Author: ishika-banerjee

  • India vs South Africa: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইডেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যে প্রোটিয়াদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ভারত

    India vs South Africa: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইডেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যে প্রোটিয়াদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেট জ্বরে কাঁপছে কলকাতা। ইডেনে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট। তবে, দিল্লি বিস্ফোরণের পর দেশে জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা তাই নিরাপত্তায় কোনওরকম ফাঁক রাখতে চায় না কলকাতা পুলিশ। গোটা ইডেনকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হচ্ছে। খেলা চলাকালীন দর্শকদের ভিড়ের মধ্যেই থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ, আর বাইরে–ভিতরে ফেন্সিং জুড়ে মোতায়েন থাকবে বিশাল বাহিনী। ক্লাবহাউস ও ভিভিআইপি জোনেও থাকবেন সিনিয়র অফিসাররা। এছাড়াও স্টেডিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, কুইক রেসপন্স টিম (QRT) সহ একাধিক বিশেষ ইউনিট মোতায়েন থাকবে।

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য

    ছ’বছর পর আবার ইডেন গার্ডেনে ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট। বহুপ্রতীক্ষিত ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্ৰিকা (India vs South Africa) ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে উন্মাদনা। কিন্তু ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল জানিয়ে দিলেন, এই ম্যাচ শুধু আবেগ নয়। বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের পথে এক বড় পরীক্ষা। আর তাই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিনি যেমন সমীহ করছেন, তেমনই চ্যালেঞ্জ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও জানালেন। গিল বলেন, “বুধবার পিচ যেমন দেখেছিলাম, আজ এসে দেখছি একটু আলাদা। কাল সকালে আবার দেখলেই নিশ্চিতভাবে বোঝা যাবে। আপাতত দেখে মনে হচ্ছে পিচ শুকনো, যেখানে রিভার্স সুইং ভূমিকা নিতে পারে।”

    ইডেনের পিচ নিয়ে চিন্তা

    ইডেনের কিউরেটরের কাছে ভারতীয় দল নাকি আবদার করেছে প্রথম দিন থেকেই বল টার্ন করানোর। তবে গিল এও মনে করিয়ে দেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার হাতেও মহারাজ, মুত্থুস্বামী, হারমারের মতো স্পিনার আছে। তাই লড়াই যে সমানে সমান হবে, সেটা বলাই যায়।” রঞ্জিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও মহম্মদ শামির বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই গিল স্পষ্টভাবে বলেন, “শামি ভাইয়ের মতো বোলারকে বাদ দেওয়া সত্যিই কঠিন। কিন্তু সিরাজ, বুমরাহ, আকাশ প্রত্যেকেই দারুণ ফর্মে আছে। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের। আমাদের পেসাররা জানে, ভারতের পিচে কীভাবে সফল হতে হয়।” সিরিজের গুরুত্বের প্রসঙ্গে গিল বলেন, “বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে গেলে এই সিরিজে ভালো খেলতেই হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা খুবই শক্তিশালী দল। কঠিন মুহূর্ত আসবে, কিন্তু আমরা জানি কীভাবে সেটা সামলাতে হয়। চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আমরা।”

    নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইডেন

    দিল্লি বিস্ফোরণের পর শুধু মাঠের ভিতরে নয়, ইডেনের চারপাশেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে তৈরি হচ্ছে বাঙ্কার, যেখানে থাকবেন কমব্যাট ফোর্সের সদস্যরা। স্টেডিয়াম ঘিরে বেশ কয়েকটি রাস্তায় শুক্রবার থেকে যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আনা হবে। এছাড়াও স্টেডিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, কুইক রেসপন্স টিম (QRT) সহ একাধিক বিশেষ ইউনিট মোতায়েন থাকবে। ম্যাচের ৫ দিন ইডেন গার্ডেন সহ ময়দান এলাকায় সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সমস্ত রকম পণ্যবাহী যানচলাচল (Kolkata) বন্ধ রাখা হবে।

    দুরন্ত ফর্মে ভারত

    শুভমান গিলের (Shubman Gill) নেতৃত্বে ভারতীয় নতুন টেস্ট দল বর্তমানে দুরন্ত ফর্মে রয়েছে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের (India vs England Test Series) বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করেছিল ব্লু ব্রিগেডরা। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের (India vs West Indies Test Series) বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে জয় ছিনিয়ে নিয়ে প্রভাব ফেলেছে তারা। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa Test Series) বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেটে মাঠে নামতে চলেছে ঋষভ পন্থরা (Rishabh Pant)। এই বছর প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) ফাইনালে পৌঁছেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তারা ফাইনালে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার (AUS vs SA) বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে শক্তিশালী অজি বাহীনিদের ৫ উইকেটে হারিয়ে আইসিসি (ICC) ট্রফি জয় করে প্রোটিয়ারা। ফলে ভারতের বিপক্ষে তাদের আসন্ন টেস্ট সিরিজ জমজমাট হয়ে উঠতে চলেছে।

     

  • Pakistan Espionage in Russia: এস-৪০০-এর প্রযুক্তি চুরির চেষ্টা! রাশিয়ায় ধরা পড়ল আইএসআই গুপ্তচর চক্র

    Pakistan Espionage in Russia: এস-৪০০-এর প্রযুক্তি চুরির চেষ্টা! রাশিয়ায় ধরা পড়ল আইএসআই গুপ্তচর চক্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর একটি গুপ্তচর চক্র ভেঙে দিল রাশিয়া। এই নেটওয়ার্কটি রাশিয়া থেকে উন্নতমানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও সামরিক হেলিকপ্টার প্রযুক্তি পাচারের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ। রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পাকিস্তানের এই ষড়যন্ত্র আঁচ করেই প্রত্যাঘাত করে। রাশিয়ায় আইএসআই-এর এ ধরনের অভিযান এটাই প্রথম। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ফের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই ইসলামাবাদের এক গুপ্তচরকে গ্রেফতার করল রাশিয়া। মস্কোর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি চুরি করতে তাঁকে রাওয়ালপিন্ডির ফৌজি জেনারেলরা কাজে লাগান বলে প্রাথমিক তদন্তে খবর। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিতে সক্ষম হয় ক্রেমলিন।

    সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ নাগরিক গ্রেফতার

    পশ্চিমি গণমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাক গুপ্তচরবাহিনী ‘ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স’ বা আইএসআইয়ের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে মস্কোর পুলিশ। অভিযুক্ত রুশ নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পূর্ব ইউরোপের দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিজের শহর হল সেন্ট পিটার্সবার্গ। সেখানে বসে ক্রেমলিনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ইসলামাবাদে পাচারের চেষ্টার চক্রান্তের খবর প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। একটি কাউন্টার-এস্পিওনাজ (গুপ্তচরবিরোধী) অভিযানে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর থেকে ওই রুশ নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে বেশ কিছু সংবেদনশীল নথি মেলে। অনুমান, তিনি ওই নথি পাচারের চেষ্টা করছিলেন। নথিগুলিতে রাশিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও ছিল বলে জানা গিয়েছে। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন আইএসআই-এর ওই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও তথ্য পাচারের রুট খতিয়ে দেখছে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সঙ্গে সম্পর্ক

    এই গুপ্তচর নেটওয়ার্কটি ‘অপারেশন সিঁদুরের’ কয়েক মাস পরেই তৈরি হয়। সূত্রের দাবি, ওই অভিযানে ব্যবহৃত উন্নত রুশ প্রযুক্তি, বিশেষ করে এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। ভারত নাকি রাশিয়া থেকে আরও পাঁচটি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে। তার আগে ওই সিস্টেমের খুঁটিনাটি জানতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। তাই এই চক্রান্ত বলে অনুমান। এর প্রভাব রুশ-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

    পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

    এ ঘটনার মধ্যেই রাশিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে রুশ দূতাবাস পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ‘ফ্রন্টিয়ার পোস্ট’-এর একটি নিবন্ধের তীব্র সমালোচনা করে, যেখানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে মস্কো। চলতি বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে রুশ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। তিনি মস্কো পৌঁছোনোর কয়েক দিন আগে আইএসআইয়ের চর গ্রেফতার হওয়ায় ইসলামাবাদের অস্বস্তি আরও বাড়ল। রাশিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, পাকিস্তানের কিছু প্রতিনিধি গোপন সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা নকশা সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। এই প্রযুক্তি রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা দেয়—এ কারণে রাশিয়া এই ধরনের তথ্য কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে রক্ষা করে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি চুরির বিষয়টি প্রেসিডেন্ট পুতিনের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন, বলছেন বিশ্লেষকেরা।

    পাকিস্তানের পদক্ষেপ, ক্ষুব্ধ রাশিয়া

    পাকিস্তান এখনও এই অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইসলামাবাদের তরফে সাধারণত এমন অভিযোগ অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা যায়, এবং অনেক সময় “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত” বলে দাবি করা হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি প্রকাশ্যে না বলেও অভ্যন্তরীণভাবে এমন অভিযোগ তোলে, তাহলে তা দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন রাশিয়া চায় নিজের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক অবস্থানকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করতে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া যেভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা উন্নয়নে ব্যস্ত, সেই সময় পাকিস্তানের এমন পদক্ষেপকে অত্যন্ত “স্পর্শকাতর” বলে মনে করছে রুশ প্রশাসন।

    কেন রুশ প্রযুক্তি জানতে আগ্রহী ইসলামাবাদ

    সূত্রের খবর, অভিযুক্তের থেকে সামরিক হেলিকপ্টার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) প্রযুক্তি সংক্রান্ত একগুচ্ছ নথি উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। এগুলি রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদর দফতরে পাঠানোর কথা ছিল বলে জেরায় স্বীকার করেছেন ওই ব্যক্তি। তদন্তকারীদের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, ‘এমআই-৮’ শ্রেণির দু’টি সামরিক পরিবহণ হেলিকপ্টার এবং ‘এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) প্রযুক্তি চুরির চেষ্টা করে অভিযুক্ত ব্যক্তি। মস্কোর ওই সামরিক কপ্টার ব্যবহার করে না এ দেশের ফৌজ। তবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে ‘এস-৪০০’। গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে চলা চার দিনের সংঘাতে ‘পুরু বর্মে’ ভারতের আকাশকে ঢেকে দিয়েছিল ‘এস-৪০০’। শুধু তা-ই নয়, ইসলামাবাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক লড়াকু জেটকে মাঝ-আকাশে ধ্বংস করে এই হাতিয়ার। এ দেশের গোয়েন্দাদের অনুমান, তার পরই সংশ্লিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটির প্রযুক্তি বুঝে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে আইএসআই। সেন্ট পিটার্সবার্গে ধৃত ব্যক্তি এ ব্যাপারে তাঁদের কতটা সাহায্য করেছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

     

     

     

     

  • Delhi Blast: দিল্লি বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড শোপিয়ানের মৌলবি! পড়ুয়াদের সন্ত্রাসের পাঠ দিতেন ইরফান

    Delhi Blast: দিল্লি বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড শোপিয়ানের মৌলবি! পড়ুয়াদের সন্ত্রাসের পাঠ দিতেন ইরফান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফরিদাবাদ মডিউলের নেপথ্যে কাজ করছে কার মাথা? কার কথাতে প্ররোচিত হয়ে ডাক্তার, ডাক্তারি পড়ুয়া বা মেধাবী ছাত্ররা যুক্ত হত সন্ত্রাসের সঙ্গে? তার খোঁজেই ছিল তদন্তকারী সংস্থাগুলো। এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়েই তদন্তকারীদের নজরে আসে জম্মু-কাশ্মীরেরই এক বাসিন্দা। নাম ইরফান আহমেদ। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ইরফানই ডাক্তারি পড়ুয়াদের মগজধোলাই করত। পুলিশ সূত্রে খবর, হরিয়ানার ফরিদাবাদ মডিউল সংক্রান্ত ঘটনা ও দিল্লি বিস্ফোরণে ৯ জনের মৃত্যুর পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ যে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ইমাম ইরফান আহমেদ।

    মূল পরিকল্পনাকারী কে?

