Author: pranabjyoti

  • India China Talks: সীমান্ত-সম্পর্ক উন্নত করতে ফের বৈঠকে ভারত-চিন, কী আলোচনা হল?

    India China Talks: সীমান্ত-সম্পর্ক উন্নত করতে ফের বৈঠকে ভারত-চিন, কী আলোচনা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলাচ্ছে বৈশ্বিক রাজনীতি। পরিবর্তন হচ্ছে সম্পর্কের গাঁটছড়ারও। প্রত্যাশিতভাবেই গলছে ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ (India China Talks)। চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বুধবার জানিয়েছে, চিন ও ভারতের সেনাবাহিনী দুই দেশের সীমান্তের (Border) পশ্চিম অংশের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রক এও জানিয়েছে, এই বৈঠকটি ২৫ অক্টোবর ভারতের দিকে মোলদো-চুশুল সীমান্ত বৈঠক পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই রাজি হয়েছে যে তারা সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাবে।

    আলোচনা হয়েছে আগেও (India China Talks)

    এর আগে জুলাই মাসেও পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশ আলোচনায় বসেছিল। চিন তাকে খোলামেলা আলোচনা বলে বর্ণনা করেছিল। এই বৈঠকটি ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যকর প্রক্রিয়া কাঠামোর মধ্যেই হয়। সেই সময়ই চিনের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল যে উভয় পক্ষই চলতি বছরের শেষের দিকে পরবর্তী দফার আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। জুলাই মাসের আলোচনার ফল সম্পর্কে ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মন্ত্রক এও জানিয়েছিল যে, এই আলোচনা শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।

    ভারত-চিন সম্পর্কের লেখচিত্র

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অক্টোবরের পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সামরিক অচলাবস্থা শেষ হওয়ার পর থেকে ভারত ও চিনের সম্পর্কের লেখচিত্র ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী (India China Talks)। অগাস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনের ফাঁকে চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন। এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সাত বছর পর প্রথম চিন সফর। প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠককে ফলপ্রসূ বলেই উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “উভয় পক্ষ সীমান্ত (Border) এলাকায় শান্তি বজায় রাখার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থ ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে।” উল্লেখ্য যে, ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে সমঝোতা হলেও, উভয় পক্ষের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এখনও পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি (India China Talks)।

  • INDI Bloc Manifesto: ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতির সংকলন’, বিহারে মহাজোটের ইস্তাহারকে তুলোধনা বিজেপির

    INDI Bloc Manifesto: ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতির সংকলন’, বিহারে মহাজোটের ইস্তাহারকে তুলোধনা বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইস্তাহার প্রকাশ করেছে বিজেপি (BJP) বিরোধী ২৬টি রাজনৈতিক দলের জোট ‘ইন্ডি’ (India Bloc Manifesto)। এই ইস্তাহারে দেওয়া হয়েছে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি। তার পরেই ‘ইন্ডি’ জোটের গ্র্যান্ড অ্যালায়েন্সের ইস্তাহারকেই নিশানা করল বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নিত্যানন্দ রাই মঙ্গলবার এই ইস্তাহারকে ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতির সংকলন’ অভিধায় ভূষিত করেছেন। তাঁর মতে, বিহারের জনগণকে ভুল পথে চালিত করাই এই ইস্তাহারের লক্ষ্য।

    স্বপ্ন বিক্রি করার চেষ্টা (India Bloc Manifesto)

    নিত্যানন্দ বলেন, “তেজস্বী যাদব ও তাঁর মিত্ররা স্বপ্ন বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা রাজ্যে ফের একবার জঙ্গলরাজ ফিরিয়ে আনতে চান।” তিনি বলেন, “তেজস্বী যাদব ও মহাগঠবন্ধনের নেতারা ইস্তাহারের নামে একগুচ্ছ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছেন। বিহারের মানুষ জানেন, এঁরা সেই একই লোক, যাঁরা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবসান ঘটাতে চান।” বিহারের ভোটারদের প্রতি কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রীর আহ্বান, “আপনারা এই ভ্রান্তিকর দাবিতে বিভ্রান্ত হবেন না। ১৪ নভেম্বর ফের একবার ক্ষমতায় আসবে এনডিএ সরকার।” আরজেডি নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী বিহারকে অপরাধমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিন সে প্রসঙ্গ টেনে নিত্যানন্দ বলেন, “তেজস্বী যাদব দাবি করছেন যে তিনি বিহারকে অপরাধমুক্ত করবেন। কিন্তু পুরো রাজ্য জানে বিহারকে অপরাধের পাঁকে ঠেলে দিয়েছিল কে।”

    অরাজক শক্তি

    তিনি বলেন, “যদি মানুষ আরজেডির মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে প্রভাবিত হন, তাহলে (India Bloc Manifesto) বিহারে আবার দিনের আলোয় অপহরণ, লুটপাট এবং খুনের ঘটনা নিত্য ঘটতে থাকবে।” নিত্যানন্দ উজিয়াপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ। তিনি বলেন, “১৯৯০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে আরজেডি এবং লালু পরিবারের রাজত্বেই বিহার ধ্বংস হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বেই রাজ্য প্রকৃত উন্নয়ন দেখেছে।” কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “বিহারের মানুষ আর কখনও অরাজক শক্তির হাতে তুলে দেবে না রাজ্যের ক্ষমতার রশি (BJP)।” তেজস্বীকে কটাক্ষ করে বিজেপির এই নেতা প্রশ্ন তোলেন তাঁর প্রশাসনিক রেকর্ড নিয়ে। তিনি বলেন, “তেজস্বী যাদব তাঁর জঙ্গলরাজের সময় কত চাকরি দিয়েছিলেন? কত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন? কোথায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলেন? বরং তাঁরা দোকান ও ঘরবাড়ি লুট করেছে, জমি দখল করেছে, আর অপহরণের শিল্প তৈরি করেছিলেন (India Bloc Manifesto)।”

