Author: pranabjyoti

  • Suvendu Adhikari: উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর এ বার রাজ্যের পুরসভাগুলিকে (Suvendu Adhikari) পাখির চোখ করল বিজেপি। সোমবার মুরলীধর সেন লেন থেকে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত আয়োজিত বিজয় মিছিলের শেষে জনসভা থেকে আসন্ন পুরভোটের রণকৌশল স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বার্তা, এ বার পুরসভাগুলিতেও ফুটবে পদ্ম। রাজ্যে উন্নয়নের ‘ত্রিশক্তি’ সরকার গড়তে কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভা দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপাতে হবে দলীয় কর্মীদের (Municipal Elections)। পুজোর মরশুম শেষ হলেই কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা। তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদে ইস্তফা দেওয়ার পর আপাতত কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কমিশনার। হাওড়াতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা চলছে। এই পরিস্থিতিতে দুই শহরের পুরসভা দখলের ডাক দিয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন শুভেন্দু।

    উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা (Suvendu Adhikari)

    ভিক্টোরিয়া হাউসের সভায় তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা রেখে আপনারা রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়েছিলেন। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর আর্জিতে আপনাদের পুরসভাগুলিতে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা আমাদের দিতে হবে। তবেই শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন সম্ভব হবে।”

    এ দিনের বিজয় মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রেজিনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শাখারভ সরকার, নন্দীগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানী রথ-সহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

    সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে জয়

    রেজিনগরের মতো প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলে দাবি করেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে বিরোধীদের প্রচারকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হবে এবং বেছে বেছে বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে বিরোধীরা প্রচার চালিয়েছিল। শুভেন্দু বলেন, “মানুষ দেখেছেন, মোদিজির নেতৃত্বে জয়ের রথ থামানো যায়নি। বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক সুরক্ষিত।”

    তিনি আরও বলেন, “সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা বুঝতে পেরেছেন যে মিথ্যা ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করা হয়েছে। তাই আজ তাঁরা তোষণের রাজনীতি ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্মাণ ও প্রগতির মূলস্রোতে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন (Suvendu Adhikari)।”

    পুরভোট ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর বিজেপির নজর এখন রাজ্যের বকেয়া পুরভোটের দিকে। বিশেষ করে কলকাতা ও হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের পুরসভা দখলকে সামনে রেখে দলীয় নেতৃত্বের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে যোগ করেছে (Municipal Elections) নতুন মাত্রা।

    উপনির্বাচনের ফলকে হাতিয়ার করে পুরসভা নির্বাচনেও সাফল্যের আশা করছে গেরুয়া শিবির। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কোন দল কতটা সুবিধা পায়, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রচার, নাগরিক পরিষেবা নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভোটারদের রায়ের উপর (Suvendu Adhikari)।

     

  • AI Qaeda: ভারতে প্রভাব বিস্তারে নয়া  কৌশল আল-কায়দার, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    AI Qaeda: ভারতে প্রভাব বিস্তারে নয়া  কৌশল আল-কায়দার, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ গোটা উপমহাদেশে নিজেদের জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নয়া কৌশল আল-কায়দার। সর্বধর্মীয় সম্প্রীতির কথা নয়, বরং বৃহত্তর প্যান-ইসলামপন্থী আদর্শের প্রচার, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে ভাঙন তৈরি করে নতুন গোষ্ঠী গড়ে তোলা (AI Qaeda) এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে এই জঙ্গি সংগঠন। গত ১২ অক্টোবর ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে (Terror Groups)। নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়দার শাখা সংগঠনটি নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানো, সমর্থনের ভিত্তি মজবুত করা এবং ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে আরও জটিল করে তোলার লক্ষ্যে কৌশলগত পরিবর্তন আনছে।

    আল-কায়দার উদ্দেশ্য (AI Qaeda)

    ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশের শাখার উদ্দেশ্য ছিল ভারত-সহ বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে নিজেদের সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার করা। তবে আদর্শগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও, গোড়ার দিকে উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে পারেনি তারা। এর অন্যতম কারণ ছিল ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও প্রচার কৌশলের মাধ্যমে ওই জঙ্গি সংগঠন বহু নতুন সদস্যকে আকৃষ্ট করেছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে আল-কায়দা এখন তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর প্যান-ইসলামপন্থী আদর্শকে সামনে আনতে চাইছে। নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা উপসম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ানোর পরিবর্তে, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে কাছে টানতে অপেক্ষাকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শগত অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করছে সংগঠনটি। এর মাধ্যমে স্থানীয় সহযোগিতা আদায়, সমর্থনের পরিধি বাড়ানো এবং নিজেদের কার্যকরী নেটওয়ার্ক বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আল-কায়দা স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছিল। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি নির্বিচারে শত্রুতা না দেখিয়ে স্থানীয় সংগঠনগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার ফলে তারা নিজেদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে পেরেছিল। সেই অভিজ্ঞতাই এবার দক্ষিণ এশিয়ায় কাজে লাগাতে চাইছে আল-কায়দা।

