Author: ishika-banerjee

  • India Bangladesh Border: বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় সাপ ও কুমির! অনুপ্রবেশ রুখতে নয়া ভাবনা বিএসএফ-এর

    India Bangladesh Border: বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় সাপ ও কুমির! অনুপ্রবেশ রুখতে নয়া ভাবনা বিএসএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারা দেবে সাপ ও কুমির। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে অভিনব পরিকল্পনার কথা ভাবছে বিএসএফ (Border Security Force)। সূত্রের খবর, নদী ও জলাভূমি অঞ্চলগুলিতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে সাপ ও কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ স্তরে আলোচনা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি। বিএসএফ সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    কেন সাপ ও কুমির ব্যবহারের ভাবনা

    ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমি ঘেরা। এইসব জায়গায় প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়া বসানো কঠিন হওয়ায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও বেআইনি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই ‘ডিটারেন্স-ফার্স্ট’ বা ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা ভাবা হচ্ছে। সীমান্ত-সুরক্ষার কৌশল হিসেবে এই পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে। একটি সূত্র জানিয়েছে যে, বিএসএফ-এর সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ৯ ফেব্রুয়ারি ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পেশ করা হয়েছিল। জানা গেছে, ২০ মার্চ নয়াদিল্লিতে বিএসএফ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত আরেকটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাবটি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা হয়। এরপর পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সেক্টরের সীমান্ত পর্যায়ের কর্তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়। এরকমই একটি নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নদী তীরবর্তী এলাকায় সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের উপর একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

    সীমান্তে নজরদারি

    বিএসএফ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তার নজরদারি পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। জানা গেছে যে, সৈন্যরা নাইট-ভিশন ক্ষমতাসম্পন্ন ৫,০০০-এর বেশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। এছাড়াও, সীমান্ত বরাবর যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য এআই-সক্ষম নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের আঙুলের ছাপ এবং আইরিস স্ক্যান সংগ্রহ করার জন্য বায়োমেট্রিক ডিভাইসও ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের মতো রাজ্যগুলোর সীমান্তের বিভিন্ন অংশে দ্রুত অ্যান্টি-কাট ও অ্যান্টি-ক্লাইম্ব বেড়া, নজরদারি ড্রোন, জিপিএস-সক্ষম ট্র্যাকিং সিস্টেম, থার্মাল ইমেজার এবং বিদ্যুতায়িত বেড়া স্থাপন। বিশেষভাবে সংবেদনশীল নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে বিএসএফ নজরদারি আরও জোরদার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বোল্ড-কিউআইটি (BOLD-QIT) প্রকল্প, যা ২৪x৭ নজরদারির জন্য সেন্সর, ইনফ্রারেড ও নাইট-ভিশন ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করে।

    অন্ধকার অঞ্চলে বিশেষ মনোযোগ

    নদী তীরবর্তী এলাকায় অভিযানের জন্য বাহিনী বর্তমানে বিশেষ জলযান, স্পিডবোট এবং ভাসমান বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) মোতায়েন করেছে। নিয়মিত টহল দেওয়া হয়। সরীসৃপ মোতায়েনের প্রস্তাবের পাশাপাশি, ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে পূর্ব ভারতের সেক্টর সদর দফতরগুলোকে এমন সব ‘ডার্ক জোন’-এ অবস্থিত সীমান্ত চৌকি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেখানে কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটিকে যতই গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হোক না কেন, বেশ কিছু বাস্তব প্রশ্ন অমীমাংসিতই থেকে যায়। কোন সংস্থা বা কর্মীদের সাপ বা কুমির ধরা এবং সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হবে, কতগুলো সরীসৃপ ছাড়া হবে এবং সীমান্তের কোন কোন জায়গায় সেগুলোকে ছাড়া হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    সীমান্তে বিএসএফ-এর সাফল্য

    সম্প্রতি সীমান্তে চোরাচালান রুখতে একাধিক সাফল্য পেয়েছে বিএসএফ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় একটি বড় অভিযানে প্রায় ১ কোটি টাকার সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা অভিযানে নেমে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নদিয়াতেই একটি ঘটনায় এক বাংলাদেশি পাচারকারী নিহত হয়। অভিযোগ, বিএসএফের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গুলি চালানো হলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, ফেনসিডিলের বোতল এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ সবচেয়ে বেশি

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ২০২৫ সালে ১,১০৪ বার অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা হয়েছে। যা গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে ৯৭৭টি অনুপ্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছিল। এই সীমান্তে অনুপ্রবেশের ব্যাপকতা অন্যান্য সীমান্তে হওয়া চেষ্টাগুলিকে ম্লান করে দিয়েছে। ২০২৫ সালে পাকিস্তান ৩২টি অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। মায়ানমার ৯৫টি এবং নেপাল ও ভুটান একত্রে ৫৪টি। অর্থাৎ, বর্তমানে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে ভারতীয় সংস্থাগুলি অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করায় ২,৫৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৩৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেপ্টেম্বরে ৩৩০ জন এবং নভেম্বরে ৩০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    অনুপ্রবেশের চেষ্টা, কঠোর সরকার

    অন্যদিকে, অনুপ্রবেশের চেষ্টাও বেশি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১২৭টি এবং অক্টোবরে ১২৫টি ঘটনা ঘটে। মাসিক গ্রেফতারের সংখ্যা ৮৯ থেকে ১১০-এর মধ্যে ছিল। এই ঘটনায় প্রমাণ করে অরক্ষিত সীমান্ত এলাকার সুযোগ নিয়ে সংগঠিত চোরাচালান চক্রের বাড়বাড়ন্তের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ বাড়ছে। এই আবহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় সরীসৃপ ব্যবহারের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে এযাবৎকালের অন্যতম কৌশলগত পদক্ষেপ। এটি কঠিন নিরাপত্তা ঘাটতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কতটা দূর যেতে প্রস্তুত, তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

  • PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের (Assembly Election 2026) মাধ্যমে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। এখান থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার শপথ নিলেন তিনি। ভোট ঘোষণার পর প্রথমবার বাংলায় এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। বললেন, “বাংলায় এসেই বুঝে গেছি তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের পাপের হিসেব করা হবে। বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে।”

    মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি

    এদিন কোচবিহারে রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar) কালিয়াচক-প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “মালদায় যা হয়েছে, সেটা গোটা দেশ দেখেছে। দেশের মানুষ স্তম্ভিত। কীভাবে মালদায় বিচারকদেরই বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তৃণমূলের শাসনে বিচারকেরাও রেহাই পান না। এটা কোন সরকার, কোন প্রশাসন, কোন ব্যবস্থা। যেখানে বিচারক, সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই সুরক্ষিত নয়। বাংলার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এদের থেকে কীভাবে আশা করা যায়? মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি।” এ প্রসঙ্গেই মোদির সংযোজন, “এটাই প্রমাণ করছে, এখানে জঙ্গলরাজ চলছে। তৃণমূল সংবিধানের গলা টিপে ধরছে। তৃণমূলের সন্ত্রাসের মোকাবিলায় আপনাদের ভরসা বিজেপি। এখানে যা হচ্ছে, তাতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকেই হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।”

    ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar) বলেন, “এত বছর ধরে বাংলার মানুষের পয়সা লুট করা হয়েছে। সকল দুর্নীতিবাজদের এই টাকা ফেরত দিতে হবে। ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা করেছিলাম। মানুষের সেই ভিড়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট ঘাবড়ে গিয়েছে। ব্রিগেডের বিউগল কোচবিহারে আরও বেশি হয়েছে। টিএমসির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ। পাল্টানো দরকার। এটাই নতুন বাংলার দিশা। বিজেপি এখানে সরকার গড়বে।” রাজ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন। প্রথম দফা ভোটের আগে এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সভা। ব্রিগেডে জনসভার পর এবারেই প্রথমবার রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উন্নয়ন বনাম অত্যাচার

    রাজ্যে তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ে নিয়েও এদিন সরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “এবার বাংলায় একদিকে তৃণমূলের ভয় রয়েছে, অন্যদিকে মোকাবিলা করার জন্য বিজেপির ভরসা রয়েছে। একদিকে তৃণমূলের কাটমানি রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপির বিকাশের ভরসা। একদিকে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা, অন্যদিকে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর সংকল্প নিয়েছে বিজেপি। একদিকে সিন্ডিকেট রাজে সম্পত্তি হারানোর ভয় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে বিজেপির উন্নয়ন। একদিকে সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর অত্যাচার, অন্যদিকে মহিলাদের অত্যাচার রুখতে মোদির গ্যারান্টি রয়েছে।” এদিন আইনের ওপর ভরসা রাখার কথা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, “একদিকে বেকারত্ব রয়েছে অন্যদিকে সুশাসন রোজগারের দিশা রয়েছে। ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা যতই ভয় দেখাক আপনাকে আইনের সাহায্য নিতে হবে। এবার ভোটে ভয় পালাবে। বিজেপি জিতবে। ৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ করবে। বিজেপি বাংলার মানুষের জন্যেই আসরে নেমেছে। মহিলারা এরপর সঠিক বিচার পাবেন। গোটা দেশের মহিলারা বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। বিজেপি মহিলাদের পাশে রয়েছে। তবে দেশের উন্নতির ভাগ বাংলায় আসে না। এবার বাংলার উন্নতি হবে।”

    অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই! বাঙালি ঐতিহ্য

    পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়েছে তৃণমূল। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে। এর ফলে বাংলার মানুষের নিরাপত্তা বিপদের মুখে।” বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশকারীদের রোখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। বক্তৃতার শুরুতেই বাংলায় বলেছিলেন, “সবাইকে আমি নমস্কার জানাই।” তার পর একাধিক বার কাটা কাটা বাংলায় বক্তৃতা করতে শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। কখনও তিনি বলেছেন, “বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার।” কখনও বলেছেন, “জঙ্গলরাজের অন্ত হবে।” এই সূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল তাদের ঘোষণাপত্রের নাম বাংলায় রাখেনি। মোদির কথায়, “তৃণমূল ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যার নাম বাংলায় রাখেনি। বরং ইস্তাহার বলা হচ্ছে। ভেবে দেখুন কেমন ভাবে বাংলার পরিচয় বদলে দিচ্ছে।”

    তৃণমূলকে দুর্নীতি-তির 

    তৃণমূলের দুর্নীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্রহণ নেমে এসেছে’ বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যগুলি এগিয়ে যাচ্ছে, আর বাংলাকে পিছনে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল। এখানে সরকারি চাকরির উপরেও তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। বাংলার যুবসমাজ জানে, এই সরকার কত বড় নিয়োগ দুর্নীতি করেছে। কারা এতে শামিল ছিল! তৃণমূলের নিজের মন্ত্রী, বিধায়ক। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত গোটা তৃণমূল দুর্নীতিতে যুক্ত ছিল। কাটমানি, কমিশন আর দুর্নীতি করে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে এরা।”

    মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস

    গত কয়েকটি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মহিলাদের ভোট মূলত তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে। এ বার সেই ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চায় পদ্মশিবির। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই কোচবিহারের সভায় ‘মা-বোনেদের’ বার্তা দেন মোদি। বলেন, “বিজেপি এলে মহিলারা স্বনির্ভর হবেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মা-বোনেদের সব সুবিধা দিয়েছে। ৩ কোটি মহিলাকে লাখপতি বানিয়েছে। আমাদের সরকার লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার আইন এনেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এর সুবিধা মিলবে।” বিজেপি ‘মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস’ বলেও জানান মোদি।

    মোদিতে মাতোয়ারা

    রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে পৌঁছন মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে রাসমেলার মাঠে সভায় পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে রাসমেলার মাঠ, প্রায় দেড় কিলোমিটারের রাস্তায় অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন দু’পাশে তাঁকে দেখার জন্য। নির্বাচন (Assembly Election 2026) ঘোষণা হওয়ার পরে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকেই প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ৪ মে-র পর বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার হবে। কোচবিহার এবং উত্তরবঙ্গের আর অন্যায় হবে না। এটা মোদির গ্যারান্টি।

  • Prashant Bose Die: এলগার পরিষদ–ভীমা কোরেগাঁও মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মাওবাদী নেতা প্রশান্ত বোসের মৃত্যু

    Prashant Bose Die: এলগার পরিষদ–ভীমা কোরেগাঁও মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মাওবাদী নেতা প্রশান্ত বোসের মৃত্যু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মারা গেলেন নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের প্রথমসারির নেতা, রয়েছে বাংলা-যোগ, পূর্ব ভারতের একাধিক জায়গায় নাশকতামূলক কাজের মাস্টারমাইন্ড— প্রশান্ত বোস। দেশ ‘মাওবাদী মুক্ত’ ঘোষণার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন যাদবপুরের ভূমিপুত্র জেলবন্দি এই প্রবীণ মাওবাদী নেতা। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ঝাড়খণ্ডের সরকারি হাসপাতাল আরআইএমএস-এ মারা গিয়েছেন প্রবীণ এই মাওবাদী নেতা। কিষান দা নামেও পরিচিত প্রশান্তর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। গত চার বছর ধরে ঝাড়খণ্ডে বিরসা মুণ্ডা কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। রাঁচির এসএসপি রাকেশ রঞ্জন পিটিআই-কে জানিয়েছেন, সেদিন সকালে আচমকা প্রশান্তর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসা চলাকালীন তিনি মারা যান।

    সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর সদস্য

    নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই বাঙালি মাওবাদী। বর্তমানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নম্বলা কেশব রাওয়ের ঠিক পরেই তাঁর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ সময় পূর্ব আঞ্চলিক ব্যুরোর সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন। মাওবাদী শিবিরে তিনি ‘মনীশ’ বা ‘বুদ্ধ’ নামেও সমান পরিচিত ছিলেন। কেবল রণকৌশল নির্ধারণ নয়, দলের তাত্ত্বিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র— এই সাতটি রাজ্যে মাওবাদী আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বহুলাংশে তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল বলেই মনে করেন গোয়েন্দারা।

    পুরুলিয়া হয়ে কলকাতা আসার পথে গ্রেফতার

    ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর সরাইকেলা-খাসাওয়ান জেলার কান্দ্রা টোল ব্রিজের কাছ থেকে প্রশান্ত বসু ও তাঁর স্ত্রী শীলা মারান্ডিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই সময় তাঁর মাথার ওপর ১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে এই বাউন্টি ঘোষণা করেছিল ঝাড়খণ্ড সরকার। মাওবাদী দলের এক সূত্রের কথায়,‘কিডনির চিকিৎসার জন্য স্ত্রী শীলা মারান্ডির সঙ্গে পুরুলিয়া হয়ে কলকাতা আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই গোপন খবর গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় তিনি ধরা পড়ে যান। কীভাবে এই গোপন খবর গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছল তা নিয়ে দলের অন্দরে এরাজ্যে সংগঠনের দায়িত্বে থাকা এক নেতার ভূমিকা সন্দেহের চোখে দেখা হয়।’

    বাম চরমপন্থী আন্দোলনের এক প্রভাবশালী মুখ

    দেহরক্ষী সহ গ্রেফতারের সময় এই শীর্ষ মাওবাদী নেতার গাড়ি থেকে নগদ টাকা, মোবাইল, পেন ড্রাইভ, দুটি ডেটা কার্ড উদ্ধার করেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। এই পেন ড্রাইভ, ডেটা কার্ড থেকে উদ্ধার হওয়া গোপন তথ্যকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে বড়সড় সাফল্য পায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ২০০টিরও বেশি মাওবাদী নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল তাঁর। মূলত পশ্চিমবঙ্গের ভূমিপুত্র হয়েও সারা ভারতের বাম চরমপন্থী আন্দোলনের এক প্রভাবশালী মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

    প্রশান্ত বোসের গ্রেফতারি ‘সবচেয়ে বড় সাফল্য’

    প্রশান্ত বসুকে গ্রেফতারের সময় রাঁচিতে এক প্রেস কনফারেন্সে তৎকালীন ইন্সপেক্টর জেনারেল (অপারেশনস) অমল ভিনুকান্ত হোমকার জানিয়েছিলেন, ওই বছরের ১২ নভেম্বর প্রশান্ত বসু ও তাঁর স্ত্রী-সহ মোট ছয়জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। আইজি আরও জানিয়েছিলেন, ‘কিষাণ দা’ নামে পরিচিত প্রশান্ত বসুকে ঝাড়খণ্ডের কোলহান অঞ্চল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছিল। তখনই এই মাওবাদী নেতা ধরা পড়েন। ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) নীরজ সিনহা বলেন, ‘কিষানদা বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিশগড়ের অন্যতম শীর্ষ নকশাল নেতা ছিলেন। ১৯৬০-এর দশক থেকে তিনি নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ এখনও তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে।’ তৎকালীন আইজি প্রশান্ত বোসের গ্রেফতারকে ‘সবচেয়ে বড় সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খুনের পরিকল্পনা

    নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটি, পলিটব্যুরো এবং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের সদস্য ছিলেন তিনি। একাধিক রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন। মূলত সারান্ডার জঙ্গলেই তাঁর ঘাঁটি ছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। এলগার পরিষদ-কোরেগাঁও ভীমা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন প্রশান্ত বোস। ২০১৮ সালে পুনে পুলিশ এই মামলা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খুনের পরিকল্পনা করার অভিযোগ ছিল এই মাওবাদী নেতার নামে। পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত রোনা উইলসনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রশান্ত বোসের বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পুনে পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত রোনা উইলসনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া যোগাযোগ নথিতে “মোদি রাজ” শেষ করার পরিকল্পনার উল্লেখ ছিল, যা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ধাঁচে সাজানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগ ওঠে, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুনেতে আয়োজিত এলগার পরিষদের বক্তৃতাগুলি উসকানিমূলক ছিল, যা পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি ভীমা কোরেগাঁওয়ে হিংসার জন্ম দেয়।

    মাওবাদী সংগঠনের তাত্ত্বিক কাঠামোতে বড় শূন্যতা

    প্রশান্ত বোসের মৃত্যুতে একদিকে যেমন একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান হল, তেমনি মাওবাদী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ রণকৌশল ও তাত্ত্বিক কাঠামোতে বড়সড় শূন্যতা তৈরি হল বলে মনে করা হচ্ছে। হাই-প্রোফাইল এই বন্দির মৃত্যুর স্পর্শকাতরতা বিচার করে ইতিমধ্যেই একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তসহ সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া কড়া নজরদারিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মামলাটি জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনআইএ ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টার অভিযোগে প্রশান্ত বোসের বিরুদ্ধে আরও একটি চার্জশিট দাখিল করে। প্রশান্ত বোসের মৃত্যুতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

     

     

     

     

     

     

  • NIA Raid: গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় হরিয়ানায় এনআইএ-র অভিযান, পাক-যোগ সন্দেহে আটক ৮

    NIA Raid: গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় হরিয়ানায় এনআইএ-র অভিযান, পাক-যোগ সন্দেহে আটক ৮

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-যোগ সন্দেহে গুপ্তচরবৃত্তির (NIA Raid) মামলায় বড়সড় অভিযান চালাল এনআইএ (National Investigation Agency)। হরিয়ানার পালওয়াল ও নুহ্ জেলায় একযোগে তল্লাশি চালিয়ে শনিবার মোট ৮ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, পালওয়ালের হাতিন এলাকার পওয়াসার গ্রাম এবং নুহ্ জেলার তৌরু এলাকায় একাধিক জায়গায় একসঙ্গে অভিযান চালানো হয়। পওয়াসার গ্রাম থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তৌরু এলাকা থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযানে এনআইএ-র পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং স্থানীয় স্পেশাল টাস্ক ফোর্সও যুক্ত ছিল। যাতে কেউ পালাতে না পারে এবং প্রমাণ নষ্ট না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি ছিল তদন্তকারীদের।

    রয়েছে পাকিস্তান যোগ

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, এক পাকিস্তানি নাগরিক শ্রীনগরের বাসিন্দা সেজে এই নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। সে মেওয়াট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে একটি গুপ্তচর চক্র তৈরি করার চেষ্টা করছিল। আটক ব্যক্তিরা সচেতনভাবে জড়িত ছিল কি না, তারা কোনও সংবেদনশীল তথ্য বিদেশি সংস্থার কাছে পাচার করেছে কি না খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী। ঘটনার পর মেওয়াট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের তদন্তে সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।

    দেশের ভিতরে গুপ্তচর চক্র

    হরিয়ানার পালওয়াল-মেওয়াত অঞ্চলে এক সন্দেহভাজন ‘আইএসআই এজেন্ট’ গ্রেফতারের পর গোটা এলাকাজুড়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তকারীরা প্রথমে ইরফান জেলদার (৩০)-এর বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন। জানা গিয়েছে, তাঁর ফোনে জম্মু ও কাশ্মীরের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। যদিও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাঁর মোবাইল ফোনটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নুহ্ সদর থানার অন্তর্গত সোহনা গ্রামে মহম্মদ ইউসুফ (৩৮)-এর বাড়িতেও হানা দেয় যৌথ বাহিনী। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং তাঁর ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় যোগাযোগের খোঁজে ডিজিটাল ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। ডিজিটাল ও ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তির সম্ভাব্য চক্রগুলিকে চিহ্নিত করে তা ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর এনআইএ। এই অভিযানই তার প্রমাণ।

  • Assembly Elections 2026: জেলা সফর শুরু মনোজের! নিরাপত্তার ব্যবস্থা কোথায় কেমন খতিয়ে দেখাই লক্ষ্য

    Assembly Elections 2026: জেলা সফর শুরু মনোজের! নিরাপত্তার ব্যবস্থা কোথায় কেমন খতিয়ে দেখাই লক্ষ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (Assembly Elections 2026) প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শনিবার থেকে জেলা সফর করছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। কমিশন সূত্রে খবর, প্রথমেই মনোজ যাবেন পূর্ব মেদিনীপুরে। সেখানে তিনি প্রশাসনিক দফতর পরিদর্শন করবেন। আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন মনোজ। এরপর তিনি অন্যান্য জেলাতেও সফর করবেন। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে শুরু করেছেন এবং জোরকদমে প্রচারও চলছে।

