Author: pranabjyoti

  • RSS: আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, নভেম্বরে ইন্দোর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    RSS: আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, নভেম্বরে ইন্দোর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী নভেম্বরে ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আরএসএস (RSS)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক। সেখানে সঙ্ঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন কার্যকর করা হবে। শতবর্ষ উদযাপনের অগ্রগতি, সংগঠনের প্রসার এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) নিয়ে (Indore Meet) বিরোধীদের সমালোচনা এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কও বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

    ‘অখিল ভারতীয় কার্যকারি মণ্ডল’ (RSS)

    তিনদিনের এই বৈঠক, যা ‘অখিল ভারতীয় কার্যকারি মণ্ডল’ নামে পরিচিত, শুরু হবে ২ নভেম্বর। প্রতি বছর এই বৈঠক হলেও এবারের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আগামী বছরের মার্চে অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় সাংগঠনিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার চার মাস আগে এই বৈঠক হচ্ছে। প্রতিনিধি সভাই আরএসএসের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী মঞ্চ এবং প্রতি তিন বছর অন্তর সেখানে নির্বাচন হয়।

    সঙ্ঘের এক পদাধিকারী জানিয়েছেন, “শতবর্ষ উদযাপন এবং সেই উপলক্ষে নেওয়া জনসংযোগ কর্মসূচির প্রভাব আমরা পর্যালোচনা করব। তবে প্রতিনিধি সভা এবং নতুন সরকার্যবাহ নির্বাচনের আগে এই বৈঠকে সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।”

    আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠনের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে আরএসএস ‘প্রান্ত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক কাঠামো চালু করছে। এর ফলে প্রান্ত প্রচারকদের বদলে সম্ভাগ প্রচারক নিয়োগ করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় প্রচারকের সংখ্যা ৪৬ থেকে বেড়ে ৮৫ হবে। এদিকে, রাজ্যস্তরের কেন্দ্রের সংখ্যা ১১ থেকে কমে ৯ করা হবে।

    নভেম্বরের বৈঠকের পর রাজ্যস্তরে নতুন কার্যকারিণী, সম্ভাগ সঙ্ঘচালক এবং ক্ষেত্র সঙ্ঘচালকদের নির্বাচন হবে। তাঁরাই পরবর্তীতে নতুন সরকার্যবাহ নির্বাচন করবেন। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন দত্তাত্রেয় হোসেবল দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার্যবাহ নির্বাচিত হন। প্রতিটি মেয়াদ তিন বছরের এবং একজন ব্যক্তি কতবার এই পদে থাকতে পারবেন, তার কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই।

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে। এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই অভিন্ন জনসংখ্যা নীতি এবং বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পক্ষে সওয়াল করে আসছে (RSS)।

    মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের প্রচার বিভাগের প্রধান সুনীল আম্বেকর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির মতো ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটি সমাজে এমন আইন থাকতে পারে না, যেখানে এক শ্রেণির মানুষ চারটি বিয়ে করতে পারবেন, অথচ একই কাজের জন্য অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এসআইআর নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে আম্বেকর বলেন, “যদি নির্বাচনী তালিকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে কারও নাম থাকে, তবে আইনসম্মত উপায়ে সেই অসঙ্গতি দূর করার ব্যবস্থা থাকতে হবে (Indore Meet)।”

    তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার পথ রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যদি ভুল ব্যক্তিদের নাগরিক হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তা সঠিক নয়।”

    উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে ভোটারদের একাংশের অভিযোগ, নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে না। আবার বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবমুক্ত নয়। এই আবহেই আরএসএসের (RSS) আসন্ন বৈঠককে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

     

  • Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর খুলে গেল গুজরাটে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকরের আনুষ্ঠানিক পথ। উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাটই ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে এই বিধি কার্যকর করার অনুমোদন মিলল। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিধিটি ১ অক্টোবর রাজ্যের সরকারি বিশেষ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেওয়া হয়েছিল (Gujarat) ১৭ সেপ্টেম্বর। তবে বিধিটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সেই তারিখ রাজ্য সরকার নির্ধারণ করবে। চলতি বছরের মার্চে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা শেষে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ করে গুজরাট বিধানসভা।  ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। এই বিধিতে ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং বিবাহবহির্ভূত সহবাসের মতো বিষয়গুলির জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গুজরাটের আইনটি মূলত উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আদলে তৈরি। তবে তফশিলি উপজাতি এবং সংবিধানের ২১তম অংশের অধীনে প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত থাকা কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এই আইনের আওতার বাইরে থাকবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Uniform Civil Code)

    মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তাঁর কথায়, “এই বিল গুজরাটের বোন ও মেয়েদের জন্য আনা হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। এই বিল নিশ্চিত করছে যে কোনও সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। এটি কারও অধিকার কেড়ে নেয় না বা কারও স্বাধীনতায় বাধা দেয় না।”

    তবে বিরোধীরা বিলটির বিরোধিতা করে দাবি করেছে, এতে মূলত সাম্প্রদায়িক বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ হবে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অসন্তোষ মোকাবিলায় বিলটি দ্রুত পাশ করানো হয়েছে।

    বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গুজরাটের কংগ্রেস বিধায়ক ইমরান খেদাওয়ালা বলেন, “এই বিল আমাদের সমাজের বিরুদ্ধে এবং এতে আমাদের কোনও উপকার হবে না। আমরা কোরান ও শরিয়তে বিশ্বাস করি, তাই আমরা এই বিলের বিরোধিতা করছি। সরকার যদি মুসলিম মহিলাদের নিয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে বিলকিস বানোর প্রতি ন্যায়বিচার করা এবং তাঁর অভিযুক্তদের দেওয়া সংবর্ধনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

    আম আদমি পার্টির অভিযোগ

    আম আদমি পার্টির বিধায়ক ছতার বাসাভানের অভিযোগ, শুধুমাত্র নির্বাচনী স্বার্থেই সরকার এই বিল এনেছে। নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়েও স্পষ্টতা নেই বলে দাবি করেন (Uniform Civil Code) তিনি। আম আদমি পার্টির এই বিধায়ক বলেন, “কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। অন্য সম্প্রদায়ের কাউকে বিয়ে করা আদিবাসী মহিলাদের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য হবে, সরকার তা স্পষ্ট করেনি।”

    গুজরাটের এই আইনটি বিবাহবহির্ভূত সহবাসের সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই ধরনের সম্পর্কে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকার, উত্তরাধিকার, বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন আনছে। বিধানসভায় বিলটি পাশের সময় বিরোধী কংগ্রেস বিধায়করা স্পিকারকে এটি নির্বাচিত কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন (Gujarat)।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। ২০২২ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারেও ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এই বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকর করা।

     

  • Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ভারতীয় পাইলটকে ছুরি দিয়ে (Flydubai Hijacking) আঘাত এবং বিমানটিকে বিপজ্জনকভাবে নীচে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পর ইজরায়েলের প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক শীর্ষ কর্তা রামি ইগ্রা দাবি করেছেন, ওমানি সহ-পাইলট একাই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

    প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থার কর্তার দাবি (Flydubai Hijacking)

    ২ অক্টোবর সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, “এটি একজনের একক হামলা বলেই মনে হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, ওই ব্যক্তি একাই ইসলামি উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে এই কাজ করেছিলেন।” তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি যাতে বোঝা যায় যে সহ-পাইলট কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন। ইগ্রার দাবি, ওমানি সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে ইজরায়েলে প্যালেস্তাইন পক্ষের সমর্থনে লেখা কিছু প্রচারপত্র পাওয়া গিয়েছিল বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ওই সহ-পাইলট অন্য কোনও ব্যক্তি, দেশ বা সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন, তাহলে ঘটনার তাৎপর্য অনেক বড় হবে। তাঁর কথায়, “তিনি কি একাই এই কাজ করেছিলেন, যেমনটা আমি মনে করি, নাকি অন্য কোনও দেশ বা সংগঠন তাঁকে পাঠিয়েছিল—তার উপরেই এই ঘটনার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তাৎপর্য নির্ভর করবে।”

