Tag: West Bengal Politics

West Bengal Politics

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জন্য গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবী মারফত একটি মানহানির নোটিস পাঠান তিনি। কিসের ভিত্তিতে মমতা ওই মন্তব্য করেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রামাণ্য নথি চেয়েছিলেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার দেওয়া ওই সময়সীমা ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে। কিন্তু সেই চিঠির উত্তর মেলেনি। এবার তাই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেন শুভেন্দু।

    ‘আদালতে দেখা হবে

    সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু (Suvendu Attacks Mamata) লেখেন, “তাঁকে (মুখ্যমন্ত্রীকে) দেওয়া সময়সীমা এখন অতিক্রম হয়ে গিয়েছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে আমার নাম কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে তাঁর কল্পিত অভিযোগগুলির কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই ওনার কাছে, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তাই বিপাকে পড়ে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।” বিরোধী দলনেতার দাবি, কী জবাব দেবেন, তা হয়তো মুখ্যমন্ত্রী বুঝে উঠতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি আরও লেখেন, “এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সাথে আদালতে দেখা হবে।”

    কেন শুভেন্দুর আইনি চিঠি

    অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata) জড়িয়ে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই এই আইনি চিঠি নন্দীগ্রামের বিধায়কের। চিঠিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আই প্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে বাংলা তথা গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির মাঝে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রীকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধে দাবি করেছিলেন, ইডি-র মাধ্যমে তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এই তল্লাশি চলছিল। গোটা দেশের ১০ জায়গায় তল্লাশি চলছিল। তার মধ্যে ৬টি বাংলায় ও চারটি দিল্লিতে। ইডির বক্তব্য, এই তদন্তে হাওয়ালা-যোগও উঠে আসে। আর এখানেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির দাবি, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড, অর্থাৎ আইপ্যাকের মাধ্যস্থতার হাওয়ালায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বয়ানে এই প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে। সেই কারণেই তল্লাশি।

  • JP Nadda in Bengal: ‘‘রাজনৈতিক নয়, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলায় বিজেপিকে জিততে হবে’’, বঙ্গ ব্রিগেডকে বার্তা নাড্ডার

    JP Nadda in Bengal: ‘‘রাজনৈতিক নয়, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলায় বিজেপিকে জিততে হবে’’, বঙ্গ ব্রিগেডকে বার্তা নাড্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক কারণে নয়, জিততে হবে জাতীয় স্বার্থে। রাজ্য বিজেপিকে বৃহস্পতিবার এমনই বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (JP Nadda in Bengal)। দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের প্রথম দিনে একগুচ্ছ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। জেলা সভাপতি, বিভাগ (কয়েকটি জেলার সমষ্টি) আহ্বায়ক এবং ভিন্‌রাজ্য থেকে আসা বিজেপি নেতাদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে নাড্ডা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন নাড্ডা। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যেও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে।

    ‘রাজনৈতিক’ নয়, জিততে হবে ‘জাতীয় স্বার্থে’

    বিজেপি সূত্রের খবর, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে এ বার বিজেপি-কে জিততেই হবে বলে জানান দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। এ বারের নির্বাচন শুধু ‘রাজনৈতিক লড়াই’ নয়, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই। তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এত দিন শুধু ‘হবে না, হবে না, হবে না’ চলেছে। এ বার থেকে ‘হবে, হবে, হবে’।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হবে না’ সংস্কৃতির অবসান ঘটবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। আর বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছাড়া অন্য কোনও কিছু না-ভেবে কাজ করার পরামর্শ দেন। বিধাননগর সেক্টর ফাইভে নাড্ডার বৈঠকে বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, পাঁচ সাধারণ সম্পাদক, দুই সংগঠন সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে জেলা সভাপতি এবং বিভাগ আহ্বায়কদের পরামর্শ দেন নাড্ডা। বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের মোট ৪৩ জন মন্ত্রীকে এ রাজ্যে বিজেপির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার ভোট ব্যবস্থাপনা সামলানোর দায়িত্ব দেন নাড্ডা। সে সবের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ‘গুরুত্ব’ বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

    বৃহত্তর জনবিন্যাস সংক্রান্ত সঙ্কট

    এক বৃহত্তর জনবিন্যাস সংক্রান্ত সঙ্কটের হাত থেকে ভারতকে রক্ষার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের কথা বলেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। তিনি বলেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ আমাদের কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই নয়। পশ্চিমবঙ্গ আমাদের কাছে সভ্যতা রক্ষার লড়াই। ভারতকে রক্ষা করতে হলে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে জিততেই হবে।’’ একই অভিমত ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর-ও। পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে এবং গোটা দেশের স্বার্থে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় জরুরি বলে শাহ মন্তব্য করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যত দিন থাকবে, তত দিন পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা যাবে না বলে তোপ দেগেছিলেন শাহ। এই মুহূর্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হিসাবে ব্যাখ্যা করে শাহ বলেছিলেন যে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অনুপ্রবেশ রোখা দরকার। এবং তা রোখা যাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার তৈরি হলে।

    রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

    সাংগঠনিক বৈঠক সেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাড্ডা (JP Nadda in Bengal) যোগ দেন চিকিৎসকদের একটি অনুষ্ঠানে। ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি প্রেক্ষাগৃহে বিজেপি-পন্থী চিকিৎসকেরা সে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন,‘‘আমি এখানে রাজনীতি করতে চাই না, কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’’ রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি আটকে রেখেছে। এমনকী আয়ুষ্মান কার্ড ছিঁড়ে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর। নাড্ডার কথায়,‘‘আমি মমতাজিকে বলেছিলাম, তাঁদের দোষ কী? তাঁরা গরিব মানুষ এবং এটি একটি বহনযোগ্য ব্যবস্থা। যদি পশ্চিমবঙ্গের কোনও শ্রমিক হিমাচল প্রদেশে অসুস্থ হন, তাহলে তিনি সেখানেই চিকিৎসা পাবেন এবং টাকা বাংলা থেকে সেই প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হবে।’’ প্রকল্পের সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে নাড্ডা জানান, ‘‘গত বছর মোদিজি ঘোষণা করেছিলেন যে, ৭০ বছরের বেশি বয়সি সমস্ত ব্যক্তি, তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থা, ধর্ম বা লিঙ্গ নির্বিশেষে, আজীবন প্রতি বছর ৫ লাখ টাকার স্বাস্থ্য বিমা-সহ এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। কিন্তু বাংলার মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্নছে।’’এরপরই নাড্ডা বলেন, ‘‘আমি আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।’’ উদাহরণ হিসেবে তিনি ওডিশা এবং দিল্লির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রথমে আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে বিরোধিতা থাকলেও, পরে তা বাস্তবায়িত হয়। নাড্ডা দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘‘বাংলায় এটি শুধু আশার আলো নয়, আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে এখানে পদ্ম ফুল ফুটবে এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।’’

    রাজ্যে মাতৃমৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বিগ্ন

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda in Bengal) রাজ্যের মাতৃমৃত্যু হারের (MMR) পরিসংখ্যান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি বাংলার মাতৃমৃত্যু হার (এমএমআর) নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা ১০৪। এটি জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি।” নাড্ডা আরও জানান, ২০১০-১১ সাল থেকে এটি মাত্র ১১ শতাংশ কমেছে, যেখানে জাতীয়ভাবে এই হার ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তিনি যোগ করেন, “এটি অনেক কিছু বলে দেয়। যদি মায়েদের স্বাস্থ্যের উন্নতি না হয়, তবে এটি প্রমাণ করে যে পরিবার কল্যাণের জন্য যে সমস্ত কর্মসূচি রয়েছে, তা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।’’ আজ, ৯ জানুয়ারি চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট কলকাতায় যাবেন। সেইসঙ্গে এইমস কল্যাণীর রেডিয়েশন অঙ্কোলজি, ট্রমা, এমার্জেন্সি মেডিসিন এবং নিউমেটিক টিউব সিস্টেম উদ্বোধন করবেন নাড্ডা।

  • West Bengal Youth Voters: এক দশক ধরে নিম্নমুখী রাজ্যে ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির গ্রাফ, নেপথ্যে কী কারণ?

    West Bengal Youth Voters: এক দশক ধরে নিম্নমুখী রাজ্যে ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির গ্রাফ, নেপথ্যে কী কারণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটার (West Bengal Youth Voters) সংখ্যা কি কমছে? গত ১০ বছরের নির্বাচনী পরিসংখ্যানে সেই তথ্যই স্পষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয় নির্বাচনী তথ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও দিনকে দিন গতিহীন হয়ে পড়ছে। গত প্রায় দেড় দশক ধরে জনগণনার কাজ স্তব্ধ হয়ে থাকলেও নির্বাচনী পরিসংখ্যান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তথা নতুন প্রজন্মের ভোটার কমে যাওয়ার চিত্রটি স্পষ্ট করেছে। যদিও, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির আশা জাগালেও নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির (Youth Voter Enrolment) ক্ষেত্রে বড় কিছু পরিবর্তন আনতে পারবে বলে নিশ্চিত হতে পারছেন না নির্বাচনী কর্তারাই।

    আশনুরূপ নয় ফর্ম ৬ আবেদনের সংখ্যা

    চলতি এসআইআর পর্বে রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকায় ৫৮ লক্ষের কিছু বেশি মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, অস্তিত্বহীন এবং ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম বাদ গেলেও নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ আবেদনপত্রের সংখ্যা আশনুরূপ হয়নি এখনও। সিইও দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে প্রায় ২ লক্ষ এবং তালিকা প্রকাশের পর ( ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত) প্রায় ৩ লক্ষ ‘ফর্ম ৬’ এখনও পর্যন্ত কমিশনে জমা পড়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নতুনভাবে নাম অন্তর্ভুক্তি অথবা নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা যাবে। যার ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এমতাবস্থায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ২০২৪ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা করা আবেদনপত্র ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৮ থেকে বেশি হবে কিনা বা কতটা বেশি হবে তা নিয়ে সন্দিহান পদস্থ নির্বাচনী আধিকারিকরাই।

    বস্তুত, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী ফর্ম ৬ আবেদনপত্র পূরণের ক্ষেত্রে সংখ্যা ক্রমশ নিম্নমুখী। নির্বাচনী বছরগুলিতে এই সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পরবর্তী বছরে তার গ্রাফ নিম্নমুখী। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে নতুন প্রজন্মের ভোটার অর্থাৎ যারা নতুনভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন জানান তাদের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এখনো পর্যন্ত সেই ট্রাডিশনে বজায় রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের বছরে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৯৬ লক্ষ ৮১ হাজার যার মধ্যে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার এবং নাম বাদ গিয়েছে ৪ লক্ষ ৪১ হাজার।

