Tag: Weather Update

Weather Update

  • Weather Update: ১০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত বৃষ্টির মেঘ! ভারত সহ এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষার পূর্বাভাস

    Weather Update: ১০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত বৃষ্টির মেঘ! ভারত সহ এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষা যেন এবার নতুন রূপে ধরা দিল মহাকাশ থেকে। বঙ্গোপসাগর থেকে আরব সাগর, আর সেখান থেকে সোজা উত্তর ভারত পেরিয়ে সুদূর দক্ষিণ কোরিয়া- আকাশ জুড়ে যেন মেঘের এক সুবিশাল মহাসড়ক (Rain Cloud Band)! সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্রে (Satellite Image) এমনই এক বিরল ও অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ভারত থেকে শুরু করে হিমালয় পর্বতমালা, চিন এবং জাপান পার হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এক প্রকাণ্ড মেঘের বলয় (Rain Cloud Band)। দৈর্ঘ্য প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার। আবহাওয়ার এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘মনসুন কনভারজেন্স জোন’ (Monsoon Convergence Zone)। আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর এই তাণ্ডব আসলে এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষারই এক বড়সড় সংকেত।

    কীভাবে তৈরি হলো এই মেঘের সাগর?

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারত মহাসাগর থেকে উঠে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বাতাস এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের আবহাওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা খেতেই এই কাণ্ড! বায়ুমণ্ডলে বাতাসের প্রবল মেলবন্ধনের কারণে জলীয় বাষ্প দ্রুত উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধছে। আর তাতেই উত্তর ভারত, মধ্য ভারত, হিমালয় অঞ্চল, চিন হয়ে একেবারে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে বৃষ্টিবাহী ঘন মেঘের এক অবিচ্ছিন্ন করিডোর (Rain Cloud Band)।

    খরা কেটে বন্যার মেঘ! 

    এই সুবিশাল মেঘের সারণি (Rain Cloud Band) ভারতে যেন আক্ষরিক অর্থেই বর্ষার ‘অন্নপূর্ণা’ রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েক সপ্তাহে দেশের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির মারাত্মক ঘাটতি দেখা গিয়েছিল, তা এবার এক ঝটকায় উধাও হওয়ার মুখে! গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে গড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৭০% থেকে ১৮০% বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটিই চলতি বর্ষা মরশুমের সবচেয়ে জলীয় এবং আর্দ্রতম সময়। দাবি আবহাওয়া দফতরের।

    কোথায় কোথায় তাণ্ডব? উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি- এনসিআর এবং রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্নের সম্ভাবনা। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া জোড়া নিম্নচাপের টানে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতেও ঝরছে নাগাড়ে বৃষ্টি (Heavy Rainfall)।

    ধস আর ফ্ল্যাশ ফ্লাডের শঙ্কা! 

    তবে এই বাম্পার বৃষ্টি যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনই পাহাড়ি ও নিচু এলাকাগুলোতে বয়ে এনেছে মারাত্মক আশঙ্কার মেঘ! ইতিমধ্যেই পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে লাল সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

    বিপদের মেঘ কোথায় কোথায়? আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে টানা বর্ষণে নামতে পারে পাহাড়ি ধস (Landslides)। হতে পারে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা বা ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড’ (Flash Floods)। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে পারে পাহাড়ি নদীগুলো। উত্তর ভারতের একাধিক বড় শহরের নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা।

    চাষিদের মুখে হাসি, ভরছে জলাশয়!

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই বর্ষা দেশের কৃষির জন্য একপ্রকার বরদান হতে চলেছে। বর্ষার শুরুতে যেসব রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল, সেখানে খরিফ মরশুমের (Kharif Crop) চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা। এই লাগাতার বর্ষণে জলাশয় ও নদীগুলো যেমন দ্রুত কানায় কানায় পূর্ণ হচ্ছে, তেমনই ধানের চাষসহ অন্যান্য কৃষিকাজে এক অভূতপূর্ব গতি আসবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    শুধু ভারত নয়, জলচক্রে বাঁধা পুরো এশিয়া!

