Author: pranabjyoti

  • PM Modi: ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা, মোদির সঙ্গে বৈঠকে পারমেলিন

    PM Modi: ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা, মোদির সঙ্গে বৈঠকে পারমেলিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সুইজারল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক বিনিময়, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পরমাণু শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত (Trade AI Defence Cooperation) ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে দুই নেতা শান্তি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।

    কী বললেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র (PM Modi)

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হায়দরাবাদ হাউসে সুইস প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। দুই নেতা ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের সামগ্রিক দিক পর্যালোচনা করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক বিনিময় ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পরমাণু শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।”

    তিনি আরও জানান, “ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, দুই নেতা তা উল্লেখ করেন এবং উদ্ভাবননির্ভর অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।”

    বৈঠকে পরিবহণ, যাতায়াত ও পরিকাঠামো, অভিবাসন ও চলাচল এবং তরুণ পেশাজীবীদের নিয়ে নতুন কয়েকটি চুক্তির বিষয় উঠে আসে। স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণার নতুন উদ্যোগ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত ও সুইজারল্যান্ড।

    বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি, বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিষয়ক সচিব সিবি জর্জ-সহ অন্যান্য আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট পারমেলিন পরস্পরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এর আগে সোমবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে পারমেলিনকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    সুইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই সফর ভারত ও সুইজারল্যান্ড উভয় দেশ এই সম্পর্ককে যে গুরুত্ব দেয়, তা তুলে ধরার একটি চমৎকার সুযোগ।”

    ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের ভিত্তি যে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের উপর গড়ে উঠেছে, তাও (PM Modi) উল্লেখ করেন তিনি।

    পারমেলিন বলেন, “আমার এই সফর আমাদের ঘনিষ্ঠ, বিস্তৃত এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও বৃদ্ধি, গভীর ও শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত ও সম্মানিত।”

    তিনি আরও বলেন, “বিশেষভাবে আমি আনন্দিত যে, ভারতে আমার এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের সুযোগ হচ্ছে।”

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সোমবার ভারতে আসেন গাই পারমেলিন। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভারত-সুইজারল্যান্ড সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে পারমেলিনের এটি (Trade AI Defence Cooperation) ভারতে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। তবে চলতি বছর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারতে এলেন তিনি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভাব সম্মেলনে যোগ দিতে (PM Modi) ভারতে এসেছিলেন সুইস প্রেসিডেন্ট।

     

  • Suvendu Adhikari: বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়ে কড়া আইন, ছ’মাস সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়ে কড়া আইন, ছ’মাস সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) চালুর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী ছ’মাসের মধ্যে ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদে’র বিরুদ্ধে কড়া আইন আনার কথাও জানিয়েছেন (UCC) তিনি। রবিবার কলকাতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বাংলাতেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু জানান, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের মডেল অনুসরণ করে বাংলাতেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। তাঁর কথায়, “আমাদের ছ’মাস সময় দিন। লাভ জিহাদ এবং ল্যান্ড জিহাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনও আনা হবে।”

    বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া তৈরির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত নাগরিক আইনগুলিকে অভিন্ন করার লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত বিধির খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, তাঁর সরকার সংবিধান মেনেই কাজ করবে। তবে ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন ঐতিহ্য, মন্দির, মঠ এবং দেশের ঐতিহ্যের উপর কোনও ধরনের আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

    বাংলায় কোনও দেশবিরোধী কার্যকলাপ সরকার মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং বিভাজনকারী শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, স্বামী বিবেকানন্দ এবং মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য যে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেছিলেন, সেই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপর কোনও আঘাত বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি, সংবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই সরকার কাজ করবে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের পতনের একাধিক কারণ ছিল। তবে হিন্দুদের আবেগ, সংগঠন, দেবদেবী এবং সনাতন ঐতিহ্যকে বারবার আঘাত করার অভিযোগ তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিন মানুষ এসব সহ্য করার পর শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকে বিদায় জানিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ছাত্রজীবনে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন রাজ্যে হিন্দুদের উপর কথিত অত্যাচারের বিভিন্ন অভিযোগের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছেন।

