sukna Talks) রাজনৈতিক সমস্যা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    বিজেপি সরকারের পদক্ষেপ (Amit Shah)

    রাজ্যে পালাবদলের পর পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে এই প্রথম ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করা হল। বৈঠকে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে একটি রোডম্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে একটি স্থায়ী কমিটি গঠন। ওই কমিটির শীর্ষে রয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রাক্তন ডিজি তথা প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিং। এ দিনের আলোচনায় তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করেন। তবে কমিটিতে কতজন সদস্য থাকবেন এবং তার গঠনতন্ত্র কী হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

    দীর্ঘদিন ধরে গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছে দার্জিলিং পাহাড়। এই আন্দোলনকে ঘিরে পাহাড়ের রয়েছে রক্তক্ষরণের দীর্ঘ ইতিহাস। তৃণমূল জমানায় জিটিএ (গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) পরিচালনার ক্ষেত্রেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। আর্থিক দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম এবং পর্যটন ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা নিয়ে সরব হয়েছিলেন পাহাড়ের মানুষ।

    শনিবারের বৈঠকে অতীতের সেই ব্যর্থতার বিষয়গুলি যেমন আলোচনায় উঠে এসেছে, তেমনই বর্তমান সরকারের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ নীতির মাধ্যমে পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যের কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে। পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষা, পর্যটন, পরিবহণ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

    শাহি আশ্বাস

    বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah) আশ্বাস দিয়েছেন, পাহাড়ের যে কোনও সমস্যার সমাধান সাংবিধানিক পথেই করা হবে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পর্যটন এবং পরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাহাড়ের সমস্যার সাংবিধানিক সমাধানের পথেই সম্মতি জানিয়েছেন বিমল গুরুং এবং রোশন গিরিও।

    পাহাড়ের উন্নয়নের কাজ কতটা এগোল, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। শাহ স্বয়ং নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (Sukna Talks)। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে পাহাড়ে স্থায়ী সমাধানের পথে এই বৈঠক কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এখন সেটাই দেখার (Amit Shah)।

     

  • Suvendu Adhikari: অলিম্পিকে সোনা জিতলে ১ কোটি টাকা, প্রাক্তনদের মাসিক অনুদান! ক্রীড়ায় বাংলার উন্নতিতে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    Suvendu Adhikari: অলিম্পিকে সোনা জিতলে ১ কোটি টাকা, প্রাক্তনদের মাসিক অনুদান! ক্রীড়ায় বাংলার উন্নতিতে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালা বদলের পরই ক্রীড়াক্ষেত্রকে (West Bengal Sports Sector) আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার (Suvendu Adhikari)। ক্ষমতায় আসার পরই ময়দানে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলার ক্রীড়াবিদ এবং সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খেলোয়ারদের মোটিভেট করতে নানা পদক্ষেপ করছে সরকার। চালু হতে চলেছে “শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প”। এই প্রকল্পের আওতায় ক্রীড়াক্ষেত্রে জাতীয় ও রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতা আয়োজন ও অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এমনকি খেলাধুলায় পুরস্কার ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো নিয়েও বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।

    শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প

    জানা গিয়েছে, ক্রীড়াক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অলিম্পিক্সে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ জয়ী ক্রীড়াবিদদের জন্যও বিরাট অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার দেবে রাজ্য সরকার।‘শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প’ চালু করতে চলেছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের। জাতীয় গেমস বা জাতীয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলে প্রত্যেক দলকে এবং ব্যক্তিগত খেলার ক্রীড়াবিদকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা দেওয়া হবে। কেবল ক্রীড়াবিদ নয়, আয়োজক সংস্থাগুলিকেও আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে ১ কোটি, রাজ্য গেমস আয়োজনে ৫০ লক্ষ টাকা মিলতে পারে। এছাড়া অন্য রাজ্যে জাতীয় ও জোনাল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দলগত বিভাগে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ ও ২০ লক্ষ টাকা এবং ব্যক্তিগত বিভাগে ২০ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্য স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে দলগত ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২০ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলাস্তরে অন্তত ৬টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে দলগত খেলায় ১০ লক্ষ টাকা এবং ব্যক্তিগত খেলায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তা মিলবে ।