    সাধারণত ভারতের মৌসুমি বায়ুকে কেবল একটি আঞ্চলিক আবহাওয়া বলেই গণ্য করা হয়। কিন্তু মহাকাশ থেকে তোলা ১০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল মেঘের ছবি প্রমাণ করে দিল- আরব সাগর থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত পুরো এশিয়া মহাদেশের আবহাওয়া আসলে অদৃশ্য এক সুতোয় বাঁধা! আগামী গোটা সপ্তাহ জুড়ে এই মেঘের দাপট বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। অর্থাৎ, এশিয়া জুড়ে ব্যাপক বর্ষা এখনই যে থামছে না, তা আর বলার অপেক্ষা থাকে না।

  • Weather Update: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা! আগামী চার দিন দুর্যোগের সতর্কবার্তা হাওয়া অফিসের

    Weather Update: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা! আগামী চার দিন দুর্যোগের সতর্কবার্তা হাওয়া অফিসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতি থেকে শুক্র একটানা বৃষ্টিতে ভিজল শহর কলকাতা। মাঝেমধ্যে বৃষ্টির দাপট বাড়ছে। ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে একাধিক রাস্তাঘাট। খুব শীঘ্র এই পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনা নেই, জানিয়ে দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আরও অন্তত চার দিন কলকাতায় এমন বৃষ্টি চলবে। দক্ষিণের ছয় জেলায় ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি চলতে পারে। সকাল থেকেই বৃষ্টিতে শহরে যান চলাচলের গতি ধীর। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, হলদিরাম, সেক্টর ৫ মেট্রোর মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জমেছে জল।

    কেন এই অঝোরে বৃষ্টি

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। তার প্রভাবে আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। সঙ্গে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো বাতাস। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয়। এই দুইয়ের টানে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তাই উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

    বর্ষণমুখর রাত দেখল কলকাতা

    বর্ষণমুখর রাত দেখল কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। বৃষ্টির সতর্কবার্তা (Rain Alert) জারি করা হয়েছিল আগেই। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বেশ বোঝা গেল বৃষ্টির দাপট। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। তারপর কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে রাতভর মুষলধারায় বৃষ্টি চলতে থাকে। কলকাতা ও লাগোয়া জেলায় বৃষ্টির প্রবল দাপট জারি আছে সকালেও। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে শহরে। একই পূর্বাভাস হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে।  শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দমদমে বৃষ্টি হয়েছে ৯৬.৬ মিলিমিটার, আলিপুরে বৃষ্টির পরিমাণ ৩৬.৭ মিলিমিটার। শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.১ ডিগ্রি কম। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ২.১ ডিগ্রি কম।

    টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা

    রাতভর টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা (Kolkata)। শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙতেই শহরের একাধিক এলাকায় জল জমে যাওয়ায় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। স্ট্র্যান্ড রোড-সহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। অফিসযাত্রী থেকে স্কুলপড়ুয়া, সকলেরই নিত্যযাত্রায় বিঘ্ন ঘটেছে প্রবল বর্ষণের জেরে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, উল্টোডাঙা আন্ডারপাস ছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ও ঢাকুরিয়ার মতো এলাকাতেও গোড়ালি সমান জল জমেছে। এর ফলে শহরের প্রধান সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে গাড়ির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। সাঁতরাগাছিতে নতুন রেল সেতুর কাজের জেরে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে একটি ট্রাক খারাপ হয়ে যাওয়ায় হাওড়ামুখী লেনে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে ছিল। ইএম বাইপাস, মা ফ্লাইওভার ও এজেসি বোস রোডেও গাড়ির সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। আধ ঘণ্টার রাস্তা পেরোতে সময় লাগছে দেড় থেকে দু’ঘণ্টা। প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের জল নিকাশির জন্য পাম্পিং স্টেশনগুলিকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। ট্র্যাফিক পুলিশের দাবি, শহরে বড় ধরনের জলজমার কোনো খবর নেই এবং যান চলাচল মোটের ওপর স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বৃষ্টির তোড় না কমলে দিনভর এই দুর্ভোগের রেশ থাকতে পারে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে শুক্রবারের বৃষ্টিতে নাজেহাল মহানগরী।

    দিঘার সমুদ্রে নিষেধাজ্ঞা

    উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর জন্য রয়েছে বিশেষ সতর্কবার্তা। ১২ই জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের জন্য। মাইকিং করে সতর্ক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। দিঘার সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। তৈরি হতে পারে জলোচ্ছ্বাস। সমুদ্র ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দিঘা, দিঘা মোহনা, মন্দারমণি সহ উপকূল মাইকিং করা হচ্ছে।

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা 

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় প্রতি দিনই ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে এই জেলাগুলিতে। বৃষ্টি চলছে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামেও।

    জল বাড়ছে দক্ষিণের নদীগুলিতে

    টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে সুবর্ণরেখা নদী। জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুবর্ণরেখার প্রবল স্রোতে দেউলবাড় ও গড়ধরা গ্রামের সংযোগকারী ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল। ফলে নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া, কৃষক, ব্যবসায়ী-সহ হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা অন্যদিকে, অজয় নদীর জল বাড়লেই প্রত্যেকবার বর্ষায় প্লাবিত হয় গোটা গ্রাম। বিগত প্রায় ২০ বছরে বাঁধে নতুন করে মাটি পড়েনি। কোথাও বাঁধের উচ্চতা কমে গিয়েছে, কোথাও আবার ভাঙা অংশ আজও মেরামত হয়নি। ফলে বর্ষাকালে নদীর জল বাড়লেই বাঁধ উপচে বা ভাঙা অংশ দিয়ে জল ঢুকে প্লাবিত হয় গ্রাম। এবারও সেই আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