    ধর্মীয় পর্যটন নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। রাজ্যে প্রস্তাবিত ধর্মীয় পর্যটন পরিক্রমা প্রকল্পের কাজ আগামী দু’বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের পরামর্শ ও সহযোগিতাও চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    একাধিক কর্মসূচির কথাও ঘোষণা

    এদিন আগামী দিনের একাধিক কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। নভেম্বর মাসে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রায় ২০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে হনুমান চালিসা পাঠের আয়োজন করা হবে বলে জানান (UCC) তিনি। পাশাপাশি আগামী ২৯ ডিসেম্বর প্রায় ১০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে গণগীতা পাঠের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলায় আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো ও পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

     

  • SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়া শেষ হওয়া রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে (SIR) যোগ্য ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ (Voter List Name Deleted) পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকেও বিষয়টি ফের জানানো হয়েছে।

    কেন বিশেষ উদ্যোগের নির্দেশ? (SIR)

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ নাম, অর্থাৎ ৭১ শতাংশেরও বেশি অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত এবং অন্যান্য শ্রেণিতে পড়েছে।

    প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নাম বাদ পড়েছে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের মৃত্যুর কারণে। এই সংখ্যা মোট বাদ পড়া নামের ২০ শতাংশের সামান্য বেশি। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ১ লাখ নাম একাধিকবার থাকার কারণে চিহ্নিত হয়েছে, যা মোট বাদ পড়া নামের প্রায় ৭.৬ শতাংশ।

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এমন ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধনের সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে থাকলে তা চিহ্নিত করে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং ভোটার নিবন্ধন আধিকারিকদের বলা হয়েছে, বাদ পড়া ভোটারদের পাশাপাশি নতুন করে যোগ্য হওয়া তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদেরও ধারাবাহিক সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করতে।

    এর জন্য বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে এবং পরে তৈরি হওয়া ভোটার তালিকার তুলনা করতেও বলা হয়েছে। যাঁদের নাম সংশোধনের সময় বাদ পড়েছে, কিন্তু এখনও ভোটার তালিকায় থাকার যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্ক কোথায়?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৬-এর ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ১০ মাসের মধ্যে ১৪ বার এমন কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, যেগুলি তাঁদের অজ্ঞাতসারে কমিশনের নামে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ফর্ম ৬ সংক্রান্ত পরিবর্তনও ছিল।

    জুলাই মাসে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত করে ফর্ম ৬-এর কাগজের সংস্করণে একটি পৃথক ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়। সেখানে আবেদনকারী অথবা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

    অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেও আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল (SIR)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে সান্ধু এই পরিবর্তনকে অননুমোদিত ও বেআইনি বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ফর্ম ৬ ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০-এর সঙ্গে সংযুক্ত এবং ওই বিধিমালায় সংশোধন করার ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে রয়েছে (Voter List Name Deleted)।

    পরে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানায়, ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি। আধিকারিকদের দাবি, বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়ার সময় অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি সম্পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের জন্যও তা অনুমোদিত হয়।

    অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, তার কারণ হিসেবে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের করা কিছু পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। আবেদনকারীদের যাতে দু’বার বৈদ্যুতিন স্বাক্ষর করতে না হয়, সেই কারণেই ওই পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে আধিকারিকরা জানান।

    অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে?

    না। ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি শুধুমাত্র বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায়ে প্রযোজ্য ছিল।

    যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে, সেখানে প্রথমবার ভোটার হতে চলা যোগ্য নাগরিক এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০ অনুযায়ী প্রচলিত সরকারি ফর্ম ব্যবহার করতে হবে (SIR)।

    তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্চনা পটনায়কও স্পষ্ট করেছেন, ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রটি বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় কার্যকর থাকবে। সংশোধনবহির্ভূত সময়ে প্রচলিত সরকারি ফর্মই ব্যবহার করা হবে।

    নাম বাদ পড়েছে কি না, কীভাবে জানবেন?

    নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে অনলাইনে নিজের নাম ও নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করা যায়।

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবায় যেতে হবে। এরপর “ভোটার তালিকায় অনুসন্ধান” বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নাম খোঁজার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে—

    ১. ভোটার পরিচয়পত্র নম্বরের মাধ্যমে—নিজের ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে রাজ্য নির্বাচন করতে হবে।

    ২. ব্যক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে—নিজের নাম, আত্মীয়ের নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে।

    ৩. মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে—নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এককালীন গোপন সংকেতের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে।

    ভোটার তালিকায় নাম দেখা গেলে ধরে নিতে হবে, নিবন্ধন সক্রিয় রয়েছে। নাম না থাকলে যোগ্য ভোটার ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    নাম ফের যোগ করবেন কীভাবে?

    সাধারণত নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করতেও এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।

    যোগ্য ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে কিন্তু ভোটার হিসেবে থাকার সব যোগ্যতা রয়েছে, তাঁরাও ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    তবে কোনও ভোটার একই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তন করলে অথবা অন্য বিধানসভা কেন্দ্রে চলে গেলে এবং নিজের ভোটার নিবন্ধন স্থানান্তর করতে চাইলে ফর্ম ৬ নয়, ফর্ম ৮ ব্যবহার করতে হয় (SIR)।

    কীভাবে পূরণ করবেন ফর্ম ৬?

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা পোর্টালে যেতে হবে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপ খুলতে হবে (Voter List Name Deleted)।

    এরপর নতুন ভোটার নিবন্ধন বা ফর্ম ৬-এর বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নির্ধারিত ব্যক্তিগত ও বাসস্থানের তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মতারিখের প্রমাণ-সহ অন্যান্য নথি আপলোড করতে হবে।

    আবেদন জমা দেওয়ার পরে প্রাপ্ত স্বীকৃতি বা আবেদন নম্বরটি সংরক্ষণ করতে হবে। এই নম্বরের মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি জানা যাবে।

    বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকরা বিদেশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬এ ব্যবহার করবেন।

    অফলাইনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার পদ্ধতি

    ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক অথবা বুথস্তরের আধিকারিকের কাছ থেকে ফর্ম ৬ সংগ্রহ করা যায়। নির্বাচন কমিশনের সরকারি মাধ্যমেও এই ফর্ম পাওয়া যায়।

    প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপি-সহ পূরণ করা ফর্ম সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক বা সহকারী আধিকারিকের কাছে সরাসরি জমা দেওয়া যায়। ডাকযোগেও পাঠানো যায়। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র এলাকার বুথস্তরের আধিকারিকের কাছেও ফর্ম জমা দেওয়া যায়।

    প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভোটার সহায়তা নম্বর ১৯৫০-এ যোগাযোগ করা যাবে।

    কারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন?

    ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে হলে সাধারণত চারটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

    ১. আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে।

    ২. ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার তারিখগুলির মধ্যে—১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই অথবা ১ অক্টোবর—যে কোনও একটি তারিখে তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

    ৩. যে বিধানসভা কেন্দ্র বা ভোটকেন্দ্রের এলাকার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে চাইছেন, সেখানে তাঁকে সাধারণভাবে বসবাস করতে হবে।

    ৪. অন্য কোনও কারণে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য তিনি অযোগ্য না হয়ে থাকেন।

    আধিকারিকদের কী করতে বলেছে কমিশন?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বাদ পড়ে যাওয়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে একাধিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    প্রথমত, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে থাকা ভোটার তালিকার সঙ্গে সংশোধনের পরে তৈরি চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে।

    এছাড়াও এমন ঘটনাগুলি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে, যেখানে কোনও ভোটারের নাম অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হওয়ার প্রমাণ নেই, তিনি একাধিকবার তালিকাভুক্ত নন এবং তাঁর মৃত্যুও হয়নি—তবুও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে (SIR)।

    এই ধরনের ক্ষেত্রে আধিকারিকদের ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এই বিশেষ উদ্যোগে রাজনৈতিক দল এবং তাদের বুথস্তরের প্রতিনিধিদের সাহায্য নেওয়ার জন্যও রাজ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

