Author: ishika-banerjee

  • Nationwide Bank Strike: তিন দিনের দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘট স্থগিত, পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে গঠিত হবে কমিটি

    Nationwide Bank Strike: তিন দিনের দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘট স্থগিত, পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে গঠিত হবে কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ মুহূর্তে আলোচনায় মিলল সমাধান। ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (IBA)-এর সঙ্গে রবিবার রাতে বৈঠকের পর প্রস্তাবিত তিন দিনের দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘট (Nationwide Bank Strike) স্থগিত করল ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (UFBU)। ফলে সোমবার থেকে ব্যাঙ্কের শাখাগুলি স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে। এর ফলে অর্ধবার্ষিক হিসেব বন্ধের সময় সম্ভাব্য পরিষেবা-বিঘ্নও আপাতত এড়ানো গেল। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ধর্মঘটের (Bank Strike Deferred) ডাক দিয়েছিল ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির যৌথ সংগঠন ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স। মূল দাবি ছিল পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা, অর্থাৎ প্রতি শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ রাখা।

    কী সিদ্ধান্ত হল?

    আলোচনার পর ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে। এই কমিটি ব্যাঙ্কের বাকি শনিবারগুলিকেও ছুটির আওতায় আনার দাবি খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হবে এবং গ্রাহক-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের ব্যাঙ্কগুলি প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার বন্ধ থাকে। তবে রবিবারের বৈঠকের সিদ্ধান্তে এখনই পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হচ্ছে না। কমিটি কবে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে, তারও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এছাড়াও স্কেল-৪ এবং তার ঊর্ধ্বতন স্তরের ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের জন্য পারফরম্যান্স-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) নিয়েও আলোচনা চালানোর বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। ইউনিয়নগুলির আপত্তি বিবেচনা করে সরকারি প্রকল্পে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে আইবিএ।

    কেন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ইউনিয়নগুলি?

    দীর্ঘসময় ধরে কাজ এবং কাজের চাপের কথা উল্লেখ করে সব শনিবার ছুটির দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স। ইউনিয়নগুলির দাবি, গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে, সরকারি সূত্রের বক্তব্য ছিল, পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। আগের বেতন সংক্রান্ত আলোচনাতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আগের দফার আলোচনায় সমাধান না হওয়ায় ইউনিয়নগুলি ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি দাবি পূরণ না হলে ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। তবে রবিবারের সিদ্ধান্তের পর সেই আন্দোলনও আপাতত স্থগিত থাকছে। নতুন কোনও ধর্মঘটের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

    গ্রাহকদের জন্য কী পরিবর্তন?

    তিন দিনের ধর্মঘট (Nationwide Bank Strike) হলে ব্যাঙ্ক পরিষেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারত। বিশেষ করে অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময় ধর্মঘট হওয়ায় গ্রাহকদের লেনদেন ও অন্যান্য ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে অর্থ মন্ত্রকের তরফে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলিকে রবিবার শাখা খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যাতে ধর্মঘটের আগে গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে পারেন। তবে ধর্মঘট আপাতত স্থগিত হওয়ায় সোমবার থেকে ব্যাঙ্কের শাখাগুলিতে স্বাভাবিক পরিষেবা চালু থাকার কথা। পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ এবং অন্যান্য দাবিগুলি নিয়ে আইবিএ ও ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির মধ্যে আগামী দিনে আরও আলোচনা চলবে।

  • Turkey Buys Diesel From India: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের নজর ভারতের ডিজেলে, কেন বদলাচ্ছে জ্বালানি সরবরাহের সমীকরণ?

    Turkey Buys Diesel From India: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের নজর ভারতের ডিজেলে, কেন বদলাচ্ছে জ্বালানি সরবরাহের সমীকরণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র তুরস্ক এবার রেকর্ড পরিমাণ ডিজেল (Turkey Buys Diesel From India) আমদানি করল ভারত থেকে। ২০২৬ সালের আগস্টে ভারত থেকে তুরস্কের ডিজেল আমদানি ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিনেরও বেশি হয়েছে বলে পণ্যবাজার সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার জানিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এটিই তুরস্কে ভারতীয় ডিজেল রফতানির সর্বোচ্চ মাসিক স্তর। তুরস্কের জ্বালানি বাজারে এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এতদিন রাশিয়াই ছিল দেশটির ডিজেলের প্রধান সরবরাহকারী। কিন্তু রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের শোধনাগারগুলিতে যুদ্ধজনিত বিঘ্ন এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণে তুরস্ককে বিকল্প উৎসের দিকে তাকাতে হচ্ছে। সেই জায়গাতেই ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ভারত।

    রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহে বড় ধাক্কা

    তুরস্কের ডিজেল আমদানিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার আধিপত্য ছিল। ২০২৫ সালে তুরস্কের মোট ডিজেল আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এসেছিল রাশিয়া থেকে। তুরস্কের এনার্জি মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (EMRA)-র তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়া থেকে তুরস্কে প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ ৮১ হাজার ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর মস্কো ডিজেল রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে তুরস্কে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ জুলাইয়ে কমে প্রায় ১ লক্ষ ব্যারেল এবং আগস্টে প্রায় ৮০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন হয়েছে। আগস্টে তুরস্কের ডিজেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশও নেমে এসেছে প্রায় ২০ শতাংশে।

    ভারতের ডিজেল রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    এই ঘাটতি পূরণে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভারত থেকে তুরস্কে প্রতিদিন ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেলের বেশি ডিজেল গিয়েছে। অন্য একটি সংস্থা এনার্জি অ্যাসপেক্টস অবশ্য এই পরিমাণ প্রায় ৭৪ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন বলে অনুমান করেছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই ভারতের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। ডালাসের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ আনাস আলহাজ্জি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আগস্টে তুরস্কে ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বছরে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। তাঁর মতে, এই সরবরাহের বড় অংশ এসেছে রিলায়েন্সের কাছ থেকে। ২০২৫ সালে ভারত তুরস্কে মোট ৫ লক্ষ ৬২ হাজার ৪২১ টন ডিজেল রফতানি করেছিল। রাশিয়া ও মিশরের পর ভারত ছিল তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম ডিজেল সরবরাহকারী।

    শুধু ভারত নয়, আমেরিকাও বাড়িয়েছে সরবরাহ

    তুরস্কের বিকল্প জ্বালানি উৎসের তালিকায় শুধু ভারতই নেই। আগস্টে আমেরিকা থেকেও তুরস্কে ডিজেল সরবরাহ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা থেকে তুরস্কে প্রতিদিন প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল ডিজেল এসেছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের হিসাব কিছুটা কম—প্রায় ৭০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন। তবুও ২০১৯ সালের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ মাসিক সরবরাহ। অর্থাৎ রাশিয়ার সরবরাহ কমতেই তুরস্ক একাধিক বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল সংগ্রহ শুরু করেছে।

    ভারত কীভাবে এত ডিজেল রফতানি করছে?

