Author: pranabjyoti

  • Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খাদ্য, পানীয়, ওষুধ, তন্তু, কাঠ ও জ্বালানি—জীবনের প্রায় প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে পারে একটি গাছ। তাই (Naxal Hotbed) ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারকেলকে বলা হয় ‘কল্পবৃক্ষ’, অর্থাৎ এমন এক বৃক্ষ যা মানুষের প্রায় সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। ক্রান্তীয় অঞ্চলের বহু সভ্যতাই হাজারো ব্যবহারের কারণে নারকেল গাছকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। ভারতে এই গাছের চাষ ও ব্যবহার নিয়ে প্রায় তিন হাজার বছরের নথিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে (Coconut Hub)।

    বিয়ে থেকে মন্দিরের প্রবেশদ্বার, রান্নাঘর থেকে ওষুধের বাক্স—সর্বত্রই নারকেলের উপস্থিতি। বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ নারকেলভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি কৃষক।

    এই ক্ষেত্রের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে। ফলে নারকেল চাষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে নারকেলের মূল্যশৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা গেলে তার সুফল প্রথমে পৌঁছয় ক্ষুদ্রতম জমির মালিকের কাছেই। এই ভাবনা সরাসরি অন্ত্যোদয়ের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    নারকেল উৎপাদনে বিশ্বসেরা ভারত (Naxal Hotbed)

    বিশ্বে নারকেল উৎপাদনে ভারত প্রথম এবং চাষের জমির পরিমাণের বিচারে তৃতীয়। বিশ্ব উৎপাদনের ৩১.২৪ শতাংশ এবং মোট চাষের জমির ১৭.৯০ শতাংশ ভারতের দখলে।

    কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২১.৯ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২০,৩০১.২২ মিলিয়ন নারকেল উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয়েছে ৯,২৪৯টি নারকেল।

    চাষের জমির পরিমাণে কেরল এগিয়ে। সেখানে প্রায় ৭.৫৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে নারকেল চাষ হয় এবং উৎপাদন প্রায় ৫,১৪৯.৮৭ মিলিয়ন। উৎপাদনে তামিলনাড়ু এগিয়ে, আর উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে শীর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশ। এরপর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু।

    একসময় মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের ফসল হিসেবে পরিচিত নারকেল এখন ওড়িশা, গুজরাট, অসম এমনকি অরুণাচল প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এটি ক্রমেই জাতীয় জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

    বস্তারে নারকেল চাষে নীরব বিপ্লব

    এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এসেছে ছত্তিশগঢ়ের বস্তার মালভূমি থেকে। একসময় নকশাল সমস্যার জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের কৃষকেরা মূলত ধান, বিভিন্ন ধরনের বাজরা, ভুট্টা এবং ক্ষুদ্র বনজ পণ্য উৎপাদন করতেন।

    কোণ্ডাগাঁওয়ে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারের উদ্যোগে সেখানে নারকেল চাষ একটি সম্ভাবনাময় জীবিকার পথ হিসেবে উঠে এসেছে। নতুন নারকেল গাছ ফলন দেওয়া শুরু করার আগে গাছের মধ্যবর্তী খালি জমিতে উপযুক্ত সাথি ফসল চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কৃষকদের। ফলে নারকেল গাছ থেকে ফলন আসার আগেই কৃষকের হাতে আয় আসতে শুরু করে।

    বাকাওয়ান্ড ব্লকের ৩৬ বছর বয়সি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ঈশাংশ সিংহ রাঠোর এই উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ। কৃষক পরিবারের সন্তান রাঠোর কর্পোরেট ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্ষদের কারিগরি সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে নারকেল চাষ শুরু করেন। তিনি ২,৫০০টি নারকেল গাছ লাগিয়েছেন, যার বেশিরভাগই খাটো জাতের। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি গাছে ইতিমধ্যেই ফলন শুরু হয়েছে।

    এর পর তিনি বহুস্তরীয় চাষপদ্ধতি গড়ে তোলেন। নারকেল বাগানের নীচে ৪,০০০টি আনারস, ৮০০টি ড্রাগন ফল, ১,০০০টি আমগাছ এবং ৬০০টি লেবুজাতীয় গাছ লাগিয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছে কলা, পেয়ারা, পেপে, লিচু, কফি, স্ট্রবেরি ও মরসুমি সবজি।

    ফলে জমির উৎপাদনশীলতা বেড়েছে এবং সারা বছর আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর খামার থেকে বছরে নারকেল বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। সাথি ফসল থেকে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা আসে (Naxal Hotbed)।

    রাঠোরের সাফল্য বস্তারের বহু কৃষককে এই নারকেলভিত্তিক চাষপদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে একসময় কৃষির দিক থেকে পিছিয়ে থাকা একটি জেলা উচ্চমূল্যের উদ্যানপালনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    শুকনো নারকেল থেকে কুমারী তেল, রফতানিতে বড় লাফ

    নারকেলজাত পণ্যের রফতানিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি বেড়ে ৭,০৩৮.৩৫ কোটি টাকা বা ৭৯৪.৭০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর এই রফতানির পরিমাণ ছিল ৪,৩৪৯.০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি প্রায় ৬২ শতাংশ।

    ২০০১-০২ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি ছিল মাত্র ২৫.৩ কোটি টাকা। তখন মূলত নারকেলের খোলের কাঠকয়লা ও নারকেল তেলের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যই রফতানি হত। গত পাঁচ বছরেও এই খাতের লেনদেন ৩,২৩৬.৮৩ কোটি টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    রফতানি পণ্যের ধরনও বদলেছে। এখন ভারত বিশ্ববাজারে কুমারী নারিকেল তেল, নারিকেলের দুধ ও নারকেলের জল সরবরাহ করছে। সক্রিয় কার্বন, নারিকেল তেল, তাজা, হিমায়িত ও কোরানো নারিকেল, শুকনো নারকেল এবং শুষ্ক নারকেল অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্য। এর মধ্যে সক্রিয় কার্বন ধারাবাহিকভাবে রফতানির পরিমাণে বড় অংশ দখল করে রয়েছে।

    আগে রফতানি মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ছিল। এখন ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও বাজার বিস্তৃত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, রাশিয়া, তুরস্ক, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডস গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে।

    কাঁচা পণ্য রফতানি থেকে মূল্য সংযোজিত ও ব্র্যান্ডভিত্তিক পণ্যের দিকে এই পরিবর্তনকে আত্মনির্ভরতার বাস্তব রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ কোটি মার্কিন ডলার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ২১ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানির লক্ষ্যে এই খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Naxal Hotbed)।

    বৃদ্ধির পিছনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ

    ১৯৮১ সালের ১২ জানুয়ারি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ গঠিত হয়। কোচিতে সদর দফতর থাকা এই পর্ষদ দেশের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নারকেল চাষ ও শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

    উন্নত মানের চারা সরবরাহ, চাষের এলাকা সম্প্রসারণ, পুরনো বাগানে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ—পর্ষদের মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ১৪৭.২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

    নারকেলের খোসা ও তন্তু থেকে তৈরি পণ্য বাদে অন্যান্য নারকেলজাত পণ্যের জন্য পর্ষদ রফতানি উন্নয়ন পরিষদ হিসেবেও কাজ করে। ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ৮,২৯৯ জন রফতানিকারী পর্ষদের সঙ্গে নথিভুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৭০০।