    এর মূল লক্ষ্য হল, সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়া সমস্ত যোগ্য ভোটার যাতে নির্ধারিত ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা।

    নাম না থাকলে ভোটারদের কী করা উচিত?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে নিজের নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করতে হবে।

    যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নাম না থাকলে ভোটার পরিষেবা পোর্টাল, ভোটার সহায়তা অ্যাপ অথবা সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক কিংবা বুথস্তরের আধিকারিকের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়াই লক্ষ্য। তবে (Voter List Name Deleted) বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায় শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি প্রক্রিয়াই কার্যকর থাকবে (SIR)।

     

  • BJP: ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতা নিয়ে গান্ধী পরিবারের ‘নীরবতা’, কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    BJP: ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতা নিয়ে গান্ধী পরিবারের ‘নীরবতা’, কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভয়াবহ সঙ্কটের সময়ে ১৭০-রও বেশি যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতা নিয়ে গান্ধী পরিবার ‘নীরব’—এই অভিযোগ তুলে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি (BJP)। পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ নীরবে সন্ত্রাসকে সমর্থন করে।

    ঘটনার কয়েক দিন (Gandhi Family) পরেই এই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর বিমানে সহ-পাইলটের হামলার পরেও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যান। ভয়াবহ ওই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি গুরুতর জখম হন।

    গান্ধী পরিবারকে নিশানা (BJP)

    রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “ভারতের জন্য এমন গর্বের মুহূর্তে কিছু লজ্জাজনক ঘটনাও রয়েছে। ক্যাপ্টেন স্মিতের জন্য কংগ্রেসের প্রথম পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কথাও, কোনও সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তা বা সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি আসেনি।”

    সোনিয়া গান্ধীকে কটাক্ষ করে ত্রিবেদী বলেন, “এতে একটি প্রশ্ন উঠছে—প্রথম পরিবারের ‘রাজমাতা’ সোনিয়াজি, যাঁর বাতলা হাউস সংঘর্ষে অভিযুক্তদের জন্য চোখে জল এসেছিল, তাঁর কি ক্যাপ্টেন স্মিতের জন্য সামান্য সহানুভূতির সুরও নেই?”

    কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকেও আক্রমণ শানান বিজেপি সাংসদ। তাঁর কথায়, “যে রাজকুমারী ‘প্যালেস্টাইনের প্রতি সমর্থন’ লেখা ব্যাগ নিয়ে ঘুরতেন, তিনি এখন ভারতীয় পাইলটের জন্য কোনও সহানুভূতি দেখাননি।”

    তবে বিজেপির এই আক্রমণের জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের নবনিযুক্ত কার্যকরী সভাপতি তথা কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক ‘অনুষ্ঠানে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তিনি ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসাও (BJP) করেন।

    গান্ধী পরিবারের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন

    গান্ধী পরিবারের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাসুদ বলেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত নিজের জীবন এবং অন্যদের জীবন বাঁচিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতাকে কুর্নিশ। কিন্তু বিজেপি সব কিছুকে একটি অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে—বিষয়টি এমন নয়। বিজেপি প্রায় প্রতিটি বিষয়কেই একটি অনুষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করে। তিনি বেঁচে আছেন, আমরা শুধু প্রার্থনা করি তিনি যেন সুস্থ থাকেন। এটাই যথেষ্ট।”

    উল্লেখ্য, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে সহ-পাইলটের হামলার পর তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর অসাধারণ দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। তাঁর তৎপরতায় বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় এবং বিমানে থাকা ১৭০-রও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা পায় (Gandhi Family)।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করলেও ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনার বিরোধিতা করেছে (BJP) কংগ্রেস।

     

  • Congress: কংগ্রেসের সঙ্গে ‘আরশোলা’ পার্টির সংঘাত প্রকাশ্যে, ‘পর্দার আড়ালে সাহায্যে’র দাবি রীতম সিংয়ের

