Author: ishika-banerjee

  • JP Nadda: স্বাস্থ্যে আত্মনির্ভরতার বড় পদক্ষেপ, দেশীয় টিটেনাস ও অ্যাডাল্ট ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন চালু নাড্ডার

    JP Nadda: স্বাস্থ্যে আত্মনির্ভরতার বড় পদক্ষেপ, দেশীয় টিটেনাস ও অ্যাডাল্ট ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন চালু নাড্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আত্মনির্ভর ভারতের পথে আরও এক ধাপ। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে স্বনির্ভর দেশ। শনিবার হিমাচল প্রদেশের কাসৌলিতে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গবেষণগার (Central Research Institute) দেশীয়ভাবে প্রস্তুত টিটেনাস ও অ্যাডাল্ট ডিপথেরিয়া (টিডি) ভ্যাকসিনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। তিনি একে ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যখাতে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাড্ডা বলেন, “এই ভ্যাকসিনের সূচনা দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এর বাস্তব রূপ

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টিডি ভ্যাকসিনকে দেশের ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রামের (Universal Immunization Programme) আওতায় সরবরাহ করা হবে। আগামী এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে সিআরআই প্রায় ৫৫ লক্ষ ডোজ সরবরাহ করবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে, যাতে সারা দেশে টিকাকরণ কর্মসূচি জোরদার করা যায়। নাড্ডা জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ও ওষুধ উৎপাদন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য কেন্দ্র সরকার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশীয় টিডি ভ্যাকসিন সেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনারই বাস্তব রূপ। নাড্ডা বলেন, ভারত আজ বিশ্বে ‘ফার্মেসি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে পরিচিত এবং বৈশ্বিকভাবে অন্যতম প্রধান ভ্যাকসিন উৎপাদক দেশ। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিংয়ে ভারত ‘ম্যাচুরিটি লেভেল ৩’ অর্জন করেছে, যা দেশের শক্তিশালী ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার প্রমাণ।

    স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতের ডিজিটাল অগ্রগতি

    অতীতের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একসময় টিটেনাস ভ্যাকসিন তৈরি হতে বহু দশক সময় লেগেছে। এমনকি জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন আবিষ্কারেও দীর্ঘ গবেষণা প্রয়োজন হয়েছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারতের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র নয় মাসে দেশ দুটি দেশীয় টিকা তৈরি করে এবং ২২০ কোটিরও বেশি ডোজ প্রয়োগ করে, যার মধ্যে বুস্টার ডোজও ছিল। টিকাকরণ শংসাপত্র ডিজিটালভাবে প্রদান করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতের ডিজিটাল অগ্রগতির নিদর্শন। ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে নাড্ডা জানান, ভারত প্রায় ১০০টি দেশে কোভিড টিকা সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে ৪৮টি দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিআরআই-এর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

  • Congress Protest: এআই সামিটে কংগ্রেসের বিক্ষোভ “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ, বলল দিল্লি পুলিশ

    Congress Protest: এআই সামিটে কংগ্রেসের বিক্ষোভ “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ, বলল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সদস্যদের বিক্ষোভের ঘটনাকে “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালতে পেশ করা বক্তব্যে পুলিশ জানায়, এই প্রতিবাদ নেপালের তথাকথিত ‘জেন জি আন্দোলন’ থেকে অনুপ্রাণিত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কংগ্রেস কর্মীদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যা সেখানে সরকার পতনের কারণ হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    নেপালের জেন জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা

    পুলিশের আইনজীবী আদালতে বলেন, “এটি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র। নেপালের জেন জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের একে অপরের সঙ্গে এবং ডিজিটাল প্রমাণের সঙ্গে মুখোমুখি জেরা করা প্রয়োজন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।” পুলিশ আরও জানায়, বিক্ষোভের অর্থায়ন সম্পর্কেও তদন্ত চলছে। ঘটনায় প্রায় ১০ জন যুব কংগ্রেস কর্মী এআই সম্মেলনের ভেন্যুতে ঢুকে শার্ট খুলে বিক্ষোভ দেখান এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভকারীরা সাদা টি-শার্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান প্রদর্শন করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁদের আটক করে। পরে সম্মেলন বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

    “দেশবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা বিক্ষোভকে “দেশবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন। বিজেপি নেতা নিতিন নবীন অভিযোগ করেন, “আমরা প্রায়ই ‘আরবান নকশালবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করি। আগে কিছু দল এতে প্রভাবিত ছিল, এখন তারা পুরোপুরি এর অংশ হয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যখন বিশ্বমঞ্চে ভারতের আলোচনা হচ্ছে, তখন এ ধরনের লজ্জাজনক কাজ দেশের অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।” দিল্লি থেকে মুম্বই—বিভিন্ন শহরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয় বিজেপি। মুম্বইয়ে রাহুল গান্ধীকে কালো পতাকা দেখান বিজেপি কর্মীরা।

    রাহুল গান্ধীকে কালো পতাকা প্রদর্শন

    শনিবার সকালে রাহুল গান্ধী মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে ঠানে জেলার ভিওয়ান্ডিতে একটি ২০১৪ সালের মানহানির মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে যান। বিমানবন্দর চত্বরে বিজেপি সমর্থকেরা কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাজধানী দিল্লিতেও একই চিত্র দেখা যায়। বিজেপি-র নেতা-কর্মীরা আকবর রোডে কংগ্রেসের দফতরের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। দিল্লি বিজেপি সভাপতি বিরেন্দ্র সচদেবা এবং লোকসভা সাংসদ মনোজ তিওয়ারি যুব কংগ্রেসের ওই প্রতিবাদকে “দেশদ্রোহী” কর্মকাণ্ড বলে কটাক্ষ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।