    অতি ভারী বৃষ্টি উত্তরবঙ্গেও

    অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গেও। কোচবিহারে ১৪৩ মিমি ও আলিপুরদুয়ারে ১১২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) চলতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও আগামী কয়েক দিনে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলিতে জল বাড়বে। ধসও নামতে পারে পাহাড়ি রাস্তায়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।

  • Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতায় কত দিন চলবে বৃষ্টি?

    Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতায় কত দিন চলবে বৃষ্টি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলছে বৃষ্টির দাপট (Rain Forecast)। রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ সোমবারও কলকাতাসহ একাধিক জেলায় স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। অফিস টাইমে জলজট ও যানজটের জেরে নাজেহাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে (Weather Update)। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হবে অতি ভারী বর্ষণও। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনিয়েছে। ধীরে ধীরে তা উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।

    দক্ষিণবঙ্গে চলবে বৃষ্টিপাত

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ অঞ্চলটি ঘৃনীভূত হয়ে রবিবার নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সেই সময় ওড়িশার বালেশ্বর থেকে তার অবস্থান ছিল ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব, পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম। এটি ক্রমশ আরও পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরবে। সোমবারের মধ্যে বালেশ্বরের কাছে ওড়িশার চান্দবালি এবং দিঘার অন্তর্বর্তী অংশ দিয়ে তা স্থলভাগে প্রবেশ করতে চলেছে। তার পরেও নিম্নচাপ আরও উত্তরে সরবে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ মঙ্গলবারের মধ্যে ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে নিম্নচাপ। রাজ্যে বর্ষা সক্রিয়। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে দক্ষিবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তা চলবে সোমবার পর্যন্ত। সোমবারের পর থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে উত্তরবঙ্গে।

    মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ

    নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইছে। হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার, কখনও কখনও দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যাচ্ছে ৬৫ কিলোমিটারেও। মঙ্গলবার পর্যন্ত তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সোমবার। তালিকায় রয়েছে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া। এ ছাড়া, সারা সপ্তাহ ধরেই দক্ষিণের জেলাগুলিতে কমবেশি বৃষ্টি চলবে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বর্ষণের কমলা সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

    জলমগ্ন শহরের বেশ কিছু জায়গা

    রবিবার রাত থেকে অনবরত বৃষ্টির প্রভাবে শহরের কিছু রাস্তা জলমগ্নও হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছ। যার জেরে সকাল থেকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। জল জমে থাকায় ট্র্যাফিকের গতিও বেশ কিছুটা ধীর। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ দিনভর বৃষ্টি চলবে শহর কলকাতায়। আপাতত আবহাওয়ায় বিশেষ কোনও পরিবর্তন নেই। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। উত্তরবঙ্গে মঙ্গলবারের পর থেকে ফের ভারী বৃষ্টি শুরু হবে। তবে উত্তরবঙ্গে গোটা সপ্তাহ জুড়েই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মালদা এবং দুই দিনাজপুর-সহ প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

  • Rain in Bengal: স্বস্তির বৃষ্টি দক্ষিণে, বর্ষায় বিপর্যস্ত পাহাড়! ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, দার্জিলিং-শিলিগুড়ি যোগাযোগ ব্যাহত

    Rain in Bengal: স্বস্তির বৃষ্টি দক্ষিণে, বর্ষায় বিপর্যস্ত পাহাড়! ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, দার্জিলিং-শিলিগুড়ি যোগাযোগ ব্যাহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি। প্রবল গরমের পর শুক্রবার সকাল থেকেই শহরজুড়ে বৃষ্টি (Kolkata Rain Update) শুরু হয়েছে। কোথাও হালকা, কোথাও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের (West bengal Weather Update) একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে বেশ কয়েক জায়গায় জলও জমে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতেও দক্ষিণের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, বৃষ্টির (Rain Forecast) জেরে এক রাতেই তাপমাত্রা প্রায় ৫ডিগ্রি কমেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দিনভর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। দক্ষিণে স্বস্তির হলেও উত্তরবঙ্গে ভয়াল রূপ নিয়েছে বর্ষা (Rain in Bengal)। রাতভর ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড়। কোথাও ভেসে গেল সেতু। কোথাও জাতীয় সড়কে নামল ধস। এর ফলে শিলিগুড়ির-দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে পাহাড়-সহ সমতলে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি চলছে উত্তরের জেলাগুলিতে। গতকাল রাত থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। আজ, সারাদিন দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই পাঁচ জেলাতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার ও রবিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তর দিনাজপুরে। মালদহ ও দুই দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। ভুটান এবং সিকিম পাহাড়ে এখনও ঘন কালো মেঘ থাকায় ফের ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জল বেড়েছে

