Author: ishika-banerjee

  • Nana Patekar Dies: প্রয়াত নানা পটেকর, গোয়ার বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার বর্ষীয়ান অভিনেতা

    Nana Patekar Dies: প্রয়াত নানা পটেকর, গোয়ার বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার বর্ষীয়ান অভিনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত হলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর (Nana Patekar Dies)। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ৭৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, গোয়ার ফ্ল্যাটে তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করার পর তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সং‌বাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, তার আগে ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন সেখানকার চিকিৎসকেরা। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অভিনেতার ছেলে মালহার পাটেকর জানান, বুকে ব্যথা অনুভব করার পরেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নানা। তার পরেই চিকিৎসকদের একটি দল অভিনেতার গোয়ার বাড়িতে যায়। সেখানে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে। ইতিমধ্যেই তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে

    দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক স্মরণীয় চরিত্র

    নানার আসল নাম বিশ্বনাথ পটেকর। তবে অভিনয়জীবনে নানা নামেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। মূলত হিন্দি এবং মরাঠি সিনেমায় চুটিয়ে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন তামিল সিনেমাতেও। মুম্বইয়ের স্যার জে জে স্কুল অব আর্ট থেকে পড়াশোনা করার পর থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন নানা পাটেকর। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় তাঁর অভিষেক। এরপর ‘আজ কি আওয়াজ’, ‘প্রতিঘাত’, ‘মোহরে’ এবং ‘ত্রিশাগ্নি’-র মতো ছবিতে অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ১৯৮৬ সালের ‘অঙ্কুশ’ তাঁর কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়। তবে ১৯৮৯ সালে বিধু বিনোদ চোপড়ার ‘পরিন্দা’ ছবিতে গ্যাংস্টার ‘আন্না’র চরিত্রে অভিনয় তাঁকে জাতীয় স্তরে বিশেষ পরিচিতি দেয়। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান পান। একই সঙ্গে পান ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও।

    ‘ক্রান্তিবীর’ থেকে ‘অগ্নিসাক্ষী’

    নব্বইয়ের দশকে নানা পাটেকর হিন্দি সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯২ সালে ‘অঙ্গার’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা খলনায়কের পুরস্কার পান। ১৯৯৩ সালের ‘তিরঙ্গা’র পর ১৯৯৪ সালে ‘ক্রান্তিবীর’-এ প্রতাপ নারায়ণ তিলকের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান এবং ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। ১৯৯৬ সালের ‘অগ্নিসাক্ষী’র জন্য আবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’-এর মতো ছবিতেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে নানা পাটেকরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রের বৈচিত্র্য। কখনও ভয়ঙ্কর খলনায়ক, কখনও জটিল মানসিকতার নায়ক, আবার কখনও আবেগপ্রবণ ও অসহায় চরিত্র—প্রতিটি ভূমিকাতেই নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর ছাপ রেখেছেন তিনি।

    ‘অব তক ছাপ্পন’ থেকে ‘ওয়েলকাম’

    ২০০০-এর দশকেও নানা পাটেকর ছিলেন হিন্দি সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা। ২০০৪ সালের ‘অব তক ছাপ্পন’-এ মুম্বই পুলিশের কঠোর অফিসার সাধু আগাশের চরিত্রে অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। ২০০৫ সালের ‘অপরাধ’-এ রাজনৈতিকভাবে জটিল চরিত্রে অভিনয়ের জন্যও তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা খলনায়কের পুরস্কার পান। তবে তাঁর অভিনয়ের পরিসর শুধু গম্ভীর চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০০৭ সালের ‘ওয়েলকাম’ ছবিতে গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’-এও একই চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। ২০১০ সালের ‘রাজনীতি’ ছবিতে আবারও রাজনৈতিক নাটকের জগতে নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।

    মারাঠি ও তামিল সিনেমাতেও উজ্জ্বল উপস্থিতি

    হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও নানা পাটেকরের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালের ‘নটসম্রাট’ ছবিতে অবসরপ্রাপ্ত এক থিয়েটার অভিনেতার চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। বার্ধক্য, পরিবার ও জীবনের নানা হারানোর বেদনা—চরিত্রটির আবেগকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতা (মারাঠি) পুরস্কার পান। নানা পাটেকর তামিল সিনেমাতেও কাজ করেছেন। ভরতীরাজার ‘বোম্মালাট্টম’-এর পর ২০১৮ সালে রজনীকান্ত অভিনীত ‘কালা’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। ছবিতে হরিনাথ দেশাই নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

    পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ

    অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছিলেন। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও সৈনিকদের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবি তাঁর সামরিক জীবনের প্রতি আগ্রহেরও প্রতিফলন ঘটায়। সামাজিক কাজেও সক্রিয় ছিলেন নানা পাটেকর। ২০১৫ সালে মারাঠি অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে তিনি ‘নাম ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। মহারাষ্ট্রের কৃষক, বিশেষ করে খরা-পীড়িত কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে এই সংস্থা কাজ করে।

    টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত

    সেনাবাহিনীর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁকে সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। সাত দশক পেরিয়েও অভিনয় চালিয়ে গিয়েছেন নানা পাটেকর। তাঁর সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে ছিল ‘ভানবাস’ (২০২৪), ‘হাউসফুল ৫’ (২০২৫), ‘ও’ রোমিও’ এবং ‘সুবেদার’ (২০২৬)। বহুমুখী অভিনয় প্রতিভা, স্বতন্ত্র সংলাপ বলার ধরন এবং পর্দায় তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতির জন্য ভারতীয় সিনেমায় নানা পাটেকরের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • Pakistan-Linked Espionage Probe: পাকিস্তানে তথ্যপাচার! গুপ্তচরবৃত্তি, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরে ১৩ নৌসেনাকর্মী-সহ ১৮ জন

    Pakistan-Linked Espionage Probe: পাকিস্তানে তথ্যপাচার! গুপ্তচরবৃত্তি, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরে ১৩ নৌসেনাকর্মী-সহ ১৮ জন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই বাঙালি এক নৌসেনাকর্মীকে পাকিস্তানে তথ্যপাচারের (Pakistan-Linked Espionage Probe) অভিযোগে তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করেছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআই)। শুধু ওই নৌসেনাকর্মীই নন, গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় উঠে এসেছে আরও ১৮ জনের নাম। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই নৌসেনাকর্মী। ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর আওতায় দেশের ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযুক্তদের কয়েকজন পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত স্থাপনা সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান করে থাকতে পারেন। এখনও পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমের নৌ-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬

    দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর পাক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে কারা পৌঁছে দিচ্ছেন, একের পর এক ঘটনায় তা প্রকাশ্যে আসতেই অভিযানে নামে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল ২০২৬’। ১২টি দলে ভাগ হয়ে দেশের ১০ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছে তারা। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে চরবৃত্তির অভিযোগে নৌসেনাকর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও তল্লাশি চালানো হচ্ছে কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গোয়া, দিল্লি, গুজরাট, তামিলনাড়ু, বিহার এবং ছত্তিশগড়ে। মূলত ‘এনক্রিপ্টেড’ প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে পাক হ্যান্ডলার বা গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    গ্রেফতার দু’জন

    পুলিশের দাবি, বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটির কর্মী প্রদীপ মুখার্জিকে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তান-যোগ থাকা এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ওটিপি তিনি শেয়ার করেছিলেন। পাশাপাশি পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদানের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, অন্নম সাই বরপ্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বিশাখাপত্তনমে নৌসেনার আধিকারিকদের জন্য চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে তিনি পাকিস্তান-যোগ থাকা এক ব্যক্তির কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাঠিয়েছিলেন। দু’জনকেই ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

    ১০ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিযান

    তদন্ত শুরু হয় ২ সেপ্টেম্বর। অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA) এবং সরকারি গোপনীয়তা আইন (Official Secrets Act)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়, কিছু ব্যক্তি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশাখাপত্তনম-সহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও পাচার করছিলেন। এরপর ১ অক্টোবর শুরু হয় ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’। অভিযানে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি কেরল, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, গুজরাত, গোয়া, দিল্লি, তামিলনাড়ু, ছত্তীসগঢ় এবং বিহারে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ১২টি দল তল্লাশি চালায়। স্থানীয় পুলিশ, রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা এবং নৌসেনার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তদন্তকারীরা ১৮ জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এখনও পর্যন্ত অন্তত দু’জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

    বিশাখাপত্তনমে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

    বিশাখাপত্তনমের নৌ-প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-যোগ থাকা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৯ সালের একটি মামলায় বিদেশি এজেন্ট এবং স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে নৌ-প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। ওই মামলা পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-এর হাতে যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বিশাখাপত্তনমের একটি বিশেষ এনআইএ আদালত ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৫ জনের মধ্যে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এছাড়াও ২০২১ সালের জানুয়ারিতে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল একটি পৃথক গুপ্তচরবৃত্তির মামলা দায়ের করে। ২০২৩ সালের মে মাসে সেটিও এনআইএ-এর হাতে যায়। ওই মামলায় ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সংক্রান্ত শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছিল। সিম কার্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় ছিল।

    ডিজিটাল ও আর্থিক নথি বিশ্লেষণ

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এনআইএ (NIA) জানায়, ওই পৃথক মামলায় প্রতারণার মাধ্যমে সিম কার্ড, ওটিপি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিযোগে এক অভিযুক্তকে বিশেষ আদালত সাজা দিয়েছে। তবে বর্তমান ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর সঙ্গে আগের মামলাগুলির কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র এখনও প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৮ জনকে ঘিরে চলা বর্তমান তদন্তে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং ডিজিটাল ও আর্থিক নথি বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।

     

     

     

     

     

     

  • Aframax Rio: কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা! জ্বলল ট্যাঙ্কার, নিরাপদে উদ্ধার ২৩ ভারতীয় নাবিক

    Aframax Rio: কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা! জ্বলল ট্যাঙ্কার, নিরাপদে উদ্ধার ২৩ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে সোচির কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আগুন ধরে গেল লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে। জাহাজটিতে থাকা ২৩ জনই ভারতীয়। হামলার পর জরুরি উদ্ধার অভিযানে তাঁদের সকলকেই নিরাপদে বার করে আনা হয়েছে। হতাহতের খবর নেই। রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, মঙ্গলবার কৃষ্ণসাগরে সোচির কাছে ট্যাঙ্কারটিতে ‘নৌ ড্রোন’ দিয়ে হামলা চালানো হয়। জাহাজটির নাম ‘আফ্রাম্যাক্স রিও’ (Aframax Rio)। হামলার পর তেল জ্বলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে সমুদ্রেও। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রথম দিকে দমকলকর্মীরা জাহাজটির কাছে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে পারেননি। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ফের অভিযান শুরু করা হয়।

    পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে

    রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরির প্রশাসন প্রথমে ট্যাঙ্কারে আগুন লাগার খবর জানায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার সৈকত সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরির প্রশাসনিক প্রধান দিমিত্রি প্লিশকিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এলাকায় জল ও বায়ুর গুণমান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বায়ুর মান পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, দূষণকারী পদার্থের ঘনত্ব সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রার তুলনায় অনেকটাই কম রয়েছে এবং তা জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনও হুমকি তৈরি করছে না। ঘটনার পর দমকল ও জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলি পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যায়। ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

    কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজও যুদ্ধের নিশানায়

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। গত কয়েক দিনে রোমানিয়ার উপকূলের কাছে পণ্যবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার এক দিন পরেই সোচির কাছে এই তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা ভাবাচ্ছে কূটনীতিকদের। ইউক্রেন রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলাকে তাদের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেখিয়ে আসছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বন্দর ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে। ফলে কৃষ্ণসাগরে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • Lionel Messi Farewell Match: মেসি যুগের অবসান! গোল করলেন-করালেন, শেষ যুদ্ধেও বিজয়ী ফুটবলের রাজপুত্র

    Lionel Messi Farewell Match: মেসি যুগের অবসান! গোল করলেন-করালেন, শেষ যুদ্ধেও বিজয়ী ফুটবলের রাজপুত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ বাঁশি বাজতেই মেসিকে (Lionel Messi Farewell Match) ঘিরে ধরলেন সতীর্থরা। রেফারি ও প্রতিপক্ষের ফুটবলাররাও এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানালেন। এরই মাঝে মেসির সঙ্গে সেলফি তোলার আবদারও এল কয়েকজনের কাছ থেকে। আবেগঘন মুহূর্তে শেষ হল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচটা যে শুধুই আর পাঁচটা ফুটবল ম্যাচের মতো হত না, তা স্পষ্ট ছিল আগে থেকেই। আর এদিন বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম সেজেছিল আর্জেন্তিনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বিদায় জানাতে। বেনিনের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলি ম্যাচে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামলেন আর্জেন্তিনার লিও মেসি। আর সেই আবেগঘন রাতে চোখের জল, গোল এবং সতীর্থদের ভালোবাসায় পূর্ণ হলো মেসির বিদায়।

