Author: ishika-banerjee

  • India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতিতে চকোলেটের মতো মিষ্টি-মধুর সম্পর্ক তৈরি হল ভারত-ইটালির (India Italy Relation)। ‘মেলোডি’ শুধু দুই ব্যক্তির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়নেই থেমে থাকল না। বুধবার ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে পাশে (Modi-Meloni Meet) নিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে’ পরিণত করার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়ে দিলেন বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে দুই দেশ। মোদি-মোলোনির বন্ধুত্বের ছাপ পড়ল দুই দেশের সম্পর্কেও। যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা জানিয়ে জর্জিয়া বলেন, ‘বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে সেটিকে আমরা ২২ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যেতে চাই।’

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। আর সেটাকেই কাজে লাগাতে চান ‘মেলোডি’। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সময়ে ইটালির সমর্থনের জন্য মেলোনিকে ধন্যবাদ জানান মোদি। সোজাসুজি বলে দেন, ‘দুই দেশের ব্যবসায়ীরা যাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান, তার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০০ কোটি ইউরোতে (সাড়ে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) পৌঁছোনোর যৌথ লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ভারতে ৮০০-র বেশি ইটালির সংস্থা কাজ করছে।

    ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার

    প্রযুক্তির উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও অসামরিক পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত-ইতালির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।’ দুই দেশের স্টার্টআপ, গবেষণা কেন্দ্র ও শিল্পক্ষেত্রকে যুক্ত করতে একটি ‘ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার’ গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। প্রতিরক্ষা এবং ক্লিন এনার্জি খাতেও একসঙ্গে কাজ হবে বলে ঘোষণা করেছেন মোদি। প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং জ্বালানি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিবিড় করার কথা জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

    লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি

    ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গও এসেছে যৌথ বিবৃতিতে। বৈঠকের পরে মোদি বলেন, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আমাদের অংশীদারির চালিকাশক্তি। এআই, কোয়ান্টাম, মহাকাশ এবং অসামরিক পারমাণু শক্তির মতো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।” জাহাজ চলাচল, বন্দর আধুনিকীকরণ, লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি আগামী দিনে নয়াদিল্লি-রোম সম্পর্কের অন্যতম ভরকেন্দ্র হবে বলেও জানান মোদি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা— ‘‘হেলিকপ্টার, নৌ-প্ল্যাটফর্ম-সহ সমুদ্র-যুদ্ধের উপযোগী অস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা—সংক্রান্ত অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে।’’

    প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির

    ২০ মে রোমের কুইরিনালে প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-ইটালি সম্পর্কের দ্রুত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় উদীয়মান প্রযুক্তি ও এআই। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার উপর জোর দেন দুই নেতা। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের সংঘাত পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথে স্বাধীন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা।

    ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর

    দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইসি)-এ সহযোগিতার কথাও ঘোষণা করেছেন। মেলোনি জানিয়েছেন, বিশেষত ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও দক্ষ কর্মীদের যাতায়াত বাড়াতে এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গাজায় যাওয়া জাহাজ আটক করা নিয়ে ইজরায়েলের সমালোচনা করেন মেলোনি।

    ভারত-ইটালি নিয়মিত আলোচনা

    মোদি-মেলোনি বৈঠকে স্থির হয়, দুই দেশ প্রতি বছর শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক করবে এবং নিয়মিত মন্ত্রীস্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। সন্ত্রাসে অর্থ জোগান বন্ধে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুজরাটের লোথালে ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা এবং ভারতীয় নার্স নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত ও ইতালি ২০২৭ সালকে সংস্কৃতি এবং পর্যটনের বছর “Year of Culture and Tourism” হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    একে অপরের পরিপূরক

    যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ইটালির ডিজাইন ও জিনিস তৈরির দক্ষতা এবং ভারতের উদ্ভাবনী চিন্তা একে অপরের পরিপূরক। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই দিনটিকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করে জানান, ভারত-ইতালি সম্পর্ক এখন এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বৈঠকের বাইরেও নজর কাড়ে মোদি-মেলোনি দুই নেতার ব্যক্তিগত মুহূর্ত। কূটনীতির টেবিলে চুক্তির কালি শুকোতে সময় লাগে। তবে ‘মেলোডি’র মিষ্টি স্বাদ বুঝিয়ে দিয়েছে— ভারত ও ইটালির সম্পর্ক এখন শুধু কাগজে-কলমে নয়, তাতে অন্য রসায়নও দানা বাঁধছে।

     

     

     

  • Suvendu in North Bengal: ‘ঘুরতে নয়, কাজ করতে আসব’, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে আশ্বাস শুভেন্দুর

    Suvendu in North Bengal: ‘ঘুরতে নয়, কাজ করতে আসব’, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে আশ্বাস শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ভেদাভেদ মুছে দিতে প্রতি মাসেই উত্তরবঙ্গে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in North Bengal)। প্রতি সপ্তাহে উত্তরকন্যায় বসবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। অবহেলিত থাকবে না পাহাড়-ডুয়ার্স। ঢেলে সাজানো হবে, উন্নয়নের জোয়ার আসবে। দুর্নীতি দূর করতে খোলা হবে জিটিএ ফাইল। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বুধবার প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে (North Bengal Visit) এসে আশ্বাসবাণী শোনালেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এই সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অলিন্দে ছিল টানটান উত্তেজনা। শিলিগুড়ির প্রশাসনিক সভা থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সেরে আজ বিকেলেই তাঁর কলকাতায় ফিরছেন শুভেন্দু।

