Author: ishika-banerjee

  • Assam Assembly: অসম বিধানসভায় ইতিহাস, সংস্কৃত ও ৩ জনজাতি ভাষার শপথে উঠে এল ‘বৈচিত্র্যের ভারত’

    Assam Assembly: অসম বিধানসভায় ইতিহাস, সংস্কৃত ও ৩ জনজাতি ভাষার শপথে উঠে এল ‘বৈচিত্র্যের ভারত’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬তম অসম বিধানসভার (Assam Assembly) প্রথম অধিবেশনেই তৈরি হল ইতিহাস। ২১ মে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা হয়ে উঠেছিল অসম ও ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক বিরল প্রতিচ্ছবি। এদিন মোট ১২৪ জন বিধায়ক ৯টি ভিন্ন ভাষায় শপথ নেন। এর মধ্যে কয়েকটি ভাষা এই প্রথম কোনও ভারতীয় বিধানসভার অন্দরমহলে শোনা গেল। ফলে দিনটি অসমের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে

    সংস্কৃতে শপথ নিলেন বিধায়করা

    সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসে সংস্কৃত ভাষায় শপথগ্রহণ। বিজেপি-এনডিএ জোটের ১৭ জন বিধায়ক সংস্কৃতে শপথ নেন, যা অসম বিধানসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রাক্তন স্পিকার বিশ্বজিৎ দইমারি, বিজেপি নেতা বিমল বরা, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, ভবেশ কলিতা, ডঃ মৃদুল কুমার দত্ত, এজিপি নেতা পৃথ্বীরাজ রাভা-সহ একাধিক বিধায়ক সংস্কৃতকে বেছে নেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিধায়কদের একযোগে সংস্কৃত ভাষা বেছে নেওয়া ছিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ঐক্যের বার্তা।

    জনজাতি ভাষার ব্যবহার

    এই অধিবেশনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক দিক ছিল তিনটি জনজাতি ভাষার ব্যবহার। প্রথমবার অসম বিধানসভায় কর্বি, রাজবংশী ও রাভা ভাষায় শপথ নেওয়া হয়। পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক কর্বি ভাষায়, তিনজন বিধায়ক রাজবংশী ভাষায় এবং একজন বিধায়ক রাভা ভাষায় শপথ নেন। এই ভাষাগুলি সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সরকারি স্বীকৃতিও সীমিত। তবু বিধানসভার ভিতরে এই ভাষাগুলির উচ্চারণ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে এক বড় স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভাষাভিত্তিক হিসেব অনুযায়ী, ৭৫ জন বিধায়ক অসমিয়া ভাষায় শপথ নেন। ১৭ জন সংস্কৃতে, ৯ জন বাংলায়, ৮ জন বোড়ো ভাষায়, ৫ জন কর্বি ভাষায়, ৩ জন রাজবংশী ভাষায় শপথ নেন। এছাড়া ৪ জন ইংরেজিতে, ১ জন হিন্দিতে এবং ১ জন রাভা ভাষায় শপথ গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) বলেন, বিধায়কেরা যাতে নিজেদের সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ ভাষায় শপথ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা এবং প্রো-টেম স্পিকার চন্দ্রমোহন পাটোয়রি-র সঙ্গে আলোচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “নিয়ম কখনও মানুষের ভাষা ও পরিচয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়।”

  • PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের (PM Modi on Falta Repoll) নির্বাচনে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। ফলতার এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর বিজেপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১,০৯,০২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ফলতা বিজয়র পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদির বার্তা, “ফলতাবাসী নিজেদের রায় দিয়ে দিয়েছে! গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। ভয়ভীতি-হুমকি হেরে গিয়েছে।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য, বিকশিত বাংলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন রাজ্যবাসীর কাছে।

    অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাব

    ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ফলতা থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হওয়ার জন্য দেবাংশু পণ্ডাজিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই জয় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বিজেপির প্রতি অটুট আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসাধারণ কাজ মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন, আর সেই কারণেই তাঁরা আমাদের প্রতি আরও আশীর্বাদ ও সমর্থন জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির সকল কর্মী ও সমর্থকদের তাঁদের অসাধারণ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আগামী দিনেও আমরা পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।” নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দু’সপ্তাহ পরেই এই নির্বাচন হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার যে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করে চলেছে, তা মানুষের নজর এড়ায়নি। এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গবাসী আবার আমাদের আশীর্বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

