Author: suman-das

  • Paschim Medinipur: পিংলায় আটক ২ সন্দেহভাজন পাক গুপ্তচর, অভিযোগ ওটিপি পাচার ও আইএসআই যোগসূত্রের

    Paschim Medinipur: পিংলায় আটক ২ সন্দেহভাজন পাক গুপ্তচর, অভিযোগ ওটিপি পাচার ও আইএসআই যোগসূত্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) পিংলায় মিলল এক পাক গুপ্তচর চক্রের হদিশ। ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর কর্তাদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের ওটিপি (OTP) সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল সিমের ওটিপি বিক্রির আড়ালে এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক চালানো হচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে এই অভিযান ও চক্রের বিষয়ে জেলা পুলিশ সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল বলে দাবি করেছেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। তিনি বলেন,‘‘পিংলায় অভিযান চালিয়ে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ওটিপি সরবরাহ করে পাকিস্তানে (Pakistan) তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পুরো বিষয়টি এসটিএফ-এর এক্তিয়ারভুক্ত, এর বেশি তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমাদের কিছু জানানো হয়নি।’’

    গভীর রাতে এসটিএফ-এর অভিযান (Paschim Medinipur)

    মঙ্গলবার গভীর রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) পিংলার ক্ষীরাই গ্রাম থেকে মুরসেলিন ও গৌতম খাঁড়া নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেন রাজ্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) আধিকারিকেরা। তদন্তে জানা গেছে, প্রতিটি ওটিপি-র বিনিময়ে ধৃতেরা মোটা টাকা পেত। মূলত ভারতীয় সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সচল রাখত পাক গোয়েন্দারা, যাতে এখানকার চরদের সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। একদিকে ওটিপি বিক্রি, অন্যদিকে দেশবিরোধী তথ্য পাচারের অভিযোগ—এই দ্বিমুখী অপরাধের তদন্তে নেমে ধৃতদের কাছ থেকে প্রচুর সিম কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এমনকি মূল অভিযুক্ত মুরসেলিন তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় গিয়ে আইএসআই কর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

    ভুয়ো নথিতে হাজার হাজার সিম, তদন্তে চক্ষু চড়কগাছ

    গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেঙ্গল এসটিএফ জানতে পারে যে, পিংলার একটি দোকান থেকে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড তোলা হচ্ছে। সেই সিমগুলো কারা কিনছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্ট মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, ওই নম্বরগুলি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এরপরই পিংলার (Paschim Medinipur) সেই নির্দিষ্ট সিম বিক্রেতার দোকানে হানা দেন তদন্তকারীরা। সেখানে সিমের স্টক মেলাতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে অফিসারদের। দেখা যায় প্রতি মাসে হাজার হাজার সিম বিক্রি হচ্ছে সেখান থেকে। দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গৌতম খাঁড়ার নাম সামনে আসে এবং জানা যায় যে এই সিমগুলো কিনছিল স্থানীয় বাসিন্দা মুরসেলিন।

    এক একটি ওটিপি-র দাম আড়াই হাজার টাকা!

    তদন্তে উঠে এসেছে, এক একটি সিম কার্ড পাঁচ থেকে ছয়শো টাকায় কেনা হত। এরপরই গ্রাম থেকে মুরসেলিনকে আটক করা হয়। তাকে জেরার মুখে জানা যায়, ভারতীয় সিম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলছিল পাক আইএসআই কর্তারা, আর সেই অ্যাকাউন্টের ওটিপি জোগান দিচ্ছিল এই চক্রটি। প্রতিটি ওটিপি সরবরাহের জন্য ধৃতেরা দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার করত। অপরাধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই দু’জনকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। মুরসেলিন আরও জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক পাকিস্তানি (Pakistan) আইএসআই অফিসারের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। ভারতীয় সিমের ওটিপি দিলে মোটা টাকা মিলবে—এই লোভনীয় টোপ গিলে সে এই চক্রে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ গুপ্তচর অফিসারের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। ভারতীয় নম্বর দিয়ে খোলা সেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেই পাক কর্তারা ভারতের মাটিতে থাকা তাদের চরদের নির্দেশ পাঠাত।

    দেশজুড়ে জাল, তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাও

    অভিযুক্ত পিংলার বাসিন্দা (Paschim Medinipur) মুরসেলিন সরাসরি চরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক অনুমিত। এই চক্রের পরিধি কতখানি বিস্তৃত, কতজন পাক অফিসারের সঙ্গে এদের যোগাযোগ ছিল এবং কী কী সংবেদনশীল তথ্য পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পিংলা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, এই ঘটনার ঠিক সাতদিন আগেই কলকাতা থেকে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিপুল অর্থ এবং পাকিস্তানি (Pakistan) নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে সে পাকিস্তানি গোয়েন্দা আধিকারিকদের (PIOs) কাছে ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি ও তথ্য পাচার করছিল।

  • TMC Resolution Sign: ‘সই কি ভূতে করল?’ বিধানসভায় স্বাক্ষর বিতর্কে দলের বিরুদ্ধেই বোমা ফাটালেন তৃণমূল বিধায়ক! তদন্তে সিআইডি