    ভারত নিজে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। কিন্তু দেশের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন ক্ষমতা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে তা শোধন করে ডিজেল, পেট্রল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যে রূপান্তর করে ভারতীয় সংস্থাগুলি বিদেশে রফতানি করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরিকাঠামো ভারতের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলির উৎপাদিত ডিজেলের জন্য নতুন বাজার তৈরি হয়েছে। ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভারতের সামগ্রিক পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৮.৮ শতাংশ এবং অ-তেল পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৪.৪ শতাংশ। টানা তিন বছর পতনের পর ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে এই বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য।

    রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের যোগসূত্রও

    ভারতের বাড়তে থাকা ডিজেল রফতানির সঙ্গে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে ভারতীয় শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনেছে। সেই অপরিশোধিত তেল ভারতে শোধন করে ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরপর সেই পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৭.৩ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। জুলাইয়ে এই পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২৫.৭ লক্ষ ব্যারেল প্রতিদিন। অর্থাৎ ভারত একই সময়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ রফতানিকারক। তবে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত ডিজেলকে একই পণ্য হিসেবে দেখা যায় না। ভারতে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা অপরিশোধিত তেল শোধনের পর উৎপাদিত ডিজেল একটি পৃথক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পণ্য। কোন দেশে সেটি বিক্রি হবে, তা নির্ধারিত হয় চাহিদা, দাম, পরিবহণ খরচ এবং সরবরাহের পরিস্থিতির উপর।

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও কি রয়েছে?

    তুরস্কের সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের পিছনে ভূ-রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ বাড়ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026-এ রুশ অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা কিছু দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল ক্রেতা ভারত। নতুন মার্কিন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছেন, দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর এর প্রভাব ভারত পর্যালোচনা করবে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের পক্ষেও সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কেন ভারতের দিকে তাকাচ্ছে তুরস্ক?

    সমীকরণটি আপাতদৃষ্টিতে সরল। তুরস্কের ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহও বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত। অন্যদিকে ভারত ও আমেরিকার কাছে অতিরিক্ত পরিশোধিত জ্বালানি রয়েছে। ভারতের বিশাল শোধন ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে তা ডিজেলে রূপান্তরের সক্ষমতা দেশটিকে এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারীতে পরিণত করেছে। ফলে আগস্টে তুরস্কে ভারতীয় ডিজেলের রেকর্ড রফতানি মূলত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহের পরিবর্তিত সমীকরণেরই প্রতিফলন। রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় তুরস্ক নতুন উৎস খুঁজছে, আর সেই সুযোগে ভারতীয় শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের ভারত থেকে রেকর্ড ডিজেল কেনার ঘটনাটি তাই শুধু একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়; রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

  • Jaishankar on UN Reform: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারে বাধা দেওয়া দেশগুলি বিশ্ব সংস্থাকে ‘ব্যবহার করে’, গুরুত্ব দেয় না! বার্তা জয়শঙ্করের

    Jaishankar on UN Reform: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারে বাধা দেওয়া দেশগুলি বিশ্ব সংস্থাকে ‘ব্যবহার করে’, গুরুত্ব দেয় না! বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমশই ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar on UN Reform)। তাঁর অভিযোগ, যে দেশগুলি রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের পথে বাধা দিচ্ছে, তারা এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, কিন্তু আদতে রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কোনও আগ্রহ নেই।

    রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোয় পরিবর্তন জরুরি

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।” তাঁর মতে, গুরুতর সংস্কার করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন লিখিত খসড়া বা ‘টেক্সট-বেসড নেগোশিয়েশন’। কারণ, কোনও লিখিত প্রস্তাব ছাড়া প্রকৃত অর্থে আলোচনা সম্ভব নয়। ‘Ruptures & Ramparts: Building Bridges for a Changing World’ শীর্ষক ওই আলোচনার আয়োজন করেছিল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ORF), রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন, রাষ্ট্রসংঘের ভারতীয় দফতর এবং রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশন। অনুষ্ঠানে আলোচনা পরিচালনা করেন অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি সমীর সরণ। উপস্থিত ছিলেন জামাইকার বিদেশমন্ত্রী কামিনা জনসন স্মিথ, সুরিনামের বিদেশমন্ত্রী মেলভিন বুভা, ঘানার বিদেশমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুডজেটো আব্লাকওয়া এবং ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও সেলেস্ট কনর্স।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকবেই

    জয়শঙ্কর বলেন,“প্রতি বছরই নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্রসংঘ সংস্কারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এবার সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের হতাশা বাড়ছে। কারণ, কোনও লিখিত খসড়া ছাড়া আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শুধু সময় নষ্ট করার জন্য আলোচনা চলতে পারে না।” রাষ্ট্রসংঘ সংস্কারের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আপনি সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সংস্কার করতে পারবেন না।’’ তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকবেই এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে তার আগে প্রত্যেক পক্ষকে নিজেদের মতামত পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।