    দিল্লি বিস্ফোরণ ও ফরিদাবাদের বিস্ফোরক এবং অস্ত্র উদ্ধারের সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বেশ কয়েকটি সূত্র ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সোমবার রাত থেকে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁদের মধ্যেই রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা ইরফান। পূর্ব শ্রীনগরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন প্যারামেডিক্যাল কর্মী ছিল সে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেই কারণে মেডিক্যাল পড়ুয়া এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই যোগাযোগ এবং সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই মগজধোলাইয়ের কাজ করত ইরফান! নানা ধরনের সন্ত্রাসমূলক কাজে প্ররোচিত করার চেষ্টা করত মেধাবী যুবকদের।

    কীভাবে চলত মগজধোলাই

    তদন্তকারীদের এক সূত্রের দাবি, নওগামের এক মসজিদে যে সব পড়ুয়ারা যেতেন, তাঁদের সঙ্গে প্রথমে আলাপচারিতার মাধ্যমে বন্ধুত্ব করত ইরফান। তার পর ধীরে ধীরে ওই সব পড়ুয়াদের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নানা রকম পাঠ পড়াত। নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের বিভিন্ন ভিডিয়ো পড়ুয়াদের দেখাত। আর এ ভাবেই মগজধোলাই চলত বলে দাবি তদন্তকারীদের। সে তরুণ মেডিকেল ছাত্রদের ধীরে ধীরে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করত। মগজ ধোলাই করে তাদের চরমপন্থী কাজে টেনে আনত। পুলিশ সূত্রে খবর, এই মৌলবী পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এগোচ্ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, ভিডিও কলের মাধ্যমে আফগানিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও যোগাযোগ করত সে। তার মূল উদ্দেশ্যে ছিল তরুণদের মৌলবাদে দীক্ষিত করা।

    পছন্দের ছাত্র কাশ্মীরের দুই চিকিৎসক

    তদন্তকারীরা মনে করছেন, ফরিদাবাদ মডিউলের অন্যতম দুই চক্রী— মুজাম্মিল শাকিল ও আদিল আহমেদ রাঠারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইরফানের। শুধু তা-ই নয়, দিল্লি বিস্ফোরণের মূল সন্দেহভাজন উমর নবির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ থাকার অনুমান করা হচ্ছে। এ-ও মনে করা হচ্ছে, ফরিদাবাদে বিস্ফোরক নিয়ে আসার নেপথ্যে থাকতে পারেন ইরফান। তবে এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেনি কোনও তদন্তকারী সংস্থাই। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, মেন্টর আহমেদের পছন্দের ছাত্র ছিল কাশ্মীরের দুই চিকিৎসক, ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং ডাঃ মহম্মদ উমর। তাদের একেবারে মগজ ধোলাই করে ফেলেছিল ইরফান। উভয় ডাক্তারই মৌলবীর দেখানো লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। তবে আসল মস্তিষ্ক ছিল ইরফানই। সূত্রের খবর, রবিবার তাঁর সহযোগী দুই চিকিৎসক – মুজাম্মিল শাকিল ও আদিল আহমেদ রাঠারকে গ্রেফতারের খবর জানার পরই ভয় পেয়ে উমর বিস্ফোরণ ঘটায়। তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল ইরফানের।

  • Suvendu Adhikari: ১৩ লক্ষ ডবল এন্ট্রি! এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ‘প্রমাণ’ নিয়ে কমিশনে শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ১৩ লক্ষ ডবল এন্ট্রি! এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ‘প্রমাণ’ নিয়ে কমিশনে শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের (West Bengal) পাঁচটি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় বড়সড় গরমিল রয়েছে অভিযোগ বিজেপির। বুধবার নির্বাচন কমিশনের হাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত নথি তুলে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক নেতৃত্ব। বুধবার ফের একবার রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের দফতরে হাজির হয় বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই পাঁচটি লোকসভা কেন্দ্রের প্রায় ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের তথ্য নিয়ে গরমিল রয়েছে। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, একই নাম একাধিক ভোটার তালিকায় রয়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রমাণ ও কাগজপত্র বুধবার কমিশনের হাতে তুলে দেন বিজেপি নেতারা।

    ভুয়ো ভোটারের সাহায্যেই জয়ী তৃণমূল 

    বুধবার ভুয়ো ভোটারের নথি কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যান শুভেন্দু। তাঁকে এভাবে নথি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রবেশ করতে দেখে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়৷ সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিরোধী দলনেতা জানান, তাঁরা সারা রাজ্যের ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভুয়ো ভোটারের তালিকা জমা দিলেন৷ একটি পেন ড্রাইভে সব তথ্য আছে৷ এর মধ্যে পুরুলিয়া, বীরভূম, তমলুক, কাঁথি ও কোচবিহারের ভুয়ো ভোটার সংক্রান্ত নথির হার্ডকপি জমা দিচ্ছেন৷ শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই ভুয়ো ভোটারের সাহায্যেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয় প্রতিবার৷

    তদন্তের আবেদন শুভেন্দুর

    সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতার পায়ে কাঁটা ফুটেছে, তাই চিৎকার করছে। নির্বাচন কমিশন এখন গর্তে কার্বলিক অ্যাসিড ঢেলে দিয়েছে, তাই তৃণমূলের সাপরা রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে। ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের তথ্য আমরা কমিশনকে দিচ্ছি — সবই ডাবল এন্ট্রি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের একাধিক জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া চলাকালীন অনিয়ম হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শাসক দলের প্রভাব খাটিয়ে ভুল তথ্য ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। বিজেপির দাবি, এই গরমিল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর সরাসরি আঘাত। তাই কমিশনের কাছে তারা সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।

    ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা জরুরি

    দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “গণতন্ত্রে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা করা জরুরি। মৃত বা ভুয়ো ভোটারদের নাম থাকা মানেই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।” রাজ্যে এসআইআরের (SIR) কাজ পুরোদমে চলছে। বাড়ি বাড়ি বিএলও অভিযানে (BLO) এখনও পর্যন্ত ৭ কোটির বেশি এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) বিলি হয়ে গিয়েছে। বিজেপি প্রথম থেকেই দাবি করেছে, বহু ভুয়ো ভোটার তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক। তাই এসআইআরের বিরোধী তাঁরা। এই অভিযোগ কতটা সত্যি তার ‘প্রমাণ’ দিতেই বুধবার তথ্য জমা দিতে সিইও অফিসে এসেছিলেন শুভেন্দু। বিপুল নথি জমা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ভোটার তালিকায় ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ডবল এন্ট্রি (Double Entry) রয়েছে। সেই তথ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেবই দেওয়া হয়েছে কমিশনে।