    খোলা হবে জিটিএ-ফাইল

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে শিলিগুড়িতে নেমেই বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-এ কীভাবে কাজ হয়েছে? কতটা কাজ হয়েছে? সেইসব ফাইল এবার খোলা হবে। সেই কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ দুর্নীতি হয়েছে বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। সেসব ধামাচাপা পড়ে যায় বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ। এবার বিজেপি সরকার কাজ শুরুর পরেই জিটিএ দুর্নীতির তদন্ত শুরু হবে। ফাইল খোলা হবে।উত্তরবঙ্গে নেমেই পাহাড়ে ‘সাফাই অভিযানে’র হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর।

    প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে

    উত্তরবঙ্গের মাটিতে পা দিয়েই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে বিজেপির দেওয়া প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করবে তাঁর সরকার। এদিন একপাশে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং অন্যপাশে নবনিযুক্ত উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে সঙ্গে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, “২০০৯ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের মানুষ দু’হাত উজাড় করে বিজেপির পাশে থেকেছেন। তাই এবার আমাদের ঋণ শোধ করার পালা। সরকারে আসার পর ভোটের আগে দেওয়া আমাদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি আমরা পূরণ করবই।”

    মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরায় বিপুল জমায়েত

    বুধবার সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরের বাইরে এবং রাস্তার দু’পাশে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দর থেকে বাইরে বেরিয়েই উত্তরবঙ্গের মানুষের ভালবাসায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী হাতজোড় করে সকলকে নমস্কার ও কৃতজ্ঞতা জানান। লোকসভা থেকে শুরু করে বিধানসভা— বছরের পর বছর ধরে বিজেপিকে বিপুল ভোটে জেতানোর জন্য উত্তরবঙ্গবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, “এবার থেকে প্রতি মাসে আমি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা উত্তরবঙ্গে আসব। তবে আমরা এখানে কোনও পাহাড়ি হাওয়া খেতে বা ঘুরতে আসব না, স্রেফ কাজ করতে আসব। আর প্রতি সপ্তাহে আমাদের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উত্তরকন্যায় বসবেন।”

    ‘উত্তরকন্যায়’ প্রশাসনিক বৈঠক

    বিমানবন্দর থেকে সোজা শিলিগুড়ির স্যাটেলাইট টাউনশিপে অবস্থিত রাজ্য সরকারের মিনি সচিবালয় ‘উত্তরকন্যায়’ পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উত্তরের পাঁচ জেলার বিধায়ক, আইজিপি, পুলিশ সুপার এবং প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে এক প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, সামনেই বর্ষাকাল কড়া নাড়ছে, তাই এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় উত্তরবঙ্গের চিরাচরিত সমস্যা – বন্যা, পাহাড়ি ধস, হড়পা বান এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান , উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক প্রতি সপ্তাহে একদিন উত্তরকন্যায় সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষদের সঙ্গে দেখা করবেন। ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত তিনি উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের কর্মসূচির প্রতিটি কাজের খতিয়ান করবেন। আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বেলা ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রত্যেক সাংসদ, বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    চা বলয়ের শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা

    এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চা বলয়ের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি ও চিকিৎসা পরিষেবার সমস্যা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্যে সরকার বদল হতেই উত্তরবঙ্গের বেআইনি নির্মাণ, সরকারি জমি দখল এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালি ও পাথর পাচারকারী মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে

    উন্নয়ন ছাড়াও শুভেন্দুর মুখে শোনা যায় উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার কথাও। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারের অনমনীয় নীতি বজায় থাকবে। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে কোনও ভাবেই তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি সহ্য করা হবে না। যাঁরা ভাবছেন পুরনো কায়দায় পার পেয়ে যাবেন, তাঁরা ভুল ভাবছেন। আইন আইনের পথেই চলবে।’’

    উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি

    উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। লোকসভা হোক বা বিধানসভা— গত এক দশক ধরে এই উত্তরবঙ্গে ভাল ফল করছে বিজেপি। উল্লেখ্য, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ৪০টি। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে জিতেছিল বিজেপি। সে বার বিজেপির টিকিটে ওই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন যশবন্ত সিং। ২০১৪ সালেই দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র ধরে রেখেছিল বিজেপি। সে বছর ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া। ২০১৯ সাল থেকে টানা ওই কেন্দ্রে জিতছেন রাজু বিস্তা। উত্তরকন্যায় পৌঁছনোর আগে এদিন শিলিগুড়িতে বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে যাওয়ার আগে রাস্তায় মাঝেমধ্যেই থমকেছে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। গাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি। ছোট শিশুকে কোলে নিতেও দেখা যায়। জনজোয়ারে ভেসে মুখ্যমন্ত্রী এদিন শিলিগুড়ির বিজেপি কার্যালয়ে যান। উন্নয়নের পাশাপাশি বিজেপি কর্মীরা আরও বেশি করে সংগঠনের কাজ করবেন। সেই বার্তাও এদিন শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছেন।

     

     

     

     

  • Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রোমে পা দিতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) স্বাগত জানালেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni)। সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘রোমে স্বাগত বন্ধু’। মঙ্গলবার রোমে পৌঁছেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ, গাড়িতে সফর এবং ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে সেলফিতে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বুধবারের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই দুই নেতার এই অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তগুলি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে মোদি