    TMC Resolution Sign: ‘সই কি ভূতে করল?’ বিধানসভায় স্বাক্ষর বিতর্কে দলের বিরুদ্ধেই বোমা ফাটালেন তৃণমূল বিধায়ক! তদন্তে সিআইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনকে ঘিরে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি রেজোলিউশনে বিধায়কদের স্বাক্ষর (TMC Resolution Sign) নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে, আচমকাই একাধিক তৃণমূল বিধায়কের (Trinamool Congress MLA) বাসভবনে হানা দেয় রাজ্য পুলিশের সিআইডি (CID) প্রতিনিধি দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

    চার তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি

    শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে নিয়ম মেনে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার সচিবকে। সেখানে নয়নার স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে বলে বিধানসভার তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল হেয়ার স্ট্রিট থানায়। জানা গিয়েছে, পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্বভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh), ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহরুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডি কর্তারা।  এর পর শুক্রবার সকালে ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও পৌঁছয় সিআইডি। তবে এর মধ্যেই বিধায়ক বাহারুল ইসলামের একটি দাবি এই বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে; তাঁর দাবি—‘‘ওই রেজোলিউশনে থাকা স্বাক্ষরটি আমার নয়।’’

    নয়নার ২ স্বাক্ষরের মধ্যে বিস্তর ফারাক!

    সূত্রের খবর, শপথের দিন নয়না প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের সামনে যে সই করেছিলেন, তার সঙ্গে পরিষদীয় দলের চিঠির সইয়ে ফারাক রয়েছে। সেই অসঙ্গতি নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে। এই প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৩টে নাগাদ সিআইডির একটি দল চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছায়। রেজোলিউশনে থাকা স্বাক্ষরটি (TMC Resolution Sign) আদৌ তাঁর কি না, তা যাচাই করাই ছিল তদন্তকারীদের মূল উদ্দেশ্য। হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত সিআইডির ৬ সদস্যের এই দলটি বিধায়কের প্যান কার্ডও পরীক্ষা করে দেখে। সিআইডির এই আকস্মিক পরিদর্শনে চরম বিস্ময় প্রকাশ করে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা ঘটনাটিকে ‘শকিং’ বা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে বর্ণনা করেছেন।

    কী বললেন নয়না? (TMC Resolution Sign)

    নয়নার দাবি, হাতের লেখা তাঁর। তিনি বলেন, “গত ৬ মে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই সময় দলের (Trinamool Congress MLA) তৈরি করা একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আমি স্বাক্ষর করি। তবে আমি প্রথাগত সই না করে বড় হাতের অক্ষরে নিজের নাম লিখেছিলাম। বর্তমানে যে কাগজটি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, সেটি আমারই হাতের লেখা (TMC Resolution Sign)।’’ ২০০১ সালে প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর, পাঁচবারের বিধায়ক জীবনে এমন অস্বস্তিকর ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁকে কখনও হতে হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যেই দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরো ঘটনাটি অবগত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

    ‘সই কি ভূতে করল?’ প্রশ্ন ক্যানিং পূর্বের বিধায়কের

    এদিকে এই ঘটনাপ্রবাহে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেছে ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলামের (Trinamool Congress MLA) গলায়। রেজোলিউশনে নিজের স্বাক্ষর (TMC Resolution Sign) থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘গত ৬ মে, যেদিন রেজোলিউশনে সই নেওয়া হয়েছিল, আমি বাড়ি থেকেই বের হইনি। কে করে দিল বুঝতে পারছি না। তাহলে আমার সইটা কি ভূতে করল?’’ বাহরুলের গলায় স্পষ্ট ক্ষোভের সুর শোনা যায়। তিনি আরও বলেন, “আমি তো সই করিনি। দল একবার আমাকে জানাতে পারত। আমি সই করতে চাই কি না, জানতেও চাওয়া হয়নি।” সাধারণত বিধানসভায় বিরোধীদলের পরিষদীয় দলের নেতাদের সম্মতিতেই বিধানসভার স্পিকার বিরোধীদলের নেতা নির্বাচনে সিলমোহর দেন।

    কী বলছে বিজেপি?

    যেহেতু নাম প্রস্তাব এবং স্বাক্ষর নিয়ে বিভ্রাট তৈরি হয়েছে তাই ঘটনার তদন্তে নেমছেন রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। কুণাল ঘোষ এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি, বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও একই অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়েছে সিআইডি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই সিআইডি গিয়েছে। প্রক্সি সিগনেচারও হতে পারে। কলকাতা পুরনিগমে এরকম হয়। আর একটু অপেক্ষা করুন। সত্যিটা বেরিয়ে আসবে। যদি তিনি সই করে থাকেন, তাহলে কোনও অসুবিধা নেই। যদি কোনও রকম ট্যাম্পারিং করে থাকেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

     

  • Ramakrishna 658: “পাগল হোক আর ভক্তদের কাছে মারই খাক আপনার তো অষ্টপ্রহর চিন্তা করছে! সে যে ভাবেই করুক, তার কখনও মন্দ হবে না!”

