Author: pranabjyoti

  • CJP: লখনউয়ে বিক্ষোভের মাঝে পুলিশের বিরুদ্ধে পোশাক ছেঁড়ার অভিযোগ, ব্লাউজের বোতাম খোলার দাবি ঘিরে বিতর্ক

    CJP: লখনউয়ে বিক্ষোভের মাঝে পুলিশের বিরুদ্ধে পোশাক ছেঁড়ার অভিযোগ, ব্লাউজের বোতাম খোলার দাবি ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওয় দাবি করা হয়েছে, পুলিশের বিরুদ্ধে পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলার সময় এক মহিলা বিক্ষোভকারী ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ব্লাউজের বোতাম খুলছিলেন (CJP)। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক মহিলা সাংবাদিকের বক্তব্য ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।

    সাংবাদিকের বক্তব্য (CJP)

    প্রকাশিত ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভস্থল থেকে খবর সংগ্রহ করছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। সেই সময় কয়েক জন মহিলা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের পোশাক ছিঁড়ে দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহিলাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিক তাঁদের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেন (Police Controversy)। ভিডিওয় ওই সাংবাদিককে বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, উনি আমার সামনেই পোশাক ছিঁড়েছেন।” এরপরই নিজের বক্তব্য সংশোধন করে তিনি এক মহিলার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাংবাদিককে আরও বলতে শোনা যায়, “এভাবে নিজেকে নির্যাতিত হিসেবে তুলে ধরবেন না, ম্যাডাম। উনি আমার সামনে ব্লাউজের বোতাম খুলছেন, আর বলছেন পুলিশ তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দিয়েছে। মিথ্যা বলবেন না।”

    পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ

    সাংবাদিকের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলার সময় ওই মহিলা তাঁর সামনেই ব্লাউজের বোতাম খুলছিলেন। তবে ভিডিওয়  সাংবাদিকের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলে তাঁর অভিজ্ঞতার বিবরণ সামনে এলেও, অভিযোগের সমস্ত দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয় (CJP)। উল্লেখ্য, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তা নিয়ে সাংবাদিকের প্রকাশ্য প্রশ্ন তোলার ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত ভিডিওয় মূলত সাংবাদিকের বক্তব্য (Police Controversy) এবং বিক্ষোভকারী মহিলার সঙ্গে তাঁর কথোপকথন তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হলে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন (CJP)।

     

  • Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘কারচুপিমুক্ত’ রাখার দাবি তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সমর্থনে সরব হলেন ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা ও আধিকারিক। গত (SIR) ১০ অক্টোবর, শনিবার, প্রাক্তন ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা, ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার আধিকারিকেরা দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে একটি (Election Commission) খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুললে তার স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণও দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয় বলেও মত তাঁদের। গত ৭ অক্টোবর ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতিও নির্বাচন কমিশনের সমর্থনে একই ধরনের একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন। বিরোধীদের তরফে কমিশনকে নিশানা করার প্রবণতার সমালোচনা করে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

    অতীতের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা (Election Commission)

    খোলা চিঠিতে প্রাক্তন আধিকারিকেরা জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁরা নির্বাচন পরিচালনা করেছেন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁদের মতে, একসময় বুথ দখল, হিংসা, ব্যালট বাক্স লুট এবং ভুয়ো ভোটদানের মতো ঘটনা ছিল নির্বাচনের পরিচিত সমস্যা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ১৯৮৯ সালে বুথ দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

    এই প্রসঙ্গে বিহারের ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ১৯৫১ সালের পর বিহারে ওই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার নথিভুক্ত হয়েছিল। বিশেষ করে, রেকর্ড সংখ্যক মহিলা ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পাশাপাশি, রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবার কোনও কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকেরা লিখেছেন, “কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে কেমন, তা আমরা জানি। এমন সময়ে আমরা কাজ করেছি, যে সময়ের কথা আপনারা শুধু সিনেমায় দেখেছেন—বুথে আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুগামীদের দৌরাত্ম্য, ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়া বা লুট করা এবং ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া। বুথ দখল এতটাই সাধারণ ঘটনা ছিল যে ১৯৮৯ সালে সংসদ একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। যখন হিংসা কথা বলে, তখন গণতন্ত্র নীরব হয়ে যায়।”

    ভোটে কারচুপি ঠেকাতে একাধিক সুরক্ষাব্যবস্থা

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে চিঠিতে ভোটগ্রহণের বিভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রতিটি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতিনিধি ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ভোট গণনার পর স্বাক্ষরিত নথিও তাঁরা পান। ভোটযন্ত্র সিল করার সময় নির্বাচনী প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং যন্ত্রগুলি নিরাপদ কক্ষে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা নজরদারি করতে পারেন (Election Commission)।

    এ ছাড়া, ভোটযন্ত্রে গণনা করা ভোটের সঙ্গে কাগজের ভোট-স্লিপ মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থাও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই সুরক্ষাব্যবস্থাকে বহাল রেখেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের কথায়, “কর্মকর্তারা সাধু হয়ে গিয়েছিলেন বলে এই পরিবর্তন ঘটেনি। বরং নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা ব্যবস্থা কাউকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি প্রার্থীর প্রতিনিধি প্রতিটি বুথের ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রদত্ত ভোটের গণনার স্বাক্ষরিত নথি সঙ্গে নিয়ে যান। ভোটযন্ত্রগুলিতে প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর-সহ সিল করা হয় এবং সেগুলিকে নিরাপদ কক্ষে পাহারার মধ্যে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের নজরদারির সুযোগ থাকে।”

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে বড় ধরনের কারচুপি করতে হলে হাজার হাজার সরকারি আধিকারিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে একযোগে নীরব থাকতে হবে। অথচ এমন কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি বলে দাবি তাঁদের।

    নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, কমিশনকে একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনও এক ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না হয়। ১৯৯৫ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই কাঠামো বহাল রেখেছিল। তিন নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি বিষয় বিবেচনা করেন। ফলে কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেই তাকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যায় না।

    ভোটার তালিকা পরিষ্কারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন জরুরি

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, বিহারে ২০০৩ সালের পর থেকে ভোটার তালিকার এমন নিবিড় সংশোধন হয়নি। সাম্প্রতিক প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ লাখ মৃত ভোটারের নাম, সাত লাখের মতো দ্বৈত নাম নথিভুক্তি এবং স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া বহু মানুষের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে (SIR)।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, অন্যের নামে ভোটদান আটকাতে এই ধরনের নাম বাদ দেওয়া জরুরি। আধিকারিকদের কথায়, “পরিমার্জন না করা ভোটার তালিকা ভোটারকে সুরক্ষা দেয় না, বরং জালিয়াতকে সুরক্ষা দেয় (Election Commission)।”

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, খসড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত নয়। তালিকায় কারও নাম না থাকলেই যে তাঁর নাম স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছে, এমন নয়। কোনও নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে এবং নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দু’টি স্তরে আপিলের ব্যবস্থাও রয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার নতুন ভোটারের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিও বুথ স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে।

    চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, “বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া আসলে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে তালিকা পরিমার্জন করা হয় এবং ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অসুবিধা তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রকে আরও সুস্থ করে তোলার জন্য নেওয়া বড় উদ্যোগগুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের অসুবিধা স্বাভাবিক।”

    সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি ও নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, আদালত এই প্রক্রিয়া বন্ধ করেনি। তবে বিহারের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ৬৫ লাখ মানুষের নাম এবং তাঁদের নাম বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল।

    এ ছাড়া, অনলাইনে দাবি জানানোর সুযোগ, পরিচয়পত্র হিসেবে আধার গ্রহণ এবং আপিলের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কোনও বেআইনি পদ্ধতি ব্যবহারের প্রমাণ মিললে এই সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল হতে পারে বলেও আদালত সতর্ক করেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আধিকারিকেরা আরও জানান, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বহাল রাখে। একই সঙ্গে ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়।

    রাজনৈতিক ফলের ভিত্তিতে কমিশনকে বিচার করা উচিত নয়

    প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, নির্বাচনের ফল পছন্দসই না হলেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যুক্তিযুক্ত নয়। তাঁদের বক্তব্য, একই কমিশনের অধীনে হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও শাসক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

    তাঁরা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম যাচাই করার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাবা-মা, প্রতিবেশী এবং কর্মসূত্রে অন্যত্র বসবাসকারী পরিযায়ী শ্রমিকদেরও তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারও নাম না থাকলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দাবি জানিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে বলা হয়েছে।

    বুথ স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই শিক্ষক এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ভোটার তালিকার তথ্য আপডেট করতে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা (Election Commission)।

    চিঠির শেষে তাঁরা লিখেছেন, “সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলুন। কিন্তু কেউ যখন বলেন নির্বাচন ‘কারচুপিপূর্ণ’, তখন তাঁর কাছে এমন প্রমাণ চান, যার পক্ষে তিনি শপথ করে দাঁড়াতে পারবেন।”

    তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। তবে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ থাকা জরুরি এবং তা আইনি পথে জানানো উচিত। ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানো কিংবা হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন দাখিল করার মতো বৈধ পথও রয়েছে।

    চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, প্রমাণ ছাড়া বারবার নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুললে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হতে পারে। কোনও দল জিতলে যে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ বলা হচ্ছে, সেই একই ব্যবস্থাকে পরাজয়ের পর (SIR) অসৎ বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা।

     

  • India Slams UN: আরশোলাদের প্রতিবাদে শামিল লোকজনকে আটক নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগে ক্ষুব্ধ দিল্লি, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ’, তোপ ভারতের

    India Slams UN: আরশোলাদের প্রতিবাদে শামিল লোকজনকে আটক নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগে ক্ষুব্ধ দিল্লি, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ’, তোপ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শত শত সমর্থককে আটক করার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের উদ্বেগকে ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ’ বলে আক্রমণ করল ভারত (India Slams UN)। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের (ওএইচসিএইচআর) মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে নয়াদিল্লির দাবি, এই উদ্বেগের কোনও ভিত্তি নেই। বরং বিশ্বের অন্যত্র হওয়া বৃহৎ বিক্ষোভের দিকেও রাষ্ট্রসংঘের নজর দেওয়া উচিত।

    মুখের মতো জবাব ভারতের (India Slams UN)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রসংঘের ভারতের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। এখানে সংবিধান শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করেছে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং মুক্ত সংবাদমাধ্যম এই অধিকারকে সুরক্ষিত রাখে। অন্য সব গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতেও জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের আওতায় নাগরিকেরা এই অধিকার প্রয়োগ করেন। অন্যদিকে, প্রশাসন আইন মেনেই কাজ করে এবং যে কোনও অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ সবার জন্য খোলা রয়েছে (Delhi Detentions Remarks)।”

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধর্না দিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সিজেপির নেতা-কর্মী- সমর্থকেরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলের নেতারাও। সেই সময় দিল্লি পুলিশ প্রায় তিন হাজার মানুষকে আটক করে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশের ঢল আটকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উপরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দিল্লি মেট্রো, বাস ও রেল পরিষেবাও এই বিধিনিষেধের আওতায় আসে।

    শনিবার রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে জানান, দিল্লিতে বৃহৎ বিক্ষোভের আগে ও চলাকালীন বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, নাগরিক সমাজের সংগঠনের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের গণ-আটকের খবর নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

    তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার যাতে সম্পূর্ণভাবে সম্মান করা হয় এবং কার্যকর করা হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।” তাঁর আরও বক্তব্য, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার কঠোর মানদণ্ড পূরণ করা আবশ্যক (India Slams UN)।”

