Author: pranabjyoti

  • India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন (India Slams China)। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠককে ঘিরে বেজিং যে (Sovereignty Row) ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ভারতের, চিনের নয়। কারণ, ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ডের একটি অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে চিন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলগুলিতে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

    জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক (India Slams China)

    সম্প্রতি ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়া বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দাবি করে, তাইওয়ান ও তিব্বত-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত তার আগের অবস্থানই বজায় রেখেছে এবং চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, চিনের জারি করা বিবৃতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রসঙ্গ-বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বরং জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার ভারতেরই রয়েছে, কারণ ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতাই দীর্ঘদিন ধরে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “ভারত সবসময় চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেছে এবং কখনও এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, যা চিনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে সেই কথা বলা যায় না। ১৯৬৩ সাল থেকে তারা জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ড বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির ওপর ভারতের আইনগত অধিকার সম্পর্কে চিনও অবগত। সেই অবস্থায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বেজিংয়ের দাবি পরস্পরবিরোধী। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধেও আবারও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ভারত। ভারত আবারও স্পষ্ট করেছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না। ২২ জুলাইয়ের বৈঠকে জয়শঙ্কর ওয়াং ই-কে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত (India Slams China)।” তিনি জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই লক্ষ্যেই দুই দেশ কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বর্তমান ব্যবস্থাগুলিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    ভারতের সাফ কথা

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হওয়া ভারত-চিন সেনা অপসারণ চুক্তির প্রসঙ্গেই। পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ওই চুক্তি হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সেনা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। ওই চুক্তির আওতায় দেপসাং ও দেমচকের মতো শেষ দু’টি স্পর্শকাতর এলাকায়ও সেনা অপসারণের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। এর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানো সম্ভব হয় এবং দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয় (Sovereignty Row)। তবে ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কেবল সেনা অপসারণ যথেষ্ট নয়। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গত ছ’বছর ধরে এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে নয়াদিল্লি (India Slams China)। এই ঘটনার মাধ্যমে ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আবার সামনে এসেছে। ম্যানিলার বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও চিন দু’টি বৃহৎ, প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী দেশ। ফলে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মতভেদ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়, সেটাই কূটনীতির দায়িত্ব। এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৭ সালে ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও দুই দেশ একমত হয়েছিল যে, মতপার্থক্যকে সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

    ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকায় জোর

    এদিকে, চিনের বিদেশমন্ত্রক বৈঠককে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে। সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলি বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বেজিং। অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বিষয়গুলি যথাযথভাবে পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি (India Slams China)। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুমেরুকরণ ও আরও গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ভারত বরাবরই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। চিনের ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়ে ভারত আবারও জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের বেআইনি দখল (Sovereignty Row) এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা প্রকল্পের বিরোধিতাই ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে থাকবে (India Slams China)।

     

  • India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় (India) নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। সোমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সান্দর পলিশচুককে (Ukraine Ambassador) তলব করে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজকে টার্গেট করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করে এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

    ভারতের বিবৃতি (India)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে হামলার জেরে এক ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে সাউথ ব্লকে তলব করা হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ-পরিবহণের নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌ-পরিবহণ, অবাধ নৌ-চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।” ভারত আরও জানায়, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তিনি ভারতের এই উদ্বেগ এবং কড়া বার্তা দ্রুত ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন। বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়েও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

    এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে আগেও

    ঘটনাটি ঘটেছে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে। সেখানে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে মোট চার জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, চার জনের মধ্যে দু’জন নিরাপদে রয়েছেন। তবে বাকি দু’জনের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে (Ukraine Ambassador)। এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছে না নয়াদিল্লি। কারণ চলতি মাসেই একই ধরনের আর একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল (India)। গত ১৯ জুলাই ওডেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছিল। সেই ঘটনায় চার ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, গুরুতর জখম হয়েছিলেন একজন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের ওপর ঘটে যাওয়া পরপর দু’টি প্রাণঘাতী ঘটনায় উদ্বেগ অনেকটাই বেড়েছে।

    ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া

    পরপর এই হামলার জেরে ভারত সরকার কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত অসংখ্য অসামরিক জাহাজ যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে কোনও পরিস্থিতিতেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনের দূতাবাসও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দূতাবাসের তরফে জারি করা বিবৃতিতে নিহত ভারতীয়দের পরিবারের প্রতি “গভীর সমবেদনা” জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। যদিও হামলার দায় বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিকেই এই ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    ইউক্রেনের বক্তব্য

    ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব একটি বৈঠক বা টেলিফোনে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে খুব শীঘ্রই আলোচনা হবে বলে আমরা আশা করছি। সেই আলোচনায় কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।” কূটনৈতিকমহলের মতে, এই ঘটনা ভারত-ইউক্রেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে। যদিও ভারত শুরু থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছে, তবুও ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে নয়াদিল্লি কোনও আপস করতে রাজি নয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই এই তলবের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর সামুদ্রিক অঞ্চল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ওপরই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, খাদ্যশস্য পরিবহণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাকি ভারতীয় নাবিকদের খোঁজ (Ukraine Ambassador) নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি (India) সূত্রের খবর।

     

  • Sreelekha Mitra: প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগে আইনি জটিলতা বাড়ল শ্রীলেখার, অভিযোগ দায়ের আরও তিন থানায়

    Sreelekha Mitra: প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগে আইনি জটিলতা বাড়ল শ্রীলেখার, অভিযোগ দায়ের আরও তিন থানায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের (NEET Protest) প্রতিবাদে কলকাতার মিছিলে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি-সম্বলিত পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের (Sreelekha Mitra) বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। বিধাননগর সাইবার থানা ও আনন্দপুর থানার পর সোমবার আরও তিন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুরুলিয়া সদর থানা, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এবং মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ দায়ের হয়েছে ঠাকুরপুকুর থানায়ও।

    একের পর এক থানায় দায়ের এফআইআর (Sreelekha Mitra)

    পুরুলিয়া সদর থানায় জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বিজেপির সাংগঠনিক জেলার নেতারাও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এর আগে রবিবার আনন্দপুর ও বিধাননগর সাইবার থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে এই ঘটনায় আদালতেরও দ্বারস্থ হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর “জিরো টলারেন্স” নীতির প্রসঙ্গ টেনে কেয়া বলেন, “দরকার হলে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে যাব।” শুক্রবার কলকাতায় নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত ছাত্রছাত্রীদের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন শ্রীলেখা। অভিযোগ, সেই মিছিলে তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একাধিক কুরুচিকর ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় এবং একের পর এক থানায় অভিযোগ দায়ের হতে শুরু করে।

    শ্রীলেখার বক্তব্য

    যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীলেখা। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, পুরো বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির ফল। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিকভাবে আমি বিজেপির বিরোধিতা করলেও, প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ ঠিক নয়।” অভিনেত্রীর দাবি, তিনি সেদিন শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়েছিলেন (Sreelekha Mitra)। ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়োয় একটি পোস্টার হাতে তুলে নিতে হয়েছিল। তিনি আরও জানান, সেদিন চশমা সঙ্গে নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। তাঁর কাছে শুধু সানগ্লাস ছিল। তাই পোস্টারে কী লেখা বা কী ছবি ছিল, তা ঠিকঠাক দেখতে পারেননি। শ্রীলেখাকে ঘিরে বিতর্ক এই প্রথম নয়। অতীতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনি চর্চায় এসেছেন। তবে (NEET Protest) বর্তমান ঘটনায় একাধিক জেলায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের (Sreelekha Mitra)।

     

  • Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক ও দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন (Anti Paper Leak Bill) আনার পথে হাঁটল কেন্দ্র। সোমবার, ২৭ জুলাই, লোকসভায় জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই (Modi Government) সংশোধনী বিলের মাধ্যমে বর্তমানে চালু আইনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, জনপরীক্ষার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী প্রয়োজন।

    লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ (Anti Paper Leak Bill)

    এদিন বিল পেশের সময়ই লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ হয়। বিরোধী দলগুলির সদস্যরা নিট ইস্যুতে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশ যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে। বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা দুপুর ২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই কঠোর আইনের দাবি জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রায় দু’বছর আগে প্রণীত আইনে আরও সংশোধন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

    বিলে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন জনপরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অসাধু উপায়ের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এর ফলে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আইনকে আরও শক্তিশালী করে পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনগুলির মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় যে ফাঁকফোকর ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি বিশেষ আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার ব্যবস্থাও করা হবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। বর্তমানে অসাধু উপায়ে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে সেই শাস্তি বাড়িয়ে ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)। জরিমানার অঙ্কও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িত থাকার প্রবণতা অনেকটাই কমবে।