    Congress: কংগ্রেসের সঙ্গে ‘আরশোলা’ পার্টির সংঘাত প্রকাশ্যে, ‘পর্দার আড়ালে সাহায্যে’র দাবি রীতম সিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস (Congress)। কিন্তু সেই বিরোধী ঐক্যের মধ্যেই কংগ্রেস এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। দুই দলের নেতাদের মধ্যে বারবার প্রকাশ্যে বাগ্‌যুদ্ধও হয়েছে। সম্প্রতি অসম কংগ্রেসের মুখপাত্র রীতম সিং এবং সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কার মধ্যে প্রকাশ্য বাক্‌যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে (Jantar Mantar Protests) দু’পক্ষের সংঘাত। রীতমের অভিযোগ, রাঙ্কা এবং তাঁর দল আম আদমি পার্টির নির্দেশে কাজ করছে এবং একটি স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, অতীতে সিজেপিকে পর্দার আড়াল থেকে কংগ্রেসের সাহায্য করার দাবিও।

    সংঘাতের সূত্রপাত (Congress)

    শনিবার রাঙ্কার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত। রাঙ্কা কংগ্রেসকে নিশানা করে দাবি করেছিলেন, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আক্রমণ করার জন্য একটি গোটা স্বঘোষিত উদারপন্থী পরিসর সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাঙ্কা লিখেছিলেন, “একটি গোটা ‘স্বঘোষিত উদারপন্থী’ পরিসরকে সক্রিয় করা হয়েছে অভিজিৎ দীপকেকে আক্রমণ করার জন্য। দীর্ঘ, দীর্ঘ সময় পর তিনি লাখ লাখ ভারতীয়ের কল্পনাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছেন। মজার বিষয় হল, এই পরিসরটি শুধু টুইটারে রয়েছে, অথচ কোনওভাবে মনে করে তারাই গণতন্ত্রের একমাত্র রক্ষক।” রাঙ্কার এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণে নামেন রীতম। তিনি রাঙ্কার “ষড়যন্ত্র” এবং “মিথ্যা আত্মগরিমা” প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারি দেন।

    রীতমের দাবি, অসম পুলিশ রাঙ্কা এবং তাঁর দলের কর্মীদের আটক করার পর তাঁদের মুক্ত করতে কংগ্রেস সাহায্য করেছিল। কিন্তু সেই সাহায্যের প্রতিদান হিসেবে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেও রাঙ্কা অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, আম আদমি পার্টির নির্দেশেই কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেছিলেন রাঙ্কা।

    রীতম বলেন, “অসম পুলিশ যখন আপনাকে আটক করেছিল, তখন আমরা কংগ্রেসের লোকজন সিজেপির সদস্যদের বাইরে বের করে আনতে সাহায্য করেছিলাম। অথচ আপনি স্পষ্টভাবে আমাদের কংগ্রেস নেতাদের এবং গৌরব স্যারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেও অস্বীকার করেছিলেন। আপনি তা করেছিলেন কারণ আম আদমি পার্টি আপনাকে তা করতে বারণ করেছিল।”

    তিনি আরও দাবি করেন, গুয়াহাটিতে রাঙ্কার আতিথেয়তার দায়িত্বে থাকা কুনকি চৌধুরী তখন কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে নগাঁওয়ে অসম জনতা পরিষদের সভাপতি লুরিন গগৈয়ের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে ছিলেন। তাঁরাও রাঙ্কাকে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করেছিলেন বলে দাবি রীতমের।

    তিনি বলেন, “তবুও আপনি একবারও কংগ্রেস বা আমাদের ছাত্র শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেননি। আপনি কংগ্রেস (Congress) নেতাদের বলেছিলেন, ‘এর বাইরে থাকুন’। আপনি বলেছিলেন, এটি আম আদমি পার্টির উদ্যোগ।” উল্লেখ্য, ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে সিজেপির সংগঠন বিস্তারের নামে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোর সময় রাঙ্কা-সহ দলের কয়েকজন কর্মীকে অসম পুলিশ আটক করেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    রীতমের অভিযোগ

