Tag: West Bengal Politics

West Bengal Politics

  • PM Modi Brigade Rally: ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা মোদির! কলকাতা ডকেও সংস্কার, রেল-হাইওয়ে উন্নয়নে জোর

    PM Modi Brigade Rally: ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা মোদির! কলকাতা ডকেও সংস্কার, রেল-হাইওয়ে উন্নয়নে জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার মানুষের জন্য উন্নয়নের ডালি নিয়ে কলকাতায় হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। শনিবার ব্রিগেডের সরকারি মঞ্চ থেকে প্রায় ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের (West Bengal Projects) উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতীয় রেলকে আধুনিক করার যে কর্মযজ্ঞ দেশজুড়ে চলছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গ যেন কোনওভাবেই পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য।

    রেল যোগাযোগে বিপুল বিনিয়োগ

    দেশের রেলব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে কাজ করছে কেন্দ্র সরকার এবং সেই উন্নয়নের ধারায় পশ্চিমবঙ্গও যাতে পিছিয়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এদিন ব্রিগেডের প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে রাজ্যের একাধিক পুনর্নির্মিত রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রেল যোগাযোগে গতি আনতে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে বাংলার ৬টি স্টেশন— আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম, সিউড়ি এবং কামাখ্যাগুড়ির আধুনিকীকরণের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Brigade Rally)। পাশাপাশি চালু হলো পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল এক্সপ্রেস।

    সড়ক যোগে সাড়া

    এদিন প্রধানমন্ত্রী ৪২০ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের বেশ কয়েকটি জাতীয় সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যার সম্মিলিত ব্যয় প্রায় ১৬,৯৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পানাগড়-পালসিট (৬৮ কিমি) এবং বারওয়া আড্ডা-পানাগড় (১১৫ কিমি) পর্যন্ত ৬ লেনের রাস্তা। এ ছাড়াও ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ভেদিয়াতে ৪ লেনের আরওবি এবং ইছামতী নদীর ওপর স্বরূপনগর ব্রিজেরও উদ্বোধন করেন তিনি।

    বন্দর ও জলপথের উন্নয়ন

    সড়ক এবং রেল যোগাযোগ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, জলপথের সংস্কারও ততটাই প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সে এ জন্য সংস্কার হচ্ছে। কলকাতা ডকেও সংস্কার হচ্ছে। এর ফলে পূর্ব ভারতের ‘লজিস্টিক সিস্টেম’ আরও উন্নতি হবে। কেবল সড়ক বা রেল নয়, জলপথ পরিবহণেও বিশেষ জোর দিয়েছেন মোদি। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের ৫ নম্বর বার্থের সংস্কার এবং ২ নম্বর বার্থের যান্ত্রিকীকরণের কাজ শুরু হলো, যা পরিবেশ-বান্ধব পণ্য পরিবহণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি খিদিরপুর ডক সংস্কার প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এ ছাড়াও কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর ওপর নতুন ব্রিজ এবং হাওড়া ব্রিজের তট সুরক্ষার মতো প্রকল্পের শিলান্যাস এদিন সম্পন্ন হয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল

    এদিন দুপুরে রেসকোর্সের হেলিপ্যাড থেকে সড়কপথে ব্রিগেডে (Brigade) পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর হাতে গৌর-নিতাইয়ের মূর্তি তুলে দেন। সরকারি অনুষ্ঠান শেষে মোদি একই মাঠের পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন।

  • Modi Brigade Rally: “ইট ছুড়ে আটকে রাখা যাবে না”, ব্রিগেড থেকে তৃণমূলকে নিশানা শমীকের

    Modi Brigade Rally: “ইট ছুড়ে আটকে রাখা যাবে না”, ব্রিগেড থেকে তৃণমূলকে নিশানা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বহুত্ববাদের মাটি। এই মাটিকে কখনও বিভেদের রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। ব্রিগেডের দিন (Modi Brigade Rally) স্পষ্ট ভাষায় একথা জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সভাকে ঘিরে শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ের মধ্যেই অন্য মেজাজে দেখা যায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। স্টেশনের বাইরে কর্মী-সমর্থকদের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী ক্যাম্পে দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই নিজে হাতে কর্মী-সমর্থকদের খাবার পরিবেশন করতে দেখা গেল বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে ব্রিগেডের মঞ্চে শমীক বলেন, ‘‘আমাদের একটাই লক্ষ্য: ২০২৬ সালের নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন। এটা কোনও ধর্মশালা নয়। এদেশের মানুষকেই আমরা এদেশে রাখব, ভোটার তালিকায় রাখব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্যে বিজেপি আসছে। এটা কালের দেওয়াল লিখন। একে কেউ বদলাতে পারবে না।’’ রাষ্ট্রপতিকে অপমান নিয়েও তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন তিনি।

    খাওয়া দাওয়া সেরে ব্রিগেড যাবেন কর্মীরা

    শিয়ালদা স্টেশনের বাইরে বিজেপির তরফে যে ক্যাম্প করা হয়েছে, সেখানে সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দূর জেলা থেকে আসা অনেকেই দীর্ঘ সফর শেষে ওই ক্যাম্পে বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং জলখাবার বা খাবার সেরে ব্রিগেডমুখী হচ্ছেন। সেই ক্যাম্পেই এদিন কর্মীদের মাঝে নেমে পড়েন শমীক ভট্টাচার্য। মোট ১ লক্ষ লোকের রান্না করা হয়েছে। মেনুতে রয়েছে ভাত, সবজি, ডাল। যাঁরা এখানে আসবেন, তাঁদের থাকার জন্যও ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাওয়া দাওয়া সেরে ব্রিগেড যাবেন কর্মীরা। ফেরার পথে এখানে খাওয়া দাওয়া সেরে তারপর ট্রেনে উঠবে। খাবার পরিবেশন প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। ছোটবেলা থেকেই জনসংঘ এবং বিজেপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মানুষকে খাবার পরিবেশন করার অভ্যাস রয়েছে তাঁর। যাঁদের এদিন খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, তাঁদের অনেকের বাড়িতেই তিনি দিনের পর দিন খেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, এটা তাঁর কর্তব্য।