    কোটি টাকা জরিমানা

    শুধু ব্যক্তি নয়, পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান আইনে এই ধরনের সংস্থার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং চার বছরের জন্য জনপরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সেই জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা পরিচালনায় সরকারের যে ব্যয় হয়েছে, তার আনুপাতিক অংশও ওই সংস্থার কাছ থেকে আদায় করা হবে। একই সঙ্গে আট বছরের জন্য তাদের জনপরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনও দায়িত্ব পালন থেকে নিষিদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে (Modi Government)। দ্রুত তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও এই সংশোধনী বিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণে বর্তমানে চালু আইনে নতুন দু’টি ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নতুন ধারাগুলির মাধ্যমে তদন্ত এবং বিচার সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)।

    তদন্ত চালানো হবে সহজ

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও মামলার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে তুলে দিলে, সেই তদন্ত রেফারেন্স পাওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তদন্ত নয়, বিচার প্রক্রিয়াকেও দ্রুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ার পর বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতকে তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর ফলে বহু বছর ধরে মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা কমবে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা সরকারের। এছাড়া আন্তঃরাজ্য বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজন হলে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত পরীক্ষা জালিয়াতির ঘটনায় তদন্ত চালানো সহজ হবে। চালু আইনেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের বিধান ছিল, তবে নতুন সংশোধনীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে পৃথক বিশেষ দল গঠনের ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকারের বক্তব্য

    সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা শুধু পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও নষ্ট করে। তাই কঠোর শাস্তি, সময়ে তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের সমন্বয়ে একটি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য (Modi Government)। এই বিলটি এমন একটি সময়ে লোকসভায় আনা হয়েছে, যখন নিট-সংক্রান্ত বিতর্ক দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং তার জেরে ছাত্রদের দীর্ঘ আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছিল। এই আবহেই সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সেই ঘটনার পরপরই সরকার আরও কঠোর সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

    বিরোধী দলগুলির দাবি

    বিরোধী দলগুলির দাবি, শুধু কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (Anti Paper Leak Bill)। এখন সংশোধনী বিলটি সংসদের পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার পর অনুমোদনের জন্য বিবেচিত হবে। সংসদের দুই কক্ষের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে কার্যকর হবে (Modi Government) নতুন বিধানগুলি।

     

  • Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্পের (Jan Aushadhi Kendras) মাধ্যমে দেশের মানুষের ওষুধ কেনার খরচে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। লোকসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানান (India) কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সারমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ১৪৯। দেশের ৭৮৪টি জেলার মধ্যে ৭৭৬টিতে ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্রগুলির পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। ২০০৮ সালে স্বল্পমূল্যে মান-নিয়ন্ত্রিত জেনেরিক ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পের সূচনা হলেও, প্রথম দিকে এর অগ্রগতি ছিল ধীর। পরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প হিসেবে নতুনভাবে চালু হওয়ার পর দ্রুত সম্প্রসারণ শুরু হয়। ২০২১ সালের জুন মাসে কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৩৬। ২০২৪ সালে তা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। একই বছরে বার্ষিক ওষুধ বিক্রি এক হাজার কোটি টাকার গণ্ডিও অতিক্রম করে। ২০২৫ সালের জুনে কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার, ৯১২ এবং তখন পর্যন্ত নাগরিকদের মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এক বছরেরও কম সময়ে আরও তিন হাজারের বেশি নতুন কেন্দ্র চালু হওয়ায় কেন্দ্রের সংখ্যা ২০ হাজার পেরিয়েছে এবং মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকায়।

    সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ে বড় স্বস্তি (Jan Aushadhi Kendras)

    সরকারের দাবি, জন ঔষধি কেন্দ্রগুলিতে বিক্রি হওয়া ওষুধের দাম বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ-সহ নানা রোগের চিকিৎসায় মানুষের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে ব্র্যান্ডেড ওষুধের দোকান তুলনামূলক কম এবং চিকিৎসার খরচ পারিবারিক বাজেটের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে, সেখানে এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে দাবি সরকারের (Jan Aushadhi Kendras)।

    ওষুধের পাশাপাশি দাম কম অস্ত্রোপচার সামগ্রীরও

    বর্তমানে জন ঔষধি প্রকল্পে ২ হাজার ১১০ ধরনের ওষুধ এবং ৩১৫ ধরনের অস্ত্রোপচার-সরঞ্জাম, চিকিৎসা উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া যায়। হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, অ্যালার্জি, পরিপাকতন্ত্রের রোগ থেকে শুরু করে পুষ্টি-সম্পূরক—প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় জেনেরিক ওষুধই এখন এই প্রকল্পের আওতায় মেলে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় পরিচালকদের ২০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধ সবসময় মজুত রাখার জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদানও চালু করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের ১০০টি সর্বাধিক বিক্রিত ও বাজারে সর্বাধিক ব্যবহৃত আরও ১০০টি ওষুধও।

    মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি

    কম দামের ওষুধের গুণগত মান নিয়ে মানুষের মধ্যে যে (India) সংশয় রয়েছে, তা দূর করতে সরকার একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উত্তম উৎপাদন পদ্ধতির শংসাপত্রপ্রাপ্ত সংস্থার কাছ থেকেই ওষুধ সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি ব্যাচ বাজারে আসার আগে জাতীয় পরীক্ষাগার স্বীকৃতি বোর্ড অনুমোদিত পরীক্ষাগারে মান যাচাই করা হয়। প্রকল্প পরিচালনাকারী ভারতীয় ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যুরো নিয়মিতভাবে কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করে এবং কোথাও ঘাটতি ধরা পড়লে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় (Jan Aushadhi Kendras)।

    নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ

    জন ঔষধি কেন্দ্রগুলি সরাসরি সরকার পরিচালনা করে না। ব্যক্তি উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সমিতি, ট্রাস্ট এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি অনলাইনে আবেদন করে এই কেন্দ্র পরিচালনার সুযোগ পায়। কেন্দ্রীয় পরিচালকরা বিক্রির ওপর নির্ধারিত কমিশনের পাশাপাশি কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মাসিক প্রণোদনাও পান। উত্তর-পূর্বাঞ্চল, হিমালয় অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, প্রাক্তন সেনাকর্মী, মহিলা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতির উদ্যোক্তাদের জন্য আসবাবপত্র ও কম্পিউটার কেনার উদ্দেশ্যে এককালীন ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমবায় সমিতির সঙ্গেও এই প্রকল্প যুক্ত হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে (Jan Aushadhi Kendras)। এ ছাড়া, মাত্র ১ টাকা দামে বিক্রি হওয়া জন ঔষধি সুবিধা স্যানিটারি ন্যাপকিন ইতিমধ্যেই ১০০ কোটিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন মহিলাদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী সহজলভ্য হয়েছে, অন্যদিকে ওষুধ বিক্রির কেন্দ্রগুলির আয়ও বেড়েছে।

    সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন

    দেশের প্রতিটি প্রান্তে ওষুধ পৌঁছে দিতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। একটি কেন্দ্রীয় গুদাম এবং চারটি আঞ্চলিক গুদাম থেকে দেশের বিভিন্ন পরিবেশকের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। প্রায় ৪০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধের মজুত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। চাহিদার পূর্বাভাস নির্ধারণেও এখন ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে জন ঔষধি সুগম মোবাইল অ্যাপ। ৩৮ লাখেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে নিকটতম কেন্দ্রের অবস্থান, ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক ওষুধের দামের তুলনা এবং ওষুধের তাৎক্ষণিক প্রাপ্যতার খবর জানা যায় (Jan Aushadhi Kendras)।

    সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে প্রচার

    শুধু ওষুধ বিক্রিই নয়, জেনেরিক ওষুধ সম্পর্কে মানুষের আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যুরো, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, মাইগভ এবং মাই ভারত-এর সহযোগিতায় সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বেতার, সামাজিক মাধ্যম, প্রচারফলক ও বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে (India)। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট এবং টেলিফোনের মাধ্যমেও নাগরিকদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ ‘জন ঔষধি সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে স্বাস্থ্য শিবির, সচেতনতা র‍্যালি, ফার্মেসি কলেজে সেমিনার এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ৭ মার্চ পালিত হয় ‘জন ঔষধি দিবস’।

    রাজ্যভিত্তিক বিস্তার

    জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে ২ হাজার ৬০০-রও বেশি কেন্দ্র রয়েছে। এর পরে রয়েছে বিহার, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্র। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের মতো প্রত্যন্ত এলাকায়ও এখন জন ঔষধি কেন্দ্র চালু হয়েছে। ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়ও মানুষ এখন ক্রমশ অনিয়ন্ত্রিত উৎসের পরিবর্তে এই কেন্দ্রগুলির ওপর নির্ভর করছেন। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে দেশে ২৫ হাজার জন ঔষধি কেন্দ্র চালু করা। বর্তমানে মাত্র আটটি জেলায় এখনও কেন্দ্র খোলা বাকি রয়েছে। সেখানেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (Jan Aushadhi Kendras)। কেন্দ্রের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প একটি সীমিত পরিসরের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বল্পমূল্যের ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ মানুষের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই (India) দাবি সরকারের।

     