    ইসলামিক স্টেটের আপসহীন শত্রুতার মনোভাব

    অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায় ও উপসম্প্রদায়ের প্রতি ইসলামিক স্টেটের আপসহীন শত্রুতার মনোভাব সম্ভাব্য সহযোগীদের দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। একাধিক অঞ্চলে তাদের হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও সংঘাতমুখী অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ফলে আগের মতো প্রভাব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে সংগঠনটির পক্ষে।

    আল-কায়দা এই দুই সংগঠনের কৌশলগত পার্থক্যকে কাজে লাগাতে চাইছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে সংগঠনটির চরমপন্থী লক্ষ্য থেকে সরে আসা বলে মনে করছেন না নিরাপত্তা আধিকারিকেরা। বরং সম্ভাব্য সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে আদর্শগত বাধা কমিয়ে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের মতাদর্শে তথাকথিত ‘দূরবর্তী শত্রু’, বিশেষত পশ্চিমি শক্তিগুলিকে লক্ষ্য করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। এখন উপমহাদেশে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বজায় রেখেই আঞ্চলিক সহযোগীদের সমর্থনের ভিত্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে সংগঠনটি (AI Qaeda)।

    আল-কায়দার আঞ্চলিক কৌশলে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে দেশের প্রতিষ্ঠিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি নতুন বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী তৈরিতে উৎসাহ জোগানোর চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশকে আল-কায়দার অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতীতে এই সংগঠনের মধ্যেই ভাঙন দেখা দিয়েছিল। একটি অংশ ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে নব্য জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে পড়ে।

    বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি বাংলাদেশের মতো সংগঠনগুলিকে নিজেদের আদর্শ অনুসরণকারী আরও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী গড়ে তুলতে উৎসাহিত করছে আল-কায়দা।

    প্রতিবেদনে ইমাম মাহমুদের কাফিলা নামে একটি গোষ্ঠীর উল্লেখ রয়েছে, যারা ভারতে নিজেদের কার্যকলাপ কেন্দ্রীভূত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কের বাইরে উপমহাদেশের আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ছড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক গোয়েন্দা আধিকারিকের মতে, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি বাংলাদেশের মতো সংগঠনগুলির ইতিমধ্যেই সদস্যসংখ্যা ও সাংগঠনিক কার্যক্ষমতা রয়েছে। ফলে আল-কায়দা সরাসরি প্রতিটি অভিযানের দায়িত্ব না নিয়েও আদর্শগত দিশা দেখানোর ভূমিকা নিতে পারে এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্কগুলিকে নিজেদের বৃহত্তর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।

    একাধিক বিচ্ছিন্ন সংগঠন তৈরি হলে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তদন্তও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংগঠনগুলির পারস্পরিক যোগসূত্র, নেতৃত্বের কাঠামো এবং মূল সংগঠনের সঙ্গে নতুন গোষ্ঠীগুলির সমন্বয়ের মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি, বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও পেতে পারে মূল সংগঠনগুলি (Terror Groups)।

    ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উপমহাদেশে নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বজায় রাখতে চাইছে আল-কায়দা। এর মধ্যে শিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টার উল্লেখ রয়েছে (AI Qaeda)।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের সম্পর্ক সংগঠনটিকে রসদ ও অন্যান্য সহায়তা জোগাতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে তাদের।

    ছোট ছোট গোষ্ঠীর উত্থান

    বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ছোট ছোট গোষ্ঠীর উত্থানে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে আল-কায়দা আরও বিস্তৃত ও ছড়িয়ে থাকা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাইছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে সংগঠনটির ভৌগোলিক পরিসর বাড়তে পারে এবং তাদের কার্যকলাপের প্রকৃত সাংগঠনিক কাঠামো শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    প্রতিবেদনে ইসলামিক স্টেটের আগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সঙ্গেও আল-কায়দার বর্তমান কৌশলের তুলনা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু যুবক ওই সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কেরলের ২০ জনেরও বেশি যুবক উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে আফগানিস্তানে গিয়ে সংগঠনটিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়া কয়েকজন ভারতীয় পরে সংগঠনটির চরম হিংসা, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং অবমাননাকর কাজের দায়িত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতায় হতাশ হয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।

    ইসলামিক স্টেট

    আল-কায়দা ইসলামিক স্টেটের এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত আদর্শগত পরিসর তুলে ধরে নতুন সদস্য ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা আধিকারিকেরা।

    সব মিলিয়ে, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ককে কেন্দ্র করে উপমহাদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে (Terror Groups) আল-কায়দা—এমনই দাবি ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার প্রতিবেদনে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কৌশলগত পরিবর্তন ও সাংগঠনিক তৎপরতার দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতি ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলির নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে (AI Qaeda)।

     

  • Houthi Attack: রিয়াধ বিমানবন্দরে হুথি হামলা, মৃত বেড়ে ১৩, নিহত এক ভারতীয়ও

    Houthi Attack: রিয়াধ বিমানবন্দরে হুথি হামলা, মৃত বেড়ে ১৩, নিহত এক ভারতীয়ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় মৃতের (Houthi Attack) সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক ভারতীয় নাগরিকও। রবিবার সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ওই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস সূত্রে এও জানানো হয়েছে, জখম তিন ভারতীয় নাগরিক চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আহত আরও (Riyadh Airport) দুই ভারতীয় সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    কী জানাল ভারতীয় দূতাবাস (Houthi Attack)

    রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানায়, ১০ অক্টোবরের হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মৃতদেহ দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে দূতাবাস।

    দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, “১০ অক্টোবর রিয়াধ বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য। জানা গিয়েছে, রিয়াধে হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকের আজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। মৃতের পরিবারের প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি এবং মৃতদেহ দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেব।”

    এর পরেই দূতাবাসের আধিকারিকেরা আহত ভারতীয়দের দেখতে হাসপাতালগুলিতে যান। পরে জারি করা আরও একটি বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, তিন ভারতীয় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকলেও তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। আরও দু’জন সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। বাকি আহত ভারতীয়দের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসের দ্বিতীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রিয়াধ বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে আরও একটি সর্বশেষ তথ্য। হামলায় আহত ভারতীয় নাগরিকেরা যে সব  হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, আমাদের দূতাবাসের আধিকারিকেরা সেই সব হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। আগেই জানানো হয়েছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তিন জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন, তবে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। আরও দু’জন সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন এবং বাকিদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহত ভারতীয় নাগরিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের পরিবারগুলিকে আশ্বস্ত করছি যে দূতাবাসের তরফে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা করা হবে।”

    সৌদি আরবের বক্তব্য

    এর আগে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের সাধারণ অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, এই হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। মৃতদের মধ্যে চার জন সৌদি নাগরিক এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমেরিকা, মিশর, জর্ডন, সিরিয়া, প্যালেস্টাইন ও সুদানের এক জন করে নাগরিক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর সামনে আসায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হয়েছে (Houthi Attack)।

    সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাধারণ অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করছে যে এই হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে চার জন সৌদি নাগরিক এবং অন্যদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশের নাগরিক, এক জন আমেরিকান, এক জন মিশরীয়, এক জন জর্ডনীয়, এক জন সিরীয়, এক জন প্যালেস্টাইনি এবং এক জন সুদানি নাগরিক রয়েছেন। হামলায় আরও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

    হামলার নিন্দা অস্ট্রেলিয়ারও

    এই হামলার নিন্দা করেছে অস্ট্রেলিয়াও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং সৌদি আরবে হামলা এবং অসামরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা করছে অস্ট্রেলিয়া। রিয়াধ বিমানবন্দরে হামলায় বহু নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হুথিদের হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।”

    উল্লেখ্য, এর আগে ৬ ও ৭ অক্টোবর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলাগুলিতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন ৩৬ জন।

    ১১ অক্টোবরের হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরীক্ষা চালানোর জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন (Riyadh Airport) কর্তৃপক্ষ।

    পরপর হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। চলছে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা (Houthi Attack)।

     

  • India: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা ভারতের, নিখোঁজ দুই ভারতীয় নাবিক

    India: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা ভারতের, নিখোঁজ দুই ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাল ভারত (India)। এই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তার উপর ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। একটি জাহাজে চালকবিহীন আকাশযানের হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর। অন্য একটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করার পর আগুন ধরে যায়। তবে দ্বিতীয় জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

    বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান পেতে ওমানের রাজধানী মাসকটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। একই সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য (India)

    বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। পেট্রো ডলফিন নামের জাহাজটি চালকবিহীন আকাশযানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। জাহাজটিতে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ভালথেরা অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাতে আগুন ধরে যায়।”

    বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাণিজ্যিক জাহাজের উপর বারবার হামলার ঘটনা ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ভারত সরকারের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয়। এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর বারবার হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে আগে থেকেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরও অবনতির মুখে পড়তে পারে।”

    ভারতের তরফে সংঘাতের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে সংযম দেখানোর এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ, নাবিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ-চলাচলের অধিকার রক্ষা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার উপরও জোর দিয়েছে ভারত।

    দু’টি জাহাজে হামলার ঘটনা

    রবিবার পেট্রো ডলফিন নামের বাণিজ্যিক জাহাজটিতে চালকবিহীন আকাশযানের আঘাত লাগে। ওই জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে দু’জনের খোঁজ মিলছে না। তাঁদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    অন্যদিকে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ভালথেরায় অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ওই জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় (India) নাবিকই নিরাপদ রয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীতে এই হামলার ঘটনায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রুখতে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষেই সওয়াল করেছে ভারত (India)।

     

  • PM Modi: “বিশ্বের প্রয়োজনীয় সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তোমাদেরই’’, তরুণ প্রজন্মকে বার্তা মোদির

    PM Modi: “বিশ্বের প্রয়োজনীয় সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তোমাদেরই’’, তরুণ প্রজন্মকে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মের প্রতি ফের বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বের যেসব সমাধান অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে, সেগুলি খুঁজে বের করার ক্ষমতা রয়েছে নবীন প্রজন্মের (Gen Z) হাতেই। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎকে বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার এবং বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখনই। তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, নির্ভয়ে নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে হবে, প্রচলিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে ভাবতে হবে এবং নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