    সংস্কারের জন্য খসড়া তৈরি জরুরি

    জয়শঙ্কর বলেন, রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের জন্য একটি খসড়া তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সেই খসড়ায় সব দেশের মতামত ও প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সমাধানে পৌঁছতে হবে। রাষ্ট্রসংঘের বর্তমান কাঠামো নিয়েও সরব হন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বিশ্বের বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় রাষ্ট্রসংঘ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তবে রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের দাবি তোলা মানেই রাষ্ট্রসংঘ-বিরোধী হওয়া নয়। বরং যারা রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই চিন্তিত, তারাই সংস্থাটিকে আরও কার্যকর করে তুলতে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।

    রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে

    গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাও আগের তুলনায় বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, এই দেশগুলি নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও সম্পদ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে পুরনো নির্ভরতার কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর ফলে বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বও আরও শক্তিশালী হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে একজন মহিলাকে নির্বাচিত করার ভাবনা কোনও উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি নিচ থেকে উঠে আসা একটি ধারণা।

    কেন নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার প্রয়োজন

    এদিকে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে নিজের শেষ ভাষণেও মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করতে হবে এবং এর বৈধতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিতে সরব ভারত। ১৯৪৫ সালে গঠিত ১৫ সদস্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ একবিংশ শতকের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় না বলে ভারতের বক্তব্য। তাই স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের সদস্যপদই সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবিও ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে এসেছে ভারত। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য অস্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্যও ভারত প্রার্থী হয়েছে। আগামী বছর জুনে এই পদের নির্বাচন হওয়ার কথা।

    জয়শঙ্করের কূটনৈতিক তৎপরতা

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জয়শঙ্কর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদেশমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। বৃহস্পতিবার পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। মালদ্বীপের বিদেশমন্ত্রী ইরুথিশাম আদমের সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরাকের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি ভারত ও ইরাকের অর্থনৈতিক এবং জ্বালানি সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।

    আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    এস্তোনিয়ার বিদেশমন্ত্রী মার্গুস তসাখনার সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও এস্তোনিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। জয়শঙ্কর জানান, চলমান ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাও আলোচনায় উঠে আসে। ঘানার বিদেশমন্ত্রী স্যাম ওকুজেতো আব্লাকওয়ার সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়। ব্রিটেনের বিদেশসচিব এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে বৈঠকে সংঘাতের কারণে খাদ্য ও জ্বালানি ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। তাজিকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী সিরোজিদ্দিন মুহরিদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভারত-তাজিকিস্তানের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও বার্বাডোসের বিদেশমন্ত্রী ক্রিস্টোফার পিটার সিনকলেয়ার, আর্মেনিয়ার বিদেশমন্ত্রী আরারাত মির্জোয়ান এবং সিঙ্গাপুরের বিদেশমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ধারাবাহিক এই বৈঠকগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউক্রেন সংঘাত, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Asian Games 2026: ইতিহাস সুরুচি-কমলজিতের! হকিতে জয় মেয়েদের, এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে সোনা-রুপো ভারতের

    Asian Games 2026: ইতিহাস সুরুচি-কমলজিতের! হকিতে জয় মেয়েদের, এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে সোনা-রুপো ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) শেষ পর্যন্ত শুটিংয়ে সোনা জিতল ভারত। শুক্রবার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে মিক্সড টিম ইভেন্টে সোনার পদক জিতলেন সুরুচি সিং ও কমলজিৎ। ফাইনালে মোট ৪৮৪.৬ স্কোর করে শুধু সোনা জয়ই নয়, নতুন এশিয়ান রেকর্ডও গড়েছেন ভারতীয় জুটি। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ এই নিয়ে দ্বিতীয় সোনা জিতল ভারত। এর আগে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সোনা জিতেছে। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ভারতের জন্য এটি ছিল শেষ পদকের সুযোগ।

    ফাইনালে দুরন্ত সুরুচি-কমলজিৎ

    ম্যাচের শুরু থেকেই সুরুচি ও কমলজিৎ এগিয়ে ছিলেন। প্রথম সিরিজ শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার থেকে ৪.৯ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল ভারত। দ্বিতীয় সিরিজে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র ১.২ পয়েন্টে। তবে চাপের মুখেও খেই হারাননি দুই ভারতীয় শুটার। ক্রমাগত হাই স্কোর করে ফের ব্যবধান বাড়াতে শুরু করেন তাঁরা। ১৮তম শটে ইন্দোনেশিয়া চতুর্থ হয়ে ছিটকে যাওয়ার পরে ভারত ৫.৮ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। এর ঠিক দু’টি শট পরেই সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৭.১ পয়েন্টে। শেষ দুই শটে ৭.২ পয়েন্টের লিড নিয়ে নামেন সুরুচি ও কমলজিৎ। পেনাল্টিমেট শটে সুরুচি ১০.৫ এবং কমলজিৎ ৯.৫ স্কোর করলেও ভারতের লিড কমে দাঁড়ায় ৬.২ পয়েন্টে। শেষ শটে সুরুচি ১০.৮ স্কোর করে ভারতের সোনা নিশ্চিত করেন। ফাইনাল শেষে ভারতীয় জুটির মোট স্কোর দাঁড়ায় ৪৮৪.৬। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিক্সড টিম ইভেন্টের ফাইনালে রুপো জিতেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সুহিয়ন হং ও গেউন চু জুটি। ৪৭৮.০ স্কোর করেন তাঁরা। অর্থাৎ, কোরিয়ান জুটির থেকে ৬.৬ পয়েন্ট এগিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন ভারতের দুই শুটার। ইরান ৪১৫.৮ স্কোর করে ব্রোঞ্জ জেতে।