    Ramakrishna 658: “পাগল হোক আর ভক্তদের কাছে মারই খাক আপনার তো অষ্টপ্রহর চিন্তা করছে! সে যে ভাবেই করুক, তার কখনও মন্দ হবে না!”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৬ই এপ্রিল

    অবতার বেদবিধির পার — বৈধীভক্তি ও ভক্তি উন্মাদ

    শ্রীরামকৃষ্ণ (গিরিশাদি ভক্তের প্রতি) — পাগলীর মধুরভাব। দক্ষিণেশ্বরে (Ramakrishna) একদিন গিছল। হঠাৎ কান্না। আমি জিজ্ঞাসা করলুম, কেন কাঁদছিস? তা বলে, মাথাব্যথা করছে। (সকলের হাস্য)

    “আর-একদিন গিছল। আমি খেতে বসেছি। হঠাৎ বলছে, ‘দয়া করলেন না?’ আমি উদারবুদ্ধিতে খাচ্চি। তারপর বলছে, ‘মনে ঠেল্লেন কেন?’ জিজ্ঞাসা করলুম, ‘তোর কি ভাব?’ তা বললে, ‘মধুরভাব!’ আমি বললাম, ‘আরে আমার যে মাতৃযোনি! আমার যে সব মেয়েরা মা হয়!’ তখন বলে, ‘তা আমি জানি না।’ তখন রামলালকে ডাকলাম (Kathamrita)। বললাম, ‘ওরে রামলাল, কি মনে ঠ্যালাঠেলি বলছে শোন দেখি।’ ওর এখনও সেই ভাব আছে।”

    গিরিশ — সে পাগলী — ধন্য! পাগল হোক আর ভক্তদের কাছে মারই খাক আপনার তো অষ্টপ্রহর চিন্তা করছে! সে যে ভাবেই করুক, তার কখনও মন্দ হবে না!

    “মহাশয়, কি বলব! আপনাকে চিন্তা করে আমি কি ছিলাম, কি হয়েছি! আগে আলস্য ছিল, এখন সে আলস্য ঈশ্বরে নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে! পাপ ছিল, তাই এখন নিরহংকার হয়েছি! আর কি বলব!”

    ভক্তেরা (Ramakrishna) চুপ করিয়া আছেন। রাখাল পাগলীর কথা উল্লেখ করিয়া দুঃখ করিতেছেন। বললেন, দুঃখ হয়, সে উপদ্রব করে আর তার জন্য অনেকে কষ্টও পায়।

    নিরঞ্জন (রাখালের প্রতি) — তোর মাগ আছে তাই তোর মন কেমন করে। আমরা তাকে বলিদান দিতে পারি।

    রাখাল (বিরক্ত হইয়া) — কি বাহাদুরি! ওঁর সামনে ওই সব কথা!

    গিরিশকে উপদেশ—টাকায় আসক্তি—সদ্ব্যবহার—ডাক্তার কবিরাজের দ্রব্য

    শ্রীরামকৃষ্ণ (গিরিশের প্রতি) — কামিনী-কাঞ্চনই সংসার। অনেকে টাকা গায়ের রক্ত মনে করে। কিন্তু টাকাকে বেশি যত্ন করলে একদিন হয়তো সব বেরিয়ে যায়।

    “আমাদের দেশে মাঠা আল বাঁধে। আল জানো? যারা খুব যত্ন করে চারিদিকে আল দেয়, তাদের আল জলের তোড়ে ভেঙে যায়। যরা একদিকে খুলে ঘাসের চাপড়া দিয়ে রাখে, তাদের কেমন পলি পড়ে, কত ধান হয়।

    “যারা টাকার সদ্ব্যবহার করে, ঠাকুরসেবা (Ramakrishna), সাধু ভক্তের সেবা করে, দান করে তাদেরই কাজ হয়। তাদেরই ফসল হয়।

    “আমি ডাক্তার কবিরাজের জিনিস খেতে পারি না। যারা লোকের কষ্ট থেকে টাকা রোজগার করে! ওদের ধন যেন রক্ত-পুঁজ!”

    এই বলিয়া ঠাকুর দুইজন চিকিৎসকের নাম করিলেন (Kathamrita)।

    গিরিশ — রাজেন্দ্র দত্তের খুব দরাজ মন; কারু কাছে একটি পয়সা লয় না। তার দান-ধ্যান আছে।

  • Kolkata Eid Namaz: ৪৮ বছরে প্রথম, ব্রিগেডে পালিত হল ইদের নামাজ, উন্মুক্ত রেড রোড

    Kolkata Eid Namaz: ৪৮ বছরে প্রথম, ব্রিগেডে পালিত হল ইদের নামাজ, উন্মুক্ত রেড রোড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহ্যের অবসান ঘটিয়ে এবার যানজটমুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হল পবিত্র বকরি ইদ (Bakrid)। নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের কড়া নির্দেশিকা এবং আইনশৃঙ্খলার সঠিক বাস্তনায়নের ফলে রাজ্যের পথঘাট অবরুদ্ধ (Kolkata Eid Namaz) করে বা প্রকাশ্যে রাস্তায় বসে নামাজ পড়ার বহু বছরের পুরোনো চেনা ছবি এবার আর দেখা যায়নি। ফলে উৎসবের দিনটিতেও কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলির প্রধান সড়কগুলিতে তীব্র যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ।

