Author: ishika-banerjee

  • Amit Shah in Bengal: ঝেঁপে বৃষ্টি সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া, দুর্যোগের মধ্যে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমান

    Amit Shah in Bengal: ঝেঁপে বৃষ্টি সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া, দুর্যোগের মধ্যে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্যোগের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। খারাপ আবহাওয়া, দুর্যোগের কারণে বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা, মাঝ আকাশেই চক্কর খেতে হল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। দীর্ঘক্ষণ আকাশে পাক দেওয়ার পর অবশেষে রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে অমিত শাহের (Amit Shah in Bengal) চার্টার্ড বিমান। বঙ্গ সফরে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর চার্জশিট প্রকাশ করার কথা। এর আগে বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে কর্মসূচি সেরে কলকাতায় ফিরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমানও ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়েছিল।

    ৪৫ মিনিট মাঝ আকাশে চক্কর

    শুক্রবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ কলকাতায় শাহের বিমান অবতরণ করার কথা ছিল, তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে দেরি হচ্ছিল। রাত ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ কলকাতায় আসে বিমান, কিন্তু লাগাতার প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে অবতরণ করা যাচ্ছিল না। জানা গিয়েছে, মধ্যরাতে যখন কলকাতায় তুমুল ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে, সেই সময় ঠাকুরনগরের আকাশে চক্কর খায় অমিত শাহের বিমান। ঠাকুরনগরের কাছ থেকে ভীমপুরের আকাশে এক পাক ঘোরে বিমানটি। এরপর সেখান থেকে ধুবুলিয়ার দিকে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে বেথুয়াডহরির আকাশেও চক্কর খেতে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমানকে। অবশেষে রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিমানটি অবতরণ করে। দুর্যোগের কারণে প্রায় ৪৫ মিনিট মাঝ আকাশে চক্কর খায় বিমানটি।

    কেন সমস্যা হচ্ছিল

    সাধারণত বিএসএফের বিমানে যাতায়াত করেন শাহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে শুক্রবার তিনি সেই বিমানে আসেননি। এসেছেন ছোট আকারের একটি বেসরকারি বিমানে। সেই কারণেই দুর্যোগে তা অবতরণ করাতে সমস্যায় পড়েছিলেন পাইলটেরা। শাহের সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। বিমানবন্দরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বরা।

    রাতেই ঝেঁপে বৃষ্টি, বিপর্যস্ত শহর

    দিনভর গুমোট গরমের পর রাতেই ঝেঁপে বৃষ্টি (Rain in Kolkata) নেমেছিল কলকাতা ও শহরতলিতে। সঙ্গে ছিল অনবরত মেঘের গর্জন। ঝড়ও ওঠে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর রাতে ছয় জেলায় লাল সতর্কতা জারি করে। সেই তালিকায় কলকাতাও ছিল। লাল সতর্কতা জারি করা হয় হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। শুক্রবার রাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে বেহালা, গড়িয়া, বরানগর, যাদবপুর, কালিকাপুর, নিউ টাউন, কালিন্দিতে। ডানকুনি, শ্যামনগরের মতো এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। ডানলপ, সিঁথির মতো এলাকায় বজ্রপাতের সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার শোঁ শোঁ শব্দও শোনা গিয়েছে। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর সামনে উত্তম কুমার সরণিতে একটি গাড়ির উপরে গাছ পড়ে যায়। শুক্র বার রাতে গল্ফগ্রিনেও গাছ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ঝড়বৃষ্টির জেরে এন্টালিতে একটি পাঁচিল ভেঙে গিয়েছে।

  • PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল গ্রুপ (IGM) গঠন করল। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠকে (Virtual Meeting) বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( PM Modi Meeting)। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অংশ নেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    ছিল না ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য

    ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য অসম (Assam),কেরালা (Kerala),তামিলনাড়ু (Tamilnadu),পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পুদুচেরির (Puducherry) মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেননি। নির্বাচন আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, এই পাঁচ রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করবেন কেন্দ্রের মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়, যাতে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বজায় রাখা যায়। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজ্যগুলির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেন। সীমান্ত, উপকূল, সাইবার স্পেস এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। গুজব ও মজুতদারি রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একের পর এক বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারত তার অগ্রগতির ধারা বজায় রেখেছে, যা সম্ভব হয়েছে সম্মিলিত জাতীয় প্রচেষ্টা এবং সক্রিয় প্রশাসনের মাধ্যমে।

    জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক

    এই ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও যোগ দেন। বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে খবর। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই বৈঠকে ‘টিম ইন্ডিয়া’-র ভাবনায় রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের বৈঠক এই প্রথম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই এই সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল ও একাধিক উপসাগরীয় দেশে।

  • Mamata on Ram Navami: শুভেচ্ছাতেই শেষ! সারাদিন রাজ্যে রামনবমীর কোনও অনুষ্ঠানে নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা, জানেন কেন?