    প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে বিজেপি

    বিজেপি যে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে, এদিন তা-ও মনে করিয়ে দেন নিত্যানন্দ। তিনি বলেন, “আমরা রাম মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম মা সীতার জন্য পুনৌরা ধামে একটি বিশাল মন্দির নির্মাণের। নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা তা করে দেখিয়েছি।” মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার বিহারে প্রকৃতই উন্নয়ন এনেছে।” তিনি বলেন, “দেশজুড়ে ৩০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে ওপরে উঠেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিহারের তিন কোটিরও বেশি মানুষও। এখন প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ ও কলের জল পৌঁছে গিয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক পরিবার পাচ্ছে ৫ লাখ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা (India Bloc Manifesto)।”

    এনডিএর ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    তেজস্বীদের বর্তমান ইস্তাহারে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতিই ঢের আগে পূরণ করে দিয়েছে বিহারের এনডিএ সরকার, দাবি নিত্যানন্দের। তিনি বলেন, “তেজস্বী যাদবের ইস্তাহারে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি যেমন, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নারী কল্যাণ, ও সরকারি চাকরি – অনেক আগেই বাস্তবায়ন করেছে বিহারের বর্তমান সরকার। নিত্যানন্দ বলেন, “এনডিএর ডাবল ইঞ্জিন সরকার বিহারের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক থেকে শুরু করে পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি ঘটছে (BJP)।” প্রসঙ্গত, ইন্ডি জোটের প্রকাশিত ইস্তাহারের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘তেজস্বী পণ’। একাধিক জনমোহিনী প্রতিশ্রুতির ঘোষণাই এই ইস্তাহারের প্রধান আকর্ষণ। এর মধ্যে রয়েছে পরিবার প্রতি একটি করে সরকারি চাকরি, মহিলাদের জন্য মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা এবং প্রতিটি পরিবারকে ২০০ করে ইউনিট বিদ্যুৎ দেওয়া হবে নিখরচায়।

    তেজস্বীই মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ

    ‘ইন্ডি’ জোটের তরফে ইস্তাহার প্রকাশ করা হলেও, তেজস্বীই যে মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ, দিন কয়েক আগে তেজস্বীকে পাশে বসিয়ে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অশোক গেহলট। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, তেজস্বী যাদব সর্বভারতীয় জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিকাশশীল ইনসান পার্টির প্রধান মুকেশ সাহনি হবেন উপমুখ্যমন্ত্রীর মুখ (India Bloc Manifesto)।

    প্রসঙ্গত, আসন বণ্টন দিয়ে ইন্ডি জোটে এক সময় বিরাট ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন সাহনি স্বয়ং। মহাজোট থেকে তিনি বেরিয়ে যেতে পারেন বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল। পরে অবশ্য মেটে গন্ডগোল (BJP)।

  • Pak Afgan Peace Talks: ভেস্তে গেল পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা, জানুন আসল কারণ

    Pak Afgan Peace Talks: ভেস্তে গেল পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা, জানুন আসল কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেস্তে গেল পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা (Pak Afgan Peace Talks)। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওই আলোচনা হচ্ছিল তিন দিন ধরে। তার পরেও সমঝোতায় পৌঁছতে পারেননি দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় দুই দেশই একে অন্যকে দুষছে। তবে হাল ছাড়েননি তুরস্ক ও কাতারের আধিকারিকরা, যাঁরা এই আলোচনার ব্যবস্থা করেছিলেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করছেন এঁরা। ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। শাহবাজ শরিফের দেশের দাবি, তারা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান, সংক্ষেপে টিটিপির (TTP) ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ, এই টিটিপি শ’য়ে শ’য়ে পাক সেনাকে হত্যা করেছে।

    প্রতিরোধ আফগানিস্তানের (Pak Afgan Peace Talks)

    পাকিস্তান হামলা চালাতেই প্রতিরোধ গড়ে তোলে আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন। তারা সীমান্তজুড়ে পাল্টা-আক্রমণ চালায়। সংবাদ মাধ্যমের খবর, লড়াই ছিল অত্যন্ত তীব্র। তালিবানের দাবি, তারা পাকিস্তানের ২০টি নিরাপত্তা চৌকি ধ্বংস করেছে, খতম করেছে ৫৮ জন পাক সেনাকে। দুই দেশের এই সংঘাত থামাতে মাঠে নেমে পড়ে পাকিস্তানের ‘বন্ধু’ দেশ সৌদি আরব এবং কাতার। তাদের মধ্যস্থতায় দু’পক্ষই ১৯ অক্টোবর তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। প্রথম দফার বৈঠক হয়েছিল দোহায়। দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা হয় ইস্তাম্বুলে (Pak Afgan Peace Talks)।

    কেন ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা?

    কেন ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা? সূত্রের খবর, পাকিস্তানের দাবি ছিল, তালিবান প্রশাসন লিখিতভাবে জানাক যে তারা কড়া হাতে দমন করবে টিটিপিকে। যদিও ইস্তাম্বুলের আলোচনায় পাক প্রতিনিধি দল সাফ জানিয়ে দেয়, টিটিপি যদি পাকিস্তানে হামলা চালায়, তাহলে পাকিস্তানেরও অধিকার থাকবে আফগান ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালানোর। তালিবান প্রশাসনের প্রতিনিধি দলও পাকিস্তানকে জানিয়ে দেয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনগুলিকে আফগানিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া অবিলম্বে (TTP) বন্ধ করতে হবে।

    আফগানিস্তানের প্রতিনিধি দল সাফ জানিয়ে দেয়, টিটিপি পাকিস্তানের একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা, আফগানিস্তানের নয়। তারা পাকিস্তানকে এই বলেও আশ্বস্ত করে যে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের ওপর আক্রমণের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের আক্রমণ শুরু করার অধিকারও তারা মেনে নেবে না। দু’পক্ষই তাদের দাবিতে অনড় থাকায় ভেস্তে যায় শান্তি আলোচনা (Pak Afgan Peace Talks)।