    কেন প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার ফল শুধু একটি বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচনের ফল নয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্যতম অংশ এই ফলতা। নির্বাচন কমিশন ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণার পর অভিষেক বলেছিলেন, ‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না। দিল্লি থেকে যত শক্তশালী, যাকে খুশি আনুন, ক্ষমতা থাকলে ফলতায় লড়ে দেখাও।’ এই ফলতায় ভোটাররা বছরের পর বছর ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরির’ অভিযোগ ওঠে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে এই ফলতায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন অভিষেক। সেই ফলতাতে বিজেপি প্রার্থীর লক্ষাধিক ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বার্তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এ বারের নির্বাচনে যে বিজেপি জিতবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগেই ময়দান ছেড়েছেন। তবে বিজেপি যে এই বিপুল ব্যবধানে ফলতায় বিজয়ধ্বজা ওড়াবে, তা আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি অনেকেই। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জিতেছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা। তৃণমূল সেখানে নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে।

  • Shamik Bhattacharya: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে নির্মলার দরবারে শমীক, তাঁত ও চা শিল্প নিয়ে বিশেষ আলোচনা

    Shamik Bhattacharya: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে নির্মলার দরবারে শমীক, তাঁত ও চা শিল্প নিয়ে বিশেষ আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী বঙ্গ বিজেপি। কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের বকেয় টাকা পেতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাংলায় এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। তার সুফল বঙ্গবাসীকে দিতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar) থেকে ডিএ (DA)-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এবার কেন্দ্রীয় বকেয়া নিয়ে নির্মলার দরবারে শমীক। জানা গিয়েছে, রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    শমীক-সীতারমন বৈঠকে কী কী আলোচনা

    দিল্লিতে গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টচার্য। প্রায় তিনদিন ধরে রাজধানীতে রয়েছেন তিনি। শনিবার সকালে নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে দেখা করেন শমীক। সূত্রের খবর, বাংলার অর্থনীতি নিয়ে রাজ্যের কী কী পদক্ষেপ করা উচিত এই মুহূর্তে সেই বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে, বৈঠকের সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে অংশ, সেটা হল কেন্দ্রীয় বকেয়া। হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা যে বকেয়া রয়েছে, তা তৃণমূল জমানায় পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, তৃণমূল জমানায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন থেকে তাতে দুর্নীতিরও অভিযোগ উঠেছিল। সূত্রের খবর, বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রকে শোধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই বিষয়গুলি অর্থমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

    শমীক ভট্টাচার্য কী বললেন?

    সীতারমনের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “৫০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন পরিযায়ীদের রাজ্য হয়ে গিয়েছে। পরিযায়ী হয়েই সবাই বাইরে চলে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় আজ সবথেকে নীচে এসে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের মহারাষ্ট্র, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর সঙ্গে একই পংক্তিতে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সোনার বাংলা তৈরির কথা দিয়েছেন। আমরা সোনার বাংলা তৈরি করব। আমাদের স্বপ্ন আছে এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে, পরিকল্পনা আছে। নির্মলাজি পশ্চিমবঙ্গকে এই অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে কী করে উত্তরণের পথ দেখাতে পারেন, সেই সম্পর্কে তিনি অভিহিত আছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। বাংলার শ্রীহীন অবস্থা থেকে রাজ্যকে বের করে আনা সম্ভব। তারজন্য যা করবার তিনি সেটা করবেন। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, গৃহমন্ত্রী সবাই মিলে আমরা এই অবস্থা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে নিঃসন্দেহে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে পারব।”

    তাঁত শিল্পের উন্নতিতে কথা

    সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির আলোচনায় আলাদা করে গুরুত্ব পেয়েছে তাঁত শিল্প এবং টেক্সটাইল হাব। এই বিশেষ সেক্টর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একদা বাংলার তাঁত ছিল জনপ্রিয়। এখন সেই শিল্প ধুঁকছে। কিন্তু রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার সেই ক্ষয়িষ্ণু শিল্পে গতি আনতে বদ্ধপরিকর। তাঁত শিল্পের বিকাশের জন্য আলাদা প্যাকেজ নিয়েও কথআ হয় এদিন।

    চা শিল্পের বিকাশ

    বাংলার চা শিল্পের বিকাশ এবং উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার৷ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নীতিতেই এ বার করা হবে রাজ্যের চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন—একথাও জানান বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য৷ শমীক বলেন, ‘বাংলার চা শিল্প একসময়ে গোটা দেশের গর্ব ছিল৷ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত আমাদের রাজ্যের চা৷ তৃণমূল সরকারের কার্যকালে রাজ্যের চা শিল্প ধুঁকতে শুরু করেছে৷ গত ১৫ বছরে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের বিকাশের জন্য বাস্তবে কোনও গঠনমূলক প্রকল্প প্রণয়ন করেনি তৃণমূল সরকার৷ ফলে একের পর চা বাগান দিনে দিনে আর্থিক কষ্টে জর্জরিত হয়ে রুগ্ন হয়ে পড়েছে৷ তারপরেও হুঁশ ফেরেনি বিগত সরকারের৷’তাঁর সংযোজন, ‘রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের রুটিরুজি যে শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তাকে শেষ হতে দেবো না আমরা৷ কেন্দ্রীয় প্যাকেজকে কাজে লাগিয়ে উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলির সার্বিক বিকাশ ত্বরান্বিত করবে রাজ্য সরকার৷’

