Tag: us

us

  • India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানজুড়ে ঘটে চলা বিক্ষোভ সাম্প্রতিক বছরের যে কোনও আন্দোলনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা (India)। আগের দফাগুলির বিক্ষোভের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই এই আন্দোলনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর নিছক গল্প-গুজব নয়। কূটনৈতিক ও কৌশলগত মহলে বিষয়টি এখন নীরবে হলেও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে যে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, ইরানে শাহ শাসনের প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে, বর্তমানে বিতাড়িত ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বে পাহলভি রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উঠছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। তখনই নির্বাসনে যেতে হয় তাঁর পরিবারকে (India)।

    পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন (India)

    চার দশক পর সেই পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে ‘স্থিতিশীলতা’, ‘ধারাবাহিকতা’ এবং ‘বিশ্ব মঞ্চে ইরানের প্রত্যাবর্তনে’র প্রতীক হিসেবে। ইরানে যদি সত্যিই কোনও পাল্টা বিপ্লব হয়, তার ফল হতে পারে নানা রকম। তবে ভারতের কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হবে, শাহ-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার পুনরাগমন। এই উদ্বেগের কারণ এই নয় যে, নয়াদিল্লি বর্তমান ইরানি ধর্মীয় শাসকদের প্রতি কোনও সহানুভূতি পোষণ করে। ভারতের দুশ্চিন্তা অনেক বেশি কাঠামোগত ও কৌশলগত। একজন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত শাহ আদতে স্বাধীন শক্তি হবেন না, বরং তিনি হবেন পশ্চিমী, বিশেষ করে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা শাসক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এমন সরকারের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকাই স্বাভাবিক (India)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়

    এর ফলে ইরান আবারও সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়বে, মার্কিন জ্বালানি নীতি, নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে তেহরান। ভারতের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনই যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ইরান যদি পুরোপুরি মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল। যদি ইরান ভবিষ্যতে আমেরিকা-নির্ভর বা ওয়াশিংটনের অধীন এক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, তাহলে দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। এমন ইরান ভারতের স্বার্থে এমন কোনও ব্যতিক্রম তৈরি করতে আগ্রহী বা সক্ষম হবে না, যা আমেরিকার নীতির পরিপন্থী (India)।

    বৃহত্তর কৌশল

    এর প্রথম এবং সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ধাক্কা আসবে যোগাযোগ ও সংযোগ ক্ষেত্রে। বর্তমানে ইরানের মাধ্যমেই ভারত মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানে সীমিত হলেও একটি বিকল্প স্থলপথ পেয়ে থাকে। এই সুযোগটি সম্ভব হয়েছে কারণ বর্তমান তেহরান মার্কিন চাপ উপেক্ষা করতে রাজি। ঠিক এই রাজনৈতিক ফাঁকফোকরের মধ্যেই টিকে আছে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প, সেখানে ভারতের উপস্থিতি এবং পশ্চিমমুখী স্থলপথে পৌঁছনোর বৃহত্তর কৌশল। কিন্তু শাহ-নেতৃত্বাধীন ইরান সেই ফাঁক বন্ধ করে দেবে। মধ্য এশিয়া কোনও পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নয়, সেখানে মূল প্রভাব রাশিয়া ও চিনের। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইরান সেই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান হয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে পৌঁছতে চায়।

    চাবাহার বন্দর

    এর প্রত্যক্ষ ফল হবে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং রাশিয়াগামী নর্থ-সাউথ করিডর-সহ সংশ্লিষ্ট স্থলপথ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া (India)। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানকে কাবুল সম্ভবত অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখবে। এর ফলে আফগানিস্তান আরও একবার পাকিস্তানের প্রভাববলয়ে ফিরে যেতে পারে, যে পরিস্থিতি এড়াতে ভারত গত কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কাজ করে এসেছে। তবে ভারতের অস্বস্তির কারণ কেবল সংযোগ ব্যবস্থা নয়। এর গভীরে রয়েছে ইতিহাসের স্মৃতি। শেষবার যখন ইরানে শাহ শাসন ছিল, তখন ভারতের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পাহলভি রাজতন্ত্র শুধু পশ্চিমের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং অঞ্চলটিতে পশ্চিমী নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল।

    পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান

    এই অবস্থানের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পড়েছিল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে। সেই সময় ইরানের পশ্চিমঘেঁষা অবস্থান ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে ছিল না—এই স্মৃতি এখনও দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে টাটকা রয়েছে (India)। ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমী দেশগুলি থেকে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে ইসলামাবাদের জন্য। বিশেষ করে পাক  বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বজায় রাখা তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সঙ্কটের সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান। তৎকালীন শাহের শাসনাধীন ইরান কার্যত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তানের জন্য অস্ত্র সংগ্রহে। পশ্চিমি দেশগুলির কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনতে না পারায়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা তেহরান হয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ইরান (India)।

    পাকিস্তানের হাতে যুদ্ধবিমান

    ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে ইরান প্রায় ৯০টি অতিরিক্ত এফ-৮৬ সাবার যুদ্ধবিমান  তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই যুদ্ধবিমানগুলি ছিল কানাডায় নির্মিত কানাডায়ার সিএল-১৩ এমকে৬ মডেল, যা আগে পশ্চিম জার্মানির লুফটওয়াফের (West German Air Force) অধীনে ছিল। জার্মান মজুত থেকে এই বিমানগুলি সংগ্রহ করে ইরানের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। লুফটওয়াফের পাইলটরা বিমানগুলি উড়িয়ে তেহরানে নিয়ে আসতেন, তারপর ইরানি পাইলটরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সেগুলি পাকিস্তানে নিয়ে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোটা প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজান্তে হওয়া সম্ভব ছিল না। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশকেই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল, বাস্তবে এই লেনদেন ঘটেছে আমেরিকার নীরব সম্মতিতেই। কারণ ইরান তখন আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র ছিল (India)।

    অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে কারা যুক্ত

    এই অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে যুক্ত জার্মান অস্ত্র ব্যবসায়ী গেরহার্ড মার্টিন্স পরে দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সাবার যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিল এবং পাকিস্তানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য স্টুয়ার্ট সাইমিংটন, যিনি এই চুক্তি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, তিনিও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানত যে বিমানগুলি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছেই পৌঁছবে। ১৯৭১ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলিতে সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্রও সংযোজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের অবস্থান যখন দ্রুত অবনতি হচ্ছিল, তখন ইরান প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শাহ প্রকাশ্যে ভারতের ভূমিকার নিন্দা করেন এবং সংঘর্ষকে আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের পাশে রয়েছে।

    ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই

    নয়াদিল্লিকে পাঠানো এক কড়া বার্তায় ইরানের তৎকালীন শাসক ঘোষণা করেছিলেন, “ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করার কোনও প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতকে আমাদের এই অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। আমরা ইরানের সীমান্তে আর একটি ভিয়েতনাম চাই না (India)।” এই বক্তব্য শুধু আদর্শগত অবস্থান বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। শাহের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল পশ্চিমী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন স্টেট’, অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধক এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর সহযোগী শক্তি। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা ভারত এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না, ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তিও ছিল না। বরং পাকিস্তানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছিল, একটি এমন পশ্চিমী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে, যেখানে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। এই কাঠামোগত বাস্তবতা সহজে বদলে যাওয়ার নয়। ২০২৫ সালে যদি ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই সরকার আবারও টিকে থাকা ও বৈধতার জন্য পশ্চিমী সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে। এই নির্ভরশীলতা পাকিস্তান প্রশ্নে, আঞ্চলিক সংঘাতে, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে (India)। বিশেষত যুবরাজের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এই ইঙ্গিতই দেয় যে, ভবিষ্যতের কোনও শাহ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক-কূটনৈতিক সমীকরণে ঝুঁকবেন।

    ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা শিক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অধীনস্থ একটি ইরান ভারতের জন্য কখনও ততটা সহায়ক হয়নি, যতটা হয়েছে একটি স্বাধীন, সীমাবদ্ধ হলেও কৌশলগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পশ্চিমী চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া (India) ইরান।