    পরবর্তী বছর ২০১৫ সালে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা বাড়লেও নতুন ভোটার হিসেবে ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন ২১ লক্ষ ৫৩ হাজার। অর্থাৎ, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এক ধাক্কায় এক বছরে প্রায় ১১ লক্ষ নতুন প্রজন্মের ভোটার সংখ্যা কমে যায়। ২০১৬ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের বছরে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ৯৫ হাজার। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ক্ষেত্রে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার। অর্থাৎ নির্বাচনী বছরে নতুন প্রজন্মের ভোটার সংখ্যা তার পূর্ববর্তী বছর এর তুলনায় প্রায় ৫ লক্ষ বেড়ে যায়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের বছরেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ওই নির্বাচনী বছরে ভোটার তালিকা ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের নতুন প্রজন্মের ভোটার তালিকা বৃদ্ধির থেকে ২০১৯-এর নির্বাচনী বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক।

    নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা নিম্নমুখী

    একুশের বিধানসভা নির্বাচনী বছরে খসড়া ভোটার তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৮ লক্ষ ৪৯ হাজার যেখানে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ২০ লক্ষ ৪৫ হাজার। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ভোটার তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭ কোটি ৩২ লক্ষ এবং ৭ কোটি ৪২ লক্ষ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনী বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৫৩ লক্ষ ৮৬ হাজার। পাশাপাশি, ২০২২ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ১৬ লক্ষ ১৩ হাজার হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ লক্ষ ৮৩ হাজারে। যদিও ২০২৪ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার।

    অর্থাৎ, সার্বিকভাবে নির্বাচনী তথ্যের বিচারে গত দশ বছরে রাজ্যে ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা নিম্নমুখী হয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এই অধোগতির চিত্র সর্বাধিক। ২০১৪ সাল থেকে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা বাড়লেও নতুন প্রজন্মের ভোটারের সংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে। ২০১৪ সালে যে সংখ্যা ছিল ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার ২০২৪ সালে নতুন প্রজন্মের সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লক্ষ ৩০ হাজারে।

    জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অধোগতির হার স্পষ্ট

    স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার বিন্যাসে নতুন প্রজন্মের ভোটারের সংখ্যা যেমন কমছে তেমনি সার্বিকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধোগতির হার স্পষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে এই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনীতি সচেতন রাজ্যে ভোট রাজনীতির পাকচক্র থেকে নতুন প্রজন্ম কি দূরে সরছে? নাকি সার্বিকভাবে রাজ্যের জনসংখ্যা কমছে? উল্লেখযোগ্য, ২০১১ সালের পর দেশে জনগণনা না হওয়ায় জনসংখ্যার তারতম্য বা হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারিভাবে কোন তথ্য বা যুক্তি না দেখানো গেলেও ভোটার তালিকার এই সংখ্যা তত্ত্ব কিন্তু রাজ্যের জনসংখ্যার তারতম্যের বিষয়টি যে স্পষ্ট করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    এসআইআর-এর সৌজন্যে রাজ্যের শাসকদল তথা মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ ভোটারদের কাছে বারংবার আবেদন জানিয়েছেন যে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলেই সবাই অবশ্যই ফর্ম ৬ পূরণ করবেন। প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক পক্ষের এই আবেদন সমস্ত যোগ্য ভোটারের ভোটাধিকার রক্ষায় কমিশনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হলেও নির্বাচনী তথ্য অন্য ছবি তুলে ধরেছে। নির্বাচনী শুনানিতে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা যদি ফের সং হয় পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান সেক্ষেত্রে কমিশনের বিশেষ সফটওয়্যার সেই আশায় জল ঢালবে বলে জানিয়েছেন পদস্থ কর্তারা। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যদি কোন যোগ্য ভোটার নতুন ভাবে নাম তুলতে চান অথবা বিদেশে বা ভিন রাজ্যে থাকার জন্য শুনানিতে হাজির হতে পারেননি এ ধরনের যোগ্য ভোটাররা নাম তোলার জন্য ফর্ম ছয় জমা দেন সে ক্ষেত্রে তা বিচার্য হলেও সেই সংখ্যাটা নগণ্যই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে ফর্ম ৬ আবেদনপত্র জমার গ্রাফ নিম্নমুখী হওয়ায় রাজ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটার তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে সংখ্যা তৈরি হয়েছে।

  • Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’ সাফ জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের (CEO) বিরুদ্ধে পুলিশে দায়ের করা অভিযোগগুলির তীব্র নিন্দাও করেছে কমিশন (Intimidatory Tactics)। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই ধরনের পুলিশি অভিযোগ প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনও রকম ভয় বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।

    কমিশনের সাফ কথা (Intimidatory Tactics)

    কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, এবং সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যে কোনও প্রচেষ্টার মোকাবিলা করা হবে কঠোরভাবে।নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই ধরনের ভীতি প্রদর্শনের কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই এবং সংবিধান অনুযায়ী কমিশন তার দায়িত্ব পালন করে যাবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন (Intimidatory Tactics) কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুলিশি অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কমিশনের মতে, এই অভিযোগগুলি ‘পরিকল্পিত, ভিত্তিহীন এবং ভীতিপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা’।

    অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একাধিক সরকারি পোস্টে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা এমন সংবাদ প্রতিবেদন লক্ষ্য করেছে যেখানে বলা হয়েছে (Election Commission), ২০২৬ সালের জন্য যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাকে কেন্দ্র করে দুই শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযোগ (Intimidatory Tactics) দায়ের হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ২০২৬ সালের এসআইআর সংক্রান্ত আইনগত দায়িত্ব পালনকারী আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে দমন করার এক স্থূল প্রচেষ্টা।” কমিশনের সাফ কথা, “নির্বাচনী যন্ত্রকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা এবং সংবিধানস্বীকৃত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিপথে চালিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই (Election Commission) ধরনের ভীতিপ্রদর্শনমূলক কৌশল নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হতে বাধ্য (Intimidatory Tactics)।”