    বাংলার বকেয়া-সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ

    রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল বেরোলে দেখা যায়, গেরুয়া ঝড়ে কার্যত শোচনীয় অবস্থায় হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে বারবার এখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে গেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা। শুধু তা-ই নয়, এই পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে তুলে আনার জন্য ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গড়ার আহ্বান জানান তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শহরা বাংলাকে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর, শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলার বকেয়া-সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হবে সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও কথা বলবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নির্মলা সীতারমন।

     

     

     

     

     

  • Modi Rubio Meeting: ভারত ও আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা, মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ রুবিওর

    Modi Rubio Meeting: ভারত ও আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা, মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের আবহে চার দিনের ভারত সফরে এসেছেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Modi Rubio Meeting)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানালেন তিনি। শনিবার কলকাতা (Marco Rubio in India) থেকে ভারত সফর শুরু করলেন রুবিও। এদিন দুপুরে দিল্লি পৌঁছোন তিনি। রাজধানীতে নেমে সেবাতীর্থে মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন রুবিও। এক ঘণ্টার বেশি বৈঠক হয় দুই রাষ্ট্রনেতার। বৈঠক শেষে এক্স পোস্ট করে মোদি জানান কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে রুবিওর সঙ্গে।

    কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা

    রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স পোস্টে লেখেন, ‘‘আমরা ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। শুধু তা-ই নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও।’’রুবিওর এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তিনি জানান, এই সফর কোনও সম্পর্ক মেরামতের উদ্দেশ্যে নয়। বরং দুই বিশ্বস্ত অংশীদারের মধ্যে যোগাযোগের প্রতিফলন। তিনি এ-ও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। আসন্ন কোয়াড সম্মেলন নিয়েও আশাবাদী সার্জিও। তিনি জানান, ওই সম্মেলনে অনেক কিছু আলোচনার আছে। আশা করা যায়, ইতিবাচক ফলাফল বেরোবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘দূরদৃষ্টির’ প্রশংসাও করেছেন সার্জিও।

    গত ১৪ বছরে এই প্রথম কলকাতায়

    শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতায় এসে পৌঁছোন রুবিও (Marco Rubio in India)। গত ১৪ বছরে এই প্রথম আমেরিকার কোনও বিদেশসচিব পশ্চিমবঙ্গে এলেন। শেষ বার কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব হিসাবে এসেছিলেন হিলারি ক্লিন্টন। ২০১২ সালে এই মে মাসেই তিনি কলকাতায় পা রাখেন। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সোজা চলে যান তালতলার মাদার হাউসে। সেখানে ঘণ্টাখানেক থাকার পর রুবিও যান নির্মলা শিশুভবনে। এর পর কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন রুবিও। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত রুবিও ভারতে থাকবেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, দিল্লি ছাড়াও তাঁর আগরা, জয়পুরে যাওয়ার কথা রয়েছে। চলতি মাসেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটে গিয়েছে। প্রথম বার এ রাজ্যে সরকার গঠন করেছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমেরিকার বিদেশসচিবের এই কলকাতা সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

    কোয়াড বৈঠকে অংশ

    শুধু কলকাতা নয়, পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের আবহে রুবিওর ভারত সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ভারত বরাবর আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় সমস্যার সমাধান এবং শান্তি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেছে। হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও বার বার দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। উল্লেখ্য, ভারত সফরের শেষ দিনে অর্থাৎ, ২৬ মে কোয়াডের বৈঠকে যোগ দেবেন রুবিও। তাঁর ভারত সফরে আসার অন্যতম উদ্দেশ্য ওই বৈঠক। কোয়াডের সদস্য দেশ অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং, জাপানের বিদেশমন্ত্রী মোটেগি তোশিমিৎসুর সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সেই বৈঠকে থাকবেন।

  • Yuva Bharati Krirangan: ক্রীড়ামন্ত্রীর নির্দেশের পরই সরল যুবভারতীর সামনের সেই ‘বিদঘুটে’ মূর্তি

