Author: ishika-banerjee

  • India France Relation: মাইক্রোসফট থেকে শানেল— বহুজাতিক সংস্থাগুলোর মাথায় ভারতীয়রা! ‘‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত’’, প্রশংসা মাক্রঁর

    India France Relation: মাইক্রোসফট থেকে শানেল— বহুজাতিক সংস্থাগুলোর মাথায় ভারতীয়রা! ‘‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত’’, প্রশংসা মাক্রঁর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকে পথ দেখাবে ভারত (India France Relation)। আধুনিক ভারত কেবল বৈশ্বিক উদ্ভাবনে অংশগ্রহণই করে না, বরং নেতৃত্ব দিচ্ছে। মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া–ফ্রান্স ইনোভেশন ফোরামে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাক্রঁ (Modi-Macron Meeting) ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘‘আজকের বিশ্বে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভারত শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং পথপ্রদর্শক।’’ বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার শীর্ষপদে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মাক্রঁ ভারতের প্রতিভা ও ক্ষমতার বিশেষ স্বীকৃতি দেন।

    নেতৃত্বে ভারত

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ বলেন, “ভারত বৈশ্বিক উদ্ভাবনে শুধু অংশগ্রহণ করে না; ভারত নেতৃত্ব দেয়। অ্যালফাবেট (Alphabet)-এর সিইও ভারতীয়। মাইক্রোসফট (Microsoft)-এর সিইও ভারতীয়। আইবিএম (IBM)-এর সিইও ভারতীয়। অ্যাডোবে (Adobe)-এর সিইও ভারতীয়। পালো অলটো নেটওয়ার্ক (Palo Alto Networks)-এর সিইও ভারতীয়। এমনকি শানেল (Chanel)-এর সিইও-ও ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের বাসিন্দা।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন সংস্থা শানেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খ্যাতনামা ডিজাইনার কোকো শানেল। মাক্রঁ সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai), সত্য নাদেলা (Satya Nadella), অরবিন্দ কৃষ্ণ (Arvind Krishna), শান্তনু নারায়ণ (Shantanu Narayen), নিকেশ অরোরা (Nikesh Arora) এবং লীনা নায়ার (Leena Nair)-এর কথা উল্লেখ করেন। এই সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সভায় উপস্থিত ভারতীয় প্রতিনিধিদের মুখে হাসি ফোটায়।

    ভারতের উদ্ভাবনী শক্তির প্রশংসা

    অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উপস্থিত ছিলেন। মাক্রঁ-র বক্তব্যে ভারতের উদ্ভাবনী শক্তি, বিশাল মানবসম্পদ এবং বৃহৎ জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে দ্রুত ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষমতার বিশেষ প্রশংসা করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের শিল্প গঠনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। মাক্রঁর তিন দিনের ভারত সফরের সূচনাতেই দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে “স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-উন্নত করার কথা ঘোষণা করে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছায় উভয় দেশ। বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব এক শক্তিশালী স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

    ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বে স্থিতিশীলতার এক শক্তি

    মোদি বলেন, “বিশ্ব আজ অনিশ্চয়তার সময় পার করছে। এমন পরিবেশে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বের স্থিতিশীলতার এক শক্তি। আমরা ফ্রান্সের দক্ষতা এবং ভারতের ব্যাপকতার সমন্বয় ঘটাচ্ছি।” মোদি বলেন, ‘‘রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত ও ফ্রান্স গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্রান্স ভারতের অন্যতম প্রাচীন কৌশলগত অংশীদার এবং দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বিশেষ ও বিশ্বাসভিত্তিক। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রেসিডেন্ট মাক্রঁর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বলেন, “আজ আমরা আমাদের সম্পর্ককে ‘বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত করছি।” দুই নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সহ-উৎপাদন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং শিক্ষা বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উন্নত প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৌশলগত খনিজ ও টেকসই জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে মোট ২১টি চুক্তি ও নথিতে সই হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা নির্ভরতা

    সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা দাসো এভিয়েশন নির্মিত রাফাল কেনার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রায় ৩০ বিলিয়ন ইউরোর এই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। অধিকাংশ বিমানই ভারতে তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ভারত এর আগে ৬২টি রাফাল কিনেছে। সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ফরাসি বিশ্লেষকরা “শতাব্দীর চুক্তি” হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন। মোদি ও মাক্রঁ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্ণাটকের ভেমাগালে ভারতের প্রথম হেলিকপ্টার ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন উদ্বোধন করেন। এটি ভারতের টাটা গ্রুপ এবং ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা এয়ারবাস-এর যৌথ উদ্যোগ। এখানে এয়ারবাসের জনপ্রিয় এক-ইঞ্জিনের হেলিকপ্টার এইচ১২৫ তৈরি হবে। গত এক দশকে ফ্রান্স ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতনির্ভর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে বছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতে ফরাসি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। ভারত গত এক দশকে রাশিয়ার ওপর প্রতিরক্ষা নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকেছে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর নীতি নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    ভারত-ফ্রান্স পাশাপাশি

    ইন্ডিয়া–ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশন উদ্বোধনের পর মাক্রঁ তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ক্যাপশন দেন, ‘জয় হো!’। এটি তাঁর চতুর্থ ভারত সফর এবং প্রথম মুম্বই সফর। গত বছর মোদির ফ্রান্স সফরের এক বছর পর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি  নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে-এ অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এও মোদির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাক্রঁ। সোমবার রাতেই ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তিনি একা নন, সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী লেডি ব্রিজিত মাক্রঁ-ও। তিনদিন ভারতেই একাধিক কর্মসূচি তাঁদের। উন্নত উপাদান, জৈবপ্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উদীয়মান প্রযুক্তি, এমএসএমই, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং স্টার্টআপ খাত—এই সব ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে কূটনৈতিক মহল। মাক্রঁ-র এই সফর এবং ফোরামের বার্তা স্পষ্ট— বিশ্বের উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের মানচিত্রে ভারত এখন কেন্দ্রীয় শক্তি, আর ফ্রান্স সেই যাত্রায় ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে।

  • T-20 World Cup 2026: সুপার এইটে কঠিন গ্রুপে ভারত! কবে, কোথায়, কাদের বিরুদ্ধে খেলবেন সূর্যরা?

