Author: pranabjyoti

  • Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায় ভগবান রামের (Lord Ram Idol) নির্মীয়মান একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন উগ্র ইসলামপন্থী এক ব্যক্তি। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলমান গোষ্ঠীগুলির নানা মন্তব্যও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হিন্দু দেবতা রামকে ‘হিন্দুত্বের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে হিংসায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

    উগ্র ইসলামি বক্তার হুমকি (Lord Ram Idol)

    ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা’ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক উগ্র ইসলামি বক্তা হুমকি দিয়ে বলেন, “পলাশবাড়ী উপজেলায় হিন্দুদের দেবতা রামের মূর্তি নির্মাণের কাজ যদি নির্বিঘ্নে চলতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে, এ দেশে কোনও সম্মানিত ইসলামি আলেম নেই। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুত্ববাদীদের হাতে গণহত্যার শিকার হওয়ারই যোগ্য।” তিনি এও বলেন, “পলাশবাড়ীতে রামের একটি মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দাও। সরকারকেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলতে হবে। সরকার যদি তা না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ (মুসলমানরা) সেটি ধ্বংস করবে। সরকারকে সাহায্য করা মুসলমানদের দায়িত্ব। বাংলাদেশে এই মন্দির ভেঙে ফেলতেই হবে।”

    ভারত দখলের হুমকি

    এর আগে ভারত দখলের হুমকি দিয়েছিলেন এই উগ্র ইসলামি বক্তা। তাঁর দাবি, “বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো হবে। ভারত দখল করা হবে। মোদি ও তাঁর রাম রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মুসলমানরা যদি একযোগে আক্রমণ করে, তাহলে ভারত এক ঘণ্টাও টিকতে পারবে না।” প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যেই চলছে এই আক্রমণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবকে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশছাড়া করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

     

  • Self Survey Housing Scheme: গ্রামীণ আবাস প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করতে স্ব-সমীক্ষা পদ্ধতি চালুর নির্দেশ পদ্ম সরকারের

    Self Survey Housing Scheme: গ্রামীণ আবাস প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করতে স্ব-সমীক্ষা পদ্ধতি চালুর নির্দেশ পদ্ম সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ আবাস প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অন্যান্য রাজ্যের ধাঁচে এবার এ রাজ্যেও (West Bengal) চালু হচ্ছে ‘সেলফ সার্ভে’ বা স্ব-সমীক্ষা পদ্ধতি। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজেরাই আবাস প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন (Self Survey Housing Scheme)।

    আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি (Self Survey Housing Scheme)

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে ‘AwasPlus 2024’ এবং ‘AadhaarFaceRD’ অ্যাপ ডাউনলোড করে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এরপর সরকারি সার্ভেয়াররা আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী আবেদনকারী এই যোজনায় অনুদান পাওয়ার অধিকারী কিনা, তা যাচাই করবেন। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার জানিয়েছে, যাঁরা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তাঁদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সার্ভেয়াররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে যোগ্য পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করবেন, যাতে কোনও প্রকৃত উপভোক্তা তালিকার বাইরে না রয়ে যান।

    ত্রিস্তরীয় যাচাই ব্যবস্থা

    উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ত্রিস্তরীয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, অন্তত ১০ শতাংশ পরিবারের তথ্য ব্লক বা মহকুমা স্তরে পুনরায় যাচাই করা হবে (Self Survey Housing Scheme)। পাশাপাশি ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্লকস্তরের আধিকারিকদের পৃথক পর্যালোচনা এবং ২ শতাংশ ক্ষেত্রে জেলাস্তরের আধিকারিকদের সরাসরি যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।প্রশাসনের দাবি, এই বহুমাত্রিক যাচাই ব্যবস্থার ফলে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত হবে এবং সম্ভাব্য অনিয়ম বা ভুলত্রুটি সহজেই ধরা পড়বে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগও অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সমীক্ষা ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন (West Bengal) এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Self Survey Housing Scheme)।

     

  • Suvendu Adhikari: সিএএ মামলার পুরনো ফাইল খুলে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর, কীভাবে আদায় করা হবে ক্ষতিপূরণ, জানেন?