    Yuva Bharati Krirangan: ক্রীড়ামন্ত্রীর নির্দেশের পরই সরল যুবভারতীর সামনের সেই ‘বিদঘুটে’ মূর্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুবভারতী স্টেডিয়ামের (Yuva Bharati Krirangan ) সামনে থেকে সরিয়ে ফেলা হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনা এবং নকশায় তৈরি মূর্তি। ২০১৭ সালে যুব বিশ্বকাপের সময় ‘বিদঘুটে’ এই বিতর্কিত মূর্তিটি বসানো হয়। আইএসএলের ডার্বি দেখতে গিয়ে মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার কথা বলেছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। কাজ শুরু হতে বেশি দেরি হল না। শনিবার সকালে নির্দেশমতো সেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই মূর্তিতে কোমর থেকে পা পর্যন্ত শরীরের উপর পৃথিবী এবং তার উপর বিশ্ববাংলার লোগো ছিল। দু’পায়ে ছিল দু’টি ফুটবল। প্রথম থেকেই এই মূর্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। পায়ের বলে লেখা ‘জয়ী’।

    শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে ওই মূর্তি

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই মূর্তির নকশা তৈরি করেছিলেন। ‘অনর্থক’ এই মূর্তি তৈরির পর থেকেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। ওই মূর্তিটির যে কী অর্থ, তা বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে পরিষ্কার ছিল না। রাজ্যে পালাবদলের পর ১৭ মে যুবভারতীতে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বি দেখতে গিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিশীথ বলেছিলেন, “এরকম অদ্ভূত বিদঘুটে একটা মূর্তি, একটা কাটা পা তার ওপর ফুটবল । আমার তো মনে হয় এই মূর্তি লাগানোর পর থেকেই আগের সরকারের খারাপ দিন আসা শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপর মেসি কাণ্ড হল, সরকার চলে গেল।” তখনই জানিয়ে দিয়েছিলেন পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে মূর্তিটা ভেঙে দেওয়া হবে।

    বসানো হবে কোনও ফুটবলারের মূর্তি

    মন্ত্রীর ইঙ্গিত মতোই শুক্রবার মধ্যরাতে সরিয়ে ফেলে হয়েছে মূর্তিটি। তবে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা হয়নি। মূর্তির দু’পায়ের মোজার উপরের অংশ কেটে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও এক জোড়া মোজা এবং জুতোর সঙ্গে দু’টি বল থেকে গিয়েছে। বাকি অংশটিও সম্ভবত সরিয়ে দেওয়া হবে। সেই স্থানে কোনও ফুটবলারের মূর্তি বসানো হতে পারে বলে চর্চা চলছে। ডার্বির রাতেই নিশীথ বলেছিলেন, “আমরা এমন একটা মূর্তি যার কোনও অর্থ নেই, আমরা সেটা পরিবর্তন করব। এর বদলে বিখ্যাত কোনও ফুটবলারের মূর্তি বসানো হবে।”

     

  • One Nation One Election: ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা! ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবের পক্ষে যৌথ সংসদীয় কমিটি

    One Nation One Election: ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা! ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবের পক্ষে যৌথ সংসদীয় কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন চালু হলে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। এর ফলে দেশের জিডিপি ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে দাবি করলেন যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) চেয়ারম্যান পিপি চৌধুরী। সম্প্রতি, গান্ধীনগরে গুজরাট সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ (One Nation One Election) প্রস্তাবের পক্ষে এই বক্তব্য রাখেন। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের সমকালীন আয়োজন নিয়ে গঠিত ৪১ সদস্যের সংসদীয় কমিটি বর্তমানে সংবিধানের ১২৯তম সংশোধনী বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল খতিয়ে দেখছে। গুজরাট সফরের তৃতীয় দিনে কমিটির সদস্যরা মুখ্যসচিব এম কে দাস, বিভিন্ন দফতরের সচিব এবং বিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

    জিডিপি ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি

    বৈঠকের পর পিপি চৌধুরী জানান, গুজরাট সরকার এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে মতামত দিয়েছে, যা আগে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা রাজ্য সরকারকে একটি বিস্তৃত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছি, যা ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যগুলির জন্যও আদর্শ মডেল হতে পারে।” চৌধুরীর মতে, ওই রিপোর্টে শিল্প, শ্রমিকদের স্থানান্তর, কর্মসংস্থান, জিএসটি সংগ্রহ, পর্যটন, শিক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর একসঙ্গে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতিবিদদের মতে, একযোগে নির্বাচন হলে দেশের জিডিপি ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সেই অর্থ পরিকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্রকল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।”

    নির্বাচনী সংস্কার দেশের উপকারে আসা উচিত

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে জেপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “নির্বাচনী সংস্কার দেশের উপকারে আসা উচিত— এটাই প্রধানমন্ত্রী মোদির লক্ষ্য। সেই কারণেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিও একসঙ্গে নির্বাচন করার সুপারিশ করেছে।” তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক কাঠামো বা ফেডারেল ব্যবস্থার উপর এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেই মত দিয়েছেন দেশের ছয়জন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। চৌধুরীর কথায়, “তাঁরা জানিয়েছেন, এতে মৌলিক অধিকার, ফেডারেল স্ট্রাকচার বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কোনও লঙ্ঘন হবে না।”

    ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবকে সমর্থন

    চৌধুরী আরও জানান, কোবিন্দ কমিটির প্রায় ১৮ হাজার পাতার রিপোর্ট সরকার গ্রহণ করেছে। ওই রিপোর্টে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচন আয়োজনেরও সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “বারবার নির্বাচনের চক্র কমলে সরকার উন্নয়ন, দারিদ্র দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কাজে আরও বেশি সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে পারবে।” এর আগে আমেদাবাদে পৌঁছে তিনি বলেন, আইন কমিশন, নীতি আয়োগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে। এই বিষয়ে মতামত সংগ্রহের জন্য জেপিসি ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও কর্নাটক সফর করেছে। চৌধুরী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সব পক্ষের মতামত শোনা এবং সর্বসম্মত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করা।”

  • Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার আতসকাচের নীচে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের (Abhishek Illegal Construction) কোম্পানি, তাঁর পরিবারের সদস্য়দের সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে অভিষেককে। অথচ এই নোটিসের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, এমনটাই দাবি করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নোটিসকাণ্ডের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন বহু তৃণমূল নেতা।

    অভিষেকের জবরদখল!

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। তিনি বলেছেন, “ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টি।” রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুরসভা। নোটিস পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের একের পর এক ঠিকানায়। কোনওটার বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। আবার কোনও সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে দেওয়া হয় নোটিস।

    জানতেন না ফিরহাদ!

    কলকাতা পুরসভার এই নোটিসকাণ্ড নিয়ে একরকম হাত তুলে নেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “মেয়রকে জানানোর কথাই নয়। তার কারণ হচ্ছে, নোটিসটা হচ্ছে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।” কখনও আবার মেয়রের গলায় কার্যত শোনা যায় ক্ষোভের সুর। তিনি বলেন, “ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কারণ, আমি কোনও ইজারা নিইনি।”

    অভিষেকের থেকে দূরত্ব বজায়

    অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। এই নোটিস-পর্বের মধ্যেই বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সংস্থা ও আত্মীয়দের সম্পত্তির নামে কলকাতা পুরসভা নোটিস দেওয়ার পর তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করেন বহু নেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “এই বাড়ি, এই বিষয়টা, বাড়ি, নোটিস ইত্যাদি যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি।” তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক বুঝবে, আমি কী করে বলব ? ববি কিছু জানতে পারে, আমি জানি না।”

    কোন কোন ঠিকানায় নোটিশ দিয়েছে পুরসভা?

    ১৮৮-এ শান্তিনিকেতন

    ১৮৮-এ, হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িতে নোটিস দিয়েছে পুরসভা এবং এই নোটিস দেওয়া হয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এখানে যেটা বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, সেটাকে সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা ডেভিয়েশন কেন হল সেটা জানাতে হবে। লিফট, এসকেলেটর, সেগুলোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো জানাতে হবে। না হলে কলকাতা পুরসভা নিজেই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। এবং ভেঙে দেওয়ার পর, তার যে খরচ, সেই খরচও যিনি হচ্ছেন মালিক তার থেকে আদায় করা হবে।

    ১১৯ কালীঘাট রোডের বাড়িতে

    ১১৯ কালীঘাট রোডের এই বাড়িতেও কলকাতা পুরসভার তরফে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে এই নোটিস করা হয়েছে।

    ১২১, কালীঘাট রোডের বাড়ি

    ১২১, কালীঘাট রোডের এই বাড়িতে সাত-সাতটা নোটিস পৌঁছেছে। যার মধ্যে পাঁচটি নোটিস লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, আর একটি শুধু লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণির ৩টি বাড়িতে

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে তিনটে ঠিকানায় নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এই গলির তিনটি প্রিমিসেস রয়েছে, যেখানে তিন জন অ্যাসেসিকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ৪৬-এর বি ও ২৯এ , ২৯-এর C  প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস করা হয়েছে।

    ওস্তাদ আমির খান সরণি ও পণ্ডিতিয়া রোড

    ১বি ওস্তাদ আমির খান সরণি এবং ৩৭ পণ্ডিতিয়া রোডের ঠিকানাতেও নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

    মেজাজ হারালেন অভিষেক

    অন্যদিকে, পৌরনিগম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। আর তা শুনেই রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিতে গিয়ে রেগে গেলেন। বললেন, “কলকাতা পৌরনিগমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, অবৈধ অংশটা কোথায়।” শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের পর বেরিয়ে আসছিলেন অভিষেক। তখনই তাঁর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পৌরনিগম, কী বলবেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে গাড়িতে উঠে যান অভিষেক। গাড়ির কাচ তোলা ছিল। তবে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকায়, একসময় গাড়ির কাচ নামান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, “আপনি জিজ্ঞাসা করে আসুন, কোন অবৈধ অংশ? যে অবৈধ অংশ মার্ক করে দেবে, উত্তর আমার থেকে নিয়ে যাবেন। যান।” বলেই গাড়ির কাচ তুলে দেন।

    কী বলছে বিজেপি?

    অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এত চুরি জোচ্চুরির বন্যার পর, যে লোকটা যাদের কাছে হিরো ছিল, সেই হিরোগিরি চুপসে গিয়েছে, এইসময় কেউ তাঁকে পৌরনিগমের নোটিস নিয়ে প্রশ্ন করে? এরকম কাটা ঘায়ে কেউ নুনের ছিটে দেয়? নিকটাত্মীয়র জোরে আইপ্যাক আর রাজ্যের প্রশাসন যদি স্যালুট না করত, তাহলে তো এমন হত না। স্বজনপোষণের বলে উনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আর যিনি এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর কাছ থেকে রাজনৈতিক কথা আশা করছেন কেন আপনারা?”

  • Modi-Suvendu Meeting: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Modi-Suvendu Meeting: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Modi-Suvendu Meeting)। মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। শুক্রবার দিনভর দিল্লিতে একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর। বিকেলের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি তুলে দেন তিনি। তাতে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা রয়েছে। এ ছাড়াও মোদির হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং আগামী দিনে রাজ্যের অগ্রগতির রূপরেখা নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, বাংলায় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সমন্বয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

    ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এ পশ্চিমবঙ্গ

    মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পরে শুভেন্দু এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সেবা করার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই আমার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। তাঁর উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং সর্বোপরি, আমাদের রাজ্যের অগ্রগতির প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকারের জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনার সময়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে, সবার বিকাশ) এই রূপকল্পের উপর পুনরায় জোর দেন এবং পুনর্ব্যক্ত করেন যে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বছরের পর বছর ধরে চলা স্থবিরতা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে উদ্ধার করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং যুব ক্ষমতায়নের দ্রুত পথে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য, নির্দেশনা এবং কেন্দ্রীয় সমর্থনের আশ্বাস দেওয়ায় আমি তাঁর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। কেন্দ্রের আশীর্বাদ এবং জনগণের আস্থায়, আমরা পশ্চিমবঙ্গের জন্য দ্বৈত-ইঞ্জিন প্রবৃদ্ধি, স্বচ্ছ শাসন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের এক নতুন যুগের সূচনা করতে প্রস্তুত’।

    রাজনাথের প্রশংসা

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম বার নয়াদিল্লি গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার ১০টা নাগাদ রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। দেখা করেন উপরাষ্ট্রপতি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গেও। দেখা করেন সুনীল বনশালের সঙ্গেও। শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাজনাথ সিং লেখেন, “বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হল। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন ব্যক্তি তিনি। শুভেন্দু বাংলাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেই আমি আত্মবিশ্বাসী।” শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

    রীতি মেনে মোদি-শুভেন্দু সাক্ষাত

    গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীও। তার পরে বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন মোদি। তিনি দেশে ফেরার পরেই তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, বিজেপির রীতি অনুযায়ী, দলের কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। নিজের রাজ্যের দাবিদাওয়া তাঁর কাছে তুলে ধরেন। মনে করা হচ্ছে, সেই রীতি মেনেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি শাসিত সরকারকে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের উন্নয়নের গতিপথ কোন দিশায় এগোবে, সে বিষয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ পরামর্শ দেন মোদি।

    বাংলার উন্নতিতে ডবল ইঞ্জিন সরকার

    রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে শুভেন্দুর সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে। নির্বাচনী প্রচারে এসে মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকার কী কী কাজ করেছে এখনও পর্যন্ত তাঁর হিসেবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমানে ঋণের ভারে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজ্যের আয়ের বড় অংশই ঋণের সুদ ও কিস্তি শোধে ব্যয় হচ্ছে। এই আবহে রাজ্যের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের পরবর্তী ভাবনা এবং সে ক্ষেত্রে রাজ্যের আশু কর্তব্য কী হতে পারে, তা-ও এই আলোচনায় উঠে এসেছে, বলে খবর। এ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প স্থাপন-সহ অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে বড়সড় বিনিয়োগ টানতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আগামী দিনে কীভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে, তা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে সদর্থক আলোচনা হয়।