    সড়ক অবরুদ্ধ না করার কড়া প্রশাসনিক বার্তা

    পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দফতর এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ নির্দেশনায় এবারের ইদের আগে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ধর্মীয় বা সামাজিক কোনও অনুষ্ঠানের নামেই রাজ্যের জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক বা শহরের মূল রাস্তা কোনওভাবেই বন্ধ (Kolkata Eid Namaz) করা যাবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং জরুরি পরিষেবার গাড়ি যাতে কোনও বাধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদ কমিটি এবং স্থানীয় মুসলিম জননেতাদের সঙ্গে আগেই বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে আবেদন জানানো হয়, রাস্তায় নামাজ না পড়ে নামাজের আয়োজন যেন স্থানীয় ইদগাহ, মসজিদ প্রাঙ্গণ (Bakrid) বা নির্দিষ্ট ঘেরা মাঠের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সরকারি এই নির্দেশিকা যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়, তার জন্য আজ সকাল থেকেই কলকাতার পার্ক সার্কাস, রেড রোড সংলগ্ন এলাকা, জাকারিয়া স্ট্রিট এবং হাওড়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল।

    উৎসবের আনন্দ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ

    সরকারি এই কড়াকড়ির মধ্যেও উৎসবের আমেজে কোনও খামতি দেখা যায়নি। রাজ্যের মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়েই বকরি ইদের নামাজ আদায় করেন। তবে সবটাই সম্পন্ন হয় নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থান ও ইদগাহের (Bakrid) ভেতরে। রাস্তাঘাট ফাঁকা (Kolkata Eid Namaz) থাকায় অন্যান্য ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতে কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি।

    কলকাতার এক বাসিন্দা জানান, “বিগত কয়েক দশক ধরে ইদের দিন সকালের দিকে কলকাতার বুক চিরে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। বাস, ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্সকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সুশৃঙ্খলভাবে নামাজও সম্পন্ন হয়েছে, আবার সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।”

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান

    রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন। বিগত দেড় দশক ধরে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে উৎসবের দিনগুলিতে বড় রাস্তা বন্ধ (Kolkata Eid Namaz) করে নামাজ পড়ার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং সেই সমস্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন (Bakrid)।

    তবে সাম্প্রতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, আইন সবার জন্য সমান এবং ধর্মীয় আচরণের কারণে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার বা জনজীবন ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। আজ ইদের দিনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে গিয়ে গো-মাতার পুজো এবং আরতিতে অংশ নেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সর্বস্তরের সহযোগিতা ও শান্তি বজায়

    পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশিকা কার্যকরের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষ এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলির কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা মিলেছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়নি। রাস্তাঘাটে (Kolkata Eid Namaz) সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়েছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে ডাইভারশন রোডগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, কড়া প্রশাসনিক নজরদারি এবং আমজনতার সহযোগিতায় এবারের বকরি ইদ পশ্চিমবঙ্গে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, যেখানে ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখার পাশাপাশি নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মায়াপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ইদের দিনেই করলেন গো-মাতার পুজো, যজ্ঞ

    Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মায়াপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ইদের দিনেই করলেন গো-মাতার পুজো, যজ্ঞ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য প্রশাসনে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে (Mayapur Iskcon Temple) এলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, মূলত গো-সেবা এবং বিশেষ পুজোর উদ্দেশ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর এই সফর। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ইদের দিনে রেড ময়দানের নামাজে তোষণের রাজনীতি করতে যাননি, ইস্কন মন্দিরে গো-মাতার পুজো করে হিন্দুত্বের বার্তাই আরও একবার দিয়েছেন।

    রাজকীয় অভ্যর্থনা ও গো-সেবা (Suvendu Adhikari)

    বৃহস্পতিবার সকাল ঠিক এগারোটা নাগাদ মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানে মন্দিরের সন্ন্যাসীরা তাঁকে পুষ্পস্তবক ও মাল্যদানে স্বাগত জানান। এরপর তিনি সরাসরি চলে যান মন্দিরের গোশালায় (Mayapur Iskcon Temple)। সেখানে গো-মাতার উদ্দেশে আয়োজিত একটি বিশেষ যজ্ঞ ও পুজোপাঠে অংশ নেন। যজ্ঞের পূর্ণাহুতির পর বিগ্রহকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম জানান শুভেন্দু অধিকারী। এরপর নিজ হাতে গো-মাতাকে আম ও মিষ্টি খাইয়ে সেবা করেন এবং মাল্যদান করেন।

