Author: ishika-banerjee

  • Trump-Zelensky Meet: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা, রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি

    Trump-Zelensky Meet: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা, রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নববর্ষের আগেই রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে (Trump-Zelensky Meet) বসতে চলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক হওয়ার কথা। জেলেনস্কি জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ থামলে কোন কোন এলাকা কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এই বিষয়টিই আলোচনার মূল কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, এই সংঘর্ষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ। তবে, রবিবার এই বৈঠকের আগে শনিবার ভোরে কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

    ভূখণ্ডের প্রশ্নই প্রধান

    দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনায় সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূখণ্ডের প্রশ্ন। জেলেনস্কি কিয়েভে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও প্রায় চূড়ান্ত। অতীতে সোভিয়েত-পরবর্তী সময়ে দেওয়া নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি কার্যত ব্যর্থ হওয়ায় এই বৈঠক কিয়েভের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কি (Trump-Zelensky Meet) জানান, যুক্তরাষ্ট্র ১৫ বছরের জন্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তার একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। যা পুনরায় নবীকরণ করা যাবে। তবে ইউক্রেন আরও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চায়, যাতে ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসন রোখা যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা ঘোষণা করে জেলেনস্কি বলেন, নতুন বছরের আগেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। এক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, “সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ডনবাস এবং জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র – এই দু’টি বিষয় অবশ্যই আলোচনায় থাকবে। পাশাপাশি আরও অনেক প্রসঙ্গ নিয়েও কথা হবে।”

    ওয়াশিংটনের হাতেই নিয়ন্ত্রণ

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে (Russia Ukraine war talks) মার্কিন মধ্যস্থতায় যে শান্তি প্রক্রিয়া চলছে (Ukraine peace plan), তার নিয়ন্ত্রণ যে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের হাতেই, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির (Volodymyr Zelensky) সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের ঠিক আগেই (Trump Zelensky meeting) ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, তাঁর অনুমোদন ছাড়া জেলেনস্কির হাতে কার্যত কিছুই নেই। তবে রবিবারের বৈঠক ভাল হবে বলেই আশাবাদী ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি জানান, শীঘ্রই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমি পুতিনের সঙ্গে খুব শিগগিরই কথা বলব, যতবার দরকার পড়বে, কথা হবে।”

    গণভোট করতে রাজি ইউক্রেন

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ইউক্রেনে রাশিয়ার (Russia Ukraine War) পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ থামাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তারই অঙ্গ এই আলোচনা। জেলেনস্কি জানান, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে গণভোট করতে তিনি রাজি, তবে শর্ত একটাই। রাশিয়াকে অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে, যাতে ইউক্রেন সেই গণভোটের প্রস্তুতি নিতে এবং তা আয়োজন করতে পারে। বৈঠকের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ। যুদ্ধের শুরুর দিকেই এই কেন্দ্র দখল করে নেয় রাশিয়া। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানান, ইউক্রেনের ২০ দফা পরিকল্পনা মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচিত প্রস্তাবের সঙ্গে মিলছে না। যদিও তিনি ইন্টারফ্যাক্সকে বলেন, শান্তি আলোচনায় একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’-এ পৌঁছনো সম্ভব।

    মস্কোর অবস্থান বেশ কড়া

    অন্যদিকে মস্কোর অবস্থান বেশ কড়া। রাশিয়া চায়, ইউক্রেন পূর্ব ডোনেৎস্ক অঞ্চলের সেই অংশগুলি থেকেও সেনা সরিয়ে নিক, যেগুলি প্রায় চার বছরের যুদ্ধে এখনও পুরোপুরি দখল করতে পারেনি রুশ বাহিনী। রাশিয়ার লক্ষ্য, সম্পূর্ণ ডনবাস অঞ্চল, ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা। ইউক্রেনের অবস্থান সম্পূর্ণ উল্টো। কিভ চায়, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই সংঘর্ষ বন্ধ হোক। এই টানাপড়েনের মাঝেই আপসের পথ খুঁজতে আমেরিকা প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেন যদি ওই এলাকা ছাড়ে, তাহলে সেখানে একটি ‘ফ্রি ইকোনমিক জোন’ গঠন করা হবে। যদিও এই অর্থনৈতিক অঞ্চল কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ক্রেমলিন সূত্রে জানানো হয়েছে, পুতিনের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে মার্কিন প্রস্তাবগুলি নিয়ে মস্কোর অবস্থান কী, তা প্রকাশ করা হয়নি। মস্কো দাবি করেছে, আলোচনায় “ধীর কিন্তু স্থির অগ্রগতি” হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাস থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহারের জেলেনস্কির প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

    যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাব

    হোয়াইট হাউস প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে একটি কার্যত নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল গঠন করা হবে, যেখানে উভয় পক্ষ সেনা মোতায়েন করবে না। এতে বিতর্কিত এলাকার আইনগত মালিকানা প্রশ্নটি আপাতত এড়ানো যাবে। তবে অঞ্চলগত দাবি এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ এখনো সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। রাশিয়া ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ডনবাস থেকে ইউক্রেনীয় সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হলে তারা অঞ্চলটি দখল করে নেবে। সর্বশেষ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ন্যাটোর অনুচ্ছেদ–৫-এর আদলে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৮ লাখে বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে—যা রাশিয়ার আপত্তির অন্যতম কারণ।

  • Kerala: বাম দুর্গে বিজেপির রাজ, তিরুঅনন্তপুরমে মেয়র পদে শপথ নিলেন ভি ভি রাজেশ

    Kerala: বাম দুর্গে বিজেপির রাজ, তিরুঅনন্তপুরমে মেয়র পদে শপথ নিলেন ভি ভি রাজেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের (Kerala) রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচনা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। তিরুবনন্তপুরম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে নিজেদের প্রথম মেয়র পেল গেরুয়া শিবির। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে শপথ গ্রহণ করেছেন বিজেপি নেতা ভি ভি রাজেশ। বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে রাজ্যের রাজধানী শহরে এই জয় বিজেপির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    কেরলে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল দেখে আসছে। সেখানে বিজেপির এই উত্থান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে বিজেপির এই সাফল্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং কেরলের ভারপ্রাপ্ত নেতা শিবরাজ সিং চৌহান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “কেরল বিজেপির জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় শ্রী ভি ভি রাজেশকে আন্তরিক অভিনন্দন।”

    বিকল্প খুঁজছে মানুষ

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাও এই জয়কে দলের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই জয় প্রমাণ করে যে কেরলের মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিশ্বাস রাখছেন এবং রাজ্যের উন্নয়নের জন্য বিজেপির বিকল্প খুঁজছেন। এই জয় কেবল একটি কর্পোরেশনের ক্ষমতা দখল নয়, এটি কেরলের রাজনীতিতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজধানীর মেয়র পদ দখল করা দলের জন্য এক বড় মাইলফলক। ভিভি রাজেশকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখের, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী, প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সিকে পদ্মনাভন, ভি মুরলীধরন, কুম্মানাম রাজাশেখরন, কে সুরেন্দ্রন এবং যুব মোর্চা রাজ্য সভাপতি ৷ পুরনিগমের মেয়র নির্বাচনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর ৷ তিনি জানান, এই দিনটি কেরল বিজেপির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন ৷ ভিভি রাজেশ জানিয়েছেন, তিনি তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমের ১০১টি ওয়ার্ডকে একটি ইউনিট হিসেবেই দেখবেন ৷ তাঁর কথায়, “আমাদের লক্ষ্য, উন্নয়নের দিক দিয়ে তিরুঅনন্তপুরম যেন দেশের প্রথম তিনটি শহরের মধ্যে থাকে ৷ এর জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার ৷”

  • Ghar Wapsi in Bihar: বড়দিনে বিহারের পূর্ণিয়ায় ঘর ওয়াপসি, শতাধিক মানুষের সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন

    Ghar Wapsi in Bihar: বড়দিনে বিহারের পূর্ণিয়ায় ঘর ওয়াপসি, শতাধিক মানুষের সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের পূর্ণিয়া জেলার বনমনখিতে বড়দিনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দল-এর উদ্যোগে একটি ঘর ওয়াপসি (Ghar Wapsi in Bihar) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক মানুষ সনাতন ধর্মে ফিরে আসেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা হোম-যজ্ঞ, হাভন এবং তিলক গ্রহণসহ বিভিন্ন শুদ্ধিকরণ আচার সম্পন্ন করেন। এরপর প্রকাশ্যে তাঁরা জানান, তাঁরা আর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নন। অংশগ্রহণকারীরা বনমনখি ও বাইসি ব্লকের অধীন একাধিক গ্রামের বাসিন্দা।