    হকিতে জয় মেয়েদের

    ব্যক্তিগত ইভেন্টে অবশ্য সুরুচি ও কমলজিৎ, দু’জনেই হতাশ করেন। কমলজিৎ ব্যক্তিগত ইভেন্টের বাছাই পর্বে নবম হয়ে ফাইনালে জায়গা করতে পারেননি। সুরুচি শেষ করেন ২৬ নম্বরে। পুরুষ ও মহিলাদের দলগত ইভেন্টেও পদক আসেনি। তবে মিক্সড টিম ইভেন্টে সেই হতাশা কাটিয়ে এশিয়ান রেকর্ড-সহ সোনা জিতলেন তাঁরা। শুটিংয়ে আরও একটি পদক আসে পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল ৩ পজিশন টিম ইভেন্টে। ঐশ্বর্য প্রতাপ সিং তোমর, নীরজ কুমার এবং রুদ্রাক্ষ পাটিলের ভারতীয় দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে রুপোর পদক জিতে নেয়। ফলে শুক্রবার শুটিং থেকে ভারতের ঝুলিতে যোগ হল একটি সোনা এবং একটি রুপো। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় মহিলা হকি দলের (Indian Women Hockey Team) দুরন্ত ছন্দ অব্যাহত। শুক্রবার পুল বি-র ম্যাচে আয়োজক জাপানকে (India vs Japan) ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল ভারত। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল ভারতীয় দল। পরে আরও একটি গোল করে ব্যবধান বাড়ায় তারা। জাপান একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেনি ভারত।

  • India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মে মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের সংঘাতকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে (UNGA) সেই দাবিকে তীব্র কটাক্ষ করল ভারত। ভারতের বক্তব্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ও সামরিক পরিকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তা পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবির সঙ্গে একেবারেই মেলে না। ৮০তম রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘রাইট অব রিপ্লাই’-এর মাধ্যমে ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট। তিনি বলেন, “ধ্বংস হওয়া রানওয়ে এবং পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গার যদি জয় বলে মনে হয়, তা হলে পাকিস্তান সেই জয় উপভোগ করতেই পারে।”

    পাকিস্তানের ‘জয়ের’ দাবি নিয়ে ভারতের পাল্টা বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘে নিজের ভাষণে শাহবাজ শরিফ মে মাসের সামরিক সংঘাতে পাকিস্তান জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধ জিতেছে এবং এখন তারা শান্তি জিততে চায়। ভারতের সঙ্গে সমস্ত অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার কথাও বলেন তিনি। এর জবাবে গেহলট বলেন, সংঘাতের ঘটনাপ্রবাহ পাকিস্তানের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর বক্তব্য, ৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সরাসরি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ বন্ধের আবেদন জানায়। ভারতের প্রতিনিধি আরও অভিযোগ করেন, অতীতের মতোই ভারতীয় সাধারণ নাগরিকদের উপর একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ ছিল। ভারত তার নাগরিকদের সুরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে।

    ‘সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে হামলার ছবি তার প্রমাণ’

    অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় ভারতীয় হামলার প্রসঙ্গও রাষ্ট্রসংঘে তুলে ধরেন গেহলট। তাঁর দাবি, বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ভারতীয় হামলার পর নিহত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি বলেন, “একটি ছবি হাজার কথার সমান।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সামরিক ও অসামরিক আধিকারিকরা যেসব সন্ত্রাসবাদীকে প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়ে থাকেন, তা পাকিস্তানের নীতির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভারতের বক্তব্যে পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের দীর্ঘদিন অবস্থানের প্রসঙ্গও উঠে আসে। পাশাপাশি পাকিস্তানের কয়েকজন মন্ত্রীর সন্ত্রাসবাদী শিবির নিয়ে করা মন্তব্যের উল্লেখ করে গেহলট ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতাদের আলাদা করে দেখা হবে না। একইসঙ্গে পারমাণবিক হুমকির আড়ালে সন্ত্রাসবাদ চালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

    শাহবাজের বক্তব্য ‘নাটক’

    কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে আক্রমণ করার পর রাষ্ট্রসংঘে তারও জবাব দেয় নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল “অযৌক্তিক নাটক”। তাঁর দাবি, কোনও ধরনের রাজনৈতিক নাটক বা মিথ্যা তথ্য বাস্তব ঘটনাকে আড়াল করতে পারে না। ভারতের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের আড়াল করেছিল। ভারতীয় পক্ষ ওই সংগঠনকে পাকিস্তান-সমর্থিত বলে দাবি করেছে।

    শান্তি চাইলে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো বন্ধ করতে হবে

    শাহবাজ শরিফ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও ভারত জানিয়ে দিয়েছে, শান্তির পথ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। গেহলট বলেন, পাকিস্তান যদি সত্যিই ভারতের সঙ্গে শান্তি চায়, তা হলে অবিলম্বে সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবির বন্ধ করতে হবে। দিল্লির নিশানায় থাকা সন্ত্রাসবাদীদের ভারতের হাতে তুলে দিতে হবে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও জনপরিসরের বক্তব্য নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতায় ডুবে থাকা একটি দেশ” রাষ্ট্রসংঘে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে অন্য দেশকে উপদেশ দিচ্ছে—বিষয়টি “অত্যন্ত পরিহাসের”।

    তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতার সম্ভাবনাও ফের খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই একমত যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবেই সমাধান করা হবে। তাই এ ক্ষেত্রে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার জায়গা নেই—এটাই ভারতের দীর্ঘদিনের জাতীয় অবস্থান। অন্যদিকে শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, পাকিস্তান শক্তিশালী অবস্থান থেকেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব”-এর প্রশংসা করেন। তবে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, সংঘর্ষ বন্ধের বিষয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের (DGMO) মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই সমঝোতা হয়েছিল।

    অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট

    ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে। ভারতের দাবি অনুযায়ী, মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ছাড়াও পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি, রাডার, গোলাবারুদ ভাণ্ডার এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মে মাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটির বিস্ফোরণের ছবি এবং রহিম ইয়ার খান বিমানঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ের দৃশ্য প্রকাশ করেছিলেন। ভারতীয় পক্ষের দাবি, করাচির মালির ক্যান্টনমেন্টের কাছাকাছি এলাকাতেও সামরিক স্থাপনায় নির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছিল।

    পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ

    ভারতের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে লস্কর-ই-তইবা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় এবং ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়। পাকিস্তান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও ভারত সেগুলির অনেকগুলি প্রতিহত করে এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে নয়াদিল্লির দাবি। চার দিনের এই সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটে ১০ মে। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত সেই ঘটনাপ্রবাহই তুলে ধরে পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রকাশ্যে আসা সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও অন্যান্য তথ্য পাকিস্তানের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