    পাঁচ দেশীয় সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে এসে পৌঁছেছেন তিনি। ইটালিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। দু’দেশই যৌথ কৌশলগত পরিকল্পনা করেছে। ২০২৫-’২৯ এই সময়কালকে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে যৌথ নিবন্ধও লিখেছেন মোদি ও মেলোনি। ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে মোদির কেমিস্ট্রি বেশ জনপ্রিয়। মোদির সঙ্গে মেলোনির এটি সপ্তম সাক্ষাৎ। আর সেই সাক্ষাতের একের পর এক ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এদিন নীল কুর্তা পাজামা ও বন্ধগলা কোটে অন্যরকম লুকে ধরা দেন নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে, কালার কনট্রাস্টে বেবি পিঙ্ক টপ ও সাদা ট্রাইজার পরেছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। এর আগেও মোদি-মেলোনির একাধিক সেলফি চর্চার বিষয়বস্তু হয়েছিল।

    মোদি-মেলোনি একই ফ্রেমে

    জর্জিয়া মেলোনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সেলফি তুলে পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টেই মোদিকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন মেলোনি। যা লক্ষ লক্ষ লাইক ও শেয়ার হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদিও রোম সফরের একাধিক ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেলোনির সঙ্গে গাড়িতে সফর করছেন তিনি, পাশাপাশি নৈশভোজ ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও অংশ নেন দুই নেতা। মোদি লেখেন, “রোমে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ ও ঐতিহাসিক কলোসিয়াম পরিদর্শনের সুযোগ হল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বুধবারের বৈঠকে ভারত-ইতালি বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।” রোমের রাতের আলোয় আলোকিত কলোসিয়ামের সামনে মোদি-মেলোনির ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষাধিক মানুষ সেই ছবি দেখেছেন ও শেয়ার করেছেন। নেটিজেনদের মধ্যে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় “মেলোডি” শব্দবন্ধ— যা ‘মেলোনি’ ও ‘মোদি’-র নাম মিলিয়ে তৈরি। জর্জিয়া মেলোনি নিজেই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। “মেলোডি”-র উষ্ণ রসায়ন ফের নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

    দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক

    গত কয়েক বছরে দুই দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়টিও মোদি মেলোনির মধ্যে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল। এই করিডোর ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও সংযোগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী রোমে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতরেও যাবেন। সেখানে তিনি খাদ্য সুরক্ষা, কৃষি সংস্কার এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবেন। ২০২৪ সালের জুনে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর এটাই মোদির ইটালিতে প্রথম সফর। রোমে অবতরণ করার পর পরই এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, ‘এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে ভারত-ইটালি সহযোগিতা কী ভাবে বৃদ্ধি করা যায়। বিশেষ করে ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের উপর আলোকপাত করা হবে।’

    আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানোই লক্ষ্য

    পাঁচ দিনের বিদেশ সফরে গিয়েছেন মোদি। নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি ঘুরে শেষ পর্যায়ে এখন রোমে রয়েছেন তিনি। ইটালি থেকেই ভারতে ফিরবেন মোদি। তাঁর এই রোম সফর দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে মত কূটনৈতিক মহলের। ইটালির এক প্রশাসনিক কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দু’দেশই নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতি করতে চাইবে। চলতি বছরের শুরুতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এক বাণিজ্যচুক্তি করেছে ভারত। এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানো। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটাই ছিল মোদির প্রথম ইউরোপ সফর।

    মোদি-মেলোনি কী কী নিয়ে আলোচনা

    বুধবার ভিলা ডোরিয়া পামফিলিতে ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতা দু’দেশের অংশীদারি জোরদার করার জন্য একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১,৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ দু’হাজার কোটিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। শুধু দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নয়, তার পরে মোদি ও মেলোনি দু’দেশের শিল্পপতিদের সঙ্গে দেখা করবেন। সূত্রের খবর, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার বিষেয়ে আলোচনা হতে পারে। আবার একাংশের মতে, সামুদ্রিক পরিবহণ, কৃষি, উচ্চশিক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, আর্থিক অপরাধ দমনের মতো বিষয়গুলি নিয়ে কোনও চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এ ছাডা়ও, পশ্চিম এশিয়া, ইউক্রেন এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা-সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে মোদি-মেলোনির মধ্যে। মেলোনি ছাড়াও ইটালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লার (Sergio Mattarella) সঙ্গে একটি বৈঠক করার কথা মোদির। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতর পরিদর্শন করার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

  • Suvendu Vs Mamata: এ কী অবস্থা! বেশ কিছু বুথে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’, সবিস্তার হিসেব দিল কমিশন

    Suvendu Vs Mamata: এ কী অবস্থা! বেশ কিছু বুথে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’, সবিস্তার হিসেব দিল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ঘরের মেয়ে’কেই চাইল না খোদ ভবানীপুরবাসী। এ কী অবস্থা জননেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)? ভবানীপুরের একাধিক বুথে নাকি ৫০টির-ও কম ভোট পেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এই কেন্দ্রে তাঁর নিকটতম বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Vs Mamata) কাছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা পরাজিত হয়েছেন ১৫,১০৫ ভোটে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়ে এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। আর পাঁচ বছরের মধ্যেই পালা বদল!