    মনোজের জেলা সফরের প্রাথমিক লক্ষ্য

    দীর্ঘদিন পর রাজ্যে তুলনামূলক কম দফায় ভোট হচ্ছে। ভোট ঘোষণার দিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছেন যে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে। মনোজকুমার আগরওয়ালের এই জেলা সফর সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিং ও সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়া, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটারদের মোবাইল বাইরে জমা দিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এই বিধিগুলি যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করতেই মনোজের এই জেলা সফর।

    অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে

    বাংলার ভোট উৎসবকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করাই লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। মালদার এসআইআর (SIR) কাণ্ডে বিচারকদের আটকে রাখা, বিক্ষোভ এবং সেই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে যাওয়ার পর থেকেই চাপে রয়েছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ভোট মরসুমে ইতিমধ্যেই শীর্ষ স্তরের একাধিক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। নিয়োগ করা হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক পর্যবেক্ষক। এরপর ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং নিরাপত্তা বলয় কতটা নিশ্ছিদ্র, তা খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় ঘুরবেন মনোজ। তারপর সেই রিপোর্ট সরাসরি দিল্লিতে পাঠাবেন মনোজ কুমার আগরওয়াল।

     

     

  • Municipality Recruitment Case: পুরসভায় নিয়োগ-দুর্নীতি তদন্তে রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে তলব ইডির

    Municipality Recruitment Case: পুরসভায় নিয়োগ-দুর্নীতি তদন্তে রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে তলব ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে তলব করল ইডি (ED)। পুর নিয়োগ দুর্নীতি (Municipality Recruitment Case) মামলায় সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকে তলব করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। ৬ এপ্রিল, অর্থাৎ আগামী সোমবার সিজিও কমপ্লেক্স ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দমকলমন্ত্রী তথা বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিতকে। একই সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষকেও তলব করা হয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তিন বার (শুক্রবার-সহ) তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারকে জমি দখলের মামলায় তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি।

    কেন তলব সুজিত-রথীনকে

    বিধানসভা ভোটের আগে পুর নিয়োগ দুর্নীতি (Municipality Recruitment Case) মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ইডি সূত্রের খবর, সুজিতকে সোমবার (৬ এপ্রিল) এবং রথীনকে বুধবার (৮ এপ্রিল) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিজিও কমপ্লেক্সের দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সে দিন দুই প্রার্থীরই বিভিন্ন পূর্বঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মন্ত্রী রথীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। সে সময় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। ২০২৪ সালে জানুয়ারি এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে মন্ত্রী সুজিতের দফতর এবং বাড়িতে হয়েছিল ইডি-অভিযান। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জনের ঠিকানাতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।

    পুর নিয়োগ দুর্নীতির হদিস

    প্রসঙ্গত, স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে প্রথম গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পরে তাঁর সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালাতে গিয়ে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট। সেখান থেকেই পুরসভার নিয়োগেও দুর্নীতির হদিস পান তদন্তকারীরা। অয়নের সংস্থা পুর নিয়োগের ক্ষেত্রে ওএমআরের দায়িত্বে ছিল। তদন্তে নেমে একে একে আরও অনেককে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। পরে এই মামলায় অবৈধ ভাবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে ইডিও। গত বছর এই মামলায় প্রথম চার্জশিট দেয় সিবিআই। নিয়োগ দুর্নীতিতে কী ভাবে টাকা লেনদেন হত, সেই চার্জশিটে তার হদিস দিয়েছিল তারা।

    দেবাশিস কুমারকে তলব

    গত বুধবার দক্ষিণ কলকাতার একটি নির্মাণ সংস্থার অফিসে ইডি (ED) তল্লাশি চালায়। জানা যাচ্ছে, ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুরসভার সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল করা ও নির্মাণ প্রকল্প করা হয়েছে। এই মামলায় ইডি রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে তলব করে। একবার নয় দুবার। প্রথম সোমবার, তার পর ফের শুক্রবার। গত তিন বছরে দেবাশিস কুমারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট ও সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য তলব করেছে ইডি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত তথ্য ইডি দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেবাশিস কুমারের এলাকাতে বহু বেআইনি নির্মাণ হয়েছে, বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।

  • US Iran Conflict: পারস্য উপসাগরে ফের ভেঙে পড়ল এক জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান! পাইলট উদ্ধার না ইরানের হাতে বন্দি? বাড়ছে উত্তেজনা

    US Iran Conflict: পারস্য উপসাগরে ফের ভেঙে পড়ল এক জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান! পাইলট উদ্ধার না ইরানের হাতে বন্দি? বাড়ছে উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পারস্য উপসাগর এলাকায় আবারও ভেঙে পড়ল মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান (US Iran Conflict)। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। সেই বিমানের দুই পাইলট ঝাঁপ দেন। এর পরেই মার্কিন বায়ুসেনার এ-১০ ওয়ারথগ (Fairchild Republic A-10 Thunderbolt II/ A-10 Warthog) বিমানও দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমানে থাকা দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বিমানটি হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) কাছাকাছি এলাকায় ভেঙে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শুধু তাই নয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত এফ-১৫ই বিমানের নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে বের হওয়া দুই ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

    দুর্ঘটনা না ধ্বংস!