    ইগ্রা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই এই ধরনের ‘একক হামলা’কে দেখতে হবে। তাঁর মতে, ধর্মীয় উগ্রপন্থায় প্রভাবিত কোনও ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলাকে ‘শহিদি’র পথ হিসেবে দেখলে এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য অবশ্য তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ; তদন্তকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে (Flydubai Hijacking) না।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের (ইজরায়েলের রাজধানী) উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতরে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের উপর ওমানি সহ-পাইলট হামলা চালান বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি। এরপর বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। আহত অবস্থাতেও ভারতীয় পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্ব নেন বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট এবং ওমানি সহ-পাইলট—দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওমানি সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাঁর পরিচয় ও নাম সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Flydubai Hijacking)।

    নেতানিয়াহুর দাবি

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ওই ওমানি সহ-পাইলট ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত তথ্য থেকেই এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাইলটকে ছুরি দিয়ে আক্রমণের পর সহ-পাইলট বিমানটি ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে আত্মঘাতী মিশনে ছিলেন।

    নেতানিয়াহুর আরও দাবি, হামলাকারীকে যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তিনি বিমানের কর্মীদের তাঁকে হত্যা করতে বলেছিলেন। নেতানিয়াহু বলেন, “এতে স্পষ্ট যে তিনি আত্মঘাতী ছিলেন।” তাঁর মতে, বিমানটি ভেঙে ফেলার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। তবে এই উদ্দেশ্য ও হামলার পেছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে (Flydubai Hijacking)।

    বৃহত্তর ষড়যন্ত্র?

    ঘটনার পর থেকেই তদন্তকারীদের সামনে অন্যতম বড় প্রশ্ন—ওমানি সহ-পাইলট কি নিজের সিদ্ধান্তেই হামলা চালিয়েছিলেন, নাকি কোনও সংগঠন বা রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ ছিল?

    ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের দাবি, তিনি ‘একক হামলাকারী’। যদিও সম্ভাব্য বৃহত্তর যোগসূত্রের বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ঘটনায় বিমান নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ হামলার অভিযোগ উঠেছে বিমানের এমন এক কর্মীর বিরুদ্ধে, যাঁর ককপিটে সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষার পাশাপাশি বিমানকর্মীদের নিয়োগ, যাচাই এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য উগ্রপন্থী যোগ এবং কোনও সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। ওমানি সহ-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন (Flydubai Hijacking) সৌদি কর্তৃপক্ষ।

     

  • Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Strait) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ। জাহাজটিতে পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। শনিবার ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই ঘটনার পর পাঁচ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। কুয়েতের পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি কাজিমাহ থ্রি’-তে ওই পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। জাহাজটি আফ্রিকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। হামলার পর ওমান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলা সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় ১০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। মোট ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য (Hormuz Strait)

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ৪,৫০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ভারতের পতাকাবাহী ছ’টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। পাশাপাশি, আরও ছ’টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ পণ্য নিয়ে ভারতে আসছে। এই ১২টি জাহাজে প্রায় ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।

    জয়সওয়াল জানান, ভারতীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রক ওই জাহাজগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। নাবিকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য রাখতে ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাসগুলি নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ ভারতের কাছে অগ্রাধিকার (Hormuz Strait) বলেও জানান তিনি।

    নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জয়শঙ্করের

    বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের উপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২৬ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে তিনি সমুদ্রপথে নতুন নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

    জয়শঙ্কর বলেন, “সমুদ্রে নতুন হুমকি স্থলভাগে ইতিমধ্যেই তৈরি হওয়া সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। অন্যান্য দেশের নাবিকদের পাশাপাশি ভারতীয় নাবিকরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

    উপসাগরীয় অঞ্চলে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো এবং সংযম দেখানোর আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যও যাতে বাধাহীনভাবে চলতে পারে, তার পরিবেশ তৈরি হবে।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

    এদিকে, ইরানের দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা ছিল। এর পাশাপাশি ইরানের উপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো শর্তও ছিল।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান এই চুক্তি চাইছে কারণ তারা খুব খারাপভাবে হারছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যের উপর ইরানের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল বলেও (Hormuz Strait) মন্তব্য করেন তিনি।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলির উপর যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অঞ্চলের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ তেহরানের উপর চাপ তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

    তবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা পুরোপুরি থেমে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবের অন্যতম লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা।

    বাড়ছে সমুদ্রপথের ঝুঁকি

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সেই দেশগুলিতে হামলা চালায়, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