    Mamata on Ram Navami: শুভেচ্ছাতেই শেষ! সারাদিন রাজ্যে রামনবমীর কোনও অনুষ্ঠানে নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা, জানেন কেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা দেশের পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে পালিত হল রাম নবমী (Mamata on Ram Navami)। নির্বাচনের আগে ঈদের নামাজ আদায় করতে রেড রোড গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু রাম নবমীর দিন কোথাও রাম নবমীর কোনও মিছিলে, পুজোয়, খুঁজে পাওয়া গেল না তাঁকে। হিন্দুদের উৎসব বাসন্তী পুজো অন্নপূর্ণা পুজো এবং রামনবমী। নির্বাচনের আগে এটা হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব বলা যায়। অথচ অদ্ভুত কান্ড। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামনবমীর একটা নমো নম করে পোস্টার বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছাড়া তার আর কিছুই করলেন না।

    সংখ্যালঘু তোষণই নীতি

    নির্বাচনের আগে নিজের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে হাতে রাখার জন্য কোনও কসুর ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঈদের দিন বৃষ্টির মধ্যেই সকাল সকাল তিনি চাদর গায়ে দিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন রেড রোডে ঈদের মঞ্চে। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে তিনি হিন্দি ভাষায় অনর্গল বিজেপিকে আক্রমণ করে যান। তবে রামনবমীকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু পোস্টার। দেখলে অবাক হবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামনবমীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মানুষকে। কিন্তু সেখানে শ্রী রামচন্দ্রের কোন ছবি নেই। কেবলমাত্র তার হাসি হাসি মুখের একটি ছবি রয়েছে। যাই হোক এই ছবি পোস্ট করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনভর সেটা নিয়ে সমালোচনা হয়।

    মমতার হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ধস

    সমালোচকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু  ভোট ব্যাংকের জন্য চিন্তা করেন না। আর সেই জন্যই রামনবমীতে কোনও অনুষ্ঠান দেখা গেল না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আসলে, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে বাঙালি হিন্দুর মধ্যে তার জাতীয়তাবাদী সত্তাটা খানিক চাপা পড়ে গিয়েছিল, বারবারি রাজ্যে হিংসা-হানাহানি হলেও বামেদের প্রচারের কারণে নিজেদের বিপদটা বুঝতে পারতেন না বাঙালি হিন্দুরা। তারপর ক্ষমতায় এলেো তৃণমূল। বামেদের দেখানো পথেই সংখ্যালঘুতোষণ শুরু করলো তারা। পশ্চিমবঙ্গে লেগে রইল হিংসা। বাদুড়িয়া কালিয়াচক ধূলাগড় সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুরা অত্যআচারিত হল। কিন্তু ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় বসার বছর খানেক পর থেকে এই রাজ্যে পাল্টে যেতে শুরু করে পরিস্থিতি। হিন্দুরা তাদের হিন্দুত্ব নিয়ে গর্ব করতে শুরু করে সেই প্রথম। জাগতে শুরু করে হিন্দুরা। ধীরে ধীরে রাজ্যজুড়ে ধুমধাম করে পালন হতে শুরু করে রামনবমী। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ নানা হিন্দু সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে, জায়গায় জায়গায় ধুমধাম করে রামনবমী পালন শুরু হয়। হিন্দুরা জাগতে ধীরে ধীরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামে। তিনি আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরতে শুরু করেন মুসলিম ভোট ব্যাংককে। এরপর ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বিজেপির ১৮টি আসন পাওয়ার পর রামচন্দ্র রাতারাতি হয়ে যান বহিরাগত।