    আমাদের আটকানো যায়নি

    বিজেপির আদর্শের কথা উল্লেখ করে এদিন শমীক ভট্টাচার্য বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আদর্শেই দল এগিয়ে চলছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশভাগের পর শিয়ালদা স্টেশনে উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেই ঐতিহ্য থেকেই বিজেপি বাংলার মানুষের পাশে থাকার দাবি করে বলে জানান তিনি। এদিন রাজনৈতিক আক্রমণও শানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, “খুন করে আমাদের আটকানো যায়নি, ইট ছুড়ে আমাদের আটকে রাখা যাবে না।” পাশাপাশি তিনি বলেন, ৮০-র দশকেও ব্রিগেডে সভা করার চেষ্টা করেছিল বিজেপি, কিন্তু তখন সেই সভা ভরানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে বিজেপি নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আসন্ন নির্বাচন মূলত মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং সেই বার্তাই ব্রিগেডের সভা থেকে স্পষ্ট হবে।

     

  • PM Modi Brigade Rally: ব্রিগেডমুখী বাস লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, আক্রান্ত বিজেপির একাধিক কর্মী-সমর্থক

    PM Modi Brigade Rally: ব্রিগেডমুখী বাস লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, আক্রান্ত বিজেপির একাধিক কর্মী-সমর্থক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডে সভার (PM Modi Brigade Rally) আগে বেলদায় বিজেপি সমর্থকদের বাসে হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা। শনিবার কলকাতায় ব্রিগেডে মেগাসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi)। তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেবেন, সেই নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। কিন্তু ব্রিগেড আসার পথেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। অভিযোগ, তাঁদের বাস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, মারধর করা হয়েছে চালককেও। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই কাজ করেছে, বলে অভিযোগ বিজেপির।

    বেলদায় বাসে ভাঙচুর

    ভোর ৫.৩০ মিনিট নাগাদ আহার মুণ্ডা এলাকার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। বেশ কিছু দুষ্কৃতী বাসটিকে আটকায় এবং চালককে জিজ্ঞাসা করে বাসটি কোথায় যাচ্ছে। তখন তিনি জানান, ব্রিগেডের সভায় যাওয়ার জন্য তাঁরা বাসটিকে নিয়ে এসেছেন। তখনই বাসটিকে অতর্কিতে ঘিরে ধরে বাইক-বাহিনী। চারদিকে এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ করে ভাঙচুর চালানো হয়। সেই সময় চালক ও খালাসির হাতে লেগেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ভাঙচুর চালিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, যেহেতু ব্রিগেডে সভা রয়েছে, সেই কারণেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাসটিতে হামলা চালিয়েছে।

    বাস থেকে খুলে নেওয়া হল দলীয় পতাকা

    অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশওয়াড়ি থেকে ব্রিগেডের দিকে আসা বাসেও আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, হামলা চালানোর পাশাপাশি চালককে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমনকি দলীয় পতাকাও খুলে ফেলতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের কয়েকজন চোট পেয়েছেন এই ঘটনায়। অভিযোগের তীর শাসক দল তৃণমূলের দিকেই। আজ, শনিবার, শহরে কার্যত বিজেপির মহাযজ্ঞ। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করবেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi Rally At Brigade)। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে এটাই বিজেপির শেষ সভা হতে চলেছে। তাই প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখছে না বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। এদিকে, মোদির সফরের আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার কলকাতার নানা প্রান্তে দেখা গেল ‘গো ব্যাক মোদি’ লেখা হোর্ডিং। শহরের অন্যতম ব্যস্ত উড়ালপুল মা ফ্লাইওভার-সহ আশপাশের এলাকায় টাঙানো এই পোস্টার দ্রুতই পথচলতি মানুষ এবং যাত্রীদের নজর কেড়ে নেয়। শহরের একাধিক জায়গায় টাঙানো ওই হোর্ডিংয়ে ‘বয়কট বিজেপি’ স্লোগানও চোখে পড়েছে। তবে কে বা কারা এই হোর্ডিং লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নাম সেখানে উল্লেখ নেই। ফলে বিষয়টি ঘিরে চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

  • PM Modi Brigade Rally: ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস! পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি

    PM Modi Brigade Rally: ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস! পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ বছর পর ফের ব্রিগেডে সভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Modi Brigade 2026)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম কলকাতার ঐতিহাসিক ময়দানে ভাষণ দিতে চলেছেন তিনি। শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে অসম থেকে সরাসরি কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সাজসাজ রব গেরুয়া শিবিরে। শেষ পর্বের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। এবারে ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন। প্রশাসনিক কর্মসূচির পর তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বার্তা দেবেন।