  • HAL UAC Pact: ফের মাঝারি মাপের যাত্রিবাহী বিমান তৈরি হবে ভারতে, সই হল মউ

    HAL UAC Pact: ফের মাঝারি মাপের যাত্রিবাহী বিমান তৈরি হবে ভারতে, সই হল মউ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের মাঝারি মাপের যাত্রিবাহী বিমান (Civil Jet) তৈরি হবে ভারতে। যাত্রী পরিবহণের জন্য সাড়ে তিন দশকেরও পর ভারতে তৈরি হবে এসজে ১০০। এজন্য মউ স্বাক্ষর করেছে ভারতের হ্যাল (হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড) এবং রাশিয়ার ইউএসি (ইউনাইটেড এয়ারক্র্যাফ্ট কর্পোরেশন) (HAL UAC Pact)। চুক্তি অনুসারে, ভারতীয় উড়ান সংস্থাগুলির জন্য এসজে ১০০ বিমান তৈরি করার স্বত্ব পেয়েছে হ্যাল।

    মস্কোয় স্বাক্ষরিত মউ (HAL UAC Pact)

    সোমবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় স্বাক্ষরিত হয়েছে মউ। তার পরেই হ্যালের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হ্যাল এবং ইউএসির মধ্যে এই সহযোগিতা দুই সংস্থার পারস্পরিক আস্থার ফল। এই প্রথম ভারতে সম্পূর্ণ যাত্রিবাহী বিমান তৈরি করা হবে। এর আগে এই ধরনের শেষ উদ্যোগ ছিল হ্যালের অভ্র এইচএস – ৭৪৮। ১৯৬১ সালে সেগুলি তৈরি শুরু হয়েছিল, বন্ধ হয়ে যায় ১৯৮৮ সালে।” হ্যাল জানিয়েছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে অন্তর্দেশীয় উড়ানের জন্য ভারতের প্রয়োজন ২০০টিরও বেশি বিমান। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্বল্প দূরত্বের বিদেশি পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন আরও সাড়ে তিনশো বিমানের।

    হ্যালের বক্তব্য

    এসজে-১০০ বিমানগুলি সাধারণত স্বল্প দূরত্বের যাত্রার জন্য তৈরি করা হয়। এগুলি বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারের মতো বড় বিমান নয়। অন্তর্দেশীয় উড়ান পরিষেবায় সচরাচর যে মাপের বিমান ব্যবহার করা হয়, এগুলিও সেই রকমই। বিবৃতিতে হ্যাল জানিয়েছে, “স্বল্প দূরত্বের যাত্রার জন্য এসজে-১০০ গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে। ভারতে অন্তর্দেশীয় বিমান যোগাযোগকে আরও নিবিড় করতে উড়ান প্রকল্প শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় দেশে স্বল্প দূরত্বের বিভিন্ন রুটে বিমান চলাচল চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র (HAL UAC Pact)। বিমানবন্দরের সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

    এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় উড়ান প্রকল্পের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট ন্যারো-বডি এসজে-১০০ বিমান তৈরি করতে উদ্যোগী হল ভারতীয় সংস্থা হ্যাল। সংস্থার দাবি, এই উদ্যোগ (Civil Jet) ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রকে আত্মনির্ভর ভারত হিসেবে তুলে ধরার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে (HAL UAC Pact)।

  • SIR: বাংলা-বিহার দুই রাজ্যেরেই ভোটার ভোটকুশলী পিকে! হলটা কী ‘SIR’?

    SIR: বাংলা-বিহার দুই রাজ্যেরেই ভোটার ভোটকুশলী পিকে! হলটা কী ‘SIR’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি ভোটকুশলী। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘কৌশল’ বেচে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জেতানোয় তাঁর নাকি (SIR) দারুন হাতযশ! আদতে বিহারের বাসিন্দা এই প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) ওরফে পিকে-কে ২০১৪ সালে বাংলায় ডেকে নিয়ে এসেছিলেন কালীঘাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য তথা তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। উদ্দেশ্য ছিল, বাংলায় তৃণমূলকে ভোট-বৈতরণী পার করে দেওয়া। জনশ্রুতি এই যে, পিকের সংস্থার দাওয়াইয়ের জেরেই পর পর দু’বার ক্ষমতায় এসে টানা তিনবার মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে রয়ে গিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি ‘জন সুরাজ পার্টি’ নামে নিজে একটি দলও খুলেছেন পিকে। আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট-ময়দানে নেমেও পড়েছে তাঁর দল। এহেন পিকেই ফের একবার চলে এলেন খবরের শিরোনামে। না, রাতারাতি বিরাট কিছু করে ফেলেননি তিনি। তবে বাংলায় এসআইআরের ঢাকে কাঠি পড়তেই ‘মুখোশ’ খুলে পড়েছে এই ভোটকুশলীর।

    বাংলায় এসআইআর (SIR)

    ফেরা যাক খবরে। ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনের আগে এসআইআর করতে চাইছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কেবল এ রাজ্যেই নয়, গোটা দেশেই, যে প্রক্রিয়ার নান্দীমুখ হয়ে গিয়েছে পড়শি রাজ্য বিহারে। সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন বাংলায় এসআইআরের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। রাত ১২টায় ফ্রিজ করে দেওয়া হয় ভোটার তালিকা। তার পরেই দেখা গেল, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়েছে কেউটে! জানা গেল, বাংলা এবং বিহার দু’রাজ্যেরই ভোটার তালিকায় জ্বলজ্বল করছে ভোটকুশলীর নাম! পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা অনুযায়ী, তিনি কলকাতার বাসিন্দা। ঠিকানা ১২১, কালীঘাট রোড। এই ঠিকানাটি আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের শীর্ষ কমান্ডার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর এলাকার মধ্যে পড়ে। প্রশান্ত কিশোরের নাম রয়েছে বিহারের করহাগর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায়ও। ওই রাজ্যে তাঁর ভোটকেন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কোনার। এই গ্রামই প্রশান্ত কিশোরের পৈতৃক গ্রাম।