    অটল খেল সম্মান পুরস্কার

    এদিনের বৈঠকে কৃতি ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘অটল খেল সম্মান পুরস্কার’ চালুর প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র, যুব, জুনিয়র, সাব-জুনিয়র এবং বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন (দিব্যাঙ্গ) বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদকজয়ীরা এই আর্থিক সুবিধা পাবেন। অটল খেল সম্মানের আওতায় অলিম্পিকে সোনা জিতলে ১ কোটি টাকা পুরস্কার দেবে রাজ্য। রুপো জিতলে ৭৫ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ীদের জন্য থাকবে ৫০ লক্ষ টাকার পুরস্কার। রুপোর জন্য ৩০ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জের জন্য ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ীদেরও দেওয়া হবে ৫০ লক্ষ টাকা। রুপোজয়ীরা ৩৭.৫০ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জজয়ীরা ২৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার পাবেন। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জজয়ীদের যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ১৫ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। জাতীয় গেমস এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ীরা পাবেন ১০ লক্ষ টাকা। রুপো এবং ব্রোঞ্জজয়ীরা পাবেন যথাক্রমে ৫ লক্ষ এবং ৩ লক্ষ টাকা।

    মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা

    বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি, অতীতের তারকাদের প্রতিও দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে রাজ্য। চালু করা হচ্ছে ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা’। অতীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজ্য বা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে গৌরব এনে দিয়েছেন, এমন যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সম্মানীয় পেনশন বা ভাতা দেওয়া হবে। তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিযোগিতা আয়োজনে বিপুল সরকারি অনুদানেরও অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলার ক্রীড়াবিদ এবং সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর স্বার্থে একগুচ্ছ যুগান্তকারী নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে সরকারের এক আধিকারিক জানান, রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা, তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভাদের তুলে আনা এবং ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। নয়া সরকারের এই সর্বাত্মক উদ্যোগ রাজ্যের ক্রীড়া পরিমণ্ডলে নতুন উদ্যম তৈরি করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি মোদির

    কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতির দিকে বিশেষ নজর দিয়েছিল মোদি সরকার। সম্প্রতি শেষ হওয়া কমনওয়েলথ গেমসে ভারত পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিল। গেমসে ভারতের এই সাফল্য ছিল মোদি সরকারের ক্রীড়ানীতির উজ্জ্বল উদাহারণ। গ্লাসগো যাওয়ার আগে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশ্বমানের কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওথেরাপি, পুষ্টিবিদ এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করেছিল ক্রীড়া মন্ত্রক। সাই-টপস প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য পদকজয়ীদের ব্যক্তিগত সহায়তা, বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ সাপোর্ট স্টাফের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানে লড়াই করার মতো প্রস্তুতি নিয়েই গ্লাসগোয় পৌঁছেছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছিলেন দেশে ক্রীড়া অন্বেষণের কথা। ৫-১৫ বছরের বালক-বালিকাদের জন্য বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি। গ্রামে গ্রামে প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে। লালকেল্লা থেকে ঘোষণা করেছিলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০৩০ সালে কমনওয়েলথ, ২০৩৬ সালে ভারতে অলিম্পিক হবে। যে খেলাগুলিতে ভারত কোয়ালিফাই করতে পারে না। আমরা সেখানে ছাপ রাখব।” প্রধানমন্ত্রী মোদির দেখানো পথেই এবার রাজ্য ক্রীড়ায় বিস্তর ফারাক আনতে চলেছে শুভেন্দু সরকার।

  • Suvendu Adhikari: ‘কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল’, ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: ‘কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল’, ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালা বদলের পর শিল্পায়নের আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো পুরুলিয়ায়। সোমবার ‘অমিত মেটালিকস’ কোম্পানির ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই কারখানা থেকে প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থান হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এদিন। রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আনতে বদ্ধপরিকর সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাংলায় শিল্পের জোয়ার আসবে বলেই আশা করনে শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যাবাসীর কাছে এক বছর সময় চেয়ে নেন। তার মধ্যেই কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় নিলেন

    পুরুলিয়ার সভা থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন মুখ্য়মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগামী ২০২৭ সালের ৯ মে আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হবে। মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হলে আপনাদের সামনে পরীক্ষায় বসব। পরীক্ষায় আপনারা আমাকে নম্বর দেবেন। ১০-এর মধ্যে ৯ না পেলে ক্ষমা চেয়ে নেব। বলব পারলাম না। আপনারাই বলবেন ভুল লোককে ঠিক করিনি। সঠিক লোককে সঠিক দলকে এনেছি। বিশ্বাস-ভরসা রাখুন। সময় দিন।” তিনি আবারও বলেন, “কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে মিলে আপনাদের কল্যাণ করব। আমরা বদ্ধপরিকর।”

    ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু

    সোমবার পুরুলিয়ায় পরপর দুটো কর্মসূচি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথমে মানবাজারে জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে রঘুনাথপুরে তিনি একটি ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস করেন। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে ওই ইস্পাত কারখানায় প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রায় ৫,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিল্পায়নের জন্য আমরা সবরকম সাহায্য করব।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, “আমরা জোর করে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু করেছি। ল্যান্ড পুলিং পলিসি চালু করেছি। চাষিদের থেকে জমি নিয়ে ল্যান্ড ডেভলপমেন্টও চালু করব।”  শিল্পায়নের লক্ষ্যে রাজ্যে নতুন শিল্প নীতির কথা আগেই জানানো হয়েছিল। তৈরি হবে ল্যান্ড ব্যাঙ্কও। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সরকার করবে। প্রয়োজনে সরকার সরাসরি জমি কিনে তা শিল্পের জন্য তুলে দেওয়া হবে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে ওয়ান উইন্ডো সিস্টেমে যাবতীয় কাজ হয়ে যাবে। গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ— কোথাও যেতে হবে না।

    ভিন রাজ্যে যাবেন না

    পেটের টানে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-সহ জঙ্গলমহলের প্রচুর মানুষ ভিন রাজ্যে কর্মসূত্রে চলে গিয়েছেন। তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তাঁর কথায়, “আপনারা ফিরে আসুন। শিল্পে ভরিয়ে দেব।” রাজ্যে শিল্পের উন্নয়নে রাজ্য সরকার কী কী করছে সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্য়মন্ত্রী। অমিত মেটালিকসের ইন্টিগ্রেড গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের মধ্যে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ফেরো এলয় এবং স্পঞ্জ আয়রন রয়েছে। ১৪৮ একর জমির উপর ওই প্রকল্প গড়ে উঠবে। এই প্রকল্প থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে।

    ৮০০ দিনের মধ্যে কারখানা চালু

    সংস্থাটি ইতিমধ্যেই রঘুনাথপুরে বৃক্ষরোপণ, স্কিল ট্রেনিং সেন্টার, অটোমোবাইল ক্ষেত্র এবং সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ১,০০০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৮০০ দিনের মধ্যে কারখানা চালু করার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অদক্ষ কর্মী হিসেবে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সিএসআর-এ স্থানীয়দের মধ্যে কাজ করতে হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমার কাছে কত টাকার বিনিয়োগ হলো সেটা বিচার্য নয়, কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল। শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের জমি রয়েছে, পরিকাঠামো রয়েছে, রঘুনাথপুরের পাশে জাতীয় সড়কের কানেক্টিভিটি আছে, চরৈবেতি মন্ত্রে আমরা এগিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছি।’

    আশার আলো দেখছেন বঙ্গবাসী

    গত দেড় দশকের তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্প স্থাপন নিয়ে যতটা প্রচার হয়েছিল, সে ভাবে শিল্প আসেনি। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে তিন মাসের মধ্যে এখানে লৌহ ইস্পাত শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ায় আশার আলো দেখছেন এলাকার মানুষ। এ দিনই মানবাজার ১ ব্লকের ধানাড়া পঞ্চায়েতের জামদা গ্রামের অদূরে গড়ে ওঠা পানীয় জল প্রকল্পটি উদ্বোধনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়ার মানবাজার ১, বরাবাজার, পুরুলিয়া ১, পুঞ্চা, আড়শা ব্লকে তীব্র সঙ্কট রয়েছে পানীয় জলের। এই এলাকাগুলি ছাড়া এই প্রকল্পের জল পৌঁছবে পুরুলিয়া শহরেও।

    ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল

    জামদা গ্রামের অদূরে গড়ে ওঠা এই জল প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ১,২৯৬.২৫ কোটি টাকার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে। যার মধ্যে ‘জাইকা’র ঋণ ৮৮৯.০৬ কোটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫৮ মৌজার ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০৬ জন মানুষ প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা নলবাহিত পানীয় জল পাবেন। জাপানের সংস্থা ‘জাইকা’-র আর্থিক সহায়তায় রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করেছে। মুকুটমণিপুর জলাধারের গভীর থেকে জল তুলে ১.২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তা অন্য একটি জলাধারে আনা হবে। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিশোধিত সেই জল ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ পরিবাহী নলের মাধ্যমে ৪২টি ওভারহেড ট্যাঙ্কে পৌঁছবে। এই ট্যাঙ্কগুলি থেকে দৈনিক ৬ কোটি ৮০ লক্ষ লিটার জল পৌঁছে দিতে পাতা হয়েছে ১,৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন। রাজ্যের মন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি বলেন, ‘জল জীবন মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মানুষের ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই কাজই করা হচ্ছে। আগামী দিনে জেলার বাকি অংশে একই ভাবে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’

  • BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ৪১ পাতার বিশেষ বই প্রকাশ করল বঙ্গ বিজেপি। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’ (Sankalp Achievements) শীর্ষক এই বইয়ে নয়া সরকারের প্রথম ১০০ দিনের বিভিন্ন কাজ, সামাজিক প্রকল্প, বিনিয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে গৃহীত পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। বইয়ের প্রচ্ছদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা, এই বইয়ের তথ্য নিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

    প্রথম ১০০ দিনের সাফল্য (BJP)

    রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যকে সামনে রেখে জনসংযোগ বাড়ানোই পদ্মশিবিরের মূল লক্ষ্য। নিউটাউনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা কত মানুষ পেয়েছেন, রাজ্যে কত বিনিয়োগ এসেছে এবং উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রকাশিত বইটিতে এ সংক্রান্ত একাধিক পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার এই প্রকল্প চালু করেছে। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৮ লাখেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, দেড় মাসের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন এবং যোগ্য বাকি প্রাপকদেরও প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

    একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, নারীকল্যাণ, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। জুন মাসে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরগুলিতেও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, সুকন্যা সমৃদ্ধি, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা হয়েছিল (Sankalp Achievements)। শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যের হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পের সম্ভাবনা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতিকে সরকারের সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে বইয়ে উল্লিখিত মোট বিনিয়োগের অঙ্ক দলীয় প্রকাশনার পরিসংখ্যান হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে (BJP)।

    সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষাও এই প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি নতুন সরকারের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফকে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭২.৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মোট ১,০২৪.৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ রোখার বিষয়টিও বিজেপির প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বিএসএফকে জমি দেওয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার জানিয়েছে রাজ্য সরকার। দলীয় প্রকাশনায় কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বা এই বিষয়ে কতগুলি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও রাখা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    সংগঠন নিয়ে কড়া বার্তা

    ১০০ দিন পূর্তির এই প্রচারের পাশাপাশি সংগঠন নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নিউটাউনের প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কোনওরকম আপস করবে না। শিবিরে তিনি বলেন, “বিধায়ক বা জেলা স্তরের কোনও নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তাঁকে বরখাস্ত করতে দ্বিধা করবে না।” এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুমতি নিয়েই বলা হয়েছে বলেও জানান শমীক। দলীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন দল ছেড়ে চলে গেলেও, সংগঠনের উপর তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না—এমন বার্তাও শিবিরে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনই যে বড়, এই অবস্থানও স্পষ্ট করতে চাইছেন রাজ্য নেতৃত্ব। ক্ষমতায় আসার পর দলের অভ্যন্তরে ‘শুদ্ধিকরণে’র যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার সঙ্গেও এই বার্তার যোগ রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা (BJP)।

    দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড বহু নেতা-কর্মী

    বিজেপির অন্দরে ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সাসপেন্ডের সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জেলা স্তরের সংগঠন নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে। কয়েকটি জেলায় সভাপতিরা সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও (Sankalp Achievements) দলের অন্দরে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই খুব শীঘ্রই এক ডজনেরও বেশি জেলা সভাপতিকে সরিয়ে সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করা হতে পারে বলে খবর।

    বঙ্গ সফরে আসছেন শাহ!

    এমন আবহে শাহের সম্ভাব্য বঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, তিন দিনের সফরে আগামী ২০ অগাস্ট কলকাতায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২১ ও ২২ অগাস্ট তাঁর একাধিক দলীয় ও সরকারি কর্মসূচি থাকতে পারে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, শাহ নবান্নেও যেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সেখানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি এবং রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকেও উপস্থিত থাকতে পারেন শাহ। ফলে তাঁর সফরকে একই সঙ্গে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    বিজেপির অন্দরে তৎপরতা তুঙ্গে

    আগামী ১৯ অগাস্ট রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সেই উপলক্ষে একদিকে যেমন সরকারের কাজের প্রচারকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তেমনি সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে (BJP)। ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান সম্বলিত বই সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি প্রচার, সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য তুলে ধরা, সীমান্ত সুরক্ষায় জমি হস্তান্তরের পরিসংখ্যান জানানো এবং সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তার মধ্যেই শাহের সম্ভাব্য সফর এবং জেলা স্তরে সাংগঠনিক (Sankalp Achievements) রদবদলের জল্পনা—সব মিলিয়ে সরকারের ১০০ দিন পূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপির অন্দরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে (BJP)।

LinkedIn
Share