     

     

     

     

  • Suvendu Adani Meeting: শুভেন্দু-আদানির ‘সৌজন্য’ বৈঠকে রাজ্যে শিল্প ভাবনা নিয়ে আলোচনা

    Suvendu Adani Meeting: শুভেন্দু-আদানির ‘সৌজন্য’ বৈঠকে রাজ্যে শিল্প ভাবনা নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গৌতম আদানির ‘সৌজন্য’ বৈঠক (Suvendu Adani Meeting)। আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ও তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও শিল্প পরিকাঠামোকে পুনরায় মজবুত করতে আদানি শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানির কাছে খোলাখুলি সাহায্যের আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। আদানিদের পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, ‘আদানিজি আমাকে সাহায্য করুন।’ ভরসার হাত বাড়ালেন আদানিও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূয়সী প্রশংসা করে শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের ইতিবাচক আবহাওয়া তৈরি হয়েছে! ভারত এখন নতুন আশা নিয়ে পূর্ব ভারতের দিকে তাকাচ্ছে।”

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় আদানি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূয়সী প্রশংসা করলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani)। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে আদানি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলায় শিল্পের জন্য একটি সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠেছে। উন্নতির এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে বাংলা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে আপনিই প্রমাণ করেছেন যে আপনিই প্রকৃত ভূমিপুত্র। আপনার নেতৃত্বেই রাজ্য নতুন করে গড়ে উঠবে।” বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প, নতুন বিনিয়োগ, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে।

    কোথায় কোথায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    বৃহস্পতিবারই নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে; প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। একই মঞ্চ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন গৌতম আদানি। বন্দর, সড়ক, বিদ্যুৎ, লজিস্টিক্স এবং বৃহৎ ডেটা সেন্টার-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিন অনুষ্ঠান থেকে গৌতম আদানি বন্দর, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সড়ক, সেতু, সিমেন্ট কারখানা এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার – একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসতে পারে।

    ‘সৌজন্য’ বৈঠকের মূল লক্ষ্য

    সেই ঘোষণার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠককে ঘিরে রাজ্যে আদানি গোষ্ঠীর আগামী দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের বক্তব্য, বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলায় শিল্পের প্রসার, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা। পালাবদলের পরে থেকেই রাজ্যে শিল্পায়নের লক্ষ্যে জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পই যে বিজেপি সরকারের পাখির চোখ, বারে বারে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। বাম ও তৃণমূল জমানাকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘শিল্পের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দেননি। শুধু নেগেটিভ রাজনীতি করেছেন। তাঁর জন্যই টাটাকে চলে যেতে হয়েছে।’ গোটা ভারত যখন আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, তখন মমতা ৫০০ টাকা দিয়ে ভাতার রাজনীতি করছিলেন বলেও তোপ দাগেন তিনি। একই সুরে আক্রমণ শানান বাম আমলকেও। রাজ্যকে শিল্পের বধ্যভূমি করার পিছনে কমিউনিস্টদের অবদান রয়েছে বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘কমিউনিস্টরা সব শেষ করে দিয়েছে। শুধু ইনকিলাব জিন্দাবাদ। হরতাল করে কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।’ তাদের জন্যই আসানসোল, চিত্তরঞ্জনও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকারে ফের শিল্পের পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।

    মেয়ো ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রকল্প

    নিউটাউনে ২,০০০ বেডের হাসপাতাল তৈরির প্রকল্পের ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত হাসপাতালে মোট ২,০০০টি বেড থাকবে। তার মধ্যে ১,০০০টি বেড দরিদ্র রোগীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। এই বেডগুলিতে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। বাকি ১,০০০টি বেড বাণিজ্যিক পরিষেবার আওতায় থাকবে। ৫২ একর জমির উপরে হাসপাতাল, ২৫০০ কোটির বিনিয়োগ, আমেরিকার মেয়ো ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রকল্পের কথাও বলা হয় এদিন৷

     

     

     

     

     

  • White House Ban On CNN: সিএনএন-সহ শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের উপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল মার্কিন আদালত

    White House Ban On CNN: সিএনএন-সহ শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের উপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল মার্কিন আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump’s Ban On Media Outlets) প্রশাসনের বিরুদ্ধে বড় আইনি ধাক্কা। সিএনএন, এমএস নাও (MS NOW) এবং পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক। বৃহস্পতিবার মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ টিম কেলি নির্দেশ দেন, তিনটি সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা সম্ভবত মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিন সংবাদমাধ্যমের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক কেলি। সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। হোয়াইট হাউসে (White House Ban On CNN) সাংবাদিকদের প্রবেশ আটকে দেওয়ার কয়েকদিন পর সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনটি সংবাদমাধ্যমের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে‘মিথ্যা ও কল্পিত খবর’ প্রকাশের অভিযোগ করেছিলেন। এরপরই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়।

    ‘প্রথম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন’

    মামলায় তিন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশনের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে বেছে বেছে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে। এটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তিন সংস্থার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার কোনও সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে বা কীভাবে সংবাদ পরিবেশন করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না। তাদের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ না করা হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের সরকারি কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কোনওভাবেই ‘অধিকার হিসেবে নিশ্চিত’ নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রথম সংশোধনী সংবাদ প্রকাশের অধিকার রক্ষা করে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কোনও সাংবাদিকের বাধ্যতামূলকভাবে প্রেস পাস, ব্রিফিং রুমে আসন বা প্রেস পুলে থাকার অধিকার থাকবে। ট্রাম্পও তাঁর প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে সমর্থন করেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে আক্রমণ করেন।