     

  • US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারীদের মধ্যে যে আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ভারতের ইরান-বাণিজ্যের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহুমুখী হওয়ায় এই শুল্কের প্রভাব অত্যন্ত সামান্য হবে।

    ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার (US)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির খুবই ছোট অংশ। ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২১০০ কোটি মার্কিন ডলার, চিন ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, তুরস্ক ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই তালিকায় ভারতের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। তবে সোমবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করার পরেই ভারতীয় চাল রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইরানে চাল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তেহরান তার মোট চাল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত থেকেই করে। ফলে এই বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর বহু ভারতীয় রফতানিকারী ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে অনিচ্ছুক। শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারী সংস্থার বাল্ক এক্সপোর্ট বিভাগের প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রাম্পের কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় বাসমতি চাল শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।” নয়াদিল্লি-ভিত্তিক এক রফতানিকারী সংস্থা বলেন, “গত দু’মাসে যে চাল পাঠানো হয়েছে, তার অর্থপ্রাপ্তি নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ চাল পাননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অশান্তির কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

    এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, চিন ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানির পরিমাণ ছিল ২২০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি তেল। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিন ইরানের রফতানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতার সংখ্যা সীমিত, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে অর্থের জোগান বন্ধ করা।

     

  • Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে (Iran Protests) নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় তিনি “ভীষণভাবে মর্মাহত”। ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ এখন শুধু মূল্যবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

    ইরানের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ

    ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ৬৪৮। তবে মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি—প্রায় ২,০০০ জন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের এক বিবৃতি পড়ে শোনান সংস্থাটির মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স। সেখানে টুর্ক বলেন, “এই ভয়াবহ সহিংসতার চক্র চলতে পারে না। ন্যায্যতা, সমতা ও বিচারের জন্য ইরানি জনগণের যে দাবি, তা অবশ্যই শোনা উচিত।” নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লরেন্স বলেন, “ইরানে আমাদের সূত্র অনুযায়ী যে সংখ্যা আমরা শুনছি, তা শত শত।” টুর্ক আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গ্রেফতার হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে।

    ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়

    এদিকে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আবারও দিয়েছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লরেন্স বলেন, “এই বিক্ষোভকে কেউ যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারও দ্বারাই এটি ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় হিংসার নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এটিকে বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে ইরানের পক্ষ নিয়েছে।

    ইন্টারনেট বন্ধ কেন

    মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। নেটব্লকসের মতে, ইরানে সাড়ে তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। এর উদ্দেশ্য কি হিংসার আসল চিত্র লুকানো? নরওয়ের এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মৃত্যু ও গ্রেফতারের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রথমে এটি অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শুরু হলেও এখন তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

  • Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Drump)। তিনি এই সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর এবং চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বলে উল্লেখ করেছেন (Bilateral Trade)। আমেরিকার এই ঘোষণার ফলে ভারতের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুতর চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা অভিজ্ঞমহলের। বিদ্রোহের জেরে কার্যত জ্বলছে ইরান। তার মধ্যেই শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। মার্কিন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০০-এর বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    ভারতের ওপর প্রভাব (Donald Drump)

    প্রশ্ন হল, ভারতের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে? ভারত ইরানের শীর্ষ পাঁচটি বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে অন্যতম। নয়া এই শুল্ক ভারতের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ভারত–ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রফতানি ১.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতের আমদানি ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (Bilateral Trade)। ইরানে ভারতের প্রধান রফতানি করা পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে, বাসমতী চাল, চা, চিনি, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য। অন্যদিকে, ভারত মূলত আমদানি করে জৈব রাসায়নিক, শুকনো ফল ও বাদাম এবং খনিজজাত পণ্য (Donald Drump)।

    শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে

    বর্তমানে ভারতীয় রফতানিকারীরা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য আরোপিত ২৫ শতাংশ জরিমানাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সংক্রান্ত নয়া এই শুল্ক যুক্ত হলে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বস্ত্র শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি, রত্ন ও গয়না শিল্প এবং হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র রফতানিকারী খাত (Bilateral Trade)। ট্রাম্পের এহেন সিদ্ধান্তে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্পও জটিলতার মুখে পড়তে পারে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই বন্দরটি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। কিন্তু নয়া শুল্ক নীতির ফলে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে (Donald Drump)।

    ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক নীতির আওতায় চিন, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিও রয়েছে। এই দেশগুলির সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে (Bilateral Trade) নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে (Donald Drump)।

  • RBI: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমাল আরবিআই, বাড়ছে দেশের সোনার ভান্ডার

    RBI: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমাল আরবিআই, বাড়ছে দেশের সোনার ভান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেক্স: সাম্প্রতিক মাসগুলিতে মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো (US Treasury Bonds) হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি দফতরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষে আরবিআইয়ের কাছে থাকা মার্কিন বন্ডের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৪১.৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে প্রায় ৫০.৭ বিলিয়ন ডলার কমেছে বিনিয়োগ। সার্বিকভাবে ২০২৫ সালে ভারত প্রায় ২১ শতাংশ মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ কমিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সময়ের মধ্যেই ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৮ শতাংশে পৌঁছেছে (US Treasury Bonds)।

    মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ কমাল ভারত (RBI)

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ কমানোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সোনার ভান্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক (RBI)। বর্তমানে আরবিআইয়ের কাছে থাকা সোনার পরিমাণ প্রায় ৮৮০.১৮ মেট্রিক টন। ধারাবাহিকভাবে সোনা কিনে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। বর্তমানে ভারতের মোট বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার প্রায় ৬৮৭ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৩.৬ শতাংশই সোনা। গত বছর এই হার ছিল মাত্র ৯.৩ শতাংশ (US Treasury Bonds)। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআইয়ের এই সোনা কেনার প্রবণতা বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলিতে চিন, ব্রাজিল ও সৌদি আরব-সহ একাধিক দেশ সোনায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এর পেছনে সম্ভাব্য মার্কিন ডলারের অস্থিরতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা মার্কিন ঋণ পরিষেবা খরচ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। অনুমান করা হচ্ছে, শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট সুদ পরিশোধের অঙ্ক ১০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    লক্ষ্য ডলার-নির্ভরতা কমানো

    অন্যদিকে, একই (RBI) সময়ে ব্রিটেন, বেলজিয়াম, জাপান, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) তাদের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়েছে (US Treasury Bonds)। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপকে ডলারনির্ভরতা কমানো হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি মূলত পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ ও পুনর্গঠনের কৌশল, যার মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে (RBI) দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে আরবিআই (US Treasury Bonds)।

  • Russia: ইরান হয়ে রেলপথে ভারতকে জুড়ছে রাশিয়া! আমেরিকাকে ‘রামধাক্কা’ দিতেই কি ক্রেমলিনের হাতিয়ার ইস্পাত?

    Russia: ইরান হয়ে রেলপথে ভারতকে জুড়ছে রাশিয়া! আমেরিকাকে ‘রামধাক্কা’ দিতেই কি ক্রেমলিনের হাতিয়ার ইস্পাত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন মেঘ না চাইতেই জল! আমেরিকার দাদাগিরি রুখতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে রাশিয়া (Russia)। সেই কারণেই ইন্টারন্যাশনাল নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর (INSTC)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাশত–আস্তারা রেলপথের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিল ইরান ও রাশিয়া। সংবাদ মাধ্যম সূত্রেই এই খবর মিলেছে।

    ইরান-রাশিয়া বৈঠক (Russia)

    সম্প্রতি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি এবং রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিতালি সাভেলিয়েভের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষই আইএনএসটিসি করিডরকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরান স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে, তারা করিডরটি সক্রিয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আলি লারিজানি বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা সমস্ত বাধা দ্রুত দূর করা হবে।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনি ও পরিচালন সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি কার্যকর করা যায়।

