Author: suman-das

  • Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ মিলবে, তারকেশ্বর থেকেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ মিলবে, তারকেশ্বর থেকেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের একাধিক জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়ন করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এক বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, “অন্নপূর্ণা যোজনা-র (Annapurna Yojana) আওতায় প্রতিশ্রুতি মতন অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া বুধবার (৩ জুন) থেকেই শুরু হতে চলেছে।” এই প্রসঙ্গে তিনি মঙ্গলবার তারকেশ্বর থেকে আরও বলেন, “যত দ্রুত ফর্ম ফিলআপ হবে, তত দ্রুতই চালু হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার।” এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ও পারদ চড়তে শুরু করেছে।

    ঘুষপেটিয়াকে টাকা দেওয়া হবে না (Annapurna Yojana)

    উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য এই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র (Annapurna Yojana) কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। শাসকদলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এরপর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় যে রাজ্যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। ২০২৬ সালে ঐতিহাসিক রায়ে বিধানসভায় বিজেপি সরকার গড়তেই ঠিক কথা মতো কাজ শুরু করে দিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তারকেশ্বরে বলেন, “কাল থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া শুরু হবে। যাঁরা ফর্ম পূরণ করেছেন, তাঁরা টাকা পাবেন। আমরা যা বলি, ভেবেচিন্তেই বলি। কোনও ঘুষপেটিয়াকে টাকা দেওয়া হবে না। সরকারি ভাতা যোগ্যদের পাশাপাশি অযোগ্যদের খাতায়ও ঢুকেছে। যাঁরা অন্নপূর্ণার ফর্ম এখনও পূরণ করেননি, তাঁরাও বঞ্চিত হবেন না। তাঁদের অ্যাকাউন্টেও আগের মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে।”

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠ করেছেন, ছাড়ব না

    এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আগামীকাল থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই যোজনার অর্থ সরাসরি প্রেরণের প্রক্রিয়া আরম্ভ হবে। যাঁরা ১২ পাতা, ১৬ পাতা, ১৮ পাতা করছেন, এই জনগণের দ্বারা রিজেক্টেড নেতা এবং তাঁদের দলের লোকেদের বলব যে, এই সংখ্যাটা কত হবে আমরা জানি না। তাঁদের আমলে অনুপ্রবেশকারীরা তো ভাতা পেয়েছেনই, তার সঙ্গে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, যাঁরা মহিলা নন বা এই কর্মসূচির আওতায় আসেন না, তাঁরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Annapurna Yojana) লুঠ করেছেন। আমি কাউকে ছাড়বো না।”

    দুর্নীতি নিয়ে সরব

    একই সঙ্গে, এই কর্মসূচির ঘোষণা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্যের বর্তমান শাসকদল ও রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যের বর্তমান প্রশাসন সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও কেন্দ্রীয় অনুদান সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি প্রশ্রয় পাচ্ছে। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া এবং এই রাকিবুল, মুস্তাফিজুর, তারিকুলরা মিলে অন্তত ৩০ লক্ষ ভুয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলেছে। ৩০ লক্ষ গুণিতক ১৫০০ টাকা করে যদি হিসাব করেন, জনগণের কত হাজার কোটি টাকা এরা লুঠ করেছে, এটা তার প্রমাণ। আমরা এদের একেবারে গ্রাসরুট থেকে ক্র্যাক ডাউন করব আইনের মাধ্যমে।”

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে শুভেন্দু অধিকারীর এই দ্রুত পদক্ষেপ (Annapurna Yojana) এবং পাল্টা প্রকল্প চালুর ঘোষণা আসলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে গ্রামীণ ও শহরতলীর মহিলা ভোটারদের নিজেদের পক্ষে ধরে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল।

  • Asansol TMC Councillor: ত্রাণের ত্রিপল ‘চুরি’! গ্রেফতার আসানসোলের তৃণমূল কাউন্সিলর, দুর্নীতির অবসাদে বাদুড়িয়ায় ‘আত্মঘাতী’ পঞ্চায়েত প্রধান

    Asansol TMC Councillor: ত্রাণের ত্রিপল ‘চুরি’! গ্রেফতার আসানসোলের তৃণমূল কাউন্সিলর, দুর্নীতির অবসাদে বাদুড়িয়ায় ‘আত্মঘাতী’ পঞ্চায়েত প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি ত্রাণের ত্রিপল আত্মসাৎ এবং তা কালোবাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগে আসানসোল পুরনিগমের এক তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরকে (Arrested Asansol TMC Councillor) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত জনপ্রতিনিধির নাম মোহিত শর্মা (বাপ্পা), যিনি আসানসোলের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাসকদলের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজ বাসস্থান থেকে জাহিদুল হক বৈদ্য নামে এক তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ত্রাণের ত্রিপল চুরি মামলায় অভিযুক্ত। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত দুর্নীতির চাপে অবসাদ থেকে মৃত্যু।

    গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ লোগোযুক্ত সরকারি ত্রিপল উদ্ধার (Arrested Asansol TMC Councillor)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য সরকারি তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল বরাদ্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ, কাউন্সিলর মোহিত শর্মা (Arrested Asansol TMC Councillor) সেই ত্রাণের ত্রিপল দুস্থদের মধ্যে বণ্টন না করে, নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তা একটি গুদামে লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ত্রিপলগুলি খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে এই দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার পর, পুলিশ আধিকারিকরা আসানসোলের সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালান। তল্লাশি চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ লোগোযুক্ত সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়। এই অবৈধ মজুতকরণের বিষয়ে কাউন্সিলর কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় এবং নথিপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

    আরও বড় কোনো চক্র সক্রিয়

    এদিকে এই ঘটনার পর আসানসোলের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এই রূপ দুর্নীতি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এর পেছনে আরও বড় কোনও চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দল কোনও রূপ দুর্নীতি বা অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেয় না। আইন আইনের পথেই চলবে এবং প্রশাসন এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বর্তমানে ধৃত কাউন্সিলরকে (Arrested Asansol TMC Councillor) পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারোও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

    মানসিক অবসাদেই আত্মহনন

    উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজ বাসস্থান থেকে জাহিদুল হক বৈদ্য নামে এক তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ব্যক্তি বাদুড়িয়ার যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান (Baduria TMC Panchayat Pradhan) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদের কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের বিরুদ্ধে তীব্র আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছিল। গত ৩১ মে এলাকার অধিবাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। স্থানীয়দের দাবি, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর আওতাধীন যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য বরাদ্দ ১২টি অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার সরকারি গাড়ি তিনি গোপনে বিক্রি করে দেন এবং সেই অর্থ সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেন।

    তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপে ছিলেন

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রবিবার বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা প্রধানের (Baduria TMC Panchayat Pradhan) বাসভবনের সম্মুখে সমবেত হয়ে তীব্র গণবিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। এই প্রেক্ষিতে স্থানীয় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপে ছিলেন ওই জনপ্রতিনিধি।

    বৈবাহিক জীবনেও চরম পারিবারিক অশান্তি

    মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা জানতে পারেন যে, জাহিদুল হক বৈদ্য নিজ গৃহের অভ্যন্তরে আত্মঘাতী হয়েছেন। খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঝুলন্ত অবস্থা থেকে প্রৌঢ়ের দেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল শেষে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, মৃতের পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ ছাড়াও জাহিদুল দীর্ঘদিন ধরে গভীর আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন। একই সাথে তাঁর বৈবাহিক জীবনেও চরম পারিবারিক অশান্তি চলছিল। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আকস্মিক প্রয়াণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

  • TMC MLA Debaprasad Bag: ব্যর্থ পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা! গ্রেফতার ত্রাণ দুর্নীততে অভিযুক্ত কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক

    TMC MLA Debaprasad Bag: ব্যর্থ পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা! গ্রেফতার ত্রাণ দুর্নীততে অভিযুক্ত কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব বর্ধমানের কালনায় (Kalna) সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বণ্টনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কালনা উত্তর কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগকে (TMC MLA Debaprasad Bag) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে কালনা শহরে তাঁর নিজ বাসস্থান থেকে নাদনঘাট থানার পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে হেফাজতে নেন। তবে নাটকীয় কায়দায় আত্মগোপন এবং পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ পাকড়াও করে।

    পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর করার চেষ্টা (TMC MLA Debaprasad Bag)

    তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন পূর্বে এই একই মামলায় কালনা (Kalna) ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি প্রণব রায়কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের (TMC MLA Debaprasad Bag) নাম উঠে আসে। সেই তথ্যের সূত্র ধরে সোমবার গভীর রাতে পুলিশ তাঁর বাসভবনে পৌঁছায়। অভিযোগ, পুলিশ পৌঁছানোর পরও দীর্ঘক্ষণ বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার উন্মোচন করা হয়নি এবং প্রাক্তন বিধায়ক ভেতর থেকে কোনও সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তিনি পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর করার চেষ্টা করলেও পুলিশ তা ব্যর্থ করে এবং তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    চোর চোর স্লোগান

    এই ঘটনার সূত্রপাত হয় কালনা (Kalna) ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায়ের গ্রেফতারির মধ্য দিয়ে। ত্রাণ দুর্নীতির মামলায় ধৃত প্রণব রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই দেবপ্রসাদ বাগের (TMC MLA Debaprasad Bag) নাম উঠে আসে। সোমবার গভীর রাতে কালনা থানার পুলিশ আধিকারিকরা ধৃত ব্লক সভাপতিকে সঙ্গে নিয়েই প্রাক্তন বিধায়কের বাসভবনে হানা দেন। পুলিশ যখন সেখানে পৌঁছায়, তখন বাড়িটি সম্পূর্ণ অন্ধকার এবং মূল ফটক ভেতর থেকে তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। তবে তদন্তকারীদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য ছিল যে, প্রাক্তন বিধায়ক বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছেন এবং গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী জেলা হুগলির দিকে আত্মগোপন বা পালিয়ে যাওয়ার একটি ‘ফিল্মি ধাঁচের’ পরিকল্পনা করেও ছিলেন।

    এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সারারাত বাড়িটি চতুর্দিক থেকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এদিকে গভীর রাতে এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় অধিবাসী সেখানে সমবেত হন। ক্ষুব্ধ জনতা বাড়ির বাইরে সমবেত হয়ে প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। অবশেষে ভোরের দিকে পেছনের দরজা দিয়ে কৌশলে গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করতেই সতর্ক পুলিশ বাহিনী তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করে।

    প্রণব রায় ও প্রাক্তন বিধায়ককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা

    বর্তমানে আটক দেবপ্রসাদ (TMC MLA Debaprasad Bag) বাগকে কালনা (Kalna) থানায় নিয়ে গিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি সূত্রের খবর, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দুর্নীতির জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা উদঘাটন করতে ধৃত ব্লক সভাপতি প্রণব রায় ও প্রাক্তন বিধায়ককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে বয়ান মেলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে দুর্নীতির উৎস ও নথিপত্র সন্ধানে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

    টিভি মেকানিক থেকে কোটিপতি! প্রাসাদোপম বাড়িতে মাটির নীচে গোপন কক্ষ 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক জীবন শুরুর পূর্বে দেবপ্রসাদ বাগ (TMC MLA Debaprasad Bag) পেশায় একজন সাধারণ টেলিভিশন মেকানিক বা মিস্ত্রি ছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এসে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কালনা উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হন। অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর থেকেই তাঁর আর্থিক প্রতিপত্তি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাধারণ জীবনযাত্রা থেকে উন্নীত হয়ে তিনি কালনা শহরে একটি সুবিশাল বিলাসবহুল প্রাসাদের মতো বাসভবন নির্মাণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সেই প্রাসাদের অভ্যন্তরে আকাশছোঁয়া মূল্যের আসবাবপত্র, আধুনিক অন্দরসজ্জা এবং একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ গোপন কক্ষও রয়েছে, যা নিয়ে নানা রহস্য দানা বেঁধেছে।

    দিকে দিকে তৃণমূল নেতাদের অস্বস্তি

    রাজ্যের পালা বদল হতেই তৃণমূল বিধায়কদের দুর্নীতির তথ্য সামনে উঠে আসছে রোজ। ইতিমধ্যে আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের দ্বারা বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন। রাজ্যে প্রাক্তন থেকে বর্তমান বিধায়ক, সাংসদদের দলীয় কার্যালয় থেকে উঠে আসছে দুর্নীতির সামগ্রী। কোনও কার্যালয় থেকে উদ্ধার হচ্ছে পুরসভার ময়লা ফেলার বালতি, আবার কোনও কোনও কার্যালয় থেকে উদ্ধার হচ্ছে ত্রাণের ত্রিপল। একই ভাবে বর্ধমান জেলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস আর্থিক তছরূপের বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশ থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল ফোর্স। অপরদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি জনসমক্ষে বিজেপির নেতা কর্মীদের মারার প্রকাশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। এখানেই থেমে নেই পুলিশের অ্যাকশনের পাশাপাশি আমজনতাও তৃণমূল নেতাদের প্রকাশ্যে চোর চোর স্লোগান এবং পচা ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ করছেন। সম্প্রতি পচা ডিমের শিকার হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে বেকাদায় দলের নেতা-নেত্রীরা।

  • RBI: এবার পকেটে আসছে প্লাস্টিকের টাকা? দশ-কুড়ির নোট নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে আরবিআই

    RBI: এবার পকেটে আসছে প্লাস্টিকের টাকা? দশ-কুড়ির নোট নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে আরবিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসারের মধ্যেও দেশে কাগজের নোটের চাহিদা কমেনি। তবে এবার ভারতের কাগজের মুদ্রার ইতিহাসে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। সাধারণ মানুষের নিত্য ব্যবহারের ১০ টাকা এবং ২০ টাকার কাগজের নোটগুলো শীঘ্রই ‘প্লাস্টিক’ বা পলিমার নোটে (Plastic Notes) রূপান্তরিত হতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) তাদের এক দশক পুরনো এই পরিকল্পনাটি পুনরায় বাস্তবায়নের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। এই খবরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত (RBI)?

    সূত্রের খবর, সম্প্রতি পাটনা ও মুম্বইতে অনুষ্ঠিত আরবিআই-এর শেষ দুটি বোর্ড বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মূলত দুটি প্রধান কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্লাস্টিক কারেন্সির দিকে ঝুঁকছে:

    ১. উৎপাদন খরচ হ্রাস:

    সাম্প্রতিক সময়ে কাগজের নোট (Plastic Notes) ছাপানোর খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যেখানে নোট ছাপানোর খরচ ছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায়। পলিমার নোটের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।

    ২. দীর্ঘস্থায়িত্ব বা শেল্ফ লাইফ:

    সাধারণ কাগজের নোট (Plastic Notes) দ্রুত ছিঁড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়। গত অর্থবর্ষেই প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন জরাজীর্ণ ও নোংরা নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করতে হয়েছে আরবিআই-কে। ১০ এবং ২০ টাকার নোট সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় বলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়। প্লাস্টিকের নোট সহজে ছিঁড়বে না, জলেও নষ্ট হবে না। ফলে এগুলো দীর্ঘদিন সচল থাকবে।

    এটি কি ক্রেডিট কার্ডের মতো শক্ত হবে?