    মনুমেন্টালে বিশেষ আয়োজন

    এদিন ভোরে ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্টালে ছিল বিশেষ আয়োজন। মাঠে তুলে ধরা হয় বিশাল ১০ নম্বরের জার্সি আর তাতে লেখা গ্রাসিয়াস। পাশাপাশি গ্যালারি ভরে গিয়েছিল আকাশি ও সাদা রঙে। উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রাক্তন তারকা দি মারিয়াও এবং ফ্রান্সের প্রাক্তন তারকা ডেভিড ত্রেজেগেকেও। এদিন তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরোকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন লিও। ঠিক তখনই গোটা স্টেডিয়াম যেন আবেগে ভেসে যায়। জাতীয় সংগীত চলাকালীন চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। পাশাপাশি আবেগে ভেসে যায় কোচ লিওনেল স্কালোনিও। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আরও এক বিদায়ী তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি।

    মেসি-স্কালোনি মায়া

    আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে রাজকীয় বিদায়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই মতো মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় বুধবার ভোররাতে) বেনিনের বিরুদ্ধে শেষবারের জন্য নীল-সাদা জার্সিতে মাঠে নামেন মেসি। ম্যাচ শেষে মেসিকে বুকে টেনে নেন কোচ লায়োনেল স্কালোনি। সেসময় দু’জনের চোখই ছলছলে। আসলে গত কয়েক বছর এই জুটির হাত ধরেই একের পর এক সাফল্যের পথে হেঁটেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আবেগাপ্লুত কোচ স্কালোনিও। মেসির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ ও জোড়া কোপা আমেরিকা জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্তিনা। মার্কিন মুলুকে দল ফাইনালে পৌঁছালেও খেতাবি লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। এরপরই বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন লিও। তারই জেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন বাঁ পায়ের জাদুকর।

    মেসির পায়ে বল গর্জে উঠল মনুমেন্টাল

    খেলা শুরু হওয়ার পর মেসির পায়ে বল এলেই গর্জে ওঠে মনুমেন্টাল। সপ্তম মিনিটে বক্সের বাইরে সতীর্থের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে গোলের উদ্দেশ্যে শট নেন লিও। তবে বেনিনের গোলরক্ষক তা আটকে দেন। এরপর দশম মিনিটে ফের বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় মেসিকে। আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। গ্যালারির প্রত্যেক দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন। বেঞ্চে থাকা দুই দলের কোচ ও ফুটবলাররাও উঠে দাঁড়িয়ে মেসিকে সম্মান জানিয়ে হাততালি দিতে থাকেন। ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসিও সেই আবেগঘন মুহূর্ত উপভোগ করলেন। গ্যালারির দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে তাঁদের অভিবাদন গ্রহণ করলেন তিনি। প্রথমার্ধে একাধিকবার আক্রমণে উঠে এলেও গোল পায়নি আর্জেন্টিনা। হাফটাইমের পর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা। মেসির বাড়ানো ক্রস থেকেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এই ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে ওতামেন্দির শেষ ম্যাচ। এরপর আর্জেন্তিনার দ্বিতীয় গোলটি আসে নিকো পাজের পা থেকে। ডান দিক থেকে ভিতরে ঢুকে দুরন্ত বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

    বিদায়ী ম্য়াচে গোল লিওনেল মেসির

    অবশেষে আসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৬৯ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। এরপর বল বসিয়ে এগিয়ে লিও। তারপর নিখুঁত শটে ডানদিকের উপরের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার বাকি খেলোয়াড়রা ছুটে এসে ঘিরে ধরেন অধিনায়ককে। বিদায়ের এই ম্যাচে নিজের নামের আরও একটি গোল যোগ করলেন মেসি। লিওনেল মেসির ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল। মনুমেন্টালে উপস্থিত সমর্থকেরা যে আজ মেসির জন্য এসেছেন, এই মুহূর্তে তাঁদের আবেগ যেন সার্থক আতশবাজি, গান, চোখের জল আর মেসি- মেসি ধ্বনিতে শেষ হয় এক ঐতিহাসিক ম্যাচ। নীল-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের যাত্রার শেষ অধ্যায়ে মেসি রেখে গেলেন গোলের স্মৃতি।

    নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে কী বললেন মেসি

    ম্যাচ শেষের পর ড্রোন শো এবং সংগীতানুষ্ঠানের পর ফ্যান ও টিমমেটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন লিওনেল মেসি। তিনি বলেন, “আমার ইচ্ছে করছে সারা জীবন খেলা চালিয়ে যেতে, কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। গত বিশ্বকাপটা ছিল অসাধারণ। আমরা স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি ছিলাম, খুবই কাছাকাছি। আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়েছি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জন্য প্রচণ্ড চাপের ছিল। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি হয়েছিল। আবেগগত এবং শারীরিক দিক থেকে আমরা আমাদের শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা সারাজীবন ধরে লড়াই করেছি। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে আমি এবং আমার সকল সতীর্থ এই জার্সির জন্য সবসময় নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।” মেসির কথায়, “সারাদেশে ঘুরে ঘুরে খেলার এই ব্যাপারটা আমি খুব মিস করব। আমরা যেখানেই গিয়েছি, প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। এই সবকিছুর জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এটা হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন। কিন্তু, আমি এই প্রজন্মের সমর্থনে তোমাদের পাশে থাকব। আমরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকব। যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, তখন আমরা অন্য সবার চেয়ে শক্তিশালী। এমন কিছু লোক আছে যারা জাতীয় দলের সাফল্য দেখতে চায় না। আমাদের তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা একটি অসাধারণ দল ছিলাম, আর সে কারণেই আমরা যা জিতেছি তা জিতেছি।” মনুমেন্টালের গ্যালারি থেকে মহাতারকার জন্য তখন একটাই বার্তা, গ্রাসিয়াস লিও।