    কোথায় ৫০টিও ভোট পাননি মমতা!

    ভবানীপুর বিধানসভায় বুথের সংখ্যা ছিল ২৬৭টি। প্রতি বুথে ভোটদাতার সংখ্যা ছিল মোটামুটি ৪০০ থেকে ৭০০। সেখানে এমন অনেক বুথ রয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একশো ভোটও পাননি। কমিশনের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১১ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭০টি ভোট। ওই বুথে বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পেয়েছেন ১০৬টি ভোট। কিন্তু এমন বেশ কিছু বুথ রয়েছে যেখানে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’! যেমন ১৪ নম্বর বুথ। সেখানে ৪৩টি ভোট পেয়েছেন তিনি। ১৬ নম্বর বুথে ৪২, ২০ নম্বর বুথে ৪১, ২৪ নম্বর বুথে ৪৫, ৭৭ নম্বর বুথে ৪০, ৮৯ নম্বর বুথে ৪১, ১০৫ নম্বর বুথে ৩১টি ভোট পেয়েছেন মমতা। ২২৭ নম্বর বুথে মাত্র ১২টি ভোট পেয়েছেন মমতা।

    মমতা-শুভেন্দু বিরাট ফারাক

    নির্বাচন কমিশন যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে সব মিলিয়ে মমতা ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ২৮টি বুথে। উল্টো দিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ৩৯টি বুথে। সার্বিক ভাবে শুভেন্দু অধিকারী ২০৭টি বুথে লিড পেয়েছেন। সেই জায়গায় মমতা মাত্র ৬০টি বুথে লিড পান। সার্বিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন মোট ৭৩,১৯৭টি ভোট। শতাংশের বিচারে ৫৩.০২। উল্টোদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৮১২টি ভোট। অর্থাৎ, ৪২.১৯%। এই বিরাট ফারাকই পার্থক্য গড়ে দেয়।

  • Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তনের হাওয়া পাকিস্তানে (Lahore Street Name Restoration)। দেশভাগের আট দশক পর ইসলামি রাষ্ট্রে কদর বেড়েছে হিন্দু-জৈন নামের! অমৃতসর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরে সম্প্রতি একাধিক ঐতিহাসিক এলাকার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একদা হিন্দু অধ্যুষিত লাহোরে কমপক্ষে ন’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মোড় ও এলাকার দেশভাগের আগে যে নাম ছিল,সেই নামই ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার। কয়েক দশক আগে ইসলামিকরণ নীতির সময়ে বদলে দেওয়া পুরোনো হিন্দু, জৈন ও ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ইসলামপুরা’-র নাম আবার ‘কৃষ্ণনগর’ এবং ‘বাবরি মসজিদ চক’-এর নাম ‘জৈন মন্দির চক’ করা হয়েছে।

    কেন এই পরিবর্তন

    প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আসলে শহরের বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করা। দেশভাগের আগে লাহোর ছিল বহুসাংস্কৃতিক শহর। হিন্দু, শিখ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতেন। সেই সময়ের বহু রাস্তা, মহল্লা, বাজার এবং চৌকের নাম সেই সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাক্ষী ছিল। কিন্তু ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানে নতুন জাতীয় পরিচয় গঠনের অংশ হিসেবে বহু নাম বদলে দেওয়া হয়। এবার সেই পুরনো নামই আবার ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপ কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য নয়, বরং লাহোরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক পরিচয়কে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।

    ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর প্রকল্প

    এই নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আসলে আরও বড় একটি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় লাহোরের ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ এবং পুরনো কুস্তির আখড়াও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান গ্রেটার ইকবাল পার্ক, যা আগে মিন্টো পার্ক নামে পরিচিত ছিল, সেখানে ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং আখড়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসময় পাকিস্তানের ক্রিকেটার ইনজামাম উল হক সেখানে খেলেছেন। দেশভাগের আগে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি লালা অমরনাথ-ও সেখানে অনুশীলন করতেন বলে জানা যায়। এছাড়া ঐতিহাসিক কুস্তির আখড়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিংবদন্তি পহেলওয়ান গামা পহেলওয়ান এবং ইমাম বক্স-এর নামও।

    সিন্ধু প্রদেশেও গৃহীত হতে পারে এই পদক্ষেপ

    এই পরিবর্তনগুলো উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই নতুন সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কোনও কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনও বড় ধরনের বিরোধিতা গড়ে তুলতে পারেনি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের মতে, পাক দিল্লি গেট-সহ লাহোরের প্রাচীর ঘেরা শহরের আটটি ফটকই পুনরুদ্ধার করা হবে। সূত্রমতে, নাম পরিবর্তন অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে পাকিস্তানের সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও মূল নামগুলো পুনর্বহাল করা হতে পারে।

    কার উদ্যোগে এই পরিবর্তন

    এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ প্রকল্পের আওতায়। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সমর্থনেই এই প্রকল্প এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজও এই ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধার প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। কেউ একে পাকিস্তানের অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের নতুন বিতর্ক

    এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পাকিস্তানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এটি লাহোরের বহুসাংস্কৃতিক অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দেশভাগের পর মুছে যাওয়া ইতিহাসকে পুনরায় সামনে আনার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ এটি। রাস্তার নাম বদল শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় — এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শহরের স্মৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের পরিচয়ের প্রশ্নও। বহু ক্ষেত্রে সরকারি নথিতে নাম বদলানো হলেও সাধারণ মানুষের মুখে পুরোনো নামই প্রচলিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদরা। সরকারের যুক্তি, ইউরোপের দেশগুলির মতোই পাকিস্তানে ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা উচিত। এর ফলে হেরিটেজ ট্যুরিজমের যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনি সরকারের কোষাগারের রাজস্ব জমা পড়বে