  • High Court on Slaughter: রাজ্যের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ নয়, পশু জবাই নিয়ে ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ওপর ছাড়ল হাইকোর্ট

    High Court on Slaughter: রাজ্যের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ নয়, পশু জবাই নিয়ে ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ওপর ছাড়ল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে ইদ-উল-আজহা বা বকরি ইদের আগে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র , তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান-সহ একাধিক আবেদনকারী। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “গরু কোরবানি ইসলাম ধর্মের আবশ্যিক ধর্মীয় প্রথা নয়।” সেই সঙ্গে আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দিতেও অস্বীকার করেছে। আদালত জানিয়েছে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    সরকারের বিজ্ঞপ্তি

    গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মোষ জবাই করতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া “অযোগ্যতার শংসাপত্র” প্রয়োজন হবে এবং শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই জবাই করা যাবে। বলা হয়েছে, যে বা যিনি ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশুপত্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের নিয়ম লঙ্ঘন করবেন, তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাবাস বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, অথবা উভয় সাজাই দেওয়া হতে পারে।

    কারা কারা আদালতের দ্বারস্থ হন

    প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। ‘রামকৃষ্ণ পাল বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও একাধিক আবেদন। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের প্রতিনিধিরা, গবাদি পশু ব্যবসায়ী এবং অন্যান্যরা। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, সরকারি বিধিনিষেধ সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। তাঁদের বক্তব্য, ইদ-উল-আজহায় কোরবানির জন্য বড় পশু জবাই বহু মুসলিম পরিবারের কাছে অর্থনৈতিকভাবে জরুরি, কারণ উৎসবের আগে ছাগল ও ভেড়ার দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী শাদান ফারাসত আদালতে যুক্তি দেন, ইসলামে কোরবানির জন্য সুস্থ পশু বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে, অসুস্থ বা অক্ষম পশু নয়। তাই ইদ-উল-আজহার ক্ষেত্রে ১৯৫০ সালের আইনের ১২ নম্বর ধারার অধীনে ছাড় দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

    রিভিউ না চেয়ে কেন বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ?

    পাল্টা রাজ্যের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, রাজ্য সরকার নিজে উদ্যোগী হয়ে কিছু করেনি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্যের প্রশ্ন, ‘কেউ হাইকোর্টের সেই মূল নির্দেশের রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা চায়নি, সবাই শুধু বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এটি রাজ্যের একটি ‘পলিসি ডিসিশন’ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা জনস্বার্থ মামলায় এ ভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।’ কলকাতা পুরসভার (KMC) পক্ষ থেকে বলা হয়, এই বিজ্ঞপ্তি হুট করে দেওয়া হয়নি। প্রতি বছরই নিয়ম মেনে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন করা হয়। তারা আরও জানিয়েছে, আইন ভাঙার দায়ে ইতিমধ্যেই ৬১০টি ঘটনায় পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরিকাঠামোর অভাবের কথাও মানতে চায়নি কলকাতা পুরসভা। তারা জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব চিহ্নিত কসাইখানা, পরিকাঠামো এবং কর্মী-চিকিৎসক রয়েছে।

    “অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন” নয়

    আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্ট আগেই রায় দিয়েছে যে ইদ-উল-আজহায় গরু কোরবানি “অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন” নয়। সেই কারণে রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করার কোনও ভিত্তি নেই। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ২০১৮ সালের একটি মামলায় হাইকোর্টের সমন্বয় বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছিল, বর্তমান বিজ্ঞপ্তি মূলত তারই বাস্তবায়ন। হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকার যেন বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত দুটি নতুন শর্ত যোগ করে—
    ১) খোলা বা জনসমক্ষে কোনও পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
    ২) ইদ-উল-আজহার সঙ্গে গরু কোরবানি ধর্মীয়ভাবে আবশ্যিক নয়— এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

    পশু হত্যার অনুমতি মিলবে কী করে?

    পুরসভার চেয়ারম্যান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন পশু চিকিৎসকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তাঁদের যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন। যদি তাঁরা উভয়েই নিশ্চিত হন ও লিখিতভাবে মত প্রকাশ করেন যে পশুটি ১৪ বছরের বেশি বয়স্ক ও কাজ বা প্রজননের পক্ষে অনুপযুক্ত তখন তাঁরা শংসাপত্র দেবেন। কোনও ব্যক্তিকে যদি এই শংসাপত্র দিতে কেউ অস্বীকার করা হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি উক্ত শংসাপত্র না পাওয়ার ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন।