    Suvendu Adhikari: সিএএ মামলার পুরনো ফাইল খুলে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর, কীভাবে আদায় করা হবে ক্ষতিপূরণ, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৯ সালে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের (CAA Protest Investigation) সময় ভাঙচুর করা হয়েছিল রেলের সম্পত্তি, আগুন লাগানো হয়েছিল ট্রেনে। ঘটনায় ফের তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে পুরনো মামলার ফাইল আবার খোলার নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    রেলমন্ত্রীর কাছে পদক্ষেপ করার অনুরোধ (Suvendu Adhikari)

    সূত্রের খবর, নবান্নে রেলের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বৈঠকের সময় রেলমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন শুভেন্দু। ২০১৯ সালে মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকায় সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় ট্রেনে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল রেলের। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হয়েছিল রেল পরিষেবা। বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল এবং ঘুরপথে চালিয়ে সামাল দেওয়া হয়েছিল পরিস্থিতি। জানা গিয়েছে, ভবানীপুরে আরপিএফের একটি বিশেষ অফিস গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বসেই পুরনো নথি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলবে। তদন্তে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতা দেওয়ার জন্য রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও পুলিশের শীর্ষ কর্তাদেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

    ক্ষতিপূরণ আদায়

    আইন অনুযায়ী, রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা বা ভাঙচুর করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের অপরাধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশ, ক্ষতিগ্রস্ত রেল সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ অভিযুক্তদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে। কেউ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করলে, আইন অনুযায়ী তার সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করতে হবে (CAA Protest Investigation)। উল্লেখ্য, এই বিষয়ে সরকারি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি আদালতে। তাই নেওয়া হয়নি ব্যবস্থাও। এবার সেই ফাইল ফের খুলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোমর কষে নেমেছে রাজ্যের পালাবদলের সরকার (Suvendu Adhikari)।

     

  • BJP: স্বরূপ গ্রেফতার হতেই টলিপাড়া নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন লকেট-রুদ্রনীল, ক্ষোভ উগরে দিলেন মানুষও

    BJP: স্বরূপ গ্রেফতার হতেই টলিপাড়া নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন লকেট-রুদ্রনীল, ক্ষোভ উগরে দিলেন মানুষও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গোহারা হারতেই নির্বিষ হয়ে পড়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই টলিউডের একছত্রাধিপতি ঘাসফুল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস (Biswas Brothers)। সেই স্বরূপ গ্রেফতার হতেই ক্ষোভের জ্বলন্ত লাভা উগরে দিল টলিউড নামক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি (BJP)! দাদা মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে ব-কলমে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া চলত স্বরূপের অঙ্গুলিহেলনে। তৃণমূলের আশীর্বাদধন্য এহেন স্বরূপ গ্রেফতার হতেই তাঁর স্বরূপ প্রকাশ করে দিলেন টলিউডের কলাকুশলীরা। তাঁর বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং তোলাবাজির অভিযোগে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনেও মামলা দায়ের হয়েছে। এদিন ছোট বিশ্বাসকে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা।

    স্বরূপকে নিশানা লকেটের (BJP)

    পদ্ম-নেত্রী লকেট বলেন, “স্বরূপ বিশ্বাস, অরূপ বিশ্বাস দু’জনে মিলে যেভাবে ইন্ডাস্ট্রিকে বরবাদ করে দিয়েছেন, ১২ বছর আগের থেকে, আজ ২০২৬…শেষ করে দিয়েছেন। ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। শুধু স্বরূপ বিশ্বাস একা নন। স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আরও অনেক লোক আছেন। যাঁরা তাঁকে পাত্তা দিতেন। তাঁর সঙ্গে হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলাতেন, না-তে না মেলাতেন। এর জন্য প্রচুর টেকনিসিয়ান, প্রচুর আর্টিস্টের পেটের ভাত চলে গিয়েছে। আমার মনে হয়, তাঁদেরও শাস্তি হওয়া উচিত। তাঁর বড় ভাই তো ওয়েট করে আছেন, বড় রাঘববোয়াল যারা আছেন, একজন বড় ভাই রয়েছেন। আমরা অপেক্ষায় আছি, কখন সেই রাঘববোয়াল অ্যারেস্ট হন। লজ্জার কথা! আমরা টালিগঞ্জে এরকম কখনও দেখিনি…এই পরিস্থিতি হতে পারে। যা দৃশ্য দেখেছি, তা আমাদের জন্য…একজন শিল্পী হিসাবে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এ জিনিস আপনারা যা দেখে নিয়েছেন, দেখে নিয়েছেন…আগামিদিনে অন্তত এই জিনিস আর আপনারা দেখবেন না।”