    একই সঙ্গে দুই রাজ্যের ভোটার পিকে

    অর্থাৎ একই প্রশান্ত কিশোর একই সঙ্গে দুই রাজ্যের (SIR) ভোটার। একটি রাজ্যে লড়ছে তাঁর দল, আর একটি রাজ্যে তৃণমূলকে জেতাতে মরিয়া তাঁরই হাতে গড়া সংস্থা আই-প্যাক। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানতে চেয়েছে, প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) কি নাম কাটার জন্য আবেদন করেছিলেন? বিষয়টি ইচ্ছাকৃত কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে কমিশন। উল্লেখ্য, কোনও একজন ভোটারের একই সঙ্গে দুই জায়গার ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ম বহির্ভূত।

    পিকের টিমের বক্তব্য

    একই সঙ্গে দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি পিকে স্বয়ং। তবে তাঁর টিমের এক সদস্য বলেন, “বঙ্গের ভোট শেষ হওয়ার পরই তিনি ভোটার হন বিহারের। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।” তবে সেই আবেদন বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট নয় (SIR)। এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিনোদ সিং গুঞ্জিয়াল।

    কী বলছে আইন

    প্রসঙ্গত, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ এর ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় নাম রাখতে পারেন না। ১৮ নম্বর ধারায়ও বলা হয়েছে, একই কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় একাধিকবার নাম তোলা আইন বিরুদ্ধ। তবে, কোনও ভোটার বাসস্থান পরিবর্তন করলে তিনি ফর্ম ৮ পূরণ করে নয়া ঠিকানার ভোটার তালিকায় তাঁর নাম স্থানান্তর করতে পারেন (SIR)। নির্বাচন কমিশনের মতে, দেশে একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম থাকা নতুন কিছু নয় (Prashant Kishor)। এই কারণেই নির্বাচন কমিশন চালু করেছে এসআইআর, যার নান্দীমুখ হয়ে গিয়েছে বিহারে। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিহারের ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৬৮.৬৬ লাখ নাম। এর মধ্যে ৭ লাখ ভোটারের নামই ছিল একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায়।

    বিজেপির বক্তব্য

    এ প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য লেখেন, “জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার — দুই জায়গায়ই… আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাহুল গান্ধীর সব সহযোগীরাই ‘ভোট চুরি’তে জড়িত। এই কপটতা বিস্ময়কর।”

    তৃণমূলের বক্তব্য

    কলকাতার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “১২১, কালীঘাট রোড আমাদের দলীয় কার্যালয়। প্রশান্ত কিশোর তখন এখানে কাজ করতেন এবং প্রায়ই থাকতেন। তবে তিনি এখান থেকে ভোটার হিসেবে নাম তুলেছেন কিনা, তা জানি না (SIR)।” রাজনৈতিক মহলের মতে, কাজরি না জানলেও, বিষয়টি নিশ্চিত জানতেন তৃণমূলের সর্বময় কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জানতেন পিকের টিমের সদস্যরা। তাছাড়া, পার্টি অফিসের ঠিকানা (Prashant Kishor) দেখিয়ে যে কোনও ‘গৃহস্থে’র নাম (পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী এবং পার্টি অফিসই যাঁর ঘর, তাঁদের কথা অবশ্য আলাদা) ভোটার তালিকায় তোলা যায়, তা দেখিয়ে দিলেন (SIR) ভোটকুশলী স্বয়ং।

    এটাও কি ভোটকৌশলেরই অঙ্গ ‘SIR’?

  • SIR: বাংলায় শুরু এসআইআর, জেনে নিন ভোটার তালিকায় নাম রাখতে গেলে যা করতে হবে

    SIR: বাংলায় শুরু এসআইআর, জেনে নিন ভোটার তালিকায় নাম রাখতে গেলে যা করতে হবে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) শুরু গিয়েছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন, সংক্ষেপে এসআইআরের (SIR) কাজ। এই এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা ধরেই আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন করতে চাইছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সোমবারই বিকেলে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হবে ২৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার থেকে। এর পরেই উঠছে নানা প্রশ্ন। এসআইআর হলে কী কী নথির প্রয়োজন? কাদের নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে? কারাই বা অবৈধ ভোটার?

    ‘এনুমারেশন’ ফর্ম (SIR)

    কমিশন সূত্রে খবর, এসআইআরের জন্য রাজ্যের প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে পৌঁছে যাবে ‘এনুমারেশন’ ফর্ম। ফর্ম পৌঁছে দেবেন বুথ লেভেল অফিসার, সংক্ষেপে বিএলওরা। এই ফর্মের সঙ্গেই কমিশনের বেঁধে দেওয়া নথি জমা দিতে হবে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের কোনও নথিই দিতে হবে না। ওই তালিকায় নাম থাকলেই এসআইআরে তাঁদের নাম উঠে যাবে। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ১১টি নথির মধ্যে যে কোনও একটি এবং ২০০২ সালের তালিকায় বাবা অথবা মায়ের নাম রয়েছে, তা প্রমাণ করতে পারলেই নাম উঠবে নয়া তালিকায়।

    যে সব নথির প্রয়োজন

    কমিশন নির্দিষ্ট যে ১১টি নথির প্রয়োজন, সেগুলি হল কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন কিংবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি, জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট, মাধ্যমিক বা তার অধিক কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র, ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট, জাতিগত শংসাপত্র, কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার এবং জমি কিংবা বাড়ির দলিল। এর বাইরেও এমন কোনও নথি যা নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারে, তাও গ্রহণ করা হবে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো আধারকার্ড দেখানো গেলেও, তাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ধরবে না কমিশন (SIR)। অর্থাৎ, আধারের পাশাপাশি উপরের ১১টির মধ্যে যে কোনও একটি দেখাতে হবে। এখনকার ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য দু’টি করে এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হবে। এই ফর্মে ভোটারের এপিক (West Bengal) নম্বর, নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ-সহ ৯০ শতাংশ তথ্য ছাপা থাকবে। এই সব ফর্ম ভোটারদের বাড়িতে পৌঁছে দেবেন বিএলওরা। ফর্মের বাকি অংশ পূরণ করে উপযুক্ত নথি-সহ একটি দিয়ে দিতে হবে বিএলওকে, অন্যটি থাকবে ভোটারের কাছে।