    বাঙালি অস্মিতায় জোর

    আজকের সমাবেশে বাঙালি অস্মিতায় জোর দিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ (PM Modi Brigade Rally) সেজে উঠছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে। ৮০ ফুট চওড়া মূল মঞ্চে থাকছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের ছবি। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ দক্ষিণেশ্বরের থিম হওয়ায় এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও চলছে জোরকদমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তকমার পাল্টা জবাব দিতেই ব্রিগেডের মঞ্চে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বাঙালিয়ানা’কে। মঞ্চের পটভূমিতে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রতিকৃতি থেকে শুরু করে বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা শিল্প, দার্জিলিঙের চাবাগান, পটের কাজ, এবং বাউল-কীর্তনের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, বাঙালি সংস্কৃতির মিশেল মুগ্ধ করবে বাংলার মা-মাটি-মানুষকে।

    উন্নয়ন ও রাজনীতির যুগলবন্দি

    শুধু রাজনৈতিক জনসভা অবশ্য নয়, এ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর শেষ ছ’টি কর্মসূচির মতো এটির ক্ষেত্রেও প্রথমে প্রশাসনিক সভা, তার পরে জনসভা হবে। প্রশাসনিক সভাস্থল থাকছে মূল সভামঞ্চের একটু পিছন দিকে মাঠের এক পাশ ঘেঁষে। তার দায়িত্বে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, যে সব বিভাগের নানা প্রকল্পের শিলান্যাস বা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী শনিবার ব্রিগেডে দাঁড়িয়েই করবেন। এবারের ব্রিগেড সমাবেশ কেবল রাজনৈতিক ভাষণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একই রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দুটি বিষয়ের ওপর— প্রথমত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সরকারকে প্রধানমন্ত্রী কোন পথে আক্রমণ শানান এবং দ্বিতীয়ত, অমিত শাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতির পর প্রধানমন্ত্রী নিজে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন কোনও বড় ঘোষণা করেন কি না।

    সংঘাত ও রাজনৈতিক তর্জা

    প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলায় জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থেকে ব্রিগেডমুখী বাসে হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি বিজেপি কর্মীদের। এদিকে কলকাতা জুড়ে তৃণমূলের ‘বয়কট বিজেপি’ পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “তৃণমূল আসলে ভয় পেয়েছে। এই পোস্টারই ওদের আতঙ্কের প্রমাণ।” যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ১৪ মার্চ দিনটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে জমি আন্দোলনের ভূমি নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত দিনেই প্রধানমন্ত্রীর এই ব্রিগেড সভা বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় ঘোরায় কি না, সেটাই এখন দেখার।

    বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনসমাগম

    মোদীর সভার জন্য শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনসমাগম হবে ব্রিগেডে। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসবে মিছিল। বিজেপি সূত্রে খবর, হাওড়া, শিয়ালদার মতো স্টেশনগুলি থেকে মিছিল হওয়ার কথা। এ ছাড়াও, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্রিগেডমুখী মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সব মিছিল, জমায়েতের কারণে নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না-হয়, সে দিকে কড়া নজর থাকবে পুলিশের। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি ৫০টি পিকেট থাকবে। চেকিং হবে বিভিন্ন জায়গায়। পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা থাকবে মঞ্চ এবং সংলগ্ন এলাকায়।

    বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    শনিবার অসম থেকে মোদির বিমান নামবে কলকাতা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে চেপে তিনি আসবেন রেসকোর্সের মাঠে। সেখান থেকে গাড়ি করে তিনি পৌঁছোবেন সোজা ব্রিগেডের সভাস্থলে। ফলে ওই এলাকায় উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুলিশ। সূত্রের খবর, শনিবার মোদির সফরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কলকাতা পুলিশের তিন হাজার বাহিনী। পুরো এলাকা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে বলে খবর কলকাতা পুলিশ সূত্রে। জানা গিয়েছে, এই প্রতিটি সেক্টর বা ভাগের দায়িত্বে থাকবেন এক জন করে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার আধিকারিক। আবার এমন চার-পাঁচটা সেক্টর মিলিয়ে একটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক।

    শহরের রাস্তায় নিয়ন্ত্রিত যান-চলাচল

    শনিবার ভোটমুখী বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই কলকাতার বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে কলকাতা পুলিশ। সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে আজ রাস্তায় থাকলে, কোন কোন রোড এড়িয়ে চলতে হবে, বুঝে নিন। ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কলকাতা কলকাতা পুলিশ এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক বা লরি, গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। তবে ছাড় রয়েছে এলপিজি সিলিন্ডার, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল/লুব্রিকেন্ট, অক্সিজেন, শাকসবজি, ওষুধ, ফলমূল, মাছ এবং দুধের গাড়ির ক্ষেত্রে। শনিবার ময়দান সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় পার্কিং-ও নিষিদ্ধ করেছে কলকাতা পুলিশ। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের আশেপাশে, এজেসি বোস রোড (মাঝখানে হেস্টিংস ক্রসিং এবং ক্যাথেড্রাল রোড), খিদিরপুর রোড, হাসপাতাল রোড, কুইন্সওয়ে, ক্যাথেড্রাল রোড, ক্যাসুয়ারিনা অ্যাভিনিউ ও লাভার্স লেনে পার্কিং নিষিদ্ধ। উল্লেখ্য, জনসভায় আসা গাড়ির জন্য ময়দানের আশপাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কলকাতা পুলিশ, রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা অধিকরণ এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। পুলিশের অনুমান, শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই সভায় যোগ দিতে আসবেন। শিয়ালদা এবং হাওড়া থেকে অনেকেই পায়ে হেঁটে সভাস্থলের দিকে যেতে পারেন। ফলে ট্র্যাফিকে বিঘ্ন হতে পারে। এছাড়াও, কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এদিন প্রয়োজনে যানবাহন অন্যান্য রাস্তায় ডাইভার্ট করা হতে পারে।