    মূল মন্দির দর্শন ও সৌজন্য সাক্ষাৎ

    গোশালায় আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ইসকনের মূল মন্দির অর্থাৎ চন্দ্রোদয় মন্দিরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি পরম শ্রদ্ধায় শ্রীশ্রী রাধামাধব বিগ্রহ দর্শন ও আরতিতে অংশ নেন। মন্দির চত্বরে মহাপ্রসাদ গ্রহণের পর তিনি ইসকনের (Mayapur Iskcon Temple) বরিষ্ঠ সন্ন্যাসীদের সঙ্গে একটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাতে মিলিত হন। এই সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সংক্ষেপে জানান, “এখানে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা কর্মসূচি নিয়ে আমি আসিনি। সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবাবেগে শুধুমাত্র পুজোদানের উদ্দেশ্যে এই আগমন, তাই আজ কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করব না।”

    প্রশাসনিক তৎপরতা ও ব্যস্ত সূচি

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই মায়াপুর সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর গত মঙ্গলবারই নদিয়ার কল্যাণীতে তিনি প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন। তার ঠিক একদিন পরেই ফের নদিয়া জেলায় এলেন তিনি। মায়াপুরের (Mayapur Iskcon Temple) কর্মসূচি শেষে বিকেলে তাঁর হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, পরিবর্তনের ধারা

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)  এই সফরের দিনক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আজ দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র বকরি ইদ। বিগত দেড় দশক ধরে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিশেষ দিনে ইদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শামিল হতেন এবং তাঁকে নামাজেও অংশ নিতে দেখা যেত। তবে এবার ক্ষমতার পরিবর্তনের পর, ইদের দিনটিতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মায়াপুরে (Mayapur Iskcon Temple) এসে গোমাতার পুজোও সনাতনী আচারকে বেছে নিলেন। মুখে রাজনৈতিক বার্তা না দিলেও, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি রাজ্যে এক নতুন ধারার সূচনা করলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • PM Modi: “তাঁর সাহস ও দেশপ্রেম সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে”, বীর সাভারকরের জন্মজয়ন্তীতে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi: “তাঁর সাহস ও দেশপ্রেম সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে”, বীর সাভারকরের জন্মজয়ন্তীতে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকরের জন্মজয়ন্তীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বীর সাভারকরের (Veer Savarkar) জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাভারকরের অদম্য সাহস এবং দেশপ্রেম চিরকাল দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে।” একই সঙ্গে তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং সমাজ সংস্কারের ওপর দেওয়া বিশেষ জোরের কথাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বীর সাভারকারের জন্মদিনে অভিনন্দন জানিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “বীর সাভারকরের জয়ন্তীতে তাঁকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি। তাঁর অসীম সাহস ও গভীর দেশপ্রেম প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে। এর পাশাপাশি তাঁর অসামান্য বুদ্ধিমত্তা এবং সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অত্যন্ত স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।”

    ‘অস্ত্র ও শাস্ত্রের উপাসক’, সাভারকরের বহুমুখী ব্যক্তিত্ব (PM Modi)

    শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন। সেখানে তিনি বীর সাভারকরের (Veer Savarkar)  বহুমুখী প্রতিভার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ ২৮ মে, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর সাভারকরের জন্মজয়ন্তী। তাঁর ত্যাগ, বীরত্ব এবং সংকল্প আমাদের অনবরত প্রেরণা দিয়ে চলেছে। সাভারকরজির ব্যক্তিত্ব ছিল অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। তিনি একাধারে যেমন অস্ত্রের উপাসক ছিলেন, তেমনই ছিলেন শাস্ত্রের একনিষ্ঠ সাধক।” প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “সাভারকর কেবল একজন নির্ভীক সংগ্রামীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী কবি এবং দূরদর্শী সমাজ সংস্কারক, যিনি সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতা ও ভেদাভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন।”

    আন্দামানের ‘কালাপানি’ স্মৃতি রোমন্থন

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সেলুলার জেলে তাঁর সফরের আবেগঘন স্মৃতি স্মরণ করেন। যেখানে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা বীর সাভারকরকে কঠোর ‘কালাপানি’ বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়ে বন্দি করে রেখেছিল, জীবনের ২৫টি বছর জেল খেটেছেন । তাঁর ত্যাগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, “আমি সেই দিনটির কথা কখনই ভুলতে পারব না, যখন আমি আন্দামানের সেই ঐতিহাসিক কারাগারে গিয়েছিলাম যেখানে বীর সাভারকরজি কালাপানির নির্মম নির্যাতন সহ্য করেছিলেন। সাভারকরজির ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং সুবিস্তৃত। তাঁর নির্ভীক ও আত্মমর্যাদাশীল স্বভাব কখনোই দাসত্বের মানসিকতার কাছে মাথা নত করেনি। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর সর্বস্ব ত্যাগ ও অবদানকে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।”

    চন্দ্রনাথ বসুর হিন্দুত্বে প্রভাবিত

    উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালের ২৮ মে মহারাষ্ট্রের নাসিকে জন্মগ্রহণ করেন বিনায়ক দামোদর সাভারকর, যিনি দেশবাসীর কাছে ‘বীর সাভারকর’ (Veer Savarkar) নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং লেখক। ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে ‘হিন্দুত্ব’ (Hindutva) শব্দটির প্রবক্তা হিসেবে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত এবং হিন্দু মহাসভার অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন।