    রাষ্ট্রসংঘের ‘অনাকাঙ্খিত জ্ঞান’

    শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রসংঘের ওই মুখপাত্র। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত উদ্বেগ ও অভিযোগগুলির সমাধানে কর্তৃপক্ষকে অর্থবহ আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন তিনি।

    তবে রাষ্ট্রসংঘের এই মন্তব্যে আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পাল্টা বক্তব্য, “ওএইচসিএইচআরের উদ্বেগ ভিত্তিহীন এবং তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপের শামিল। এই পরিস্থিতিতে, নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতার দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বের অন্যত্র সংঘটিত বৃহৎ বিক্ষোভগুলির প্রতিও ওএইচসিএইচআরের একই রকম গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

    এদিকে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার অনুমতি চেয়ে সিজেপির আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পরই আটক করা হয় দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে (Delhi Detentions Remarks)।

    পুলিশের হাতে আটক হওয়া অধিকাংশকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে এখনও ছাড়া হয়নি বলেই খবর (India Slams UN)।

     

  • Suvendu Adhikari: মহালয়ায় দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, ড্রোনের আলোয় দেবী বন্দনা

    Suvendu Adhikari: মহালয়ায় দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, ড্রোনের আলোয় দেবী বন্দনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল করে তুলে ধরতে মহালয়ার দিন বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Suvendu Adhikari)। শনিবার কলকাতার রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত খোলা জিপে শোভাযাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে রেড রোডে আয়োজিত পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি। বাংলার লোকসংস্কৃতি, নাচ-গান, কয়েক হাজার ঢাকির বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি এবং প্রায় তিন হাজার ড্রোনের বিশেষ আলোক প্রদর্শনীতে উঠে আসে দেবী দুর্গার আগমনের ছবি (Mahalaya 2026)। ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রবিবার থেকেই পুজো কমিটিগুলি অনুদান বাবদ এক লাখ টাকা করে পেতে শুরু করবে।

    এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ রেড রোড থেকে শুরু হয় মুখ্যমন্ত্রীর খোলা জিপে শোভাযাত্রা। রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে বাংলার বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন। ছৌ নাচ, বাউল গান, ভাওয়াইয়া-সহ নানা লোকসংগীত ও লোকনৃত্যের পরিবেশনায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

    ড্রোনের আলোয় দেবীর আগমনী (Suvendu Adhikari)

    ইডেন গার্ডেন্সে কয়েক হাজার ঢাকির একযোগে ঢাক বাজানো এবং শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এরপর আকাশে প্রায় তিন হাজার ড্রোনের বিশেষ প্রদর্শনীতে ফুটিয়ে তোলা হয় দেবী দুর্গার আগমনের নানান দৃশ্য। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, বাংলায় এই ধরনের ড্রোন প্রদর্শনী নজিরবিহীন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পীদের পুজোর গান পরিবেশনেরও আয়োজন করা হয়।

    রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, বাংলার সংস্কৃতি এবং শিল্পকলাকে দেশ-বিদেশের মানুষের সামনে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান

    ইডেন গার্ডেন্সের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রবিবার থেকেই দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কাজ শুরু হবে। প্রতিটি পুজো কমিটি এক লাখ টাকা করে অনুদান পাবে। নতুন পুজো কমিটিগুলিকেও অনুদান দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার রাজ্যে মোট ১২ হাজার ৪০০-রও বেশি দুর্গাপুজো হচ্ছে। তবে তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতার ২০০-রও বেশি পুজো কমিটি সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।

    দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার উদ্যোগ

    মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব আজ বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে।” দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পিতৃপক্ষের পরিবর্তে মাতৃপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মহালয়ার সকালে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে তর্পণের পাশাপাশি মহিষাসুরমর্দিনী শোনানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করার জন্য রাজ্যপালকেও ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    আগামী চার দিন ধরে মালদহ, দিঘা, দুর্গাপুর, কোচবিহার, বিষ্ণুপুর-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। ষষ্ঠীর আগে পর্যন্ত এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বিসর্জনেও বাংলার ঐতিহ্য বজায় রাখার আবেদন

    দুর্গাপুজোর বিসর্জন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৪ তারিখের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন। বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে বিভিন্ন ঘাটে বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    বক্তব্যের শেষে সকলকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এবারের দুর্গাপুজো সকলের কাছে মধুময় হয়ে উঠুক।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতবিরোধী শক্তিকে পরাস্ত করে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তুলে (Mahalaya 2026) ধরেন তিনি।

     

  • India: ২০৩১ সালের মধ্যে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার, লাভের অঙ্কে বড় চ্যালেঞ্জ

    India: ২০৩১ সালের মধ্যে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার, লাভের অঙ্কে বড় চ্যালেঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী কয়েক বছরে ব্যাপক সম্প্রসারণের পথে এগোতে পারে ভারতের (India) দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার। রেডসিয়ার স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্টস এবং গুগলের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে এই (Quick Commerce Market) বাজারের আকার বর্তমানের তুলনায় পাঁচ থেকে সাত গুণ বেড়ে ৭০ বিলিয়ন থেকে ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার অঙ্ক কয়েক লাখ কোটি টাকা। ২০২৬ অর্থবর্ষে এই বাজারের বার্ষিক মোট অর্ডারমূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বা ১.১ লাখ কোটি টাকা।

    তবে এই বিপুল বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাস্তবায়িত করতে হলে প্রতি বছর ৪১ থেকে ৪৮ শতাংশ হারে বাজারের সম্প্রসারণ প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে প্রতিটি পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহকেন্দ্রের দৈনিক অর্ডার, পরিচালন ব্যয় এবং লাভের হিসাব।

    মহানগর ও নতুন পণ্যই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি (India)