    চেন্নাইয়ের নন্দনবক্কমে চেন্নাই বাণিজ্য কেন্দ্রে জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিক উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নত ভারত গড়ে তোলার জন্য যে নতুন ভাবনা ও সমাধানের প্রয়োজন, তা শুধু ভারতের ভবিষ্যৎকেই রূপ দেবে না, গোটা বিশ্বের ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”

    তরুণদের সম্ভাবনার উপর আস্থা (PM Modi)

    তরুণদের সম্ভাবনার উপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ গোটা বিশ্ব বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজছে। সেই সমাধান দেওয়ার সম্ভাবনা তোমাদের রয়েছে। আমি চাই, প্রত্যেক তরুণ-তরুণী নিজেদের ভবিষ্যৎকে বৃহত্তর পরিসরে দেখুক। কারণ, এটাই তোমাদের সময়, এটাই তোমাদের সুযোগ।” নিজেকে কাশীর প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মহান তামিল কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতীর কথাও স্মরণ করেন। নির্ভীকভাবে জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা জোগানো এই কবির ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের কাছে আমার আবেদন, নিজেদের নির্ভীক হওয়ার সুযোগ দাও। নিজেদের ভাবনা নিয়ে কাজ কর। বড় স্বপ্ন দেখ, অন্যভাবে চিন্তা কর এবং নির্ভয়ে এগিয়ে চলো।” তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে আশাবাদী বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতে অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে। এটাই তোমাদের সময়, এটাই তোমাদের সুযোগ। আমরা একসঙ্গে এই কাজ করে দেখাব।”

    তরুণদের ক্ষোভের আবহে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা এমন একটা সময়ে এল, যখন দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে নেমেছে পড়ুয়া ও তরুণদের একাংশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রতিবাদ ক্রমশ জোরালো হয়েছে।

    শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে পুলিশ আটক করে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকাকে। মুম্বই থেকে তাঁদের বিমান দিল্লিতে অবতরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই আটক করা হয়। এর পাশাপাশি, প্রায় তিন হাজার মানুষকে আটক করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয় একাধিক মেট্রো স্টেশন ও পরিষেবা, পাশাপাশি থামিয়ে দেওয়া হয় স্থানীয় ট্রেন চলাচলও (PM Modi)।

    এই পরিস্থিতিতে বিশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, নিতান্ত প্রয়োজন না হলে সমস্ত ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারার প্রয়োগ প্রত্যাহারের বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে বলা হয়।

    তরুণদের অসন্তোষ কি বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপির?

    এর আগে চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে। বেকারত্ব, স্বচ্ছতার অভাব এবং বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়া নিয়ে তরুণদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে ক্রমশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

    তৃতীয় দফার (Gen Z) শাসনকালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণ ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং তাঁদের প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা শাসকদলের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে তরুণদের স্বপ্ন, উদ্ভাবনী শক্তি ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ক্ষমতার উপর প্রধানমন্ত্রীর এই জোর দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (PM Modi)।

  • CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI) সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গে। কিন্তু সেই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধী জোটের প্রস্তাবিত মিছিলের আগে, ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ-সহ একাধিক দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত ইমেলের মাধ্যমে দুই বিরোধী নেতাকে জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যে বিষয়গুলি নিয়ে রাহুল ও খাড়্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তাই এই পরিস্থিতিতে আলাদা করে বৈঠক করা সমীচীন নয়। পাশাপাশি, প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করতে গিয়ে আদালত সরকারের কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলেও জানানো হয়েছে। তবে মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য তাঁরা বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে পারেন বলে বিরোধী নেতাদের জানানো হয়েছে।

    কেন প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা? (CJI)

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধীদের আন্দোলন। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, নির্বাচন কমিশন শাসক দল বিজেপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। সেই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহির দাবিও তুলেছে তারা।

    নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তাঁদের আপত্তির একটি বড় অংশই ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে।

    যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, আলোচনার সময় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, তাদের নির্দেশগুলির আইনি ভিত্তি রয়েছে এবং যাবতীয় সিদ্ধান্ত নির্ধারিত আইন ও বিধি মেনেই নেওয়া হয়।

    ‘গণতন্ত্রের মিছিলে’র ডাক কংগ্রেসের

    সোমবারের কর্মসূচির নাম দিয়েছে কংগ্রেস, ‘চলো দিল্লি—গণতন্ত্রের মিছিল’। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে দিল্লির কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থলে জমায়েত হওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    রাহুল জানিয়েছেন, তরুণ সমাজ, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই মিছিলে অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগিয়ে যাবেন। শনিবার দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশ ও বিজেপি সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এদিকে, খাড়্গে জানিয়েছেন, তাঁরা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাইছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। খাড়্গের দাবি, শনিবার প্রতিবাদস্থলে বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, এই আন্দোলন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন (CJI)।

    রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ বিরোধী প্রতিনিধিদল

    শুক্রবার দিল্লির বিজয় চকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। এরপর কয়েকজন সাংসদ সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যদিকে, ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে রাষ্ট্রপতি ভবনে যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছিল ওই প্রতিনিধিদল।

    বৈঠকের পরে বিরোধী নেতারা জানান, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি, তাঁদের উদ্বেগ ও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি বলে দাবি বিরোধীদের।

    রাহুল বলেন, রাষ্ট্রপতি অভিযোগগুলি অস্বীকার করেননি কিংবা সেগুলি নিয়ে প্রশ্নও তোলেননি—এই বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর দাবি, দেশে কথিত ভোটচুরির অভিযোগের প্রমাণ সম্পর্কে বহু মানুষ অবগত। বিরোধীরা সেই প্রমাণ রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ভোটার তালিকার সংশোধন, কথিত ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সোমবারের ‘গণতন্ত্রের মিছিল’ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার (CJI)।

     

  • Nepal Flood: নেপালে বুধিগণ্ডকী নদীতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১০, ভেসে গেল ৬টি সেতু

    Nepal Flood: নেপালে বুধিগণ্ডকী নদীতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১০, ভেসে গেল ৬টি সেতু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের গোর্খা জেলায় বুধিগণ্ডকী নদীর অববাহিকায় রবিবার ভোরে ভয়াবহ বন্যায় (Nepal Flood) অন্তত ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে ছ’টি সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক জনবসতি। প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বহু বাসিন্দা। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি, উদ্ধার কাজ এবং বিপন্নদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে নিরাপত্তাবাহিনী (Budhi Gandaki River)। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ গোর্খা জেলার উত্তরাংশে আছড়ে পড়ে বন্যা। নদীর জলস্তর কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকেরা।

    ১০ জন নিখোঁজ (Nepal Flood)

    গোর্খার সহকারী মুখ্য জেলা আধিকারিক নেত্র প্রসাদ শর্মা সংবাদ সংস্থাকে জানান, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তিনি বলেন, “আজ সকালে জেলার উত্তরাংশে বন্যা আছড়ে পড়ার পর থেকে ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়ছে এবং কমছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্কতা জারি রয়েছে। নদীর গতিপ্রবাহের উপর আমরা নিরন্তর নজর রাখছি।”

    প্রশাসন সূত্রে খবর, বন্যায় ভেসে গিয়েছে ছ’টি সেতু। এর মধ্যে দু’টি মোটরযান চলাচলের উপযোগী সেতু এবং চারটি ঝুলন্ত সেতু। আরুঘাট, ত্রিপুরাসুন্দরী এবং সোতি-মানবু এলাকার সেতুগুলির ক্ষতি হয়েছে অথবা সেগুলি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন শর্মা।

    ধারছে গ্রামীণ পুরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে সংযোগকারী একটি বেইলি সেতুও বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। এ ছাড়া মাচ্ছিখোলা ও কারাউজা, ঠাডোভরিয়াং ও জগৎ এবং ঘট্টেখোলা ও ফিলিমের মধ্যে থাকা একাধিক সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনিউ ও বাগার এলাকায় প্রায় ৩৫টি বাড়ি বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। জগৎ, সাল্লেরি, দোভান এবং ঘট্টেখোলা এলাকার জনবসতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাজারেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

    ব্যাপক ক্ষতি

    চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার উপপ্রধান লক্ষ্মী গুরুং জানিয়েছেন, বন্যার জেরে এলাকার বাজারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “বুধিগণ্ডকীর বন্যা ভোতেকোশী নদীর বন্যার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। কয়েক ডজন বাড়ি জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।”

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ আশপাশের ছোট নদী ও জলধারা থেকে বিকট গর্জনের শব্দ শুনে চুমলিং ও লোকপা-সহ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করেন। স্থানীয় হোটেলগুলিতে থাকা পর্যটকেরাও নিরাপদ জায়গায় চলে যান।

    উদ্ধারকাজে সেনা

    বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। তিনি জানিয়েছেন, তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য নেপাল সেনার একটি দলকে আকাশপথে এবং স্থলপথে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে (Nepal Flood)।

    ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য হেলিকপ্টারও নামানো হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে একটি যৌথ দ্রুত প্রতিক্রিয়াদলকে আকাশপথে দুর্গত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে নেপাল সেনার তরফে জানানো হয়, ছ’জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে দুর্গত এলাকার দূরত্ব প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার।

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য হেলিকপ্টার-সহ নিরাপত্তাবাহিনীর বিভিন্ন দল মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর সতর্কবার্তা, নদীর জলস্তর এখনও ওঠানামা করছে এবং ঘোলা বন্যার জল ঘট্টেখোলা এলাকার কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে পড়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে গুরুং চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ন্যাকচেট ও ফিলিম বাজারের মধ্যে সংযোগকারী সেতু ভেঙে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    বুধিগণ্ডকী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে সিরদিবাস, জগৎ, সাল্লেরি, খোরলাবেসি, মাচ্ছাখোলা, সোতি, আরখেত এবং আরুঘাট এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বলা হয়েছে।