    আর্থিক সাহায্য ও সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি

    ভিএইচপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই এর আগে আর্থিক প্রলোভন ও চাপের মাধ্যমে সনাতন ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন। ভিএইচপি’র বিহার-ঝাড়খণ্ড ধর্ম প্রসার প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা অভিযোগ করেন, খ্রিস্টান মিশনারিরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য ও সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্মান্তরে প্রলুব্ধ করেছিলেন। তাঁর কথায়, “এরা নিজেদের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন। সত্য বুঝতে পেরে তাঁরা স্বেচ্ছায় সনাতন ধর্মে ফিরে এসেছেন।” অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হরিনটোড় গ্রামের সুরেন্দ্র রাই, তাঁর স্ত্রী মীনা দেবী ও কালু হারিজন তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। মীনা দেবী জানান, ধর্মান্তরের পর তাঁদের হিন্দু দেব-দেবীর উপাসনা করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল এবং তাঁদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমাদের ঐতিহ্য মানতে দেওয়া হত না। সব কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।” পরে তিনি বাইসি থানায় যান এবং ভিএইচপি’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান।

    ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে আর প্রতিশ্রুতি পূরণ হয় না

    সুরেন্দ্র রাই বলেন, লোভ বা প্রলোভনের কারণে নিজের ধর্ম ত্যাগ না করার জন্য অন্যদের সতর্ক থাকা উচিত। তিনি বলেন, “আমরা ভুল করেছিলাম, আজ সেই ভুল সংশোধন করলাম”। কালু হারিজনও একই আবেদন জানিয়ে বলেন,“কেউ যেন আর্থিক প্রলোভন বা চাপে পড়ে নিজের বিশ্বাস ত্যাগ না করেন।” তাঁদের কথায়, ধর্মান্তরণের জন্য নিজেদের সমাজ ও আত্মীয়-স্বজন থেকেও দূরে সরে যাচ্ছিলেন তাঁরা। তাই এরা সকলেই হিন্দু ধর্মে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তাঁরা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ঘরে ফিরেছেন। এই এলাকার গ্রামবাসীদের মতে, ধর্মপ্রচারকারীরা ষড়যন্ত্র করে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও অভাবী লোকদের ধর্মান্তরিত করতে প্ররোচিত করে। মানুষকে ধর্মান্তরিত করার জন্য বাড়ি, টাকা, চাকরি এবং চিকিৎসার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এভাবেই গ্রামের একাধিক পরিবার খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের এই ষড়যন্ত্রে আটকে পড়ে বলে অভিযোগ। যাঁরা ধর্মান্তরিত হয়েছেন তাঁরা গ্রামবাসীদের দ্বারাও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। গ্রামবাসীরা তাঁদের কোনও কর্মসূচিতেই অংশ নেয় না, এমনকী বিয়েতেও এসব লোকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে না বলে অভিযোগ। ধর্মপ্রচারকরা এই নিরীহ লোকদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে আর পূরণ হয় না। ভিএইচপি নেতৃত্বের মতে, এই ঘর ওয়াপসি অনুষ্ঠান অঞ্চলটিতে তথাকথিত প্রতারণামূলক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দিয়েছে।

  • US Strike on ISIS: খ্রিস্টানদের ওপর আক্রমণের জের! নাইজেরিয়ায় আইএস জঙ্গিঘাঁটিতে বিমান হামলা আমেরিকার

    US Strike on ISIS: খ্রিস্টানদের ওপর আক্রমণের জের! নাইজেরিয়ায় আইএস জঙ্গিঘাঁটিতে বিমান হামলা আমেরিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খ্রিস্টানদের ওপর ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে নাইজেরিয়ায় (Nigeria) আইএস জঙ্গিদের ঘাঁটির (ISIS Camp) উপর মার্কিন সেনাবাহিনী (US Army) একাধিক ‘প্রাণঘাতী’ বিমান হামলা (Airstrike) চালাল। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে একথা জানান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)। তিনি জানান, তাঁর নির্দেশেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় (North-West Nigeria) সক্রিয় আইএস জঙ্গিদের লক্ষ্য করে এই হামলা হয়।