    লোকমান্য তিলকের আদর্শ তাঁকে গভীরভাবে করেছিল

    বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পুনের ফার্গুসন কলেজে অধ্যায়নকালেও এই ধারা বজায় রাখেন। উনিশ শতকের বাঙালি চন্দ্রনাথ বসুর ১৮৯২ সালে লেখা “হিন্দুত্ব” গ্রন্থের দ্বারা ব্যাপক ভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বীর সাভারকার। একজন মারাঠার রক্তে গতি স্রোত বইয়ে দিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ বসু। সেই সঙ্গে হিন্দুত্বের মধ্যে জাতীয়তাবাদী নেতা লোকমান্য তিলকের আদর্শ তাঁকে গভীরভাবে করেছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে আইন পড়ার সময় তিনি ‘ইন্ডিয়া হাউস’ এবং ‘ফ্রি ইন্ডিয়া সোসাইটি’-র মতো বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে কেন্দ্র করে তাঁর রচিত ‘দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’ বইটি তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। ভারতের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর ত্যাগের কথা দেশজুরে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে আপমার দেশবাসী।

    “হিন্দু” শব্দটিকে শুধু ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে নয়

    সভারকার স্বয়ং দয়ানন্দ সরস্বতী, স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রী অরবিন্দ সমাজ সংস্কার এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কাজ করেছিলেন। কিন্তু সাভারকর হিন্দু জাতীয়তাবাদের আরও কঠোর ও রাজনৈতিক একটি ধারণা তৈরি করেন। কারাগারে থাকার সময় সাভারকরের চিন্তাধারা ধীরে ধীরে হিন্দু সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের দিকে চলে যায়। পরে তিনি পুরো জীবন এই ধারণা প্রচারে ব্যয় করেন। রত্নগিরি জেলে থাকাকালে তিনি “হিন্দুত্বের অপরিহার্যতা” নামে একটি বই লেখেন।

    এই বইয়ে তিনি “হিন্দু” শব্দটিকে শুধু ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে নয়, বরং ভারতের প্রতি অনুগত মানুষের পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি মনে করতেন হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সবাই একই সাংস্কৃতিক পরিবারের অংশ। তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি “হিন্দু রাষ্ট্র” গঠন করা উচিত, যা পুরো ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে বিস্তৃত হবে।

    সাভারকর হিন্দু সমাজের অনেক পুরোনো রীতি ও কুসংস্কারের সমালোচনা করতেন। তিনি মনে করতেন এসব কারণে হিন্দু সমাজের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে তিনি এটাও বিশ্বাস করতেন যে ধর্ম হিন্দু পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বর্ণপ্রথার বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯৩১ সালে লেখা এক প্রবন্ধে তিনি বলেন, কঠোর বর্ণব্যবস্থা অতীতের এমন একটি প্রথা যা বাতিল করে দেওয়া উচিত। আজ দেশজুড়ে তাঁর জন্মজয়ন্তীতে হিন্দুত্বের জয় গান ধ্বনিত হচ্ছে সারা দেশব্যাপী।

  • TMC Chairman: পাট ক্ষেতের মাটি খুঁড়ে পাঁচ বস্তায় কোটি কোটি টাকা উদ্ধার, বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানের কীর্তিতে শোরগোল

    TMC Chairman: পাট ক্ষেতের মাটি খুঁড়ে পাঁচ বস্তায় কোটি কোটি টাকা উদ্ধার, বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানের কীর্তিতে শোরগোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাদুড়িয়ার (Baduria Municipality) পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের (TMC Chairman) পাটের ক্ষেত থেকে মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করল পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাতভর ব্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে চলে টাকা গণনার কাজ। চার বার পুঙ্খানুপুঙ্খ গণনার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অর্থ উদ্ধার (TMC Chairman)

    গত সোমবার বাদুড়িয়ার (Baduria Municipality) পুরপ্রধানকে (TMC Chairman) একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সময় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার আদালত তাঁকে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এরপর বুধবার ধৃত দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল কার্যালয় সংলগ্ন একটি জমিতে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানেই পাটের খেতে মাটি খুঁড়ে ৪টি ট্রলি ব্যাগ এবং ১টি বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ব্যাগগুলির ভেতরে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল ঠাসা ছিল। প্রাথমিক অনুমানে ৮০ লক্ষ টাকার কথা ভাবা হলেও, পরবর্তীতে টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে গণনার জন্য আধুনিক যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়।

    ত্রিপল ও পূর্ববর্তী অর্থ উদ্ধার

    উল্লেখ্য, সোমবার রাতে পুরপ্রধানকে (TMC Chairman) গ্রেফতারের পর বাদুড়িয়া পুরসভা পরিচালিত একটি পরিত্যক্ত কম্পিউটার সেন্টারেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় ৪,০০০ সরকারি ত্রিপল এবং আরও ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

