Author: pranabjyoti

  • CID Raid: ‘ভাইপো’র বাড়িতে সিআইডি হানা, সইকাণ্ডে তলব সোমে

    CID Raid: ‘ভাইপো’র বাড়িতে সিআইডি হানা, সইকাণ্ডে তলব সোমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভাইপো’র বাড়িতে সিআইডি হানা (CID Raid)! শনিবার দুপুরে সাংসদ তথা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে হানা দেন সিআইডির পাঁচ আধিকারিক। ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি চিঠি নিয়ে। ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই রয়েছে। সেই সইয়ের সত্যতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ, কয়েকটি সই নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি।

    সিআইডির লক্ষ্য (CID Raid)

    ওই চিঠিতে থাকা সইগুলি আদৌ স্বাক্ষরকারীর কি না, তা যাচাই করাই সিআইডির লক্ষ্য। তাই একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে যান সিআইডির আধিকারিকরা। সেই তালিকায় যেমন রয়েছেন চন্দ্রনাথ সিনহা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যয়, তেমনি রয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেকও। এই মামলারই তদন্তে শনিবার অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা।

    বঙ্গে পট পরিবর্তন

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পট পরিবর্তন হয়েছে বঙ্গে। যিনি ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, বিজেপির সেই শুভেন্দু অধিকারী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর গোহারা হেরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি খুইয়ে আক্ষরিক অর্থেই পথে বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে তো হেরেইছেন, মুখ থুবড়ে পড়েছে তাঁর সাধের তৃণমূলও। মাত্র ৮০টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে তাঁর দল। বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ নেতা শোভনদেব। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি চিঠির জেরেই যত কাণ্ড! অভিযোগ, ওই চিঠিতে কয়েকটি সই জাল করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এ সংক্রান্ত প্রথম চিঠিটি বিধানসভায় পাঠিয়েছিলেন অভিষেক। সেই চিঠি ফিরিয়ে দেন বিধানসভার স্পিকার। পরে তাঁর কাছে যায় আরও একটি চিঠি। তার পরেই শুরু হয় ‘জাল সই’ নিয়ে হইচই (CID Raid)।

    নথিপত্র খতিয়ে দেখছে সিআইডি

    কেবল সই যাচাই-ই নয়, বেশ কিছু নথিপত্রও খতিয়ে দেখছেন সিআইডির আধিকারিকরা। কোন পরিস্থিতিতে ওই চিঠিতে সই করা হয়েছিল, যিনি সই করেছিলেন, তিনি আদৌ স্বাক্ষর করেছিলেন কিনা, সইটি সত্যি সত্যিই তাঁর নিজের করা কি না – এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন বলেও খবর (Abhishek Banerjee)। এদিন অবশ্য সিআইডির আধিকারিকদের খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে অভিষেকের বাড়ি থেকে। কারণ বাড়িতে তাঁর দেখা মেলেনি। তাঁর বাড়ির এক কর্মী জানান, অভিষেক বাড়িতে নেই। তাঁর স্ত্রী, সন্তানরাও নেই। কোথায় গিয়েছেন, তিনি বলতে পারবেন না। সব শুনে তদন্তকারীরা অভিষেকের বাড়ি ১৮৮এ শান্তিনিকেতনের ঠিকানায় একটি নোটিশ লটকে দিয়ে যান। এরই খানিক পরে কালীঘাট রোডের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক। বলেন, আমি ওই বাড়িতে থাকি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে হলে, এই বাড়িতে আসতে হবে (CID Raid)।

    অভিষেকের হাতে নোটিশ

    তৃণমূল নেতার এহেন ‘বার্তা’ পেয়েই অভিষেকের কালীঘাট রোডের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। সেখানে তাঁরা সরাসরি ‘ভাতিজা’র হাতেই তুলে দেন নোটিশ। জানা গিয়েছে, সোমবারই তলব করা হয়েছে তৃণমূলের এই নেতাকে। পরে অভিষেক বলেন, “যাঁরা মামলার তদন্ত করছেন, সেই অফিসাররা জানেন না সাত বছর ধরে আমি ওই বাড়িতে থাকি না৷ হয়তো ওঁদের কাছে ভুল তথ্য ছিল৷ আমিও বুঝি ওঁদের চাকরি করতে হয়৷ এখনও নোটিশ পড়িনি৷ নোটিশ পড়ার পর আমার আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করব৷ তার পর যদি মনে হয় এবং আমায় যদি হাজিরা দিতে বলা (Abhishek Banerjee) হয়, তাহলে নিশ্চয়ই হাজিরা দেব৷ আমিও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেব৷ সেই অধিকার আমারও আছে (CID Raid)৷”

     

  • DA News: বকেয়া ডিএ মেটানোর ‘সঙ্কল্প’ পূরণ শুরু বঙ্গের বিজেপি সরকারের, প্রথমে কারা পাচ্ছেন জানেন?