  • US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পিছন থেকে আসছিল একের পর এক আঘাত। প্রথমে ভেবেছিলেন, বিমানের বড় কোনও ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পর পর আঘাত আসতেই বুঝতে পারেন, বিমানে কিছু হয়নি। ককপিটে তাঁর সঙ্গে যিনি আছেন, তিনি কিছু করছেন। এর পর সহকারী পাইলটকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন ফ্লাইদুবায়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার। কিন্তু মাথায় আঘাতের কারণে তাঁর চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। ফলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। মনে মনে আওড়াচ্ছিলেন হনুমান চল্লিশা। হঠাতই সঞ্জীবনী মন্ত্রে তাঁর মাথায় কাজ করে উপস্থিত বুদ্ধি। কোনওরকমে খুলে দেন ককপিটের দরজা। বেঁচে যায় ১৭৪ জন বিমানযাত্রীর জীবন। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন স্মিত। এবার, ভারতীয় পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে উদ্যোগী হল মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস।

    মার্কিন কংগ্রেসে সাহসিকতার পুরস্কার

    স্মিতের সাহসিকতার পাশাপাশি ফ্লাইটের ক্রু ও যাত্রীদের ভূমিকাকেও স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে। গত ৫ অক্টোবর কংগ্রেসম্যান জোশ গটহাইমার এইচ রেস ১৬১২ নামে প্রস্তাবটি হাউসে উত্থাপন করেন। এতে মাইকেল ম্যাককল এবং ডন বেকন সহ-প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রস্তাবটি হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও তা পূর্ণাঙ্গ হাউসে পাস হয়নি। প্রস্তাবটির শিরোনাম— ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এবং ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩-এর ক্রু ও যাত্রীদের সম্মান জানানো এবং বিমানটিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো (Honouring Captain Smit Machchhar and the crew and passengers of Flydubai Flight 1073)।

    মাঝ আকাশে ককপিটে সন্ত্রাসী হামলা

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়ে যায় ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩। বিমানে ছিলেন প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে ২৭ জন শিশু এবং চারজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। উড়ানের মাঝপথে বিমানের ফার্স্ট অফিসার বা সহকারী পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের ওপর জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারায়। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বিমানটি একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার প্রতিরোধ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই পদক্ষেপই পরিস্থিতি বদলে দেয়। বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটরা ককপিটে ঢুকতে পারেন এবং কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে মাটিতে নামতে সক্ষম হন।

    ‘অসাধারণ সাহসিকতার’ প্রশংসা

    মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত প্রস্তাবে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নিজের জীবন বিপন্ন করে তিনি বিমানে থাকা প্রত্যেক মানুষের জীবন রক্ষায় “অসাধারণ সাহসিকতা” দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদেরও প্রশংসা করা হয়েছে। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ককপিট সুরক্ষিত করা এবং বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়েছিল।

    ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে চিহ্নিত

    ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন প্রস্তাবে। ৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে যে ফার্স্ট অফিসার বিমানটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানানো হয়। তবে হামলার উদ্দেশ্য, ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন হাউসের প্রস্তাবে ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর এই হামলাকে গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের দাবি

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের জন্য সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের এই প্রস্তাব। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুতর আহত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি

    ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার আরও কিছু বিবরণ সামনে আসে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি বুঝতে পারেন, ককপিটের দরজা খুলতে পারলে অন্যরা সেখানে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নিজেকে সামলে দরজার কাছে পৌঁছন এবং সেটি খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই সিদ্ধান্তই অন্যদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিমানটি ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। হাসপাতালের শয্যা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলার সময় মচ্ছার সেই মুহূর্তের কথা জানান। আহত অবস্থাতেও কীভাবে নিজেকে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার কাছে পৌঁছনোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন মচ্ছার সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর সাহসিকতার জন্য ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকেও প্রশংসা এসেছে।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে ভারতীয় পাইলট

    ফ্লাইট ১০৭৩-এর ঘটনা শুধু একজন পাইলটের ব্যক্তিগত সাহসিকতার গল্প নয়। এটি আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। একজন ভারতীয় ক্যাপ্টেন, অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং সাধারণ যাত্রীরা একসঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি রুখে দেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত হাউসে পাস হলে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসের স্বীকৃতি পাবে। তবে সেই স্বীকৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার হাল ছাড়েননি। তিনি ককপিটের দরজা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। আর সেই কয়েক মুহূর্তের সাহসই ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচানোর পথ খুলে দিয়েছিল।

  • India vs Uruguay: অনিরুদ্ধ থাপার অবিশ্বাস্য গোল কাজে লাগল না, উরুগুয়ের কাছে ৬-১ গোলে হার ভারতের

    India vs Uruguay: অনিরুদ্ধ থাপার অবিশ্বাস্য গোল কাজে লাগল না, উরুগুয়ের কাছে ৬-১ গোলে হার ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি খেলতে নামে ভারতীয় ফুটবল দল (Indian Football Team)। উরুগুয়ে যে ভাল খেলবে, তা আগে থেকেই সকলের ধারণা ছিল। কিন্তু, টিম ইন্ডিয়া এদিন যেভাবে লড়াই করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। চেষ্টার কোনও কমতি ছিল না। ৯০ মিনিট মাঠে নিজেদের নিংড়ে দিলেন মনবীর, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপারা। কিন্তু দিনের শেষে ভারত এবং উরুগুয়ের মধ্যে দক্ষতার ফারাক যে আকাশ-পাতাল। সেই ফারাক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মঙ্গলবারের যুবভারতী। পানামা ম্যাচে ড্র এবং ব্রাজিল ম্যাচের লড়াকু ফলাফল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উরুগুয়ে ম্যাচে ভালো ফলের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবের রুক্ষ্ম মাটিতে আছড়ে পড়ল। অনিরুদ্ধ থাপা ইতিহাস গড়ে একটি গোল করলেন বটে। কিন্তু শেষমেশ ফোরল্যানের দলের বিরুদ্ধে ১-৬ গোলে হারল ব্লু টাইগার্স।

    শুরুতেই গোল উরুগুয়ের

    উরুগুয়ের (India vs Uruguay) হয়ে প্রথম গোল করেন ডারউইন নুনিয়েজ। অন্য়দিকে, ভারতের হয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান অনিরুদ্ধ থাপা। এদিন জলপানের বিরতির ঠিক পরই কলকাতার আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করে। ফিফার নিয়ম অনুসারে, এই কারণেই খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিন খেলা শুরুতেই। পরমবীরের ভুল ট্যাকলে পেনাল্টি উপহার পায় উরুগুয়ে। ম্যাচের ১১ মিনিটে পেনাল্টি স্পট থেকে শট নেওয়ার আগে দৌড়ে সামান্য থমকে যান নুনিয়েজ। এরপর গুরপ্রীতকে ভুল দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি!