    আল জাজিরা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকায় একটি মার্কিন এ-১০ বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান (US Iran Conflict)। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি কৌশলগত সামুদ্রিক করিডরের কাছে ঘটেছে। বর্তমানে আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই হরমুজ প্রণালী। উল্লেখ্য, এই এ-১০ ওয়ারথগ বিমান জমিতে লড়াইয়ের সময় সাহায্যের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “শত্রু” এ-১০ বিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। তাতেই ভেঙে পড়ে মার্কিন বিমান (US Jet Crash)। তবে, বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, নাকি গুলি করে নামানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    এফ-১৫ ভেঙে পড়েছিল আগেই

    এই ঘটনার আগে ইরানের আকাশসীমায় একটি এফ-১৫ (F-15E Strike Eagle) যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে আমেরিকার একটি যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছিল তেহরান। তাতে দু’জন পাইলট ছিলেন। এক জনকে উদ্ধার করা গেলেও আর এক জনের খোঁজ এখনও পায়নি মার্কিন সেনা। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান জুড়ে ‘শত্রু’ পাইলটকে জীবন্ত ধরে আনার ডাক দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম এই কাজে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। বলা হচ্ছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানের (US Jet Crash) ওই পাইলটকে যদি জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ইরানি সেনার হাতে তুলে দেওয়া যায়, সেনা উপযুক্ত সম্মান এবং পুরস্কার দেবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স জানিয়েছে, ইরানে ভেঙে পড়া বিমানটি এফ-১৫ই। এতে এক জন পাইলট থাকেন। পিছনের আসনে থাকেন এক জন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী অফিসার। সংবাদসংস্থা এপি-র রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে পাইলট বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি কী অবস্থায় আছেন, এখনও স্পষ্ট নয়। ওই বিমানের আর এক অফিসারকে উদ্ধার করেছে মার্কিন সেনা। দ্বিতীয় জনের খোঁজ চলছে। কিছু প্রতিবেদনে আবার বলা হচ্ছে তিনি ইরানের হেফাজতে।

    পাইলট ধরতে পুরস্কার ঘোষণা

    ইরানের (US Iran Conflict) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক প্রাদেশিক গভর্নর দাবি করেছেন, যে কেউ মার্কিন পাইলটকে ধরতে বা হত্যা করতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে। এমনকি স্থানীয় মানুষদের পাইলট খোঁজার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে বলেও খবর। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কোহ্‌গিলুয়ে এবং বয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ে। এটি দুর্গম পার্বত্য এলাকা। ইরানের সংবাদমাধ্যম এবং টিভি চ্যানেলে এই সমস্ত এলাকার মানুষদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, ‘‘আমেরিকান পাইলটকে খুঁজতে আমাদের সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। আপনারা যদি শত্রু দেশের ওই পাইলটকে ধরতে পারেন এবং সেনার হাতে তুলে দেন, অনেক পুরস্কার ও বোনাস পাবেন।’’ কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন পাইলটকে খুঁজে পেলেই গুলি করে দেওয়া হোক। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিবৃতি দিয়ে অনুরোধ করেছে, আমেরিকান পাইলটকে খুঁজে পেলে কেউ যেন তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না-করেন। তাঁকে যেন সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমে আরও দাবি, মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে ইরানের ওই দুর্গম এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করেছে। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন।

    ইরানের দাবি

    শুক্রবারই ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর তরফে আবার দাবি করা হয়েছিল, মধ্য ইরানে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তারা। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র ইরানের প্রেস টিভিকে জানান, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে পাইলটের জীবিত থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। মার্কিন বিমান ধ্বংসের পর ইরান গোটা ঘটনাকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন। মুম্বইয়ে ইরানের দূতাবাসের তরফে এই বিষয়ে এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। একইসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বিতীয় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হল। ইরান একটি শক্তিশালী দেশ। কারও সামনে মাথানত করে না।’

    ট্রাম্পের অসন্তোষ

    ইরান যুদ্ধ (US Iran Conflict) শুরু হওয়ার পর থেকে এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও পুরোদমে লড়ছে ইরান। শুক্রবারই দুটি মার্কিন যুদ্ধ বিমান গুলি করে নামানোর দাবি করে ইরানি সেনা। তবে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে প্রথমবার মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এই ঘটনাগুলির কোনও প্রভাব ইরানের সঙ্গে চলা কূটনৈতিক আলোচনায় পড়বে না। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এই ঘটনাগুলির কূটনীতি বা আলোচনার উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। এটা যুদ্ধ। আমরা যুদ্ধের মধ্যেই আছি।” এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে ট্রাম্প দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তবে তাঁর কথায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। তবে, ইরানের দাবি, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের ২ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারকেও তারা গুলি করে নামিয়েছে।

    ইসলামাবাদে আলোচনায় বসছে না ইরান

    ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাপক ভাবে ধাক্কা খেয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা আপাতত স্থগিত হয়ে রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের মধ্যস্থতার পরেও আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি নয়।

    ক্ষয়ক্ষতির হিসেব

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-র বেশি আহত হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মার্কিন সেনা ইরানের হাতে বন্দি হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। ক্রমাগত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনা এবং ইরানের US Iran Conflict) পাল্টা দাবিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।

  • India Russia Relation: ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতকে তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলি পুরোপুরি তৈরি

    India Russia Relation: ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতকে তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলি পুরোপুরি তৈরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা। যুদ্ধ আবহ। জ্বালানি সংকটের মধ্যে ফের পাশে থাকার বার্তা দিল বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া (India Russia Relation)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরোভ। জানা গিয়েছে, বর্তমান সঙ্কটে ভারতকে আরও বেশি করে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাতের জেরে বর্তমানে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পণ্য আনা কার্যত বন্ধ। এর ফলে ভারত জ্বালানি ও সার আমদানিতে বিপুল সমস্যায় পড়ছে৷ ঠিক এই সময়েই ফের এগিয়ে এল রাশিয়া।