    সরকারের পক্ষে ভিত্তিহীন যুক্তি

    সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ’ বলে যুক্তি দেওয়া হলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। বিচারক উল্লেখ করেন, ‘মামলা চলাকালীন বাদীপক্ষের প্রেস পাস ফিরিয়ে দিলে কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বা পাস বাতিল রাখা কেন আবশ্যক—নথিপত্রে সরকারের এই দাবির স্বপক্ষে বাস্তব কোনো প্রমাণ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যে জানান যে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের ‘কথিত অসত্যতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি’র কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউস কিংবা উক্ত তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই তিনটি সংবাদমাধ্যমের “অনবরত কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের সুযোগ পাওয়া উচিত নয়।” অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    ইরান যুদ্ধ ও ক্রমাগত মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা মার্কিন মুলুকে এখন প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সেখানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতাও খর্ব করা হচ্ছে। বুধবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারক টিম কেলি উল্লেখ করেন, ‘ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট’-এর দুটি পূর্ববর্তী নজির থেকে এটি স্পষ্ট যে, সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস বাতিল করার আগে তাদের আইনি প্রক্রিয়াগত অধিকার পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রমাণ দেখে মনে হচ্ছে না যে হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাদের প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো অর্থপূর্ণ সুযোগ দিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষে অংশ নেওয়া আইনজীবী বিচারক কেলিকে জানান, কোনো প্রকার আইনসম্মত আগাম নোটিশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দেওয়া ছাড়াই তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটিকে নজিরবিহীন, অযৌক্তিক এবং অত্যন্ত কঠোর শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল

    এই সংঘাত আরও তীব্র হয় যখন শনিবার সিএনএন এবং এমএস নাও-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁদের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। সিএনএনের সাংবাদিক বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাও-এর সাংবাদিক আকায়লা গার্ডনার জানান, কাজের জন্য হোয়াইট হাউসে পৌঁছনোর পর তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে পলিটিকো জানায়, তাদের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেটকেও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁর প্রেস ব্যাজ নিয়ে নেওয়া হয়। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। সংগঠনের সভাপতি জ্যাকুই হাইনরিখ সতর্ক করে বলেন, একটি সংবাদমাধ্যমকে তার সংবাদ পরিবেশনের কারণে বাদ দেওয়ার যে নীতি তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে।

    সিএনএনকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে টিভি পুলের কভারেজ বন্ধ

    হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের প্রভাব অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও পড়ে। প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচি কভার করার দায়িত্বে থাকা টেলিভিশন পুল থেকে সিএনএনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের জন্য ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের কভারেজও ছিল। পাঁচটি বড় মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত ওই পুলের চেয়ারম্যান এবং ফক্সের ওয়াশিংটন ব্যুরো প্রধান ব্রায়ান বটন এক ই-মেলে জানান, সিএনএনের পরিবর্তে অন্য কোনও নেটওয়ার্ককে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অন্য নেটওয়ার্কগুলিও অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত ‘পুল কভারেজ’ স্থগিত রাখবে।

    অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের সংহতি

    এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য সংবাদ সংস্থাও সিএনএন এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলির পাশে দাঁড়ায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম সোমবার প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রভাবও চোখে পড়ে। ওই দিন ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে নতুন একটি হেলিকপ্টার অবতরণ দেখান এবং বক্তব্য রাখেন। কিন্তু টেলিভিশন পুলের কোনও ক্যামেরা সেখানে উপস্থিত ছিল না, ফলে তাঁর বক্তব্য ও অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক টেলিভিশন কভারেজও হয়নি। বিচারকের সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে এখন সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর হোয়াইট হাউস কভারেজের অধিকার পুনর্বহালের পথে বড় আইনি অগ্রগতি হয়। মামলাটি একইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের ক্ষমতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সাংবিধানিক সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

     

     

     

     

  • Maoist Surrender Bankura: বন্দুক ধরার প্রয়োজন ফুরিয়েছে! বাঁকুড়ায় অস্ত্র-সহ ৩ মাওবাদী শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

    Maoist Surrender Bankura: বন্দুক ধরার প্রয়োজন ফুরিয়েছে! বাঁকুড়ায় অস্ত্র-সহ ৩ মাওবাদী শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ত্র ছেড়ে জীবনের মূল স্রোতে ফিরে এলেন নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই মাওবাদীর তিন শীর্ষ কমান্ডার। রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ তথা পুনর্বাসন নীতির ওপর আস্থা রেখে বাঁকুড়া জেলা পুলিশের ধারাবাহিক ও যৌথ অভিযানের মুখে অস্ত্র সংবরণ করলেন তাঁরা। তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতা-নেত্রীর আত্মসমর্পণকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বাঁকুড়ায়। দীর্ঘদিন জঙ্গলে সক্রিয় থাকার পর অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। বাঁকুড়া (Bankura) পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে রাজ্য পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমারের কাছে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

    অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলেন কারা

    পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন, নয়নতারা সাহু এবং জবা মাহাতো। তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। রামপ্রসাদ মান্ডি ছিলেন আঞ্চলিক কমিটির সদস্য। নয়নতারা সাহু ছিলেন জোনাল কমিটির সদস্য। এ ছাড়াও জবা মাহাতোও ছিলেন জোনাল কমিটির সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন রাজ্যগুলো মিলিয়ে মোট ৮০-এর বেশি মামলা রয়েছে। রামপ্রসাদ মান্ডি, নয়নতারা সাহু এবং জবা মাহাতো ১ টি একে ৪৭, ২ টি ইনসাস বন্দুক নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এ ছাড়াও পুলিশের কাছে ১০ টি ম্যাগাজিন ও ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজও জমা দেন ওই ৩ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী। তাঁরা জানিয়েছেন, একসময় জঙ্গলমহল ও সংশ্লিষ্ট এলাকার বঞ্চনা ও সমস্যার কারণে তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। আর সেই কারণেই এই দীর্ঘ সময় পর তাঁরা সেই পথ থেকে সরে স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন।