    DA News: বকেয়া ডিএ মেটানোর ‘সঙ্কল্প’ পূরণ শুরু বঙ্গের বিজেপি সরকারের, প্রথমে কারা পাচ্ছেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘সঙ্কল্পপত্রে’ (বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারের এমনই নাম) দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ এক এক (DA Arrears Credited) করে শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। এবার পূরণ হচ্ছে বকেয়া ডিএ মেটানোর ‘সঙ্কল্প’ও। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA News) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল নবান্ন। শুক্রবার থেকেই যোগ্য প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমাও পড়তে শুরু করেছে।

    কারা পাবেন বকেয়া ডিএ (DA News)

    নবান্ন সূত্রে খবর, আপাতত এই সুবিধা সব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী পাবেন না। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র তাঁদেরই দেওয়া হচ্ছে টাকা। আপাতত এই টাকা পাবেন না এই সময়সীমার আগে-পরে অবসর নেওয়া সরকারি কর্মীরা। ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে সরকারি কর্মীদের সংগঠনগুলির। সেই বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে কর্মীরা। কারণ, যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁরা কবে থেকে বকেয়া ডিএ পাবেন, সেই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হতে পারে ওই বৈঠকেই। প্রসঙ্গত, ডিএ নিয়ে মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, বুধবার শুনানির সময় তা জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত। রাজ্য সরকারের তরফে কিছুটা সময় চাওয়া হয়। বাকি সংগঠনগুলিও জানায়, মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের দিন ঠিক করেছেন। তাই এই মামলায় আরও সময় প্রয়োজন। সব পক্ষের সওয়াল শোনার পর শুনানি পিছিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফের হবে শুনানি। তার আগে রাজ্যকে ডিএ মামলার স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মেলা অভিযোগ

    বকেয়া ডিএ নিয়ে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মেলা অভিযোগ ছিল। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সরকারি কর্মচারীরা। কলকাতা হাইকোর্ট ঘুরে সেই মামলা গিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে। অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ দেওয়া হয়নি। রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেব্রুয়ারি মাসে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে বিচার চলছে সেই (DA News) মামলার।

    কর্মচারী সংগঠনের বক্তব্য

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী হয় মমতার সরকার। ক্ষমতায় আসে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পদ্ম সরকার। তার পরেই শুরু হয় বকেয়া ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া। একাধিক কর্মচারী সংগঠনের দাবি, ঠিক কত শতাংশ হারে ডিএ দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট সরকারি নির্দেশিকা এখনও পর্যন্ত জারি করা হয়নি। তাই কীসের ভিত্তিতে ডিএ (DA Arrears Credited) দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তার। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “শুনছি, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া টাকা অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। যদিও আমরা শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অন্য গ্রান্ট-ইন এইডের কর্মীরা এখনও এক টাকাও পাইনি!’’ সিপিএম সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিত গুপ্ত চৌধুরী বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই (DA News)।”

     

  • Chandannagar Municipal Corporation: মেয়র সহ ৩০ কাউন্সিলরের ইস্তফা! ভেঙে গেল তৃণমূল পরিচালিত চন্দননগর পুরনিগম

    Chandannagar Municipal Corporation: মেয়র সহ ৩০ কাউন্সিলরের ইস্তফা! ভেঙে গেল তৃণমূল পরিচালিত চন্দননগর পুরনিগম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ধস তৃণমূলে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং এবং তাঁর হাতে গড়া দল তৃণমূল (TMC Councillors Resign)। তার পরে পরেই বর্ষায় পদ্মার ভাঙনের মতো ধসে পড়ছে ‘ঘাসফুল নদী’র পাড়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন ক্রমেই প্রকট হচ্ছে।  এবার পদত্যাগ করলেন চন্দননগর পুরসভার মেয়র-সহ ৩০ জন কাউন্সিলর (Chandannagar Municipal Corporation)। স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে গিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার বোর্ড। চন্দননগর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। তিনি মুখ থুবড়ে পড়তেই প্রকাশ্যে চলে আসে বোর্ডের টালমাটাল দশার ছবি। তার পরেই একযোগে পদত্যাগ করেন মেয়র-সহ ২৪ জন কাউন্সিলর।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া (Chandannagar Municipal Corporation)