    কোথায়-কখন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী মোদির মেগা সফর ঘিরে উৎসাহ বিজেপির। দুপুর ১টা ৪৫-এ কপ্টারে রেসকোর্সের হেলিপ্যাডে পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বেলা ১টা ৫৫-এ গাড়িতে ব্রিগেডে যাবেন মোদি। দুপুর ২টো-২টো ৩০ বিভিন্ন প্রকল্পর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, দুপুর ৩টে ৩৫- এ ব্রিগেডের সভাস্থল ছাড়বেন মোদি।

  • BJP Parivartan Yatra: বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট, মানতে হবে কিছু শর্তও

    BJP Parivartan Yatra: বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট, মানতে হবে কিছু শর্তও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অগত্যা সেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েই রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি আদায় করতে হল বিজেপিকে। গেরুয়া শিবিরের ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে, সঙ্গে কয়েকটি শর্ত চাপিয়েছে হাইকোর্ট।

    রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। এই আবহে রাজ্যে পরিবর্তন যাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। সেই মতো, পুলিশের কাছে পরিবর্তন যাত্রার অনুমতি চেয়ে বিজেপি ২২ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু তার কোনও জবাব পুলিশ দেয়নি। পুলিশের কাছ থেকে জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে মামলা করে গেরুয়া শিবির। ফলে বাধ্য হয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বঙ্গ বিজেপিকে। শুক্রবার সেই আদালত থেকেই মিলল অনুমতি। বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে, সঙ্গে কয়েকটি শর্ত চাপিয়েছে হাইকোর্ট।

    কী বলল আদালত?

    শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কর্মসূচি পালন করা গেলেও মানতে হবে একগুচ্ছ নিয়ম। বিশেষ করে জনসমাগম এবং সময়ের ওপর আদালত কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এদিন শুনানিতে বিজেপির তরফে কোন জেলায় কোন জায়গায় কবে এই যাত্রা বা মিছিল হবে, তার তালিকা দেওয়া হয় হাইকোর্টকে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত এই পরিবর্তন যাত্রা করা যাবে। তবে মিছিলে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। একইসঙ্গে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে আদালত। প্রতিদিন বেলা ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্তই এই মিছিল করার অনুমতি মিলবে। পাশাপাশি, কর্মসূচিপথে যাতে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে।

    বিজেপির কর্মসূচি ও অমিত শাহের সফরে রদবদল

    আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বিজেপি (BJP) তাদের কর্মসূচিতে কিছুটা রদবদল ঘটিয়েছে। দোল উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ যাত্রা বন্ধ থাকবে। তাই ১ ও ২ মার্চেই অধিকাংশ বিভাগের উদ্বোধন সেরে ফেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আগামী ১ মার্চ কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি ও গড়বেতা থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ আরও কয়েকটি জায়গায় কর্মসূচি রয়েছে। সেগুলি হল ইসলামপুর, হাসন, সন্দেশখালি এবং আমতা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে যাত্রার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ১ মার্চেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাতে বদল হয়েছে। শাহের সফর এক দিন পিছিয়ে গিয়েছে। বিজেপি জানাচ্ছে, শাহ ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধন করতে পারেন।

    লক্ষ্য ১৪ মার্চের ব্রিগেড, থাকবেন মোদি!

    বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মধ্যে ৯টিতেই এই পরিবর্তন যাত্রা হবে। একমাত্র কলকাতা মহানগর বিভাগে কোনও যাত্রা হবে না, কারণ এই বিভাগের ওপর দায়িত্ব রয়েছে ১৪ মার্চের মেগা ব্রিগেড সমাবেশ সফল করার। সেখানেই উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘যোগদান মেলা’র মতো বড় কোনও কর্মসূচি না থাকলেও, এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমেই জনমত নিজেদের দিকে টানতে চাইছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল।

    পাখির চোখ নির্বাচন

    বিধানসভা নির্বাচনে এবার রাজ্যে পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে রাজ্যজুড়ে পরিবর্তন যাত্রাকে প্রচারের হাতিয়ার করতে সচেষ্ট হয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এই পরিবর্তন যাত্রায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা আসবেন। আগামীদিনে এই যাত্রার হাত ধরেই রাজ্যে একাধিক কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীর আনাগোনা বাড়বে।

  • Mukul Roy Demise: প্রয়াত মুকুল রায়, কেন তাঁকে বলা হত ‘বাংলার রাজনীতির চাণক্য’?

    Mukul Roy Demise: প্রয়াত মুকুল রায়, কেন তাঁকে বলা হত ‘বাংলার রাজনীতির চাণক্য’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের মৃত্যুতে এক দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল। রবিবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭১ বছর বয়সে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়ান কেবল একজন নেতার মৃত্যু নয়, বরং এমন এক রাজনৈতিক কৌশলবিদের অবসান, যিনি তিন দশক ধরে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছিলেন। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী থেকে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ কৌশলবিদ হয়ে ওঠেন এবং পরে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন মুকুল রায়।

    সংগঠক থেকে ক্ষমতার কুশীলব

    মুকুল রায়ের রাজনৈতিক উত্থান ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক বিস্তারের সঙ্গে। ১৯৯৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম হয়ে তিনি জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন এবং বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত করেন। তাঁর কৌশলগত দক্ষতার জন্যই তিনি “বাংলার রাজনীতির চাণক্য” নামে পরিচিত হন। জেলা স্তরে দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। দলবদল করানো, জোট গঠন এবং ভোটের অঙ্ক কষায় তাঁর পারদর্শিতা ছিল অসাধারণ। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনিক পর্ব

    দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি তাঁকে রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরে পরিচিতি দেয়। প্রথমে জাহাজ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে ২০১২ সালে রেলমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই সময় থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাঙনের ভিত্তি তৈরি করে।

    বিজেপিতে যোগ ও বিরোধী শক্তির উত্থান

    ২০১৭ সালে তাঁর বিজেপিতে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে বড় মোড় আনে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। তিনি বিজেপির অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হয়ে ওঠেন। রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করেন। তাঁর সংগঠন গড়ার অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান বিজেপিকে দ্রুত শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এর ফল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্পষ্ট হয়, যখন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করে এবং তৃণমূলের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। এই সাফল্যের নেপথ্যে মুকুল রায়ের কৌশলগত ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রভাব হ্রাস ও তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপিতে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমতে থাকে। সেবারের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণনগর থেকে জয়ী হন মুকুল। তবে, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে বিরোধী দলনেতা হওয়ার এক মাসের মধ্যেই মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা আদর্শের চেয়ে প্রভাব ও অবস্থানের উপর বেশি নির্ভরশীল ছিল।

    অবসর ও অসুস্থতা

    শেষ কয়েক বছরে গুরুতর অসুস্থতা ও ডিমেনশিয়ার কারণে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে সরে যান। বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও শারীরিক অবনতিই তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়কে চিহ্নিত করে। মুকুল রায়কে মনে রাখা হবে একজন দক্ষ রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে, যিনি তৃণমূলের উত্থান, বিজেপির বিস্তার এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্র—এই তিন পর্বেরই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও নির্মাতা ছিলেন।

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জন্য গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবী মারফত একটি মানহানির নোটিস পাঠান তিনি। কিসের ভিত্তিতে মমতা ওই মন্তব্য করেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রামাণ্য নথি চেয়েছিলেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার দেওয়া ওই সময়সীমা ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে। কিন্তু সেই চিঠির উত্তর মেলেনি। এবার তাই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেন শুভেন্দু।

    ‘আদালতে দেখা হবে

    সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু (Suvendu Attacks Mamata) লেখেন, “তাঁকে (মুখ্যমন্ত্রীকে) দেওয়া সময়সীমা এখন অতিক্রম হয়ে গিয়েছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে আমার নাম কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে তাঁর কল্পিত অভিযোগগুলির কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই ওনার কাছে, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তাই বিপাকে পড়ে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।” বিরোধী দলনেতার দাবি, কী জবাব দেবেন, তা হয়তো মুখ্যমন্ত্রী বুঝে উঠতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি আরও লেখেন, “এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সাথে আদালতে দেখা হবে।”

    কেন শুভেন্দুর আইনি চিঠি

    অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata) জড়িয়ে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই এই আইনি চিঠি নন্দীগ্রামের বিধায়কের। চিঠিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আই প্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে বাংলা তথা গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির মাঝে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রীকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধে দাবি করেছিলেন, ইডি-র মাধ্যমে তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এই তল্লাশি চলছিল। গোটা দেশের ১০ জায়গায় তল্লাশি চলছিল। তার মধ্যে ৬টি বাংলায় ও চারটি দিল্লিতে। ইডির বক্তব্য, এই তদন্তে হাওয়ালা-যোগও উঠে আসে। আর এখানেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির দাবি, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড, অর্থাৎ আইপ্যাকের মাধ্যস্থতার হাওয়ালায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বয়ানে এই প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে। সেই কারণেই তল্লাশি।

  • JP Nadda in Bengal: ‘‘রাজনৈতিক নয়, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলায় বিজেপিকে জিততে হবে’’, বঙ্গ ব্রিগেডকে বার্তা নাড্ডার

    JP Nadda in Bengal: ‘‘রাজনৈতিক নয়, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলায় বিজেপিকে জিততে হবে’’, বঙ্গ ব্রিগেডকে বার্তা নাড্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক কারণে নয়, জিততে হবে জাতীয় স্বার্থে। রাজ্য বিজেপিকে বৃহস্পতিবার এমনই বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (JP Nadda in Bengal)। দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের প্রথম দিনে একগুচ্ছ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। জেলা সভাপতি, বিভাগ (কয়েকটি জেলার সমষ্টি) আহ্বায়ক এবং ভিন্‌রাজ্য থেকে আসা বিজেপি নেতাদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে নাড্ডা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন নাড্ডা। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যেও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে।

    ‘রাজনৈতিক’ নয়, জিততে হবে ‘জাতীয় স্বার্থে’

    বিজেপি সূত্রের খবর, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে এ বার বিজেপি-কে জিততেই হবে বলে জানান দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। এ বারের নির্বাচন শুধু ‘রাজনৈতিক লড়াই’ নয়, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই। তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এত দিন শুধু ‘হবে না, হবে না, হবে না’ চলেছে। এ বার থেকে ‘হবে, হবে, হবে’।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হবে না’ সংস্কৃতির অবসান ঘটবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। আর বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছাড়া অন্য কোনও কিছু না-ভেবে কাজ করার পরামর্শ দেন। বিধাননগর সেক্টর ফাইভে নাড্ডার বৈঠকে বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, পাঁচ সাধারণ সম্পাদক, দুই সংগঠন সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে জেলা সভাপতি এবং বিভাগ আহ্বায়কদের পরামর্শ দেন নাড্ডা। বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের মোট ৪৩ জন মন্ত্রীকে এ রাজ্যে বিজেপির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার ভোট ব্যবস্থাপনা সামলানোর দায়িত্ব দেন নাড্ডা। সে সবের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ‘গুরুত্ব’ বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