    বিএলও নিয়ে অসন্তোষ

    অন্যদিকে, বিএলও নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI) কার্যপদ্ধতি ও রিপোর্টে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বিজেপি (BJP)। অভিযোগ, ৫ হাজার ৭০০ বিএলও-র রাজনৈতিক পরিচয়সহ অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট দেয়নি। বিজেপির তরফে এও দাবি করা হয়েছে, কমিশন জানিয়েছে তারা ৭০ শতাংশ রিপোর্ট পেয়েছে, তবে তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আরও জানান হয়েছে, এ পর্যন্ত ৩০০ জন বিএলও বদলি করা হলেও মূল অভিযোগের সুরাহা হয়নি। গেরুয়া শিবির জানায়, তারা বিশেষভাবে ৬৫ জন বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল, কিন্তু কমিশন সেই অভিযোগকে ‘যথাযথ নয়’ বলে জানিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত কিছু ইআরও ও এইআরও-কে (ERO, AERO) সতর্ক করা প্রয়োজন। দলের দাবি, অনেক জায়গায় বিজেপির বিএলএ-২ কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এছাড়া দলের বক্তব্য, “পুলিশের আচরণ তৃণমূল ক্যাডারের মতো।” বিজেপি কমিশনের কাছে বিএলও-বিএলএ সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

    শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

    মৃত ভোটার নিয়ে বিজেপি দাবি করেছে, নন-আধার মৃতের সংখ্যা ১৩ লক্ষ, আধার-সংযুক্ত মৃতের সংখ্যা ৩৩ লক্ষ। এই তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপির দাবি, যাদের ভাতা বন্ধ হয়েছে (যেমন মৃত ভোটারদের), সেই তথ্য সরকার থেকে কমিশন যেন সরাসরি সংগ্রহ করে। সিইও অফিসে বসে ভুয়ো ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি হুঁশিয়ারি – যারা জল মিশিয়ে ভোটার তালিকায় থাকার চেষ্টা করছেন, তাদের কপালে দুর্ভোগ আছে। এক্ষেত্রে কমিশনের সব কাজ নিয়েও যে তারা সন্তুষ্ট নয় সে কথাও স্পষ্ট করেছে বিজেপি। এমনকী কমিশন স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে পারবে কিনা সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে তাদের তরফে।

  • PM Modi in Bhutan: “পুনাতসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ভারত-ভুটান বন্ধুত্বের স্থায়ী প্রতীক” ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi in Bhutan: “পুনাতসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ভারত-ভুটান বন্ধুত্বের স্থায়ী প্রতীক” ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টি হলেই ভুটানের জল ভারতে (Bharat Bhutan Relation) ঢুকে পড়ার সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে ডুয়ার্স এলাকার বিভিন্ন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই জল প্রবেশের ফলে। এই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। ভুটানে (PM Modi in Bhutan) ফুন্টশলিং-এর কাছে হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন ভুটানের রাজা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু জল সমস্যার সমাধান নয়। এই প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দু’দেশের কাজে আসবে। এই প্রকল্প দুই দেশের চিরন্তন বন্ধুত্বের প্রতীক, বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

    পুনাতসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প

    ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি যৌথভাবে উদ্বোধন করেন পুনাতসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের, যা দুই দেশের বন্ধুত্বের এক স্থায়ী প্রতীক বলে অভিহিত করেন তিনি। এক্স-এ মোদি লেখেন, “উন্নয়নের জ্বালানি, বন্ধুত্বের গভীরতা ও টেকসই অগ্রগতির প্রতীক! জ্বালানি সহযোগিতা ভারত-ভুটান সম্পর্কের অন্যতম স্তম্ভ। আজ আমরা পুনাতসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি, যা আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বের এক চিরন্তন প্রতীক।” ১০২০ মেগাওয়াটের পুনাতসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক শক্তি-সহযোগিতার এক “ঐতিহাসিক মাইলফলক” বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। শক্তি সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভুটান বর্তমানে শতভাগ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদন করে। এই অগ্রগতি আরও এগিয়ে নিতে আজ নতুন এক হাজার মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে, যা ভুটানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪০% বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা আরেকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও পুনরায় শুরু হবে।”

    স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা

    ভুটান (Bharat Bhutan Relation) সফরে গিয়ে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, সংযোগ, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ভুটানের জ্বালানি প্রকল্পগুলির জন্য ভারত ৪,০০০ কোটি টাকার স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা দেবে। তিনি আরও জানান, “ভারত ও ভুটানের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই ভাবনাতেই গত বছর ভারত সরকার ভুটানের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার জন্য ১০,০০০ কোটি টাকার সহায়তা ঘোষণা করেছিল। এই অর্থ রাস্তা, কৃষি, আর্থিক খাত থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে, যা ভুটানের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে।”

    ভারত-ভুটান রেল যোগাযোগ

    সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোদি জানান, ভুটানের গেলেফু ও সামতসে অঞ্চল ভারতের বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর জন্য ভুটানের গেলেফুতে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খোলা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এই চেক পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা গিয়েছে। সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “রেল ও সড়ক সংযোগের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় দ্রুত উন্নয়ন চলছে।” তিনি রাজা ওয়াংচুকের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্পের প্রশংসা করে জানান, ভারত গেলেফুর কাছে একটি নতুন ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট স্থাপন করবে, যাতে পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের চলাচল আরও সহজ হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে ভুটানের শিল্প ও কৃষকরা ভারতের বৃহৎ বাজারে সহজে প্রবেশাধিকার পাবেন। সংযোগ সুযোগ সৃষ্টি করে, আর সুযোগই সমৃদ্ধি আনে।”

    দিল্লি বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা

    ভুটানের (PM Modi in Bhutan) রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক মঙ্গলবার থিম্পুতে দিল্লি বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণে এক বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রার্থনায় হাজার হাজার ভুটানি নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। প্রার্থনা সভায় রাজা বলেন, “আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে ভারত ও প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য প্রার্থনা করি। মোদিজির সকল আশা, দৃষ্টি ও ভারতের সেবার উদ্দেশ্য সফল হোক। তিনি যেন প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে আরও উজ্জ্বল, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “সবচেয়ে বড় কথা, আজ আমরা এক মুহূর্তের জন্য থেমে সেই মানুষগুলোর জন্য প্রার্থনা করতে চাই, যারা দুর্ভাগ্যবশত দিল্লিতে বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি।”