    আক্রমণ শানালেন সুকান্তও

    প্রাক্তন মন্ত্রীর ‘গুণধর’ ভাইটিকে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির (BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে তো বহু অভিযোগ। এর আগেও অভিযোগ ছিল। এতদিন পুলিশ সাহস করত না। কে কাজ পাবেন কোন গিল্ড থেকে, সেটা এই ভদ্রলোক ঠিক করে দিতেন। আপনি তাঁর বিরোধিতা করলে কাজ পাবেন না। আপনার বাড়িতে উনুনে হাঁড়ি চড়বে না। সেই ব্যবস্থা এই দুই ভাই মিলে করতেন। স্বরূপ আর অরূপ। দাদার নাম নিয়ে ভাই মস্তানি করতেন। এখন সব বিচার হবে। কেউ ছাড় পাবেন না। প্রত্যেকটি অন্যায়ের হিসেব আমরা করব।” বৃহস্পতিবার রাতে (Biswas Brothers) নিউ আলিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন স্বরূপ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এক মহিলা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সাহাপুর কলোনির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপকে। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।

    ধুয়ে দিলেন রুদ্রনীলও 

    স্বরূপকে নিশানা করেছেন হাওড়ার শিবপুরের পদ্ম-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রশাসনিক প্রশ্রয়ের সংস্কৃতিই এক সময় দুর্বল করেছিল রাজ্যে আইনের শাসনকে। আর তাই প্রভাবশালী মহলের একাংশ নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে ভাবতে শুরু করেছিল। শুক্রবার হাওড়ার ডুমুরজলা ক্রীড়াঙ্গণে পরিবেশ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রুদ্রনীল। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই (BJP) খুলে দেন স্বরূপের মুখোশ। রুদ্রনীল বলেন, “চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের দুষ্কৃতী ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস৷ তাঁর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে৷ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাস এই ইন্ডাস্ট্রিটাকে নষ্ট করেছেন৷ ক্ষতি করে দিয়েছেন সিনেমা জগতের৷ আগে বছরে ১০০টা সিনেমা হত৷ এখন ৩০টা অর্থাৎ, ৭০ শতাংশ সিনেমা কমে গিয়েছে৷ তাই কাজ হারিয়েছেন টেকনিশিয়ান, আর্টিস্ট থেকে সবাই।” তিনি বলেন, “সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, উত্তম কুমারদের এই গৌরবান্বিত জায়গা ওঁরা কলুষিত করেছেন৷” স্বরূপের গ্রেফতারি যে (Biswas Brothers) রাজনৈতিক উদ্দেশে নয়, এদিন তা দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছেন শিবপুরের বিধায়ক। বলেন, “সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত হয়েছে, এবং আইন নিজের পথেই চলেছে।”

    জনরোষ আছড়ে পড়ল সুরুচি সংঘে

    স্বরূপ গ্রেফতার হতেই জনরোষ আছড়ে পড়ে বিশ্বাস ব্রাদার্সের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত সুরুচি সংঘে। নিউ আলিপুরের এই ক্লাবে ছড়ি ঘোরাতেন অরূপ-স্বরূপ। তাই ক্লাবটিতে ভাঙচুর চালায় উন্মত্ত জনতা। তালা ভেঙে হুড়মুড়িয়ে তারা ঢুকে পড়ে ক্লাবঘরের ভেতরে (BJP)। তার পরেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। দেখা যায়, ক্লাবের ওপর তলায় রয়েছে আস্ত একটি কিং সাইজ বেড, বিলাসবহুল শৌচালয়, এসি এবং দামি ফ্যান। মজুত ছিল প্রচুর সরকারি ‘প্রাণধারা’ জলের বোতল ও ত্রাণের শাড়ি। বিজেপি নেত্রী প্রিয়া সরকার বলেন, “সংসার করতে হলে যেমনটা হয় আর কি! ক্লাবের ভেতরে ঢুকেও আমরা সেই ছবি দেখতে পেয়েছি। প্রচুর জামা-কাপড়, শাড়ি, ওই এলাকার ভোটার তালিকা। বিভিন্ন নথিপত্র থেকে শুরু করে সিডিও পাওয়া গিয়েছে।” তাঁর দাবি, “কেউ ক্লাব ভাঙচুর করেননি (BJP)।”

