Tag: tmc

tmc

  • Himanta Biswa Sarma: অসমে ‘চাঁদের হাট’, টানা দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে বসলেন হিমন্ত

    Himanta Biswa Sarma: অসমে ‘চাঁদের হাট’, টানা দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে বসলেন হিমন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা দ্বিতীয়বারের জন্য অসমের (Assam) মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। আজ, মঙ্গলবার গুয়াহাটির খানাপাড়ায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-সহ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর একাধিক শীর্ষ নেতা। হিমন্ত ছাড়াও এদিন শপথ নেন নয়া মন্ত্রিসভার আরও পাঁচ সদস্য। এঁরা হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি, অসম গণ পরিষদের সভাপতি অতুল বরা, ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল নেতা চরণ বোরো এবং বিজেপির প্রবীণ নেত্রী অজন্তা নেওগ।

    ঐতিহ্যবাহী অসমিয়া পোশাকে শপথ হিমন্তর (Himanta Biswa Sarma)

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনডিএ-শাসিত ২২টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব, শিল্পপতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। অসমের বৈষ্ণব মঠের ১৫ জন সত্রাধিকারও উপস্থিত ছিলেন হিমন্তের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। ঐতিহ্যবাহী অসমিয়া পোশাকে শপথ নেন হিমন্ত। আগেই বিজেপি বিধায়করা দল ও এনডিএ-র শরিক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে নেতা নির্বাচিত করেন হিমন্তকে। পরে তিনি যান লোকভবনে (পূর্বতন রাজ্যপাল ভবন), সরকার গঠনের দাবি জানাতে। এদিন নেন শপথ (Himanta Biswa Sarma)।

    কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?

    এদিকে, হিমন্তের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গুয়াহাটিতে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। গুয়াহাটি পৌঁছে অসমবাসীকে (Assam) শুভেচ্ছা জানান তিনি। হিমন্তকে ‘বড় দাদা’ সম্বোধন করে শুভেন্দু বলেন, “হিমন্তজি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।” অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, অসম এবং ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার আসার পরে যেভাবে অনুপ্রবেশকারীদের রুখে দেওয়া হয়েছে, বাংলাও ঠিক সেই পথেই হাঁটবে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পেছনে অসমের বিজেপি নেতাদের বড় অবদান রয়েছে বলে মনে করেন শুভেন্দু। তাঁর আশা, উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে ওড়িশা, বিহার, অসম এবং সিকিম – সব রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

    অসম বিধানসভার আসন সংখ্যা ১২৬। এর মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেয়েছে ১০২টি আসন। এর (Assam) মধ্যে আবার বিজেপি একাই পেয়েছে ৮২টি আসন। জোট শরিক অগপ এবং বিপিএফ ১০টি করে আসন পেয়েছে। কংগ্রেসের জোট জিতেছে ১৯টি কেন্দ্রে। আর তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে একটি মাত্র একটি কেন্দ্র (Himanta Biswa Sarma)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘বিজেপি ক্ষমতায় এসে বাংলায় সিন্ডিকেটরাজ খতম করবে’, শাহি-প্রতিশ্রুতি পূরণের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘বিজেপি ক্ষমতায় এসে বাংলায় সিন্ডিকেটরাজ খতম করবে’, শাহি-প্রতিশ্রুতি পূরণের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সিন্ডিকেটরাজকে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেব।” পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে এমনই হুঙ্কার দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি কথা দিয়েছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এসে বাংলায় সিন্ডিকেটরাজ (Syndicate Raj) খতম করবে। শাহের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বাংলা থেকে সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ করলেন তিনি।

    দুর্নীতিমুক্ত বঙ্গ গড়ার নির্দেশ (Suvendu Adhikari)

    সোমবার বিধায়ক ও জেলাশাসকদের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করে তুলতে হবে। কোনওরকম দুর্নীতিই বরদাস্ত করা হবে না। সেই লক্ষ্যেই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। এদিনের বৈঠকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বীরভূমের জেলাশাসককে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, “আপনার জেলায় বেশি করে নজর দিন।” অতীতে এই বীরভূম থেকেই বেশি বালিপাচার, গরুপাচারের মতো অভিযোগ উঠেছে। তাই ওই জেলায় বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ। তিনি বলেন, “১০০ দিনের কাজের টাকা যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা কি আদৌ যোগ্য বা বৈধ? তা খতিয়ে দেখুন। আসলে অনেকেই আছে যারা কাজ না করে জবকার্ড তৈরি করে নিয়ে টাকা তোলে।”

    গরুপাচার নিয়ে ‘তুর্কি’ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ 

    গরুপাচার নিয়েও জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দেন বিজেপির ‘তুর্কি’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশও দেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আজ (সোমবার) থেকেই অবৈধ গরু পাচার বন্ধ করতে হবে।” পাচার রুখতে, দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়তে এই পদক্ষেপ ছাড়াও জেলাশাসকদের প্রতিনিয়ত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দেন, এদিন থেকেই তা শুরু করতে হবে (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, রাজ্যে গরুপাচার একেবারেই বন্ধ করতে হবে। বর্ডার বা রাজ্য সড়ক-কোথাও যেন এই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ আর না আসে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে পুলিশ সুপারদের।