    আমেরিকা জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ইরানের পরমাণু সক্ষমতা দুর্বল করা। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামরিক পরিকাঠামোকেও টার্গেট করা হয়েছে।

    এদিকে, ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও ইরান অস্বীকার করেছে।

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা শুধু নাবিকদের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপরও প্রভাব ফেলছে। ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে (Hormuz Strait) গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিক ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে কর্মরত।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ মমতার’! ২০২১-এর নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, ‘বড় চোরও জেলে যাবে’ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

    Suvendu Adhikari: ‘ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ মমতার’! ২০২১-এর নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, ‘বড় চোরও জেলে যাবে’ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের একুশের বিধানসভা নির্বাচনের স্মৃতি উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ২০২১ সালে বিরুলিয়ায় যে ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লেগেছিল, সেখানে আদৌ কোনও হাড় ভাঙেনি। তাঁর অভিযোগ, হাড় ভাঙার কথা বলে পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে প্রচারে ঘুরেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। এই (Nandigram Injury Claim) দাবির সমর্থনে তাঁর কাছে নথি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু। প্রয়োজনে চ্যালেঞ্জ করা হলে সেই নথি প্রকাশ্যে আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিরুলিয়া এলাকায় আহত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কয়েকজন তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন এবং গাড়ির দরজার ধাক্কায় তাঁর পায়ে চোট লাগে। পরে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় তাঁকে হুইলচেয়ারে দেখা গিয়েছিল, পায়ে প্লাস্টার।

    চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্ট কী বলছে (Suvendu Adhikari)

    তবে সেই সময়ের চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্টে চোটের প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকের প্রাথমিক বিবৃতিতে বাঁ পায়ের গোড়ালি ও পায়ে গুরুতর হাড়ের চোটের কথা বলা হয়েছিল। এদিকে, সেই সময়ের একটি রিপোর্টে চিকিৎসকেরা হাড়ে চোট থাকলেও ফ্র্যাকচার নেই বলে জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, ২০২১ সালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনে ‘চোট’ এবং ‘ফ্র্যাকচার’ নিয়ে যে পার্থক্য ছিল, তা বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পুরনো ঘটনা নিয়েই শুক্রবার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে সরব হন শুভেন্দু। বলেন, “আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করা পছন্দ করি না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এক্স-রে প্লেট তো রোগী পেয়ে যায়। ডাক্তারের কাছে থাকে না। রিপোর্টটা থাকে। সেদিন আপনাদের বদনাম করে দিয়েছিল না? লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগেছিল। দরজাটা ফিরে এসে তাঁর একটু পায়ে লেগেছিল। আর পা ভেঙেছে বলে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছিল।”

    এরপরই নথির প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকেরা যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন, তাতে হাড় ভাঙার কথা ছিল না। তাঁর (Suvendu Adhikari) কথায়, “আমার কাছে ওই কাগজটা রয়েছে। তখন উনি মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর ডাক্তাররা লিখে দিয়েছে নো ফ্র্যাকচার। যেদিন দরকার হবে, চ্যালেঞ্জ করলে দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে। সেদিন দেখিয়ে দেব, গোটা বিরুলিয়া ও নন্দীগ্রামকে কীভাবে অপমান করেছিলেন।”

    হুইলচেয়ারে করেই নির্বাচনী প্রচার

    একুশের ওই ঘটনার পর পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হুইলচেয়ারে করেই নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন মমতা। সেই সময় তাঁর প্রচারে “ভাঙা পায়ে খেলা হবে” স্লোগানও রাজনৈতিকভাবে বিশেষ চর্চায় এসেছিল। সেই সময়কার সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে অবশ্য তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, পায়ে চোট, চিকিৎসা এবং হুইলচেয়ারে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর বিষয়গুলি নথিভুক্ত হয়েছিল (Nandigram Injury Claim)।

    তবে শুধু পুরনো পায়ের চোটের প্রসঙ্গ নয়, নন্দীগ্রামের সভা থেকে দুর্নীতি নিয়েও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যের আর একটি অংশকে ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে। সভা থেকে সুমিত রায়ের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “হলদিয়াতে আমি যেদিন সার্টিফিকেট নিয়েছিলাম, চার তারিখের মধ্যরাত্রি, সেদিনই বলেছিলাম সব দল থাকবে, এই পার্টির নাম ও নিশান থাকবে না। আজ নামও নেই, নিশানও নেই। এত পাপ ও এত অত্যাচার করেছে, তার সীমা-পরিসীমা নেই। আপনারা সবাই অপেক্ষা করে আছেন, সুমিত রায়, সব চোরেরা তো জেলে, বড় চোর কবে যাবে? বড় চোরও জেলে যাবে। এতটুকু বিচলিত হবেন না।”