    চন্দননগর পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৩। এর মধ্যে ৩১ জনই তৃণমূলের কাউন্সিলর। শুক্রবার সকালে এঁদের মধ্যে ৬ জন পদত্যাগ করেন। পরে রাতে ইস্তফা দেন মেয়র-সহ ২৪ জন। এর আগেই পুরসভার ডেপুটি মেয়র ও কাউন্সিলর মুন্না আগরওয়াল পদত্যাগ করেছেন। তার জেরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল চন্দননগর পুরসভার বোর্ড। চন্দননগরের বিধায়ক বিজেপির দীপাঞ্জন গুহ বলেন, “তৃণমূলের যাঁরা ভেতরে থেকেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের মধ্যেই কোথাও না কোথাও ভাবনা এসেছে, যে এই দলটা আর করা যায় না…। মানুষ যে সঙ্গে নেই, সেটা তাঁরা ভেবে নিয়েছেন। সেই জন্যই হয়তো তাঁরা পদত্যাগ করছেন।”

    গ্রেফতার ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান 

    বৃহস্পতিবার হুগলির তৃণমূল পরিচালিত ভদ্রেশ্বর পুরসভায় চেয়ারম্যান-সহ ৮ কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছিলেন। তার পরের দিনই ওই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফিরোজ চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ফিরোজের বিরুদ্ধে, এলাকায় অশান্তি করা, পুরসভায় ঝামেলা করার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল (Chandannagar Municipal Corporation)। বেশ কিছু নথিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুরসভা সূত্রে খবর। এনিয়ে ভদ্রেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পুরসভারই এক্সিকিউটিভ অফিসার। তার পরেই ফিরোজকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে করা হয় গ্রেফতার।

    পাকড়াও নদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যানও 

    গ্রেফতার করা হয়েছে নদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূলেরই বিমানকৃষ্ণ সাহাকেও। তাঁর বাড়ির ঠিক পাশের একটি ক্লাব থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর ত্রিপল-সহ ত্রাণ সামগ্রী। শুক্রবারই আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিমানকৃষ্ণকে লক্ষ্য করে জুতো এবং জলের বোতল ছোড়েন স্থানীয়রা (TMC Councillors Resign)। বিজেপির দাবি, নবদ্বীপ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর লোকজন তল্লাশি চালিয়ে ক্লাবঘর থেকে প্রচুর পরিমাণে ত্রিপল ও ত্রাণের শাড়ি উদ্ধার করেছে। তার পরেই চেয়ারম্যানকে নিয়ে যায় পুলিশ (Chandannagar Municipal Corporation)।

     

  • Census 2027: বঙ্গে শুরু হচ্ছে জনগণনার কাজ, নিয়োগ করা হচ্ছে আধিকারিকদের

    Census 2027: বঙ্গে শুরু হচ্ছে জনগণনার কাজ, নিয়োগ করা হচ্ছে আধিকারিকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে জনগণনার কাজ। পালাবদলের পর এ রাজ্যেও (West Bengal) শুরু হচ্ছে জনগণনা (Census 2027)। ১৮ মে রাজ্যপালের অনুমোদন পাওয়ার পরে রাজ‍্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জারি করা হয়েছে গেজেট নোটিফিকেশন। জানা গিয়েছে, দেশে জনগণনা ২০২৭ পরিচালনার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্তাদের জনগণনা আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করেছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, বিডিও-সহ একাধিক আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    জনগণনার কাজে বাধা দিলে কড়া শাস্তি (Census 2027)

    সংশ্লিষ্ট কর্তারা তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় জনগণনার কাজ পরিচালনা ও তদারকি করবেন। স্বরাষ্ট্রদফতর সূত্রে খবর, জনগণনা সংক্রান্ত অন্যান্য আধিকারিক নিয়োগের ক্ষমতাও তাঁদের দেওয়া হয়েছে। জনগণনার কাজে বাধা দিলে বা ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন না করলে ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইনের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়। সেই মতো জনগণনা হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালে। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে সেবার জনগণনা হয়নি। তারপর লোকসভা নির্বাচন-সহ নানা কারণে এতদিন হয়নি এই গুরুত্বপর্ণ কাজটি। শেষমেশ হচ্ছে শুরু। এবারই প্রথম ডিজিটাল জনগণনা হতে চলেছে। জনগণনার জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা (Census 2027)।

    জনগণনা হবে দুই পর্যায়ে

    ২০২৭ সালের এই জনগণনা হবে দুই পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। এবার জনগণনায় নাগরিকরা নিজেরাই তাঁদের নথিভুক্তকরণের সুযোগ পাবেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। জনগণনায় নথিভুক্ত করার জন্য পরিবারের বিস্তারিত তথ্যের পাশাপাশি বাড়ি ও সম্পত্তির তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। এরপর জনগণনার আধিকারিকরা প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। এরপর আর আবেদনপত্রে কোনও পরিবর্তন করা যাবে না, লক হয়ে যাবে। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিভিশনাল কমিশনারদের ডিভিশনাল সেনসাস অফিসার, জেলাশাসকদের প্রিন্সিপাল সেনসাস অফিসার এবং অতিরিক্ত জেলাশাসকদের ডিস্ট্রিক্ট সেনসাস অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    কাদের দেওয়া হল দায়িত্ব