    ভারতকে আরও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ

    মোদি ও মানতুরোভের বৈঠকে মূলত বাণিজ্য, সংযোগ রক্ষা এবং প্রযুক্তির আদানপ্রদান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদি সমাজমাধ্যমে জানান, গত বছর ডিসেম্বরে পুতিনের সফরের সময় যে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে দুই দেশই সফল। ২০২৫ সালের শেষে ভারতে সারের জোগানও ৪০ শতাংশ বাড়ান হয়েছে। চাষিদের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বামাইড তৈরির লক্ষ্যে ভারত ও রাশিয়া দুই দেশ যৌথ ভাবে একটি প্রকল্প গড়ার কাজও শুরু করেছে। যুদ্ধ আবহে ভারতকে আরও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের কথা বলেছে পুতিন-প্রশাসন। রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতকে তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলি পুরোপুরি তৈরি।

    ভারতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল

    কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। একে অপরকে শুধু হুমকিই নয়, হামলা-পাল্টা হামলাও চালাচ্ছে সমানে। এখনই এখনই মেটার কোনও লক্ষণ নেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। এই পরিস্থিতির চাপও বাড়ছে উত্তরোত্তর হারে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত চরম সংকট দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি সংকট দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ফলে, আর্থিক চাপও বাড়ছে বিভিন্ন দেশে। কারণ, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে, স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়বে জিনিসপত্রে। ফলে, এই যুদ্ধের জেরে পরোক্ষে ভুক্তভোগী অনেক দেশ। যদিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে একে একে জাহাজ আসছে ভারতে। ফলে, ভারতের পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

    গুজবে কান না দেওয়ার আর্জি বিদেশমন্ত্রকের

    কিন্তু হরমুজ দিয়ে জাহাজ আনতে কি টোল দিতে হচ্ছে ইরানকে? বেশ কিছু দিন ধরেই সেই নিয়ে চর্চা চলছে। জাহাজ পিছু ইরান ২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১৮.৮ কোটি টাকা টোল ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর আসে সম্প্রতি। ভারতকেও চড়া টোল দিতে হচ্ছে কি না, উঠছিল প্রশ্ন। এবার সেই নিয়ে মুখ খোলে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।ভারত টোল ফি দিয়ে হরমুজ থেকে জাহাজ বের করছে কি না, বৃহস্পতিবার জানতে চাওয়া হয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে এমন কোনও আলোচনা হয়নি। অর্থাৎ কোটি কোটি টাকা দিয়ে জাহাজ বের করে আনতে হচ্ছে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা কার্যত খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।

    রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বাড়ল

    পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের মধ্যেই মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা প্রায় ৯০% বাড়িয়েছে ভারত। একই সময়ে মোট তেল আমদানি প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এর প্রধান কারণ পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের তেল আমদানিতে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সমস্যা তৈরি হওয়ায় ভারতের এলপিজি আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহেও পতন দেখা গিয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়েছে ভারত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার তেল আমদানি কিছুটা কম ছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ দিনের ছাড়ের সিদ্ধান্তের পর মার্চে আমদানি আবার বেড়েছে। এই ছাড়ের ফলে সমুদ্রে থাকা নিষিদ্ধ তেল কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

    এপ্রিল মাসেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলতে পারে

    এ ছাড়া আফ্রিকার কিছু দেশ— অ্যাঙ্গোলা (Angola), গ্যাবন (Gabon), ঘানা (Ghana) এবং কঙ্গো (Congo) থেকেও আমদানি বেড়েছে। যদিও মোট আমদানিতে তাদের অবদান এখনও কম। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে গ্লোবাল অ্যানালিটিক্স সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিতোজা বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার উৎপাদকরা পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু সরবরাহ ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রপথে সমস্যা থাকলেও ভারত কিছুটা তেল সংগ্রহ চালিয়ে যেতে পারছে।’ তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাসেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলতে পারে। পাশাপাশি ইরান এবং ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সরবরাহের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে, কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ মার্চে ৯২% কমেছে। এই ঘাটতি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে আমেরিকা, ওমান, অ্যাঙ্গোলা, এবং নাইজেরিয়া থেকে বাড়তি আমদানির মাধ্যমে।

    নানা ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া পাশাপাশি 

    তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিনিময় ছাড়াও, মানতুরোভের এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় রাশিয়ার তৈরি ‘এস-৪০০’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখেছিল দিল্লি। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী যে পাঁচটি সিস্টেম আসার কথা ছিল, তার মধ্যে তিনটি চলে এলেও বাকি দু’টি ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আটকে আছে। তবে মানতুরোভের আশ্বাস, কুডানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজও নির্দিষ্ট সময়েই শেষ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব কমানো, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া পাশাপাশি রয়েছে।

  • Kaliachak Incident: কালিয়াচক-কাণ্ড নিয়ে সরগরম লোকসভা! তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি সাংসদ বাঁশরীর

    Kaliachak Incident: কালিয়াচক-কাণ্ড নিয়ে সরগরম লোকসভা! তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি সাংসদ বাঁশরীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদার পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসক—সবার কাছেই শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে আটকে রাখার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ বাঁশরী স্বরাজ (Bansuri Swaraj)। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে বলেন, এসআইআর (Special Intensive Revision) কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি একটি সাংবিধানিক প্রয়োজন।