    মমতার দ্বিমুখী আচরণ

    তারপর নদী দিয়ে কত জল গড়িয়ে গিয়েছে, কত বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলার হিন্দু সমাজ আরো বেশি করে একত্রিত হয়েছে। আর তত বেশি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরে গিয়েছেন মুসলিম ভোট ব্যাংকের কাছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে তিনি অপমান করেছেন হিন্দুদের।। কোন প্রতিবাদ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাননি। হিন্দুদের পবিত্রতম সমাবেশ মহাকুম্ভকে তিনি ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। কোটি কোটি পুণ্যার্থীর আধ্যাত্মিক আবেগকে এভাবে অমঙ্গলজনক শব্দের মাধ্যমে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। জনসমক্ষে দেবীর আরাধনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভুলভাবে সরস্বতী মন্ত্র পাঠ করেন। মন্ত্রের শুদ্ধতা নষ্ট করা এবং ভুল উচ্চারণ ধর্মীয় শাস্ত্রের প্রতি তাঁর উদাসীনতা ও অবজ্ঞাকেই প্রকাশ করে। আধ্যাত্মিক আলোচনা করতে গিয়ে তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনী ও বাণী গুলিয়ে ফেলেন। এই ধরনের ভুল মহাপুরুষদের আদর্শের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন। শ্রীরামকৃষ্ণের কালজয়ী বাণী “যত মত তত পথ”-কে তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে “যত মাটি তত টাকা” বলে ব্যাখ্যা করেন। এই মহান আধ্যাত্মিক দর্শনকে অর্থের সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ব্রিগেডে লক্ষকণ্ঠে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে তিনি যাননি এবং সেটিকে রাজনৈতিক তকমা দিয়েছিলেন। অথচ রেড রোডের নামাজে নিয়মিত গিয়ে রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়া তাঁর দ্বিমুখী আচরণকেই স্পষ্ট করে।

  • PM Modi In France: ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, আলোচনায় হরমুজ ও বিশ্ব অর্থনীতি

    PM Modi In France: ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, আলোচনায় হরমুজ ও বিশ্ব অর্থনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে আয়োজিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে (G7 Summit) যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ১৫-১৭ জুন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সেখানে যোগ দেবেন তিনি। উল্লেখ্য, ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এখনও এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে চলা জি৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলির নেতারা এই সম্মেলনে একত্রিত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন।

    ফ্রান্স ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব

    দু’দিনের ফ্রান্স সফরে গিয়েছে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ফ্রান্সের ইউরোপ ও বিদেশ বিষয়ক মন্ত্রী জঁ নোয়েল বারোর। জি৭ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে তাঁদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকেই ফ্রান্সের এভিয়াঁ শহরে অনুষ্ঠিতব্য জি৭ সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণকে স্বাগত জানানো হয়। ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রক যে বিবৃতি পেশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন দুই দেশের দুই মন্ত্রী জি৭-এর কার্যক্রমে ভারতের অবদান বিশেষভাবে তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে কানাডায় জি৭ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন মোদি। মনে করা হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে ওই সম্মেলনে। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, ফ্রান্স ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

    আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব বৃদ্ধি

    যদিও ভারত জি৭-এর সদস্য নয়, তবুও দেশের অর্থনৈতিক শক্তি ও কূটনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রায়শই তাকে আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এবারের সম্মেলনেও ভারত বৈশ্বিক অর্থনীতি, সাপ্লাই চেইন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা—এই সব বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে যখন একাধিক সংকট—অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত এবং জ্বালানি সমস্যা—চলমান, তখন এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জি৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করতে পারবে এবং বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবে।

    পশ্চিম এশিয়া ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে জোর

    সম্মেলনের আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাবে, বলে বিশেষজ্ঞদের মত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারত ও ফ্রান্স উভয়েই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মঞ্চ

    প্রসঙ্গত, জি৭ -এর পুরো কথা হল ‘গ্রুপ অফ সেভেন’। এটি বিশ্বের সাতটি উন্নত অর্থনীতির দেশগুলির একটি গোষ্ঠী। এই সাতটি দেশ বছরে একবার মিলিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করে। ১৯৭৩ সালে খনিজ তেলের সংকটের কারণে গোটা বিশ্বে অর্থনীতির চাকা স্লথ হয়ে গিয়েছিল। সেই সংকটের মোকাবিলা করতেই জি৭ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল সাতটি দেশ। জি৭ গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলি হল ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন, জাপান, আমেরিকা এবং কানাডা। ভারত এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়। নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ এই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা অন্য একটি দেশকে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। সেই সূত্রেই কয়েক বছর ধরে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়ে আসছে ভারত।

    জি৭ বৈঠকের আলোচ্য বিষয়!

    এই বছর বৈঠকের আলোচ্য বিষয় হল গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা, পারস্পরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রভৃতি। অর্থনীতি সংক্রান্ত আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে থাকবে জ্বালানি, খনিজ পদার্থের সরবরাহ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন এবং লিঙ্গসাম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়েও এবারের জি৭ বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে, এই বৈঠকে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত নিয়ে আলোচনা হবে, বলে অনুমান। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করার জন্য এই গোষ্ঠীর জন্ম হলেও জি৭ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে একাধিকবার সমালোচনারও শিকার হয়েছে গোষ্ঠীটি। এর মূল কারণ হল জিডিপি হ্রাস। বিগত বেশ কিছু বছরে সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত জিডিপি হ্রাস পয়েছে। ফলে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হল চিন। তিন নম্বর স্থানে রয়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে, জাপানকে কড়া টক্কর দিয়ে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হওয়ার পথে ভারত। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই তিন দেশই জি৭ গোষ্ঠীর স্থায়ী সদস্য নয়।

  • IPL 2026: ঘোষিত আইপিএলের সম্পূর্ণ সূচি, ইডেনে কবে, কখন খেলবেন নাইটরা?