    অতিরিক্ত জেলা জনগণনা আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট প্ল্যানিং অফিসার, ডিস্ট্রিক্ট স্ট্যাটিসটিক্যাল অফিসার, জেলা ইনফরমেটিক্স অফিসার এবং জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের। সাব-ডিভিশনাল সেনসাস অফিসার হিসেবে কাজ করবেন মহকুমা শাসক ও মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেটরা। সেনসাস অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বিডিওদের। শহরাঞ্চলের জনগণনার জন্য নিয়োগ করা হচ্ছে পুরসভা স্তরের আধিকারিকদের। মিউনিসিপ্যাল কমিশনারদের প্রিন্সিপাল সেনসাস অফিসার এবং পুরসভা-স্ট্যাটিউটরি টাউনের এক্সিকিউটিভ অফিসার, প্রশাসক ও সচিবদের টাউন সেনসাস অফিসার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সব আধিকারিকরা নির্ধারিত এলাকায় ভারতের জনগণনা ২০২৭ পরিচালনা, সাহায্য বা তদারকি করবেন (West Bengal)। এটাই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। এই আধিকারিকদের নিজেদের এলাকায় আরও জনগণনা আধিকারিক নিয়োগের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে (Census 2027)।

     

  • Bhadreswar Municipality: মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়েননি মমতা, ইস্তফা দিয়ে নজির গড়লেন তৃণমূলেরই ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান

    Bhadreswar Municipality: মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়েননি মমতা, ইস্তফা দিয়ে নজির গড়লেন তৃণমূলেরই ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গোহারা হেরে গিয়েও, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে চাইছিলেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনাদেশ মেনে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি প্রাক্তন মমতা। তবে দলনেত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন না হুগলির ভদ্রেশ্বর পুরসভার (Bhadreswar Municipality) চেয়ারম্যান-সহ আট কাউন্সিলর। জনতা-জনার্দনের রায় মাথা পেতে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন (Political Turmoil) তাঁরা। চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী জানান, জনগণের মতামতকে মান্যতা দিয়েই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। বিধানসভা ভোটে স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থীর হারের দায়ও নিজের ঘাড়েই তুলে নিয়েছেন তিনি। বিজেপির একাংশের কটাক্ষ, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়াতে পারে আঁচ করেই ইস্তফা দিয়েছেন ওই কাউন্সিলররা। প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে হুগলি জেলার কোনও পুরসভায় এই প্রথম এতজন কাউন্সিলর ইস্তফা দিলেন।

    ইস্তফা চেয়ারম্যানের (Bhadreswar Municipality)

    ২২ ওয়ার্ড বিশিষ্ট ভদ্রেশ্বর পুরসভা চন্দননগর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। গত পুরসভা নির্বাচনে ২০টিতে জিতেছিল তৃণমূল। একটিতে ফুটেছিল পদ্ম। আর নির্দল প্রার্থী জিতেছিলেন একটি আসনে। জনাদেশ অগ্রাহ্য করে পরে তাঁরাও ভিড়ে যান তৃণমূলে। বিরোধীশূন্য এই পুরসভার ১২টিরও বেশি ওয়ার্ডেই পদ্ম-প্রার্থীর চেয়ে পিছিয়ে ছিল ঘাসফুলের প্রার্থী। তৃণমূল প্রার্থী গায়ক থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া  ইন্দ্রনীল সেন পরাজিত হয়েছেন ১৩ হাজার ভোটে। দলীয় প্রার্থীর হারের নৈতিক দায় নিজের ঘাড়েই নিয়েছেন প্রলয়। এদিন ভদ্রেশ্বর পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তৃণমূলের এই নেতার দাবি, তিনি জানতে পেরেছেন আরও কয়েকজন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগী চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফা দিয়েছি। কয়েক দিন ধরে মনে হচ্ছিল, মানুষ যখন সমর্থন করেছিল, কাজ করেছি। এখন মানুষ যাদের সমর্থন করছে, তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত।’’ তিনি (Bhadreswar Municipality) এও জানান, তৃণমূলের তরফে তাঁকে এ ব্যাপারে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