    কয়লা-বালি পাচার রোধে ফরমান

    কয়লা ও বালি পাচার রুখতে নয়া মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, এই সব বেআইনি কারবার এবং প্রোমোটারির ক্ষেত্রে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ব্যবসা বা বাড়ি তৈরির কাজ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি জমি দখল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, সরকারি জমি রক্ষা করতে হবে। কোনও বেআইনি নির্মাণ মেনে নেওয়া হবে না। রাজ্যবাসীকে দুর্নীতিমুক্ত সরকার উপহার দিতে চায় রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। সচিবদের পর এবার ডিএমদেরও শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত হবে এই সরকার।’ যেখানেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেখানেই তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিয়ে বন্ধ করতে হবে কাজ (Suvendu Adhikari)।

    কাজ দ্রুত চালু করার নির্দেশ

    নির্বাচনের কারণে আদর্শ আচরণবিধি চালু ছিল দীর্ঘ দিন। তাই আটকে গিয়েছে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, বিধায়করা শপথ নিলেই জেলাশাসকরা যেন তাঁদের সঙ্গে এবং জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। আটকে থাকা কাজ দ্রুত চালু করার নির্দেশও দেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের (Syndicate Raj) বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, জেলাস্তরের প্রতিটি কাজের খবর সরাসরি নবান্নে পৌঁছবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে যাতে রাজনীতির রং না লাগে এবং প্রকল্পের টাকা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়, সেটাই যে রাজ্যের নয়া সরকারের লক্ষ্য, তাও জানিয়ে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Annapurna Bhandar: কবে পাবেন ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ টাকা? কী জানালেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী?

    Annapurna Bhandar: কবে পাবেন ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ টাকা? কী জানালেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১ জুন থেকেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ টাকা। সোমবার নবান্নে বিজেপি-শাসিত সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকের পরেই ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ (Annapurna Bhandar) চালুর দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিল রাজ্য সরকার। এদিন থেকেই সরকারি বাসে চড়লে (WB Govt) মহিলাদের আর ভাড়া দিতে হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারে’র প্রতিশ্রুতি পূরণ (Annapurna Bhandar)

    প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা বার বার মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নয়া সরকারের প্রথম কর্মদিবসেই একে একে সেই প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করা শুরু করলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। প্রশাসন সূত্রে খবর, লক্ষ্মীর ভান্ডার যাঁরা পেতেন, তাঁরাই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের আওতায় মাসে মাসে তিন হাজার টাকা পাবেন। আপাতত নতুন করে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন নেই। পরবর্তী সময়ে যদি কোনও নথি কিংবা তথ্যের প্রয়োজন হয়, তা জানিয়ে দেওয়া হবে সরকারের তরফে।

    শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কে, কোন দফতর পেলেন

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গেই ব্রিগেড ময়দানে শপথ নিয়েছিলেন বাকি পাঁচ মন্ত্রীও। এদিন তাঁদের দফতর বণ্টন করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে (Annapurna Bhandar)। অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব (WB Govt)। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক সামলাবেন ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর। খাদ‍্য ও সরবরাহ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অশোক কীর্তনিয়াকে। আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষুদিরাম টুডুকে। বাকি সব দফতর আপাতত থাকবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। বিজেপি-শাসিত বাংলার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে শুভেন্দু জানান, তাঁর মন্ত্রিসভা চলবে সুশাসন ও সুরক্ষার পথে। তিনি এও জানান, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে পথে এগোচ্ছে, পশ্চিমবাংলায়ও সরকার সেই পথেই এগোবে (Annapurna Bhandar)।

     

  • CM Suvendu Adhikari: ‘নির্ভয়ে কাজ করুন’, বৈঠকে সচিবদের নির্দেশ নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: ‘নির্ভয়ে কাজ করুন’, বৈঠকে সচিবদের নির্দেশ নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শপথ নিয়েছিলেন শনিবার, ব্রিগেড ময়দানে। সোমবার গেলেন নবান্নে। সেখানে গিয়ে রাজ্যের সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করতে বললেন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। জানিয়ে দেন, এবার থেকে তাঁকে খুশি করতে কোনও হোর্ডিং বা ফলকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লিখতে হবে না (Govt Officers)।

    ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ (CM Suvendu Adhikari)

    তৃণমূল জমানায় রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে কর্মসূচির হোর্ডিং, সর্বত্র ফলকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ শব্দটি লেখা থাকত। নবান্নে কাজে যোগ দিয়ে প্রথম দিনই সচিবদের এই বিষয়ে সতর্ক করে দেন শুভেন্দু। জানিয়ে দেন, পূর্বতন সরকার বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছিল। তাঁর সরকার সে রকম কিছু করবে না। এর পরেই সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। বলেন, “সরকার তথ্য, নিয়মের ওপরে চলে। সরকারি সিদ্ধান্ত হয় সংবিধানের কতগুলি বিষয়ের ওপরে। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’-নীতিতে চলবে। সংবিধানকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করব। আমরা আশা করব, এই সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচকরাও কোনও সমালোচনা করতে পারবেন না। এমন কোনও সুযোগ এই সরকার দেবে না, ভরসা রাখুন।”

    সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে হবে

    সচিবদের (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে হবে। অর্থের যাতে অপচয় না হয়, তা দেখতে হবে। যেখানে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে খরচ করতে হবে, বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় খরচ। রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের যে সব প্রকল্প এতদিন কার্যকর করা হয়নি, সেগুলি চালু করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্নে আসার আগে শুভেন্দু গিয়েছিলেন সল্টলেকের বিজেপি দফতরে। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। বৈঠকের পরে শমীকও বলেছিলেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে। দল দলের মতো (Govt Officers)। এটি কোনও বিজেপি সরকার নয়। এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)।”

     

  • Suvendu Adhikari: ‘চালু থাকা সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না’, তবে কারা পাবেন না, স্পষ্ট করলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: ‘চালু থাকা সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না’, তবে কারা পাবেন না, স্পষ্ট করলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোম-সকালে বঙ্গবাসীকে বিরাট সুখবর দিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী তথা ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে যে সব সামাজিক প্রকল্প চালু রয়েছে, তা বন্ধ হচ্ছে না। এদিন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরে একথা জানান (Existing Scheme) নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সরকারের চালু করা প্রকল্পগুলির সুবিধা রাজ্যবাসী পাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছড়াচ্ছিল রাজ্যে পালাবদলের পরেই।

    কী বললেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী? (Suvendu Adhikari)

    বঙ্গবাসীর সেই সংশয় দূর করে শুভেন্দু জানিয়ে দিলেন, রাজ্যবাসী আগে যে সব সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, এখনও তা পাবেন। অবশ্য কারা পাবেন, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মৃত বা ভারতীয় নন, এমন কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। আগে চালু থাকা সমস্ত প্রকল্পই থাকবে। প্রচারের সময়েও আমরা বলেছি। সেটা ৩০ বছর আগের হতে পারে বা ১০ বছর আগের হতে পারে— কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘পোর্টালগুলি আপডেট করব। মোদি সরকারের চালু করা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে সুবিধা পাবেন সকলে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘সবটাই স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে। অ-ভারতীয় বা মৃত কেউ এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।’’

    প্রকল্প বন্ধের ভয় দেখিয়েছিল তৃণমূল!

    সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে নবান্নের কুর্সি অটুট রাখতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বার বার দাবি করেছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘যুবসাথী’র মতো সব প্রকল্প বন্ধ করে দেবে (Suvendu Adhikari)। যদিও বিজেপিও প্রচার পর্বেই জানিয়ে দিয়েছিল, সেরকম হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ করে এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পে প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা দেওয়া হবে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মহিলারা অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন সময়ে ২১ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য এবং ৬টি পুষ্টিকর সরঞ্জাম পাবেন। অবিবাহিত ছাত্রীদের স্নাতক স্তরে ভর্তির আগে এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তবে যাঁরা ভারতীয় নন, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নয়া মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় অনুপ্রবেশকারীরা।

    শুভেন্দু জানান (Existing Scheme), প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা, পিএম শ্রী, বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, উজ্জ্বলা যোজনা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সমস্ত আবেদন কেন্দ্রীয়মন্ত্রকে দ্রুত পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ডিএমদের (Suvendu Adhikari)।

     

  • WB Election Results 2026: পোস্টাল ব্যালটেও বাজিমাত বিজেপির, তৃণমূলকে দাঁড়িয়ে গোল দিয়েছেন পদ্ম-প্রার্থীরা

    WB Election Results 2026: পোস্টাল ব্যালটেও বাজিমাত বিজেপির, তৃণমূলকে দাঁড়িয়ে গোল দিয়েছেন পদ্ম-প্রার্থীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস, বাম কিংবা তৃণমূল – কোনও জমানায়ই এতদিন তেমন গুরুত্ব পেত না পোস্টাল ব্যালট গণনার ফল (WB Election Results 2026)। বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের মতে, শাসক দল এতই ছাপ্পা ভোট দিত যে, পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballots) গণনার আগেই শুরু হয়ে যেত অকাল ‘হোলি খেলা’, আবির মাখামাখি। বাংলায় পালাবদলের এই ক্রান্তিকালে অবশ্য পোস্টাল ব্যালটের ভোটাররাও হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছেন ঘাসফুল নয়, পদ্মফুল প্রতীকে। তার জেরে বিজেপির বঙ্গ-বিজয় হয়েছে নিছক কেক-ওয়াক।

    ৮০ শতাংশই গিয়েছে তৃণমূলের বিপক্ষে (WB Election Results 2026)

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পোস্টাল ব্যালটে মোট ভোটের ৮০ শতাংশই গিয়েছে তৃণমূলের বিপক্ষে। বেশিরভাগ আসনেই ধাক্কা খেয়েছে রাজ্যের শাসক দল। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “কর্মচারীরা উজাড় করে পোস্টাল ব্যালটে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। এর মধ্যে কোনও কিন্তু নেই।” ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে গোহারা হেরে যান স্বয়ং তৃণমূলেশ্বরী। বঙ্গে ২০৭টি আসন পেয়ে নবান্নের কুর্সিতে প্রথমবারের মতো বসেছে পদ্মশিবির। মোট ভোটের প্রায় ৪৬ শতাংশই পেয়েছে গেরুয়া শিবির। সেখানে তৃণমূলকে হুমড়ি খেয়ে পড়তে হয়েছে কমবেশি ৪১ শতাংশ ভোটের চৌকাঠ পার হতে গিয়ে।