    সমতা ফেরালেন অনিরুদ্ধ থাপা

    দুর্দান্ত কামব্যাক ভারতীয় ফুটবল দলের ২২ মিনিট মাঠের মাঝখানে বল দখলে নেন রায়ান উইলিয়ামস। সামনে দৌড়ে যাওয়ার জন্য বেশ কিছুটা জায়গাও ছিল তাঁর। সতীর্থদের পাস দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিজেই শট নেন উইলিয়ামস। তবে সেই শট বাঁচিয়ে দেন উরুগুয়ের গোলকিপার কারদোজো। কিন্তু বলটি মুঠোয় ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ঠিক সেখানেই ওত পেতে ছিলেন থাপা। ফিরতি বল পেয়ে জালে জড়িয়ে দেন অনিরুদ্ধ থাপা। এই গোলের ফলে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোল করা দ্বিতীয় ভারতীয় ফুটবলার হলেন অনিরুদ্ধ থাপা। ১৯৮২ সালে ইডেন উদ্যানে নেহরু গোল্ড কাপের ম্যাচে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ভারতীয় হিসেবে গোল করেছিলেন মানস ভট্টাচার্য।

    বজ্রপাতে বেসামাল রক্ষণ

    এরপর বজ্রপাতের জন্য আধঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়েছিল খেলা। সেটাই সম্ভবত কাল হল ভারতের। ওই আধ ঘণ্টার বিরতির পর আচমকা ভারতের রক্ষণ যেন নড়বড়ে হয়ে যায়। অবশ্য সেটার নেপথ্যে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩ ম্যাচ খেলার ক্লান্তি এবং কোচ খালিদ জামিলের তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও কাজ করেছে। বিজয় ভার্গেস যিনি আগের দু’ম্যাচে আনোয়ারের পাশে স্তম্ভের মতো রক্ষণ সামলেছেন তাঁকে এদিন বিশ্রাম দেন খালিদ। সেটাই কাল হয়। ভারতের নড়বড়ে রক্ষণের সুযোগ নিতে ছাড়েনি উরুগুয়ে। ২৮ মিনিটে প্রথমে গোল করে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরাউও। প্রথমার্ধে ভারত পিছিয়ে ছিল ২-১ গোলে।

    দ্বিতীয়ার্ধে অন্য উরুগুয়ে

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই যেন অন্য উরুগুয়েকে দেখা যায়। একের পর এক গোলে ব্যবধান বাড়াতে থাকে ফোরল্যানের দল। ভারত যখনই আক্রমণে গিয়েছে প্রতিআক্রমণে বিপদ তৈরি করেছে উরুগুয়ে, ক্লান্তি আর গতির অভাবে সেই আক্রমণ রুখতে পারেননি আকাশ মিশ্ররা। ৫৩ মিনিটে জালাজার, ৫৯ মিনিটে আরাউওর দ্বিতীয় গোল, ৭১ মিনিটে সানব্রিয়া এবং ৮৬ মিনিটে আগুয়ের গোল করেন। এর মাঝে দলে একাধিক বদল এনেও রক্ষণের ফাঁকফোঁকর বন্ধ করতে পারেননি খালিদ জামিল। দিনের শেষে খেলার ফল ১-৬।

     

  • Harmanpreet Kaur: ক্রিকেট থেকে এখনই অবসর নয়! জাতীয় দলের সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব ছাড়লেন হরমনপ্রীত কৌর

    Harmanpreet Kaur: ক্রিকেট থেকে এখনই অবসর নয়! জাতীয় দলের সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব ছাড়লেন হরমনপ্রীত কৌর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের (India Women’s Cricket Team) সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur)। মঙ্গলবার হঠাৎই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সমাজমাধ‍্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেতে পারেন স্মৃতি মান্ধানা। হরমন জানিয়েছেন, দেশের হয়ে সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাবেন। নেতৃত্ব ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত একেবারেই সহজ ছিল না বলে স্বীকার করেছেন তারকা ব্যাটার। তাঁর মতে, এই যাত্রাপথে বহু স্মৃতি, আবেগ এবং ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে।

    ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে স্মরণীয় সময়

    হরমনপ্রীতের অধিনায়কত্বে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট অন্যতম স্মরণীয় সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২২ ও ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে সোনা জয়। নিজের সিদ্ধান্তের ঘোষণা করে হরমনপ্রীত লিখেছেন, “আজ আমি সব ফরম্যাটেই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। এটি মোটেই সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন কিছু মুহূর্ত যা জীবনের বাকি সময়টা আমার সঙ্গে থেকে যাবে। এই দল এবং ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্য আমার যা দেওয়ার ছিল, তার সবটাই আমি দিয়েছি। আমার রক্ত, ঘাম, সময় এবং বহু বার নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও স্বপ্নকেও ত্যাগ করেছি। এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে যখন আমাকে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, নিজের উন্নতি এবং নিজের চাওয়া-পাওয়াকে পাশে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। কারণ, আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি যে দলের স্বার্থই সবার আগে।”

    অধিনায়ক হিসেবে কঠিন সিদ্ধান্ত

    অধিনায়ক হিসেবে আমাকে কঠিন অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এমন কিছু সিদ্ধান্ত যা সব সময় সকলে বুঝতে পারেনি, যা নেওয়া সহজ ছিল না এবং যার জন্য অনেক সময় ব্যক্তিগত খেসারতও দিতে হয়েছে। তবে আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের পিছনে একটিই উদ্দেশ্য ছিল— এই দলকে আরও উন্নত করা এবং অন্যান্য ক্রিকেটারেরা যাতে নিজেকে তুলে ধরার, নিজের উপর বিশ্বাস রাখার ও নিজের সেরাটা মেলে ধরার সুযোগ পায়, সেটা দেখা। আমি সব রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। আমি চরম হতাশার মুহূর্ত দেখেছি। হৃদয়ভঙ্গের যন্ত্রণা, সমালোচনা, সংশয় এবং এমন দিনও দেখেছি যখন কোনও কিছুই আমাদের পক্ষে যাচ্ছিল না। আবার একই সঙ্গে আমি সাফল্যের শীর্ষও স্পর্শ করেছি। সেই জয়, উদযাপন, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব এবং এমন কিছু মুহূর্ত যা প্রতিটি ত্যাগকে সার্থক করে তুলেছিল।”