    গত পাঁচ বছরে পর্ষদ দেশের ২০টি বাণিজ্য মেলায় ৭২ জন উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২২৪ জন রফতানিকারীর অংশগ্রহণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ৩৯২টি দেশীয় ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনও আয়োজিত হয়েছে (Coconut Hub)।

    ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কৃষকের আয় সুরক্ষা

    নারকেল চাষিদের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা হল দামের নিশ্চয়তা। শুকনো নারকেলের শাঁস, অর্থাৎ কোপরা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আওতাভুক্ত ২২টি নির্ধারিত ফসলের অন্যতম।

    ভারতে মূলত দুই ধরনের কোপরা উৎপাদিত হয়। একটি হল মিলিং কোপরা, যা খোল থেকে শাঁস বের করে শুকিয়ে তৈরি করা হয় এবং মূলত তেল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি বল কোপরা, যেখানে গোটা পাকা নারকেল শুকিয়ে ভিতরের শাঁস শক্ত করা হয়। এটি শুকনো ফল হিসেবে খাওয়া হয় এবং ধর্মীয় আচারেও ব্যবহার করা হয়।

    ২০২৬ মরসুমের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। মিলিং কোপরার দাম প্রতি কুইন্টালে ১২,০২৭ টাকা এবং বল কোপরার দাম ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের যথাক্রমে ১১,৫৮২ টাকা ও ১২,১০০ টাকার তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে ৪৪৫ টাকা ও ৪০০ টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫০ শতাংশ বেশি রাখা হয়েছে (Naxal Hotbed)।

    কেন্দ্রীয় সংগ্রহের জন্য নাফেড ও এনসিসিএফকে কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যস্তরের সংস্থাগুলিও এই কাজে সহায়তা করছে।

    চারা উৎপাদন থেকে ভবিষ্যতের বাগান সম্প্রসারণ

    নারকেল চাষের ভিত্তি মজবুত করতে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উন্নত মানের চারা উৎপাদনে। প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামার প্রকল্পের অধীনে নতুন তৈরি খামারগুলির জন্য প্রথম দুই বছরে ৩০ লাখ টাকা এবং তৃতীয় বছর থেকে ফলন স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। ফলন স্থিতিশীল হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় ধরা হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১১টি প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারে ২.৪১ লাখ উন্নত মানের চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

    বীজ উদ্যানগুলির জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০.২৯ লাখ টাকা ব্যবহার হয়েছে। সহায়তার মাধ্যমে ১২টি নতুন নার্সারি তৈরি হয়েছে। এগুলির সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১.০৬ লাক চারা। পাশাপাশি ছয়টি পুরনো নার্সারিও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।

    সরকারি নার্সারিগুলিকে ২৩৯.৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১১.৯৭ লাখ চারা উৎপাদনের ব্যবস্থা হয়েছে, যা আনুমানিক ৬,৮৫০ থেকে ৭,৫০০ হেক্টর জমির জন্য যথেষ্ট।

    চাষের এলাকা বাড়াতে প্রতি হেক্টরে ৫৬ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। দুই কিস্তিতে এই টাকা দেওয়া হয় এবং একজন সুবিধাভোগী সর্বোচ্চ দুই হেক্টর ও সর্বনিম্ন ০.০৮ হেক্টর জমির জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন।

    ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২০৯.২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও ২,৯৭৯ হেক্টর জমি নারকেল চাষের আওতায় এসেছে। উপকৃত হয়েছেন ১৩,০৬৮ জন কৃষক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেরল ও কর্নাটক থেকে ওড়িশা, অসম ও অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ২,১৭৫ হেক্টর জমিতে নতুন করে চাষ হয়েছে। এ জন্য ৬৩২.৭৭ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    নারকেলভিত্তিক মিশ্র চাষে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা

    নারকেলভিত্তিক ফসল ব্যবস্থা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। গুচ্ছভিত্তিক এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ দুই হেক্টর জমির জন্য প্রতি হেক্টরে ৪২ হাজার টাকা, অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৬৬টি গুচ্ছে ১৮,৮০০ হেক্টর জমি এই কর্মসূচির আওতায় আসে। উপকৃত হন ৪৮,৬৯৬ জন কৃষক। এর জন্য খরচ হয়েছে ৩,৯৪৩ লাখ টাকা। রাজ্য সরকারের সমন্বিত সহায়তায় আরও ৫,৯৩৫ হেক্টর জমি যুক্ত হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে ১,২৪৬ লাখ টাকা।

    শুধু কেরলেই এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে ৮,০৮৯ হেক্টর জমি এবং উপকৃত হয়েছেন ৩৩,২৫০ জন কৃষক। চলতি বছরে এই কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ২২,৪৩০ হেক্টর করা হয়েছে।

    পুরনো ও বয়স্ক বাগানের জন্য পুনরায় চারা রোপণ ও পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি রয়েছে। দুই বছরে প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে ২৫,৫১৭ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে এবং খরচ হয়েছে ১৩০.৪৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেই ১,৬৭২ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে।

    এর পাশাপাশি জলসম্পদ তৈরি, জৈব চাষ এবং কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    দক্ষতা, উদ্যোগ এবং ‘নীরা’-র সম্ভাবনা

    কেউ গাছে উঠতে না পারলে নারকেল গাছের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘নারকেল গাছের বন্ধু’ কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার যুবকদের যন্ত্রের সাহায্যে নারকেল গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের সুরক্ষা ও উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আরও ৩৭৮ জনকে গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    একইসঙ্গে গাছের বিভিন্ন অংশ দিয়ে হস্তশিল্পের সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে তরুণদের।

    ২০২৫ সালে পর্ষদ একক প্রশিক্ষণ থেকে সংগঠিত উদ্যোগের দিকে এগিয়েছে। ‘কোকোমিত্র’ নামে নারকেল গাছে ওঠার কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত কর্মীদের ছয় থেকে দশজনের নিবন্ধিত দলে সংগঠিত করা হচ্ছে। আধুনিক গাছে ওঠার যন্ত্র, উদ্ভিদ সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং চলাচলের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তাদের।

    ‘কেরা কৌশল কেন্দ্রে’র মাধ্যমে খোল, কাঠ ও তন্তু দিয়ে তৈরি পণ্যের জন্য হস্তশিল্প কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৫ সদস্যের দলকে আইনগত সংস্থা হিসেবে নথিভুক্ত করে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২.৬৭ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    নারিকেল গাছের পুষ্পমঞ্জরি থেকে সংগ্রহ করা অপরিশোধিত ও অপরিস্ফুটিত রস ‘নীরা’ নামেও পরিচিত। এতে অ্যালকোহল নেই এবং এটি পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নীরা সংগ্রহের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত কৃষক উৎপাদক সংগঠনের মাধ্যমে সাত দিনের মাঠভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রস সংগ্রহের জন্য প্রযুক্তিবিদ তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদ ৪১৪টি সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।

    গাছে ওঠার শ্রমিক, নীরা সংগ্রহকারী প্রযুক্তিবিদ, সংকরায়ন কর্মী এবং নারকেল শ্রমিকদের দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা দিতে ‘কেরা সুরক্ষা বিমা প্রকল্প’ চালু রয়েছে। পাশাপাশি কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির উন্নয়নে নারকেল বিষয়ক প্রযুক্তি মিশন কাজ করছে (Naxal Hotbed)।