  • Bharatiya GPT: এআই সামিটে উন্মোচিত ভারতীয় জিপিটি, প্রাচীন জ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেতুবন্ধন

    Bharatiya GPT: এআই সামিটে উন্মোচিত ভারতীয় জিপিটি, প্রাচীন জ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেতুবন্ধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চ্যাটজিপিট-র মতো অ্যাপ নিয়ে আসছে ভারত। তৈরি হচ্ছে দেশীয় জিপিটি। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বম্বের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রোগ্রামটি তৈরি করা হচ্ছে, যার নাম ‘ভারত জিপিটি’ (Bharat GPT)। দিল্লিতে ভারত মণ্ডপমে আন্তর্জাতিক এআই সামিটে এর উন্মোচন হল। ভারতের প্রাচীন পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার থেকে নির্মিত একটি দেশীয় বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) এটি। এআই সামিটে স্পুটনিক ইন্ডিয়ার ধৈর্য মহেশ্বরী ও ভারতীয় জিপিটি (BharatiyaGPT)–এর প্রতিষ্ঠাতা আর রামকৃষ্ণনের কথোপকথনে উঠে এল ভারতের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।

    এক কোটি পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার থেকে এআই

    বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ বৃহৎ ভাষা মডেল মূলত পাশ্চাত্য তথ্যভাণ্ডারের উপর নির্ভরশীল। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় উদ্ভাবকদের প্রশ্ন—কেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভারতের সহস্রাব্দ প্রাচীন বিজ্ঞান, চিকিৎসা, গণিত, দর্শন ও জীবনবিজ্ঞানের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে শিখবে না? এই ভাবনা থেকেই গড়ে উঠেছে একটি ভারতকেন্দ্রিক ভাষা মডেলের এক ইকোসিস্টেম। যা ১ কোটিরও বেশি প্রাচীন পাণ্ডুলিপির উপর ভিত্তি করে নির্মিত। চল্লিশেরও বেশি লিপিতে লেখা এই পাণ্ডুলিপিগুলি বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিদ্যার অন্তর্গত। উদ্যোগটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়—এটি সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধারেরও প্রয়াস।

    ভারতীয় জিপিটি-র জন্ম

    কেবল পশ্চিমের ডেটাসেটের অভিযোজন ভারতের বৌদ্ধিক ঐতিহ্যকে ধারণ করতে পারবে না, এই উপলব্ধি থেকে সরাসরি ভারতীয় পাণ্ডুলিপি-সাহিত্যের আশ্রয় নেওয়া হয়। তৈরি হয় ভারতীয় জিপিটি। এর মধ্যে রয়েছে আয়ুর্বেদ নিয়ে ‘লোকস্বস্তি জিপিটি’। যেখানে অষ্টাঙ্গ হৃদয়ম, শুশ্রুত সংহিতার মতো গ্রন্থ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এই মডেল প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞান, শল্যচিকিৎসা, স্বাস্থ্যরক্ষা ও জীবনযাপন পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রদান করে। ভারতের শাস্ত্রীয় গণিতচর্চাকে নতুন রূপ দিয়েছে ‘গণিত জিপিটি’। বীজগণিত, ত্রিকোণমিতি, সংখ্যা তত্ত্বসহ প্রাচীন গণিতজ্ঞদের আবিষ্কার এখন আধুনিক ভাষায় সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। সাহায্য নেওয়া হয়েছে আর্যভট্ট, লীলাবতী, বীজগণিত-এর। অর্থনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে অর্থশাস্ত্রকে। এই গ্রন্থে রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনার যে বিশ্লেষণ রয়েছে, তা আধুনিক প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক করে তুলছে সংশ্লিষ্ট মডেল। আধ্যাত্মিক ও জীবনদর্শনের জন্য তৈরি হয়েছে ‘ভগবত গীতা জিপিটি’। এখানে ব্যবহারকারী কেবল শ্লোক নয়, তার প্রেক্ষাপট, ব্যাখ্যা ও দার্শনিক তাৎপর্যও জানতে পারবেন।

    ভারতের এআই যাত্রার নতুন পরিচয়

    উদ্যোক্তাদের মতে, ভারতের প্রাচীন গ্রন্থগুলি কেবল ধর্মীয় বা ভক্তিমূলক রচনা নয়; এগুলি ছিল সুসংগঠিত, বিশ্লেষণধর্মী ও বৈজ্ঞানিক দলিল। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই জ্ঞান এখন গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে। এআই সামিটে বার্তা ছিল স্পষ্ট—এটি শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও এক নতুন দিগন্ত। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখন আয়ুর্বেদ, গণিত, দর্শন ও রাষ্ট্রনীতির জ্ঞানকে বিচ্ছিন্ন অংশে নয়, এক জীবন্ত ডিজিটাল ভাণ্ডার হিসেবে অন্বেষণ করতে পারবে। প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনই হয়তো ভারতের এআই যাত্রার নতুন পরিচয় গড়ে তুলবে।

  • India-Bangladesh Visa: সম্পর্ক মেরামতের বার্তা! ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া ফের শুরু ঢাকার, তারিকের প্রথম বিদেশ সফর কি দিল্লি?