    জমি অধিগ্রহণ

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সরকার চলতি (Russia) ইরানি অর্থবর্ষের শেষ নাগাদ রাশত–আস্তারা রেলপথের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে, যাতে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে না যায়। এদিকে, রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিতালি সাভেলিয়েভ ইরানের এই দৃঢ় অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “রাশিয়া দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে এবং রেল প্রকল্প শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে, আইএনএসটিসি করিডরের আওতায় সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া, ইরান ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আন্তঃসরকারি চুক্তির মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের ভিত্তি স্থাপন হয়। বর্তমানে আজারবাইজান, ভারত, ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক-সহ মোট ১৩টি দেশ এই চুক্তি অনুমোদন করেছে (Russia)।

    করিডরের মূল লক্ষ্য

    এই করিডরের মূল লক্ষ্য হল, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে, পাশাপাশি উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপে পণ্য পরিবহণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে এই রুটে ভারতে পণ্য পৌঁছতে সময় লাগে ছ’সপ্তাহের মতো। তবে করিডরটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে এই সময়সীমা কমে মাত্র তিন সপ্তাহে দাঁড়াবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। প্রসঙ্গত, নর্থ–সাউথ আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজভিন–রাশত রেলপথ চালু হয় ২০১৯ সালের ৬ মার্চ। এই রেলপথের মাধ্যমে আজারবাইজানের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরানের রেল যোগাযোগ সুগম হয়েছে। করিডরের পরবর্তী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইরানের ভূখণ্ডে রাশত–আস্তারা রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    নর্থ–সাউথ করিডর

    ইরানের ভেতরে নর্থ–সাউথ করিডরের তিনটি প্রধান দিক রয়েছে। পূর্ব দিকটি তুর্কমেনিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সংযুক্ত। মধ্য দিকটি কাস্পিয়ান সাগর অতিক্রম করে রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। আর পশ্চিম দিকটি আজারবাইজান, জর্জিয়া, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে (Russia)। এই প্রেক্ষাপটে, ২০২৩ সালের ১৭ মে রাশিয়া ও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশে রাশত–আস্তারা রেলপথ নির্মাণ করা হবে। প্রায় ১৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনে মোট ৯টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশত–আস্তারা রেলপথ সম্পন্ন হলে নর্থ–সাউথ আন্তর্জাতিক করিডরের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ইরানের রেল নেটওয়ার্ক ককেশাস অঞ্চলের দেশ, রাশিয়া এবং উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।

    রেলপথ নির্মাণে রাশিয়ার লগ্নি

    চুক্তি অনুযায়ী, এই রেলপথ নির্মাণে রাশিয়া প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি ৪৮ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ এবং ইউরেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমি দুনিয়ার চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে রাশিয়া এবং ইরান। এর জেরে দিন দিন পঙ্গু হচ্ছে মস্কো ও তেহরানের অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা প্রত্যাঘাতে ওয়াশিংটনের যাবতীয় ছক ভেস্তে দিতে পূর্বতন পারস্য দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ১৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণে নেমেছে পুতিন সরকার। এই রেলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে নয়া রূপ দিতে পারে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের (Russia)।

  • Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে এখনও যারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে চলেছে, সেই সব দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংবলিত একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপনের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত (Tariff Threat)। শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (US)।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Tariff Threat)

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “আমরা প্রস্তাবিত বিলটির বিষয়ে অবগত। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের বাস্তবতার ভিত্তিতে। জয়সওয়াল বলেন, “জ্বালানি উৎস সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান সুপরিচিত। বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সাশ্রয়ী জ্বালানি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাই আমাদের পথনির্দেশ করে, যাতে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় (Tariff Threat)।”

    মার্কিন সেনেটরের প্রতিক্রিয়া

    বিদেশমন্ত্রকের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই। গ্রাহামের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিদলীয় ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে’ সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে (US)। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে গ্রাহাম বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তিনি রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটি অনুমোদন করেন। ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন শুধু কথার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেবে, যারা সস্তায় রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধাস্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে (Tariff Threat)।” গ্রাহামের ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহেই বিলটি দ্বিদলীয় ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে।

    ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’