    ২০২৬-২৭ বাজেটে নারকেলের জন্য নতুন উদ্যোগ

    ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে নারিকেল উন্নয়নের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘নারকেল উন্নয়ন প্রকল্পে’র মাধ্যমে কীটপতঙ্গের আক্রমণ, শিকড় শুকিয়ে যাওয়ার রোগ এবং বয়স্ক বাগানের সমস্যা মোকাবিলায় বড় আকারে চারা উৎপাদন, সম্ভাবনাময় এলাকায় চাষ সম্প্রসারণ, ধাপে ধাপে পুনরায় চারা রোপণ, সমন্বিত ফসল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং মূল্য সংযোজন ও রফতানির জন্য সমন্বিত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কাজটি মোট ৩৫০ কোটি টাকার উচ্চমূল্যের কৃষি খাতের বৃহত্তর বরাদ্দের অংশ। এই বরাদ্দের আওতায় কাজুবাদাম ও কোকো চাষও রয়েছে। লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে নারকেল ও নারকেল তন্তু রপ্তানিতে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং একইসঙ্গে কৃষকদের আয় বাড়ানো (Coconut Hub)।

    পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্য এখন আর দূরের নয়। ২৫.৩ কোটি টাকার রফতানি থেকে ৭,০০০ কোটিরও বেশি টাকায় পৌঁছনো, উপকূলীয় ফসল থেকে অরুণাচল প্রদেশের মতো দূরবর্তী অঞ্চলে চাষের বিস্তার, কাঁচা কোপরা থেকে সক্রিয় কার্বন ও কুমারী নারকেল তেল উৎপাদন—সব মিলিয়ে ভারতের ‘কল্পবৃক্ষ’ তার প্রাচীন নামের যথার্থতা প্রমাণ করছে (Naxal Hotbed)।

     

  • Jharkhand: চটি খুলে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটার দৌড়, নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বিধবা কবিতার লড়াই

    Jharkhand: চটি খুলে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটার দৌড়, নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বিধবা কবিতার লড়াই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্টেডিয়ামে তখন চলছে হোমগার্ডে (Jharkhand) নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার প্রস্তুতি। হঠাৎই দর্শকদের নজর কেড়ে নিলেন নীল শাড়ি পরা এক মহিলা। কোমরে শাড়ি গুঁজে, পায়ের চটি খুলে খালি পায়ে দৌড় শুরু করলেন তিনি। একে একে টপকে গেলেন অন্য প্রার্থীদের। ১,৬০০ মিটার দৌড় শেষ করতেই স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হল হাততালি ও উচ্ছ্বাস। সেই মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই (Home Guard Job) রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার বিধবা কবিতা কুমারী। কবিতার কাছে হোমগার্ডের চাকরি নিছকই একটি চাকরি নয়, বদলে দিতে পারে তাঁর জীবনের গতিপথ।

    অনুশীলনেই নজর কাড়লেন কবিতা (Jharkhand)

    রামগড় জেলার সোসো গ্রামের বাসিন্দা কবিতা প্রতিদিন ভোরে গ্রামের কাছাকাছি অসমতল জমিতে দৌড়ের অনুশীলন করেন। গত ৪ অক্টোবর তিনি সিধু কানহু স্টেডিয়ামে যান একটি বিনামূল্যের অনুশীলনী দৌড়ে অংশ নিতে। ক্রীড়াবিদদের পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ সংস্থার উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছিল। নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার আগে প্রার্থীরা যাতে মাঠের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন এবং নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই অনুশীলন। এই একই স্টেডিয়ামে ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত হোমগার্ড নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষা হওয়ার কথা।

    শাড়ি ও চটি পরে সেদিন অনুশীলনে হাজির হয়েছিলেন কবিতা। তিনি বলেন, “স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পর থেকেই আমি খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। সবাই আমাকে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখছিল। আর আমি দেখছিলাম, অন্যরা ট্র্যাকস্যুট পরে এসেছে, কারও হাতে ব্যাগ, জলের বোতল, পায়ে জুতো। এতে আমি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৌড়ে অংশ নিই।” মহিলা প্রার্থীদের ১,৬০০ মিটার দৌড় ১০ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হয়। কবিতা জানান, তিনি মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই দৌড় শেষ করেন। এর ফলে পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর-সহ ‘উৎকৃষ্ট’ শ্রেণির ফল পান।

    কী বলছেন কবিতা

    কবিতার কথায়, “মানুষ আমাকে হাততালি না দেওয়া পর্যন্ত আমি বুঝতেই পারিনি যে আমি কী করেছি। শুধু চটি খুলে খালি পায়ে দৌড় শুরু করেছিলাম। দৌড়নোর সময় আমার মাথায় হোমগার্ডের চাকরি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কেউ আমার ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। আমি আশা করি, শারীরিক পরীক্ষার দিনও একই শক্তি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে দৌড়তে পারব।”

    ৪ অক্টোবরের এই অনুশীলনের আয়োজন করেছিলেন রামগড়ের অঙ্কিত সিং, যিনি অঙ্কিত রানার অ্যাকাডেমি পরিচালনা করেন। তাঁর বক্তব্য, উদ্দেশ্য শুধু অনুশীলনী দৌড় করানো ছিল না, প্রার্থীদের স্টেডিয়ামের মাঠের সঙ্গে পরিচিত করানোও ছিল (Jharkhand)।

    অঙ্কিত বলেন, “প্রকৃত শারীরিক পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের জানা দরকার মাঠটি কেমন। মাঠের এক দিকে ঢাল রয়েছে। কোথাও বালি, কোথাও নুড়ি, আবার কোথাও অসমতল জমি। তাই অনেকেই ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে এখানে অনুশীলন করতে আসেন। সেদিন প্রায় ১,৯০০ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১,১০০ জন মহিলা। অনেকেই গ্রামাঞ্চল থেকে এসেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শাড়ি পরেও এসেছিলেন। সেদিন ৫০ থেকে ৬০ জন মহিলা শাড়ি পরে দৌড়েছিলেন।”

    গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের জন্য ট্র্যাকস্যুট ও দৌড়ের জুতো পরে নিয়মিত বাইরে গিয়ে অনুশীলন করা সবসময় সহজ নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত পরীক্ষার মাঠে অনুশীলনের সুযোগ পেলে প্রার্থীরা নিয়োগের দিন কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, সে সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পান।

    শূন্যপদ ২৮৪

    ঝাড়খণ্ডে হোমগার্ডে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। রামগড় জেলায় শূন্যপদের সংখ্যা ২৮৪টি। এজন্য আবেদন জমা পড়েছে ১৬ হাজারেরও বেশি।

    নিয়োগের প্রথম পর্যায়ে রয়েছে শারীরিক পরীক্ষা। সেখানে ১,৬০০ মিটার দৌড়ের পাশাপাশি লং জাম্প, হাই জাম্প এবং শটপাট দিতে হবে। এরপর হবে লিখিত পরীক্ষা। মোট শূন্যপদের ৫০ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। এর মধ্যে ৫ শতাংশ পদ বিধবাদের জন্য নির্দিষ্ট।

    একের পর এক দুর্ভাগ্য, তবু থামেননি কবিতা

    কবিতা জানান, ২০০৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেই তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁর বয়স তিরিশের কাছাকাছি। তিন বছর আগে মৃত্যু হয় স্বামী দীপক কুমার মাহাতর। তিনি ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক, কাজ করতেন গুজরাটে।