    একাধিক নিখুঁত হামলা আমেরিকার

    ট্রাম্পের অভিযোগ, এই ইসলামি জঙ্গিরা মূলত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষদের নিশানা করে হত্যা করছিল। হোয়াইট হাউসের (White House) দাবি অনুযায়ী, নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক হিংসা এমন মাত্রায় পৌঁছেছিল, যা বহু দশক এমনকী শতাব্দী ধরে দেখা যায়নি। ট্রাম্প আরও বলেন, আগেই তিনি এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি তাদের জানিয়েছিলাম, খ্রিস্টানদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে – আর সেটাই হয়েছে।” প্রেসিডেন্টের দাবি, অভিযানে ‘একাধিক নিখুঁত হামলা’ চালানো হয়েছে, যা মার্কিন সেনার (US Army) ক্ষমতার পরিচয় বহন করে। পেন্টাগনকে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ (Dept of War) বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমেরিকার সেনাবাহিনীই কেবল এমন নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি লেখেন, “আমার নেতৃত্বে আমেরিকা কখনওই উগ্র ইসলামিক সন্ত্রাসবাদকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবে না।” পোস্টের শেষে তিনি মার্কিন সেনাদের শুভেচ্ছা জানান এবং বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “ঈশ্বর আমাদের সেনাবাহিনীকে আশীর্বাদ করুন-মেরি ক্রিসমাস।”

    নাইজেরিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হামলা

    বহু বছর ধরে আইএসআইএস গোষ্ঠী এবং বোকো হারাম-সহ চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হিংসার কবলে নাইজেরিয়া। বিশেষ করে দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গিদের প্রভাব খুব বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের অধীনে নাইজেরিয়াকে “বিশেষ উদ্বেগের দেশ” হিসেবে মনোনীত করেছে। নভেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন, খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের পর তিনি পেন্টাগনকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, স্টেট ডিপার্টমেন্টও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নাইজেরীয় এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড (AFRICOM) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২৫ ডিসেম্বর নাইজেরিয়ার সোকোতো রাজ্যে এই হামলা চালানো হয় এবং তা নাইজেরিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ নাইজেরিয়ার সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযানটি সম্ভব হয়েছে।

    ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার

    নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু বড়দিনের দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি বিবৃতি ও চিঠিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। টিনুবু তাঁর বিবৃতির সঙ্গে সংযুক্ত একটি চিঠিতে বলেছেন, “আপনাদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে, আমি নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং বিভিন্ন ধর্মের সকল মানুষকে হিংসা থেকে রক্ষা করার জন্য আমার ক্ষমতার মধ্যে সবকিছু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” নাইজেরিয়ার বিদেশ মন্ত্রকও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখেই এই সমন্বয় করা হয়েছে।

     

     

     

     

  • Dhruv Criticize Janhvi: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যা, জানভি কাপুরের পোস্টের পর ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

    Dhruv Criticize Janhvi: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যা, জানভি কাপুরের পোস্টের পর ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করেছেন বলিউড অভিনেত্রী জানভি কাপুর (Dhruv Criticize Janhvi)। তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পরপরই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির একটি পাল্টা পোস্ট করেন। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জানভি কাপুর একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাংলাদেশে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডকে “নৃশংস” বলে উল্লেখ করেন। তিনি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। হিংসার ঘটনায় বেছে বেছে প্রতিবাদ করার প্রবণতার সমালোচনা করেন জানভি।

    অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হিন্দুরা

    সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রতিদিনই অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে হিন্দুদের। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। নীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আক্রমণ করে। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এই ঘটনাকে নিষ্ঠুর, নৃশংস এবং অমানবিক অ্যাখ্যা দেন জানভি। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল যে ভৌগোলিক অবস্থান বা মতাদর্শ নির্বিশেষে সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধেই সমানভাবে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

    জানভি কাপুরকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট

    এই ঘটনার দিকে জানভি কাপুর দৃষ্টি আকর্ষণ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্রুব রাঠি তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে “ডার্ক সাইড অফ বিউটি” শিরোনামের একটি ইউটিউব ভিডিও প্রচার করেন। যার থাম্বনেইলে জানভি কাপুরের ছবি ব্যবহার করা হয়। পোস্টের সময় নির্বাচন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, জানভি কাপুরের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নিন্দাকে আড়াল করতেই ধ্রুব রাঠি ওই ভিডিওটি প্রচার করেছেন। যদিও ধ্রুব রাঠি নিজে এই হত্যাকাণ্ড বা বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।

  • Bharat Taxi: আসছে দেশের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’! যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য দাবি শাহের