    না, প্লাস্টিকের বা পলিমার নোট (Plastic Notes) বলা হলেও এগুলো ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো শক্ত কোনও প্লাস্টিক নয়। এটি মূলত একটি অত্যন্ত পাতলা, নমনীয় বা ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক সাবস্ট্রেট দিয়ে তৈরি। এটি কাগজের নোটের মতোই হালকা হবে এবং সহজেই ভাঁজ করে পকেটে বা মানিব্যাগে রাখা যাবে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য (UK), কানাডা এবং সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ইতিমধ্যেই এই পলিমার নোটের সফল ব্যবহার চলছে।

    প্রাথমিক পাইলট প্রজেক্ট ও এটিএম-এর প্রস্তুতি

    আরবিআই সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে একবারে এই নোট চালু করা হবে না। খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) নির্দিষ্ট কিছু শহরে ১০ এবং ২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট বাজারে ছাড়া হবে। এর আগে ২০১২ সালেও ভারত সরকার কোচি, মহীশূর, জয়পুর, ভুবনেশ্বর এবং শিমলা—এই পাঁচটি শহরে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিক নোট (Plastic Notes) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সে সময় এটিএম (ATM) মেশিনগুলো এই নোট চেনা বা গণনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়েছিল। তবে বর্তমান প্রযুক্তি অনেক উন্নত এবং আধুনিক এটিএমগুলো যাতে খুব সহজেই এই প্লাস্টিক নোট লেনদেন করতে পারে, তার সম্পূর্ণ পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং ইউপিআই (UPI)-এর বিপ্লবের পর, কাগজের নোটের এই ‘প্লাস্টিক বা পলিমার’ রূপান্তর ভারতের অর্থনীতি ও মুদ্রা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পরবর্তী অন্যতম বড় সংস্কার হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Ramakrishna 660: “প্রেম-ভক্তির পথে থাকলে দেহে মন আসে, তা না হলে আমি কে? মানুষও নই—দেবতাও নই—আমার সুখও নাই, দুঃখও নাই”

    Ramakrishna 660: “প্রেম-ভক্তির পথে থাকলে দেহে মন আসে, তা না হলে আমি কে? মানুষও নই—দেবতাও নই—আমার সুখও নাই, দুঃখও নাই”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৮ই এপ্রিল

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    “তুমি কেবল দুঃখটাই মনে করে রেখেছো। তিনি যে এত সুখ দিয়েছেন — তা ভুলে যাও কেন? তাঁর কত কৃপা! তিনটি বড় বড় জিনিস আমাদের দিয়েছেন—মানুষজন্ম, ঈশ্বরকে জানবার ব্যাকুলতা, আর মহাপুরুষের সঙ্গ দিয়েছেন। মনুষ্যত্বং মুমুক্ষুত্বং মহাপুরুষসংশ্রয়ঃ।”

    সকলে চুপ করিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আমার কিন্তু বেশ বোধ হয়, ভিতরে একটি আছে।

    রাজেন্দ্রলাল দত্ত আসিয়া বসিলেন। হোমিওপ্যাথিক মতে ঠাকুরের চিকিৎসা করিতেছেন। ঔষধাদির কথা হইয়া গেলে, ঠাকুর (Kathamrita) অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া মনোমোহনকে দেখাইতেছেন।

    ডাক্তার রাজেন্দ্র — উনি আমার মামাতো ভাইয়ের ছেলে।

    নরেন্দ্র নিচে আসিয়াছেন। আপনা-আপনি গান গাহিতেছেন:

    সব দুঃখ দূর করিলে দরশন দিয়ে, মোহিলে প্রাণ।
    সপ্তলোক ভুলে শোক, তোমারে পাইয়ে,
    কোথা আমি অতি দীন-হীন।

    নরেন্দ্রের একটু পেটের অসুখ করিয়াছে। মাস্টারকে বলিতেছেন — “প্রেম-ভক্তির পথে থাকলে দেহে মন আসে। তা না হলে আমি কে? মানুষও নই — দেবতাও নই — আমার সুখও নাই, দুঃখও নাই।”

    ঠাকুরের আত্মপূজা—সুরেন্দ্রকে প্রসাদ—সুরেন্দ্রের সেবা

    রাত্রি নয়টা হইল। সুরেন্দ্র প্রভৃতি ভক্তেরা ঠাকুরের কাছে পুষ্পমালা আনিয়া নিবেদন করিয়াছেন! ঘরে বাবুরাম, সুরেন্দ্র, লাটু, মাস্টার প্রভৃতি আছেন।

    ঠাকুর (Ramakrishna) সুরেন্দ্রের মালা নিজে গলায় ধারণ করিয়াছেন, সকলেই চুপ করিয়া বসিয়া আছেন। যিনি অন্তরে আছেন, ঠাকুর তাঁহারই বুঝি পূজা করিতেছেন!