    T-20 World Cup 2026: সুপার এইটে কঠিন গ্রুপে ভারত! কবে, কোথায়, কাদের বিরুদ্ধে খেলবেন সূর্যরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের (T-20 World Cup 2026) গ্রুপ পর্বে ভারতের শেষ ম্যাচ নিয়মরক্ষার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবিবার কলম্বোর মাঠে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। সেখানে তিনটি ম্যাচ খেলতে হবে সূর্যকুমার যাদবদের। কবে কোথায় হবে সেই ম্যাচ হবে তা-ও জানা গিয়েছে। সুপার এইটে কঠিন গ্রুপে ভারত। লড়াই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে। তার আগে বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে চায় গুরু গম্ভীরের ছেলেরা। সুপার এইট-এর লড়াইয়ের কলকাতায় একটি ম্যাচ খেলবে ভারত। তাই ক্রিকেট জ্বরে কাঁপছে মহানগরী।

    সুপার এইটে দু’টি গ্রুপ

    বিশ্বকাপের সুপার এইটে দু’টি গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপ ‘এক্স’ ও গ্রুপ ‘ওয়াই’। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল থেকে যে দুই দল নক আউটে উঠবে, তাদের আলাদা আলাদা গ্রুপে রাখা হবে। তবে সুপার এইটে আটটি দল আগে থেকে ধরে রাখা হয়েছে। তারা গ্রুপ পর্বে যে স্থানেই শেষ করুক না কেন, নক আউটে নির্দিষ্ট জায়গাতেই খেলবে। সুপার এইটে ভারতের তিনটি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। অন্য গ্রুপে রয়েছে, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও সম্ভাব্য পাকিস্তান।

    লড়াই কঠিন

    সুপার এইটে আগামী রবিবার ভারতের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা। গতবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ভারত সেখানে দারুণ জয় পায়। সূর্যকুমারের দল দারুণ ছন্দে। ২৬ ম্যাচের মধ্যে ২৫টা ম্যাচ জিতেছে। ফলে সুপার এইটের লড়াইয়েও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভারতের সামনে জিম্বাবোয়ে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দিয়েছে সিকান্দার রাজার দল। সেটাই কিছুটা হলেও চিন্তার কারণ। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ১ মার্চ মুখোমুখি ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচ হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। ক্যারাবিয়ানরা আপাতত দাপুটে ফর্মে। দক্ষিণ আফ্রিকাও সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক। ভারতও অবশ্য ছন্দেই রয়েছে। তবু সুপার এইট অন্য পরীক্ষা। এখানে ভুলের জায়গা কম। সামান্য স্খলনে গুনতে হতে পারে বিরাট মাশুল। তাই সদা সতর্ক ভারত। ঘরের মাঠে ট্রফি ধরে রাখতে মরিয়া সূর্যরা।

    টি-২০ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার ‘সুপার-৮’ সূচি

    ২২ ফেব্রুয়ারি – ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, আমেদাবাদ)

    ২৬ ফেব্রুয়ারি – ভারত বনাম জিম্বাবোয়ে (এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, চেন্নাই)

    ০১ মার্চ – ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা)

  • Espionage Case: নৌসেনার তথ্য পাচার পাকিস্তানে! চরবৃত্তির অভিযোগে কেরলে ধৃত পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা

    Espionage Case: নৌসেনার তথ্য পাচার পাকিস্তানে! চরবৃত্তির অভিযোগে কেরলে ধৃত পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগে কেরলে গ্রেফতার করা হল পশ্চিমবঙ্গের এক বাসিন্দাকে। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসের একটি চক্র সক্রিয় ছিল। সম্প্রতি কর্নাটকে দায়ের হওয়া গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় (Espionage Case) চতুর্থ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কেরল পুলিশ (Kerala Police)। এই ঘটনার তদন্ত এখন একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত হয়েছে।

    গোপন তথ্য বেআইনিভাবে পাঠানো

    পুলিশ সূত্রে খবর, ১৭ ফেব্রুয়ারি উডুপি পুলিশ ২১ বছর বয়সি আলিফ ইসলামকে গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানা গেলেও কেরালার ইডুক্কি জেলার মারায়ুর গ্রামে বসবাস করছিলেন। তার পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিদেশি যোগাযোগ রয়েছে কি না তাও যাচাই করছে পুলিশ। এই মামলার সূত্রপাত মালপে থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগে বলা হয়, উডুপি জেলার মালপে বন্দরে অবস্থিত কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের একটি ইউনিট থেকে গোপন তথ্য বেআইনিভাবে পাঠানো হয়েছে। কেরলের সরকারি এই প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারতীয় নৌসেনার জন্য টাগবোট, সহায়ক জাহাজসহ বিভিন্ন নৌযান নির্মাণ করে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রেও পরিষেবা দেয়।

    আর্থিক সুবিধার আশ্বাস দিয়ে জাল বিস্তার

    তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাজের নম্বর, গতিবিধির সময়সূচি ও প্রযুক্তিগত তথ্য হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকের মাধ্যমে পাকিস্তানে অবস্থানকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। প্রায় দেড় বছর ধরে এই তথ্য আদান-প্রদান চলছিল বলে অভিযোগ, পরে তা ধরা পড়ে। পুলিশের দাবি, অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযুক্তদের প্রলোভন দেখিয়ে আর্থিক সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ব্যাঙ্ক লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখছে ডিজিটাল ফরেনসিক দল। সম্ভাব্য ‘হ্যান্ডলার’দের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

    আরও এক মূল সন্দেহভাজনের খোঁজ

    এর আগে নভেম্বর ও ডিসেম্বর ২০২৫-এ আরও তিন অভিযুক্ত—গুজরাটের হিরেন্দ্র কুমার এবং উত্তরপ্রদেশের রোহিত ও সন্ত্রী—গ্রেফতার হয়। রোহিত ও সন্ত্রী সুশমা মেরিন প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে মালপে ইউনিটে কাজ করতেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, কেরলে কর্মরত থাকাকালীন সময় থেকেই রোহিত গোপন তথ্য পাঠাচ্ছিল। পুলিশের মতে, আলিফ ইসলামের গ্রেফতার এই গুপ্তচরচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উন্মোচনে সহায়ক হতে পারে। আরও এক মূল সন্দেহভাজন এবং একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনের খোঁজে তল্লাশি চলছে, যার মাধ্যমে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    বিভিন্ন রাজ্যে তদন্তের জাল

    অভ্যন্তরীণ তদন্তে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা প্রকাশ পেলে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের সিইও। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর রাষ্ট্র-বিরোধী কার্যকলাপ ও গোপন তথ্য বেআইনিভাবে আদান-প্রদানের ধারায় মামলা রুজু করে উডুপি পুলিশ। উডুপির পুলিশ সুপার হরিরাম শঙ্কর জানিয়েছেন, তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে এবং শীঘ্রই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও জাতীয় পর্যায়ের সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হতে পারে। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

  • Indian Army Used AI: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সক্রিয় চিন! আগাম জানতে অরুণাচলে এআই-এর সাহায্য নিচ্ছে ভারতীয় সেনা