    IPL 2026: ঘোষিত আইপিএলের সম্পূর্ণ সূচি, ইডেনে কবে, কখন খেলবেন নাইটরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে ক্রীড়া-বিনোদনের মহাযজ্ঞ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। ২৮ মার্চ, শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএল (IPL 2026)। এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য প্রথম দফায় ২০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছিল বিসিসিআই (BCCI)। এর পর আরও ৫০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা করা হল। ফাইনাল ৩১ মে। বৃহস্পতিবার বিসিসিআইয়ের তরফে ঘোষণা করা হল, আগামী ২৪ মে পর্যন্ত চলবে আইপিএলের গ্রুপ পর্বের খেলা। তার পরের সপ্তাহে প্লে অফ এবং ফাইনাল খেলা হবে। সবমিলিয়ে ৫০টি ম্যাচ খেলা হবে দেশের ১২টি স্টেডিয়ামে।

    ভোট দেখে ম্যাচ ইডেনে 

    প্রসঙ্গত, চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে চলবে বিধানসভা ভোট। সেই কারণে প্রথম দফায় ২০টি ম্যাচের কথা ঘোষণা করেছিল বিসিসিআই (BCCI)। এদিকে বাংলায় দু’দফায় ভোটের কারণে হোম ম্যাচগুলিও সেইভাবে রাখা হয়েছে। কারণ, ভোটের দিনের খেলা থাকলে পুলিশ পাওয়া নাও যেতে পারে। সেই কারণে ভোটের সময়সূচি অনুযায়ী ম্যাচ রাখা হয়েছে ইডেনে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনেই মাঠে নামছে কেকেআর।

    ইডেনে খেলবেন না বিরাট

    অ্যাওয়ে ম্যাচে খেলতে নামবে নাইট ব্রিগেড। ২৯ মার্চ কেকেআরের প্রতিপক্ষ মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। গ্রুপ পর্বের একেবারে শেষ ম্যাচটিও খেলবে কেকেআর। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে খেলে গ্রুপ পর্ব শেষ হবে অজিঙ্ক রাহানেদের। অর্থাৎ দরকার পড়লে প্লে অফে ওঠার যাবতীয় অঙ্ক, যাবতীয় হিসাবনিকাশ মাথায় রেখে খেলতে পারবে নাইটরা। কিন্তু আসন্ন আইপিএলে বিরাট কোহলি এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির খেলা দেখতে পাবেন না কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীরা। কারণ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে একটাই ম্যাচ খেলবে কেকেআর। সেই ম্যাচ খেলা হবে বিরাটদের দ্বিতীয় ঘরের মাঠ রায়পুরে। অন্যদিকে ধোনিদের দুর্গ চিপকে খেলতে নামবে নাইটরা।

    আইপিএলে কেকেআর (KKR)-এর পূর্ণাঙ্গ সূচি…

    ইডেনে নাইটদের খেলা:

    • ● ২ এপ্রিল কেকেআর বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (কলকাতা, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ৬ এপ্রিল কেকেআর বনাম পাঞ্জাব কিংস (কলকাতা, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ৯ এপ্রিল কেকেআর বনাম লখনউ সুপার জায়ান্টস (কলকাতা, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ১৯ এপ্রিল কেকেআর বনাম রাজস্থান রয়্যালস (কলকাতা, সময় দুপুর ৩.৩০)
    • ● ১৬ মে কেকেআর বনাম গুজরাট টাইটান্স (কলকাতা, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ২০ মে কেকেআর বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (কলকাতা, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ২৪ মে কেকেআর বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস (কলকাতা, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)

    নাইটদের অ্যাওয়ে ম্যাচ:

    • ● ২৯ মার্চ কেকেআর বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (ওযাংখেড়ে, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ১৪ এপ্রিল কেকেআর বনাম চেন্নাই সুপার কিংস (চেন্নাই, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ১৭ এপ্রিল কেকেআর বনাম গুজরাট টাইটান্স (আহমেদাবাদ, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ২৬ এপ্রিল কেকেআর বনাম লখনউ সুপার জায়ান্টস (লখনউ, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ৩ মে কেকেআর বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (হায়দরাবাদ, সময় দুপুর ৩.৩০)
    • ● ৮ মে কেকেআর বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস (দিল্লি, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
    • ● ১৩ মে কেকেআর বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (রায়পুর, সময় সন্ধ্যা ৭.৩০)
  • Fuel Price: জনগণের স্বস্তি, স্থিতিশীল দাম! পেট্রল-ডিজেলের অন্তঃশুল্ক কমিয়ে বিরাট পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    Fuel Price: জনগণের স্বস্তি, স্থিতিশীল দাম! পেট্রল-ডিজেলের অন্তঃশুল্ক কমিয়ে বিরাট পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোল-ডিজেলে (Petrol-Diesel) কমানো হল অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক বা স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি (Special Additional Excise Duty)। অন্য সময়ে এই আবগারি শুল্ক কমানো হলে, পেট্রোল পাম্পগুলিতে ভিড় লেগে যেত। দাম কমে যেত পেট্রোল-ডিজেলের। তবে এবার ব্যতিক্রম। আজ, শুক্রবার (২৭ মার্চ) কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোলের উপরে স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি কমিয়ে প্রতি লিটারে ৩ টাকা করা হয়। ডিজেলের উপরে এই আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। মোট ১০ টাকা করে শুল্ক কমানো হয়েছে। মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর পেট্রলের উপর চাপানো শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে দাঁড়াল ৩ টাকা।

    বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাগাতার বৃদ্ধি

    পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার কারণে বর্তমানে ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪৯ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। বিশ্ববাজারে গত কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম লাগাতার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভারতের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি পেট্রোল-ডিজেলের দাম বিশেষ একটা বাড়ায়নি। দাম বেড়েছে প্রিমিয়াম জ্বালানির। এছাড়া নায়ারা এনার্জি তাদের পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। এই আবহে কেন্দ্রের আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত।

    দেশে বাড়বে না জ্বালানির দাম!

    ওয়াকিবহাল মহল বলছে, রিটেল প্রাইজ অর্থাৎ যে দামে সাধারণ মানুষ পেট্রোল-ডিজেল কেনে, তা কমানোর বদলে আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি থেকে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলিকে সুরক্ষা দিতেই। এতে জ্বালানির দাম কমার বদলে বরং যে দাম বর্তমানে রয়েছে, তা যাতে আর না বাড়ে, তার চেষ্টাই করা হবে। নায়ারা এনার্জির পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধিও সেই কারণেই হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায়, দেশীয় সংস্থাগুলির উপরেও চাপ বাড়ছে। তবে সরকারের এই আবগারি শুল্ক ছাড় দেওয়ায় আপাতত আর জ্বালানির দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    বিভিন্ন সূত্রে খবর, অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে সরাসরি সাধারণ মানুষের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কমই। দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি (ওএমসি)-র ক্ষতি লাঘব করতে এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে সরকার রাজস্বও হারাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতীয় সংস্থাগুলি যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার উপর সরকার অন্তঃশুল্ক নেয়। গত বছরই সেই শুল্ক বাড়িয়েছিল মোদি সরকার। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তবে ভারতের বাজারে এখনও পর্যন্ত সাধারণ পেট্রল, ডিজেলের দাম বাড়েনি। এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে অনেকটাই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই ক্ষতির ধাক্কা সামলে নিতেই অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত

    কেন অন্তঃশুল্ক কমানোর পথে হাঁটল সরকার? কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানিয়েছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকারে কাছে দু’টি পথ খোলা ছিল। এক, অন্য দেশের মতো ভারতে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। আর দুই, আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে দেশবাসীকে মূল্যবৃদ্ধির থেকে রক্ষা করা। মোদি সরকার দ্বিতীয় পথটা বেছে নিয়েছে বলে জানান পুরী। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে চড়চড় করে বাড়তে পারে পেট্রোল ডিজেলের দাম। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়তে পারে দেশের মধ্যেও জ্বালানির দর। তবে এই মুহূর্তে এই কোপ যাতে দেশের মানুষের ঘাড়ে না পড়ে, তার জন্য বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। আর তার জেরে কমে যেতে পারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম! মনে করা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম উত্তুঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্তি মিলবে। না কমলেও থিতু থাকতে পারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম।

    কমল বিমানের জ্বালানির দামও

    পেট্রোল-ডিজেলের সঙ্গেই এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েলের উপর অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। প্রতি লিটারে ৫০ টাকা অন্তঃশুল্ক কমে হল ২৯ টাকা ৫০ পয়সা। জ্বালানির দাম বাড়ায় যাতে বিমানের টিকিটের দাম না বাড়ে, সেদিকে তাকিয়ে পদক্ষেপ কেন্দ্রের। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। প্রথমত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহণ খরচে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে শুল্ক কমিয়ে সরকার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছে।