    “বড় চোর”

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) এই “বড় চোর” মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কাকে ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করলেন তিনি? যদিও নিজের বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির নিজেদের মতো করে এর ব্যাখ্যা দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলিতেও এই মন্তব্যকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ধরনের মন্তব্যকে নির্বাচনী রাজনীতির অংশ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী তো কেউই বলতে পারেন না। এটা নির্বাচনী গিমিক। এগুলো নির্বাচনের সময় অনেক কথা বলেন, পরে ভুলে যান। কেউ যদি অপরাধ করেন, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।”

    তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্যের সারকথা, এই ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তার কোনও অর্থ হয় না। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলেরই আর এক নেতা মদন মিত্র অবশ্য বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কুণাল ঘোষ কী জানেন যে বড় চোর কে, শুভেন্দু অধিকারী কাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলছেন। দু’দিন অপেক্ষা করুন, সবটা সামনে আসবে। বাংলার জনগণ জানে কে বেইমান, আর কেই বা বিজেপির দালাল।”

    রাজনৈতিক উত্তাপের নেপথ্যে

    নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক উত্তাপের পিছনে রয়েছে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে ভোট হবে ৬ অক্টোবর, গণনা তিনদিন পরে, ৯ তারিখে (Nandigram Injury Claim)।

    শুক্রবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। সেখানেই তিনি ধুয়ে দেন তৃণমূল এবং কান্ডারিকে। মমতার সাধের দল তৃণমূলের নাম ও প্রতীক না থাকা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং অতীতের নন্দীগ্রাম-কাণ্ড—একাধিক প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ করেন তিনি। নন্দীগ্রামের এই সভায়ই “বড় চোরও জেলে যাবে” মন্তব্য করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর ইঙ্গিত আসলে কার দিকে। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের প্রচার জমজমাট। এখন দেখার, রাজ্যের অন্যতম ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বিধানসভার আসন নন্দীগ্রামে শেষ হাসি হাসেন কে।

     

  • Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ঢাকুরিয়ার প্রাইভেট স্কুলে (Dhakuria Private School) টিচার্স রুমে টাঙানো কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং-সহ কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তিত্বের ছবি নিয়ে আপত্তি জানাল আরএসএস-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। বুধবার সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে (Marx Mao Pictures) আপত্তি জানান। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ টিচার্স রুম থেকে কার্ল মার্ক্স ও মাও সে তুংয়ের ছবি সরিয়ে দেয়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গা থেকেও এমন ছবি সরিয়ে দেওয়া হবে।

    স্কুল আলো করে বিদেশি ‘প্রভু’রা! (Dhakuria Private School)

    সংগঠনের অভিযোগ, স্কুলে কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং, হো চি মিন, চে গেভারা এবং স্তালিনের মতো বিদেশি ব্যক্তিত্বদের ছবি থাকলেও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজনের ছবি সেখানে ছিল না। সংগঠনের দাবি, বিআর আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এপিজে আবদুল কালাম এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো ভারতীয় মনীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি স্কুলে থাকা উচিত।

    অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের কলকাতা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, “স্কুলের করিডরে ঢুকলেই মাও সে তুং, চে গেভারা এবং স্তালিনের ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের ঘরে এপিজে আবদুল কালামের ছবি নেই, দ্রৌপদী মুর্মুর ছবিও নেই। অথচ সেখানে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুগো শাভেজের ছবি রয়েছে। বিআর আম্বেদকর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিও নেই। অথচ স্টাফরুমে কার্ল মার্ক্সের ছবি রয়েছে। আমাদের আপত্তির জায়গাটা এখানেই।” প্রদীপের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “২০ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। ২০ বছর ধরে একটি স্কুলে কার্যত রাজনৈতিক বিষয়গুলো চলেছে, নাকি রাষ্ট্রচিন্তায় ছাত্র তৈরি করা হয়েছে, সেই প্রশ্নটা সবার কাছেই রয়েছে (Dhakuria Private School)।”