    নিরপেক্ষতা রক্ষার অঙ্গীকার

    কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনী আধিকারিকরা সংবিধান অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে যে এসআইআর প্রক্রিয়াটি চলছে, তা সম্পূর্ণভাবে আইন ও প্রতিষ্ঠিত বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের ইঙ্গিত, তারা এই অভিযোগগুলিকে বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে দেখছে না, বরং এগুলিকে একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। কোন পরিস্থিতিতে এই অভিযোগগুলি দায়ের করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের কড়া বার্তা, “এই ধারাবাহিক ও মনগড়া অভিযোগগুলির নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে চেষ্টার কসুর করা হবে না। শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে আইনের শাসন এবং সত্যই (Intimidatory Tactics)।” নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় তাদের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়ে দিয়েছে আরও একবার (Election Commission)।

    জনস্বার্থেই কাজ

    রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের দৃঢ় সংকল্পের কথা তুলে ধরে কমিশন জানিয়েছে, বাহ্যিক চাপ বা ভয়ভীতির মুখেও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থা দৃঢ়তা ও নৈতিকতার সঙ্গে, সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে কাজ করে যাবে। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রবীণ ভোটারের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ওই দুই প্রবীণ ভোটার শুনানির নোটিশ পাওয়ার পরের মারা যান। এই নোটিশগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর নিয়ে বিতর্ক

    পুরুলিয়া জেলার বছর বিরাশির দুর্জন মাঝির ছেলের অভিযোগ, তাঁর বাবার নাম ২০০২ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের সময় প্রস্তুত করা কাগজে থাকা ভোটার তালিকায় থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা সংশ্লিষ্ট তালিকায় সেই নাম নেই। অভিযোগ, এই অসঙ্গতির কারণেই ওই প্রবীণ ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয় (Election Commission)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত শুনানির সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই প্রবীণ ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। অভিযোগকারীরা এই ঘটনার জন্য সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-কে দায়ী করেছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগ

    ভোটার তালিকার ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ২৭ ডিসেম্বর জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করেছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের এসআইআরের ভোটার তালিকায় প্রায় ১.৩ লাখ ভোটারের নাম রয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাঁদের নাম অনলাইন ডেটাবেসে প্রতিফলিত হয়নি, তাঁদের কোনও শুনানিতে হাজির হতে হবে না (Election Commission)। নির্বাচন কমিশনের মতে, পুরানো ভোটার তালিকার ডিজিটাল রূপান্তরের সময় সৃষ্ট প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে যাতে কোনও ভোটার হয়রানি বা অযথা অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য

    কমিশনের আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বাড়ানো, যার মধ্যে রয়েছে দ্বৈত নাম বাদ দেওয়া, ভুল সংশোধন করা এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকাভুক্ত করা। প্রকৃত বা বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়া বা ভয় দেখানো এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য নয়। উল্লেখ্য, এসআইআর একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত রাজ্যগুলিতে, যেখানে নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়মিত কড়া নজরদারির মধ্যে থাকে (Election Commission)।

    নির্বাচন কমিশন একাধিকবার জানিয়েছে যে, এসআইআর ২০২৬ সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এবং আইনি বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এই প্রক্রিয়ায় একাধিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও দাবি কমিশনের (Intimidatory Tactics)।

  • Suvendu Adhikari: পুলিশ সংগঠনকে ভোটের কাজে না-রাখার দাবি, কেন? প্রমাণ-সহ জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পুলিশ সংগঠনকে ভোটের কাজে না-রাখার দাবি, কেন? প্রমাণ-সহ জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের কাজে এ রাজ্যের পুলিশকে রাখা যাবে না! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির বিরুদ্ধে দেশের মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নির্দিষ্ট তিন পুলিশ আধিকারিকের নাম করে এবং তাঁদের ভাষণের ভিডিয়ো পাঠিয়ে ওই অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে বিরোধী দলনেতার দাবি, পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির সঙ্গে যুক্ত কাউকে যেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজে লাগানো না হয়।

    পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

    মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে দিঘার পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির (Digha Police Welfare Committee) অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টানেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ করেন, সেই অনুষ্ঠান থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রশংসা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের ভোটের কাজ থেকে বিরত রাখার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। সম্প্রতি পুলিশকর্মীদের ওই সংগঠনের আয়োজনে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় মহিলা পুলিশকর্মীদের একটি রাজ‍্য স্তরের সম্মেলন হয়েছে। সেই সম্মেলনে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক তথা মুখ‍্যমন্ত্রীর ‘আস্থাভাজন’ হিসেবে পরিচিত শান্তনু সিং বিশ্বাস যে ভাষণ দিয়েছেন, শুভেন্দু মঙ্গলবার তার ভিডিও সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দেখিয়েছেন। বিজিতাশ্ব রাউত নামে এক ইন্সপেক্টর এবং রুহুল আমিন আলি শাহ নামে এক সাব-ইন্সপেক্টরের ভাষণের অংশবিশেষও তিনি দেখান।

    ভিডিয়ো দেশের মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনারকে পাঠানো হয়েছে