    কী বলছে বিজেপি

    চন্দননগরের বিধায়ক বিজেপির দীপাঞ্জন গুহ বলেন, ‘‘এখানে কেউ ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেনি (Political Turmoil)। আগামিদিনেও করবে না।’’ পদ্ম-শিবিরের একাংশের দাবি, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোর আশঙ্কায় ইস্তফা দিয়েছেন প্রলয়। যদিও প্রলয় বলেন, ‘‘আমার পরিবারের কেউ বা দূরসম্পর্কের কোনও আত্মীয়ও পুরসভায় চাকরি করেন না।’’ তিনি বলেন, ‘‘কাগজেকলমে দেখা যাবে, আগের চেয়ারম্যানের সময় নিয়োগ হয়েছিল। আমি চেয়ারম্যান হই ২০১৮ সালে।’’ তাঁর সাফ কথা, ‘‘জনমতকে মান্যতা দিয়ে সরছি।’’ এক সঙ্গে আট কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় এই পুরসভায় বোর্ড চালাতে অসুবিধা হবে (Political Turmoil) না তৃণমূলের। ঘাসফুল শিবির সূত্রে খবর, ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বে চলবে বোর্ড (Bhadreswar Municipality)।

     

  • Karnataka Politics: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন সিদ্দারামাইয়া, জানুন আসল কারণ

    Karnataka Politics: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন সিদ্দারামাইয়া, জানুন আসল কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের নিয়ে প্রাতরাশ বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানেই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও। এই শিবকুমারই সিদ্ধারামাইয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। এদিনই বিকেলে সিদ্ধারামাইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলেই খবর। সিদ্ধারামাইয়া জানান, যদিও রাজ্যপাল ব্যক্তিগত কাজে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তবুও তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। কর্নাটক বিধানসভার নেতা নির্বাচনের জন্য শীঘ্রই কংগ্রেস বিধায়ক দলের বৈঠক হবে।

    এবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে কে (Karnataka Politics)

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, সিদ্ধারামাইয়া শিবকুমারকে আলিঙ্গন করছেন। আর একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে খবর, কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছ থেকে রাজ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়ার পর সিদ্ধারামাইয়া রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। তবে লোকভবনের সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এখনও কোনও অনুরোধ করা হয়নি। তিনি ব্যক্তিগত কারণে ইন্দোরে গিয়েছেন। বুধবার কংগ্রেস নেতা তথা কর্নাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুর্যেওয়ালা (Randeep Singh Surjewala) জানিয়েছিলেন, দল কংগ্রেস বিধায়ক দলের কোনও বৈঠক ডাকেনি। এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। সংবাদ মাধ্যমকে জল্পনা এড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

    সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কেন

    প্রসঙ্গত, বুধবারই বেঙ্গালুরু পৌঁছে সুরজেওয়ালা সিদ্ধারামাইয়া ও দলের অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অসমর্থিত সূত্রের খবর, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বলেছেন। তাঁকে জাতীয় স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সিদ্ধারামাইয়া এখনও সেই প্রস্তাবে হ্যাঁ বলেননি বলেই খবর। ওই সূত্রেরই খবর, সিদ্ধারামাইয়া পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারণ এই বার্তাটি সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁকে দিয়েছেন। এর আগে সিদ্ধারামাইয়া বলেছিলেন, “লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা যদি তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন, তবে তিনি তা করবেন।” জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধারামাইয়া এবং শিবকুমারকে দলীয় নেতৃত্ব তলব করেছিল দিল্লিতে। কংগ্রেসের সদর দফতরে আয়োজিত ওই বৈঠকে রাহুল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, কেসি বেণুগোপাল এবং রণদীপ সিং সুর্যেওয়ালা। সেই বেশ কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে। তার পরেই সতীর্থদের কাছে পদত্যাগের ইচ্ছের কথা জানান সিদ্দারামাইয়া।

     

  • TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দল এবং দলনেত্রী গোহারা হেরে গিয়ে গর্তে সেঁধিয়েছেন! ভয়াল ঘূর্ণিঝড় যেমন শক্তি খুইয়ে ডাঙায় আছড়ে পড়ে, ঠিক তেমনি মিউ মিউ করতে করতে ঘরে ঢুকে গিয়েছেন ‘ভাতিজা’ও! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর যে ‘বিক্রম’ দেখা গিয়েছিল প্রচার (Kalyan Banerjee) মঞ্চে, নায়কোচিত ভঙ্গিতে হেঁটে হেঁটে তাঁর সেই সব ‘উসকানিমূলক’ (অভিযোগ) ভাষণ এবং প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মন্তব্য (যা নিয়ে এফআইআর দায়ের হয়েছে) যা শুনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের হাততালিতে ফেটে পড়েছিল সভামঞ্চ, যেসব ‘বক্তিমে’ দিয়ে তৃণমূলে তিনি নিজেকে আক্ষরিক অর্থেই ‘লার্জার দ্যান পার্টি’ ইমেজ তুলে (Kakoli Ghosh Dastidar) ধরেছিলেন, নির্বাচনে দলের পাশাপাশি ‘পিসিমণি’ও হেরে যেতে, সেই তিনিই মিইয়ে গিয়েছেন, সস্তা দরে কেনা মুড়ির মতো! ‘বুয়া-ভাতিজা’র প্রবল প্রতাপের জেরে দলের অন্দরে যাঁরা এতদিন ট্যাঁ-ফোঁ করতে পারতেন না, নির্বাচন-উত্তর কালে তাঁরাই ‘খেলছেন’ চালিয়ে।