    চলবে আইনি প্রক্রিয়া ও পুনর্বাসনের প্রয়াস

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোটা দেশ থেকে মাওবাদী মুক্ত করার ডাক দিয়েছেন। আর তারই প্রক্রিয়া হিসেবে সারা দেশেই ক্রমাগত অভিযান চলছে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে। আর তাতে ক্রমশই কোনঠাসা হচ্ছে মাওবাদীরা। এবার সেই প্রক্রিয়াতেই এল বড় সাফল্য। এই আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়ার পিছনে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং মাওবাদীদের উপর বাড়তে থাকা চাপের কথা উঠে এসেছে। আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি পুনর্বাসন ও আত্মসমর্পণ প্যাকেজের আওতায় আনার প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। রাজ্য পুলিশের এডিজি বলেন, “আত্মসমর্পণের প্যাকেজের সুযোগ যাতে এই আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা পায় তার জন্য স্ক্রিনিং কমিটির কাছে আবেদন জানাবে রাজ্যের পুলিশ।” প্রশাসনিকভাবে নির্দিষ্ট যাচাই ও স্ক্রিনিংয়ের পর তাঁরা কী কী সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারিত হবে। দীর্ঘদিনের সশস্ত্র কার্যকলাপের পর তিন মাওবাদী ক্যাডারের আত্মসমর্পণ জঙ্গলমহল ও ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়াও চলবে।

  • Industrial Development in Bengal: পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানিরা! রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্প-পরিবেশ নিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    Industrial Development in Bengal: পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানিরা! রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্প-পরিবেশ নিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদানির পর আম্বানি, রাজ্যে শিল্প ফেরাতে সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে নতুন শিল্প এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে মরিয়া ডাবল ইঞ্জিন সরকার। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের রূপরেখা নিয়ে বিশদে জানালেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে কত বিনিয়োগ আসছে, তার চেয়েও কর্মসংস্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অতীতে সিপিএম এবং গত পনেরো বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে জমে থাকা জট বা ‘ব্যাকলগ’ কাটিয়ে নতুন পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি

    রাজ্যে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুকেশ অম্বানির রিলায়্যান্স গোষ্ঠী। বুধবার কলকাতার মেলাপ্রাঙ্গণে শিল্পের জন্য জমি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমনটাই জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অম্বানিরা রাজ্যে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে এবং শীঘ্রই তাদের একটি প্রতিনিধিদল রাজ্যে আসতে পারে।’’ উল্লেখ্য, সোমবার মুম্বইতে অম্বানিদের বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’য় গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। যোগ দেন তাঁদের বাড়ির গণেশপুজোয়। পরে মুকেশ অম্বানির সঙ্গে নৈশভোজও সারেন।

    রাজ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ!

    বুধবার রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে বার্তা দিয়ে শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘৩৩টি শিল্পসংস্থার হাতে শিল্পজমির বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’’ বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ওপর যে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, সেকথা স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমার ভাবনা হচ্ছে যে কত ইনভেস্টমেন্ট করলেন সেটা বড় কথা নয়, কত এমপ্লয়মেন্ট দিলেন তার উপরে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই।”

    রাজ্যে শিল্পস্থাপনের সহায়ক পরিবেশ

    শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘রাজ্যে শিল্পস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনওরকম হুমকি বা তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে সরাসরি সরকারকে জানানো যাবে।’’ এ জন্য টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। কোথাও কেউ হুমকি দিলে বা তোলাবাজির চেষ্টা করলে ওই নম্বরে অভিযোগ জানালে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’’ নতুন শিল্প প্রকল্প এলে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিষেবা, পরিবহণ, সরবরাহ এবং ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের তরফে আশা করা হচ্ছে।

    শিল্পক্ষেত্রের জন্য জমি বরাদ্দ

    এদিন সরকারের তরফে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের জন্য জমি বরাদ্দের কথা জানানো হয়। তার মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা, সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ, ইস্পাত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। রাজ্যের বিভিন্ন শিল্প পার্কে এই জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। হরিণঘাটা, খড়্গপুর, পানাগড়, রঘুনাথপুর, ফলতা, উলুবেড়িয়া, কল্যাণী, নৈহাটি, কোচবিহার, সল্টলেক এবং অঙ্কুরহাটি-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলের নামও অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিল্পায়নের লক্ষ্যেই ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের বিভিন্ন শিল্প পার্কে এই জমি দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, জমি বরাদ্দের মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রস্তাবগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যাওয়া হবে।

    বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা

    শিল্পনীতি নিয়ে এ দিন পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাম আমলে শিল্পায়নের চেষ্টা থাকলেও দলের অবস্থান ছিল নেতিবাচক। তাঁর আরও বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের আমলে জমি নীতির কারণে শিল্পের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং সিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়ার প্রসঙ্গও তিনি তোলেন। পূর্বতন সরকারের শিল্পনীতির সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আগের সরকারে ‘ইনসেন্টিভ’ বা বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থা কার্যত গুরুত্ব পায়নি। বর্তমান সরকার শিল্পে উৎসাহ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করেছে।’’ রাজ্যের নতুন খসড়া শিল্প নীতি (Draft Industrial Policy) প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই নীতিতে ইনসেন্টিভ বা উৎসাহভাতার বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত খসড়াটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের (CS) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব নিজের দফতরের সমস্ত হেড অফ ডিপার্টমেন্টদের নিয়ে তা খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে ক্যাবিনেটে পেশ করবেন। এরপর মন্ত্রিগোষ্ঠীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই তা কার্যকর হবে। তবে পূর্বের শাসনকালগুলির অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিতেও ছাড়েননি তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া মন্তব্য, অতীতে সিপিএম আমল এবং বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জমানায় অর্থনীতির বেহাল দশা হয়েছে। সেই পুরনো জমানার জঞ্জাল বা ব্যাকলগের বোঝা আর বর্তমান সরকার বহন করতে পারবে না। সম্পূর্ণ কর্মসংস্থানমুখী ইনসেন্টিভ এবং স্বচ্ছ নীতির হাত ধরেই বাংলা শিল্পচিত্রে নতুন যুগ দেখবে বলে বার্তা শুভেন্দুর।