    সমীক্ষার ফল তুলে ধরে রেডসিয়ার স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্টসের অংশীদার কুশল ভাটনগর জানিয়েছেন, পাড়াভিত্তিক সরবরাহকেন্দ্রের বিস্তার, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি এবং ডিজিটাল পরিষেবার প্রসার এই বাজারের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    বর্তমানে মাসে অন্তত একবার কেনাকাটা করেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কোটি। ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে সেই সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস। এর ফলে ভারতের মোট খুচরো বাজারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের অংশীদারি বর্তমানের দেড় শতাংশেরও কম থেকে বেড়ে প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

    এই বৃদ্ধিতে মহানগরগুলির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাজারের অতিরিক্ত বৃদ্ধির প্রায় ৬০ শতাংশ আসতে পারে মহানগরগুলি থেকে। বর্তমানে মহানগরের মোট খুচরো কেনাকাটার প্রায় ৬ শতাংশ এই পরিষেবার মাধ্যমে হলেও আগামী দিনে তা বেড়ে ২০ থেকে ২৩ শতাংশ হতে পারে।

    একই সঙ্গে প্রসাধনসামগ্রী, বৈদ্যুতিন পণ্য এবং পোশাকের মতো পণ্যের বিক্রিও দ্রুত বাড়বে বলে অনুমান। এই ক্ষেত্রের বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২১ থেকে ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।

    উৎসবের মরসুমেও এই বাজারের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় উৎসবকেন্দ্রিক বিক্রি ১১০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। অনলাইন মাধ্যমে উৎসবের সময় হওয়া মোট কেনাকাটার প্রায় ১৮ শতাংশ আসতে পারে এই দ্রুত সরবরাহ পরিষেবা থেকে।

    বাজারের সিংহভাগ তিন সংস্থার দখলে

    বর্তমানে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার মূলত তিনটি বড় সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। মোট অর্ডার মূল্যের ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ তাদের দখলে রয়েছে।

    এই বাজারে প্রায় ৪৬ শতাংশ অংশীদারি নিয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্লিঙ্কিট। জেপ্টোর অংশীদারি প্রায় ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ এবং সুইগি ইনস্টামার্টের ২২ থেকে ২৭ শতাংশ। অন্য দিকে, ফ্লিপকার্ট মিনিটস এবং অ্যামাজন নাও—দুই সংস্থারই বাজারের অংশীদারি এখনও ৫ শতাংশের কম। তবে দ্রুত পরিষেবা সম্প্রসারণ করছে (India) তারা।

    ২০২৬ সালের গোড়ার হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রের মাসিক মোট পণ্য বিক্রির মূল্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিন অর্ডারের সংখ্যা প্রায় ৭৮ লাখ।  গড় অর্ডারমূল্য ৪৬০ টাকা এবং সারা দেশে দ্রুত পণ্য সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ গুদাম বা সংরক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা ৬,২৮০-রও বেশি।

    এ ছাড়া, বড় সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক মডেলেও পরিবর্তন এসেছে। আগে অন্য বিক্রেতাদের পণ্য একত্রিত করে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলেও এখন অনেক সংস্থা নিজেরাই পণ্যের মজুত ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। এতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি, নিজেদের ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মোট মুনাফার হার অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। সেখানে দেশের বড় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই হার সাধারণত ৩ থেকে ৫ শতাংশ।

    লাভের মুখ দেখতে দিনে অন্তত ১,২০০ থেকে ১,৫০০ অর্ডার জরুরি

    বাজারের আকার বাড়লেই যে সংস্থাগুলি লাভজনক হয়ে উঠবে, তা নয়। প্রতিটি সরবরাহকেন্দ্রের আয়-ব্যয়ের হিসাবই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি কেন্দ্রকে লাভ-ক্ষতির সমতা অর্জন করতে সাধারণত প্রতিদিন ১,২০০ থেকে ১,৫০০টি অর্ডার সামলাতে হয়।

    প্রথম সারির মহানগরগুলিতে একটি কেন্দ্র প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০টি অর্ডার সামলাতে পারে। সেখানে প্রতি অর্ডারে গড় খরচ প্রায় ২৭ টাকা। অন্য দিকে, মহানগরের বাইরের কেন্দ্রগুলিতে দৈনিক গড় অর্ডার প্রায় ৯৫০টি এবং প্রতি অর্ডারের খরচ প্রায় ৩১ টাকা।

    একটি নতুন কেন্দ্র তৈরি করতে ১৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। নতুন কেন্দ্রগুলিকে প্রথম চার থেকে আট মাস পর্যন্ত লোকসানও গুনতে হয়। তবে দেড় বছর বা তার বেশি সময় ধরে চালু থাকা পরিণত কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রভিত্তিক পরিচালন মুনাফার হার ৫ থেকে ৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

    কিন্তু দ্রুত সম্প্রসারণের খরচ সামগ্রিক লাভের উপর চাপ তৈরি করছে। ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ব্লিঙ্কিট ১৮০টিরও বেশি নতুন সরবরাহকেন্দ্র চালু করেছে। এর ফলে সংস্থাটির সমন্বিত পরিচালন মুনাফার হার কমে ঋণাত্মক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

    বিজ্ঞাপন ও অতিরিক্ত পরিষেবায় আয় বাড়ানোর চেষ্টা

    শেষ পর্যায়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার খরচ সামলাতে সংস্থাগুলি এখন বিজ্ঞাপন, সুবিধা-শুল্ক এবং কেন্দ্রের ভিতরে ছোট খাবারের দোকানের মতো বিকল্প আয়ের উপর জোর দিচ্ছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি অর্ডারে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত সুবিধা-শুল্ক নেওয়া হচ্ছে।

    জেপ্টোর বিজ্ঞাপন থেকে আয় গত দুই বছরে ৪৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১,৬৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি দেখিয়ে দিচ্ছে, পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিজ্ঞাপনও দ্রুত সরবরাহ সংস্থাগুলির আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে (Quick Commerce Market)।