    ভারী বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জল বেড়েছে। বালাসন নদীর জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে কার্শিয়াং জেলার দুধিয়ার বিকল্প সেতুটিও। বৃহস্পতিবার থেকেই ফুঁসছিল বালাসন নদী। রাতের দিকে মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয়। তার পরেই বালাসন নদীতে জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকে। রাত থেকে দুধিয়ার বালাসন তীরবর্তী মানুষেরা আতঙ্কে ছিলেন। মধ্যরাতে জলের তোড় বাড়ায় হিম পাইপের তৈরি অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ ভাবে জলে তলিয়ে যায়। আপাতত মিরিকের সঙ্গে দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির যোগাযোগ প্রায় বন্ধ।

    জাতীয় সড়কে ধস, সমস্যায় পর্যটকরা

    ভারী বর্ষণ এবং মহানন্দা নদীতে জলস্তর বাড়ার কারণে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গা ধসে গিয়েছে। আপাতত দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী এই রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক কিংবা কালিম্পং এবং সিকিমগামী রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। খারসাং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। প্রধান সড়কের উপর একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধস সরিয়ে এবং রাস্তা মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকরা। বর্ষার পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বহু মানুষ এই সময়ে দার্জিলিং, মিরিক ও সংলগ্ন এলাকায় বেড়াতে গিয়েছেন। দুধিয়া রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের অনেককেই সুখিয়াপোখরি হয়ে শিলিগুড়ি ফিরতে হচ্ছে। তবে লাগাতার বৃষ্টি চললে সেই পথও কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    বন্ধ শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং টয়ট্রেন

    ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরেই টয়ট্রেন চলে দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি এবং শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত। তা আপাতত টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে রাখা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “আজকে (শুক্রবার) সমস্ত পরিষেবাই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ধস সরাতে সময় লাগবে। তবে আগামী কাল (শনিবার) থেকে দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াঙের মধ্যে যে টয়ট্রেন পরিষেবা রয়েছে, তা চালু থাকবে।” উত্তরবঙ্গের দুর্যোগ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি৷ সাংসদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন। পর্যটকদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যে যেখানেই রয়েছেন, সুরক্ষিত ভাবে সেখানেই থাকুন। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

    দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

    আজ কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুর আবহাওযা দফতর জানিয়েছে, মূলত মেঘলা আকাশ থাকবে। দক্ষিণের বেশিরভাগ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, শনিবার থেকে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতে। এছাড়া বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং উত্তর চব্বিশ পরগনায়। তবে, আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

    জলমগ্ন শহরের একাধিক জায়গা

    বৃষ্টি হলেও আগামী ২৪ ঘন্টায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর আবহাওয়া থাকবে দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায়। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। তবে, শনি ও রবিবার থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। শনিবার থেকে ঝড় বৃষ্টির বাড়বে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। রবিবারও একই পূর্বাভাস থাকবে।  তবে, বৃষ্টির জেরে শুক্রবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৬ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, গিরীশ পার্ক, মানিকতলা, ঠনঠনিয়া-সহ উত্তর কলকাতার একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই জল জমতে শুরু করেছে। দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় জমছে জল। জল জমেছে সল্ট লেক সেক্টর ফাইভের বেশকিছু জায়গায়। বৃষ্টি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর কলকাতা পুরসভা। পুরসভায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। দ্রুত জল নামানোর কাজে তৎপর কেএমসি।

  • Monsoon Rain Update: বর্ষা ঢুকে গেছে দেশে, কিন্তু ঝেঁপে বৃষ্টি কই? কবে থেকে ভারী বর্ষণ, জানাল হাওয়া অফিস

    Monsoon Rain Update: বর্ষা ঢুকে গেছে দেশে, কিন্তু ঝেঁপে বৃষ্টি কই? কবে থেকে ভারী বর্ষণ, জানাল হাওয়া অফিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টি নেমেছে শহরে। কিন্তু গরম কমেনি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি। ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা (Monsoon Rain Update) এসে গেলেও বাস্তবে বৃষ্টির দেখা খুবই কম। দেশের বিস্তীর্ণ অংশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশও করে গিয়েছে। কিন্তু গরমে এখনও হাঁসফাঁস করছে দেশের একটা বড় অংশ। এর মধ্যেই আরও দুঃসংবাদ শোনাল আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অন্তত এক সপ্তাহ দেশজুড়ে ব্যাপক বা ভারী বৃষ্টির (Rain in Bengal) কোনও সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়ার মডেলগুলি বলছে, ২৩ জুনের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা খুবই ক্ষীণ।