    Indian Army Used AI: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সক্রিয় চিন! আগাম জানতে অরুণাচলে এআই-এর সাহায্য নিচ্ছে ভারতীয় সেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চিন কি সক্রিয় হচ্ছে? অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে লাল ফৌজ? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Indian Army Used AI) সাহায্যে তা আগাম জেনে সতর্ক হচ্ছে ভারতীয় সেনা। শুধু তা-ই নয়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চিন সেনার অতি সক্রিয়তাকেও কৃত্রিম বুদ্ধমত্তার সাহায্যে রুখে দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এর মঞ্চে এমনই দাবি করলেন স্ট্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড-এর কমান্ডার-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল দীনেশ সিং রানা। জানালেন, আধুনিক যুদ্ধ, কৌশলগত নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এআই এখন বড় পরিবর্তন আনছে।

    অরুণাচলে এআই–এর সফল প্রয়োগ

    বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সামরিক এবং প্রতিরক্ষা দুনিয়ার ধরনও বদলে দিতে পারে আগামী দিনে। এমনটাই মনে করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এআই যে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, অরুণাচলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কীভাবে এআই-কে কাজে লাগাচ্ছে ভারতীয় সেনা তা জানালেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তিনি জানিয়েছেন, খুব কম খরচে এবং স্থানীয় ভাবে তৈরি এআই ব্যবস্থাকে অরুণাচলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কাজে লাগানো হয়েছিল। সেই ব্যবস্থাই ভারতীয় সেনাকে সতর্ক করে দেয় যে, চিনা ফৌজ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় অতি সক্রিয়। নতুন সামরিক ঘাঁটি বানানোর কাজ শুরু করেছে তারা। লেফটেন্যান্ট জেনারেলের দাবি, চিনা ফৌজের এই অতিসক্রিয়তা সম্পর্কে আগাম জানতে পারায় ভারতীয় সেনার পক্ষেও পদক্ষেপ করতে অনেক সুবিধা হচ্ছে। যার জেরে আগাম রণকৌশল ঠিক করা, সেনা হতাহতের বিষয়টিও এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল দীনেশ সিং বলেন, “আমরা এআই সিস্টেমের মাধ্যমে বুঝতে পারি যে কিছু একটা বড় প্রস্তুতি চলছে। শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের পদক্ষেপের সময়ও অনুমান করতে পেরেছিলাম।”

    চলমান “এআই রেস”

    রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। সেখানে কী ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হয়েছে, সে কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আগামী দিনে এআই যে একটা বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা বলেন, এআই আর ভবিষ্যতের ধারণা নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে এটি এখন কেন্দ্রীয় উপাদান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বাড়তি বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি একে চলমান “এআই রেস” বলে অভিহিত করেন।

    কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্সের ঝুঁকি

    নির্দিষ্ট বা সীমিত এআই থেকে কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্স (ASI)–এ উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তাও দেন তিনি। তাঁর মতে, উন্নত এআই প্রযুক্তি যেমন সুযোগ সৃষ্টি করবে, তেমনি অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়াবে। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের মতো এআই–ও কৌশলগত প্রতিরোধের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তবে ডিজিটাল প্রকৃতির কারণে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা পারমাণবিক প্রযুক্তির তুলনায় অনেক কঠিন হবে। তিনি ভারতের জন্য একটি সমন্বিত এআই নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান। এৎ ফলে অর্থনীতি, সাইবার, মহাকাশ ও সামরিক খাতে এআই সমন্বিত তথ্যের ব্যবহার সুবিধাজনক হবে।

  • India France Deal: ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২১টি চুক্তি ও নথি বিনিময়

    India France Deal: ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২১টি চুক্তি ও নথি বিনিময়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির পর এবার ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি, সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্য-সহ মোট ২০টি ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি (India-France Deal) সই করল ভারত। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর (Emmanuel Macron) দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করা হয়। উদ্ভাবন ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগী ফ্রান্স (India France Deal) একথা স্পষ্ট করে দেন প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ।

    সম্পর্কের গভীরতাই আমাদের শক্তি

    এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর আলোচনায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি-সহ একাধিক কৌশলগত বিষয় উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। মুম্বইয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আজ বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “ফ্রান্স ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ, এই সম্পর্কের গভীরতাই আমাদের শক্তি।” মঙ্গলবার মোদি-মাক্রঁ বৈঠকের পরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্যের মতো ২১টি বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি সইয়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, তিন দিনের সফরে সস্ত্রীক ভারতে এসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। সোমবার গভীর রাতে মুম্বইয়ে অবতরণ করে তাঁর বিমান। মঙ্গলবার সকালে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের বাসভবনে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক হয়। এর পরে একই গাড়িতে চড়ে তাঁরা যান একটি হোটেলে আয়োজিত ভারত-ফ্রান্স ইনোভেশন ফোরামে যোগ দিতে।

    বিশ্বস্ত অংশীদার ভারত

    এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসারকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, “রাফাল জেট থেকে সাবমেরিন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করছি।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, “ফ্রান্সের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদারদের মধ্যে ভারত অন্যতম।” নয়াদিল্লির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা আরও গভীর শক্তিশালী করতে চাই। আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ৩০ হাজার ভারতীয় পড়ুয়াকে স্বাগত জানাতে ফ্রান্স প্রস্তুত।’’

    এআই সামিটে যোগ

    মুম্বইয়ে বৈঠক শেষে মঙ্গলবার রাতেই কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন মাক্রঁ। এরপর বৃহস্পতিবার এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

    ভারত-ফ্রান্স ২১টি চুক্তি

    ভারত ও ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোদি-মাক্রঁ। বৈঠকের পর মোট ২১টি চুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়। উভয় দেশ ‘হরাইজন ২০৪৭ রোডম্যাপ’ ও উন্নীত অংশীদারিত্বের বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য বার্ষিক আলেচনার কথা বলেছে। দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে এই আলোচনার কথা হবে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশন’ এবং ‘ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইনোভেশন নেটওয়ার্ক’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চুক্তি

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কর্ণাটকের ভেমাগালে ভারতের প্রথম এইচ১২৫ হেলিকপ্টার সংযোজন লাইন উদ্বোধন করা হয়েছে। কর্নাটকে এইচ-১২৫ হেলিকপ্টারে ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’-র (যন্ত্রাংশ একত্রিত করা) উদ্বোধন করা হল। যা ভারতের প্রথম বেসরকারি হেলিকপ্টারের ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে সেই কাজ চলবে। যে প্রকল্পকে ভারতে বিমান তৈরির ক্ষেত্রে বড় ‘বুস্টার ডোজ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আর সেই প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি করবে ভারত এবং ফ্রান্স।

    ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সম্মত

    দুই দেশ ভারত সরকার ও ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নবীকরণ এবং বিএইএল ও সাফরানের যৌথ উদ্যোগে ভারতে ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সম্মত হয়েছে। ভারতে হ্যামার মিসাইল তৈরির বিষয়ে মউ স্বাক্ষর করেছে ভারত ইলেকট্রনিকস লিমিটেড এবং সাফরান ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ডিফেন্স। যে মিসাইল আপাতত রাফাল যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হ্যামার মিসাইল মোটামুটি ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে থাকা গ্রাউন্ড ‘টার্গেট’-কে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে। পাহাড়ি এলাকা এবং বাঙ্কারের মধ্যে একেবারে নিখুঁতভাবে ধ্বংসলীলা চালাতে পারে হ্যামার এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল।

    রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা

    ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ফরাসি ল্যান্ড ফোর্সেসের প্রতিষ্ঠানে পারস্পরিকভাবে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। মঙ্গলবার মোদি-মাক্রঁ বৈঠকে দ্বিতীয় দফায় ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা এবং ডুবোজাহাজ নির্মাণের বিষয়টি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর। সমঝোতা হয়েছে যৌথ উদ্যোগে হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে উড়ানে সক্ষম হেলিকপ্টার নির্মাণের বিষয়ে।

    উদীয়মান প্রযুক্তি ক্ষেত্র

    গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি, বিশেষত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উন্নত প্রযুক্তি উন্নয়ন গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ধাতু নিয়ে সহযোগিতার জন্য যৌথ অভিপ্রায় ঘোষণা করা হয়েছে। উন্নত উপকরণ বিষয়ক একটি কেন্দ্র স্থাপনে ডিএসটি ও সিএনআরএস-এর মধ্যে ইচ্ছাপত্র বিনিময় হয়েছে। এছাড়াও ভারত-ফ্রান্স দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির প্রোটোকলে সংশোধন আনা হবে। স্টার্ট-আপ, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার জন্য টি-হাব ও নর্ড ফ্রান্সের মধ্যে অভিপ্রায়পত্র এবং ডিএসটি ও সিএনআরএস-এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    ইন্দো-ফ্রেঞ্চ কেন্দ্র স্থাপন

    ডিজিটাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে একটি ইন্দো-ফ্রেঞ্চ কেন্দ্র স্থাপনে যৌথ অভিপ্রায় ঘোষণা করা হয়েছে। নয়াদিল্লির এইমসে ‘ইন্দো-ফ্রেঞ্চ সেন্টার ফর এআই ইন হেলথ’ চালু হবে। সংক্রামক রোগ ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় সহযোগিতার জন্য ডিবিটি ও এএনআরএস-এর মধ্যে অভিপ্রায়পত্র বিনিময় হয়েছে। এছাড়া ‘ইন্দো-ফ্রেঞ্চ সেন্টার ফর মেটাবলিক হেলথ সায়েন্সেস’ প্রতিষ্ঠায় চুক্তি হয়েছে। এর পাশাপাশি এরোনটিক্স ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপনে অভিপ্রায়পত্র বিনিময় হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতায় ভারতের নব ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রক এবং ফ্রান্সের অর্থ, শিল্প, জ্বালানি ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব মন্ত্রকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নবীকরন করা হয়েছে। ভারতীয় ডাক বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রক ও ফ্রান্সের লা পোস্টের মধ্যেও একটি অভিপ্রায়পত্র বিনিময় হয়েছে।

    মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন পরিকাঠামো

    মঙ্গলবার ফ্রান্সের সংস্থা এক্সোট্রেলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তিন ভারতীয় সংস্থা ধ্রুব স্পেস, পিক্সেল এবং এক্সডিলিঙ্ক্‌স ল্যাব্স-এর সঙ্গে। মঙ্গলবার দুপুরে এক্সোট্রেল নিজেই এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। এক্সোট্রেল মূলত বিভিন্ন মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরি করে। জানা যাচ্ছে, তারা তিন ভারতীয় সংস্থাকে ‘প্রোপালশন সিস্টেম’ বিক্রি করবে। কত টাকার প্রযুক্তি কেনার বিষয়ে এই চুক্তি হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। যে তিন ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে এক্সোট্রেল চুক্তি সেরেছে, তিনটিই মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। ধ্রুব স্পেস কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করে। পিক্সেল তৈরি করে মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন পরিকাঠামো। এক্সডিলিঙ্ক্‌স ল্যাব্স-ও ছোট কৃত্রিম উপগ্রহের ডিজাইন তৈরি করে। দুই দেশই এই নতুন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসহ কৌশলগত খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  • India-Bangladesh Relations: পশ্চিমবঙ্গ-সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জয়ী জামাত! ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের?

    India-Bangladesh Relations: পশ্চিমবঙ্গ-সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জয়ী জামাত! ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের (India-Bangladesh Relations) রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগোলেও, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। তাদের ১১-দলীয় জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৭। এই ফলাফল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জামায়াতের বেশিরভাগ সাফল্য এসেছে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে। বলা ভালো পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলায় যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি সেখানে জয়ী হয়েছে জামাত।

    ভারতের জন্য উদ্বেগের

    হাসিনা সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশে ভারত বিরোধী জিগির উঠলেও, এবারের ভোটে ভারত বিদ্বেষী জামায়াতে ইসলামি ও ছাত্র জোট কার্যত ধুয়ে মুছে গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশেই জয়ী হয়েছে ভারতবিদ্বেষী জামাত। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর…সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙা, মেহেরপুর, রাজশাহি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাটের মতো জায়গায় জয়ের খাতা খুলেছে জামাত। বাংলাদেশের এই জেলাগুলির গা ঘেঁসেই রয়েছে মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলা। যা ভারতের জন্য উদ্বেগের, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কূটনীতিকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া না দেওয়া অনেকটা জায়গা পড়ে রয়েছে। এর অধিকাংশটাই পশ্চিমবঙ্গের। নিরাপত্তার খাতিরে কাউকে জিজ্ঞাসা না করেই কেন্দ্রীয় সরকার যে কোনও জমি নিতে পারে। তাই শীঘ্রই এখানে বেড়া দেওয়া দরকার।

    ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্ত এলাকায় জামাতের শক্তিবৃদ্ধি ভারতের জন্য আশঙ্কার। বিরোধীদেরও দাবি, এই ছবি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের জন্য মোটেই স্বস্তির নয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি মনে করি, একাত্তরের শক্তির খানিকটা জাগরণ ঘটেছে বলে, আরও জাগরণ ঘটত যদি আওয়ামি লিগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত। তাহলে এই জামাতিরা ১০টি আসন পেত না।” হাসিনা জমানায় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর কাছাকাছি আসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পদ্মাপারে বাড়তে থাকে কট্টরপন্থীদের দাপট। অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র-যুব আন্দোলনে ইন্ধন ছিল ইসলামাবাদের। তারেক রহমানের হাত ধরে ফের ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক তৈরি হবে কি না তা সময় বলবে।

    নির্বাচনের সারসংক্ষেপ

    মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও তার জোট ২১২টি আসন জিতে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন পায়—দলের ইতিহাসে যা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) মাত্র ৬টি আসন জিতে ভরাডুবির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শহরাঞ্চল, শিক্ষিত ভোটার ও মহিলারা জামায়াতের রক্ষণশীল অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন। তবে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় দলটির প্রভাব বেড়েছে।