    শুভেন্দু জানান, ওই ভিডিয়ো দেশের মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালেই ইমেল করে চিঠি ও ভিডিয়ো পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সাংবাদিক বৈঠকে উল্লেখ না করলেও চিঠিতে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্যের নামও। শুভেন্দু দাবি করেছেন, পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটি কোনও ‘রাজনৈতিক সংগঠন’ নয়। সেই কারণেই তারা ‘রাজনৈতিক’ কথা বলতে পারে না। তাঁর কথায়, ‘‘সরকার লিখিত ভাবে এই সংগঠন তৈরি করে দিয়েছিল।’’ পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ছাড়া অন্য কোনও রাজ্যের পুলিশ এমন আচরণ করে না বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সংযোজন, এ রাজ্যের পুলিশ নিজেদের মর্যাদা, আত্মসম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে তৃণমূল সরকারের (TMC Govt) হয়ে এমন কাজ করছেন।

    পুলিশকে ভোটের ডিউটিতে রাখা যাবে না

    পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু সাফ জানান, ওঁদের সরিয়ে নির্বাচন করতে হবে। দলদাস পুলিশকে ভোটের ডিউটিতে রাখা যাবে না। বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হয়ে যাবে বলে ধরে নিতে পারি। তখন থেকে শুরু করে ভোট সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির সঙ্গে যুক্ত কেউ যাতে ভোটের কাজের সঙ্গে প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে না থাকে, আমরা তা কমিশনকে নিশ্চিত করতে বলেছি।’’ তাঁর বক্তব্য, কমিশন যাতে এখন থেকেই বিকল্প ব‍্যবস্থার কথা ভেবে নিতে পারে এবং তার প্রস্তুতি নিতে পারে, সে কথা মাথায় রেখে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার তিন মাস আগেই তিনি কমিশনকে ওই বিষয়ে অবহিত করে রাখলেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘’কেন্দ্রীয় বাহিনী সব কাজ পারবে না। কিছু কাজ পুলিশকেই করতে হয়। সেই কাজ অন‍্য রাজ‍্য থেকে পুলিশ এনে করাবে নাকি অন‍্য কোনও ব‍্যবস্থা করবে, তা নির্বাচন কমিশন এখন থেকে ভেবে নিক।’’

  • Calcutta High Court: খেজুরির দুই বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুতে ফের মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: খেজুরির দুই বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুতে ফের মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে দুই বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুতে নয়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকে নতুন একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করতে হবে। এই বোর্ডকে এসএসকেএম হাসপাতালের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে পাওয়া আঘাতগুলির ব্যাখ্যা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    ১২ জুলাই রহস্যমৃত্যু হয়

    গত ১২ জুলাই খেজুরির এক মেলায় সুজিত দাস ও সুজিত পাইক নামে দুই বিজেপি কর্মীর (BJP Workers) মৃত্যু হয়। প্রথমে তমলুক মেডিক্যাল কলেজের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাঁদের খুন করা হয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে এসএসকেএম হাসপাতালে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়। সেই রিপোর্টে আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে—একজনের শরীরে ২৪টি এবং অন্যজনের শরীরে একাধিক আঘাতের দাগ পাওয়া যায়। সেই থেকেই খুনের অভিযোগ ফের জোরদার হয়।

    ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে সেই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে

    সোমবার আদালত (Calcutta High Court) জানিয়েছে, নতুন মেডিক্যাল বোর্ডকে জানাতে হবে, ওই আঘাতগুলির মধ্যে কোনটি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সেইসঙ্গে পুরো রিপোর্ট নিয়ে স্পষ্ট মতামতও জমা দিতে হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে (Calcutta High Court) সেই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এর আগেও এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট তদন্তকারী অফিসার, প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, থানার ওসি ও মেলা কমিটির সদস্যদের মোবাইল কল রেকর্ড খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল। সিআইডি আদালতকে জানায়, প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক তদন্তকারী অফিসারকে একাধিকবার ফোন করেছিলেন। এ নিয়ে বিচারপতি বসাক প্রশ্ন তুলেছিলেন—“তদন্তকারী আধিকারিক কেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করবেন?” প্রসঙ্গত, এসএসকেএমের রিপোর্টে উল্লেখ ছিল—মৃত্যুর কারণ শুধু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া নয়, শরীরে আঘাতের (BJP Workers) চিহ্নও রয়েছে। সেই কারণেই ফের নতুন মেডিক্যাল বোর্ডের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে আদালত।

  • PM Modi in Bengal: পুজোর আগে ফের বাংলায় প্রধানমন্ত্রী মোদি! জনসভা ও পুজোর উদ্বোধনে শহরে আসছেন শাহ

    PM Modi in Bengal: পুজোর আগে ফের বাংলায় প্রধানমন্ত্রী মোদি! জনসভা ও পুজোর উদ্বোধনে শহরে আসছেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগে ফের রাজ্যে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Bengal)। দিন তিনেক আগেই ঝটিকা সফরে বাংলায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সভা করেছিলেন দমদমে। এবার তিনি যেতে পারেন নদিয়ায়। শুধু প্রধানমন্ত্রী নন। পুজোর আগে বাংলায় পা রাখতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit shah)। পুজোর আগে তিনি ২ বার বাংলায় আসতে পারেন। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। তাই পুজোর মরসুমেও রাজনৈতিক পালাবদলের অপেক্ষা রাজ্যে। মহালয়ার আগে-পরে বড় পরিকল্পনা সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া চলছে বিজেপির (BJP)।

    পুজোর মুখে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে প্রচারে ঝাঁপিয়েছে বঙ্গ বিজেপি (Bengal BJP)। গত কয়েকদিনে তিন বার বঙ্গসফরে এসেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Bengal)। এদিকে পুজো উদ্বোধনে শহরে আসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। কারণ মহালয়ার আগের দিন আসছেন মোদি, পরের দিন শাহ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর এবং ২২ সেপ্টেম্বর মোদি-শাহের উপর্যুপরি বঙ্গসফর দেবীপক্ষের প্রথম দিন পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তাপের পারদ তুঙ্গে রাখবে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে, এখনই পুজোর আগে মোদি-শাহের কর্মসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে নারাজ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