    India-Bangladesh Visa: সম্পর্ক মেরামতের বার্তা! ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া ফের শুরু ঢাকার, তারিকের প্রথম বিদেশ সফর কি দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, বাংলাদেশে ভারতের নাগরিকদের জন্য পুনরায় সব ধরনের ভিসা (India-Bangladesh Visa) পরিষেবা চালু করা হয়েছে। ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ। ফের তা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে বড় পদক্ষেপ ঢাকার নতুন সরকারের। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর বদলে গিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বিদায় নিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। কূটনৈতিক মহলে জল্পনা প্রধানমন্ত্রী তারেকের প্রথম বিদেশ সফর শুরুও হতে পারে ভারত দিয়ে।

    দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত

    ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের (Bangladesh High Commission) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পুনরায় সব ধরনের ভিসা পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে এই পরিষেবা স্থগিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও ভারত-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভিসা পরিষেবা স্থগিত ছিল। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেকের (Tarique Rahman) নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সব ক্যাটাগরিতে ভিসা পুনরায় চালু

    বাংলাদেশ শুক্রবার থেকে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানসহ সব ধরনের ভিসা ইস্যু পুনরায় শুরু হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন থেকে ফের ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের ভিসা পাবেন। ভিসা ও দূতাবাস সংক্রান্ত (কনস্যুলার) অন্যান্য সুযোগসুবিধা ভারতীয়দের জন্য ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। বিএনপি নেতারা ভারতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছেন। এর আগে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির জেরে গত ডিসেম্বরে কনস্যুলার ও ভিসা পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল। ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, যেখানে ভারতবিরোধী স্লোগান ওঠে এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে। ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়। তবে ঢাকায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ভিসা আগেই চালু ছিল, কিন্তু এখন চিকিৎসা, পর্যটন-সহ সমস্ত বিভাগেই ভিসা পরিষেবা পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।

    ভারতের ইতিবাচক ইঙ্গিত

    এদিকে, নয়াদিল্লিও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে উভয় দেশ ভিসা প্রক্রিয়ায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। যার ফলে ভারতে যাওয়ার জন্য কেবল মেডিক্যাল ভিসা ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছিল এতদিন। এবার গোটা ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে চলছে বলেই জানিয়েছেন সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি ত্যাগ করে ভারতে চলে আসার পর থেকেই সে দেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ। সংখ্যালঘু নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে বার বার। একাধিক বার তা নিয়ে উদ্বেগ জানায় ভারত সরকারও। এই পরিস্থিততে গত ডিসেম্বরে সংখ্যালঘু পীড়নের প্রতিবাদে দুই দেশের মধ্যে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করা হয়। পদ্মা-পাড়ে সরকার পরিবর্তনের ফলে দু’মাসের মধ্যে তা বদল করা হল।

    সম্পর্ক রক্ষায় বিশ্বাসী ভারত

    ভারত (India-Bangladesh Visa) সরকারের তরফে আগেই আভাস দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে। সেইমতো নাগরিক স্তরের যোগাযোগের দুয়ার খুলে দেওয়া হচ্ছে।‌ এদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সুসম্পর্ক গড়ার কাজ চালিয়ে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহলের খবর, চলতি বছরে গঙ্গার জল চুক্তির পুনর্নবীকরণকে‌ ভিন্নমাত্রা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও অফিসার পর্যায়ে এখনও চুক্তি পুনর্নবীকরণের বেশ কিছু ইস্যুর ফয়সালা হয়নি।

    স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কৃষি-জলবায়ু থেকে ক্রীড়া

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পরেই ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্কের উন্নতি চায় বাংলাদেশ। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় না বাংলাদেশ। মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ক্ষমতায় আসার পরই তারেক জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হবে দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নীতি প্রণয়ন করবে সরকার। ভারত এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক স্থাপন করা বাংলাদেশের বিদেশনীতিতে অগ্রাধিকার পাবে।

    ভারতে আসছেন তারেক

    ইউনূস শাসনের দীর্ঘ ১৭ মাসের অস্থিরতা শেষে বাংলাদেশের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্থায়ী সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে শপথের দিনেই সপরিবারে ভারতে আসার জন্য খালেদা পুত্রকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দূত’ ওম বিড়লা। শুধু তাই নয়, তারেকের সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। ফলে অতীত ভুলে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ ফের কাছাকাছি! মনে করা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের দিনেই বাংলাদেশে গম রফতানির দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত। যা ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এরপরই ভিসা নিয়ে সিদ্ধান্ত। কূটনৈতিক মহলের অনুমান, ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে খুব শীঘ্রই গঙ্গা-পাড়ে আসতে পারেন তারেক। অতীতে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীরা প্রথম বিদেশ সফরে ভারত সফরের রীতি অনুসরণ করেছেন। যদিও গত বছর মহম্মদ ইউনূস প্রথম সফরে চিন যাওয়ায় সেই প্রথা ভেঙেছিল, যা নয়াদিল্লিতে অসন্তোষের কারণ হয়েছিল।

  • AI Impact Summit: এআই সামিটে জামা খুলে প্রতিবাদ কংগ্রেসের! বিশ্বের দরবারে দেশকে ছোট করার চেষ্টা, বলল বিজেপি

    AI Impact Summit: এআই সামিটে জামা খুলে প্রতিবাদ কংগ্রেসের! বিশ্বের দরবারে দেশকে ছোট করার চেষ্টা, বলল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনে (AI Impact Summit) অদ্ভুত আচরণ চার কংগ্রেস যুব নেতার। নিরাপত্তাবাহিনীর নজর এড়িয়ে মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে মোদি ও সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেল যুব কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের। শুক্রবার এই ঘটনায় ৪-৫ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। জানা যাচ্ছে, কংগ্রেসের ১০ জন সদস্য এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গোটা ঘটনায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি।