    হিন্দু অধ্যুষিত বিভাগ ও জামায়াতের ফল

    বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮% (প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ)। তবে কিছু বিভাগে এই হার ১০%–এর বেশি।

    সিলেট বিভাগ

    হিন্দু জনসংখ্যা: প্রায় ১৩.৫%

    জামায়াতের সাফল্য সীমিত

    উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী (আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা)

    তুলনামূলকভাবে ভারত-বিরোধী মনোভাব এখানে কম

    রংপুর বিভাগ

    হিন্দু জনসংখ্যা: প্রায় ১৩%

    রংপুর-১, ২, ৩, ৫, ৬ সহ একাধিক আসনে জামায়াতের জয়

    গাইবান্ধা, জয়পুরহাটেও ভালো ফল

    খুলনা বিভাগ (বিশেষত সাতক্ষীরা)

    হিন্দু জনসংখ্যা: ১১–১২%

    সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের জয়

    পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও ২৪ পরগনার সংলগ্ন এলাকা বাংলাদেশের এই জায়গাগুলো।

    কেন উদ্বিগ্ন ভারত

    সীমান্ত নিরাপত্তা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬ কিমি। রংপুর-খুলনা অঞ্চলে জামায়াতের শক্ত অবস্থান সীমান্তে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ বা অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে দলটি ভারতের বিএসএফের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিল।

    ভারত বিরোধী মনোভাব: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নিয়েছিল জামায়াত। সেই অতীতের কারণে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সবসময়ই সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামীণ এলাকায় ভারতবিরোধী বক্তব্য তাদের নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সংখ্যালঘু নিরাপত্তা: যেসব এলাকায় হিন্দু জনসংখ্যা ১০%–এর বেশি, সেখানে জামায়াতের উত্থান সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়লে সামাজিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: তিস্তা জলবণ্টনসহ বিভিন্ন বাণিজ্য ও সীমান্ত ইস্যুতে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    জনমতের বার্তা

    জাতীয় পর্যায়ে বিএনপির জয় দেখায় যে অধিকাংশ ভোটার চরমপন্থাকে সমর্থন করেননি। শহরাঞ্চল ও মহিলা ভোটারদের বড় অংশ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ধর্মীয় ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি কার্যকর হয়েছে।
    ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেও, সীমান্তবর্তী এলাকায় জামায়াতের শক্ত অবস্থান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

  • India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পর পাকিস্তানে আবেগের বিস্ফোরণ। ভাঙল একের পর এক টিভি। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের দাপট ছিল। পাকিস্তানের খেলা দেখে কোনও সময়েই মনে হয়নি তারা এই ম্যাচে জয় পেতে পারে। ভারতীয় দল নিরঙ্কুশ দাপট দেখিয়ে জয় পেল। ভারতের এই জয়ের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানে টেলিভিশন সেট ভাঙা হয়েছে। পাকিস্তানে এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারলেই টিভি ভাঙা হয়। এবারও ঠিক সেটাই হল। আসলে পুরোটাই হতাশার ফল। ম্যাচের আগে বয়কট বিতর্ক, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে আবহ ছিল তপ্ত। কিন্তু মাঠে পার্থক্য স্পষ্ট। ভারত ছিল পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত, আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তান ছিল ছন্নছাড়া।

    পুরনো রীতি ফিরে এল!

    কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) একতরফা ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল এক ভিডিও—ক্ষুব্ধ এক পাক সমর্থক নিজের টিভি সেট ভেঙে ফেলছেন! গ্রুপ এ-র ম্যাচে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তুলেছিল। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৪ রানে। ফল—৬১ রানের ধাক্কা। টি-২০ আন্তর্জাতিক (T20I) ইতিহাসে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ম্যাচের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সমর্থকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি লিখেছেন, ‘‘ভারত আবার হারাল পাকিস্তানকে। রাগে টিভি ভেঙে ফেললাম।’’ আরেক পোস্টে যোগ করেন, ‘‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি, লজ্জিত, হতবাক—কিছু বলার নেই।’’ আত্মবিদ্রূপ মেশানো হতাশা যেন গোটা দেশের আবেগের প্রতিফলন। তেমনই একটি পোস্টে বিদ্রুপের সুরে লেখা হয়েছে — ‘ভারতের কাছে ম্যাচ হারার পর মধ্যরাত পর্যন্ত পাকিস্তানিরা সারা দেশে ৫৫০০টিরও বেশি টিভি ভেঙে ফেলেছে। এরই মধ্যে, পাকিস্তানি টিভি সেট নির্মাতারা তাদের শিল্পকে বাঁচানোর জন্য ভারতকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

    ভারতের কাছে হার নিত্য ঘটনা!

    মাঠে হতাশা, গ্যালারিতেও দীর্ঘশ্বাস পাক সমর্থকদের। কলম্বোর (Colombo) আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) যে পাকিস্তানিরা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁরাও ফের ভারতের কাছে হারে হতাশ। এক পাকিস্তানি বলেছেন, ‘‘ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার একটু আশা ছিল যে আমরা ম্যাচ জিতব এবং অন্তত একটু লড়াই করব। কিন্তু এখন ভারতের জয় রুটিন হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাছে বুমরার জবাব নেই। আমরা হার্দিকের মোকাবিলা করতে পারি না। এখন এই অবস্থা হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় দল ভালো খেলেছে।’’

    দোষারোপের পালা পাকিস্তান

    ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার মেনে নিতে পারছেন না শাহিদ আফ্রিদি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দু’ওভার বল করে ৩১ রান দিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। ঘটনাচক্রে শাহিন ও শাহিদের সম্পর্ক জামাই-শ্বশুরের। সেই জামাইকেই এ বার দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা বললেন শ্বশুর। জানিয়ে দিলেন, তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকলে শাহিনকে ছাঁটাই করতেন তিনি। আফ্রিদির মতে, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের হারের দায় নিতে হবে। বার বার একই ক্রিকেটারদের উপর ভরসা দেখানোর মানে নেই। সেটা নির্বাচকদের বুঝতে হবে। আফ্রিদি বলেন, “যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকত তা হলে শাহিন, বাবর ও শাদাবকে বাদ দিয়ে দিতাম। ওদের বদলে নতুনদের সুযোগ দিতাম। এরা তো বছরের পর বছর খেলছে। এখনও ভারতকে হারাতে পারল না। তা হলে কেন ওদেরই খেলিয়ে যাব। আমার মনে হয়, নামিবিয়া ম্যাচেই এই তিন জনকে বসিয়ে দেওয়া উচিত।”