    স্পিকারকে চিঠি কাকলির (Kakoli Ghosh Dastidar)

    ফেরা যাক খবরে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাজকর্ম নিয়ে যখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, তখন আরও একটি খবর নজর কেড়েছে রাজ্যবাসীর। সেটি হল তৃণমূলের অন্দরে শুরু হওয়া মুষলপর্ব। দলের বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মীরা যেমন একদিকে তোপ দাগতে শুরু করেছেন নেত্রী এবং তাঁর স্তাবকদের তাক করে, তেমনি কল্যাণ-কাকলির দ্বন্দ্বও (Kalyan vs Kakoli) হেডলাইন হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের। তবে এবার শ্রীরামপুরের সাংসদ তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন দলেরই সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। কল্যাণের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চেয়ে বুধবার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বারাসতের ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী সাংসদ কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগ

    বারাসতের সাংসদের অভিযোগ, কল্যাণ লোকসভার ভেতরে তাঁকে বার বার মৌখিকভাবে হেনস্থা করেছেন। কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগও তুলেছেন কাকলি। স্পিকারকে লেখা চিঠিতে তাঁর দাবি, লোকসভার মহিলা সদস্যদের প্রতি কল্যাণের নারীবিদ্বেষী মনোভাবও স্পষ্ট। তাই কল্যাণের শাস্তি পাওয়া উচিত বলেই মনে করেন কাকলি। কাকলি লিখেছেন, “আপনার কাছ থেকে লোকসভার সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফর্ম্যাল অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চাইছি। লোকসভার ভেতরে আমায় বারবার মৌখিকভাবে অপমান করেছেন কল্যাণ। এই ধরনের নারীবিদ্বেষী আচরণ শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, বহু মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধেও হয়েছে। এর (Kalyan Banerjee) উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”

    কাকলির চাঁদমারি

    রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী পদে ইস্তফা দেন কাকলি। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য এক অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন আর সে পদে থাকার মানে হয় না।’’ নাম না-করলেও, তৃণমূলেরই নেতাদের একটা বড় অংশই মনে করেন কাকলির চাঁদমারি কল্যাণই।

    কী বললেন কল্যাণ

    শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “আমি কোনও চিঠি পাইনি। স্পিকার যদি এই বিষয়ে কোনও ব্যাখা চান, তাহলে উত্তর দিয়ে দেব। এটা স্রেফ নিজের বাজারদর বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই নয়।” তাঁর প্রশ্ন, “চিঠিতে আজকের তারিখ অর্থাৎ ২৮ মে-র উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, আজ তো ছুটি! তাহলে কীভাবে তিনি (কাকলি) অভিযোগ করলেন?” কল্যাণ বলেন, “অভিযোগ থাকলে আগে কেন জানানো হয়নি। এতদিন পর কেন জানানো হচ্ছে? আসলে এই অভিযোগ মিথ্যে। তাছাড়া, এটা আফটারশক (Kakoli Ghosh Dastidar)।” কাকলির অভিযোগ প্রসঙ্গে বুধবারই কল্যাণ বলেছিলেন, ‘‘২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর (কাকলির) আবার কীসের এত কথা? নারদকাণ্ডে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি। উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের জন্মদাত্রী কে? সকলেই জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।’’ কল্যাণের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করারও অভিযোগ তুলেছেন বারাসতের সাংসদ। যদিও কল্যাণের পাল্টা অভিযোগ, কাকলির মুখেই ছোটে কু-কথার ফুলঝুরি। এই একই অভিযোগ তুলে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    প্রশ্ন যেখানে

    রাজনৈতিক মহলের মতে, রীতি অনুযায়ী, দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তা প্রথমে জানাতে হয় দলীয় নেতৃত্বের কাছে। সেই অর্থে, কাকলির উচিত ছিল খাতায়-কলমে সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো। সেটা না করে কেন তিনি সটান স্পিকারকে চিঠি লিখে বসলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (Kalyan Banerjee)।

    আকচাআকচির ‘কহানি’