    গণতন্ত্র পদদলিত

    লোকসভার জিরো আওয়ারে বিষয়টি উত্থাপন করে বাঁশরী দাবি করেন, এই ঘটনায় “গণতন্ত্রকে পদদলিত করা হয়েছে”। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা মালদায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখে। বিশেষ করে মহিলা কর্মকর্তাদের আটকে রাখার তীব্র নিন্দা জানান বাঁশরী। তিনি এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এমন নৈরাজ্য মেনে নেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্টও এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, দ্রুত এই ঘটনা নিয়ে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট

    অন্যদিকে কমিশনকে একহাত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, জুডিশিয়াল আধিকারিকদের নিরাপত্তা কমিশনের দায়িত্ব। এজন্য যা যা পদক্ষেপ করা দরকার, তা কমিশনকে করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা সরাসরি পর্যবেক্ষণে জানান, পশ্চিমবঙ্গের মতো এতটা ‘রাজনৈতিকভাবে মেরুকরণ’ আগে কখনও দেখেনি। সুপ্রিম কোর্টের এও পর্যবেক্ষণ, এ রাজ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে প্রায় সব কিছুই রাজনৈতিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, এমনকি আদালতের নির্দেশ পালন নিয়েও রাজনীতির ছাপ স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে শুনানি শুরু করে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো চিঠির ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি হাতে নেয়।

  • Kaliyachak Incident: পালানোর সময় বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার কালিয়াচক-কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল

    Kaliyachak Incident: পালানোর সময় বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার কালিয়াচক-কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliyachak Incident) অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল (Mofakkarul Islam) পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে প্রথমে বাগডোগরা থানায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরু যাওয়ার বিমানের টিকিট ছিল মোফাক্কেরুলের। গ্রেফতারের পরে সমাজমাধ্যমে লাইভ করেন তিনি। সেখানে দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন এবং কাউকে উস্কানিও দেননি। তাঁর দাবি, তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এসআই নিয়ে বিক্ষোভ-অবরোধ দেখে তাঁর বক্তব্য রেখেছিলেন। মোফাক্কেরুলের সঙ্গে আকরামুল বাগানি নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    প্ররোচনামূলক পোস্ট মোফাক্কেরুলের

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুলের নামে বৃহস্পতিবারই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তার পর থেকে পুলিশ তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছে। বৃহস্পতিবার মোফাক্কেরুলকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। জবাব দেননি মোবাইল-বার্তারও। তবে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার হওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মোফাক্কেরুল লিখেছেন, ‘ভাল থাকুন আপনারা।’ গ্রেফতারির পর ফেসবুকে লাইভ ভিডিও পোস্ট তিনি বলেন, “নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের প্রতিবাদে ছিলাম বলে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে অ্যারেস্ট হলাম।” পরে অবশ্য ভিডিওটি মোফাক্কেরুলের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেখা যায়নি।

    বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা

    উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, মালদার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন মোট ৩৫ জন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মোফাক্কেরুলকে ‘মূল প্ররোচনাকারী’ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছিল। জয়রামন জানান, মোফাক্কেরুলকে খুঁজে বার করতে সিআইডি-র সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুলিশ মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করে তাঁকে মালদা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানতে পেরেছে মালদা কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

    কে এই মোফাক্কেরুল

    ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করতেন। হাইকোর্টের কাছেই তাঁর চেম্বার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কলকাতায় থাকেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। প্রার্থীও হন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহারের এমআইএম প্রার্থী হিসাবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল। কিন্তু সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর।

    মূলচক্রী মোফাক্কেরুল

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখে উত্তেজিত জনতা। বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে থাকার পর পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কালিয়াচকের ঘটনার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে। এনআইএ বা সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিতে বলা হয়। তদন্তকারী সংস্থাকে আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়। তার পরেই নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে। জ্ঞানেশের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন পুলিশ আধিকারিকেরা। শেষপর্যন্ত মালদা কাণ্ডে এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ইতিমধ্যেই,মালদা কাণ্ডের তদন্তে শুক্রবার সকালেই কলকাতায় এসেছেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (NIA) আইজি সনিয়া সিং। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার বেশ কয়েক জন নেতা স্থানীয় মানুষদের প্ররোচিত করেছিলেন। তার পরেই উত্তেজিত জনতা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার ‘মূলচক্রী’ হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে।

    প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

    শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাত থেকেই ভাইরাল হয়ে কালিয়াচকের বিক্ষোভের একটি ছবি। সেখানে দেখা যায়, বিপুল জমায়েতের মাঝে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে কিছু বক্তব্য রাখছেন ওই ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। বাড়িতে গিয়েও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে। কালিয়াচকের ঘটনায় উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে। উস্কানিমূলক মন্তব্য করার পাশাপাশি প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

    এই ঘটনায় বিজেপির দাবি, কেউ কেউ ভারতে বসেই দেশের ক্ষতি করছেন। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “যাঁরা এই ঘটনার পিছনে আছেন, যাঁরা কার্যত ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, যাঁরা জনবিন্যাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের খুঁজে খুঁজে আইনের অধীনে আনতে হবে। ভারতে বসে ভারতের ক্ষতি করা হচ্ছে।” মোফাক্কেরুলের গ্রেফতারির পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘রাজ্যে পুলিশের সিআইডি শাখা নেপালে পালানোর সময় মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করেছে। মোফাক্কেরুল আদতে কার হয়ে কাজ করে তা ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত। এই ইটাহারে তৃণমূলের সংখ্যালঘু মোর্চার প্রধানের সঙ্গে মোফাক্কেরুলের যোগাোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কী যোগসূত্র রয়েছে, কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

LinkedIn
Share