     

  • PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করার যে কোনও চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে।” শুক্রবার এমনই মন্তব্য করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin)। ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন করেন তিনি। বলেন, “সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির নিজেদের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত।” সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ভারত সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে নীতি নির্ধারণ করেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বাইরের কোনও চাপ এলেও ভবিষ্যতেও তাই করবে।

    নিষেধাজ্ঞার হুমকি বুমেরাং হতে পারে (PM Modi)

    তিনি বলেন, “ভারত সবসময় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি ততক্ষণাৎ বুমেরাং হয়ে যাবে।” পুতিন জানান, রাশিয়া আগে ভারতের সঙ্গে Su-57 যুদ্ধবিমান যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সহযোগিতা বাস্তবায়িত না হওয়ায় রাশিয়া একাই বিমানটি তৈরি করে। ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু যে কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাও জানান পুতিন। বলেন, “আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের বিশেষত্ব হল পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আমরা শুধু কেনাবেচা নয়, যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিই।”

    ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগ

    উদাহরণ হিসেবে (PM Modi) তিনি ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারতীয় ও রুশ বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং তা সফল হয়েছে।” আমেরিকা যদি ভারত Su-57 বা S-500 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনতে চায়, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে কি? এই (Putin) প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, “ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের জন্য সবচেয়ে আধুনিক ও উপযুক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। অন্যরা যা-ই বলুক, ভারত সবসময় এই ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি জানান, ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপের বদলে সামরিক প্রয়োজন ও কার্যকারিতার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে (PM Modi)।

    পুরানো সেই দিনের কথা

    পুতিন মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে একসময় নরেন্দ্র মোদিকে আমেরিকায় প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। অথচ বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সবাই সেই সময়ের কথা মনে করি যখন প্রধানমন্ত্রী মোদির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী, সব নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক সফলভাবেই এগোচ্ছে।” তিনি জানান, মোদি নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যাননি এবং এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে ভারত পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও জানান পুতিন (Putin)। বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা, অন্য সব অংশীদারের মতোই, রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না। কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না যে, ভারতের কাছে এটা সরবরাহ করো না।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আমাদের অংশীদারদের, বিশেষ করে ভারতের মতো দেশের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সবসময় রক্ষা করব (PM Modi)।”

  • Wipro: “বস জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন”, অভিযোগ উইপ্রোর প্রাক্তন মহিলা কর্মীর

    Wipro: “বস জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন”, অভিযোগ উইপ্রোর প্রাক্তন মহিলা কর্মীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বস ধর্মীয় কারণে আমায় হয়রান করেছেন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার (Forced religious conversion) চেষ্টা করেছেন। এই মানসিক চাপের কারণেই আমায় চাকরি ছাড়তে হয়েছে।” এমনই অভিযোগ করলেন পুনের উইপ্রো (Wipro) ক্যাম্পাসের এক প্রাক্তন মহিলা কর্মী। ওই বসের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা। অভিযোগ জানিয়েছেন রাজ্যের মানবাধিকার কমিশনের কাছেও। অভিযুক্ত বসও একজন মহিলা। তিনি থাকেন বেঙ্গালুরুতে।

    অভিযোগকারিণীর দাবি (Wipro)

    উইপ্রোর এক মুখপাত্র রীতিমতো বিবৃতি জারি করে জানান, সংস্থাটি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। পুনে পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি ও তথ্যও জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, পুনের হিঞ্জেওয়াড়ি এলাকার উইপ্রো ক্যাম্পাসে কাজ করার সময় কয়েকজন সিনিয়র ম্যানেজার ও টিম লিডার ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তাঁকে টার্গেট করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে এবং ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করতে নিরন্তর চাপ দেওয়া হত। চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় কর্মক্ষেত্রে হয়রানি আরও বেড়ে যায়। ম্যানেজার তাঁকে খারাপ পারফরম্যান্স রিভিউ দেওয়ার এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। অভিযোগকারিণীর দাবি, মানসিক চাপ ও হয়রানির কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয়। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না মেলায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি (Wipro)।