    রীতমের আরও অভিযোগ, আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরাসরি নির্দেশে সাম্প্রতিক যন্তর মন্তরের আন্দোলনে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন সিজেপি নেতৃত্ব। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নেহা বোরাকে আন্দোলন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সিজেপি একটি ছাত্র আন্দোলনকে নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচির ওপর ভর করে তার কৃতিত্ব নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    তিনি বলেন, “ছাত্রদের সমস্যার পক্ষে দাঁড়ানো এক বিষয়। কিন্তু কোনও আন্দোলনকে নিজেদের দখলে নেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আম আদমি পার্টি অন্যদের ইস্যুতে ভর করে সেগুলিকে নিজেদের করে নেওয়ার জন্য পরিচিত।”

    কংগ্রেস মুখপাত্র অতীতের বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় অন্না হাজারের কর্মসূচিকে ব্যবহার করা থেকে শুরু করে সোনম ওয়াংচুকের অনশন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে আম আদমি পার্টি অন্যদের আন্দোলনের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    রীতম বলেন, “প্রথমে অন্না হাজারেকে সামনে রেখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভারতের নামে আপনাদের সেই সাজানো প্রদর্শনী। এরপর সোনম ওয়াংচুক স্যার যখন অনশনে ছিলেন, তখন তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আপনারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আর যখন সমস্ত ছাত্র সংগঠন স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ করছিল, তখন আপনারা পুরো বিষয়টিকে সিজেপির আম আদমি পার্টির আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।”

    কী বলছে কংগ্রেস

    কংগ্রেস মুখপাত্রের দাবি, সিজেপি ছাত্র আন্দোলনের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি করে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সামনে আনার চেষ্টা করছে। এদিকে, কংগ্রেস এবং সিজেপির সংঘাতের মধ্যে বিজেপির সঙ্গে সিজেপির যোগসাজশের অভিযোগও সম্প্রতি সামনে এসেছিল। এক কংগ্রেস সমর্থককে বলতে শোনা যায়, “অভিজিৎ দীপকে বলছেন নির্বাচন বয়কট করা উচিত। বিজেপিও চায় সবাই নির্বাচন বয়কট করুক।”

    তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আম আদমি পার্টির মদতপুষ্ট সিজেপি বিজেপির সঙ্গে কাজ করছে বলে তিনি ইঙ্গিত করছেন কি না। জবাবে ওই কংগ্রেস সমর্থক বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। একশো শতাংশ। এটাই সত্যি। কখনও কখনও বড় নেতাদের, যেমন রাহুল গান্ধীর, গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন নেতাদের সামনে আনা হয়।”

    কংগ্রেস এবং সিজেপির এই সংঘাত অবশ্য নতুন নয়। গত মাসেও যন্তর মন্তরে ২০ থেকে ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যায়। একই মাসে রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী এবং সম্প্রতি পাঞ্জাবের কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শচীন পাইলটও বিভিন্ন (Jantar Mantar Protests) রাজ্যে স্কুল পরিদর্শনের নামে সিজেপির রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ফলে বিরোধী শিবিরে (Congress) মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা সামনে এলেও, কংগ্রেস ও সিজেপির পারস্পরিক সংঘাত যে এখনও অব্যাহত, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

     

  • Kusum Group Pharma Plant: রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার কারখানা বিধ্বস্ত, নিহত ১

    Kusum Group Pharma Plant: রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার কারখানা বিধ্বস্ত, নিহত ১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের সুমি শহরে ভারতীয় কুসুম গোষ্ঠীর মালিকানাধীন একটি বৃহৎ ওষুধ কারখানায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন (Kusum Group Pharma Plant)। হামলায় কারখানাটির মূল ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় আধিকারিকেরা জানিয়েছেন (Russian Drone Attack)।হামলার পরে ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ড্রোনগুলি কারখানা চত্বরে আঘাত হানার পরেই আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা।

    কুসুম গোষ্ঠী (Kusum Group Pharma Plant)