    তদন্তের মূল অভিমুখ

    বাদুরিয়ায় (Baduria Municipality) এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে এল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় মহলের একাংশের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আবার অন্য অংশের দাবি, এই বিপুল অর্থ তোলাবাজির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে সবকটি দিক খতিয়ে দেখে তদন্তের পরিধি বাড়াচ্ছে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথারীতি রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বাদুড়িয়ার (Baduria Municipality) পুরপ্রধানকে (TMC Chairman)  তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “সবাই তো আর পার্থ চট্টোপাধ্যায় নন যে, বান্ধবীর ফ্ল্যাটে টাকা লুকিয়ে রাখবেন। ওই দলের অর্থাৎ তৃণমূল বহু নেতাকর্মী এত বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন যে, তা রাখার জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই এখন মাটির নিচে টাকা লুকাতে হচ্ছে।”

  • Ramakrishna 657: “কি সংসারী কি ত্যাগী সব্বাইকে ভাল করে দিতে পারেন! মলয়ের হাওয়া বইলে, আমি বলি, সব কাঠ চন্দন হয়”

    Ramakrishna 657: “কি সংসারী কি ত্যাগী সব্বাইকে ভাল করে দিতে পারেন! মলয়ের হাওয়া বইলে, আমি বলি, সব কাঠ চন্দন হয়”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৬ই এপ্রিল

    অবতার বেদবিধির পার — বৈধীভক্তি ও ভক্তি উন্মাদ

    গিরিশ পুনর্বার ঘরে আসিয়া ঠাকুরের সম্মুখে বসিয়াছেন ও পান খাইতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — রাখাল-টাখাল এখন বুঝেছে কোন্‌টা ভাল, কোন্‌টা মন্দ; কোন্‌টা সত্য, কোন্‌টা মিথ্যা। ওরা যে সংসারে গিয়ে থাকে, সে জেনেশুনে। পরিবার আছে, ছেলেও হয়েছে — কিন্তু বুঝেছে যে সব মিথ্যা। অনিত্য। রাখাল-টাখাল এরা সংসারে লিপ্ত হবে না।

    “যেমন পাঁকাল মাছ। পাঁকের ভিতর বাস, কিন্তু গায়ে পাঁকের দাগটি পর্যন্ত নাই!”

    গিরিশ — মহাশয়, ও-সব আমি বুঝি না। মনে করলে সব্বাইকে নির্লিপ্ত আর শুদ্ধ করে দিতে পারেন। কি সংসারী কি ত্যাগী সব্বাইকে ভাল করে দিতে পারেন! মলয়ের হাওয়া বইলে, আমি বলি, সব কাঠ চন্দন হয় —

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — সার না থাকলে চন্দন হয় না। শিমূল আরও কয়টি গাছ, এরা চন্দন হয় না।

    গিরিশ — তা শুনি না।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আইনে এরূপ আছে।

    গিরিশ — আপনার সব বে-আইনি!

    ভক্তেরা অবাক্‌ হইয়া শুনিতেছেন। মণির হাতের পাখা এক-একবার স্থির হইয়া যাইতেছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — হাঁ, তা হতে পারে; ভক্তি-নদী ওথলালে ডাঙ্গায় একবাঁশ জল।

    “যখন ভক্তি উন্মাদ হয়, তখন বেদবিধি মানে না। দূর্বা তোলে; তা বাছে না! যা হাতে আসে, তাই লয়। তুলসী তোলে, পড়পড় করে ডাল ভাঙে! আহা কি অবস্থাই গেছে (Kathamrita)!

    (মাস্টারের প্রতি) — “ভক্তি হলে আর কিছুই চাই না!”

    মাস্টার — আজ্ঞা হাঁ।

    সীতা ও শ্রীরাধা—রামাবতার ও কৃষ্ণাবতারের বিভিন্ন ভাব

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— একটা ভাব আশ্রয় করতে হয়। রামাবতারে শান্ত, দাস্য, বাৎসল্য, সখ্য ফখ্য। কৃষ্ণাবতারে ও-সবও ছিল, আবার মধুরভাব।

    “শ্রীমতীর মধুরভাব — ছেনালি আছে। সীতার শুদ্ধ সতীত্ব — ছেনালি নাই।

    “তাঁরই লীলা। যখন যে ভাব।”

    বিজয়ের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বরে কালীবাড়িতে একটি পাগলের মতো স্ত্রীলোক ঠাকুরকে গান শুনাইতে যাইত। শ্যামাবিষয়ক গান ও ব্রহ্ম সঙ্গীত। সকলে পাগলী বলে (Kathamrita)। সে কাশীপুরের বাগানেও সর্বদা আসে ও ঠাকুরের কাছে যাবার জন্য বড় উপদ্রব করে। ভক্তদের সেই জন্য সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হয়।

  • TMC MLA Dilip Mandal: পুরী থেকে গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, আদালতের নির্দেশে নজিরবিহীন পদক্ষেপ