    পুলিশের বক্তব্য

    পুনে পুলিশের এক প্রবীণ আধিকারিক জানান, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বালাজি পান্ধারে নামের ওই পুলিশ কর্তা বলেন, “উইপ্রোর এক মহিলা প্রোজেক্ট ম্যানেজার অভিযোগ করেছেন যে তাঁর মহিলা বস, যিনি বিমা-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁর সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ওই বস তাঁকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বলেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বেঙ্গালুরুতে থাকেন এবং সেখান থেকেই কাজ করেন। আমরা এটাও খতিয়ে দেখব যে কোম্পানি এ পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে (Forced religious conversion)।”

    কী বলল উইপ্রো

    উল্লেখ্য, হিন্দু জনজাগ্রুতি সমিতি (Hindu Janajagruti Samiti) বুধবার পুনেতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। সেখানে ওই মহিলা ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উইপ্রোয় কাজ করার সময় তাঁর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। পুলিশ অভিযোগের প্রতিটি দিক এবং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথিপত্র খতিয়ে দেখছে (Wipro)। উইপ্রো তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, “উইপ্রোয় কর্মীদের কল্যাণ, মর্যাদা এবং সম্মান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। আমরা যে কোনও ধরনের অসদাচরণ, বৈষম্য, হয়রানি অথবা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা এই বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি এবং পুনে পুলিশের কাছে প্রাসঙ্গিক সমস্ত নথি ও তথ্য দিয়েছি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় আমরা মামলার নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। সকল কর্মীর জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সম্মানজনক কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইটি সংস্থাগুলিতে কর্মীদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে টিসিএসের (TCS) নাসিক ইউনিটে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হয়েছিল। একাধিক ভুক্তভোগী তাঁদের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ আনেন (Wipro)। সেই মামলায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (Forced religious conversion)।

     

  • Russia Taliban Military Pact: আফগানিস্তান-রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, কতটা লাভ ভারতের?

    Russia Taliban Military Pact: আফগানিস্তান-রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, কতটা লাভ ভারতের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। এর ঠিক এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে রাশিয়া কাবুলের সঙ্গে স্বাক্ষর করল সামরিক সহযোগিতা চুক্তিতে। বুধবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোরামে’ (International Security Forum) আফগানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মহম্মদ ইয়াকুব এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর বৈঠকে এই চুক্তি সই হয়। যদিও চুক্তিটির নির্দিষ্ট বিবরণ এখনও জানানো হয়নি। তবে ইয়াকুব একে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পদক্ষেপ হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। বৈঠক শেষে ইয়াকুব বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, এবং আমরা চাই এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে যেতে।”

    মস্কো ও কাবুলের সম্পর্ক (Russia Taliban Military Pact)

    এই ঘটনা মস্কো ও কাবুলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান আক্রমণ করেছিল। এক দশক ধরে মুজাহিদিনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিল সোভিয়েত। যাদের অনেকেই পরে তালিবানের অংশ হয়ে ওঠে। সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের পরেও বহু বছর দুই পক্ষের মধ্যে বৈরিতা বজায় ছিল। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান আক্রমণের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে গোপনে কিছু তালিবান গোষ্ঠীকে সমর্থন করার অভিযোগ ওঠে। শোইগু পশ্চিমি দেশগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন তালিবানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এবং আফগানিস্তানে তাদের ২০ বছরের উপস্থিতির দায়িত্ব স্বীকার করে।

    তালিবানকে স্বীকৃতি

    ২০২৫ সালে রাশিয়া তালিবানকে বৈধতা দেওয়ার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ করে। ওই বছরের এপ্রিল মাসে মস্কো তালিবানকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল ২০০৩ সাল থেকে। ওই বছরেরই জুলাই মাসে আমেরিকা এবং ন্যাটো বাহিনী ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর তালিবান ক্ষমতা দখল করে। এরপর রাশিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। তৎকালীন রুশ বিদেশমন্ত্রক জানায়, তালিবান প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিলে গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও উন্নত হবে। তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন। বলেন, “এটি অন্যান্য দেশের জন্য একটি ভালো উদাহরণ তৈরি করেছে।”

    ভারতের লাভ

    রাশিয়া ও তালিবানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। নয়াদিল্লি ঐতিহ্যগতভাবে মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানে নিজেদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও বিনিয়োগ রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তালিবানের সঙ্গেও ফের যোগাযোগ শুরু করেছে। ২০২৫ সালে তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফরে এসেছিলেন। রাশিয়ার মদতপুষ্ট একটি তালিবান সরকার ভারতের জন্য কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার কূটনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাছাড়া, এর ফলে আফগানিস্তান পুরোপুরি পাকিস্তান বা চিনের প্রভাববলয়ে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমাতে পারে।