    ইসলামপুরা টু কৃষ্ণনগর

    ‘ইসলামপুরা’ এলাকার নাম পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে। দেশভাগের আগে ওই এলাকার নাম ছিল ‘কৃষ্ণনগর’। পরে পাকিস্তানের ইসলামিক পরিচয় জোরদার করার সময়ে ওই এলাকার নাম বদলে ‘ইসলামপুরা’ করা হয়। এ বার সেই পুরোনো নামই ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বাবরির রোষে ‘জৈন মন্দির চক’

    একইভাবে, ‘বাবরি মসজিদ চক’ আবার ‘জৈন মন্দির চক’ নামে পরিচিত হবে। এই ‘জৈন মন্দির চক’-এর ইতিহাসও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, লাহোরে এক সময়ে একটি ঐতিহাসিক জৈন মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার পরে পাকিস্তানে ক্ষোভ ছড়ায় এবং প্রতিশোধের আবহে ওই জৈন মন্দির আক্রমণ ও ভাঙচুর করা হয়। পরে এলাকার নাম বদলে ‘বাবরি মসজিদ চক’ রাখা হয়েছিল। এখন সেই নাম সরিয়ে ফের ‘জৈন মন্দির চক’ নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে।

    শুধু এই দুই জায়গাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি এলাকার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লক্ষ্মী চক’, ‘ধরমপুরা’, ‘রাম গলি’-র মতো এলাকা।

    একনজরে পরিবর্তিত নয়া নাম—

    ইসলামপুরা: কৃষ্ণনগর

    সুন্নাতনগর: সন্ত নগর

    মওলানা জাফর চক: লক্ষ্মী চক

    বাবরি মসজিদ চক: জৈন মন্দির চক

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    স্যর আগা খান চক: ডেভিস রোড

    আল্লামা ইকবাল রোড: জেল রোড

    ফাতিমা জিন্নাহ রোড: কুইন্স রোড

    বাগ-ই-জিন্নাহ: লরেন্স রোড

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    হামিদ নিজামী রোড — টেম্পল স্ট্রিট

    নিশতার রোড — ব্র্যান্ডরেথ রোড

    রেহমান গলি — রাম গলি

    গাজিয়াবাদ — কুমহারপুরা

    জিলানি রোড — আউটফল রোড

    শাহরাহ-ই-আবদুল হামিদ বিন বাদিস — এমপ্রেস রোড

  • PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সুইডেন থেকে নরওয়ে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন ও সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি। নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে সোমবার অনুষ্ঠিত ভারত-নরওয়ে বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিটে যোগ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। ভারত-ইএফটিএ ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (TEPA) কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে

    সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করল নরওয়ে। এদিন নরওয়ের রাজা হারাল্ড (King Harald V) ভি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট’ সম্মান প্রদান করেন। নেতৃত্ব ও ভারত-নরওয়ে সম্পর্কের অগ্রগতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হল প্রধানমন্ত্রীকে। এটি কোনও নাগরিককে দেওয়া নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মান। এটা প্রধানমন্ত্রী মোদির ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট পেয়ে সম্মানিত। ভারতের নাগরিক এবং নরওয়ে ও ভারতের অটুট বন্ধুত্বের প্রতি উৎসর্গ করছি এই সম্মান। এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের অগ্রগতিতে আমাদের মিলিত অঙ্গীকার প্রতিফলিত হচ্ছে।’ ঠিক একদিন আগেই সুইডেনের ঐতিহ্যশালী ‘রয়্যাল অর্ডার অব দ্য পোলার স্টার, ডিগ্রি কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে মোদিকে এই সম্মান প্রদান করে সুইডেন।

    ৪৩ বছর পর প্রথম

    সুইডেন সফর শেষ করেই সোমবার দু’দিনের সফরে নরওয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা তাঁর প্রথম নরওয়ে সফর। ৪৩ বছর পর প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউরোপের এই দেশটিতে এলেন তিনি। অসলোর রয়্যাল প্যালেসে রাজা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করেন। সোমবার ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে মনের কথা উজার করে দিলেন নরওয়ের শিল্পপতিরা। পাল্টা শিল্পের জন্য শ্রম আইন-সহ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে যে সংস্কার করা হয়েছে, তা তুলে ধরেন মোদিও। জানান নতুন করনীতির কথাও। অসলো সিটি হলে ‘নরওয়ে-ইন্ডিয়া বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিট’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে যোগ দেন মোদি। উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের বড় বড় সংস্থার কর্ণধাররা। তাদের মধ্যে ওরকলা, ইয়ারা ও ইকুইনরের মতো সংস্থা অন্যতম। ভারতে বড় ব্যবসাও রয়েছে তাঁদের।

    ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থা

    এই সামিটে ভারত ও নরওয়ের ব্যবসা ও গবেষণা মহলের ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থার সিইও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় ও নরওয়েজিয়ান বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। মূল সম্মেলনের আগে অসলোর বিভিন্ন স্থানে চারটি বিশেষ রাউন্ডটেবল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, ব্যাটারি ও এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থা, ডিজিটালাইজেশন ও বিদ্যুতায়ন এবং বায়ুশক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

    দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা

    ভারত ও ইউরোপের মধ্যে হওয়া নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করেন ওরকলার কর্তা নিলস কে সেলতে। তাঁর কথায়, ‘এর ফলে ব্যবসা করা অনেক সহজ হবে। অনিশ্চয়তা কমবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা হবে।’

    বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান

    সবার কথা মন দিয়ে শোনেন মোদি। তার পরে করব্যবস্থা, শ্রম আইন ও প্রশাসনিক সংস্কারের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন নরওয়ের শিল্পপতিদের সামনে। তিনি বলেন, ‘নেক্সট জেনারেশন রিফর্মস আনা হয়েছে। নরওয়ের জন্য ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া’-র মধ্যে একটি বিশেষ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ডেস্কও তৈরি করেছে কেন্দ্র।’ নরওয়ের শিল্পপতিদের উদ্দেশে মোদির স্পষ্ট বার্তা, ‘ভারতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করুন। আমি আপনাদের ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এখন বল আপনাদের কোর্টে।’

    ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান

    সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সম্প্রতি ভারত-নরওয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি দুই দেশের শিল্পমহলকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতে প্রায় ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বৃহৎ যুবশক্তি, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং প্রতিযোগিতামূলক ফেডারেল ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তিনি নরওয়ের সংস্থাগুলিকে ব্লু ইকোনমি, জাহাজ নির্মাণ, সবুজ জ্বালানি, নবীকরণযোগ্য শক্তি, হেলথ-টেক, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যত

    ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট ক্লিন এনার্জি উৎপাদনের লক্ষ্যের কথাও সবিস্তারে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘ভারতের গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যতে নরওয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।’ একই সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও নরওয়েকে ভারতের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমানে নরওয়ের ১০ শতাংশ জাহাজ ভারতে তৈরি হয়। আগামী পাঁচ বছরে সেটিকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক খাতে কার্বন নির্গমন হ্রাস, সমুদ্র সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অর্থায়নে নরওয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

     

     

     

  • Russian Oil Imports: ট্রাম্পের চাপে নত নয়! রাশিয়া থেকে কেনা বন্ধ করবে না ভারত, বার্তা মোদি সরকারের

    Russian Oil Imports: ট্রাম্পের চাপে নত নয়! রাশিয়া থেকে কেনা বন্ধ করবে না ভারত, বার্তা মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল (Russian Oil Imports) কেনা বন্ধ করবে না ভারত, মার্কিন চাপ উড়িয়ে স্পষ্ট জানাল মোদি সরকার। কেন্দ্রের বক্তব্য, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থই সর্বাগ্রে, তাই আমেরিকার ‘ওয়েভার’ থাক বা না থাক, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা চলবে আগের মতোই। সোমবার, ১৮ মে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (মার্কেটিং ও অয়েল রিফাইনারি) সুজাতা শর্মা বলেন, “আমেরিকার ওয়েভার নিয়ে আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, ওয়েভারের আগেও আমরা রাশিয়া থেকে তেল কিনেছি, ওয়েভারের সময়ও কিনেছি, এখনও কিনছি।”

    দেশবাসীর স্বার্থকেই প্রাধান্য

    সুজাতা শর্মা স্পষ্ট করে জানান, ভারতের তেল কেনার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাণিজ্যিক যুক্তি, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “অপরিশোধিত তেলের কোনও ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই ওয়েভার থাক বা না থাক, ভারতের জ্বালানি সরবরাহে তার কোনও প্রভাব পড়বে না।” উল্লেখ্য, মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সমুদ্রপথে রফতানিকৃত তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের একটি লাইসেন্স বা ছাড় দিয়েছিল। পরে সেটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ১৬ মে তা শেষ হয়ে যায়। তবে বাস্তবে ভারত কখনওই রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেনি। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড় মূল্যে রুশ তেল পাওয়া শুরু হলে ভারত বড় পরিমাণে সেই তেল আমদানি করতে শুরু করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ২০ শতাংশের বেশি এসেছে রাশিয়া থেকে। কেন্দ্র বারবার জানিয়েছে, কোন দেশ থেকে কত তেল কেনা হবে, তা সম্পূর্ণভাবে ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল।

    বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখাই লক্ষ্য

    ভারত বর্তমানে তার মোট চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে তুলনামূলক সস্তায় তেল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই কেনার নীতি নিয়েছে নয়াদিল্লি। মজার বিষয় হল, অতীতে মার্কিন প্রশাসন নিজেই স্বীকার করেছিল যে ভারত রাশিয়ার তেল কিনে চলায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়েছে। গত বছর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছিল, আমেরিকা অনানুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে রুশ তেল কেনা চালিয়ে যেতে বলেছিল, যাতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে। তবে পরবর্তীতে অবস্থান বদলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ইস্যুতে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা। বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

  • RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তথা সেখানকার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি ইডিকে (ED) দিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজেই সে কথা জানালেন। পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের বিশেষ সচিবের সই করা নিদের্শের প্রতিলিপিও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ডের ‘ন্যায় বিচার’-এর লক্ষ্যে এটি একটি ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’ বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

    আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একটি মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।” তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ‘বোন অভয়া’র নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই রাজ্যবাসী ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। সেই মামলায় তৎকালীন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অনৈতিকভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ধীরগতির করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়” এবং কোনওভাবেই সত্য চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।