    সিনিয়রদের সমালোচনা

    ভারতের বিরুদ্ধে ৬১ রানে হেরেছে পাকিস্তান। কলোম্বোয় ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সব দিকেই ফেল করেছে সলমান আলি আঘা ব্রিগেড। এমন লজ্জাজনক হারের পরই রেগে গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ফাস্টবোলার শোয়েব আখতারও। তিনি শুধু পাকিস্তান দল নিয়ে নয়, এর পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ডের কাজকর্ম নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের সিনিয়র প্লেয়ারদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন শোয়েব। তিনি বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো সিনিয়র প্লেয়ারকে আক্রমণ করেন।। তিনি মনে করেন, এই সব স্টারেরা কোনও বড় ম্যাচে পারফর্ম করেন না। এমনকী স্টার কালচার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এই কারণেই পাকিস্তান ক্রিকেট দল হারছে বলে মনে করছেন তিনি।

    অযোগ্য ব্যক্তি চেয়ারে আখতারের টার্গেট নকভি

    আখতার অভিযোগ করেন, কোনও অযোগ্য মানুষকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে শুধু টিমের নয়, গোটা দলের ক্ষতি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে প্লেয়ারদের যোগ্যতা দেখে নয়, অন্য অনেক বিষয় দেখে নির্বাচন করা হয়। আর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সোজাসুজি মহসিন নকভির দিকেই ইঙ্গিত করলেন। মাথায় রাখতে হবে নকভি হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর কথায় এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে চায়নি ভারত। আখতার বলেন, ‘‘গত ১৫-২০ বছরে কোনও বিনিয়োগই হয়নি। এক সময় মাঠে আমরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করতাম, আর আজ তাদের হারানোর স্বপ্নও দেখতে পারি না।’’ শোয়েব আখতারের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে বর্তমান শোচনীয় অবস্থা কয়েক বছর ধরে চলা খারাপ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তের ফল। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘একজন মানুষ যিনি কিছুই জানেন না, তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে গিয়েছেন। দল কী ভাবে চলবে?’’ শোয়েব আরও বলেন, ‘‘পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় সমস্যা হলো বোর্ডের দায়িত্ব অযোগ্য মানুষের হাতে থাকা।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো অযোগ্য মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া। এর ফলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো দল ও প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’

  • India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এটাই যেন ট্যাডিশন হয়ে গিয়েছে। বাইশ গজ হোক বা যুদ্ধক্ষেত্র, সব জায়গাতেই ফলাফল এক। রবিবার কলম্বোয় ভারতের দাপুটে জয়ের পরই সমাজ মাধ্যমে পাকিস্তানকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখলেন, ‘‘খেলার ফর্ম্যাট, জায়গা বা তারিখ বদলায়, কিন্তু ভারত বনাম পাকিস্তানের ফলাফল সবসময় একই থেকে যায়। পুরো দলকে অভিনন্দন।’’

    শাহী কটাক্ষ

    ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়—ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষে প্রত্যেকবারই বলতে হয় এই ক্লিশে কথা। মাঠে গড়ানোর আগেই ম্যাচের যা ফল অনুমান করা হয়, দিন শেষে সেটাই দেখা যায়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেন তা-ই বোঝাতে চাইলেন। গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষে প্রতিবেশীদের খোঁচা দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতকে সবশেষ পাকিস্তান হারিয়েছে দুবাইয়ে ২০২২ এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে। গত সাড়ে তিন বছরে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১০ বার। যার মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে ভারত। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে এক ম্যাচ। কলম্বোর প্রেমাদাসায় গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানে জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্ট পাকিস্তানকে কটাক্ষ অমিত শাহের। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘ভারত দারুণ খেলেছে। সংস্করণ, ভেন্যু, তারিখ বদলাতে পারে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফল একই।’’ আসলে শাহ যে সবদিক থেকেই পাকিস্তানকে খোঁচা দিলেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    মাঠ ছাড়লেন নকভি

    রবিবার খেলা শুরুর আগে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দিয়েছিলেন উৎসাহ। কিন্তু মাঠে সে সব বোঝা গেল না। ভারতের কাছে ৬১ রানে হারল পাকিস্তান। দলের লজ্জার হার মাঠে বসে দেখতে পারেননি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পাকিস্তানের ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেই স্টেডিয়ামের ভিতর নকভিকে দেখা যায়নি। কিছু ক্ষণ পরে দেখা যায়, স্টেডিয়াম থেকে তাঁর গাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছে। সেখানে নকভির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। এই দৃশ্য থেকে পরিষ্কার, নকভি খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির কর্তারা গিয়েছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মিঠুন মিনহাস, সচিব দেবজিৎ শইকীয়া যেমন ছিলেন, তেমনই আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহও উপস্থিত ছিলেন। এ দিন জয়ের সঙ্গে নকভির একটি বৈঠক হওয়ারও কথা ছিল। বাকি সকল কর্তা খেলার শেষ পর্যন্ত থাকলেও নকভি আগেই বেরিয়ে যান।

    গুগল ইন্ডিয়ার ‘গুগলি’

    বাংলাদেশকে সমর্থন করে প্রথমে ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি। এর পর মাঠে নামার আগে তর্জন-গর্জন। কিছুই বাকি রাখেনি পাকিস্তান (Pakistan)। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার কলম্বোতে ভারতীয় (India) ব্রিগেডের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছেন সলমন আলি আঘা’রা। ম্যাচ হারার পরেই পাকিস্তান দলকে নিয়ে ট্রোল শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। সেই তালিকায় নাম লেখাল গুগল (Google)-ও। ছয় শব্দের পোস্টে পাকিস্তানকে কটাক্ষ করল গুগল ইন্ডিয়া (Google India)। রবিবার, ঈশান কিষাণের ৭৭ রানের উপর ভর করে স্কোর বোর্ডে ১৭৫ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে মাত্র ১১৪ রানে অল আউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ৬১ রানে বড় জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। তার পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয় গুগল ইন্ডিয়ার তরফে। লেখা হয়, “এই ম্যাচটি আসলে একটি ইমেল হতে পারত।” রবিবার সূর্যকুমারদের কাছে যেভাবে আত্মসমর্পন করেছেন শাহিন আফ্রিদিরা, সেই কথাই তুলে ধরল গুগল (Google)। অর্থাৎ গুগল ইন্ডিয়া একপ্রকার বোঝাতে চেয়েছে, ম্যাচের ফলাফল যেখানে অনুমেয় ছিল, সেখানে একটা ইমেল করে দিলেই হতো, এত সময় ধরে ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল না। আর এ নিয়ে জোর চর্চা চলছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।

  • AI Impact Summit India: ‘সকলের সুখের জন্য’, নয়াদিল্লিতে এআই সম্মেলন শুরু, উপস্থিত ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা

    AI Impact Summit India: ‘সকলের সুখের জন্য’, নয়াদিল্লিতে এআই সম্মেলন শুরু, উপস্থিত ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সকলের ভালোর জন্য, সকলের সুখের জন্য এআই। এমনই মনে করে আধুনিক ভারত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Impact Summit India)-র প্রভাব নিয়ে পাঁচ দিনের সম্মেলন শুরুতে এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে সকাল সাড়ে ৯টায় এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলন শুরু হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তিনি ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’-এর বার্তা দিয়েছেন। এই সম্মেলনে যোগ দেবেন গুগ্‌লের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান-সহ কমবেশি ৪০টি সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। যোগ দেবেন ২০টি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আগামী বৃহস্পতিবার এই সম্মেলনে বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলন চলাকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান এবং উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। এই সম্মেলন চলবে ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি।

    সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়

    সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “এআই নিয়ে আলোচনায় গোটা বিশ্ব সমবেত হয়েছে। আজ থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ভারত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর আয়োজন করছে। আমি রাষ্ট্রপ্রধান, শিল্পকর্তা, উদ্যোগপতি, নীতিনির্ধারক, গবেষকদের এই সম্মেলনে স্বাগত জানাচ্ছি।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এই সম্মেলনের বিষয়বস্তু হল সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়। অর্থাৎ, সকলের ভাল। সকলের সুখ। এটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষকেন্দ্রিক উন্নতিতে ব্যবহার করার বিষয়ে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরে।” এই সম্মেলনের পোশাকি নাম ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। এই সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসেরও এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই কৃষক এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা মানুষ।

    পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয়

    এটি গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক এআই শীর্ষ সম্মেলন। পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলন নীতি নির্ধারণ, গবেষণা, শিল্পক্ষেত্র এবং জনসম্পৃক্ততা— এই চারটি প্রধান স্তম্ভকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্রনেতা, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি সংস্থা, উদ্ভাবক ও বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেবেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে— গভর্ন্যান্স, ইনোভেশন এবং সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্টে এআইয়ের ভূমিকা। সম্মেলনের ভিত্তি রাখা হয়েছে তিনটি ‘সূত্র’-এর উপর—পিপল, প্ল্যানেট এবং প্রোগ্রেস। এই তিন নীতিই এআই নিয়ে ভারতের সহযোগিতা ও দৃষ্টিভঙ্গির রূপরেখা নির্ধারণ করে।

    কারা কারা যোগ দেবেন সামিটে

    ৭০ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপো’-তে ৩০টি দেশের ৩০০-র বেশি প্রদর্শক অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ১০টি থিম্যাটিক প্যাভিলিয়নে গবেষণা ও পাইলট প্রকল্প থেকে বড় পরিসরে বাস্তব প্রয়োগে এআইয়ের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। এই সম্মেলন ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। উন্নয়নমুখী এআই ব্যবহারে ভারতের যে জোর, তা এই মঞ্চে আরও স্পষ্ট হবে। লক্ষ্য হল, বৈশ্বিক আলোচনাকে বাস্তব ও মানুষকেন্দ্রিক ফলাফলে রূপ দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে একাধিক দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

    • ১. ভুটান – শেরিং তোবগে, প্রধানমন্ত্রী
    • ২. বলিভিয়া – এডমন্ড লারা মনতানো, ভাইস প্রেসিডেন্ট
    • ৩. ব্রাজিল – লুইজ় ইনাসিও লুলা দা সিলভা, প্রেসিডেন্ট
    • ৪. ক্রোয়েশিয়া – আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, প্রধানমন্ত্রী
    • ৫. এস্তোনিয়া – আলার কারিস, প্রেসিডেন্ট
    • ৬. ফিনল্যান্ড – পেট্টেরি অরপো, প্রধানমন্ত্রী
    • ৭. ফ্রান্স – ইমানুয়েল মাক্রঁ, প্রেসিডেন্ট
    • ৮. গ্রিস – কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস, প্রধানমন্ত্রী
    • ৯. গায়ানা – ড. ভররাত জগদেও, ভাইস প্রেসিডেন্ট
    • ১০. কাজাখস্তান – ওলঝাস বেকতেনভ, প্রধানমন্ত্রী
    • ১১. লিচেনস্টাইন – হেরেডিটারি প্রিন্স অ্যালোয়িস, হেরেডিটারি প্রিন্স অব দ্য প্রিন্সিপ্যালিটি অব লিশটেনস্টাইন
    • ১২. মরিশাস – ড. নাভিনচন্দ্র রামগুলাম, প্রধানমন্ত্রী
    • ১৩. সার্বিয়া – আলেকজ়ান্দার ভুচিচ, প্রেসিডেন্ট
    • ১৪. স্লোভাকিয়া – পিটার পেলেগ্রিনি, প্রেসিডেন্ট
    • ১৫. স্পেন – পেদ্রো সানচেজ় পেরেজ়-কাস্তেহন, প্রেসিডেন্ট
    • ১৬. শ্রীলঙ্কা – অনুরা কুমারা দিসানায়াকা, প্রেসিডেন্ট
    • ১৭. সেশেলস – সেবাস্তিয়ান পিল্লে, ভাইস প্রেসিডেন্ট
    • ১৮. সুইৎজ়ারল্যান্ড – গি পারমেলিন, প্রেসিডেন্ট
    • ১৯. নেদারল্যান্ডস – ডিক স্কুফ, প্রধানমন্ত্রী
    • ২০. সংযুক্ত আরব আমিরশাহি – শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, ক্রাউন প্রিন্স অব আবুধাবি

    এ ছাড়া ৪৫টিরও বেশি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেবে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও আলোচনায় যোগ দেবেন।

    আর কারা উপস্থিত থাকবেন?

    মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহ রাষ্ট্রসংঘের শীর্ষস্থানীয় একাধিক কর্মকর্তা নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    মহাসচিবের সঙ্গে থাকবেন—

    • ভলকার টুর্ক — জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার
    • অমনদীপ সিং গিল — আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ও ডিজিটাল ও উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ দূত
    • ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা — আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর
    • গিলবার্ট এফ. হাউংবো — আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-র ডিরেক্টর-জেনারেল
    • ডরিন বগদান-মার্টিন — আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংঘ (ITU)-র সেক্রেটারি-জেনারেল
    • কমল কিশোর— দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি

    এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ, এফএও, ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন,ইউএন ইন্টাররিজিওনাল ক্রাইম অ্যান্ড জাস্টিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    প্রযুক্তি জগতের শীর্ষকর্তারাও অংশ নিচ্ছেন

    সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রযুক্তি জগতের শীর্ষকর্তাদের তালিকা এরকম—