    পরিকাঠামোগত সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী শিল্পপতিদের উদ্দেশে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার পাশে থাকবে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিতে জমির ব্যবহার এবং পরিকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলেই আশা সরকারের। আরও শিল্প আসবে। শিল্প সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শিল্পপতি গৌতম আদানির সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানান, শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং আম্বানি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। যদিও সেই আলোচনার সব কথা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাননি তিনি, তবে আদানি গোষ্ঠী যে বাংলার একাধিক সেক্টরে কাজ করতে চলেছে, সে বিষয়ে পূর্ণ আশ্বাস মিলেছে। সেই লক্ষ্যে আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বা টিম রাজ্যে পাঠাচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। পাশাপাশি শিল্পপতি গৌতম আদানি আজ সকাল ১১ টায় নিউটাউনে প্রায় দু’হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ বা হাসপাতালের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলেও জানান তিনি।

     

     

     

     

  • Mirabai Chanu: ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, এশিয়ান গেমসে রুপো মীরাবাই চানুর

    Mirabai Chanu: ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, এশিয়ান গেমসে রুপো মীরাবাই চানুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অলিম্পিক্সে রুপো, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে একের পর এক সাফল্য— কিন্তু একটাই সাফল্য অধরা ছিল মীরাবাই চানুর (Mirabai Chanu)। এশিয়ান গেমসে কোনও পদক ছিল না ভারতের এই তারকা ওয়েটলিফটারের। অবশেষে মিটল সেই অপূর্ণতা। বুধবার এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৪৯ কেজি ভারোত্তোলনে রুপো জিতলেন মীরাবাই চানু। মোট ১৯৮ কেজি ওজন তুলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন মণিপুরের তারকা ভারোত্তোলক। একই সঙ্গে এশিয়ান গেমসে ভারোত্তোলনে ভারতের ২৮ বছরের পদক-খরা কাটালেন তিনি। চলতি এশিয়াডে ভারতের পদক সংখ্যা বেড়ে হলো ১২।

    ভারোত্তোলনে পদক-খরা কাটল

    শেষবার এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) ভারোত্তোলনে ভারত পদক জিতেছিল ১৯৯৮ সালে। ব্যাংককে রুপো জিতেছিলেন কারনাম মল্লেশ্বরী। ২৮ বছর আর কোনও পদক পায়নি ভারত। বুধবার সেই খরা কাটালেন মীরাবাই চানু। ব্যক্তিগত ভাবেও অধরা ছিল এশিয়ান গেমসের পদক। সেটাও পূর্ণ করলেন চানু। উল্লেখ্য, এর আগে দু’বার এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েও পদক জিততে পারেননি মীরাবাই। এদিন সোনা জেতেন উত্তর কোরিয়ার রি সং গাম। মোট ২১৫ কেজি ওজন (স্ন্যাচে ৯৪ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২১ কেজি) তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি।

    জয়ের ধারা অব্যাহত ভারতের কবাডি দলের

    এশিয়ান গেমসে জয়ের ধারা অব্যাহত ভারতের কবাডি দলের। বুধবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আইচি-নাগোয়াতে ইরানকে ৩৭-২৩ গোলে হারাল ভারতের মেয়েরা। শুরুটা মন্থর করে ভারত। প্রথমার্ধে একটা সময় ৯-১১ গোলে পিছিয়ে পড়ে। তারপর দুরন্ত কামব্যাক। মোমেন্টাম ফিরে পায় ভারতের মেয়েরা। প্রথমার্ধের শেষে ১৯-১৫ তে লিড নিয়ে নেয়। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ভাবনা দেবী। কয়েকটি দুর্দান্ত ট্যাকেল করেন। ম্যাচের কন্ট্রোল ধরে রাখেন পূজা। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ায় ভারত। শেষপর্যন্ত ৩৭-২৩ গোলে ইরানকে হারায়। এশিয়ান গেমসে কবাডিতে জোড়া জয় তুলে নিল ভারতের মেয়েরা। এর আগে ওপেনিং ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪২-২১ গোলে হারায় ভারত। বৃহস্পতিবার জাপানের মুখোমুখি ভারতের মেয়েরা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে (Bangladesh) সহজেই হারিয়ে চলতি এশিয়ান গেমসে পুরুষদের কবাডির সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারতীয় দল। বুধবার আইচির টোকাই সিটিজেন জিমন্যাশিয়ামে ভারতের পক্ষে ম্যাচের ফল ৪৮-২৫। চলতি এশিয়ান গেমসে এখনও পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারতের পুরুষ কবাডি দল। গ্রুপ এ-তে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় গতবারের এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারতীয় দল। দুই সেমি-ফাইনালে পরাজিত দলই ব্রোঞ্জ পদক পাবে। ফলে ভারতীয় দলের পদক নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। পুরুষদের কবাডিতে ভারত এশিয়ান গেমসের রেকর্ড আটবারের চ্যাম্পিয়ন। এশিয়ান গেমসে কবাডি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জাকার্তা ২০১৮ ছাড়া প্রতিটি আসরেই সোনা জিতেছে ভারত। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইরান।

    ভারতের সাফল্য

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ শুটিংয়ে ভারতের পদক অভিযান অব্যাহত। মহিলাদের স্কিট দলের পর এবার পুরুষদের স্কিট দলও ব্রোঞ্জ পদক জিতে নিল। ভবতেগ সিং গিল, অনন্তজিৎ সিং নারুকা এবং মেরাজ আহমেদ খানের ত্রয়ী ফাইনালে ৩৪৬ স্কোর করে তৃতীয় স্থান দখল করেছে। তবে এদিন পদক হাতছাড়া হয় মনু ভাকেরের। তাঁকে ঘিরে সোনা জয়ের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পঞ্চম স্থানে শেষ করেন অলিম্পিকের জোড়া পদকজয়ী। সফট টেনিসেও নিশ্চিত হয় পদক। পুরুষদের সিঙ্গলস কোয়ার্টার ফাইনালে ফিলিপিন্সের শেরউইন নাগুইটকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৪-৩ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন জয় মীনা। শেষ চারে ওঠা চার খেলোয়াড়ই পদক নিশ্চিত করায়, সফট টেনিসে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে ভারতের প্রথম পদক নিশ্চিত হয়েছে। এর পাশাপাশি রোয়িং, ক্যানো স্প্রিন্ট এবং টেবিল টেনিসেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স ভারতের।

LinkedIn
Share