    এদিকে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, ছবিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে ছিল। তিনি মে মাসের শেষে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বহু বছর ধরেই ছবিগুলি রয়েছে। আপত্তি ওঁরা তুলেছেন ছবিগুলি নিয়ে। এই মুহূর্তে বিষয়টি খুব যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে। কেউ আগে অভিযোগ জানাননি। কোনও আধিকারিক এসেও কিছু বলেননি, ছাত্ররাও বলেনি। ফলে আমাদের মাথায় আসেনি।”

    ছবি সরানোর প্রতিশ্রুতি

    তিনি আরও বলেন, “ওঁরা যখন বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, সাত দিনের মধ্যে আমরা এই সমস্ত ছবি একেবারে সরিয়ে দেব। আর যে ছবিগুলি দরকার, অবশ্যই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি আমরা টাঙাব। ভবিষ্যতে এটাই বজায় থাকবে।”

    স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, টিচার্স রুমে থাকা কয়েকটি ছবি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গাতেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা, সেই ছবিগুলির নির্বাচন এবং তা সরানোর দাবি—সবকিছুকেই ঘিরে ভিন্নমত রয়েছে (Marx Mao Pictures)। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে ঘিরে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের আপত্তির কথাও উঠে এসেছে (Dhakuria Private School)।

     

  • Ambuja Neotia Investment: ৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি! আদানি, রিলায়েন্সের পর নেওটিয়ারও বাংলায় বড় লগ্নির পরিকল্পনা

    Ambuja Neotia Investment: ৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি! আদানি, রিলায়েন্সের পর নেওটিয়ারও বাংলায় বড় লগ্নির পরিকল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বই সফরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং অনন্ত আম্বানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকের পরই বাংলায় নতুন লগ্নির সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন (Reliance Investment) অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। বৈঠকে রাজ্যে সংস্থার একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠী আগেই পশ্চিমবঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। স্বাস্থ্য, আতিথেয়তা, পর্যটন, আবাসন এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামো—একাধিক ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি নতুন হাসপাতাল, একাধিক হোটেল এবং একটি বড় গল্ফভিত্তিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার কথা রয়েছে। এদিকে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সঙ্গেও রাজ্যে নতুন লগ্নি নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। বুধবার নবান্নে রিলায়েন্সের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির মাধ্যমেও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    ইন্টারনেট সংযোগ পরিকাঠামো (Reliance Investment)

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনায় দিঘায় সংস্থার তৈরি করা সমুদ্রতলের কেবল লাইন কেন্দ্রের বিষয়টিও উঠে আসে। এই প্রকল্প চালু হলে রাজ্যের ইন্টারনেট সংযোগ ও তথ্য আদানপ্রদানের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মুম্বইয়ে মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যে শিল্প বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রিলায়েন্সের পাশাপাশি রাজ্যে অন্য বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে। আদানি গোষ্ঠী ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সেই বিনিয়োগের মধ্যে বন্দর, পরিবহণ, বিদ্যুৎ, তথ্যকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্র রয়েছে।

    ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা অম্বুজা নেওটিয়ার

    অম্বুজা নেওটিয়ার ঘোষিত ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনার মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছিল। এই অর্থে কলকাতা, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়িতে পাঁচটি নতুন হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আবাসন ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকা এবং (Reliance Investment) গল্ফভিত্তিক একটি বড় আবাসন প্রকল্পে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। হোটেল ও পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। দার্জিলিং, কালিম্পং, ডুয়ার্স, দীঘা, সুন্দরবন, শান্তিনিকেতন ও রায়চকে হোটেল তৈরির পরিকল্পনার কথা সংস্থা জানিয়েছিল। কলকাতা ও শিলিগুড়িতে সম্মেলনকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির কোনটি কবে বাস্তবায়িত হবে, কোথায় কোন প্রকল্প গড়ে উঠবে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তার বিস্তারিত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছলে রাজ্যের শিল্প, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও আবাসন ক্ষেত্রে তার প্রভাব আরও পরিষ্কার হবে।