    গ্যাসের সংকটও হবে না

    ইরানের উপর আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলা এবং তেহরানের প্রত্যাঘাতের আগে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির অর্ধেকেরও বেশি সৌদি আরব ও ইউএই-র মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে আসত। তবে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ রেখেছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। কয়েকটি দেশের জাহাজ পারাপারের ‘অনুমতি’ দিয়েছে ইরান। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতের কয়েকটি জাহাজও। তবে উৎকণ্ঠা কাটছে না। এরই মধ্যে মোদি সরকার বার বার আশ্বস্ত করছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল বা গ্যাস মজুত রয়েছে। ভারতে কত দিনের তেল এবং গ্যাস মজুত রয়েছে, তার পরিসংখ্যানও দিয়েছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে যা অশোধিত তেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে ৬০ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। এই সময়ের মধ্যে বিশ্বে বড় কোনও সঙ্কট হলেও তেলের জোগান ব্যাহত হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এ-ও জানানো হয়েছে, আমেরিকা, রাশিয়ার মতো দেশ থেকে গ্যাসবাহী জাহাজ খুব শীঘ্রই ভারতের বন্দরগুলিতে ঢুকবে। ইতিমধ্যেই ৮০০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস আমদানি সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে এক মাস পরেও গ্যাসের সঙ্কট হবে না।

  • Delhi Crime Branch: পাকিস্তান-বাংলাদেশ অস্ত্রপাচার চক্রের হদিশ! দিল্লি পুলিশের জালে ১০ পাচারকারী

    Delhi Crime Branch: পাকিস্তান-বাংলাদেশ অস্ত্রপাচার চক্রের হদিশ! দিল্লি পুলিশের জালে ১০ পাচারকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি পুলিশের (Delhi Crime Branch) জালে এক বড় আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার চক্র। পুরনো দিল্লির ওয়ার্ল্ড সিটি এলাকা থেকে পরিচালিত এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২১টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২০০-রও বেশি কার্তুজ। ডিসিপি সঞ্জীব যাদবের নেতৃত্বে চালানো এই অভিযানে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের (Pakistan-Bangladesh Arms Trail) সঙ্গে যুক্ত একটি সুসংগঠিত পাচার রুটের সন্ধান মিলেছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি চেক প্রজাতন্ত্র-নির্মিত সাবমেশিন গান এবং বেরেটা, ওয়ালথার, টরাস ও সিজেড-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার তৈরি একাধিক সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। এছাড়া একটি উচ্চমানের পিএক্স৫.৭ পিস্তলও উদ্ধার হয়েছে, যা সাধারণত এলিট ট্যাকটিক্যাল ইউনিটে ব্যবহৃত হয়।

    পাকিস্তান থেকে নেপাল হয়ে দিল্লি

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্রগুলি পাকিস্তান থেকে পাচার হয়ে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকত এবং সেখান থেকে দিল্লিতে আনা হত। পুরনো দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে গুদাম ও বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হত। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের কাছে এত উন্নতমানের অস্ত্রের উপস্থিতি এই নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। এই চক্রটি দিল্লি-এনসিআর সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন সংগঠিত অপরাধচক্রে অস্ত্র সরবরাহ করত। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক অস্ত্র সরবরাহকারী ও স্থানীয় অপরাধ জগতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছিল এই নেটওয়ার্ক। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পুরনো দিল্লির জটিল ও ঘিঞ্জি গলিপথকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই নজর এড়িয়ে কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।

    সংগঠিত অপরাধ জগতে বড় ধাক্কা

    পুলিশের মতে, এই অভিযানে উত্তর ভারতের অপরাধ জগতে বড় ধাক্কা লেগেছে। কারণ, বহু অপরাধচক্র এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কাদের কাছে যেত, তা খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে কোনো স্লিপার সেল বা দেশবিরোধী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজ এবং নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি বোঝার চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান-নেপাল-বাংলাদেশ সংযুক্ত এই অস্ত্র পাচার চক্র ভাঙার ঘটনায় আবারও সামনে এল সীমান্ত পেরিয়ে চলা অপরাধের জাল।

  • IPL 2026: আসন্ন আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল, কারণ ব্যাখ্যা করল বিসিসিআই

    IPL 2026: আসন্ন আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল, কারণ ব্যাখ্যা করল বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএলের (IPL 2026) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করে দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। গত বছর ৪ জুন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উৎসব চলাকালীন পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বছরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