    বিশ্ব শান্তির আশা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Bhutan) ভুটানের রাজা ও রানির সঙ্গে থিম্পু বুদ্ধিস্ট মনিস্ট্রিতে পিস প্রেয়ার ফেস্টিভ্যাল যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য বিশ্ব শান্তি কামনা করা। বুদ্ধিস্ট মনেস্ট্রিতে প্রার্থনা করতে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদিকে। তিনি বলেন, “গৌতম বুদ্ধের পবিত্র ধাতু ভুটানে যে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে, তা আমাদের দুই দেশের চিরন্তন আধ্যাত্মিক বন্ধনের প্রতিফলন।” দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ ও সৌজন্যপূর্ণ অভ্যর্থনা জানান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। ভুটানের চতুর্থ রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে যোগ দিতেই মূলত ভুটান গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

  • PM Modi: দেশ ফিরেই দিল্লি বিস্ফোরণে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi: দেশ ফিরেই দিল্লি বিস্ফোরণে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চোখে-মুখে উদ্বেগের ছাপ! দুদিনের ভুটান সফর শেষ করে বুধবার দেশে ফিরেই লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে (Delhi Blast) আহতদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। এ দিন দুপুরে তিনি দিল্লির লোক নায়ক হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি একে একে আহতদের সঙ্গে দেখা করছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। কারও পাশে থেকে সমবেদনা জানিয়েছেন। কারও মাথায় হাত দিয়ে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। কারও সঙ্গে বন্ধুর মতো কথা বলে আতঙ্ক কাটানোর চেষ্টা করেছেন। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ষড়যন্ত্রের শিকড় খুঁজে বের করা হবে

    আজ, বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোমবার দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে এই বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন যে এই বিস্ফোরণের পিছনে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ করা হবে। বিস্ফোরণের ঘটনায় মোদি মঙ্গলবারই ভুটানের এক অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে দোষীদের সাবধান করে দেন। বলেন, যে বিস্ফোরণ হয়েছে, তার ষড়যন্ত্রের শিকড় খুঁজে বের করা হবে। এর নেপথ্যে চক্রান্তকারী যারা রয়েছে তাদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

    ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সরকার

    প্রধানমন্ত্রী আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে সরকার। এই ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত করবে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দিল্লির ঘটনায় আমরা সবাই ব্যথিত। পীড়িতদের কথা আমি বুঝতে পারছি। স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, সমস্ত দোষীদের কাঠগড়ায় এনে দাঁড় করানো হবে।” আগেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) স্পষ্ট নির্দেশ দেন— এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে খুঁজে বের করতে হবে। দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে। দোষীরা কেউই ছাড় পাবে না। এজেন্সিগুলি কঠোরতম পদক্ষেপ করবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংও (Rajnath Singh)জানান, এই ঘটনার নেপথ্যে যারা আছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোরতম শাস্তিই তাদের প্রাপ্য।

  • Delhi Blast: দু’বছর ধরে বিস্ফোরক সংগ্রহ! দেশের নানা জায়গায় হামলার পরিকল্পনার কথা স্বীকার শাহিনের?

    Delhi Blast: দু’বছর ধরে বিস্ফোরক সংগ্রহ! দেশের নানা জায়গায় হামলার পরিকল্পনার কথা স্বীকার শাহিনের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিস্ফোরণের (Delhi Blast) নেপথ্যে ফরিদাবাদ ‘ডক্টর-মডিউল’! এমনই আভাস মিলেছে ফরিদাবাদের বিস্ফোরক এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মহিলা চিকিৎসক শাহিন শহিদকে জেরা করে। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের বাসিন্দা শাহিন। তবে কর্মসূত্রে থাকত ফরিদাবাদে। আল-ফালাহ্‌ মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপক-চিকিৎসক ছিল। ওই হাসপাতালে তার সহকর্মীদের দাবি, তাঁরা কেউই বুঝতে পারেননি, শাহিন এ ধরনের কোনও চক্রের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু খুবই অনিয়মিত জীবনযাপন করত শাহিন, যা ইচ্ছে তাই করত, এমনটাই মত সহকর্মীদের।

    কোনও শৃঙ্খলা ছিল না শাহিনের

    ফরিদাবাদে সোমবার ২৯০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার কাণ্ডে নাম উঠে আসে চিকিৎসক শাহিন শাহিদের (Shaheen Sahid)। ঘটনা ঘিরে একাধিক চিকিৎসক ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে। জানা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা শাহিন, মূলত পাকিস্তানের জইশ-এ-মহম্মদ জঙ্গি গোষ্ঠীর মহিলা উইং-র সদস্য। যে উইং চালায় খোদ জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার। এই কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য শাহিন আপাতত বন্দি। তার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের ফান্ড যোগানের অভিযোগও রয়েছে। তার এক চিকিৎসক সহকর্মীর দাবি, কোনও শৃঙ্খলা ছিল না শাহিনের। প্রায়ই কাউকে কিছু না-জানিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যেত। তাঁর বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করা হয়েছিল। তবে শাহিন কোনও ‘সন্ত্রাসমূলক’ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, সন্দেহ করেননি কেউই।

    শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল উমরের

    সোমবার দিল্লির অদূরে হরিয়ানার ফরিদাবাদে ৩৬০ কেজি আরডিএক্স তৈরির মশলা (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানায়, উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন হাজার কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, ভারতে কোনও বড়সড় নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল! দিল্লি বিস্ফোরণ, তারই অঙ্গ। তদন্তের স্বার্থে লালকেল্লা এবং তার আশপাশের অনেক জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। তার মধ্যে একটি ফুটেজ ঘিরেই রহস্য দানা বাঁধছে। সেই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, লালকেল্লার সামনে যে গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়, সেই গাড়ি চালাতে দেখা যায় এক জনকে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি, ওই চালকই উমর। বিস্ফোরণের কিছু ক্ষণ আগেও তাকেই গাড়ি চালাতে দেখা যায়। এই উমরও পেশায় একজন চিকিৎসক। তার সঙ্গে নাকি যোগাযোগ ছিল ধৃত আদিল মাজিদ রাথর, মুজাম্মিল আহমেদের! জেরায় শাহিন এমনই জানিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সূত্রের। শুধু তাদের সঙ্গে নয়, শাহিনের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল উমরের। খোঁজ নিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, মুজাম্মিলের সূত্র ধরেই আল-ফালাহ্‌ কলেজে কাজে যোগ দেয় শাহিন। বিবাহবিচ্ছিন্না শাহিনের সঙ্গে নাকি মুজাম্মিলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