    Bharat Taxi: আসছে দেশের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’! যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য দাবি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi) চালু হতে চলেছে দিল্লিতে। চালকদের আয় বাড়ানো এবং যাত্রী পরিষেবা উন্নত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার শীঘ্রই ‘ভারত ট্যাক্সি’ পরিষেবা চালু করতে চলেছে। সম্প্রতি এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিষেবা চালু করতে চলেছে। ট্যাক্সি পরিষেবার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রের খবর, চালকরা ভাড়ার লভ্যাংশ থেকে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। যার জন্য একটি মাসিক ক্রেডিট সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে।

    যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য

    হরিয়ানার পঞ্চকুলায় অনুষ্ঠিত সহকারী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, সমবায় মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হতে যাওয়া এই পরিষেবায় অর্জিত সমস্ত লাভই চালকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। অমিত শাহের কথায়, “আমরা খুব শীঘ্রই ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi) পরিষেবা চালু করব, যার প্রতিটি টাকার লাভ যাবে আমাদের চালক ভাইদের কাছে। এতে যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে এবং একই সঙ্গে চালকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।” দেশের অ্যাপ ক্যাব বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চলেছে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম ‘ভারত ট্যাক্সি’। সূত্রের খবর, নতুন এই পরিষেবাটি জানুয়ারি মাসে নয়াদিল্লিতে পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু হতে চলেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দিল্লি এবং গুজরাটের বেশ কিছু অংশে পরীক্ষামূলক ভাবে পরিষেবা শুরু হয়েছিল ভারত ট্যাক্সির। এই নতুন পরিষেবা ওলা, উবর এবং র‌্যাপিডোর মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলিকে টক্কর জোর টক্কর দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভারত ট্যাক্সি কী?

    ভারত ট্যাক্সি (Bharat Taxi) পরিচালনা করছে সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড। এই প্ল্যাটফর্মকে চালক-মালিকানাধীন দেশীয় মোবিলিটি পরিষেবা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সংস্থার দাবি এটি বিশ্বের বৃহত্তম ড্রাইভার-ওনড মোবিলিটি নেটওয়ার্ক। বর্তমানে দিল্লি এবং গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে গাড়ি, অটো-রিকশা ও বাইক ট্যাক্সি মিলিয়ে এক লক্ষের বেশি চালক এই প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত রয়েছেন। ভারত ট্যাক্সি অ্যাপে স্বচ্ছ ভাড়া কাঠামো, একাধিক ভাষা, রিয়েল-টাইম গাড়ি ট্র্যাকিং এবং ২৪ ঘণ্টার গ্রাহক সহায়তার সুবিধা রয়েছে। যাত্রী ও চালক—দু’পক্ষের নিরাপত্তার জন্য যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সংযোগ রেখে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

    জিরো কমিশন মডেল

    ভারত ট্যাক্সির (Bharat Taxi) সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিরো-কমিশন মডেল। এই ব্যবস্থায় চালকরা ভাড়ার পুরো অর্থ নিজেরাই রাখতে পারবেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত চালকদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ক্যাব অপারেটর। এ ছাড়াও রয়েছেন অটো-রিকশা এবং বাইক ট্যাক্সির চালকেরা। সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ ইতিমধ্যেই ভারত ট্যাক্সির মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস— দুই প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অ্যাপটি ৭৫ হাজারের বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে।

    ভাড়ার হার ও পরিষেবা

    এই প্ল্যাটফর্মে এসি, প্রিমিয়াম, নন-এসি এবং এক্সএল ক্যাবের অপশন মিলবে। সংস্থার দাবি, দু’মিনিটের মধ্যেই গাড়ি পাওয়া যাবে। ভাড়ার হারও তুলনামূলকভাবে অন্য সংস্থার থেকে কম থাকবে। এই অ্যাপে প্রথম ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ন্যূনতম ভাড়া ৩০ টাকা। ৪ থেকে ১২ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২৩ টাকা এবং ১২ কিলোমিটারের বেশি হলে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ টাকা ধার্য করা হবে। অন্যান্য অ্যাগ্রিগেটরদের মতোই ভারত ট্যাক্সি অ্যাপটি মেট্রোর মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পরিষেবার সঙ্গেও যুক্ত। ফলে ব্যবহারকারীরা একটি মাত্র অ্যাপের মাধ্যমেই যাতায়াতের একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করে পুরো যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারবেন। বর্তমানে দিল্লি ও গুজরাটে পরীক্ষামূলক পরিষেবা চালু রয়েছে। ব্যবহারকারীরা মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন আপ করতে পারবেন। পিক-আপ ও ড্রপ লোকেশন নির্বাচন করে পছন্দের রাইড বেছে নেওয়া যাবে। যাত্রার পুরো সময় রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং করা যাবে। ব্যবহার প্রক্রিয়া অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার অ্যাপের মতোই সহজ।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন জনমুখী নীতি