    দলের সঙ্গেই থাকব

    নেতৃত্ব ছাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে (International Cricket) এখনই বিদায় জানাচ্ছেন না। হরমন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন। বলেন, “আজ যখন আমি অধিনায়কত্ব ছাড়ছি, আমার হৃদয় আবেগে ভরা, তবে মনে এক পরম শান্তি রয়েছে। আমি মন থেকে বিশ্বাস করি যে, আমার দল এখন অত্যন্ত নিরাপদ ও ভাল জায়গায় রয়েছে। এটা এমন এক দল, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিভা, মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং এমন এক ভবিষ্যৎ যা দেখতে পাওয়ার ও যার অংশ হওয়ার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে আছি। আমার মনে হয় আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। এই দলকে আমার যা দেওয়ার ছিল, তার সবটাই আমি দিয়েছি। আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেছি এবং ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব। এখন আমার জন্য নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় এসে গিয়েছে। অধিনায়কত্ব হয়তো আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালবাসা কোনও দিন শেষ হবে না। প্রত‍্যেক সতীর্থ, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, ম্যানেজমেন্ট, বিসিসিআই, আমার পরিবার এবং সেই সমস্ত ভক্তদের অনেক ধন্যবাদ যাঁরা আমার ভাল-খারাপ সব সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। রক্ত। ঘাম। ত্যাগ। গর্ব। আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। এখন আমি কেবল খেলার প্রতি ভালবাসার খাতিরে আবারও মাঠে নামতে প্রস্তুত। অধিনায়ক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে যাত্রা অব্যাহত থাকবে।”

  • New Airports in West Bengal: উড়ান প্রকল্পে রাজ্যে আরও চার নতুন বিমানবন্দর, কেন্দ্রকে কলকাতা-লন্ডন সরাসরি বিমানের অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর

    New Airports in West Bengal: উড়ান প্রকল্পে রাজ্যে আরও চার নতুন বিমানবন্দর, কেন্দ্রকে কলকাতা-লন্ডন সরাসরি বিমানের অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পে চারটি নতুন বিমানবন্দর (New Airports in West Bengal) তৈরি করতে উদ্যোগী হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার নবান্ন সভাঘরে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং রাজ্যের পরিবহণ দফতরের মধ্যে এই মর্মে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী কিনজারাপ্পু রামমোহন নায়ডু জানান, দু’বছরের মধ্যে এই চার এয়ারপোর্ট — পুরুলিয়ার ছড়রা, বালুরঘাট এবং বায়ুসেনার অধীনে কলাইকুন্ডা ও হাসিমারা থেকে প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট যাতায়াত শুরু হবে। নায়ডুর কাছে কলকাতা–লন্ডন এবং ইউরোপের অন্যান্য শহরে সরাসরি উড়ান চালুর অনুরোধ জানান শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    রাজ্যের চার প্রান্তে চার বন্দর

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে এ রাজ্যে এয়ারপোর্টের সংখ্যা বাড়েনি। নতুন সরকার আসার পরে দ্রুত গতিতে সেই কাজ এগোচ্ছে। শুভেন্দু জানান, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডায় রানওয়ে আছে। সেখান থেকে বায়ুসেনার বিমান নিয়মিত ওঠানামা করে। মুখ্যমন্ত্রী জানান ওখান থেকে বোয়িং এবং এয়ারবাস-এর বিমান স্বচ্ছন্দে ওঠানামা করতে পারে। শুধু টার্মিনাল বিল্ডিং এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির জন্য হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় ২৫ এবং ৩৭ একর জমি হস্তান্তর করেছে রাজ্য। সেনা প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছে। বালুরঘাটে এখন ছোট বিমান ওঠানামা করতে পারে। সেখানে পরিকাঠামো বাড়ানো হবে। পুরুলিয়ায় ছড়রায় শূন্য থেকে নতুন বিমানবন্দর তৈরি হবে।

    সাধারণের জন্য সরাসরি লন্ডন

    একটা সময়ে কলকাতা থেকে ইউরোপের একাধিক শহরে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ছিল। রাজ্যের বক্তব্য, কলকাতাকে পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানো প্রয়োজন। কলকাতা থেকে সরাসরি ইউরোপের অন্যান্য শহরেরও ফ্লাইট নেই। কলকাতা থেকে ডোমেস্টিক ফ্লাইটের সংখ্যাও কম। এদিন শুভেন্দু রামমোহন নায়ডুর হাতে একটি আবেদনপত্র তুলে দিয়ে লন্ডন এবং ইউরোপে সরাসরি ফ্লাইট চালুর আবেদন জানান। নায়ডু বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ মতো ইউরোপে ডাইরেক্ট ফ্লাইটের জন্য বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে অনুরোধ করব।’

    কলকাতার দ্বিতীয় এয়ারপোর্ট

    কলকাতা থেকে প্রধানত ডোমেস্টিক সেক্টরে নিয়মিত যাত্রী বাড়ছে। বর্তমান টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতা আর কয়েক বছরের মধ্যে নিঃশেষিত হওয়ার কথা। প্রয়োজন শহরের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে দ্বিতীয় বিকল্প বিমানবন্দর। শুভেন্দু সোমবার বলেন, ‘আগের বিমানমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে জমি চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জানিয়েছিলেন জমি দেওয়া যাবে না। আমরা কল্যাণীতে জমি চিহ্নিত করেছি। সেই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি, মাটি পরীক্ষা-সহ সবরকম কাজ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই সেই জমি তৈরি হয়ে যাবে।’ কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির জন্য প্রায় ২০০০ একর জমি চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী জানান, বাংলায় একাধিক বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য রাজ্যকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। বিমানবন্দরের জমি নিয়ে জটিলতা কাটাতে ও পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যের সঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন তিনি। মন্ত্রী জানান, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে বিমানবন্দর উন্নয়নের কাজ হবে। রানওয়ে সংস্কার, টার্মিনাল বিল্ডিংয়ে নজর দেওয়া হবে। বিমানবন্দরের প্রযুক্তিগত দিক দেখবে কেন্দ্রীয় সরকার।