    দেশে একাধিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা

    শাহিন, উমর, আদিল এবং মুজাম্মিল— চার জনই পেশায় চিকিৎসক। তাদের যোগসূত্র গড়ে ওঠে ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্‌ মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালকে কেন্দ্র করে! গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শাহিন জেরায় জানিয়েছে, হাসপাতালের কাজ শেষে প্রায়ই উমরের সঙ্গে দেখা হত তার। যখনই দেখা হত উমর নাকি ‘দেশে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটানোর’ কথা বলত। গত দু’বছর ধরে নাকি বিস্ফোরণ বা বিস্ফোরণের মালমশলা সংগ্রহের কাজ চলছিল। শাহিনের দাবি, আদিল এবং মুজাম্মিলের সঙ্গে মিলে উমর অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জাতীয় বিস্ফোরক বোঝাই করছিল। সেই বিস্ফোরক দিল্লির বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। উল্লেখ্য লালকেল্লার কাছে গাড়িতে বিস্ফোরণের পরেই কমলা রঙের আগুন দেখা গিয়েছে। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, সাধারণত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে বিস্ফোরণ ঘটলে এই ধরনের আগুন দেখা যায়।

    শাহিনের সঙ্গে অনেকে দেখা করতে আসত

    যে আল-ফালাহ্‌ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহিন কর্মরত ছিল, সেখানের এক সহকর্মী তার সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। মুখ খুলেছেন শাহিনের বাবাও। হরিয়ানার ওই বিশ্ববিদ্যালয় দিল্লি থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দিল্লিতে সোমবারের বিস্ফোরণের পর মঙ্গলের সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে জোরদার তল্লাশি চলেছে। একাধিক জনের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। আটকও হয়েছে একাধিক। এদিকে, শাহিন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তার আর এক সহকর্মী আরও বড় তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘ওর (শাহিন) সঙ্গে অনেকেই দেখা করতে আসত কলেজে। ও কখনও কখনও অদ্ভূত ব্যবহার করত। ওর বিরুদ্ধে ম্যানেজমেন্টে অভিযোগও দায়ের হয়।’ প্রশ্ন যায়, শাহিনকে নিয়ে কি কখনও সন্দেহ হয়েছে সন্ত্রাস যোগ ঘিরে? শাহিনের সহকর্মী বলছেন,’ওই দিক দিয়ে কখনওই সন্দেহ হয়নি।’

    শাহিনের বাড়িতে তল্লাশি

    এদিকে, উত্তরপ্রদেশের লখনউতে শাহিনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখানে শাহিনের বাবা বলেন, ‘আমার তিন ছেলেমেয়েদের মধ্যে শাহিন দ্বিতীয় সন্তান। শাহিন এলাহাবাদ থেকে এমবিবিএস ও এমডি করেছে।’ তিনি জানান, দেড় বছর আগে শাহিনকে দেখেছেন তিনি। আর মেয়ে শাহিনের সঙ্গে কথা হয়েছে এক মাস আগে। তিনি জানান বড় ছেলে তাঁর সঙ্গেই থাকেন। আর ছোট ছেলে দূরে থাকেন। ছোট ছেলের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে কথা হয়। এদিকে, শাহিনের সঙ্গে নাম জুড়েছে বিস্ফোরক উদ্ধার মামলায় ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিলের। মুজাম্মিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায়, শাহিনের বাবা জানান, তিনি এই নাম কখনওই শাহিনের থেকে শোনেননি।

  • Bihar Exit Polls: বিহারে ফের ফিরবে এনডিএ সরকার! বিজেপি পেতে পারে ৭২-৭৫টি আসন, বাকিরা কোথায়?

    Bihar Exit Polls: বিহারে ফের ফিরবে এনডিএ সরকার! বিজেপি পেতে পারে ৭২-৭৫টি আসন, বাকিরা কোথায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) ক্ষমতা ধরে রাখবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে নয়টি এক্সিট পোল। ২০২০ সালের তুলনায় এবারে বিজেপি আরও বড় ম্যান্ডেট পেতে চলেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এক্সিট পোলগুলির গড় হিসেব অনুযায়ী, এনডিএ ২৪৩ আসনের মধ্যে ১৪৭টির বেশি আসনে জয় পেতে পারে — যা স্পষ্টভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১২২) সীমা অতিক্রম করছে। বিভিন্ন সংস্থার মতে, মহাগঠবন্ধন তিন অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারবে না, তাদের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা প্রায় ৯০-এর কাছাকাছি।

    পিপলস ইনসাইট-এর এক্সিট পোল

    বিহার নির্বাচনের জন্য পিপলস ইনসাইট-এর এক্সিট পোল বলছে, এনডিএ ১৩৩-১৪৮টি আসন পাবে। বিজেপি ৬৮-৭২টি আসন, জেডিইউ ৫৫-৬০টি আসন, এলজেপি (আর) ৯-১২টি আসন, এইচএএম ১-২টি আসন এবং আরএলএম ০-২টি আসন পাবে। এই এক্সিট পোল ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, মহাজোট ৮৭-১০২টি আসন পাবে, আরজেডি পাবে ৬৫-৭২, কংগ্রেস ৯-১৩, বামপন্থীরা ১১-১৪ এবং অন্যান্যরা ২-৩ আসন পাবে।