    বাংলায় পর পর সভা প্রধানমন্ত্রীর

    বিজেপি সূত্রের খবর, দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিন্দুমাত্র শিথিল করার পরিকল্পনা নেই। পশ্চিমবঙ্গে (PM Modi in Bengal) বিজেপির ১০টি সাংগঠনিক বিভাগ রয়েছে। এক একটি বিভাগে সর্বোচ্চ পাঁচটি এবং সর্বনিম্ন তিনটি করে লোকসভা কেন্দ্র রয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক এবং রাজ্য নেতৃত্বের যৌথ সিদ্ধান্ত, ২০২৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই প্রত্যেক বিভাগে প্রধানমন্ত্রী মোদির একটি করে জনসভা হবে। শিলিগুড়ি বিভাগের আলিপুরদুয়ারে, বর্ধমান বিভাগের দুর্গাপুরে এবং কলকাতা বিভাগের দমদমে সেই জনসভা হয়ে গেছে। বাকি এখনও সাতটি বিভাগে সাতটি জনসভা। সেগুলির মধ্যে একটি পুজোর আগেই সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে। বাকি ছ’টি হবে পুজোর পরে। তার জন্য পুজোর পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে দু’বার করে বাংলায় আসতে পারেন মোদি।

    পরবর্তী সভা নদিয়ায়

    সব ঠিক থাকলে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নদিয়ার নবদ্বীপে জোড়া সভা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Bengal)। একটি প্রশাসনিক সভা আর একটি রাজনৈতিক সভা করার কথা তাঁর। বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় নবদ্বীপ বিভাগের অধীনে পাঁচটি লোকসভা কেন্দ্র পড়ে। রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, বহরমপুর, জঙ্গিপুর এবং মুর্শিদাবাদ। তার মধ্যে একমাত্র রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রই বিজেপির দখলে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সেই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই কোথাও আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে স্থান এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

    বাংলায় আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    মোদির ফের বঙ্গে পা রাখার আগে ২ বার বাংলা সফরে আসতে পারেন অমিত শাহ। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর বিজেপির পঞ্চায়েতি রাজ সম্মেলন হওয়ার কথা। সেখানে প্রধান বক্তা অমিত শাহ। তবে জায়গা এখনও ঠিক হয়নি। কারণ, ১১ হাজার দলীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে একসঙ্গে কোথায় জায়গা দেওয়া হবে, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে বঙ্গ বিজেপিতে। পঞ্চায়েতি রাজ সম্মেলনের পর পুজোর আগে আরও একবার বাংলায় আসার কথা শাহর। মহালয়ার পরের দিন, ২২ সেপ্টেম্বরে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজোর উদ্বোধন করার কথা তাঁর। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের পুজো হিসেবে পরিচিত এই দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে আগেও এসেছেন তিনি। ওইদিনই বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সাংস্কৃতিক মঞ্চ আয়োজিত দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে অংশ নেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। দু’বছর পরে ওই পুজোর আবার আয়োজন হচ্ছে ইজেডসিসিতে। ২০২০ সালে ইজেডসিসির এই পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। অবশ্য কলকাতায় এসে নয়। দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। এবার শাহ কলকাতায় এসেই সে পুজোর উদ্বোধন করবেন। রাজ্য বিজেপির সাংস্কৃতিক শাখার প্রধান রুদ্রনীল ঘোষ গোটা আয়োজনের দায়িত্বে।

  • Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’: ‘‘ক্ষমা চান’’, মুখ্যমন্ত্রী মমতার ‘মৃত্যুকুম্ভ’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সাধু-সমাজ

    Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’: ‘‘ক্ষমা চান’’, মুখ্যমন্ত্রী মমতার ‘মৃত্যুকুম্ভ’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সাধু-সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকুম্ভকে ‘‘মৃত্যুকুম্ভে’’র সঙ্গে তুলনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিজেপির পাশাপাশি সাধু সম্প্রদায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে। বিধানসভায় মহাকুম্ভ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সাধু সম্প্রদায় বলেছে যে মমতার বক্তব্য সনাতন ধর্মের অপমান। তাঁর মন্তব্য সনাতন ধর্মের এবং মহাকুম্ভের পবিত্রতার প্রতি অবমাননা। সাধু-সন্তদের মতে, মহাকুম্ভ শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সনাতন সংস্কৃতির আত্মা, যা কোটি কোটি ভক্তের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে।

    মহাকুম্ভের মহিমা দেখেছে বিশ্ব

    শ্রী পঞ্চায়েতি আখড়া মহাননির্বাণীর জাতীয় সম্পাদক মহন্ত যমুনা পুরী বলেছেন যে, দায়িত্বশীল পদে থেকেও এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোভা পায় না। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভ হল অমৃত পর্ব, যার দেবত্ব এবং মহিমা সমগ্র বিশ্ব দেখেছে। মহাকুম্ভের নামের সাথে এই ধরনের অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়।’’ এবং এই মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। পঞ্চ দশনাম আবাহন আখড়ার আচার্য মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী অরুণ গিরি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সনাতনীদের জন্য ‘মৃত্যুর রাজ্য’ হয়ে উঠছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তাঁর উচিত উত্তরপ্রদেশের নয়, নিজের রাজ্যের কথা চিন্তা করা।’ যোগী আদিত্যনাথ মহাকুম্ভের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং তিনি এই মহৎ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন।’’