    উড়ান-২ প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ

    উড়ান (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক)– ২.০ প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ। বালুরঘাট, হাসিমারা–সহ রাজ্যের ছোট বিমানবন্দর থেকে এই প্রকল্পে ফ্লাইট চালালে ভর্তুকি দেবে কেন্দ্র। আশা করা হচ্ছে, ওই প্রকল্পের সুবিধে নিয়ে রাজ্যের ছোট বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ফ্লাইট চালাবে। ২০১৬ সালে চালু হয় কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্প। লক্ষ্য ছিল দেশের ছোট শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে বিমানযাত্রা নিয়ে আসা। পশ্চিমবঙ্গও এই প্রকল্পের আওতায় একাধিক বিমানবন্দর তৈরিতে উদ্যোগী হয়। হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আগে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েন ছিল। বর্তমান সরকারের দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ওই দুই জায়গায় প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জমির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বালুরঘাট ও পুরুলিয়াতেও জমির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলিতে উড়ান প্রকল্পের আওতায় ৭২ আসনের বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলির গুরুত্ব

    প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলির ফলে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে কলকাতা ও দেশের অন্যান্য প্রান্তের যোগাযোগ সহজ হবে। শিল্প, পর্যটন এবং বাণিজ্যের প্রসারেও এই বিমানবন্দরগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে নবান্ন। নবান্নের আধিকারিকদের একাংশের মতে, শুধু যাত্রী পরিষেবা নয়, নতুন বিমানবন্দরগুলি পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার দরজা খুলবে। কৃষিজাত পণ্য, চা, ফুল, হস্তশিল্প এবং শিল্পপণ্যের দ্রুত পরিবহণে আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতা ও দেশের অন্যান্য বাণিজ্যকেন্দ্রের যোগাযোগ বাড়লে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। পর্যটনের ক্ষেত্রেও হাসিমারা, পুরুলিয়ার মতো এলাকার গুরুত্ব রয়েছে। ফলে উড়ান প্রকল্পের এই পর্বকে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।

  • Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে সক্রিয় হানি-ট্র্যাপ। সীমান্তের ওপার থেকে এই চক্র কাজ চালায়। দেশের নিরাপত্তায় প্রশ্ন তৈরির চেষ্টা করে। পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিহারের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাকর্মী। অবসরের পরও তিনি চুক্তিভিত্তিকভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক মহিলা অপারেটিভের কাছে ভারতীয় নৌবাহিনীর গোপন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য পাচারের অভিযোগে এক কর্মরত নৌসেনা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ। শনিবার কোয়েম্বাটোরের রেড ফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত উচ্চ-নিরাপত্তার আইএনএস অগ্রণী ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (CI) সেলের একটি বিশেষ দল।

    এনআইএ-এর ইনপুটের ভিত্তিতে তদন্ত

    পুলিশ সূত্রে খবর, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অসম পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে ৩১ বছর বয়সি অভিষেক কুমার সিং-এর বাড়ি বিহারের মোতিহারিতে। অভিযোগ, তিনি গুয়াহাটিতে বসবাস করে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানে থাকা তাঁর হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাচ্ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু সন্দেহজনক নথি ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত ৩৯ বছর বয়সি রীতেশ কুমার সিং। তিনি বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা। গুয়াহাটির সাতগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক অপারেটিভের নির্দেশে রীতেশ কাজ করছিলেন এবং অভিষেককেও বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছিলেন।

    অভিষেকের সূত্র ধরেই জালে রীতেশ

    প্রথমে অভিষেকের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি অসমে বসে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কাছে পাঠাচ্ছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গজরাজ কোর এবং অসম পুলিশ যৌথভাবে রীতেশের কথিত কার্যকলাপ নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছিল। এরই মধ্যে শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাতে অভিষেককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, পাকিস্তান-সম্পর্কিত কিছু নথি এবং অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তদন্তভার আরও এগিয়ে নিয়ে যায় অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তের সূত্র ধরে রীতেশের সন্ধান পাওয়া যায় এবং তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। অভিষেকের মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কতদিন ধরে তিনি এই ধরনের কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন এবং পাকিস্তানে থাকা ঠিক কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, এনআইএ-এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অসম পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তী তদন্তের জন্য তাঁদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে দু’জনকেই কথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে নিশানা করা হয়েছিল। সেই পদ্ধতিতে তাঁদের কাছ থেকে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। অভিষেকের গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই বিহারের মোতিহারি পুলিশও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মোতিহারির পুলিশ সুপার স্বর্ণ প্রভাত জানিয়েছেন, অভিষেক সম্পর্কে পুলিশের কাছে তথ্য এসেছে। জেলার ঠিক কোন থানা এলাকায় তাঁর বাড়ি, তা যাচাই করা হচ্ছে। অসম পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মোতিহারি পুলিশও তথ্য সংগ্রহ করছে। তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় পরিচয় সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় নিশ্চিতভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মোতিহারি পুলিশ সুপার।

    হানিট্র্যাপে পশ্চিমবঙ্গ-যোগ

    অন্যদিকে, অন্ধ্র পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নৌসেনা সদস্যের নাম প্রদীপ মুখার্জি (৩১)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন ন্যাভাল কমান্ডের অধীনে নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহ ধরে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani)-তে একটি ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রদীপ। এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা তথ্য পাচার

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপের। ওই মহিলা নিজেকে সাধারণ পরিচিত হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক অপারেটিভ বলে সন্দেহ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মহিলা ধীরে ধীরে প্রদীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য দিতে প্ররোচিত করেন। অভিযোগ, প্রদীপ বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওই মহিলার কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ নজরে আসার পর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani) ক্যাম্পাসে অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকেই প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল মূলত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তদন্ত করে থাকে। ধৃত নৌসেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Paschim Banga: সব ভাষাতেই এক নাম! রাজ্যের ইতিহাস ও আবেগের মিশ্রণে নাম হবে একটাই – ‘পশ্চিমবঙ্গ’, জানালেন শমীক