    কবিতা বলেন, “করোনার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর বারবার অসুস্থ হতে থাকেন এবং ২০২৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা, সংসার ও সন্তানদের সামলানো এবং সংসারের খরচ চালানোর দায়িত্ব আমার উপর এসে পড়ে।”

    স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ছ’মাস পরেই পরিবারে আরও একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দীপকের ছোট ভাইও মারা যান। কবিতা জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীও বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

    চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ খরচ হওয়ায় তাঁদের পরিবারের প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ঋণ হয়েছে বলেও জানান কবিতা।

    সংসারের খরচ চালানো এবং ঋণ শোধ করতে রামগড় শহরের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু রাত করে কাজ শেষ হওয়ায় বাড়ি ফেরার জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় সেই কাজ ছেড়ে দিতে হয়। বর্তমানে মূলত ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন কবিতা। তাঁর দুই সন্তান রামগড়ের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে (Jharkhand)।

    ইউটিউব দেখে নিজেই প্রস্তুতি

    শারীরিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কারও কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না কবিতার। ইউটিউবের ভিডিও দেখেই নিজে নিজে অনুশীলন করেছেন তিনি।

    কবিতা বলেন, “আমি সন্তানদের ইউটিউব খুলে ভিডিও চালাতে বলি, কারণ নিজে খুব একটা ব্যবহার করতে জানি না। ভিডিও দেখে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। পোশাক, জুতো বা প্রশিক্ষণের জন্য খরচ করার মতো আমার কাছে একটি পয়সাও নেই। তাই নিজের চেষ্টাতেই প্রস্তুতি নিতে হয়।”

    তাঁর দৌড়ের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর একাধিক ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। দুমরির বিধায়ক জয়রাম কুমার মাহাত ফোনে কবিতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে একটি ট্র্যাকস্যুট ও দৌড়ের জুতো পাঠান।

    বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন হোমগার্ড কর্মী

    কবিতার প্রশিক্ষক অজয় কারমালি। ৩৮ বছর বয়সি অজয় রামগড়ে হোমগার্ডের চাকরি করেন। নিজের গ্রামের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে দুলমিতে এইচএমটি ফিজিক্যাল অ্যাকাডেমিও পরিচালনা করেন তিনি। চার-পাঁচ মাস আগে তিনি এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি শুরু করেন। গ্রামের বাসিন্দাদের বিনামূল্যে শারীরিক প্রশিক্ষণ দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় অজয়ের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পোস্ট দেখে কবিতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার সুযোগ চান (Home Guard Job)।

    অজয়ই তাঁকে নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার আগে স্টেডিয়ামে গিয়ে অনুশীলন করার পরামর্শ দেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, কবিতা যেন মাঠের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারেন।

    অজয় বলেন, “ওঁর দৌড়ের পোশাক ছিল না। কিন্তু আমি আশা করি, খুব শিগগিরই তিনি হোমগার্ডের পোশাক পরবেন (Jharkhand)।”

     

  • Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা পূর্তির অনুষ্ঠানে গুজরাটের ভাডনগরে দাঁড়িয়ে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে (Lok Sabha Elections 2029) পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনই বিজেপির দখলে আনার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদির নিজের রাজ্যে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ঘোষণা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি (Suvendu Adhikari) যে পথে গুজরাটের উন্নয়ন করেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই বাংলার উন্নয়ন করতে চান তিনি।

    সলতে পাকানোর কাজ শুরু বিজেপির (Lok Sabha Elections 2029)

    ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাংলার কোন কোন আসনে বিজেপির জয় তুলনামূলক ভাবে নিশ্চিত এবং কোথায় লড়াই কঠিন হতে পারে, তা নিয়েও দলের সাংগঠনিক স্তরে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

    এই আবহেই বুধবার শুভেন্দু দাবি করেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের জেতানোর লক্ষ্যে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবেন। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, পরবর্তী লোকসভা ভোটে বাংলার সব আসন মোদিজিকে উপহার দেব।”

    মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিজেপির তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যে দিয়ে মোদির প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সেই যাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই উপলক্ষেই বিজেপির তরফে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় এতদিন তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছিল। মোদিজি না-থাকলে বাংলাকে বাঁচানো মুশকিল হত। তাই মোদিকে কোটি কোটি প্রণাম। মোদিজি বাংলার সনাতনী এবং রাষ্ট্রবাদী জনতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।” এর পরেই মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ২০২৯ সালের ভোটে বাংলার সব আসন বিজেপিকে জেতানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    ‘গুজরাটের মতো বাংলার উন্নয়ন করতে চাই’

    শুধু লোকসভা নির্বাচনের আসন জয়ের অঙ্গীকার নয়, বাংলার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুজরাটকে অনুসরণ করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় গুজরাটে যে ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, বাংলাতেও সেই ধাঁচে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটে যে রকম কাজ করেছেন, সে রকম কাজ আমি পশ্চিমবঙ্গে করার চেষ্টা করছি (Lok Sabha Elections 2029)।”

    ভাডনগরে পৌঁছে নিজের অনুভূতির কথাও জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ভাডনগরের হেলিপ্যাডে নেমে প্রথমে এই মাটিকে প্রণাম করেছি। কপালে সেই মাটি ঠেকিয়েছি।”

    মোদি ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটের উন্নয়নকে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে আসছে। সেই উন্নয়নধারাকেই বাংলায় অনুসরণ করার কথা এ দিন স্পষ্ট করেন শুভেন্দু।

    ‘বিরোধীশূন্য বাংলা’র ডাক ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ

    তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে কার্যত বিরোধীশূন্য করার যে বার্তা শুভেন্দু দিয়েছেন, তা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন বিরোধীরা।

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “মাত্র দু’টি বিধানসভার উপনির্বাচনে আমরা দেখলাম, পুলিশকে দিয়ে পোলিং এজেন্ট, ভোটারদের উপরে অত্যাচার করা হয়েছে। বিরোধী-শূন্য করার জন্য শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আগে যেভাবে পঞ্চায়েত দখল করতেন, এখন বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে তা আরও চরমে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

    তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, “বাংলার সব লোকসভা আসনে জেতার আশ্বাস তিনি জ্ঞানেশ কুমারের ভরসায় দিয়েছেন। কিন্তু জল অতদূর গড়াবে না। কেন্দ্রে বিজেপির সরকার হবে না। রাজ্যেও ওদের আসন কমবে।”

    কলকাতা থেকে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা

    এর আগে বুধবার সকালে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানে মোদির কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “উনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন না। বলেন প্রধান সেবক। শুধু বলেন না, সেভাবেই নিজের কাজ করেন। আমাদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা মোদিজি।”

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এ দিন কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’য় অংশ নেন। তিনি বলেন, “মোদিজির দীর্ঘ সেবাময় জীবনের এই অধ্যায় থেকে আমাদের শিক্ষা একটাই— সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন কর্মীরা মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হন। তাই আগামী দিনের পথেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে মানুষের পাশে থাকা, সমাজের জন্য কাজ করা এবং দেশের উন্নয়নের যাত্রায় নিজেদের ভূমিকা পালন (Suvendu Adhikari) করা।”

    ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এখনও বছর তিনেক দূরে। তার আগেই বাংলার ৪২টি আসন জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করে বিজেপির রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু। এখন দেখার, এই ‘৪২-এ ৪২’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে (Lok Sabha Elections 2029) আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপি কী কৌশল নেয়।