    কীভাবে বিক্ষোভ কংগ্রেসের

    দিল্লি পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কিউআর-কোড যুক্ত পাশ ব্যবহার করে এই সম্মেলনে (Delhi AI Summit) প্রবেশ করেছিল অভিযুক্তরা। এরপর সকলের অলক্ষে মঞ্চের সামনে গিয়ে নিজেদের জামা খুলে প্রতিবাদ দেখাতে থাকে ১০ প্রতিবাদী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয় পুলিশের তরফে। ঘটনায় ৪ থেকে ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। অভিযুক্তরা নিজেদের যুব কংগ্রেসের সদস্য বলে জানিয়েছেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইওয়াইসি-র জাতীয় সম্পাদক কৃষ্ণ হরি, বিহার প্রদেশ সম্পাদক কুন্দন যাদব, উত্তরপ্রদেশের সহ-সভাপতি অজয় কুমার এবং জাতীয় সমন্বয়ক নরসিংহ যাদব। দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত সিপি দেবেশ কুমার মহলা জানান, বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

    সামিটের কার্যক্রম ব্যাহত

    এই ঘটনায় কয়েক মিনিটের জন্য সামিটের (AI Impact Summit) কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উপস্থিত দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিরা ও শীর্ষ কর্পোরেট কর্তারাও হতচকিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কিছু দর্শকের বচসা এবং হাতাহাতিও হয়। যুব কংগ্রেসের দাবি, সম্প্রতি ঘোষিত ভারত-আমেরিকা শুল্ক চুক্তির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, ওই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। আইওয়াইসি-র জাতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব বলেন, “আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে যে কোনও জায়গায় প্রতিবাদ করতে পারি।”

    দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্য

    বিজেপি এই ঘটনার তীব্র ভাষায় নিন্দা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই বিক্ষোভ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভারতের ক্রমবর্ধমান এআই অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত হয়েই কংগ্রেস এই ধরনের কর্মকাণ্ডে নেমেছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘ভারত গর্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনের (AI Impact Summit) আয়োজন করেছে দেশে। সেখানে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও ভারতের কৃতিত্ব প্রদর্শিত হচ্ছে। এহেন একটি পদক্ষেপকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে কংগ্রেস সেখানে সমস্যা তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।’ পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে তোপ দেগে তিনি আরও লেখেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরা জামা খুলে প্রতিবাদের নামে এই অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটাতে নেমে পড়েছেন। এই ঘটনা আসলে বিশ্বমঞ্চে ভারতকে দুর্নাম করার অপচেষ্টা।’ মালব্যের আরও অভিযোগ, ‘প্রযুক্তিক্ষেত্রে শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারত। সেখানে কংগ্রেসের এই আচরণ তাঁদের জন্য আনন্দের যারা ভারতের পতন দেখতে মুখিয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদ অবশ্যই গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু তার অর্থ বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করা নয়। ভারত ভালো কিছু প্রত্যাশা করে।’

  • Rajya Sabha: একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে বিজেপি! রাজ্যসভায় ৩৭ আসনে নির্বাচনে ভালো জায়গায় এনডিএ

    Rajya Sabha: একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে বিজেপি! রাজ্যসভায় ৩৭ আসনে নির্বাচনে ভালো জায়গায় এনডিএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১৬ মার্চ ১০টি রাজ্যে রাজ্যসভার ৩৭টি (Rajya Sabha) আসনে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। প্রাথমিক সমীকরণ বলছে, ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট উচ্চকক্ষে আরও মজবুত জায়গায় যেতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে—মহারাষ্ট্র, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে নিজেদের মধ্যে টানাপোড়েন সামাল দিতে প্রায় ব্যর্থ ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বর্তমানে ২৪৫ সদস্যের রাজ্যসভায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১০৩—দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। মিত্রদল মিলিয়ে এনডিএর শক্তি প্রায় ১৩৩, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১২২) থেকে অনেকটাই বেশি। দলীয় সূত্রের দাবি, চলতি বছরে ধাপে ধাপে নির্বাচন শেষে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। অভ্যন্তরীণ হিসেবে এনডিএ অন্তত ২১টি আসন জিততে পারে বলেই আশা। সারা বছরে মোট ৭১টি আসনে ভোট হওয়ার কথা, সেখানে ৪০-এর গণ্ডি পার করাই লক্ষ্য জোটের।

    মহারাষ্ট্র ও বিহার: এনডিএর বড় ভরসা

    মহারাষ্ট্র ও বিহার—এই দুই রাজ্যেই এনডিএর সমীকরণ খুব ভালো। মহারাষ্ট্র বিধানসভায় ২৮৮টির মধ্যে বিজেপির ১৩১ জন বিধায়ক, আর বিহারে ২৪৩ আসনের মধ্যে ৮৯ জন বিজেপি বিধায়ক। এই সংখ্যা রাজ্যসভায় বাড়তি আসনে রূপান্তরিত হতে পারে বলেই মনে করছে শিবির। মহারাষ্ট্রে শাসক জোট ‘মহাযুতি’র শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ। একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনা এবং সুনেত্রা পাওয়ার ঘনিষ্ঠ এনসিপি শিবিরের সঙ্গে আলোচনা ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। বিহারে চিরাগ পাসোয়ানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী শিবিরের জন্য মহারাষ্ট্রে লড়াই কঠিন। শারদ পাওয়ার, ফৌজিয়া খান, প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী ও রজনী পাতিলদের মতো নেতাদের নাম ঘুরছে। তবে নিশ্চিতভাবে জেতার মতো আসন মাত্র একটি—ফলে প্রতিযোগিতা তীব্র। শরদ পওয়ার আগে না লড়ার ইঙ্গিত দিলেও, নতুন করে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার জল্পনা রয়েছে। বিহারেও বিরোধীদের জন্য চিত্র কঠিন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের জেরে সেখানে দুটি আসন হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে।