    সনাতন ধর্মের ওপর আক্রমণ

    নির্মোহী আনি আখাড়ার মহান্ত রাজেন্দ্র দাস মমতার মন্তব্যকে সনাতন ধর্মের ওপর আক্রমণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভ সনাতন ধর্মকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। মমতা এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন না কারণ তিনি সবসময় সনাতন মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্যকে অবমাননা করেছেন।’’ তিনি মন্তব্য করেন। মহামণ্ডলেশ্বর ঈশ্বর দাস মহারাজ মমতার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘এটা তাঁর সনাতন বিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন। তিনি সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং তিনি পশ্চিমবঙ্গকে আরেকটি বাংলাদেশে পরিণত করতে চান।’’

    প্রয়াগরাজে আসুন মমতা

    অযোধ্যা হনুমান গড়ী মন্দিরের মহান্ত রাজু দাস মমতার মন্তব্যকে ‘‘অলভনীয়’’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানান। একইভাবে, স্বামী জিতেন্দ্রনন্দ সরস্বতী এই মন্তব্যের নিন্দা করে বলেন, ‘‘মহাকুম্ভ সনাতন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতীক। সন্ন্যাসী সম্প্রদায় মমতার কথার নিন্দা করেছে।’’ গোবর্ধন মঠ পুরী’র স্বামী অঢোকশজনন্দ দেব তীর্থ মমতাকে প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভে আসার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তিনি এর আধ্যাত্মিক মহিমা উপলব্ধি করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘‘৫০ কোটিরও বেশি সনাতনিরা এই ‘অমৃত কুম্ভ’ থেকে দৈবিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। একে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাজনীতিকদের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।’’

  • Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’: ‘‘মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলছেন’’! ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী, মমতাকে তোপ সুকান্ত-শুভেন্দুর

    Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’: ‘‘মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলছেন’’! ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী, মমতাকে তোপ সুকান্ত-শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভায় মহাকুম্ভকে মৃত্যকুম্ভ বলে বিপাকে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’)। বিজেপি বিধায়কেরা সে সময়ে অধিবেশন কক্ষে ছিলেন না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের খবর ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই আক্রমণ তুঙ্গে তুলেছে বিজেপি। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজমুদার বা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তো বটেই, মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত মালব্যও। একযোগে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধু-সন্তরাও।

    ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী

    শুভেন্দু তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘লজ্জাজনক, নিন্দনীয় এবং অসম্মানজনক! পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন এটা মহাকুম্ভ নয়, মৃত্যুকুম্ভ! যে পবিত্র মহাকুম্ভ ১৪৪ বছর পর হচ্ছে, তার সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও ধারণাই নেই।’ শুভেন্দুর দাবি, ‘‘ মুখ্যমন্ত্রী (Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’) এই মন্তব্য প্রত্যাহার করুন, ক্ষমা চান। মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলতে পারেন না। ৪০ কোটি হিন্দু পুণ্যার্থী এখানে স্নান করেছেন। হিন্দু সমাজ, সন্ত সমাজকে বলছি প্রতিবাদ করুন। এটা হিন্দুদের উপর আঘাত, মহাকুম্ভের উপর আঘাত।’’

    বাংলা থেকে অমৃত-কুম্ভের সন্ধানে

    মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাকুম্ভের প্রসঙ্গ টেনে মৃত্যুকুম্ভ (Mamata’s ‘Mrityu-Kumbh’) বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অধিবেশনে মহাকুম্ভ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মহাকুম্ভের পুণ্যস্নান, এক হয়েছে হিন্দুস্থান। মহাকুম্ভকে কেন্দ্রকে গোটা পৃথিবীর হিন্দুরা অনেকদিন পর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। দলদাস আইপিএসরা ওনাকে যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কয়েক লক্ষ হিন্দু, সেটা ১ কোটির বেশি ২ কোটিও হতে পারে, স্রোতের মতো গিয়েছেন। তৃণমূলের অনেক পরিচিত সাংসদ, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তাঁরাও নিজেদের মহাকুম্ভে ডুব দেওয়ার ছবি দিয়েছেন। বাধ্য হয়েছেন ছাড়তে। তাই মুখ্যমন্ত্রী আজকে ভয় পাচ্ছেন কুম্ভকে দেখে।”

    কুম্ভের অপমান সহ্য করবে না হিন্দুস্থান

    বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “এখনও পর্যন্ত মহাকুম্ভে ৪০ কোটি মানুষ গিয়েছেন। সবাই আশা করছেন, আরও ১০ কোটি মানুষ যাবে। সেখানে আপনি মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেছেন। আপনি বলেছেন কুম্ভমেলা টাকা রোজগারের জন্য করা হয়েছে। এতবড় অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। এই মন্তব্যের খেসারত আপনাকে দিতে হবে। মহাকুম্ভের অপমান হিন্দুস্থান সহ্য করবে না। হিন্দুস্থান আপনাকে গণতান্ত্রিকভাবে সবক শেখাবে। মহাকুম্ভকে অপমান করার জন্য যেখানেই সুযোগ পাবেন, মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ান। প্রয়াগরাজের সব আখড়াকে অনুরোধ করব, এই অপমানের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।”