     

  • Virat Kohli: প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি? দাবি উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় তারকা

    Virat Kohli: প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি? দাবি উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় তারকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃন্দাবনে আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে (Premanand Maharaj Ashram) যাওয়ার জন্য তাঁকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগ খারিজ করে দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। কোহলির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তথ্যগতভাবে ভুল।

    প্রেমানন্দ মহারাজের রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমের এক শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, সেই সময়েই কোহলিকে টাকা দেওয়ার এই অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগটি করেন শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংঘর্ষ ন্যাসের সভাপতি ফলাহারি মহারাজ দীনেশ শর্মা।

    কোহলির মুখপাত্রের সাফ কথা (Virat Kohli) 

    কোহলির মুখপাত্র অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর আশ্রমে যাওয়ার পিছনে কোনও আর্থিক লেনদেন নেই। তাঁর বক্তব্য, “এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তথ্যগতভাবে ভুল।” কোহলির আশ্রমে যাতায়াতের কারণ শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা।

    সংবাদমাধ্যমগুলিকে কোনও দাবি প্রকাশ বা প্রচার করার আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করার আবেদন জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের সময় আরও দায়িত্বশীল হওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।

    কোহলি এবং তাঁর স্ত্রী, অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা, দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাতায়াত করেন। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি তাঁদের প্রথম প্রকাশ্যে আলোচিত আশ্রম-সফর হয়। এরপরও একাধিকবার তাঁরা সেখানে গিয়েছেন। কোহলি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও আধ্যাত্মিক গুরুর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

    তবে বর্তমানে এমন কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে আশ্রমে যাওয়ার জন্য কোহলি বা অনুষ্কাকে কোনও অর্থ দেওয়া হয়েছিল।

    কেন নজরে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রম?

    কোহলিকে ঘিরে এই অভিযোগ এমন একটা সময়ে সামনে এসেছে, যখন এক শিষ্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে চলছে তদন্ত।

    রসিক দুলারি নামে ওই শিষ্য ২৫ সেপ্টেম্বর আশ্রমের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে মথুরা পুলিশ। তিনি মানসিক চাপ বা অবসাদে ভুগছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আশ্রমে যোগ দেওয়ার আগে রসিকের জীবনযাপন কেমন ছিল (Virat Kohli) এবং মৃত্যুর আগে তাঁর আচরণ বা পরিস্থিতিতে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

    তদন্তের স্বার্থে তাঁর পুরনো মোবাইল ফোন, নতুন সিম কার্ড, ফোনে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য, কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মাধ্যমে মৃত্যুর আগের দিনগুলিতে তাঁর গতিবিধি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা চলছে (Premanand Maharaj Ashram)।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এখনও পর্যন্ত ৮৫ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কোনও অন্য বিষয় জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই চলছে তদন্ত (Virat Kohli)।

     

  • PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর সরকারের শীর্ষপদে থাকার যাত্রা। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও সেই দায়িত্ব অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর তাঁর এই ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা পূর্ণ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ভুটান, জাপান, ফিলিপিন্স, নাইজেরিয়া, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, ডোমিনিকা-সহ একাধিক দেশের নেতারা মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের বার্তায় ভারতের উন্নয়ন, সুশাসন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

    বিষ্ণুর অবতার বলে উল্লেখ ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে “আমাদের সময়ের এক অবতার” বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৯ সালে নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন তিনি। সেই সময় মোদিকে নিজের দাদা এবং ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দেখেন বলে জানিয়েছিলেন তোবগে।

    মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান, সহমর্মিতা এবং সাহস—একজন আলোকিত নেতার এই গুণগুলির সমন্বয় তিনি মোদির মধ্যে দেখতে পান। তাঁর মতে, ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্যের মাধ্যমে ভারতের সামনে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে (PM Modi)। তোবগে আরও বলেন, মোদির নেতৃত্বে ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের দেশ ও নিজেদের ক্ষমতার প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    কী বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ভারতের উন্নয়নে অবদানের জন্য গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

    তিনি বলেন, “বহু বছর ধরে আপনি ভারতীয় সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনি অসাধারণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন। ভারতের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে আপনার কৃতিত্বের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

    ভারত সফরের সময় উষ্ণ আতিথেয়তার জন্যও মোদিকে ধন্যবাদ জানান তাকাইচি। ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মোদির সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

    মোদির প্রশংসা ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্টেরও

    ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতৃত্ব পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার উল্লেখ করে মার্কোস বলেন, মোদির নেতৃত্বে সুশাসন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মার্কোসের মতে, এই বিষয়গুলি ভারতের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। নভেম্বরে আসিয়ান-ভারত এবং পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মণিলায় মোদিকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান (PM Modi) তিনি।

    ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’, বললেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

    নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু মোদির ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রাকে সত্যিই ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিনি বলেন, “একটানা ২৫ বছর নেতৃত্বে থাকা যে কোনও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেই বিরল কৃতিত্ব। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে এটি ভারতীয় জনগণের তাঁর প্রতি দীর্ঘস্থায়ী আস্থার একটি শক্তিশালী প্রমাণ।”

    তিনুবু আরও বলেন, এই ২৫ বছরে মোদি উন্নয়নের প্রতি অটুট দায়বদ্ধতা নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরিকাঠামো, ডিজিটাল পরিষেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভারত ও নাইজেরিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার কথাও জানান নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট।

    মোদি স্তুতি বতসোয়ানার প্রেসিডেন্টের

    বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট ডুমা গিডিয়ন বোকো প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতীয় জনগণের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও সেবার প্রশংসা (PM Modi) করেন।

    তিনি বলেন, “সরকারের শীর্ষে ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন। ভারতীয় জনগণের প্রতি আপনার নিষ্ঠা ও সেবার আমরা প্রশংসা করি। আগামী বছরগুলিতে আপনার সাফল্য কামনা করি এবং আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা রাখি।”

    ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট দে ভেভারও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি—সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছরের যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গত মাসে আমার ফলপ্রসূ ভারত সফরের পর দুই দেশের শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অপেক্ষায় রয়েছি।” নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও মোদিকে ২৫ বছরের জনসেবার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভারত সরকার ও মোদির আগামী দিনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

    মোদির জার্নি, গুজরাট থেকে ‘কর্তব্যপথ’

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নেন নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন তিনি গুজরাটের  মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর গুজরাটে টানা তিন দফা মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই সময় থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে টানা তৃতীয় মেয়াদ সম্পূর্ণ করার পথে রয়েছেন। ২৫ বছর পূর্তিতে পাওয়া শুভেচ্ছার জবাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নাইজেরিয়া, ভুটান, ফিলিপিন্স, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম এবং ডোমিনিকার নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন (PM Modi)।

     

  • Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যে আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিন দিনের সফরে বর্ধমানে থাকবেন তিনি। সফর ঘিরে একাধিক কর্মসূচি থাকলেও, মূলত সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা সংঘপ্রধানের। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের স্বয়ংসেবকদের পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান বিভাগের (Burdwan) ক্ষেত্রপ্রমুখদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বর্ধমানে ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    জানা গিয়েছে, ট্রেনে সরাসরি বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছবেন ভাগবত। সেখান থেকে বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রাজ্যে, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি শাখা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সংক্রান্ত সাংগঠনিক তথ্য নেবেন সংঘপ্রধান। পাশাপাশি আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর বর্ধমান মডেল স্কুলেও যাবেন ভাগবত। সেখানে সংঘের কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যায় ফের বর্ধমানে সংঘের কর্মীদের স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    পরদিন, শুক্রবার সকালে সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভাগবত। এরপর তিনি যাবেন সংঘের নতুন কার্যালয়ে। দিনভর সেখানে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা। তাঁর সঙ্গে বর্ধমানে থাকার কথা সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলেরও।

    সংঘ সূত্রে খবর, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্ধমান সফরে সেই বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। বৈঠক শেষে বর্ধমান বিভাগের সংঘকর্মীদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার কথা রয়েছে ভাগবতের।

    সংঘ কর্তার ঠাসা কর্মসূচি

    এই সফরে মধ্যবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন সংঘপ্রধান। দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের একাংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। দেওয়ানদিঘির একটি স্কুলের হলঘরেও প্রায় ১২০০ প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পরে উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের সংঘের শীর্ষ পদাধিকারীরাও উপস্থিত থাকবেন।

    সংঘ সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বহু শাখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শাখাগুলির বেশ কিছু ফের চালু হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যায় শাখা খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেই সাংগঠনিক বিস্তার নিয়েও ভাগবতের সফরে আলোচনা হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে ভাগবত বলেছিলেন, “আরএসএসের দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন।” সেই সফরে টানা কয়েক দিন বর্ধমানে ছিলেন সংঘপ্রধান।

    রাজ্যে সংঘের ভূমিকার দিক নির্দেশ

    সংঘের এক নেতার দাবি, রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পিছনে সংগঠনের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর স্থানীয় স্তরে সংঘের কর্মীরা আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তাঁদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ওই নেতার। আগামী দিনে রাজ্যে সংঘের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও ভাগবতের সঙ্গে কর্মীদের আলোচনা হতে পারে। কর্মীদের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্যও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আরএসএস সূত্রে খবর(Mohan Bhagwat)।

    আর এক সংঘনেতার বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তোলাবাজি বা জরিমানা আদায়ের মতো ঘটনায় বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে পুরনো কর্মীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে।

    বিজেপির জয়ে সংঘ প্রধানের অবদান

    তবে ভাগবতের এবারের সফরের সমস্ত কর্মসূচিই অভ্যন্তরীণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে সংঘপ্রধান প্রকাশ্যে সভা করেছিলেন এবং টানা কয়েক দিন সেখানে (Burdwan) ছিলেন। সেই সফরের পর বিজেপি বর্ধমান-সহ মধ্যবঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফল করেছিল বলে মনে করে সংঘ ও বিজেপির একাংশ। এবার আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Mohan Bhagwat) বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

     

  • OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর (OIC) রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয় নিয়ে (Pakistan Terror Infrastructure) আলোচনা চলাকালীন এই মন্তব্য করেন দেব। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় ভারতের জাতীয় বক্তব্য পেশ করছিলেন তিনি। এর আগে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার হয়ে সৌদি আরব একটি বক্তব্য পেশ করে। সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন ভারতীয় সাংসদ।

    সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত (OIC)

    ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে দেব বলেন, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারত “সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত” পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “আমি এখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির দেওয়া সেই বক্তব্যের জবাব দিচ্ছি, যেখানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এই অঞ্চল থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অবস্থানের সমালোচনা করে দেব আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক যে বক্তা সত্য ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না এবং আক্রান্ত ও অপরাধীর মধ্যেও তফাত করতে পারছেন না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিণতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলল ভারত

    রাষ্ট্রপুঞ্জে নিজের বক্তব্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তার ভয়াবহ মানবিক মূল্যও তুলে ধরেন দেব। তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদের হুমকি কোনও তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি “প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিনের বাস্তবতা”। দেবের মতে, সন্ত্রাসবাদ শুধু দেশের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। দেব এই হামলাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম সীমান্তের ওপার থেকে সমর্থন পাওয়া সংগঠনগুলিই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল। দেব বলেন, “সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রপুঞ্জের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিরীহ নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার কোনওভাবেই ন্যায্যতা থাকতে পারে না। ভালো সন্ত্রাসবাদ ও খারাপ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ভারত সন্ত্রাসবাদী হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানও পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটিও হামলা অনেক বেশি, আর একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি (OIC)।”

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্যের বিরোধিতা

    জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন দেব। তিনি ওই মন্তব্যকে “অযাচিত উল্লেখ” বলে অভিহিত করেন। দেব বলেন, “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির উচিত পাকিস্তানের বেআইনি দখলের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া। বিশেষ করে রাওয়ালাকোটে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হিংসা এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়গুলি অত্যন্ত স্পষ্ট।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের” অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অবস্থান পক্ষপাতিত্ব ও অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবিরই অংশ। দেব দ্রুত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সর্বাঙ্গীণ কনভেনশন গ্রহণের দাবি জানান। ভারত ১৯৯৬ সালেই এই প্রস্তাব প্রথম উত্থাপন করেছিল। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের নয়, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি কীভাবে নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, প্রচার, হামলার পরিকল্পনা এবং অর্থসংগ্রহ করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি পরিচিতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া ১৫ সদস্যের ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অন্যতম (Pakistan Terror Infrastructure) সদস্য বিপ্লব কুমার দেব। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান-সংযুক্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক মতপার্থক্যের আবহেই রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল (OIC)।

     

  • Madrasa Service Commission: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, এবার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে

    Madrasa Service Commission: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, এবার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের দায়িত্বে থাকা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (Madrasa Service Commission) আর থাকছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে জানিয়েছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এবার থেকে অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে, ওটা স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।” সরকারের যুক্তি, একই নিয়োগ কাঠামোর আওতায় স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ হলে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতা বাড়বে। নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা থাকার কারণে যে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হত, তা কমানো সম্ভব হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন একটা সময়ে এল, যখন মাদ্রাসাগুলির অনুমোদন, পরিকাঠামো এবং নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে রাজ্যে ২৫২টি বেসরকারি, অনুদানহীন ও এখনও স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ওই মাদ্রাসাগুলির অধিকাংশই মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় অবস্থিত।

    কেন এই সিদ্ধান্ত? (Madrasa Service Commission)

    গত কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ এবং মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে নথিতে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। অননুমোদিত ও বেসরকারিভাবে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলির তথ্য যাচাই করতেও রাজ্য সরকার সম্প্রতি সমীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। অতীতে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হওয়া নিয়োগ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নিয়োগের ক্ষেত্রে পৃথক কমিশনের বদলে একক ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    কী কী বদল আসতে পারে?

    এত দিন সাধারণ স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ পৃথক কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হত। নতুন ব্যবস্থায় মাদ্রাসার অনুমোদিত উচ্চ মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা এবং জুনিয়র হাই মাদ্রাসায় শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে যাওয়ার কথা। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথমত, মাদ্রাসা ও সাধারণ স্কুলের জন্য পৃথক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বদলে একই কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হতে পারে। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক মেধাতালিকার পরিবর্তে অভিন্ন নিয়োগ কাঠামো চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, পরীক্ষা, মেধাতালিকা এবং পরবর্তী ধাপগুলি স্কুল সার্ভিস কমিশনের নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিধি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও পরীক্ষার ধাপ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তৃতীয়ত, চাকরিপ্রার্থীদের আলাদা করে দু’টি নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একই ধরনের পরীক্ষা ও নিয়োগ কাঠামো চালু হলে আবেদন ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    চাকরিপ্রার্থীদের কী সুবিধা?