    ম্যাট্রিক্স আইএএনএস-এর এক্সিট পোল

    বিহার নির্বাচনের জন্য ম্যাট্রিক্স আইএএনএস-এর এক্সিট পোল বলছে, এনডিএ ১৪৭-১৬৭টি আসন পাবে। দলীয়ভাবে, বিজেপি ৬৫-৭৩টি আসন, জেডিইউ ৬৭-৭৫টি আসন, এলজেপি (আর) ৭-৯টি আসন, এইচএএম ৪-৫টি আসন এবং আরএলএম ১-২টি আসন পাবে। এই এক্সিট পোল ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে মহাজোট ৭০-৯০টি আসন পাবে, আরজেডি পাবে ৫৩-৫৮টি, কংগ্রেস পাবে ১০-১২টি, বামপন্থীরা পাবে ৯-১৪টি এবং বিজেপি পাবে ১-১৪টি।

    চাণক্য স্ট্র্যাটেজিজের এক্সিট পোল

    বিহার বিধানসভা নির্বাচনের পর, চাণক্য স্ট্র্যাটেজিজের এক্সিট পোল আরজেডির জন্য উল্লেখযোগ্য সুখবর এনেছে। চাণক্যের মতে, আরজেডি ৭৫ থেকে ৮০টি আসন জিতবে এবং বৃহত্তম দল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজেপি ৭০ থেকে ৭৫টি আসন পাবে, যেখানে জেডিইউ ৫২ থেকে ৫৭টি আসন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাছাড়া, এনডিএ-র মধ্যে চিরাগ পাসোয়ান ১৪ থেকে ১৯টি আসন জিতবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জিতন রাম মাঝির দল ০-২টি আসন জিততে পারে। উপেন্দ্র কুশওয়াহা ২-৩টি আসন জিতবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মহাজোটে কংগ্রেস ১৭-২৩টি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বামপন্থীরা ১০-১৬টি আসন জিততে পারে। মুকেশ সাহনির দল ৭-৯টি আসন জিততে পারে। অন্যরা ৩-৫টি আসন জিততে পারে।

    অন্যান্য এক্সিট পোল কী বলছে?

    বিহার নির্বাচনের জন্য জেভিসি এক্সিট পোলে, এনডিএ ১৩৫-১৫০ আসন, মহাজোট ৮৮-১০৩ আসন এবং অন্যান্যরা ৩-৬ আসন পাবে বলে পূর্বাভাস। দৈনিক ভাস্কর-এর এক্সটি পোল অনুযায়ী, এনডিএ ১৪৫ থেকে ১৬০টি আসন পাবে। নিউজ ২৪-এর বুথ ফেরত সমীক্ষায় এনডিএ পাবে ১৩৩ থেকে ১৫৯টি আসন। অন্যদিকে, মহাগঠবন্ধনের (INDIA Bloc) জন্য পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক — দৈনিক ভাস্কর দিয়েছে ৭৩–৯১ আসন। নির্বাচনের নতুন মুখ প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি (JSP) ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানাচ্ছে সব এক্সিট পোল। কোনও সংস্থাই প্রশান্ত কিশোরের দলকে দুই অঙ্কের আসনসংখ্যার কাছাকাছি দেখায়নি।

    বিহারকে বদলে দিয়েছেন নীতীশ

    বিহারে এক্সটি পোল প্রসঙ্গে কাটিহারের বিজেপি প্রার্থী তারকিশোর প্রসাদ বলেন, “এই এক্সিট পোলগুলি অবাক করার মতো নয় কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে ২০০৫ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার যেভাবে বিহারকে বদলে দিয়েছেন তাতে মানুষ মুগ্ধ। অনেক বৃত্তি দেওয়া হয়েছে এবং নারীশক্তির প্রতি বিশ্বাস জাগানো হয়েছে। বিহারের ভোটারদের উপর আমাদের আস্থা আছে। আমাদের কাজের উপর আমাদের আস্থা আছে। মা-বোনেরা ভোট দিতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এনডিএ অবশ্যই জিতবে।”

    বিহারের রাজনীতিতে এক যুগ

    এই নির্বাচনকে বিহারের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় ১৯ বছর রাজত্বের পর মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের এটি শেষ নির্বাচন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব ইতিমধ্যেই দলীয় দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন ছেলে তেজস্বী যাদবের হাতে, যিনি বিরোধী জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী। পুরো নির্বাচনী প্রচারে দেখা গিয়েছে ত্রিমুখী লড়াই — এনডিএ, মহাগঠবন্ধন ও প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে আরজেডির “জঙ্গল রাজ” ইস্যু উত্থাপন করেছেন।

    ভোটারদের একাধিক প্রতিশ্রুতি

    ভোটারদের মন জিততে উভয় পক্ষই একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এনডিএ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে — মহিলাদের জন্য ব্যবসা শুরুতে ₹১০,০০০ সহায়তা, বিনামূল্যে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ-সহ অনেক কিছু। অন্যদিকে, মহাগঠবন্ধন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে — প্রতিটি পরিবারে এক সরকারি চাকরি, আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদের ₹৩০,০০০ এককালীন অনুদান। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে “ভোট চুরি”র অভিযোগ এনেছেন। এর জবাবে এনডিএ অভিযোগ করেছে, বিরোধী জোট রাজ্য অনুপ্রবেশকারীদের উৎসাহ দিচ্ছে। তবে, আপাতত এক্সিট পোল অনুযায়ী বিহারে আবারও এনডিএ সরকারের প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত —যদিও চূড়ান্ত রায় জানা যাবে গণনার দিনই।

  • Shaheen Shahid: ফরিদাবাদকাণ্ডে ধৃত চিকিৎসক শাহিন জইশের মহিলা ব্রিগেডের ভারতীয় শাখার প্রধান!

    Shaheen Shahid: ফরিদাবাদকাণ্ডে ধৃত চিকিৎসক শাহিন জইশের মহিলা ব্রিগেডের ভারতীয় শাখার প্রধান!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মহিলা চিকিৎসক শাহিন শাহিদকে (Dr Shaheena Shahid arrested) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, লখনউ-এর ওই চিকিৎসক পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর (JeM) মহিলা সংগঠনের ভারতীয় শাখার প্রধান মুখ।

    জইশ-এর মহিলা ব্রিগেড গঠন

    পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে অপারেশন সিঁদুরে জইশের কোমর ভেঙে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই অভিযানে মৃত্যু হয় মাসুদ আজাহারের পরিবারের ১১ সদস্যের। এর ঠিক পরই ভারতের বিরুদ্ধে বদলা নিতে মাসুদ আজাহারের বোন সাদিয়ার নেতৃত্বে নয়া মহিলা ব্রিগেড তৈরির ঘোষণা করে জইশ। ভাওয়ালপুরের মার্কাজ-উসমান-ও-আলি থেকেই এই সংগঠন তৈরি করা শুরু করে জইশ। নতুন এই মহিলা ব্রিগেডের নাম জামাত-উল-মোমিনাত। যার মাথায় বসানো হয় মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়াকে। সূত্রানুসারে, শাহিন শাহিদকেই দেওয়া হয়েছিল এই ব্রিগেডের ভারতীয় শাখার দায়িত্ব। লখনউয়ের লালবাগের বাসিন্দা ছিল শাহিন। তার গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল। সে চিকিৎসক আল-ফালা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করত।

    শাহিন শাহিদ কে?

    দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, শাহিন শাহিদ ছিল জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের অধীনে। সাদিয়া ‘জমাত উল-মোমিনাত’ নামে (JeM’s women’s wing, Jamaat ul-Mominaat) সংগঠনের মহিলা শাখাকে নেতৃত্ব দেয়। এই শাখাটি তৈরি করা হয় পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে, যেখানে মহিলাদের সংগঠনে নিয়োগের কাজ শুরু হয় গত অক্টোবর মাস থেকেই। জইশ সদস্যদের স্ত্রী ও দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের এই সংগঠনে নেওয়া হচ্ছিল। সাদিয়ার স্বামী ইউসুফ আজদার ছিল কান্দাহার বিমান অপহরণের ‘মাস্টারমাইন্ড’। অপারেশন সিঁদুরে সে খতম হয়। অনুমান করা হচ্ছে, আপাতত জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলিতে এই মহিলা ব্রিগেড নিজেদের জাল ছড়াতে শুরু করেছে। তবে সে জাল বেশিদূর অগ্রসর হওয়ার আগেই মাসুদের ‘জেনানা জেহাদি’দের সন্ত্রাসকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে কোমর বাঁধছে তদন্তকারীরা।

    শাহিনের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে

    পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শাহিন শাহিদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের লালবাগে। আগে একটি বারবিকিউ রেস্তরাঁয় কাজ করত। পরে আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং সেখানে থেকেই সংগঠনের হয়ে কাজ শুরু করত বলে পুলিশ জানায়। ফরিদাবাদে (Faridabad Explosive) যখন বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়, তখন পুলিশের হাতে আসে শাহিনের নাম।

    সীমান্তের ওপারের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ

    সূত্রের দাবি, জেইএম প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার-ই নাকি এই দায়িত্ব দিয়েছিল শাহিনকে। তদন্তকারীরা বিশ্বাস করছেন, শাহিন সীমান্তের ওপারের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখত এবং সামাজিক মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী মহিলাদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করছিল। ধর্মশিক্ষার পাশাপাশি, জিহাদ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ রাখা হয় সিলেবাসে। সাদিয়ার পাশাপাশি, আর এক বোন সামাইরা আজহারকেও ওই আনলাইন কোর্স চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পুলওয়ামার হামলাকালী উমর ফারুখের স্ত্রী আফরিরা ফারুখও জইশের মহিলা শাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়। আইসিস, এলটিটিই-র মতো মেয়েদের ফিদায়েঁ বা আত্মঘাতী বাহিনী তৈরি করাই লক্ষ্য তাদের।

    উদ্দেশ্য ছিল ভারতে আরও মহিলা সদস্য তৈরি করা

    এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, এদিকে ফরিদাবাদ থেকে যে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করার পর গ্রেফতার করা হয়েছে মুজাম্মিল গনি ওরফে মুসাইব নামে সন্দেহভাজন এক জঙ্গিকে। তার ভাড়াবাড়ির দু’টি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক। উল্লেখ্য, সোমবার লালকেল্লার কাছে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন। দিল্লির কোতোয়ালি থানা UAPA-এর ১৬, ১৮ ধারা, বিস্ফোরক আইন এবং বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুজাম্মিলকে জেরা করেই উঠে আসে শাহিনের নাম। পরে পুলিশ তাঁর মারুতি সুইফট গাড়িতে (HR 51) তল্লাশি চালিয়ে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, শাহিন শাহিদ ভারতে থেকে জইশের মহিলা শাখা গঠনের কাজ করছিলেন। সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতে আরও মহিলা সদস্য তৈরি করা এবং ছোট ছোট ইউনিট গঠন করা।

  • Delhi Blast: পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের তীব্র সমালোচনা, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে সরব হাসিনা

    Delhi Blast: পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের তীব্র সমালোচনা, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে সরব হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে জঙ্গি হামলায় নিরপরাধ মানুষকে হত্যার তীব্র নিন্দা করলেন আওয়ামি লিগ চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।‌ এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নিহতদের স্মরণে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্তদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছে তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আধুনিক বিশ্বে উগ্র-জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসের কোনও‌‌ জায়গা নেই। এই উগ্রবাদী জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূলে আঘাত করে।

    পাকিস্তানের সমালোচনা

    নয়াদিল্লির লালকেল্লায় ১০ নভেম্বরের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার নিন্দা করে শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে বলেন, “নয়াদিল্লিতে সংঘটিত এই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আধুনিক বিশ্বে চরমপন্থী সন্ত্রাসের কোনও স্থান নেই। এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো একটি ধর্মনিরপেক্ষ, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ভিতকেই নাড়িয়ে দিতে চায়।” বিবৃতিতে শেখ হাসিনা আরও বলেন, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের নেটওয়ার্ক বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত করেছে এবং ভারতকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে হামলা চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এই জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো পাকিস্তান থেকে শিকড় গেড়ে সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আক্রমণ চালিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।”

    ভারতের পাশে

    বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমাদের এই সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামি লিগ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সন্ত্রাসবিরোধী এই ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।” ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আজকের সভ্য বিশ্বে এমন ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো স্থান নেই এবং এর কোনও ক্ষমাও হতে পারে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেখানেই সন্ত্রাসবাদের শিকড় থাকুক না কেন, তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে হবে। যারা বাংলাদেশে বা অন্য কোথাও এসব জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তারা মানবতার শত্রু—আমরা তাদের কঠোরভাবে নিন্দা জানাই।”

LinkedIn
Share