    পোস্টাল ব্যালটেও ‘রামধাক্কা’

    নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, বদলের বাংলায় পোস্টাল ব্যালটেও ‘রামধাক্কা’ খেয়েছে তৃণমূল। সেখানেও স্পষ্ট প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ছাপ। জানা গিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটে মোট ভোটের ৮০ শতাংশই গিয়েছে তৃণমূলের বিপক্ষে। বেশিরভাগ আসনেই ধাক্কা খেয়েছে তারা। যদিও, ছাব্বিশের নির্বাচনের ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী তথা সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়েছিলেন ৯টি পোস্টাল ভোটে। প্রাক্তন পেয়েছেন ৪৬৩টি ভোট। নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৪৫৪টি। পরিসংখ্যান বলছে, যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৯৭৫টি পোস্টাল ভোট। সেখানে তৃণমূল পেয়েছে ৬৯৬টি এবং সিপিএম পেয়েছে ৬২৫টি পোস্টাল ভোট।
    রাসবিহারী কেন্দ্রে অবশ্য পোস্টাল ব্যালটের একটা বড় অংশই পড়েছে পদ্ম-ঝুলিতে। বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত পেয়েছেন ৭২৫টি ভোট। আর তৃণমূলের দেবাশিস কুমার পেয়েছেন ৫৯২টি ভোট। বিধাননগরে তৃণমূলের প্রার্থী সুজিত বসু পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছেন ৫৬৭টি ভোট। বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৭৯২টি ভোট (Postal Ballots)। এই তিন কেন্দ্রেই তৃণমূলকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোল দিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।

    বঞ্চনার অভিযোগ

    মলয় বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বলেছেন আমরা নির্দিষ্ট নিয়মমতো ডিএ দেব, বেতন কমিশন গঠন করব ৪৫ দিনের মধ্যে। তৃণমূল সরকার একটা বেতন কমিশন পেয়েছিল যদিও ৪ বছর পরে আমাদের দিয়েছে ডিএ ছাড়াই। এতটা বঞ্চনা সিপিএম সরকারও করেনি (WB Election Results 2026)।” কমিশনের পরিসংখ্যান থেকেই জানা গিয়েছে, শুধু সরকারি কর্মচারীরাই নন, পোস্টাল ব্যালটে রাজ্যে পালাবদল   চেয়েছেন প্রবীণ ভোটাররাও। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩২টি পোস্টাল ব্যালট ভোট। সেখানে তৃণমূলের পবিত্র কর পেয়েছেন মাত্রই ৮৯৯টি। কামারহাটিতে তৃণমূলের মদন মিত্র পেয়েছেন ৩২৪টি। বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৫১০টি পোস্টাল ব্যালট ভোট। ব্যারাকপুরে বিজেপি প্রার্থী কৌস্তুভ বাগচী পেয়েছেন ৯০৭টি পোস্টাল ভোট। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের রাজ চক্রবর্তীর ঝুলিতে গিয়েছে ৫৫১টি ভোট। পানিহাটিতে বিজেপির রত্না দেবনাথ পেয়েছেন ৬৯৮টি পোস্টাল ব্যালট ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ পেয়েছেন ৩৬২টি (Postal Ballots)।

    চর্চায় যখন পোস্টাল ব্যালট 

    প্রসঙ্গত, কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন সার্ভিস ভোটার, নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত কর্মী প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার এবং অত্যাবশ্যক পরিষেবা-কর্মীরা। কিছু ক্ষেত্রে ‘হোম ভোটিং’ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। ভোট গণনার পর দেখা গিয়েছে, জেলার বহু বিধানসভা কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটেও তৃণমূলকে মাত দিয়েছে বিজেপি। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৮৭২টি ভোট। আর গেরুয়া ঝুলিতে গিয়েছে ১ হাজার ৭৮টি ভোট। সোনারপুর দক্ষিণে বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায় পেয়েছেন ২ হাজার ২টি ভোট, সেখানে তৃণমূল পার্থী লাভলি মৈত্রকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মাত্রই ৮৩৩টি ভোট পেয়ে (WB Election Results 2026)।
    কোচবিহারের দিনহাটা কেন্দ্রে তৃণমূলের উদয়ন গুহ পেয়েছেন ৯৭৭টি পোস্টাল ব্যালট ভোট, পদ্ম প্রার্থী অজয় রায় পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬০টি। আসানসোল দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন ৭৭৩টি, তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে জুটেছে মাত্রই ৩৯৬টি ভোট। বহরমপুরে অধীর চৌধুরী পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছেন ১ হাজার ১০২ ভোট। তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৪৭০টি। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে (Postal Ballots) নবগঠিত এজেইউপি সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ২৭০টি পোস্টাল ব্যালট ভোট (WB Election Results 2026)। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির বাপন ঘোষ। বাপন পেয়েছেন ৫৬৮টি পোস্টাল ব্যালট ভোট।