    বৃহত্তর জনবিন্যাস সংক্রান্ত সঙ্কট

    এক বৃহত্তর জনবিন্যাস সংক্রান্ত সঙ্কটের হাত থেকে ভারতকে রক্ষার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের কথা বলেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। তিনি বলেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ আমাদের কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই নয়। পশ্চিমবঙ্গ আমাদের কাছে সভ্যতা রক্ষার লড়াই। ভারতকে রক্ষা করতে হলে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে জিততেই হবে।’’ একই অভিমত ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর-ও। পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে এবং গোটা দেশের স্বার্থে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় জরুরি বলে শাহ মন্তব্য করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যত দিন থাকবে, তত দিন পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা যাবে না বলে তোপ দেগেছিলেন শাহ। এই মুহূর্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হিসাবে ব্যাখ্যা করে শাহ বলেছিলেন যে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অনুপ্রবেশ রোখা দরকার। এবং তা রোখা যাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার তৈরি হলে।

    রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

    সাংগঠনিক বৈঠক সেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাড্ডা (JP Nadda in Bengal) যোগ দেন চিকিৎসকদের একটি অনুষ্ঠানে। ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি প্রেক্ষাগৃহে বিজেপি-পন্থী চিকিৎসকেরা সে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন,‘‘আমি এখানে রাজনীতি করতে চাই না, কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’’ রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি আটকে রেখেছে। এমনকী আয়ুষ্মান কার্ড ছিঁড়ে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর। নাড্ডার কথায়,‘‘আমি মমতাজিকে বলেছিলাম, তাঁদের দোষ কী? তাঁরা গরিব মানুষ এবং এটি একটি বহনযোগ্য ব্যবস্থা। যদি পশ্চিমবঙ্গের কোনও শ্রমিক হিমাচল প্রদেশে অসুস্থ হন, তাহলে তিনি সেখানেই চিকিৎসা পাবেন এবং টাকা বাংলা থেকে সেই প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হবে।’’ প্রকল্পের সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে নাড্ডা জানান, ‘‘গত বছর মোদিজি ঘোষণা করেছিলেন যে, ৭০ বছরের বেশি বয়সি সমস্ত ব্যক্তি, তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থা, ধর্ম বা লিঙ্গ নির্বিশেষে, আজীবন প্রতি বছর ৫ লাখ টাকার স্বাস্থ্য বিমা-সহ এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। কিন্তু বাংলার মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্নছে।’’এরপরই নাড্ডা বলেন, ‘‘আমি আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।’’ উদাহরণ হিসেবে তিনি ওডিশা এবং দিল্লির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রথমে আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে বিরোধিতা থাকলেও, পরে তা বাস্তবায়িত হয়। নাড্ডা দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘‘বাংলায় এটি শুধু আশার আলো নয়, আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে এখানে পদ্ম ফুল ফুটবে এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।’’

    রাজ্যে মাতৃমৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বিগ্ন

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda in Bengal) রাজ্যের মাতৃমৃত্যু হারের (MMR) পরিসংখ্যান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি বাংলার মাতৃমৃত্যু হার (এমএমআর) নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা ১০৪। এটি জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি।” নাড্ডা আরও জানান, ২০১০-১১ সাল থেকে এটি মাত্র ১১ শতাংশ কমেছে, যেখানে জাতীয়ভাবে এই হার ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তিনি যোগ করেন, “এটি অনেক কিছু বলে দেয়। যদি মায়েদের স্বাস্থ্যের উন্নতি না হয়, তবে এটি প্রমাণ করে যে পরিবার কল্যাণের জন্য যে সমস্ত কর্মসূচি রয়েছে, তা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।’’ আজ, ৯ জানুয়ারি চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট কলকাতায় যাবেন। সেইসঙ্গে এইমস কল্যাণীর রেডিয়েশন অঙ্কোলজি, ট্রমা, এমার্জেন্সি মেডিসিন এবং নিউমেটিক টিউব সিস্টেম উদ্বোধন করবেন নাড্ডা।

  • West Bengal Youth Voters: এক দশক ধরে নিম্নমুখী রাজ্যে ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির গ্রাফ, নেপথ্যে কী কারণ?

    West Bengal Youth Voters: এক দশক ধরে নিম্নমুখী রাজ্যে ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির গ্রাফ, নেপথ্যে কী কারণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটার (West Bengal Youth Voters) সংখ্যা কি কমছে? গত ১০ বছরের নির্বাচনী পরিসংখ্যানে সেই তথ্যই স্পষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয় নির্বাচনী তথ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও দিনকে দিন গতিহীন হয়ে পড়ছে। গত প্রায় দেড় দশক ধরে জনগণনার কাজ স্তব্ধ হয়ে থাকলেও নির্বাচনী পরিসংখ্যান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তথা নতুন প্রজন্মের ভোটার কমে যাওয়ার চিত্রটি স্পষ্ট করেছে। যদিও, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির আশা জাগালেও নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির (Youth Voter Enrolment) ক্ষেত্রে বড় কিছু পরিবর্তন আনতে পারবে বলে নিশ্চিত হতে পারছেন না নির্বাচনী কর্তারাই।