    যাঁরা দিল্লির রাজনীতির হাঁড়ির খবরাখবর রাখেন, তাঁদেরই কয়েকজন জানান, দল আলাদা হলেও স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কল্যাণের সম্পর্ক বরাবরই ভাল। এই পরিস্থিতিতে কাকলির চিঠির প্রেক্ষিতে কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকার কী স্টেপ নেন, সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলি-কল্যাণের এই দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। রাজ্যে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখনই প্রকাশ্যে চলে এসেছিল তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠ এই দুই নেতানেত্রীর আকচাআকচির ‘কহানি’। নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে এবং বিরোধীরা এই লড়াইকে হাতিয়ার করতে পারে ভেবে তৃণমূল নেত্রী এতদিন বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন। দল মুখ থুবড়ে পড়তেই, বল্গাহীন ঘাসফুলের সৈনিকরা। এখন দেখার, এমন আগুনে-পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন তৃণমূল নেত্রী (Kakoli Ghosh Dastidar)।

     

  • R Praggnanandhaa:  এই নিয়ে দুবার! বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেনকে ফের কিস্তিমাত ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার প্রজ্ঞানন্দের

    R Praggnanandhaa: এই নিয়ে দুবার! বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেনকে ফের কিস্তিমাত ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার প্রজ্ঞানন্দের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa) প্রমাণ করে দিলেন, বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু  ম্যাগনাস কার্লসেনের সঙ্গেও পাঙ্গা নিতে পারেন। বুধবার নরওয়ে চেস টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে কার্লসেনকে পরাজিত করে তিনি (Norway Chess 2026) পান পুরো ৩ পয়েন্ট।

    গুকেশের কঠিন সময় (R Praggnanandhaa) 

    এদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশের কঠিন সময় যেন আর কাটছেই না! ক্লাসিক্যাল খেলায় দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের পর ড্র হলেও, তিনি আলিরেজা ফিরুজজার বিরুদ্ধে আর্মাগেডন খেলায় পরাজিত হন এবং আরও একবার ধাক্কা খান। প্রজ্ঞানন্দর এই জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসলোয় অনুষ্ঠিত নরওয়ে দাবা প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সুপারবেট চেস ক্লাসিক রোমানিয়া (বুখারেস্ট)-এ ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পর তিনি গিয়েছেন নরওয়ে। এদিকে, গুকেশ বর্তমানে ৩.৫ পয়েন্ট নিয়ে ছ’জন খেলোয়াড়ের ওপেন বিভাগে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। নরওয়েতেও তাঁর খারাপ ফর্মের কোনও উন্নতির লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের নরওয়ে দাবা প্রতিযোগিতায়ও প্রজ্ঞানন্দ প্রথমবারের মতো ক্লাসিক্যাল ফরম্যাটে কার্লসেনকে হারিয়েছিলেন। এটি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে বড় মঞ্চে তাঁর ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রমাণ।

    বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট রক্ষার দায়

    প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ক্লাসিক্যাল লড়াই ড্র হওয়ার পর আর্মাগেডনে ফিরুজজার কাছে হারের পরে গুকেশ স্বীকার করেন, তাঁর প্রতিপক্ষ পুরো খেলাজুড়েই জয়ের জায়গায় ছিলেন (R Praggnanandhaa)। ভারতীয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের জন্য এই পরাজয় বিশেষভাবে হতাশাজনক। কারণ এ বছরই তাঁকে তাঁর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট রক্ষা করতে হবে (Norway Chess 2026) চ্যালেঞ্জার জাভোখির সিনদারভের বিরুদ্ধে খেলে। বিশ্বখেতাব জয়ের পর থেকে তাঁর সাম্প্রতিক একাধিক পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি (R Praggnanandhaa)। অন্যদিকে, প্রজ্ঞানন্দ কার্লসেনের বিরুদ্ধে এই জয়কে তাঁর পক্ষে খুব বড় একটি জয় বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ুকে হারাতে তাঁর ভাগ্যও সহায় ছিল।

     

  • Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বুয়া’র পর এবার ‘ভাতিজা’কেও কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তুতি শুরু! তৃণমূল সুপ্রিমো (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগেই দায়ের হয়েছিল এফআইআর, এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই ভাইপো তথা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধেও। তাঁর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হল একদা তৃণমূলের খাসতালুক ভবানীপুরে। ভবানীপুর থানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সম্পাদক অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন অর্ণবকান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। বুধবারই মমতার নামে শিলিগুড়িতে এফআইআর দায়ের করেছিলেন এই আইনজীবী। এফআইআর দায়ের হয়েছিল অভিষেকের বিরুদ্ধেও। তবে উসকানিমূলক মন্তব্য করায় এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই পাড়ায়, ভবানীপুর থানায়।

    ‘গুজরাটি গ্যাং’ মন্তব্য (Abhishek Banerjee)

    অর্ণবও ভবানীপুরেরই বাসিন্দা। তিনি জানান, ২ মে এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক লিখেছিলেন, “১০ বার জন্মালেও আপনাদের ‘বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং’ আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলের ছিটেফোঁটাও ক্ষতি করতে পারবে না।” অভিষেকের এই মন্তব্যের জেরেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে ভবানীপুর থানায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে নানা সময় বুয়া-ভাতিজা উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। এর আগে উসকানিমূলক মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট ৬টি ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সমাজসেবী রাজীব সরকার।