    রাশিয়া-তালিবান অংশীদারিত্ব

    এই পরিস্থিতি পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তানের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সংযোগ উন্নত করার ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেও সাহায্য করতে পারে। রাশিয়া-তালিবান অংশীদারিত্ব আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের ঐতিহ্যগত প্রভাবকে দুর্বল করতে পারে। একসময় ইসলামাবাদকে তালিবানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হত। কিন্তু সীমান্ত সংঘর্ষ, জঙ্গি কার্যকলাপ, এবং বিমান হামলার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দু’পক্ষের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করেছে, তালিবান সরকার পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে।

    প্রাণঘাতী বিমান হামলা

    আবার, কাবুল পাকিস্তানের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে। চলতি বছরের শুরুতে কাবুল অভিযোগ করে যে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী কাবুলের একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রেও হামলার অভিযোগ ছিল।তালিবান কর্তাদের দাবি, ওই হামলায় ৪০০-রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান অসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করার অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা টিডিপির (TTP) সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালিয়েছিল। এই সঙ্কটের আগে বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন (Durand Line) সীমান্ত বরাবর কয়েক মাস ধরে সীমান্ত গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাকিস্তান ফের অভিযোগ করেছে, তালিবান সরকার পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। কাবুল অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তারা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে।

  • NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘোর বিপাকে ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লা (Saokat Mullah)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গিয়ে (NIA) ঘরে সেঁধিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা! একা হয়ে গিয়েছেন সওকত। মাথার ওপর থেকে ‘মমতা ব্র্যান্ডে’র ছাতাটা সরে যেতেই ফোঁসফাঁস করা বন্ধ করে দিয়ে সওকত এখন মিউমিউ করছেন! এহেন ‘ভাঙড়ের ত্রাসে’র আস্তানায় হানা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। নির্বাচনোত্তর হিংসা এবং বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সওকতের খোঁজে ক্যানিংয়ে পৌঁছয় এনআইএ। এদিন প্রথমে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও আধাসেনা। তার পরেই জীবনতলা এলাকার তাঁর বাড়িতে হানা দেয় এনআইএর বিশেষ দল৷ এদিন অবশ্য আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে সওকতকে পাননি। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে আটক করে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা।

    সওকতের বাড়িতে এনআইএ (NIA)

    এদিন সাত সকালেই এনআইএর দু’টি দল জীবনতলা এলাকায় সওকতের বাড়িতে পৌঁছয়। তদন্তকারীরা অনেকক্ষণ ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। খবরাখবর নেওয়া হয় সওকত কোথায় রয়েছেন, সেই ব্যাপারে। তৃণমূলের রাজত্বে ‘কেউটে’ থেকে পদ্ম-রাজে ‘হেলে’ হয়ে যাওয়া সওকত বাড়িতে নেই বলেই দাবি করেন পরিবারের লোকজন। তখনই তদন্তকারীরা ইমরান নামে তাঁর এর ছেলেকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান (NIA)। তাঁকে অবশ্য গ্রেফতার করা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে৷ এনআইএর একটি দল সওকতের হোটেল এবং অন্যান্য ‘ঠেকে’ তল্লাশি চালায়, জানার চেষ্টা করে তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে।

    নির্বাচনোত্তর হিংসায় এল সওকতের নাম

    গত ১৮ মার্চ ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া-বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। নির্বাচনোত্তর হিংসার একাধিক ঘটনার তদন্তেও নাম জড়িয়েছে সওকতের। সেই সূত্রেই তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, সওকত বর্তমানে কলকাতা কিংবা তার আশপাশের কোনও এলাকায় রয়েছেন (Saokat Mullah)। রাজনৈতিক মহলে সওকত পরিচিত মুখ। ভাঙড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দাপিয়ে ‘রাজ’ করছিলেন তিনি। একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের এই প্রাক্তন বিধায়কের। যদিও সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ (NIA) অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব৷

    সওকতের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ 

    সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। কয়লাপাচার মামলার তদন্তে একাধিকবার সওকতকে তলব করেছিল আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই৷ সেই সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল দীর্ঘক্ষণ ধরে। যদিও ওই মামলায় কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। এবার ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে এনআইএ হানা দিয়েছে সওকতের (Saokat Mullah) ডেরায়। তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়কের পরিণতি কী হয়, তা জানতে রাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন (NIA)।

     

  • PM Modi: ১ বৈশাখ নয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হবে ২০ জুন, ঘোষণা নবান্নর, সেই দিনই রাজ্যে মোদি?