    এ প্রসঙ্গে এক মার্কিন সেনেটর বলেন, “এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করে। ওই তেল থেকেই পুতিন ইউক্রেনে গণহত্যার অর্থ জোগাচ্ছেন। আমি আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই বিলের পক্ষে শক্তিশালী দ্বিদলীয় সমর্থন মিলবে (US)।” মার্কিন কংগ্রেসের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিলটির নাম ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’। এই আইনের আওতায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার ওপর শুল্কের হার কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই অনুমান কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের (Tariff Threat)।

  • US Visa Bond: বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ড! আমেরিকায় যেতে গেলে দিতে হতে পারে ১৫০০০ ডলার

    US Visa Bond: বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ড! আমেরিকায় যেতে গেলে দিতে হতে পারে ১৫০০০ ডলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার ভিসা (US Visa Bond) পেতে এখন থেকে আরও বেশি অর্থ খরচ করতে হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের। এবার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি। সেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ। মার্কিন ভিসা বন্ড দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশ-সহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন বিদেশ দফতর। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

    কোন কোন দেশ ভিসা-বন্ডের আওতায়

    আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড (US Visa Bond) জমা দেওয়ার নিয়ম আগেই চালু করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ, ভেনেজুয়েলা-সহ আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মার্কিন বিদেশ দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজিরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা-সহ একাধিক দেশ। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনও অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

    ভিসা বন্ড কী

    ভিসা বন্ড (US Visa Bond) হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে কিছু দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়-যাতে তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা মেনে চলেন। প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো বিদেশি পড়ুয়া, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।

    কেন নেওয়া হয় ভিসা বন্ড

    ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ভিসার (Visa Bond For Bangladesh) মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও অনেকেই আমেরিকায় থেকে যাচ্ছেন। সেই প্রবণতায় রাশ টানতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি হোয়াইট হাউসের। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই তাঁর প্রশাসন আমেরিকায় থাকা বহু অবৈধবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে। তা ছাড়া এইচ-১বি ভিসা, গ্রিন কার্ডের জন্যও আরও কড়া নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এমনকি ভিসা আবেদনকারীর সমাজমাধ্যমের পোস্টের উপরেও নজর রাখছেন মার্কিন অভিবাসন দফতরের আধিকারিকরা।

    কীভাবে ফেরত পাওয়া যাবে ভিসা বন্ড

    এই ভিসা বন্ড (US Visa Bond) নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যে সব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সে সব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে বা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন অথবা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম), তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

    বাংলাদেশিদের জন্য মাত্র তিনটি বিমানবন্দর

    ভিসা বন্ড (US Visa Bond) প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি যাত্রীরা কেবল নিম্নোক্ত বিমানবন্দরগুলো দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সেগুলো হল- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনও পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা বন্ড ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে। এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • S Jaishankar: “সেখানকার মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকেন”, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

    S Jaishankar: “সেখানকার মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকেন”, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি (Venezuela Crisis) নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সে দেশের ‘অপহৃত’ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখন নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাস সম্পর্কিত অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণের সুরক্ষা ও কল্যাণই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।” তিনি বলেন, “আমরা এখানে সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসে পরিস্থিতির সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানাই, যাতে ভেনেজুয়েলার মানুষ সুরক্ষিত থাকেন।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর? (S Jaishankar)

    জয়শঙ্কর আরও বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক সব সময় ভালো। তাই ওই দেশটি নিশ্চয়ই সবসময় ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সহযোগিতাই আশা করে।” চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভোরে আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী এবং স্পেশাল অপারেশন ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যায়। ম্যানহাটানে ফেডারেল আদালতে হাজিরও করা হয় ওই দম্পতিকে। আদালতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন। বক্তব্য শুরু করেন “আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট” বলে (Venezuela Crisis)।

    নির্দোষ, দাবি মাদুরোর 

    আদালতে স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি নির্দোষ, দোষী নই এবং আমি একজন সৎ মানুষ।” বিচারকের সামনে তিনি স্পষ্টভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নৈশ অভিযানে ভেনেজুয়েলার এবং কিউবা নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর। কিছু মার্কিন সৈনিকও জখম হয়েছেন (S Jaishankar)। জয়শঙ্কর সাফ জানিয়ে দেন, ভারতের উদ্বেগ লিডারশিপ পরিবর্তনের নৈতিক দিক ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতি প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক স্বার্থের জন্য যে কোনও পদক্ষেপে মানুষের কল্যাণই মূল ভিত্তি হওয়া উচিত (Venezuela Crisis)।