    অন্য রাজ্যেও এগিয়ে এনডিএ

    আসামে তিনটি ও ওড়িশায় চারটি আসনে ভোট—দুই রাজ্যেই বিজেপির সুবিধা স্পষ্ট। এছাড়া হরিয়ানা ও ছত্তিশগড়ে দুটি করে আসনে এনডিএ এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গে অন্তত একটি আসন পেতে পারে বিজেপি। তামিলনাড়ু-তে বর্তমান শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকেই কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে বিরোধীরা। তামিলনাড়ুতে ছয়টির মধ্যে চারটি আসন, পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটির মধ্যে চারটি পেতে পারে বিরোধীরা। জাতীয় কংগ্রেস তেলেঙ্গানায় দুটি, ছত্তিশগড় ও হরিয়ানায় একটি করে এবং হিমাচল প্রদেশে একমাত্র আসন ধরে রাখতে পারে। বর্তমানে বিরোধীদের মোট ৭৯ জন সদস্য রয়েছেন উচ্চকক্ষে। সমীকরণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৪ জন ‘ইন্ডিয়া’ জোট-এর প্রার্থী জিততে পারেন।

    উচ্চকক্ষে বড় নাম ও জল্পনা

    বিজেপির অন্দরে নতুন রাজ্য সভাপতি নীতিন নবীনকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জল্পনা রয়েছে। তবে সূত্রের দাবি, আপাতত তিনি বিহার বিধানসভাতেই থাকতে পারেন—আগে নীতিন গড়কড়ী ও অমিত শাহ দলীয় সভাপতির সময় এমন নজির রয়েছে। এ বছর অবসর নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতওয়ালে ও রামনাথ ঠাকুর—দু’জনেরই পুনরাগমনের সম্ভাবনা। উপ-সভাপতি হরিবংশ নারায়নের মেয়াদও এপ্রিলেই শেষ হচ্ছে। তাঁকে পুনর্নিযুক্ত না করা হলে নতুন উপ-সভাপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। জুন, জুলাই ও নভেম্বর পর্যন্ত একাধিক ধাপে ভোট হবে। রাজনৈতিক বার্তা ও সামাজিক-আঞ্চলিক সমীকরণ মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের মাধ্যমে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বার্তা দিতে চায় বিজেপি। সব মিলিয়ে, জোট-সমীকরণ ও রাজ্যভিত্তিক অঙ্কই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে। তবে আপাতত দিকনির্দেশ স্পষ্ট—রাজ্যসভায় নিজেদের দখল আরও মজবুত করতে এগিয়ে রয়েছে এনডিএ। একই সঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকেও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে বিজেপি।

  • Board of Peace: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন দিল্লির! ‘বোর্ড অফ পিস’-এ পর্যবেক্ষক ভারত

    Board of Peace: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন দিল্লির! ‘বোর্ড অফ পিস’-এ পর্যবেক্ষক ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পিস বোর্ডের (Board of Peace) উদ্বোধনী সভায় পর্যবেক্ষক দেশ (India Attends As Observer) হিসেবে যোগ দিল ভারত। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গড়া শান্তি পরিষদ (বোর্ড অফ পিস)-এর সদস্যেরা প্রথম বৈঠক করল। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ন’টি সদস্যরাষ্ট্র— কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মরক্কো, বাহরিন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েতের তরফে বিধ্বস্ত প্যালেস্টাইনে মোট ৭০০ কোটি ডলার (প্রায় ৬৩৭৪১ কোটি টাকা) অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে। সদস্য এবং পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র মিলিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বৈঠকে মোট ৪৭টি দেশের প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন। পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন আমেরিকায় নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এনসি খাম্পা।

    বোর্ডে নেই প্যালেস্টাইন

    গাজার পুনর্গঠনের জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগেই গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে বোর্ড অফ পিস-এর (Board of Peace) সূচনা হয়েছিল। আমেরিকার তরফে ভারত-সহ প্রায় ৬০টি দেশকে এই শান্তিগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও সেই আহ্বানে বেশ কিছু দেশ এখনও সাড়া দেয়নি। বোর্ডের সদস্য হিসাবে হিসেবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এই দুই রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। প্যালেস্টাইন বোর্ডে আমন্ত্রণ না পাওয়াতেও প্রশ্ন উঠেছিল। এই আবহে বৃহস্পতিবার বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ট্রাম্পের দাবি, বৃহৎ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের সূচনা হল বৃহস্পতিবার।

    প্রথমে যোগ দেয়নি ভারত

    যদিও প্রথম পর্যায়ে ভারত গাজা উপত্যকার পুনর্নির্মাণের জন্য ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত পিস বোর্ডে যোগ দেয়নি । গাজা উপত্যকায় ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে ঘোষিত বোর্ডে যোগদানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে রাষ্ট্র নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ২২ জানুয়ারি দাভোসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প গাজায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য পিস বোর্ডের উদ্বোধন করেছিলেন। যদিও সেই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হাজির ছিলেন না ৷

    পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে যোগ

    ডোনাল্ড ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিসে সদস্যদের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী । প্রায় ৫০টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবারের বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এ পর্যন্ত ২৭টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড অব পিসে যোগ দিয়েছে। তবে জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য-সহ এক ডজনেরও বেশি দেশ বোর্ডে যোগ দেয়নি কিন্তু পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছে।

    সদস্য দেশ:

    আলবেনিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বুলগেরিয়া, কম্বোডিয়া, মিশর, এল সালভাদর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।

    পর্যবেক্ষক দেশ:

    ভারত, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ওমান, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