    একক কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হলে আবেদন থেকে মেধাতালিকা প্রকাশ পর্যন্ত প্রক্রিয়া আরও কেন্দ্রীভূত হবে। ফলে একই ধরনের নিয়ম মেনে নিয়োগ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মতে, আলাদা কমিশনের পরিবর্তে একটি কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার ফলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। ভবিষ্যতে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ স্কুল ও মাদ্রাসার বিভিন্ন শূন্যপদের জন্য আবেদন করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নতুন করে নিয়োগবিধি প্রকাশ করতে হবে (Madrasa Service Commission)। বর্তমানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাধিক পরিবর্তন চলছে। সংরক্ষণ নীতির পরিবর্তনের কারণে শিক্ষক নিয়োগের আগের তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে মাদ্রাসা নিয়োগকে নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে যুক্ত করা হবে, তা কমিশনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির উপরই নির্ভর করবে।

    মাদ্রাসা বোর্ডের ক্ষেত্রেও কি বদল?

    মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্তির সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোয়ও পরিবর্তন আসতে পারে বলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে নিয়োগ কমিশন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকা এক বিষয় নয়। তাই মাদ্রাসা বোর্ডকে সরাসরি স্কুল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আনা হচ্ছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সরকারি ভাবে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নতুন ব্যবস্থায় মূল পরিবর্তনটি আপাতত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করেই। স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশের পরই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে (Madrasa Service Commission)।

    পরীক্ষার ধরন কী হবে?

    মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে আগের বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা একই থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। তাই ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সসীমা বা সংরক্ষিত শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড় বজায় থাকবে—এমন তথ্য এখনই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে লিখিত পরীক্ষা, বাছাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য ধাপ স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী হবে কি না, সেটিও নতুন নিয়োগবিধি প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের অধীনে পূর্বে যে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলি শুরু হয়েছিল, সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বকেয়া নিয়োগ এবং নতুন নিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই কী নিয়ম কার্যকর হবে, সেই বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সূচনা হল। তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে নতুন নিয়োগবিধি ও সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর (Madrasa Service Commission)।

     

  • CM Suvendu Adhikari: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বিজেপির বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু, তীব্র কটাক্ষ সেলিমকে

    CM Suvendu Adhikari: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বিজেপির বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু, তীব্র কটাক্ষ সেলিমকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির বিপুল জয় নিয়ে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, দুই কেন্দ্রেই বিরোধী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামেদের কার্যত কোনও অস্তিত্ব নেই (CM Suvendu Adhikari)। রেজিনগরে পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ (Nandigram Rejinagar By-Polls) এবার ভোট দিতে না আসায় গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ভোটদানের হার প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, তা সত্ত্বেও ওই কেন্দ্রে ৭৯ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের ভোট বিজেপির পক্ষে গিয়েছে বলেই দাবি তাঁর। শুভেন্দুর কথায়, “নন্দীগ্রাম তো ২০২১ সাল থেকেই বিজেপির সঙ্গে আছে। রেজিনগরে তৃণমূল বা বামেদের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। সিপিএম পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থানে নোটার নীচেও থাকতে পারে।”

    সংখ্যালঘু ভোটে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব (CM Suvendu Adhikari)

    সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টানার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বয়স্ক সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশ কংগ্রেস অথবা হুমায়ুন কবীরের ছেলেকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু সংখ্যালঘু মহিলাদের বড় অংশ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন বলে দাবি তাঁর। বিরোধীদের দাবি খারিজ করে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, অন্নপূর্ণা বা আবাস যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পে কোনও ধর্মীয় ভেদাভেদ করা হয়নি। তাঁর দাবি, “এক কোটি ৫৮ লাখ অন্নপূর্ণা প্রাপকের মধ্যে ২৪ লাখ মুসলিম মহিলা রয়েছেন। আমার বিশ্বাস ৯০ শতাংশ মুসলিম মহিলা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।”

    আবাস যোজনার ১৭ হাজার বাড়ির তালিকাতেও ১০ হাজারের বেশি সংখ্যালঘু পরিবার এবং ৬-৭ হাজার সনাতনী পরিবার রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রভাবেই রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হবেন। নন্দীগ্রামেও গতবারের তুলনায় পাঁচ-ছ’গুণ বেশি ব্যবধানে বিজেপি জিতবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন (CM Suvendu Adhikari) শুভেন্দু।

    সেলিমকে নিশানা শুভেন্দুর

    বামেদের ভোটপ্রাপ্তি এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ভোটে কারচুপির অভিযোগ নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। সেলিমের রাজনৈতিক পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে রায়গঞ্জ, ২০২১ সালে চণ্ডীতলা এবং ২০২৪ সালে মুর্শিদাবাদে পরাজিত হয়েছেন সেলিম।

    শুভেন্দু বলেন, “যেখানে মুসলমান ভোট বেশি আছে, বেছে বেছে সেখানে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। অথচ মুখে বলেন ধর্মনিরপেক্ষ পার্টি!”

    সেলিমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি ওঁকে বলব কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়তে। যদি জমানত রাখতে পারেন, তাহলে বুঝব উনি একটা বিরাট মাপের নেতা হয়েছেন।”

    তৃণমূলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বার্তা

    অন্যদিকে, আইনি লড়াই নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তৃণমূলের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার নামে মিথ্যা অভিযোগ তোলার ঘটনায় নির্দিষ্টভাবে মানহানি ও অপরাধমূলক মামলা করা হয়েছে।

    আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ফেব্রুয়ারি মাসে (Nandigram Rejinagar By-Polls) মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যের সব পুরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন করার সময়সীমা তৈরি হচ্ছে।

    ভোটযন্ত্রের ঘাটতি বা নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। রাজ্য সরকার শুধুমাত্র পরিকাঠামোগত সহায়তা (CM Suvendu Adhikari) করে। নির্বাচন পরিচালনায় মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের কোনও ভূমিকা থাকে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

     

  • Nobel Prize: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে কাজ, পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

    Nobel Prize: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে কাজ, পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে এমন বিরল এক ধরনের মহাজাগতিক কণা নিউট্রিনোর রহস্য উন্মোচনে অসামান্য অবদানের জন্য পদার্থবিদ্যায় এ বছর নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize) পেলেন বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। মঙ্গলবার তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।

    নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ (Nobel Prize)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ ৮২ বছরের হালজেন জানান, ২০১৩ সালে মহাজাগতিক নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে নোবেল পুরস্কারের অন্যতম সম্ভাব্য প্রাপক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। প্রতি বছর তাঁর মনে হতো, নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা ২০ ভাগের মধ্যে এক ভাগ।

    সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাকে শুধু এত দিন বেঁচে থাকতে হতো। আর তাই আমি এখানে।” হালজেন জানান, এই গবেষণা ছিল বিপুল সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার ফল। নোবেল কমিটির তরফে ফোন আসার সময় তিনি নতুন একটি গবেষণা প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছিলেন। ইতালি থেকে ফোনে নোবেল কমিটির সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “আমি আশা করি, এই পুরস্কারটি প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে সাহায্য করবে।” পুরস্কার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে সেই ফোনালাপ সম্প্রচার করা হয়। তাঁর মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।

    নিউট্রিনো গবেষণায় নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ

    নিউট্রিনো হল অতি ক্ষুদ্র মহাজাগতিক কণা। এদের কোনও বৈদ্যুতিক আধান নেই এবং ভর অত্যন্ত সামান্য। ফলে সরাসরি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু এই কণা সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। সূর্যের মতো নক্ষত্র থেকে নিউট্রিনো নির্গত হয় এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি নিউট্রিনো আমাদের শরীরের মধ্য দিয়েও চলে যায়।

    বিজ্ঞানীরা সরাসরি এই রহস্যময় কণাগুলিকে দেখতে পারেন না। তাই অন্য পদার্থের কণার সঙ্গে নিউট্রিনোর সংঘর্ষের সময় কী ঘটে, তা পরিমাপ করে তাঁদের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। নিউট্রিনো খুব কম ক্ষেত্রেই অন্য কণার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তাই সংঘর্ষ শনাক্ত করার সম্ভাবনা বাড়াতে বিজ্ঞানীরা বিশাল আকারের শনাক্তকারী যন্ত্র তৈরি করেন।

    হালজেনের ধারণা ছিল, অ্যান্টার্কটিকার বিস্তীর্ণ বরফকেই এমন একটি শনাক্তকারী হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নোবেল কমিটির মতে, তাঁর গবেষণা অ্যান্টার্কটিকায় ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকেই দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনোর প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়।

    আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের চিফ এক্সিকিউটিভ মাইকেল মোলোনি বলেন, “অ্যান্টার্কটিকার এই পরীক্ষা মহাবিশ্বকে বোঝার এক বিপ্লবী পদ্ধতি, যা এর আগে আমাদের হাতে ছিল না।”

    বরফের নীচে বিশাল পর্যবেক্ষণকেন্দ্র

    পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বরফের সঙ্গে কোনও নিউট্রিনোর সংঘর্ষ হলে সেখানে আলোর ঝলক তৈরি হয়। বিশেষ সেন্সর সেই আলোর সংকেত ধরে ফেলে। স্বচ্ছ বরফের কারণে অত্যন্ত ক্ষীণ সংকেতও শনাক্ত করা সহজ হয়। মহাজাগতিক রশ্মি ও বিকিরণের হস্তক্ষেপ থেকে যন্ত্রপাতিকে সুরক্ষিত রাখতে সেন্সরগুলি প্রায় ৮,২০০ ফুট বা ২,৫০০ মিটার গভীরে বরফের নীচে স্থাপন করা হয়েছে।

    নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হালজেন বলেন, “মানুষ সব সময় ভাবত, এটি একটি চমৎকার ধারণা, ঠিকই, কিন্তু এটি কখনও কাজ করবে না। সবচেয়ে বড় বিস্ময় হল, আমরা সত্যিই এটিকে কার্যকর করতে পেরেছি।”

    হালজেনের গবেষণা বিজ্ঞানীদের এমন এক রহস্যময় নিউট্রিনো জগতের পর্দা সরাতে সাহায্য করেছে, যা অন্যান্য ছায়াপথ এবং সামগ্রিকভাবে মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

    তবে এই গবেষণার কাজ ছিল অত্যন্ত ধীর ও শ্রমসাপেক্ষ। কারণ গবেষকদের মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে নির্গত নিউট্রিনোর মধ্যে পার্থক্য করতে হয়েছিল (Nobel Prize)।

    হালজেন বলেন, “আমরা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩,০০০ আধানযুক্ত কণা শনাক্ত করি। প্রতি সেকেন্ডের সেই ৩,০০০ কণার মধ্যে আমাদের এমন একটি কণা খুঁজে বের করতে হয়, যা প্রতিদিন মাত্র একবার পাওয়া যায়। আর মাসে এমন একটি কণা পাওয়া যায়, যার বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারি। এটাই সমস্যাটির গাণিতিক বাস্তবতা।”

    তিনি বলেন, “এই গবেষণা দেখিয়েছে যে নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্ভব—এটি বাস্তব এবং এটি করা যায়। এটি আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, তা আমরা ভবিষ্যতেই দেখতে পাব। তবে মহাবিশ্বের দিকে তাকানোর কোনও নতুন জানালাই কখনও হতাশ করেনি।”

    অ্যান্টার্কটিকার এই পর্যবেক্ষণকেন্দ্রকে তিনি তুলনা করেছেন বরফ দিয়ে তৈরি একটি বিশাল চোখের সঙ্গে, যা আলোর বদলে নিউট্রিনোর মাধ্যমে মহাবিশ্বকে দেখতে পারে।

    ১৪ দেশের ৪০০-রও বেশি বিজ্ঞানীর সম্মিলিত গবেষণা

    আমেরিকার জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় আইসকিউব নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের গবেষণায় ১৪টি দেশের ৪০০-রও বেশি বিজ্ঞানী যুক্ত রয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য এরিকএম উইলকটস এক বিবৃতিতে বলেন, “আইসকিউব বিশ্বের অন্য কোনও দূরবীক্ষণযন্ত্রের মতো নয়। আর ফ্রান্সিস হালজেনের মতো বিজ্ঞানীও আর কেউ নেই। প্রায় এক মাইল বরফের নীচে নিউট্রিনো শনাক্তকারী যন্ত্র তৈরির তাঁর ধারণা এক অসাধারণ আন্তর্জাতিক ও বহু-প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার জন্ম দিয়েছে এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনায় মৌলিক পরিবর্তন এনেছে।”

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্টডে ভেভার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, হালজেন হলেন নোবেল পুরস্কারজয়ী ১১তম বেলজিয়ান। তিনি এই পুরস্কারকে মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম উপাদানগুলির মাধ্যমে তার বৃহত্তম রহস্যগুলির ওপর আলো ফেলার কাজে উৎসর্গ করা একটি জীবনের স্বীকৃতি বলে অভিহিত করেন।

    স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের মহাসচিব এলেন মুনস পুরস্কার ঘোষণা করেন। তিনিই এই মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমির নেতৃত্ব দেওয়া এবং নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা প্রথম (Nobel Prize) মহিলা।

    নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য

    এ বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। এই অর্থ কোনও একক পুরস্কারপ্রাপক, একাধিক পুরস্কারপ্রাপকের ছোট দল অথবা কোনও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হতে পারে। গত বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিন বিজ্ঞানী। অতিপারমাণবিক কণার অদ্ভুত আচরণ এবং কোয়ান্টাম টানেলিং নিয়ে তাঁদের গবেষণা অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিমাপের পথ খুলে দেয়, যা চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্রগ্রহণ প্রযুক্তিতে কাজে লাগে। একই গবেষণা উন্নত মোবাইল ফোন এবং আরও দ্রুতগতির কম্পিউটার তৈরির ভিত্তিও তৈরি করে। এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয় সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে আলো ব্যবহারকারী একটি প্রযুক্তি তৈরিতে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া হয়েছে। বুধবার রসায়ন এবং বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর সোমবার ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার (Nobel Prize) প্রাপকের নাম।

     

LinkedIn
Share