    মামলার পরবর্তী শুনানি

    ১৭ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে (S Jaishankar)। এদিকে, নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার শীর্ষ আদালতের নির্দেশে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodriguez) অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধানের পদ শূন্য হয়ে পড়ায় সৃষ্ট প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালতের একটি সূত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে (Venezuela Crisis)। ওই দেশটির পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজরও রয়েছে (S Jaishankar)।

  • Trump-Modi: ‘‘মোদির মতো জনপ্রিয় নন ট্রাম্প’’, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ইয়ান ব্রেমারের

    Trump-Modi: ‘‘মোদির মতো জনপ্রিয় নন ট্রাম্প’’, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ইয়ান ব্রেমারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কখনও শুল্ক চাপানোর হুমকি। কখনও আবার পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে ভারতবিরোধী মন্তব্য। প্রায় প্রতি দিনই ‘বিতর্কিত’ বিবৃতি দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Trump-Modi) হু-হু করে কমছে জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনই অভিমত, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার।

    কেন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাঁটা

    ইয়ান ব্রেমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন— যেমন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের সামরিক অভিযান— কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল তিনি নাও পেতে পারেন। তিনি বলছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলি স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক লাভ এনে দিতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে তা বদলে যেতে পারে। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ট্রাম্পের তুলনা করে বলেছেন, মোদি দীর্ঘসময় ধরে জনপ্রিয়তার কারণে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যা তাঁর সিদ্ধান্তগুলিকে স্থিতিশীল করে তুলেছে। কিন্তু দেশের ভিতরেই ট্রাম্পের বিরোধিতা অনেক বেশি। ট্রাম্পের বয় ৮০ বছর। প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর মেয়াদ ২০২৯ পর্যন্ত সীমিত—এবং পরবর্তী কোনও প্রেসিডেন্ট তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করে দিতে পারে। ব্রেমার বলেন, চিনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের মোদির মতো স্থায়ী নেতৃত্ব নেই মার্কিন নেতৃত্বে, যেখানে প্রতি চার বছর পরপর শাসক পরিবর্তন হয় এবং সেই কারণে অনেক নীতি ও পদক্ষেপ কার্যবসিত হয় না।

    ভেনেজুয়েলার তেল, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ

    ভেনেজুয়েলাতে তেলের বড় মজুদ থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন, বলে মনে করেন ব্রেমার। বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা আগের ৩০ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম। তেলের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগগুলোতে বিশ্বাস থাকতে হয়— তাই মাত্র কয়েক বছর মেয়াদি একজন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা তা রূপান্তর করতে সর্বদা যথেষ্ট নয়। ব্রেমার বলেন, “তাই এমন ভাবনা ঠিক নয় যে আমেরিকান কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার সব তেল দখল করে নেবে।”

    মোদির জনপ্রিয়তা বেশি

    ব্রেমার মনে করেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের কথা বলে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয়ত, তাঁর শুল্কনীতির জেরে ক্ষতি হচ্ছে দেশের তাবড় বড় শিল্পপতিদের। তা ছাড়া বর্ষীয়ান রিপাবলিকান নেতার বিদেশনীতি নিয়েও সেখানকার আমজনতার মধ্যে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তাঁদের একাংশের দাবি, ‘বন্ধু’দের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করছেন ট্রাম্প। আর ‘সুপার পাওয়ার’ থাকার গর্বে আন্তর্জাতিক স্তরে ধীরে ধীরে একা হচ্ছে আমেরিকা। দেশেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কম ও মেয়াদ সীমাবদ্ধ। ফলে তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্টের সময় বাতিল বা বদলে যেতে পারে। মোদি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে দেশে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছেন। ভারতে তাঁর স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নেই।

LinkedIn
Share