  • Pakistan: গোপন বৈঠকে ভারত-বিরোধী প্রচারের নির্দেশ! পাক সেনার প্রচারযন্ত্রের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

    Pakistan: গোপন বৈঠকে ভারত-বিরোধী প্রচারের নির্দেশ! পাক সেনার প্রচারযন্ত্রের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাবাহিনীর প্রচারযন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন সে দেশের সাংবাদিক ইমরান রিয়াজ (Imran Riaz)। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের ডিজি আইএসপিআর সম্প্রতি দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের কর্তা এবং প্রভাবশালী সাংবাদিকদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমগুলিকে ভারত-বিরোধী জোরদার প্রচার চালানোর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পাক সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবি (Pakistan)

    রিয়াজের দাবি, বৈঠকে সংবাদমাধ্যমগুলিকে বারবার এমন একটি বয়ান প্রচার করতে বলা হয়, যাতে মনে হয় ভারত খুব শীঘ্রই ভেঙে পড়তে চলেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মনগড়া প্রচারের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্র-সমর্থিত তথ্যযুদ্ধকে আরও তীব্র করার চেষ্টা করছে। রিয়াজের বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিকতার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের সামরিক প্রচার বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অভ্যন্তরে এমন এক জনমত গড়ে তুলতে সচেষ্ট, যেখানে ভারতকে দুর্বল ও অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যমকে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ভারতকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন রিয়াজ।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    তাঁর বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের ডিজি আইএসপিআরের দফতর বর্তমানে শুধু সেনাবাহিনীর সরকারি তথ্য প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা সঙ্কট কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের বয়ান নির্ধারণেও এই দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রবল প্রভাব রয়েছে। সরকারি বয়ান থেকে সরে গেলে সংবাদমাধ্যমকে সেন্সরশিপ, প্রশাসনিক চাপ এমনকি ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখেও পড়তে হয়। রিয়াজের দাবি, ওই বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের চেয়ে ভারতবিরোধী প্রচারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, এই (Pakistan) ব্যবস্থার ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কার্যত দমিয়ে রাখা হচ্ছে এবং রাষ্ট্র-অনুমোদিত প্রচারই টেলিভিশন, ডিজিটাল মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

    ভারতে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য

    ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের প্রচারকে পুরনো ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার বলেই মনে করা হয়। গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন মহল বারবার ভারতের ভেঙে পড়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। কিন্তু ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নির্বাচন সেই সমস্ত দাবিকে বারবার ভুল প্রমাণ করেছে (Imran Riaz)। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈচিত্র্যের মধ্যেও ভারতের ঐক্য পাকিস্তানের প্রচারিত বয়ানকে কার্যত অস্বীকার করে। বর্তমানে তথ্যযুদ্ধকে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে ভারত। সেই কারণে টেলিভিশন, ডিজিটাল মিডিয়া, এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদেশি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের মোকাবিলায় ভারত সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে বলেও অভিমত বিশ্লেষকদের।

    শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা!

    এদিকে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে (Pakistan), ভারতের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা।বালুচিস্তানে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এখনও অব্যাহত। সেখানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সংঘাত দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে (Imran Riaz)। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরেও অর্থনৈতিক দুরবস্থা, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এই অভ্যন্তরীণ সঙ্কটগুলির পরিবর্তে ভারতের তথাকথিত অস্থিরতা নিয়ে প্রচার চালাতেই পাকিস্তানের সামরিক প্রচারযন্ত্র বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়

    রিয়াজের দাবি, দেশের প্রকৃত সমস্যার সমাধানের বদলে বিদেশবিরোধী প্রচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র বাস্তব পরিস্থিতি থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত যখন অর্থনীতি ও গণতন্ত্র—উভয় ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী করছে, তখন পাকিস্তানের সামরিক প্রচারযন্ত্র এখনও ভারতবিরোধী প্রচারের পুরনো কৌশলেই আটকে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল শুধু ভারতবিরোধী প্রচার নয়, বরং রাষ্ট্রের তরফে সংবাদমাধ্যমকে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ (Imran Riaz) পরিবেশনের পরিবর্তে বিদেশবিরোধী প্রচারকে () অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করার অভিযোগ।

     

  • BJP: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে প্রথম দিনই ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, দাবি কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের

    BJP: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে প্রথম দিনই ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, দাবি কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ (Student Protest) শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। অন্তত এমনই দাবি করলেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয় (BJP)। তাঁর বক্তব্য, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই তখন ইস্তফা দেননি প্রধান। পরে দল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পদত্যাগ করেন।

    কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের দাবি (BJP)

    শনিবার ইন্দোরে সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজয়বর্গীয় বলেন, “ছাত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই ধর্মেন্দ্র প্রধান বিজেপি সভাপতিকে জানিয়েছিলেন, যদি দলের মনে হয় তাঁর ইস্তফা দেওয়া প্রয়োজন, তাহলে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে প্রস্তুত।” বিজয়বর্গীয়র দাবি, সেই সময় বিজেপি সভাপতি প্রধানকে ইস্তফা দিতে বারণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা না করাই ভালো। মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রীর দাবি, পরে যখন দল সিদ্ধান্ত নেয় যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়া উচিত, তখন তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে পদত্যাগ করেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রশংসা করে বিজয়বর্গীয় বলেন, তাঁর ওপর অর্পিত প্রতিটি দায়িত্ব তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।

    “বিদেশি শক্তির” পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে

    একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ফলে সেই সব “বিদেশি শক্তির” পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে, যারা বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ভারতে অস্থিরতা ছড়াতে চেয়েছিল। তাঁর কথায়, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা সেই বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে, যারা হিংসা ছড়িয়ে ভারতকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল। তিনি যা করেছেন, তার জন্য আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই।” শনিবার নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপরই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং (BJP) নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে টানা ৩৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করে ককরোচ জনতা পার্টি। এই আন্দোলনে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নিয়েছিল বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।

    দায়িত্বে প্রহ্লাদ জোশী

    ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশীকে। বর্তমানে তিনি ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নব ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্বের পাশাপাশি ওই মন্ত্রকগুলির দায়িত্বও তাঁর কাছেই থাকবে। নিট বিতর্কের পর পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কার কার্যকর করার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই দায়িত্ব পেলেন জোশী। দায়িত্ব নিয়ে জোশী বলেন, “আমি কর্তব্যবোধ এবং বিনয়ের সঙ্গে এই দায়িত্ব নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। গত চার থেকে (Student Protest) পাঁচ বছরে ধর্মেন্দ্র প্রধান জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমি আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করব (BJP)।”

     

  • Ayodhya Ram Mandir: রামমন্দিরে অনুদান তছরুপ-কাণ্ডের পর পবিত্রতা পুনঃস্থাপনে আয়োজিত ১০ দিনের প্রায়শ্চিত্তের আচার শেষ

    Ayodhya Ram Mandir: রামমন্দিরে অনুদান তছরুপ-কাণ্ডের পর পবিত্রতা পুনঃস্থাপনে আয়োজিত ১০ দিনের প্রায়শ্চিত্তের আচার শেষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার পূর্ণাহুতির মাধ্যমে শেষ হয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) অনুদান তছরুপ-কাণ্ডের জেরে শুরু হওয়া ১০ দিনের প্রায়শ্চিত্তের ধর্মীয় আচার। ১৫ জুলাই শুরু হওয়া এই আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল (Donation Theft) শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের পবিত্রতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ দিনে মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। ট্রাস্টের ট্রাস্টি মহন্ত দীনেন্দ্র দাস এবং কৃষ্ণ মোহন পূর্ণাহুতি দেন। পরে হয় ব্রাহ্মণ ভোজন। স্থানীয় ব্রাহ্মণদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল ভোজনের।

    ১০ দিনের ধর্মীয় আচার (Ayodhya Ram Mandir)

    মহন্ত দীনেন্দ্র দাস জানান, এই ১০ দিনের ধর্মীয় আচারে অযোধ্যার ৭০ জন বৈদিক আচার্য অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, হোম, রুদ্রাভিষেক এবং রামার্চা পুজো হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পুরো সময়টা ধরে বিষ্ণুর সহস্রনাম পাঠ করেন। ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ স্বামী গোবিন্দ দেব গিরির নির্দেশে এই প্রায়শ্চিত্তের আচার সম্পন্ন হয়। ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, মন্দিরে চুরি, অপবিত্রতা বা অনুরূপ কোনও ঘটনা ঘটলে তার পবিত্রতা পুনঃস্থাপনের জন্য এই ধরনের প্রায়শ্চিত্তের আচার পালনের বিধান রয়েছে। গত মাসে রামমন্দিরের অনুদানের অর্থ তছরুপের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। অনুদানের হিসাবপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর মন্দির কর্তৃপক্ষ পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরে উত্তরপ্রদেশ সরকার এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