    TMC MLA Dilip Mandal: পুরী থেকে গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, আদালতের নির্দেশে নজিরবিহীন পদক্ষেপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে (TMC MLA Dilip Mandal) ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পর এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হল। আদালতের কড়া নির্দেশের পরই রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল (STF) ওড়িশায় গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। আজ, বুধবারই তাঁকে কলকাতায় ফিরিয়ে এনে আলিপুর আদালতে হাজির করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

    মূল ঘটনা ও আইনি জটিলতা (TMC MLA Dilip Mandal)

    বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এক বাসিন্দার দায়ের করা জমি সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। বিধায়কের এই আচরণকে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করে বিচারপতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

    উল্লেখ্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল বিজয় মিছিল করার সময়ে মাইকে বলেছিলেন, “এলাকার বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর এবং সম্পত্তি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেবো। যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বা বিজেপির হয়ে কাজ করেছে,তাঁদের বিষ্ণুপুর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না।” তারপর অভিযোগ দায়ের হয় থানায়।

    আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও জনপ্রতিনিধি আইনের ঊর্ধ্বে নন। এর পরেই ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে অবমাননার দায়ে বিধায়কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) জারি করা হয় এবং রাজ্য পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পুরীর হোটেল থেকে গ্রেফতার

    দিলীপ মণ্ডলের ছেলেকে গ্রেফতার করে  জিজ্ঞাসাবাদ করতেই  একাধিক আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ফোন নম্বর হাতে পান তদন্তকারীরা । সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ শুরু হয় । তদন্তকারীরা ধীরে ধীরে নিশ্চিত হন যে দিলীপ মণ্ডল রাজ্যের বাইরে কোথাও আত্মগোপন করে রয়েছেন । প্রথম দিকে তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ও যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন ওড়িশায় রয়েছেন। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ বিধায়কের (TMC MLA Dilip Mandal) অবস্থান চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করে। জানা যায়, তিনি সপরিবারে ওড়িশার পুরীর ব্লুলিলি নামক একটি হোটেলে আত্মগোপন ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল পুরী পৌঁছায় এবং স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

    তৃণমূল বিধায়কের এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি ভোটে জিতে প্রকাশ্যে মাইক লাগিয়ে বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও এই বিষয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে যে, আইন সবার জন্য সমান—তা এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো।

  • Municipal elections: রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে তৎপর শুভেন্দুর সরকার

    Municipal elections: রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে তৎপর শুভেন্দুর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে পুরভোটের (Municipal elections) প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। কলকাতা সহ রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগমগুলির নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রশাসনকে কোমর বেঁধে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে নতুন সরকার। এই লক্ষ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং আসন সংরক্ষণের (রিজার্ভেশন) কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে, আগামী নভেম্বর মাসেই কলকাতায় পুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশনের শূন্যতা ও বড় চ্যালেঞ্জ (Municipal elections)

    আগামী ৯ মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। নতুন রাজ্য সরকারের পক্ষে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুচারুভাবে সম্পন্ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রধান কারণ হল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই মুহূর্তে কার্যত নেতৃত্বহীন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা পদত্যাগ করার পর থেকে এই পদটি এখনও শূন্য রয়েছে।

    তাছাড়া, সম্প্রতি এক নির্দেশিকার মাধ্যমে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্যের মেয়াদ বৃদ্ধি বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠন এবং শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, নির্দেশ মোতাবেক তিনি পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে কমিশনে যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কোনও আধিকারিকও কর্মরত নেই। এই প্রশাসনিক শূন্যতার মধ্যে কীভাবে দ্রুত সীমানা পুনর্গঠন ও ভোটপ্রক্রিয়া চালানো সম্ভব, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে চিন্তাভাবনা চলছে।

    দীর্ঘদিনের বকেয়া ভোট ও হাওড়া প্রসঙ্গ

    বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় (Municipal elections) কোনও নির্বাচিত বোর্ড নেই। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে প্রশাসকের মাধ্যমেই নাগরিক পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এলাকাটি হলো হাওড়া, যেখানে বিগত ১৩ বছর ধরে কোনও পুর নির্বাচন হয়নি। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “হাওড়ার নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু হাওড়া নয়, রাজ্যের সব ক’টি পুরসভার নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।”

    বহু পুরসভায় বকেয়া ভোট…

    উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট ভবনে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রায় এক দশক ধরে হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন না হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া ও বালি পুরসভায় ভোট গ্রহণ করা হবে। হাওড়া ছাড়াও ২০১৭ সালের পর থেকে রাজ্যের যে সমস্ত পুরসভায় দীর্ঘদিন নির্বাচন (Municipal elections) বকেয়া রয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে— দুর্গাপুর পুরনিগম, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি এবং ধূপগুড়ি পুরসভা।

    রাজনৈতিক সমীকরণ ও নবান্নের কড়া বার্তা

    অন্য দিকে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা পুরবোর্ডগুলিতে (Municipal elections) ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত সোমবার দুপুরে ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তৃণমূলের ৮ জন কাউন্সিলর। এই ধরনের রাজনৈতিক ডামাডোলের জেরে যে সমস্ত পুরবোর্ড ভেঙে যাচ্ছে বা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

LinkedIn
Share