    Paschim Banga: সব ভাষাতেই এক নাম! রাজ্যের ইতিহাস ও আবেগের মিশ্রণে নাম হবে একটাই – ‘পশ্চিমবঙ্গ’, জানালেন শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নাম বদলে ‘বাংলা’ করতে চেয়েছিল তৃণমূল সরকার। বিলও পাস করিয়েছিল বিধানসভায়। কিন্তু কেন্দ্রের অনুমোদন মেলেনি। তৃণমূলের চাওয়ায় যে তাদের আপত্তি আছে, ক্ষমতায় আসার আগে জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি (BJP)। তারা রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ (Paschim Banga) রাখার পক্ষপাতী। বাংলাতে তো বটেই, ইংরেজিতেও। বিধানসভার পরের অধিবেশনেই এই মর্মে বিল (West Bengal Assembly Bill) আসতে চলেছে, সোমবার জানিয়ে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে দলের রাজ্যসভার সাংসদ শমীক স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এখন থেকে আর কোনও ওয়েস্ট বেঙ্গল, কোনও বাংলা বা কোনও পশ্চিম বাংলা নয় (West Bengal Name Change)। এবার থেকে সব ভাষাতেই কেবল ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম হবে।”

    ইংরেজিতেও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’

    সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানান, ইংরেজিতেও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ই লেখা হবে। সম্প্রতি কেরল রাজ্যের নাম বদলে ‘কেরলম’ করার বিল যখন রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য আসে, তখনও শমীক সংসদের কক্ষে দাঁড়িয়ে সব ভাষাতেই রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার দাবি তুলেছিলেন। প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজ থেকে শুরু করে ইংরেজি নথিপত্র- সর্বত্রই লেখা হবে একই নাম।

    নামের পেছনে ইতিহাস ও আবেগ

    রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার পেছনে ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং শহীদদের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমরা যারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসছি, তাদের নির্দিষ্ট একটা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অতীত রয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গলের বদলে শুধু ‘বাংলা’ করলে সেদিন দেশভাগের সময়ে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, যারা রক্তস্নান করেছিলেন, তাঁদের সেই অপরিসীম অবদান বিস্মৃত হয়ে যাব। পশ্চিমবঙ্গের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে এই নামের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী নামই যাতে স্থায়ী হয়, তার জন্যই আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিল আনা হচ্ছে।” আইনি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করাতে হয়, সেই প্রক্রিয়াই শুরু করতে চলেছে দল।

    নাম বদলে প্রশাসনিক জটিলতা

    প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা নতুন নয়। দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারি বৈঠকে ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে (Alphabetical Order) রাজ্যগুলোর নাম ডাকা হয়। ফলে ‘West Bengal’-এর ডাক আসে একেবারে শেষের দিকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ বক্তা হিসেবে বলতে গিয়ে নির্ধারিত সময় অনেকটাই কমে যায়। তাই বাম জমানাতেই ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই বিধানসভায় প্রথম প্রস্তাব আসে সব ভাষাতে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার। তবে আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলা’ নামটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।

    তিনটি ভাষায় তিনটি নাম

    ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ফের তৎপরতা বাড়ে। সেবছর ২ অগস্ট রাজ্য মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া প্রস্তাবে বাংলা ভাষায় ‘বাংলা’, ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ – এই তিনটি নাম রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু বামেদের আপত্তি এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সেই চেষ্টা বাতিল হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, তিনটি নয়, রাজ্যের নাম হতে হবে একটিই। এরপর ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই বিধানসভায় নতুন করে প্রস্তাব পাস করিয়ে কেবল ‘বাংলা’ নামটি চূড়ান্ত করে কেন্দ্রকে পাঠানো হয়। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সাযুজ্যের কারণে এই নামে অনেকে আপত্তি জানালেও বিধানসভায় এ বার সর্বসম্মতিতেই গৃহীত হয় প্রস্তাব। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করলেও বিষয়টি এগোয়নি।

    রাজ্যের নাম বদলের প্রক্রিয়া

    কোনও রাজ্যের নাম বদলের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ আছে । প্রথমত, নাম বদল সংক্রান্ত বিল সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভায় পাশ করিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠাতে হয় । সেখান থেকে বিল যায় রাষ্ট্রপতির কাছে । বিল নিয়ে চর্চার পর তিনি যদি মনে করেন কোনও অংশ স্পষ্ট নয় বা তাঁর যদি অতিরিক্ত প্রশ্ন থাকে তবে সে ব্যাপারে তিনি ওই রাজ্যের বিধানসভার কাছে জানতে চাইতে পারেন । উত্তরে সন্তুষ্ট হলে রাষ্ট্রপতির থেকে বিল যাবে সংসদে । লোকসভা বা রাজ্য়সভায় বিল পেশ করে সেটিকে পাশ করাতে হবে । এরপর শেষ ধাপ । সংসদ থেকে বিল যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে । তিনি চূড়ান্ত মান্যতা দিলে তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নাম পাল্টে যাবে ।

    কেন নাম পশ্চিমবঙ্গ

    ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম “পশ্চিমবঙ্গ” রাখার মূল কারণ হলো ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক দেশভাগ এবং অবিভক্ত বাংলার ভৌগোলিক বিভাজন। বাংলা একটি একক ও বৃহৎ অঞ্চল ছিল, যার মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলা প্রদেশটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। পূর্ববঙ্গ (যা পরে পূর্ব পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ হয়)। অন্যদিকে, বাংলার পশ্চিম দিকের অংশটি ভারতের সঙ্গে থেকে যায়। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। অর্থাৎ, এটি ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত হলেও মূলত ঐতিহাসিক ‘বঙ্গ’ ভূমির সাপেক্ষে পশ্চিম অংশ বোঝাতেই এই নাম ব্যবহৃত হয়।

    ভারতীয় সংবিধানে নাম বদল নিয়ে সমস্যা

    ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের নাম বদলাতে হলে বিধানসভার পাস হওয়া প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, রেল, ডাক বিভাগ ও গোয়েন্দা দফতরের অনুমোদন শেষে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে পেশ করতে হয়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরেই তা আইনি রূপ পায়। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, সংসদে নাম বদল সংক্রান্ত কোনও বিল পেশ হয়নি। রাজ্যের পাল্টে যাওয়া প্রেক্ষাপটে আড়াই দশক পরে নামবদলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত আকার নেয় কি না, সেটাই এবার দেখার।

     

     

     

     

LinkedIn
Share