    হঠাৎ সুরেন্দ্রকে ইঙ্গিত করিয়া ডাকিতেছেন। সুরেন্দ্র শয্যার কাছে আসিলে প্রসাদীমালা (যে মালা নিজে পরিয়াছিলেন) লইয়া নিজে তাঁহার গলায় পরাইয়া দিলেন!

    সুরেন্দ্র মালা পাইয়া প্রণাম করিলেন। ঠাকুর আবার তাঁহাকে ইঙ্গিত করিয়া পায়ে হাত বুলাইয়া দিতে বলিতেছেন। সুরেন্দ্র কিয়ৎক্ষণ ঠাকুরের (Kathamrita) পদসেবা করিলেন।

    কাশীপুর উদ্যানে ভক্তগণের সংকীর্তন

    ঠাকুর (Ramakrishna) যে ঘরে আছেন, তাহার পশ্চিমদিকে একটি পুষ্করিণী আছে। এই পুষ্করিনীর ঘাটের চাতালে কয়েকটি ভক্ত খোল-করতাল লইয়া গান গাইতেছেন। ঠাকুর লাটুকে দিয়া বলিয়া পাঠাইলেন — “তোমরা একটু হরিনাম কর।”

    মাস্টার, বাবুরাম প্রভৃতি এখনও ঠাকুরের কাছে বসিয়া আছেন। তাঁহারা শুনিতেছেন, ভক্তেরা গাইতেছেন:

    হরি বোলে আমার গৌর নাচে।

    ঠাকুর গান শুনিতে শুনিতে বাবুরাম, মাস্টার প্রভৃতিকে ইঙ্গিত করিয়া বলিতেছেন — “তোমরা নিচে যাও। ওদের সঙ্গে গান কর, — আর নাচবে।”

    তাঁহারা নিচে আসিয়া কীর্তনে যোগদান করিলেন।

    কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর আবার লোক পাঠাইয়াছেন। বলেছেন (Kathamrita), এই আখরগুলি দেবে — “গৌর নাচতেও জানে রে! গৌরের ভাবের বালাই যাই রে! গৌর আমার নাচে দুই বাহু তুলে!”

    কীর্তন সমাপ্ত হইল। সুরেন্দ্র (Ramakrishna)  ভাবাবিষ্টপ্রায় হইয়া গাইতেছেন —

             আমার পাগল বাবা, পাগলী আমার মা।
    আমি তাদের পাগল ছেলে, আমার মায়ের নাম শ্যামা ॥
    বাবা বব বম্‌ বলে, মদ খেয়ে মা গায়ে পড়ে ঢলে,
    শ্যামার এলোকেশে দোলে;
    রাঙা পায়ে ভ্রমর গাজে, ওই নূপুর বাজে শুন না।

  • Khokan Das: ভ্যানে করে পৌঁছে দিতেন কয়লা, এখন প্রাসাদোপম বাড়ির মালিক! ‘বর্ধমানের ত্রাস’ খোকন দাসের প্রতিপত্তি কীভাবে?

    Khokan Das: ভ্যানে করে পৌঁছে দিতেন কয়লা, এখন প্রাসাদোপম বাড়ির মালিক! ‘বর্ধমানের ত্রাস’ খোকন দাসের প্রতিপত্তি কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক হাই-প্রোফাইল অভিযানে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার হলেন বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস (Khokan Das)। রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এই অভিযান চালায়। গ্রেফতারের (Arrest TMC MLA) পর ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট ও গ্রেফতারি (Khokan Das)

    বেশ কিছু দিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন এই প্রভাবশালী প্রাক্তন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খোকন দাস। সুনির্দিষ্ট কিছু ফৌজদারি অভিযোগ এবং মামলার ভিত্তিতে তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ (Arrest TMC MLA)। শেষ পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত হওয়ার পর, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁকে হেপাজতে নেওয়া হয়।

    • অভিযোগের প্রকৃতি: তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, উস্কানিমূলক আচরণসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
    • আইনি প্রক্রিয়া: উত্তরপ্রদেশের সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে ইতিমধ্যেই তাঁর ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
    • পরবর্তী পদক্ষেপ: রাজ্যে ফিরিয়ে আনার পর তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

    রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া ও চাঞ্চল্য

    খোকন দাসের এই আকস্মিক গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।  ভ্যান-ঠেলাগাড়িতে বাড়ি বাড়ি কয়লা পৌঁছে দেওয়ার কাজ দিয়েই খোকন দাসের (Khokan Das) জীবনের লড়াই শুরু। এরপর ধীরে ধীরে রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ। বাম আমল থেকেই কয়লা ও বালি ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করে সামান্য কাউন্সিলরের পদ থেকে ক্রমে বর্ধমানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উত্থান। বাম আমলে প্রথমবার বর্ধমান পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন খোকন। ২০১৩ সালেও এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সেবার পুরপ্রধান হয়েছিলেন তৃণমূলের স্বরূপ দত্ত। কিন্ত ক্ষমতার বলে খোকন দাসই পুরসভার ‘ডি-ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হয়ে ওঠেন। দৌরাত্ম্য বাড়ে ক্রমশ। বেআইনি বালি কারবার, সুদের কারবার, ঠিকাদারি থেকে শুরু করে সমস্ত বেআইনি নির্মাণের মতো কাজে সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আজ তাঁর সম্পদের তালিকায় রয়েছে বহুতল প্রাসাদোপম বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ির বহর এবং ইএম বাইপাস সংলগ্ন বিস্তীর্ণ জমি।  বর্ধমানের কাঞ্চননগরে বলিউড শিল্পীদের নিয়ে প্রতি বছর কাঞ্চন উৎসবের নামে কয়েক কোটি টাকা খরচ করতেন। ২০২১ সালে বর্ধমান শহরে ভোটবর্তী হিংসায় বহু মানুষ ঘরছাড়া হন, বাড়ি ভাঙচুর হয়, হামলার শিকার হন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন খোকনকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল। সিবিআই তদন্ত হলেও এতদিন গ্রেফতার হননি খোকন। এবার পুলিশের জালে (Arrest TMC MLA) দাগি তৃণমূল নেতা। এদিকে, খোকনের গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই কাঞ্চননগরে উল্লাসে মেতে ওঠেন স্থানীয়রা। ‘খোকন চোর’ গান বাজিয়ে, গেরুয়া আবির খেলে, লাড্ডু বিলিয়ে প্রাক্তন বিধায়কের জেলযাত্রা সেলিব্রেট করেন এলাকাবাসী।

  • Vande Mataram: সরকারি নির্দেশ মেনে মাদ্রাসা-মিশনারি সহ রাজ্যের সব স্কুলে বন্দে মাতরম গাওয়া শুরু

    Vande Mataram: সরকারি নির্দেশ মেনে মাদ্রাসা-মিশনারি সহ রাজ্যের সব স্কুলে বন্দে মাতরম গাওয়া শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সূচনা হল। আজ থেকে সমস্ত সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন শুরুর পূর্বে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু সরকারি সাধারণ স্কুলেই নয়, মিশনারি স্কুল এবং মাদ্রসাগুলিতেও (Missionary School and Madrasa) একই ভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

    নির্দেশিকার মূল বিষয়সমূহ (Vande Mataram)

    শিক্ষাদফরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গান গাওয়ার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    • দৈনিক প্রার্থনা সভা: প্রতিদিন বিদ্যালয় শুরুর নির্ধারিত সময়ে প্রার্থনাসভায় শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থী—উভয়কেই উপস্থিত থাকতে হবে।
    • সম্মিলিত কণ্ঠ: প্রার্থনার অঙ্গ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি পরিবেশন করতে হবে।
    • শৃঙ্খলা রক্ষা: এই প্রক্রিয়া চলাকালীন বিদ্যালয়ের (Missionary School and Madrasa) সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

    মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি

    ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহল এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদলের মতে, শৈশব থেকেই শিক্ষার্থীদের মনে দেশপ্রেমের বীজ বপন করতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

    শিক্ষা দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য

    শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল পুঁথিগত জ্ঞান অর্জন নয়, বরং চরিত্র গঠন (Vande Mataram)। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মনে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সংহতির চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।’’ আজ সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যালয়গুলিতে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার তোড়জোড় লক্ষ্য করা গেছে। বহু স্কুলেই ছাত্রছাত্রীদের উদ্দীপনার সঙ্গে এই নতুন নিয়মে শামিল হতে দেখা গিয়েছে।

    শিলিগুড়িতে বহু ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে তোড়জোড়

    শিলিগুড়িতে বহু ইংরেজি মাধ্যম ও মিশনারি স্কুল (Missionary School and Madrasa) রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গানের শিক্ষকরা প্রতিদিন নিয়ম করে বন্দেমাতরম গানের রিহার্সাল করছেন ইতিমধ্যে। এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমরা নিজের স্কুলে আগে থেকেই প্রথম দুটো স্তবক (Vande Mataram) গাইতাম। এবার বাকি দুটো স্তবক ছাত্রছাত্রীদের শেখাচ্ছি। উত্তরবঙ্গে আমাদের উত্তরবঙ্গ সহোদয় স্কুল কমপ্লেক্সের অধীনে ৮০টি সিবিএসই স্কুল আছে। তাদেরকেও দ্রুত বন্দেমাতরম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। তবে মিশনারি স্কুলগুলি আমাদের সংগঠনের আওতার বাইরে। তবে আশা করছি ওরাও দ্রুত গাইবে।” রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই দ্রুত বন্দে মাতরম নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে সরকারি স্কুল, মিশনারি স্কুল এবং মাদ্রাসাগুলি।

  • ABVP: ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে গবেষণা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের যৌথ অংশীদারিত্বের আহ্বান এবিভিপির