    রাষ্ট্রসংঘকে ‘শক্তিশালী’ করার দাবি

    দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে (World Economic Forum, Davos) গত মাসে ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ‘সবাই এই সংস্থার অংশ হতে চাইছে।’ শুরুতে লক্ষ্য ছিল ইজরায়েল-হামাস (Israel-Hamas) সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, গাজা পুনর্গঠন আর প্রশাসনিক সহায়তা। কিন্তু ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্য বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প ক্ষমতাকাঠামো হিসেবেও উঠে আসতে পারে এই বোর্ড। তবে, রাষ্ট্রসংঘকে পাশ কাটিয়ে নতুন শক্তি গড়ার অভিযোগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আবার রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে কাজ করব। ওদের সম্ভাবনা আছে কিন্তু কাজে লাগানো হয়নি। বোর্ড অব পিস রাষ্ট্রসংঘকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করবে।’ তাঁর দাবি, ‘কোনও দিন আমি থাকব না। তখন রাষ্ট্রসংঘ আরও শক্তিশালী হবে, আর বোর্ড অব পিস তার সঙ্গেই কাজ করবে। রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে আমরা অর্থও দেব।’

    ৯ দেশের ৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি

    বৈঠকের সূচনায় ট্রাম্প জানান, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মরক্কো, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েত—এই ৯টি দেশ গাজা পুনর্গঠনের জন্য সম্মিলিতভাবে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে জানান তিনি। যদিও এই অর্থ বরাদ্দের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে এবং অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। ফলে ঘোষিত অর্থ মোট চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

    গাজায় নিরাপত্তা ও সেনা মোতায়েন

    আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স জানান, গাজায় বড়সড় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াও জনবল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১২ হাজার পুলিশ ও ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত রাফাহ শহরে পুনর্গঠন শুরু হবে। মিশর ও জর্ডন পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে বলেও জানানো হয়েছে।

    ভারতের বার্তা স্পষ্ট

    দিল্লির তরফে এক সপ্তাহ আগেই জানানো হয়েছিল, আমেরিকার নতুন ‘বোর্ড অব পিসে’ (Board of Peace) যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ খতিয়ে দেখছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের কাছে আমন্ত্রণ এসেছে। আমরা প্রস্তাবটা রিভিউ করছি। ভারত সবসময় পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন করে।” সেই পর্যালোচনা এখনও চলছে। কিন্তু তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম বৈঠকে অবজারভার দেশ হিসেবে হাজির রইল ভারত। প্রতিনিধিত্ব করলেন ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নামগ্যা সি খাম্পা (Namgya C Khampa)। পূর্ণ সদস্য নয় কিন্তু আলোচনার টেবিলে ভারত অংশ নিল। কূটনৈতিক মহলের মতে, “যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, কিন্তু ভারত বোর্ডটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে—এই বার্তা এখান থেকে স্পষ্ট।”

     

     

     

  • India Bangladesh Cricket: ভারতে খেলতে না আসার জন্য বাংলাদেশকে উস্কেছিলেন নকভি! বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন বিসিবি কর্তার

    India Bangladesh Cricket: ভারতে খেলতে না আসার জন্য বাংলাদেশকে উস্কেছিলেন নকভি! বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন বিসিবি কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভির উস্কানিতেই ভারত বিরোধিতায় সরব হয়েছে বাংলাদেশ (India Bangladesh Cricket)। এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন সচিব তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রাক্তন সিইও সৈয়দ আশরাফুল হক। রেভস্পোর্টজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশরাফুল জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে না আসার বিষয়ে উস্কেছিলেন নকভি। ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে আশরাফুল দাবি করেন, বিশ্ব ক্রিকেটের ভরকেন্দ্রই হল ভারত। নিজেদের উন্নতি করতে গেলে ভারত-বিরোধিতা কাম্য নয়।

    নকভির উস্কানিতে ভুল সিদ্ধান্ত

    আশরাফুল বলেন, “ক্রিকেট প্রশাসক হিসাবে আমি সততা ও দায়বদ্ধতায় বিশ্বাসী। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বর্তমান প্রধান মহসিন নকভির কথায় বাচ্চা ছেলের মতো প্রভাবিত হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। নকভিও ওঁকে বয়কটের সিদ্ধান্ত চালিয়ে যেতে বলেছিল। শেষ পর্যন্ত কী হল? দিনের শেষে কে জিতল?” তিনি বলেন, “আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি যে, সেই সময় ক্রীড়া উপদেষ্টার কথায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা ঠিক ছিল না। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া হয়নি বলে এত বড় সিদ্ধান্তের কোনও যুক্তি নেই।

    ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বে বাংলাদেশই কি বড় ক্ষতিগ্রস্ত?

    সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন ওঠে, ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। জবাবে আশরাফুল হক বলেন, “নিশ্চয়ই। এটা দুঃখজনক এবং অপরিপক্বতার পরিচয়। তখন সরকারবিরোধী ভারতবিরোধী আবেগ ছিল প্রবল।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনও যৌক্তিক কারণ ছিল না, শুধু এক ‘অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া’ ইস্যু ছাড়া। জগমোহন ডালমিয়ার সময় আমরা সম্মানজনক অবস্থানে ছিলাম, এখন কিছু ব্যক্তি ও সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা হাসির পাত্র হয়ে উঠছি।”

    ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই মূল চাবিকাঠি

    ভারতকে বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক কেন্দ্র উল্লেখ করে আশরাফুল হক বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। না হলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। নতুন সরকার গত তিন মাসের জটিলতা মেটাতে চেষ্টা করবে বলেই আমার বিশ্বাস।” তিনি জানান, জগমোহন ডালমিয়া-র সময় তিনি আইসিসি নির্বাচনে প্রচার ব্যবস্থাপক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং ১৯৯৬ বিশ্বকাপ আয়োজনেও সক্রিয় ছিলেন।

    টি২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। আইসিসির বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও অবস্থান বদলায়নি তারা। ফলে তাদের পরিবর্তে সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। অন্যদিকে, মুস্তাফিজুর রহমান-কে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders) ৯.২০ কোটি রুপিতে দলে নিলেও পরবর্তীতে তাকে ছাড়তে বলা হয় বলে দাবি ওঠে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিবেশী দেশের কিছু মন্তব্যকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় পাকিস্তান একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

    ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট

    আশরাফুলের মতে, “বাংলাদেশ সরকার ঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ভারতের। এই সিরিজ আগেও এক বার স্থগিত হয়েছে। যদি ভারত বাংলাদেশে খেলতে না যায়, তা হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় ক্ষতি হবে বলে দাবি করেছেন আশরাফুল। ভারত যদি সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে না আসে তো বাংলাদেশের ক্রিকেট ৫-১০ বছর পিছিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব, ভারতকে রাজি করিয়ে খেলতে নিয়ে আসা। আশা করছি সেই দৃশ্যই দেখতে পাব।”

    রাজনীতি বনাম ক্রিকেট

    খেলার জগতে, শিল্পের জগতে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। তবে এটা নতুন নয়। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার ২২টি দেশ অলিম্পিক্স বয়কট করেছিল। ১৯৮০ সালে আমেরিকা বয়কট করেছিল মস্কো অলিম্পিক্স। ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্স রাশিয়া বয়কট করে। এটা চলে যে খেলা আর রাজনীতি মিলে যায়। রাজনীতিকে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখার দাবি ওঠে মাঝেমধ্যেই। তবু রাজনীতি বার বার জড়িয়ে পড়েছে ২২ গজের লড়াইয়ের সঙ্গে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট সম্পর্ক একটা সময় পর্যন্ত ছিল দাদা-ভাইয়ের মতো। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রাক্তন সভাপতি জগমোহন ডালমিয়ার উদ্যোগে ২০০০ সালে টেস্ট খেলার মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। তার পরও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতিতে পাশে থেকেছে বিসিসিআই। গত কয়েক দশক ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট আবহে মৈত্রী, সৌজন্যের অভাব হয়নি। ভারত এবং বাংলাদেশ, দু’দেশেই জনপ্রিয়তম খেলা ক্রিকেট। যে কোনও জয়েই আনন্দে ভাসেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ২২ গজের একটা জয় বহু মানুষকে কষ্ট, যন্ত্রণা, অনাহার ভুলিয়ে দেয়। কয়েক ঘণ্টা মন ভাল করে দেয় তাঁদের। কিন্তু সুযোগ বুঝে বিশ্বের যে কোনও জায়গায় ভারত-বিরোধিতার জিগির তুলে দিতে ওস্তাদ পাকিস্তান। তাই বাইশগজেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বারবার চলে আসে পিসিবি। নিজেদের ক্রিকেটের উন্নতির কথা ভুলে ভারত-বিরোধিতাই তাদের মন্ত্র। তাতে অবশ্য ভারতের কিছুই যায় আসে না। কারণ বটবৃক্ষ হাজার ঝড় সামলেও অন্যদের ছায়া দেয়। এটাই ভারত…তা সে বাইশ গজ হোক বা বিশ্ব রাজনীতি।

  • Final Phase Of SIR: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বড়সড় সংশোধন! এপ্রিল থেকেই শুরু শেষ পর্যায়ের এসআইআর

    Final Phase Of SIR: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বড়সড় সংশোধন! এপ্রিল থেকেই শুরু শেষ পর্যায়ের এসআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আরও ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR)-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Final Phase Of SIR) সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি এই নতুন পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। কমিশন (Election Commission Of India) সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কোন কোন রাজ্যে শুরু হবে এসআইআর

    বৃহস্পতিবার কমিশন অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক, লাদাখ, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, দিল্লি, ওড়িশা, পাঞ্জাব, সিকিম, ত্রিপুরা, তেলঙ্গানা ও উত্তরাখণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, গত বছরের জুন মাসেই সারা দেশে এসআইআর চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে বিহারে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে এবং ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রায় ৬০ কোটি ভোটারকে নিয়ে কাজ চলছে। বাকি প্রায় ৪০ কোটি ভোটারকে এই ১৭টি রাজ্য ও ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অসমে এসআইআর-এর বদলে ‘বিশেষ সংশোধন’ প্রক্রিয়া ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।

    বাংলায় কোন পর্যায়ে এসআইআর

    এসআইআর-এর (Final Phase Of SIR) এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও কম নয়। তবে, বিহারে প্রস্তুতি চলাকালীনই কমিশনের কিছু আধিকারিক দাবি করেছিলেন, তৃণমূল স্তরে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশ, নেপাল ও মায়ানমারের কয়েকজন অনুপ্রবেশকারী নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধরনের নাগরিকের খোঁজ মিলেছে। সীমান্তে ভিড়ও চোখে পড়েছে। যদিও পরবর্তীতে কমিশন এই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সংখ্যা বা প্রমাণ প্রকাশ করেনি। পশ্চিববঙ্গ-সহ ১২ রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া। ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু তালিকা প্রকাশের দিন নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সূত্রের খবর, নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই তালিকা প্রকাশ নাও হতে পারে। বাড়তে পারে সময়সীমা। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘যদি অভিযোগ নিষ্পত্তি শেষ না হয়, যদি কাজ না শেষ হয় সেক্ষেত্রে সময় বাড়বে। আগে তো ইআরও এইআরও, জেলাশাসকরা বলুক কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সময় বাড়বে।”

  • India France Relation: মাইক্রোসফট থেকে শানেল— বহুজাতিক সংস্থাগুলোর মাথায় ভারতীয়রা! ‘‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত’’, প্রশংসা মাক্রঁর