    নাম বাদ যাবে

    প্রশ্ন হল, কাদের নাম বাদ যাবে? মৃত এবং ভুতুড়ে ভোটারের নাম বাদ যাবে প্রথমেই। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে পরিবারের কারও নাম নেই এবং সংশ্লিষ্ট ভোটার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ, তাঁর নাম বাদ যেতে পারে। যাঁরা অন্যত্র চলে গিয়েছেন কিংবা যাঁদের নাম দু’টি এপিক নম্বরে দু’জায়গায় রয়েছে, তাঁদের নাম এক জায়গা থেকে বাদ পড়বে। কারচুপি করে তালিকায় নাম তোলা ব্যক্তিরা ‘অবৈধ ভোটার’। ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারলে বাদ পড়বে এদের নামও।

    নতুন করে নাম তোলা

    প্রশ্ন হল, নতুন করে নাম তোলা যাবে কিনা? নতুন নাম অবশ্যই তোলা যাবে। যাঁদের ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাঁদের নতুন করে ওই তালিকায় নাম তোলাতে হবে। এঁরা অবশ্য এনুমারেশন ফর্ম পাবেন না। কমিশনের ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে নথিভুক্ত করতে (West Bengal) হবে নাম। কমিশনের আগের বেঁধে দেওয়া নিয়মেই তোলা যাবে নতুন করে নাম (SIR)।

    ভোটার লিস্ট

    প্রশ্ন হল, ২০০২ সালের ভোটার লিস্ট কোথায় মিলবে? সিইও দফতরের ওয়েবসাইটে ওই লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সময়কার বিধানসভা এলাকা অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার সেখান থেকেই ভোটগ্রহণ কেন্দ্র মিলিয়ে নাম রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন ভোটাররা। ভোটাররা প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের সাহায্য নিতে পারবেন।

    প্রশিক্ষণের কাজ শুরু 

    মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণের কাজ, চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪ নভেম্বর থেকে পরবর্তী এক মাস ধরে চলবে এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া-নেওয়ার কাজ। ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। কোনও সমস্যা হলে অভিযোগ জানানো যাবে আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই পর্বেই শুরু হয়ে যাবে বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশনের কাজ। এই কাজ শুরু হবে ৯ ডিসেম্বর থেকে, চলবে নতুন বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (SIR)।

    ম্যাপিংয়ের কাজ

    বর্তমানে বাংলায় ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লাখ। ২০০২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫৮ লাখ। অর্থাৎ ভোটার (West Bengal) বেড়েছে তিন কোটির কিছু বেশি। এর ওপর ভিত্তি করেই এসআইআর করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ২০০২ সালের সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই তালিকায়ই যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা ম্যাপিংয়ের আওতায় আসছেন। এই অর্থ হল, এই ভোটারদের চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যে ভারতীয়, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত কমিশন। তাঁদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই (SIR)।

    শেষবার এসআইআর

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে শেষবার এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে, বাম জমানায়। সেবারের সংশোধিত তালিকার (SIR) সঙ্গে রাজ্যের ভোটার তালিকার ম্যাপিংয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই এসআইআর করেই সব ভোটারের নাম নতুনভাবে নথিভুক্ত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন এসআইআর করতেই পারে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রাজ্য তথা দেশের ভোটার তালিকায় কোনও ভুয়ো ভোটার বা ভুতুড়ে ভোটার বা একই নামের ভোটার দু’জায়গায় রয়েছেন কিনা কিংবা তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ মারা গিয়েছেন কিনা – এসবই সংশোধন করার এক বিশেষ প্রক্রিয়াই হল এসআইআর।

    এসআইআরে অংশ না নিলে?

    প্রশ্ন হল, এসআইআরে অংশ না নিলে কী সমস্যা হতে পারে? জানা গিয়েছে, এসআইআর হলে ২০২৬ সালে যে নয়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন, তাতে নাম থাকবে না। স্বাভাবিকভাবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন না ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে, তাতে নাম রাখতে গেলে অংশ নিতেই হবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় (SIR)।

    বাদ পড়তে পারে ১ কোটি নাম

    পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হলে বাদ পড়তে পারে প্রায় এক কোটি নাম। যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য কমিশনের কাছে নেই। তবে কমিশনের আধিকারিকদের একাংশের অনুমান, নয়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে কমবেশ এক কোটি নাম। তাঁদের যুক্তি, ২০০২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বছরের হিসেব ধরলে মৃত এবং অন্যত্র চলে গিয়েছেন, এমন ভোটারের সংখ্যা অন্তত ৭৫ লাখ। এর সঙ্গে গত ২৩ বছরে অবৈধ ভোটারের সংখ্যাটা যোগ করলে দেখা যাবে বাদের খাতায় (West Bengal) নামের গণ্ডী ছাড়িয়েছে কোটির ঘর। যদিও এটা নিছকই অনুমান মাত্র। কমিশনের দেওয়া তথ্য নয়।

    কমিশন সূত্রে খবর, বিএলও নিয়োগ নিয়ে কিছু অসুবিধা থাকলেও, বাকি সব প্রস্তুতি সারা হয়ে গিয়েছে বলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সিইও মনোজ আগরওয়াল (SIR)।

  • SIR: “পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার দায়বদ্ধতার কথা জানে, পালনও করবে”, বললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

    SIR: “পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার দায়বদ্ধতার কথা জানে, পালনও করবে”, বললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে এসআইআর (SIR)। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ তথা তৃণমূলের আপত্তি নিয়ে এদিন কমিশনের (Election Commission) সাংবাদিক বৈঠকেই প্রশ্ন উঠেছিল। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এখনই কোনও চাপানউতোর বা বিতর্কে ঢুকতে চাননি। শুধু আইনের একটি ধারার কথা মনে করিয়ে দেন।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য (SIR)