    ABVP: ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে গবেষণা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের যৌথ অংশীদারিত্বের আহ্বান এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনী পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ করতে ভারতের বেসরকারি শিল্পক্ষেত্র ও উদ্যোক্তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানাল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। ওড়িশার ভুবনেশ্বরে আয়োজিত সংগঠনের তিন দিনব্যাপী জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ (NEC) বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শিক্ষার সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রের সমন্বয় না ঘটলে গবেষণার প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়— এই মূল বার্তাটিই উঠে এসেছে এবিভিপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা থেকে।

    জিডিপির ১ শতাংশেরও কম খরচ গবেষণায় (ABVP)

    এবিভিপি-র (ABVP) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ডক্টর বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বৈঠকে ভারতের বর্তমান গবেষণা ব্যবস্থার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে ভারত তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) ১ শতাংশেরও কম অংশ গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে ব্যয় করে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই খরচের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান যেমন— ইসরো (ISRO), ডিআরডিও (DRDO) এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আইআইটি বা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে। বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে ধরে রাখতে হলে এই ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অবদান বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।”

    উদীয়মান প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রয়োজন

    এবিভিপির (ABVP) পক্ষ থেকে ভারতীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, দেশের তরুণ প্রতিভাদের কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যৌথ অংশীদারিত্বের (Industry-Academia Partnership) মডেল তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে সমসাময়িক এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলি হল-

    • ● কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ও কোয়ান্টাম টেকনোলজি।
    • ● সাইবার নিরাপত্তা (Cybersecurity) এবং বায়োটেকনোলজি।
    • ● পরিবেশবান্ধব বা পরিচ্ছন্ন শক্তি (Clean Energy)।

    এবিভিপি সংগঠনের মতে, এই উদীয়মান খাতগুলিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি কেবল দেশের উদ্ভাবনী ক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং গবেষণা খাতে ভারতের সামগ্রিক জাতীয় ব্যয় বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে।

    ডিগ্রি অর্জনের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশ গঠন

    ডক্টর সোলাঙ্কি তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “এবিভিপি (ABVP) সব সময়ই বিশ্বাস করে যে শিক্ষা মানে কেবল মাত্র একটি ডিগ্রি অর্জন বা চাকরি পাওয়া নয়; শিক্ষা হল দেশ গঠন এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মূল ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, “শিল্পক্ষেত্রের সম্পদ ও পরিকাঠামোর সঙ্গে যদি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মেধা ও দক্ষতার সঠিক মেলবন্ধন ঘটানো যায়, তবে তা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার জাতীয় সংকল্পকে এক অভূতপূর্ব গতি প্রদান করবে। গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অনুঘটক নয়, এটি ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্বের এক অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।”

    জাতীয় নিরাপত্তা ও শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ব্যাপক মন্থন

    ভুবনেশ্বরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এই তিন দিনের জাতীয় বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ৫০০ জন ছাত্রনেতা, শিক্ষাবিদ ও প্রতিনিধি অংশ নেন। গবেষণা ও শিল্পক্ষেত্রের অংশীদারিত্ব ছাড়াও এই সম্মেলনে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-র বাস্তবায়ন, ত্রি-ভাষা নীতি, ক্যাম্পাস স্তরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালনা, নারী নিরাপত্তা এবং ‘আর্বান নকশাল’ বা শহুরে মাওবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়গুলি নিয়ে গভীর আলোচনা (NEC) হয়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির উপস্থিতিতে একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলনের আবহ তৈরি হয়েছিল, যা আগামী দিনে দেশের শিক্ষাঙ্গনে নতুন জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রসার ঘটাতে ছাত্র সমাজকে আরও উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশাবাদী এবিভিপি (ABVP) নেতৃত্ব।

  • Ramakrishna 659: “বিচার যদি কর, তাহলে ঈশ্বর আছেন, কেমন করে বলবে? আর বিশ্বাসের উপর যদি যাও, তাহলে সেব্য-সেবক মানতেই হবে”

    Ramakrishna 659: “বিচার যদি কর, তাহলে ঈশ্বর আছেন, কেমন করে বলবে? আর বিশ্বাসের উপর যদি যাও, তাহলে সেব্য-সেবক মানতেই হবে”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৮ই এপ্রিল

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    বেলা নয়টা হইয়াছে, ঠাকুর মাস্টারের সহিত কথা কহিতেছেন, ঘরে শশীও আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — নরেন্দ্র আর শশী কি বলছিল — কি বিচার করছিল?

    মাস্টার (শশীর প্রতি) — কি কথা হচ্ছিল গা?

    শশী — নিরঞ্জন বুঝি বলেছে?

    শ্রীরামকৃষ্ণ — ‘ঈশ্বর নাস্তি অস্তি’, এই সব কি কথা হচ্ছিল (Kathamrita)?

    শশী (সহাস্যে) — নরেন্দ্রকে ডাকব?

    শ্রীরামকৃষ্ণ — ডাক।         [নরেন্দ্র আসিয়া উপবেশন করিলেন।]

    (মাস্টারের প্রতি) — “তুমি কিছু জিজ্ঞাসা কর। কি কথা হচ্ছিল, বল।”

    নরেন্দ্র — পেট গরম হয়েছে। ও আর কি বলবো।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — সেরে যাবে।

    মাস্টার (সহাস্যে) — বুদ্ধ অবস্থা কিরকম?