    কী বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পোস্টাল ব্যালটে যাঁরা পরিবর্তন চেয়ে ভোট দিয়েছেন বিজেপিকে, তাঁরা চেয়েছেন বঙ্গকে তৃণমূলশাসন-মুক্ত করতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের গায়ে যেসব কলঙ্কের কালি লেগেছে, এবং নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি যেভাবে ‘ও কিছু নয়’ জাতীয় মন্তব্য করে দায় এড়িয়ে (Postal Ballots) গিয়েছেন এবং সর্বোপরি তুষ্টিকরণ এবং খয়রাতির রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি যেভাবে একপেশে হয়ে গিয়েছিলেন, তার সপাট জবাব (WB Election Results 2026)।

     

  • WBSSC 2016: বিজেপি জমানায় নতুন ‘সকাল’, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট প্রকাশ এসএসসি-র

    WBSSC 2016: বিজেপি জমানায় নতুন ‘সকাল’, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট প্রকাশ এসএসসি-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ ঝুলি থেকে বেরল বেড়াল! তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘নো হোয়্যার’ (মুখ্যমন্ত্রীর পদ খুইয়েছেন এবং বিধায়কও নির্বাচিত হননি) হতেই ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (WBSSC 2016) ওএমআর শিট প্রকাশ করল এসএসসি। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশেই ওএমআর শিট প্রকাশ করা (BJP) হচ্ছে। এসএসসির নিজস্ব ওয়েবসাইটেই প্রকাশ করা হয়েছে রেজাল্ট। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পরেই পদক্ষেপ করল এসএসসি।

    ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ‘খেলা’ শুরু (WBSSC 2016)

    শনিবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ব্রিগেডে শপথ নিয়েছে বঙ্গের নয়া সরকার। অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বিজেপির বঙ্গ বিজয় হওয়ায় প্রত্যাশিতভাবেই খুশি পদ্মশিবির। সেই কারণেই শনিবারের ব্রিগেডে আক্ষরিক অর্থেই বসেছিল চাঁদের হাট। সেই ‘হাটে’ই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। তার পরেই বঙ্গের উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার। শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই এসএসসি প্রকাশ করে সিবিআইয়ের উদ্ধার করা সেই সব ওএমআর শিট। এসএসসির ‘যোগ্য’ এক চাকরিহারা বলেন, “তৃণমূল চেপে রেখেছিল বলে প্রকাশিত হয়নি। বিজেপি আসতেই প্রকাশিত হল। রি-প্যানেলিং হোক। যোগ্যরা চাকরি পাক।” এহেন (BJP) আবহে একাধিক দাবিতে ১৩ মে এসএসসি ভবনে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যাঁরা অযোগ্য বলে চিহ্নিত নন, চাকরিহারাদের সেই অংশ।

    ওএমআর শিট প্রকাশ

    জানা গিয়েছে, নিয়োগ দু্নীতির তদন্তে নেমে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে সিবিআই যে হার্ডডিস্কটি উদ্ধার করেছিল, সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ওএমআর শিট মেলে। এসএসসি তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সিবিআইয়ের কাছ থেকে পাওয়া ২০১৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষার নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রার্থীদের ওএমআরের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের রায় এবং নির্দেশ মেনেই ছবিগুলি আপলোড করা হয়েছে (WBSSC 2016)। ২০১৬-র পরীক্ষায় গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি চাকরি প্রার্থীদের স্ক্যান করা ওএমআর শিটও আপলোড করা হবে শীঘ্রই।

    শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত জানিয়ে দেয়, ‘চাল থেকে কাঁকর বাছতে না পারায়’ বাতিল করা হয় ২৬ হাজার চাকরি। চাকরি ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমে পুলিশের লাঠি থেকে লাথি খেয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। যাঁরা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন, তাঁদেরও নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হয়। যোগ্য-অযোগ্যদের আলাদা করতে (BJP), বারবার ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন চাকরিহারারা। তৃণমূল সরকারের আমলে তা প্রকাশ করা হয়নি। রাজ্যে পালাবদল হতেই প্রকাশ করা হল সেই ইমেজ (WBSSC 2016)।

     

  • West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আরও একবার ফিরে এল জনমানসে। ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে প্রাণ হারানো এক বিজেপি (BJP Bengal) প্রার্থীর পরিবার দীর্ঘ কয়েক বছরের নীরবতা ভেঙে এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হন। মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী ছিলেন ধূর্জটি সাহা ওরফে মানস সাহা। তাঁকে ২ মে ২০২১ সালের ভোটের ফল ঘোষণার পর পিটিয়ে হত্যা করেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিজেপির সরকার গড়ার প্রেক্ষাপটে নিহতের কন্যা এবার প্রশাসনের কাছে খুনিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (West Bengal Election 2021)