    PM Modi: ১ বৈশাখ নয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হবে ২০ জুন, ঘোষণা নবান্নর, সেই দিনই রাজ্যে মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০ জুন রাজ্যজুড়ে সরকারিভাবে পালিত হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (West Bengal Day)। এই মর্মে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নয়া রাজ্য সরকার। মন্ত্রিসভার সবুজ (PM Modi) সঙ্কেত মেলার পর সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যব্যাপী বিশাল কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পদ্ম-শিবির।

    ২০ জুনের গুরুত্ব (PM Modi)

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন তারিখটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি জেলায় ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস’ পালনের পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। জেলাস্তরে ইতিমধ্যেই রাজ্য দিবস পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক এবং শীর্ষ পদাধিকারীদের নিজের নিজের এলাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ২০ জুন বাংলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই অবিভক্ত বাংলার বিধানসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বঙ্গভঙ্গ তথা ভারতের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। রাজ্যবাসীর কাছে সেই গৌরবময় অতীত তুলে ধরতেই এই দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিজেপির বক্তব্য

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে পদ্ম শিবির বঙ্গবাসীর স্মৃতিতে প্রায় ফিকে হয়ে যাওয়া শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ ও প্রাসঙ্গিকতার আগুন উসকে দেবে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “গোটা রাজ্যে এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হবে। আমরা বাংলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে এই রাজ্যের অবদান তুলে ধরব।” তিনি জানান, ১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরে রাখতে যাঁরা আত্মত্যাগ ও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, এই দিনটিতে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে তাঁদের।

    রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি

    জানা গিয়েছে, ওই দিন রাজ্য বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় স্মরণসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নিবিড় জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের (PM Modi) ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ প্রচার কর্মসূচিও চালাবে গেরুয়া শিবির। এই কর্মসূচির মূল (West Bengal Day) লক্ষ্যই হল পিএম আবাস যোজনা, পিএম-কিষান, জল জীবন মিশন এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনমুখী কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সাফল্য ও সুবিধা সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া। প্রবীণ এক পদ্ম নেতা জানান, রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের মাধ্যমে দল বাংলার নিজস্ব পরিচিতি ও কৃষ্টিকে সম্মান জানাবে। রাজ্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে বঙ্গবাসীর সচেতনতাও বাড়ানো হবে। এদিন, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাও জানানো হবে।

    মমতা জমানায় বিস্তর জলঘোলা

    শুভেন্দুর আগে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে ছিলেন তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ১ বৈশাখ রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলাও হয়েছিল। সেই সময় লোকভবনে ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি ২০ জুন রাজভবনে (বর্তমান লোকভবন) আলাদা করে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতেন। তা নিয়ে চিঠি চালাচালিও হয়েছিল (PM Modi)। প্রাক্তন রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা লিখেছিলেন, “আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি এটা জেনে যে আপনি ২০ জুন রাজভবনে ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস’এর মতো একটা অদ্ভুত দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    কী বলছেন দিলীপ ঘোষ

    বিজেপি বরাবরই দাবি করে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের একমাত্র দিন হতে পারে ২০ জুন। পদ্ম নেতাদের এহেন দাবি উপেক্ষা করে তৃণমূল ১ বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে। রাজ্যে পালাবদলের পর নয় সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক একমাসের মাথায় জানিয়ে দিল, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে ২০ জুন, ১ বৈশাখ নয়। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “এবার থেকে ২০ জুন তারিখটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে।”

    পশ্চিমবঙ্গ দিবসে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    এদিকে, ২০ জুনের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তারকেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজোও দেবেন। পরে তিনি (West Bengal Day) ভাষণ দেবেন জনসভায়। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সেদিন কলকাতায় আয়োজিত মূল কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গের প্রায় সর্বত্রই ফুটেছে পদ্ম। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এ রাজ্যে গঠিত হয়েছে প্রথম বিজেপি সরকার। তৃণমূলকে গোহারা হারিয়ে বিজেপি জিততেই দিল্লিতে রীতিমতো বাঙালি পোশাক ধুতি-পাঞ্জাবী পরে জনসমক্ষে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। নির্বাচনের আগে একাধিকবার দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করতে বাংলায় এসেছিলেন তিনি। রাজ্যে পদ্ম-সরকার গঠিত হওয়ার পর আর বাংলায় আসেননি প্রধানমন্ত্রী। তাই ২০ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা।