    কেন বাতিল অনুষ্ঠান

    বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, “গত ৪ জুনের মর্মান্তিক ঘটনার কারণে আইপিএলের শুরুর দিন কোনও অনুষ্ঠান হবে না। দুর্ঘটনায় প্রয়াতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিসিসিআই এ বার উদ্বোধনের দিন কোনও সাংস্কৃতিক বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে না। তবে, ফাইনালের দিন একটি বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।” তবে, বিসিসিআই এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ঠিক করেছে, ফাইনালের দিন, অর্থাৎ ৩১ মে জমকালো সমাপ্তি অনুষ্ঠান হবে।

    আগেও বাতিল হয় অনুষ্ঠান

    উল্লেখ্য, গত বছর ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। উপস্থিত ছিলেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান, সঙ্গীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল, করণ আউজলা। পাশাপাশি নৃত্য পরিবেশন করেন অভিনেত্রী দিশা পাটানি। তবে এ বছর কোনও অনুষ্ঠান হচ্ছে না। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে পুলওয়ামা কাণ্ডের পরেও আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করেছিল বিসিসিআই। সেবার উদ্বোধনের জন্য বরাদ্দ অর্থ শহিদ জওয়ানদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    শোক ও শ্রদ্ধার আবহ

    আগামী শনিবার আইপিএল শুরু হচ্ছে। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।  ২০২৫ সালে IPL জয়ের পরে RCB-র সেলিব্রেশনে ঘটে গিয়েছিল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ট্রফি জয়ের প্যারেডে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১১ জন, আহত হয়েছিলেন অনেকে। প্রাক্তন ক্রিকেটার ভেঙ্কটেশ প্রসাদের সভাপতিত্বে কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্টেডিয়ামের ভিতরে একটা স্মৃতিফলক বসানো হবে। এর মাধ্যমে প্রয়াত ভক্তদের শ্রদ্ধা জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের স্মৃতিতে স্টেডিয়ামের ভিতর ১১টি আসন ফাঁকা রাখা হবে। আইপিএল হোক বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ, কোনও ম্যাচেই ওই আসনগুলোর টিকিট বিক্রি করা হবে না। সব মিলিয়ে শোক ও শ্রদ্ধার আবহেই শুরু হতে চলেছে আইপিএল।

  • Balendra Shah: শঙ্খধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে রামনবমীতে শপথ নিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ

    Balendra Shah: শঙ্খধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে রামনবমীতে শপথ নিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের নয়া প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের (Balendra Shah) শপথ ঘিরে সাজ সাজ রব। শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টা-ঘড়িয়ালের আওয়াজ এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ২৬ মার্চ শুক্রবার, শপথ নিলেন বলেন্দ্র। তাঁর শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। এই দিনটি চৈত্র নবরাত্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। হিন্দুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব রাম নবমীর দিনই শপথ নিলেন বলেন্দ্র। স্থানীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে নির্ধারিত হয়েছে শপথের শুভ মুহূর্ত। একই সময়ে অযোধ্যার রামমন্দিরে চলেছে বিশেষ পুজো, ফলে ধর্মীয় আবহে এক অনন্য সংযোগ তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

    ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন

    গত বছরে নেপালে জেন জি আন্দোলনের জেরে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলনের ফলে তৎকালীন সরকার ভেঙে দেওয়া হয় এবং নতুন করে নির্বাচনের পথ খুলে যায়। সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন বলেন্দ্র শাহ। সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়ে তিনি এখন দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন। ফলে এই শপথগ্রহণ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজনেও ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পঞ্জিকা মেনে শুভ মুহূর্ত নির্ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০৮ জন হিন্দু বটুক স্বস্তিবাচন করেন, যা শুভ ও মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ১০৭ জন বৌদ্ধ লামা গুরু মঙ্গল পাঠ করেন, যা বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়। এর মাধ্যমে নেপালের বহুধর্মীয় ঐক্য ও সহাবস্থানের চিত্র ফুটে ওঠে।

    পবিত্রতার বার্তা, রামায়নে প্রেরণা

    শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে, সাতজন ব্রাহ্মণ শঙ্খধ্বনি করেন, যার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে পবিত্রতার বার্তা। পুরো পরিবেশ একাধারে আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী আবহে ভরে ওঠে। এই আয়োজন নেপালে সনাতন ধর্মের গভীর প্রভাবকেই প্রতিফলিত করে। উল্লেখ্য, নেপালের প্রায় ৮১.১৯ শতাংশ জনগণ হিন্দু, যা সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩৭ লক্ষ। বলেন্দ্র শাহ তাঁর নির্বাচনী প্রচারেও বারবার রামায়ণ-এর প্রতীকী ব্যবহার করেছিলেন। তিনি প্রচার শুরু করেছিলেন জনকপুর থেকে, যা সীতার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রামায়ণ-সংক্রান্ত এই প্রতীকী পদক্ষেপ এবং রাম নবমীর দিনে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেশের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