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক হিংসার খবর সামনে এসেছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমে সেই সময় নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রার্থী মানসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ (BJP Bengal) ছিল, তৎকালীন শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল। সেই সময় দেশজুড়ে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলেও, ন্যায়বিচার অধরাই থেকে গিয়েছিল।

    ভয় ও নীরবতা ভেঙে প্রতিবাদ

    নিহত প্রার্থীর কন্যা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বিগত বছরগুলিতে (West Bengal Election 2021) প্রাণের ভয়ে এবং পরিস্থিতির চাপে আমরা মুখ খুলতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক সমীকরণে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আর তাই আমরা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমরা শুধু বিচার চাই। আমার বাবার খুনিরা আজও খোলা আকাশে নীচে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

    ন্যায্য তদন্তের দাবি

    বিজেপি প্রার্থীর (BJP Bengal) পরিবারটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর তাদের আস্থা নেই। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পুনরায় তদন্ত শুরু করা হোক। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোরতম সাজা দেওয়াই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

    রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন

    রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই পরিবারের (BJP Bengal)  পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি পুনরায় সামনে আসায় তৎকালীন রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলি আবারও আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভোটের রাজনীতিতে (West Bengal Election 2021) মানুষের জীবনের মূল্য ঠিক কতটুকু, সেই প্রশ্নই আবার তুলে দিল এই ঘটনা। ন্যায়বিচারের আশায় থাকা এই পরিবারটির লড়াই এখন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।

  • Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী শহর সান দিয়োগো এবং তিজুয়ানা এবং লরেডো ও ন্যুভো লরেডোয় ‘স্প্যাংলিশ’ (বা টেক্স-মেক্স স্প্যানিশ) নামে এক মিশ্র ভাষার বিকাশ ঘটেছিল। টেলিভিশন, অভিবাসন ও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ প্রভাব ফেলেছিল এই ভাষার ওপর। এখন, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এবং কয়েক দশক পরে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও (Indo Bangladesh Border) সীমান্ত-পার প্রভাবের এক আলাদা গল্প দেখা যাচ্ছে। যদিও এটি খানিক আলাদা ধরনের। এখানে প্রতিক্রিয়াশীল প্রভাব কাজ করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, ঘটনাপ্রবাহ অন্যভাবে ঘটেছে।

    অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু ছিল অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ। বিজেপির অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা (Indo Bangladesh Border) অনুপ্রবেশকারীরা, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে এই সমস্যা উপেক্ষা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় শুধু সংগঠনের বিস্তার বা মতাদর্শের স্বীকৃতি নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও।” তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গটিও তোলেন। বঙ্গবাসী যখন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হচ্ছিলেন, তখন সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিও তাঁরা লক্ষ্য করছিলেন। তাঁরা দেখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে কীভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে এবং ইসলামপন্থীরা ধর্মনিন্দার মিথ্যে অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করেছে নিরীহ মানুষকে।

    জামাতের জয়ের প্রভাব

    ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat Rise) পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া একাধিক আসনে জয়ী হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অন্তত ১৭টি আসনে জামাতের জয় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপির পক্ষে ভোট একত্রিত করতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজেপি অন্তত ২৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই আসনগুলি বাংলাদেশের সেই ১৭টি জামাত-জয়ী আসন লাগোয়া। জামাত-ই-ইসলামির নেতা সফিকুর রহমানের দলকে নিষিদ্ধ করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। যদিও মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের অগাস্টে ক্ষমতায় এসেই তুলে নেয় সেই নিষেধাজ্ঞা।

    জামাতের উত্থান

    ছাব্বিশের নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ থাকায় বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে জামাত (Jamaat Rise)। বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেলেও, জামাত-নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের জোট ৭৭টি কেন্দ্রে জয়ী হয়। জামাতের ইতিহাসে সেরা ফল এটি। এই ৭৭টি আসনের মধ্যে ১৭টি এসেছিল রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলি (Indo Bangladesh Border) থেকে। রংপুর বিভাগে, যা ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ লাগোয়া, জামাতের ব্যাপক উত্থান দেখা যায়। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবাদ 

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার খবর পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি পেট্রাপোল সীমান্তে গিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানান এবং কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনেও বিক্ষোভ দেখান। একই সঙ্গে বিজেপি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়েও সোচ্চার হন (Jamaat Rise)। এই বিষয়গুলি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কাছেও গুরুত্ব পেতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী (Indo Bangladesh Border) বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের সীমান্তবর্তী একাধিক আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে ।

    জামাতের আসনগুলির উল্টোদিকে বিজেপির প্রাচীর!

    বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনের উল্টো দিকে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ-সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে বিজেপির জয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্যাটার্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৬টি আসনে বিজেপির জয় এসেছে মোট নয়টি জেলা থেকে, যেগুলির ঠিক ওপারেই বাংলাদেশে জামাতের জয়ী আসনগুলি অবস্থিত। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলায় কেমন ফল করেছে বিজেপি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করলে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন (Indo Bangladesh Border) এলাকায় বিজেপি জিতেছে বাগদা (SC), বনগাঁ উত্তর (SC) এবং হিঙ্গলগঞ্জ (SC)-এর মতো আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক বিপরীতে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-১ থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসন, যেখানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জামাত জয়ী হয়েছিল।

    মালদা-মুর্শিদাবাদ-দিনাজপুর

    এরপর কিছুটা উত্তরে মুসলিম-অধ্যুষিত মালদা জেলায় বিজেপি জিতেছে ইংলিশ বাজার এবং বৈষ্ণবনগর আসন, যেগুলির সীমান্তের ওপারেও রয়েছে জামাত-জয়ী বাংলাদেশি কেন্দ্র। আরও উত্তরে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি দখল করেছে কুশমণ্ডি (SC), বালুরঘাট, তপন (ST), গঙ্গারামপুর (SC) এবং হবিবপুর (ST) আসন। এই কেন্দ্রগুলির (Indo Bangladesh Border)  ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং মেহেরপুরের মতো বাংলাদেশি আসন, যেখানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে জামাত জিতেছিল। উত্তর দিনাজপুর, যা আরেকটি মুসলিম-প্রধান জেলা, সেখানেও বিজেপি জিতেছে করণদিঘি, হেমতাবাদ (SC) এবং হরিপুর আসন। এই কেন্দ্রগুলির ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা এবং যশোরের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনগুলি।

    শিলিগুড়ি করিডর ও ডুয়ার্স

    শিলিগুড়ি করিডরের দিকে এগোলে, বিজেপির শিলিগুড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া (ST) আসনগুলি বাংলাদেশের নীলফামারী-১ আসনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপি জিতেছে ময়নাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি (SC) আসন, যেগুলিও সরাসরি সীমান্ত লাগোয়া এবং বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) কেন্দ্রগুলির মুখোমুখি। সবশেষে ডুয়ার্স অঞ্চলের কোচবিহার জেলায় বিজেপি দখল করেছে সিতাই (SC), শীতলকুচি (SC) এবং মেখলিগঞ্জ (SC) আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা, যেখানে জামাত ও তাদের মিত্ররা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চারটি আসনে জয় পেয়েছিল।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যা ঘটেছে, তার প্রভাব পড়েছে এপারের ভোটে?

    যদিও হলফ করে বলা যায় না যে বাংলাদেশে জামাতের উত্থান (Jamaat Rise) সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল সাফল্যের একটি কারণ, তবে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট একটি সমান্তরাল প্রবণতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি, পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ, সীমান্ত নিরাপত্তা (Indo Bangladesh Border) এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্ন—এই সব কিছু মিলেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটারদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এই পরিসংখ্যান দেখিয়েই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা সম্ভবত বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ করার আশায় বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন, যা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবে প্রত্যক্ষ করেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির (Indo Bangladesh Border)  নির্বাচনী ফলাফল দুই দেশের জনবিন্যাস থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, পরিচয়-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বয়ানের প্রভাবের ফল হতে পারে। এই সমস্ত উপাদানই পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে যা ঘটতে দেখেছেন বাঙালিরা, তার প্রভাবও তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে পড়েছে।

  • Ministers of West Bengal: সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা মুখ, আদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়ার রসায়ন! শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’

    Ministers of West Bengal: সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা মুখ, আদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়ার রসায়ন! শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ভারসাম্যের ছবি। রয়েছে সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা-মুখ, রাজবংশী-মতুয়া-আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। এই মন্ত্রিসভা প্রমাণ করছে ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’-ই বাংলয় বিজেপি সরকারের লক্ষ্য। ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে মন্ত্রীদের নামও বিশেষ বিবেচনা করেই বেছে নিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো একাধিক তাবড় নেতা উপস্থিত রয়েছেন। এদিন সেই বৃহত্তর মঞ্চে একাধিক মন্ত্রীও শপথ নিলেন।

    কারা কারা শপথ নিলেন শনিবার

    দিলীপ ঘোষ: শুভেন্দু অধিকারীর পরই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই দিলীপ ঘোষ, যিনি বঙ্গ বিজেপির নতুন করে উত্থানের অন্যতম কাণ্ডারী বলেই মনে করা হয়। আরএসএস প্রচারক থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এহেন গ্রাফ হঠাৎ করেই থেমে গিয়েছিল একপ্রকার। বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদীর মঞ্চে দেখা যায় সেই দিলীপ ঘোষকে। ফিরিয়ে দেওয়া হয় পুরনো মাটি। খড়গপুর সদর থেকে নিজেকে প্রমাণ করে এবার দিলীপের স্থান হতে চলেছে বাংলার মন্ত্রিসভায়। এক্ষেত্রে সঙ্ঘ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দিলীপকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    অগ্নিমিত্রা পাল: বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই দিন শেষ। নতুন মন্ত্রিসভায় কোনও মহিলা মুখ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানেই স্পষ্ট হয়ে গেল মহিলা মন্ত্রীর নাম। শুভেন্দু ও দিলীপের পরই তৃতীয় নাম অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক। একসময় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বাংলার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন অগ্নিমিত্রা। পরে বিজেপির হাত ধরেই রাজনৈতিক জীবন শুরু। নিজের কেন্দ্র থেকে বিধানসভা, মিটিং-মিছিল-প্রতিবাদে দিনে দিনে নিজের রাজনৈতিক-সত্ত্বাকে চিনিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। এবার তিনি মন্ত্রী।