    প্রতিবাদ মিছিল বিজেপির

    শুভেন্দুর আরও বক্তব্য, ‘তাঁর (মমতার) জানা উচিত যে, এ বার পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী মহাকুম্ভে গিয়েছেন এবং এখনও যাচ্ছেন।’ মমতার শব্দবন্ধ কেন্দ্র করে কর্মসূচিও ঘোষণা করে দিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর ‘মৃত্যুকুম্ভ’ শব্দবন্ধ এবং বিজেপি বিধায়কদের সাসপেনশনের প্রতিবাদে বিজেপি পরিষদীয় দল বৃহস্পতিবার গোটা বিধানসভা জুড়ে মিছিল করবে বলে শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন। বিধানসভা চত্বর থেকে বেরিয়ে সেই মিছিল যাবে রাজভবনে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছে অভিযোগ জানানো হবে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। সে জন্য মঙ্গলবারই রাজ্যপালের কাছ থেকে সময় চাওয়া হয়েছে।

    মহাকুম্ভ পৃথিবীর ঐতিহ্য

    রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) আপাতত সরকারি সফরে আন্দামানে। সেখান থেকেই তিনি বলেছেন, ‘‘মহাকুম্ভ শুধু হিন্দুদের উৎসব নয়, এটা গোটা পৃথিবীর কাছে একটা ঐতিহ্য। কিন্তু শুধু নিজের ভোটব্যাঙ্ককে তোষণ করবেন বলে তিনি মহাকুম্ভ সম্পর্কে এই কথা বললেন।’’ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে সুকান্ত বলেন, ‘‘মহাকুম্ভ ঘুরে আসুন। যেখানে ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি ভক্ত ডুব দিয়েছেন, সেখানকার জন্য কী বিশাল ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে দেখে আসুন।’’ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা বাংলার সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য লিখেছেন, ‘‘মহাকুম্ভকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অযাচিত আক্রমণ হল ২০২৬ সালে তাঁর আশু পরাজয়ের প্রথম লক্ষণ। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে তিনি ঘাবড়ে গিয়েছেন। তিনি চূড়ান্ত পরাজয়ের ভয় পাচ্ছেন।’’

    ভয় পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

    মহাকুম্ভ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণও। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় সমস্যা হল সনাতন ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করা খুবই সহজ। একই স্তরে অন্য কোনও ধর্মের সমালোচনা করতে পারে না। বুঝতে পারে না যে তাঁরা কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করছে।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্বামী জিতেন্দ্রানন্দ সরস্বতী। তিনি বলেন, ‘‘মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কড়া নিন্দা করছি। মমতাদিদি এটা সত্যি যে মহাকুম্ভ নয় আপনার জন্য এটা মৃত্যুকুম্ভের বরাবর। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, পূর্ব ভারত থেকে যেভাবে আসছেন কুম্ভস্নানের জন্য আসছেন। আপনার অস্থির হওয়ার জন্য যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আপনার রাজনৈতিক কেরিয়ারের জন্য মৃত্যুকুম্ভই হতে চলেছে।’’

  • High Court: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস

    High Court: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজভবনকে কেন্দ্র করে একের পর এক আক্রমণ করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্লীলতাহানির অভিযোগ পর্ব থেকে সেই যে বিতর্ক শুরু, তারপর মুখ্যমন্ত্রী টানা আক্রমণ করে গিয়েছে সি ভি আনন্দ বোসকে। যদিও এই পর্বে অনেকটাই রক্ষণাত্মক রাজ্যপাল। কিন্তু এবার বিচার চাইতে হাইকোর্টের (High Court) দ্বারস্থ হলেন সি ভি আনন্দ বোস। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর।

    শপথ ঘিরে জটিলতা (Governer)

    শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয়, রাজ্যের আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে রাজ্যপাল ওই মামলা (High Court) করেছেন বলে জানা গিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী জানিয়েছেন, এখন অবধি মামলা লিস্টেড হয়নি। প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মেয়েরা ওখানে (রাজভবন) যেতে ভয় পাচ্ছে। এই মন্তব্য উল্লেখ করে মামলাটি করেছেন রাজ্যপাল (Governer)। প্রসঙ্গত রাজভবন নাকি বিধানসভায়, শপথ কোথায় হবে এ নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। সদ্য জয়ী তৃণমূলের দুই বিধায়ক চাইছেন বিধানসভায় শপথ করানো হোক। অন্যদিকে রাজভবনে এসে শপথ নেওয়ার সময় দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। বিধায়করা সেখানে না যাওয়ার ফলে দুই বিধায়কের শপথ ঘিরে জটিলতা অব্যাহত। এরই মাঝে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যে শপথ জটিলতার সমাধান না হলে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তিনি আবার বোমা পাঠাবেন। অন্যদিকে বিধানসভার সামনে বরানগর কেন্দ্র থেকে জয়ী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলে দিয়েছেন তখন আর কিছু বলার নেই। ভয় তো লাগতেই পারে।”

    আরও পড়ুন: তৃণমূলের মদতেই সরকারি জমি বিক্রি! শিলিগুড়িতে মিলল বড় চক্রের হদিশ

    অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলে দিয়েছেন, তাই বিধায়কদের ভয় লাগছে। কিন্তু বাকি একজন পুরুষ বিধায়কের কেন শ্লীলতাহানির ভয় নাকি দলের হুইপের ভয় তা জানা যায়নি।  

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া (High Court)

    সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, শুক্রবার মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে (High Court) দায়ের করা হয়। মামলার কপির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য উল্লেখ করা আছে। রাজ্যপালের এই মামলা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “রাজ্যপাল (Governer) সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত অনেক আগে নেওয়া উচিত ছিল। রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্যের মর্যাদা জড়িত আছে। এ বিষয়ে রাজ্যপালের প্রতি আমার সমর্থন রয়েছে।”

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

LinkedIn
Share