    দুর্বল মৌসুমি বায়ু

    আবহাওয়াবিদদের মতে, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বেশ কিছু এলাকায় বর্ষা প্রবেশ করলেও বর্তমান আবহাওয়া ব্যবস্থা (Weather System) অস্বাভাবিক রকমের দুর্বল। স্যাটেলাইট চিত্রেও বৃষ্টির অনুকূল মেঘের সেভাবে দেখা মিলছে না। যার জেরে ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যে দেশের এক বিশাল অংশে কার্যত বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি থাকবে। ফলে আগামী দিনে দেশে সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি আরও অনেকটাই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশে বর্ষা বা মৌসুমি বায়ু এবার বিলম্বিতই। তার উপর চলছে বেশ ধীরগতিতে। এতদিনে দক্ষিণ ভারত, পূর্ব ও মধ্য ভারত স্বাভাবিক ছন্দে পার করে পুরোপুরি উত্তর ভারতের কিছু অংশে বর্ষা ঢুকে পড়ার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মধ্য ও উত্তর ভারতে বর্ষা প্রবেশ করেনি। এমনকি শুরু হয়নি দক্ষিণ ভারতের সমগ্র অংশেও। আপাতত কেরল ও তামিলনাড়ু, গোয়া এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে বর্ষা পুরোপুরি প্রবেশ করেছে। পূর্ব ভারতের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে, প্রায় গোটা রাজ্যে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করলেও শুধু উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। রাজ্যের বাকি অংশে যেখানে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে সেখানেই কিছুটা বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিই আপাতত থাকবে।

    কবে থেকে ভারী বৃষ্টি?

    আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২২ জুন থেকে ২৮ জুনের মধ্যে বাড়তে পারে বৃষ্টির সম্ভাবনা। বিশেষত, অভ্যন্তরীণ অঞ্চল, আন্ধ্রপ্রদেশ-কর্নাটক সীমান্ত, দক্ষিণ তামিলনাড়ু এবং কেরলের পশ্চিমঘাট এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় কেরল ও কর্নাটক, পাশাপাশি মুম্বই পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিমঘাট অঞ্চলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। ২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই, মাসের একেবারে শেষলগ্নে গিয়ে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সময়পর্বে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ফের সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে। আপাতত জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টির এই লুকোচুরি খেলা চলবে বলেই মনে করছে হাওয়া অফিস। উল্লেখ্য, চলতি মাসের প্রথম ১৬ দিনে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গেও বেশকিছু অংশে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে।

  • El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই বর্ষা। তার আগে এক বড় আশঙ্কার কথা শোনাল ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। শুধু তাই নয়, সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছর বর্ষার মরশুম (Weather Update) যত এগোবে, এটি আরও বেশি শক্তিশালী ও দাপুটে হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির জেরে ভারতে বর্ষার মানচিত্র পুরো বদলে যেতে পারে। এর জেরে বিলম্বিত বর্ষা থেকে, কম বৃষ্টিপাত ও অসময়ে অতিবৃষ্টির সঙ্কট তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রাণান্তকর গরমে ছটফট করতে পারে মানুষ।

    ভারতে বর্ষার উপর এল-নিনো-র প্রভাব

    দেশে বর্ষার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কথা জানাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আইএমডি-র বুলেটিন অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (Sea Surface Temperatures) স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করে গিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, সমুদ্রপৃষ্ঠের এই উষ্ণায়নের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলও সমান্তরালভাবে সাড়া দিতে শুরু করেছে। এর অর্থ, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের এই যৌথ বা কাপল্ড সিস্টেমটি এখন সম্পূর্ণভাবে ‘এল নিনো’র গ্রাসে চলে গিয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো (El Nino) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    আরও শক্তিশালী হবে ‘এল নিনো’

    মৌসম ভবনের বুলেটিনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এটি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাসগুলিতে ‘এল নিনো’র তীব্রতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জুন ২০২৬-এ মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ‘এল নিনো’র জন্য নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক তথা ‘নিনো ৩.৪ ইনডেক্স’ (Niño 3.4 index)-এর গত তিন মাসের গড় তাপমাত্রা +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গিয়েছে, যা ‘এল নিনো’র আনুষ্ঠানিক আগমনকে সিলমোহর দেয়। এ ছাড়াও, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেও তাপমাত্রার ব্যাপক অসঙ্গতি বা উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার অর্থ গভীরের এই গরম জল আগামী দিনগুলিতে অনবরত সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে এসে ‘এল নিনো’কে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।

    দেশে বর্ষার উপর কী প্রভাব?