    ক্ষুদিরাম টুডু: প্রথম দিন যে কজন মন্ত্রী শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্য-রাজনীতিতে খুব পরিচিত মুখ নয়, দাপুটে নেতাও নয়। দিলীপ-অগ্নিমিত্রার পরই তাঁর নাম ঘোষণা হয়। গোটা দেশের তাবড় নেতাদের সামনে শপথ নিলেন আদিবাসী নেতা। শপথ নিলেন অলচিকি ভাষায়। জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি, রানিবাঁধের বিধায়ককে পূর্ণমন্ত্রী করল বিজেপি। ক্ষুদিরামের শপথ যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    অশোক কীর্তনিয়া: মন্ত্রিসভায় চমকের পর চমক। রানিবাঁধের পরই বনগাঁ উত্তর। মন্ত্রী হচ্ছেন অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তাঁর বিরুদ্ধে নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। এবার সেই অশোকই শপথ নিলেন মন্ত্রী হিসেবে। এর পিছনেও বিজেপির বিশেষ বিবেচনা আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তৃণমূল থেকে বিজেপি, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক সবার কাছেই বরাবর আলাদা গুরুত্ব রেখেছে। ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুরকে আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে মতুয়াগড়ের মন পেয়েছে বিজেপি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় সেই এলাকারই প্রতিনিধি অশোক।

    নিশীথ প্রামাণিক: শুভেন্দু অধিকারীর মতোই নিশীথও তৃণমূল থেকে আসা বিজেপি নেতা। তবে উত্থান উল্কাগতিতে। উত্তর গড় ধরে রাখতে নিশীথের উপর ভরসা রেখেছে তৃণমূল। ভরসা রেখেছেনও তিনি। তাই উত্তরের প্রতিনিধি হিসেবেই নিশীথকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হল। শপথ নিলেন মাথাভাঙার বিজেপি বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এ ক্ষেত্রে মর্যাদা দেওয়া হল রাজবংশী সমাজকেও। রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের জনপ্রিয়তা বিজেপির শক্তি বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এর আগে অমিত শাহের ডেপুটি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ।

    বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণ সোমবার

    বিজেপি সূত্রে খবর, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণ হবে আগামী সোমবার, ১১ মে। সে দিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে কে কোন দফতর সামলাবেন। জানা গিয়েছে, মন্ত্রী হতে পারেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। মন্ত্রী হতে পারেন স্বপন দাশগুপ্ত। মন্ত্রী হতে পারেন অজিত কুমার জানা। মন্ত্রী হতে পারেন শঙ্কর ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মন্ত্রী হতে পারেন ইন্দ্রনীল খাঁ। মন্ত্রী হতে পারেন দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। মন্ত্রী হতে পারেন জুয়েল মুর্মু। মন্ত্রী হতে পারেন নমন রাই। মন্ত্রী হতে পারেন দীপক বর্মন। মন্ত্রী হতে পারেন বঙ্কিম ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন সজল ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন রুদ্রনীল ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন সুব্রত ঠাকুর। মন্ত্রী হতে পারেন রথীন্দ্রনাথ বসু। মন্ত্রী হতে পারেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও সম্ভাব্য তালিকায় আরও একাধিক বিজেপি বিধায়ক রয়েছেন। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় আরও অনেকের নাম নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি সূত্রে খবর, মন্ত্রিসভার তালিকা তৈরি করার ক্ষেত্রে কিছু জিনিস মাথায় রেখেছে দল। এক, সমস্ত অঞ্চলগুলোর যেন প্রতিনিধিত্ব থাকে। দুই, সমস্ত স্তরে, জনজাতির মানুষদের মধ্যে থেকে যেন মন্ত্রী থাকেন সেই দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। তিন, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতর আছে, যেগুলো সামাল দেওয়ার জন্য শিক্ষিত মানুষের দরকার, শহরের মানুষের দরকার, সেই রকম কিছু মানুষকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটি খেয়াল রাখা হচ্ছে সেটা হল, গোটা রাজ্যের প্রতিনিধিদের যাতে মন্ত্রিসভায় সামিল করা যায়।

    বিধানসভার স্পিকার হতে পারেন তাপস রায়

    আগামী সোমবার লোক ভবনে রাজ্যপাল আরএন রবি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তার পর মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। মঙ্গলবার রাজভবনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী প্রোটেম স্পিকারের শপথ করাতে। বিধানসভার নতুন স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা তাপস রায়ের। তার পর আগামী বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বিজেপির বিধায়কেরা শপথ গ্রহণ করবেন। শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুর নামফলক বসে গিয়েছে বিধানসভায়। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়ী বিজেপি। তৃণমূল জয়ী ৮০টি আসনে। রাজ্যের বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২৯৪ হলেও ফলতায় পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। সে কারণে ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা হয়েছে। তার মধ্যে কংগ্রেস দু’টি, সিপিএম একটি, আইএসএফ একটি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) দু’টি আসনে জয়ী হয়েছে।

     

     

     

LinkedIn
Share