    ছাড় দেওয়া যায় কিনা, বিবেচনা করুক সরকার

    বকরি ইদে ‘ধর্মীয় কারণে’ গো বলিতে ছাড় দেওয়া যায় কিনা, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খতিয়ে দেখতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে বকরি ইদকে সামনে রেখে কসাইখানা চালানো ও গো বলি নিয়ে দায়ের ১১ মামলার শুনানি শেষে রাজ্যের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিই বজায় রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খারিজ করেছে মামলাকারীদের বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানিয়েছে, যেহেতু ১৯৫০ সালের এই সংক্রান্ত আইনে ধর্মীয়, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো কারণে পশু বলিতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাই এই ক্ষেত্রে ধর্মাীয় কারণে ছাড় দেওয়া যায় কিনা, তা বিবেচনা করুক সরকার। অর্থাৎ, এই বিষয়ে বল এখন রাজ্যের কোর্টেই। রাজ্যকে শংসাপত্র ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মামলা চলবে, কিন্তু আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। হাইকোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে, বিহার রাজ্য সরকার বনাম মহম্মদ হানিফ কুরেশির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের কথা। শীর্ষ আদালত বলেছিল, গরু জবাই ইদ-উজ-জোহার অংশ নয়, ইসলামে তা ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তাও নয়।

  • ISL Champion East Bengal: ঐতিহাসিক জয়! প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলকে অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    ISL Champion East Bengal: ঐতিহাসিক জয়! প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলকে অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুটবল মানেই বাংলা, আর বাংলা মানেই ফুটবল। প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল (ISL Champion East Bengal) ক্লাবকে শুভেচ্ছা বার্তায় লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২২ বছর পর ফের ভারতসেরা হয়েছে লাল হলুদ শিবির। শুধু ইস্টবেঙ্গল ক্লাবই নয়। খেতাব জিততে না পারলেও রানার্স আপ হয়েছে গঙ্গা পাড়ের কলকাতার আরও একটি ঐতিহ্যশালী ক্লাব মোহনবাগান সুপারজায়ান্টস। বাংলার দুটো সেরা ক্লাবকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যোগ্য দল হিসেবে ভারতসেরা হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবশেষে স্বপ্নপূরণ হল লাল-হলুদ শিবিরের।

    মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা

    নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, ‘‘ঐতিহাসিক জয়! ইস্টবেঙ্গল এফসি-কে ভারতীয় সুপার লিগ (ISL) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের এই গৌরবময় মুহূর্ত শুধু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ তথা বিশ্বের অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী বাঙালির জন্য গর্বের। বাংলার সমৃদ্ধ ফুটবল ঐতিহ্য আজ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। টিমের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ক্লাব কতৃপক্ষের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও লড়াইয়ের মানসিকতাই এই দুরন্ত সাফল্যের চাবিকাঠি। একইসঙ্গে মোহনবাগানকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। সমান পয়েন্ট নিয়ে দুর্দান্ত লড়াই করেও গোল পার্থক্যের কারণে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছে তারা। সবুজ-মেরুন ব্রিগেডও বাংলার ফুটবল গৌরবকে সমানভাবে উজ্জ্বল করেছে। ফুটবল মানেই বাংলা, আর বাংলা মানেই ফুটবল। দুই প্রধান দলই আজ বাংলার সম্মান আরও বাড়িয়ে দিল।’’

    চ্যাম্পিয়নের দৌড়

    অবশেষে ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ১৪ মিনিটে ইন্টার কাশীকে এগিয়ে দেন আলফ্রেড। প্রথমার্ধে পিছিয়েই ছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো ফিরে আসে অস্কার বাহিনী। ৪৯ মিনিটে সমতা ফেরান ইউসেফ। ৭২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মহম্মদ রশিদ। ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের পাশাপাশি মোহনবাগানেরও সুযোগ ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তার জন্য ইস্টবেঙ্গলকে পয়েন্ট নষ্ট করতে হত। পাশাপাশি জিততে হত বাগানকে। যুবভারতীতে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জিতল মোহনবাগান। গোল করলেন মনবীর সিংহ ও জেমি ম্যাকলারেন। ইস্টবেঙ্গলের মতোই ২-১ গোলে জিতল বাগান। দু’দলই ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্টে শেষ করল। কিন্তু গোলপার্থক্যে এগিয়ে থাকায় জিতল ইস্টবেঙ্গল। মহমেডানের বিরুদ্ধে ৭-০ গোলে জেতার সুবিধা পেল তারা। সমান পয়েন্ট পেয়েও দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল গত দু’বারের চ্যাম্পিয়নেরা। পঞ্জাব এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিন নম্বরে শেষ করল মুম্বই সিটি এফসি। লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে সোনার বুট জিতলেন ইস্টবেঙ্গলেরই ইউসেফ এজ্জেজারি।

LinkedIn
Share