    কুসুম গোষ্ঠীর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। সেই সময় ভারতীয় ওষুধ ইউক্রেনে রফতানি করার মাধ্যমে সংস্থাটি বাণিজ্য শুরু করেছিল। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রাজীব গুপ্তের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গোষ্ঠী ২০০২ সালে অন্য সংস্থার পণ্য বিতরণের কাজ বন্ধ করে নিজেদের ব্র্যান্ডের ওষুধ বাজারজাত করা শুরু করে।

    পরবর্তীকালে সংস্থাটি ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করে। ২০০৭ সালে ভারতে কারখানা স্থাপনের পর ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে একটি উৎপাদন কেন্দ্র চালু করে কুসুম গোষ্ঠী। এরপর ভারতে আরও দু’টি উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সংস্থাটি ৫০টিরও বেশি মূলত জেনেরিক ওষুধ তৈরি করে এবং ন’টিরও বেশি দেশে সেগুলি বিক্রি করে। ইউক্রেন ছাড়াও উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপাইন তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাজার।

    কুসুম গোষ্ঠী নিজেদের ভারতীয় শিকড়-সমৃদ্ধ একটি ইউক্রেনীয় সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পুরো সময় জুড়েই সুমির কারখানাটি উৎপাদন চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলায় সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৪০০ কোটি টাকা।

    হামলার তীব্র নিন্দা ইউক্রেনের

    হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। জেলেনস্কি বলেন, “আজ সকালে রুশ বাহিনী ফের কিয়েভের পিভনিচনি সেতুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা সুমিতে একটি সাধারণ ওষুধের গুদামেও ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমার সমবেদনা। দিনিপ্রোতেও একটি যোগাযোগকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলাগুলিতে ছ’জন জখম হয়েছেন (Kusum Group Pharma Plant)।”

    গত গ্রীষ্ম থেকে মস্কো ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন বহু দ্রুতগতির ও তুলনামূলকভাবে কম খরচের জেটচালিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে এগুলি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরোধী ড্রোনগুলির গতি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় দ্রুতগতির শাহেদ ড্রোনকে আটকাতে সমস্যা হচ্ছে (Russian Drone Attack)।

    এর মধ্যেই ইউক্রেন চলতি সপ্তাহে নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এফপি-৭ প্রথমবারের মতো যুদ্ধে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (Kusum Group Pharma Plant)।

     

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও প্রতিমার অবমাননা, জমি দখল, হিংসা এবং বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের ঘটনাবলি তুলে ধরে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এমনই (Hindus Under Attack) দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলির প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয় না (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনটিতে হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও প্রতিমা অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    অসমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু (Hindus Under Attack)

    অসমের গুয়াহাটির উপকণ্ঠে একটি অতিথিশালায় বছর বাইশের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়ার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা বছর ছাব্বিশের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।ওই যুবকের নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে আসিফ, আশিক বা আশিক আলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, নিমিষা আত্মহত্যা করেছিলেন। অন্যদিকে, মৃতার পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    কাঠামো নিয়ে বিতর্ক

    মহারাষ্ট্রের তালোদায় গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রায় সমাধির মতো দেখতে একটি কাঠামো প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় কিছু হিন্দু সংগঠন ও বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ ও বিভিন্ন উপকরণের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, গণেশ উৎসব উপলক্ষে নেমসুশীল বিদ্যামন্দিরের সঙ্গে যুক্ত একটি বিসর্জন শোভাযাত্রায় ওই কাঠামো প্রদর্শিত হয়। বিষয়টিতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    তামিলনাড়ুতে ধর্মান্তরের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে যুক্ত কয়েকজন মহিলা শ্রমিককে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য প্রভাবিত করার অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভিডিওগুলিতে কর্মসংস্থান প্রকল্পে অংশ নেওয়া মহিলাদের কাছে ধর্মান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ভিডিওগুলির সত্যতা, স্থান এবং ঘটনাগুলির প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

    নিষিদ্ধ সংগঠনে তরুণদের যুক্ত করার অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর বিশেষ তদন্ত শাখা তরুণদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং নিষিদ্ধ সংগঠন হিজব-উত-তাহরির ও খিলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। মন্দিরে হামলা ও অবমাননা, জমি দখল, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতার হামলা, নারী নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