    আশনুরূপ নয় ফর্ম ৬ আবেদনের সংখ্যা

    চলতি এসআইআর পর্বে রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকায় ৫৮ লক্ষের কিছু বেশি মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, অস্তিত্বহীন এবং ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম বাদ গেলেও নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ আবেদনপত্রের সংখ্যা আশনুরূপ হয়নি এখনও। সিইও দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে প্রায় ২ লক্ষ এবং তালিকা প্রকাশের পর ( ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত) প্রায় ৩ লক্ষ ‘ফর্ম ৬’ এখনও পর্যন্ত কমিশনে জমা পড়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নতুনভাবে নাম অন্তর্ভুক্তি অথবা নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা যাবে। যার ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এমতাবস্থায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ২০২৪ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা করা আবেদনপত্র ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৮ থেকে বেশি হবে কিনা বা কতটা বেশি হবে তা নিয়ে সন্দিহান পদস্থ নির্বাচনী আধিকারিকরাই।

    বস্তুত, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী ফর্ম ৬ আবেদনপত্র পূরণের ক্ষেত্রে সংখ্যা ক্রমশ নিম্নমুখী। নির্বাচনী বছরগুলিতে এই সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পরবর্তী বছরে তার গ্রাফ নিম্নমুখী। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে নতুন প্রজন্মের ভোটার অর্থাৎ যারা নতুনভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন জানান তাদের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এখনো পর্যন্ত সেই ট্রাডিশনে বজায় রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের বছরে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৯৬ লক্ষ ৮১ হাজার যার মধ্যে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার এবং নাম বাদ গিয়েছে ৪ লক্ষ ৪১ হাজার।

    পরবর্তী বছর ২০১৫ সালে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা বাড়লেও নতুন ভোটার হিসেবে ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন ২১ লক্ষ ৫৩ হাজার। অর্থাৎ, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এক ধাক্কায় এক বছরে প্রায় ১১ লক্ষ নতুন প্রজন্মের ভোটার সংখ্যা কমে যায়। ২০১৬ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের বছরে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ৯৫ হাজার। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ক্ষেত্রে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার। অর্থাৎ নির্বাচনী বছরে নতুন প্রজন্মের ভোটার সংখ্যা তার পূর্ববর্তী বছর এর তুলনায় প্রায় ৫ লক্ষ বেড়ে যায়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের বছরেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ওই নির্বাচনী বছরে ভোটার তালিকা ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের নতুন প্রজন্মের ভোটার তালিকা বৃদ্ধির থেকে ২০১৯-এর নির্বাচনী বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক।

    নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা নিম্নমুখী

    একুশের বিধানসভা নির্বাচনী বছরে খসড়া ভোটার তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৮ লক্ষ ৪৯ হাজার যেখানে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ২০ লক্ষ ৪৫ হাজার। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ভোটার তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭ কোটি ৩২ লক্ষ এবং ৭ কোটি ৪২ লক্ষ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনী বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৫৩ লক্ষ ৮৬ হাজার। পাশাপাশি, ২০২২ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ১৬ লক্ষ ১৩ হাজার হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ লক্ষ ৮৩ হাজারে। যদিও ২০২৪ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার।

    অর্থাৎ, সার্বিকভাবে নির্বাচনী তথ্যের বিচারে গত দশ বছরে রাজ্যে ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা নিম্নমুখী হয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এই অধোগতির চিত্র সর্বাধিক। ২০১৪ সাল থেকে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা বাড়লেও নতুন প্রজন্মের ভোটারের সংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে। ২০১৪ সালে যে সংখ্যা ছিল ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার ২০২৪ সালে নতুন প্রজন্মের সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লক্ষ ৩০ হাজারে।

    জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অধোগতির হার স্পষ্ট

    স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার বিন্যাসে নতুন প্রজন্মের ভোটারের সংখ্যা যেমন কমছে তেমনি সার্বিকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধোগতির হার স্পষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে এই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনীতি সচেতন রাজ্যে ভোট রাজনীতির পাকচক্র থেকে নতুন প্রজন্ম কি দূরে সরছে? নাকি সার্বিকভাবে রাজ্যের জনসংখ্যা কমছে? উল্লেখযোগ্য, ২০১১ সালের পর দেশে জনগণনা না হওয়ায় জনসংখ্যার তারতম্য বা হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারিভাবে কোন তথ্য বা যুক্তি না দেখানো গেলেও ভোটার তালিকার এই সংখ্যা তত্ত্ব কিন্তু রাজ্যের জনসংখ্যার তারতম্যের বিষয়টি যে স্পষ্ট করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    এসআইআর-এর সৌজন্যে রাজ্যের শাসকদল তথা মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ ভোটারদের কাছে বারংবার আবেদন জানিয়েছেন যে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলেই সবাই অবশ্যই ফর্ম ৬ পূরণ করবেন। প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক পক্ষের এই আবেদন সমস্ত যোগ্য ভোটারের ভোটাধিকার রক্ষায় কমিশনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হলেও নির্বাচনী তথ্য অন্য ছবি তুলে ধরেছে। নির্বাচনী শুনানিতে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা যদি ফের সং হয় পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান সেক্ষেত্রে কমিশনের বিশেষ সফটওয়্যার সেই আশায় জল ঢালবে বলে জানিয়েছেন পদস্থ কর্তারা। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যদি কোন যোগ্য ভোটার নতুন ভাবে নাম তুলতে চান অথবা বিদেশে বা ভিন রাজ্যে থাকার জন্য শুনানিতে হাজির হতে পারেননি এ ধরনের যোগ্য ভোটাররা নাম তোলার জন্য ফর্ম ছয় জমা দেন সে ক্ষেত্রে তা বিচার্য হলেও সেই সংখ্যাটা নগণ্যই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে ফর্ম ৬ আবেদনপত্র জমার গ্রাফ নিম্নমুখী হওয়ায় রাজ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটার তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে সংখ্যা তৈরি হয়েছে।

  • Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’ সাফ জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের (CEO) বিরুদ্ধে পুলিশে দায়ের করা অভিযোগগুলির তীব্র নিন্দাও করেছে কমিশন (Intimidatory Tactics)। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই ধরনের পুলিশি অভিযোগ প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনও রকম ভয় বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।

    কমিশনের সাফ কথা (Intimidatory Tactics)

    কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, এবং সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যে কোনও প্রচেষ্টার মোকাবিলা করা হবে কঠোরভাবে।নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই ধরনের ভীতি প্রদর্শনের কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই এবং সংবিধান অনুযায়ী কমিশন তার দায়িত্ব পালন করে যাবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন (Intimidatory Tactics) কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুলিশি অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কমিশনের মতে, এই অভিযোগগুলি ‘পরিকল্পিত, ভিত্তিহীন এবং ভীতিপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা’।

    অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একাধিক সরকারি পোস্টে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা এমন সংবাদ প্রতিবেদন লক্ষ্য করেছে যেখানে বলা হয়েছে (Election Commission), ২০২৬ সালের জন্য যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাকে কেন্দ্র করে দুই শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযোগ (Intimidatory Tactics) দায়ের হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ২০২৬ সালের এসআইআর সংক্রান্ত আইনগত দায়িত্ব পালনকারী আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে দমন করার এক স্থূল প্রচেষ্টা।” কমিশনের সাফ কথা, “নির্বাচনী যন্ত্রকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা এবং সংবিধানস্বীকৃত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিপথে চালিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই (Election Commission) ধরনের ভীতিপ্রদর্শনমূলক কৌশল নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হতে বাধ্য (Intimidatory Tactics)।”

    নিরপেক্ষতা রক্ষার অঙ্গীকার

    কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনী আধিকারিকরা সংবিধান অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে যে এসআইআর প্রক্রিয়াটি চলছে, তা সম্পূর্ণভাবে আইন ও প্রতিষ্ঠিত বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের ইঙ্গিত, তারা এই অভিযোগগুলিকে বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে দেখছে না, বরং এগুলিকে একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। কোন পরিস্থিতিতে এই অভিযোগগুলি দায়ের করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের কড়া বার্তা, “এই ধারাবাহিক ও মনগড়া অভিযোগগুলির নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে চেষ্টার কসুর করা হবে না। শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে আইনের শাসন এবং সত্যই (Intimidatory Tactics)।” নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় তাদের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়ে দিয়েছে আরও একবার (Election Commission)।

    জনস্বার্থেই কাজ

    রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের দৃঢ় সংকল্পের কথা তুলে ধরে কমিশন জানিয়েছে, বাহ্যিক চাপ বা ভয়ভীতির মুখেও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থা দৃঢ়তা ও নৈতিকতার সঙ্গে, সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে কাজ করে যাবে। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রবীণ ভোটারের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ওই দুই প্রবীণ ভোটার শুনানির নোটিশ পাওয়ার পরের মারা যান। এই নোটিশগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর নিয়ে বিতর্ক

    পুরুলিয়া জেলার বছর বিরাশির দুর্জন মাঝির ছেলের অভিযোগ, তাঁর বাবার নাম ২০০২ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের সময় প্রস্তুত করা কাগজে থাকা ভোটার তালিকায় থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা সংশ্লিষ্ট তালিকায় সেই নাম নেই। অভিযোগ, এই অসঙ্গতির কারণেই ওই প্রবীণ ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয় (Election Commission)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত শুনানির সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই প্রবীণ ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। অভিযোগকারীরা এই ঘটনার জন্য সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-কে দায়ী করেছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগ

    ভোটার তালিকার ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ২৭ ডিসেম্বর জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করেছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের এসআইআরের ভোটার তালিকায় প্রায় ১.৩ লাখ ভোটারের নাম রয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাঁদের নাম অনলাইন ডেটাবেসে প্রতিফলিত হয়নি, তাঁদের কোনও শুনানিতে হাজির হতে হবে না (Election Commission)। নির্বাচন কমিশনের মতে, পুরানো ভোটার তালিকার ডিজিটাল রূপান্তরের সময় সৃষ্ট প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে যাতে কোনও ভোটার হয়রানি বা অযথা অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য

    কমিশনের আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বাড়ানো, যার মধ্যে রয়েছে দ্বৈত নাম বাদ দেওয়া, ভুল সংশোধন করা এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকাভুক্ত করা। প্রকৃত বা বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়া বা ভয় দেখানো এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য নয়। উল্লেখ্য, এসআইআর একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত রাজ্যগুলিতে, যেখানে নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়মিত কড়া নজরদারির মধ্যে থাকে (Election Commission)।

    নির্বাচন কমিশন একাধিকবার জানিয়েছে যে, এসআইআর ২০২৬ সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এবং আইনি বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এই প্রক্রিয়ায় একাধিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও দাবি কমিশনের (Intimidatory Tactics)।

LinkedIn
Share