    তবে সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের বাজার গড়ে তুলতে হলে মোট অর্ডারমূল্যের অন্তত ৩০ শতাংশ বা তার বেশি আসতে হবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের বিভাগগুলি থেকে। সেই সঙ্গে গড় অর্ডারমূল্য ৪৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা বা তার বেশি হতে হবে (India)।

    তবে বেশি দামের পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন সমস্যাও রয়েছে। বিশেষ করে পোশাকের মতো পণ্যে ফেরত দেওয়ার হার ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে পণ্য ফেরত নেওয়া, পুনরায় মজুত করা এবং সরবরাহের খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে।

    নিয়মকানুনের কড়াকড়ি, আপত্তি খুচরো ব্যবসায়ীদের

    দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার যত বড় হচ্ছে, ততই বাড়ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির নজরদারি। ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সরবরাহকেন্দ্রকে খাদ্য ব্যবসায়ী হিসেবে প্রয়োজনীয় রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স নিতে হয়।

    তেলঙ্গানার খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা টিজি সেফের পরিদর্শনের পরে হায়দরাবাদে ইনস্টামার্ট, জেপ্টো এবং ফ্লিপকার্টের কয়েকটি কেন্দ্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। মুম্বইয়ের ধারাভিতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে উঠে আসা সমস্যার মধ্যে ছিল শীতলীকরণ কক্ষে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে না পারা এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব।

    অন্য দিকে, দ্রুত পণ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অনৈতিক মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশন। সংগঠনটির দাবি, দেশের ৭৫ থেকে ৮০টি শহরে ২ লাখেরও বেশি ছোট মুদির দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি সংগঠনটির নিজস্ব দাবি, এর স্বাধীন যাচাইয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

    এ ছাড়া, রাজস্থান ও কর্নাটকে দ্রুত সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে কর্মীদের নথিভুক্ত করা এবং তাঁদের কল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থ দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে। পণ্য সংরক্ষণকেন্দ্র থাকা প্রতিটি রাজ্যে পৃথক পণ্য ও পরিষেবা কর নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

    প্রস্তাবিত ব্যবসায়ী ছাড়ের হার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশ ২ অক্টোবর ‘ইউপিআই বর্জন দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছিল। প্রস্তাবিত ছাড়ের হার ছিল ০.৫ থেকে ১.১ শতাংশ। পরে অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

    এদিকে, চলতি মাসে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করার বিষয়টিও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বজায় থাকলে পরিবারের হাতে খরচ করার মতো অর্থ কমতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের মতো সুবিধানির্ভর পরিষেবার চাহিদাতেও।

    আগামী দিনে নজর থাকবে যে বিষয়গুলিতে

    বাজারের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির পূর্বাভাস ঘিরে এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। ৯০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বাজারমূল্য বলতে কর ও অন্যান্য শুল্ক-সহ মোট অর্ডারমূল্য বোঝানো হয়েছে, নাকি পণ্য ফেরত ও বাতিলের হিসাব বাদ দেওয়ার পরে প্রকৃত বিক্রিমূল্য—তা পরিষ্কার নয়।

    একই ভাবে, দ্রুত সম্প্রসারণ বজায় রেখেও ছোট সংস্থাগুলি পরিচালন মুনাফায় পৌঁছতে পারবে কি না, অথবা দ্বিতীয় সারির শহরগুলিতে পর্যাপ্ত অর্ডার না থাকলেও ভর্তুকি ছাড়া সরবরাহকেন্দ্র চালানো সম্ভব হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি সূচকের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রথমত, নতুন সরবরাহকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রে দৈনিক অর্ডার কতটা বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, সংস্থাগুলির পরিচালন মুনাফার হার কোন দিকে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মোট অর্ডারের মধ্যে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের পণ্যগুলির অংশীদারি কতটা বাড়ছে (India)।

    পাশাপাশি, প্রতিযোগিতা কমিশনের সিদ্ধান্ত, একাধিক রাজ্যে পণ্য মজুত রাখা সংস্থাগুলির জন্য একক নিবন্ধনের সম্ভাবনা নিয়ে পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন রাজ্যে গিগ কর্মীদের কল্যাণ তহবিল সংক্রান্ত নিয়মও বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

    সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজারে বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১৪২ শতাংশ (Quick Commerce Market)। আগামী ত্রৈমাসিকগুলিতে পুরনো সরবরাহকেন্দ্রগুলি কতটা লাভজনক হয়ে উঠছে এবং নতুন কেন্দ্র খোলার খরচ কতটা সামলানো যাচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করবে ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে এই বাজার ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে কি না।

     

  • Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই আটক করা হয়েছে সংগঠনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে (Ajinkya Shinde)। এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্যারিকেড, কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধক এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে রাজধানীকে (Cockroach Janta Party Protest)।

    অভিযোগ, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির দেড় হাজারেরও বেশি সমর্থককে। দলের নেতাদেরও দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর আটক করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগাঁওয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার মতো আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

    গ্রেফতারির আশঙ্কা (Ajinkya Shinde)

    গ্রেফতারির আশঙ্কা আগেই করেছিলেন দীপকে। সেই কারণে শুক্রবার রাতেই একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা যত দিন আটক থাকবেন, তত দিন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডে।

    ভিডিওতে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা যদি এই ভিডিওটা দেখছেন, তার অর্থ আমি, আশুতোষ ও সৌরভ—আমরা তিনজনই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছি। আমাদের পর এই আন্দোলনে অজিঙ্ক নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা যাঁরাই এই ভিডিওটি দেখছেন, তাঁরা এ বার থেকে অজিঙ্ক শিন্ডেকে অনুসরণ করুন। আমি, আশুতোষ ও সৌরভের পর উনিই এখান থেকে ককরোচ জনতা পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

    প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিপুল সংখ্যক কর্মী। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চল্লিশ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কর্তব্যপথ সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিনিষেধের পাশাপাশি ট্রেন চলাচল নিয়েও নিয়ন্ত্রণের খবর সামনে এসেছে। দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে কোনও ট্রেন প্রবেশ করবে না বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন (Ajinkya Shinde)।

    এমন পরিস্থিতিতেও আন্দোলনকারীদের পিছিয়ে না আসার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, “দিল্লি পুলিশ যদি আপনাদের আটকানোর চেষ্টা করে, তা হলে যেখানে আপনাদের আটকানো হবে, সেই জায়গাটাই আপনাদের যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।” দীপকে আটক হওয়ার পর তিনিই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কেন ফের আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি?