    কেন রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন

    যেহেতু সন্দীপ সরকারি কর্মচারী, তাই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার অনুমতি রাজ্য সরকারের থেকে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ইডি সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি পায়নি। এত দিন তা আটকে ছিল। অবশেষে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি সরকারের তরফ থেকে দিয়ে দেওয়া হল। সন্দীপকে দোষী সাব‍্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে কার্যত ইডির সামনে এখন আর কোনও বাধা রইল না। শুভেন্দু আরও লেখেন, ‘আমি চাই, বোন অভয়ার প্রকৃত দোষীরা দ্রুত চিহ্নিত হোক। কঠোরতম শাস্তি পাক এবং বাংলার মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করুক। বোন অভয়ার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।’

    আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি

    আরজি কর কাণ্ড রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। ‘অভয়া’ নামে পরিচিত ওই তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রশাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্ত চলাকালীন আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সময় থেকেই সন্দীপ ঘোষের নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হাসপাতালের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক লেনদেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। এবার সেই ‘স্যানকশন অফ প্রসিকিউশন’ মঞ্জুর হওয়ায় তদন্ত আরও দ্রুত এগোবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত সন্দীপ

    প্রতিলিপিতে উল্লেখ করা আছে, পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করার পর, প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং কর্তব্যে গাফিলতি, যা ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১২০বি ধারার সঙ্গে পঠিত ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮ (২০১৮ সালের সংশোধিত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন)-এর ৭ ধারার অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি আর্থিক দুনীর্তি প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর ধারা ২(১)(য়)-এর অধীনে নির্ধারিত অপরাধের আওতাভুক্ত। এর ফলেই সন্দীপ-সহ মা তারা ট্রেডার্স, ইশান ক্যাফে এবং খামা লোহা-র বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    আরও কারা কারা জড়িত

    পানিহাটির সদ্যনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মা তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন আরও অনেকে, এমন অভিযোগ এবং তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার জন্য নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে বন্দি রয়েছে সঞ্জয় রায়। কিন্তু সে একা নয়, আরও অনেকে ওই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। ওই তরুণীর মৃতদেহ তড়িঘড়ি নিয়ে এসে সৎকার করে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও সন্দেহজনক বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অন্যায়ের বিরুদ্ধে নয়া সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতি

    শাসকদলের দাবি, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি এবং প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই আরজি কর মামলায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়া আইনি কাঠামোর মধ্যেই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকরী, অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার প্রতিলিপিটি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব, সহকারী অধিকর্তা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, সিজিও কমপ্লেক্স, এমএসও এবং ডিএফকেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্যবাসীর একাংশ এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই মামলায় দ্রুত বিচার এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি উঠছিল।

  • Chaos at Park Circus: ভিড়ে মিশে বহিরাগতরা, আগাম ইন্টেলিজেন্স ছিল, কীভাবে পার্ক সার্কাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করল কলকাতা পুলিশ?

    Chaos at Park Circus: ভিড়ে মিশে বহিরাগতরা, আগাম ইন্টেলিজেন্স ছিল, কীভাবে পার্ক সার্কাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করল কলকাতা পুলিশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রতিবাদে অশান্ত পার্ক সার্কাস (Chaos at Park Circus) সেভেন পয়েন্ট। বেআইনি জমায়েত, রাস্তা অবরোধের চেষ্টা। রবিবার অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ইটবৃষ্টি করে। পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় জখম হয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়ি ও একটি বাসও। পুলিশ সূত্রে খবর, তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দাদের নামে এই জমায়েত হলেও সেখানে বাইরের লোকও উপস্থিত ছিল।

    কীভাবে চলে হামলা

    পুলিশের দাবি, জমায়েতের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এগিয়ে গেলে আচমকাই তাদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ঘটনার জেরে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পুলিশবাহিনী। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও (Central Forces) ঘটনাস্থলে নামানো হয়েছে বলে খবর। ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি অসীম বিশ্বাস জানান, অবৈধ জমায়েত হয়েছিল। রাস্তা অবরোধের চেষ্টা চলছিল। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশের উপর হামলা করা হয়। পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পাশেই থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বাসেও বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ।

    কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনল পুলিশ

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ৩ জন আহত হন। ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ পুলিশের। গ্রেফতার করা হয়েছে ২০ জনকে। ধৃতদের মধ্যে একজন ফেসবুক লাইভ করে আজ জমায়েতের ডাক দিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। তিনি আরও জানান, গোটা ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন পুলিশকর্তা। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি অশেষ বিশ্বাস এই ঘটনার তাব্র নিন্দা করেন। ঘটনাস্থলে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