    স্বর্ণকারকে হত্যার অভিযোগ

    ময়মনসিংহে নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর নামে এক স্বর্ণকার নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে একটি ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ এখনও মামলা নথিভুক্ত করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    ধর্মীয় বিদ্বেষ-বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কিছু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে মুসলিম-প্রধান দেশগুলির বাইরে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসরেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতে দীপাবলির সময় আতশবাজি ব্যবহারের উপর আরোপিত বিধিনিষেধকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তি থাকলেও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের প্রয়োগে সমতার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আতশবাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কারণও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (Hindus Under Attack)।

    সামগ্রিকভাবে, প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও নজরদারি এবং মানবাধিকারভিত্তিক আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ, পরিসংখ্যান এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করাই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ (Weekly Roundup)।

     

  • Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার পরেও অসীম সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ‘নায়ক’ বলে প্রশংসা করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। শনিবার টেলিফোনে পাইলটের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য (Israel Independence Day) আমন্ত্রণও জানান নেতানিয়াহু। স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু বলেন, “আপনি ইজরায়েল, ভারত এবং গোটা বিশ্বের কাছে একজন নায়ক।”

    নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ (Netanyahu)

    এর পরেই তিনি মচ্ছর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। নেতানিয়াহু বলেন, “আমি আপনাকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” তাঁর কথায়, স্বাধীনতা দিবসে মশাল প্রজ্বলন ইজরায়েলের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মানগুলির একটি। তিনি বলেন, “সাধারণত এই সম্মান ইজরায়েলের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আমি মনে করি, এই ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সমস্ত নাগরিক আপনাকে আপন করে নেবেন।”

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ানে ঘটে নজিরবিহীন ঘটনা। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুঠার দিয়ে পাইলট স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করেন এবং বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। হামলার জেরে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নীচে নেমে যায়। এর পরেই বিমান ছিনতাইয়ের জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

    হামলার পরেও মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। ফলে অন্য যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে কাবু করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন। তাঁর এই সাহসিকতার প্রশংসা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও।

    ঠিক কী ঘটেছিল

    ফোনে নেতানিয়াহু মচ্ছরের কাছে জানতে চান, ঠিক কী ঘটেছিল। জবাবে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট গোটা ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, সহ-পাইলট নমাজ আদায়ের জন্য তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সরে গিয়েছিলেন। আচমকাই মাথার পিছনে প্রচণ্ড আঘাত অনুভব করেন (Netanyahu) তিনি।

    মচ্ছর বলেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, বিমানে কোনও সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তার পর একের পর এক আঘাত আসতে থাকে। তখন বুঝতে পারি, বিমানে কোনও সমস্যা হয়নি। আমার সঙ্গে ককপিটে থাকা অন্য ব্যক্তিই আমাকে আক্রমণ করছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে আঘাতের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হননি তিনি। একবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে আক্রমণকারী তা বন্ধ করে দেন।

    এর পর নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেন মচ্ছর। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, আমার মধ্যে যদি শেষ লড়াইটুকুও না থাকে, তাহলে আমি মারা যাব। তখন আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজার দিকে ধাক্কা দিই। আমার যা শক্তি ছিল, সবটুকু দিয়ে (Netanyahu) দরজা খুলে ফেলি।”

    পাইলটের মুখে পুরো ঘটনা শুনে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যে আপনার সাহস এবং ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে আমি (Israel Independence Day) অভিভূত।”

    নেতানিয়াহুর সমবেদনা

    নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আপনি এত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমার এবং আমার স্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনার স্ত্রীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাবেন। আমি জানি, আপনার একটি পরিবার রয়েছে এবং আপনি বিভিন্ন দেশের মানুষের বৃহত্তর পরিবারেরও অংশ। যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠুন।”

    এর আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আহত পাইলট (Israel Independence Day), যাত্রী এবং বিমানের অন্য কর্মীরা মিলে “৯/১১-এর মতো একটি ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন (Netanyahu)।”

     

LinkedIn
Share