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ করেছে তারা। গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়েও এই ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল।

    এ বার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হলেও, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় দিল্লি পুলিশ সেই কর্মসূচির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী দশ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। সেই দাবিতেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জারি রেখেছে সংগঠনটি।

    দিল্লিতে একের পর এক নেতা ও সমর্থক আটক হওয়ার পর আন্দোলন কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডেকে সামনে রেখে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party Protest)। অন্যদিকে, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে  (Ajinkya Shinde) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Donald Trump: নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নরওয়েকে দিলেন হুঁশিয়ারি

    Donald Trump: নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নরওয়েকে দিলেন হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবারেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্যে ছিঁড়ল না নোবেল শান্তি পুরস্কারের শিকে। আর তাই যারপরনাই ক্ষুব্ধ ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। চলতি বছরের শান্তি পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্তকে “লজ্জাজনক ও বিব্রতকর” আখ্যা দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই একটি জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেন, পুরস্কারজয়ী ওই রহস্যময় ব্যক্তিত্বের নাম তিনি আগে কখনও শোনেননি। একই সঙ্গে নরওয়েকে কটাক্ষ (Nobel Peace Prize) করে তিনি বলেন, “এটি নরওয়ের ইতিহাসে এক অমোচনীয় কলঙ্ক। আমরা তা ভুলব না।”

    অসন্তোষ প্রকাশ ট্রাম্পের (Donald Trump)

    ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে এই পুরস্কার দেওয়া হলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই সময় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে ট্রাম্পকে বুঝিয়ে বলেছিলেন, পুরস্কারপ্রাপকের নাম নির্ধারণ করে নরওয়ে সরকারের কোনও সংস্থা নয়, বরং নরওয়েতে অবস্থিত একটি স্বাধীন কমিটি।

    নিউ ইয়র্কের সিরাকিউজে আয়োজিত জনসভায় সমর্থকদের সামনে ফের নিজের কৃতিত্বের কথা তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং আরও দু’টি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করতে অথবা জয়লাভ করতে চলেছেন। তবে নিজের দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ পেশ করেননি তিনি।

    নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “গণতন্ত্রবিরোধী এবং সভ্যতার প্রকৃত শত্রু, এমন এক মুষ্টিমেয় উগ্র মতাদর্শীর কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা চিরতরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

    পুরস্কার নাভি পিল্লাইকে

    আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি। কমিটির বক্তব্য, তাঁর কাজ বিশ্বজুড়ে আরও সুসংহত আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করেছে।

    নরওয়ের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ভাটনে ফ্রাইডনেস জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক পিল্লাইয়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    পুরস্কার ঘোষণার কিছুক্ষণ পরে জার্মানির নুরেমবার্গের বিচার প্রাসাদ থেকে প্রতিক্রিয়া জানান ৮৫ বছর বয়সি পিল্লাই। প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটা নিশ্চয়ই মজা।” তাঁকে অভিনন্দন জানাতে উপস্থিত মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। পরে হাস্যরসের ছলে বলেন, “আপনারা যদি আরও একটু জোরে হাততালি দেন, তা হলে হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি (Donald Trump)।”

    অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আগেও

    গত বছরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় হোয়াইট হাউসের তরফে নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের সময় ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। মাচাদোর বক্তব্য ছিল, তাঁর দেশের স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই এই উপহার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প ওই পদক্ষেপকে পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অসাধারণ নিদর্শন বলে বর্ণনা করেন।

    তবে পরে নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নোবেল পুরস্কার অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যায় না। কমিটির বিবৃতিতে (Nobel Peace Prize) বলা হয়, “একবার নোবেল পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হলে তা বাতিল করা, অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া কিংবা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং তা চিরকাল বহাল থাকবে (Donald Trump)।”

     

  • Ambani: ‘ভারতের আসল বস কে?’ আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করতে ফের সরব ধনকুবের

    Ambani: ‘ভারতের আসল বস কে?’ আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করতে ফের সরব ধনকুবের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে (Ambani)। এই আবহে ফের সরব হলেন প্রযুক্তি দুনিয়ার ধনকুবের ইলন মাস্ক। সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কটাক্ষের সুরে তিনি লিখেছেন, “প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের প্রকৃত বস, তা বুঝতে না পারার জন্য আমার বিনম্র ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করুন।” বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধানের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে (Elon Musk)।

    ভারতে নিজের সংস্থা স্টারলিঙ্ককে পরিষেবা চালানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে মাস্ক লিখেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, আপনি ভারতের সাধারণ মানুষের উপর নিজের একচেটিয়া শোষণ বজায় রাখতে চাইবেন। তা সত্ত্বেও, স্টারলিঙ্ককে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেওয়ার কথা কি বিবেচনা করবেন?”