    অভিযোগকারীর বক্তব্য

    অর্ণবের দাবি, অভিষেক ওই পোস্টে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকর (Abhishek Banerjee)। এফআইআরে বলা হয়েছে, একজন সাংসদ হিসেবে সংবিধানের সার্বভৌমত্ব ও দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নেওয়ার পরেও, অভিষেক সমগ্র গুজরাটি সম্প্রদায়কে একটি ‘গ্যাং’ বা অপরাধী চক্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি সম্প্রদায়কে অপমান করে না, বরং দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপরেও আঘাত হানে। গুজরাটি সমাজ দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্পোন্নয়ন এবং সমাজসেবামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সেই সম্প্রদায়কে কটাক্ষ করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ (TMC)।

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য নয়

    অভিযোগপত্রে এও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক মতভেদ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের অংশ হলেও, কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাকে অপমান করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিকটবর্তী একটি সংবেদনশীল লোকসভা কেন্দ্রের (ডায়মন্ড হারবার) সাংসদের এমন মন্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

    রাষ্ট্রকেও চ্যালেঞ্জ অভিষেকের!

    অর্ণবের আশঙ্কা, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল যদি উল্টোটা হত এবং তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরত তাহলে এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে বসবাসকারী গুজরাটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে পারত (Abhishek Banerjee)। তাই এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, ওই পোস্টে অভিষেক কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তথাকথিত (TMC) ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ রোখার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাই পুলিশের কাছে তৃণমূল সম্পাদকের ওই পোস্টের যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অর্ণব (Abhishek Banerjee)।

     

  • Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গেলে মিলবে ফর্ম। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে এই ফর্ম। যাঁরা তা (Documents List) করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্য করতে সরকারি আধিকারিকরা যাবেন বাড়িতেও। স্থানীয় বিধায়করাও সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার যোজনায় লক্ষ লক্ষ ‘বেনো জল’ ঢুকে রয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজকোষের অপচয় রোধ করতেই অন্নপূর্ণা প্রকল্পে নথি ও তথ্য ভালো করে যাচাই করা হবে।

    ফর্মে জানাতে হবে যেসব তথ্য (Annapurna Yojana)

    ফর্মটি ১১ পাতার। তাতে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের বাকি সব সদস্যের খুঁটিনাটি সব তথ্যই জানতে চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক অনুদান। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে মহিলারা ফি মাসে তিন হাজার করে টাকা পাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই কারণেই ফর্মটি দীর্ঘ হয়েছে। আবেদানকারীদের ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্যও এই ফর্মের নথি এবং তথ্য বিবেচনা করা হবে।

    ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর

    অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে প্রথমেই চাওয়া হয়েছে আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর। ফর্মে উল্লেখ করতে হবে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও এই সব তথ্য এবং গৃহকর্তা বা কর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করাও থাকতে হবে। আবেদনকারী ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে সরকার। যদি থাকে, সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সে সংক্রান্ত তথ্যও বিশদে উল্লেখ করতে হবে ফর্মে।

    শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও দিতে হবে

    আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ানও দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, জানাতে হবে তা-ও। পরিবারের প্রত্যেকের পেশা লিখতে হবে ফর্মে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে (Annapurna Yojana)। পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার কথাও উল্লেখ করতে হবে এই ফর্মে। সে সংক্রান্ত নথিও জমা দিতে হবে। পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণও জানাতে হবে। কেউ সিএএতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআরে নাম বাদ পড়েছে কি না, পড়লেও ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এসবও জানাতে হবে সরকারকে। পরিবারের শিশুদের স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের খুঁটিনাটি (Documents List) তথ্যও উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণ শুরু হবে ১ জুন থেকে, চলবে তিন মাস ধরে। তাই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই (Annapurna Yojana)।

    কেন এত কড়াকড়ি, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই না হওয়াতেই নানা ধরনের অসংগতি সামনে আসছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বহরমপুরের শিয়ালমারা রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, একজন পুরুষ হয়েও নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন রাকিবুল, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি নাম মৃত ব্যক্তি, অ-ভারতীয় নাগরিক অথবা সম্পূর্ণ ভুয়ো উপভোক্তার।

    সরকারি অর্থরে অপচয় রোখা লক্ষ্য

    সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সরকার এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে চলেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই যাচাইয়ের ফলে বর্তমান তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ পড়ে যাবে। একইসঙ্গে, স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগ্য পরিবারের মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ফের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু মহিলাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা নয়, বরং রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

LinkedIn
Share