    জরুরি সাহায্যের প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১২৩৪ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে প্রশাসনের তরফে মাইকে প্রচারও চালানো হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ অগাস্ট নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশী নদীর ভয়াবহ বন্যার পর ফের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল দেশটি। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া ও ত্রিশূলী নদী এলাকায় বন্যায় ১,৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল (Budhi Gandaki River)।

    বর্তমানে গোর্খা জেলায় বুধিগণ্ডকী নদীর জলস্তরের উপর নজর রাখছে প্রশাসন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে (Nepal Flood)।

     

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে সময় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা শুভেন্দুর, ৯০০ গাড়ি নামাল পুলিশ

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে সময় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা শুভেন্দুর, ৯০০ গাড়ি নামাল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হবে রাজ্যের পুলিশকে। বর্তমানে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে পুলিশের গড়ে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা চালু করল রাজ্য সরকার। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক অনুষ্ঠানে জরুরি সাড়া প্রদান সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ব্যবস্থার অধীনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৯০০টি যানবাহন (Police Reform)। তার মধ্যে রয়েছে ৪৫০টি চারচাকার গাড়ি এবং সমসংখ্যক মোটরবাইক।

    পুলিশের কর্মদক্ষতা (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের কর্মদক্ষতার তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, কলকাতা পুলিশের হাতে বেশি সংখ্যক কর্মী ও যানবাহন থাকায় তারা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে পারে। রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রেও একই রকম দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন তিনি।

    পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট ছয় থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়। বাংলা কেন তা করতে পারবে না?” দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্য পুলিশকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৯০০টি যানবাহন দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা হল মাত্র। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি থানায় চারটি করে মোটরবাইক এবং চারটি করে গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই যানবাহন চালানোর জন্য ১,৫০০ জন চালক নিয়োগের প্রস্তাবেও রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    থানার পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর

    রাজ্যের একাধিক থানার বেহাল পরিকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অনেক থানায় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। কলকাতার ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ওই থানাগুলির ভবন প্রায় একশো বছরের পুরনো বলে মনে হয়েছে। পাশাপাশি, সেখানে পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রেরও অভাব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সমস্ত কিছুরই পরিবর্তন করতে হবে।”

    উপনির্বাচনে শান্তি বজায় রাখায় পুলিশের প্রশংসা

    সম্প্রতি রাজ্যের দু’টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পুলিশকর্তাদের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রক্তপাত ছাড়া ভোটপর্ব শেষ করার জন্য পুলিশকর্তাদের কৃতিত্ব দেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার আধিকারিক জাভেদ শামিম-সহ একাধিক পদস্থ আধিকারিকের ভূমিকার প্রশংসা করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের সঙ্গে অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের আরও ভালো সমন্বয়ের উপরেও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে।

    ১১ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল নিয়োগ

    পুলিশে নিয়োগ প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনেছে। দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যে ১১ হাজারেরও বেশি পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে।

    মাদকাসক্তি এবং মহিলাদের উপর হামলার ঘটনায় রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা ফের স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে জানান (Police Reform) তিনি।

    আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের শিকার চিকিৎসকের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন রাজ্যের প্রথম পদ্ম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, দেখে নেওয়া যাক সাপ্তাহিক ছবি

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, দেখে নেওয়া যাক সাপ্তাহিক ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দুধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে (Hindus Under Attack)। ২০২৬ সালের ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাবলী নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে হিন্দু ধর্মীয় স্থান, উৎসব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘিরে কয়েকটি বিতর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশে এক হিন্দু মিষ্টি ব্যবসায়ী ও তাঁর বৃদ্ধা মায়ের উপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটির প্রকাশকদের দাবি, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ, ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুর, জমি দখল, জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ, হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের মতো ঘটনা বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের ঘটনা মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

    ধর্মীয় স্থান ও উৎসব ঘিরে বিতর্ক (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনে ভারতের একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার দেওয়া, এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার, ধর্মীয় স্থানের কাছে খাদ্য গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক, বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম বিষয়ক আলোচনা সভায় বিঘ্ন এবং ধর্মীয় স্থানের কাছে কবরস্থানের জন্য জমি বরাদ্দের বিরোধ অন্যতম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্টে শরজিল ইমামের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির লেখকদের অভিযোগ, সাক্ষাৎকারে শরজিল ইমামের বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে তাঁকে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শরজিল ইমাম বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। তাঁকে সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনের ধরন নিয়ে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমেও সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। তবে সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যকে সমর্থন করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

    তরুণীর অভিযোগে শরীরচর্চার প্রশিক্ষক গ্রেফতার

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেন্নাইয়ের ওত্তেরি এলাকার বাসিন্দা বছর সাতাশের শরীরচর্চার প্রশিক্ষক ইমতিয়াজ শরিফকে সচিবালয় কলোনি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কলেজপড়ুয়া তরুণীর সঙ্গে নিজের ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনাটির বিস্তারিত এবং অভিযোগের পরবর্তী আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে আর কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

    আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে বিতর্ক

    কর্নাটকের কুদালসঙ্গমে শিবমন্দিরের কাছে কয়েকজনের আমিষ খাবার খাওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কুদালসঙ্গম জগজ্যোতি বসবন্নের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। প্রতিবেদনের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা এবং ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি (Hindus Under Attack)।

    বন্দে মাতরম বিষয়ক আলোচনা সভায় বিঘ্ন

    কেরলের কাসারগড়ে কেরল কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম বিষয়ক দু’দিনের একটি আলোচনা সভা চলাকালীন বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। ওই অনুষ্ঠানে রাজ্যপালও বক্তাদের মধ্যে ছিলেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃতি, তাঁদের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

    জমি বরাদ্দ নিয়ে আপত্তি

    কর্নাটকের মঙ্গলুরুর মুডুশেদ্দে গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের কবরস্থানের জন্য দুই একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত জমিটি জারান্দায়া দৈবস্থান নামে পরিচিত একটি ধর্মীয় স্থান, একটি পবিত্র নাগবন এবং কাছাকাছি অবস্থিত জৈন উপাসনাস্থলের নিকটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের আপত্তি, ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রক্ষার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, জমি বরাদ্দের স্থান নির্বাচন ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করছে। তবে জমি বরাদ্দের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সরকারি বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

    বাংলাদেশে হামলার অভিযোগ

    বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতার হামলা, নারীদের উপর যৌন হিংসা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের মতো ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা লুপ্ত হয়ে যেতে পারে (Hindus Under Attack)।

    আক্রান্ত ব্যবসায়ী ও তাঁর মা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলার ফুলহারি ইউনিয়নের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সুব্রত দই-মিষ্টি ভান্ডারের মালিক সুব্রত বাবু ও তাঁর শতায়ু মা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। সুব্রতবাবুর বক্তব্য, কয়েকজন লোক দাম না দিয়েই এর আগেও তাঁর দোকান থেকে জোর করে দই নিয়ে গিয়েছিলেন। ৫ অক্টোবর তারা ফের দোকানে এসে টাকা না দই-মিষ্টি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এরপরেই দুষ্কৃতীরা প্রথমে সুব্রত ও পরে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। তবে অভিযুক্তদের পরিচয়, পুলিশের পদক্ষেপ, মামলা নথিভুক্ত হয়েছে কি না এবং আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    ধর্মীয় বিদ্বেষ-বৈষম্য নিয়ে প্রতিবেদনের দাবি

    প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ কখনও সরাসরি হিংসা বা ধর্মীয় স্থানে হামলার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, আবার কখনও আইন, প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরের বিভিন্ন আচরণের মধ্য দিয়ে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশিত হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের বৈষম্য শনাক্ত করতে আইন, নীতি ও ঘটনাগুলির ধারাবাহিক ধরন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। লেখকদের দাবি, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবেশগত নিয়মের প্রয়োগের মধ্যে তুলনা করা দরকার (Hindus Under Attack)। তবে আতশবাজি ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ সাধারণত বায়ুদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার যুক্তিতে আরোপ করা হয়। কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে তার আইনি ভিত্তি, প্রয়োগের ধরন এবং তুলনামূলক তথ্য যাচাই করা জরুরি।

    মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্তের গুরুত্ব

    ভারত ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা জরুরি। উল্লেখ্য, প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সামগ্রিক বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়া রোধ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ (Hindus Under Attack)।

     

  • Turkey Muslims: ইস্তাম্বুলে জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসবে হামলা, আগেভাগেই বন্ধ করতে হল অনুষ্ঠান

    Turkey Muslims: ইস্তাম্বুলে জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসবে হামলা, আগেভাগেই বন্ধ করতে হল অনুষ্ঠান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তুরস্কের ইস্তাম্বুলে জাপানি সংস্কৃতি উদ্‌যাপনের একটি উৎসবে হামলার অভিযোগ একদল ইসলামপন্থী বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে (Turkey Muslims)। গত ৪ অক্টোবর ‘কোনোহাফেস্ট’ নামের দু’দিনের এই উৎসবে হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মারধর, বিভিন্ন স্টল ভাঙচুর এবং সরঞ্জাম নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। হামলাকারীদের মুখে শোনা যায় ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও হিংসা ও ভাঙচুরের জেরে নির্ধারিত সময়ের আগেই উৎসব বন্ধ করে দিতে (Istanbul) বাধ্য হন আয়োজকেরা। ঘটনায় কয়েক জন সামান্য আহত হয়েছেন বলেও খবর।

    ইস্তাম্বুলের উমরানিয়ে এলাকায় ৩ ও ৪ অক্টোবর আয়োজিত হয়েছিল এই উৎসব। জাপানের জনপ্রিয় সংস্কৃতি, অ্যানিমে, মাঙ্গা, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন ছিল উৎসবের মূল আকর্ষণ। অনুষ্ঠানে বহু দর্শকের পাশাপাশি পরিবার ও শিশুরাও উপস্থিত ছিল। আচমকা হামলার জেরে উৎসবের পরিবেশ দ্রুত বদলে যায় আতঙ্কে।

    আয়োজকদের দাবি (Turkey Muslims)