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপারে প্রশ্ন নিয়ে একটা কথাই বলতে চাই – ভারতের সংবিধানের ৩২৪ (৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপাল নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী নির্বাচন কমিশনারের কাছে সরবরাহ করতে বাধ্য। এই কর্মীরা নির্বাচন পরিচালনা, ভোটার তালিকা প্রস্তুত ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকেন। আবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার দায়িত্ব রয়েছে রাজ্য সরকারের। আমি মনে করি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই দায়বদ্ধতার কথা জানে, এবং তা পালন করবে।”

    তৃণমূলের বক্তব্য

    এসআইআর প্রক্রিয়া বাংলায় শুরু করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এ ব্যাপারে নীতিগতভাবে আপত্তি জানাচ্ছে বাংলায় শাসক দল তৃণমূল। জোড়াফুলের সাংসদদের একাংশ এবং তৃণমূলের কিছু নেতাও এসআইআর নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অরাজনৈতিক নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা উচিত। বিজেপির প্রভাবে কোনওভাবে প্রভাবিত হয়ে যদি কোনও বৈধ ভোটারকে বাদ দিতে চান, তখন সাংবিধানিকভাবে তার প্রতিবাদ হবে।”

    কুণালের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে (SIR) বিজেপির মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল এখন যে কথা বলছে, তাতে একটা কথাই বলতে পারি, এসআইআর নিয়েও পাল্টি খেল তৃণমূল। গতকাল পর্যন্ত তৃণমূলের অবস্থান ছিল, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর করতে দেব না। আর আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ঘোষণার পর তৃণমূল বলছে, এসআইআর নিয়ে বিজেপির প্ররোচনায় পা দেবেন না। তার মানে আইন মেনে এসআইআরে অংশ নিচ্ছে। বিজেপি কোনওদিন এসআইআর নিয়ে প্ররোচনা দেয়নি (Election Commission)। বিজেপি বলেছে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, অবৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে হবে (SIR)।”

  • ECI: মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে শুরু এসআইআর, জানুন কীভাবে সম্পন্ন হবে এই প্রক্রিয়া

    ECI: মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে শুরু এসআইআর, জানুন কীভাবে সম্পন্ন হবে এই প্রক্রিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন, সংক্ষেপে এসআইআর-এর (SIR) কাজ। আগেই জানা গিয়েছিল, সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআরের সময়সূচি ঘোষণা করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। প্রথম পর্যায়ে তারা ঘোষণা করেছিল বিহারে এসআইআরের কাজের নির্ঘণ্ট। তার কারণ, নভেম্বরেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে সে রাজ্যে।

    কোন কোন রাজ্যে এসআইআর (ECI)

    এদিন দ্বিতীয় দফায় ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের দিনক্ষণ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। যে সব রাজ্যে আগামী বছরেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, সেই সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর হবে আগে। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হওয়ার কথা মার্চের শেষাশেষি, তাই মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে শুরু হয়ে যাবে এসআইআর প্রক্রিয়া। এই তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরির নামও। এদিন বিকেল ৪টে ১৫মিনিট নাগাদ দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, সফল হয়েছে প্রথম দফার এসআইআর। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে।

    এসআইআরের মূল উদ্দেশ্য

    এসআইআরের মূল উদ্দেশ্যগুলির একটি হল (ECI), অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত ও অপসারণ করা। এজন্য ভোটারদের জন্মস্থান যাচাই করার কাজেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ এবং মায়ানমার থেকে যেসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ভারতে ঢুকেছে, তাদের বিরুদ্ধেই তৎপরতা চালানো হচ্ছে (SIR)। এদিনের বৈঠকে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এই এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে এই দফায় এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হতে চলেছে। তবে অসমে এই পর্বে এসআইআর হচ্ছে না। সেখানে এসআইআর হবে আলাদা করে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “এসআইআরের দায়িত্ব বৈধদের রাখা, অবৈধদের বাদ দেওয়া। আর যে কোনও নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিহারে এসআইআর সফল হয়েছে। সেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ বা আবেদন আসেনি।” এসআইআরের সময় প্রথমে এনুমারেশন ফর্ম প্রিন্ট করা হবে। যে রাজ্যে এসআইআর হবে, সেখানকার ভোটারদের সূচি সোমবার রাত ১২টায় ফ্রিজ করে দেওয়া হবে। সেই সূচিতে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের ওই ফর্ম দেওয়া হবে। বিহারের মতো আধার কার্ডকেও পরিচয়পত্র হিসেবে মান্যতা দেওয়া হবে। যদিও আধার কখনওই নাগরিকত্ব ও জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না (SIR)।

    মঙ্গলবার শুরু প্রশিক্ষণের কাজ

    মঙ্গলবার থেকে (ECI) শুরু হবে প্রশিক্ষণের কাজ। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। তার পরের দিন থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া ও জমা নেওয়ার কাজ চলবে। ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নেওয়া হবে অভিযোগ। এই পর্বেই শুরু হয়ে যাবে বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশনের কাজ। যা চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। জানা গিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে যাবেন বুথ লেভেল অফিসার, সংক্ষেপে বিএলওরা। এই ফর্মের সফট কপি ইআরও পোর্টালে আগেই তুলে দেবে কমিশন। পরে সেগুলি যাবে ছাপার জন্য। একজন ভোটারের জন্য দু’টো করে এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হবে।