    হরিয়ানার ওই অনুষ্ঠানে অমিত শাহ দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন জনমুখী নীতি নিয়ে কথা বলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাজেট বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে অমিত শাহ জানান, ২০১৪ সালে যেখানে কৃষি বাজেট ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকা। একইভাবে, গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৮০ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা। দেশের উন্নয়নে হরিয়ানার অবদানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন শাহ। তিনি বলেন, “হরিয়ানা রাজ্যের কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও দুগ্ধ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অসংখ্য পদক এনে জাতীয় পতাকাকে গর্বিত করেছেন।” পাশাপাশি, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবকে দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর করার ক্ষেত্রে কৃতিত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় হরিয়ানা থেকেই সর্বাধিক সংখ্যক সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য দেশকে রক্ষা করছেন।

     

     

     

     

     

  • Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে আবারও গণপিটুনির ঘটনা, রাজবাড়ীতে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল নিহত

    Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে আবারও গণপিটুনির ঘটনা, রাজবাড়ীতে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল নিহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করা হল। এবার ঘটনাস্থল রাজবাড়ি। মৃত যুবকের নাম অমৃত মণ্ডল। তিনি এলাকায় সম্রাট নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার রাত এগারোটা নাগাদ পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা পুরাতন বাজার এলাকায় ২৯ বছরের ওই যুবককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। কয়েকদিন আগেই ময়মনসিংহের ভালুকায় ২৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকেও খুন করেছিল মৌলবাদীরা। সেই রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এল।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিধন চলছেই

    পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অমৃত মণ্ডলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছিল, যার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, অমৃত মণ্ডল স্থানীয় একটি গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যা ‘সম্রাট বাহিনী’ নামে পরিচিত ছিল। তিনি রাজবাড়ী জেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে। প্রসঙ্গত, মহম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার সবথেকে বেশি বেড়েছে। শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পরই সেখানে কার্যত হিন্দু নিধন শুরু হয়। বহু সংখ্যালঘুর বাড়িতে অত্য়াচার করে মৌলবাদীরা, লুটপাট চালায়। মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছিল। সম্প্রতি পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে খুন করেছিল উগ্রপন্থীরা। সেই ঘটনার ফের পুনরাবৃত্তি।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় এখনও কোনও গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় গণপিটুনির ঘটনা। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানায় কর্মরত দীপু চন্দ্র দাসকে ইসলাম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে মারধর করা হয়, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর তার মরদেহের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ ওঠে, যা দেশজুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দেয়। পরপর দুটি ঘটনায় দেশে গণপিটুনি ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে।

  • Atal Canteen: ৫ টাকায় পেট ভরে ভাত-ডাল-রুটি-সবজি, দিল্লিতে খোলা হল ১০০টি ‘অটল ক্যান্টিন’

    Atal Canteen: ৫ টাকায় পেট ভরে ভাত-ডাল-রুটি-সবজি, দিল্লিতে খোলা হল ১০০টি ‘অটল ক্যান্টিন’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবেলা দুমুঠো অন্ন সংস্থান করতে যাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়, তাদের জন্য বড় উপহার। এবার ভরপেট খাবার মিলবে, আর খরচ? মাত্র পাঁচ টাকা। কোথায় পাবেন এত সস্তায় খাবার? দিল্লি সরকার আজ, ২৫ ডিসেম্বর উদ্বোধন করল অটল ক্যান্টিনের। মাত্র পাঁচ টাকাতেই পাওয়া যাবে খাবার। দিল্লির ১০০টি জায়গায় এই খাবার পাওয়া যাবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে এই উদ্য়োগ নেওয়া হয়েছে।

    সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাবারের আশ্বাস

    দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, এই ১০০টি অটল ক্যান্টিনে গরিব, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের পরিবার দু-বেলা দুমুখো খাবার পেট ভরে খেতে পারবে। তিনি বলেন, “অটল ক্যান্টিন দিল্লির আত্মা হয়ে উঠবে। আর কেউ অভুক্ত থেকে ঘুমোতে যাবে না।” নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই শহরের বাসিন্দাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাবারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। দিল্লির নগরোন্নয়ন মন্ত্রী আশিস সুদ জানান, ক্যান্টিনগুলি বিশেষ করে দৈনিক মজুর, শ্রমিক এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির জন্য বানানো হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় হাজার জনকে খাবার সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কী কী খাবার থাকবে মেনুতে

    দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এদিন দিল্লির আর কে পুরম, জাংপুরা, শালিমার বাগ, গ্রেটার কৈলাশ, রাজৌরি গার্ডেন, নারেলা, বাওয়ানা-সহ বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি অটল ক্যান্টিনের দ্বার উন্মোচন করেন। দিল্লি সরকার সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে আরও বিভিন্ন এলাকায় বাকি ৫৫টি ক্যান্টিন খোলা হবে বলে জানিয়েছেন রেখা। দুপুরের খাবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এবং রাতের খাবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে। দিল্লি সরকার খাবার বিতরণের জন্য হাতে লেখা কুপনের পরিবর্তে একটি ডিজিটাল টোকেন ব্যবস্থা চালু করেছে। দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডের (ডিইউএসআইবি) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে সমস্ত কেন্দ্রগুলিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মাত্র পাঁচ টাকায় পাওয়া যাবে ভাত, ডাল, রুটি, সবজি ও আচার। এই প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাও-দমনে ফের বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। গত মাসেই নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারামারাজুতে নিহত হয়েছিলেন মাওবাদী শীর্ষনেতা মাডবী হিডমা। তার ঠিক এক মাসের মধ্যেই ওড়িশার (Odisha) কন্ধমলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে (Maoist Encounter) নিহত হলেন আরও এক মাওবাদী শীর্ষনেতা গণেশ উইকে। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। এই সংঘর্ষের ২৪ ঘণ্টা আগে মালকানগিরিতে ২২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। নিরাপত্তাবাহিনীর এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এটা আমাদের বাহিনীর জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। মাও নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। গণেশের মৃত্যুতে মাওবাদীদের সাংগঠনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে।’’

    রাতভর চলে এনকাউন্টার

    পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ ওড়িশার (Odisha) কন্ধমল জেলার জঙ্গলে মাওবাদীদের (Maoist Encounter) একটি দলকে ঘিরে ফেলে বিএসএফ এবং সিআরএফ জওয়ানরা। এরপর শুরু হয় ধুন্ধুমার গুলির লড়াই। তাতেই মৃত্যু হয় মোট চার জন মাওবাদীর। এই চার জনের একজন হলেন মাও সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য গণেশ উইকে। নিহত বাকি তিন জনের মধ্যে দু’জন মহিলা সদস্য বলে জানা গিয়েছে। তেলেঙ্গানার নলগোন্ডা জেলার চেন্দুর মণ্ডলের পুল্লেমালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন গণেশ উইকে। যদিও মাওবাদী সদস্যদের কাছে গণেশ পাক্কা হনুমন্তু, রাজেশ তিওয়ারি, চামরু এবং রুপা নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, গণেশের মাথার দাম ছিল এক কোটি দশ লক্ষ টাকা। হিডমার মৃত্যুর পর গণেশের খোঁজেও তল্লাশি চলছিল। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে কন্ধমলের বেলঘর থানায় খবর আসে ওই জেলার গুম্মার জঙ্গলে একদল মাওবাদী জড়ো হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শীর্ষনেতাও আছেন। সেই খবর পেয়েই রাতে অভিযানে যায় পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর যৌথ দল। রাতভর তল্লাশি অভিযান চলে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। ওডিশার ডিজিপি যোগেশ বাহাদুর খুরানিয়া জানান, প্রথম এনকাউন্টার হয় বেলঘর থানা এলাকার গুম্মার জঙ্গলে। বুধবার রাতে ওই জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন মাওবাদীদের দুই সদস্য। তাঁরা সংগঠনের ছত্তিসগড়ের সদস্য ছিলেন। জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে থ্রিনটথ্রি রাইফেল ও ইনসাস রাইফেল, প্রচুর কার্তুজ। দ্বিতীয় এনকাউন্টার হয় বৃহস্পতিবার ভোররাতে।

    সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা

    ঝিরাম ঘাঁটি হামলার অন্যতম অভিযুক্ত গণেশ প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (ডিকেএসজেডসি)-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তথাকথিত ‘রেড করিডোর’-এর বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ইউনিটগুলির মধ্যে মূল সেতুবন্ধন ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা সংস্থার মতে, পূর্বঘাটে মাওবাদী (Maoist Encounter) সংগঠন বিস্তারের ‘মস্তিষ্ক’ ছিলেন উইকে। বর্তমানে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির মাত্র তিনজন সদস্য অবশিষ্ট ছিলেন—গণেশ উইকে (ওড়িশা), মল্লারাজি রেড্ডি ওরফে সংঘম (ছত্তীসগঢ়) এবং আনন্দা ওরফে তুফান (ঝাড়খণ্ড)। এই অভিযানের ফলে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার কেন্দ্রের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব হল বলে মনে করছে প্রশাসন। চলতি বছরেই একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মে মাসে সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজ এবং নভেম্বরে কমান্ডার মাডভি হিডমার নিহত হওয়ার পর এবার গণেশ উইকের মৃত্যু সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা।

  • Pakistan’s Gaza Troop: গাজায় সেনা পাঠাবে পাকিস্তান! ইসলামাবাদের প্যালেস্টাইন নীতি প্রশ্নের মুখে

    Pakistan’s Gaza Troop: গাজায় সেনা পাঠাবে পাকিস্তান! ইসলামাবাদের প্যালেস্টাইন নীতি প্রশ্নের মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক “স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স”-এ (ISF) পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা দেশটির ভেতরে ও মুসলিম বিশ্বে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচিত এই পরিকল্পনায় যুদ্ধ থামার পর গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন তদারকির কথা বলা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এর বাস্তব প্রভাব হবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ ও ইজরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের অনুকূলে গাজাকে “শান্ত” রাখা—যা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্যালেস্টাইন-সমর্থক অবস্থানের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।

    ফের বিশ্বাসভঙ্গ করল পাকিস্তান!

    পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি পাকিস্তানের পাসপোর্টে ইজরায়েলে ভ্রমণ নিষিদ্ধ। পাক সংসদও সম্প্রতি গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে প্যালেস্টাইনের প্রতি “ঐতিহাসিক ও অটল সমর্থন” পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে গোপনে “স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স”-এ (ISF) যোগ দেওয়ার আলোচনা পাকিস্তানের নীতিগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের ভেতরে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইজরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে হামাস নিরস্ত্রীকরণে ভূমিকা রাখা হলে তা শান্তিরক্ষার চেয়ে ইজরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হবে। জনমত পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে প্যালেস্টাইনপন্থী ও ইজরায়েল-বিরোধী হওয়ায় এই উদ্যোগকে “বিশ্বাসভঙ্গ” বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

    পাক রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াও নেতিবাচক। ইরান, তুরস্ক ও কাতারসহ কয়েকটি প্রভাবশালী মুসলিম দেশের নীতিনির্ধারকেরা পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানকে মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। দেশীয় রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র। ইসলামি দলগুলো সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনাকে “প্যালেস্টাইনকে অধীনস্থ করার ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করে প্রতিবাদে নেমেছে। সরকারি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মুখে সংঘর্ষের খবরও আসে; পরবর্তীতে ব্যাপক ধরপাকড়, গ্রেফতার ও নানা নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী সংসদে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে যে কোনো সমঝোতা প্যালেস্টাইনের অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে বলে সতর্ক করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংসদীয় আলোচনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।

    রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট

    সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। সমালোচকরা দাবি করছেন, অর্থনৈতিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সুবিধার বিনিময়ে এই পরিকল্পনায় এগোনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে সেনা মোতায়েনের জন্য অর্থনৈতিক দরকষাকষির অভিযোগও তোলা হয়েছে, যদিও এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। আরও বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণ-সহজীকরণ বা নতুন তহবিলের আশ্বাস এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি একটি শান্তিরক্ষামূলক অবদান। তবে বিরোধীদের চোখে, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের প্যালেস্টাইন নীতিকে দুর্বল করবে, অভ্যন্তরীণ ঐক্যে ফাটল ধরাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গাজায় সেনা পাঠানোর প্রশ্নটি এখন পাকিস্তানের জন্য এক বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

LinkedIn
Share