    আয়োজকদের দাবি, উৎসব শুরুর আগেই এর বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হয়েছিল। ‘উমরানিয়ে এনজিও প্ল্যাটফর্ম’ নামে পরিচয় দেওয়া একটি গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টার ছড়িয়ে উৎসব বাতিলের দাবি তোলে। পরিবারগুলিকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে সই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    প্রচারপত্রে লেখা হয়েছিল, “আমরা আর নীরব থাকব না! আমরা সমস্ত পরিবারকে আহ্বান জানাচ্ছি।” বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, এই উৎসব শিশুদের কাছে খারাপ উদাহরণ তৈরি করছে এবং তাদের মূল্যবোধের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

    পরবর্তী সময়ে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা উৎসবস্থলের কাছে জড়ো হয়ে একটি বিবৃতি পাঠ করেন। তাঁদের অভিযোগ, উৎসবের পোশাক, পরিবেশনা এবং সংশ্লিষ্ট জীবনযাপন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামো, জাতীয় পরিচয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    তাঁদের আরও দাবি, জাপানি জনপ্রিয় সংস্কৃতির এই আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে তুর্কি সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের মধ্যে পরিচয়সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি করছে। ভবিষ্যতেও যাতে এই ধরনের অনুষ্ঠান না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে পদক্ষেপ করার আহ্বান জানানো হয়।

    বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন ব্যানারে তুরস্কের ইতিহাস, শালীনতা ও ঐতিহ্য রক্ষার পক্ষে স্লোগান লেখা ছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—“আদর্শ খুঁজলে নিজের ইতিহাসের দিকে তাকান”, “আমাদের নায়ক সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ”, “প্রদর্শনবাদ নয়, শালীনতার পক্ষে” এবং “আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অনুকরণের হাতে তুলে দেব না”।

    বিক্ষোভকারীরা তুরস্ক সরকারের ‘পরিবার ও জনসংখ্যার দশক’ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচিতে (Turkey Muslims) পরিবারকেন্দ্রিক নীতি ও ঐতিহ্যগত সামাজিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে তুরস্কের ১৫টি প্রদেশে পরিচালিত ‘আমার পরিবার সুরক্ষিত’ অভিযানকেও সমর্থন জানিয়েছিল ওই গোষ্ঠী। এই অভিযানে অন্তর্ভুক্তি ও সমানাধিকারের দাবিতে সরব এলজিবিটিআই-প্লাস গোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব

    বিবৃতি পাঠের পর বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দিতে উৎসবের দিকে এগিয়ে যান। এরপর অংশগ্রহণকারীদের উপর হামলা চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্টল ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের মধ্যে। কয়েক জন সামান্য আহত হন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। যদিও ততক্ষণে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয় উদ্যোক্তাদের।

    এই ঘটনা তুরস্কের জনজীবনে ইসলামি রক্ষণশীলতার প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামো এবং জাতীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই ধরনের নীতির ফলে কিছু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতি বিরূপ মনোভাব আরও বেড়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা কোনোহাফেস্টের বিরোধিতাকে তুর্কি ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরলেও, অভিযোগ, ঘটনাটি কেবল প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি। উৎসবে উপস্থিত মানুষজন এবং তাঁদের ব্যবহৃত সরঞ্জামও সরাসরি হামলার লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

    এই ঘটনা তুরস্কে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সামাজিক টানাপোড়েনেরও ইঙ্গিত। দেশটির তরুণদের মধ্যে জাপানি অ্যানিমে, মাঙ্গা, ভিডিও গেম এবং চরিত্রভিত্তিক পোশাক পরার প্রতিযোগিতা বা কসপ্লের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়েছে। বিভিন্ন সম্মেলন, বিষয়ভিত্তিক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আগ্রহ প্রকাশ পায়।

    তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে উদ্বেগ

    রক্ষণশীল ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যেসব গোষ্ঠীর জীবনযাপন ও কার্যকলাপের সংঘাত তৈরি হয়, তাদের প্রতি আচরণ নিয়ে তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। খ্রিস্টান-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও বিভিন্ন সময়ে বিরূপ মনোভাবের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ (Turkey Muslims)।

    ঐতিহাসিক খ্রিস্টান উপাসনালয় হায়া সোফিয়া এবং চোরা কমপ্লেক্সকে মসজিদে রূপান্তরিত করার বিষয়ে এরদোয়ান সরকারের সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এই সিদ্ধান্তগুলি তুরস্কের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনোহাফেস্টে হামলার বিষয়ে প্রশাসনের কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। গ্রেফতার বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কোনও তথ্য মেলেনি।

    পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিংসার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি ইসলামপন্থী কট্টরপন্থীদের সহনশীলতা এবং ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনযাপনের মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানের মানসিকতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে (Istanbul)।

    একটি শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতিতেই এই হামলার অভিযোগ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিপজ্জনক দিকটি সামনে এনেছে। ধর্মের চরমপন্থী ব্যাখ্যা যখন অসহিষ্ণুতাকে উসকে দেয়, তখন তা সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে পারে (Turkey Muslims) বলেই মত সংশ্লিষ্টমহলের।

     

LinkedIn
Share