    এনুমারেশন ফর্ম

    বর্তমানে বাংলায় ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লাখ। এনুমারেশন ফর্মগুলি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবেন বিএলওরা। এই ফর্মে ভোটারের নাম, এপিক নম্বর, ঠিকানা, জন্মতারিখ-সহ বেশিরভাগ তথ্য ছাপা থাকবে। ফর্মের বাকি অংশ পূরণ করে উপযুক্ত নথি-সহ জমা দিতে হবে। দু’টি ফর্মের মধ্যে একটি থাকবে সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে, অন্যটি নিয়ে যাবেন বিএলওরা। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, বিহারের মতোই এ রাজ্যেও বর্তমানে ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা সবাই এনুমারেশন ফর্ম পাবেন (ECI)। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে শেষবার এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে, বাম জমানায়। সেবারের সংশোধিত তালিকার (SIR) সঙ্গে রাজ্যের ভোটার তালিকার ম্যাপিংয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এসআইআর করে সব ভোটারের নাম নতুনভাবে নথিভুক্ত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন এসআইআর করতেই পারে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রাজ্য তথা দেশের ভোটার তালিকায় কোনও ভুয়ো ভোটার বা ভুতুড়ে ভোটার বা একই নামের ভোটার দু’জায়গায় রয়েছেন কিনা কিংবা তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ মারা গিয়েছেন কিনা – এসবই সংশোধন করার এক বিশেষ প্রক্রিয়া হল এসআইআর।

    এসআইআর হলে বিপাকে পড়বে তৃণমূল!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হলে বিপাকে পড়বে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ শাসক দলের নেতাদের একাংশকে হাত করে বিভিন্ন আইডি প্রুফ সংগ্রহ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে বহু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা। বাম আমলে ২০০২ সালের পরে দলে দলে এদের পশ্চিমবঙ্গে ঠাঁই দেওয়া হলেও, সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা। বিরোধীদের মতে, এদের ভোটেই পুষ্ট হয়েছে শাসক দল। তাই এসআইআরের মাধ্যমে এদের ছাঁটাই করতে পারলেই কেল্লাফতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই একই ভয় পাচ্ছে রাজ্যের শাসক দলও। গদি খোয়াবার ভয়ে তারা সোচ্চার হয়েছে এসআইআরের বিরুদ্ধে। এসআইআর নিয়ে অপপ্রচারও চালানো (SIR) হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    এখন দেখার, এ রাজ্যে এসআইআর নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় কিনা (ECI)!

  • Calcutta High Court: “রাজ্যে কি আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে?” পশ্চিমবঙ্গের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: “রাজ্যে কি আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে?” পশ্চিমবঙ্গের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার হাইকোর্টের (Calcutta High Court) কাছে মুখ পুড়ল রাজ্যের! রাজ্যের সব আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের। রাজ্যের উচ্চ ও নিম্ন আদালতগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন খাতে পর্যাপ্ত অর্থের বরাদ্দ নিয়ে আরও একবার আদালতের ক্ষোভের মুখে পড়ল তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার (West Bengal Govt)। এর আগেও মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ভর্ৎসনা করেছিল বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ।

    অর্থ চেয়েও না মেলায় ক্ষোভ আদালতের (Calcutta High Court)

    পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ প্রয়োজনীয় নানা কাজে অর্থ চেয়ে রাজ্যের দ্বারস্থ হয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট প্রশাসন। অর্থের জন্য হন্যে হলেও, অর্থ তো মেলেইনি, বরং এ সংক্রান্ত অন্তত ৫৩টি ফাইল আটকে রয়েছে। এর সমাধান হওয়া তো দূর অস্ত, পেপারলেস অবস্থায় চলছে আদালতের কাজকর্ম। হাইকোর্ট এবং জেলা আদালতগুলিতে প্রয়োজনীয় কর্মী নেই। লাখ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে যে  সংস্থা আদালতে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছে, তাদের। এনিয়ে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। তার পরেও পরিস্থিতি যথা পূর্বং, তথা পরং। পুজোর ছুটির মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্যের অর্থ দফতরের সচিবের বৈঠকে সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আদালতের তরফে। তাতেও সুরাহা হয়নি। এদিকে সোমবার রাজ্যের পক্ষে ফের সময় চাওয়া হয়। এর পরেই ক্ষোভ উগরে দেন দেবাংশু বসাক এবং মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ।

    কী বলছে আদালত

    বিচারপতি বসাক বলেন, “বিএসএনএলের তিন বছরের বিল বাবদ বাকি ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। হাইকোর্টের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিলে কী হবে? আজ সরকারি ছুটি মানেই তো আর ইন্টারনেট হলি-ডে নয়! রাজ্য কি কনসলিডেলেট ফান্ড রিজার্ভ ব্যাঙ্কে রাখে? তাহলে তার অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন। অ্যাটাচ করে দেব। সব লেনদেন বন্ধ রাখুন তাহলে! আরবিআইকে বলছি লেনদেন বন্ধ করতে।” তিনি বলেন, “রাজ্যের প্রশাসনিক (Calcutta High Court) মাথা, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব – তাঁরা এক মাসেও কিছু করতে পারলেন না। রাজ্যের ভূমিকায় আমরা বাকরুদ্ধ। আমরা এগুলি রাজ্যের নজরে আনছি।” এই মামলায় এর আগে দু’বার (West Bengal Govt) ভার্চুয়াল হাজিরা দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব। এদিন সে প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বসাক বলেন, “উনি (মুখ্যসচিব) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার পরেও কেন টাকা দেওয়া হল না?” এর পরেই তিনি বলেন, “রাজ্যে কি আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে? আপনারা তো প্রথম লাইনেই মিথ্যে কথা বলছেন!” প্রসঙ্গত, বছর তিনেক ধরে বকেয়া থাকায় ৩৬টি প্রকল্পের কাজ আটকে রয়েছে। মেটানো হয়নি বিএসএনের প্রাপ্য বকেয়া বিলও।

    রাজ্য সরকার মিথ্যের আশ্রয় নিচ্ছে!