    রাজ্য সরকারের শিল্পনীতির অন্যতম লক্ষ্য এখন বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। ফলে (Suvendu Adhikari) রিলায়েন্স, অম্বুজা নেওটিয়া এবং অন্যান্য শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনাকে সেই বৃহত্তর বিনিয়োগ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Reliance Investment)।

     

  • Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকে ইডির দফতরে হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। বুধবার সকাল ১১টার আগেই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি। দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে চড়া দামে পাস বিক্রি এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে তাঁকে তলব করেছে (Durga Puja Pass Scam) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    মঙ্গলবারই ইন্দ্রনীল, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার পাশাপাশি সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি, তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে জমি সংক্রান্ত নথিও রয়েছে।

    অভিযোগের কেন্দ্রে ‘মাস আর্ট’ (Indranil Sen)

    অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে কলকাতার নির্বাচিত পুজোমণ্ডপগুলিতে প্রবেশের জন্য সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে কয়েক হাজার টাকা দামে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সংস্থাটি নিজেদের ইউনেস্কোর সরকারি সহযোগী হিসেবে তুলে ধরে ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ও প্রতীক ব্যবহার করেছিল। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং ইন্দ্রনীল আগেই অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন।

    জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ এই ধরনের পাসের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, গোটা ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।

    অভিযোগের সূত্রপাত কীভাবে?

    চলতি বছরের জুনে কলকাতার বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল, মধুছন্দা এবং ‘মাস আর্টে’র কয়েকজন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সাল থেকে দুর্গাপুজোর নির্বাচিত মণ্ডপগুলিকে ঘিরে ‘প্রিভিউ শো’ আয়োজন করে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বা অনুমোদনের ধারণা তৈরি করে ওই পাসগুলি বাজারজাত করা হয়েছিল।

    পুলিশে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়। পরে আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্তে ইডিও নামে এবং আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা সংক্রান্ত নথি তৈরি করে তদন্ত শুরু করে (Indranil Sen)।

    ২৪টি পুজোমণ্ডপ ঘিরে পাস বিক্রির অভিযোগ

    অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য পাস বিক্রি করা হত। পাসের দাম ছিল কয়েক হাজার টাকা। তদন্তকারীরা দেখছেন, এই পাস বিক্রির মাধ্যমে কত টাকা সংগ্রহ হয়েছিল, সেই অর্থ কোথায় গিয়েছিল এবং গোটা ব্যবস্থার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন।

    অভিযোগ, এই পাস থাকলে শহরের বিভিন্ন বড় পুজোমণ্ডপে সাধারণ দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে প্রবেশের সুযোগ মিলত। সেই পাস বিক্রির সঙ্গে বিভিন্ন পুজো কমিটির ভূমিকা কী ছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে সূত্রের খবর।

    ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের মন্ত্রী হন ইন্দ্রনীল। তিনি পর্যটন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা ‘মাস আর্টে’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে (Durga Puja Pass Scam)।

    দুর্গাপুজোকে ঘিরে কলকাতায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক আসেন। বিভিন্ন সংস্থা পুজো পরিক্রমার আয়োজন করে এবং নির্দিষ্ট পরিষেবার জন্য টিকিট বা পাস বিক্রি করা হয়। এই ব্যবস্থার আড়ালে ইউনেস্কোর নাম বা প্রতীক বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, পাস বিক্রির অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য কী এবং এর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল কি না—এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখছেন (Indranil Sen) তদন্তকারীরা।

     

  • S Jaishankar: বিশ্বে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, দায়ী বিশ্ব অস্থিরতা ও জলবায়ু পরিবর্তন, মনে করালেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: বিশ্বে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, দায়ী বিশ্ব অস্থিরতা ও জলবায়ু পরিবর্তন, মনে করালেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতার জেরে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের (Food Crisis) মুখোমুখি হতে পারে পৃথিবী। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি। ফলে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্য উৎপাদনে। এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)।

    নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বজুড়ে চলা বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের জল উষ্ণ হয়ে উঠলে বৃষ্টিপাতের ওপর তার ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে বহু দেশে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সঙ্কটে পড়তে পারে বহু দেশ (S Jaishankar)