     

  • Suvendu Adhikari: বড় শিল্পের খরা কি কাটতে চলেছে? আদানি-শুভেন্দু বৈঠকের পর আশায় বুক বাঁধছে বাংলা

    Suvendu Adhikari: বড় শিল্পের খরা কি কাটতে চলেছে? আদানি-শুভেন্দু বৈঠকের পর আশায় বুক বাঁধছে বাংলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের শিল্পখরা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কি ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে? রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল বিভিন্ন মহলে। এবার সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করল নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তা করণ আদানির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

    নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    বুধবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন করণ আদানি। তিনি ভারতের বৃহত্তম বন্দর ও লজিস্টিক্স সংস্থা ‘আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন’ (APSEZ)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং আদানি গোষ্ঠীর পরিকাঠামো ও বন্দর ব্যবসার অন্যতম প্রধান মুখ। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ক্ষেত্র, লজিস্টিক্স হাব নির্মাণ, গ্রিনফিল্ড সড়ক প্রকল্প এবং সম্ভাব্য বৃহৎ বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    শিল্পবান্ধব বার্তা দিতে চায় নতুন সরকার

    রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নতুন প্রশাসন শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা, সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বচ্ছ নীতির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে সড়ক ও লজিস্টিক্স নেটওয়ার্ক উন্নয়নে আদানি গোষ্ঠী আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ?

    ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে রাজ্যটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বৃহৎ লজিস্টিক্স ও ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে আদানি গোষ্ঠী আগ্রহী বলে সূত্রের খবর। যদিও সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ বা নির্দিষ্ট প্রকল্প সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তাজপুর বন্দরের তিক্ত অভিজ্ঞতা

    তবে এই সম্ভাবনার আলোচনার পাশাপাশি উঠে আসছে অতীতের কিছু ব্যর্থতার কথাও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। সেই প্রকল্পকে ঘিরে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল, বন্দরটি চালু হলে বিপুল কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের পথ খুলবে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতিগত সমস্যার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত টেন্ডার বাতিল হয়ে যায় এবং আদানি গোষ্ঠী তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই ঘটনা রাজ্যের শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তির উপরও প্রভাব ফেলেছিল।

    বদলেছে পরিস্থিতি?

    অর্থনৈতিক ও শিল্পমহলের একাংশের মতে, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। নতুন সরকারের অধীনে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই কারণেই অতীতের তিক্ততা ভুলে আদানি গোষ্ঠী আবারও পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে মনে করা হচ্ছে। করণ আদানির এই সফর ও বৈঠক সেই বার্তাই দিচ্ছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।

    কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাবের সম্ভাবনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দর, বিদ্যুৎ, সড়ক এবং লজিস্টিক্সের মতো কোর সেক্টরে বৃহৎ বিনিয়োগ এলে রাজ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। এর ফলে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিও গতি পেতে পারে। শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকেই বর্তমানে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার।

    অন্য শিল্পগোষ্ঠীর কাছেও ইতিবাচক বার্তা

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আদানি গোষ্ঠীর মতো বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা যদি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়, তবে তা দেশের অন্যান্য শিল্পপতিদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে। অতীতে বিভিন্ন কারণে বাংলায় বিনিয়োগ থেকে দূরে থাকা বহু সংস্থাও নতুন করে রাজ্যের দিকে নজর দিতে পারে। এর ফলে বৃহত্তর শিল্পায়নের পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে।

    এখন নজর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে

    শুভেন্দু অধিকারী ও করণ আদানির বৈঠককে অনেকেই নতুন শিল্প-সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকল্প, বিনিয়োগের অঙ্ক বা সময়সীমা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তাই এখন শিল্পমহল ও সাধারণ মানুষের নজর আগামী দিনের দিকে। এই বৈঠক কি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে, নাকি তা কেবল সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে— সেই উত্তরই সময় দেবে।

     

LinkedIn
Share