    বেঞ্চের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “হাইকোর্টের কাজে অর্থ বরাদ্দ করা কি প্রশাসনিক কাজের মধ্যে পড়ে না? গত তিন বছর যথেষ্ট সময়। বিল দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি? দেখে তো মনে হচ্ছে শামুক আর কচ্ছপের দৌড় প্রতিযোগিতা হচ্ছে।” বিচারপতি দেবাংশু বসাক বলেন, “এই যদি হাইকোর্টের অবস্থা হয়, তাহলে নিম্ন আদালতগুলির কী অবস্থা!” এদিন রাজ্যের তরফে আইনজীবী জানান, ৬০ লাখ টাকা মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ৩০ তারিখের মধ্যে (West Bengal Govt) বাকি টাকা দেওয়া হবে। অর্থ দফতরের আধিকারিক বলেন, “আমরা দু’দিনের মধ্যে অর্ধেক টাকা মিটিয়ে দিচ্ছি।” বিচারপতি (Calcutta High Court) বসাকের ফের প্রশ্ন, “কেন দু’দিন সময় লাগবে? এখন তো সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাঠানো যায়!” রাজ্যের তরফে জানানো হয় রাজ্য সরকারের ছুটি রয়েছে। এর পরেই বেঞ্চ বলে, “এখন তো অনলাইনেই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া যায়। ছুটি বলে তো আর ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ নয়! আদালত মনে করে, রাজ্য সরকার এই বিষয়ে মিথ্যের আশ্রয় নিচ্ছে।”

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন

    এদিন শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন রাজ্যের অর্থ দফতরের এক আধিকারিক। বেঞ্চ তাঁর কাছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর জানতে চাইলে তিনি জানান, আরবিআইয়ের অ্যাকাউন্ট নম্বর জানা নেই তাঁর। এর পরেই আদালত (Calcutta High Court) বলে, “আমরা বসে আছি। এখনই মুখ্যসচিবকে ফোন করে অ্যাকাউন্ট নম্বর জেনে জানান।” এদিন রাজ্যের তরফে উপস্থিত আইনজীবী বলেন, “দয়া করে একটু সময় দেওয়া হোক। বিলের ২.৯ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।” বেঞ্চের প্রশ্ন, “কিন্তু সেই টাকা কি আদৌ আদালতের হাতে এসেছে?”

    আদালতের নির্দেশ

    এর পরেও রাজ্যের তরফে এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১০ নভেম্বর। বেঞ্চের নির্দেশ, তার আগে ২৯ অক্টোবর এবং ৬ নভেম্বর বিষয়টি (West Bengal Govt) নিয়ে ফের বৈঠকে বসতে হবে রাজ্য এবং হাইকোর্ট (Calcutta High Court) প্রশাসনকে। মুখ্যসচিবের পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে অর্থসচিবকেও।

  • World Bank Report: পাকিস্তানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নগামী, বলছে বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট

    World Bank Report: পাকিস্তানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নগামী, বলছে বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপাতদৃষ্টিতে এক ঝলক দেখলে মনে হবে সব ঠিক আছে। কারণ শেয়ার বাজার ঊর্ধ্বমুখী, সরকার আইএমএফ সমর্থিত সংস্কারের ঢাক পেটাচ্ছে (World Bank Report)। পাকিস্তানের এই ঝাঁ চকচকে ছবিটাই ধূলিমলিন হয়ে গেল বিশ্বব্যাঙ্কের সর্বশেষ মূল্যায়নের রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, শাহবাজ শরিফের দেশে নিত্য বাড়ছে দারিদ্র ও বৈষম্য, যা প্রভাবিত করছে লাখ লাখ পরিবারকে।

    দারিদ্র্য ও স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ক রিপোর্ট (World Bank Report)

    বিশ্বব্যাঙ্কের দারিদ্র্য ও স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ম্যাক্রো ইকোনোমিক স্থিতিশীলতা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নগামী হয়েছে। দারিদ্র্যের হার, যা ২০০১ সালে ৬০ শতাংশের বেশি থেকে ২০১৮ সালে প্রায় ২১ শতাংশে নেমে এসেছিল, তা ফের ২০২৩–২৪ সালের মধ্যে বেড়ে হয়েছে ২৭ শতাংশেরও বেশি। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মানদণ্ডে বিচার করলে দেখা যায়, বর্তমানে পাকিস্তানের প্রায় অর্ধেক জনগণ দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করছে। রিপোর্টটি আঞ্চলিক বৈষম্যের দিকেও আলোকপাত করেছে। পাকিস্তানের গ্রামীণ এলাকাগুলি, বিশেষত বালুচিস্তান ও সিন্ধ প্রদেশ, ইসলামাবাদ ও লাহোরের মতো শহরের তুলনায় নিদারুণভাবে বঞ্চনার শিকার। অপুষ্টি ছড়িয়ে রয়েছে কমবেশি সর্বত্র। পাঁচ বছরের নীচে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুই খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে। শিক্ষা ব্যবস্থার হাল করুণ হওয়ায় অসংখ্য তরুণ-তরুণী উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত নয় (World Bank Report)।

    পাকিস্তানের শ্রমবাজার

    পাকিস্তানের শ্রমবাজারও পরিকাঠামোগত দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমিক কাজ করেন ইনফর্মাল খাতে। এখানে কোনও চুক্তি, সুযোগ-সুবিধা বা সামাজিক সুরক্ষা নেই। মহিলা শ্রমিকরা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামান্য আয় কমে যাওয়াও স্থবির মজুরি ও মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে লাখ লাখ মানুষকে আরও গভীর দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।আইএমএফ-সমর্থিত সংস্কারগুলি ম্যাক্রো ইকনোমিক স্থিতিশীলতা এনেছে বটে, কিন্তু এই উন্নতির বাস্তব সুফল এখনও পৌঁছয়নি সাধারণ মানুষের কাছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক রয়েছেন। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল। প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণেও অনেকেই তাঁদের কার্যকলাপ সীমিত করে ফেলেছেন।

    এদিকে, বিশ্বব্যাঙ্ক চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬.৫ শতাংশ করেছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ভারতের শক্তিশালী ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিসম্পন্ন প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের অবস্থান। এই রিপোর্টই দুই প্রতিবেশী দেশের অর্থনৈতিক গতিপথের পার্থক্যকে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে (World Bank Report)।

LinkedIn
Share