  • India Oil Imports: হরমুজ সঙ্কটে বিকল্প উৎসের সন্ধান! দেশে সরবরাহ বজায় রাখতে ৬ কোটি ব্যারেল রুশ তেল কিনল ভারত

    India Oil Imports: হরমুজ সঙ্কটে বিকল্প উৎসের সন্ধান! দেশে সরবরাহ বজায় রাখতে ৬ কোটি ব্যারেল রুশ তেল কিনল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী মাসের জন্য রাশিয়ার থেকে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত (India Russian oil purchase), এমনই দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে এই বড় পরিমাণ তেল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ৫ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে এই তেল কেনা হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহের টানাপোড়েন ও উচ্চ চাহিদারই ইঙ্গিত দেয়।

    রুশ বাজারে ফিরল ভারত

    এই কেনাকাটা সম্ভব হয়েছে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড়ের কারণে। মার্চের শুরুর আগে যেসব রুশ তেলবাহী জাহাজে তেল তোলা হয়েছিল, সেগুলির ডেলিভারি নেওয়ার অনুমতি দেয় ওয়াশিংটন। পরে এই ছাড়ের সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়, যাতে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার প্রভাব কিছুটা কমানো যায়। গত ডিসেম্বরের পর থেকে মার্কিন চাপের কারণে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি রুশ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। তবে বর্তমানে আবারও সেই বাজারে ফিরেছে হিন্দুস্থান মিত্তল এনার্জি লিমিটেড (Hindustan Mittal Energy Ltd) এবং ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (Mangalore Refinery & Petrochemicals Ltd)-এর মতো সংস্থাগুলি।

    লাভবান রাশিয়া

    সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারত সৌদি আরব ও ইরাক থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে বহু তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়ে, যার ফলে সরবরাহে আরও চাপ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ মহলের ধারণা, হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন ছাড় বলবৎ থাকতে পারে। এদিকে, ভারতের মতো বড় ক্রেতার চাহিদা বাড়ায় রাশিয়াও লাভবান হচ্ছে। ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর ২০২২ সালের মার্চের পর থেকে এবারই রাশিয়ার তেল রফতানি থেকে সর্বোচ্চ আয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    বিকল্প উৎসের সন্ধানে ভারত

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে বিদেশ থেকে। ফলে কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে সেই আমদানিতে বহুবার বাধা এসেছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এখন ভেনেজুয়েলার মতো বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। বর্তমানে ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎসকে বহুমুখী করে তুলেছে। অর্থাৎ, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তেল ও গ্যাস সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। এ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে ইরাক বহু বছর ধরেই ভারতের অন্যতম প্রধান তেল রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত।

    আমদানির বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি

    শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ভারতের তেল আমদানি। আমেরিকা থেকেও এখন বিপুল পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। শেল অয়েল বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজারে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশ থেকেও তেল কেনে ভারত। শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ভারতের আমদানি। আমেরিকা থেকেও এখন বিপুল পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। শেল অয়েল বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজারে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশ থেকেও তেল কেনে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানির এই বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২০ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একক কোনও অঞ্চলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে ভারত।

    কেন্দ্রের প্রচেষ্টায় ভারতে সরবরাহ চলছে

    বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ চলছে। সম্প্রতি রুশ তেলবোঝাই ট্যাঙ্কার ‘মাউন্ট অ্যাকুয়া টাইটান’ ২২ মার্চ ভারতের উপকূলে পৌঁছেছে এবং ম্যাঙ্গালুরুর কাছে আরব সাগরে নোঙর করে রয়েছে। একই সময়ে টেক্সাস থেকে এলপিজি বোঝাই একটি কার্গো জাহাজও নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছেছে, যা জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশের কোনও বন্দরে জট তৈরি হয়নি এবং পারস্য উপসাগর এলাকায় থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজ ও ৬১১ জন নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র। বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ১৪ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে কিছু চার্জ মকুব করেছে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দর কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ‘জাগ লাডকি’ নামের একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার সফলভাবে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের এলপিজি বাহক জাহাজও হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে পৌঁছেছে, যা সরকারি সহায়তায় দেশে জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় থাকারই প্রমাণ।

LinkedIn
Share