    তিনি আরও লিখেছেন, “অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও এমন বহু এলাকা রয়েছে, যেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা নেই। এর ফলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না। স্টারলিঙ্ক তাদের জীবনকে আরও উন্নত করে তুলতে পারে।”

    ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ঘিরে প্রতিযোগিতা (Ambani)

    স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিঙ্ক-সহ মোট তিনটি সংস্থা ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে টেলিযোগাযোগের অনুমোদন পেয়েছে। অন্য দু’টি সংস্থা হল ভারতী গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড। শেষের সংস্থাটি জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী সংস্থা।

    তবে অনুমোদন পেলেই পরিষেবা চালু করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। স্যাটেলাইট পরিষেবার জন্য বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ এবং বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর আগে এই শর্তগুলি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার অন্তর্গত নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে (Ambani)।

    ‘একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতেই বাধা’

    বিতর্কের সূত্রপাত বুধবার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ইউজারের পোস্টের জবাব দিতে গিয়ে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েক জন একচেটিয়া ক্ষমতাধর ব্যক্তি স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছেন।

    তিনি লেখেন, “দুর্ভাগ্যবশত, ভারতীয় জনগণের উপর নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার জন্য কয়েক জন ক্ষমতাধর ব্যক্তি আমাদের আটকে দিচ্ছেন। তাঁরা কারা, তা আপনারা অনুমান করতে পারেন… এটি ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ!” মাস্কের এই অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার সকালে বিবৃতি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক। সেখানে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।

    মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, “স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এই কাঠামো বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা-সহ সমস্ত ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য সরকার একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদন কাঠামো চালু করেছে।”

    ‘সব আইন মেনেও কেন অনুমোদন মেলেনি?’

    কেন্দ্রের বিবৃতির পর বৃহস্পতিবার ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন মাস্ক। তাঁর দাবি, ভারতের সমস্ত আইন ও সরকারি শর্ত মেনে চলার পরেও স্টারলিঙ্ক এখনও পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

    তিনি লেখেন, “১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিঙ্ক অনুমোদিত। ভারতের সরকারের প্রতিটি আইন ও শর্ত মেনে চলার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে আমরা কাজ করেছি। তা হলে এখনও অনুমোদন মিলছে না কেন? আম্বানিই কি ভারতের প্রকৃত বস?”

    শুক্রবারের পোস্টে মাস্ক আরও দাবি করেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়, যখন অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন মানুষের জীবন বাঁচাতে স্টারলিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতে স্টারলিঙ্ককে পরিষেবা চালানোর অনুমতি দেওয়া হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু পুরুষ, মহিলা ও শিশুর জীবন রক্ষা করতেও তা সাহায্য করতে পারে (Elon Musk)।

    সব মিলিয়ে, ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অনুমোদন ঘিরে স্টারলিঙ্কের দাবি, কেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন এবং মাস্কের একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এহেন আবহে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা কবে চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয় (Ambani)।

     

  • Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে টি বীণা, জামাই পিএ মহম্মদ রিয়াস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিল কেরল হাই কোর্ট (Kerala HC)। শুক্রবার বিচারপতি এ বদরুদ্দিনের বেঞ্চ রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের (ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরো) অধিকর্তাকে এই নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবী কেএম শাহজাহানের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের এই (Corruption Case) নির্দেশ।

    এর আগে কেরল সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর আদালতে দাবি করেছিল, অপরাধ তদন্ত শাখার প্রাথমিক তদন্তই এই মামলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এফআইআর দায়ের করা আইনত বাধ্যতামূলক নয় বলেও যুক্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। এফআইআর দায়ের না করেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক তদন্ত চালানোর যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছিল, তাও বাতিল করেছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Kerala HC)

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় যে অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তা ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় পড়ে। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারার অধীনে থাকা তথ্যপ্রমাণ, যা বর্তমানে রাজ্য পুলিশের ডিজি অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধানের হেফাজতে রয়েছে, তা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের অধিকর্তার হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নথির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট অধিকর্তাকে অবশ্যই এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি দুর্নীতি দমন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। মামলায় এফআইআর দায়েরের আগে আর কোনও অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট।

    আদালতের বক্তব্য, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জমা দেওয়া তথ্যপ্রমাণই এফআইআর দায়েরের জন্য যথেষ্ট। দীর্ঘ প্রাথমিক তদন্তের অজুহাতে এফআইআর দায়ের এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এই মামলার পরিস্থিতি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নতুন করে আর কোনও তদন্তের প্রয়োজন নেই। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারায় প্রাপ্ত তথ্যে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তাতে রাজ্য পুলিশের এফআইআর দায়ের করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোনও তদন্তের সুযোগ এখানে নেই।”

    কী এই মামলা?

    এই মামলার সূত্রপাত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রথম মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়কার কয়েকটি আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে। বেসরকারি খনি সংস্থা কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এবং টি বীণার মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনের মধ্যে ওই লেনদেন হয়েছিল।

    মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, কোনও পরিষেবা না দিয়েও এক্সালজিক সলিউশনস প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার অর্থ পেয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ওই লেনদেনের মাধ্যমে বেআইনিভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৮৫ লাখ টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছিল এবং দেশের অভ্যন্তরে ২০ কোটিরও বেশি টাকা বণ্টন করা হয়েছিল বলে দাবি (Kerala HC) ইডির।

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার খরচ হিসেবে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এক্সালজিক সলিউশনসকে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। অথচ ওই সংস্থা কোনও পরিষেবাই দেয়নি। এই অর্থপ্রদানকে পরামর্শদানের খরচ বলে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    গত মে মাসে বিজয়নের বাসভবন-সহ কোঝিকোড় জেলায় সিপিআইএমের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্ত আটটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির সময় হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করে (Corruption Case) সংস্থাটি।

    কেরল পুলিশকে ইডি জানিয়েছিল, বিজয়নের মেয়ে বীণার মাধ্যমে তাঁকে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছিল কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড। সংস্থাটির প্রাক্তন প্রধান আর্থিক আধিকারিক তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও ইডির দাবি, বীণা ও অন্যদের মাধ্যমে রিয়াস ওই টাকা দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

    এফআইআর দায়েরের সুপারিশ

    ইডি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য রাজ্য প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়ে বিজয়ন-সহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু কেরল পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। তার পরিবর্তে অপরাধ তদন্ত শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক এইচ ভেঙ্কটেশের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

    এর পরেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কেএম শাহজাহান। তাঁর বক্তব্য ছিল, পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে (Kerala HC) এফআইআর দায়ের করা পুলিশের কর্তব্য।

    আবেদনকারীর সেই যুক্তি মেনে নিয়ে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। তবে আদালতের এই নির্দেশের অর্থ অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হবে (Corruption Case)।

    কী প্রভাব পড়তে পারে?