    • জেনসেন হুয়াং — প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, এনভিডিয়া
    • জুলি সুইট — চেয়ার ও সিইও, অ্যাকসেঞ্চার
    • স্যাম অল্টম্যান — সিইও, ওপেনএআই
    • সুন্দর পিচাই — সিইও, গুগল ও আলফাবেট
    • শান্তনু নারায়েন — চেয়ার ও সিইও, অ্যাডোবে
    • শ্রীধর ভেম্বু — সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ সায়েন্টিস্ট, জোহো
    • ইয়ান লেকুন — প্রধান এআই বিজ্ঞানী, মেটা
    • বিল গেটস — চেয়ার, গেটস ফাউন্ডেশন ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা, মাইক্রোসফট
    • ব্র্যাড স্মিথ — প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চেয়ার, মাইক্রোসফট
    • ক্রিস্টিয়ানো আমন — প্রেসিডেন্ট ও সিইও, কোয়ালকম
    • দারিও আমোদেই — সিইও, অ্যানথ্রোপিক
    • ডেমিস হাসাবিস — সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, গুগল ডিপমাইন্ড
    • আর্থি সুব্রহ্মণ্যম — সিওও ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, টিসিএস
    • আলেকজান্ডার ওয়াং — চিফ এআই অফিসার, মেটা
    • অপর্ণা বাওয়া — সিওও, জুম
  • India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ফের একবার প্রমাণ করল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে এখন আর লড়াই হয় না। ম্যাচ হয় এক তরফাই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে ম্যাচটা নিয়ে সবচেয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ম্যাচে একেবারে এক তরফা খেলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল ভারত। কলম্বোর ম্যাচে ৬১ রানে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সুপার এইটে উঠে গেল মেন ই ব্লু। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে সব ম্যাচেই জয় পেল ভারত। এই জয়কে দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন ভারত অধিনায়ক। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর সূর্য স্মরণ করলেন মহাদেবকে।

    ‘হর হর মহাদেব’ পোস্ট

    কলম্বোতে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানের বিশাল জয়ের পর, ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তার নিজস্ব ভঙ্গিতে জয় উদযাপন করেছেন। ম্যাচ জয়ের পর এক্স (পূর্বে টুইটার) -এ গিয়ে, অধিনায়ক ম্যাচের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন এবং তিন শব্দের সংক্ষিপ্ত ক্যাপশন দিয়েছেন, “হর হর মহাদেব।” পোস্টটির সময় বিশেষভাবে অনুরণিত হয়েছে, কারণ এটি হিন্দু উৎসব মহা শিবরাত্রির সঙ্গে মিলে যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ভক্তদের মধ্যে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এই জয়ের মাধ্যমে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসেবে টানা চতুর্থ টি-টোয়েন্টি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সূর্য। দলের বাকি সদস্যদের মধ্যেও এই উদযাপন ছড়িয়ে পড়ে, তারকা স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ইনস্টাগ্রামে নিজের শ্রদ্ধাঞ্জলি শেয়ার করেন। বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী চক্রবর্তী মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে ঐতিহাসিক জয়টি ভারতের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তার পোস্টটি অধিনায়কের অনুভূতির প্রতিধ্বনি।

    এই জয় ভারতের জন্য

    ম্যাচ বয়কট নিয়ে আইসিসি-র সঙ্গে লম্বা টানাপোড়েনের পর ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান। আশা করা হয়েছিল, বাইশ গজে ভারতকে অন্তত খানকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে পাক দল। কিন্তু বাস্তবে হল তার উল্টো। উসমানের স্পিন হোক বা শাহিনের পেস- ভারতীয় ব্যাটারদের আঘাতে সবই ভোঁতা হল শেষমেশ। আর ম্যাচ (India Vs Pakistan) কীভাবে জিততে হয়, তা বুমরা, হার্দিক, বরুণদের থেকে ভালো আর কেই বা জানে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান ৭-১ থেকে ৮-১ করে অধিনায়ক সূর্যকুমার (Suryakumar Yadav) বললেন, “এই জয় ভারতের জন্য।” পাকিস্তানকে আরও একবার হারিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই খেলেছি। এই পিচে প্রথমে ব্যাটিং করাই সুবিধার ছিল। ক্রিজে দাঁড়িয়ে ঈশান যেভাবে স্কোরবোর্ডের দায়িত্ব নিয়েছে, সেটা অসাধারণ। ঈশান ব্যতিক্রমী ইনিংস খেলে গেল। ওর মাথায় হয়তো অন্য কোনও ভাবনা ছিল।” তবে শুধু ব্যাটার নয়, বোলারদের দলগত পারফরম্যান্সেও খুশি সূর্য। এদিকে পাকবধের এই সন্ধ্যার ‘নায়ক’ যে ঈশান কিষান (Ishan Kishan), তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাঁর ৪০ বলে ঝোড়ো ৭৭ রানের ইনিংস থেকেই ভারতীয় দলের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই হেইভোল্টেজ এই ম্যাচে মেগা-পারফরম্যান্স করে আরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে ভারতীয় দলের এই বাঁ হাতি ওপেনারের। ম্যাচ শেষে একথা তিনি নিজেও জানিয়েছেন। ঈশান বলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”

    করমর্দন হল না

    কলম্বোয় করমর্দন করলেন না ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাক অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলালেন না সূর্য। রবিবার টসের সময় বিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গেলেন তিনি। গত বছর এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচে যে জিনিস দেখা গিয়েছিল, সেটাই দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। গত বছর পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষিতে এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং পাকিস্তান। তিন বারের সাক্ষাতে এক বারও দুই অধিনায়ক হাত মেলাননি। একই জিনিস দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। বোঝাই গিয়েছে, ভারতের অবস্থানে কোনও বদল হয়নি।

    পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি

    ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে সুনীল গাওস্কর পরিষ্কার বলে দেন, ‘‘এই ম্যাচে পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি। প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মার উইকেট পাওয়া ছাড়া আর কখনওই ওরা ম্যাচে ছিল না।’’ যোগ করেন, ‘‘পরের দিকে একটা-দু’টো বল ওরা ভাল করেছিল, উইকেট পেয়েছিল। কিন্তু কখনও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিতে পারেনি।’’ টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ভারত ২০ ওভারে তোলে ১৭৫-৭। অভিষেক শর্মা খাতা খোলার আগে ফিরলেও অন‌্য ওপেনার ঈশান কিষান দশটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায‌্যে করেন ৪০ বলে ৭৭ রান। শেষ দিকে সূর্যকুমার যাদব (৩২) ও শিবম দুবে (২৭) ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। জবাবে প্রথম থেকেই নিয়মিত ব‌্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ৭৮-৬ স্কোর হয়ে যাওয়ার পরে ম‌্যাচের ভাগ‌্য কার্যত নির্ধারণ হয়ে যায়। দু’টি করে উইকেট পান হার্দিক, বুমরা, অক্ষর ও বরুণ।

    জয়ের রেকর্ড ভারতের

    রবিবার কলম্বোতে টি২০ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্স করে দুরন্ত জয়ে পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতল ভারত। এই জয়ে ভারত গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে সুপার এইটে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের মোট জয় দাঁড়াল আটটি, যা এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বাধিক জয়ের বিশ্বরেকর্ড। আগে কোনও দলই এই প্রতিযোগিতায় একটি নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে ছয়টির বেশি ম্যাচ জিততে পারেনি। সামগ্রিক টি২০ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে ভারত ১৭ ম্যাচের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

LinkedIn
Share