    সাধারণত ‘এল নিনো’ হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উষ্ণায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে এই ‘এল নিনো’র রেকর্ড মোটেও ভাল নয়। ঐতিহাসিকভাবে, ‘এল নিনো’ সক্রিয় থাকলে ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে দেশের একাধিক রাজ্যে তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মরশুম এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভয়াবহ খরার (Drought) ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তবে আইএমডি জোর দিয়ে বলেছে যে, ভারতের বর্ষা কেবল ‘এল নিনো’র ওপর নির্ভর করে না, অন্যান্য অনেক আঞ্চলিক উপাদানও এর সঙ্গে জড়িত।

    ‘এল নিনো’ কী?

    সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা হাওয়া গরম জলকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু কয়েক বছর পরপর এই হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়লে গরম জল উল্টো অভিমুখে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে চলে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার চেনা নামই হল ‘এল নিনো’। গ্রীষ্মকালে ভারতের ভূখণ্ড প্রচণ্ড উত্তপ্ত হলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস দেশের দিকে ছুটে আসে, যা বর্ষা ডেকে আনে। কিন্তু এল নিনো এই বাতাসের গতিপথকে ভারত থেকে দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ফলে মেঘ ও বৃষ্টির চাকা থমকে যায়। তথ্য বলছে, ১৯৫১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে হওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ এল নিনোর বছরগুলিতেই ভারতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ কমে গিয়েছিল।

    ভারতের নিজস্ব ‘রক্ষাকবচ’

    এল নিনো এলেই যে খরা হবে, তা নয়। অনেক সময় ভারতের ত্রাতা হয়ে ওঠে ভারত মহাসাগর নিজেই। একে বলা হয় ‘ইন্ডিয়ান ওশেন ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD)।

    • পজিটিভ আইওডি : যখন পূর্ব আফ্রিকার উপকূলবর্তী পশ্চিম ভারত মহাসাগর উত্তপ্ত হয় এবং ইন্দোনেশিয়ার দিকের পূর্ব অংশ শীতল থাকে। এই পরিস্থিতি এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে রুখে দিয়ে ভারতে বাড়তি বৃষ্টির জোগান দেয়।
    • নেগেটিভ আইওডি: এর উল্টো পরিস্থিতি বর্ষাকে আরও দুর্বল করে। ২০০২ এবং ২০১৫ সালের মতো এল নিনো ও নেগেটিভ আইওডির যুগলবন্দি ভারতের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ খরা ডেকে এনেছিল।
    • নিরপেক্ষ আইওডি: আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD) পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ‘নিরপেক্ষ’ বা নিউট্রাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা জুড়েই এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা। নিরপেক্ষ আইওডি থাকার অর্থ হল – এটি এবার ‘এল নিনো’র ক্ষতিকারক প্রভাবকে কমাতেও পারবে না, আবার বাড়িয়ে তুলতেও ভূমিকা নেবে না।
  • Weather Update: স্বস্তির বৃষ্টি কলকাতায়, দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা ও ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    Weather Update: স্বস্তির বৃষ্টি কলকাতায়, দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা ও ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক দিনের তীব্র ও দমবন্ধ করা গরমের (Weather Update) পর অবশেষে স্বস্তির দেখা মিলল। বুধবার বিকেলে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে আকাশ কালো করে ধেয়ে এল কালবৈশাখী ঝড় ও ঝেঁপে বৃষ্টি। বিকেলেই যেন রাতের অন্ধকার নেমে আসে শহর জুড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে এই ঝড়-বৃষ্টির (Rain Forecast) দাপট বজায় থাকবে, যার ফলে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা কমতে পারে।

    জেলাভিত্তিক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস (Weather Update)

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের (Weather Update) বুধবারের সতর্কতা অনুসারে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝড় উঠেছে। দক্ষিণবঙ্গের ৭টি জেলায় আজ কালবৈশাখীর তীব্র সতর্কতা রয়েছে। জেলাগুলো হলো – কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি।

    বৃহস্পতিবারের সতর্কতা

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঝড়-বৃষ্টির (Weather Update) দাপট বাড়বে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে। বিশেষ করে দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর এবং হুগলিতে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁকুড়া ও বর্ধমানের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিও (Rain Forecast) হতে পারে।

    রবিবার পর্যন্ত পূর্বাভাস

    আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি (Rain Forecast)  এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়ার মূল বার্তা

    আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি চলবে। বিশেষ করে বাঁকুড়া ও বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির (Rain Forecast) সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যে বর্ষা আনুষ্ঠানিক ভাবেই ঢুকে গিয়েছে। ফলে সেখানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে জলপাইগু়ড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতে বৃষ্টি হতে পারে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ছাড়াও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে। অন্য দিকে, দক্ষিণবঙ্গে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে বর্ষা প্রবেশ করে। এ বার কবে দক্ষিণে আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা ঢুকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর গতিবিধির দিকে আবহাওয়া দফতর নজর রেখেছে।