    তদন্তকারীদের সন্দেহ

    বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাথমিক ন’পাতার রিপোর্টে উঠে আসে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, নিরাপত্তা, নজরদারি এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর ত্রুটির সুযোগ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এই তছরুপ চলেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকজন কর্মী পোশাক ও জুতোর মধ্যে নগদ অর্থ লুকিয়ে বাইরে নিয়ে যেতেন। আবার তাঁদের সহকর্মীদের একাংশ এই কাজে সহযোগিতা করেছেন বা ঘটনাগুলি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ (Ayodhya Ram Mandir)। প্রতিবেদনে নগদ অনুদান গণনার প্রক্রিয়ায় একাধিক গাফিলতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গণনাকক্ষে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় কর্মীদের যথাযথ তল্লাশি করা হত না। নির্ধারিত পোশাকবিধিও মানা হচ্ছিল না। এমনকি ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও গণনাকক্ষে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি ছিল। এদিকে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। নগদ অনুদান গণনার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩০ জন কর্মী এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন। তাঁদের অতীত পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (Donation Theft)।

    প্রায় পাঁচ দিন আগে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রতিবেদন জমা পড়ার পর নতুন করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, নতুন বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে একজন ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার আধিকারিক থাকতে হবে। তাঁর মতে, এই তদন্ত এখন একটি নির্ণায়ক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে (Ayodhya Ram Mandir)।

     

  • Hindus Under Attack: রাজস্থানে শিশু পাচারের অভিযোগ থেকে দিল্লি দাঙ্গা মামলার রায়, আইএস জঙ্গি নিয়োগ চক্রে চার্জশিট, আর কী?

    Hindus Under Attack: রাজস্থানে শিশু পাচারের অভিযোগ থেকে দিল্লি দাঙ্গা মামলার রায়, আইএস জঙ্গি নিয়োগ চক্রে চার্জশিট, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) ওপর হামলা। এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বহু অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর (Roundup Week) নির্যাতনের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ধীরে ধীরে গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ হিন্দুদের ওপর হওয়া হামলার প্রকৃত ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে উপেক্ষা করে এসেছে। এর পেছনে হিন্দুবিরোধী পক্ষপাতমূলক মনোভাব কাজ করছে বলেও দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য-সহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দুদের অস্তিত্ব ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্রমশ আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ১৯ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাবলির ভিত্তিতে তৈরি এই সাপ্তাহিক প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা অপরাধগুলির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা এবং এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে বিশ্বের আরও বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

    ধর্মীয় উত্তেজনায় চাঞ্চল্য (Hindus Under Attack)

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় উত্তেজনা এবং প্রশাসনিক অভিযানের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজস্থানে আদিবাসী শিশুদের পাচারের অভিযোগ, ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গায় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া, চেন্নাইয়ে হিন্দু মুন্নানির নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, বিহারে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, আইএস জঙ্গি নিয়োগ চক্রে এনআইএর চার্জশিট, তামিলনাড়ুর এক মন্দিরের জমি নিয়ে বিতর্ক এবং মহারাষ্ট্রে খাদ্য সুরক্ষা আইনে একটি বেকারি বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলি সামনে এসেছে।

    শিশু পাচারের অভিযোগ

    বিনামূল্যে শিক্ষাদানের টোপ দিয়ে রাজস্থানের উদয়পুর জেলা থেকে তামিলনাড়ুতে পাচার করা হচ্ছিল সাত আদিবাসী শিশুকে। খবর পেয়ে উদ্ধার করা হয় তাদের। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে দুজন মেয়ে এবং পাঁচজন ছেলে। তাদের বয়স সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে। গোয়া রেল পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করে। অভিযোগ, রাজস্থান, গুজরাট এবং গোয়া হয়ে তামিলনাড়ু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই পাচারের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ, ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে এই নেটওয়ার্ক কাজ করছিল (Hindus Under Attack)। এদিকে, ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গায় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর (Roundup Week) তাহির হুসেন-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দিল্লির একটি আদালত। এই মামলার রায়কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    বাছুর জবাইয়ের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে হিন্দু মুন্নানির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রী শিবাজি অভিযোগ করেন, বাছুর জবাইয়ের খবর পেয়ে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান এবং ঘটনাস্থলে পুলিশকে নিয়ে যান। অভিযোগ, এরপর প্রায় ২০০ জন মুসলিম ধর্মাবলম্বী সেখানে জড়ো হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁর গাড়ি কেড়ে নেওয়া হয়, দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটনাটি ঘটেছে বলেও অভিযোগ (Hindus Under Attack)। বিহারের ছাপরা শহরের একটি বেসরকারি স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক ইনাম রাজার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এক হিন্দু ছাত্রীর পরিবারের তরফে এমন অভিযোগ পেয়ে ওই শিক্ষককে ভগবান বাজার থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এই ঘটনায় দায়ের হয়েছে এফআইআর, চলছে তদন্তও। ঘটনার জেরে বেসরকারি ওই স্কুলটির ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