    কেরল হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে মামলাটির তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে। এত দিন প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়ে আটকে থাকা অভিযোগের ভিত্তিতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরকে। ফলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের (Kerala HC) তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Riyadh Airport: রিয়াধের বিমানবন্দরে হুথি হামলায় পাইলট-সহ নিহত ৩, ইয়েমেনে সংঘর্ষ তীব্র

    Riyadh Airport: রিয়াধের বিমানবন্দরে হুথি হামলায় পাইলট-সহ নিহত ৩, ইয়েমেনে সংঘর্ষ তীব্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Riyadh Airport) বৃহস্পতিবার হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক পাইলট-সহ তিনজন হত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দু’জন সৌদি নাগরিক। আহত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের একাধিক নাগরিক। শুক্রবার সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একটি বিমান-সহ একাধিক সম্পত্তি। তবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি (Houthi Attack) সংবাদমাধ্যম।

    শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিবৃতিতে সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বিমানচালক এবং আরও দুই সৌদি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয়তার একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত সামান্য হলেও অনেকে গুরুতর জখম হয়েছেন।

    গভীর শোক প্রকাশ (Riyadh Airport)

    দেশের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া এক বিবৃতিতে পাইলট ক্যাপ্টেন হামুদ আলি আলকালথামির মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছে, রিয়াধ বিমানবন্দরের একটি ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থার তরফে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মনে করা হচ্ছে, সৌদি আরবের বিমান চলাচল পরিকাঠামোই এখন তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    একাধিক বিমানবন্দরে হামলা, বাড়ছে উদ্বেগ

    সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বুধবার জানিয়েছিলেন, সপ্তাহের গোড়ায় আবহা এবং কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন অসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩৬ জন। ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জিজান ও নজরান বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার হুথিদের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সফল হয়েছে। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

    গত মাসেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনী দাবি করেছিল, কিং খালিদ বিমানবন্দরের দিকে ছোড়া হুথিদের একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর পরের দিন রিয়াধ বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতেও দেখা যায়।

    ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী, যারা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত, বিমান সংস্থাগুলিকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, মক্কা ও মদিনার পবিত্র শহরগুলির উপর দিয়ে যাওয়া বিমান ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী অন্য যে কোনও বিমান তাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

    ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সমস্ত বিমানবন্দরে অবরোধ আরোপ করতে চাইছে হুথিরা।

    মাওরির কথায়, “এটি অবরোধের বদলে অবরোধ এবং বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দরের সমীকরণের অংশ। সানা এখনও সৌদি আরবের অবরোধের মধ্যে রয়েছে। তাই আনসার আল্লাহ হুথিরা সৌদি আরবের সমস্ত বিমানবন্দরে অবরোধ আরোপ করতে চায়।”

    তাঁর আরও বক্তব্য, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হুদেইদা বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করছে (Riyadh Airport) হুথিরা।

    ইয়েমেনে সংঘর্ষ আরও তীব্র

    সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে নতুন করে হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটছে, যখন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    শুক্রবার গভীর রাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। ২০১৪ সালে শহরটির নিয়ন্ত্রণ দখল করেছিল হুথি বিদ্রোহীরা। এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে সানা।

    এ ছাড়া ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী এডেনেও জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এই শহর থেকেই কাজ চালায়।

    ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শুক্রবার জানিয়েছে, হুথিদের ব্যবহৃত তিনটি রকেট উৎক্ষেপণ মঞ্চ ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের দাবি, ওই মঞ্চগুলি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

    জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকির হুঁশিয়ারি, অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হুথিদের যে কোনও হামলার জবাব দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে (Houthi Attack)।

    গত মাসে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ দখল করে। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই প্রণালী। হুথিদের এই অগ্রগতির পরেই সরকারি বাহিনী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পাল্টা অভিযান শুরু করে।

    চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দেব উপকূলবর্তী এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের দাবি করেছে। তবে সেখানে তীব্র সংঘর্ষ এখনও অব্যাহত (Riyadh Airport)।

    সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে আরও দেশ

    বহু বছর ধরে কার্যত স্তিমিত থাকা ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে এমন একটি অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে, যা ইতিমধ্যেই গাজা ও লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে বিপর্যস্ত।

    এ বার এই সংঘাতের আঁচ আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের গোড়ায় সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক সেনা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, রিয়াধে এখন পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তানি সেনারা অন্য পক্ষের সীমান্ত অতিক্রম করবে না। তবে তারা অবশ্যই ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষায় কাজ করবে।”

    হুথি হামলার নিন্দা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে

    এ দিকে শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার এবং সৌদি আরব নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ইয়েমেনের ক্রমবর্ধমান সংঘাত মোকাবিলায় পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছে।

    নিরাপত্তা পরিষদে সৌদি আরবের প্রতিনিধি আবদুলআজিজ আল-ওয়াসিল বলেন, “অসামরিক নাগরিকদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তার উপর লাগাতার হুমকি এবং তার ফলে ইয়েমেন ও এই অঞ্চলের বাইরেও যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে (Riyadh Airport)।”

    ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আলি ফাদেল আল-সাদি বলেন, “হুথিদের কাছ থেকে তৈরি হওয়া হুমকি এখন আর ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, যা আমাদের দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব (Houthi Attack)।”

    সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে ধারাবাহিক হামলা, ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলির সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে (Riyadh Airport) বলেই অভিমত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

LinkedIn
Share