  • Southwest Monsoon: তীব্র গরমের মধ্যে বর্ষার আগমন, তিন দিন বিলম্বে কেরলে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

    Southwest Monsoon: তীব্র গরমের মধ্যে বর্ষার আগমন, তিন দিন বিলম্বে কেরলে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন দিন পিছিয়ে অবশেষে ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon)। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করার কথা থাকলেও, এবার তা ৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কেরল উপকূলে এসে পৌঁছেছে।

    আবহাওয়া দফতরের (IMD) পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ

    একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বর্ষা এসেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আবহাওয়া দফতরের কিছু সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক মাপকাঠি রয়েছে। কেরলের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ হওয়ায় বর্ষা (Southwest Monsoon) আগমনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল-

    • বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি: কেরল এবং লাক্ষাদ্বীপের মোট ১৪টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ কেন্দ্রে টানা দু’দিন ২.৫ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত (Southwest Monsoon) নথিভুক্ত হয়েছে।
    • বায়ুর গতিপ্রকৃতি: পশ্চিমী বায়ুর গতিবেগ ভূপৃষ্ঠ থেকে নিম্ন-বায়ুমণ্ডল (প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার উচ্চতা) পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    • মেঘের ঘনত্ব: উপগ্রহ চিত্রে আরব সাগর এবং কেরল উপকূল সংলগ্ন এলাকায় গভীর মেঘমালার উপস্থিতি ও নিম্নমুখী বিকিরণের (Outgoing Longwave Radiation) মাত্রা উপযুক্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    বিলম্বের কারণ ও আগামী পূর্বাভাস

    আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের (IMD) মতে, সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব (Southwest Monsoon) আরব সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সামুদ্রিক পরিস্থিতির কারণে মৌসুমি বায়ুর মূল স্রোতটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে এই তিন দিনের বিলম্ব।

    দেশজুড়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা

    দক্ষিণে বর্ষা প্রবেশ করলেও দেশের মধ্য ও উত্তর ভাগে বর্ষা পৌঁছোতে আরও কিছুটা সময় লাগে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে উত্তরে এগোয়। দিল্লিতে ২৭ জুনের আগে বর্ষা প্রবেশ করে না। পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো রাজ্যে বর্ষা সাধারণত জুনের শেষে কিংবা জুলাইয়ের শুরুতে প্রবেশ করে।

    আবহাওয়া দফতর (IMD)  আশ্বস্ত করেছে যে, দেরিতে এলেও বর্তমানে মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon) বেশ শক্তিশালী। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে এটি সমগ্র কেরল, তামিলনাড়ুর কিছু অংশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে স্বাভাবিক নিয়মে অগ্রসর হবে।

    কৃষি ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব

    ভারতে কৃষিকাজ এবং সার্বিক অর্থনীতির জন্য এই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলম্ব হলেও বর্ষার এই আগমন তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Weather Update: প্রবল কালবৈশাখীতে বিপর্যস্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ, ৬ জেলায় লাল সতর্কতা, দুপুরেই নামল সন্ধ্যা

    Weather Update: প্রবল কালবৈশাখীতে বিপর্যস্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ, ৬ জেলায় লাল সতর্কতা, দুপুরেই নামল সন্ধ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক দিনের দমবন্ধ করা ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গে আছড়ে পড়ল প্রবল কালবৈশাখী। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দুপুরের পর থেকেই তীব্র বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। ঝড়ের গতিবেগ (Weather Update) ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া ও হুগলি জেলাতেও একযোগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়। দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ছয়টি জেলায় প্রকৃতির এই তাণ্ডবের জেরে ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

    স্তব্ধ মহানগরের গতি, উপড়ল গাছ (Weather Update)

    দুপুর দুটো নাগাদ কলকাতা এবং সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করেছিল হাওয়া অফিস (Weather Update)। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সল্টলেক, ধর্মতলা, যাদবপুর থেকে বরাহনগর—সমগ্র কলকাতা জুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুরের আকাশ এতটাই মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে, রাস্তায় হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে বাধ্য হন চালকেরা। ঝড়ের দাপটে শহরের একাধিক জায়গায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। রাসবিহারী, রবীন্দ্র সরোবর, নেতাজি নগর, টালিগঞ্জ এবং হরিশ মুখার্জি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ার খবর মিলেছে। ময়দানের কাছে একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। শিয়ালদা মেট্রো স্টেশনের ছাদের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে, পরিষেবা সাময়িকভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে গ্রিন লাইনে। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কিছু হোর্ডিং ও পোস্টার ছিঁড়ে পড়েছে। উত্তর ও মধ্য কলকাতার ঠনঠনিয়া এবং চাঁদনি চকের মতো নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে যায়। তবে গরমের ছুটির কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বড় কোনও ভোগান্তির শিকার হতে হয়নি।