    নরেন্দ্র — আমার কি হয়েছে, তাই বলবো।

    মাস্টার — ঈশ্বর আছেন — তিনি কি বলেন?

    নরেন্দ্র — ঈশ্বর আছেন কি করে বলছেন? তুমিই জগৎ সৃষ্টি করছো। Berkely কি বলেছেন, জানো তো?

    মাস্টার — হাঁ, তিনি বলেছেন বটে — Their esse is percipii (The existence of external objects depends upon their perception.) — “যতক্ষণ ইন্দ্রিয়ের কাজ চলেছে, ততক্ষণই জগৎ!’

    পূর্বকথা—তোতাপুরীর ঠাকুরকে উপদেশ—“মনেই জগৎ”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— ন্যাংটা বলত, “মনেই জগৎ, আবার মনেতেই লয় হয়।’

    “কিন্তু যতক্ষণ আমি আছে, ততক্ষণ সেব্য-সেবকই ভাল।”

    নরেন্দ্র (মাস্টারের প্রতি) — বিচার যদি কর, তাহলে ঈশ্বর আছেন, কেমন করে বলবে? আর বিশ্বাসের উপর যদি যাও, তাহলে সেব্য-সেবক মানতেই হবে। তা যাদি মানো — আর মানতেই হবে — তাহলে দয়াময়ও বলতে (Kathamrita) হবে।

  • CDS: দেশের নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার

    CDS: দেশের নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা বা চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি (General NS Raja Subramani)। রবিবার, ৩১ মে, রাজধানী দিল্লির সাউথ ব্লকের লনে এক জমকালো ও আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের মাধ্যমে তাঁর এই নতুন কার্যকাল শুরু হয়।

    জেনারেল অনিল চৌহান গত ৩০ মে তাঁর কার্যকাল সম্পন্ন করার পর, জেনারেল রাজা সুব্রমণি দেশের তৃতীয় সিডিএস হিসেবে এই শীর্ষ সামরিক পদের ব্যাটন নিজের হাতে তুলে নিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে (National War Memorial) গিয়ে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    মোদির জেএআই (JAI) মন্ত্রেই জোর নতুন সিডিএস-এর (CDS)

    সিডিএস (CDS) পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেনারেল রাজা সুব্রমণি (General NS Raja Subramani) দেশের নিরাপত্তা জোরদার এবং সামরিক আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দেশ যে আস্থা রেখেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং সমস্ত কৌশলগত প্রতিষ্ঠান একজোট হয়ে দেশের সুরক্ষাকে আরও মজবুত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া বিশেষ দর্শন জেএআই ‘JAI’ অর্থাৎ Jointness-যৌথতা, Atma Nirbharta-আত্মনির্ভরতা এবং Innovation-উদ্ভাবন-কে বাস্তবায়িত করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। তিন বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, একীকরণ এবং সাংগঠনিক সংস্কারের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে কাজ করবো।

    দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণ

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতকে স্বাবলম্বী করার বার্তা দিয়ে নতুন সিডিএস (CDS) বলেন, “আত্মনির্ভরতা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বিকাশ, অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যবহারকে আমরা আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাব।” তিনি আরও বলেন, “আধুনিকিকরণের জন্য সেনাবাহিনী, শিল্পক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্টার্ট-আপ এবং গবেষণা সংস্থাগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে।”

    চার দশকের গৌরবোজ্জ্বল সামরিক ক্যারিয়ার

    চলতি বছরের ৯ মে ভারত সরকার জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণিকে (General NS Raja Subramani) পরবর্তী সিডিএস এবং একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স’-এর সচিব হিসেবে নিযুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছিল।

    গত চার দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন:

    • ১৯৮৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি ‘৮ম ব্যাটালিয়ন গড়োয়াল রাইফেলস’-এ কমিশন লাভ করেন।
    • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের (NSCS) সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
    • এর আগে তিনি ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে ৩১ জুলাই, ২০২৫ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহ-প্রধান (Vice Chief of the Army Staff) এবং তারও আগে সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান (GOC-in-C) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
    • আসামে ‘অপারেশন রাইনো’ চলাকালীন কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি অপারেশন, জম্মু-কাশ্মীরে ১৬৮ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড এবং ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে ভারতীয় সেনার অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক কোর ‘২ কর্পস’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    পশ্চিম ও উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের জটিল সামরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও রণকৌশলগত দক্ষতার জন্য সেনাবাহিনীতে তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ইতিমধ্যেই পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল (PVSM), অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল (AVSM), সেনা মেডেল (SM) এবং বিশিষ্ট সেবা মেডেল (VSM)-এ ভূষিত হয়েছেন। পূর্বসূরি প্রয়াত জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং বিদায়ী সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহানের দেখানো পথেই তিন বাহিনীর থিয়েটারাইজেশন (যৌথ কম্যান্ড গঠন) প্রক্রিয়াকে তিনি আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

LinkedIn
Share