    India France Relation: মাইক্রোসফট থেকে শানেল— বহুজাতিক সংস্থাগুলোর মাথায় ভারতীয়রা! ‘‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত’’, প্রশংসা মাক্রঁর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকে পথ দেখাবে ভারত (India France Relation)। আধুনিক ভারত কেবল বৈশ্বিক উদ্ভাবনে অংশগ্রহণই করে না, বরং নেতৃত্ব দিচ্ছে। মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া–ফ্রান্স ইনোভেশন ফোরামে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাক্রঁ (Modi-Macron Meeting) ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘‘আজকের বিশ্বে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভারত শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং পথপ্রদর্শক।’’ বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার শীর্ষপদে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মাক্রঁ ভারতের প্রতিভা ও ক্ষমতার বিশেষ স্বীকৃতি দেন।

    নেতৃত্বে ভারত

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ বলেন, “ভারত বৈশ্বিক উদ্ভাবনে শুধু অংশগ্রহণ করে না; ভারত নেতৃত্ব দেয়। অ্যালফাবেট (Alphabet)-এর সিইও ভারতীয়। মাইক্রোসফট (Microsoft)-এর সিইও ভারতীয়। আইবিএম (IBM)-এর সিইও ভারতীয়। অ্যাডোবে (Adobe)-এর সিইও ভারতীয়। পালো অলটো নেটওয়ার্ক (Palo Alto Networks)-এর সিইও ভারতীয়। এমনকি শানেল (Chanel)-এর সিইও-ও ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের বাসিন্দা।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন সংস্থা শানেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খ্যাতনামা ডিজাইনার কোকো শানেল। মাক্রঁ সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai), সত্য নাদেলা (Satya Nadella), অরবিন্দ কৃষ্ণ (Arvind Krishna), শান্তনু নারায়ণ (Shantanu Narayen), নিকেশ অরোরা (Nikesh Arora) এবং লীনা নায়ার (Leena Nair)-এর কথা উল্লেখ করেন। এই সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সভায় উপস্থিত ভারতীয় প্রতিনিধিদের মুখে হাসি ফোটায়।

    ভারতের উদ্ভাবনী শক্তির প্রশংসা

    অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উপস্থিত ছিলেন। মাক্রঁ-র বক্তব্যে ভারতের উদ্ভাবনী শক্তি, বিশাল মানবসম্পদ এবং বৃহৎ জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে দ্রুত ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষমতার বিশেষ প্রশংসা করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের শিল্প গঠনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। মাক্রঁর তিন দিনের ভারত সফরের সূচনাতেই দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে “স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-উন্নত করার কথা ঘোষণা করে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছায় উভয় দেশ। বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব এক শক্তিশালী স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

    ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বে স্থিতিশীলতার এক শক্তি

    মোদি বলেন, “বিশ্ব আজ অনিশ্চয়তার সময় পার করছে। এমন পরিবেশে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বের স্থিতিশীলতার এক শক্তি। আমরা ফ্রান্সের দক্ষতা এবং ভারতের ব্যাপকতার সমন্বয় ঘটাচ্ছি।” মোদি বলেন, ‘‘রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত ও ফ্রান্স গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্রান্স ভারতের অন্যতম প্রাচীন কৌশলগত অংশীদার এবং দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বিশেষ ও বিশ্বাসভিত্তিক। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রেসিডেন্ট মাক্রঁর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বলেন, “আজ আমরা আমাদের সম্পর্ককে ‘বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত করছি।” দুই নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সহ-উৎপাদন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং শিক্ষা বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উন্নত প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৌশলগত খনিজ ও টেকসই জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে মোট ২১টি চুক্তি ও নথিতে সই হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা নির্ভরতা

    সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা দাসো এভিয়েশন নির্মিত রাফাল কেনার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রায় ৩০ বিলিয়ন ইউরোর এই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। অধিকাংশ বিমানই ভারতে তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ভারত এর আগে ৬২টি রাফাল কিনেছে। সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ফরাসি বিশ্লেষকরা “শতাব্দীর চুক্তি” হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন। মোদি ও মাক্রঁ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্ণাটকের ভেমাগালে ভারতের প্রথম হেলিকপ্টার ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন উদ্বোধন করেন। এটি ভারতের টাটা গ্রুপ এবং ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা এয়ারবাস-এর যৌথ উদ্যোগ। এখানে এয়ারবাসের জনপ্রিয় এক-ইঞ্জিনের হেলিকপ্টার এইচ১২৫ তৈরি হবে। গত এক দশকে ফ্রান্স ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতনির্ভর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে বছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতে ফরাসি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। ভারত গত এক দশকে রাশিয়ার ওপর প্রতিরক্ষা নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকেছে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর নীতি নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    ভারত-ফ্রান্স পাশাপাশি

    ইন্ডিয়া–ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশন উদ্বোধনের পর মাক্রঁ তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ক্যাপশন দেন, ‘জয় হো!’। এটি তাঁর চতুর্থ ভারত সফর এবং প্রথম মুম্বই সফর। গত বছর মোদির ফ্রান্স সফরের এক বছর পর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি  নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে-এ অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এও মোদির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাক্রঁ। সোমবার রাতেই ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তিনি একা নন, সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী লেডি ব্রিজিত মাক্রঁ-ও। তিনদিন ভারতেই একাধিক কর্মসূচি তাঁদের। উন্নত উপাদান, জৈবপ্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উদীয়মান প্রযুক্তি, এমএসএমই, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং স্টার্টআপ খাত—এই সব ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে কূটনৈতিক মহল। মাক্রঁ-র এই সফর এবং ফোরামের বার্তা স্পষ্ট— বিশ্বের উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের মানচিত্রে ভারত এখন কেন্দ্রীয় শক্তি, আর ফ্রান্স সেই যাত্রায় ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে।

LinkedIn
Share