    এনআইএর চার্জশিট

    অন্যদিকে (Roundup Week), জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ পাঁচজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। অভিযোগ, তারা আইএস জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা বেঙ্গালুরুর যুবকদের চিহ্নিত করা, উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের ষড়যন্ত্রে জড়িত। তদন্তকারীদের দাবি, “ইকরা ক্যাম্প” নামে ব্যক্তিত্ব বিকাশ শিবির এবং নিয়মিত কোরআন পাঠ চক্রের আড়ালে মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তার ও নিয়োগের কাজ চলত (Hindus Under Attack)। তামিলনাড়ুর বেদারণ্যমের বেদারণ্যেশ্বরের মন্দিরের হাজার হাজার একর জমি এবং অন্যান্য সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে দখল, বিতর্ক বা আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে বলে সরকারি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। করুর ইনাম জমি বিতর্কের মধ্যেই এই বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

    বেকারি বন্ধ

    মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের মোশি এলাকার আকসা বেকারি বন্ধ করে দিয়েছে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন। খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ওই বেকারি পরিদর্শনের পর অবিলম্বে সেটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে বেকারির আড়ালে সেখান থেকে চালানো হচ্ছিল একটি অবৈধ গোমাংস কষাইখানা। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বলে খবর (Hindus Under Attack)। বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ ঘৃণাপ্রসূত অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ কাজ করে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষ প্রকাশ্য হলেও, আপাতদৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির, যেমন ভারতের, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি এক ধরনের সূক্ষ্ম বিদ্বেষ বিদ্যমান। এই পরিবেশই হিন্দুবিদ্বেষ এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে বলে অভিযোগ।

    দ্বৈত মানদণ্ড কেন?

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের সূক্ষ্ম ও দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না। তবে প্রচলিত আইন, নীতি এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন ঘটনার ধারা বিশ্লেষণ করলে তার উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলির সময় আতশবাজি বা পটকা ফাটানোর ওপর ধাপে ধাপে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, আপাতভাবে এই নিষেধাজ্ঞাকে পরিবেশ দূষণ রোধের পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর (Roundup Week) আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেই সিদ্ধান্তগুলির পক্ষে পর্যাপ্ত ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যার অভাব পর্যালোচনা করলে দ্বৈত মানদণ্ডের বিষয়টি জলের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • Journalists Attack: ছাত্র সমাবেশে দুষ্কৃতীদের ভিড়! সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১১

    Journalists Attack: ছাত্র সমাবেশে দুষ্কৃতীদের ভিড়! সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় ছাত্র সমাবেশ চলাকালীন হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার (Journalists Attack) ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। গত ২৪ জুলাই হামলা হয় সাংবাদিকদের ওপর (Rally Violence)। শনিবার গ্রেফতারির খবর জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল জানান, যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা কেউই ছাত্র নন।

    সাংবাদিক পিটিয়ে গ্রেফতার ১১ (Journalists Attack)

    তিনি বলেন, “হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা কেউই ছাত্র নয়। তারা সকলেই গোলমাল সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র সংগঠনের সমাবেশে উপস্থিত থেকে তারা ভাঙচুর ও হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।” গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ইরফান খুরশেদ (৩০), আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ (৫০), মহম্মদ মইনুদ্দিন (২৬), মহম্মদ আলমগীর ওরফে রাজু (৪৮), ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী (১৯), খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু (৪৭), জামির আহমেদ ওরফে মিনকু (৪২), মহসিন খান (৩০) এবং দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (৩৮)। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে জনৈক মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে। পুলিশের দাবি, “মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে অন্ডালের কাছে তাদের আটক করা হয়।”

    কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

    এর আগে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় নিট আন্দোলনের সময় পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর “নৃশংস হামলা”র তীব্র নিন্দা করেন। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে জখম হওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি জানান, আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন (Journalists Attack)। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ কলকাতায় দুষ্কৃতীদের হাতে পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। একাধিক আহত সাংবাদিক বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছি। তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

    উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের ব্যানারে আয়োজিত এক (Rally Violence) বিক্ষোভে কয়েকজন আন্দোলনকারীকে বোতল ছুড়তেও দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ (Journalists Attack)।

     

LinkedIn
Share