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট। ফলে বিশ্বের বহু দেশ, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলি, প্রবল চাপের মুখে পড়তে পারে। পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য দায়ী নীতিনির্ধারকেরা শুধু এটা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না বলে দায় এড়াতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, নীতিনির্ধারকেরা এটা বলতে পারেন না যে, এমনটা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না। অন্য দেশগুলির পরিস্থিতির কথাও তাঁদের বিবেচনা করতে হবে এবং তাঁদের সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের অন্যান্য অংশে কী ধরনের পরিণতি হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কোনও দেশ এতটা আত্মকেন্দ্রিক হতে পারে না যে, তারা নিজেদের জগতে থাকবে, নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে এবং পরে বলবে, ‘আপনাদের জীবন কঠিন করে তোলা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’”

    ইউক্রেন সংঘাত এবং ইরান-উপসাগরীয় সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পড়ছে বলেও জানান ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কয়েকটি পরিস্থিতির কারণে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “বড় শস্য রফতানিকারক কয়েকটি দেশ তাদের পণ্য পাঠাতে পারবে না, বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে। সারেরও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ, গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদকদের একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় রয়েছে।”

    ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

    এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংঘাতের সময় বিনিয়োগ ও অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে চলে যায় এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলি থেকে অর্থ সরে যায়। ফলে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে জয়শঙ্কর বলেন, “এর নিট ফল সত্যিই অত্যন্ত, অত্যন্ত চাপের (Food Crisis)।”

    তাঁর মতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে একই সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি, সার এবং অর্থসংস্থানের মতো একাধিক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নতুন করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তা সামাল দেওয়ার জন্য এই দেশগুলির হাতে থাকা আর্থিক সুরক্ষার ব্যবধানও এখন অনেক কমে এসেছে (S Jaishankar)।

     

  • Suvendu Adhikari: বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিতে শিল্পায়ন-ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিতে শিল্পায়ন-ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে গিয়ে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জন্মস্থলের বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan)—একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। পূর্বতন সরকারের নীতি নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বীরসিংহকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা-সহ স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও জানান তিনি। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রিলায়েন্সের মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চলেছে। এই বিষয়ে রিলায়েন্সের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কলকাতায় আসবে বলেও জানান তিনি।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের ভুল ও ভ্রান্ত নীতির কারণেই আজ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমাদের রাজ্য অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে, এমনকী দেশে বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও রাজ্য একেবারে ওপরের সারিতে পৌঁছে গেছে। তবে আমাদের এই সরকারের আমলে সব ক্ষেত্রে সামগ্রিক রূপান্তর ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”

    পাঁশকুড়া থেকে ঘাটালের ইড়পালা পর্যন্ত রেলপথের জমি নিয়ে পূর্বতন সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “পাঁশকুড়া থেকে ঘাটালের ইড়পালা পর্যন্ত রেল লাইনের জমি আটকে রেখেছিল আগের সরকার। আমরা সেই জমির ব্যবস্থাও করেছি।”

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিম মেদিনীপুরের দীর্ঘদিনের বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা মোকাবিলায় আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির সিংহভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রকল্পের ৫০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্র এবং বাকি ৫০ শতাংশ রাজ্য সরকার বহন করবে বলেও জানান শুভেন্দু। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরই ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঘাটাল ও সংলগ্ন প্লাবনপ্রবণ এলাকার দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা কমানোর লক্ষ্যে কাজ এগোনোর কথা বলা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে এর আগে কোলাঘাটে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম—এই তিন জেলার প্রশাসনিক বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী আলোচনা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ঘাটালের সাংসদ দেবের সঙ্গেও প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। একইসঙ্গে ঘাটাল ও সংলগ্ন প্লাবনকবলিত এলাকায় বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়ার কথাও উঠে আসে।

    বীরসিংহকে ঘিরে স্থানীয় উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পর্যটনের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে নৈশযাপনের ব্যবস্থা, পথবাতি এবং একটি উদ্যান তৈরির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও ঘোষণা করা (Ghatal Master Plan) হয়।

    বিদ্যাসাগরের শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের ভাবনার প্রসঙ্গ টেনে পাঠাগারগুলিতে তাঁর লেখা বই রাখার আহ্বানও জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের শিক্ষা ও সামাজিক পরিস্থিতির পাশাপাশি শিল্পায়ন ও দীর্ঘদিনের ঘাটাল সমস্যা সমাধানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায় (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share