    ৬ জেলায় লাল সতর্কতা

    কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া ও হুগলিতেও তীব্র গতিতে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে আবহাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক (Red Alert) রূপ নিতে পারে। এই জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদিয়া জেলাতেও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের (Weather Update) সঙ্গে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

    আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে উঠেছিল, এমনকি পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের (Weather Update) সতর্কতাও জারি ছিল। এই স্বস্তির বৃষ্টিতে সেই পরিস্থিতির বদল ঘটতে চলেছে।

    শনিবার

    দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির (Red Alert) সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

    রবিবার থেকে বুধবার

    ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা (Red Alert) শনিবারের পর কিছুটা কমলেও, সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলবে।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ঝড়-বৃষ্টির প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

    অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলা যেমন দার্জিলিং ও কালিম্পঙে গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেলেও, বৃষ্টিপাত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। সেখানে এখনও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Weather Update: গরমে নাজেহাল! সময়ের আগেই বর্ষা ঢুকছে দেশে, বাংলায় কবে? দিনক্ষণ জানাল হাওয়া অফিস

    Weather Update: গরমে নাজেহাল! সময়ের আগেই বর্ষা ঢুকছে দেশে, বাংলায় কবে? দিনক্ষণ জানাল হাওয়া অফিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্যাচপ্যেচে গরমে (Weather Update) নাজেহাল বাঙালি। শহরে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে উঠেছে। তবে শুধু বাংলা নয়, সূর্যের তাপে মোটামুটি পুড়ছে ভারতের একটা বড় অংশ। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) রাজধানীতে বারবার তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করছে। একইভাবে রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশও তীব্র গরমে পুড়ছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাস এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এই সময়ই সুখবর দিল হাওয়া অফিস। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, চলতি বছর সময়ের আগেই প্রবেশ করছে বর্ষা (Monsoon Forecast 2026)। ভারতের মূল ভূখণ্ড কেরলে ২৬ মে ঢুকে যেতে পারে বর্ষা।

    দেশে কবে বর্ষার প্রবেশ

    এবছর ১৬ মে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ঢুকেছিল বর্ষা ৷ আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে মৌসুমী বায়ু দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের কিছু অংশে ঢুকে পড়বে। অগ্রগতি হতে পারে কোমোরিন এলাকাতে। দক্ষিণপূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের বাকি এলাকা এবং পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরের এলাকাতে ঢুকবে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু, যা দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ বার্ষিক বৃষ্টিপাত নিয়ে আসে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় এক সপ্তাহ আগেই প্রবেশ করছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ২৬ মে নাগাদ কেরল উপকূলে পৌঁছাতে পারে বর্ষা। আর মৌসমি বায়ু দেশে প্রবেশের স্বাভাবিক সময় হল ১ জুন।

    বাংলায় কবে আসছেন বর্ষারানি

    কেরলে বর্ষার আগাম আগমন মানেই যে সারা দেশে দ্রুত বা বেশি বৃষ্টি হবে, এমনটা বলা যায় না। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা সাধারণত উত্তর-পূর্ব ভারতের দিক দিয়ে প্রবেশ করে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢুকতে ৫ জুনের কাছাকাছি সময় লাগে এবং দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার প্রথম বৃষ্টি পৌঁছাতে প্রায় ১০ জুন পর্যন্ত সময় গড়ায়। বাংলায় বর্ষা প্রবেশ না করলেও উত্তরবঙ্গে প্রাক বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই। ভারী বৃষ্টির আরও একটা স্পেল চলবে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার পর্যন্ত।

    এল নিনোর প্রভাব দেশে

    দেশে সময়ের আগে বর্ষা প্রবেশ করলেও আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ বছরের বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯২ শতাংশ হতে পারে। আইএমডি জানিয়েছে, ধীরে ধীরে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। আর এই পরিস্থিতি ভারতের মৌসুমী বায়ুকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই-অগাস্টে মৌসুমি বায়ু এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে। ইতিমধ্যেই জৈষ্ঠ্যে চাঁদিফাটা রোদে জ্বলছে বঙ্গবাসী। সকাল থেকেই অস্বস্তিকর গরমে হাঁসফাঁস করছে কলকাতা সহ- দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal Heatwave) একাধিক জেলা। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হতে পারে। এই আবহে বর্ষাতেও যদি কম বৃষ্টি হয়, তাহলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যহত হবে।

     

LinkedIn
Share