    কেন অশান্ত পার্ক সার্কাস

    গত ১২ মে তিলজলা থানা এলাকার জিজে খান রোডের একটি চারতলা বাড়ির দোতলায় থাকা কারখানায় আগুন লাগে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্তে প্রাথমিক ভাবে ওই ঘটনায় বেআইনি বাড়ি, বেআইনি কারখানার মতো বিষয় সামনে এসেছে। আগুন লাগার ঘটনার পরেই তিলজলার ওই বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা শুরু হয়। তবে তার উপর কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, পার্ক সার্কাসে রবিবার দুপুরে বিক্ষোভের মূল কারণ তিলজলায় বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙা। পুলিশের একাংশের দাবি, শনিবার রাতেই পার্ক সার্কাসে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা হয়, তবে সেই সময়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া গিয়েছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভ দেখানোর ডাক দেওয়া হয়। এ দিন দুপুর ২টো নাগাদ প্রায় ৪০০ জনের একটি জমায়েত দেখা যায় পার্ক সার্কাস সাত মাথার মোড়ে। ওই বিক্ষোভ ও অবরোধের জেরে ঘণ্টা খানেক রাস্তা বন্ধ ছিল। রবিবার হওয়া সত্ত্বেও ব্যস্ত ওই তল্লাটে স্বভাবতই যানজট হয়

    বাইরের লোকও মিশেছিল দাবি পুলিশের

    তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহারের প্রতিবাদে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টে উপস্থিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের বক্তব্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের এই অবৈধ জমায়েতে বাইরের লোকও মিশে ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইন্টেলিজেন্সের তথ্য পেয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল পুলিশ। সেজন্য বড় ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলে জানালেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি অশেষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, “অবৈধ জমায়েত হয়েছিল। রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করছিল। পুলিশ হঠাতে গিয়েছিল। তখন পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।” ডেপুটি কমিশনার (সাউথ–ইস্ট ডিভিশন বা এসইডি) সৈকত ঘোষ জানান, এ দিনের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, বেনিয়াপুকুর থানার ওসি এবং কয়েক জন পুলিশকর্মী, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাসচালক ও সাধারণ মানুষ— সব মিলিয়ে জনা দশেক আহত হয়েছেন।

    ইন্টেলিজেন্সের তথ্য ছিল, বড় কিছু হয়নি

    পুলিশের উপর হামলাকারীদের ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এর পিছনে কারা রয়েছে, আমরা খতিয়ে দেখছি। আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাইরে থেকেও লোক এসেছিল। আমরা সব খতিয়ে দেখছি। কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা কাউকে ছাড়ব না। কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আমাদের ৩ পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। আমাদের কাছে ইন্টেলিজেন্সের তথ্য ছিল। আমরা তৈরি ছিলাম। সেজন্য বড় কিছু হয়নি।” বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশের উপর হামলা হলে লাঠিচার্জ হবেই। জেন্ডার দেখা হবে না।” রাজ্যের শাসকদল বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র দেবজিত সরকার বলেন, ‘সংবিধান স্বীকৃত আইনের কোনও বিরোধিতা করা যাবে না। সকলকে সংবিধান ও দেশের আইন মেনে চলতে হবে। না–মানলে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে। রাজ্য সরকারের পুলিশ পদক্ষেপ করায় তাদের অভিনন্দন।’

  • Chandranath Rath Murder: ‘বিচার হবে’, চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে কান্নাভেজা চোখে কথা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Chandranath Rath Murder: ‘বিচার হবে’, চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে কান্নাভেজা চোখে কথা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রতিটি অন্যায়ের ‘বিচার হবে’। খুন হওয়া আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath Murder) বাড়িতে গিয়ে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সদ্য নির্বাচনের ফলাফল জানা গিয়েছে তখন। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে বিজেপি। তখনও সিদ্ধান্ত হয়নি যে, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটানা। মধ্যমগ্রামের কাছে রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। ভয়ঙ্কর সেই রাতের পর ১১ দিন অতিবাহিত। রবিবার, চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে তাঁর বাড়ি গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে ভিজল তাঁর চোখও।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা আছে

    রবিবার চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে তাঁর দেশের বাড়ি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে। সন্ধ্যায় চণ্ডীপুর এলাকায় চন্দ্রনাথের বাড়িতে পৌঁছন শুভেন্দু। আপ্তসহায়কের ছবিতে মালা দিয়ে তিনি কথা বলেন চন্দ্রনাথের মা-সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন পুত্রহারা হাসিরানি রথ। মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার পর চন্দ্রনাথের মা বলেন, ‘‘উনি যে আমার বাড়িতে এসেছেন, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য। আমার ছেলেকে মনে রেখেছেন উনি। অনেকেই পদ পাওয়ার পর সব ভুলে যান। কিন্তু উনি এসে কান্নাকাটি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আমাদের পাশে আছেন। দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেবেন উনি। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা আছে। আশা রাখছি, ছেলের খুনের বিচার হবে।’’

    দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

    চন্দ্রনাথের খুনের তদন্তে রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করে। সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’জন এবং বক্সার থেকে এক ‘শার্প শুটার’কে গ্রেফতার করে আনে তারা। কিন্তু মূল চক্রী কে, কার ষড়যন্ত্রে এই খুন, তা এখনও জানা যায়নি। আপাতত এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে। হাসি জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন চন্দ্রনাথকে তিনি নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু সে কথায় আমল দেননি তাঁর পুত্র। মহিলার কথায়, ‘‘হয়তো ভবানীপুরের হার মেনে নিতে পারেনি মাননীয়া। সে জন্য আমার ছেলেকে খুন হতে হল। যাঁরা আমার ছেলেকে মেরেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হোক। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের আস্থা আছে। উনিও দোষীদের কঠোর শাস্তি চেয়েছেন। আমরা বিচার চেয়েছি। সিবিআইয়ের তদন্ত এগোলে সবটা জানতে পারব।’’

LinkedIn
Share